
মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির তাজ উদ্দিন খান। এ সময় বিএনপির এক কর্মীকে দেখে জামায়াতের নেতাকর্মীরা দালাল বলে চিহ্নিত করলে বিএনপি-জামায়াতের হট্টগোল ও উত্তেজনা বেঁধে যায়।
আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনে এ ঘটনা ঘটে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও আউটসোর্সিং কর্মীদের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে সংসদ সদস্য পরিচয়পত্র ও নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য জানতে চান। এ সময় উপস্থিত বিএনপির এক পক্ষের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজনের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ছাত্রদলের এক কর্মীকে থাপ্পড় দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।
খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিরাপত্তার স্বার্থে সংসদ সদস্য তাজউদ্দিন খানকে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়। এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হাসপাতাল গেটে অবস্থান নিয়ে জামায়াতবিরোধী স্লোগান দেন।
মেহেরপুর জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, এমপি সাহেব হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে যান। সেখানে আমাদের নেতাকর্মীরাও ছিলেন। এ সময় একজন দালালকে চিহ্নিত করে তাকে এখানে কে রেখেছে জানতে চাইলে তারা দলবেঁধে এসে হট্টগোল সৃষ্টি করে।
এদিকে, জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি সানি আহমেদ জানান, রবি নামের আমাদের এক কর্মীকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন লিফটের ওখানে। জামায়াতের কর্মীরা তাকে দেখে মারধর করলে সেখানে হট্টগোল সৃষ্টি হয়।
সদর উপজেলা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান অভিযোগ করেন, হাসপাতালের বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের অবৈধ আখ্যা দিয়ে সংসদ সদস্যের সঙ্গে থাকা লোকজন তাদের মারধর করেছেন। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানান।
অন্যদিকে, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন দাবি করেন, হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় অতিরিক্ত আউটসোর্সিং কর্মীদের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের এক কর্মী অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে দেহরক্ষীর সঙ্গে ওই কর্মীর সংঘর্ষের জেরে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হামলার চেষ্টা চালান।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সংসদ সদস্যকে নিরাপদে তাঁর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে পৌঁছে দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফজলুর রহমান বলেন, এমপি সাহেব হাসপাতালে ভিজিটে এসেছিলেন। নতুন ভবনের প্যাথলজিতে গিয়ে ওখানে নতুন কিছু স্বেচ্ছাসেবক দেখেছেন, যাদের এখনো আইডি কার্ড দেওয়া হয়নি। তাঁর সঙ্গে তাঁর কিছু নেতাকর্মীও ছিল। তারা দালাল মনে করে কিছু কথা বলেছেন। পরে উভয় পক্ষের লোকজনের সঙ্গে একটু হট্টগোল হয়েছে।

