মেহেরপুরের শেখপাড়ায় রিকশাচালক হত্যা মামলায় প্রধান আসামিসহ আটক ২

মেহেরপুর শহরের শেখপাড়ায় রিকশাচালক গোলাম হোসেন হত্যা মামলায় প্রধান আসামিসহ দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার সকাল ৭টার দিকে সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া এলাকা থেকে প্রধান আসামি কালুকে আটক করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ঢাকা পালানোর পথে গাংনী এলাকা থেকে তার কথিত প্রেমিকা বন্যাকে আটক করা হয়।

পরে তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মেহেরপুর শহরের শেখপাড়ায় পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্ত্রীর সামনেই স্বামীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে খালাতো ভাই।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা রাতে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত গোলাম হোসেন (৪৫) পেশায় একজন রিকশাচালক। তিনি শেখপাড়ার রিয়াসিন আলীর ছেলে। নিহতের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। অভিযুক্ত কালু একই এলাকার আকবর আলীর ছেলে এবং নিহতের খালাতো ভাই।

এলাকাবাসী জানায়, অভিযুক্ত কালুর সঙ্গে প্রতিবেশী বন্যা নামের এক নারীর পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গত রবিবার একটি ছোটখাটো ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোলাম হোসেনকে মারধরের ঘটনাও ঘটে, যা পরে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়। তবে সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আলেয়া খাতুন বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতেই মেহেরপুর সদর থানায় কালু ও বন্যাকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহতের স্ত্রী আলেয়া খাতুন জানান, তার স্বামী সন্ধ্যার পর বাড়িতে এসে গোসল করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে কালু পিছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে। গুরুতর অবস্থায় গোলাম হোসেনকে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ডা. জামিনুর রহমান খান বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কালু ও তার প্রেমিকাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযান চালিয়ে গাংনী থেকে প্রেমিকাকে এবং কুলবাড়িয়া এলাকা থেকে কালুকে আটক করা হয়েছে। পরে কালুর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার বাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।




গাংনীতে দুটি ট্রান্সফরমার চুরি, দুশ্চিন্তায় কৃষক

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় মাঠ থেকে কৃষকের সেচ পাম্পের দুটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে।

ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় স্কিমের আওতায় থাকা ফসল নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

বুধবার (৬ মে) রাতের কোনো এক সময় গাংনীর রামনগর ও চরগোয়াল গ্রামের মাঠ থেকে পৃথকভাবে দুটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়।

রামনগর গ্রামের কৃষক খলিল জানান, সেচ পাম্পে থাকা ট্রান্সফরমারটি রাতে চোরেরা বৈদ্যুতিক খুঁটিতে উঠে যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে যায়।

সকালে জমিতে সেচ দিতে গিয়ে তিনি দেখেন বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। পরে খুঁটির দিকে তাকিয়ে দেখেন ট্রান্সফরমারের সংযোগ তার বিচ্ছিন্ন।

নিচে পড়ে আছে ট্রান্সফরমারের ভেতরের তেল ও অন্যান্য সামগ্রী। তিনি বিষয়টি বামন্দী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে জানিয়েছেন।
অপরদিকে চরগোয়াল গ্রামের কৃষক জাকির হোসেনের সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমারটিও চুরি হয়েছে।

জাকির হোসেন বলেন, “আমার ট্রান্সফরমারটি লোহার শেকল ও রড দিয়ে মজবুত করে বাঁধা ছিল। তারপরও চোরেরা সেটি খুলে নিয়ে গেছে। এর চেয়ে বেশি নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব না। দ্রুত চোরদের আইনের আওতায় না আনলে মাঠ ফাঁকা হয়ে যাবে।”

মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বামন্দী জোনাল অফিসের এজিএম (কম) সৌমিক জানান, রামনগর ও চরগোয়াল এলাকা থেকে দুটি ট্রান্সফরমার চুরির খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) আল মামুন জানান, ট্রান্সফরমার চুরির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।




মেহেরপুরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

মেহেরপুর শহরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী সাজু হোসেনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

আজ বুধবার (৬ মে) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এই রায় ঘোষণা করেন। রায় প্রদানের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সাজু হোসেন আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত সাজু মেহেরপুর শহরের নতুনপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১২ সালের ৪ ডিসেম্বর যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী ডলি খাতুনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন সাজু হোসেন। স্বজনরা ডলিকে উদ্ধার করে প্রথমে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ ডিসেম্বর ডলি খাতুনের মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় নিহতের মা শেফালি খাতুন বাদী হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

বিচার চলাকালীন মোট ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও জবানবন্দি পর্যালোচনার ভিত্তিতে আদালত অভিযুক্ত সাজু হোসেনকে দোষী সাব্যস্ত করে আজ এই রায় প্রদান করেন।

মামলায় আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট একেএম শফিকুল আলম।




গাংনীর সাহারবাটি ইউপিতে ক্রীড়া সামগ্রী ও হুইলচেয়ার বিতরণ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদে খেলাধুলার সামগ্রী ও হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে এডিবি’র অর্থায়নে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফুটবল, ভলিবল এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) শিক্ষার্থীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়।

শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করতে ও প্রতিবন্ধীদের চলাচলের সুবিধার্থে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, সাহারবাটি ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফুটবল সরবরাহ করা হয়েছে এবং এলাকার বিভিন্ন স্কুলের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মাঝে উন্নত মানের হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসমা তারা, এডিবি’র প্রতিনিধি কামরুল হাসান, ইউপি সদস্য বাশিরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, আনারুল ইসলাম, আব্বাস আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও অভিভাবকরা।

সুমাইয়া খাতুন নামে এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর মা বলেন, “আমার মেয়ে চলাফেরা করতে অনেক কষ্ট পায়। হুইলচেয়ারটি পেয়ে অনেক উপকার হলো। এখন তাকে সহজে যাতায়াত করাতে পারব।”

সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসমা তারা বলেন, “কেউ পিছিয়ে থাকবে না এই লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন স্কুলের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মাঝে হুইলচেয়ার, ফুটবল ও ভলিবল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বিষ স্প্রে মেশিন ও আরসিসি পাইপও বিতরণ করা হয়েছে।”




গাংনীর বামন্দীতে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ৮ হাজার টাকা জরিমানা

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দীতে ট্রেড লাইসেন্স না থাকা এবং ব‍্যাবসা প্রতিষ্ঠানে মূল‍্য তালিকা প্রদর্শন না করাই দুই ব‍্যাবসা প্রতিষ্ঠানকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

আজ বুধবার দুপুরে গাংনী উপজেলার বামন্দী বাস স্ট‍্যান্ড এলাকায় অভিযানকালে এ জরিমানা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মেহেরপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক (অ. দা.) মোহাম্মদ মামুনুল হাসান।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মেহেরপুর জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মেহেরপুর জেলা কার্যালয় কর্তৃক গাংনী উপজেলায় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ ধারা অনুসারে ট্রেড লাইসেন্স ব্যতিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও মূল্য তালিকা না থাকার কারণে হায়বাত মিষ্টান্ন ভাণ্ডারকে ৫ হাজার টাকা ও মাসুম মিষ্টান্ন ভাণ্ডারকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।

এ সময় অন্যান্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার প্রদান-সংরক্ষণ করা, মানসম্মত পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা জন্য এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা হতে বিরত থাকার নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

জনস্বার্থে এ অভিযান চালমান থাকবে বলে জানিয়েছে মেহেরপুর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যালয়।




দামুড়হুদায় মাঠ দিবস ও কারিগরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় উপজেলায় ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ‘মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় কৃষক মাঠ দিবস ও কারিগরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বেলা ১২টায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলার জয়রামপুর শেখপাড়ায় কৃষক রুহুল আমীনের আম বাগানে এ মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আলমগীর বিশ্বাস।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আমাদের দেশে ৩০ হাজার কোটি টাকার মশলার বাজার আছে। প্রতি বছর আমরা ৯০০ কোটি টাকার মশলা আমদানি করি। এই অঞ্চলের কৃষকরা কিন্তু উদ্যক্তা। মোট ১০৯ প্রকার মশলা হয়, এর মধ্যে ৫০ প্রকার মশলা আমাদের দেশে চলে, এর মধ্যে ১৭টি মশলার চাষ হয়। কিন্তু বেশি চাহিদা ৫টি মশলার। আপনারা বাড়ির আশপাশের পতিত জায়গায় এই বারি রসুন ৩ ফলাতে পারেন। বাড়িতে যদি বস্তায় আদা চাষ করেন তাও নিজেদের পরিবারের চাহিদা মেটাতে পারি। তাই মশলা যদি আমরা নিজেরাই চাষ করি তাহলে আমাদের আমদানিতে টাকা খরচ কম হবে। আমরা আগামীতে আর বাইরে থেকে পিয়াজ আমদানি করতে চাইনা। আগামীতে ৪৪,৫০০ জন কৃষকদের পেয়াজ চাষের জন্য সার বীজ সব দিয়ে সহযোগিতা করা হবে। আমরা আর বাইরের দেশ থেকে পেয়াজ আমদানি করতে চাইনা। আপনারা এই বারি রসুন ৩ চাষ করে নিজের পরিবারের চাহিদা মেটাতে পারি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষ্ণ রায়।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার, উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার অভিজিৎ কুমার বিশ্বাস, কৃষি উপসহকারী সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে বারি রসুন-৩ জাতের চাষাবাদ, ফলন বৃদ্ধি ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের মসলা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনাও প্রদান করা হয়।উক্ত মাঠ দিবস ও আলোচনা সভায় প্রায় ১৫০ জন কৃষক-কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন।




চুয়াডাঙ্গায় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) উদ্যোগে প্রায় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে।

আজ বুধবার (৬ মে) সকাল ১১টায় ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত “মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান-২০২৬” এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন।

এসময় বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত দেশ গঠনে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। সীমান্তে দিন-রাত দায়িত্ব পালন করে সদস্যরা মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

আরও বলেন, মাদক একটি জটিল সামাজিক সমস্যা এটি প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ, মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল হুদাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজিবি জানায়, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৪৯ জন আসামিসহ ৩৪ কোটি ২০ লাখ ৪১ হাজার ৫৩৫ টাকা মূল্যের মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়।

ধ্বংস করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে ছিল ৩,৯৮৩ বোতল বিদেশি মদ, ১০,৬১৭ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল, ২৯ বোতল বিয়ার, ২৩৮.৭৯ কেজি গাঁজা, ১.৮৫৭ কেজি হেরোইন, ১.৮৯ কেজি কোকেন, ২৫,৪৮৫ পিস বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় ট্যাবলেট (ভায়াগ্রা/সেনেগ্রা/ট্যাপেন্টাডল) এবং ১৯টি নেশাজাতীয় ইনজেকশন। এসব মাদকের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ কোটি ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬৬৫ টাকা।




মেহেরপুরে গাঁজা সেবনের দায়ে যুবকের জেল-জরিমানা

মেহেরপুর সদর উপজেলায় মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের বিশেষ অভিযানে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ খায়রুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে আসামিকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে গতকাল মঙ্গলবার শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোঃ রাকিবুল ইসলাম ডেনি (২৩) নামে এক যুবককে গাঁজাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে ০৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
আসামি রাকিবুল ইসলাম ডেনি শ্যামপুর এলাকার বাসিন্দা মৃত মোহন আলীর ছেলে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ খায়রুল ইসলাম সরাসরি আদালত পরিচালনা করে আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মেহেরপুরে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

এ ধরনের অভিযান জেলার মাদকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।




কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অগ্নিকাণ্ডে কৃষকের ঘরবাড়ি ভস্মীভূত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে এক কৃষকের বসতবাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টার আগুনে তিনটি বসতঘর, ঘরের আসবাবপত্র, টিন, নগদ টাকা, খাদ্যশস্য ও কাপড়চোপড়সহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুলপুর ঘোগা এলাকায় বাহাদুর আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বাহাদুর আলীর বাড়িতে আগুন দেখতে পান প্রতিবেশীরা। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। বিদ্যুতের শকের ভয়ে প্রথমে কেউ আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেননি। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলতে থাকে এবং তিনটি ঘরসহ ঘরের সব জিনিসপত্র পুড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঘটনার সময় পরিবারের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। বাহাদুর আলী মাঠে কৃষিকাজে ব্যস্ত ছিলেন এবং তার স্ত্রী-সন্তানরা একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন।

ক্ষতিগ্রস্ত বাহাদুর আলী বলেন, “আগুনে আমার তিনটি ঘরসহ খাট, চেয়ার, টেবিল, আলনা, টিন, ড্রেসিং টেবিল, হাঁড়ি-পাতিল, বাক্স, চাল, ধান ও নগদ টাকাসহ সবকিছু পুড়ে গেছে। এখন পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই নেই। প্রায় ১০-১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

প্রতিবেশীরা জানান, আগুনে বাহাদুর আলীর সবকিছু পুড়ে যাওয়ায় তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। তারা দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানান।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সরকারিভাবে সহায়তা প্রদান করা হবে।




কুষ্টিয়ার খোকসায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ভ্যানচালকের

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঝন্টু দাস (৪২) নামে এক ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার একতারপুর (পালপাড়া) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ঝন্টু দাস খোকসা উপজেলার কমলাপুর ঋষিপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজ ভ্যান চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি উল্টে গেলে তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

হাসপাতালে নেওয়ার পর দায়িত্বরত চিকিৎসক আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবির হোসেন সোহাগ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।