মেহেরপুরে উপজেলা পর্যায়ে ভোটের সরঞ্জাম বিতরণ সম্পন্ন

আর মাত্র একদিন পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। শেষ হয়েছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। উপজেলা পর্যায়ে ভোটের সরঞ্জাম বিতরণের কাজ সম্পন্ন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারী) সকালে উপজেলা থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে ভোটের সরঞ্জাম।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারী) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারী থেকে উপজেলা পর্যায়ে ভোটের সরঞ্জাম প্রদান করা হয়।

উপজেলা পর্যায়ের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাগণ বুঝে নেন এসব সরঞ্জাম। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ এসব সরঞ্জাম তুলে দেন মেহেরপুর-২ আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন, মেহেরপুর-১ আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাইরুল ইসলাম এবং মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল হুদার হাতে।




স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস ও দোকান ভাংচুরের ঘটনায় ৫ জনকে সাজা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ-সদর আংশিক) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের অফিস-দোকান , বাইক ভাংচুরের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে ৫ জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে। চলমান অনাকাঙ্খিত ঘটনায় সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভোটাররা।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন ঝিনাইদহ নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাহিদ আলম অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাজার রায় ঘোষণা করেন।

দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মুন্না হোসেন, কাজল হোসেন, বিপ্লব, ফয়সাল হোসেন ও শাওন হোসেন।

নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) কালীগঞ্জ উপজেলার বাবরা গ্রামে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাপ-পিরিচ প্রতীকের একজন সমর্থকের দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার একদিন পর গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টার দিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নির্বাচনি অফিস দুটি ভাঙচুর করা হয়। পৃথক দুটি ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ থেকে ঝিনাইদহ নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিতে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

অভিযোগ পাওয়ার পরে সরজমিনে তদন্ত ও শুনানি শেষে দোকান ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত বিল্পব ও ফয়সাল হোসেন নামে দুজনকে ৬ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে ৭ দিনের কারাদন্ড প্রদান করেন।

এছাড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড হেলাই গ্রামে নির্বাচনি অফিস ভাঙচুরের সাথে জড়িত থাকায় শাওন হোসেন ও মুন্না হোসেন নামে দুজনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৭ দিনের কারাদন্ড দেন ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া কালীগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়াার্ডের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনি অফিস

ভাঙচুরের ঘটনায় শাওন হোসেন, মুন্না ও কাজল হোসেন উভয়কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ১৪ দিনের কারাদন্ড প্রদান করা হয়।




ঝিনাইদহে র‌্যাবের বিশেষ নির্বাচনী মহড়া

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঝিনাইদহে নিরাপত্তা জোরদারে র‌্যাব-৬ মহড়া চালিয়েছে ।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঝিনাইদহ র‌্যাব-৬, সিপিসি-২ ক্যাম্পের সামনে থেকে বিশেষ এই টহল শুরু হয়। সেখান থেকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল হয়ে, পোস্ট অফিস মোড়, পায়রা চত্বর ঘুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে চাকলাপাড়া প্রদক্ষিণসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। মহড়ায় র‌্যাবের সদস্যরা টহল, তল্লাশি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার বিভিন্ন কৌশল প্রদর্শন করেন।

নির্বাচনকালীন সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এ মহড়া বলে জানায় র‌্যাব।

র‌্যাব-৬, সিপিসি-২ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদি ইমরান সিদ্দিকী জানান, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে তাদের নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে ও পরে যেকোনো নাশকতা বা সহিংসতার বিরুদ্ধে তারা কঠোর অবস্থানে থাকবে।




আজ মধ্যরাত থেকে মেহেরপুরসহ সারাদেশে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সারাদেশে সব ধরনের যান চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এর আওতায় আজ মধ্যরাত (রাত ১২টা) থেকে মেহেরপুরসহ সারাদেশে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর ৭২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে।

এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।

এছাড়া ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

তবে নির্বাচন পর্যবেক্ষক, সাংবাদিক এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে অনুমোদিত সব ধরনের যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।




আলমডাঙ্গায় সরকারি কলেজে বিদায় সংবর্ধনা

আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের দুইজনের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষক মিলনায়তনে বিদায় সম্ভাষণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে সহকারী লাইব্রেরিয়ান মোছাঃ মালেকা পারভিন এবং অফিস সহায়ক মোঃ মজিবর রহমানের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. মাহবুব আলমের সঞ্চালনায় এবং অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল মনয়েম হোসেন, শিক্ষক পরিষদের সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক মহিতুর রহমান, সাবেক প্রদর্শক প্রভাষক মোঃ শরিয়তউল্লাহ, সাবেক কোষাধ্যক্ষ নওসাদউজ্জামান প্রমুখ।

বিদায়ী বক্তব্যে অনুভূতি ব্যক্ত করেন, সহকারী লাইব্রেরিয়ান মোছাঃ মালেকা পারভিন ও অফিস সহায়ক মোঃ মজিবর রহমান।

আলমডাঙ্গার সিনিয়র সাংবাদিক হামিদুল ইসলাম আজমের সহধর্মিণী মালেকা পারভিন বলেন, সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এই কলেজ থেকে আজ অবসরে গেলাম। আর হয়তো দেখা হবেনা প্রিয় শিক্ষক কর্মচারীবৃন্দ, প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা। বাকি জীবন টা যেন সৎ ও সততার সঙ্গে অতিবাহিত করতে পারি সেই দোয়াই করবেন।




দামুড়হুদায় বিএনপির নির্বাচনী জনসভা ও গণমিছিল

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী, জেলা বিএনপি’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর নেতৃত্বে দামুড়হুদায় অনুষ্ঠিত হলো বিশাল নির্বাচনী জনসভা ও গণমিছিল।

হাজার হাজার নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গতকাল সোমবার বিকাল সাড়ে ৪ টার সময় দামুড়হুদা স্টেডিয়াম মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

দুপুরের পর থেকেই দামুড়হুদা উপজেলা শহরে মিছিলের নগরিতে পরিণত হয়। দলীয় স্লোগান, ব্যানার-ফেস্টুন আর উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ। চারদিক থেকে আসা মানুষের ঢলে পুরো দামুড়হুদা উপজেলা উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ নেয়। স্থানীয়দের মতে, অতীতে কখনোই দামুড়হুদায় এত বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম দেখা যায়নি।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, এই জনসমুদ্র প্রমাণ করে দামুড়হুদার মানুষ পরিবর্তন চায়, গণতন্ত্র চায়, ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চায়। দেশের মানুষ আজ দমন-পীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। ইনশাআল্লাহ, জনগণের শক্তিতেই বিজয় অর্জিত হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সবার আগে নারীর ক্ষমতা ও অধিকার নিশ্চিতে কাজ করা হবে। জামায়াতে ইসলাম নারীর যে অধিকারের কথা বলছে তা একদম ভুয়া, কারণ জামায়াত এই নির্বাচনে ৩০০ আসনের একটিতেও নারী নেতৃত্ব দেয়নি এবং কেন্দ্রীয় ভাবে নারী নেতৃত্বে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই। এই নির্বাচনে যার ভোট সে নিজে প্রয়োগ করবে, তাই তিনি বলেন এই জনসমাবেশ থেকে সবাই বাড়ি গিয়ে নিজের মা-বোন নিজের পরিবারের ভোটগুলো আগে নিশ্চিত করতে হবে। কেউ যেন ভুল বুঝিয়ে জান্নাতের টিকিট দেখিয়ে বিভ্রান্ত করতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

জনসভা ও গণমিছিলে উপস্থিত ছিলেন, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাজী মোজাম্মেল হক এর ছেলে মিথুন সহ যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত এ জনসভা ও গণমিছিল ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও নির্বাচনী প্রস্তুতির দৃঢ় প্রত্যয়।




জীবননগরে জামায়াত প্রার্থী রুহুল আমিনের গণমিছিল ও জনসভা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা–২ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামী–সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা আমীর মো. রুহুল আমিনের শেষ নির্বাচনী গণমিছিল ও জনসভা গতকাল সোমবার বিকেলে জীবননগরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিকেল ৪টার দিকে শহরের হাইস্কুল মাঠ থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়ে মুহূর্তেই জনসমুদ্রে রূপ নেয়। দুপুর থেকে উপজেলার আট ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা থেকে জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার–ফেস্টুন, দলীয় প্রতীকের পতাকা ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে মাঠে জড়ো হন। গণমিছিল শুরুর আগে সেখানে আসরের নামাজ আদায় করা হয়। ইমামতি করেন উপজেলা আমীর মাওলানা সাজেদুর রহমান।

হাইস্কুল মাঠ থেকে বের হয়ে গণমিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণের পর জীবননগর স্টেডিয়াম মাঠে সমাবেশে পরিণত হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রার্থী রুহুল আমিন বলেন, “রাজনীতির উদ্দেশ্য ক্ষমতা নয়—জনগণের সেবা। মানুষের অধিকার রক্ষা, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই আমার অঙ্গীকার। নির্বাচিত হলে শিক্ষা, কৃষি, উন্নয়ন ও যুবসমাজের কর্মসংস্থানে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”

তিনি দলমত–নির্বিশেষে শান্তি–শৃঙ্খলাভিত্তিক সমাজ গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা আমীর মাওলানা সাজেদুর রহমান।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন— বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম শাহজাহান কবির, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদউদ্দীন, এনসিপির জেলা সভাপতি খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লব, জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি সাগর আহমেদ, খেলাফত মজলিশের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা জোবায়ের আহম্মদ খান, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মহিউদ্দিন, মাওলানা ইসরাইল হোসেন, মাওলানা হাফিজুর রহমান, নায়েবে আমীর বিল্লাল হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা সেক্রেটারি মাফুজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি মাজেদুর রহমান লিটন, শ্রমিক কল্যাণের সভাপতি কামাল হোসেন প্রমুখ।

নির্বাচনকে ঘিরে জীবননগর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।




আলমডাঙ্গায় জামায়াতের নির্বাচনী জনসভায় গণজোয়ার

আলমডাঙ্গায় জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের বিশাল জনসভায় ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জোরালো অঙ্গিকার নিয়ে, দুর্নীতি ও বৈষম্যহীন চুয়াডাঙ্গা গড়ার প্রতিশ্রুতিতে বক্তব্য দিলেন, অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল।

আলমডাঙ্গায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা–১ (আলমডাঙ্গা–চুয়াডাঙ্গা) আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকাল ৩টায় আলমডাঙ্গা শহরের এটিম মাঠে আয়োজিত এ জনসভায় হাজারো নেতাকর্মী, সমর্থক, নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে মাঠ পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার সূচনা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের আমীর শফিউল আলম বকুল। জনসভায় ১১ দলীয় জোট ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য এবং চুয়াডাঙ্গা–১ আসনে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোট মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি ভোটারদের কাছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে চুয়াডাঙ্গায় কোনো দুর্নীতি ও বৈষম্য থাকতে দেওয়া হবে না। উন্নয়ন বঞ্চনা দূর করে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ চুয়াডাঙ্গা গড়ে তোলা হবে। কৃষিনির্ভর এ জেলায় কৃষকদের স্বার্থরক্ষা, উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। কৃষকের অতি পরিশ্রমে ফলানো ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে।প্রয়োজনে কৃষি পন্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার প্রতিষ্ঠা করা হবে। যুবসমাজ কে মাদকমুক্ত করে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে শ্রমশক্তি তে রুপান্তর করা হবে। চাঁদাবাজি, ট্রেন্ডারবাজী, সিন্ডিকেট মুক্ত সমাজ গড়ে তোলা হবে। আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে।

তার বক্তব্যের শেষাংশে আবেগঘন ও দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার তুলে ধরলে উপস্থিত জনতা মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে মনোযোগ সহকারে তা শোনেন।

অনুষ্ঠানে এ সময় উপস্থিত ছিলেন— আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মোল্লা মো. ফারুক এহসান, চুয়াডাঙ্গা–১ আসনের নির্বাচনী পরিচালক ও জেলা যুব বিভাগের পরিচালক নূর মোহাম্মদ হুসাইন টিপু, জামায়াতে ইসলামী সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আলতাফ হোসাইন, জেলা শ্রমিক কল্যাণ বিভাগের সভাপতি কাইমুদ্দিন হিরোক, সাবেক জেলা আমীর আনোয়ারুল হক মালিক, আইন বিষয়ক সম্পাদক দারুস সালাম, খেলাফত মজলিসের খুলনা বিভাগীয় সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, জামায়াতের জেলা ইউনিট সদস্য অ্যাডভোকেট মুসলিম উদ্দিন, আলমডাঙ্গা পৌর শাখার আমীর মাহের আলী, সেক্রেটারি মসলেম উদ্দিন,গাংনী-আসমানখালী আমীর আব্বাস উদ্দিন, শহীদ মোস্তাফিজুর রহমানের বড় ভাই হাফিজুর রহমানসহ আরও অনেকে।

জনসভা শেষে একটি নির্বাচনী মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি আলমডাঙ্গা শহরের এটিম মাঠ থেকে শুরু হয়ে স্টেশন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আলিফ উদ্দিন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।




দর্শনায় বিএনপির নির্বাচনী জনসভা ও গণমিছিল

দর্শনায় বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবুর ধানের শীষ প্রতিকের পক্ষে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টায় দলীয় স্লোগান, ব্যানার-ফেস্টুন আর উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো দর্শনা

দর্শনা আল হেরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে ধানের শীষের পক্ষে একটি বিশাল মিছিল বের হয়ে দর্শনা পুরাতন বাজার ৩ রাস্তার মোড়ে এসে শেষ হয়। দর্শনা থানা এলাকার ৬টি ইউনিয়ন ও দর্শনা পৌরসভার হাজার হাজার মানুষ ধানের শীষের মিছিলে অংশ নেয়। এসময় দর্শনা শহরের হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতির ফলে ব্যপক যানজোট সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় দর্শনা মুজিবনগর সড়কে শত শত যানবহন অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

দর্শনা শহরের পুরাতন তিন রাস্তার মোড়ে এসে মিছিলটি শেষ করে মিছিলে অংশ গ্রহনকারীদের উদ্যোশে বক্তব্য রাখেন, নিবার্চন পরিচালনা কমিটির প্রধান হাজী খন্দকার শওকত আলী, দর্শনা পৌর বিএনপি’র সিনিয়ার সহ-সভাপতি ও সমন্বয়ক কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান বুলেট, দর্শনা সরকারী কলেজের সাবেক জিএস এনামুল হক শাহ (মুকুল), দর্শনা পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সিনিয়ার সহ-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন ও দর্শনা পৌর সমন্বয়ক প্রভাষক আল হাজ মশিউর রহমান।ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক।

শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত এ জনসভা ও গণমিছিল ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও নির্বাচনী প্রস্তুতির দৃঢ় প্রত্যয়।

বক্তারা উপস্থিত মিছিলে অংশগ্রহণকারী সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা সকাল সকাল সেন্টারে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দেবেন। আপনাদের এলাকার অন্যদেরকে গুছিয়ে নিয়ে ভোট সেন্টারে পাঠাবেন। যার যার এলাকায় ফিরে গিয়ে নিজ নিজ এলাকার মানুষকে ধানের শীষে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করবেন। এরপর উপস্থিত ধানের শীষের পক্ষে অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ দিয়ে মিছিলের কর্মসূচি শেষ করেন।




গাংনীর গাড়াবাড়ীয়াতে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা

মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের বিএনপি’র মনােনিত প্রার্থী আমজাদ হােসেনের পক্ষে গাঁড়াবাড়ীয়া ২ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র উদ্যোগে নির্বাচনী প্রচারণা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় গাংনী উপজেলার কাথুলি ইউনিয়নের গাড়াবাড়িয়া বাজারে নির্বাচনী প্রচারণা করা হয়।

নির্বাচনী প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন, গাংনী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান। বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিজা, বিএনপি নেতা খায়রুজ্জামান বাবু, মোফাজ্জেদ হোসেন, বশির আহমেদ, শাহিন আলম, লোকমান হোসেন, মহিরুল ইসলাম, বিশারত আলি, হাফিজুল ইসলাম, দ্বীন ইসলাম, শরীফ হোসেন, আরজান আলি, ইলিয়াস হোসেন, জিয়ারত আলী, কুদ্দুস আলী, মোফাজ্জল হোসেন, বিল্লাল হোসেন, ফিরোজ হোসেন, আব্দুল মতিন, তাজিম আলী।

আরো উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।