পুনর্গঠনের দায়বদ্ধতা: ববি হাজ্জাজ, এমপি

একটি জাতির জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন বিজয় মোটেই বিজয়ের মতো অনুভূত হয় না। সেটি হয়ে উঠে হিসাব-নিকাশের এক তালিকা। তখন কেবল ভাঙনের শব্দ শোনা যায়।

দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠান, শূন্যপ্রায় রাজকোষ,—সব মিলিয়ে যেন এক সচল কিন্তু গন্তব্যহীন রাস্তা। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী আছে কিন্তু শিক্ষা নেই; দপ্তরে কর্তৃত্ব আছে কিন্তু কোনো মহৎ উদ্দেশ্য নেই। বাংলাদেশের নতুন সরকার ক্ষমতার মসনদে বসেনি, বরং এক চরম পরিণতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।

আমাদের মতো যারা এক দশকেরও বেশি সময় রাজপথে আন্দোলন, সমাবেশ, যুক্তি আর প্রতিরোধের লড়াইয়ে শামিল ছিলেন, তাদের কাছে সরকার গঠন কোনো রাজ্যাভিষেক নয়। এটি ইতিহাসের এর এক কঠিন পরীক্ষা। যে ভোটের অধিকারের জন্য আমরা লড়াই করেছি এখন তার মর্যাদা রক্ষা করার সময়। যারা দীর্ঘ বিরোধিতার সময়ে জনগণের পক্ষে কথা বলেছেন, এখন ক্ষমতার প্রখর রোদে দাঁড়িয়ে সেই জনগণের কাছেই আমাদের জবাবদিহি করতে হবে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান নির্বাচনের আগে জাতির সামনে যে ইশতেহার তুলে ধরেছিলেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি কেবল প্রতিশ্রুতির কোনো লম্বা তালিকা বা দক্ষিণ এশীয় রাজনীতির প্রচলিত চটকদার কোনো সাহিত্য ছিল না। এর মূলে ছিল ভোটের মর্যাদা ফিরিয়ে আনা, দায়বদ্ধ সরকার গঠন, সাংবিধানিক ও নির্বাচনী সংস্কার এবং এমন এক বাংলাদেশ গড়া যা অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও রাজনৈতিকভাবে স্বচ্ছ। ৫১টি অগ্রাধিকার ভিত্তিক পয়েন্টের মাধ্যমে তিনি একটি রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখিয়েছেন যা জনগণের কাছে সরাসরি দায়বদ্ধ । এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য। যে দেশে দীর্ঘদিন ধরে কাজের চেয়ে ফাঁকা বুলি বা স্লোগান বেশি ছিল এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছিল, সেখানে প্রতিশ্রুতি দেওয়াটা বড়ো কথা নয়; বরং আসল চমক হলো উন্নয়নকে জনগণের অধিকার ও জবাবদিহির সাথে যুক্ত করা।

কিন্তু ইশতেহার বিমূর্তভাবে শাসন করে না। ইশতেহার শূন্যে বাস্তবায়িত হয় না; একে লড়তে হয় উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ধ্বংসস্তূপের সাথে। বিশ্বব্যাংকের হিসেবে, ২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.০ শতাংশে নেমে এসেছে। বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদন গ্যাস সংকটে স্থবির।

আইএমএফ-এর মতে, আমাদের ব্যাংকিং খাত চরম ঝুঁকিতে; রাজস্ব আদায় জিডিপির মাত্র ৬ দশমিক ৯ শতাংশ আর খেলাপি ঋণের বোঝা পাহাড়সম। এগুলো কেবল কাগজের সংখ্যা নয়, এগুলো একটি ভেঙ্গে পড়া রাষ্ট্রের লক্ষণ। এ হলো আমাদের উত্তরাধিকারের অর্থনৈতিক গদ্য: মন্থর প্রবৃদ্ধি, দুর্বল বিনিয়োগ আর প্রভাবশালীদের কবজায় থাকা ব্যাংকিং ব্যবস্থা। এর সাথে যুক্ত হয়েছে জরাজীর্ণ শহর, ভেঙে পড়া সেবা খাত আর এক বিশাল তরুণ প্রজন্ম, যাদের স্বপ্নের পরিধি কর্মসংস্থানের সুযোগের চেয়ে অনেক বড়ো।

আমরা ভাগ্যের দোহাই দিতে পারি, কিন্তু একটি উন্নয়নশীল দেশে ভাগ্য মানে হলো বিদ্যুৎ ঠিকঠাক থাকা, ঋণের সঠিক মূল্য থাকা, স্কুলে পড়াশোনা হওয়া আর ঘুষ ছাড়া দাপ্তরিক কাজ হওয়া।

ইতিহাস তার দুষ্ট হাসিতে আরও একটা বোঝা যোগ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে শিপিং ব্যাহত হওয়া এবং কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকা আমাদের জ্বালানি ও সার সরবরাহকে হুমকির মুখে ফেলেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন খরচ, সারের কারখানা, শিল্পের উৎপাদন—সব জায়গায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যখন আমাদের উপকূল থেকে অনেক দূরে একটি সরু জলপথ আমাদের বাজারের মেজাজ নির্ধারণ করা শুরু করে, তখন ভূগোলই হয়ে ওঠে ভাগ্য।

আমাদের অঞ্চলটিও খুব একটা স্থিতিশীল নয়। দক্ষিণ এশিয়া এখনো কৌশলগত অবিশ্বাস আর সীমান্ত সমস্যার জালে বন্দি। এমন এক প্রতিবেশে কোনো সরকারের পক্ষে ভাববিলাস বা অহংকারের সুযোগ নেই। আবেগ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না। মুখের বুলি দিয়ে সার্বভৌমত্ব রক্ষা হয় না। আজকের পৃথিবীতে সার্বভৌমত্ব মানে সক্ষমতা। খাদ্যে সক্ষমতা, জ্বালানিতে সক্ষমতা, শিক্ষায় সক্ষমতা, প্রশাসনে সক্ষমতা, বিশ্বাসযোগ্যতায় সক্ষমতা।

এই কঠিন সময়ে প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বের এক ভিন্ন আঙ্গিক তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। বর্তমানের জাঁকজমকপূর্ণ রাজনীতির ভিড়ে তিনি মিতব্যয়িতা ও গাম্ভীর্যকে বেছে নিয়েছেন, যেমনটি করেছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব। ক্ষমতা তার কাছে ছিল আমানত। জবাবদিহি ছিল তার শাসনের কেন্দ্রে। আমাদের মতো একটি দরিদ্র দেশে নেতৃত্বের এই কৃচ্ছ্রসাধন কেবল লোকদেখানো নয়, এটি পুরো রাজনৈতিক শ্রেণির জন্য একটি শিক্ষা যেখানে ভোগবিলাসের রাজনীতির সমাপ্তি অনিবার্য। মন্ত্রিসভা নিয়েও আমাদের সংযত থাকা দরকার। এটি কোনো জাদুকরদের দল নয়, আবার অযোগ্যদের সমাবেশও নয়। এখানে অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের আন্দোলনের কণ্ঠস্বরও যুক্ত হয়েছে। একটি পুনরুদ্ধার হতে থাকা গণতন্ত্রে মন্ত্রিসভাকে চাকচিক্যময় হওয়ার প্রয়োজন নেই; একে হতে হবে দক্ষ, সংহত এবং ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার মতো বিনয়ী।

আমার নিজের দায়িত্বের জায়গা থেকে আমি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই শিক্ষাকে। রাজনীতি যদি শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার রাস্তা হয়, তাহলে তার কোনো নৈতিক মূল্য নেই। রাজনীতির মূল্য তখনই, যখন তা মানুষের জীবনের সম্ভাবনা বদলায়। শিশুর ভবিষ্যৎ বদলায়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষার ক্ষেত্রে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে আমরা এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যা একজন শিক্ষার্থীকে বুঝতে, লিখতে এবং যৌক্তিকভাবে চিন্তা করতে শেখাবে। প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি যদি মজবুত না হয়, তবে উচ্চশিক্ষা কেবল হতাশারই জন্ম দেবে। ২০২২ সালে বাংলাদেশের সাত বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ছিল ৭৪ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে তা ছিল ৭৭.৯ শতাংশ। আমাদের সাক্ষরতার হার কাগজে-কলমে বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু কেবল নাম দস্তখত করতে পারা বা ফরম পূরণ করতে পারার নাম শিক্ষা নয়। আমাদের লক্ষ্য তাই শুধু সাক্ষরতার সংখ্যা বাড়ানো না। আমাদের লক্ষ্য প্রকৃত সাক্ষরতা, যা শিশুকে মাধ্যমিক স্তরে সফল করবে, কারিগরি শিক্ষাকে শক্ত করবে এবং উচ্চশিক্ষাকে অর্থবহ করবে।

সামনের কাজ তাই বিশাল। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে হবে, কিন্তু মানুষের উপর নিষ্ঠুর বোঝা চাপিয়ে নয়। রাষ্ট্রকে সংস্কার করতে হবে, কিন্তু বিশৃঙ্খলা তৈরি করে নয়। দৃঢ় হাতে শাসন করতে হবে, কিন্তু গণতন্ত্রের দাবি জলাঞ্জলি দিয়ে নয়। ইশতেহারের চেতনা ধরে রাখতে হবে কিন্তু নামমাত্র স্লোগানে গা ভাসানো যাবে না।

তবু আশার জায়গা আছে। সে আশা মিছিলের ঢাকঢোলের আশা না। সে আশা পতাকা ওড়ানোর আবেগের আশা না। সে আশা আরও গভীর। রাজপথের লড়াই থেকে উঠে আসা একটি সরকারকে এটা প্রমাণ করতে হবে তাদের এতদিনের লড়াই আর ত্যাগ কেবল স্লোগান বা নাটক ছিল না, ছিল একটি মানবিক ও জবাবদিহিমূলক দেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা।

এখন তাই কথার চেয়ে কাজের মূল্য বেশি। নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত প্রজাতন্ত্রের কাছে আজ উল্লাস অর্থহীন। এই প্রজাতন্ত্র চায় সংযম। চায় সততা। চায় দায়িত্বশীলতা এবং সবচেয়ে বেশি চায় কাজ।




সড়ক দুর্ঘটনায় দৈনিক সংগ্রামের মেহেরপুর জেলা সংবাদদাতা আহত

দৈনিক সংগ্রামের মেহেরপুর জেলা সংবাদদাতা আকতারুজ্জামান সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন।

জানা গেছে, আজ বুধবার আমঝুপি শেখপাড়া মোড়ে একটি মোটরসাইকেল ও পাখি ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।

পরে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি বর্তমানে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।




কুষ্টিয়ায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

কুষ্টিয়ায় কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার সকালে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন্সে পবিত্র ঈদুল ফিতর-২০২৬ উপলক্ষে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গের মাঝে ঈদ শুভেচ্ছা ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের পক্ষ থেকে এই ঈদ শুভেচ্ছা ও উপহার প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে শহীদ পুলিশ সদস্যদের পরিবারের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শিকদার মো. হাসান ইমাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ।

এ সময় কর্মকর্তারা বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে যেসব পুলিশ সদস্য কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের অবদান জাতি সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। শহীদ পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় পাশে থাকবে বলেও তারা আশ্বাস দেন।

জেলার সাতজন শহীদ পুলিশ সদস্যের পরিবারের কাছে ঈদের শুভেচ্ছা বার্তাসহ খাদ্যসামগ্রী ও উপহার তুলে দেওয়া হয়।




আলমডাঙ্গায় ডাকাতি প্রস্তুতি মামলার দুই আসামি গ্রেফতার

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ডাকাতি প্রস্তুতি মামলার সঙ্গে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানার এসআই (নিঃ) শীতর বিশ্বাস সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ থানার বিভিন্ন এলাকায় গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় আলমডাঙ্গা থানাধীন রুয়াকুলি গ্রামের বদরগঞ্জ মাঠে মো. লোকমানের কাঁঠাল বাগানের সামনে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের ওপর সমবেত হয়ে ডাকাতি প্রস্তুতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন আসাননগর গ্রামের আকমল হোসেনের ছেলে মো. খোরশেদ (৩০) এবং আলমডাঙ্গা পৌরসভার কোর্টপাড়া এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে শরিফুল ইসলাম (২৬)।

বুধবার (১১ মার্চ) ভোর ৪টার দিকে আলমডাঙ্গা থানাধীন সাদাব্রীজ মোড় এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে আলমডাঙ্গা থানার মামলা নং-৩৪, তারিখ ২৮/০৮/২০২৫ খ্রি., ধারা ৩৯৯/৪০২ পেনাল কোডে তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।




কুষ্টিয়ায় সেমাই কারখানায় ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা

কুষ্টিয়ার বটতৈল এলাকায় সেমাই কারখানায় তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়।

বুধবার (১১ মার্চ) পরিচালিত এ অভিযানে কয়েকটি সেমাই উৎপাদনকারী কারখানা মনিটরিং করা হয়। এ সময় অস্বাস্থ্যকর ও অনিরাপদ পরিবেশে সেমাই উৎপাদন এবং মোড়কজাত পণ্যের প্যাকেটে সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয় মূল্য (এমআরপি) উল্লেখ না করার অভিযোগে দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়।

অভিযানে গড়াই অটো ফ্লাওয়ার মিল সেমাই কারখানাকে ২০ হাজার টাকা এবং ইফাত অটো ফ্লাওয়ার মিল সেমাই কারখানাকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করে তা আদায় করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাসুম আলী। এ সময় অভিযানে সহায়তা করেন জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক।

অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল এবং র‍্যাব কুষ্টিয়া ক্যাম্পের একটি টহল দল নিরাপত্তা প্রদান করে।

ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




গাংনীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি বোমা সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার

মেহেরপুরের গাংনীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি বোমা সদৃশ্য বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার সকাল ১১ দিকে উপজেলার হিজলবাড়িয়া-সাহারবাটি সড়কের কৃষক নিয়ামত আলী ও দানেজ আলীর পেয়াজ ও ভুট্টো ক্ষেতের রাস্তার পাশ থেকে বোমা সাদৃশ্য বস্তু দুটি উদ্ধার করা হয়। বোমা উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

‎‎সাহারবাটি গ্রামের স্থানীয় বিএনপি নেতা আবু বক্কার জানান, বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা বোমা রেখেছে বলে তিনি ধারণা করছেন।

‎‎এলাকার স্থানীয় মানুষ মনে করেন, বোমা সাদৃশ্য বস্তু দুটি সড়কে ডাকাতি কিংবা বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্য আতঙ্ক সৃষ্টি বা,কোন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে বলে ধারণ করেন।

গাংনী থানার এস আই অঙ্কুশ কুমার জানান, স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে লাল টিপ দিয়ে মোড়ানো বোমা সাদৃশ্য বস্তু দুটি উদ্ধার করে পানি ভর্তি বালতিতে রেখে প্রাথমিক অবস্থায় নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

‎‎এ ব্যাপারে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, বোমা সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।




গাংনীতে ঋণের কিস্তি তুলতে গিয়ে গ্রাহকের হামলায় দুই কর্মী জখম

মেহেরপুরের গাংনীতে ঋণের কিস্তির টাকা তুলতে গিয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আর্স বাংলাদেশের দুই কর্মী গ্রাহকের হামলার শিকার হয়েছেন।

আহতরা হলেন, আর্স বাংলাদেশের বামন্দী ব্রাঞ্চের ইমরান হোসেন ও মুন্সী সানী রেজা। আহতদের উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলার গাংনী উপজেলার মহাম্মদপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

আহত ইমরান হোসেন জানান, মহাম্মদপুর গ্রামের খনজর আলীর স্ত্রী হাশিয়ারা খাতুন ৬ মাস আগে ২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ৪ মাস বকেয় হওয়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইফতারের সময় সংস্থার চার কর্মী কিস্তির টাকা নিতে তাদের বাড়িতে যান। এক পর্যায়ে তারা আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু করে। পরে ধারালো অস্ত্র ও সাবল দিয়ে মারধর করা হয়।

পরে খবর পেয়ে অফিসের অন্যান্য কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে আহতদের সঙ্গে কথা বলেন। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।




দামুড়হুদায় দায়সারা ভাবে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপিত ?

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় নাম কাওয়াস্ত হ য ব র ল ভাবে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপিত হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার মার্চ বেলা ১১ টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে সারা দেশের ন্যায় “দুর্যোগ প্রস্তুতে লড়ব, তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ব”-এই প্রতিপাদ্যে উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কার্যালয়ের আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উবায়দুল রহমান সাহেলের সভাপতিত্বে “জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস” উদযাপিত করা হয়।

উপজেলা পরিষদের গুটিকয়েক কর্মকর্তা ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কার্যালয়ের প্রশিক্ষনার্থীদের নিয়েই সরকারের এ জনগুরুত্বপূর্ণ দিবসটি পালন করা হয়। দিবসটিকে ঘিরে তড়িঘড়ি করে নামমাত্র পালন করা হয়েছে র‍্যালি,আলোচনা সভা ও মহড়া। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে স্থানীয় কোন সাংবাদিকে জানানো হয়নি, ফলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নেতা সহ গণমাধ্যম কর্মীরা।

স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য,সরকারি নির্দেশনায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবসেরগুরুত্ব তুলে ধরতে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। যেহেতু এ ধরনের অনুষ্ঠানে জনসাধারণকে ভূমিকম্প অগ্নি নির্বাপন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা পালন করতে সহায়তা করে।ফলে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টদের সর্বশ্রেনীর মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি ছিলেন,যদিও এক্ষেত্রে তা করা হয়নি। ফলে সরকারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুরশেদ বীন ফয়সাল (তানজীর) বলেন, সরকারি যে কোনো জাতীয় অনুষ্ঠান জনকল্যাণের জন্যই হয়ে থাকেন।ফলে জনসচেতনতা বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাটাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কাজেই এ ধরনের অনুষ্ঠানে সরকার উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সকলের।

তিনি আরো বলেন, এ ধরনের অনুষ্ঠানে সাধারণত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও জনসাধারণের অংশগ্রহণ থাকবার কথা। যদিও তা ছিলেন না, উপস্থিত সংখ্যাও ছিলেন নগণ্য। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের কারো পক্ষ থেকেই স্থানীয় কোন সাংবাদিক কিংবা সাংবাদিক নেতাদের কাউকেই এ বিষয়ে জানানো হয়নি, যা দুঃখজনক।




মেহেরপুরে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত

“দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়ব, তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ব” এই প্রতিপাদ্যে মেহেরপুরে পালিত হয়েছে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস। এ উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।

শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির। জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সাকরিয়া হায়দার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তারিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলামসহ ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং বিভিন্ন

শ্রেণি-পেশার মানুষ শোভাযাত্রায় অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি শহর প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

মহড়ায় অগ্নিসংযোগ কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে, অগ্নিদগ্ধ এলাকা থেকে কীভাবে মানুষকে উদ্ধার করতে হয় এবং ভূমিকম্প হলে মানুষের করণীয় বিষয়গুলো প্রদর্শন করা হয়।




দামুড়হুদায় ‘ওরা বন্ধু সংঘ’র ঈদ সামগ্রী উপহার বিতরণ

দামুড়হুদা উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ওরা বন্ধু সংঘ’ এর উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে দামুড়হুদা উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ওরা বন্ধু সংঘ’ এর উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচিরকার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নে ৭৫ জন বিধবা, অসহায়, প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক দিনমজুর নারী-পুরুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী উপহার বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয়রা সংগঠনের এমন মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় উপজেলার সীমান্তবর্তী কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের পিরপুরকোল্লা গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এই ঈদ সামগ্রী উপহার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো. মুরশেদ বীন ফয়সাল (তানজির)। প্রদত্ত ঈদ সামগ্রীর মধ্যে ছিল সেমাই, চিনি, সুজি, দুধ, সাবান, শ্যাম্পু, আলু, ডালডা প্রভৃতি।

ঈদ সামগ্রী উপহার হাতে পেয়ে ভালোবাসায় অভিভূত একাধিক উপকারভোগী জানান, ঈদ উপলক্ষে যে উপহার ও ভালোবাসা আমরা পেলাম তা আমাদের জন্য অনেক। যাদের আয়োজনে আজকের এই উপহার হাতে পেলাম, আল্লাহতালা তাদের ভালো রাখুন।

‘ওরা বন্ধু সংঘ’-এর সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও দৈনিক সমকালের জেলা প্রতিনিধি মিরাজুল ইসলাম মিরাজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার আক্তারুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার সালাউদ্দিন আহমেদসহ উপকারভোগীরা।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো. মুরশেদ বীন ফয়সাল (তানজির) বলেন, সরাসরি উপস্থিত থেকে আপনাদের হাতে সামান্য এই উপহার তুলে দিতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। ২০০৩ সালে সংগঠনের যাত্রা শুরুর পর থেকে অদ্যাবধি সমাজের উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে ‘ওরা বন্ধু সংঘ’।

তিনি আরও বলেন, সমাজের কয়েকজন মানুষের সহযোগিতায় সংগঠনটি শীতবস্ত্র বিতরণ, ঈদ সামগ্রী বিতরণ, মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ প্রদান, রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ ও ঈদবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়েই আজকের এই আয়োজন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, উপস্থিত সবাই সংগঠনের এই ভালোবাসার উপহার সাদরে গ্রহণ করে ভবিষ্যতেও সংগঠনের কল্যাণে পাশে থাকবেন এবং সংগঠনের সকল সদস্যদের জন্য দোয়া করবেন।