
মেহেরপুর সদর উপজেলায় পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপের (পিএফজি) ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার ওভারট্রাম্প রেস্টুরেন্টে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এফসিডিও-এর অর্থায়নে ও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত সভায় পিএফজির সম্মিলিত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা, স্ব-মূল্যায়ন এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা ইমাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও পিস অ্যাম্বাসেডর মো. সিরাজ উদ্দীন। সঞ্চালনা করেন পিস অ্যাম্বাসেডর সাইয়েদাতুন নেসা নয়ন। সভায় মূল আলোচনা ও পিএফজির স্ব-মূল্যায়ন বিষয়টি উপস্থাপন করেন এরিয়া কোঅর্ডিনেটর এস. এম. রাজু জবেদ। পরে পিএফজি সদস্যদের অংশগ্রহণমূলক আলোচনার মাধ্যমে বর্তমানে পিএফজি কোন পর্যায়ে রয়েছে, এর অর্জন, সক্ষমতা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় চিহ্নিত করা হয়।
সভায় গত ত্রৈমাসিকের কার্যক্রম ও গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ পর্যালোচনা ও অনুমোদন করা হয়। এ সময় পিএফজির সম্মিলিত উদ্যোগে জেলা পর্যায়ে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ আয়োজন, নারী প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কালীগাংনীতে আলোচনা সভা এবং ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপের (ওয়াইপিএজি) মাধ্যমে সামাজিক উদ্যোগ প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় মেহেরপুর সদর উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হিসেবে বুড়িপোতা ইউনিয়নের খালপাড়া এলাকা চিহ্নিত করা হয়। সেখানে স্থানীয় জনগণ, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে সম্প্রীতি সমাবেশ আয়োজনের মাধ্যমে কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মেহেরপুর সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মো. জব্বারুল ইসলাম, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. আল মাসুম, জাতীয় পার্টির মামলত হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, ধর্মীয় নেতা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। নারী প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে ইভট্রিসিয়া সুমি বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট পিস অ্যাম্বাসেডর ও পিএফজি সদস্যরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভা শেষে পিস অ্যাম্বাসেডর সাইয়েদাতুন নেসা নয়ন ও আজমল হোসেন মিন্টু বলেন, “আজকের স্ব-মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এর মাধ্যমে আমরা পিএফজির বর্তমান অবস্থান আরও পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছি।” তারা আরও বলেন, নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহিংসতা প্রতিরোধ, পারস্পরিক সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে আরও সক্রিয় ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, পিএফজির সম্মিলিত উদ্যোগ ও স্থানীয় অংশীজনদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে মেহেরপুরে শান্তি, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সামাজিক সম্প্রীতি আরও শক্তিশালী হবে।

