
মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবনের লিফটে আটকে পড়া আটজন রোগী ও স্বজনকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।
ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা করে লিফটের লক ভেঙে তাদের উদ্ধার করা হয়। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার ইদ্রিস আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতালে দফায় দফায় লিফট আটকে পড়ার ঘটনায় উদ্বিগ্ন রোগী ও তাদের স্বজনরা। লিফটে আটকে পড়া আটজনের মধ্যে কয়েকজন অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে শ্বাসকষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
লিফটে আটকে থাকা জুগিন্দা গ্রামের শুভ জানান, ফার্মেসি থেকে রোগীর জন্য ওষুধ নিয়ে সাত তলায় যাচ্ছিলেন। এ সময় লিফটে তারা আটজন ছিলেন। চার তলায় পৌঁছালে লিফটটি আটকে গিয়ে দরজা বন্ধ হয়ে যায়। ভেতর থেকে অনেক চেষ্টা করেও তারা দরজা খুলতে ব্যর্থ হন। পরে মোবাইল ফোনে নিচে থাকা লোকজনকে খবর দেওয়া হলে মেহেরপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের টিম প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করেও লিফটের দরজা খুলতে ব্যর্থ হয়। অবশেষে লিফটের লক ভেঙে আটজনকে উদ্ধার করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার ইদ্রিস আলী জানান, আটজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে লিফটের ভেতরে অক্সিজেনের ঘাটতি হওয়ায় কয়েকজন শ্বাসকষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এ সময় আটকে থাকা লোকজন হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের ওপর হামলা করলে স্থানীয়রা পাল্টা হামলা চালায় বলে জানা গেছে। পরে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বলেন, হাসপাতালে রোগীর স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবন কয়েক মাস আগে উদ্বোধন করা হয়েছে। এরই মধ্যে এক মাসে তিনবার লিফট আটকে যাওয়ার ঘটনা ঘটলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন মেহেরপুরবাসী।
নতুন ভবন নির্মাণের সময় নিম্নমানের লিফটের সরঞ্জাম ব্যবহার করায় বারবার লিফট আটকে যাওয়ার অভিযোগ থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) জাহিদুর রহমান জানান, কয়েকবার লিফট আটকে যাওয়ায় সবাই চিন্তিত। তবে আনসার সদস্যদের দিয়ে লিফট পরিচালনা করা হচ্ছে। যান্ত্রিক ত্রুটি থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।