মেহেরপুরকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে সকলের সহযোগিতা চান জেলা প্রশাসক

মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের সঙ্গে গাংনী উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই যোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক, সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার সময় গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়।

কৃষিপ্রধান মেহেরপুরে কৃষিতে সমৃদ্ধি আনতে এবং কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান জেলা প্রশাসক। একই সঙ্গে প্রকৃত কৃষকরা যাতে সরকারের সকল সুবিধা পেয়ে নতুন নতুন ফসল উৎপাদন করতে পারেন, সে বিষয়েও কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি। সেই সঙ্গে মেহেরপুরের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির উন্নয়নে কাজ করতে রাজনীতিবিদ, সাংবাদিকসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস।

গাংনী উপজেলার ওপর প্রামাণ্যচিত্র উপস্থাপন করেন উপজেলা কৃষি অফিসার মতিয়ার রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন।

গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ আল মাসুমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, উপজেলা জামায়াতের আমীর ডা. মো. রবিউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, এনসিপির মেহেরপুর জেলা শাখার সদস্য সচিব মোজাহিদুল ইসলাম, সন্ধানী সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আবু জাফর, পলাশীপাড়া সমাজকল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন এবং মেহেরপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি হাফিজুর রহমান বকুলসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় গাংনীর সাব-রেজিস্টার অফিসের নানা অনিয়ম নিয়ে জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন গাংনীবাসী। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি জানান উপস্থিত অনেকে।




গঙ্গাঋদ্ধি: প্রাচীন বাংলার বিস্মৃত শৌর্য ও সমৃদ্ধির ইতিহাস

আমি গর্বের সঙ্গে বলি, আমার বাড়ি কুষ্টিয়ায়। গঙ্গা ও পদ্মার পলিমাখা সেই জনপদে, যা প্রাচীন বাংলার এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সাক্ষী। আজ আমরা যে মাটির ওপর দাঁড়িয়ে আছি, তা কোনো সাধারণ ভূমি নয়। এই অঞ্চল ছিল প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম পরাক্রমশালী ও ঐশ্বর্যশালী ‘গঙ্গাঋদ্ধি’ বা Gangaridai সাম্রাজ্যের অংশ। ইতিহাসের ধুলো ঝেড়ে তাকালে আমরা এমন এক বাংলার দেখা পাই, যা কেবল সামরিক শক্তিতেই নয়, বরং অর্থনীতি, বাণিজ্য ও সংস্কৃতিতেও ছিল অগ্রগামী।

প্রাচীন সাহিত্যে গঙ্গাঋদ্ধির উল্লেখ
খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে গ্রিক ও রোমান ঐতিহাসিকদের লেখায় প্রথম উঠে আসে ‘গঙ্গারিডই’ নামের এক শক্তিশালী জনপদের কথা। ঐতিহাসিক ডিওডোরাস সিকিউলাস, প্লিনি দ্য এল্ডার, কুইন্টাস কার্টিয়াস রুফাস এবং প্লুটার্ক তাঁদের লেখায় এই সাম্রাজ্যের উল্লেখ করেছেন। তাঁদের বর্ণনা অনুযায়ী, গঙ্গাঋদ্ধি ছিল গঙ্গা নদীর নিম্নাঞ্চলে অবস্থিত এক বিশাল ও সম্পদশালী রাজ্য, যার সামরিক শক্তি ছিল অপ্রতিরোধ্য।

প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যেও এই অঞ্চলের উল্লেখ পাওয়া যায়। মহাভারতে ‘বঙ্গ’ নামের একটি শক্তিশালী জনপদের কথা বলা হয়েছে। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রেও গাঙ্গেয় অঞ্চলের বাণিজ্যিক গুরুত্বের কথা উল্লিখিত আছে।

আলেকজান্ডার ও গঙ্গাঋদ্ধির কিংবদন্তি
খ্রিস্টপূর্ব ৩২৬ অব্দে মহাবীর আলেকজান্ডার পারস্য ও আফগানিস্তান জয় করে ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে প্রবেশ করেন। পাঞ্জাবের কিছু অঞ্চল জয়ের পর তিনি বিপাশা, বর্তমানে বিয়াস নদীর তীরে পৌঁছান। সেখানেই তাঁর সৈন্যবাহিনী সামনে এগোতে অস্বীকার করে।

গ্রিক ঐতিহাসিকদের বর্ণনা অনুযায়ী, এই অস্বীকৃতির পেছনে একটি বড় কারণ ছিল পূর্বদিকে অবস্থিত গঙ্গাঋদ্ধি সাম্রাজ্যের ভীতিজাগানিয়া সামরিক শক্তির খবর। ডিওডোরাস ও প্লুটার্কের মতে, গঙ্গাঋদ্ধিদের ছিল প্রায় ৪,০০০ প্রশিক্ষিত যুদ্ধ-হস্তী, ২০,০০০ অশ্বারোহী এবং দুই লক্ষ পদাতিক সৈন্য।

এখানে মনে রাখা জরুরি, গ্রিক লেখকরা প্রায়ই শত্রুপক্ষের শক্তিকে বাড়িয়ে বলতেন যাতে নিজেদের কৃতিত্ব বড় দেখায়। সংখ্যাটা অতিরঞ্জিত হলেও এটুকু নিশ্চিত যে গঙ্গাঋদ্ধির বাহিনী ছিল বিশাল ও সুসংগঠিত। আলেকজান্ডার পারস্যে মাত্র কয়েক ডজন হাতির মুখোমুখি হয়েই বেকায়দায় পড়েছিলেন। ৪,০০০ হাতির কথা শুনে তাঁর যুদ্ধক্লান্ত সেনাদের মনোবল ভেঙে যাওয়া স্বাভাবিক।

ফলে আলেকজান্ডার আর বাংলা অভিমুখে অগ্রসর না হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন। তবে এখানে উল্লেখ্য যে, আলেকজান্ডার প্রকৃতপক্ষে বাংলার মাটিতে পা রাখেননি। তিনি পাঞ্জাবের বিপাশা নদী পর্যন্তই এসেছিলেন। কিন্তু গঙ্গাঋদ্ধির শক্তির খ্যাতি তাঁর অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলেছিল, এটি ঐতিহাসিক সত্য।

গঙ্গাঋদ্ধির ভৌগোলিক অবস্থান ও বিতর্ক
গঙ্গাঋদ্ধির সঠিক সীমানা নিয়ে আজও ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিতর্ক আছে। অধিকাংশ পণ্ডিতের মতে, এই সাম্রাজ্য গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের বদ্বীপ, অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিস্তৃত ছিল। এর কেন্দ্র ছিল বর্তমান ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া ও মুর্শিদাবাদ অঞ্চলে।

প্লিনির বর্ণনায় বলা হয়েছে যে গঙ্গাঋদ্ধির রাজধানীর নাম ছিল ‘গঙ্গে’। চন্দ্রকেতুগড়, মহাস্থানগড় ও ওয়ারী-বটেশ্বরের মতো প্রত্নস্থলে যে উন্নত নগর সভ্যতার চিহ্ন মিলেছে, গবেষকরা সেগুলোকেই সম্ভাব্য কেন্দ্র বলে মনে করেন। তবে এখনো প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণের অভাবে সঠিক অবস্থান নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

আরেকটি বড় প্রশ্ন: গঙ্গাঋদ্ধি কি স্বাধীন রাজ্য ছিল, না মগধের নন্দ বংশের অধীনস্থ মহাজনপদ? প্লুটার্ক যখন ‘প্রাসিয়ই ও গঙ্গারিডই’ একসাথে উল্লেখ করেন, তখন অনেকে ধরে নেন এরা নন্দদের অধীন ছিল। আবার কারো মতে, আলাদা শাসক ও বিশাল সেনাবাহিনীর উল্লেখ প্রমাণ করে এটি স্বতন্ত্র ও পরাক্রমশালী রাষ্ট্র ছিল। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে আরও খনন ও গবেষণা জরুরি।

অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও কৃষি ঐশ্বর্য
গঙ্গাঋদ্ধির শক্তির মূল ভিত্তি ছিল এর অর্থনৈতিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা। গঙ্গা-পদ্মা-ব্রহ্মপুত্রের উর্বর পলি এই অঞ্চলকে করে তুলেছিল অত্যন্ত শস্যশ্যামল ও বিত্তবান। প্রাচীন গ্রিক লেখকরা উল্লেখ করেছেন যে এই অঞ্চলে বছরে একাধিকবার প্রচুর ফসল ফলত এবং খাদ্যশস্যের কোনো অভাব ছিল না। এই কৃষি-ঐশ্বর্যই তাদের একটি বিশাল স্থায়ী সেনাবাহিনী ও হস্তীবাহিনী লালন-পালনের সামর্থ্য দিয়েছিল।

কৃষির পাশাপাশি এই অঞ্চলে পশুপালন, মৎস্য আহরণ এবং কুটিরশিল্পও উন্নত ছিল। বিশেষত তাঁত শিল্প ছিল অত্যন্ত উন্নতমানের।

বাণিজ্য ও শিল্পে গঙ্গাঋদ্ধি
গঙ্গাঋদ্ধি কেবল কৃষিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। নৌপথে এই অঞ্চলের আধিপত্য ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। গঙ্গা নদী ছিল তাদের প্রধান বাণিজ্যপথ।

এই অঞ্চল থেকে উৎপাদিত সূক্ষ্ম সুতি বস্ত্র, যা পরবর্তীকালে মসলিন নামে বিখ্যাত হয়, রপ্তানি হতো রোমান সাম্রাজ্যসহ ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে। এছাড়া মসলা, রেশম, হাতির দাঁত এবং মূল্যবান পাথরও রপ্তানির তালিকায় ছিল। বঙ্গোপসাগরের উপকূল থেকে জাহাজে করে পণ্য যেত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আরব এবং পূর্ব আফ্রিকায়।

প্লিনি তাঁর ‘Natural Historia’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে গঙ্গাঋদ্ধি থেকে উৎকৃষ্ট মানের মুক্তা ও সূক্ষ্ম বস্ত্র রোমে আমদানি হতো। এই সম্পদশালী বাণিজ্যের বিনিময়ে রোমান সোনার মুদ্রা এই অঞ্চলে প্রবাহিত হতো, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করত।

সামরিক শক্তি ও যুদ্ধ কৌশল
গঙ্গাঋদ্ধির সামরিক শক্তির প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল তার বিশাল হস্তীবাহিনী। প্রাচীন ভারতীয় যুদ্ধকৌশলে হাতি ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র। গ্রিক ঐতিহাসিকদের বর্ণনা অনুযায়ী, গঙ্গাঋদ্ধির কাছে ছিল প্রায় ৪,০০০ যুদ্ধ-হস্তী। এই সংখ্যা তৎকালীন বিশ্বের যে কোনো রাজ্যের চেয়ে বেশি ছিল।

এছাড়া গঙ্গাঋদ্ধির ছিল সুসংগঠিত পদাতিক ও অশ্বারোহী বাহিনী। নদীমাতৃক এই অঞ্চলে নৌবাহিনীরও গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। নৌযুদ্ধেও তাদের দক্ষতা ছিল উল্লেখযোগ্য।

সাংস্কৃতিক ও সামাজিক জীবন
গঙ্গাঋদ্ধি শুধু সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবেই ঐশ্বর্যশালী ছিল না, সাংস্কৃতিকভাবেও এটি ছিল উন্নত। এই অঞ্চলে বৌদ্ধ ও ব্রাহ্মণ্য ধর্মের সহাবস্থান ছিল। বৌদ্ধ ও জৈন সাহিত্যে বঙ্গ অঞ্চলের বাণিজ্য ও সমৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।

প্রত্নতাত্ত্বিক খননে পাওয়া মৃৎপাত্র, মুদ্রা এবং অন্যান্য নিদর্শন থেকে বোঝা যায় যে এখানে নগর সভ্যতা বিকশিত হয়েছিল। চন্দ্রকেতুগড়, মহাস্থানগড়, তাম্রলিপ্ত এবং পুণ্ড্রবর্ধন ছিল গুরুত্বপূর্ণ নগর কেন্দ্র।

শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চারও প্রমাণ পাওয়া যায়। পরবর্তীকালে এই অঞ্চলেই গড়ে ওঠে পাহাড়পুর ও সোমপুর বিহারের মতো বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

ঐতিহাসিক গবেষণার প্রয়োজন
গঙ্গাঋদ্ধি নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্ন অমীমাংসিত রয়েছে। এর সঠিক সীমানা, রাজবংশের নাম, রাজধানীর অবস্থান, এসব বিষয়ে আরও প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা প্রয়োজন। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের জাতীয় পাঠ্যক্রমে এই গৌরবময় অধ্যায় খুব কমই স্থান পেয়েছে। আমরা বিদেশি বীরদের কথা শিখি, কিন্তু আমাদের নিজস্ব শেকড়ের এই শৌর্যগাথা প্রায় অজানাই থেকে যায়।

উপসংহার
গঙ্গাঋদ্ধি ছিল প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও ঐশ্বর্যশালী সভ্যতা। এর সামরিক শক্তি বিশ্বজয়ী আলেকজান্ডারের সৈন্যদের পিছু হটতে বাধ্য করেছিল। এর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বৈশ্বিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। আর এর সাংস্কৃতিক উৎকর্ষ পরবর্তী বাংলার ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিল।

আমরা যারা বাংলার মানুষ, বিশেষত যারা গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার বাসিন্দা, আমরা সেই মহান সভ্যতার উত্তরসূরি। আমাদের দায়িত্ব এই ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া, আরও গবেষণার মাধ্যমে এর অজানা অধ্যায়গুলো উন্মোচন করা এবং জাতীয় গর্বের এই উৎসকে সংরক্ষণ করা।

আসুন, আমরা আমাদের শেকড়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই এবং গর্বের সঙ্গে জানাই: আমরা অপরাজেয় গঙ্গাঋদ্ধির বংশধর। আমাদের মাটি এমন এক সভ্যতার জন্মভূমি যা কখনো মাথা নত করেনি এবং যা ছিল জ্ঞান, সম্পদ ও শৌর্যে সমুজ্জ্বল। এক সত্যিকারের সোনার বাংলা।




চুয়াডাঙ্গায় যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম, প্রাণ বাঁচাতে থানায় আশ্রয়

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় নয়ন আল মামুন (৩২) নামের এক যুবককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটেছে। প্রাণ রক্ষার্থে রক্তাক্ত অবস্থায় সদর থানায় আশ্রয় নিলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) রাতে শহরের বিএডিসি মোড়ের পুরাতন স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় প্রাণ রক্ষার্থে মোটরসাইকেলযোগে সদর থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন ওই যুবক। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত নয়ন আল মামুনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

আহত নয়ন আল মামুন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ বাজারপাড়ার বাসিন্দা মতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় নয়ন আল মামুনসহ দুজন মোটরসাইকেলযোগে চুয়াডাঙ্গা শহরে আসছিলেন। পথিমধ্যে বিএডিসি সড়কের পুরাতন স্টেডিয়ামের কাছে পৌঁছালে কোনো কারণে অজ্ঞাত কয়েকজন যুবকের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নয়নকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। প্রাণ বাঁচাতে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় দ্রুত মোটরসাইকেলযোগে সদর থানায় আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

আহতের বড় ভাই বলেন, হামলাকারীদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং ঘটনার প্রকৃত কারণও জানা যায়নি। আমার ভাই তাদের চেনে না বলে জানিয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ রাজশাহী অথবা ঢাকায় নেওয়া হবে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “নিজেকে রক্ষার্থে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় মোটরসাইকেলযোগে থানায় চলে আসেন। আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। কী কারণে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা হাসপাতালে গিয়ে আহতের সঙ্গে কথা বলেছি। মামলার জন্য বলা হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও আটকের কাজ শুরু করেছে পুলিশ।”




দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ৩ দিন বন্ধ

ভারতের নদিয়া জেলার বিধানসভা নির্বাচনের কারণে তিন দিন বন্ধ থাকবে দর্শনা-গেদে বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল।

তবে যেসব ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে অবস্থান করছেন, তারা ফিরতে পারবেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের এক অফিস আদেশের সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দর্শনা ইমিগ্রেশনের ইনচার্জ এসআই তুহিন।

তিনি জানান, আগামী ২৯ এপ্রিল ভারতের নদিয়া জেলায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে নদিয়া জেলার সীমান্তবর্তী চুয়াডাঙ্গার দর্শনা বন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ৯টা ২০ মিনিট থেকে ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দর্শনা আইসিপির কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন দিয়ে পাসপোর্টধারী নাগরিকদের গমনাগমন বন্ধ করে দিয়েছে ভারতের গেদে বন্দর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।

তবে বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকরা নিজ দেশে ফিরতে পারবেন। আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে পূর্বের মতো কার্যক্রম চালু হবে।




দামুড়হুদায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

দামুড়হুদায় শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সাধনসহ সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে “প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬ ইং” উপজেলা পর্যায়ের ফাইনাল খেলার উদ্বোধনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার বেলা ৪টায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে টুর্নামেন্টটি চিৎলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমীন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনাদের সকল সমস্যা, সুবিধা-অসুবিধা আমরা দেখবো। বিনিময়ে আপনারা আমাদের ছোট ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শুধু শিক্ষাদানই নয়, মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন এবং নৈতিকতার শিক্ষা দেবেন।” এ সময় তিনি স্কুলের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি সকল ইভেন্টে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার উবায়দুর রহমান সোহেল। সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও বলেন, “আমাদের এই সীমান্তবর্তী উপজেলায় খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। কারণ সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের আনাগোনা বেশি। শিক্ষার্থীরা খেলাধুলায় মনোনিবেশ করলে তারা মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা পাবে। শুধু তাই নয়, খেলাধুলা একজন শিক্ষার্থীর দেহ ও মন ভালো রাখে।” তিনি ইভেন্টে অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ জানান।

সবুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বখতিয়ার রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহা. মশিউর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী খালিদ হাসান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দামুড়হুদা উপজেলা শাখার আমীর নায়েব আলী, সেক্রেটারি জেনারেল আবেদ-উদ-দৌলা টিটন, দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, খেলায় অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়, আমন্ত্রিত অতিথি ও বিপুল পরিমাণ দর্শকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু হাসান।




গাংনীতে টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদককারবারী যুবক আটক

মেহেরপুরের গাংনীতে মাদকবিরোধী অভিযানে চালিয়ে ১০০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মুন্না শেখ (২২) ও সজল ইসলাম(২১) নামের দুই যুবককে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল।

রবিবার দুপুরে গাংনী-মেহেরপুর সড়কের হলপাড়া নামক এলাকায় ব্যাটারীচালিত অটোবাইকে তল্লাশী করে তাদের আটক করা হয়।

আটক মুন্না শেখ মেহেরপুর পৌরসভাধীন কাথুলী মোড় এলাকার মনিরুল ইসলামের ছেলে এবং সজল আলী একই এলাকার জাহিদুল ইসলামের ছেলে।

মাদকদ্রব‍্য সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই রহমত আলীর নেতৃত্বে মাদকদ্রব‍্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল সন্দেহজনক হওয়ায় একটি ব্যাটারীচালিত অটোবাইকের গতিরোধ করে। এসময় যাত্রীদের মধ্যে দুই যাত্রীকে তল্লাশী করলে তাদের কাছ থেকে টাপেন্টাডল ট‍্যাবলেট পাওয়া যায়। এবং ১০০ পিস টাপেন্টাডল ট‍্যাবলেটসহ তাদের দুজনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে গাংনী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।




শৈলকুপা থানায় ১৪ ঘণ্টা সাংবাদিককে আটক রেখে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার

ঝিনাইদহের শৈলকুপা থানায় আশরাফুল ইসলাম নামের এক সাংবাদিককে বাড়ি থেকে ডেকে এনে ১৪ ঘণ্টা আটকে রাখার পর একটি হত্যা মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে উপজেলার গাড়াগঞ্জের বড়দা ব্রিজ এলাকা থেকে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়। রোববার দুপুর ২টা পর্যন্ত তাকে শৈলকুপা থানার মধ্যে আটকে রাখা হয়েছিল। এই দীর্ঘ সময় আটকে রাখার কোনো কারণই জানায়নি পুলিশ। ওই সাংবাদিকের পরিবারের দাবি, ১৪ ঘণ্টা আটকে রাখার পর কেন বা কী উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলো তা স্পষ্ট নয়। অথচ সংঘর্ষে হত্যার শিকার মোহন শেখ তার চাচাতো দাদা হন।

আশরাফুল ইসলাম বাংলা এডিশনের ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি এবং ঝিনাইদহ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি শৈলকুপা উপজেলার মাধবপুর গ্রামের আক্কাচ আলীর ছেলে। পূর্বে তার নামে কোনো মামলা নেই বলে জানিয়েছে শৈলকুপা থানার পুলিশ।

আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী শান্তা খাতুন বলেন, শনিবার রাতে তার স্বামী আশরাফুল ইসলাম স্ত্রীর বাবার বাড়ি ব্রাহিমপুর গ্রামে অবস্থান করছিলেন। এ সময় রাত ১২টার দিকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বড়দা ব্রিজ এলাকায় ডেকে আনেন শৈলকুপা থানার এসআই তরিকুল ইসলাম। থানার ওসি ওই সাংবাদিকের সঙ্গে চা খাবেন জানিয়ে তাকে শৈলকুপা থানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর থেকে থানায় তাকে প্রায় ১৪ ঘণ্টা আটক রাখা হয়।

আশরাফুলের বাবা আক্কাচ আলী বলেন, “আমার ছেলে পেশায় একজন সংবাদকর্মী। সে দীর্ঘদিন ধরে জেলা শহরে বসবাস করে আসছে। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকলেও পুলিশ তাকে থানায় ১৪ ঘণ্টা আটকে রেখে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। আমার ছেলে নিরপরাধ। যে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সেই মামলার বাদী আমার আপন চাচাতো ভাই। যিনি হত্যার শিকার হয়েছেন, তিনি আমার ছেলের আপন চাচাতো দাদা। আমার ছেলেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফাঁসানো হচ্ছে।”

মামলার বাদী মোহন শেখের ছেলে হারুন অর রশিদ বলেন, “গত ২৩ এপ্রিল সকালে আমার বাবাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনায় ৪২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করি। অথচ রোববার দুপুরে সেই মামলায় আমার আপন চাচাতো ভাতিজা আশরাফুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আমার বাবা হত্যার ঘটনায় ভাতিজা জড়িত নয়। ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “আমার ভাতিজা সাংবাদিকতা করে, জেলা শহরে থাকে। সে হত্যার সঙ্গে জড়িত নয় এ কথা জানালেও পুলিশ তাকে আদালতে পাঠিয়েছে।”

শৈলকুপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, “একটি মামলার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে আশরাফুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তিকে আটক রাখা হয়েছিল। এখন তাকে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।” কী মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, “আদালতে খোঁজ নিয়ে মামলার বিবরণ জেনে নিন।”

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক আশরাফুল ইসলামকে যে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, নিহতের সঙ্গে তার নিবিড় পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। মামলার এজাহারে নাম না থাকার পরও তাকে গ্রেপ্তার এবং স্বয়ং বাদীর আপত্তির বিষয়টি পুলিশের পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই ঘটনাকে ‘আইনের অপপ্রয়োগ’ হিসেবে অভিহিত করে নিন্দা জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করতেই এই নাটকীয় গ্রেপ্তারের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা অবিলম্বে ওই সাংবাদিকের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।




শৈলকুপায় মোহন শেখ হত্যার ঘটনায় ৪২ জনকে আসামী করে মামলা, গ্রেপ্তার ১

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় গত বৃহস্পতিবার সামাজিক আধিপত্য বিস্তার করা নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে মোহন শেখ নিহতের ঘটনায় ৪২ জনকে আসামী করে শৈলকুপা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।

শনিবার বিকালে নিহতের ছেলে হারুনর রশিদ বাদী হয়ে এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। এ ঘটনায় শের আলী নামের এজাহারভূক্ত এক আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ন কবির মোল্লা বলেন, গত বৃহস্পতিবার উপজেলার ৯নং মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় মোহন শেখ নামের এক জন নিহত হন।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে হারুনর রশিদ বাদী হয়ে শনি বার দুপুরে ৪২ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তিনি আরও বলেন এই মামলায় শের আলী নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।




ঝিনাইদহে গ্রাম আদালত উৎসব অনুষ্ঠিত

জেলায় জেন্ডার সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গ্রাম আদালত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার পিছিয়ে পড়া নারী জনগোষ্ঠীর মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। কমিউনিটি বেতার সংস্থা ‘রেডিও ঝিনুক’ এ উৎসবের আয়োজন করে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক রথীন্দ্র নাথ রায় উৎসব উপলক্ষ্যে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন।

রেডিও ঝিনুকের স্টেশন ব্যবস্থাপক ইমন হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা গ্রাম আদালতের ব্যবস্থাপক মো. ওহিদুর রহমান, বেসরকারি সংস্থা সৃজনী ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক মো. রহিদুর রহমান, পোড়াহাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

উৎসবে কুইজ প্রতিযোগিতা, সচেতনতামূলক বইয়ের স্টল, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ভিডিও চিত্র প্রদর্শন সহ পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। এসময় বিভিন্ন এলাকার নারী, কিশোরী ও প্রান্তিক নারী সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আয়োজকরা জানান, জেলার পিছিয়ে পড়া নারী জনগোষ্ঠীর জেন্ডার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও গ্রাম আদালতের সুবিধা সম্পর্কে অবহিত করতেই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজনের মধ্যদিয়ে নারীরা তাদের অধিকার, গ্রাম আদালতে বিচারপ্রাপ্তি ও যাবতীয় সুবিধাদি সম্পর্কে সহজেই জানতে পারছেন।




মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সীমান্তে প্রায় ১০ হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধার

মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদক ও ভারতীয় চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৪৭ বিজিবি)।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) দিনব্যাপী পরিচালিত এসব অভিযানে ইয়াবা, মদ, গাঁজা ও নেশাজাতীয় ওষুধ উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার দুপুরে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) সদর থেকে একটি বিশেষ টহল দল মিরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মেহেরপুর থেকে কুষ্টিয়াগামী ‘আলহাজ্ব এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৯ হাজার ৯৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ২৯ লাখ ৯১ হাজার টাকা।

একই দিন ভোরে কাজীপুর বিওপির একটি দল কাজীপুর বর্ডারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০ বোতল ভারতীয় মদ, ৯০০ পিস ডেক্সামেথাসন এবং ৬০০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট জব্দ করে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

এছাড়া প্রাগপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ গরুরা মাঠ এলাকা থেকে ২ লাখ ৫৫ হাজার ২০০ টাকা মূল্যের ৪ হাজার ৬৪০ প্যাকেট ভারতীয় পাতার বিড়ি এবং জামালপুর বিওপির ধর্মদাহ মাঠ এলাকা থেকে ৪ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক জানান, জব্দকৃত এসব চোরাচালান পণ্যের সর্বমোট আনুমানিক মূল্য ৩৭ লাখ ৪০ হাজার ২০০ টাকা।

তিনি আরও বলেন, “সীমান্ত সুরক্ষা এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করে আসছে।

দেশের যুবসমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”