গাংনীতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় অজ্ঞাত বৃদ্ধের মৃত্যু

মেহেরপুরের গাংনীতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক অজ্ঞাত বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে গাংনী-মেহেরপুর সড়কের পোড়াপাড়া বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী পোড়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, অজ্ঞাত ওই বৃদ্ধ রাস্তা পার হওয়ার সময় গাড়াডোব এলাকা থেকে গাংনীমুখী দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১১টার পর তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফিরোজ আহমেদ জানান, নিহত বৃদ্ধ প্রায় দেড় বছর ধরে পোড়াপাড়া বাজারের বিভিন্ন দোকানের সামনে অবস্থান করতেন। স্থানীয়দের দেওয়া খাবার খেয়েই তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. এম কে রেজা ও ইশতিয়াক আহমেদ মাসুম জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা ওই বৃদ্ধ পরে মারা যান।

এ বিষয়ে গাংনী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার বলেন, নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় জড়িত মোটরসাইকেল চালককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।




মেহেরপুরে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা বিতরণ

মেহেরপুরে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এ সহায়তা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।

এসময় তিনি বলেন, অতীতে যারা রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন, তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব। বর্তমান উদ্যোগের মাধ্যমে সেই দায়িত্ব পালনের একটি প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সহায়তা পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। স্বামী হত্যার শিকার মোছা. ফুল খাতুন বলেন, “প্রায় ১০ বছর আগে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়। এই সহায়তা পেয়ে আমি খুশি।”

অপর ভুক্তভোগী মোছা. কানচোনা বলেন, “২০১০ সালে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়। ঈদের সময় এ সহায়তা পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আনসারুল হক, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এহান উদ্দিন মনা, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মিজান মেননসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।




শৈলকুপায় তেল পাম্পে ভাই-বোনকে বেধড়ক পেটালো পুলিশ কনস্টেবল

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পাম্পে তেল কিনতে গিয়ে মারধর ও হামলার শিকার হয়েছে ভাই-বোন। পুলিশের এক কনস্টেবল ও ইউনিয়ন যুবদল নেতার ছেলে তাদের বেধড়ক মারপিট করে।

মারপিট করার পর টেনে হিচড়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে কিছু হয়নি শর্তে মুচলেকায় স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করে ওই ক্যাম্পের আইসি। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার লাঙ্গলবাধ তেল পাম্পে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী যুবক শৈলকুপা উপজেলার হাবিবপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম অভিযোগ করেন মঙ্গলবার রাতে তিনি তার বোন ও ভাগ্নে দুই মোটরসাইকেলে লাঙ্গলবাধ পাম্পে তেল কিনতে যান।

রবিউলের গাড়িতে বোতলে জরুরি অবস্থার জন্য তেল রাখা ছিলো। তেল নিয়ে মোটরসাইকেল স্টার্ট করার সময় লাঙ্গলবাধ পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল (বিপি নং-কং ১২৪২) উজ্জল মল্লিক সিভিল পোশাকে কোন পরিচয় না দিয়ে রবিউলকে মারধর করে।

মারধরের সময় রবিউলের বোন জেসমিন খাতুন ও ভাগ্নেকে মারধর শুরু করে কনস্টেবল উজ্জল মল্লিক ও ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক লাল্টু মন্ডলের ছেলে রিজওয়ান। রবিউল ও তার বোনকে মারপিট করে টেনে হিচড়ে টেনে নিয়ে যায় স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে। করা হয় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ।

একপর্যায়ে কিছু ঘটেনি এমন মুচলেকায় জোরপুর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার চেস্টা করে ওই পুলিশ ক্যাম্পের আইসি এস আই আনিছুজ্জামান। পরে স্থানীয়দের সহযোগীতায় বাড়ি ফেরে ভুক্তভোগী রবিউল তার বোন ও ভাগ্নে।

রবিউল অভিযোগ করে বলেন, আমার বাড়ি থেকে বেশ দুরে তেলপাম্পটি। পথে কোথায় তেল ফুরিয়ে গেলে জরুরীর জন্য বোতলে ২০০ গ্রাম তেল রেখেছিলাম। সেই তেল দেখে কনস্টেবল উজ্জল মল্লিক কোন কথা ছাড়াই আমাকে মারধর শুরু করে। আমি বাঁধা দিলে দুইজনে বেধড়ক মারপিট করে।

এমনকি আমার বোনকে মাটিতে ফেলে পেটাতে থাকে। শুরুর দিকে তার পরিচয় জানতে পারিনি আমরা। পরে জানার পর আর কোন প্রতিবাদ করতে পারিনি।

অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্ত কনস্টেবল উজ্জল মল্লিক বলেন, গতকাল একটু কথা-কাটাকাটি হয়েছিলো। রাতেই তো সেটা ঠিক হয়ে গেছে।

ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক লাল্টু মন্ডলের ছেলে রিজওয়ান বলেন, আমি তো মারধর করিনি। আমি উল্টো উনাদের ঠেকিয়েছি।
এ ব্যাপারে লাঙ্গলবাধ ক্যাম্প’র আইসি এস আই আনিসুজ্জামান বলেন, গতকাল একটু ভুলবুঝাবুঝি হয়েছিল। স্থানীয়রা বিষয়টি মিসাংসা করে দিয়েছে। আমরাও তাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। একটা ঘটনা ঘটে গেলে কিছু তো করার নেই।




মহেশপুরে ট্রাকের ধাক্কায় ভ্যানযাত্রী নারী নিহত, আহত-১

ঝিনাইদহের মহেশপুরে তেলবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ফুলঝুরি বেগম (৪৫) নামের ভ্যানের যাত্রী এক নারী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে তার ছেলে লাভলু। বুধবার সকালে উপজেলার খালিশপুর কোল্ড স্টোরেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার নিমতলা গ্রামের ফকির আহমেদের স্ত্রী ফুলঝুরি বেগম সকালে ছেলে লাভলুকে নিয়ে ভ্যানে করে চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছিলেন।

পথে ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের ওই স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি তেলবাহী ট্রাক ভ্যানটিকে ধাক্কা দিয়ে চাপা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এতে ঘটনাস্থলেই ফুলঝুরি খাতুনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁর ছেলে লাভলুকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে পাঠানো হয়।

এদিকে মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে আহতের চিকিৎসা ও পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।




ঝিনাইদহে স্বপ্ন সারথীর উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ঝিনাইদহে ‘স্বপ্ন সারথী ’ সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে সমাজের দুস্ত-অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) শহরের উপশহর পাড়ার এক স্কুল মাঠে এই ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

স্বপ্ন সারথীর সভাপতি ড. তপন কুমার গাঙ্গুলির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ (অব:) মোহাব্বত হোসেন টিপু। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির উপ-পরিচালক হায়দার আলী, রয়েল ডায়াগোনষ্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী ডা. রেজাউল ইসলাম রেজা, পুলিশ কর্মকর্তা গোলাম মোহাম্মদ গামা, অংকুর নাট্য একাডেমির সদস্য সচিব নাজিম উদ্দীন জুলয়াস, সংযোগ ফাউন্ডেশনের জেলা কো-অর্ডিনেটর মুন্সী আবু হাসান, কৌতুক অভিনেতা ও সমাজ কর্মী, হুমায়ন কবিরী টুকু, নবগঙ্গা ফিটনেস একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক কাজী আলী আহম্মেদ লিকু এবং স্বপ্ন সারথীর প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক কাজী মোহাম্মদ আলী পিকুসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সাংবাদিক মোঃ শাহানুর আলম।

অনুষ্ঠানে ২’শ নারী-পুরুষের মাঝে ঈদের পোষাক ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।




মুজিবনগরে সম্প্রীতি অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত

তরুণদের সামাজিক উদ্যোগ প্রকল্পের আওতায় কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের “মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি (এমআইপিএস)” প্রকল্পের আওতায় এবং এফসিডিও’র অর্থায়নে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলায় অনুষ্ঠিত হলো “সম্প্রীতি অলিম্পিয়াড ২০২৬”।

মঙ্গলবার মুজিবনগর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে ওয়াইপিএজি মুজিবনগরের আয়োজনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সঞ্চালনায় ছিলেন পিএফজি’র সমন্বয়কারী ওয়াজেদ আলী খান।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, ওয়াইপিএজি সদস্য এবং ৮ম থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য রাখেন পিএফজি সদস্য ও ওয়েভের সমন্বয়কারী রুকসানা খাতুন, যশোর অঞ্চলের হিসাবরক্ষক অধীশ দাশ, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও পিস অ্যাম্বাসেডর মুনশী মোকাদ্দেস হোসেন এবং ওয়াইপিএজি সমন্বয়কারী রিয়াজ শেখ।

কুইজ প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা সম্প্রীতি ও সাধারণ জ্ঞানের ওপর ৫০টি প্রশ্নে অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতা শেষে সেরা তিনজন বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে পুরস্কার প্রদান করা হয়। পাশাপাশি অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য মুজিবনগর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

বিজয়ীরা হলো প্রথম: মোছা. মোহনা খাতুন (৮ম শ্রেণি), দ্বিতীয়: আদিবা নুসরাত (৮ম শ্রেণি), তৃতীয়: সুব্রত প্রামাণিক (নবম শ্রেণি)।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও শান্তির গুরুত্ব নিয়ে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে। তারা বলেন, সমাজে হিংসা ও বিদ্বেষের বিরুদ্ধে তরুণদেরই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তি এড়িয়ে সহনশীল সমাজ গড়ার আহ্বান জানায় তারা।

অনুষ্ঠানের শেষাংশে “আজকের তরুণরাই আগামীর সম্প্রীতি রক্ষার নেতৃত্ব দেবে” এই স্লোগানে অঙ্গীকার গ্রহণের মাধ্যমে আয়োজনটির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।




মেহেরপুরে লাইসেন্স ও হেলমেট না থাকায় জরিমানা, ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন

মেহেরপুরে লাইসেন্স ও হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালানোর দায়ে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শেখ তৌহিদুল কবীরের নেতৃত্বে উপজেলার মা ফিলিং স্টেশন, শতাব্দী ফিলিং স্টেশন এবং জেড. কে ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করা হয়। এ সময় ফিলিং স্টেশনগুলোতে স্বাভাবিক কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়।

পরবর্তীতে সদর উপজেলার আমঝুপি এলাকায় সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে মোটরসাইকেলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকা এবং চালকদের হেলমেট না পরার দায়ে ৪টি পৃথক মামলায় মোট ১ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

এ সময় আইন অমান্যকারীদের সতর্ক করা হয় এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।




মেহেরপুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে জেলা প্রশাসনের সহায়তা

মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা গ্রামে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত জিনারুল ইসলামের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

এ সময় জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. সৈয়দ এনামুল কবির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন। তিনি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং ধৈর্য ধারণ ও মনোবল অটুট রাখার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন সবসময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

পরে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা, ২ বান্ডিল ঢেউটিন, ২ বস্তা শুকনো খাবার এবং ২টি কম্বল প্রদান করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. খায়রুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।




আলমডাঙ্গায় অতিরিক্ত দামে জ্বালানি তেল বিক্রির অপরাধে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

আলমডাঙ্গার হাটবোয়ালিয়া বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রির অপরাধে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে।

জানা যায়, গত সোমবার রাতে হাটবোয়ালিয়া বাজারে পেট্রোল প্রতি লিটার ১৪৯ টাকা দরে এবং প্রতি মোটরসাইকেলে ২০০ টাকা হারে বিক্রি করা হচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা প্রশাসনকে অবহিত করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান পরিচালনা করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পান্না আক্তার। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ৪৬ মিনিটের দিকে হাটবোয়ালিয়া বাজারে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়।

অভিযানে “পলাশ অটো মবিল পান্না ট্রেডার্স” নামক প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় তাৎক্ষণিকভাবে আশিকুর রহমান পান্নাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, বাজারে জ্বালানি তেলের বিক্রয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সময় অনিয়মের সত্যতা মেলায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, কেউ যদি সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে পণ্য বিক্রি করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




চুয়াডাঙ্গায় নবাগত পুলিশ সুপারের সাথে ইউনিট ইনচার্জদের পরিচিতি সভা

চুয়াডাঙ্গায় নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই জেলা পুলিশের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জনমুখী করার লক্ষ্যে উদ্যোগী হয়েছেন। তারই অংশ হিসেবে জেলা পুলিশের সকল ইউনিট ইনচার্জদের সাথে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুর ২টায় পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় তিনি পর্যায়ক্রমে উপস্থিত সকল কর্মকর্তার সাথে পরিচিত হন, কুশল বিনিময় করেন এবং শুভেচ্ছা জানান। উন্মুক্ত আলোচনাভিত্তিক সভায় পুলিশের ইউনিট ইনচার্জগণ জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সভায় পুলিশ সুপার জেলার আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা, জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমনে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেন। বিশেষ করে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, সড়ক ও মহাসড়কে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি বন্ধ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দেন।

তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনই পুলিশের মূল লক্ষ্য। সেবাপ্রার্থী মানুষের সঙ্গে আন্তরিক, মানবিক ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি সদস্যকে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে হবে এবং যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এ সময় তিনি ইউনিট ইনচার্জদের নিজ নিজ এলাকায় সার্বক্ষণিক তৎপর থাকার নির্দেশ দেন এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান সাফল্য অর্জনের আহ্বান জানান। সভায় জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।