
অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ তুলে কাঁচাবাজার, মুদি ব্যবসায়ী, মাছ ও মাংস ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে নেমেছেন। অনির্দিষ্টকালের জন্য বাজার বন্ধ করে দিয়েছেন তারা।
ফলে সকাল থেকেই বড়বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতা ও কৃষকরা।
তহবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাফিজুর রহমান জানান, খাজনা জটিলতা নিরসনে জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। তারা কোনো সমাধান দেননি। পরে সংবাদ সম্মেলন করে সবাইকে জানানো হলেও কোনো কাজ হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রতিটি পণ্যের ওপর তারা খাজনা নিতে চাচ্ছেন। ১০ থেকে ২০ গুণ বেশি হারে খাজনা নেওয়া হচ্ছে। এরই প্রতিবাদ করছি আমরা। আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলবে।’
এদিকে জেলার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে এ বাজারে আসেন। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা এখানে ভিড় জমান। তারা এসব পণ্য কিনে নিয়ে যান। বাজার বন্ধ থাকায় লোকসানের মুখে পড়বেন কৃষকরা।
তাদের উৎপাদিত সবজি বিক্রি করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হবে। ফলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে পারেন তারা।
মেহেরপুর শহরের মল্লিকপাড়ার বাসিন্দা আনারুল ইসলাম বলেন, ‘কাঁচাবাজারটি নিত্যপণ্যের বাজার। প্রতিদিনই মানুষের প্রয়োজন হয়।
অথচ বাজারে এসে দেখছি সব দোকান বন্ধ। রান্নাবান্না করার জন্য সবজি কোথা থেকে কিনব? আর চাল, আটা, মুদিপণ্য না কিনতে পারলে বাসার কী অবস্থা হবে?’
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এভাবে জিম্মি করে রাখা নয়, আমরা দ্রুত সমস্যার সমাধান চাই।’
কাঁচামালের আড়ত ব্যবসায়ী শফিক আহম্মেদ বলেন, ‘ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আমাদের এ আন্দোলন। এভাবে বেশি বেশি করে খাজনা নিলে বাইরের ব্যবসায়ীরা বাজারে আসা বন্ধ করে দেবেন। ফলে ক্ষতির মুখে পড়বেন ব্যবসায়ী ও কৃষকরা।’
কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সবজি বিক্রি করতে বাজারে এসেছেন। কিন্তু বাজার বন্ধ থাকায় তারা বিক্রি করতে পারছেন না। বিক্রি করতে না পারলে এসব সবজি পচে যাবে। কারণ প্রতিটি সবজিই পচনশীল। সমস্যা সমাধান করে দ্রুত বাজার চালু করার জন্য জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
কুলবাড়িয়া গ্রামের সবজি ব্যবসায়ী লাবলু মোল্লা বলেন, ‘মাঠে উৎপাদিত সবজি বাজারে বিক্রি করতে এসেছি। অথচ বাজার বন্ধ।
প্রতিদিনের উৎপাদিত সবজি প্রতিদিন তুলে বিক্রি করতে না পারলে লোকসানে পড়তে হবে। এছাড়াও জমি থেকে প্রতিদিন সবজি তুলতে না পারলে উৎপাদন কমে যাবে।’
বাজারের ইজারাদার সাদাত হোসেন বুড়োর দাবি, ‘আমরা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে এক টাকাও বেশি নিচ্ছি না। বরং তিন দফায় পরিবর্তন করে খাজনা কমানো হয়েছে।’
ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, প্রতিদিন এ বাজারে ৭ থেকে ৮ কোটি টাকার কেনাবেচা হয়।

