
জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মেহেরপুরের পুরাতন মদনাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার নারী শান্তি সহায়ক প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং এফসিডিওর (FCDO) অর্থায়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ওয়েভের সদস্য, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী নেত্রী, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারী শান্তি সহায়ক প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়কারী সুমী বিশ্বাস। স্বাগত বক্তব্যে তিনি জাতীয় কন্যাশিশু দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং কন্যাশিশুর অধিকার, নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ওয়েভের সহসমন্বয়কারী আফরোজা আক্তার কাকলি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেহেরপুর জেলা মহিলা দলের সভাপতি ও পিস অ্যাম্বাসেডর সাইয়্যেদাতুন নেসা নয়ন বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ বিকাশের পথে বড় বাধা। এ সমস্যা প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে। কন্যাশিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ওয়েভের সদস্য সোনিয়া আক্তার সমেনা ও পলি আক্তার বেদানা। তাঁরা নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য দূর করা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নারীর ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্বের বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে নতুন মদনাডাঙ্গা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসমিন আরা নারীর অধিকার বিষয়ে বক্তব্য দেয়। সে কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য দূর করা, শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব তুলে ধরে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা বৈষম্যহীন ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত। বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন ও সামাজিক বৈষম্য প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং স্থানীয় নেতৃত্বকে একযোগে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি কন্যাশিশুদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে নেতৃত্বের বিকাশে উৎসাহিত করতে হবে।
জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এবং মানবসেবায় নিবেদিত মাদার তেরেসার সাজে অংশ নেয়। এ সময় তারা এসব ব্যক্তিত্বের জীবন, কর্ম ও অবদান সম্পর্কে নিজেদের অভিমত প্রকাশ করে। এ আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নারী নেতৃত্ব, মানবিক মূল্যবোধ, অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা ও আত্মবিশ্বাস বিকাশের বার্তা তুলে ধরা হয়।
বক্তারা নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষা এবং সমাজের সর্বস্তরে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের সার্বিক আলোচনা সমন্বয় করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের এমআইপিএস প্রকল্পের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মো. আশরাফুজ্জামান।

