
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হরিরামপুরে অবস্থিত ডিসি ইকো পার্কে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা ২৯টি মরা গাছের বাইরে আরও ১৫টি মরা গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন।
জানা গেছে, ডিসি ইকো পার্কের সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ২৯টি মরা গাছ নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। নিলামে চন্দ্রবাস গ্রামের নজরুল ইসলাম সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় গাছগুলো ক্রয় করেন। নিলামের শর্ত অনুযায়ী, কেবল ২৯টি নির্ধারিত মরা গাছ কাটার অনুমতি ছিল।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নিলামকৃত গাছের পাশাপাশি আরও ১৫টি মরা গাছ কেটে ফেলেন নিলামগ্রহীতা। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহিন আলমকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। বৃহস্পতিবার সকালে তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিলামকৃত ২৯টি গাছের বাইরে আরও ১৫টি মরা গাছ কাটার সত্যতা পায়।
সূত্র জানায়, গত ১৯ জুলাই ২০২৬ ডিসি ইকো পার্কের ঝুঁকিপূর্ণ মরা গাছ অপসারণের জন্য নিলাম কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল করিম ও ডিসি ইকো পার্কের কেয়ারটেকার বাহালুলকে। নিলামে ১৯টি মরা আমগাছ, ৬টি মরা শিশুগাছ ও ৪টি মরা কাঁঠালগাছসহ মোট ২৯টি গাছ বিক্রি করা হয়। আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে গাছগুলো কাটার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিলামের বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচার না করে সীমিত কয়েকজন ব্যবসায়ীকে নিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহিন আলম বলেন, তদন্তে নিলামের বাইরে অতিরিক্ত ১৫টি মরা গাছ কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে।
নিলামগ্রহীতা নজরুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি মনে করেছিলেন পার্কের সব মরা গাছই নিলামের আওতায় ছিল। তাই ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় সব মরা গাছ কিনেছেন বলে ধারণা করেছিলেন।
কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল করিম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী নিলাম কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা জাহিদুল ইসলাম বলেন, নিলামের বিষয়টি অধিকাংশ স্থানীয় মানুষ জানতেন না। সীমিত কয়েকজনকে নিয়ে নিলাম সম্পন্ন করা হয়েছে। নিলামকৃত গাছের বাইরে অতিরিক্ত গাছ কাটায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন বলেন, বিধি মোতাবেক ডিসি ইকো পার্কের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ২৯টি মরা গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে অতিরিক্ত ১৫টি মরা গাছ কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

