
মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নারী চোর চক্রের ছয় সদস্য আটক হওয়ার ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; এটি সরকারি হাসপাতালগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতারই একটি স্পষ্ট প্রতিফলন।
যেখানে মানুষ অসুস্থতা নিয়ে চিকিৎসার আশায় আসে, সেখানে যদি নিজের টাকা, মোবাইল কিংবা মূল্যবান জিনিসপত্রের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন থাকতে হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।
হাসপাতালে প্রতিদিন শত শত রোগী ও তাদের স্বজনের সমাগম ঘটে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংঘবদ্ধ চোর চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকলেও তা নজর এড়িয়ে গেছে। সর্বশেষ সচেতন রোগী ও উপস্থিত মানুষের তৎপরতায় চক্রটির কয়েকজন সদস্য আটক হলেও প্রশ্ন থেকে যায়—এর আগে যারা ক্ষতির শিকার হয়েছেন, তাদের দায় কে নেবে? একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তাও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল পুলিশ বা আনসার সদস্যদের দায়িত্ব নয়; হাসপাতাল প্রশাসনকেও আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিয়মিত মনিটরিং, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি এবং নিরাপত্তাকর্মীদের প্রশিক্ষণ বাড়ানো জরুরি।
পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদেরও মূল্যবান জিনিসপত্র সংরক্ষণে সচেতন করতে মাইকিং, ডিজিটাল ডিসপ্লে বা সতর্কতামূলক নোটিশের ব্যবস্থা করা উচিত।
এই ঘটনার দ্রুত আইনগত নিষ্পত্তি এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অপরাধচক্র হাসপাতালকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করার সাহস না পায়।
হাসপাতাল মানুষের চিকিৎসা ও আশ্রয়ের জায়গা—ভয়, অনিরাপত্তা কিংবা অপরাধের নয়। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগেই হাসপাতালকে রোগীবান্ধব, নিরাপদ ও আস্থার পরিবেশে পরিণত করতে হবে। কারণ নিরাপদ হাসপাতালই উন্নত স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম পূর্বশর্ত।

