
স্থানীয় জনসাধারণের সক্রিয় সহযোগিতা ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থানের কারণে চলতি মাসে মেহেরপুর সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক তিন দফা পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
গাংনীর সহড়াতলা ও তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্ত এবং সদর উপজেলার বুড়িপোতা সীমান্তে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ মোট ১৭ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলেও স্থানীয়দের সতর্কতা এবং বিজিবির তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি।
সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে গাংনী উপজেলার সহড়াতলা সীমান্তের ১৪২/৫-এস সাব-পিলারের কাছে শূন্যরেখার ওপারে সাতজনকে দেখতে পান স্থানীয়রা। তাদের মধ্যে একজন নারী ও ছয়জন পুরুষ ছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা বিজিবিকে অবহিত করেন এবং সীমান্তে অবস্থান নেন। পরে, পুশইনের চেষ্টার শিকার হওয়া ৭ জনকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ফিরিয়ে নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
স্থানীয় বাসিন্দা রোকনুজ্জামান জানান, মধ্যরাতের কোনো এক সময়ে ওই সাতজনকে ভারতের কাঁটাতার পার করে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসা হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের দেখতে পেয়ে বিজিবিকে খবর দেন এবং বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
এর আগে ১৯ জুন ভোরে মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা বিওপি সীমান্তের খালপাড়া এলাকায় চারজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। স্থানীয়দের নজরে বিষয়টি এলে তারা বিজিবিকে অবহিত করেন। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ওই চারজনের মধ্যে একজন পুরুষ ও তিনজন নারী ছিলেন বলে জানা যায়। সীমান্তের বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার তেহট্ট থানার নাটনা বিএসএফ ক্যাম্প অবস্থিত।
এরও আগে জুন মাসের শুরুতে গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্তের ১৪০/৫-এস আন্তর্জাতিক পিলারের কাছে নারী ও শিশুসহ ছয়জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তেঁতুলবাড়িয়া বিজিবি ক্যাম্প ও স্থানীয় গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে তারা বাংলাদেশে ঢুকতে ব্যর্থ হয়। পরে তারা ভারতের ভূখণ্ডে কাঁটাতারের বেড়ার পাশে অবস্থান নেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএসএফ কাঁটাতারের বেড়া খুলে ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়। তবে বিজিবি ও গ্রামবাসীরা শক্ত অবস্থান নেওয়ায় তারা আর এগোতে পারেনি।
বিজিবি-৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান বলেন, “মেহেরপুর সীমান্তে একাধিকবার পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে কেউ বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “অবৈধ কোনো অনুপ্রবেশ কিংবা পুশইন মেনে নেওয়া হবে না। যেকোনো ধরনের পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি বদ্ধপরিকর।”
জানা গেছে, মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবি একাধিক বিওপি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বুড়িপোতা বিওপি, মুজিবনগর বিওপি, কাজীপুর বিওপি, আমঝুপি বিওপি, বালিয়াঘাট বিওপি, কুতুবপুর বিওপি, শোলমারী বিওপি, তেঁতুলবাড়িয়া বিওপি, রামনগর বিওপি, সাহেবনগর বিওপি, কল্যাণপুর বিওপি ও জয়নগর বিওপি।