মেহেরপুরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মে দিবস পালন 

মেহেরপুর জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রা শেষে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুর রউফ মকল। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা নায়েবে আমীর মহাবুব উল আলম।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা রাজনৈতিক সেক্রেটারি রুহুল আমিন, পৌর আমীর সোহেল রানা ডলার, সহ-সভাপতি শাকিল হোসেন সাব্বির, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম লিটন, সহ-সাধারণ সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক তাওফিকুল ইসলাম, শ্রমিক নেতা আবুল হোসেনসহ ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা।

সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরিকুল ইসলামের হাতে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। পরে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।




মেহেরপুরে বিএনপির উদ্যোগে মহান মে দিবস পালন

মহান মে দিবস উপলক্ষে মেহেরপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শুক্রবার সকালে জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাবেদ মাসুদ মিল্টন এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসানের নেতৃত্বে মিছিলটি কোর্ট রোড থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলে জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক লিটন, মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আমিরুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ মোহাম্মদ, সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিফ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এহান উদ্দিন মনা, জেলা জাসাসের সদস্য সচিব বাকাবিল্লাহসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




আইনের শাসন ও ক্ষমতার দাপট—একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার

মেহেরপুরের সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ভাই এবং যুবলীগ নেতা শহীদ সরফরাজ মৃদুলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদালতের নির্দেশ দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা পুনর্গঠনে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ব্যবসায়ী অংশীদার দেবাশীষ কুমার বাগচির দায়ের করা এনআই এ্যাক্টের অধীনে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলাটি যেভাবে আইনি পরিণতির দিকে এগোচ্ছে, তা ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের জন্য একটি কড়া বার্তা।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দায়ের করা এই মামলায় আদালত নিয়মমাফিক বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছেন। গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি আদালত যখন আসামিকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার দ্বিগুণ জরিমানা অর্থাৎ ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন, তখন এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে আইনের চোখে সবাই সমান। বিবাদী পক্ষ নির্ধারিত সময়ে আপিল না করায় সাজাটি চূড়ান্ত হয় এবং বর্তমানে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা অনুযায়ী সম্পত্তি ক্রোকের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

অস্থাবর ও স্থাবর সম্পত্তির খতিয়ান আদালতের নির্দেশে আসামির ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা সমপরিমাণ সম্পদের তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মেহেরপুর ও হরিরামপুর মৌজার প্রায় ৩.৩৬ একর জমি এবং বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী। এই বিশাল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের মাধ্যমে বাদি দেবাশীষ কুমার বাগচির পাওনা আদায়ের যে পথ প্রশস্ত হয়েছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। সাধারণত রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করতে সাধারণ ব্যবসায়ীরা ভয় পান, কিন্তু এই মামলার অগ্রগতি প্রমাণ করে যে ধৈর্য ও আইনি লড়াই বৃথা যায় না।

জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) জানিয়েছেন যে, জেলা প্রশাসকের বদলিজনিত কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে, তবুও আগামী সপ্তাহের মধ্যে আদেশ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি আশাব্যঞ্জক। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, “Justice delayed is justice denied”। ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের সম্পত্তি ক্রোকের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা অনেক সময় জনমনে সন্দেহের উদ্রেক করে। তাই মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের উচিত হবে কোনো প্রকার চাপের মুখে না নতি স্বীকার করে আদালতের এই রায়টি দ্রুত কার্যকর করা।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি নেতিবাচক ধারণা প্রতিষ্ঠিত ছিল যে, মন্ত্রীর আত্মীয় বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা হলে আইনের উর্ধ্বে থাকা যায়। কিন্তু শহীদ সরফরাজ মৃদুলের এই মামলাটি সেই মিথ ভেঙে দিচ্ছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যবসায়িক অংশীদারকে ঠকানো বা চেক জালিয়াতির মতো অপরাধ যে পার পায় না, তা এই রায়ের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে।

দেবাশীষ কুমার বাগচির আইনি জয় কেবল এক ব্যক্তির জয় নয়, এটি সকল ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা। মেহেরপুর জেলা প্রশাসন যদি আগামী সপ্তাহের মধ্যে সফলভাবে এই সম্পত্তি ক্রোক সম্পন্ন করতে পারে, তবে তা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। আমরা আশা করি, বিচার বিভাগ এবং নির্বাহী বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পাবে এবং সমাজ থেকে জালিয়াতি ও ক্ষমতার দাপট নির্মূল হবে। আইনের এই কঠোর প্রয়োগ যেন কেবল নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে না হয়ে সর্বস্তরে বজায় থাকে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।




কুষ্টিয়ায় পীর হত্যা মামলার আরো এক আসামি গ্রেপ্তার

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে কথিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীর (৫৭) হত্যা মামলার আরো এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কুষ্টিয়া সিপিসি-১, র‌্যাব-১২ কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম রাজীব মিস্ত্রি। তিনি মামলার এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি। ফিলিপনগর ইউনিয়নের পশ্চিম দক্ষিণ গ্রামের বাসিন্দা গাজী মিস্ত্রির ছেলে রাজীব।

বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে র‌্যাব-১২, সিপিসি-১ কুষ্টিয়া ও র‌্যাব-৫ সদর কোম্পানির যৌথ অভিযান চালিয়ে রাজীব মিস্ত্রিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানাধীন থানা রোড নাসিম হেয়ার ড্রেসারের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করে। তিনি মামলার ৩ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।

এর আগে এই হত্যা মামলায় রবিবার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা বিপ্লব হোসেন (২৬), আলিফ ইসলাম (২৩) ও সোমবার রাতে ইসলামপুর গ্রামের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেনকে (১৬) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গত ১১ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে ইসলাম ধর্ম বিকৃতির অভিযোগে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে শামীম জাহাঙ্গীর নামে এক পীরের আস্তানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও মূল্যবান সামগ্রী লুটপাট করে বিক্ষুব্ধ লোকজন। এ সময় পীর শামীম জাহাঙ্গীর ও তার অনুসারীদের মারধর করেন তারা। পরে শামীম জাহাঙ্গীরকে আহত অবস্থায় দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

ঘটনার পরদিন দুপুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কড়া পুলিশ পাহারায় ফিলিপনগর এলাকার পশ্চিম-দক্ষিণ কবরস্থানে শামীম জাহাঙ্গীরের দাফন সম্পন্ন হয়।

গত ১৩ এপ্রিল রাতে দৌলতপুর থানায় নিহত শামীম জাহাঙ্গীরের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ ও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।




মেহেরপুরে সিপিবির উদ্যোগে মহান মে দিবস পালন

মেহেরপুরে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) জেলা কমিটির উদ্যোগে মহান মে দিবস পালিত হয়েছে। 

দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় সংগীত ও ইন্টারন্যাশনাল সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করা হয়। পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা শ্রমিক শ্রেণির অধিকার ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাদের করণীয় বিষয়ে বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সিপিবি মেহেরপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম কানন, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, শহিদুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, মকলেছুর রহমান, ঝন্টু, ঊষা, মাহফুজসহ অনেকে।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরকারের করা চুক্তি বাতিল না হলে শ্রমিক আন্দোলনের মাধ্যমে তা প্রতিহত করা হবে। তারা সাম্প্রতিক ৩৫ হাজার কোটি টাকার ১৪টি বোয়িং বিমান ক্রয় চুক্তি বাতিল করে সেই অর্থ দিয়ে ৩৫ লাখ বেকারের কর্মসংস্থানের জন্য শিল্প-কারখানা স্থাপন ও এ খাতে বিনিয়োগের দাবি জানান।

এছাড়া কৃষক-শ্রমিকসহ সাধারণ জনগণকে দেশবিরোধী চুক্তি বাতিলের দাবিতে সোচ্চার হয়ে রাজপথে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানান বক্তারা।




মেহেরপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালিত

মেহেরপুরে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। দিবসটি উপলক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

আজ শুক্রবার সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরিকুল ইসলাম।

সভায় বক্তব্য দেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক সীরাজুম মূনীর, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সভাপতি আল আমিন বকুল, মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক রমিজ উদ্দিনসহ অন্যান্যরা।

অন্যদিকে, মেহেরপুর জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে বের হয়ে ভূমি অফিস পাড়া প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। র‍্যালি শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আহসান হাবিব সোনা। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান, কার্যকরী সভাপতি খন্দকার সাজু, যুগ্ম সম্পাদক এরশাদ আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক রমিজ উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




দর্শনায় বন্য খরগোশ শিকার, ৪ জনকে ১০ দিনের কারাদণ্ড

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় বন্য খরগোশ শিকার ও হত্যার দায়ে ৪ জনকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলার সাধুহাটি গ্রামের মনোরঞ্জন বিশ্বাসের ছেলে উজ্জ্বল কুমার বিশ্বাস, একই উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের মৃত তোয়াজ আলীর ছেলে সাদগার আলী, সাধুমণ্ডলের ছেলে শুকুমার মণ্ডল এবং মোহন কুমার বিশ্বাসের ছেলে সুধাংশু কুমার বিশ্বাস।

অভিযানকালে ১১টি বন্য খরগোশ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৫টি জীবিত এবং ৬টি মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম। জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সভাপতি ও বড় সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যার প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলুর কাছে খবর আসে যে, তিতুদহ ইউনিয়নের দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানির মাঠে ১৬ সদস্যের একটি শিকারি দল বন্য খরগোশ শিকার করছে।

খবর পেয়ে সংগঠনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টির সত্যতা পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা আবুল খায়ের আতা এলাহীকে অবহিত করেন। এ সময় তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অধিকাংশ শিকারি পালিয়ে গেলেও ৪ জনকে আটক করা হয়।

পরে বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী শিকারের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রত্যেককে ১০ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করে। জীবিত উদ্ধার হওয়া ৫টি খরগোশকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হয়।

এ সময় তিতুদহ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সভাপতি বলেন, বন্যপ্রাণী হত্যা, ক্রয়-বিক্রয়, পাচার বা আটক করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কেরু অ্যান্ড কোম্পানির মাঠে বন্য খরগোশের উপস্থিতি এ এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের সংগঠন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।

এ সময় সংগঠনের সদস্য হাসানুজ্জামান রিগান, বায়জিদ, রিয়াজ উদ্দীন, সাহাবুলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তারা এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন।




আলমডাঙ্গায় খাদিমপুর ইউপি চেয়ারম্যানের যোগদান ঘিরে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা

আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দার লোটাসের যোগদানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, পূর্বে বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দার লোটাস হাইকোর্টের আদেশ ও জেলা প্রশাসকের নির্দেশনার পর পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের জন্য পরিষদে আসেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তার পুনঃযোগদানের বিরোধিতা করে পরিষদে প্রবেশে বাধা দেন।

এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়, যা পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান লোটাসের সমর্থনে কয়েকশ গ্রামবাসী লাঠিসোটা নিয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা আলমডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল চলাকালে উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিকা ও নাগদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিপুলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তারা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।




প্রকাশ পেল খালিদ মোশারফের বই   ‘শিক্ষক, শিক্ষা ও প্রজন্ম’ 

প্রকাশিত হল মেহেরপুরের তরুণ লেখক খালিদ মোশারফের রচিত বই- ‘শিক্ষক শিক্ষা ও প্রজন্ম’ । উল্লেখ্য খালিদ মোশারফ আইইআর , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তণ শিক্ষার্থী। ‘শিক্ষক শিক্ষা ও প্রজন্ম’ বইটি খালিদ মোশারফের প্রকাশিত চতুর্থ বই। ইতিপূর্বে খালিদ মোশারফের শিক্ষা নিয়ে ’শিক্ষা ও শিক্ষক’ আরেকটি প্রবন্ধ গন্থ  প্রকাশিত হয়েছে। দুইটি বই রকমারিসহ অন্যান্য অনলাইন দোকানে পাওয়া যাবে।

’শিক্ষক, শিক্ষা ও প্রজন্ম’ বইটি মূলত বিস্তৃত ক্যানভাসে শিক্ষা নিয়ে একটি গভীর অনুসন্ধানমূলক পদচারণা।’বইটিতে একদিকে যেমন বিদ্যালয় পরিচালনার আধুনিক রূপরেখা ও দায়বদ্ধতার কথা বলা হয়েছে, অন্যদিকে তুলে ধরা হয়েছে আলোকিত মানুষ গড়ার নেপথ্যে থাকা শিক্ষকদের শিক্ষাকর্ম।।

বইটির অন্যতম প্রধান একটি আকর্ষণ হলো বাংলা সিনেমায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্কের সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক পর্যালোচনা। আমাদের দেশীয় পরিচালকরা ক্যামেরার লেন্সের ভেতর দিয়ে কীভাবে শিক্ষাগুরু, শিষ্য এবং বিদ্যাপীঠের পরিবেশকে তুলে ধরেছেন, তা আমাদের সামাজিক বিবর্তনেরই এক প্রামাণ্য দলিল। এই দেশজ প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি বইটিতে যুক্ত করা হয়েছে বিশ্ববিখ্যাত সিনেমাগুলোতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ক্লাসরুমের চিত্রায়ন নিয়ে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়। এর ফলে পাঠক খুব সহজেই দেশীয় সীমানা পেরিয়ে বৈশ্বিক শিক্ষাদর্শন ও শ্রেণিকক্ষের এক তুলনামূলক চিত্র পেয়ে যাবেন।

সিনেমা যেমন দৃশ্যের ভাষায় কথা বলে, সাহিত্য তেমনি শব্দের মায়াজালে সমাজ বাস্তবতাকে তুলে ধরে। বাংলা গল্প ও উপন্যাসে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং ক্লাসরুম কীভাবে চিত্রিত হয়েছে, তা নিয়ে এই গ্রন্থে রয়েছে একটি গভীর অনুসন্ধানমূলক পাঠ। বাংলা সাহিত্যের পাতায় আধুনিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক এই রূপরেখা পাঠকের সামনে নতুন ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করবে।

বাঙালি জীবনে শিক্ষা নিয়ে আলোচনা হবে, অথচ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রসঙ্গ আসবে না, তা তো কল্পনাই করা যায় না। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চার দেয়াল ভেঙে প্রকৃতির কোলে মুক্ত শিক্ষার যে স্বপ্ন রবীন্দ্রনাথ দেখেছিলেন, তা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। বইটিতে রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাদর্শন এবং তাঁর গল্প-প্রবন্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর রূপায়ণ নিয়ে  পর্যালোচনা করা হয়েছে।

এছাড়াও, আগ্রহী পাঠকদের জ্ঞানতৃষ্ণা মেটাতে বইটিতে সংযোজন করা হয়েছে শিক্ষা বিষয়ক বিখ্যাত বেশ কিছু বইয়ের একটি সমৃদ্ধ তালিকা। সাথে রয়েছে সমকালীন ও চিরায়ত নানা প্রেক্ষিত নিয়ে শিক্ষা বিষয়ক আরও কিছু প্রবন্ধ, যা বইটির বিষয়বস্তুকে করেছে আরও পূর্ণাঙ্গ।

পরিশেষে বলা যায়, এই বইটি কেবল শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা গবেষকদের জন্য নয়; বরং সাহিত্যপ্রেমী, সিনেমাপ্রিয় এবং শিক্ষানুরাগী—সবার জন্যই এক অমূল্য সংগ্রহ। ক্লাসরুমের ভেতরের এবং বাইরের এই বিস্তীর্ণ জগতকে নিয়ে আমাদের এই বিশ্লেষণমূলক যাত্রা পাঠকের মনোজগতে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করবে এবং শিক্ষাকে এক নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে সাহায্য করবে—এটাই একান্ত প্রত্যাশা।




শ্রমিকের প্রতি মালিকের করণীয়

মহান আল্লাহ তায়ালা এই মহাবিশ্বকে ˆবচিত্র্যের এক অপূর্ব লীলাভূমি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানে তিনি যে ভিন্নতা রেখেছেন, তার মূল রহস্য হলো একে অপরের ওপর নির্ভরশীলতা|

সমাজে কেউ ধনী, কেউ দরিদ্র; কেউ মালিক, আবার কেউ শ্রমিক| তবে এই পার্থক্য কোনো আভিজাত্যের লড়াই নয়, বরং সামাজিক শৃঙ্খলা ও কর্মবন্টনের এক বিশেষ ব্যবস্থা মাত্র| ইসলামি জীবনদর্শনে শ্রম কেবল জীবিকা অর্জনের উপায় নয়, বরং এটি একটি মহান ইবাদত এবং নবীদের পবিত্র সুন্নত| আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে মেষ চরিয়েছেন, শ্রমসাধ্য ব্যবসা পরিচালনা করেছেন এবং খন্দকের যুদ্ধের বিভীষিকাময় মুহূর্তেও সাধারণ মানুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরিখা খনন করেছেন| তিনি বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেছেন যে, নিজ হাতের শ্রমলব্ধ উপার্জনই হলো শ্রেষ্ঠতম উপার্জন| এই একটি বাণীতেই শ্রম ও শ্রমিকের মর্যাদা আসমানে আসীন হয়েছে।

ইসলামি সমাজব্যবস্থায় শ্রমিক ও মালিকের সম্পর্ক নিছক ‘প্রভু ও ভৃত্যের’ রুক্ষ কোনো সমীকরণ নয়, বরং এটি হলো হৃদয়ের মায়ায় জড়ানো এক সুদৃঢ় ভ্রাতৃত্বের বন্ধন| একজন শ্রমিকের প্রথম এবং প্রধান অধিকার হলো তার হাড়ভাঙা খাটুনির ন্যায্য মূল্য পাওয়া| শ্রমিকের পারিশ্রমিক নিয়ে টালবাহানা করা বা কাজ শেষে পাওনা পরিশোধ না করাকে ইসলামে চরম ঘৃণ্য ও জঘন্য অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে| হাদীসে কুদসীতে ¯^য়ং মহান রব্বুল আলামিন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কিয়ামতের কঠিন দিনে তিনি সেই মালিকের বিপক্ষে ¯^য়ং শত্রু হয়ে দাঁড়াবেন, যে ব্যক্তি কাজ আদায় করে নিয়েও শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করেনি| শ্রমিকের হাহাকার আর চোখের জল আরশের মালিক সইতে পারেন না| তাই তো রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কালজয়ী নির্দেশ দিয়েছেন— ‘শ্রমিকের পারিশ্রমিক তার গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই চুকিয়ে দাও|’ এই নির্দেশ কেবল একটি আইনি কাঠামো নয়, বরং শ্রমিকের প্রতি মালিকের সহমর্মিতা ও দ্রুত ন্যায়বিচারের এক অনুপম স্মারক।

মালিকের ওপর অর্পিত অন্যতম বড় দায়িত্ব হলো শ্রমিকের সামর্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়া| কোনো মানুষকে তার শারীরিক বা মানসিক সক্ষমতার বাইরে যন্ত্রের মতো ব্যবহার করা ইসলামের নীতি বিরুদ্ধ| মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মালিকপক্ষকে উদ্দেশ্য করে সতর্ক করেছেন যে, যাদের তোমরা নিয়োগ দিয়েছ তারা তোমাদের দাস নয়, বরং তোমাদেরই ভাই| আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীনে রেখেছেন মানে এই নয় যে তোমরা তাদের ওপর জুলুম করবে| বরং যদি কোনো কাজ তাদের জন্য অধিক কষ্টকর হয়, তবে মালিকের উচিত নিজে সেই কাজে হাত লাগিয়ে তাদের সহযোগিতা করা| ইসলামের ইতিহাসে দেখা যায়, হযরত সালমান ফারসী (রা.) যখন একটি প্রদেশের গভর্নর ছিলেন, তখনো তিনি নিজ হাতে আটা পিষতেন যেন তার খাদেমের ওপর কাজের অতিরিক্ত বোঝা না চাপে| এই যে সহমর্মিতা, এটিই হলো মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি।

একজন শ্রমিকের সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করা মালিকের ˆনতিক ও ধর্মীয় আবশ্যকতা| মালিক যেন নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করে অহংকারের সাগরে ভেসে না যায়, সেদিকে কড়া নজর রেখেছে ইসলাম| একজন শ্রমিক যে খাবার ˆতরি করেন, আগুনের তাপ আর ধোঁয়ার কষ্ট সহ্য করে মালিকের মুখে অন্ন তুলে দেন, তাকে অবজ্ঞা করার কোনো অবকাশ নেই| রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন, সম্ভব হলে শ্রমিককে নিজের সাথে একই দস্তরখানে বসিয়ে খাওয়াতে হবে| আর যদি খাবারের পরিমাণ কম হয়, তবে অন্তত এক-দুই লোকমা হলেও তাকে দিতে হবে| এতে প্রকাশ পায় যে, ইসলাম কেবল অর্থনৈতিক সমতা নয়, বরং আত্মিক ও মানসিক সমতায় বিশ্বাসী।

কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের আত্মিক উন্নতির পথ সুগম করাও মালিকের কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত| শ্রমিক আপনার অধীনস্থ হতে পারে, কিন্তু সে সবার আগে মহান আল্লাহর বান্দা| তাই তার ইবাদত-বন্দেগি, বিশেষ করে নামাজ ও রোজার মতো ফরজ ইবাদত পালনের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া মালিকের জন্য আবশ্যক| কাজের দোহাই দিয়ে কাউকে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়| একইসাথে, মানুষ হিসেবে শ্রমিকের ভুল হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক| তুচ্ছ কোনো ভুলের কারণে তাকে গালমন্দ করা, প্রহার করা বা চাকরিচ্যুত করা ইসলামের মহানুভবতার পরিপন্থী| যখন জনৈক সাহাবী জানতে চাইলেন তিনি তার খাদেমকে দিনে কতবার ক্ষমা করবেন, রহমতের নবী উত্তর দিলেন— দৈনিক সত্তর বার’| নিজের সন্তান ভুল করলে আমরা যেভাবে স্নেহের পরশ দিয়ে তা ঢেকে রাখি, শ্রমিকের ভুলকেও সেই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার শিক্ষা ইসলাম আমাদের দিয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়, শ্রমিকরা হলো সমাজের জীবনীশক্তি, যাদের ঘাম আর ত্যাগের বিনিময়েই গড়ে ওঠে সভ্যতার সুউচ্চ মিনার| আজকের মালিক হয়তো কাল ভাগ্যচক্রে শ্রমিকে পরিণত হতে পারেন, কারণ ভাগ্যের মালিক একমাত্র আল্লাহ| তাই ক্ষমতার দাপট ভুলে শ্রমিকের মানবিক অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হওয়া প্রতিটি ঈমানদারের ঈমানি দায়িত্ব| যদি কর্মক্ষেত্রে মালিকগণ নবীজির শেখানো ক্ষমা, সহমর্মিতা এবং ইনসাফের নীতি অনুসরণ করেন, তবে দুনিয়াতে যেমন শান্তি নেমে আসবে, তেমনি আখেরাতেও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব হবে| আসুন, আমরা শ্রমিকের প্রতি দয়ালু হই, তাদের প্রাপ্য সম্মান দেই এবং ইসলামের সুমহান ভ্রাতৃত্বের আদর্শকে বাস্তব জীবনে প্রতিষ্ঠা করি| মহান আল্লাহ আমাদের সেই তৌফিক দান করুন। আমিন।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

সংকলকঃ লেখক ও গবেষক