
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডের একটি পাবলিক টয়লেট থেকে ফরিদ উদ্দীন খান (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত ফরিদ উদ্দীন খান দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদহ ইউনিয়নের চারুলিয়া গ্রামের খানপাড়ার মৃত শিক্ষক নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদ উদ্দীন খানের ৯০ বছর বয়সী মা অসুস্থ হয়ে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি ঢাকায় কর্মস্থল থেকে গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বৃহস্পতিবার সকালে দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে একটি পাবলিক টয়লেটে প্রবেশ করেন।
দীর্ঘ সময় বের না হওয়ায় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ গিয়ে টয়লেটের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মায়ের সঙ্গে দেখা করার আকুলতা নিয়েই তিনি ঢাকা থেকে ছুটে এসেছিলেন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, মায়ের সঙ্গে আর তার দেখা হলো না। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা অপেক্ষা করছিলেন সন্তানের জন্য, আর স্বজনরা গ্রহণ করলেন তার নিথর দেহ।
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “ফরিদ উদ্দীন বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছান। পরে পাবলিক টয়লেটে প্রবেশের পর অসুস্থ হয়ে মারা যান বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

