মেহেরপুর কলেজ মোড়ে “হোয়াটএভার” শোরুমের উদ্বোধন

মেহেরপুর শহরের কলেজ মোড়ে নতুন পোশাকের শোরুম “হোয়াটএভার” এর উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শোরুমটির উদ্বোধন করা হয়। এ সময় শোরুমের স্বত্বাধিকারী ইয়াসিন আল মারুফ উদয় ও মারুফ হোসেন মুরাদ উপস্থিত ছিলেন।

শোরুম কর্তৃপক্ষ জানান, এখানে ছেলেদের জন্য বিভিন্ন ধরনের পোশাক পাওয়া যাবে। বিশেষ করে পোলো টি-শার্ট, জিন্স প্যান্ট, ট্রাউজারসহ আধুনিক ফ্যাশনের নানা পোশাক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখা হয়েছে।

উদ্বোধন শেষে অতিথিরা শোরুমের সার্বিক সফলতা কামনা করে দোয়া করেন।




চুয়াডাঙ্গায় উদ্ধারকৃত ২৮ মোবাইল মালিকদের ফিরিয়ে দিল পুলিশ

চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল কর্তৃক হারানো মোবাইল ফোন ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সংঘটিত প্রতারণার অর্থ উদ্ধার পূর্বক ভুক্তভোগীদের মাঝে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সোমবার দুপুর বারোটায় পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে হারানো মোবাইল ফোন এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সংঘটিত প্রতারণার অর্থ উদ্ধার পূর্বক ভুক্তভোগীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

স্মার্ট ফোন ও নগদ অর্থ ভুক্তভোগীদের মাঝে হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

এ সময় তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ব্যবহারের সাথে সাথে সাইবার অপরাধও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। তিনি জনগণকে মোবাইল ফোন ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন থাকার আহ্বান জানান এবং কোনো ধরনের প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় অথবা জেলা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন।

সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষতা ও আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন এবং বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সংঘটিত প্রতারণার ঘটনায় হাতিয়ে নেওয়া অর্থ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এ সময় বিভিন্ন মডেলের মোট ২৮ (আটাশ)টি স্মার্টফোন এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়ে খোয়া যাওয়া ১,১৯,০০০/- (এক লক্ষ উনিশ হাজার) টাকা উদ্ধার করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আস্থার বার্তা পৌঁছেছে। পুলিশ সুপার ভুক্তভোগীদের ধৈর্য ও সহযোগিতার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো অপরাধের বিষয়ে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানান।

উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মিনহাজ-উল-ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জামাল আল নাসের, জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মশিয়ার রহমান, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের ইনচার্জ মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা সহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলে কর্মরত অন্যান্য অফিসারবৃন্দ।




কুষ্টিয়া সীমান্তে পৃথক অভিযানে অবৈধ ঔষধ ও ভারতীয় পণ্য উদ্ধার

কুষ্টিয়া সীমান্তে পৃথক চারটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা মাদক, অবৈধ ঔষধ ও ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করেছে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার আনুমানিক ভোর সাড়ে ৫টার সময় কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ তেঁতুলবাড়ি মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ১০ বোতল মদ, ৪৮০ পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট এবং ৫২০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

এর আগে রোববার (৮ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার সময় রংমহল মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ৩ কেজি গাঁজা, ৫ বোতল মদ, ১ হাজার পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ১ হাজার পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট এবং ৮৮ পিস চকলেট বোমা উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, রোববার আনুমানিক রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের সময় কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ কাজিপুর বর্ডার পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ২৭ বোতল মদ এবং ৯৯০ পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া একই দিন রাত ১০টার সময় চিলমারী বিওপির আলিমডোবা মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ২০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ৫০০ পিস সিলডেনাফিল ট্যাবলেট এবং ২৪০ প্যাকেট পাতার বিড়ি উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত এসব মাদক, অবৈধ ঔষধ ও ভারতীয় পণ্যের মোট আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৪ লাখ ৪১ হাজার ৯০০ টাকা।

বিজিবি জানায়, মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও ভারতীয় পণ্য বিধি মোতাবেক ধ্বংসের নিমিত্তে ব্যাটালিয়ন সিজার স্টোরে জমা রাখা হয়েছে।

বিজিবি আরও জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মাদক ও বিস্ফোরক দ্রব্যসহ সব ধরনের চোরাচালান এবং অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ভবিষ্যতেও সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবির কঠোর ও কার্যকর অভিযান অব্যাহত থাকবে।




জমে উঠেছে কুষ্টিয়ার পোড়াদহের ঐতিহ্যবাহী কাপড়ের হাট

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ কাপড়ের হাটে এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে জমজমাট পরিবেশ বিরাজ করছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা এখানে এসে কাপড় কেনাবেচা করছেন। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে বসা এই হাটকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পোড়াদহ কাপড়ের হাট বহু বছরের পুরোনো একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার। প্রতি সপ্তাহে নির্ধারিত দিনে এখানে কয়েকশ ব্যবসায়ী তাদের দোকান বা অস্থায়ী স্টল নিয়ে বসেন। হাটে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার কাপড় কেনাবেচা হয় বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

এই হাটে শাড়ি, থ্রি-পিস, লুঙ্গি, গামছা, শার্ট-প্যান্টের কাপড়, বাচ্চাদের পোশাকসহ বিভিন্ন ধরনের তৈরি ও আধা-তৈরি পোশাক পাওয়া যায়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের খুচরা ব্যবসায়ীরা এখান থেকে পাইকারি দামে কাপড় কিনে নিজ নিজ এলাকায় বিক্রি করেন। ফলে পোড়াদহের এই হাট স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, কুষ্টিয়া ছাড়াও ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, রাজবাড়ীসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা নিয়মিত এই হাটে আসেন। এতে করে হাটের বেচাকেনা আরও জমে ওঠে।

এদিকে হাটের অন্যতম পরিচিত প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ বস্ত্র বিতান। দোকানে গিয়ে দেখা যায়, দোকানটিতে বিভিন্ন ধরনের শাড়ি, থ্রি-পিস ও পোশাকের কাপড় সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত কাপড় ও তুলনামূলক কম দামে বিক্রির কারণে দোকানটিতে ক্রেতাদের উপস্থিতিও বেশ চোখে পড়ার মতো।

বিসমিল্লাহ বস্ত্র বিতান-এর মালিক আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, বর্তমানে দোকানে বেশ বেচাকেনা হচ্ছে। ক্রেতাদের মধ্যে নিত্যনতুন পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে থ্রি-পিস, শাড়ি ও লুঙ্গির পাইকারি বিক্রি বেশি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সামনে উৎসব মৌসুমকে ঘিরে পোড়াদহ কাপড়ের হাটে ক্রেতাদের উপস্থিতি ও বেচাকেনা আরও বাড়বে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি এলাকার অর্থনীতিও আরও সচল হবে।

এদিকে আশিকুল ইসলাম তার পরিবারকে নিয়ে এখানে কেনাকাটা করতে এসেছেন। তিনি জানান, এখানে পছন্দমতো মানানসই পোশাক পাওয়া যায়। দামেও বেশ সাশ্রয়ী। তাই তারা নিশ্চিন্তে এখান থেকে কেনাকাটা করেন।

মেহেদী হাসান নামের আরেক ক্রেতা বলেন, পোড়াদহ কাপড়ের হাটে তুলনামূলক কম দামে ভালো মানের কাপড় পাওয়া যায়। তাই তারা নিয়মিত এই হাটে এসে প্রয়োজনীয় পোশাকের কাপড় কিনে থাকেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সামনে ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে পোড়াদহ কাপড়ের হাটে বেচাকেনা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা আশাবাদী, এ বছর হাটে কেনাবেচা আগের তুলনায় আরও বেশি হবে।




আমঝুপিতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপিত

মেহেরপুরের আমঝুপিতে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান মানব উন্নয়ন কেন্দ্রের (মউক) উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। পারিবারিক সহিংসতা রোধ এবং সমাজে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

গতকাল রবিবার সকালে ‘পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সমাজে সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ’ প্রকল্পের আওতায় মউক হলরুমে সকাল ১০টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নারী অধিকার রক্ষা, পারিবারিক নির্যাতন বন্ধ এবং সমাজে নারী-পুরুষের সমঅধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মউক নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের ফোকাল পার্সন মোছা. ফাহিমা আক্তার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, টেকসই সমাজ গঠনে নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করা অপরিহার্য। বিশেষ করে গ্রামীণ পর্যায়ে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিশেষ অতিথি সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মুরাদ হোসেন বলেন, মউক দীর্ঘদিন ধরে মেহেরপুর জেলায় প্রান্তিক নারীদের ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নারীদের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করার একটি অঙ্গীকার।

অনুষ্ঠানে সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রকল্পের কর্মীবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ প্রায় ৫০ জন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারী নারী প্রতিনিধিরা নিজেদের অধিকার রক্ষা এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে সোচ্চার হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।




মেহেরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১, শিশুসহ আহত ৩

মেহেরপুর সদর উপজেলার ফতেপুর ইটভাটা সংলগ্ন সড়কে দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আব্দুল মান্নাফ (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শিশুসহ আহত হয়েছেন তিনজন।

সোমবার (৯ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল মান্নাফ মেহেরপুর সদর উপজেলার কামদেবপুর গ্রামের আসাদ আলীর ছেলে। আহতরা হলেন—মান্নাফের কন্যা তসলিমা খাতুন (৩০), নাতনি খাদিজা খাতুন (৩) ও চাঁদনী খাতুন (৩ মাস)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল মান্নাফ তার কন্যা ও নাতনিদের নিয়ে মেয়ের শ্বশুরবাড়ি শোলমারীতে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন। এ সময় ফতেপুর ইটভাটার কাছে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই আব্দুল মান্নাফ নিহত হন এবং তিনজন গুরুতর আহত হন। অপর মোটরসাইকেল চালকের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তিনি ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সটকে পড়েন।

নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়রা মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল মান্নাফকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতরা বর্তমানে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




স্তুপের মধ্যে থেকে বেছে নিচ্ছেন নিজের পছন্দের পোশাক

পবিত্র মাহে রমজানের শেষ মুহূর্তে এসে জমজমাট হয়ে উঠেছে মেহেরপুরের ঈদ বাজার। রমজানের শুরুর দিকে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি কম থাকলেও এখন বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানপাটে দেখা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড়।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। দোকানের ভেতরের আনাচে-কানাচে ক্রেতাদের ভিড়। এমন অবস্থায় স্তূপ করা কাপড়ের মাঝ থেকে নিজেদের পছন্দের পোশাক বেছে নিচ্ছেন ক্রেতারা।

কিছু কিছু পোশাকের দাম রাখা হচ্ছে আকাশচুম্বি। ফলে সমস্যায় পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। তবুও দরদাম শেষে অনেকেই পরিবারের জন্য নতুন পোশাক, স্যান্ডেল-জুতা ও নানা ধরনের জুয়েলারি কিনে বাড়ি ফিরছেন।

শিশু-কিশোরদের মধ্যে গাঢ় রঙের পোশাক বেশ জনপ্রিয়। জরি, সুতা, পুঁথি, চুমকি ও কুন্দন দিয়ে নকশা করা সালোয়ার-কামিজের বিক্রিও ভালো।

বাজারে সারারা, গারারা, গ্রাউন্ড ফ্রক, কুর্তি, লেহেঙ্গা, ওয়ান পিস, টু-পিস ও থ্রি-পিসসহ নানা ধরনের পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা।

প্রতি বছরের মতো এবারও পোশাকের দাম বেড়েছে। তবে মানের দিক দিয়ে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন নামের পোশাক ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫/৬ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এবার শুধু নাম পরিবর্তন করে সেগুলোই আরও বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক ক্রেতা।

মুজিবনগর থেকে বাজার করতে আসা আব্দুর সাত্তার বলেন, “প্রতিবছরের মতো এবারও আমি মেহেরপুরেই বাজার করতে এসেছি। আমাদের বাজেট অনুযায়ী কেনাকাটা করতে পেরে ভালো লাগছে। ঈদের জন্য পরিবারের সব কেনাকাটা শেষ করেছি।”

মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা গ্রামের পল্লী চিকিৎসক শহিদুল ইসলাম বলেন, “পরিবার নিয়ে বাজারে এসেছি। কিন্তু পোশাকের দাম অনেক বেশি। দুইটার জায়গায় একটা কিনতে হচ্ছে। কারও জন্য কিনতে পারছি, আবার কারও জন্য পারছি না। আয়ের সঙ্গে ব্যয় মেলাতে কষ্ট হচ্ছে।”

শহরের কালাচাঁদপুর এলাকার অটোচালক কিতাব আলী বলেন, “বাজারে পছন্দসই অনেক পোশাক রয়েছে। তবে ডিজাইনের কারণে দাম অনেক বেশি। বড়দের জন্য দেশি পোশাক কিনব, আর সন্তানদের জন্য তাদের পছন্দমতো পোশাক কিনতেই হবে।”

মুজিবনগর উপজেলার তারানগর গ্রামের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী লাভলি ইয়াসমিন বলেন, “এখন শুধু পোশাক নয়, তার সঙ্গে মিলিয়ে স্যান্ডেল, জুতা, জুয়েলারি ও কসমেটিকও কিনতে হচ্ছে। বাজারে প্রতিযোগিতা বেশি, তাই দরদাম করে কিনতে হচ্ছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং করলে সাধারণ ক্রেতারা প্রতারিত হতো না।”

ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান উপলক্ষে বেচাকেনা ভালো হলেও আরও বাড়ার আশা করছেন তারা। তবে দিনের বেলায় ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও ইফতারের পর থেকে ক্রেতাদের আনাগোনা কমে যাচ্ছে। নিরাপত্তার আশঙ্কায় অনেকেই গ্রাম থেকে রাতে শহরে বাজার করতে আসছেন না।

স্মার্ট ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী আরাফাত রহমান বলেন, “এ বছর বেচাকেনা খুবই ভালো। তবে দিনের তুলনায় রাতে একটু কম। রাস্তাঘাটের অবস্থার কারণে কিছুটা ভয় থাকে, কিন্তু দিনের বেলায় আল্লাহর রহমতে ব্যবসা ভালো।”

নতুন শাহ বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী দীপঙ্কর সাহা দেবু বলেন, “রমজানের কারণে বিক্রি ভালো। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছি।”

শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী কাপড়ের দোকান আগারগাঁও বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী মোহন কুমার চৌধুরী জানান, “এবার ইন্ডিয়ান ও পাকিস্তানি পোশাকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বিক্রিও বেশি হচ্ছে।”

এপেক্স শোরুমের ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন ও বাটা শোরুমের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের পণ্য নির্ধারিত দামে বিক্রি হয়। এখানে প্রতারিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

পোশাক ব্যবসায়ী অমি ফ্যাশনের মালিক ছানোয়ার হোসেন বলেন, “বেশি দামে পোশাক কিনে বাজারজাত করতে হচ্ছে বলেই এবার দাম কিছুটা বেশি। তবে বাজারে পছন্দের পোশাকের কোনো অভাব নেই।”

বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও জামান বস্ত্রালয়ের মালিক মনিরুজ্জামান দিপু বলেন, “এবারের রমজান ব্যবসার জন্য ভালো যাচ্ছে। মেয়েরা গরমের কারণে হালকা রঙের পোশাক বেশি কিনছে, আর শিশু-কিশোররা গাঢ় রঙের পোশাক পছন্দ করছে। তবে আগে গ্রামের মানুষ রাতেও বাজার করতে আসত, এখন রাতে গ্রাহক কমে গেছে। আইনশৃঙ্খলার কিছুটা শঙ্কাও রয়েছে।”

মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় জানান, “রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে নিরাপদ কেনাকাটার পরিবেশ নিশ্চিত করতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।”




দর্শনায় বিভিন্ন মামলায় নারীসহ গ্রেফতার ৫

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানাধীন বিভিন্ন এলাকা থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে নারীসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে।রোববার দুপুরে তাদের চুয়াডাঙ্গা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন দর্শনা থানাধীন ফুলবাড়ি গ্রামের আসাদুল ইসলাম (৩৮), জিহাদ হোসেন (২৭), সাইফুল ইসলাম (৪৬), কৃষ্টপুর বোয়ালমারী পাড়া এলাকার হাফিজুল ইসলাম (৩৪) ও বানু বেগম (২৬)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাতে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ দর্শনা থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসাদুল ইসলাম, জিহাদ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, হাফিজুল ইসলাম ও বানু বেগমকে গ্রেফতার করে।

দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।




কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ইফতার মাহফিল

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কুষ্টিয়া জেলা শাখার উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার কুষ্টিয়া শহরের তাজ ইন হোটেল অ্যান্ড পার্টি সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইসলামী ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল লতিফ খানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আরিফুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য ও জেলা জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমীর ফরহাদ হুসাইন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাকিম, সহ-সেক্রেটারি ফরিদ উদ্দিন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্য অতিথিরা।

বক্তারা বলেন, পবিত্র মাহে রমজান মানুষকে তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। রমজানের এই শিক্ষা ধারণ করে সমাজে ন্যায়নীতি ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, “আমরা ইনসাফভিত্তিক একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। ইসলামের ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কাজ করে যাচ্ছে।”

আলোচনা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে উপস্থিত অতিথিদের সম্মানে ইফতার পরিবেশন করা হয়।




আলমডাঙ্গায় আতশবাজি বিস্ফোরণে তিন শিশু জখম

আলমডাঙ্গার ভাংবাড়ীয়া গ্রামে ঈদের আনন্দে দিয়াশলাইয়ের বারুদ দিয়ে পটকা বানিয়ে ফোটাতে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের হাতের কব্জি থেকে পাঁচটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

গতকাল রবিবার বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া গ্রামের মিলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকজন শিশু মিলে নবনির্মিত একটি মসজিদের ছাদে পটকা তৈরি করে তা ফোটানোর চেষ্টা করছিল। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং ঘটনাস্থলেই তিন শিশু গুরুতর আহত হয়।

আহতরা হলেন জাকির হোসেনের ছেলে রনক (১৩), উজ্জ্বল হোসেনের ছেলে হুসাইন আলি (১০) এবং আহমেদ আলির ছেলে আলমিয়া হোসেন (১০)।

বিস্ফোরণে রনক নামের শিশুটির হাতের কব্জি থেকে পাঁচটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান। পরে স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রনকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।

খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাণী ইসরাইল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখেন।

ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাধুলা ও আতশবাজি তৈরির বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।