আমরা চেয়েছিলাম এদেশ থেকে ফ্যাসিবাদ বিতাড়িত হোক, আমাদের দেশের মানুষ গণতন্ত্র ফিরে পাক। অন্তত আমাদের ভোটের অধিকারটা নিশ্চিত হোক। আমরা কোনো সন্ত্রাসবাদী দল নই। আমরা রাতের আঁধারে ক্ষমতা দখলের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা রাতের আঁধারে ভোট চুরিতে বিশ্বাস করি না।
আজ শনিবার মেহেরপুর সরকারি কলেজে মাঠে জেলা বিএনপি'র সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাকশাল থেকে গণতন্ত্রকে উদ্ধার করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া প্রেসিডেন্ট পদ্ধতি থেকে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করেছেনন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা যদি কেউ করে থাকে, সংস্কার যদি কেউ করে থাকে সেই দাবি শুধুমাত্র জাতীয়তাবাদী দল করতে পারে। আর কারো অধিকার নেই।
মেহেরপুর জেলা বিএনপি'র আহ্বায়ক জাভেদ মাসুদ মিল্টনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনে শুধু সকল রাজনৈতিক দল নয়, এই সমাজের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ ওই ছাত্রদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গণঅভ্যুত্থান রচনা করেছিল। আজকে কি এমন ঘটল যে, গণঅভ্যুত্থানের এক বছরের মধ্যেই আমরা কৃতিত্ব দাবি করতে বা আগামী নির্বাচনে আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্থানটি নিশ্চিত করতে গিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের শক্তির মধ্যে বিভেদ রেখা টানতে চলেছি? ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির মধ্যে যদি বিভেদ রেখা টানা যায়, যদি বিভেদ দেখা দেয়, লাভটি কার হয় সেটা নিশ্চয়ই সবাইকে বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। লাভ হয় ওই শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনার দোসর এবং যারা ফ্যাসিবাদের রচয়িতা তাদের।
সম্মেলনের উদ্বোধন করেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান।
উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, ১৬ বছর বাংলাদেশ ছিল গণতন্ত্রহীন, মানবাধিকারহীন। বাংলাদেশে কোনো গণতন্ত্র ছিল না, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা ছিল। দেশের ক্রান্তিকাল যখনই আসে, তখনই জিয়া পরিবারের আত্মত্যাগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ মুক্তি পায়। জিয়াউর রহমানের একাত্তরের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বেগম জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচার এরশাদের পতন হয়েছিল। সর্বশেষ তারেক রহমানের নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ২৪ শে আমরা পেয়েছি নতুন বাংলাদেশ।
জেলা বিএনপি'র সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল হাসানের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু জয়ন্ত কুমার কুন্ডু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি'র আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আমিরুল ইসলাম, ফয়েজ মোহাম্মদ, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি'র আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক উদ্দিন আহমেদ, মাগুরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক
আলী আহমেদ, যশোর জেলা বিএনপি'র আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান খান বাবু।
এছাড়াও এসময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোঃ ইলিয়াস হোসেন, আলমগীর খান ছাতু, হাফিজুর রহমান হাফি, মীর ফারুক হোসেন, মোঃ আনছারুল হক, জেলা বিএনপির সদস্য সাবেক পিপি আবু সালেহ নাসিম, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব জাকির হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিব, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এহান উদ্দিন মনা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আজমুল হোসেন মিন্টুসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলন শেষে বিনাপ্রতিদ্বন্দীতায় নতুন কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়।