
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকলে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়, তা হলো তিনি একাধারে সংসদ নেতা হয়ে যান, মন্ত্রিসভার নেতা হন, সরকারপ্রধান হন, রাষ্ট্রপতির ওপর প্রভাব বিস্তার করেন, এমনকি বিচার বিভাগের ওপরও প্রভাব খাটান। ফলে বিচার বিভাগও তাঁর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এর কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আইন পাস করা যায় না, কোনো অর্থবিল পাস করা যায় না, কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এছাড়াও তাঁর আদেশের বাইরে গিয়ে পুলিশ প্রশাসন কাজ করে না, নির্বাচন কমিশন কাজ করে না, দুদকও কাজ করতে পারে না।
যেহেতু আমাদের দেশের ক্ষমতার ভারসাম্য দরকার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা দরকার, এজন্য আমরা একটি জাতীয় মুক্তির পথ বের করেছি।
তিনি আরও বলেন, এই মুক্তির পথের মধ্যে যা রয়েছে তা হলো ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কিছুটা কমিয়ে বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া, সংসদকে স্বাধীনভাবে কাজ করার একটি পথ তৈরি করা। নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, আইন কমিশন ইত্যাদি যে কমিশনগুলো আছে, সেগুলোতে সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে কমিশনার নিয়োগের ব্যবস্থা করা, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো সক্ষম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে।
বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের আয়োজনে আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটায় মেহেরপুর সদর উপজেলার খড়ের মাঠ আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারের উদ্বোধনী মতবিনিময় সভায় এ সকল কথা বলেন তিনি।
তিরি আরো বলেন, আমাদের সরকারের সবচেয়ে বড় দুইটি সমস্যা হলো আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল। রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদের বিপরীতে তারা তাদের নিজস্ব ইচ্ছা বাস্তবায়ন করতে পারে না, ফলে রাজনৈতিক কর্তৃত্বের ইচ্ছাকেই বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হয়। আরেকটি বড় সমস্যা হলো আমাদের প্রশাসন এত বেশি স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতিতে আচ্ছন্ন যে, আমরা যদি বিচার বিভাগ ও সংসদকে আলাদা করতে না পারি, তাহলে ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর পিএস যেকোনো মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা সচিবের থেকেও বড় হয়ে যায়।
এই কুফলগুলো আমরা ইতোমধ্যেই দেখেছি। বাংলাদেশকে এই কুফলগুলো থেকে মুক্ত করতে হলে সংস্কারের পক্ষে আমাদের ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। আমরা যে ক্ষমতার কেন্দ্রভূতকরণ দেখেছি, তার ফলাফল হিসেবে প্রধানমন্ত্রী যেই হন, তিনিই স্বৈরাচার হয়ে যান। এই ৫৪ বছরে আমরা একাধিক স্বৈরাচার দেখেছি।
ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী যেন আবারও স্বৈরাচার হয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য আমাদের এগিয়ে এসে পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।
মতবিনিময় সভার আগে আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারে ফলক উন্মোচন করা হয়।
পরে বেলুন উড্ডয়ন, বৃক্ষরোপণ, স্পেসালাইজড আইসিটি ট্রেনিং ফর কলেজ টিচার্স শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (প্রশাসন ও কারিগরি) (যুগ্ম সচিব) সদস্য মোহাম্মদ সাইফুল হাসানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দিন, জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির ও পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।