
দর্শনায় পাখি শিকারীর হাতে দুই নারী নিযার্তনের স্বীকারের ঘটনায় দর্শনা থানায় একটি অভিযোগ হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা ৩টার দিকে দর্শনা রিফিউজি কলনীর দুই নারী আব্দুস শুকুরের স্ত্রী জাহিদা খাতুন (৪০) ও সমশের আলীর স্ত্রী নুরজাহান খাতুন (৫৫) পরাণপুর ও রামনগর মাঠে ছাগল চরাতে যায়। এদিকে আগে থেকে পাখী শিকারী রিফিউজি কলনীর রোজির খাতুনের ছেলে রাজু হোসেন ও সাজু হোসেন ঐ মাঠে আগে থেকে পাখী ধরা ফাঁদ পেতে রাখে।
এসময় জাহিদা খাতুন (৪০) ও নুরজাহান খাতুন (৫৫) রামনগর মাঠে ছাগল চরাতে গিয়ে পাখী ধরা এলাকায় ছাগল নিয়ে গেলে তাদের ছাগল সরাতে বলে। এদিকে জাহিদা খাতুন ও নুরজাহান খাতুন ছাগল সরাতে দেরী করে। এসময় রাজু হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে ঐ দুই নারীকে বাঁশের কাবারী দিয়ে বেদম প্রহার করে এবং জাহিদা খাতুনের গলাই হাঁসুয়া দিয়ে জবাই করতে যায়। এতে জাহিদার গলাই ও কোমরের নীচে ফোলা রক্তজমাট ও ক্ষত হয়। নুরজাহান ছুটে এসে তাকে বাঁচাতে আসলে ধাক্কা দিয়ে ফেলে আহত করে। এতেই রাজু শান্ত না হলে আশেপাশের মাঠের লোকজন এসে জাহিদাকে রক্ষা করে।
এলাকাবাসী জানান, রাজু দীর্ঘদিন সুন্ডো, বেতোগাড়ীর মাঠ, রামনগর মাঠ, মাথাভাঙ্গা গোপাল খালীর মাঠে অতিথি পাখি, ডাউক পাখী, টিয়া পাখী, হাঁসপাখী, পানকৌড়ি, ঘুঘু পাখীসহ নানা ধরনের পাখি শিকার করে বিক্রী করে আসছে। তার একমাত্র কাজই পাখি ধরে বিক্রি করা বলে জানা গেছে।
আইনগত পাখি ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও সে আইনের তোয়াক্কা না করে নির্বিঘ্নে প্রতিনিয়ত পাখী ধরে চলেছে। এদিকে জাহিদা খাতুনের উপর নিযার্তন করার ঘটনায় জাহিদা খাতুন বাদী হয়ে দর্শনা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। এ বিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার্স ইনচার্জ মেহেদী হাসানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজু হোসেনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

