
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর মুক্তিপণ দাবি করা নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে রাজশাহী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় রাজশাহীর পৃথক দুটি এলাকার দুই যুবককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীকে নিয়ে পুলিশের একটি দল দর্শনা থানায় ফিরে এসেছে। বর্তমানে আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীর নাম নাইম উদ্দিন (১৪)। সে দর্শনা থানার প্রতাপপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার আব্দুল আলীমের ছেলে এবং মদনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আটক দুজন হলেন রাজশাহী মহানগরের রাজপাড়া থানার আলীগঞ্জ এলাকার মো. রুবেল (৩৭) এবং রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার এলাকার মো. সুমন (৩৫)।
পরিবার ও থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১১টা ৫ মিনিটের দিকে নাইম প্রতিদিনের মতো বাড়ির সামনে পাকা রাস্তায় খেলতে বের হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আশপাশের বিভিন্ন স্থানে এবং পরে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নিতে থাকেন। কোথাও তার সন্ধান না পেয়ে ওইদিনই নাইমের বাবা আব্দুল আলীম দর্শনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির নম্বর ৯৯০।
এরপর ২৩ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। নাইমের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে তার বড় ভাই মাসুদের মোবাইলে কয়েকটি ছবি পাঠানো হয়। পরিবারের দাবি, ছবিগুলোতে নাইমের মুখ টেপ দিয়ে মোড়ানো এবং হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়।
ছবি পাঠানোর পর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা নাইমকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে পরিবারের কাছে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবিকৃত টাকা না দিলে নাইমকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত দর্শনা থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে নিয়মিত মামলা রুজু করে নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, নাইম নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা থানায় জিডি করেন। পরদিন সকালে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে পরিবারের সদস্যদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার পাওয়ার পর দ্রুত মামলা রুজু করে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।
ওসি বলেন, মামলার পর দর্শনা থানা পুলিশের একটি দল রাজশাহীতে যায়। সেখানে রাজশাহী র্যাবের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে নাইম উদ্দিনকে উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে রাজশাহী মহানগরের রাজপাড়া থানার আলীগঞ্জ এলাকার মো. রুবেল এবং গোদাগাড়ী এলাকার মো. সুমনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।
পরে উদ্ধার হওয়া নাইমকে নিয়ে পুলিশের দল দর্শনা থানায় ফিরে আসে। আটক দুজনকেও দর্শনা থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ওসি নজরুল ইসলাম আরও জানান, আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নাইমকে কোথা থেকে অপহরণ করে রাজশাহীতে নেওয়া হয়েছিল, তাকে কোথায় ও কীভাবে আটকে রাখা হয়েছিল এবং মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের ভূমিকা কী—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে। তদন্তে জড়িত অন্য কারও নাম বা সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।