
মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের অল্প পরিমাণ মাছ-মাংস, নিম্নমানের এবং অনেক সময় খাওয়ার অনুপযোগী খাবার সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া এসব খাবার ক্রয়ে বাজারদরের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি মূল্য দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সরকারি এ হাসপাতালে রোগীদের খাবার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, খাদ্য ক্রয়, সরবরাহ ও বিতরণে অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
জানা গেছে, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ভর্তি রোগীদের নির্ধারিত পরিমাণে মুরগির মাংস, খাসির মাংস অথবা রুই মাছ দেওয়ার কথা।
কিন্তু বাস্তবে তার অনেক কম দেওয়া হচ্ছে। দুপুরের খাবারের জন্য পরিবেশনের উদ্দেশ্যে রাখা একটি পোনা মাছের টুকরার ওজন পাওয়া গেছে মাত্র ৬০ গ্রাম, যেখানে আড়াইশ গ্রাম ওজনের রুই মাছের টুকরা দেওয়ার কথা।
এছাড়া ২৮৯ গ্রাম মুরগির মাংস ও ৫০ গ্রাম আলু দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে একটি ছোট আলু এবং সর্বোচ্চ ৯৫ গ্রাম মাংস দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ১০০ গ্রাম টাটকা সবজির পরিবর্তে পরিবেশন করা হচ্ছে পেঁপেসহ বাসি ও পচা তরকারি।
রোগীদের অভিযোগ, খাবারের মানও ভালো নয়। অনেক সময় মাছ ঠিকমতো রান্না হয় না, ভেতরে কাঁচা থেকে যায়। ফলে চিকিৎসাধীন রোগীদের সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়ছে। বরাদ্দ অনুযায়ী পাঁচ গ্রাম চিনি দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক সময় সেটিও দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক রোগী।
খাদ্যসামগ্রী কেনাকাটায়ও মিলেছে বিস্ময়কর অসঙ্গতি। হাসপাতালের হিসাব অনুযায়ী ৫৫ গ্রাম ওজনের একটি পাউরুটির দাম ধরা হয়েছে ১৪ টাকা। বাজারে ৫ টাকা দামের কলা এবং ৭ থেকে ৯ টাকা দামের ডিমের মূল্য দেখানো হয়েছে ১৫ টাকা। আবার ৭৪ টাকা কেজি দরের উন্নতমানের চালের পরিবর্তে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি মূল্যের চাল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, উন্নতমানের চালের নামে কম দামের চাল বস্তা পরিবর্তন করে হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়। এছাড়া রান্নায় বোতলজাত সয়াবিন তেল ও মানসম্মত মসলা ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে নিম্নমানের খোলা পাম অয়েল ও নিম্নমানের মসলা ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে খাবারের মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি রোগীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মুজিবনগর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রোগীদের খাবারের মান ও পরিমাণ নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকির কথা। তবে রোগীর চাপের কারণে সব সময় মনিটরিং করা সম্ভব হয় না।
হাসপাতালের নথিতে উল্লেখিত ঠিকাদার মো. সাফায়েতের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া হাসপাতালের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী তার ঠিকানা জানাতে রাজি হননি।

