
জাতীয় পর্যায়ে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী গাংনীর সন্ধানী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. তোজাম্মেল হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আয়োজনে ‘স্মার্ট ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কন্ট্রোলিং সিস্টেম’ প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় হওয়ার গৌরব অর্জন করে সন্ধানী স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
দেশব্যাপী ৮ হাজার ২৯টি স্টলের মধ্য থেকে বাছাই করে ৫৪৬টি প্রজেক্ট প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। পরে জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত ১০১টি প্রজেক্টের মধ্য থেকে জাতীয় পর্যায়ে পাঠানো হয়। প্রতিযোগিতায় ৭২ নম্বর প্রজেক্ট হিসেবে অংশ নিয়ে দিনব্যাপী উপস্থাপনার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে সন্ধানী স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
গতকাল ঢাকা থেকে বিজয়ী দলটি মেহেরপুরে পৌঁছালে আজ সকালে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিজয়ী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. তোজাম্মেল হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সন্ধানী সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আবু জাফর, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা আহাম্মদ আলী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের সহকারী অধ্যাপক রফিকুল আলম বকুল এবং সন্ধানী সংস্থার কো-অর্ডিনেটর জাকি আল মুহতানাক।
সাক্ষাৎকালে উপাচার্য জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী তিন শিক্ষার্থী ও দুই গাইড শিক্ষককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, “তোমাদের এই বিজয় শুধু মেহেরপুর জেলার নয়, এটি সমগ্র দেশের গর্ব। তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দেবে। তাই নতুন নতুন আইডিয়া ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের মেধার বিকাশ ঘটাতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিশুদের খুব ভালোবাসেন। তোমাদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিতে হবে। সরকার এ ধরনের উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে আমি আশা করি।”
উপাচার্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “মাধ্যমিক পর্যায় শিক্ষার্থীদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়েই মেধা ও জ্ঞানকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। যে জেলা যত উন্নত, তার পেছনে রয়েছে সেই জেলার মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।”
তিনি বিজয়ী শিক্ষার্থী ও গাইড শিক্ষকদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন এবং তাদের অনুভূতির কথা শোনেন।
বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত মেধাবী উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তির কল্যাণে তারা বিশ্বকে হাতের মুঠোয় এনে গবেষণা ও শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
শেষে তিনি বলেন, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষাক্ষেত্রে যেকোনো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা সবসময় প্রদান করা হবে।