মুজিবনগরে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার সিরাজুল ইসলামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

আজ বুধবার বিকেলে ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রামনগর গ্রামে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ওয়ার্ড কার্যালয়ে এ কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রায় ১৫০ জন দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করা হয়।

কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম মোল্লা, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রশিদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি আজিমুদ্দিন গাজী, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আরমান আলী, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সোহাগ, রমজান আলী, ইসরাফিল গাজীসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বিতরণ শেষে ৮ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার সিরাজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তেমন কোনো বরাদ্দ পাননি। তবে প্রতি বছরই নিজ উদ্যোগে শীত মৌসুমে তার ওয়ার্ডের গরিব ও দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, সামর্থ্য থাকলে ভবিষ্যতেও এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।




অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে ঝিনাইদহের ২১ প্রত্নতত্ত স্থাপনা; দাবি সংরক্ষণের

ইতিহাস শুধু অতিতের কথা বলে না এটি কোন বিষয় বা জনপদের আত্মপরিচয় তুলে ধরে। সময়ের পরিক্রমায় কালের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঝিনাইদহের শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহাসিক ও হেরিটেজ স্থাপনাগুলো আজ চরম অযত্ন ও অবহেলার শিকার।

যথাযথ সংরক্ষণ ও তদারকির অভাবে জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মৃতি বহনকারী জেলার ৬ উপজেলায় ছড়িয়ে থাকা ২১টি হেরিটেজ স্থাপনাই এখন অস্তিত্ব সংকটে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকরি উদ্যোগ না নিলে অমূল্য এসব স্থাপনাশৈলী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে খুঁজতে হবে কেবল ইতিহাসের পাতায়।

নীলকুঠি থেকে রাজবাড়ি-সবখানেই অবহেলার ছাপ জেলার মহেশপুর উপজেলার খালিশপুরে অবস্থিত ১৯ শতকে নির্মিত প্রাচীন নীলকুঠি ভবনটি এক সময় ঔপনিবেশিক শাসনামলের সাক্ষী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন ছিল। ২০১২ সালের ১৪ জুন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের গেজেটে তালিকাভুক্ত হলেও বাস্তবে ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণে নেই কার্যকর কোনো উদ্যোগ। চুন-সুড়কি,ইট ও টালির তৈরি এই স্থাপনাটির ছাদ দিয়ে চুইয়ে পড়ে বৃষ্টির পানি,দেয়ালে ধরেছে শ্যাওলা ও বড় বড় ফাটল। অযত্নে পড়ে থাকায় ভবনের ভেতরে এখন সাপ,ব্যাঙ,শেয়াল ও কুকুরের অবাধ বিচরণ।

এটি শুধু একটি স্থাপনার চিত্র নয়। জেলার মিয়ার দালান,শৈলকুপার ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ,নলডাঙ্গা রাজবাড়ি ও মন্দির, বারোবাজারের ঐতিহাসিক বার আওলিয়ার মসজিদ,কৃষক আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্র ও গণিতবীদ কেপি বসুর বসতভিটাসহ জেলার তালিকাভুক্ত ২১টি হেরিটেজ স্থাপনার অধিকাংশই আজ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মৃত্যুপথযাত্রী।

ঐতিহাসিক ২১টি স্থাপনার অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ-প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,জেলার ৬টি উপজেলায় এখন পর্যন্ত মোট ২১টি ঐতিহাসিক ও প্রত্নসম্পদসমৃদ্ধ স্থাপনা হেরিটেজ তালিকাভুক্ত রয়েছে। কাগজে-কলমে এসব স্থাপনা রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষিত হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে,অধিকাংশ স্থাপনাই নেই কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ ও সুরক্ষার আওতায়। গেজেটভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও বাস্তব সংরক্ষণ কার্যত অনুপস্থিত।

শতবর্ষী এসব স্থাপনার অনেকগুলোই আজ সময়ের সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছে। নিয়মিত সংস্কার,নিরাপত্তা বেষ্টনী,সাইনবোর্ড কিংবা পর্যবেক্ষক না থাকায় অনেক স্থাপনাই ধীরে ধীরে বিলীন হওয়ার পথে।

বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহলের দাবি:তারা বলছেন,শুধু গেজেট প্রকাশ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো রক্ষায় প্রয়োজন নিয়মিত জরিপ ও তদারকি, দ্রুত সংস্কার পরিকল্পনা,পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা। তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে ঝিনাইদহ তার মূল্যবান অতীত ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হারাতে পারে। এসব হেরিটেজ স্থাপনা শুধু অতীতের নিদর্শন নয়-এগুলো স্থানীয় পরিচয়,ইতিহাস ও সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ অবহেলা আর তদারকির অভাবে সেগুলো আজ নিঃশব্দে ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে তালিকাভুক্ত এ ২১টি স্থাপনাই ভবিষ্যতে কেবল নথির পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে-বাস্তবে থাকবে না কোনো চিহ্ন। এখনই যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়,তবে ঝিনাইদহের ইতিহাস-ঐতিহ্যের অমূল্য নিদর্শনগুলো অচিরেই হারিয়ে যাবে কালের গহ্বরে-থেকে যাবে শুধু স্মৃতি আর আফসোস।

স্থানীয়দের ক্ষোভ ও হতাশা: মহেশপুর উপজেলার রাসেল আহমেদ বলেন,‘তালিকাভুক্তির পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি কার্যত থেমে যায়। কোনো কোনো স্থাপনা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে থাকায় সংরক্ষণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আবার কোথাও স্থানীয় প্রশাসন,প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ভূমি অফিসের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম শুরুই হয়নি।’

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, কেপিবসুর বসত ভিটা রক্ষাণাবেক্ষনের প্রশাসনের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য তেমন কোন ব্যবস্থা অদ্যবধি গ্রহণ করা হয়নি। এটি দর্শনীয় স্থান হওয়া সত্বেও রক্ষাণাবেক্ষনের অভাবে দিন দিন এটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ওলিয়ার রহমান বলেন, বারোবাজারের ঐতিহাসিক মসজিদগুলো প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোন তদারকি না করাই সেগুলো দিনদিন ধ্বংসের দারপ্রান্তে চলে যাচ্ছে। সময় থাকতে প্রশাসন দৃষ্টি না দিলে পর্যায়ক্রমে ইতিহাস ঐতিহ্য থেকে হারিয়ে যাবে।

শৈলকুপার ইলা মিত্র স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সদস্য সচিব সুজন বিপ্লব বলেন,‘ইতিহাসের সাক্ষী এসব স্থাপনা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার,নিয়মিত তদারকি ও জনসম্পৃক্ততা প্রয়োজন। শুধু গেজেটভুক্ত করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। না হলে অযত্নে এগুলো একদিন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।”

রক্ষণা-বেক্ষন নিয়ে প্রশাসনের বক্তব্য;ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনেআরা বলেন, সদর উপজেলার হরিশংকরপুরে অবস্থিত কেপিবসুর বসত ভিটা রক্ষাণাবেক্ষনের জন্য ইতি মধ্যে জেলা পরিষদের কাছে একটি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। আশা করি প্রকল্পটি পাস হলেই বাইন্ডারি প্রাচিরসহ বিল্ডিং মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। কযেকটি স্থান পরিদর্শন করেছি। পরবর্তীতে সেগুলো প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্কার করা হবে।

শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাফুজুর রহমান বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। আমি শুনেছি কৃষক আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্রের বসতবাড়ি আছে। সেটি সময় করে পরিদর্শন করবো। যদি সংস্কার করার প্রয়োজন হয় করবো।

মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, উপজেলার খালিশপুরে অবস্থিত নীলকুঠি ভবনটি এক সময় ঔপনিবেশিক শাসনামলের সাক্ষী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসাবে দাড়িয়ে আছে। এটি বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানটি দর্শনীয় স্থান হিসাবে গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন,‘হেরিটেজ স্থাপনাগুলো সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ধাপে ধাপে সংস্কার ও তদারকির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’




মেহেরপুরের ফররুখ আহমেদের ‘লং সার্ভিস ডেকোরেশন’ অর্জন

মেহেরপুর জেলা রোভার স্কাউটের ডিস্ট্রিক্ট রোভার স্কাউট লিডার (ডিআরএসএল) ও মেহেরপুর পৌর ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ফররুখ আহমেদ (উডব্যাজার) বাংলাদেশ স্কাউট কর্তৃক জাতীয় পর্যায়ে সম্মানসূচক ‘লং সার্ভিস ডেকোরেশন’ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন।

দীর্ঘদিন স্কাউট আন্দোলনে নিষ্ঠা, ত্যাগ ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এর আগেও ফররুখ আহমেদ বাংলাদেশ স্কাউট কর্তৃক সম্মানসূচক ‘মেডেল অব মেরিট’ লাভ করেন। পাশাপাশি তিনি খুলনা বিভাগের শ্রেষ্ঠ রোভার সম্পাদক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।

ফররুখ আহমেদ একজন অ্যাডাল্ট লিডার হিসেবে প্রায় ২৩ বছর ধরে স্কাউট আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। তিনি জেলা রোভার স্কাউটের সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি রোভার স্কাউটের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার এই সম্মাননা অর্জনে স্কাউট মেহেরপুর প্রতিদিন তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।




চুয়াডাঙ্গায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত, তাপমাত্রা নেমেছে ৬.৯ ডিগ্রিতে

পৌষের শেষভাগে কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে চুয়াডাঙ্গার জনজীবন। জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ঘন কুয়াশা পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তুলেছে। কুয়াশার ফোঁটা বৃষ্টির মতো ঝরছে, ফলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৭ জানুয়ারি) জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। এর আগের দিন মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

টানা তিন দিন সূর্যের দেখা না মিললেও বুধবার কিছুটা রোদের দেখা মিলেছে। তবে উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিম বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

খুব প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষজন।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, দিনে ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কম থাকায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। তিনি আরো জানান, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরো কমতে পারে।

এদিকে জেলার চারটি উপজেলায় শীতার্ত মানুষের মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নগদ অর্থের বরাদ্দও পাওয়া গেছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় এই সহায়তা খুবই অপ্রতুল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত শীতবস্ত্র চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ইতিমধ্যে পত্র পাঠানো হয়েছে।

সূত্র: কালের কন্ঠ ।




মুজিবনগরে অপহরণের ৮ ঘণ্টা পর কলেজছাত্র উদ্ধার, পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর এলাকা থেকে অপহরণের ৮ ঘণ্টা পর মাহিদ হোসেন নামের এক কলেজ ছাত্রকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ সময় অভিযানে বাধা দিতে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে অপহরণকারীরা। তবে তারা পালিয়ে যায়।

অপহৃত মাহিদ হোসেন মুজিবনগর উপজেলার মহাজনপুর ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামের চাকরিজীবী আমির উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ জানায়, অপহরণের পর মাহিদের পরিবারের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খানের নেতৃত্বে মুজিবনগর থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)সহ পুলিশের একাধিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালায়। রাত ২টার দিকে টেংরামারী গ্রামের একটি মাঠ থেকে চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় মাহিদকে উদ্ধার করা হয়।

এ সময় অপহরণকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে দুটি শক্তিশালী ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশকে দেখে তারা মাহিদকে ফেলে পালিয়ে যায়।

পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন, অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। অপহৃতের মামার মুঠোফোনে মুক্তিপণ নিয়ে কথোপকথনের সূত্র ধরে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। অপহৃতকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। অপহরণকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার রাতে মাহিদ হোসেন তার দুই বন্ধু রিয়াদ ও জুনায়েদকে নিয়ে মুজিবনগর বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কোমরপুর এলাকার একটি ইটভাটার কাছে পৌঁছালে অজ্ঞাত কয়েকজন তাদের তিনজনকেই অপহরণ করে। পরে রিয়াদ ও জুনায়েদকে ছেড়ে দেওয়া হলেও মাহিদকে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।




ঝিনাইদহে পালিত হবে পীর হযরত ন’হুজুর কেবলার ৪৫তম ওফাত দিবস

ফুরফুরা শরীফের পীর এ কামেল, মাদারজাদ ওলি, গাওসুল ওয়াক্ত হজরত মওলানা শাহ সুফী নাজমুস সায়াদাত সিদ্দিকী ন’হুজুর পীর কেবলা (রহঃ) এঁর ৪৫তম ওফাত দিবস আজ ৭ জানুয়ারি বুধবার ।

দিবসটি যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাব গাম্ভির্য্যের সাথে পালনের জন্য এপার বাংলা এবং ওপার বাংলায় বিস্তারিত কর্মসুচি গ্রহন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষ্যে ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় জমিয়তে জাকেরিণের পক্ষ থেকে হতদরিদ্র ও দুস্থ পরিবারের মাঝে গরম কাপড় বিতরণ করা হয়।

দিবসটি পালনে ঝিনাইদহ শহরের আব্বাস উদ্দীন (রহঃ) সড়কস্থ ব্যাপারীপাড়া সায়াদাতিয়া খানকাহ শরীফ, ঢাকার ট্রফিক্যাল হাইওয়ে হোমস ও খুলনা শহরে বাকীবিল্লাহ ভবনে বুধবার সন্ধ্যায় সওয়াব রেসানী, জিকির, মিলাদ ও দোয়ার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

ভারতের ফুরফুরা দরবার শরীফেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। ১৯৮২ সালের এই দিনে উপমহাদেশের প্রখ্যাত পীর মুজাদ্দেদে জামান হযরত পীর আবু বকর সিদ্দিকী (রহঃ) এঁর সাহেবজাদা ন’হুজুর পীর কেবলা নামে পরিচিত ফুরফুরা শরীফের পীর হজরত মওলানা শাহ সুফী নাজমুস সায়াদাত সিদ্দিকী (রহঃ) ভক্ত আশেকানদের কাঁদিয়ে ওফাত লাভ করেন।

দিবসটি পালনে প্রতিবছরই দুই বাংলার ভক্ত আশেকানরা ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহন করে থাকেন। হুজুরের ৪৫তম ওফাত দিবস পালনের প্রাক্কালে ন’হুজুর পীর কেবলার পৌত্র ও জমিয়তে জাকেরিণের মুখ্য নির্দেশক মওলানা মোহাঃ আল্লামা জাবিহ্হুল্লাহ (মাদ্দঃ) সিদ্দিকী এক বার্তায় ন’হুজুর কেবলার ওফাত দিবসের সওয়াব রেসানী, জিকির, মিলাদ এবং দোয়ার মাহফিল শরীক হয়ে তাঁর মুরীদ ও ভক্ত আশেকানদের অশেষ নেকী হাসিল করার আহবান জানান।




দামুড়হুদায় শত্রুতামূলক ফলন্ত ভুট্টার গাছ কর্তন 

দামুড়হুদা উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদের শত্রুতামূলক এক বিঘা ভুট্টার গাছ কর্তন করেছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কে বা কাহারা এক বিঘা জমির ভুট্টা গাছ কলা গাছ টেনে ভেঙে দিয়েছে।

জানা যায়, দামুড়হুদা উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদ লোক মারফত শুনতে পারে যে তার শত্রুতামূলক কে বা কাহারা এক বিঘা জমির ফলন্ত ভুট্টার গাছ কলা গাছ টেনে ভেঙ্গে দিয়েছে। পরে সে জমিতে গিয়ে দেখে এক বিঘাা জমির সব ভুট্টা গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।এই দৃশ্য দেখে দিনমুজুর আব্দুল ওয়াহেদ মাথা হাত দিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।

এসময় আব্দুল ওয়াহেদ কান্না জড়িত কন্ঠে বলতে থাকে আমি গরীব মানুষ বিভিন্ন জায়গায় ধার দেনা করে পরের জমি লিজ নিয়ে এই ভুট্টা চাষ করেছি।আর আমার এত বড় ক্ষতি করে দিল। আমি এ বিচায় আল্লার হাতে ছেড়ে দিলাম। আল্লাহ এ বিচার করবে।

দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার বলেন, আমি এমন ঘটনা শুনেছি। আসলে এই ধরনের ঘটনা খুব দুঃখজনক। একটি লিখিত অভিযোগ দিলে কৃষি প্রণোদনা দিয়ে সহায়তা করা হবে।

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার উবাইদুর রহমান সাহেল বলেন, আসলে এ ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক ঘটনা।




দামুড়হুদা চিৎলায় পিতাকে মারধর করায় ছেলে ও নাতিসহ আটক-৩

দামুড়হুদা উপজেলার চিৎলা গ্রামে পিতা-মাতা ও বোনকে রক্তাত্ব জখম করার অপরাধে ছেলে ও নাতিসহ তিনজনকে আটক করেছে দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ।

আটকৃতরা হলো ইয়ারুল ইসলাম (৩৬), আকতারুল ইসলাম (৩৩) ও চিৎলা গ্রামের আব্দু সাত্তারের ছেলে ও একই গ্রামের কবিরের ছেলে মামুন (২৩)।

গত ২ই জানুয়ারি রাত ৮ টার দিকে অতর্কিতভাবে পিতা মাতা ও বোনকে মারধর করে রক্তত্ব জকম করে। পরে পিতা আব্দুস সাত্তার বাদি হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করিলে গতকাল সোমবার রাত ১০ টার দিকে দুই ভাই ও নাতি ছেলেকে আটক করে পুলিশ।

জানা যায়, দামুড়হুদা উপজেলার চিৎলা গ্রামের আব্দুস সাত্তারের(৮০) স্ত্রী খাজিরনের সাথে বৈ মাদের সাথে ঝগড়া বিবাদ হয়। এমন কথা শুনে আব্দুস সাত্তারের দুই ছেলে ইয়ারুল ইসলাম আকতারুল ইসলাম ও নাতি ছেলে মামুন ঘুমন্ত অবস্থায় আব্দুস সাত্তার, স্ত্রী খাজিরন ও মেয়ে রোকসনাকে লাঠিসোঠা নিয়ে মারধর করে রক্তাত্ব জখম করে। পিতা আব্দুস সাত্তার বাদি হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ে করে (যার মামলা নংদামুরহুদা থানার মামলা নং ০২ তাং ০৩/০১/২০২৬ধারা১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৬/७०২/৩০৪)। পরে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন এর নেতৃত্বে এসআই সৈয়দ আসাদ তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দুই ছেলে ও এক নাতি ছেলেকে আটক করে। গতকালই তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, এমন ধরনের একটি নেককারজনক ঘটনা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বৃদ্ধ বাবাকে এভাবে রক্তাক্ত জখম করার অপরাধে দুই ছেলে ও নাতি ছেলেকে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।




আলমডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় জনজীবনে দুর্ভোগ-ঐশিকার উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ

চুয়াডাঙ্গা সহ আলমডাঙ্গায় সর্বকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জন জীবনে দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। কনকনে শীতে আর হিমেল বাতাসে মানুষ ঘর থেকে বাহির হয়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে কষ্টের অন্ত নেই। এই অবস্থায় শীতার্ত অসহায় মানুষের মাঝে পাশে দাঁড়াতে সকল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, বেসরকারি সংস্থা ও ধনীকশ্রেনী কে এগিয়ে আসার আহব্বান জানিয়েছেন সুশীল সমাজ।

আলামডাঙ্গায় ঐশিকা সংস্থার উদ্যোগে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরন করেছেন। আলামডাঙ্গা থানাপাড়া ঐশিকা সংস্থার উদ্যোগে ৩ শতাধিক শীতার্ত অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে থানা পাড়া ঐশিকা সংস্থার কার্যালয় হতে আনুষ্ঠানিকভাবে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করেন প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার। সমাজসেবা অফিসার সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বণিক সমিতির সভাপতি আরেফিন মিয়া মিলন, গার্মেন্টস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুস সামাদ, ঐশিকা সংস্থার নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল কবির, সংস্থার শাখা ব্যবস্থাপক আলাউদ্দিন, মোঃ মোবারক হোসেন, সার্জেন আলী।

সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন, ঐশিকা সংস্থার সহ-সভাপতি আবু সাঈদ মিয়া। ঐশিকার সংস্থার স্বত্বাধিকারী আমেরিকা প্রবাসী আব্দুল মান্নান রতন জমিদারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতি বছরের মত এবারো মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং শীতকালজুড়ে তাদের সহায়তা কার্যক্রম চলমান থাকবে।




আলমডাঙ্গায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১

আলমডাঙ্গা মুন্সিগঞ্জ এলাকার মাধবিতলা নামক স্থানে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রান গেল একজন মৎস্যজীবী দিনমজুরের। গতকাল সকাল ৭ টার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ঝিনাইদহ মহেশপুর বাগান মাঠ গ্রাম থেকে আলমসাধু যোগে মাছ নিয়ে আলমডাঙ্গায় আসছিলেন। মাছভর্তি আলমসাধু পিটি আই মোড় ছাড়িয়ে মাধবিতলায় আসলে, উল্টো দিক থেকে দ্রুত গতিতে ছুটে আসা বালুভর্তি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। আলমসাধু চালক ছিটকে পড়ে প্রানে বাঁচলেও হেলপার হিসেবে আসা আলি হোসেন ফরায়জী ঘটনাস্থলে মৃত্যু বরণ করেন।

সকালের কনকনে শীতে আর  ঘন কোঁয়াশায় এইসব বালি বোঝাই ট্রাকের দ্রুত গতিতে ছুটে আসাকেই এই দুর্ঘটনা জন্য দায়ী করেছেন এলাকাবাসী। সেই সাথে বিক্ষুব্ধ জনতা এই রকম বালি বোঝাই ট্রাক থামিয়ে বিক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ও মুন্সিগঞ্জ ক্যাম্প পুলিশ  ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মৃত আলি হোসেনের লাশ উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

আলমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরায়েল বলেন, আটককৃত বালিভর্তি ট্রাক থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা করা হবে।