মেহেরপুর নার্সিং কলেজে চালু হয়নি শিক্ষা কাযর্ক্রম

নার্সিংয়ে উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে মেহেরপুরে নির্মিত হয়েছে মেহেরপুর নার্সিং কলেজ। নির্মান শেষ হওয়ার দুই বছর অতিবাহিত হয়েছে কিন্তু অর্থনৈতিক কোড চালু না হওয়ায় প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও শিক্ষা কাযর্যক্রমও চালু করা যাচ্ছে না।

কলেজটি চালু হলে মেহেরপুরসহ সারাদেশ থেকে বিএসসি ইন নার্সিংয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য ভর্তি হবে শিক্ষার্থীরা। ফলে স্থানীয়সহ দেশের স্বাস্থ্য সেবায় মেহেরপুর নার্সিং কলেজ অবদান রাখবে।

জানা গেছে, নার্সিংয়ে উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধিনে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পাশে মেহেরপুর সরকারি কলেজ সড়কে ৩ একর ৬৩ শতক জমির নির্মাণ করা হয়েছে মেহেরপুর নার্সিং কলেজ। কলেজটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে চারতলা বিশিষ্ট হোস্টেল ভবন, চারতলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন, দুই তলা গ্যারেজ এবং একটি সাবস্টেশন। ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল প্রকল্পর কাজ পায় সিরাজগঞ্জের ডিএমসিএল এন্ড পিসি-জেভি নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ২৭ জুন কাজ শেষ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। সিডিউল মোতাবেক কিছু ত্রুটি থাকায় সেগুলো পুন:মেরামত শেষে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও আহবায়ক কমিটির কাছে হস্তান্তর করে প্রতিষ্ঠানটি।

কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নার্সিং কলেজটি চালু না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্বাস্থ্য সেবার সাথে সংশ্লিষ্টরা। এটি দ্রুত চালু হলে নার্সিং সেবায় দক্ষ জনবল পাবে এলাকার হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো। স্বাস্থ্য সেবার মান বাড়ার সঙ্গে এলাকার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে প্রতিষ্ঠানটি।

কলেজ ভবনটি নির্মাণ শেষ হলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছে থেকে বুঝে নেওয়ার জন্য নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর ৫ সদস্যর একটি আহবায়ক কমিটি গঠণ করে।

নার্সিং ও মিডউয়াফারি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ) সাহানা ইসলাম আহবায়ক করা হয়েছে। মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার আজিরন নেসাকে সদস্য সচিব, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের (শিক্ষা ) মুক্তার হোসেনকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা করা হয়েছে। বাকি দুই জন সদস্য হলেন মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স আসাদুল হক ও শারমিন নাহার।

মিরাজুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সুন্দর একটি নার্সিং কলেজ নির্মাণ করা হয়েছে। কলেজেটি দ্রুত চালু না হলে এ চত্বরে মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হবে। কলেজের মূল্যবান মালামাল চুরি ও নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

রাফি হাসান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, মেহেরপুরে বিএসসি নার্সিং পড়ার কোন প্রতিষ্ঠান নেই। বিএসসি লেভেলের নার্সিংয়ের জন্য মেহেরপুর নার্সিং কলেজ চালু হলে শিক্ষাথীরা এখানে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে এবং স্বাস্থ্য সেবা অবদান রাখতে পারবে।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলী ইউসুফ হোসেন বলেন, গত জানুয়ারি মাসে আমরা কলেজটি হস্তান্তর করেছি। এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষা কাযর্যক্রম চালু না হলে কলেজটি রক্ষণাবেক্ষণ করা কঠিন হবে। এছাড়া মাদকসেবীরা মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে যাওয়া আশংকা রয়েছে।

মেহেরপুর নার্সিং কলেজের আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব ও মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার আজিরন নেসা বলেন, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিপ্তর থেকে এ কলেজ নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে। আহবায়ক কমিটি হিসেবে আমরা দায়িত্ব বুঝে নিয়েছি। দ্রুত তম সময়ের মধ্যে চালু করার জন্য অধিপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে কলেজের শিক্ষা কাযর্যক্রম চালু হবে।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিপ্তদরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (শিক্ষা) মো: মুক্তার হোসেন বলেন, কলেজটির এখনো অর্থনৈতিক কোড তৈরি হয়নি, যার ফলে জনবল নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। জনপ্রশাসন, অর্থ ও স্বাস্থ্য এই তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে অর্থনৈতিক কোড তৈরি কাজ চলমান রয়েছে। স্থানীয়ভাবে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সুপারিশ থাকলে অর্থনৈতিক কোড দ্রুত পাওয়া সম্ভব হবে। তারপরও আশা করছি আগামী ২০২৭ শিক্ষা বর্ষ থেকে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।




বোনের মামলায় তিন ভাই কারাগারে

মায়ের সম্পত্তি বোনদের নাদিয়ে জাল করে নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ায় বোনের মামলায় কারাগারে গেলেন ৩ ভাই। আরেক ভাই ইংল্যাণ্ডে পলাতক রয়েছেন।

গতকাল গাংনী আমলী আদালতে হাজির হয়ে দুই ভাই জামিন চাইলে বিচারক নাসিম উদ্দিন ফারাজি তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন। এক ভাই রবিবার রাতে পুলিশের হাতে আটক হন। ঘটনাটি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়ীয়া গ্রামে।

তিন ভাই হলেন, গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের মৃত সামুসজ্জোহা বিশ্বাসের ছেলে সামসুল ইসলাম খোকন, ইমদাদুল হক ও হেলাল। মামলা বাদি তাদের বোন আখতার বানু। মামলা নম্বর-১১৩৫/২০২৪।

বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান ও তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আরজিতে বাদির অভিযোগ, আসামিরা বাদীনির আপন সহদোর ভাই। মৃত মজিরা খাতুন বাদীনি বিবাদীদের মা হইতেছে। তাদের মা গত ইং ০৪/০৫/২০২৩ তারিখে মৃত্যু বরণ করেন। তাদের মা মারা যাওয়ার পর বাদীনি ও বিবাদীগন ওয়ারিশ থাকেন। ওয়ারিশ সনদপত্র অনুযায়ী বিবাদীরা ৪ ভাই ও বাদীনিরা তিন বোন বাদীনি নিজেসহ মোছাঃ মোমেনা খাতুন, মোহাঃ আরিফা খাতুন। তারা সকলে বিবাহিত।

প্রত্যেকের স্বামী, সন্তান ও সংসার রহিয়াছে। বাদীনির মা জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় আসামিরা গত ২০০৪ সালেল ১ এপ্রিল ২৭৭৫ নং হেবা দলিল মূলে রেজিঃ করিয়া দিয়া নিঃস্বত্ববান হন। বাদীনির মা হেবা দলিল মুলে নিম্ন তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি পাওয়ার পর স্বত্ব দখল থাকাবস্থায় গত ২০২৩ সালের ৬ মে মৃত্যুবরণ করিলে আমরা ৩ বোন ও আসামীরা ওয়ারিশ থাকে। মা মৃত্যুর পর বাদীনির ৩ বোন নিম্ন তফসিল বর্ণিত সম্পত্তির ওয়ারিশ সুত্রে নালিশী জমি ১২ শতক জমির অংশ থাকে। বিবাদীরা বোনদের ন্যায্য অধিকার হইতে বা তাদের ৩ বোন এর অংশ ফাঁকি দেওয়ার জন্য প্রতারনা ও আত্মসাৎ করিবার কু-মতলবে বোনদের অংশ না দেখাইয়া তাহা সংশ্লিষ্ট রেজিঃ অফিসের কর্মচারী কর্মকর্তাকে গোপন করিয়া সম্পূর্ণরুপে জালিয়াতির মাধ্যমে আসামিরা যোগসাজস মূলে ভুল বুঝাইয়া বিবাদীরা ৪ ভাই একে অপরকে ৪ খানা ভুয়া দলিল সৃষ্টি করিয়া সমম্পূর্ণরূপে তঞ্চকি মুলে রেজিঃ করিয়া নিয়ে উল্লেখিত বাদীনি সহ ৩ বোনের প্রাপ্য ১২ শতক জমি জবর দখল করে এবং ৪ খানা ভুয়া দলিল কাথুলি ভূমি অফিসে দাখিল করিয়া নামজারি করে নেয়। বিষয়টি অবগত হওয়ার পর গাংনী সাব-রেজিঃ অফিস হইতে কপি উত্তোলন করিয়া নাম জারি কেসে আপত্তি জানাইলে বিবাদীরা বোনদের আপন ভাই হওয়ায় তাহারা আপোষে তাদের হিস্যা মতো নিম্নে তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি ফেরত দিতে চাহিয়া ফেরৎ না দিয়ে ঘুরাইতে থাকে এবং এক পর্যায়ে তারা ফেরত দেবে না বলে জানিয়ে দেয়।

এদিকে, আদালতের নির্দেশে কুষ্টিয়া পিবিআই মামলাটি তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনের পিবিআই বলেন যে, বাদীনি আখতার বানুর বাবার পরিবারে ৪ ভাই (বিবাদী) ও ৩ বোন। বর্তমানে সবাই বিবাহিত, তাদের পৃথক-পৃথক সংসার আছে। ৩ বোনের মধ্যে মেঝো বোন আরিফা খাতুন ২০২৪ সালে মৃত্যু বরণ করেছে। নালিশী জমি রেকর্ডীয় মালিক ও তার ওয়ারিশদের মধ্যে সুষম বন্টনের নিমিত্তে ০১.০৪.২০০৪ খ্রি. তারিখে ২৭৭৫ নম্বর পারিবারিক বন্টন দলিলের মাধ্যমে তাদের বর্ণিত তফসিলের জমি বন্টন দলিল সম্পাদিত হয়। উক্ত দলিল মুলে বাদীনির মা মোজিরা খাতুন, স্বামী-শামসুজ্জোহা বিশ্বাস ২নং গাড়াবাড়িয়া মৌজার ৩১৪ নম্বর খতিয়ান ভুক্ত ৬০৮ নম্বর দাগের শ্রেণি ধানী ০.৭৪০০ একরের মধ্যে ০.৬৬০০ একর জমির মালিকানা অর্জন করেন। অবশিষ্ট ০.০৮০০ (৮শতক) একর জমি শামসুল আলম প্রাপ্ত হন। ইসলামী উত্তরাধিকার আইন (ফারায়েজ) মোতাবেক বাদীনির মা মোজিরা খাতুনের ০.৬৬০০ (৬৬ শতক) একর জমির ন্যায্য হিস্যা মোতাবেক প্রত্যেক ভাই চার জনে ১২ শতক করে মোট ৪৮ শতক এবং প্রত্যেক বোন ৬ শতক করে তিন বোন মোট ১৮ শতক জমি পাবে।

প্রতিবেদনে পিবিআই উল্লেখ করেন, আসামিরা দন্ডবিধির ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪০৬/৪২০/৫০৬ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

অপরদিকে, মেহেরপুর পৌর ভূমি কর্মকর্তা পৃথক প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

আদালতের বিচারক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে গত ২৭ এপ্রিল আসামি আপন চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

গত ৩মে রবিবার পুলিশ সামসুল ইসলাম খোকনকে আটক করে। গতকাল বুধবার সামসুল আলমের অপর দুই ভাই ইমদাদুল হক ও হেলালখান সহ তিনজন জামিন আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলায় বাদি পক্ষে অ্যাড. কামরুল হাসান এবং আসামী পক্ষে রফিকুল ইসলাম, পল্লব ভট্টাচার্য, মারুফ আহমেদ বিজন, মোখলেসুর রহমান স্বপন আইনজীবীর দায়িত্ব পালন করেন।




গাংনীর কাথুলিতে জমি দখল নিয়ে দ্বন্দ্ব, ১৪৪ ধারা জারি

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাথুলী গ্রামে ৫১ শতক জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। এ ঘটনায় আদালতে একাধিক মামলা ও রায় হলেও নতুন করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগকারী ইলিয়াস হোসেন জানান, প্রায় ৩৫ বছর আগে আরএস ৮১০ ও ৬১০ দাগভুক্ত দুই খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত ৩ বিঘা জমি তিনি ক্রয় করেন। জমিটির মালিকানা পূর্বে মঙ্গল খাঁ থেকে কিনারুন্নেসা, পরে আশরাফুল ইসলামের মাধ্যমে তার কাছে আসে। ক্রয়ের পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন।

তিনি আরও বলেন, শামসুদ্দিন নামের এক ব্যক্তি সামেদ আলীর দলিল দেখিয়ে জমির দাবি করেন। এ নিয়ে আদালতে মামলা হলে শামসুদ্দিন পরাজিত হন এবং রায় তার পক্ষেই যায়। এরপরও সামেদ আলীর ছেলে পুনরায় জমির দাবি করে আদালতে ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করেন। এতে জমিতে থাকা ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ শহিদুল ইসলাম বলেন, ইলিয়াস হোসেনের কাছে তাদের ৫১ শতক জমি পাওনা রয়েছে। এ কারণে তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। তার অভিযোগ, ইলিয়াস হোসেন পেশিশক্তি প্রয়োগ করে জমিতে চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) আল মামুন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আদালত থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, উভয় পক্ষকেই সংশ্লিষ্ট জমিতে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।




দেশের প্রত্যেকটি জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলা হবে

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, পর্যায়ক্রমে দেশের প্রত্যেকটি জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলা হবে। এরই মধ্যে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে খেলার মাঠ গড়ে তোলার জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে অংশগ্রহণকারী ক্ষুদে ক্রীড়াবিদরা আগামীতে বিকেএসপিতে অন্তর্ভুক্ত হবে। সারাদেশের সবগুলো জেলায় একযোগে ৮টি ইভেন্টে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চলছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই প্রতিযোগিতার সার্বিক খবর রাখছেন।

সোমবার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহের শৈলকূপায় বিকেএসপির সম্ভাব্য আঞ্চলিক ক্যাম্পাসের স্থান পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নতুন অধ্যায়ের পথে হেঁটে চলেছে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে ক্রীড়া ইভেন্টগুলো পৌঁছে দিতে সরকার নানা ভাবে

কাজ শুরু করেছে। বিগত দিনের ইতিহাস আমাদের ভুলে যেতে হবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে স্পোর্টসের বাংলাদেশ।

পরিদর্শনস্থলে পৌঁছালে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ, শৈলকূপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ প্রমুখ।

এছাড়া রাত ৮টায় জেলা শহরের একটি রিসোর্টে সোনালী অতীত ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত জেলার বর্তমান ও সাবেক খেলোয়াড়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় জেলার খেলাধুলার সার্বিক অবকাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জেলায় একটি জিমনেসিয়ামসহ সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




আলমডাঙ্গায় ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার

আলমডাঙ্গায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মাদক বিক্রয় ও সংরক্ষণে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাঁচকমলাপুর পুলিশ ক্যাম্পের এসআই (নিঃ) আহম্মদ আলী সঙ্গীয় ফোর্সসহ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার রংপুর বিলপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

অভিযানকালে রংপুর গ্রামের মৃত মিনারুল মণ্ডলের ছেলে মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, উদ্ধারকৃত গাঁজা বিক্রয়, সংরক্ষণ ও হেফাজতে সহযোগিতার অভিযোগে আরও দুইজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




কার্পাসডাঙ্গায় মাদ্রাসা শিক্ষককে বিরুদ্ধে ছাত্র বলাৎকারের অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের হুদাপাড়া দারুল কোরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের জেরে ক্ষুব্ধ জনতা ওই শিক্ষককে জুতার মালা পরিয়ে চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয়।

অভিযুক্ত শিক্ষক নুরুল ইসলাম মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান গ্রামের বাসিন্দা। জানা গেছে, মাদ্রাসার এক ছাত্র (ছদ্মনাম: সারাফাত), যার বাড়ি জীবননগরের ডুমুরিয়া এলাকায়, তাকে কয়েক মাস আগে বলাৎকার করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

ছাত্রটি ছুটিতে বাড়ি গিয়ে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানায়। পরে গত রোববার পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হলে ওই রাতেই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক নুরুল ইসলামকে ডেকে এনে তার গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয় এবং চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয়।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেন, নুরুল ইসলাম আগে বিভিন্ন মাদ্রাসায় বাবুর্চির কাজ করতেন। তিনি কীভাবে শিক্ষক হলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, নুরুল ইসলাম শিবনগর এলাকা থেকে ছাত্র সংগ্রহ করে হুদাপাড়ায় মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন এবং তার বিরুদ্ধে আগেও নানা অভিযোগ ছিল।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নুরুল ইসলাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, আগে বিভিন্ন মাদ্রাসায় বাবুর্চির কাজ করলেও পড়াশোনা করে পরবর্তীতে শিক্ষক হয়েছেন।

এদিকে, স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন এবং প্রকৃত দোষীদের শাস্তির আহ্বান জানিয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।




মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট

বাসের চালক ও শ্রমিককে মারধরের প্রতিবাদে মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সোমবার (৪ মে) সকাল খেকে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে মেহেরপুর থেকে ছেড়ে যায়নি কোন বাস।

এর আগে রোববার প্রশাসনের সাথে বৈঠকের পরও মেলেনি কোন সমাধান। রাতে শ্রমিকদের সাথে বসে এ পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে বলে জানান শ্রমিক নেতারা।

মেহেরপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আহসান হাবীব সোনা জানান, রোববার দুপুরে মেহেরপুর থেকে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় গোল্ডেন ট্রাভেলস নামের একটি বাস। বাসটি আমঝুপি এলাকায় পৌঁছালে একই পথে চলাচলরত একটি মোটরসাইকেলের ওভারটেক করতে গিয়ে বিরোধ বাধে। এ সময় মোটরসাইকেল আরোহী রাব্বি বাসের চালক সোহেল রানা ও সুপারভাইজারকে মারধর করে। এই মারধরের প্রতিবাদে এ রুটে বাস ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় তারা এ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলেও জানান তিনি।

এ রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

মেহেরপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান জানান, প্রশাসনের সাথে বসে আজ এর সুষ্ঠু সমাধান চান তারা। সমাধান না হলে জেলার আন্তঃজেলার সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে। তাতেও সমাধান না হলে প্রয়োজনে দূরপাল্লার সকল পরিবহণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রমিকরা।




ধর্ষণের অভিযোগ ওঠা গাংনীর সেই আলোচিত প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

ছাত্রীকে ধর্ষন ও অশ্লীল ভিডিও কান্ডে ভাইরাল হওয়া মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের হাড়াভাঙ্গা এইচ বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আলোচিত সেই প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদ কে চুড়ান্ত বরখাস্ত করেছে যশোর শিক্ষা বোর্ডের আপিল এন্ড আর্বিট্রেশন কমিটি।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের নির্দেশে বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর ড. মোঃ কামরুজ্জামান গত ২৯ এপ্রিল বরখাস্তের চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের চিঠি সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোতে দিয়েছে।

দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গতকাল (২৪ফেব্রুয়ারি২০২৬)মঙ্গলবার মেহেরপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদুর রহমানের আদালতে আত্মসমর্থন করে জামিনের আবেদন করে। বিচারক তার জামিন আবেদন নাম মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেয়।

সেই থেকে এখন পর্যন্ত জেল হাজতে রয়েছে প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদ ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আতোয়ার জানান, মামলার আলামত ফরেনসিক প্রতিবেদনের  জন্য ঢাকায়  পাঠানো হয়েছে। এছাড়া তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দেয়া হবে।

এছাড়া প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদের বিরুদ্ধে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭/৯(১)/১০ ধারায় সপ্না খাতুন গত ২৪ নভেম্বর সোমবার মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার আবেদন করেন। বিচারক আলী মাসুদ শেখ আবেদনটি আমলে নিয়ে মামলা নথিভুক্ত করতে গাংনী থানাকে নির্দেশ দিলে গত ২৮ নভেম্বর মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। গাংনী থানার মামলা নং ৩৪। আদালতের মামলা নম্বর ৩৬৬/২৫।

এদিকে শিক্ষা বোর্ডের বরখাস্তের চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ১৫-০৪-২০২৬ খ্রি. তারিখে অনুষ্ঠিত আপিল এন্ড আর্বিট্রেশন কমিটির ৮৯তম সভার ৮৯(২) নং আলোচ্যসূচির ১২ (বার) নং ক্রমিকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক মেহেরপুর জেলার গাংরী উপজেলাধীন এইচ. বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়-এর সাময়িক বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক জনাব রাজু আহমেদ-কে চূড়ান্ত বরখাস্তকরণে অনুমতি প্রদানের জন্য আপিল এন্ড আর্বিট্রেশন কমিটির সভায় চূড়ান্ত বরখাস্তের আবেদন মঞ্জুর করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

সপ্না খাতুন তার মামলার এজাহারে দাবি করেছে, কাজিপুর গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে প্রধান শিক্ষক মোঃ রাজু আহমেদ ২০২২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন তার অফিসে একা ডেকে নিয়ে নানা রকম প্রলোভনে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে হাত দেয়। বাধা দিতে গেলে মুখ চেপে ধরে খুন করে ফেলার হুমকি দিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষন করে। এভাবে ১০/১১/২০২৫ সাল পর্যন্ত দিনের পর দিন আমাকে স্কুলের অফিস রুম সহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে ধর্ষন করতে থাকে।

এছাড়া রাজু মাষ্টার তার মোবাইল ফোন থেকে তাকে ফোন করেন এবং যৌনাঙ্গ প্রদর্শন সহ বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে যৌন হয়রানী করতে থাকে দিনের পর দিন।

এই ভাবে আসামী আমার কুষ্টিয়াতে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে কুষ্টিয়া শহরে তার এক আত্মীয়ের বাড়ীতে নিয়ে স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষন করত।

শেষ ঘটনার তারিখ ও সময়ে বিয়ের কথা বলে তার অফিসে স্কুল ছুটির পরে ডেকে নিয়ে দরজা জানালা বন্ধ করে দিয়ে একাধিক বার জোর পূর্বক ধর্ষন করে।

নিরুপায় হয়ে ধর্ষক রাজু মাষ্টারের বিরুদ্ধে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭/৯(১)/১০ ধারায় মামলা দায়ের করেছি।

মামলায় তিনি ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সপ্নার আত্মীয়-স্বজনরা জানিয়েছেন, বহিস্কৃত প্রধান শিক্ষক রাজু ও তার সহযোগীদের চাপের মুখে রয়েছেন।

বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদ জেল হাজাতে থাকার কারনে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।




মেহেরপুর প্রতিদিনের ব্যবস্থাপনা সম্পাদকের বড় ভাই মিজানুর রহমান মজনু আর নেই

মেহেরপুর প্রতিদিনের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও জেলা প্রেস ক্লাবের  সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব চান্দুর বড় ভাই মিজানুর রহমান মজনু আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)

সোমবার ভোর ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

মরহুম মিজানুর রহমান মজনু পুরাতন বাস স্ট্যান্ড পাড়ার বাসিন্দা এবং মৃত ফরহাদ আলীর বড় ছেলে। জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন। বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা গ্রহণের পরও শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুর কাছে হার মানেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে সহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তার জানাজার নামাজ আজ সোমবার বাদ আছর হোটেল বাজার জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।




আলমডাঙ্গায় মোবাইল ছিনতাইকারী আটক

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ এক মোবাইল ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে। জানা গেছে, গত ২৯ এপ্রিল আলমডাঙ্গা আলতায়েবা মোড়ের ফ্রেন্ডস মেডিসিন কর্নারের কর্মচারী ও বেলগাছি গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে সাকিল আহমেদ কর্মস্থল থেকে সাইকেলযোগে রাত ৯টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন।

তিনি আলমডাঙ্গা সাতকপাট ব্রীজ সংলগ্ন পাকা রাস্তায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে আসা ৩-৪ জন দুর্বৃত্ত তাকে ঘিরে ধরে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে ভুক্তভোগী সাকিল আহমেদ আলমডাঙ্গা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

ঘটনার পর চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. বানী ইসরাইল ও এসআই (নিঃ) মো. আলমগীর কবীর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত মো. সাহিল রহমান ডন (২৭) কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি কুষ্টিয়া ইবি থানার শংকরদিয়া গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত ২ মে বেলগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে রাত ১টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।