
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগ ও সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সীমান্ত অঞ্চলের সরেজমিন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক আশঙ্কাজনক চিত্র।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে মানব পুশ-ইন বা জোরপূর্বক মানুষ ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাতের অন্ধকারে কিংবা সীমান্ত এলাকার ঝোপঝাড়ের আড়াল নিয়ে বিএসএফ নির্বিচারে মানুষকে বাংলাদেশের সীমানায় ঠেলে দেওয়ার জঘন্য খেলায় মেতে উঠেছে।
যদিও দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নির্ঘুম পাহারার মাধ্যমে এই পুশ-ইনের বহু চেষ্টা সফলভাবে নস্যাৎ করে দিচ্ছে, তবুও এই আগ্রাসী প্রবণতা থামেনি।
বিএসএফের এই পুশ-ইন প্রক্রিয়া কেবল কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি স্পষ্টত আন্তর্জাতিক আইন, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদের চরম লঙ্ঘন।
প্রতিবেশি একটি বৃহৎ রাষ্ট্র যখন তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এজেন্ডা বা সংকটের দায় অন্য একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর চাপাতে চায়, তখন তা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানে।
প্রতিবেদনগুলোতে দেখা যাচ্ছে, পুশ-ইনের পাশাপাশি সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকদের নির্বিচারে গুলি ও হত্যা করার মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডও সমানতালে চলছে।
মুখে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের’ বুলি আউড়ে সীমান্তে এমন অমানবিক ও আগ্রাসী আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নো-ম্যানস ল্যান্ডে মানুষকে আটকে রেখে যে মানবিক সংকট তৈরি করা হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও দৃষ্টি আকর্ষণের দাবি রাখে।
এই সংকটের মুখে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের অবস্থান এবং পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে। সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইনের মতো ঘটনায় কেবল নামমাত্র উদ্বেগ প্রকাশ বা কূটনৈতিক চিঠি চালাচালিই যথেষ্ট নয়।
বর্তমান বাস্তবতায় প্রয়োজন এক দূরদর্শী, দৃঢ় এবং সমমর্যাদার পররাষ্ট্র নীতি। বাংলাদেশ কোনো রাষ্ট্রের সাথে বৈরিতা চায় না, আমাদের নীতি সর্বদাই সৌহার্দ্যপূর্ণ।
তবে সেই বন্ধুত্ব হতে হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, মাথা নিচু করে কিংবা কোনো প্রকার কুর্নিশ করে নয়। জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানোর সুযোগ নেই।
সীমান্তের এই আগ্রাসন রুখতে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের দেশপ্রেমী প্রতিরোধ অত্যন্ত প্রশংসনীয়, তবে একে স্থায়ী রূপ দিতে হলে শক্তিশালী রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের বিকল্প নেই। সরকারকে অনতিবিলম্বে দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে ভারতের এই পুশ-ইন ও সীমান্ত হত্যার বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ তুলতে হবে।
সীমান্ত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রশাসনকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করার জন্য জাতিকে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

