দামুড়হুদায় বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রি, জরিমানা ও জ্বালানি জব্দ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা বাজারে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

অভিযানে ‘আবু হাসান অটোমোবাইল’-এর মালিক আবু জারকে পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬-এর ধারা ২০ অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত করে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় তার প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৫০০ লিটার অকটেন ও পেট্রোল জব্দ করা হয়।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা চত্বরে জব্দকৃত জ্বালানি সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি মূল্যে বিক্রি করা হয়।

জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কার্পাসডাঙ্গা বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার উবায়দুর রহমান সাহেল এবং জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফাহাদ চৌধুরী।

সূত্রে জানা যায়, জব্দকৃত অকটেন ও পেট্রোল খুলনার একটি ডিলার পয়েন্ট থেকে সংগ্রহ করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছিল।

পরে শনিবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জব্দকৃত জ্বালানি তেল সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিক্রি করা হয়।

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার উবায়দুর রহমান সাহেল জানান, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




চুয়াডাঙ্গায় নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: মূল পরিকল্পনাকারী নারীসহ গ্রেপ্তার ৬

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় এক নারীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মূল পরিকল্পনাকারী এক নারীসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত ২৫ মার্চ রাত ১০টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর বেলেদারী ফাঁকা মাঠে সেচপাম্পের পশ্চিম পাশে জনৈক খসরুর আমবাগানে নিয়ে জোরপূর্বক পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। আজ শনিবার (২৮ মার্চ) বিকাল ৪টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান।

আসামিরা হলেন—সদর উপজেলার সাতগাড়ী গ্রামের ফয়সালের স্ত্রী কবিতা (৩০), আলমডাঙ্গা উপজেলার মিজান (৩৪), পিতা নজরুল (খাদিমপুর), সামাদ আলী (২৫), পিতা আছির উদ্দিন (খাদিমপুর), আদম আলী (৩৪), পিতা এনামুল হক (খাদিমপুর), শাহজাহান (৪৫), পিতা মৃত তাহাজ্জেল বিশ্বাস (খাদিমপুর) এবং আব্দুস সালাম (২৬), পিতা দুলাল (শিয়ালমারি)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সদর থানার সাতগাড়ী এলাকার বাসিন্দা ওই নারীর সঙ্গে কৌশলে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন একই এলাকার ফয়সালের স্ত্রী কবিতা। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে গত ২৫ মার্চ কবিতাই ভিকটিমকে ফুঁসলিয়ে ইজিবাইকে করে চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারে নিয়ে আসেন। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল কবিতার খালাতো ভাই আব্দুস সালাম। সালাম আরেকটি ইজিবাইক নিয়ে এলে কবিতা ভিকটিমকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের দিকে রওনা দেন।

পরে তারা আলমডাঙ্গা থানার খাদিমপুর গ্রামের বেলেদারী ফাঁকা মাঠের কাছে পৌঁছে ইজিবাইক চালককে ভাড়া দিয়ে বিদায় করে দেন। এরপর আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ভিকটিমকে পাশের খসরুর আমবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে আব্দুস সালাম, শাহজাহান ও সামাদ আলীর সহযোগিতায় আদম আলী ও মিজান ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য ভিকটিমকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।

পরে ওই রাতেই কবিতা ও ভিকটিমকে ইজিবাইকে করে পুনরায় চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারে নামিয়ে দেয় আসামিরা। বাড়ি ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়া ওই নারী তার স্বামীর কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলেন। এরপর তিনি নিজেই বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।

মামলার পরপরই চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান তাৎক্ষণিকভাবে জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। পরে ২৮ মার্চ ভোর ৪টার দিকে আসামিদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। ভিকটিম অভিযোগ দায়ের করার পরপরই আমরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেই। আমাদের দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন অভিযানের ফলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মূল পরিকল্পনাকারীসহ জড়িত ছয় আসামির সবাইকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।”




দর্শনায় পুলিশের এসআই পরিচয়ে প্রতারণা, অটোচালকের গাড়ি উধাও

চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় দিনের বেলায় পুলিশের এসআই পরিচয়ে প্রতারণা করে একটি অটোগাড়ি নিয়ে উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে দর্শনা পৌর এলাকার শ্যামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

প্রতারণার শিকার ব্যক্তি জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে আব্বাস উদ্দিন (৩৮)। খবর পেয়ে ঘটনার পর দর্শনা থানার এসআই জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

অটোচালক আব্বাস উদ্দিন জানান, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে তিনি জীবননগর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ইজিবাইক নিয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত এক ব্যক্তি নিজেকে জীবননগর থানা পুলিশের এসআই পরিচয় দেন। তিনি জানান, তার পরিবারকে জরুরি ভিত্তিতে দর্শনায় নিতে হবে এবং ৪০০ টাকায় অটোটি রিজার্ভ ভাড়া করেন।

দুপুর ১২টার দিকে তারা দর্শনা পৌরসভার শ্যামপুর গ্রামের নুর ইসলামের বাড়ির সামনে পৌঁছান। সেখানে আগে থেকেই আরেকজন ব্যক্তি পুলিশের ড্রাইভার পরিচয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি এসে বলেন, “স্যার, আপনার গাড়ির এক্সিডেন্ট হয়েছে, একজন গুরুতর আহত।”

এ কথা শুনে কথিত এসআই দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার কথা বলে শ্যামপুর বিজিবি মোড় পার হয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মোবাইলে জোরে কথা বলেন এবং জানান, আহত ব্যক্তি মারা গেছেন। এরপর তিনি আব্বাস উদ্দিনকে বলেন, “আপনি আমার বাড়িতে গিয়ে আমার ড্রাইভারকে নিয়ে আসেন।”

আব্বাস উদ্দিন অটো নিয়ে যেতে চাইলে তাকে বলা হয়, “গাড়ি এখানে থাক, আপনি ড্রাইভারকে ডেকে নিয়ে আসেন।” পরে তিনি নুর ইসলামের বাড়িতে গিয়ে কাউকে না পেয়ে ফিরে এসে দেখেন, তার অটোগাড়িটি নেই।

ঘটনার পর তিনি দর্শনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। খবর পেয়ে এসআই জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, “ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। দ্রুতই আসামিদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”

এ বিষয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “শ্যামপুর এলাকা থেকে প্রতারণার মাধ্যমে একটি অটো নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতারকদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”




আলমডাঙ্গায় আগাছানাশক প্রয়োগে ধান পুড়ে নষ্ট, বিষ বিক্রেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের আসাননগর গ্রামে আগাছা দমনের জন্য প্রয়োগ করা বিষে ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক বিষ বিক্রেতার বিরুদ্ধে নিম্নমানের বা ভেজাল আগাছানাশক বিক্রির অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আসাননগর গ্রামের মৃত আসমান মণ্ডলের ছেলে মস্তক আলী জানান, প্রায় এক মাস আগে ধানের জমির আগাছা পরিষ্কারের জন্য আলমডাঙ্গার হাফিজ মোড় রোডের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে আগাছানাশক ক্রয় করেন। তবে দুই সপ্তাহ পার হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় তিনি পুনরায় ওই বিক্রেতার কাছে গেলে তাকে অন্য একটি বিষ দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, দ্বিতীয়বার প্রাপ্ত বিষ জমিতে স্প্রে করার তিন দিনের মধ্যে ধানের গাছ গোড়া থেকে পুড়ে যায়। এতে পুরো জমির ধান নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তীতে বিষয়টি বিক্রেতাকে জানালে তিনি ঈদের ছুটির কথা উল্লেখ করে কোম্পানির প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে জানাবেন বলে আশ্বাস দেন। ঈদ-পরবর্তী সময়ে কোম্পানির প্রতিনিধি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কৃষক।

এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তিনি অন্য স্থান থেকে বিষ সংগ্রহ করে বিক্রি করেন। কৃষি অফিসারের পরামর্শ ছাড়া বিষ বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কৃষি অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী চললে ধান উৎপাদন সম্ভব নয়।” এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে একমাত্র আয়ের উৎস ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষক মস্তক আলী। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে প্রভাবশালী মহলের সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা করছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগেও তার বিরুদ্ধে নকল দস্তা সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।




দর্শনায় দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে বোনের সংবাদ সম্মেলন

দর্শনায় দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখল ও দোকানের মালামাল লুটের অভিযোগে দুই বোন সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে দর্শনা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দর্শনা কলেজপাড়ার মৃত দীন মোহাম্মদের মেয়ে মমতাজ বেগম বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, “আমি অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি আমার ওপর সংঘটিত অন্যায়, নির্যাতন, সম্পত্তি দখল ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি তুলে ধরার জন্য। আমি ও আমার ভাইয়েরা দক্ষিণচাদপুর মৌজার ৩৯৭ নম্বর খতিয়ানের ৫৫৮০ নম্বর দাগে অবস্থিত পৈত্রিক জমির বৈধ ওয়ারিশ। প্রায় এক বছর আগে ওয়ারিশদের সম্মতিতে সেনাক্যাম্পে একটি বৈঠকের মাধ্যমে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে জমির অবস্থান ও হিস্যা নির্ধারণ করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি ও আমার ভাই মিজানুর রহমান আমাদের প্রাপ্য অংশে একটি পাকা দোকান নির্মাণ করি। নির্মাণকালে কোনো পক্ষ থেকেই আপত্তি তোলা হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “দোকান নির্মাণ শেষ হওয়ার পর আমার আপন দুই ভাই মোঃ সাজেদুর রহমান বাবু ও মোঃ সাইফুর রহমান রোকন জোরপূর্বক দোকানের দখল নেওয়ার চেষ্টা শুরু করে। এ বিষয়ে আমি আদালতে মামলা দায়ের করি। পরে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার লক্ষ্যে দর্শনা থানায় একটি সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আমাকে অশালীন আচরণের শিকার হতে হয় এবং একপর্যায়ে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করা হয়, যা উপস্থিত লোকজন প্রতিহত করে।”

মমতাজ বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমি নতুন ব্যবসা শুরু করার উদ্দেশ্যে আমার দোকানে প্রায় ১০ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য মজুদ করি। কিন্তু গত ২২ মার্চ ২০২৬ তারিখ ভোরে অভিযুক্তরা আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দোকানের তালা ভেঙে সব মালামাল লুট করে নিয়ে যায় এবং দোকানে নতুন তালা লাগিয়ে দেয়। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ ঘটনার পেছনে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির কু-পরামর্শ ও প্ররোচনা রয়েছে।”




গাংনীতে প্রবাসীর বাড়িতে হামলার ঘটনায় সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের হুমকি

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চৌগাছা গ্রামে প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের জেরে এবার সাংবাদিকদের হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে অভিযুক্ত পক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযুক্ত জয় ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা এ ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত কিশোর গ্যাং লিডার জয়, তার বন্ধু জিতু ও তাদের সহযোগীরা সংবাদটি বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল থেকে মুছে ফেলার জন্য স্থানীয় সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তারা নিউজ পোর্টালের কমেন্ট সেকশন এবং হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে সাংবাদিকদের হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন গাংনীতে কর্মরত একাধিক সংবাদকর্মী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলার ঘটনার পর কয়েকটি পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে থানায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশিত হলে অভিযুক্তরা আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর জয় ও তার অনুসারীরা কয়েকজন সাংবাদিককে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়। সংবাদ প্রকাশে ‘খারাপ পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাংবাদিক বলেন, ঘটনার সত্য তুলে ধরাই আমাদের দায়িত্ব। কিন্তু এখন উল্টো আমাদেরই হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে আমরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

এদিকে, হামলায় আহত দৈনিক সময়ের চিত্র পত্রিকার সাংবাদিক সুমন আলীর পরিবার এখনও আতঙ্কে রয়েছে। তাদের দাবি, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কোনো ঘটনার সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া গুরুতর অপরাধ। এতে স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, সাংবাদিকদের হুমকির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




শৈলকুপায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু, আহত-৪

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের খড়িবাড়িয়া গ্রামে বজ্রপাতে সমির বিশ্বাস (৪০) ও অপু বিশ্বাস (২২) নামের দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সেসময় আহত হয়েছে আরও ৪ জন কৃষক।

শনিবার বেলা ১২ টার দিকে খড়িবাড়িয়া গ্রামের দক্ষিণ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। মৃত সমির মৃত সমির ওই গ্রামের সুশিল বিশ্বাস ও অপু ওই এলাকার প্রকাশ বিশ্বাসের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, সমির বিশ্বাস তার বাবার সঙ্গে মাঠে পেঁয়াজ তোলার কাজ করছিলেন। একই সময়ে পাশের ক্ষেতে কাজ করছিলেন প্রকাশ বিশ্বাসের ছেলে অপু বিশ্বাসসহ আরও কয়েকজন। হঠাৎ বজ্রপাত হলে তারা গুরুতর আহত হন।

আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সমির বিশ্বাস ও অপু বিশ্বাসকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি আহতদের মধ্যে দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. এহেতাম শহীদ জানান, দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতদের হাসপাতালে আনা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে সমির ও অপু মারা যান।




চুয়াডাঙ্গায় পুঁতে রাখা ৭টি ল্যান্ডমাইন ধ্বংস করল সেনাবাহিনী

চুয়াডাঙ্গায় একটি ভুট্টার জমিতে সেচ নালা তৈরির সময় উদ্ধার হওয়া সাতটি শক্তিশালী ল্যান্ডমাইন নিষ্ক্রিয় করেছেন সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। উদ্ধারের ২৯ দিন পর শনিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদরের মাখালডাঙ্গা গ্রামের স্কুলপাড়া মাঠে বিকট শব্দ ও কম্পনের মধ্য দিয়ে ল্যান্ডমাইনগুলো ধ্বংস করা হয়।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শহিদুল ইসলাম বলেন, ধারণা করা হচ্ছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এসব স্থলমাইন পুঁতে রেখেছিল।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, সদর উপজেলার দিননাথপুর গ্রামের কৃষক হযরত আলীর মাখালডাঙ্গা গ্রামের স্কুলপাড়া মাঠে একটি চাষের জমি রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য নালা (ক্যানাল) তৈরির কাজ করছিলেন। এ সময় তার কোদালের আঘাতে তিনটি শক্তিশালী ল্যান্ডমাইন বেরিয়ে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকাটি পুলিশ পাহারায় ঘিরে রাখা হয়।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি সেনাবাহিনীকেও অবহিত করা হয়। এরপর শনিবার সকালে সেনাবাহিনীর ৫৫ রেজিমেন্ট, যশোর ইউনিটের ১৫ সদস্যের একটি বোম্ব ডিসপোজাল দল ক্যাপ্টেন রিফাতুল ইসলামের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালায়। এ সময় সেখান থেকে একে একে মোট সাতটি শক্তিশালী ল্যান্ডমাইন উদ্ধার করা হয়।

দুপুরে সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দলটি প্রথমে চারটি এবং পরে বাকি তিনটি ল্যান্ডমাইন নিষ্ক্রিয় করে। এ সময় প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ও বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং আকাশ কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। বিস্ফোরণের ফলে ল্যান্ডমাইন নিষ্ক্রিয় করা স্থানগুলো বড় গর্তে পরিণত হয়। অভিযান চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।




দর্শনায় ১৪ ঘণ্টা লাইনে থেকেও পেট্রোল মেলেনি, বাইকারদের ক্ষোভ

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পেট্রোল সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। টানা ১৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও পেট্রোল না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা। এতে এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী বাইকারদের অভিযোগ, শুক্রবার রাত ৮টা থেকে তারা মেসার্স দর্শনা ফিলিং স্টেশনের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পেট্রোল সরবরাহ শুরু হবে। সেই আশায় রাতভর অপেক্ষা করেন শতাধিক বাইকার। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে সকাল ৯টা বাজলেও সরবরাহ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

শরিফুল নামের এক বাইকার বলেন, প্রায় ১৩-১৪ ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, এখনো পেট্রোল পাইনি। আমরা কি শুধু লাইনে দাঁড়িয়েই থাকব, নাকি আমাদের অন্য কোনো কাজ নেই?

আরেক বাইকার আমির হোসেন বলেন,শুক্রবার রাত থেকেই অপেক্ষা করছি। বলা হয়েছিল সকালে তেল দেওয়া হবে। এখন সকাল ৯টা, তবুও কোনো কার্যক্রম নেই। এটি চরম অব্যবস্থাপনা।

সোবাহান নামের একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। সময়মতো তেল দিতে না পারলে আগে জানানো উচিত ছিল। এই হয়রানির জন্য পাম্প কর্তৃপক্ষই দায়ী।

এদিকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও পেট্রোল না পেয়ে ক্ষুব্ধ বাইকাররা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং দ্রুত জ্বালানি সরবরাহের দাবি জানান। এতে কিছু সময়ের জন্য স্টেশন এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে।

পরে সকাল ১০টা থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতি মোটরসাইকেলে ৩০০ টাকার জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়।

অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স দর্শনা ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পেট্রোল সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনা ছিল। তবে শুক্রবার রাতের ঝড়-বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।

তারা আরও জানায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে এবং দ্রুত পেট্রোল সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, জ্বালানি সরবরাহে এমন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নতুন নয়। বারবার ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কার্যকর নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপ ছাড়া এ সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে না বলে মনে করছেন তারা।

ভুক্তভোগী বাইকাররা দ্রুত সমস্যার সমাধান, সঠিক তথ্য প্রদান এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




মেহেরপুরে ভৈরব সাহিত্য সাংস্কৃতিক চত্বরের স্বাধীনতা দিবস পালন

মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মেহেরপুরের অন্যতম সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন “ভৈরব সাহিত্য সাংস্কৃতিক চত্বর” এর আয়োজনে শুক্রবার বিকালে মেহেরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, “ভৈরব সাহিত্য সাংস্কৃতিক চত্বর” এর সভাপতি অ্যাডভোকেট এম. আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি নূরুল আহমেদ এবং নাট্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাইদুর রহমান।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কবি ও গীতিকার বাশরী মোহন দাস, সংগঠনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু নায়েছ লাবলু, সদস্য মোঃ শাহজাহান, আবুল হাসেম, কবি মাহফুজা সুলতানা সুমি, শিল্পী ও কবি আসাদুল ইসলাম খোকন প্রমুখ।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মেহের আমজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তিতে অংশগ্রহণ করেন কবি ম. গোলাম মোস্তফা, মুহাম্মদ মহসীন, এস. এম. এ. মান্নান, বাশরী মোহন দাস, শফিকুর রহমান সেন্টু, নূর হোসেন, সাইফুল ইসলাম ও বদরুদ্দোজা বিশ্বাস প্রমুখ।