
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাকি বিল্লাহ’র বিরুদ্ধে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের বিজয়ী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পুরস্কারের টাকা আত্মাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার প্রায় সাত মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি পুরস্কার ও সনদ। কিন্তু বিল ভাউচার দেখিয়ে উত্তোলন করা হয়েছে টাকা। কোটচাঁদপুর উপজেলায় ভারপ্রাপ্ত থাকার সময় তিনি এই টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অশোক কুমারের অবসরজনিত কারণে পদটি শূন্য হলে সেখানে অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব পালন করেন শৈলকুপা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাকি বিল্লাহ। গত পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি মাসের ৮ তারিখ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এর মাঝে জানুয়ারিতে কোটচাঁদপুরে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৫টি ইভেন্টে অংশ নিয়ে ক্রীড়া ও বিভিন্ন বিষয়ে কৃতিত্ব দেখান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সেই পুরস্কার আজও প্রদাণ করা হয়নি বিজয়ীদের। কিন্তু গত পহেলা এপ্রিল পুরস্কার ক্রয়ের জন্য ৭৫ হাজার ৫০০ টাকার বিল-ভাউচার করে টাকা তুলে নিয়েছেন তিনি। টাকা তোলার ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও আজও পুরস্কার দেওয়া হয়নি।
কোটচাঁদপুরের এনসিপি নেতা হৃদয় আহম্মেদ বলেন, জানুয়ারিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হলেও এখনো বিজয়ীদের পুরস্কার ও সনদ দেওয়া হয়নি। কিন্তু টাকা ঠিকই তুলে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা কর্মকর্তার এমন কাজের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সাথে তার এই অনিয়মের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানাচ্ছি।
কোটচাঁদপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুর রহমান বলেন, পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের। কয়েকমাস পেরিয়ে গেলেও পুরস্কার দেওয়া হয়নি। এটি অত্যান্ত দু:খজনক।
অভিযোগের বিষয়ে শৈলকুপা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাকি বিল্লাহ বলেন, বিল পেতে দেরি হয়েছে। ২৫ আগস্ট পুরস্কারের সামগ্রী অফিসে পাঠানো হয়েছে। আর আমি এক্সিডেন্ট করে ১ মাস ছুটিতে ছিলাম। তাই একটু দেরি হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা মাধ্যমিক অফিসের সহকারী পরিদর্শক মোঃ মোজাফফর হোসেন পলাশ বলেন, বিল তোলার পরও পুরস্কার না দেওয়ার বিষয়টি দু:খজনক। আমরা তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।