
মাত্র ২১ বছর বয়সে বদলে যায় সজীবের জীবন। এক সুবহে সাদিকের সময় ঘুম থেকে উঠে তিনি অনুভব করেন, শরীরে আর কোনো শক্তি নেই। সেই থেকেই শুরু হয় তার প্রতিবন্ধী জীবন।
সুস্থ হওয়ার আশায় যশোর, রাজশাহী ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিলেও তার অবস্থার স্থায়ী কোনো উন্নতি হয়নি। চিকিৎসকদের মতে, তাকে আমৃত্যু ওষুধ সেবন করতে হবে। এরই মধ্যে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঘা-পাচড়ার মতো অজ্ঞাত একটি রোগও দেখা দিয়েছে, যা তার দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও দারিদ্র্যের কারণে ভেঙে পড়েছে তার পারিবারিক জীবনও। দীর্ঘদিন আগেই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। বর্তমানে তিনি অন্যের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করেই জীবনযাপন করছেন।
সরকারি প্রতিবন্ধী কার্ড পাওয়ার আশায় নিজেকে প্রতিবন্ধী হিসেবে আবেদন করেছিলেন সজীব। কিন্তু আবেদন করার প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ের চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
সর্বশেষ দারিয়াপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রাসেল আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে তিনি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। এ বিষয়ে ইউপি সদস্য রাসেল আহমেদ বলেন, প্রতিবন্ধী কার্ড না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে ইউনিয়ন সমাজকর্মী রবিউল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাই বিস্তারিত বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের কাছে আবেদনটি বাতিল হওয়ার কারণ এবং প্রতিবন্ধী ভাতার পে-রোলে নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এদিকে সজীবের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সংগঠনটির দাবি, সজীবের শারীরিক অবস্থা যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তিনি যদি প্রতিবন্ধী সনদের যোগ্য হন, তবে দ্রুত তার নামে প্রতিবন্ধী সনদ ও কার্ড প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

