
দামুড়হুদায় শিক্ষা ও সংস্কৃতির অন্যতম বিদ্যাপীঠ ব্র্যাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব-২০২৬। মঙ্গলবার দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং অতিথিদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন এক টুকরো গ্রামের পল্লী বাংলায় পরিণত হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা পরিদর্শক মোত্তাসিন বিল্লাহ। উপজেলা ভূমি অফিসের ক্যাশিয়ার ইসমত তোহা, সার্টিফিকেট পেশকার আনিসুর রহমান,সাহিরুল শেখ, সায়রাত সহকারী এবং কম্পিউটার অপারেটর মশিউর রহমান। এসময় ভূমি অফিসের প্রতিনিধিগণ এসি ল্যান্ড মহোদয়ের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান এবং পিঠা উৎসবের আয়োজকদের সাধুবাদ জানান। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাচ বাংলা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার সুনীল কুমার নাথ,এ্যসিসট্যান্ট চ্যানেল অফিসার চঞ্চল কুমার শাহাসহ দামুড়হুদা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ,ব্র্যাক অফিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, অত্র এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং বিপুল সংখ্যক অভিভাবকবৃন্দ।
গ্রামের বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্যের সাথে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দিতে শিক্ষার্থীরা ৬টি দৃষ্টিনন্দন পিঠা উৎসবের স্টল সাজিয়েছিল। স্টলগুলোর সৃজনশীল নাম ও পিঠার বৈচিত্র্য সবার নজর কেড়েছে যেমন,পল্লীর ছোঁয়া,পিঠার সাতকাহন,কুড়েঘরে পিঠা,নবান্নের ঘ্রাণ,পিঠা বিলাস,বসন্তের ফুলঘর ও চা। স্টল গুলোতে ভাপা পিঠা,দুধপুলি,পাকান,ডিম সুন্দরী,রসকদম,জামাই পিঠা,নকমীপিঠা,তালের বরা,ছাঁচ পিঠা,ফলকাটা পিঠা,রসের পিঠা,কদম সুন্দরী, গাজরের হালুয়া, পুডিং, চিতই, পাটিসাপটা, ভাজাপুলি ,গোলাপসুন্দরী, তারাপিঠাসহ নানা বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা দিয়ে সজ্জিত করা হয়।
প্রধান অতিথি হিসাবে জেলা শিক্ষা পরিদর্শক অফিসার মোত্তাসিন বিল্লাহ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষার পাশাপাশি এ ধরনের সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদেরকে আমাদের শেকড় এবং সংস্কৃতির সাথে যুক্ত করে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুন নাহার বলেন, পিঠা উৎসবের মাধ্যমে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য উপস্থাপনের সাথে সাথে শিক্ষার্থীদেরকে ক্ষুদে উদ্যোক্তা তৈরি করায় মূলত এই উৎসবের আয়োজন।যাতে তারা নিজেদের পন্য কিভাবে উপস্থাপন করতে হবে,সজ্জিত করতে হবে,প্রফিট করতে হবে তা শিখতে পারে।একজন শিক্ষার্থী কে তার ভবিষ্যৎ জীবনে কর্মক্ষম করে তোলার চেষ্টাই হলো বিদ্যালয়টির সামগ্রীক প্রচেষ্টা।
শীতের শেষে এবং বসন্তের আগমনে এই পিঠা উৎসব ছিল এক মিলনমেলা। স্টলগুলোতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠার স্বাদ আমন্ত্রিত অতিথিদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানটি শেষ হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে।

