
দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের রহিমকে ‘ওসি ডাকছে’ বলে বাড়ি থেকে আটক করে ইয়াবা মামলায় আদালতে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার ভয় দেখিয়ে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে রহিমের পরিবারের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেওয়া এবং আরও ১৫ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে।
গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে দামুড়হুদা মডেল থানার এসআই সিহাবুল ইসলাম ও এসআই উত্তম কুমার জয়রামপুর মালিতাপাড়ার রহিত আলীর ছেলে রহিমকে আটক করেন। পরে গতকাল শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ২৭ পিস ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, জয়রামপুর মালিতাপাড়ার অটোচালক রহিম অটো চালিয়ে বাড়িতে ফেরার পরপরই দামুড়হুদা মডেল থানার এসআই সিহাবুল ইসলাম ও এসআই উত্তম কুমার তাঁকে ‘ওসি স্যার ডাকছেন’ বলে থানায় নিয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে বলেন, রহিম কোনো মাদকদ্রব্যের সঙ্গে জড়িত নন। তাঁকে কেন আটক করা হচ্ছে এমন প্রশ্ন করলে পুলিশ জানায়, ওসি স্যার ডাকছেন, কী বলছেন শুনে চলে আসবেন।
পরিবারের দাবি, রহিমের কাছ থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার না হলেও পরে তাঁকে ২৭ পিস ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়। মামলার এফআইআর নম্বর ৩, তারিখ ৬ আগস্ট ২০২৬ এবং জিআর নম্বর ১৩৮ বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
রহিমের কাছ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার না হওয়ার দাবি এবং তাঁকে আটকের ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এর কয়েক দিন আগে একই এলাকার বিপ্লবকেও আটক করে ১৭ পিস ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। বিপ্লবের পরিবারেরও অভিযোগ, তাঁর কাছ থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়নি।
পুলিশ মাদকদ্রব্য উদ্ধার না করেই মানুষকে আটক করে মামলায় চালান দিচ্ছে এমন অভিযোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। এ ধরনের ঘটনা বন্ধে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
এদিকে রহিমের পরিবারের অভিযোগ, মামলার ভয় দেখিয়ে রহিমের মায়ের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন স্থানীয় যুবদল নেতা ডাবলু। একই সঙ্গে আরও ১৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
রহিমের মা বলেন, “আমরা হাসিনা আমলে ব্যবসা করতাম। হাসিনা সরকার চলে যাওয়ার পর গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আমাদের ডেকে স্ট্যাম্পে লেখাপড়া করে সেই ব্যবসা ছেড়ে দিতে বলেন। আমরা ব্যবসা ছেড়ে দিই। গত শুক্রবার আমার ছেলে রহিম অটো চালিয়ে বাড়িতে আসার সঙ্গে সঙ্গে থানার এসআই সিহাবুল ইসলাম ও এসআই উত্তম কুমার ওসির সঙ্গে কথা বলবে বলে তাকে ধরে নিয়ে যান। আমার ছেলের কাছে কোনো কিছু পাওয়া যায়নি, তাঁর নামে কোনো মামলাও নেই। পরদিন শুনছি, এক মাস আগের ২৭ পিস ইয়াবার মামলায় তাকে চালান দেওয়া হয়েছে। আবার ডাবলু মামলার ভয় দেখিয়ে আমার কাছে টাকা দাবি করেন। মামলা থেকে বাঁচতে আমি কানের দুল বন্ধক রেখে ডাবলুকে ১৫ হাজার টাকা দিই। পরে আবার আরও ১৫ হাজার টাকা দিতে হবে, তা না হলে বাড়ির সবার নামে মামলা দেওয়া হবে বলে জানান।”
জয়রামপুর মাদক নির্মূল কমিটির সদস্য ফারুক হোসাইন বাবু বলেন, “রহিমকে ধরার ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না।”
একই কমিটির সদস্য গোলাম সরোয়ার ছোটন বলেন, “এই আসামিকে ধরার ব্যাপারে আমরা কেউ জড়িত নই। আমাদের সদস্যদের মধ্যে কেউ যদি জড়িত থাকে, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হাউলী ইউনিয়নের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম টিক্কা বলেন, “বাংলাদেশ সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। যারা মাদক ব্যবসা করে, মাদকসহ তাদের আইনের আওতায় আনলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আমরা শুনতে পাচ্ছি, বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে মাদকের মামলায় চালান দেওয়া হচ্ছে। এটা খুবই দুঃখজনক। যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য পুলিশ সুপার মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
এদিকে যুবদল নেতা ডাবলু বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা একেবারেই মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি এর সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। তা যদি প্রমাণ করতে পারে, তাহলে আমাকে যে শাস্তি দেওয়া হবে, আমি মাথা পেতে নেব।”
দামুড়হুদা মডেল থানার এসআই সাইফুল ইসলাম (মামলার তদন্ত কর্মকর্তা) বলেন, “রহিমকে ২৭ পিস ইয়াবার মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”

