
ঝিনাইদহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের উদ্যোগে উদ্ধার করা ১০৪টি মোবাইল ফোন এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)-এর মাধ্যমে ভুল করে পাঠানো ৫৩ হাজার ৪০৯ টাকা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে উদ্ধার করা মোবাইল ফোন ও টাকা মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলায় অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল গঠন করা হয়েছে। এ সেলের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত অপরাধ দমন, ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনায় তদন্ত, বিকাশ প্রতারণা, সাইবার বুলিং, হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং ভুক্তভোগীদের উদ্ধারে প্রযুক্তিগত সহায়তাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের সদস্যরা ২০২৬ সালের ১ আগস্ট থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ সময় মহেশপুরের আলোচিত নিঝুম অপহরণের রহস্য উদ্ঘাটন, কালীগঞ্জ ও কোটচাঁদপুরের দস্যুতা মামলায় চার আসামিকে গ্রেপ্তার এবং দস্যুতার ঘটনায় ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র ও ছিনতাই করা মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া ঝিনাইদহ সদর ও কালীগঞ্জ থানার অপহরণ মামলায় দুই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গাজীপুরের ল্যাভেন্ডার গ্রুপের চেয়ারম্যানের এক কোটি টাকা চুরির ঘটনায় মূল আসামিকে গ্রেপ্তার ও ৮৭ লাখ টাকা উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ। কোটচাঁদপুরে এক কলেজশিক্ষিকাকে অজ্ঞান করে ছিনতাইয়ের ঘটনায় অজ্ঞান পার্টির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া ঝিনাইদহের আলোচিত অর্পিতার আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশ আরও জানায়, জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া ১০৪টি মোবাইল ফোন এবং এমএফএসের মাধ্যমে ভুলবশত পাঠানো ৫৩ হাজার ৪০৯ টাকা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, টিকটক, টেলিগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে সাইবার বুলিংয়ের শিকার ৪০ জনকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে নিখোঁজ আটজনকেও উদ্ধার করেছে সাইবার সেল।
অনুষ্ঠানে উদ্ধার করা মোবাইল ফোন ও টাকা প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেন ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, পিপিএম-সেবা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. মোসফেকুর রহমানসহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের কর্মকর্তারা।
এ সময় পুলিশ সুপার বলেন, সাইবার বুলিং, অনলাইন হয়রানি ও অপপ্রচার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এসব অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। সবাইকে সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতন হতে হবে। মানুষের সচেতনতাই একটি নিরাপদ ডিজিটাল সমাজ গড়ে তুলতে পারে। অপরাধী যে-ই হোক, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ অঙ্গীকারবদ্ধ।

