
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের সুবুলপুর গ্রামের কৃষক মনিরুল ইসলাম। ধারদেনা ও ঋণ নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন আনারকলি জাতের পেয়ারা বাগান।
আশা ছিল, ফল বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি বৃদ্ধা মা ও পরিবার নিয়ে ভালোভাবে দিন কাটাবেন। কিন্তু রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা বাগানের সব গাছ কেটে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এতে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতির মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি।
বুধবার সকালে প্রতিদিনের মতো বাগানে পরিচর্যা করতে গিয়ে মনিরুল দেখতে পান, তাঁর ১০ কাঠা জমির পেয়ারা বাগানের ফলসহ গাছগুলো কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জানা যায়নি। তবে পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে সন্দেহ করছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও মনিরুল কখনো অন্যের দয়া বা ভিক্ষাবৃত্তির ওপর নির্ভর করতে চাননি। আত্মসম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার প্রত্যয়ে ধারদেনা ও স্থানীয় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সুবুলপুর মাঠে ১০ কাঠা জমি লিজ নেন। এরপর জমি প্রস্তুত করে আনারকলি জাতের পেয়ারা চারা রোপণ করেন। নিজের শ্রম ও যত্নে ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন বাগানটি।
বাগান তৈরিতে তাঁর প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। গাছগুলোতে ভালো ফলনও হয়েছিল। চলতি মৌসুমে পেয়ারা বিক্রি করে ঋণের টাকা পরিশোধের পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। কিন্তু গাছগুলো কেটে ফেলায় সেই স্বপ্ন ভেঙে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাগানের সারি সারি পেয়ারা গাছ কেটে মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে। গাছগুলোতে থাকা ফলও নষ্ট হয়ে গেছে। বাগানের এমন অবস্থা দেখে হতাশ হয়ে পড়েছেন মনিরুল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন তাঁর বৃদ্ধা মা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মনিরুল ইসলাম বলেন, “আমি প্রতিবন্ধী মানুষ, কারও কাছে হাত পাতিনি। নিজে পরিশ্রম করে খাওয়ার জন্য ধারদেনা করে ১০ কাঠা জমি লিজ নিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করে আনারকলি পেয়ারা বাগান করেছিলাম। ফলও ভালো হয়েছিল। ভেবেছিলাম, দেনা মিটিয়ে সংসারটা একটু ভালোভাবে চালাব। কিন্তু আমার বাগানের সব গাছ কেটে ফেলেছে। এখন ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, বৃদ্ধা মা ও পরিবারকে কীভাবে চালাব, বুঝতে পারছি না।”
এ ঘটনায় সুবুলপুর গ্রামে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকেরা বলেন, একটি বাগান গড়ে তুলতে কৃষকের শ্রম, সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। এভাবে গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মনিরুল ইসলামের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
বাগান হারিয়ে বর্তমানে ঋণের বোঝা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে মনিরুলের পরিবারের। দ্রুত ঘটনার তদন্ত ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার কিছুটা সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

