
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার মান্দ্রারতলা গ্রামের রিয়াদ হোসেন (১৩) নামের এক ছেলেকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী শরিফুলের ছেলে সুমনের বিরুদ্ধে। রিয়াদ হোসেন ওই গ্রামের নাসির উদ্দীনের ছেলে এবং একই উপজেলার শিতলী গ্রামের রোকেয়া খাতুন হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র।
এ ব্যাপার থানায় অভিযোগ করেছে রিয়াদের পিতা এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে একই গ্রামের সুমন (২৩) পিতা শরিফুল এবং শ্যামলী খাতুন (৩৫) স্বামী শরিফুল ইসলাম নামে দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহারে জানা যায়, কয়েকদিন আগে প্রতিবেশী শরিফুলের ছেলে সুমন রিয়াদকে ভোলায় নিয়ে গিয়ে বেঁচে দিয়েছে। তাছাড়া একই গ্রামের নৈমদ্দিন মন্ডলের ছেলে রবিউল এবং কৃষক আফজাল হোসেন জানান, রিয়াদেগর প্রতিবেশী সুমন রিয়াদকে ভোলায় নিয়ে যায় পরবর্তীতে তাকে আর বাড়িতে ফিরিয়ে আনেনি। সুমনের পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে ভোলা থেকে ফেরত আসার পথে রিয়াদ তার কাছ থেকে পালিয়ে চলে যায়। তাকে আর খুঁজে না পেয়ে সুমন বাড়িতে ফিরে আসে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানান, সুমন আলী এই কাজ করার আগে, হরিণাকুণ্ডু উপজেলার তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) বিপ্লবের সাথে ঐ বিষয়ে যোগাযোগ করেন। সন্দেহ করা হচ্ছে রিয়াদকে হিজড়াদের কাছেও বিক্রয় করতে পারে।
ভুক্তভোগী নাসির উদ্দীন জানান, তার ছেলেকে কোথায় রেখে বিক্রয় করেছেন এবং তাকে ফেরত চাইতে সুমনের সাথে কথা বলতে গেলে সেখানেই তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত জখম করেন সুমন। কোনো উপায়ান্ত না পেয়ে আমি থানায় একটি মামলা করি।
হরিণাকুণ্ডু থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া জানান, গত ৩০ জানুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ৭/৩০ ধারায়, কয়েকজন অজ্ঞাতনামা এবং তিন জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন রিয়াদেও পরিবার। এ মামলার সূত্র ধরে ২ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সুমন(২৩) পিতা শরিফুল ও শ্যামলী খাতুন স্বামী শরিফুল ইসলাম। একইদিনে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে ঝিনাইদহ জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।