
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় একটি ক্রোকারিজ কোম্পানির ডেলিভারি ভ্যান থামিয়ে দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি অর্থ লুট এবং ডেলিভারি ম্যান নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গাড়িচালক ও ডেলিভারি ম্যান ফারুক হোসেন (৪০) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। পরে তার ব্যবহৃত পণ্যবাহী আলমসাধু গাড়িটি উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।সেই সাথে উদ্ধার হয়েছে তার পরনের লুঙ্গি ও গায়ের পোশাক।
গত সোমবার রাত ১০ টার দিকে আলমডাঙ্গা–হাটবোয়ালিয়া সড়কের বৈদ্যনাথপুর মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাতেই বাংলাদেশ পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায়। তবে রাতভর অনুসন্ধান চালিয়েও ফারুক হোসেনের সন্ধান মেলেনি।নিখোঁজ ফারুক হোসেন আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদি ইউনিয়নের খালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি গত তিন বছর ধরে বিজি ক্রোকারিজ কোম্পানিতে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কর্মরত। সোমবার তিনি মেহেরপুর জেলার মথুরাপুর এলাকায় পণ্য সরবরাহ শেষে আলমডাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তার সঙ্গে ছিলেন কোম্পানির ম্যানেজার বাচ্চু হোসেন। পথে হাটবোয়ালিয়া নতুন বাজার এলাকায় পৌঁছালে বাচ্চু হোসেন নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে গাড়ি থেকে নেমে যান। এরপর ফারুক একাই আলমসাধু নিয়ে যাত্রা অব্যাহত রাখেন।
রাত ৯টার দিকে বৈদ্যনাথপুর মাঠ এলাকায় পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা আলমসাধু থামিয়ে তার কাছে থাকা প্রায় দেড় লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর থেকে ফারুক হোসেন নিখোঁজ এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
বিজি ক্রোকারিজ কোম্পানির মালিক জব্বার আলী বলেন, ফারুকের ব্যাগে থাকা ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকা ছিল সোমবারের ডেলিভারির বিক্রয়লব্ধ অর্থ। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে ভ্যানটি থামিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের পাশাপাশি ফারুককে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হতে পারে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ দল তদন্ত শুরু করেছে। সম্ভাব্য ছিনতাই ও অপহরণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আশপাশের মাঠ ও সড়কসংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান চলছে।

