কোটচাঁদপুরে ১৪ পিস ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৪ পিস ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ মোঃ শারফিন ইসলাম (২৬) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ।

বুধবার (১৩ মে) ভোররাতে বলুহর বকুলতলা এলাকায় মোঃ ইনছান আলীর বাড়ির পশ্চিম পাশে পাকা রাস্তার ওপর থেকে তাকে আটক করা হয়।

জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোটচাঁদপুর থানার এসআই মোঃ মাসুম বেল্লা সঙ্গীয় ফোর্সসহ একটি চৌকস দল ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এসময় সন্দেহভাজন হিসেবে ওই যুবককে তল্লাশি করলে তার কাছ থেকে ১৪ পিস ইয়াবা ও ইয়াবা বিক্রির নগদ ২ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। আটক শারফিন ইসলাম বলুহর বকুলতলা এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে।

আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কোটচাঁদপুর মডেল থানার মামলা নং-০৮, তারিখ-১৩/০৫/২০২৬ খ্রি., ধারা-২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। এলাকায় মাদক নির্মূলে পুলিশের এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।




সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে কুষ্টিয়ায় প্রেস ব্রিফিং

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, নারীর জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষি কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার সকালে কুষ্টিয়া জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে এ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
সরকারের উন্নয়ন বার্তা তুলে ধরেন জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার আমিনুল ইসলাম।

এসময় তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণে গৃহীত এসব উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের ধারা আরও বেগবান হবে। পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকির হোসেন, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক আল মামুন সাগর, সদস্য সচিব এ এম জুবায়েদ রিপনসহ জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকির হোসেন সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তথ্য ও প্রচার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সরকারের গৃহীত জনবান্ধব কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নের ধারা আরও শক্তিশালী হবে।

এসময় গণযোগাযোগ অধিদপ্তর কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি জেলা তথ্য অফিসের মাধ্যমে কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত উপস্থাপন করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।




মেহেরপুরে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালন

মেহেরপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে “অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, প্রতিটি জীবনই মূল্যবান” এই স্লোগানকে সামনে রেখে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বুধবার (১৩ মে) সকালে মেহেরপুর জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে “বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস” উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে মেহেরপুর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আশাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের অফিসার কাজী আবুল মনসুরের (রেজি.) সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় এবং সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম আবু সাঈদ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর পৌর সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহেল মাহমুদ, সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ আনিসুর রহমান, মেহেরপুর জেলা মানব উন্নয়ন কেন্দ্র (মউক), মুজিবনগর সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা, মেহেরপুরসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।




সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন বিষয়ে মেহেরপুরে প্রেস ব্রিফিং

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন ও বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরতে মেহেরপুরে সাংবাদিকদের নিয়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে এ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

মেহেরপুর জেলা তথ্য অফিসার আব্দুল্লাহ আল মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তরিকুল ইসলাম।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। এসময় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুফ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, নারীদের পরিবহন সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং খাল খনন কার্যক্রমের সর্বশেষ তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

এছাড়াও জনস্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, গুজব প্রতিরোধ, মানবপাচার মোকাবিলা, সাম্প্রদায়িকতা ও অপরাজনীতি প্রতিরোধ, ডেঙ্গু ও মাদকবিরোধী কার্যক্রম, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নৈতিকতা ও মূল্যবোধ উন্নয়ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।




ঝিনাইদহে নির্বাচনী ইশতেহারের সরকারি ব্রিফিং এড়িয়ে এনজিও অনুষ্ঠানে ডিসি!

ঝিনাইদহে সদ্য যোগদান করা জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানা বিষয়ে বিতর্কের মুখে থাকা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এবার উঠেছে সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ।

বুধবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। জেলা তথ্য অফিসের এই আয়োজনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বিস্ময়করভাবে সেখানে উপস্থিত হননি জেলা প্রশাসক নিজে। তার পরিবর্তে পাঠানো হয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমানকে।

অভিযোগ উঠেছে, ব্রিফিং চলাকালীন সময়েই জেলা প্রশাসক তার কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। অথচ একই দিনে দুপুরে শহরের ফুডসাফারি মিলনায়তনে “রূপান্তর” নামের একটি এনজিওর অনুষ্ঠানে তাকে উপস্থিত দেখা যায়।

এ ঘটনায় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির চেয়ে কি একটি এনজিওর অনুষ্ঠান বেশি অগ্রাধিকার পেল? একজন জেলা প্রশাসকের কাছে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব কি দ্বিতীয় সারিতে চলে গেল?

স্থানীয় সাংবাদিকদের একাংশ বলছেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিং ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

সেখানে জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতি শুধু দৃষ্টিকটুই নয়, এটি দায়িত্ববোধ নিয়েও প্রশ্ন তোলে। বিশেষ করে তিনি যখন একই সময়ে অন্য একটি বেসরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নেন, তখন বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে আলোচনায় আসে। দেশের অন্যান্যা জেলায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে সভাপতিত্ব করেন সেই জেলার জেলা প্রশাসক। অথচ ঝিনাইদহের অনুষ্ঠানটি করা হয় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে। জেলা প্রশাসক তো আসেননি উপরন্তু নামমাত্র কয়েক মিনিটের ব্রিফিং করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নামমাত্র অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়ে তিনিও চলে যান ওই এনজিওর অনুষ্ঠানে।

জেলার বিভিন্ন মহল মনে করছে, সদ্য যোগদান করেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সরকারি কর্মসূচিকে উপেক্ষা করে এনজিও অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে সমালোচনা।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, ওই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক থাকতে হবে এমন কোন নির্দেশনা নেই। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা থাকলেই হবে তাই আমি যায়নি।




ঝিনাইদহে হোটেল শ্রমিক যুবতীর লাশ উদ্ধার

ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই এলাকার সাদাতিয়া সড়কের একটি ভাড়া বাসা থেকে খুশি খাতুন (১৯) নামের এক হোটেল কর্মচারী যুবতীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৩ মে) সকালে তালাবদ্ধ ঘর থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত খুশি খাতুন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বাসিন্দা। সে পাগলাকানাই মোড়ের আন্তরিক হোটেল (সাবুর হোটেল নামে পরিচিত)’এ কাজ করতেন।

ভাড়া বাসার মালিক বেবি খাতুন জানান, গত ১ সপ্তাহ আগে এই বাসা ভাড়া নেন খুশি খাতুন। সোহাগ হোসেন নামের রিক্সা চালক তার স্বামী বলে দাবী করেন খুশি। মঙ্গলবার রাত ১০ টার দিকে হোটেল থেকে কাজ শেষে স্বামীর সাথে বাসায় আসে। সকালে অনেক বেলা হলেও খুশি বের না হলে প্রতিবেশীরা ঘরে গিয়ে দেখতে পান বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগানো আর পেছনের দরজা খোলা।

তারা দরজা খুলে দেখতে পায় খুশির লাশ বিছানায় পড়ে আছে। পরে পুলিশে খবর দিয়ে তারা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে স্বামী পালিয়ে যায় বলে ধারনা করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদউজ্জামান বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদেন্তর জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে।




চুয়াডাঙ্গায় শুরু আম সংগ্রহ, আমে রাসায়নিক বা ফরমালিন মেশালে কঠোর ব্যবস্থা

চুয়াডাঙ্গায় শুরু হলো আম সংগ্রহ মৌসুম। বুধবার শহরের মহলদার আম্রকানন বাগানে চলতি আম মৌসুম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।

আম সংগ্রহের আগে আমের গুণগত মান ও রাসায়নিক মুক্ত আম যাতে বাজারে যায়। সেজন্য মহলদার আম বাগান ঘুরে পরিদর্শন করেন, জেলা প্রশাসক। এরপর গাছ থেকে আম পেরে আমের মৌসুম উদ্বোধন করা হয়। এসময় অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে জেলা আম ব্যবসায়ি ও আম আম বাগান মালিক সমিতি।

আম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৩ মে থেকে আটি, গুটি ও বোম্বাই জাতের আম সংগ্রহ করার মধ্যদিয়ে আম সংগ্রহ মৌসুম শুরু হলো। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জাতের আম সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পর্যায়ক্রমে ২০ মে হিমসাগর, ২৫ মে ল্যাংড়া, ৫ জুন আম্রপালি, ১৫ জুন ফজলি, ২০ জুন হাড়িভাঙা, ২২ জুন ব্যানানা, ৩০ জুন আশ্বিনা ও বারি-৪, ৫ জুলাই কাটিমন এবং ৩১ জুলাই থেকে গৌড়মতি আম সংগ্রহ শুরু হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ‘ফলের রাজা আম। অপরিপক্ক আম যাতে কোনো বাগান মালিক সংগ্রহ না করে সেই ব্যাপারে কৃষি বিভাগ তদারকি করবে। পরিপক্ব আম যাতে বাজারে আসে এবং নিরাপদ আম ও রাসায়নিক মুক্ত আম বাজারে বিক্রি হয়, সেই ব্যাপারে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। এই মৌসুমেও জেলার উৎপাদিত আম সারাদেশের চাহিদা মিটাতে সক্ষম হবে।’

উদ্বোধন শেষে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ‘নির্ধারিত ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার আম বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। ক্যালেন্ডারের ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমে কোনো ধরনের রাসায়নিক বা ফরমালিন মেশানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত বাজার তদারকি করবে বলেও জানান তিনি।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচাল(উদ্যান) দেবাশীষ কুমার দাস, সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল শামীম, প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, আম চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মহলদার, সহ-সভাপতি আব্দুল করিমসহ স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ২ হাজার ২০৩ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। এ বছর জেলায় প্রায় ৩০ হাজার ৮৪২ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।




একই জমিতে কয়েক জাতের ধানে দিশেহারা কৃষক

মেহেরপুরে কৃষকদের প্রণোদনায় পাওয়া ধান বীজে একই জমিতে কয়েক জাতের ধান হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। একই জমির কোনো গাছের ধান পেকে গেছে, আবার কোনো গাছে শীষ বের হচ্ছে। এছাড়াও কোনো গাছে থোড় পর্যায়।

শীষ শুকিয়ে যাওয়াসহ নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। কৃষি বিভাগ বলছে, বিএডিসি থেকে প্রদানকৃত বীজ কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে, এর দায় বিএডিসির। তবে বিএডিসি বলছে, এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ নেই, অভিযোগ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গাংনী উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের বর্গাচাষি আব্দুল আলীম গাংনী উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনার ধান বীজ পেয়েছিলেন। অতিযত্নে বীজতলা তৈরি, চারারোপণ থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় পরিচর্যা শেষে আশায় বুক বেঁধে ছিলেন ভালো ফলন পাবেন।

জমি প্রস্তুত, সেচ, সার ও কীটনাশকসহ প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ করেছেন ধান চাষে। অথচ শীষ বের হওয়ার সময় ঘটে বিপত্তি। একই সাথে প্রতিটি গাছে শীষ বের হওয়ার কথা থাকলেও ঘটেছে ব্যতিক্রম। একই জমিতে কোনো গাছের ধান পেকে গেছে, আবার কোনো গাছে শীষ বের হচ্ছে। এছাড়াও কোনো গাছে থোড় পর্যায়। শীষ শুকিয়ে যাওয়াসহ নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

জমির ২০ শতাংশ ধানের শীষ শুকিয়ে গেছে। ২০ শতাংশ শীষ পেকে গেছে। আবার অনেক শীষে পচন ধরেছে। এতে লোকসানে পড়েছেন ওই কৃষক। ধারদেনা করে আবাদ করা বোরো ধান এখন কৃষকের গলার কাঁটা। পরিবারের খাদ্য চাহিদা পূরণের শঙ্কায় কৃষক।

শুধু আব্দুল আলীম নয়, এবার অনেক কৃষকেরই কপাল পুড়েছে বোরো আবাদে। তবে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর দায় নিচ্ছে না কৃষি বিভাগ ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)।

ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল আলীম বলেন, জমির ধান দেখে হতাশ হয়েছি। ধারদেনা করে আবাদ করেছি, খরচের অর্ধেক টাকাও উঠবে না। একই কথা জানান কৃষক হামিদুল ইসলাম।

কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি ভাবে মৌসুম শেষ হওয়ার অনেক পরে প্রণোদনার বীজ বিতরণ করা হয়, যা কৃষকদের কোনো উপকারে আসে না। কৃষকরা প্রণোদনায় পাওয়া বীজ ফেলে দিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে উচ্চমূল্যের বীজ কিনে আবাদ করতে হয়। এভাবে চলতে থাকলে সরকারি পরিকল্পনা ব্যর্থ হবে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বোরো আবাদ বৃদ্ধিতে মেহেরপুরের তিনটি উপজেলার ১ হাজার ৬০০ কৃষককে প্রণোদনার আওতায় আনা হয়। সে লক্ষ্যে ব্রি-ধান ৮৮, ব্রি-ধান ৮৯, ব্রি-ধান ৯২ জাতের ৫ কেজি করে বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। চলতি মৌসুমে ১৯ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৭ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন। প্রণোদনার ভেজাল বীজের কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবার।

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মতিয়ার রহমান বলেন, এমন কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি। সরেজমিনে গিয়ে দেখব এমনটা কেন হয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)’র মেহেরপুর অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিডি) আশরাফুল আলম মুঠোফোনে প্রতিনিধিকে বলেন, মেহেরপুরের প্রণোদনার বীজ বিএডিসি কৃষি অফিসকে সরবরাহ করে থাকে। আর কৃষি অফিস তা কৃষকদের তালিকাভুক্ত করে বিতরণ করে। তবে ভেজাল বীজের বিষয়ে তিনি বলেন, এখনো অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

কৃষকদের দাবি, সরকারি ভাবে ভেজাল বীজ প্রদান করা হলে কৃষিনির্ভর মেহেরপুরে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেবে।




অনলাইন জুয়াড়ি গাড়াডোবের ফয়সালসহ গ্রেফতার-৩

মোবাইলের স্ক্রিনে ভেসে ওঠে পার্ট টাইম জবের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ঘরে বসেই আয় করুন। শুরুতে ভুক্তোভোগী পেয়েছিলেন অল্প কিছু লাভ। কয়েকদিনের মধ্যেই সেই লাভের স্বপ্ন পরিণত হয় দুঃস্বপ্নে। ধাপে ধাপে খোয়াতে হয়েছে লাখ টাকা।

আর সেই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই রাজধানী ঢাকা থেকে মেহেরপুর পর্যন্ত বিস্তৃত এক ভয়ংকর সাইবার প্রতারণা চক্রের সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবির তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ফেসবুকে চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলা হতো। এরপর টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের গোপন গ্রুপে যুক্ত করে “অনলাইন টাস্ক” সম্পন্নের নামে অর্থ বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করা হতো।

শুরুতে অল্প লাভ দেখিয়ে আস্থা অর্জন করলেও পরে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিত চক্রটি।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, এক নারী ফেসবুকে প্রকাশিত একটি পার্ট-টাইম চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করেন। পরে তাকে বিভিন্ন টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ আইডির মাধ্যমে “টাস্ক” সম্পন্ন করে লাভের আশ্বাস দেওয়া হয়। প্রথমদিকে সামান্য লাভ পেলেও পরবর্তীতে তাকে বিকাশ, নগদ ও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলা হয়। গত ১৩ মার্চ থেকে ২৩ মার্চের মধ্যে ধাপে ধাপে তার কাছ থেকে প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার ৮৬০ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্রটি।

পরে কোনো লাভ বা কাজ না পেয়ে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি রাজধানীর কলাবাগান থানায় মামলা দায়ের করেন।

তদন্তে প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবির সাইবার টিম মেহেরপুরের কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পায়।

পরে গত ৭ ও ৮ মে মেহেরপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে রোহান আলী ওরফে রাকেশ (২০), মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে অনলাইন জুয়াড়ি ফয়সাল আহমেদ (২৮) এবং সদর উপজেলার কামদেবপুর গ্রামের মোখলেসুর রহমানের ছেলে রনি মিয়া (২৭)-কে।

ডিবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় আসামিদের কাছ থেকে তিনটি স্মার্টফোন, কয়েকটি সিমকার্ড এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত নগদ ১৭ হাজার ৪৪০ টাকা জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছে বলেও দাবি তদন্ত কর্মকর্তাদের।

মামলার তদন্তে আরও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাঈদ মোহাম্মদ হাসান জোহা (৪৩) ও তার স্ত্রী নূরজাহান খাতুন (৩৯)। ডিবির দাবি, তারা ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় অবস্থান করে প্রতারণামূলক অর্থ লেনদেন পরিচালনা করতেন।

পরবর্তীতে ঢাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদেরও গ্রেফতার করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া উইং সূত্র জানিয়েছে, এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন আসামির জিজ্ঞাসাবাদ থেকেই রোহান আলী ওরফে রাকেশসহ অন্যদের নাম উঠে আসে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে মেহেরপুরে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি একটি সংঘবদ্ধ সাইবার প্রতারণা চক্র। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক, টেলিগ্রাম, টিকটক ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করে চাকরি, অনলাইন ইনকাম ও বিনিয়োগের লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করত।

এরপর মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে আত্মসাৎ করত। এ ঘটনায় শনিবার (৯ মে) গ্রেপ্তার তিন আসামির বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও আদালত তাদের ১ দিন করে মোট ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে চক্রটির আরও সদস্য, অর্থ লেনদেনের উৎস এবং আত্মসাৎ করা টাকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপরিদর্শক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অনলাইনে পার্ট-টাইম চাকরি, বিনিয়োগ ও দ্রুত লাভের প্রলোভন দেখিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল।

প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে মেহেরপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, সিমকার্ড ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

পরে তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেন। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




মেহেরপুরে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠেছে বামুন্দি পশু হাট

মেহেরপুরে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠেছে পশু হাট। হাটগুলোতে বিপুল সংখ্যক দেশি গরু উঠতে শুরু করায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।

প্রতিদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এখান থেকে পশু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। কয়েক বছরের চেয়ে এবার বাজারে পশুর উপস্থিতি বেশি, দাম নিয়ে ক্রেতা বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

তবে,স্থানীয় ক্রেতা না থাকায় বেচাকেনা কম বলছেন বিক্রেতারা।

দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহত মেহেরপুর গাংনীর বামন্দী-নিশিপুর পশুর হাটে সপ্তাহে দুদিন চলে বেচাকেনা। হাট দুটিতে বিপুল সংখ্যক গরু-ছাগল উঠছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আসছে গরু কিনতে ।

তবে কোরবানি দিতে ইচ্ছুক ক্রেতাদের সংখ্যা কম দেখা মিল্লেও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মত। হাটে ৭০ হাজার থেকে শুরু করে ৪ লাখের বেশি টাকার গরু কেনাবেচা হচ্ছে। গরু বেচা কেনা নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

অনেকেই ঘুরে ঘুরে দেখে ফিরছেন খালি হাতে। অতিরিক্ত খাজনা আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে।

ঝিনাইদাহ জেলার গরু ব্যবসায়ী মিন্টু হোসেন, সিরাজগঞ্জ থেকে আসা ব্যবসায়ী মইনুল হক, চুয়াডাঙগার খলিলুর রহমান জানান, বাজারে গরু সরবরাহ ভাল,এছাড়া মেহেরপুরের গরুর পষম দেখতে মশৃন হওয়ায় বাইরের বাজারে চাহিদা বেশি। তাই প্রতি বছরই মেরেপুরের গরু কিনে দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করি। তবে এবছর গরুর দাম একটু বেশি হওয়ায় এখন কিনতে পারছিনা।

প্রন্তিক খামারি মোবারক হোসেন ,বিক্রির জন্য গরু নিয়ে এসেছি বাজারে। খড়,ভুষিস গো খাদ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে গরু লালন পালনে যে টাকা খরচ হয়েছে তার অর্ধেক দাম বলছেন ব্যাপারিরা। তাই বিক্রি করতে পারছিনা। এছাড়া দালালদের উৎপাত বেড়েছে। স্থানীয় ব্যাপারিরা সিন্ডিকেট করে গরু কিনছেন । যে কারনে গরুর ন্যায্য মুল্য পাচ্ছিনা।

দেীলাতপুরের ক্রেতা আলমগীর হোসেন বলেন, হাটের ইজারাদাররা বিভিন্ন ভাবে মরগড়া টাকা নিচ্ছেন খাজনার নামে। সরকারি তদারকি নেই। অনেক বেশি খাজনা আদায়ের অভিযোগ করেন অনেকেই।

হাট-ইজারাদার মো: সোহাগ হোসেন জানান,হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ।

হাট-ইজারাদার মো বাচ্চু জানান,জাল টাকার ব্যবহার রোধে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। এছাড়া পুলিশের টহল রয়েছে সার্বিক্ষনিক। তিনি বলেন, সরকারি নিয়ম মানলে খাজনা আরও বাড়বে। তাই প্রতি হাজারে টাকা না নিয়ে প্রতিটি পশু হিসেব করে ৬শ থেকে ৭শ টাকা নেয়া হয়।

জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে,মেহেরপুর জেলায় এবছর ২৬ হাজার খামারিরা ১ লাখ ৭২ হাজার গবাদি পশু কোরবানি ও বিক্রির জন্য প্রস্তত করেছেন। এর মধ্যে গরু-৭২ হাজার,ছাগল-১ লাখ ১৫ হাজার,ভেড়া ২৬ হাজার ও মহিষ-১ হাজার।

ভারত থেকে গুরু আমদানী না হলে পশু পালনে লাভবান হবে এমন প্রত্যাশা খামারীদের।