
প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে মানুষের জীবন যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি বেড়েছে অপরাধের নতুন নতুন কৌশল। মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন অনলাইন অ্যাপ ব্যবহার করে প্রতারণা এখন দেশের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।
গতকাল মেহেরপুর প্রতিদিনের সংবাদে প্রকাশ মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সাইবার ক্রাইম টিমের অভিযানে বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ ঘটনা সেই উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
ভুয়া ক্যাপ্টেন, ব্রিগেডিয়ার ও কর্নেল পরিচয়ে গ্রান্টের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একইভাবে ব্যাংকের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে কিংবা টেলিগ্রাম অ্যাপ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। প্রতারকরা মানুষের বিশ্বাস, অজ্ঞতা ও অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে তাদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তা, সেনা কর্মকর্তা বা ব্যাংক কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করলে সাধারণ মানুষ সহজেই বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ ক্ষেত্রে মেহেরপুর ডিবি ও সাইবার ক্রাইম টিমের অভিযান প্রশংসার দাবি রাখে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও সমানভাবে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করতে হচ্ছে। তবে শুধু গ্রেপ্তার করলেই এই অপরাধ বন্ধ হবে না। প্রতারণার নেটওয়ার্ক, তাদের অর্থ লেনদেনের মাধ্যম এবং সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অপরিচিত কারও ফোনকল, অনলাইন বার্তা বা পরিচয়ের ভিত্তিতে অর্থ লেনদেনের আগে তথ্য যাচাই করতে হবে। ব্যাংক বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা পরিচয় দিলেই ব্যক্তিগত তথ্য, ওটিপি বা টাকা দেওয়া যাবে না।
সাইবার প্রতারণা এখন বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধ নয়; এটি সংগঠিত ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধে রূপ নিচ্ছে। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি জনসচেতনতা, দ্রুত তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে এই অপরাধ দমনে কার্যকর ও সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার বিকল্প নেই।