
দোকানদার ছাড়াই চলে দোকান। এমন ব্যতিক্রমী দোকান রয়েছে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চারাতলা বাজারে। বিক্রেতা বা মালিক ছাড়াই সম্পূর্ণ পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে এই দোকানে চলে বেচাকেনা। যেখানে ক্রেতারা নিজেরাই পছন্দের জিনিস কিংবা চা-পান তৈরি করে নেন। কেনাকাটার পর হিসাব করে নির্ধারিত ক্যাশবাক্সে দাম রেখে যান ক্রেতারাই।
মালিকবিহীন এমন দোকানে প্রতিদিন ক্রেতারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী কাঁচা শাক-সবজি, চা, পানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিজের হাতে মেপে নিতে পারেন। অনেকেই এই দোকানকে বলেন ‘সততা স্টোর’, কেউ বলেন ‘ভরসার ব্যবসা’। স্থানীয়দের দাবি, মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপর ভরসা করে দোকানটি পরিচালিত হয়। এ কারণেই দোকানটির এমন ব্যতিক্রমী পরিচিতি।
দোকানটির অবস্থান উপজেলার চারাতলা বাজারের প্রধান সড়কের পাশে। দোকানের মালিক শমসের মণ্ডল (৬৭)। তিনি প্রায়ই অসুস্থ থাকেন। তাই দোকানের পাশের একটি চালাঘরে চৌকি পাতা আছে, সেখানে তিনি শুয়ে থাকেন। তিনি একই উপজেলার ভালকি গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের পাঁচ সদস্য নিয়ে এই দোকানের আয়ের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোকানের মালিক সাধারণত দোকানে থাকেন না। থাকলেও পাশের চালাঘরে খাটে শুয়ে থাকেন। আর ক্রেতারা যার যার প্রয়োজন অনুযায়ী দোকানে এসে পণ্য নিয়ে নির্ধারিত টাকা রেখে চলে যান। কেউ তাঁকে ঠকাতে চান না। আবার কেউ ঠকালেও তার বিচার তিনি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেন।
তিনি প্রতিদিন সকালে এসে দোকান খোলেন, ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করেন এবং পণ্যগুলো গুছিয়ে রাখেন। এরপর দোকানটি ক্রেতাদের জন্য রেখে তিনি চলে যান। মাঝে মধ্যে এসে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন বা পাশের চালাঘরে বিশ্রাম নেন। পরে রাতে এসে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরে যান।
দোকানের মালিক শমসের মণ্ডল জানান, ‘আমার দোকানে কখনো কোনো হালখাতা হয়নি, কোনো দিন কোনো চুরিও হয়নি। আল্লাহর ওপর বিশ্বাস করে দোকান ফেলে রেখেছি। প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার বেচাকেনা হয়। এতেই আমার সংসার খুব ভালোভাবে চলে যায়।’