দামুড়হুদায় জমি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত, আটক ২

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে শহিদুল ঢালি (৪৫) নামে এক একজন নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে।নিহত শহিদুল ঢালি দামুড়হুদা উপজেলার মুক্তারপুর গ্রামের মওলা ঢালির ছেলে। আটককৃতরা হলেন একই গ্রামের মৃত জলিল ঢালির ছেলে বারিক ঢালি (৪২), ও জাহিদুল ঢালি (২৯)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিজমা নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তারা সবাই আপন আত্মীয়, আপন চাচাতো ভাই সবাই। গত মঙ্গলবার বিকেলে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় শহিদুল ঢালি গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষে আরও অন্তত তিনজন আহত হন।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় শহিদুল ঢালিকে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে তিনি মারা যান।

দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেজবাহ্ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আহতদের মধ্যে অন্যরা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এঘটনায় মামলা হয়েছে, মোট দুইজনকে আটক করা হয়েছে, আজ আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ




চাকরি ছেড়ে মুরগির বাচ্চা উৎপাদনে সফল নারী খুশি

অদম্য সাহস,কঠোর পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস-এই তিন শক্তিকে সঙ্গী করে বে-সরকারি চাকরি ছেড়ে খামার গড়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের শিক্ষিত নারী উদ্যোক্তা খুশি খাতুন। ছোট পরিসরে মাত্র ১২টি মুরগির বাচ্চা দিয়ে শুরু করা তার উদ্যোগ আজ রূপ নিয়েছে একটি সফল খামারে।

বর্তমানে তার খামারে বিভিন্ন জাতের কয়েক হাজার মুরগির বাচ্চা উৎপাদন হচ্ছে এবং সেখান থেকে প্রতি মাসে আয় করছেন লাখ লাখ টাকা

জানা যায়,জীবনের একটি পর্যায়ে স্থায়ী চাকরি থাকা সত্ত্বেও নিজের কিছু করার স্বপ্ন থেকেই খামার করার সিদ্ধান্ত নেন খুশি খাতুন।

শুরুতে নানা প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতা থাকলেও ধৈর্য,পরিশ্রম এবং পরিকল্পনার মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকেন। প্রথমে ১২টি ব্রয়লার মুরগি দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও সময়ের সাথে সাথে খামারের পরিধি বাড়ান এবং আধুনিক পদ্ধতিতে মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের উদ্যোগ নেন। বর্তমানে তিনি গ্রামাঞ্চল থেকে ডিম সংগ্রহ করে ইনকিউবেটরের মাধ্যমে বিভিন্ন জাতের মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করছেন। তার খামার থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার মুরগির বাচ্চা দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হচ্ছে।

পাশাপাশি কিছু বাচ্চা বড় করে সেখান থেকেও প্রতি মাসে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি মুরগির মাংস বাজারজাত করছেন তিনি। ফলে তার খামারটি এখন একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। তার খামারে টাইগার,দেশি,ব্রাহমা,ফাহমি,তিতির,সোনালী,কালার বার্ড,টার্কিসহ প্রায় ১২ জাতের মুরগির বাচ্চা উৎপাদন ও পালন করা হচ্ছে। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও শ্রম দিয়ে খুশি খাতুন প্রমাণ করেছেন—সাহস করে উদ্যোগ নিলে গ্রামেও তৈরি করা যায় সাফল্যের নতুন দৃষ্টান্ত।

শুধু নিজের সাফল্যেই থেমে থাকেননি খুশি খাতুন। তার খামারে স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। এর ফলে এলাকায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে। তার এই সফলতা ও সাহসিকতা দেখে অনেক তরুণ-তরুণী এখন খামার গড়ে তোলার ব্যাপারে আগ্রহী হচ্ছেন।

উদ্যোক্তা খুশি খাতুন বলেন,‘শুরুটা খুব সহজ ছিল না। নানা বাধা ও সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই এগোতে হয়েছে। তবে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার স্বপ্নই তাকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেন,পরিশ্রম আর ধৈর্য থাকলে যে কেউ সফল হতে পারে। আমি চাই আরও বড় পরিসরে খামার গড়ে তুলতে এবং এই খাতে আরও মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করতে।’

এ বিষয়ে শৈলকুপা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাসেল আহমেদ জানান,খুশি খাতুন একজন পরিশ্রমী উদ্যোক্তা। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।




গাংনীতে ট্রান্সফরমার চোর চক্রের সক্রিয় ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

কৃষি নির্ভর মেহেরপুরের গাংনীতে জ্বালানি তেল সংকটে সেচ ব‍্যাবস্থা নিয়ে কৃষক যখন চরম দুশ্চিন্তায়, ঠিক সেই সময় সেচ পাম্পের জন‍্য বৈদ‍্যতিক খুটিতে থাকাবৈদ্যতিক ট্রান্সফরমার উদ্ধারসহ চোর চক্রের তিনজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে গাংনী থানা পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার মধ‍্যরাতে পুলিশ গাংনী উপজেলার চেংগাড়া নামক এলাকায় অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া একটি ট্রান্সফরমারসহ চোর

চক্রের তিন সদস‍্যকে আটক করে।

গ্রেফতাররা হলেন- কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের মতলেব প্রামানিক এর ছেলে মোঃ রহিদুল ইসলাম(৩৫),একই জেলার ভেড়ামারা উপজেলার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে পারভেজ হোসেন(৩২)ও আরকেজন হচ্ছেন একই উপজেলার ষোলদাগ গ্রামের মৃত সামসুল মালিথার ছেলে সজীব ইসলাম(২৮)।

পুলিশ সূত্রে জানাগেছে,রাতের বেলায় থানা পুলিশের নিয়মিত টহল চলাকালীন সময়ে গাংনী উপজেলার চেংগাড়া এলাকায় বৈদ‍্যতিক ট্রান্সফরমারসহ চোর চক্রের তিন সদস‍্য নজরে আসলে তাদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা শিকার করে তারা এই অঞ্চলে ট্রান্সফরমার চুরি করতেই এসে ছিলো।

গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার দাস বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃদের বিরুদ্ধে গাংনী থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করে আজ মেহেরপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তাছাড়া এই ট্রান্সফরমার চুরির পিছনে এলাকার কেহ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে দর্শনায় পৌর বিএনপির প্রস্তুতি সভা

২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক আলহাজ মশিউর রহমানের নেতৃত্বে দর্শনা পৌর বিএনপির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দর্শনা পৌর বিএনপির কার্যালয়ে পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও দামুড়হুদা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক হাফিজুল আলম মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাবু, দর্শনা পৌর বিএনপির অন্যতম সমন্বয়ক ও ঐতিহ্যবাহী মেমনগর বিডি হাইস্কুল পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আলহাজ মোঃ মশিউর রহমান, মাহবুবুল ইসলাম খোকন, মহিদুল ইসলাম, দর্শনা থানা ছাত্রদলের সভাপতি আরাফাত হোসেন, দর্শনা থানা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোরশেদুর রহমান লিংকন, দর্শনা পৌর ছাত্রদল নেতা আব্দুর রহিম মুন্না, আঃ রাজ্জাক শাহীন প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দর্শনা রেলবাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি বিএনপি নেতা তোফাজ্জল হোসেন, হাজী মোখলেছুর রহমান, দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক রেজাউল ইসলাম, নাসির উদ্দিন খেদু, বিএনপি নেতা আজিজুল ইসলাম, আব্দুল কাদের, তোফাজ্জল ইসলাম তুফান, আজিজুল হক প্রমুখ।

সভায় আগামী ২৬ মার্চ সকাল ৯টার সময় দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ১০টায় র‍্যালি ও আলোচনা সভা, এবং সকাল সাড়ে ১০টার সময় কেরু চিনিকলের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।




সাংস্কৃতিক মন্দাভাব কাটিয়ে ‘হিন্দোল কুষ্টিয়া’র বসন্ত মেলা

দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক স্থবিরতা কাটিয়ে আবারও প্রাণ ফিরে পেল কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গন। ‘হিন্দোল কুষ্টিয়া’র উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমির আঙিনায় শুরু হয়েছে সংগঠনের ২৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৮ দিনের বসন্ত মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব।

বর্ণিল আয়োজনে সেজে ওঠা এই উৎসব যেন হয়ে উঠেছে শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মীদের এক প্রাণের মিলনমেলা।

কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ‘হিন্দোল’-এর বর্তমান ও প্রাক্তন শিল্পীরা এক মঞ্চে মিলিত হয়ে তৈরি করেছেন আবেগঘন এক পরিবেশ।

অনুষ্ঠানের সূচনায় সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী ইমা ইসলাম, রোকসানা পারভীন, প্রমীত হাসান, সৃষ্টি, সুজন রহমান, হাসান হুসাইন, নন্দিতা, রূপন্তী, তিশা, সৃজন, এসএম টিপু সুলতান ও শুভায়ন বিশ্বাস। তাঁদের সুরে সুরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিলেন প্রথিতযশা কিবোর্ডিস্ট প্রতীক হাসান, যার সুরেলা পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

আয়োজকরা জানান, ‘হিন্দোল কুষ্টিয়া’ সবসময়ই সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চায় বিশ্বাসী। নতুন প্রজন্মকে শুদ্ধ সংস্কৃতির পথে উদ্বুদ্ধ করা এবং স্থানীয় শিল্পীদের জন্য একটি শক্ত মঞ্চ তৈরি করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

উৎসব চলাকালীন প্রতিদিন থাকছে গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রতিদিনই জমে উঠছে আয়োজন।

এই বসন্ত মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




সাবেক মন্ত্রীর ভাই মৃদুলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ

সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ভাই শহীদ সরফরাজ মৃদুলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২৪ সালে এনআই এ্যাক্টের ১৮ ধারায় মেহেরপুরের যুগ্ম দায়রা জজ ২য় আদালতে সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ভাই শহীদ সরফরাজ মৃদুলের বিরুদ্ধে ১কোটি ৮০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলা করেন তার ব্যবসায়ী অংশিদার দেবাশীষ কুমার বাগচি। যার মামলা নম্বর- এস.সি-১৫৬/২০২৪।

ওই মামলায় ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আদালত সরফরাজ হোসেনের মৃদুলকে ১কোটি ৮০ লাখ টাকার দ্বিগুন জরিমানা ও এক বছরের সাজা প্রদান করে রায় দেন। রায় ঘোষণার নির্দিষ্ট সময় পার হলেও আসামি সরফরাজ হোসেন মৃদুল কোন আপিল করেননি।

পরবর্তিতে ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি বাদি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৬ ধারা মতে জরিমানা টাকা আদায়ের জন্য একই আদালতে আবেদন করেন। আদালতের বিচারক মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান আবেদনটি আমলে নিয়ে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি জরিমানার টাকা আদায়ে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ও মালামাল ক্রোক করার জন্য মেহেরপুর সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন । একই আদেশের কপি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকেও পাঠানো হয়।

আসামী শহীদ সরফরাজ মৃদুলের মালিকানাধীন ৩কোটি ৬০ লাখ টাকা সমপরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির একটি তালিকায় আদেশের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে।

অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ৩টি সিলিং ফ্যান, ১টি ফ্রিজ, ২টি খাট, এক সেট সোফা, ২টি আলমিরা, ১টি ড্রেসিং টেবিল, ১টি এসি। যেগুলোর মুল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এছাড়া স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ঝাউবাড়িয়া মৌজায় ৬৬৯২ নম্বর খতিয়ানে ২.৮২৯২ একর জমি, মেহেরপুর মৌজার ১৩৩১৭ নম্বর খতিয়ানে ০.০০৩২ একর জমি, ২৯৬৩/২ নম্বর খতিয়ানে ০.০২৭৫ একর জমি, একই খতিয়ানের ভিন্ন দাগে ০.০০২৫ একর জমি, ১১৭১৮ নম্বর খতিয়ানের ০.০৪২১ একর জমি, হরিরামপুর মৌজায় ১৬০১ নম্বর খতিয়ানে ০.৪৬ একর জমি। মোট অস্থাবর সম্পত্তি ৩.৩৬৪৫ একর জমি যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, “ ক্রোক আদেশের নথি ঈদের আগ পযর্যন্ত পাইনি। ছুটি শেষ করে রবিবার অফিস করবো। আদেশ কপি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”




মেহেরপুরের হাসপাতাল রোডে সিঙ্গাপুর ক্লিনিকের উদ্বোধন

মেহেরপুর শহরের হাসপাতাল রোডে নতুন করে যাত্রা শুরু করেছে “সিঙ্গাপুর ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার” ও “জীম ফার্মেসি-২”।

মঙ্গলবার সকালে শহরের হাসপাতাল রোডের সিঙ্গাপুর টাওয়ারে এ দুটি প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত উদ্বোধন করেন লেঃ কর্ণেল (অবঃ) প্রফেসর ডাঃ মোঃ আব্দুল ওয়াহাব। এসময় প্রতিষ্ঠানের প্রোপাইটর শেখ মোঃ শরিফ রেজা (পান্না)সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

নব প্রতিষ্ঠিত এই ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মাধ্যমে আধুনিক চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

পাশাপাশি জীম ফার্মেসি-২ এর মাধ্যমে এলাকাবাসী সহজে ও দ্রুত ওষুধ সংগ্রহ করতে পারবেন বলেও জানান তারা।




সড়ক নির্মাণে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির গর্ত কেটে সড়কের মাটি ভরাট, ঝুঁকিতে শতাধিক পরিবার

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সড়ক নির্মাণ কাজে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বাইরে থেকে মাটি সংগ্রহ না করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি কেটে সেই মাটি সড়কের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সড়কের দু’ধারে বসবাসরত শতাধিক পরিবার চরম ভোগান্তি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাড়াগঞ্জ বাজার থেকে শৈলকুপা শহর পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে। কিন্তু প্রায় ৫ কিলোমিটার অংশে নিয়ম না মেনে পাশের জমি থেকে গভীর গর্ত করে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে।

কোথাও কোথাও এই গর্ত এতটাই গভীর যে, তা এখন স্থানীয়দের জন্য ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,তাদের অনুমতি ছাড়াই জোরপূর্বক জমিতে প্রবেশ করে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। বাধা দিলে উল্টো প্রভাব খাটিয়ে কাজ চালিয়ে যায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বসতভিটা, নষ্ট হয়েছে চলাচলের পথ, তৈরি হয়েছে ভয়াবহ ঝুঁকি। বিশেষ করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে ঘিরে ভূমিধসের আশঙ্কা বেড়েছে।

উপজেলার বারইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জরিনা খাতুন বলেন,’আমার একমাত্র জমিটাই শেষ করে দিয়েছে। বাড়িতে ঢোকা-বের হওয়া দায় হয়ে গেছে। স্বামীর ভ্যান বাড়িতে তুলতে এখন দুই-তিনজন লাগে। এমন কষ্টে কখনো পড়িনি।’

একই গ্রামের আকলিমা খাতুন বলেন,‘ঘরের সাথেই বড় গর্ত করা হয়েছে। বৃষ্টিতে ঘর ভেঙে গর্তে পড়ে যাওয়ার ভয়ে আছি। ঠিকাদারকে একাধিকবার বারণ করলেও শোনেনি।’

মাজেদা খাতুন নামে এক নারী বলেন,‘ঘরের সাথেই বড় গর্ত করা হয়েছে। বাড়িতে ছোট ছোট বাচ্চা আছে। বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি জমবে। তখন বাচ্চারা গর্তে পড়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটার ভয়ে আছি।’

একই অভিযোগ করেন সড়কের ধারে বসবাসরত আরও অনেকে। তাদের দাবি,কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি; বরং প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে।

সওজ সূত্রে জানা গেছে,সড়কটির মূল ঠিকাদার ঝিনাইদহের মিজানুর রহমান মাসুম। তার কাছ থেকে সাব-ঠিকাদারি নিয়ে কাজ করছেন শৈলকুপার বাইরপাড়া গ্রামের চুন্নু শেখ। ৬ কিলোমিটার সড়কটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ কোটি ২১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে সড়কের দু’ধারে মাটি ভরাট বাবদ বরাদ্দ রয়েছে ২৫ লাখ টাকা।

অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে সাব-ঠিকাদার চুন্নু শেখ বলেন,’সমস্যার কথা কেউ আমাকে বলেনি। যেখানে সমস্যা হয়েছে,অভিযোগ পেলে গর্ত ভরাট করে দেওয়া হবে। এই ঘটনায় আমাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করার কিছু নেই। একসময় আপনার সাথে দেখা করবো। পরে এই প্রতিবেদকের অফিসে এসে তাকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা চালান চুন্নু শেখ।

সড়ক নির্মাণ কাজের মূল ঠিকাদার মিজানুর রহমান মাসুম বলেন,‘আমার কাছ থেকে সাব ঠিকাদারি নিয়েছেন বারইপাড়া গ্রামের চুন্নু শেখ। এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় অনিয়ম করলেও তার বিরুদ্ধে আমার কিছু বলার নেই।’

এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান বলেন,’ ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থেকে মাটি কেটে সড়ক নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ ও দাবি,নির্ধারিত বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও নিয়ম না মেনে এভাবে জমি কেটে মাটি নেওয়া দুর্নীতিরই অংশ। দ্রুত গর্ত ভরাট, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।




হরিণাকুণ্ডুতে রাবিয়ানদের ঈদ পুণর্মিলনী

“শিকড়ের টানে, হৃদয়ের বন্ধনে-ফিরে দেখা সেই চেনা ক্ষণে” এই শ্লোগানে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী (রাবিয়ান) দের ঈদ পুণর্মিলনী অনুষ্ঠান -২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯ টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়স্থ হরিণাকুণ্ডু উপজেলা ছাত্র কল্যান সমিতির উদ্যোগে হরিণাকুণ্ডু সালেহা বেগম মহিলা ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের হয়ে উপজেলা মোড়ের দোয়েল চত্বর ঘুরে পুনরায় কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালি শেষে কলেজ মিলনায়তনে এক স্মৃতি চারণ মূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সাবেক রাবিয়ান এ্যাড. শহিদুজ্জামান শিরু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক রাবিয়ান আলী আজম মো: আবু বকর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যাবিপ্রবি)’র ভিসি প্রোফেসর আব্দুল মজিদ, হরিণাকুণ্ডু উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান মাস্টার, খুলনা বিএল কলেজের অধ্যাপক আতিয়ার রহমান, রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক হাসাপাতালের উপ পরিচালক ও মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি হরিণাকুণ্ডুর সন্তান ইমাজ উদ্দিন মন্ডল, উপজেলা জামায়াতের আমীর বাবুুল হোসেন, হাজী আরশাদ আলী কলেজের অধ্যক্ষ (অব:) মোতালেব হোসেন, সালেহা বেগম মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোক্তার আলী, সোনালী ব্যাংকের এজিএম হাবিবুর রহমান, অধ্যক্ষ রবজেল হোসেন, সাংবাদিক শাহানুর আলম, প্রধান শিক্ষক মাসুদুল হক টিটু, সহকারী অধ্যাপক বাবুল আক্তারসহ অন্যান্য রাবিয়ান।

বক্তারা শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং বিজ্ঞান শিক্ষারপ্রতি বর্তমান হাইস্কুল পড়ুয়া ছাত্রদের উদ্বুদ্ধ করে হরিণাকুণ্ডুকে উন্নত ও মডেল উপজেলায় উপনীত করার লক্ষ্যে আমাদের যার যার জায়গা থেকে কাজ করে যেতে হবে। বক্তারা অবহেলিত এই হরিণাকুণ্ডুর অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সালেহা বেগম মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মাহবুব মুর্শেদ শাহীন ও সহকারী শিক্ষক মাজেদুল ইসলাম। এ অনুষ্টানে হরিণাকুণ্ডুর প্রথমএকজন নারী শিক্ষিকা মহীয়সী নারীর সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।




দামুড়হুদায় জয়রামপুরে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে কিশোর নিহত

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর নতুনপাড়ায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নাঈম (১৪) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নাঈম উক্ত গ্রামের সাজিরুলের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাঈম তরমুজ কেনার উদ্দেশ্যে কাঠালতলা বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনায় জড়িত অপর মোটরসাইকেলের আরোহীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘর্ষের পর ওই মোটরসাইকেলটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানা গেছে।