
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে চাঞ্চল্যকর মুকুল মল্লিক হত্যা মামলায় ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন ঝিনাইদহ আদালত।
একই সাথে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ডের রায় ঘোষণা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহ অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক গৌতম কুমার ঘোষ এই রায় ঘোষণা করেন।
দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত ছহিরুদ্দিনের মেয়ে এবং চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গা উপজেলা ডাওকি গ্রামের নিহত মুকুল মল্লিকের স্ত্রী ফিরোজা খাতুন, একই গ্রামের মিঠু মিয়ার ছেলে বিল্লাল হোসেন ও মনোয়ার হোসেনের ছেলে আলমগীর হোসেন।
তাদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে একই মামলার আসামি ফারুক হোসেন ও মাসুদ রানা’র বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে। মামলার অন্যতম আসামী আলমগীর হোসেন পলাতক রয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৩ আগস্ট রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে দন্ডপ্রাপ্ত আসামি ফিরোজা খাতুনের সঙ্গে মুকুল মাল্লিকের বিরোধ হয়।
ওই রাতেই মুকুল মল্লিক বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরে ১৩ আগস্ট গোপীনাথপুর গ্রামের বাঘমারা মাঠের একটি ধানক্ষেতের গর্ত থেকে মাটিচাপা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুর রশিদ বিশ্বাস হরিণাকুন্ডু থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত ৩ আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় দিয়েছে।
রাষ্ট্র পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এপিপি এ্যাড. আব্দুর রশিদ এবং আসামী পক্ষে ছিলেন এ্যাড. সাদাতুর রহমান, এ্যাড. শামিউল ইসলাম ও এ্যাড. মোঃ আশরাফুল আলম জোয়ার্দ্দার।