
মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের বার্ষিকী ‘প্রবর্তনা’র মোড়ক উন্মোচন, পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার সকালে সরকারি মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আব্দুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক রফিকুর রশিদ, কবি ও গবেষক ড. গাজী রহমান এবং সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মুহা: আব্দুল্লাহ আল আমিন।
কথাসাহিত্যিক রফিকুর রশিদ বলেন, ‘প্রবর্তনায় লেখার মাধ্যমে আজ এক আতুর ঘরে জন্ম হলো এক কবির। তিনি হয়তো নিজেই বুকে হাত দিয়ে বলতে পারেন না আমাকে দিয়ে আবার হবে কি না। তবু হবে। আমি চাই সেই স্বপ্নটুকু তাদের ভেতরে বুনে দিতে এই বিশ্বাস যে, হবে। ‘প্রবর্তনা’ সেই আত্মবিশ্বাসটাই যেন তাদের মনে রচনা করে।’
কবি ও গবেষক ড. গাজী রহমান বলেন, ‘যারা পড়াশোনার সঙ্গে থাকে, গবেষণার সঙ্গে থাকে, আর লেখার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখে, তারা আনন্দে থাকার চেষ্টা করে এবং আনন্দ খুঁজে পায়। আনন্দ ও দুঃখ আসলে এক বিশেষ অনুভূতির স্তর, সেই স্তরে পৌঁছাতে না পারলে না আনন্দ স্পষ্ট হয়, না দুঃখের গভীরতা ধরা দেয়। এই পথচলারই এক অনুপ্রেরণার নাম ‘প্রবর্তনা’। প্রবর্তনার মত সৃষ্টিশীল কাজগুলো শিক্ষার্থীদের ভাবনার জগৎ খুলে দেয়, লেখার সাহস জোগায়, আর অনুসন্ধিৎসু মনকে গবেষণার দিকে এগিয়ে নেয়।’
উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মুহা: আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, ‘প্রবর্তনা’ উপলব্ধির পথ দেখায়। এটি শিক্ষার্থীদের ভাবনা, স্বপ্ন আর সৃজনশীলতাকে প্রকাশের সাহস দেয় এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস জাগায়।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও ‘প্রবর্তনা’র আহ্বায়ক কাজী আশরাফুল হক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক একরামুল হাসান লোটাস, ‘প্রবর্তনা’র সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক রূপালী বিশ্বাস, মেহেরপুর প্রতিদিনের সম্পাদক ইয়াদুল মোমিন।
আলোচনা শেষে মেহেরপুর সরকারি মহিলা করেজের প্রকাশিত বার্ষিকী ‘প্রবর্তনা’র মোড়ক উন্মোচন করা হয় । পরে অতিথিবৃন্দ পিঠা মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। পিঠা উৎসবে ১০টি স্টলে নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠা প্রদর্শিত হয়। সবশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
উল্লেখ্য, ‘প্রবর্তনা’য় মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী ও শিক্ষকদের বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল লেখা স্থান পেয়েছে।

