আলমডাঙ্গায় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

আলমডাঙ্গায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ৪০ (চল্লিশ) পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রয়ের নগদ টাকা উদ্ধারসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি আলমডাঙ্গা রেলস্টেশনপাড়ার বাসিন্দা রুবেল হোসেন (৩২)। তিনি আলমডাঙ্গা থানার ১০ মামলার আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের এসআই (নিঃ) আলমগীর হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ থানা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত ৯টা ৩০ মিনিটে আলমডাঙ্গা স্টেশনপাড়াস্থ গণশৌচাগারের পশ্চিম পাশে পাকা রাস্তার ওপর থেকে রুবেল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত রুবেল হোসেন আলমডাঙ্গা স্টেশনপাড়ার বাসিন্দা রেজাউল ইসলামের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় ১০টি মামলা রয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরায়েল জানান, উদ্ধারকৃত আলামত জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধৃত আসামির বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা নম্বর-০১, তারিখ-০১/০১/২০২৬ খ্রি., ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এর ৩৬(১) ধারার সারণির ২৯(ক) অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।




আলমডাঙ্গায় রাষ্ট্রীয় শোকের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বই বিতরণ

আলমডাঙ্গায় রাষ্ট্রীয় শোকের মধ্যে বছরের প্রথম দিনে নতুন বই বিতরণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচির কারণে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই আলমডাঙ্গা উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থীর হাতে ২০২৬ সালের বিনামূল্যের নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে আলমডাঙ্গা প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ বই বিতরণ কর্মসূচিতে শত শত শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে কালিদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আসানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসাররা নিজ নিজ ক্লাস্টারে বই বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করেন।

নতুন বছরের প্রথম দিনেই নতুন বই হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণজুড়ে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও প্রাণচাঞ্চল্য। রঙিন মলাটের নতুন বই পেয়ে শিক্ষার্থীরা জানায়, বছরের শুরুতেই পাঠ্যবই পাওয়ায় তারা পড়াশোনায় আরও মনোযোগী ও আগ্রহী হয়ে উঠবে।

বই বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.এস.এম শাহনেওয়াজ মেহেদী, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আলাউদ্দিন, সহকারী শিক্ষা অফিসার রবিউল ইসলাম, মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারিস উদ্দিন, আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন এটমসহ অন্যান্যরা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার বলেন, নতুন পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের প্রথম ধাপ। নিয়মিত অধ্যয়ন ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের আদর্শ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আলাউদ্দিন শিক্ষার্থীদের নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সময়ের সঠিক ব্যবহার ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবে।

এছাড়াও বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বই বিতরণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান করেন।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানান, সরকারের নির্দেশনা ও জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনায় মন্দিরে প্রার্থনা

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় ঝিনাইদহে মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের মদন মোহন মন্দিরে এ প্রার্থনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ।

এ সময় জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক চন্দন বসু, সদস্য সচিব অরুণ কুমার ঘোষ, জেলা পুজা উদ্যাপন ফ্রন্টের সদস্য সচিব সমীর কুমার হালদার, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট কানন কুমার দাস, জরিপ বিশ্বাস ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুব্রত কুমার মল্লিক, স্থানীয় বিএনপি নেতা বিমল কুমার ঘোষ, সুভাষ দে, কেন্দ্রীয় বারোয়ারি মন্দিরের সভাপতি বিকাশ রায় বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তার ভূমিকা এবং দেশ গঠনে তার অবদানের কথা স্মরণ করে বক্তব্য রাখেন। পরে মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা ও বিদেহীর আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।




ঝিনাইদহে ভুয়া দলিলে জমি বিক্রির অভিযোগে ৯০ বছরের বৃদ্ধের ভোগান্তি

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বড় কামারকুণ্ডু গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে হয়রানির শিকার হচ্ছেন ৯০ বছর বয়সী বয়োবৃদ্ধ মন্তাজ বিশ্বাস। অভিযোগ উঠেছে, তার ভাই জীবদ্দশায় যে জমি বিক্রি করেছিলেন, সেই জমি নিয়ে এখন তার মৃত্যুর পর মামলার আসামি করা হয়েছে নিরীহ এই বৃদ্ধকে।

ভুক্তভোগী মন্তাজ বিশ্বাস ও তার ভাই শফিউদ্দিন বিশ্বাস বড় কামারকুন্ডু গ্রামের বাসিন্দা। পৈতৃক সূত্রে তারা মোট ৪২ শতক জমির মালিক ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৬১ সালে টাকার অভাবে ৪২ শতকের মধ্যে ১৮ শতক জমি বিক্রি করেন মন্তাজ বিশ্বাস, শফিউদ্দিন বিশ্বাস ও তাদের মা ফোজদার নেছা। পরে বাকি ২৪ শতক জমি দুই ভাই সমানভাবে ১২ শতক করে ভাগ করে নেন এবং দীর্ঘদিন আগেই নিজ নিজ জমি ভোগদখলে নেন।

সমস্যার সূত্রপাত হয় কয়েক বছর আগে। অভিযোগ রয়েছে, শফিউদ্দিন বিশ্বাস তার ভাগের ১২ শতক জমির মধ্যে ৭ শতক জমি বিক্রি করেন। পরে সেই জমি একাধিকবার হাত বদল হয়। একই জমি আবারো কিনে বিক্রি করেন শফিউদ্দিন। প্রথমবার এবং দ্বিতীয়বার ওই জমি কিনেছেন স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর রহমান।

এরপর শফিউদ্দিন বিশ্বাস মারা গেলে হঠাৎ করেই জমি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। অভিযোগ উঠেছে, ক্রেতা লুৎফর রহমান এখন ওই জমির মালিকানা দাবি করে ৯০ বছর বয়সী মন্তাজ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় বলা হয়েছে, বড় কামারকুন্ডু গ্রামের ১৬৫ নম্বর মৌজার ওই জমি থেকে মন্তাজ বিশ্বাসকে সরে যেতে হবে।

এ বিষয়ে মন্তাজ বিশ্বাস বলেন,“আমি তো আমার ভাগের জমিতেই আছি। আমার ভাই যে জমি বিক্রি করেছে, তার দায় আমার ওপর কেন পড়বে? এই বয়সে আদালতে ঘুরে ঘুরে আমি শেষ হয়ে যাচ্ছি।”

মন্তাজ বিশ্বাসের ছেলে রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, লুৎফর ভুয়া দলিল তৈরি করে জমি দখলের চেষ্টা করছে। যে জমি আমার চাচা বিক্রি করেছে, সেই জমি নিয়ে এখন আমার বাবাকে হয়রানি করা হচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ অন্যায়।

স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষকে এভাবে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা অমানবিক। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি সামসুল আরেফিন বলেন, যেহেতু আদালতে মামলা চলছে তাই আমার কিছু করনীয় নেই। তবে এ ব্যাপারে যদি আমার কাছে কোন লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




ঝিনাইদহে কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সংকট

ঝিনাইদহের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে তীব্র ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ না থাকায় সেবা নিতে এসে দিনের পর দিন ঘুরেও খালি হাতে ফিরছেন রোগীরা।

এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র ও অসহায় মানুষজন। বাধ্য হয়ে অনেকেই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি ক্লিনিক বা ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনছেন।

জানা যায়, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ঝিনাইদহের ৬ উপজেলার ৬৭ টি ইউনিয়নের ১৮৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করে সরকার। এক বছর আগেও এসব ক্লিনিক থেকে জ্বর, সর্দি, কাশি, মাথাব্যথাসহ সাধারণ রোগের জন্য বিনামূল্যে ২৭ প্রকার ওষুধ সরবরাহ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ ক্লিনিকে মাত্র ২ থেকে ৩ প্রকার ওষুধ রয়েছে, আবার কোথাও একেবারেই ওষুধ বিতরণ বন্ধ রয়েছে। ওষুধ নিতে এসে দিনের পর দিন ফিরে যেতে হচ্ছে সেবাপ্রত্যাশীদের।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, আজ কয়েক মাস ধরে এখানে এসে ওষুধ পাচ্ছি না। আগে তো সব রকম ওষুধ পাওয়া যেত। এখন আসলে শুধু কথা বলেই পাঠিয়ে দিচ্ছে।

রাশিদা খাতুন নামের আরেক সেবা প্রত্যাশী বলেন, আমার ছোট ছেলেটার জ্বর আর ঠান্ডা লেগেছে। আগেও এখান থেকে ফ্রি ওষুধ নিছি। আজ এসে শুনি ওষুধ নেই। গরিব মানুষের জন্য এই ক্লিনিক, কিন্তু এখন তো কোনো উপকারই পাচ্ছি না। বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হলে তো ৪-৫’শ টাকা লাগবে।

কালুহাটি কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রভাইডার মাজেদুল হক বলেন, আমাদের কাছে রোগী আসে, কিন্তু দেওয়ার মতো ওষুধ নেই। এতে রোগীরাও ক্ষুব্ধ হচ্ছেন, আমরাও বিব্রত হচ্ছি। এখন রোগী আসলে শুধু স্বাস্থ্য শিক্ষা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি। আমাদের তো কিছু করার নেই।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন মো. কামরুজ্জামান বলেন, সরকারি ভাবে ওষুধ সরবরাহ একদম কমে গেছে। কবে নাগাদ ঠিক হবে তাও সিওর বলা যাচ্ছে না। আশা করছি দ্রুতই ওষুধ সরবরাহ ঠিক হলে এই সংকট কেটে যাবে।




গাংনীর নওপাড়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মাগফেরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া

গাংনীর নওপাড়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জীবনের স্মৃতিচারণ ও তার রুহের মাগফেরাত কামনায় মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাংনীর কাথুলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি আয়োজিত মিলাদ মাহফিলে পবিত্র কোরআন ও হাদিস থেকে আলোচনা করেন, মাওলানা মোঃ আমিরুল ইসলাম।

দোয়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, ভাটপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও বিশিষ্ট বিএনপি’র প্রবীণ নেতা আব্দুর রউফ। দোয়া পরিচালনা করেন, নওপাড়া বড় মসজিদের ইমাম মাওলানা মোঃ শফিকুল ইসলাম।

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র চেয়ারপারসন মরহুমা খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন, গাংনী থানা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুর রউফ, কাথুলী ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামসহ অনেকে।

দোয়া ও মিলাদ পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন, ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক প্রচার সম্পাদক কাজল ও মহিত।

দোয়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি’র নেতাকর্মী, সমর্থকসহ গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

 




আলমডাঙ্গা কেশবপুরের রানা শশুরবাড়িতে খুন-সন্দেহভাজন সাইফুল আটক

আলমডাঙ্গার কেশবপুর গ্রামের রানা তার শশুরবাড়ি মালিহাদ গ্রামে খুন হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন সাইফুল ইসলামকে মীরপুর থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ’র ছেলে রানা(৩৫) কে নিজ শশুরবাড়ি মালিহাদ গ্রামে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, আলমডাঙ্গার কেশবপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ’র ছেলে রানা বেশ কয়েক বছর থেকে পার্শ্ববর্তী জেলা কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মালিহাদ গ্রামে আহসান আলীর কন্যাকে বিয়ে করে ঘর জামাই থাকেন। সেখানে তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।

মঙ্গলবার রাতে দুর্বৃত্তরা তাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে  হত্যা করেছে। মরদেহ শ্বশুর বাড়ির অদূরে আলি হোসেনের বাড়ির পাশে পাওয়া যায়।

আলি হোসেনের বাড়ি সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করে দেখা গেছে, ইটের গাথুনী দেওয়া বাড়িতে এখনো মেঝে প্লাস্টার হয়নি। মেঝেতে বালু থাকায় বালির ওপর ধ্বস্তাধস্তির চিহ্ন দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রানা ছেলে হিসেবে খুব ভালো ছিল। সকলের সঙ্গে ভালো ব্যাবহার করতো।তবে রানা খুব ঋনগ্রস্থ ছিল।

মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে সঠিক তথ্য না পাওয়া গেলেও পরকীয়া প্রেমের জেরে রানা খুন হতে পারে বলে স্থানীয়দের দু একজন ধারণা করেছেন।

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়ার মীরপুর থানা মৃতদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করেন। এব্যাপারে আলি হোসেনের জামাই সাইফুল ইসলামকে মীরপুর থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

মৃত রানার স্ত্রী জানিয়েছেন যে, এশার আজানের পর সাইফুল ইসলাম রানা কে চায়ের দোকান থেকে ডেকে নিয়ে আলি হোসেনের বাড়িতে খুন করে রাস্তায় ফেলে দিয়েছে।

বাদ মাগরিব কেশবপুর গ্রামের জানাজা নামাজ শেষে দাফনকাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।




শৈলকুপায় বেগম খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজার নামাজ ঝিনাইদহের শৈলকুপায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে শৈলকুপা শহরের সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে এ গায়েবানা জানাজার আয়োজন করা হয়। জানাজার নামাজ পরিচালনা করেন কোর্টপাড়া জামে মসজিদের ইমাম আবু সাঈদ রহমান।

গায়েবানা জানাজার নামাজে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, পৌর বিএনপির সভাপতি আবু তালেব মিয়া, সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা ঠান্ডুসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

জানাজার নামাজ শেষে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।




কোটচাঁদপুরে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

স্ত্রীর অধিকার চেয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী নারী শেফালী খাতুন। বুধবার সকালে কোটচাঁদপুর পৌর পাঠাগারে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। শেফালী খাতুন স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডপাড়া এলাকার মতিয়ার রহমানের মেয়ে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি কোটচাঁদপুর মিনার ডেকোরেটরে রান্নার কাজ করি। সেই সুবাদে সাকিলের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সে নিয়মিত আমার বাড়িতে যাতায়াত শুরু করে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, আমি তখন তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সাকিল স্থানীয় একটি মসজিদের হুজুর ডেকে এনে আমাকে বিয়ে করে। এরপর প্রায় ৮-৯ মাস আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে বসবাস করি। এ সময় সে আমার কাছ থেকে নগদ সাড়ে ৪ লাখ টাকা, একটি মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়। পরে ধীরে ধীরে আমাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে।

শেফালী খাতুন অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি আমি স্ত্রী পরিচয় নিয়ে তার বাড়িতে গেলে সাকিল ও তার মা আমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর কেউ জিজ্ঞেস করলে সে আমাকে তার স্ত্রী বলে অস্বীকার করতে থাকে।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে কোটচাঁদপুর থানায় যেতে চাইলে স্থানীয় এক কাউন্সিলর বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু কোনো সমাধান না হওয়ায় আমি আপনাদের শরণাপন্ন হয়েছি। আপনারা ঘটনাটি সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরুন, যাতে দেশের মানুষ জানতে পারে।

শেফালী খাতুন বলেন, হয় সাকিল আমাকে স্ত্রী হিসেবে মর্যাদা দিয়ে সঙ্গে রাখবে, নতুবা আমার কাছ থেকে নেওয়া টাকা, মোবাইল ও স্বর্ণালংকার ফেরত দেবে। তা না হলে আমি আদালতে মামলা করবো।

তিনি আরও জানান, তার বয়স ৩০ বছর। তিনি পেশায় একজন রান্নার কর্মী এবং এক সন্তানের জননী।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাকিল হোসেন বলেন, শেফালির সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। কেউ আমার সম্মান ক্ষুণ্ন করার জন্য তাকে দিয়ে এসব করাচ্ছে। আমি তার কাছ থেকে কোনো টাকা বা মালামাল নিইনি। তার আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।

সাকিল আহম্মেদ কোটচাঁদপুর পৌর শহরের পশু হাসপাতালপাড়া এলাকার পিরু আহম্মেদের ছেলে। তিনি কোটচাঁদপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।




ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ মেহেরপুর জেলা শাখার নবনির্বাচিত বোর্ডের দায়িত্ব গ্রহণ

ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ মেহেরপুর জেলা শাখার নবনির্বাচিত বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মাহফুজুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ মোহাম্মদ তোয়াশীন।

দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সভাপতি মাহফুজুর রহমান জেলা বোর্ডের সদস্য, ইউনিট পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সংগঠনের সাধারণ সদস্যদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই দায়িত্ব কোনো ব্যক্তিগত সাফল্যের প্রতীক নয়; বরং এটি সংগঠনের প্রতি সদস্যদের আস্থা, ত্যাগ ও সম্মিলিত পরিশ্রমের স্বীকৃতি।

নেতৃত্বকে ক্ষমতার নয়, বরং সেবা, দায়বদ্ধতা ও মানবিক দায়িত্বের জায়গা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সকলকে সঙ্গে নিয়ে মেহেরপুর জেলাকে ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশের একটি আদর্শ, কার্যকর ও শৃঙ্খলাবদ্ধ জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ তোয়াশীন তাঁর বক্তব্যে বলেন, সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করা তাঁর জন্য একই সঙ্গে সম্মানজনক ও দায়িত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, এই সাফল্য একক কোনো অর্জন নয়; বরং এটি সংগঠনের প্রতিটি সদস্যের বিশ্বাস, সহযোগিতা ও নিরলস পরিশ্রমের ফল। স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও ঐক্যের ভিত্তিতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, সংগঠিত ও ফলপ্রসূ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশের লক্ষ্য ও আদর্শ বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ মেহেরপুর জেলা শাখার নবনির্বাচিত কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সহ-সভাপতি আনাস আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ রুবাইয়া সুলতানা, প্রজেক্ট অফিসার মোছাঃ টুম্পা, মানব সম্পদ কর্মকর্তা মাসুমা সুলতানা রানী এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা নাফিস সাদিক।

এদিকে সংগঠনের মেহেরপুর জেলা শাখার সাবেক নেতৃবৃন্দ নবনির্বাচিত কমিটিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ মেহেরপুর জেলা শাখা আরও শক্তিশালী হবে এবং মানবিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে জেলায় একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, নবনির্বাচিত কমিটির ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্বে ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ মেহেরপুর জেলা শাখার কার্যক্রম নতুন গতি পাবে এবং মানবতার সেবায় সংগঠনটি আরও বিস্তৃত ভূমিকা রাখবে।