
মেহেরপুরের মুজিবনগর ও গাংনীতে পৃথক দুর্ঘটনায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মুজিবনগরে ইজিবাইকের ধাক্কায় ৭ বছরের এক শিশু ও ট্রাকের চাপায় ১১ বছরের আরেক শিশু নিহত হয়েছে। এছাড়া গাংনীতে পুকুরের পানিতে ডুবে মারা গেছে দুই বছরের এক শিশু।
রোববার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে মুজিবনগর উপজেলার মহাজনপুর গ্রামের মহসিন মার্কেটের সামনে ইজিবাইকের ধাক্কায় জান্নাতুল খাতুন (৭) নামে এক শিশু নিহত হয়। নিহত জান্নাতুল মহাজনপুর গ্রামের কারিগরপাড়ার শিল্টনের মেয়ে। সে স্থানীয় মহাজনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।
অন্যদিকে, একই উপজেলার মানিকনগর এলাকায় ট্রাকের চাপায় নাবিল (১১) নামে আরেক শিশু নিহত হয়েছে। ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে, গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের করমদি গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে আরিশা খাতুন (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল রোববার দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আরিশা ওই গ্রামের রাকিবুল ইসলামের মেয়ে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে আরিশা বাড়িতে মোবাইল ফোন দেখতে দেখতে ভাত খাচ্ছিল। খাওয়া শেষে মোবাইল ফোন নিয়ে বাড়ির পাশে খেলতে যায় সে। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুকুরের পানিতে ভাসমান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শিশুর ফুফু চুমকি খাতুন জানান, আরিশা মোবাইল দেখতে দেখতে ভাত খাচ্ছিল। খাওয়া শেষে মোবাইল নিয়েই খেলতে যায়। পরে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায় সে।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাহবুবুর রহমান নয়ন জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করা হবে। একই সঙ্গে পুকুর ও অন্যান্য জলাশয়ের আশপাশে শিশুদের চলাফেরার সময় অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।