সবার সহযোগিতায় এগিয়ে যাবে মেহেরপুর

মেহেরপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় জেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বলেছেন, সবার সহযোগিতা নিয়েই আমরা এগিয়ে যাব এবং মেহেরপুরবাসীকে ভালো রাখার জন্য কাজ করবো।

তিনি বলেন, অনেকেই অভিযোগ করেছেন ট্যাগ অফিসাররা সহযোগিতা করতে পারছেন না। তবে এই ক্ষেত্রে ট্যাগ অফিসারদের পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেটদেরও সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। ট্যাগ অফিসাররা তথ্য দিলে ম্যাজিস্ট্রেটরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, আমি নিজেও মাঠে গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছি। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সরকারি কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করাই আমাদের দায়িত্ব এবং এ ক্ষেত্রে আমরা সবসময় আপনাদের পাশে আছি।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক পার্থ প্রতিম শীল।

সভায় বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি তোযাম্মেল আযম, মেহেরপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল হক মানিক, সিনিয়র সাংবাদিক রফিকুল আলম, আমিরুল ইসলাম অল্ডাম, তুহিন অরণ্য, বাসস প্রতিনিধি দিলরুবা খাতুন এবং কালবেলা জেলা প্রতিনিধি খান মাহমুদ আল রাফি প্রমুখ।

মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি তোযাম্মেল আযম বলেন, মেহেরপুর একটি ছোট জেলা হলেও সমস্যার শেষ নেই। তেলের সংকট ও শিক্ষার অব্যবস্থাপনা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে।

সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল হক মানিক বলেন, মোটরসাইকেলের জ্বালানির পাশাপাশি কৃষি কাজেও তেলের সংকট প্রকট হয়ে উঠছে। কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

সিনিয়র সাংবাদিক তুহিন অরণ্য বলেন, মেহেরপুরে বাল্যবিবাহের হার দিন দিন বাড়ছে। এর ফলে পারিবারিক ও সামাজিক নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

বাসস প্রতিনিধি দিলরুবা খাতুন বলেন, বাল্যবিবাহ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ডিভোর্সের হারও বাড়ছে। এই সামাজিক অবক্ষয় রোধে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা দরকার।

কালবেলা জেলা প্রতিনিধি খান মাহমুদ আল রাফি বলেন, তেল সংকটের পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায়ও সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রাইভেট বাণিজ্য নিয়ে অভিযোগ রয়েছে, যা গুরুত্বসহকারে দেখা প্রয়োজন।

মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যমকর্মীরা অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিতকরণ, জেলার জ্বালানি সরবরাহ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরেন।




কোটচাঁদপুরে কেক ফ্যাক্টরির জেনারেটরের ফিতায় আটকে গৃহবধূর মৃত্যু

কোটচাঁদপুরে কেক ফ্যাক্টরির জেনারেটরের ফিতায় আটকে মারা গেলেন শিরিনা খাতুন (৩০) নামের এক গৃহবধূ। আজ সোমবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে কোটচাঁদপুর বনবিভাগ পাড়ায়। সে ওই এলাকার রমজান আলীর স্ত্রী।

হাসানের পিতা মনির হোসেন জানান ,কোটচাঁদপুর বন বিভাগ পাড়ার বাসিন্দা আমরা। শিরিনা খাতুন রমজান আলী স্ত্রী। সে আমার ছেলে হাসান, কেক ফ্যাক্টরির মালিক আব্দুস সালামের মেয়ে মিম ও তাঁর ছেলে হাবিবুর রহমানের জন্য প্রতিদিন  টিফিন নিয়ে যেতেন বিদ্যালয়ে। সোমবার দুপুরে আমার ও তাঁর ছেলের জন্য টিফিন নিয়ে মিমের টিফিন নিতে তাদের বাড়িতে গিয়েছেলেন। এ সময় ওই বাড়িতে থাকা কেক ফ্যাক্টরির ফিতায় আটকে যায় তাঁর কাপড়। এতে করে সে গুরুতর আহত হন। এ সময় ফ্যাক্টরির মালিক সহ স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে দেখে মৃত বলে ঘোষণা দেন।

খবর পেয়ে কোটচাঁদপুর থানার সহউপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুর রহিম মরা দেহের সুরতহাল রিপোর্ট করেছেন। এরপর মরা দেহটি ময়না তদন্তের জন্য ঝিনাইদহ মর্গে পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।




মেহেরপুরে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সুষ্ঠু রাখতে জেলা প্রশাসকের পরিদর্শন

জনস্বার্থে জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মেহেরপুরে তদারকি কার্যক্রম জোরদার করেছে জেলা প্রশাসন।

সোমবার (৬ এপ্রিল) জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শিল্পী রানী রায় সদর উপজেলার কলেজ মোড় সংলগ্ন মেহেরপুর ফিলিং স্টেশন সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে তিনি ফিলিং স্টেশনে সংরক্ষিত জ্বালানি তেলের মজুদ, বিক্রয় কার্যক্রম এবং মজুদ রেজিস্টার যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে কিনা তা নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ, নির্ধারিত দামে জ্বালানি তেল বিক্রয় নিশ্চিত করা এবং কোনো প্রকার অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।

জেলা প্রশাসনের এমন তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগ জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




জীবননগরে কার্ড ছাড়া জ্বালানি নয়, মজুদে কড়াকড়ি: ইউএনও আশরাফুল আলম রাসেল

জীবননগর উপজেলার কৃষকদের জন্য ডিজেল ও পেট্রোল বিতরণে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। কার্ড বা প্রত্যায়নপত্র ছাড়া কোনো কৃষক জ্বালানি নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল।

সোমবার ( ৬ই এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউএনও আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, কৃষকদের ডিজেল ও পেট্রোল সংগ্রহের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, ইউনিয়ন ও পৌরসভার ব্লক সুপারভাইজার বা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য দিয়ে কার্ড বা প্রত্যায়নপত্র সংগ্রহ করতে হবে। ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি জমা দিয়ে এই প্রত্যায়ন নেওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, “কোনো কৃষক প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করে বাড়িতে মজুদ রাখতে পারবেন না। কারও কাছে অবৈধভাবে মজুদ তেল পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

কৃষকদের ভোগান্তি কমাতে পেট্রোল পাম্পের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হবে না উল্লেখ করে ইউএনও বলেন, বিভিন্ন গ্রাম্য হাটে সাব-ডিলার বা এজেন্ট পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকেরা প্রত্যায়নপত্র বা কার্ড প্রদর্শন করে সেখান থেকেই জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “কার্ডবিহীন কাউকে কোনো প্রকার তেল সরবরাহ করা যাবে না।” এ সময় উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




গাংনীর সাহারবাটি গ্রামে কৃষি ব্যাংকের উপ-শাখার উদ্বোধন

গ্রাহকদের দোরগোড়ায় সহজে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একটি নতুন উপ-শাখার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে গাংনী উপজেলার সাহারবাটি বাজারে এ উপ-শাখার উদ্বোধন করা হয়। এটি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ৫ নম্বর উপ-শাখা হিসেবে চালু হলো।

ব্যাংকের মেহেরপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক প্রহলাদ কুমার হোড়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপ-শাখাটির ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) খালেদুজ্জামান জুয়েল।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। নতুন এই উপ-শাখা চালুর মাধ্যমে এলাকার কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ আরও সহজে কৃষিঋণসহ বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের সহায়তা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদান এবং গ্রামীণ অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে এই উপ-শাখা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে কৃষি খাতে ঋণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে দেশের কৃষি উন্নয়নে অবদান রেখে আসছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন এবং ব্যাংকের কুষ্টিয়া অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক উৎপল কবিরাজ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক প্রহলাদ কুমার হোড়। মেহেরপুর আঞ্চলিক নিরীক্ষা কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন মুখ্য কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান এবং মেহেরপুর শাখা কার্যালয়ের কর্মকর্তা রাসমনি খানম যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

এ সময় বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল ধুমকেতু, সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন, নবীনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তানজিদুর রহমান মুক্তি, স্থানীয় ব্যক্তিত্ব তৌহিদ মোর্শেদ অতুল, তৌহিদুজ্জামান সোহেল ও তোহিদুর রহমান কাঁকন প্রমুখ।

উদ্বোধনী দিনে ১৫ জন কৃষকের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ২২ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করা হয় এবং ৫০ লাখ টাকা আমানত (ডিপোজিট) সংগ্রহ করা হয়।

অনুষ্ঠানে ব্যাংকের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী ও গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন।




দামুড়হুদায় নবাগত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সর্বস্তরের মানুষের মতবিনিময় সভা

দামুড়হুদায় চুয়াডাঙ্গা জেলার নবাগত জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ লুৎফুন নাহারের সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, ব্যবসায়ী, ধর্মীয় নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার বেলা ১২টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মিজ্ লুৎফুন নাহার বলেন, “দামুড়হুদা উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে প্রশাসন সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে। জনগণের সমস্যা সমাধানে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আপনারা যে সমস্যাগুলো তুলে ধরেছেন, সেগুলো পর্যায়ক্রমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।” তিনি সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সেবা কার্যক্রম সহজীকরণ এবং জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের বাইরে না থাকার পরামর্শ দেন এবং ১৮ বছরের নিচে কারো কাছে সিগারেট বা তামাকজাত পণ্য বিক্রি না করতে স্থানীয় দোকানদারদের নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি, স্কুল চলাকালীন সময়ে স্কুল ড্রেস পরিহিত শিক্ষার্থীদের স্কুলের বাইরে অবস্থান করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার উবায়দুর রহমান সাহেল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাগর দে, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল শামীম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ উদ্দিন, দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান, দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামসুজ্জোহা পলাশ, দর্শনা প্রেসক্লাবের সভাপতি একরামুল হক পিপুলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম প্রজেক্টরের মাধ্যমে দামুড়হুদা উপজেলার সার্বিক তথ্য উপস্থাপন করেন।

মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীরা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রম জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

সভা শেষে উপস্থিত সকলের সহযোগিতা কামনা করে মতবিনিময় সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে এ ধরনের মতবিনিময় সভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




‘আমার স্বামীর মাথা কেটে ফুটবল খেলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে’

‘আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করে তাঁর মাথা কাটে ফুটবল খেলেছিলো। সেই মামলার আসামিরা এখন দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে।

কেউ জামিন নিয়ে বাইরে আইছে। যাদের ফাঁসির আদেশ হইছিলো তারা নাকি ক্ষমা পেয়েছে। আমার সন্তানদের এতিম করা আসামিরা এখন বুক ফুলায়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এসব দেখতি হচ্ছে আমাগের। এ আবার কেমন বিচার। আমি আল্লার কাছে বিচার দিছি। সেই সব বিচার করবে।’ এমন ক্ষোভের কথা বলছিলেন ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের নিহত আলফাজ উদ্দিনের স্ত্রী সম্পতি নেছা|

সম্পতি নেছা জানান, জমি ও পূর্ব শত্রুতার জেরে কুলবাড়িয়াা গ্রামের পূর্ব বাংলা কমিউনিষ্ট পার্টির সদস্য সার্জনের সাথে বিরোধ হয় তার স্বামী আলফাজের।

সেই শত্রুতার জেরে ১৯৯৯ সালের ৪ এপ্রিল রাতে পূর্ব বাংলা কমিউনিষ্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা হানিফের নেতৃত্বে সার্জন, আব্দুল মালেক, শহিদুল ইসলাম ওরফে জেন শহিদুল, শের আলী, জুর আলী, বেল্টু ওরফে তোয়াসহ কয়েকজন আলফাজকে কুপিয়ে হত্যা করে। শুধু তাই নয় তাকে কুপিয়ে হত্যা করে দেহ থেকে মাথা ছিন্ন করে ফুটবল খেলে। সেই ঘটনায় আলফাজের বাবা আনজেল আলী বাদি হয়ে হানেফসহ অজ্ঞাত ১৫ থেকে ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

পুলিশ সেই মামলায় ৭ জনকে অভিযুক্ত করে ওই বছরেই সেপ্টেম্বর মাসে চার্জশিট দাখিল করে| দীর্ঘ শুনানী শেষে ২০০১ সালের ২০ নভেম্বর আসামি সার্জন, হানিফ, শহিদুল ইসলাম ওরফে জেন, শের আলী, জুর আলী আব্দুল মালেক ও বেল্টু ওরফে তোয়াকে ফাঁসির আদেশ দেয়।

আসামি পক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করে। পরে নিহতের পরিবারে আবার শুরু হয় আদালতের বারান্দায় ছুটাছুটি। ২০০৪ সালে উচ্চ আদালত থেকে মামলায় আসামী সার্জন, হানেফ ও বেল্টুকে মৃত্যুদন্ড বহাল রাখে আর আসামী শহিদুল ইসলাম ওরফে জেন, শের আলী, জুর আলী ও আব্দুল মালেককে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করে।

তবে মৃত্যুদন্ডের আদেশ প্রাপ্ত সার্জন, হানেফ ও বেল্টুকে স্থানীয় সংসদ সদস্যর সুপারিশে সাধারণ ক্ষমা করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি। এর মধ্যে হানেফ ২০২৫ সালে প্রতিপক্ষের গুলিতে দুই সহযোগীসহ নিহত হন।

নিহতের স্ত্রী সম্পতি নেছা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার স্বামীর হত্যায় সার্জনের মৃত্যুদন্ড দিলেও সে এখন জামিনে বের হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিভাবে একজন মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামী জামিন পেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে আমি সেটাই বুঝছি না। আর আসামি মালেক কিছুদিন জেল খেটে এলাকায় ফিরেছে। এখন নাকি আবার এলাকায় সংগঠিত হচ্ছে। আমার স্বামীকে মেরে এখন আবার আমার সন্তানকে হত্যা করতেও পারে তারা। আমরা তো সঠিক বিচার পেলাম না।’

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জজ কোর্টের পিপি এসএম মশিয়ুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত পরিতাপের। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করলে আমরা লিগ্যাল এইডের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান করব।




ঝিনাইদহে ক্রীড়া দিবস উদযাপন

ক্রীড়া হলে পেশা পরিবার পাবে ভরসা, এবং গড়বো ক্রীড়ায় সেতুবন্ধন, করবো বাধা দূরীকরণ; এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস উদযাপিত হয়েছে|

জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে আজ সোমবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র‍্যালী বের করা হয়। র‍্যালীটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়| পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনে কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

এতে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক হাসান, জেলা ক্রীড়া অফিসার আমানুল্লাহ আহমেদ, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন, জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুজ্জামান ঝন্টু, সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম সংগ্রাম, রেফারি এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন|

খেলাধুলা তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনধারায় গড়ে তোলে এবং তাদের বিপথগামিতা থেকে দূরে রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, ক্রীড়ার বিকাশে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন|




মেহেরপুরে অস্ত্র ও মাদকসহ আটক-২, পলাতক-১

মেহেরপুর সদর উপজেলার ফুলবাগান পাড়ায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র, ইয়াবা, গাঁজা ও বিদেশি মদসহ দুই যুবককে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় আরও একজনকে পলাতক আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মেহেরপুর পৌরসভার ফুলবাগান পাড়ায় পলাতক আসামি শুভর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেনঃ পৌর শহরের কলেজপাড়া এলাকার মাহাবুল ইসলামের ছেলে সাব্বির হোসেন (২৩) এবং ফুলবাগান পাড়ার মৃত বিপুল হোসেনের ছেলে সৈকত আলী (২৩)। এ ঘটনায় একই এলাকার শুভ (২৮) পলাতক রয়েছে।

মেহেরপুর জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় একটি সেমি-পাকা টিনশেড বাড়িতে থেকে ৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৪০ গ্রাম গাঁজা, একটি বিদেশি মদের বোতল এবং তিনটি কুড়াল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামত জব্দ করা হয়েছে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন, মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী। এ সময় তার সঙ্গে এসআই সঞ্জয় মন্ডল, এসআই কাজল রঞ্জন ঘোষ, এসআই আবু বক্কর সিদ্দিকসহ সঙ্গীয় ফোর্স উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ আরও জানায়, আটক সাব্বির হোসেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পূর্বের একটি মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। একই মামলায় পলাতক আসামি শুভও অভিযুক্ত।

মেহেরপুর ডিবি পুলিশের ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, “এ ঘটনায় আটক ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক দুই আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”




আলমডাঙ্গার মুন্সিগঞ্জে জ্বালানি তেলের দীর্ঘ লাইন: তদারকিতেও ভোগান্তি চরমে

আলমডাঙ্গা উপজেলায় জ্বালানি তেলের সংকট ঘিরে ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। উপজেলার জেহালা ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জ পশুহাট এলাকায় অবস্থিত এনামুল হক ফিলিং স্টেশনে আজ ভোর থেকেই তেল নিতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর ৫টার আগেই মোটরসাইকেল, ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন যানবাহনের সারি কয়েকশ মিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। সূর্য ওঠার আগেই শুরু হওয়া এই অপেক্ষা অনেকের জন্য কয়েক ঘণ্টায় গড়িয়েছে। তেল পাওয়ার অনিশ্চয়তা থাকলেও প্রশাসনের উপস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন লাইনে দাঁড়ানো ব্যক্তিরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন পাম্প এলাকায় সরাসরি তদারকি করছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে তেল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ফুয়েল কার্ড বা বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে তেল দেওয়া হচ্ছে না।

এ ছাড়া শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দুটি পৃথক লাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চাকরিজীবী ও জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা লাইন, যাতে তারা দ্রুত তেল নিয়ে কাজে ফিরতে পারেন। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ, কৃষিজীবী ও পরিবহন চালকদের জন্য রাখা হয়েছে পৃথক দীর্ঘ লাইন।

তবে তেল সরবরাহ সীমিত হওয়ায় গ্রাহকভেদে তেলের পরিমাণে ভিন্নতা দেখা গেছে। কেউ ৫০০ টাকার, কেউ ৮০০ বা ১ হাজার টাকার তেল পাচ্ছেন। বিশেষ প্রয়োজন বিবেচনায় কিছু গ্রাহককে বেশি তেল দেওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে। এ নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও প্রশাসনের উপস্থিতিতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি।

দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ফুয়েল কার্ড যাচাই করে তেল দেওয়া হচ্ছে। সীমিত মজুতের মধ্যে সবার মধ্যে সমন্বয় রেখে তেল বণ্টনের চেষ্টা চলছে, যাতে কেউ একেবারে বঞ্চিত না হন।

বর্তমানে প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে পাম্পটির তেল বিক্রি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এ সংকট কাটবে।