লাঠিসোটা নিয়ে বিক্ষোভকারী জামায়াত নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা শহরে লাঠিসোটা নিয়ে বিক্ষোভকারী জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় গাংনী বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেন গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু।

সমাবেশে আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লাঠিসোটা নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার না করে, তবে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।” একই সঙ্গে দুপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিলে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে দেওয়া কুরুচিপূর্ণ স্লোগান প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার দুপুরে গাংনী উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভাকে কেন্দ্র করে।

সভায় উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-ঘনিষ্ঠ কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম হুসাইনের বিরুদ্ধে ‘ফ্যাসিবাদী আচরণ’-এর অভিযোগ তুলে তাকে সভা থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানান বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা। এ সময় সভাকক্ষে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হস্তক্ষেপ করেন। পরে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং উপস্থিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার জন্য সভায় উপস্থিত সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন আসাদুজ্জামান বাবলু।

এর কিছুক্ষণ পর বিকেল চারটার দিকে গাংনী শহরে লাঠিসোটা হাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি উপজেলা জামায়াত কার্যালয় থেকে বের হয়ে হাসপাতাল বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এ সময় তারা তাদের নেতার ওপর হামলার অভিযোগ তুলে বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান বাবলুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এর প্রতিবাদে সন্ধ্যায় পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল করেন আসাদুজ্জামান বাবলুর সমর্থক বিএনপি নেতাকর্মীরা। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গাংনী শহরে টানটান উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যে কোনো বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়ালেও প্রশাসন বলছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে বিএনপির দেওয়া ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।




গাংনীতে আইনশৃঙ্খলা সভায় যুবদলের হামলার চেষ্টা, হট্টগোল; জামায়াতের বিক্ষোভ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা চলাকালীন সময়ে কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম হুসাইনের ওপর হামলার চেষ্টা চালায় যুবদলের একটি দল। এ সময় তারা আলম হুসাইনকে মিটিং থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানায়।

এর আগে একটি মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে প্রবেশ করে তারা। সে সময় গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা চলছিল। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য নাজমুল হুদা, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার দাস, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, উপজেলা জামায়াতের আমির ডাক্তার রবিউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু।

খবর পেয়ে গাংনীতে অবস্থানরত সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ ফোরামের সভায় মিছিল নিয়ে জোরপূর্বক প্রবেশ করায় পুলিশসহ উপস্থিত সকলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাজমুল হোসেন, যুবদল নেতা সাহিবুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আব্দুল গনি ও ছাত্রদল নেতা ইমনের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল সভাকক্ষে প্রবেশ করে কাজিপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা আলম হুসাইনকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তাদের সঙ্গে সভায় উপস্থিত ব্যক্তিদের ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে আসাদুজ্জামান বাবলু সভাকক্ষ থেকে বের হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। স্থানীয় আর্মি ক্যাম্পের সদস্যরা পৌঁছালে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

একটি সূত্র জানায়, ভিজিএফের চালের মোট বরাদ্দের ২৫ শতাংশ দাবি করেন ইউপি চেয়ারম্যান আলম হুসাইন। এ বিষয়টি নিয়ে যুবদলের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। যার কারণে এমন ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে অনেকে দাবি করেন।

গাংনী পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা বলেন, “উপজেলার সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সভাকক্ষে জোরপূর্বক প্রবেশ করে একজন চেয়ারম্যানকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা যে দলেরই হোক, অপরাধ করেছে। আমি লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।”

উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। উপস্থিত সকলের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ারও অঙ্গীকার করছি।”

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু বলেন, “আমাদের উপস্থিতিতেই যারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তারা সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। এদের রুখতে না পারলে গাংনীর বিএনপি মানুষের কাছে ধিকৃত হবে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।”

উপজেলা জামায়াতের আমির মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “রাজনীতির নামে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে গাংনীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।”

গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস বলেন, “ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা হতবাক।”

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশ প্রত্যাশা করি না। আজকের সভায় যা ঘটেছে তার দায় রাজনৈতিক নেতৃত্বকে নিতে হবে। সুষ্ঠু সমাধান না হলে প্রশাসন প্রক্রিয়াগত ব্যবস্থা নেবে।”

সভার প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য নাজমুল হুদা বলেন, “এটি শুধু আলম হুসাইনের ওপর হামলার চেষ্টা নয়, আমাদের সবার ওপর হামলা। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।”

এদিকে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গাংনী উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়।




মেহেরপুরের দুই প্রতিষ্ঠানে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

মেহেরপুরের মুজিবনগর ও সদর উপজেলায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান পরিচালিত হয়ে দুই ব্যবসায়ীকে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মুজিবনগরে অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদনের অভিযোগে মেসার্স আফিফ বাংলা ফুডকে ১০ হাজার টাকা এবং সদর উপজেলার কাথুলী মোড়স্থ শোলমারী হোটেলকে খাদ্যে নিষিদ্ধ দ্রব্য (হাইড্রোজ) ব্যবহার করার কারণে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন মেহেরপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (অতি. দা.) মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। অভিযানে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো: রিয়াজ মাহমুদ এবং জেলা পুলিশের একটি টিম সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।

অভিযানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ঔষধ, সেমাই, কসমেটিকস ও হোটেলগুলোর কার্যক্রম তদারকি করা হয়। উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে, যাতে তারা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন মেনে পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ করে। নিয়মিত এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।




ইউএনও’র উদ্যোগে আমঝুপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাস্কেটবল গ্রাউন্ড নির্মাণ শুরু

মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সাড়ে ৭ লাখ টাকার ব্যয়ে বাস্কেটবল খেলার গ্রাউন্ড নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন মেহেরপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ খায়রুল ইসলাম। আজ বুধবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে তিনি ঢালাই কাজের সূচনা করেন এবং নির্মাণের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন গ্রাউন্ডটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও ক্রীড়া চর্চাকে আরও উৎসাহিত করবে।




সার বিক্রেতাদের সনদ স্থগিতের প্রতিবাদে মেহেরপুরে মানববন্ধন

দেশব্যাপী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত কার্ডধারী খুচরা সার বিক্রেতাদের সনদ স্থগিত করার প্রতিবাদে মেহেরপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

মেহেরপুর জেলা খুচরা সার বিক্রেতা অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, মেহেরপুর জেলা শাখার উদ্যোগে বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা খুচরা সার বিক্রেতা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ইলিয়াস হোসেন, আহসান হাবিব প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সারাদেশে প্রায় ৪৪ হাজার সরকার অনুমোদিত কার্ডধারী খুচরা সার বিক্রেতার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম হতাশার মধ্যে দিনযাপন করছেন। দ্রুত সনদ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে তাদের ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তারা।

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। কর্মসূচিতে মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার খুচরা সার বিক্রেতারা অংশগ্রহণ করেন।




দাম বাড়ার আগেই তেল নিতে মেহেরপুরের পাম্পগুলোতে উপচে পড়া ভিড়

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কায় মেহেরপুরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির আগে কম দামে তেল কিনে রাখতে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার নিয়ে অনেকেই পাম্পে ছুটে আসেন।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার খবরের পর দেশেও মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এমন আশঙ্কায় আগেভাগেই তেল সংগ্রহে তৎপর হয়ে ওঠেন গ্রাহকরা।

দাম বাড়ার ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সন্ধ্যার পর থেকে পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। অনেকেই রাত ১২টার আগেই আগের দামে তেল নিতে চান বলে জানান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কিছু পাম্প মালিক নতুন নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রির প্রস্তুতি নিলেও এখনো আগের দামেই তেল বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইনে গাড়ির চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্থানীয়দের ধারণা, নতুন দাম কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত পাম্পগুলোতে এ ভিড় অব্যাহত থাকতে পারে।




ঝিনাইদহে খুচরা সার বিক্রেতা বহাল রাখা ও নীতিমালা সংশোধনের দাবীতে মানববন্ধন

সরকার অনুমোদিত কার্ডধারী খুচরা সার বিক্রেতা বহাল রাখা ও সার সংক্রান্ত নীতিমালা সংশোধনের দাবীতে ঝিনাইদহে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বুধবার (৪ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে খুচরা বিক্রেতা এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ জেলা শাখা। এতে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে জেলা ও উপজেলা শাখার খুচরা সার বিক্রেতারা অংশ নেয়।

ঘন্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচীতে সংগঠনটির জেলা শাখার সভাপতি সায়েদুল আলম বাদশা, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ, সদর উপজেলা শাখার সভাপতি তরিকুল ইসলাম টিপু, মহেশপুরের সভাপতি সাইফুল ইসলাম উজ্জল, হরিণাকুন্ডুর সভাপতি শামিম আহমেদ চাঁদ, শৈলকুপার সভাপতি বাবুল আক্তার, কোটচাঁদপুরের সভাপতি হারুন অর রশিদ ও কালীগঞ্জের সভাপতি জিল্লুর রহমানসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

সেসময় বক্তারা বলেন, খুচরা সার বিক্রেতাদের সনদ স্থগিত করায় দেশের ৪৪ হাজার পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। তাই তাদের বহাল রেখে সার নীতিমালা ২০২৫ এর পুর্ণগঠন স্থগিত করার দাবী জানান তারা। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন তারা।




অনুমোদন বিহীন মিষ্টি উৎপাদন করায় ঝিনাইদহ সুইট হোটেলকে জরিমানা

ঝিনাইদহে অনুমোদন ছাড়াই মিষ্টি উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগে আলোচিত সেই সুইট হোটেলে অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ও জেলা প্রশাসন। অভিযানে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে এ অভিযান পরিচালনা করেন। আদালত সুত্রে জানা যায়, রমজানে বাজার তদারকি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং বিক্রয় নিশ্চিত করার জন্য বিএসটিআই ও জেলা প্রশাসন অভিযান চালায়। শহরের বিভিন্ন ফলের দোকান, তেল পাম্পসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় তারা।

অভিযানে সুইট হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও লাইসেন্স ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি মিষ্টি উৎপাদন ও বিক্রি করার অপরাধে বিএসটিআই আইন-২০১৮ এর ৩০/৩০ ধারা অনুযায়ী ১০ হাজার টাকার জরিমানা করে আদালত। অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদি হাসান।

সেসময় বিএসটিআই কুষ্টিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের ফিল্ড অফিসার খাইরুল ইসলাম ও পরিদর্শক মামুনুর রহমানসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




আ.লীগের কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনকারী ছাত্রলীগ নেতাকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা

ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগ পরিত্যক্ত কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনকারী ছাত্রলীগ নেতাকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করেছেন বাবা।

আজ বুধবার (৪ মার্চ) বিষয়টি জানাজানি হয়েছে। এর আগে গত সোমবার বাবা আবু জাফর তার সন্তানকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করেন।

জেলা নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এক হলফনামার মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন ছাত্রলীগ নেতার বাবা মো: আবু জাফর। ঝিনাইদহ জেলা জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট মো: সাদাতুর রহমান হাদি’র মাধ্যমে আইনগত দিকটি সম্পন্ন করেন তিনি।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করেন তার সন্তান নাহিদ হাসান সবুজ। সে ঝিনাইদহ সরকারি কেশবচন্দ্র (কেসি) কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে আছেন।

হলফনামা সূত্রে জানা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সক্রিয় হয়ে রাজনীতি করায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটী ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দী গ্রামের ব্যবসায়ী মো: আবু জাফর (৪৮) তার ছেলে মো: নাহিদ হাসান সবুজকে (২৪) ত্যাজ্য ঘোষণা করেছেন।
হলফনামায় মো: আবু জাফর উল্লেখ করেন, তার পুত্র দীর্ঘদিন ধরে তার অবাধ্য এবং অবান্তর জীবনযাপন করে আসছিলেন। তিনি বর্তমানে পরিবারের সাথে বসবাস করেন না এবং নিজের খেয়ালখুশিমতো আলাদা থাকেন।

হলফনামায় আবু জাফর আরও অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্ট (২০২৪) পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও তার ছেলে ওই সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে লিপ্ত আছেন। বিশেষ করে গত ২১ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করেন তার সন্তান নাহিদ হাসান সবুজ। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে পিতা হিসেবে তিনি বিব্রত বোধ করেন।

হলফনামায় উল্লেখ করা হয়, নাহিদ হাসান সবুজের কোনো প্রকার আয়-রোজগার, দায়-দেনা বা কর্মকান্ডের সাথে পিতা বা তার পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। তার কোনো অপকর্মের দায়ভার পরিবার বহন করবে না। ভবিষ্যতে তার সাথে পরিবারের সকল প্রকার রক্ত সম্পর্কীয় ও আইনি বিচ্ছেদ বজায় থাকবে।

এ ঘটনায় ত্যাজ্য ঘোষণাকারী মো: আবু জাফর বলেন, “দেশের আইন ও নীতিমালার পরিপন্থী কোনো কাজ আমার সন্তান করুক তা আমি চাই না। বারবার সতর্ক করার পরও সে শোধরায়নি, তাই বাধ্য হয়ে আমি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ হাসান সবুজের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও মুঠোফোনটি খোলা পাওয়া যায়নি।

এব্যাপারে ঝিনাইদহ জজ আদালতের আইনজীবী এ্যাড. সালমা ইয়াসমিন বলেন ত্যাজ্য পূত্র বা ত্যাজ্য কন্যা আইনের কোন ভিত্তি নেই। একজন বাবা তার দায় এড়ানোর জন্য এসব করছে, এসব মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে ঘুরানোর জন্য।




রিটের নামে প্রহসন বন্ধ ও অবিলম্বে প্রশাসক নিয়োগের দাবিতে হাউলী ইউনিয়নে মানববন্ধন

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘ এক যুগ ধরে নির্বাচন বন্ধ থাকার প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে নির্বাচন ও প্রশাসক নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বেলা ১১টায় হাউলী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ইউনিয়নবাসীর আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে লেখেন “রিটের নামে প্রহসন বন্ধ করো” এবং “হাউলী ইউনিয়ন পরিষদে অবিলম্বে নির্বাচন চাই, প্রশাসক নিয়োগ চাই।”

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতা ও একের পর এক রিট আবেদনের কারণে প্রায় এক যুগ ধরে হাউলী ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ৫ আগস্টের পর এ ইউনিয়ন পরিষদে কোনো মামলা না থাকলেও সম্প্রতি চারজন ইউপি সদস্য নতুন করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে প্রশাসক নিয়োগ ও নির্বাচন কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন।

বক্তারা আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এমন সময় নতুন করে রিট করায় প্রশাসক নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায় এবং নির্বাচন কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন হাউলী ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম টিক্কা, শাহ তাজ আলম, হুমায়ুন কবির ডাবলু ও রজব আলী সুমন প্রমুখ।

তারা অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান এবং নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

ইউনিয়নবাসীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত এ জটিলতার অবসান চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।