
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো.শাহাবুদ্দিন সাবুর বিরুদ্ধে নানান জালিয়াতি, সিন্ডিকেট বাণিজ্য ও একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী,সাধারণ দলিল লেখক এবং নিরীহঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো.শাহাবুদ্দিন সাবুর বিরুদ্ধে নানান জালিয়াতি, সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করছেন বলে সম্প্রতি নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজিআর) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগের অনুলিপি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী,ঝিনাইদহ জেলা রেজিস্ট্রার এবং শৈলকুপা সাব-রেজিস্ট্রারকেও পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগকারী মো. মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,শৈলকুপা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের ১৫৯ নম্বর লাইসেন্সধারী দলিল লেখক ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন সাবু তার রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে শৈলকুপা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি হস্তক্ষেপ করছেন। তার কোনো অনৈতিক নির্দেশ অমান্য করলেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লাঞ্ছিত ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এমনকি সম্প্রতি নতুন যোগদান করা ভারপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রারের সাথেও তিনি চরম অসদাচরণ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে,বর্তমানে স্থানীয় দলিল লেখক সমিতির কোনো বৈধ কমিটি না থাকলেও ওই লেখকের একক ইশারায় চলছে একটি অবৈধ সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিটি দলিল থেকে সমিতির নামে অবৈধভাবে মোটা অঙ্কের টাকা কমিশন আদায় করা হচ্ছে। শাহাবুদ্দিন সাবুর এই সিন্ডিকেটের কারণে অন্য দলিল লেখকরা তটস্থ থাকেন এবং কেউ এর প্রতিবাদ করতে সাহস পান না বলেও অভিযোগে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি একটি শরিকানা জমির ওপর আদালত কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা ও মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও দলিল লেখক মো.শাহাবুদ্দিন সাবু তার পেশিশক্তি ও বিপুল অঙ্কের অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে জমি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দলিল লেখক বলেন,‘অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিনের তৈরি করা নিয়মের বাইরে গিয়ে সাধারণ মানষের পক্ষে সহজে দলিল সম্পাদন করা কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে। এর ফলে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা যেমন হয়রানির শিকার হচ্ছেন,তেমনি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায় সরকারের রাজস্ব আহরণেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অফিসের কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানষের দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।’
অভিযোগকারী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,‘আমি শৈলকুপার একজন স্থায়ী বাসিন্দা। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আর অফিসের অরাজকতা দেখেই আমি এই অভিযোগটি দিয়েছি। যেহেতু অভিযুক্ত দলিল লেখকের রাজনৈতিক প্রভাব ও বড় একটি সিন্ডিকেট রয়েছে,তাই নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে আমি অভিযোগে আমার বিস্তারিত পরিচয় ও স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করিনি। তবে আমি চাই এই অনিয়ম বন্ধ হোক এবং অফিসের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসুক।’
এ বিষয়ে জানতে দলিল লেখক মো. শাহাবুদ্দিন সাবুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,‘আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তার কোন সত্যতা নেই। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।’
ঝিনাইদহ জেলা রেজিস্ট্রার সাব্বির আহমেদ বলেন,এবিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।’