
বিসিআইসি সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি দলীয়করণ সর্বত্র দুর্নীতি, চাঁদাবাজি-দখলবাজি, তেল গ্যাস ও বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সার সংকটের প্রতিবাদে ঝিনাইদহে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে ঝিনাইদহ পায়রা চত্বর মোড়ে ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতে ইসলামের আয়জনে এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়।
ঝিনাইদহ জেলা জায়াতের নায়েবে আমীর মো: আব্দুল আলীমের সভাতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাও: আবু তালেব, সেক্রেটারী জেনারেল আওয়াল সহ সেক্রেটারী মাও: আব্দুল হাই, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আমীর ড. হাবিবুর রহমান প্রমূখ।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু বকর বলেন, কৃত্রিম সারসংকট তৈরি করে সাধারণ কৃষকদের জিম্মি করার উদ্দেশ্যে ঝিনাইদহে সারের ডিলার নিয়োগে নজিরবিহীন দুর্নীতি ও ব্যাপক দলীয়করণ করা হয়েছে।
ফ্যাসিবাদী আমলের ডিলারদের কারণে কৃষকেরা এমনিতেই দিশেহারা। দেশ ও জনগণের এই সংকটে জামায়াতে ইসলামী সব ধরনের অন্যায়-অপরাধের বিরুদ্ধে আপসহীন প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি অনবিলম্বে বিতর্কিত সার-বীজ মনিটরিং কমিটি পুনর্গঠন এবং দলীয় বিবেচনায় দেওয়া সব ডিলারশিপ বাতিল করে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন করে ডিলারশিপ নিয়োগের দাবি জানান।
সমাবেশে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন প্রিন্সের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হাই জেলা প্রশাসককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন,ঝিনাইদহের ডিসি সাহেব, আপনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়কে দুর্নীতির খুঁটি বানিয়ে বসে আছেন! যদি সঠিকভাবে নিজের অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তবে স্পষ্ট করে বলুন আপনি পুরুষ নন, আপনি মহিলা! আর তা-ও যদি না হন, তবে আপনি হিজড়া! আমরা আপনার জন্য দুই জোড়া চুড়ি কিনে পাঠিয়ে দিচ্ছি! দায়িত্ব পালন করতে না পারলে হাতে চুড়ি পরে বসে থাকুন’।
সমাবেশে জেলা পরিষদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বক্তারা। তাঁদের অভিযোগ, জেলা পরিষদের নতুন সার্ভেয়ার হানিফসহ মোট সাতজনের নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে। হানিফের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন তাঁকে দিয়ে লিখিয়ে পরদিন তা জমা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। এ ছাড়া নিয়োগের বিনিময়ে ২০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।
একই সঙ্গে হানিফসহ সাতজনের নিয়োগ বাতিল করে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানান তাঁরা। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বসে অবৈধ অর্থের ভাগাভাগি করেণ বলেও দাবি করেণ বক্তারা। এই ঘুষখোর পক্ষপাতকারী জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহার চান তারা।
সমাবেশ থেকে আগামী ৩১ মার্চে ১১ দলের লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান নেতারা ।

