
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) ও সাংবাদিক মনির হায়দার বলেন, সারের সঙ্কট দূর করতে দ্রুত কৃষক অ্যাপ তৈরি করার কাজ চলছে। সবাইকে এই অ্যাপের আওতায় আসতে হবে। অ্যাপের তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের মাঝে সার বিক্রি করা হবে। যারা এই অ্যাপের আওতায় আসবেন তারাই এই সুবিধা পাবেন। আর না আসলে বঞ্চিত হবেন। যে কোন একটি উপজেলায় পাইলট আকারে অ্যাপটি চালু করা হবে। সুবিধা পেলে সারা দেশে এটি ছড়িয়ে দেওয়া হবে। তাহলের সার সঙ্কট দূর হবে বলে মনে করেন তিনি।
উন্নত দেশে প্রত্যেকটা মানুষের কৃষক, কুলি, মজুর সবারই ট্যাক্স আইডি থাকে। তিনি ট্যাক্স দেন বা না দেন, প্রত্যেক বছর তাকে ট্যাক্স ফাইল করতে হয়, প্রত্যেক নাগরিককেই। মানুষরাও খুব উৎসাহের সাথে এটা দেয়। কেন দেয় জানেন? রাষ্ট্র তাদের বিভিন্ন ক্রাইসিসের সময় বিভিন্ন রকম সহায়তা দেয়।
আর সহায়তা দেয় এই ভিত্তিতে কার কার ট্যাক্স আইডি আছে আর কত বছর ধরে কে কে ট্যাক্স সাবমিট করেছে। যারা ট্যাক্স সাবমিট করেছে তারা সুবিধা পাবে, যারা করেনি তারা পাবে না। এখন আমরা যদি এই প্র্যাকটিসটা করতে পারি, তোমার যদি অ্যাপ থাকে অ্যাপে যদি তোমার সব ইনফরমেশন দেওয়া থাকে, তাহলে যখন তোমার ক্রাইসিস হবে, তুমি সুবিধাটা পেতে পারো। আর তুমি যদি তোমার ইনফরমেশনগুলো না দাও আগামী বছর ক্রাইসিস হলে এগুলো কিন্তু তুমি আর পাবে না।
তখন তার মধ্যে এই তাগিদটা তৈরি হবে আমার যা যা ইনফরমেশন আছে তা অ্যাপে দিয়ে রাখি, কারণ কখন ক্রাইসিস হয় আমি তো জানি না। ক্রাইসিস হলে যাতে আমি সহায়তা পাই। এই চিন্তাগুলোকে মাথায় রেখে এই বিষয়টি নির্মাণ করা হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সারের বিপণন ও ব্যাবহার বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এক কথাগুলো বলেন।
তিনি আরোও বলেন, উন্নত বিশ্বে প্রতিটি নাগরিককে একটি অ্যাপের আওতায় আসতে হয়। তালিকাভূক্ত হয়ে সরকারি সুবিধাগুলো ভোগ করেন। তাই আশা করি প্রতিটি কৃষক এই অ্যাপের আওতায় আসবেন। আধুনিক এসব প্রযুক্তি ব্যাবহার করেই সকল নাগরিককে এই সুবিধা নিতে পারবেন।
সার সংকটের বিষয় তিনি বলেন, ওই যে একটা ঐতিহাসিক প্রবাদ- হাঁস যখন সোনার ডিম পাড়ে, তখন কৃষক হাঁস জবাই করে পেট কেটে একবারে সব ডিম বের করে নিতে চাইলে দেখে আসলে কোনো ডিম নেই। আমরা তো প্রত্যেকেই কৃষকের সন্তান। আমরা বেশি সার ব্যবহার করলে আজকের জন্য হয়তো বেশি ফসল পাব, কিন্তু লং টার্মে গিয়ে ওই জমির উর্বরতা একদমই নষ্ট হয়ে যাবে।
আপনি আজকে অনেক সার ব্যবহার করে অনেক ফসল উৎপাদন করে অনেক টাকা পকেটে ঢুকাচ্ছেন। আপনি হয়তো ভাবছেন আপনার পরে ভবিষ্যতে আর চাষাবাদ হবে না, অন্য কিছু করবে। কিন্তু আল্টিমেটলি এই জমিগুলো যদি উর্বরতা হারায় আমরা তো শুধু বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করি না, নিজেদের খাবার-দাবারের জন্যও চাষাবাদ করি। তখন একটা ক্রাইসিস হবে।
আমাদের দেশের লেভেলে গবেষণা এবং বাস্তবের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। তারপরেও আমি মনে করি কৃষি ডিপার্টমেন্ট চাইলে গবেষক এবং কৃষকদের কানেক্ট করতে পারেন কি না এই যে পর্যবেক্ষণের বিরাট পার্থক্য, এটাকে কোনোভাবে অ্যাড্রেস করা যায় কি না।
অনুষ্ঠানে সভাপত্বি করেন, জেলা প্রশাসক ডঃ সৈয়দ এনামুল কবীর। বক্তব্য রাখেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জীব মৃধা, সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাফিজুর রহমান, কৃষক প্রতিনিধি ডাবলু, শাহিনুর রহমান। জেলার কৃষক, সার ব্যবসায়ী ও কৃষি কর্মকর্তারা মতবিনিময় সভায় অংশ নেয়।


