
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় সেবা ও দক্ষতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহিন আলম। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মধ্যে তিনি ৬ হাজারেরও বেশি নামজারি মামলা নিষ্পত্তি করে চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে দামুড়হুদা ভূমি অফিস।
২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর তিনি দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই দর্শনা পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বও সফলভাবে পালন করেছেন। ব্যস্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলিয়েও তিনি গড়ে ১৫ দিনের মধ্যে নামজারি নিষ্পত্তি নিশ্চিত করেছেন, যা জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ ছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন, অবৈধ মাটি কাটা রোধ, সার ও তেল মজুদবিরোধী অভিযান, মাদকবিরোধী কার্যক্রম, ভেজাল ওষুধ ও খাদ্যদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে শতাধিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন তিনি।
ভূমি সেবা সহজীকরণ ও রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল কার্পাসডাঙ্গা বাজারে বিশেষ ক্যাম্পের মাধ্যমে শতাধিক চান্দিনা লিজ নবায়ন করা হয়। পাশাপাশি সরকারি সম্পদ রক্ষা, নিলাম-ইজারা কার্যক্রম এবং ভূমি অফিস সংস্কারকাজও চলমান রয়েছে।
উপজেলা ভূমি অফিস ছাড়াও হাউলি ও কুড়ালগাছি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারকাজ এগিয়ে চলছে।
প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য একাডেমিক ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনা বিষয়ক মোটিভেশনাল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যা প্রশংসিত হয়েছে।
দর্শনা পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশক নিধন, সড়ক উন্নয়ন, সড়কবাতি স্থাপন, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং খেলাধুলার প্রসারে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
উপজেলা সার্ভেয়ার পদে শূন্যতা ও সার্ভার জটিলতাসহ নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তিনি সেবার মান উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে কর্মরত থাকাকালীন দেড় বছরে ১০ বছরের পেন্ডিং নামজারি মামলা নিষ্পত্তি করে খুলনা বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন তিনি।
এ বিষয়ে মো. শাহিন আলম বলেন, “জনগণের ভোগান্তি দূরীকরণ ও সেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই আমার প্রথম লক্ষ্য। অতীতের মতো সর্বোচ্চ আত্মনিবেদন নিয়ে কাজ করে যেতে চাই।”
তার এই নিষ্ঠা, কর্মদক্ষতা ও জনবান্ধব উদ্যোগ ইতোমধ্যে এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।