মেহেরপুরের বারাদীতে এসএস বিদ্যা নিকেতনে অভিভাবক সমাবেশ ও নবীন বরণ

মেহেরপুরের বারাদীতে এসএস বিদ্যা নিকেতনে অভিভাবক সমাবেশ ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিদ্যাপীঠের আম্রকাননে সুধীজন, অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতিতে আনন্দঘন পরিবেশে এ সমাবেশ ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়।

এসএস বিদ্যা নিকেতনের পরিচালক সেলিম হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ও বারাদী ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক রকিবুল হাসান। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়।
অতিথিদের বক্তব্য শেষে নবীনদের বরণ, শিশুদের নৃত্য পরিবেশন এবং ২৬ মার্চের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোমিনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেদী রেজা, বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন মেহেরপুর জেলা সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, বারাদী পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই মনিরুজ্জামান, ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল জিন্নাত আলী, সাংবাদিক ও কলামিস্ট রফিক উল আলম, জেলা তাঁতী দলের সভাপতি আরজুল্লাহ রহমান বাবলু মাস্টার, সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক লিয়াকত আলী মেম্বার, ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান মুকুল এবং বারাদী পুলিশ ক্যাম্পের টু আইসি এএসআই আরুজ আলী।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন এসএস বিদ্যা নিকেতনের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সিরাজুস সালেকীন।




ঝিনাইদহে স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ

ঝিনাইদহের মহেশপুরে এক স্কুলছাত্রীকে বাড়ি ফেরার পথে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে এবং তা প্রদর্শন করে অভিযুক্তরা এলাকায় ‘উল্লাস’ করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার মহেশপুর থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছে।

এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের সন্ধ্যায় ওই স্কুলছাত্রী পাশের বাড়ি থেকে নিজের বাসায় ফিরছিল। পথিমধ্যে সামন্তা বাগদিরাইট গ্রামের রাস্তার ওপর থেকে শাওন ও হযরত আলী তার মুখ চেপে ধরে পাশের একটি ঘাসক্ষেতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সেখানে আরও দুজন যোগ দেয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, একই গ্রামের হাফেজুল ইসলামের ছেলে হযরত আলী, তরিকুল ইসলামের ছেলে শাওন এবং দিনুর ছেলে নয়ন পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় ফরিদ হোসেনের ছেলে আমিন ওই ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে রাখে যাতে সে চিৎকার করতে না পারে।
এ ঘটনায় শাওন ও আমিন মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। ধর্ষণের পর তারা ভিকটিমকে হত্যার হুমকি দেয় এবং ঘটনাটি জানাজানি হলে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়।

ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রী অশ্রুশিক্ত কণ্ঠে বলে, “ওরা আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে সর্বনাশ করেছে। আমার পরিবারকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়েছিল, তাই ভয়ে কিছু বলিনি। কিন্তু ওরা নিজেরা সেই ভিডিও মানুষকে দেখিয়ে আনন্দ করছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।”
মামলার বাদী ফাতেমা খাতুন বলেন, সামাজিক মর্যাদা ও জীবনের ভয়ে আমরা প্রথমে চুপ থাকলেও অভিযুক্তরা ভিডিওটি লোকজনকে দেখায়। তখন বিষয়টি আমাদের নজরে আসে।

এ বিষয়ে মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, “এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে আমরা অভিযান চালাচ্ছি।”




মেহেরপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

মেহেরপুরে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবৃষ্টিতে গম, ভুট্টাসহ উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাম্পার ফলনের আশা থাকলেও সময়মতো পাকা গম কেটে ঘরে তুলতে না পারায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। পেকে যাওয়া গমের জমিতে পানি জমে থাকায় ফলন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন চাষিরা।

কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে গমের ফলন ভালো হলেও জ্বালানি তেলের সংকট ও হারভেস্টার মেশিন না পাওয়ার কারণে সময়মতো গম কাটতে পারেননি তারা। এর মধ্যেই গতকাল (৩০ মার্চ) রাত ৯টার দিকে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে মাঠের অধিকাংশ পাকা গম মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এতে গম ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

কৃষকদের ভাষ্য মতে, গত বছর বিঘাপ্রতি গম কাটতে যেখানে খরচ হতো ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা, সেখানে চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকায়। তবুও পর্যাপ্ত হারভেস্টার মেশিন না পাওয়ায় অনেক কৃষক সময়মতো গম কাটতে পারেননি। ফলে ঝড়-বৃষ্টির আগেই ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হয়নি।

এ অবস্থায় মাঠে লুটিয়ে পড়া গম দ্রুত সংগ্রহ করতে না পারলে তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত অপরিপক্ব ও দেরিতে বপনকৃত গমে ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৩ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে না পারার কারণে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে কালবৈশাখী ঝড়ে গমের পাশাপাশি ভুট্টা ও কলা চাষিরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঝড় ও বৃষ্টির কারণে কিছু চাষির কলাগাছ নুয়ে পড়েছে। এছাড়া অপরিপক্ব ভুট্টা ক্ষেতের বেশিরভাগ গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, যা ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করেছে কৃষকদের মাঝে।

জেলার ঢেপা-পাঙ্গাসী পাড়া গ্রামের গম চাষী শাহাদত হোসেন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করছেন, কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে আগে কখনো পড়েননি। তার গম বেশ কিছুদিন আগেই কাটার উপযোগী হয়েছিল। তবে হারভেস্টার মেশিন না পাওয়ায় সময়মতো গম কাটতে পারেননি। বর্তমানে অধিকাংশ কৃষকই শ্রম ও সময় বাঁচাতে মেশিনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এরই মধ্যে গত রাতের ঝড়ে তার পাকা গম মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এখন সেই পড়া গম কাটতে অতিরিক্ত খরচ হবে। দ্রুত গম কাটতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সাহারবাটী গ্রামের গম চাষী জহিরুল ইসলাম জানান, তার এবার এক বিঘা জমিতে গম রয়েছে। কিন্তু গম কাটার মেশিনের অভাবে এখনো তা কাটতে পারেননি। গত রাতের ঝড় ও বৃষ্টিতে ক্ষেতের সব গম মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।

ভাটপাড়া গ্রামের ভুট্টা চাষী আব্দুল আলীম জানান, তার ও তার ভাইয়ের পাশাপাশি জমিতে দুই বিঘা করে ভুট্টা চাষ করা হয়েছিল। কিন্তু গত রাতের ঝড়ে তাদের জমির প্রায় অর্ধেক ভুট্টা মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, অনেক খরচ ও পরিচর্যার পর মোচা আসার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। ফলে লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ মাটিতে পড়ে যাওয়া গাছের অপরিপক্ব ভুট্টা থেকে আর কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাবে না।

জুগিন্দা গ্রামের ভুট্টা চাষী হৃদয় ইসলাম জানান, তাদের এক বিঘা জমিতে ভুট্টা রয়েছে, যেখানে গাছে কেবল মোচা আসা শুরু হয়েছে। এমন অবস্থায় গত রাতের ঝড়ে অধিকাংশ জমির ভুট্টা গাছ নুয়ে পড়েছে। এতে করে নুয়ে পড়া গাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাবে না বলে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এক বিঘা জমিতে তাদের ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু প্রত্যাশিত ফলন না পেলে সেই খরচও উঠে আসবে না।

কলা চাষী রাজিব জানান, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষতি না হলেও অধিকাংশ কলাগাছ বাঁকা হয়ে গেছে। গত রাতের ঝড়ে তার ৫-৬টি গাছ ভেঙেও পড়েছে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে বড় ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলে তিনি মনে করেন। কিন্তু আবার যদি ঝড়-বৃষ্টি হয়, তাহলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বলেও তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সঞ্জীব মৃধা বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিকভাবে কিছু ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে গেলে গমের বড় ধরনের ক্ষতি নাও হতে পারে। বিষয়টি অনেকটাই আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। অনুকূল আবহাওয়া ফিরে এলে ফসলের পুনরুদ্ধারের সুযোগ থাকে।




গাংনীতে পাম্পে তেল নিতে এসে ৭ মোটরসাইকেল চালককে জরিমানা

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী জামান ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে এসে বৈধ কাগজপত্র, হেলমেট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় ৭ মোটরসাইকেল চালককে জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এ জরিমানা করা হয়। জরিমানাপ্রাপ্ত চালকরা হলেন ওসমান গনী, নসিরুল হক, সুজন আহমেদ, মাসুম, ফারুক, জয় ও মামুন হোসেন।

জানা গেছে, পেট্রোল নিতে এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় তারা বিপাকে পড়েন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা কেউই মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র, হেলমেট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স সঙ্গে আনেননি।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত হোসেন জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই মাইকিং করে জানানো হয়েছিল তেল পাম্পে তেল নিতে হলে অবশ্যই গাড়ির বৈধ কাগজপত্র, হেলমেট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স সঙ্গে রাখতে হবে। অন্যথায় তেল দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, নির্দেশনা অমান্য করায় ৭ জন চালকের কাছ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পরে তাদের তেল দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

জামান ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী হারুন অর রশিদ বাচ্চু বলেন, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় কম তেল পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে বিপুল সংখ্যক ক্রেতাকে সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবুও আমরা ক্রেতাদের আগেই সতর্ক করছি যেন তারা তেল নিতে আসার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে আসেন। অন্যথায় তারা জরিমানার মুখে পড়ছেন।




মেহেরপুরে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন

৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ, মেহেরপুর জেলা শাখার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে গণপূর্ত অফিসের হলরুমে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান সহকারী মো. ফেরদৌস ওয়াহেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নাজির ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আত্তাব আলী।

সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন পেশাজীবী নেতা মো. নাজমুল হক লিটন। এছাড়াও বক্তব্য দেন সংগঠনের সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মুনির হাসান, আবুল কালাম আজাদ, শাহিন ইকবাল, জেনারেল হাসপাতালের কামরুজ্জামান বাবু, পিডিবির মজিরুল ইসলাম, সরকারি কলেজের আজিমুল ইসলাম, কৃষি অফিসের ওমর ফারুক লিটন, এসএম স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আহমেদ, সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল হকসহ অন্যান্যরা।

মতবিনিময় সভা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে মো. নাজমুল হক লিটনকে আহ্বায়ক এবং সরকারি বালিকা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হিসাবরক্ষক আবুল কালাম আজাদকে সদস্য সচিব করে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

বক্তারা ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সংগঠনকে গতিশীল করতে প্রতিটি দফতরের কর্মচারীদের ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান জানান।




মেহেরপুরে ফেনসিডিল রাখার দায়ে দুইজনের জেল-জরিমানা

মেহেরপুরে ফেনসিডিল রাখার অভিযোগে মিন্টু মিয়া ও সুমন বিশ্বাস নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে ১২ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার বিকেলে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ গোলাম কবির এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার অপর আসামি লাল্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মিন্টু মিয়া গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা সেন্টারপাড়ার রুহুল মিয়ার ছেলে এবং সুমন বিশ্বাস একই উপজেলার হাড়াভাঙ্গা মোল্লাপাড়ার মজিবর রহমানের ছেলে। খালাসপ্রাপ্ত লাল্টু সহড়াতলা গ্রামের কেরামত আলীর ছেলে। তবে সাজাপ্রাপ্ত মিন্টু ও সুমন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১২ জানুয়ারি গাংনী থানার এসআই আব্দুল হকের নেতৃত্বে পুলিশ বালিয়াঘাট গ্রামে ইঞ্জিনচালিত একটি ট্রলিকে চ্যালেঞ্জ করে। এ সময় ট্রলিতে থাকা তিনজন পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ মিন্টু ও সুমনকে আটক করে। পরে ট্রলির নিচ থেকে ৪২৬ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর ৩৬(১)(গ)/৩৮/৪১ ধারায় তিনজনকে আসামি করে গাংনী থানায় মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং-৮, জি আর কেস নং-৮/২০২০, এস সি নং-২২৭/২০২১)। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং মামলায় মোট ৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন।

সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত মিন্টু মিয়া ও সুমন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম এবং আসামি পক্ষের আইনজীবী হিসেবে অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, অ্যাডভোকেট মীর আলমগীর ইকবাল ও অ্যাডভোকেট এস. এম. আমানুল্লাহ আল আমান মামলা পরিচালনা করেন।




কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কুষ্টিয়ার মিরপুরে গ্রাম্য দলাদলির কারণে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য সাহাবুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে শ্বাসরোধে হত্যা মামলায় চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারদণ্ড দিয়েছেন আদালত

 

সেই সাথে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে কুষ্টিয়ার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এনায়েত কবির সরকার দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির উপস্থিতিতে জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের মিটন পশ্চিমপাড়ার মহিন প্রামাণিকের ছেলে আসাদুল প্রামাণিক ওরফে কালু (৪৪), একই এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে হাবিল হোসেন (৫৫), ওমর আলীর ছেলে মিলন হোসেন (৩৫) এবং মাজিহাট এলাকার মসলেম মোল্লার ছেলে এবং মিটন পশ্চিমপাড়ার জালাল বিশ্বাসের জামাতা আবু তাহের (৪৭)।

রায় প্রদানকালে দণ্ডপ্রাপ্ত আবু তাহের ছাড়া অপর তিনজন আসামি উপস্থিত ছিলেন। আবু তাহের পলাতক রয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। তাদের মধ্যে হামলা, মামলা, মারধর ভাংচুর, লুটপাটের ঘটনা ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী।

তারই ধারাবাহিকতায় এই মামলার বাদী সুমী খাতুনের স্বামী কৃষিশ্রমিক সাহাবুল মন্ডল হত্যাকাণ্ড সংঘটিত ।

২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর বিকালে মিটন গিয়াসমোড় এলাকায় বাজার করতে যান সাহাবুল ইসলাম এবং তার ছেলে সাব্বির। বাজারের ব্যাগসহ সাব্বিরকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন সাহাবুল। তার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

পরদিন ২১ অক্টোবর বুরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনের একটি ধৈঞ্চা ক্ষেত থেকে সাহাবুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে মিরপুর থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় ওইদিন মিরপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন সাহাবুল ইসলামের স্ত্রী সুমি খাতুন। যার মামলা নং-২৫।

মামলাটি তদন্ত শেষে মিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম জাবীদ হাসান ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এ মামলায় দীর্ঘ বিচারকার্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।




কালীগঞ্জে কৃষি জমিতে বিশাল আকৃতির শিলাখন্ড; ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এরই মধ্যে উপজেলার মালিয়াট ইউনিয়নের পারক্ষিদ্দা গ্রামে একটি বেগুন ক্ষেতে পাওয়া গেছে অস্বাভাবিক বড় আকারের একটি শিলাখন্ড, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।

রবিবার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র শিলাবৃষ্টি হয়। এতে বোরো ধান, বেগুন, পটল, টমেটোসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষক ফজলুর রহমানের ছেলে সবুজ হোসেন জানান, শিলাবৃষ্টির পরদিন সোমবার সকালে তিনি তাদের বেগুন ক্ষেত দেখতে যান। এ সময় তিনি দেখতে পান, পাখির হাত থেকে ফসল রক্ষার জন্য ক্ষেতের ওপর টাঙানো নাইলনের জালের ওপর একটি বড় শিলাখন্ড জমাট বেঁধে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রবিবার সন্ধ্যার শিলাবৃষ্টিতে আমাদের এলাকার অনেক ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষেত দেখতে গিয়ে এই বড় শিলাখণ্ডটি চোখে পড়ে। পরে সেটি বাড়িতে নিয়ে আসলে এলাকার বিভিন্ন বয়সী মানুষ তা দেখতে ভিড় করেন।

স্থানীয়রা জানান, এত বড় আকারের শিলাখন্ড আগে কখনও দেখেননি তারা। বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি বলেন , মৌসুমের শুরুতে এমন শিলাবৃষ্টি কৃষকদের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলার বেশকিছু গ্রামে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বেশি। উপজেলার মোট আবাদী ধানের ৪০ হেক্টর জমির আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, এছাড়া উপজেলার ৩৮ হেক্টর ভুট্ট্রা , ১৯ হেক্টর এবং ৫ হেক্টর পাটের কিছু অংশ ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে। সকালেই মাঠে কৃষি বিভাগের পক্ষথেকে খোজ খবর নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। বিশাল আকৃতির শিলাকন্ডের ছবি তিনি দেখেছেন। দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থরা।




কুষ্টিয়ায় জ্বালানি সংকট: তেলের লাইনে ভোগান্তি, ব্যাহত কৃষিকাজ

কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর এলাকায় অবস্থিত কুষ্টিয়া স্টোর পাম্পে পেট্রোল সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। অল্প পরিমাণ তেল নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে মোটরসাইকেল চালকদের। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে অপেক্ষা করছেন।

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মাত্র ৩০০ টাকার পেট্রোল নেওয়ার জন্য পাম্পের সামনে কয়েকশ মোটরসাইকেলের লাইন। তীব্র রোদ উপেক্ষা করে চালকরা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। অনেকের মুখে বিরক্তি ও ক্ষোভের ছাপ।

ভুক্তভোগী এক বাইক চালক জানান, “একটু তেলের জন্য এতক্ষণ রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে ভাবিনি। কাজের সময় নষ্ট হচ্ছে, তবুও উপায় নেই।”

পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে প্রতিটি বাইককে নির্দিষ্ট পরিমাণ, যেমন ৩০০ টাকার পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তারা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।

অন্যদিকে, জ্বালানি সংকটে কুষ্টিয়ায় কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। সেচ কার্যক্রমে ব্যবহৃত ডিপ টিউবওয়েল ও শ্যালো মেশিন চালাতে না পারায় দুর্ভোগ বেড়েছে।

ভেড়ামারায় খালেক ফিলিং স্টেশনে সকাল থেকেই ডিজেল নেওয়ার জন্য কৃষকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ক্ষেমিড়দিয়াড় এলাকার সোবহান আলী নামের এক কৃষক বলেন, “দুই বিঘা জমিতে ধানের আবাদ রয়েছে। সময়মতো পানি না দিলে জমি শুকিয়ে যায়। কিন্তু ডিজেল সংকটের কারণে সেচ দিতে পারছি না। সকাল থেকে বসে থেকে তিন ঘণ্টা পর মাত্র তিন লিটার ডিজেল পেয়েছি।”

জেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসলের জমিতে প্রয়োজনীয় সেচ দিতে পারছেন না অনেক কৃষক। এতে ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেকেই আবার বেশি দামে জ্বালানি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

মিরপুর উপজেলার আমলা এলাকার কৃষক আমিরুল ইসলাম জানান, সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

আবুরি মাগুরা এলাকার কৃষক করিম আলী বলেন, “ডিজেল না পেলে জমিতে পানি দেব কীভাবে? ফসল নষ্ট হয়ে গেলে আমাদের সব পরিশ্রম বৃথা যাবে।”

স্থানীয়দের মতে, জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান না হলে কৃষিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে এবং খাদ্য উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কৃষকরা। তারা জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করে কৃষিকাজ সচল রাখার দাবি জানিয়েছেন।




কুষ্টিয়ায় মোটরসাইকেল-পাখি ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবক নিহত

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মোটরসাইকেল ও পাখি ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে আজিম উদ্দিন নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

গতকাল রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে উপজেলার লাহিনী পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আজিম কুমারখালি উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের লালাদাড়ি গ্রামের আবু মুসার ছেলে।

কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, রাতে আজিম উদ্দিন মোটরসাইকেলযোগে কুষ্টিয়া থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে একটি ব্যাটারিচালিত পাখি ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এসময় রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে আজিম ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হন ভ্যানে থাকা চার যাত্রী। আহতদের কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া হাইওয়ে থানার ওসি আবু ওবায়েদ জানান, দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।