স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, চিকিৎসায় আন্তরিকতা ও রোগীদের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান

স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, চিকিৎসা সেবায় আন্তরিকতা এবং রোগীদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ তাজউদ্দিন খান।

তিনি বলেন, কোনো রোগী যখন ডাক্তারের কাছে যায়, তখন সে মনে করে তাকে ঠিকভাবে দেখা হয়নি। আবার চিকিৎসকরা যখন ২৪ ঘণ্টা সেবা দিয়ে যান, তখন তারা মনে করেন তারা যথাযথ চিকিৎসা দিচ্ছেন। এই দূরত্ব কমাতে পারস্পরিক বোঝাপড়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন, মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে যেখানে ১৭৭ জন চিকিৎসক থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে আছেন মাত্র ২৫ জন। এছাড়াও অন্যান্য জনবলেরও সংকট রয়েছে। “এই সীমিত সম্পদই আমাদের পুঁজি এই পুঁজিকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে সর্বোত্তম সেবা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে আমাদের ভাবতে হবে,” যোগ করেন তিনি।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের হলরুমে চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোঃ সাজ্জাদ হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য তাজউদ্দিন খান।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএমএ মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি ডা. এম এ সালাম, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সূরা কমিটির সদস্য ও সেক্রেটারি মো. ইকবাল হুসাইন, জেলা রাজনৈতিক সেক্রেটারি রুহুল আমিন, সদর উপজেলা আমির সোহেল রানা, সদর উপজেলা সেক্রেটারি জাব্বারুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মতবিনিময় সভায় হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং সেবার মানোন্নয়নে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।




মুজিবনগরে বাথরুমে রাখা বালতিভর্তি পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

মেহেরপুরের মুজিবনগরে বাথরুমে রাখা বালতিভর্তি পানিতে ডুবে ইব্রাহিম ইবনে আরিয়ান নামের দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

আজ শনিবার ( ২৫ এপ্রিল) সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দারিয়াপুর খান কালিতলা মোড় এলাকায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে।

শিশু আরিয়ান একই এলাকার শরিয়ত হোসেন দুদুর ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় শিশুটি বাড়ির ভেতরে খেলা করছিল। পরিবারের সদস্যদের অগোচরে সে বাড়ির বাথরুমে ঢুকে পড়ে। সেখানে পানিভর্তি একটি বালতির মধ্যে উপুড় হয়ে পড়ে গেলে শিশুটি আর উঠতে পারেনি। বেশ কিছুক্ষণ তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তার মা বাথরুমে উঁকি দিয়ে দেখতে পান বাথরুমে থাকা পানি ভর্তি বালতির মধ্যে শিশুটি ডুবে আছে। তাকে নিথর অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

ছোট্ট আরিয়ানকে হারিয়ে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




মুজিবনগরে সম্প্রীতি চর্চা ও মাদক থেকে দূরে রাখতে তরুণদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার রশিকপুর গ্রামে তরুণদের মধ্যে সম্প্রীতির চর্চা জোরদার করা এবং মাদক ও ডিজিটাল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পিএফজি (পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ) সমন্বয়কারী মো. ওয়াজেদ আলি খানের নিজস্ব উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার বিকেলে এক ক্রীড়া আয়োজন ও ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল তরুণদের মাঠমুখী করা এবং খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের মাঝে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলা। বর্তমান সময়ে স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও মাদকের ঝুঁকি তরুণ সমাজকে উদ্বেগজনক অবস্থায় ফেলেছে। এমন প্রেক্ষাপটে রশিকপুর গ্রামের তরুণদের সুস্থ বিনোদনের দিকে আকৃষ্ট করতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী তরুণদের মাঝে নতুন জার্সি, প্যান্ট ও ফুটবল বুট বিতরণ করা হয়। পরে গ্রামের মাঠে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, যা উপস্থিত সবার মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। নতুন ক্রীড়াসামগ্রী পেয়ে খেলোয়াড়দের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।

পিএফজি সমন্বয়কারী মো. ওয়াজেদ আলি খান বলেন, “আমাদের তরুণদের মাঝে কেবল সম্প্রীতির বার্তা দিলেই হবে না, বরং তাদের মাঠে নামিয়ে সম্প্রীতির চর্চা করাতে হবে। খেলাধুলা মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে এক হওয়ার সুযোগ করে দেয়। তারা যেন ডিভাইসের নেশা ও মাদকের মরণছোবল থেকে দূরে থেকে সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপন করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।”

অনুষ্ঠানে স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেন এবং এমন উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। অভিভাবকরাও মনে করেন, এ ধরনের কার্যক্রম তরুণদের বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করে সমাজে শান্তি ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।




দিনে গড়ে বিদ্যুৎ থাকছে ১০ থেকে ১১ ঘন্টা

মেহেরপুরের পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকাগুলো ২৪ ঘন্টায় ১০ থেকে ১১ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে গ্রাহকরা। বাকি ১৩ থেকে ১৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে।

একদিকে ভ্যাপসা গরম এর সাথে যোগ হয়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। সবমিলিয়ে গ্রামাঞ্চলের মানুষের জনজীব বিষন্ন হয়ে পড়েছে।

সরকারিভাবে খুব বেশি বিদ্যুতের সমস্যা না দেখালেও মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ বলছে চাহিদার ৫০ শতাংশও তারা পাচ্ছে না , ফলে লোডশেডিং দিতে হ্চ্ছে।

গ্রামাঞ্চলে খোজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল কিংবা, দিন কিংবা রাত সমানতালে এক ঘন্টা পরপর লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। সারাদিন কাজ করে মানুষ রাতে ঘুমাবে বিৎ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে ঘুমাতেও পারছেন। এছাড়া চলতে এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও পড়েছে চরম বিপাকে।

চাষীদের ‎অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গাংনী জোনাল অফিসের (ডিজিএম) শফিউদ্দিন আহমেদ যোগদান করার পর থেকে অনিয়মের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা শুরু করেছে।স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের অনুগত এই কর্মকর্তা সরকার ও সাধারণ চাষীদের বিপদে ফেলতে এই অনিয়ম শুরু করেছেন। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘন্টা বিদ্যুৎ দিচ্ছে। বাকী ২১ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে রেখেছেন।

‎ভুক্তভোগী ধর্মচাকী গ্রামের কৃষক ও সেচ পাম্পের মালিক মুসফিকুর রহমান বাবলু, হুমায়ুন কবির ও তাহাজুল ইসলাম জানান, বিদ্যুতের অভাবে আমাদের মাঠে প্রায় ৫০০ বিঘা আবাদি জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে রয়েছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে এই অঞ্চলে ২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ দেয়া হচ্ছে, বাকী ২২ ঘন্টা লোডশেডিং দেখিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন, ৩ ঘন্টা পর পর ১০মিনিট করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার ফলে কোন জমিতেই সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, অল্প সময়ের মধ্যেও যদি সমাধান না হয় তাহলে এই অঞ্চলে খাদ্য সংকট দেখা দিবে। এঘটনায় জেলা প্রশাসকের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন উপজেলার কৃষকরা।

‎জ্বালানি সংকট, সেই সাথে বিদ্যুৎ না পেয়ে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।আগামী বছরে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা করছেন কৃষি বিভাগ।
‎স্থানীয়রা জানান, বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার বিষয়ে (ডিজিএম) শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন সরকারী ভাবে আগের থেকে বাংলাদেশে জ্বালানীর অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে। যার কারণে লোডসেডিং হচ্ছে বলে আমাদের জানিয়েছেন। তারা আরও বলেন, আমরা শুনেছি বাংলাদেশে বিদ্যুতের কোন ঘাটতি নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে শত ভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করেছেন।
‎সেখানে (ডিজিএম) শফিউদ্দিন যোগদান করার পর থেকে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্থ করার জন্য সাধারন গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা শুরু করেছেন।

‎গাংনী উপজেলার ধর্মচাকী গ্রাম বিএনপির সভাপতি আব্দুল গনি জানান, সরকারী ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কোন সমস্যা নেই। গাংনী জোনাল অফিসে আগে যেসকল কর্মকর্তা দায়িত্বে ছিলেন তখন বিদ্যুৎ সরবরাহ সঠিক ভাবে করেছে। এর আগে গাংনী জোনাল অফিসে যত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ ছিলো বর্তমানে সরকারী ভাবে তাই আছে শফিউদ্দিন সরকারের উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্থ করার জন্য এমন শুরু করেছে।

‎এব্যাপারে গাংনী জোনাল অফিসের কর্মকর্তা (ডিজিএম) শফিউদ্দিন আহমেদ এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন এই ব্যাপারে আমি কোন বক্তব্য দিতে পারবো না, আপনারা জিএম স্যারের সাথে কথা বলেন।

গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যুতের তেমন ঘাটতি নেই। একটি গোষ্ঠী সিন্ডিকেট তৈরি করে কৃত্তিম সংকট তৈরি করছে, আমার গাংনী উপজেলার সাধারণ মানুষ প্রায় প্রতিদিনই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের বিষয়টি আমাকে অবগত করেছে।

আমি খোঁজ খবর নিবো কি কারুনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে, বিনা কারণে যদি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখে বা সরকারী উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্থ করে তাহলে (ডিজিএম) এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যাপারে মেহেরপুর জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক মাহাবুবুর রহমান বলেন, মেহেরপুরের ৯০ ভাগ মানুষ কৃষি নির্ভরশীল, জ্বালানি ও কৃষি প্রণোদনা কৃষকদের মাঝে সরাসরি দেয়ার জন্য মেহেরপুর জেলা কৃষি অফিসারের নিকট তিনি অনুরোধ করেছেন, কিন্তু উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজসে স্থানীয় দালালদের সহযোগিতায় সার, বীজ ও জ্বালানির সংকট তৈরি করছে। তাতে উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে।ইতিমধ্যেই সরকার গত বছরের তুলনায় এবছর ৪০ পারসেন্ট জ্বালানি বৃদ্ধি করা সত্ত্বেও যে সংকট চলছে তা একেবারেই কৃত্রিম।

‎এখানে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে।‎

‎এ ব্যাপারে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাভেদ মাসুদ মিল্টন জানান রাষ্ট্রীয়ভাবে জ্বালানি তেলের কোন সংকট নেই। একটি গোষ্ঠী সংকট তৈরি করছে, এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে সজাগ থাকতে হবে। সংকট সমাধানে সরকার কাজ করছে।

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান উপজেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে কৃষকদের ডিজেল কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে এবং কার্ড অনুযায়ী কৃষকরা জ্বালানি সরবরাহ করছে।

মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার স্বদেশ কুমার ঘোষ বলেন, গরম পড়লে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে। বর্তমানে মেহেরপুর জেলা চাহিদার ৫০ শতাংশও পাচ্ছি না। যার ফলে এভাবে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আবাহাওয়া ঠাণ্ডা হলে বিদ্যুতের চাহিদা কমে যায়, তখন লোডশেডিং করা লাগে না। ’




মেহেরপুরে মুরগির দাম কমলেও অস্থির সবজি বাজার

সরবরাহ কমসহ নানা অজুহাতে মেহেরপুরের বাজারে এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বেশিরভাগ সবজি। অধিকাংশ সবজির দাম ৫০ থেকে ৮০ টাকার ওপরে থাকায় সাধারণ ক্রেতারা স্বস্তি পাচ্ছেন না। যদিও কিছুটা কমেছে মুরগির দাম।

গতকাল শুক্রবার সকালে মেহেরপুরের বড় বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বড় বাজারের কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি বেগুন ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ফুলকপি ৬০ টাকা, শশা ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, কচু ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি আটি লাল শাক ২০ টাকা এবং কলা প্রতি পিস ৩০ টাকা। কাঁঠালের এক ফালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। গত সপ্তাহে কচু ছিল ৮০ টাকা এবং বেগুন ৯০ টাকা, যা এখন কিছুটা কমেছে।

মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে কাঁচা মরিচ খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি , পেঁয়াজ ৩০ টাকা, দেশি রসুন ৮০ টাকা, আদা ১৫০ টাকা এবং আলু ২০ টাকা কেজি।

পাইকারি বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় খুব বেশি পরিবর্তন নেই। আলুর দাম ১৩ টাকা কেজি অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশি পেঁয়াজ ২৮ টাকা থেকে বেড়ে ৩০ টাকা হয়েছে। রসুন ৫৫ টাকা কেজি অপরিবর্তিত রয়েছে। কাঁচা মরিচ ৩০ টাকা কেজি এবং আদা ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা নন্দ সরকার বলেন, কিছু সবজির দাম কমলেও মোট খরচ কমছে না। একটার দাম কমলে আরেকটার বাড়ে।

আরেক ক্রেতা জানান, বেগুন, কাকরোলসহ অনেক সবজির দাম এখনো বেশি। পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী সব কিনতে গেলে হিসাব মেলানো কঠিন।

সাইদুর বলেন, আগে যে টাকায় কয়েকদিনের বাজার করা যেত, এখন তা একদিনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
সাগর মন্ডল বলেন, দাম কমার কথা শুনে এসেছিলাম, কিন্তু বাস্তবে তেমন সুবিধা পাইনি। বড় পরিবারের জন্য এই বাজার সামলানো কঠিন।

বিক্রেতারা জানান, বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও সরবরাহ কম থাকায় দাম পুরোপুরি কমছে না। স্থানীয় চাষিরা বেশি লাভের আশায় অন্য জেলায় সবজি পাঠাচ্ছেন, যার প্রভাব পড়ছে মেহেরপুরের বাজারে।

সবুজ ভান্ডারের ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান বলেন, আগের মতো ব্যবসা নেই। এখন এক দিনের বিক্রি সাত দিনে হয়। পরিবহন খরচ একই থাকলেও বাইরে পাঠিয়ে চাষিরা বেশি লাভ পাচ্ছেন।

হুজাইফা নামে আরেক বিক্রেতা বলেন, বাজারে চাহিদা থাকলেও বিক্রি কম। বেশিরভাগ সবজির দাম এখনো বেশি।

অন্যদিকে, বাজারে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৫০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকার মধ্যে, যা আগে ছিল ২০০ টাকা।

তবে লেয়ার মুরগির দাম বেড়ে প্রতি কেজি ৩৬০ টাকা হয়েছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩২০ টাকা। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬৮০ টাকা কেজি দরে।




গাংনীতে লোডশেডিংয়ে বিক্রি কমেছে মাছ ও মাংসের

একদিকে জ্বালানি সংকট অপরদিকে লাগাতার লোডশেডিংয়ে বিক্রি কমেছে মাছ ও মাংসের। বিপরীতে বেড়েছে দাম।

এদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সন্ধ্যা ৭টায় দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জেলার ক্ষুদ্র ও মাঝারি  ব্যবসায়ীরা। ব‍্যাবসায়ীরা বলছেন তাদের পণ্য বিক্রি কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। 

ব‍্যাবসায়ীরা বলছেন,জ্বালানি ও বিদুৎ সংকটে বিক্রি কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। সেই সাথে মহাজনদের কাছ থেকে কিনতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।

ক্রেতারা বলছেন, সারাদিনে ৮ থেকে ১০ ঘন্টা বিদুৎ থাকছে না। আবার যখন বিদুৎ পাচ্ছি তার স্থায়ীত্ব হচ্ছে কখনও আধা ঘন্টা কখনও এক ঘন্টা। যার ফলে ফ্রিজে থাকা মাছ,মাংশ এমনিতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এজন্য মাছ মাংশ কেনা কমিয়ে দিয়েছেন তারা।

মাছ বিক্রেতা মন্টু মিয়া বলেন, আর বইলেন না ভাই, বাজারে এখন আর বড় মাছ কেও কিনতে চাইছে না। ৩ থেকে ৫ কেজি ওজনের মাছ বিক্রি নাই বললেই চলে। কারন হলো কারেন্ট না থাকা। ৫ কেজি ওজনের বড় মাছ তো আর একদিনে খাওয়া যায় না। ফ্রিজে রেখে বেশ কয়েকদিন ধরে মানুষ খাই। আর কারেন্ট না থাকাই ফ্রিজে কোন কিছু রাখলে তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে মানুষ মাছ কেনা কমিয়ে দিয়েছে।

মাছ বিক্রেতা জামাল হোসেন বলেন, আমাদের এই ঐতিহ্যবাহী বামন্দী বাজারে প্রায় একশজনের মত মাছের ব‍্যাবসার সাথে জড়িত। সপ্তাহ দেড়েক ব‍্যাবধানে হঠাৎ করে সকলের ৩০ শতাংশ মাছ বিক্রি কমে গেছে। মাছের দাম বেড়ে গেছে। আর বিদুৎ না থাকাই মানুষ মাছ কিনে নিয়ে গিয়ে বাড়িতে ফ্রিজে রেখে রেখে ধীরে শুস্তে খাবে সে পরিস্থিতি নেই। বরং ফ্রিজে যা রাখা আছে তাই নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে খেয়ে ফেলতে হচ্ছে।

মাংস বিক্রেতা জাহিদ বলেন, হঠাৎ করেই বাজারে মাংস বিক্রি কমে গেছে। মানুষের ফ্রিজে যে মাংস আছে এখন সেগুলো খাওয়াতে ব‍্যাস্তো। কারেন্ট না থাকাতে ফ্রিজে থাকা যতো মাছ মাংশ আছে সেগুলো নষ্ট হওয়ার ভয়ে সব খাচ্ছে। 

মাছ চাষি সম্রাট আহমেদ বলেন,প্রচন্ড রোদ ও তাপের কারনে পুকুরের পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। স‍্যালো ইঞ্জিন দিয়ে পানি দেবো সে পরিস্থিতিও নেই। তেল সংকট। আবার বিদুৎতের লোডশেডিং। পুকুরে পানি কম থাকাই মাছ মরে যাচ্ছে। অথচ মাছ ব‍্যাবসায়ীদের বলছি মাছ নিয়ে যেতে। তারা বলছে হাটে মাছ বিক্রি নাই। আমি মাছ নিয়ে এক রকম বিপদের মধ‍্যে আছি।

মাছ ক্রেতা প্রবাসী সোহাগ আলী বলেন,আমি তিন বছর পর ছুটিতে দেশে আসছি। দেশে এসে দেখি যেমন গরম পড়ছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে লোডশেডিং। আজ বাজারে এসে পাঁচ কেজি ওজনের একটা কাতলা মাছ দেখে খুব লোভ হলো মাছটি কিনবো। বাড়িতে গিন্নির কাছে ফোন দিয়ে মাছটি নেবো কিনা জিজ্ঞেস করতেই। বলে দিলো বড় মাছ নিতে হবে না। কারেন্ট থাকছে না। ফ্রিজে রাখলেও মাছ নষ্ট হয়ে যাবে।

বামন্দী বাজারে মাংস কিনতে আসা হোটেল ব‍্যাবসায়ী ইয়ারুল ইসলাম বলেন, আমাদের হোটেলের ব‍্যাবসা। একেকদিন একেকরকম বেচাকেনা হয়। আমাদের ফ্রিজে সবসময় কেজি পাঁচেক মাছ-মাংস রেখে দিতে হয়। যেদিন চাহিদা বেশি থাকে ফ্রিজ থেকে বের করে রান্নার জন‍্য রেডি করি। অথচ সপ্তাহ খানেক ধরে কারেন্টের যে অবস্থা, ফ্রিজ ঠান্ডা হওয়ার আগেই কারেন্ট চলে যাচ্ছে। যার ফলে ভিতরে থাকা সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

গাংনী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের এলাকায় প্রয়োজন প্রায় ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কিন্তু বর্তমানে আমরা পাচ্ছি মাত্র ৪ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।




ঝিনাইদহে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক নারী নিহত

ঝিনাইদহে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে শাম্মী আক্তার (৪২) নামের মোটরসাইকেল আরোহী এক নারী নিহত হয়েছে।

আজ শুক্রবার দুপুরে শহরের আরাপপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাম্মী আক্তার কুষ্টিয়া জেলা শহরের মিনাপাড়া এলাকার মিজানুর রহমানের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানায়, দুপুরে কুষ্টিয়া থেকে স্বামীর সাথে মোটরসাইকেলে ঝিনাইদহ শহরে যাচ্ছিলো শাম্মী আক্তার। পথে আরাপপুর-চুয়াডাঙ্গা স্ট্যান্ড শহরের মশিউর রহমান বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে ভাঙ্গা সড়কের কারণে ওই নারী মোটরসাইকেল থেকে নিচে পড়ে যায়। সেসময় পেছন দিক থেকে আসা একটি ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শাম্মী আক্তার।

ঝিনাইদহ সদর থানা ওসি শামসুল আরেফীন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।




গণভোটের ম্যান্ডেট যদি মূল্যায়ন না করা হয়, জনগণ রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

সরকার জনগণের গণভোটের ম্যান্ডেট যদি মূল্যায়ন না করে, জনগনই আবার রাস্তায় নেমে আসবে। আমাদেরকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই| রাজপথে কিভাবে আন্দোলন করতে হয় আমরা জানি। দেশের মানুষ জানে| আমাদেরকে রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না। ঝিনাইদহে জামায়াতের ওয়ার্ড সভাপতি সম্মেলন সভায় এসব কথা বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রিয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ছাত্র শিবির কে যারা গুপ্ত বলে তারা ১৭ বছর বিদেশে লুকিয়ে ছিল, তারাই গুপ্ত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদলকে হায়নার মতো শিক্ষার্থীদের উপর লেলিয়ে দেয়া হচ্ছে। সরকার সেই পুরনো কর্তৃতবাদী শাসনের পথে ফিরতে চাচ্ছে। কিন্তু দেশের জনগণ সরকারের সেই আশা পূরণ করতে দেবেনা।

আজ শুক্রবার দুপুরে শহরের একটি পার্কের মিলনায়তনে ঝিনাইদহ জেলা জামায়াত আয়োজিত ওয়ার্ড সভাপতি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলে।

সরকারের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরে আবার বলেন, দেশের মানুষ বারবার রক্ত দিয়েছে| আমরা আর রক্ত দিতে চাইনা| এই সরকার কর্তৃতবাদী ফ্যাসিবাদী শাসনের পথে ফিরে যাওয়ার কাজ শুরু করেছে| শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হায়নার মতো লেলিয়ে দেয়া হচ্ছে। জনগণ কর্তৃত্ববাদী শাসন আর মেনে নেবে না।

নির্বাচনে বিজয়ী করতে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আজকে যারা জামাত-শিবির কে গুপ্ত বলে, ১৭ বছর সেই প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই বিদেশে লুকিয়ে ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে বিএনপির গুপ্ত উপদেষ্টারা ছিল। যারা এই সরকারের মন্ত্রী হয়েছে। কাজেই জনগণ জানে আসল গুপ্ত কারা।                                   

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ঝিনাইদহের মাটি শহীদের রক্তে ভেজা জনপদ। বছরের পর বছর এ অঞ্চলের মানুষ কর্তৃতবাদী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বাড়িতে ঘুমাতে পারেনি। জীবনের বিনিময়ে ফাঁসিবাদী শাসন ব্যবস্থা বিলোপ করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের সামনে নতুন করে কর্তৃতবাদী ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। জনগণ আর কোনো সরকারকে কর্তৃতবাদী হওয়ার সুযোগ দেবে না।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বগুড়ায় একটি সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন জামায়াতের ওপরে নাকি স্বৈরাচারের আত্মা ভর করেছে। আমরা বলতে চাই, বিএনপি সরকারকে ভুতে ধরেছে| কর্তৃতবাদী ফ্যাসিবাদী শাসনের ভূতে ধরেছে। যে কারণে সরকার চাইলেও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারছে না| ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার এখন ছলচাতুরি শুরু করেছে| গতকাল ডাকসুর নির্বাচিত কয়েকজন প্রতিনিধির উপর হামলার নিন্দা জানান|  

জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের আয়োজনে নির্বাচনের আগে চার মাস ধরে দফায় দফায় সংলাপ হয়েছে| ৩৩ টি রাজনৈতিক দল সংবিধান সংস্কারে ঐক্যমতে পৌঁছায়| দুঃখের বিষয়, বিএনপি সংবিধান সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ দশটি পয়েন্টে নোট অফ ডিসেন্ট দেয়। অধিকাংশ দল সংবিধান সংস্কার ঐক্যমতে পৌঁছালেও বিএনপি তার বিরোধিতা করেছে। এখন তারা গণভোটের রায়কে বাতিল করতে চায়। সংবিধানের দোহাই দিয়ে বিএনপি সরকার ফ্যাসিবাদী শাসন টিকিয়ে রাখার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সরকারকে হুঁশিয়ারি করে তিনি বলেন, আমরা বহু রক্ত দিয়েছি, দেশের মানুষ বারবার জীবন দিয়েছে। আমরা আর রক্তের বিনিময়ে পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চাই না। সরকার জনগণের গণভোটের ম্যান্ডেট যদি মূল্যায়ন না করে, জনগনই আবার রাস্তায় নেমে আসবে। রাজপথে কিভাবে আন্দোলন করতে হয় আমরা জানি। দেশের মানুষ জানে। আমাদেরকে রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না।

ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ওয়ার্ড সম্মেলনে কেন্দ্রীয় জামায়াত নেতা মোবারক হোসেন, ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব, জেলা নায়েবে আমীর আব্দুল আলিম, বিভিন্ন উপজেলার আমীরসহ জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলন পরিচালনা করেণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল আওয়াল।




মেহেরপুরে প্রতারণার অভিযোগ রুবেল-ইমা দম্পত্তির বিরুদ্ধে মামলা

মেহেরপুরে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রতারণার অভিযোগ আদালতের তানিশা ইয়াসমিন ইমা ও তার স্বামী রুবেল শেখের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নারী উদ্যোক্তা রেহেনা খাতুন।

গত ১৫ এপ্রিল রেহেনা খাতুন মেহেরপুর সদর আমলী আদালতে হাজির হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। যারমামলা নম্বর-৩৭৩/২০২৬। মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ৬ জুলাই আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছেন বিচারক।

আসামি মেহেরপুর শহরের পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়ার রুবেল সেখ ও তার স্ত্রী তানিশা ইয়াসমিন।

মামলার এজাহারে বাদির অভিযোগ, আসামীদের ব্যবসার জন্য টাকার প্রয়োজন হলে আসামীরা আমার নিকট টাকা কর্জ (ঋণ) চাইলে সরল বিশ্বাসে টাকা দিতে রাজী হলে আসামীরা সাক্ষীদের সম্মুখে আমার নিকট হইতে গত ০৯/১১/২০২৫ তারিখে নগদ ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা গ্রহণ করে । এবং ৯০ দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধ করবে বলে তিনশ টাকা নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিনামা সম্পাদক করে দেয়। টাকা পরিশোধের জন্য ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক মেহেরপুর শাখার ৪ লাখ ২৫ হাজার একটি চেক প্রদান করে। যার চেক নং- FSIB MSO D-৬৪৫৩৭৮৬, হিসাব নং- 021912200007019। ৯০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর চেক নগদায়নের জন্য বাংকে জমা দিলে ব্যাংক থেকে বলা হয় হিসাবে কোন টাকা নেই এবং যার নামে চেক হিসাবও তার নামে বলে ব্যাংক ফিরিয়ে দেয়। তখন আমি আসামীদের সাথে যোগাযোগ করলে আসামীরা বিভিন্ন ছলচাতুরী করে আজকাল করে ঘুরাইয়া নিয়া বেড়াইতে থাকে। অবশেষে ঘটনার তারিখে সাক্ষীদের নিয়ে আসামীদের বাড়ী গিয়ে পাওনাকৃত টাকা চাইতে গেলে আসামীরা ক্ষিপ্ত হইয়া বলে তোমার টাকা দিবনা যা পার করে নিও। এবং বলে পুনরায় টাকা চাইতে আসলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।




ডায়াগনসিসে যক্ষা নেই, ক্লিনিক্যালি দিলেন যক্ষার চিকিৎসা !

মেহেরপুর বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের কনসালটেন্ট ডা. মোহসীনা ফেরদৌসী মিষ্টির বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও অসদাচারণের অভিযোগ তুলেছেন রোগীর অভিভাবক। তবে চিকিৎসকের দাবি তিনি ভুল চিকিৎসা করেননি।

জানা গেছে, মেহেরপুর হোটেল বাজার এলাকার মাহবুব ই রসুল মিন্টুর ১৩ বছর বয়সী ছেলে তৌসিফ আহমেদ রায়ান গত বছরের অক্টোবর মাসে বাম পায়ের উরুতে (এ্যাবসেস) একটি ফোঁড়ায় আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত হলে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারী কনসালটেন্ট মো: শহিদুল ইসলামের কাছে চিকিৎসা করান। তিনি রায়ানের সার্জারি করেন এবং রাজশাহী আইসিডিডিআর’বি তে মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস কমপ্লেক্স (যক্ষা) পরীক্ষা করান। সেখানে জেন এক্সপার্ট আল্টা রেজাল্টে যক্ষ নেগেটিভ আসে এবং রিফ রেজিস্টেন্স ও এমটিবি বার্ডেন পজেটিভ আসে। তিনি মেহেরপুর বক্ষব্যাধি ক্লিনিক থেকে চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দেন।

বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের ভারপ্রাপ্ত কনসালটেন্ট ডা. মোহসীনা ফেরদৌসী মিষ্টি ক্লিনিক্যালি ডায়াগনসিসে যক্ষা সন্দেহে তাকে ৬ মাসের যক্ষা চিকিৎসা শুরু করেন। ৫ মাস ১০ দিন ওষুধ খাওয়ার পর পুনরায় রাজশাহীর চিকিৎসক শহিদুল ইসলামের কাছে ফলোআপ চিকিৎসা্ নিতে গেলে তিনি অভিভাবককে বলেন, তার যক্ষা ডিটেকটিভ হয়নি তবে কেন যক্ষা চিকিৎসা করানো হলো এবং চিকিৎসক ভুল চিকিৎসা দিয়েছেন।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রোগীর অভিভাবক মিন্টু পুনরায় মেহেরপুর বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে গেলে চিকিৎসক মোহসীনা ফেরদৌসী মিস্টি তার সাথে অসাদচারণ করেন এবং বলেন তার চিকিৎসা কোন ভুল নেই।

রোগীর বাবা মাহবুব ই রসুল মিন্টু অভিযোগ করে বলেন, ‘রাজশাহীর আইসিডিডিআর’বি থেকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন যক্ষা হয়নি। মেহেরপুরে যক্ষা হাসপাতাল ভুল চিকিৎসা দিয়েছে। আমি এটার ডাক্তারকে বলতে গেলে তিনি খারাপ আচরণ করেন।’

অভিযুক্ত মেহেরপুর বক্ষব্যধি ক্লিনিকের ভারপ্রাপ্ত কনসালটেন্ট মোহসীনা ফেরদৌসী মিস্টি বলেন, ‘অনেক সময় ডায়াগনসিসে যক্ষা ধরা পড়েনা। আমরা রোগীর ক্লিনিক্যাল টেস্ট করে যক্ষা সনাক্ত করি। যক্ষা পজেটিভ সন্দেহে তাকে আমরা যক্ষা চিকিৎসা্ দিয়েছি। এখানের চিকিৎসার কোন ভুল নেই। অভিবাবকের সাথে খারাপ আচরণের বিষয়ে তিনি বলেন, এ অভিযোগ সত্য নয়।’

এ বিষয়ে ব্র্যাক যক্ষা বিষয়ক প্রকল্পের কর্মকর্তা অচিন্ত্য কুমার দাস বলেন, ‘আমরা কোন চিকিৎসা দিই না । আমরা চিকিৎসা ঠিক মত পাচ্ছে কি না, রোগী কেমন আছে শুধুমাত্র এগুলো পযর্যবেক্ষণ করি।’

তবে এ ব্যাপারে মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম আবু সাঈদ বলেন, ‘অনেক সময় ডায়াগনসিসে যক্ষা ধরা পড়েনা। চিকিৎসক রোগী দেখে ক্লিনিক্যালি টেস্টের মাধ্যমে যক্ষার চিকিৎসা দিতে পারেন। এক্ষেত্রে হয়তো তাই হয়েছে। তবে অভিভাবকের চিন্তিত হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে এতদিন উচ্চ মাত্রার ওষুধ সেবনে কোন ক্ষতি হতে পারে কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব ওষুধের কমবেশি পার্শপ্রতিক্রিয়া আছে। তবে এতে জটিল কোন সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা কম।’