
নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী ব্যবহার ও ঘাসের উপর ইট বিছিয়ে ফ্লাট সলিং করার অভিযোগে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন কোটচাঁদপুরের জগন্নাথপুর গ্রামবাসী। গত সোমবার সকালে ওই কাজ বন্ধ করে দেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়,কোটচাঁদপুর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের প্রথম পাড়া থেকে মাঠের রাস্তার ৩৫৪ ফুট ফ্লাট সলিংয়ের কাজের বরাদ্দ দেন জেলা পরিষদ। কাজটি করছেন রেজাউল ইসলাম নামের এক ঠিকাদার। গেল সোমবার (০২-১১-২৬) তারিখ সকালে ওই কাজটি শুরু করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। তবে ওইদিনই রাস্তায় নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও বেডে দূর্বা ঘাস রেখে, তাঁর উপর ইট বিছিয়ে নির্মান করার অভিযোগে কাজ বন্ধ করে দেন জগন্নাথপুর গ্রামবাসী। কাজটি বন্ধ আছে আজও।
এ ব্যাপারে ওই গ্রামের আব্দুস সালাম বলেন, সোমবার দিন সকালে মাঠে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি ওই রাস্তায় কাজ চলছে। এরপর দেখলাম তারা রাস্তার উপর দূর্বা ঘাস না সরিয়ে, তাঁর উপর সামান্য বালু ছিটিয়ে রাস্তার কাজ করে যাচ্ছেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়লে আস্তে আস্তে গ্রামবাসী জড়ো হতে থাকে ওই রাস্তায়। পরে তাদেরকে বলে কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়।
ঠিকাদার রেজাউল ইসলাম বলেন,এটা আমার ফার্মের কাজ। কাজ দেখা শোনা করেন আমার ম্যানেজার। আমি ম্যানেজারকে যোগাযোগ করে তথ্য দিতে বলছি আপনাদের।
জেলা পরিষদের অফিস সহায়ক আনোয়ার হোসেন বলেন,আমাদের জেলায় একজন প্রকৌশলী। তিনি পুরো জেলা দেখতে পারেন না সব সময়। এ জন্য কাজটি আমিই দেখছিলাম। ওই কাজটি ২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৫৪ ফুট রাস্তা নির্মিত হবে। ৮ ফুট প্রশস্থ্য ফ্লাট সলিংয়ের রাস্তায় নিচে বালু ধরা আছে ১ ইঞ্চি আর উপরে ধরা আছে ১ ইঞ্চি।
তিনি বলেন,আমি কাজ করার জন্য ওই রাস্তাটি দেখিয়ে দিয়ে এসে ছিলাম। তবে কাজ যে খারাপ হচ্ছে সেটা আমার জানা নাই। ওনি খোঁজ নিবেন বলে জানিয়েছেন।
ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন,ফাইল না দেখে তো বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে যে ভাবে কাজ করছে বলে আপনারা জানালেন,সেটা যদি সত্য হয়, তাহলে তো ঠিকাদার কাজ করতে পারবেন না। আমি এখনই লোক পাঠাচ্ছি সাইডে। ওনারা এসে রিপোর্ট দিলে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এটা কোন প্রকল্পের কাজ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের ওই ভাবে তেমন প্রকল্প হয় না। বিশেষ ভাবে প্রকল্প হয়ে কাজ হয়। জেলা পরিষদের কাজ হলে,আপনারা জেলা পরিষদের কাজের কথায় বলবেন।
কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসাইন বলেন,যেহেতু আমার উপজেলার কাজ,সেহেতু ভাল মন্দ দেখার বিষয় আছে। তবে ওই রাস্তায় যে কাজ হচ্ছে, সে বিষয়ে আমাকে কেউ জানায় নাই। তবে জেলা পরিষদে খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

