মুজিবনগরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও পান্তা উৎসবে বিএনপির নববর্ষ উদযাপন

মেহেরপুরের মুজিবনগরে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টায় মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পান্তা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

বর্ষবরণ উপলক্ষে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পান্তা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল এবং ছাত্রদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

বৈশাখী শোভাযাত্রা ও পান্তা উৎসবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মশিউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, বাগোয়ান ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, দারিয়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান, মহাজনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক কালু এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনারুল ইসলাম।

এছাড়াও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সালাউদ্দীন, সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক লিংকন, বিএনপি নেতা জহিরুল ইসলাম সাজু, নিয়ত, ওমর ফারুকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

​সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শেষে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে ঐতিহ্যবাহী পান্তা উৎসবের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।




কৃষক কার্ড বিতরণে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই

কৃষক কার্ড বিতরণে রাজনৈতিক বিবেচনা করে অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাড. মো. আসাদুজ্জামান।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার আবাইপুরে কৃষক কার্ড বিতরণ শেষে তিনি সাংবাদিকদের সাথে এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার শপথ নেওয়ার পর থেকে নির্বাচনি প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পালন করে যাচ্ছে। কৃষকদের ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করেছে সরকার। আজ কৃষক কার্ড বিতরণ করা হলো। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে সরকার একের পর এক কাজ করে চলেছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, সংসদে বিরোধীদলের কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে বলে বিরোধীদল জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অভিযোগ করেছেন। কিন্তু আমরা বলতে চাই, সংসদে বিরোধীদলের সদস্যদের বরাদ্দের চেয়ে বেশি সময় দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে শৈলকুপার আবাইপুর ইউনিয়নের কৃপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কৃষক কার্ড উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এসময় অন্যদের মধ্যে জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে কৃষক কার্ডধারী ১৬৭৯ জন উপকারভোগী কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলার আবাইপুর ইউনিয়নের কৃপালপুর ব্লকের কৃষকরা পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপেই কৃষক কার্ড পাচ্ছেন।




মুজিবনগর সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে বৈশাখী শোভাযাত্রা

মেহেরপুর শহরে মুজিবনগর সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাজু হোসেনের নেতৃত্বে সংস্থার প্রধান কার্যালয় থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

পরে সংস্থার কার্যালয়ে বাংলা নববর্ষের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও তাৎপর্য তুলে ধরে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সঞ্চালনা করেন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাজু হোসেন এবং সভাপতিত্ব করেন সংস্থার সভাপতি শফিকুল ইসলাম (কান্ত)। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ বাংলা মাসের প্রথম দিন। এ দিনটি বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি পহেলা বৈশাখের তাৎপর্য সংস্থার সদস্যদের মাঝে তুলে ধরেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্থার কোষাধ্যক্ষ সজল আমিন, নির্বাহী সদস্য মোঃ আলী হোসেন, নির্বাহী সদস্য কুলসুম খাতুন, সদস্য আফরোজা সুলতানা, তামিম, হামজাসহ সংস্থার অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।




গাংনীতে নানা আয়োজনের পালিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মেহেরপুরের গাংনীতে পালিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ। এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলা প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে একটি মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়।

মঙ্গল শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ উত্তম কুমার দাস, পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলাসহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য, সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এছাড়াও পান্তা-ইলিশ ও লোকজ সাংস্কৃতিক উৎসবসহ দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।




নানা আয়োজনে মেহেরপুরে পহেলা বৈশাখ উদযাপন

মেহেরপুরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হলো পহেলা বৈশাখ। এবারের বৈশাখের প্রতিপাদ্য ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে জাতীয় সংগীত এবং ‘এসো হে বৈশাখ’ সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণিল বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়।

এতে অংশ নেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ খায়রুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা।

শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ শামসুজ্জোহা পার্কে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় নানা রঙে ও নানান সাজে সজ্জিত হয়ে নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা উৎসবে অংশ নেয়।

পরে সেখানে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়।

দিনব্যাপী জেলার বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়।




মেহেরপুরে সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম দ্বিগুণ, দিশেহারা ক্রেতারা

সপ্তাহের ব্যবধানে উৎপাদন এলাকায় সবজির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা হাতবদল হয়ে খুচরা বাজারে আরও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষিনির্ভর মেহেরপুরে হঠাৎ করেই সবজির দামে নাভিশ্বাস অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে ভোক্তাদের। বাজারে গিয়ে বাড়তি দামে হতাশ হয়ে পড়ছেন ক্রেতারা।

ভোক্তাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা কোনো অজুহাত পেলেই দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দেন। আর প্রশাসন শুধু নামেমাত্র বাজার মনিটরিংয়ের কথা বললেও এর তেমন কোনো প্রভাব বাজারে পড়ছে না।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, কৃষকদের কাছ থেকে অধিক দামে সবজি কিনতে হচ্ছে তাদের। তাছাড়া তেল সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি হাট ইজারা ও অন্যান্য খরচ বিবেচনা করে তারা দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।

কৃষকরা বলছেন, সার, বীজসহ সবকিছুর দাম বেড়েছে। বর্তমানে তেল সংকটের কারণে সেচ খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে, তাই দাম বাড়াটা স্বাভাবিক।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। কোনো ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার জেলার ঐতিহ্যবাহী বামন্দী বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৬০ টাকা কেজির পটল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা, ৪০ টাকার বেগুন ১২০ টাকা, ৪০ টাকার শসা (খিরা) ৮০ টাকা, ৪৫ টাকার গাজর ৭০ টাকা, ৪৫ টাকার ঢেঁড়স ১০০ টাকা, কাঁচা কলা ২৫ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা, ৬৫ টাকার বরবটি ১০০ টাকা, ৫০ টাকার কচুর লতি ৮৫ টাকা, ৬০ টাকার উস্তি ৮০ টাকা, ৩০ টাকার পুঁইশাক ৬০ টাকা, ৩০ টাকার টমেটো ৭০ টাকা এবং ৪০ টাকার ঝিঙে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে, আলতাপাটি আলু ২৫০ টাকা এবং প্রতি কেজি কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা দরে।

সবজি ক্রেতা স্বপন আলী বলেন, “বাজারে এখন কিছুই কেনার মতো অবস্থা নেই। যে বেগুন সপ্তাহখানেক আগে ৩০-৪০ টাকা কেজি ছিল, এখন ১২০ টাকা। পটলও গত হাটে ৩০ টাকায় কিনেছি, আজ ১০০ টাকা।”

আরেক ক্রেতা রাসেল আহমেদ বলেন, “পাম্পে তেল কম পাওয়া যাচ্ছে এই অজুহাতে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। পুঁইশাকও ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ, খাবো কী?”

সবজি বিক্রেতা সামসুল হক বলেন, “আমরা আড়তে গিয়ে দেখি সব সবজির দাম বাড়তি। তারা বলছে তেল সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে। আমরা যেমন দামে কিনি, তেমন দামে বিক্রি করি।”

আরেক বিক্রেতা নবীর আলী বলেন, “গত হাটে যে পটল ৩৫ টাকায় কিনেছি, আজ পাইকারি কিনতে হচ্ছে ৮৫ টাকায়। বেগুনও আগের ৪০ টাকার জায়গায় এখন ৯০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।”

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার আলী বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। কেউ যদি সিন্ডিকেট করে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




গাংনীতে বিষ পান করে মাদ্রাসা শিক্ষকের আত্মহত্যা

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় সাব্বির হোসেন (২৪) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষক ঘাস পোড়ানোর বিষ পান করে আত্মহত্যা করেছেন।

নিহত সাব্বির হোসেন গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের দেবীপুর স্কুলপাড়ার কাফিরুল ইসলামের ছেলে। তিনি একই ইউনিয়নের তেরাইল দারুচ্ছুন্নাত মোখতারিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার দুপুরে গাংনী উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামে, নিহতের নানার বাড়িতে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাব্বির হোসেন নিজ বাড়ি দেবীপুর গ্রাম থেকে নানার বাড়ি নওদাপাড়ায় বেড়াতে গিয়ে সেখানে ঘাস পোড়ানোর বিষ পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের মরদেহ রাতে নিজ বাড়িতে আনা হলে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি থানা হেফাজতে নেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, সাব্বির হোসেন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করার সময় এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে বহিষ্কার করে।

তেরাইল দারুচ্ছুন্নাত মোখতারিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার সভাপতি সম্রাট বিশ্বাস বলেন, সাব্বির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় মাদ্রাসা কমিটির পক্ষ থেকে তাকে কিছুদিন আগে বহিষ্কার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল করিম বলেন, “কীটনাশক পান করে সাব্বির হোসেন নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষক আত্মহত্যা করেছেন বলে আমরা খবর পাই। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”




মুজিবনগরে নানা উৎসবের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ

“নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান” এই স্লোগানে মুজিবনগরে বৈশাখী শোভাযাত্রা, পান্তা উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩।

মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে এ উপলক্ষে উপজেলা পরিষদের আয়োজনে একটি বৈশাখী শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি মুজিবনগর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে মুজিবনগর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে পান্তা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। পান্তা উৎসবের মাঝে মাঝে সাংস্কৃতি মঞ্চে শুরু হয় বাঙালির ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী গান দেশাত্মবোধক গান, পালা গান, লালন গীতি সহ নৃত্য পরিবেশন করা হয়।

মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল হুদার নেতৃত্বে বৈশাখী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল ইসলাম, অফিসার ইনচার্জ তদন্ত গৌতম কুমার, মুজিবনগর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল মোমিন, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মাহমুদুল হাসান,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হাফিজুর রহমান, মুজিবনগর উপজেলা জামায়াতের আমির খানজাহান আলী,এনসিপির মেহেরপুর জেলা যুগ্ন সমন্ময়ক আরিফ খান, মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রশিদ, মুজিবনগর উপজেলা জাসাস এর সভাপতি জুলফিকার আলী হেলাল, মুজিবনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ওমর ফারুক প্রিন্স।”

এদিকে বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্য তুলে ধরতে বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে গ্রাম বাংলার বিভিন্ন ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে।




গাংনীর গাড়াবাড়ীয়ায় আয়েশা এন্টারপ্রাইজের ৫ হাজার টাকা জরিমানা

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া হাটপাড়া এলাকায় আয়েশা এন্টার প্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার।

গতকাল সোমবার সকাল ১১ টা থেকে ১টা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মামুনুল হাসান।

এসময় আয়েশা এন্টার প্রাইজের লাইসেন্স ছাড়াই টাইলসের পুটিং, ভিক্সল জাতীয় পণ্য উৎপাদনের অভিযোগে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ধারা ৪৩ ধারা অনুসারে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। এবং দ্রুত সময়ে লাইসেন্স গ্রহণ করে ব্যবসা পরিচালনার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়। কারখানার উৎপাদন বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযান চলাকালে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো: তারিকুল ইসলাম ও জেলা পুলিশের একটি টিম।




আলমডাঙ্গার শালিকায় অবৈধ জ্বালানি তেল মজুতের অপরাধে জরিমানা

আলমডাঙ্গায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ২১৫ লিটার ডিজেল জব্দ এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার শালিকা এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অবৈধভাবে মজুদ করা ২১৫ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয় এবং নগদ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সোমবার বিকেলে এ অভিযানে বগাদি গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলামকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সোমবার শালিকা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় নজরুল ইসলামের কাছে অবৈধভাবে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ ডিজেল পাওয়া যায়, যা আইনবিরোধীভাবে মজুদ করা হয়েছিল।

পরে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে উদ্ধারকৃত ২১৫ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়।

অভিযানটি পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাকিল মোঃ শফিউল্লাহ।

অভিযান শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।