রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন দরকার

পোড়ামাটি নীতি অবলম্বন করে বর্বর পাকিস্তানি হানাদাররা সুজলা-সুফলা-শ্যামল বাংলাকে আক্ষরিক অর্থেই শ্মশানে পরিণত করেছিল। ব্যাংকে টাকা নেই, ট্রেজারি খালি, সোনাদানা—সব কিছু লুট করে নিয়ে গেছে পাকিস্তানের লুটেরা বাহিনী। আত্মসমর্পণের আগে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে ঘরবাড়ি, অফিস-আদালত, দোকানপাট, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট। সমুদ্রবন্দর, নৌবন্দর, রেললাইন—সবই ধ্বংস করে দিয়েছে হানাদার ও তাদের দোসররা।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্দেশে আলবদরের সদস্যরা রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের সব টাকা রাস্তায় এনে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারত ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ছাড়া দৃঢ়ভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর মতো বন্ধুর বড়ই অভাব ছিল। সব মিলিয়ে দেশটির টিকে থাকা নিয়েই শঙ্কা ছিল। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলো ও বড় পরাশক্তির ধারণা হয়েছিল যে সদ্যঃস্বাধীনতা পাওয়া বাংলাদেশ মাথা তুলে দাঁড়াতেই পারবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক জনসন ও সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ‘ইন্টারন্যাশনাল বাস্কেট কেস’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। ১৯৭২ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমসে বাংলাদেশকে ‘ইন্টারন্যাশনাল বটমলেস বাস্কেট’ শিরোনামে অভিহিত করে সংবাদও ছাপা হয়ছিল। হেনরি কিসিঞ্জারের নেতৃত্বাধীন এক কমিটি মনে করেছিল, এটি হবে আন্তর্জাতিক এক তলাবিহীন ঝুড়ি। এখানে যতই সাহায্য ঢালা হোক না কেন, তা কোনো কাজেই লাগবে না।

দেশটিতে দ্রুতই দুর্ভিক্ষ ও মহামারি দেখা দেবে। ওই সময়ে সিআইএর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এত অল্প জায়গায় এত মানুষের বাস এবং এত দারিদ্র্যের কারণে দেশটি তার প্রতিবেশী ও বিশ্বের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিসিঞ্জারের কুখ্যাত উক্তি তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ আজ রূপ-মাধুর্য-ঐশ্বর্যে এতটাই আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে যে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের নিত্যনতুন প্রস্তাব আসছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মন্ত্রীরা প্রতি মাসেই আসছেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘুরে গেলেন কয়েক দিন আগে।

জাপান সরকারের আমন্ত্রণে আমাদের প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি জাপান সফর করেছেন। জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারি উন্নীত হয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রীয় সফর করে গেলেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশকে এক পরিবারের সদস্য বলে আখ্যায়িত করেছেন। কয়েকটি প্রভাবশালী দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা বাংলাদেশ সফরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। জি২০ ও ব্রিকসের সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও উভয় সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ করা হয়েছে। বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সম্মেলনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। ধনী রাষ্ট্রগুলোর গ্রুপ জি৭-এর আউটরিচ সম্মেলনেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

বিশ্বব্যাংক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ করে নিয়ে গিয়েছেন বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্প শোনানোর জন্য। বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বসম্প্রদায়ের এই আকর্ষণের গোপন রহস্য বঙ্গজননীর নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, বরং বাংলাদেশের প্রতি আকর্ষণের মূল রহস্য হলো ঈর্ষণীয় আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি, অপার প্রাকৃতিক ও খনিজসম্পদের সম্ভাবনার হাতছানি, কৌশলগত ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান, বিরাট অভ্যন্তরীণ শ্রম ও বিপণন বাজার আর বিশাল কর্মক্ষম মানবসম্পদ। খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, কর্ণফুলী নদীর নিচে টানেল, স্যাটেলাইট, সাবমেরিন ও পরমাণু ক্লাবে যোগদান, ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের মতো মেগাপ্রজেক্ট বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সাফল্য এখন বিশ্বের উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর কাছে রীতিমতো রহস্য। পুরো বিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়তই মিলছে তার স্বীকৃতি। খোদ জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংক এখন বিভিন্ন সদস্য দেশকে দারিদ্র্য দূরীকরণে বাংলাদেশকে অনুসরণ করতে বলছে। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের সরল স্বীকারোক্তি, কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশ্বকে চমকে দেওয়ার মতো সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এর সব কিছুই সাক্ষ্য দিচ্ছে জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে এক সমীহের নাম বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো, বহির্বিশ্বে রাষ্ট্রের অনন্য মর্যাদা—সব কিছুই বদলে গেছে। বদলায়নি আমাদের রাজনীতি। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আরো নষ্ট, নোংরা, অশোভন হয়েছে। সরকারের সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলের মতবিরোধ হয়। সরকারকে চাপে রাখতে, দাবি আদায় করতে আন্দোলন-সংগ্রাম হয়। তার পরও প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মানবোধ থাকে। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শিষ্টাচার থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু জি২০ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেলফি তুলেছেন এবং অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করেছেন। সেলফি ও অনানুষ্ঠানিক এই আলোচনার রাজনৈতিক তাৎপর্য কী? বাইডেনের স্বতঃস্ফূর্ততা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের কর্মক্ষেত্রের কথা জেনে তাঁর কাছ থেকে ভিজিটিং কার্ড চেয়ে নেওয়া, সর্বোপরি বাইডেনের শারীরিক ভাষা যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের মেরামত কিংবা মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত কি না সে বিষয়ে বিশ্লেষণে না গিয়েও এ কথা নিশ্চিত করে বলা যায় যে এটি এক অনন্য রাজনৈতিক শিষ্টাচারের উদাহরণ। বাইডেনের সেলফিকে কেন্দ্র করে সরকারি দলের কিছু নেতার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিরোধীদের বক্তব্য কতটা শোভন? বঙ্গবন্ধুকন্যা বৈশ্বিক নেতৃত্বের এমন এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছেন যে তাঁর সঙ্গে বাইডেনের সেলফি তোলা খুবই স্বাভাবিক একটি ঘটনা।

জি২০ সম্মেলনের আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, প্রভাবশালী রাষ্ট্রের নেতারা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে মাঝখানে রেখে ছবি তোলার জন্য দাঁড়িয়েছেন। এই সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়া থেকে শুধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর বাসগৃহে মাত্র দুজন রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, আর অন্যজন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জি২০ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, একটি সোফায় বসে আছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর পাশে খালি পায়ে হাঁটু গেড়ে বসে আছেন ঋষি সুনাক। সেভাবেই তিনি বঙ্গবন্ধুকন্যার সঙ্গে কথা বলছেন। এটি একদিকে যেমন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বিনয় ও সৌজন্যতার অপূর্ব নিদর্শন; অন্যদিকে বয়োজ্যেষ্ঠ ও যোগ্য নেতৃত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এক অনবদ্য শোভন রাজনৈতিক শিষ্টাচার। সম্প্রতি সফর করে যাওয়া ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁর বিনয় ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারও শিক্ষণীয়। একটি ভিডিওতে দেখা যায় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফরাসি ভাষায় বক্তব্য শুরু করার আগে ফরাসি ভাষার ট্রান্সলেটর ইনস্ট্রুমেন্টটি নিজ হাতে বয়ে এনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দিচ্ছেন। একটি উন্নত রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানের এই আন্তরিক আচরণ একটি স্বল্পোন্নত রাষ্ট্র থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হওয়ার অপেক্ষারত সরকারপ্রধানকে নয়, বরং একজন যোগ্য বৈশ্বিক নেতৃত্বকে সম্মান প্রদর্শনের এক শিষ্টাচারের উদাহরণ।

এর বিপরীতে বিএনপিসহ কয়েকটি দলের নেতারা বঙ্গবন্ধুকন্যার সব অবদানকে শুধু অস্বীকারই করেন না, বরং বিএনপি মিছিল-মিটিংয়ে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে যেসব অসম্মানজনক স্লোগান দেয় তা অশোভন-অশ্লীল। বিএনপির মিছিলে একজন কিশোর কিংবা যুবক যখন জাতির জনককে অসম্মান করে স্লোগান দেয়, তখন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নোংরামি কতটা নিচে নেমে গেছে তা বোধ করি বলার অপেক্ষা রাখে না।

দেশ ও দেশের মানুষের জন্য আত্মত্যাগের এক মহৎ পারিবারিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বেড়ে উঠেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। ১৯৭৪ সালের ১৪ এপ্রিল ভাসানী পল্টনে হুকুমতে রব্বানী পার্টির উদ্যোগে এক মহাসমাবেশের ডাক দেন। একটি মিছিল নিয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ঘেরাওয়ের জন্য বঙ্গভবনের দিকে যাত্রা শুরু করেন ভাসানী। খবর শুনে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান রাস্তায় চলে আসেন। মিছিল কাছে আসতেই বঙ্গবন্ধু মওলানা ভাসানীর পা ছুঁয়ে সালাম করেন। এ দৃশ্য দেখে হাজার হাজার মিছিলকারী জনতা হতভম্ব। বঙ্গবন্ধু হুজুরসহ (ভাসানী) কয়েকজন নেতাকে সম্মান দেখিয়ে ভেতরে নিয়ে যান। বঙ্গবন্ধু নিজেই বয়োবৃদ্ধ হুজুর কে ধরে নিয়ে গেলেন। ভেতরে বসিয়ে মিষ্টিমুখ করালেন। সার্বিক পরিস্থিতি হুজুরের সামনে তুলে ধরলেন। হুজুর কিছু পরামর্শ দিয়ে বিদায় নিলেন। বঙ্গবন্ধুর পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য অধ্যাপক আনিসুর রহমান তাঁর Through Moments in History : Memoris of Two Decades of Intellectual and Social Life (1970-1990) আকরগ্রন্থে লিখেছেন, ১৯৭৩ সালের এপ্রিল মাসে জাসদের সাধারণ সম্পাদক তাঁকে জাসদের এক জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ করেন। অধ্যাপক রহমান বলেন, তিনি পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হওয়ায় সমাবেশে যোগদানের জন্য কমিশনের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুমোদন প্রয়োজন। অধ্যাপক রহমান লিখেছেন, জাসদের সমাবেশে যোগদানের জন্য বঙ্গবন্ধুর অনুমতি চাইলে বঙ্গবন্ধু কিছুক্ষণ ভাবলেন। সামনের কাগজগুলোতে কিছু একটা আঁকাজোখা করলেন। তারপর বললেন, ‘You may…go. There are some good boys and girls in their party, no harm if they hear some good words from you on nation building.’

অধ্যাপক রহমান জাসদের সভায় যোগদান করেছিলেন। রাস্তায় যারা তাঁর রক্ত চাচ্ছে, তাদের সমাবেশে যোগদানের জন্য সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের একজন দায়িত্বশীল সদস্যকে অনুমতি দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। ত্যাগের দীক্ষায় মহিমান্বিত এবং প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির পূজনীয় এই রাজনীতি চর্চা করেছেন বঙ্গবন্ধু। সেই পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের রক্ত ও আদর্শের উত্তরসূরি বঙ্গবন্ধুকন্যার আচরণে তা পরিলক্ষিত হবে, এটাই স্বাভাবিক। ফরাসি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের মধ্যে তাই মাইক্রোফোনের উচ্চতা ঠিক করে দিতে ছুটে যান আমাদের প্রধানমন্ত্রী। জঙ্গিদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে গ্রেনেড মেরে হত্যা করার চেষ্টার পরও খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে কোকোর মৃত্যু সংবাদ শুনে তাঁকে সমবেদনা জানাতে ছুটে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপির সিনিয়র নেতারা সেই সময় খালেদা জিয়ার বাসায় উপস্থিত থাকলেও প্রধানমন্ত্রীকে বাসায় ঢুকতে দেওয়ার সৌজন্য প্রদর্শনও করেননি। বরং বাসায় ঢোকার পকেট গেটটিও সেদিন প্রধানমন্ত্রীর মুখের ওপর বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গেটের সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে ফিরে আসেন। এটি কোনো বিবেচনায়ই শিষ্টাচারের রাজনীতি নয়।

বঙ্গবন্ধুর মতো একটি দয়ার্দ্র হৃদয় পেয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তাই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার সঙ্গে যে পরিবারের সম্পৃক্ততা, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরু করতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলে যে খালেদা জিয়া হরতাল করেছেন, ২০০১ সালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার আটকে দিয়েছেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার-অপমান করেন, বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত দিবসে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করেছেন, সেই খালেদা জিয়াকে নির্বাহী বিবেচনায় জেল থেকে মুক্তি দিয়ে বাসায় বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। এটি সহনশীল রাজনৈতিক শিষ্টাচারের নজির।

এক পক্ষের চেষ্টায় রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও শিষ্টাচারের রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন হয় না। এ জন্য সব পক্ষকেই এগিয়ে আসতে হবে। হতাশার কথা হলো, সব বদলায়; আমাদের নষ্ট-নোংরা-অশোভন রাজনীতি বদলায় না। আমাদের যে অভাবনীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতি হয়েছে তা টেকসই করতে হলে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলাতেই হবে। রাজনীতিতে শিষ্টাচারের প্রচলন করতেই হবে।

লেখক : অধ্যাপক, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।




সক্ষমতার ডানায় আকাশে শান্তির নীড়

জাতির স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্বের প্রতীক জাতীয় পতাকা বহন করে চলেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। একটি মাত্র ডিসি-৩ উড়োজাহাজ নিয়ে সদ্য স্বাধীন দেশে জাতির পিতার হাত ধরে যাত্রা শুরু করা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হয়েছে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে একটি থেকে ২১টিতে উন্নীত হয়েছে বিমানের বহর। জীর্ণতা ছেড়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম তারুণ্যদীপ্ত বহর হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করেছে বাংলাদেশ বিমান। গত ২০২১-২০২২ অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করে পরিচালন ব্যয় বাদ দিয়ে ৪৩৯.৭৮ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে। আগের বছরেও অর্থাৎ করোনা মহামারির মধ্যে যখন বিশ্বের বৃহৎ এয়ারলাইন্সসহ সিংহভাগ এয়ারলাইন্স লোকসানের মধ্যে ছিল, সে বছরও চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনা করে ১৫৮ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছিল বিমান।

বিএনপি আমলে কেমন ছিল বিমান?
২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমানকে পরিণত করে দুর্নীতি আর লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে। খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দাররা একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ করে বিমানের সাপ্লাই আর এয়ার ক্রাফট ক্রয়। বিএনপি আমলে সীমাহীন দুর্নীতির কারণে- নিউইয়র্ক, ব্রাসেলস, প্যারিস, ফ্রাংকফুর্ট, মুম্বাই, নারিতা এবং ইয়াঙ্গুন রুটে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়। চরম লোকসান আর অব্যবস্থাপনায় বিমান মুখ থুবড়ে পড়ে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছিলেন বিমান প্রতিমন্ত্রী। তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দর প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন। রাজশাহী এয়ারপোর্টও প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিল বিএনপি। আর বরিশাল এয়ারপোর্ট বিমান চলাচল কমে যায়। রাডার স্টেশন ছিল নষ্ট। গোটা বিএনপি আমলে একাধিক আবেদনের পরেও এটা ঠিক করেনি মন্ত্রণালয়।

বিমানের ৫ টি ডিসি-১০ প্লেনের মধ্যে ৪ টিই অচল করে রাখা হয়েছিল। বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে ডিসি-১০ প্লেনের ১০টি ইঞ্জিন বিদেশে মেরামতের নামে পড়ে থাকে। ফলে ৫ টির মধ্যে ৪ টি ডিসি-১০প্লেন আর উড্ডয়ন বন্ধ হয়ে যায়। এর চাপ পড়ল বিমানের তখনকার ৩ টি এয়ারবাস এ্যারোপ্লেনের ওপরও। তাই বিমানের সমস্ত সিডিউল ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। প্রতিটি ফ্লাইট ডিলে তখন একটি নিত্য-নৈমত্তিক ব্যাপার ছিল।
ডিসি-১০ প্লেনের ১০টি ইঞ্জিন ইচ্ছাকৃতভাবে বিদেশে ফেলে রাখা হয়।

নিউইয়র্কে নর্থ আটলান্টিক ট্রাভেল এজেন্সি নাম দিয়ে বিএনপি নেতাদের কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সি মিলে একটি সিন্ডিকেট করে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিমানের নিউইয়র্ক অফিসকে মৌখিকভাবে নির্দেশ দিলেন বিএনপি নেতা-কর্মীদের ট্রাভেল এজেন্সি ছাড়া অন্যরা বিমানের টিকেট বিক্রি করতে পারবে না। ওই ট্রাভেল এজেন্সিগুলো নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউইয়র্কের জন্য নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অনেক বেশি দামে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করত। ফলে ঢাকা-নিউইয়র্কের মধ্যে বিমানের যাত্রী কমতে শুরু করে। এক পর্যায়ে বিমানের ঢাকা-নিউইয়ের্কের ফ্লাইটই বন্ধ করে দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগের হাতে নিরাপদ ‘আকাশে শান্তির নীড়’
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের অব্যবস্থপনা থেকে ঘুরে দাড়িয়েছে বাংলাদেশ বিমান। দেখেছে লাভের মুখ। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানের থার্ড টার্মিনাল তৈরির কাজ প্রায় শেষ। নতুন এই টার্মিনালে বিশ্বের ৫৪টি এয়ারলাইন্স তাদের অপারেশন পরিচালনা করবে। সেই সাথে বাড়বে বাংলাদেশ বিমানের ব্যাপ্তি আর ফ্লাইট সংখ্যা।

নতুন ১০টি এয়ারবাস
বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাংলাদেশ বিমানের বহরে যোগ হয়েছে নতুন অনেক বিমান। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নতুন উড়োজাহাজ ড্রিমলাইনারসহ বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা এখন ২১টি। তার মধ্যে ১৪টি নিজস্ব এবং ৫টি লিজ। নিজস্ব ১৪টির মধ্যে বোয়িং৭৭৭-৩০০ ইআর ৪টি, বোয়িং ৭৮৭-৮ ৪টি, বোয়িং ৭৮৭-৯ ২টি, বোয়িং ৭৩৭ ২টি এবং ড্যাশ-৮ ২টি।

ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের কথা চিন্তা করে বাংলদেশ বিমান তাদের বহরে বিমান সংখ্যা বাড়িয়েছে। সেই উদ্দেশ্যে সম্প্রতি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রনের সাথে ১০টি অত্যাধুনিক এয়ারবাস কেনার চুক্তি হয়। এর আগে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি থেকে কিস্তিতে ১২টি বিমান ক্রয় করেছিল।

যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া বেশ আগেই শুরু করেছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এতদিন এ নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। ফ্রান্সের এই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে এ৩৫০ মডেলের উড়োজাহাজ জি-টু-জি পদ্ধতিতে কেনা হবে। এর আগে ৬ মে লন্ডনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে এ সংক্রান্ত যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষর হয়। পরে জানানো হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে এয়ারবাস থেকে আটটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ কিনবে বিমান। পরবর্তী সময়ে আলোচনা সাপেক্ষে আরও দুটি মালবাহী (কার্গো) উড়োজাহাজ কেনা হবে।

এয়ারলাইন্সে বিমান সংখ্যা কত হওয়া উচিত?
বিশ্বে লাভবান এয়ারলাইন্স পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যেই এয়ারলাইন্সের বিমান সংখ্যা যতো বেশি সেই এয়ারলাইন্স ততো বেশি লাভবান। ভারতে প্রাইভেট এয়ারলাইন্সগুলোতেও সর্বনিম্ন ২০০ এয়ারক্রাফট থাকে, যার বেশিভাগই ভারতের মধ্যে যাত্রীসেবা দেয়। সেই হিসাবে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উঠতে যাওয়া বাংলাদেশের রাষ্ট্রয়াত্ত্ব বিমানবহরে বিমানের সংখ্যা মাত্র ২১টি। বিশ্বের প্রায় ৪২টি দেশের সঙ্গে বিমানের আকাশসেবার চুক্তি থাকলেও মাত্র ১৬টি দেশে এখন কার্যক্রম বিদ্যমান। বিমানবহরে নতুন এয়ারক্রাফটগুলো যুক্ত হলে বন্ধ রুটসহ নতুন নতুন রুট চালু হবে।

নতুন উড়োজাহাজ সরবরাহে কমপক্ষে দুই বছর লাগবে। উড়োজাহাজ এলে বিমানের নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ হবে। জাপানে নতুন রুট চালু হয়েছে। কানাডায় আরও ফ্লাইট বাড়ানোসহ গুয়াংজু, যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি নতুন রুট চালুর সিদ্ধান্ত এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে। এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনা সেই পরিকল্পনারই অংশ। আগামী মাসের মধ্যে গুয়াংজু ফ্লাইট চালু হওয়ারও কথা রয়েছে। প্রায় একযুগ যুক্তরাষ্ট্রে বন্ধ থাকা ফ্লাইট চালু করতে কোনো বাধা নেই। সিভিল এভিয়েশনের গ্রিন সিগন্যাল পেলে বিমান যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লাইট চালু হবে। ধীরে ধীরে বাড়ছে সুশৃঙ্খল পরিকল্পিত ফ্লাইট সংখ্যা, যে কারণে যুগ যুগ ধরে লোকসানের খাতায় নাম লেখানো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লাভের মুখ দেখছে।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী।




বঙ্গবন্ধুর দর্শন এগিয়ে নিচ্ছেন শেখ হাসিনা

আজ ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম, মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে দ্বিতীয়, পাট উৎপাদনেও দ্বিতীয়। এছাড়া ধান ও সবজি উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় এবং আলু আম উৎপাদনে সপ্তম। ধান, গম ও ভুট্টা বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও দুর্যোগ সহিষ্ণু শষ্যের জাত উদ্ভাবনেও শীর্ষে বাংলাদেশের নাম। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কৃষি-দর্শনের আলোয় হাঁটছেন শেখ হাসিনা ।

গল্পটা শুরু বঙ্গবন্ধুর হাতে
মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠকেই সবুজ বিপ্লবের আহবান জানান বঙ্গবন্ধু। দিনটা ছিল ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে অনেকটা সামাজিক আন্দোলনের মত করে এই আহবান জানান তিনি। কৃষকদের সব বকেয়া খাজনার সুদ মাফ করে ভবিষ্যতে যে কোনো কৃষকের ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফের ঘোষণা দেন।

রাষ্ট্রপতির ১৩৫ নম্বর আদেশের মাধ্যমে নদী কিংবা সাগরের মধ্যে জেগে ওঠা চরে, জমির মালিকানা রাষ্ট্রের হাতে নিয়ে দরিদ্র কৃষকদের দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একই সাথে খাস জমি প্রান্তিক অস্বচ্ছল কৃষকদের মধ্যে বণ্টনের উদ্যোগ নেন। পাকিস্তান সরকারের সময় দায়ের করা ১০ লাখ সার্টিফিকেট মামলা থেকে কৃষকদের মুক্তি দেন। কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় ১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রপতির ২৭ নম্বর অধ্যাদেশ বলে বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠা করেন ‘বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক’।

আবার শুরু করতে হলো
বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ১৪ বছরের সামরিক শাসন এবং পাঁচ বছরের বিএনপি শাসনামলে কৃষি ব্যবস্থাপনা ছিল খুবই দুর্বল এবং বুলি সর্বস্ব প্রচার। এই খাত ভরে গিয়েছিল অপরিকল্পিত খাল খননের মত কিছু লোক দেখানো ছেলে খেলায়। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় আসতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হলো ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত। প্রথমবার সরকার গঠন করলেন শেখ হাসিনা। দেখলেন, দেশে খাদ্য ঘাটতি ৪০ লাখ মেট্রিক টন।
তিনি কাজ শুরু করলেন। প্রথমে কৃষিতে বাজেট বাড়ালেন। ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরের বাজেটে শুধু কৃষি গবেষণার বরাদ্দ ছিল ১২ কোটি টাকা। সরকার ক্ষমতায় আসার বছরেই কৃষিখাতে বাজেটের এই বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে ছিল ঐতিহাসিক। ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে, অর্থাৎ সরকার গঠনের পরের বছরই কৃষিখাতের বাজেট উন্নীত হয় ১০০ কোটি টাকায়, যা সম্পূর্ণ ব্যয় করা হয় কৃষি ও কৃষি সংক্রান্ত আইসিটি খাতে।

আরেকটি কালো অধ্যায়
বিএনপি জামাত জোট সরকারের সময়ে ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত পুনরায় দেশের কৃষিতে ধস নেমে আসে। আওয়ামী লীগ সরকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যেখানে খাদ্য উদ্বৃত্ত রেখে যায়, সেখানে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয় । যে কারণে আমদানি নির্ভরতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। প্রয়োজনীয় সরকারি কর্মসূচি ও সীমাহীন দুর্নীতির জন্য কৃষকরা বিপদে পড়েন।

বিদ্যুৎক্ষেত্রে বিএনপি-জামাতের সীমাহীন দুর্নীতির জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়। এতে সেচ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। সরকারি ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানা থেকে লাখ লাখ বস্তা সার লুট করে তা দ্বিগুণ দামে খোলা বাজারে বিক্রি করতো বিএনপি-জামাতের কর্মীরা। যেকারণে সারের তীব্র সংকট তৈরি হয়। সারাদেশে বিদ্যুৎ ও সারের অভাবে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হন কৃষকরা। আন্দোলনরত কৃষক-শ্রমিকের ওপর পুলিশি নির্যাতন নেমে আসে। কোনো কোনো জায়গায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন কৃষক।

২০০৪ সালের ২৩ মার্চ যশোরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবিরাম লোডশেডিংয়ের কারণে কৃষক এবং পোল্ট্রি খামারিদের মধ্যে নাভিশ্বাস ওঠে। পোল্ট্রি ব্যবসা প্রায় লাটে ওঠে। গরমে খামারের বাচ্চা-বাচ্চা মুরগিগুলো মারা যেতে থাকে। লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজে তৃণমূলের শতশত সেচপাম্প বিকল হয়ে যায়।
২০০৬ সালের ৫ মার্চ খুলনার রূপসায় বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলনে নামে জনতা। এসময় জোট সন্ত্রাসীদের হামলায় কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। ওই বছরই বিদ্যুৎ ও সার সংকটের প্রতিবাদে যশোর-মাগুরা ও যশোর-খুলনা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন চাষিরা। নওগাঁয় বিদ্যুতের জন্য ৫ হাজারেরও বেশি কৃষক ঘেরাও করেন বিদ্যুৎ অফিস।

একই বছরে বিদ্যুতের দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের কানসাটে আন্দোলনরত জনতার ওপর সরকারের পেটোয়া বাহিনীর অকস্মাৎ গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন সাতজন সাধারণ মানুষ। পাঁচ মাসের ওই আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান ১৭ জন। আহত হন অন্তত ৬০০ মানুষ। এ ঘটনায় সারাদেশ ফুঁসে ওঠে।

২০০৮ থেকে কৃষিখাতের পুনর্জাগরণ
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকার যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয় তখন দেশে খাদ্য ঘাটতি ছিল ২৬ লাখ টন। প্রথম ক্যাবিনেট সভাতেই সারের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ৯০ টাকার ট্রিপল সুপার ফসফেটের দাম কেজি প্রতি ২২ টাকা ও ৭০ টাকার মিউরেট অব পটাসের দাম কেজি প্রতি ১৫ টাকায় নামিয়ে আনেন। ফলে সুষম সার ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত হয়। কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকি দেয়া, সেচ সুবিধা বাড়ানো, সার বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাসহ নানামুখী পদক্ষেপ নেয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার।

এর পরপরই কৃষি গবেষণায় অগ্রাধিকার দেয় সরকার। যার ফলে প্রতিটি কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে ল্যাব উন্নয়নসহ নানামুখী গবেষণা পরিচালনা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। দেশে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল কৃষি তথা ‘ই-কৃষি’র প্রবর্তন করা হয়। এখন দেশে মোট ৪৯৯টি কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র (এআইসিসি), কৃষি কল সেন্টার-১৬১২৩, কৃষি কমিউনিটি রেডিও, কৃষি তথ্য বাতায়ন তৈরি করা হয়েছে। ফলে দেশের প্রান্তিক কৃষকসমাজ সহজেই কৃষিখাতের আধুনিকায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারছেন।

শেখ হাসিনার সরকার কৃষককে মাত্র ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ করে দেওয়ায় ১ কোটি ১ লাখ ১৯ হাজার ৫৪৮টি ব্যাংক হিসাব খোলা সম্ভব হয়েছে, যেখানে বর্তমান স্থিতি প্রায় ২৮২ কোটি টাকা। সরকার ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে প্রণোদনা চালু করেছে। অদ্যাবধি এ কর্মসূচির মাধ্যমে ৮২৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ৭৪ লাখ ৫৪ হাজার ৩১৩ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

আলোর পথে বাংলাদেশ
২০১৯-২০ অর্থবছরে কৃষি ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ৮০০০ কোটি টাকা। করোনা সংকটের মুখে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে কৃষি ভর্তুকির পরিমাণ বাড়িয়ে ৯৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। বিএনপি আমলে যেখানে মোট ফসল উৎপাদন ছিল মাত্র ২ কোটি ৬১ লাখ টন। সেখানে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আমলে ২০২২ সালে মোট ফসল উৎপাদন হয় ৯ কোটি ১৯ লাখ ১৮ হাজার ৮০০ টন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এখন সবার আগে দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছে কৃষি। কৃষকদের জীবনযাত্রার মানেও এসেছে আমূল পরিবর্তন। লেখাপড়া শেষ করে বহু ছেলে মেয়ে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছে। কৃষিখাত হয়ে উঠছে দেশে কর্মসংস্থানের অন্যতম আশ্রয়।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী।




নাইকো দুর্নীতিতে খালেদা জিয়া ও ‘হাওয়া ভবন’ সম্পৃক্ততার সাক্ষ্য আসছে

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার নাইকো দুর্নীতি মামলা কার্যক্রম আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন পথে হাঁটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নাইকো দুর্নীতি মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) এক কর্মকর্তা ও কানাডার রয়্যাল মাউন্টেড পুলিশের ২ কর্মকর্তাকে সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর আদালতে এ আবেদন করেন।

সামনে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া এরই মধ্যে একাধিক দুর্নীতির মামলায় সাজা পেয়ে কারাবন্দি। একই সময়ে বাংলাদেশের আদালতে চলছে ‘নাইকো’ দুর্নীতি মামলার শুনানি। এবার সেটা একধাপ এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

খালেদা জিয়া ছাড়া এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক এমপি ও ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি এম এ এইচ সেলিম এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ। এরইমধ্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এ কে এম মোশাররফ হোসেনের মৃত্যু হওয়ায় আসামির তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে দুর্নীতি হয়েছিলো

কানাডায় নিবন্ধিত তেল ও গ্যাস উৎপাদন কোম্পানি ‘নাইকো’বাংলাদেশের কয়েকটি গ্যাস ফিল্ড লিজ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলো।  পূর্ব ও পশ্চিম ছাতক গ্যাসফিল্ড নিয়েই মূলত বিতর্ক। ২০০২ সাল পর্যন্ত পূর্ব ছাতক গ্যাস ফিল্ড একটি ভার্জিন গ্যাস ফিল্ড অর্থাৎ গ্যাসে পূর্ণ ছিল বলে বাপেক্স এবং বাংলাদেশের দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অভিমত দিয়েছিল। ‘নাইকো’ নানা অসৎ পন্থা অবলম্বন করে আমাদের দেশের তৎকালীন ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের প্রভাবিত করে এই পূর্ব ছাতক গ্যাস ফিল্ডটি লিজ নেয় এবং একটি পরিত্যক্ত গ্যাস ফিল্ড হিসেবে এটাকে তখন তাদের হাতে দেওয়া হয়। আসলে এই গ্যাস ফিল্ড কখনো পরিত্যক্ত ছিল না৷ কিন্তু তখন অস্বচ্ছ এক চুক্তিতে নাইকোকে দু’টি গ্যাসফিল্ডই পরিত্যক্ত হিসেবে কম দামে দিয়ে দেওয়া হয়। এর সঙ্গে তারেক রহমানের হাওয়া ভবন সরাসরি যুক্ত ছিলো।

সেই ‘নাইকো’ দুর্নীতির ঘটনা এখন বিশ্বখ্যাত। কানাডার আদালতে এরইমধ্যে ‘নাইকো’ দুর্নীতি মামলায় কানাডিয়ান অপরাধীদের দণ্ডিত করা হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশের আদালতে দায়েরকৃত ‘নাইকো’ দুর্নীতি মামলায় বাংলাদেশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান।

২০১৮ সালের ২২ নভেম্বর ‘নাইকো’ দুর্নীতি মামলায় রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআইয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার সাক্ষ্য নিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বিচারিক আদালতে আবেদন করা হয়। এবছর ৯ সেপ্টেম্বর আবারও সেই আবেদন সামনে আনা হয়েছে। যদি আবেদনটি বাংলাদেশের আদালত আমলে নেয়, তাহলে এটিই হবে বাংলাদেশের কোনো আদালতে প্রথমবারের মত আন্তর্জাতিক দুর্নীতির মামলায় বিদেশি নাগরিকের সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্যগ্রহণের ঘটনা। এবং মামলার কার্যক্রমের জন্য বাংলাদেশ আরেকধাপ এগিয়ে যাবে।

কানাডার তদন্ত শুরু ২০০৫ সালেই

পূর্ব ছাতকের গ্যাস ফিল্ড নেওয়ার ব্যাপারে ‘নাইকো’ যে ঘুষ প্রদান করে, তা নিয়ে কানাডার রয়্যাল মাউন্টেড পুলিশ ২০০৫ সালে তদন্ত শুরু করে এবং তারা তদন্তে প্রমাণ পায়, ‘নাইকো’ কোম্পানি কানাডা থেকে ঘুষের টাকা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন দেশ হয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়েছিল এবং কয়েকজন ব্যক্তিকে ঘুষ দিয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রাজধানীর তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করে। এরপর ২০০৮ সালের ৫ মে চুক্তির সময়কার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয় দুদক। অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা খারিজ যে কারণে

এই মামলা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া উভয়ের বিরুদ্ধেই ছিল, কিন্তু শেখ হাসিনার বিপক্ষে মামলা খারিজ হয়ে গেছে এবং খালেদা জিয়ার বিপক্ষে মামলা চলছে। অনেক সময় নিন্দুকেরা বলার চেষ্টা করেন যে, কেন শেখ হাসিনার মামলাটি খারিজ হলো। কারণটা স্পষ্ট। কখনো খোঁজ নিয়ে দেখলে প্রশ্নটা উত্থাপন করতো না কেউ। শেখ হাসিনার সরকার ১৯৯৬-২০০১ সালে ‘নাইকো’ কোম্পানির সঙ্গে দরকষাকষি করেছে, শেষ পর্যন্ত তারা চুক্তি করেনি। কারণ ‘নাইকো’র একটি শর্ত বাংলাদেশের স্বার্থের বিপক্ষে যাচ্ছিল।

অন্যদিকে খালেদা জিয়ার সরকার ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসেই নাইকোর সঙ্গে তাদের সব শর্ত মেনে চুক্তি সই করে ফেলে। ২০০৩ সালের ১৬ অক্টোবর নাইকো-বাপেক্স জেভিএ সই হয়। পরবর্তী সময়ে কানাডার আদালতে প্রমাণিত হয় যে নাইকো বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার আমলে ঘুষ দিয়ে কাজ পায়। হাওয়া ভবনের গিয়াস উদ্দিন আল মামুন ঘুষ নেন এবং খালেদা জিয়ার তৎকালীন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেনকে ১ লাখ ৯০ হাজার কানাডীয় ডলার দামের একটি গাড়ি ও বিদেশ সফরের জন্য পাঁচ হাজার ডলার ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে নাইকোর বিরুদ্ধে।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী।




খালেদার অসুস্থতা ও আন্দোলন নিয়ে বিএনপির লুকোচুরি

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এতোটাই অসুস্থ যে মাসাধিকাল ধরে তিনি এভারকেয়ারে চিকিৎসাধীন আছেন। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার সাথে সাক্ষাতে যান এবং প্রতিবারই ফিরে এসে এমন কাতর কণ্ঠে তার মুক্তি দাবি করেন। মঙ্গলবার রাতে যখন গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতারা এভারকেয়ারে গেলেন তখন সাংবাদিকসহ বিএনপির নেতাকর্মীরাও উৎসুক ছিলেন।

সেই রাতে যখন গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা হাসপাতালে অপেক্ষা করছিলেন খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের। তখনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবাই বলছিলেন- ‘আর বেশিক্ষণ না। অল্পক্ষণেই জানা যাবে আসলে কী পরিস্থিতি। কেনো নেতারা ছুটে গেছেন দেখা করতে।’ আশ্চর্যের বিষয় – নেতারা বেরিয়ে এলে বিভ্রান্তি কমবে ভাবছিলেন যারা, কিন্তু নেতাদের বক্তব্য শুনে তারা তারচেয়েও বেশি বিভ্র্রান্তিতে পড়েছেন। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- বাংলাদেশের সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রী তাকে নিয়ে আসলে কী ঘটে চলেছে। এই বয়সে যতগুলো জটিল সমস্যা নিয়ে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তার নেতাকর্মীরা কি আদৌ সহমর্মী? নাকি রাজনীতিতে তাকে এই মুহূর্তে ব্যবহারের কথা ভেবেই তারা হাসপাতালে গিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার দিনগত রাত ১০টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান নেতারা। খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তারা। এ সময় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না সাংবাদিকদের বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। রাজনৈতিক কথা বলার মতো অবস্থায় নাই। আমরা কথা বলেছি, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে। তাকে জানিয়েছি, আমরা এক দফার আন্দোলন করছি। সামনের মাসে আন্দোলন জোরদার করব।’ মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “তিনি (খালেদা জিয়া) বলেছেন, ‘আপনারা যারা বাইরে আছেন, তারা সবাই মিলে আন্দোলন করেন। আমি দেখতে চাই, আপনারা আন্দোলন করছেন, আন্দোলন করতে হবে।’ আমাদের এই আন্দোলনে তাঁর সমর্থন আছে। তিনি (খালেদা জিয়া) বলেছেন, কোনো অবস্থায় এই সরকারের অধীনে নির্বাচনি ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।”

লক্ষ্য করুন মাহমুদুর রহমান মান্না বলছেন, ‘রাজনৈতিক কথা বলার মতো অবস্থায়’ নেই। তাহলে? তারপরে তিনি বলছেন, খালেদা জিয়া ‘আন্দোলন চালিয়ে যেতে বলেছেন’, খালেদা জিয়া নির্বাচনের ফাঁদে পা না দিতে বলেছেন’। এই পরের কথাগুলো মাহমুদুর রহমান মান্নার কাছে অরাজনৈতিক কথা? এগুলো খালেদা জিয়া সত্যিই বলেছেন তো? বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বারবার বলছেন, উনি ‘খুব অসুস্থ’। হাসপাতালে খুব অসুস্থ মানুষ খালেদা জিয়ার বরাত দিয়ে সেদির রাতে হাসপাতালের বাইরে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) বলেছেন, দেশকে বাঁচাতে হলে এই আন্দোলনটা করতে হবে, দেশকে রক্ষা করতে এই আন্দোলনে বিজয়ী হতে হবে।’

এদিন হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখতে যাওয়া গণতন্ত্র মঞ্চের নেতাদের মধ্যে ছিলেন- জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুল ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন সমন্বয়ক এডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম। তাদের প্রত্যেকের কথায় ছিলো ‘খালেদা জিয়া আন্দোলন চালিয়ে যেতে বলেছেন’।

গত ৯ আগস্ট শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বেগম খালেদা জিয়াকে। এরপর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। ৭৯ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী লিভার সিরোসিস, আর্থাইটিস, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্রে জটিলতা, ফুসফুস, চোখ ও দাঁতের নানান সমস্যায় ভুগছেন। এছাড়া তার মেরুদণ্ড, ঘাড়, হাত ও হাঁটুতে বাতের সমস্যাসহ আরও কিছু শারীরিক জটিলতা রয়েছে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে এভার কেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন তথ্য দিতে চায় না। গণমাধ্যমকে নিয়মিত তথ্য জানান খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ। মঙ্গলবার যে নেতারা রাতে হাসপাতালে সাক্ষাত করেছেন এবং গণমাধ্যমে কথা বলেছেন তাদের বক্তব্য উৎসুক মানুষের মনে বিভ্রান্তি কমাতে পারেনি, বরং বেড়েছে।




দর্শনায় আইডিয়াল স্কুল এন্ড ক‌লেজে বৃক্ষরোপণ অনুষ্টানে এমপি টগর

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় দর্শনা আইডিয়াল স্কুল এন্ড ক‌লেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় দর্শনা পুরাতন বাজার জোড়া বটতলা সংলগ্ন দর্শনা আইডিয়াল স্কুল এন্ড ক‌লেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাংসদ হাজী মোঃ আলী আজগার টগর।

তিনি বলেন,বৃক্ষকে ভালো বাসুন, বৃক্ষনিধন থেকে দূরে থাকুন,বেশী বেশী বৃক্ষ রোপন করুন। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধূলারও চর্চা করতে হবে।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ‌স্থিত ছি‌লেন দর্শনা আইডিয়াল স্কুল এন্ড ক‌লে‌জের প‌রিচালক ও উদ্যোক্তা গোলাম ফারুক আরিফ, সভাপ‌তি উত্তম রঞ্জন দেবনাথ, আজমপুর সঃ প্রাঃ প্রধান শিক্ষক স্বরুপ কুমার দাস প্রধান শিক্ষক তনুশ্রী বসু,লি‌টিল এন‌জেলস ইন্টা স্কু‌লের প্রধান শিক্ষক বিকাশ কুমার দত্ত ও বিদ‌্যাল‌য়ের সহকা‌রি প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম, সোলাইমান হক,মোঃ রফিক উদ্দিন,প্রলয় শীল,আনন্দ কুমার, সুমি খাতুন ,বাবুল আক্তার ,প্রান্ত বিশ্বাস, প্রেসক্লাবের সহসভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলাম,সহসভাপতি মাহমুদ হাসান রনি, সাধারন সম্পাদক হানিফ মন্ডল, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল, সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান ধীরু,ইমতিয়াজ রয়েল ও সাংবাদিক হারুর রাজু প্রমুখ।




দর্শনায় জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা 

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে দর্শনা পৌরসভার আয়োজনে এ র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথমে পৌরসভা সকল কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারিগণ পৌরসভা থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী নিয়ে দর্শনা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌরসভায় যেয়ে এক আলোচনা সভা করেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে দর্শনা পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ রবিউল হক সুমনের সভাপতিত্বে আলোচনা করেন, সহকারী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত সচিব) সাজেদুল আলম, প্রধান সহকারী রুহুল আমিন খাঁন, হিসাব রক্ষক সরোয়ার হোসেন, প্যানেল মেয়র-২ রেজাউল ইসলাম, কাউন্সিলর সাবির হোসেন মিকা, হাসান খালেকুজ্জামান, মনির সর্দার, সাইফুল ইসলাম, আশুরদ্দীন আশু।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, শাহালম, জাহিদুল ইসলাম, মোমিনুল ইসলাম, আব্দুল মজিদ, মেহেদী হাসান সহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি গণ।




চুয়াডাঙ্গা জেলার শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত হলেন সামসুন্নাহার

ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখেছেন রুদ্রনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সামসুন্নাহার। ২০১৯ সালে উপজেলা সহকারী শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। ২০২২সালে কাব স্কাউটস এ উডব্যাজ অর্জন।

২০২১ শিক্ষকদের সবচেয়ে বড়ো প্লাটফর্ম শিক্ষক বাতায়নে চুয়াডাঙ্গা জেলার মধ্যে প্রথম মহিলা এ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত হন।জাতীয় দিবসে তার নেতৃত্বে প্রতিবার কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লেতে পুরস্কার অর্জন করে এ বিদ্যালয়টি।

৪ টি উপজেলার সহকারীদের শিক্ষকের সাথে প্রতিযোগিতা করে জেলার মধ্য শ্রেষ্ট শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন দর্শনা পৌর মেয়র আতিয়ার রহমান হাবু,রুদ্রনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারা খাতুন,দর্শনা প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম,রুদ্রনগর সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক বৃন্দ সহ বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা।




চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে আফরোজা পারভীনের পথসভা উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ

চুয়াডাঙ্গা জেলা যুব মহিলা লীগের পক্ষ থেকে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে পথসভা উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ  বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে চারটার সময় চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নে ইউনিয়ন যুব মহিলা লীগের সভাপতি ইউপি সদস্য সাবিয়া খাতুন এর আয়োজনে এই নির্বাচনী উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি ও আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশি আফরোজা পারভীন।

এ সময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা বিশ্বব্যাংককে চ্যালেঞ্জ করে নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বাংলাদেশের সক্ষমতা দেখিয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বিশ্বে বাংলাদেশ আজ রোল মডেল। দেশকে উন্নয়নের স্বর্ণ শিখরে পৌঁছাতে আগামী দিনেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প নেই।

আগামী সংসদ নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনার সরকারকে আবারো ক্ষমতায় আনতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। গণসংযোগের সময় সরকারের উন্নয়ন কাজের চিত্র তুলে ধরে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা যুব মহিলা লীগের সহ-সভপতি পূর্ণিমা হালদার,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলিজা খাতুন ,সদর উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি-কাজলী আক্তার , সাংগঠনিক সম্পাদক সপ্না খাতুন চিনি, দামুড়হুদা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহেদা খাতুন ,আলমডাঙ্গা উপজেলার যুব মহিলা লীগের সভাপতি মনিরা খাতুন,সাধারণ সম্পাদক জাহানারা খাতুন, চুয়াডাঙ্গা পৌর ৯নং ওয়ার্ড সভাপতি-আরজিনা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক বেবি, সাংগাঠনিক সম্পাদক মিতা রানী, ৬ নং ওয়ার্ড সভাপতি রুপালি, সাধারণ সম্পাদক ফাহিমা, ২নং ওয়ার্ড কমিটির অর্থ সম্পাদক শিউলি খাতুন, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতৃবৃন্দ রাতুল, সাকিব শেখ , মাহফুজ, আকাশ,কুতুব, রিপন,শাওন, সিফাত,জিরান,সেজান ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ সহ চুয়াডাঙ্গা জেলা ও আলমডাঙ্গা উপজেলা যুব মহিলা লীগের নেতৃবৃন্দ।




মেহেরপুরে হ্যান্ডবল ফাইনালে বাড়িবাঁকা সীমান্ত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়

মেহেরপুর জেলা পর্যায়ে ৫০ তম জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা পর্যায়ের গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় মুজিবনগরের গোপালনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়কে পরাজিত করে হ্যান্ডবল ইভেন্টের ফাইনালে উঠেছে বাড়িবাঁকা সীমান্ত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়।

আজ বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মেহেরপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে মেহেরপুর সদর উপজেলা চ্যাম্পিয়ন বাড়িবাঁকা সীমান্ত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ২-১ গোলে মুজিবনগর উপজেলা চ্যাম্পিয়ন গোপালনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়কে পরাজিত করে জেলা পর্যায়ের ফাইনালে পৌছে।