ঝিনাইদহে গৃহবধুকে মারধর করে বিবস্ত্র করার অভিযোগ

ঝিনাইদহে এক গৃহবধূককে মারধর করে বিবস্ত্র করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। আজ শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার দোগাছি গ্রামের পুর্বপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত গৃহবধু হাসনা আরা ওই গ্রামের নাজমুল বিশ্বাসের স্ত্রী। তিনি বর্তমানে ঝিনাইদহ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আহতের স্বজনরা জানান, সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপি’র দুগ্রুপের মধ্যে দোগাছি গ্রামের নজরুল ইসলামের সাথে সিরাজুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিলো। কয়েকদিন পূর্বে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

দোগাছি ইউনিয়ন পরিষদের নারী ইউপি সদস্য শারমিন আক্তার জানান, সকালে গৃহবধু হাসনা আরা ও চাচাতো দেবরের বউ আখি খাতুন গ্রামে হাটতে যায়। গ্রামের হাজামবাড়ি মসজিদ এলাকায় গেলে প্রতিপক্ষ সিরাজুল বিশ্বাসের সমর্থক লিটন, বাবুল, রশিদ, সাইফুল, লুতফর, ইমন, মুস্তাকসহ ১০ থেকে ১৫ জন ওই দুই গৃহবধূর পথরোধ করে। সে সময় আখি খাতুন দৌড়ে পালিয়ে যেতে পারলেও হাসনা আরাকে বেধড়ক মারপিট করে।

হামলাকারীরা গৃহবধুকে মারধর করে জামা কাপড় ছিড়ে ফেলে। সেসময় গলার চেইন, কানের দুল ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পরে পুলিশ এসে ওই নারীকে উদ্ধার করে। সেখান থেকে তাকে নিয়ে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ওই এলাকার সামাজিক মাতুব্বর সিরাজুল বিশ্বাসের ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিক বার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এক নারীকে মারধর করার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




সাফল্য এবং ব্যর্থতা দুটিই জীবনের লক্ষ্য অর্জনের মাপকাঠি নয়

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) ও সাংবাদিক মনির হায়দার বলেন, সাফল্য এবং ব্যর্থতা এ দু’টিই জীবনের লক্ষ্য অর্জনের মাপকাঠি নয়। অবশ্যই সফল হতে হবে তোমরা পড়তে এসেছ, বড় কিছু হবে, সরকারি চাকরি করবে, বড় জায়গায় যাবে, বড় ব্যবসায়ী হবে কিংবা বড় নেতা হবে এই লক্ষ্য তো থাকতেই হবে। কিন্তু এটাই জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়।

জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য তাহলে কী? জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো সার্থকতা। সাফল্যের পাশাপাশি জীবনটাকে সার্থক হতে হবে, জন্মকে সার্থক করতে হবে। আর সার্থকতার অর্থ কবি কামিনী রায়ের দুই লাইনে “সকলের তরে সকলে মোরা, প্রত্যেকে মোরে পরের তরে।” তোমার জীবন যদি শুধু তোমার জন্যই হয়, তবে সে জীবন সার্থক নয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার রঙিন সাজ, আনন্দ উল্লাস আর মধুর আবহে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী মেহেরপুর সরকারি কলেজের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্য এসকল কথা বলেন তিনি।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মনির হায়দার বলেন, নতুন পথচলা শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়, মানুষের মতো মানুষ হয়ে ওঠারও পথ দেখায় কলেজ জীবন। স্বপ্ন বড় হবে, পথ চলা হোক আলোকিত। আমরা সকলেই সফল হতে চাই, তোমরাও সফল হওয়ার জন্যই এই লেখাপড়ার পথ বেছে নিয়েছ এবং এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়তে এসেছ। তোমরা তো জীবন মাত্র শুরু করেছ লেখাপড়া করবে, পেশাগত জীবনে ঢুকবে, অনেক কষ্ট করে অনেক কিছু অর্জন করবে, সফল হবে তারপর একদিন জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে যাবে।

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম নজরুল কবীরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতিকুল ইসলাম, মেহেরপুর সরকারি কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক খেজমত আলী মালিথ্যা।

অতিথিরা নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে বড় হয়ে ওঠার আহ্বান জানান। এছাড়া কো-কারিকোলাম অ্যাক্টিভিটিস, সামাজিক কার্যক্রমসহ মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে কলেজকে বিশ্বের বুকে তুলে ধরার পাশাপাশি একটি মানবিক সমাজ গঠন করার আহ্বান জানান।

নবীনদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন একাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্র বিধান শেখ এবং দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র উলফাতুন নেছা পূর্ণিমা।

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহূর্ত ছিল ফুল ছিটিয়ে নবীনদের বরণ করে নেওয়া। প্রবীণ শিক্ষার্থীরা হাতে রঙিন পাপড়ি ছিটিয়ে নবীনদের স্বাগত জানালে ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর এক আবহ।

পরে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান, নৃত্য, কবিতা আর নাট্য পরিবেশনায় মাতিয়ে রাখেন কলেজের শিক্ষার্থীরা।




মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি হলেন মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন

মেহেরপুর জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন। গতকাল বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (জিপি ও পিপি) মো. মাহরুফ আহম্মেদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তার নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, কোড অফ ক্রিমিনাল প্রসিডিওর, ১৮৯৮-এর সেকশন ৪৯২ এবং ১৯৬০ সালের চ্যাপ্টার-২-এর প্যারাগ্রাফ-৬-এর রুল-৭ অনুযায়ী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিনকে মেহেরপুর জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো।

তাকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে। নিয়োগাদেশ জারির পর থেকেই এ নিয়োগ কার্যকর হবে।




মুজিবনগরের দারিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ শূন্য ঘোষণা

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার ০১ নম্বর দারিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ এস এম মাহবুব আলম দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি গত মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্ব-ব্যাখ্যাত পদত্যাগপত্র দাখিল করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ মণ্ডল স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন–২০০৯-এর ৩২(২) ধারা অনুযায়ী পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করেন। একই আইনের ৩৫(১)(৬) ধারা অনুসারে চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য হয়েছে।

পরবর্তীতে আইনগত ক্ষমতাবলে ৩৫(২)(১) ধারা অনুযায়ী ২৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে দারিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।




মেহেরপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মেহেরপুর-১ আসনের দলীয় মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মেহেরপুর জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে মিছিলটি পুনরায় জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ মোহাম্মদ, সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক লিটন, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মীর গোলাম ফারুক, সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিম, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিফ, সাধারণ সম্পাদক এহান উদ্দিন মনা, জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি মোশারফ হোসেন তপুসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা মেহেরপুর-১ আসনের মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।




মেহেরপুরে জামাতে নামাজ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

মেহেরপুরের ঘোষপাড়া সালাত কায়েম পরিষদের উদ্যোগে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ৪০ দিনের জামাতের সঙ্গে নামাজ পড়ার ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঘোষপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মীর জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঘোষপাড়া জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল হক।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঘোষপাড়া সালাত কায়েম পরিষদের সাবেক সভাপতি শিপন বিশ্বাস, বর্তমান সভাপতি জান্নাত মীর, সেক্রেটারি আরিস বিশ্বাস, ক্যাশিয়ার সোহানুর রহমান সোহান, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শাফিনুর রহমানসহ পরিষদের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় মুসল্লিরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়, নয় বছর থেকে আঠারো বছর বয়সী যে সকল কিশোর জামাতের সাথে পরপর ৪০ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারবে, তাদেরকে সাইকেল উপহার দেওয়া হবে।

আয়োজকরা জানান, তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে রেখে নামাজের প্রতি আকৃষ্ট করাই এ ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য। নামাজের মাধ্যমে চরিত্র গঠন ও নৈতিকতা বৃদ্ধি পেলে সমাজ থেকে মাদকসহ নানা অপরাধ কমে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ ও মাদকমুক্ত সুন্দর সমাজ গঠনের উদ্দেশ্যে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।




৩য় দিনের আন্দোলনে দর্শনা কেরুজ শ্রমিকদের ৯ ঘন্টা অবরুদ্ধ

দর্শনা কেরুজে টানা তৃতীয় দিনের আন্দোলনে শ্রমিকরা ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসানসহ ব্যবস্থাপনা পর্ষদের কর্তা‌দের ৯ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ করে রাখে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত শ্রমিকরা এমডি রাব্বিক হাসানসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের অফিসে আটকে রাখে। পরে সেনাবাহিনী ও দর্শনা থানার ওসি (তদন্ত) সুলতান মাহমুদের সহায়তায় তারা অফিস ত্যাগ করেন।

এ সময় এমডি রাব্বিক হাসান বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা হয়নি, তবে আগামী রবিবার সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে বলে তিনি শ্রমিকদের আশ্বস্ত করেন। ঘটনার পর কেরু ক্যাম্পাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম পিন্স বলেন, আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। এটি আমাদের যৌক্তিক দাবি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এমডি রাব্বিক হাসান হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের রায় মানছেন না এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছেন।

দেশের ঐতিহ্যবাহী চিনিকল দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানির প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ থাকা শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের দাবিতে শ্রমিকরা লাগাতার বিক্ষোভ, সমাবেশ, অবরোধ ও অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছে। গত বছরের ১৪ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন একজন শ্রমিক নেতার বদলিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে ১১ মার্চ নির্বাহী আদেশে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে শ্রমিকপক্ষ হাইকোর্টে রিট করেন এবং আদালত নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশ দেন। শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও কয়েক দফা কেরু পরিদর্শন করে নির্বাচন উপযোগী পরিবেশ আছে বলে মত দেন।

তবুও প্রায় এক বছর নির্বাচন না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং গত কয়েকদিন ধরে তারা ধারাবাহিক আন্দোলনে নেমেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত তারা এমডিকে অবরুদ্ধ করে রাখে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এমডি রাব্বিক হাসান বলেন,‌ নির্বাচন বিষয়ে আমি সিদ্ধান্ত নেব না। সদর দপ্তরকে অবহিত করেছি, তারা যা সিদ্ধান্ত দেবে আমি তা অনুসরণ করব।

আন্দোলনে অংশ নেন সাবেক সভাপতি তৈয়ব আলী, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানসহ ২-৩ শ’ নেতা-কর্মী।




আলমডাঙ্গায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কুদ্দুস

আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের খোরদ গ্রামের গর্ব, মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের স্বাক্ষর রাখা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কুদ্দুস (৬৮) আর নেই। তিনি গত বুধবার দিবাগত রাতে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে খোরদ কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়। দাফন কার্যক্রমে জাতীয় পতাকা অর্পণ, গার্ড অব অনারসহ রাষ্ট্রীয় সব আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে পালন করা হয়। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সালামি প্রদানের মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন মেয়ে, দুই ছেলে এবং বহু গুণগ্রাহী রেখে যান।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কুদ্দুস দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, স্থানীয় জনসাধারণ ও মুক্তিযোদ্ধা মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অশীষ কুমার বসু, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার অসংখ্য সাধারণ মানুষ। সবাই বীর মুক্তিযোদ্ধার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।




চুয়াডাঙ্গা থেকে বিশ্বমঞ্চে, থাইল্যান্ডে যাচ্ছে জিহাদরা

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আবারও আলোচনায়; নিজস্ব মেধা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিতে সাফল্য দেখিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জায়গা করে নিয়েছে চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞান ও রোবট ক্লাব। জিহাদের নেতৃত্বে দলটি জাতীয় পর্যায়ে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে অর্জন করেছে বহুল কাঙ্ক্ষিত আন্তর্জাতিক পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ।

বাংলাদেশ তরুণ বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবক সমিতি (বাইসিস) আয়োজিত বিশ্ব যুব বিজ্ঞান আবিষ্কার উদ্ভাবন ‘জাতীয় পর্ব’ প্রতিযোগিতাটি গত ১৯ নভেম্বর বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক দল এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এর মধ্যেই নজর কাড়ে দামুড়হুদার দর্শনা থেকে অংশ নেওয়া চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞান ও রোবট ক্লাব।

সারাদেশ থেকে মাত্র ১০টি দল আন্তর্জাতিক পর্বের (থাইল্যান্ড-২০২৬) জন্য নির্বাচিত হয়েছে। সেই তালিকায় গর্বের সঙ্গে জায়গা করে নিয়েছে চুয়াডাঙ্গার দলটি। জাতীয় পর্যায়ে তারা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মাননা অর্জন করেছে স্বর্ণপদক (যন্ত্রমানব ও চালকবিহীন বিমান বিভাগ) শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবনী ধারণা পুরস্কার এবং শ্রেষ্ঠ ক্লাব সহযোগী স্বীকৃতি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইজিলিশ ইন্টারন্যাশনাল (সিঙ্গাপুর)-এর পরিচালক সোলাইমার্ন লেখেম ও সমন্বয়ক থিওয়ারা চিতজুই। আরও উপস্থিত ছিলেন প্রযুক্তি মাধ্যম সংগঠন বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ কাউসার উদ্দিন, ব্যাপনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. রিফাত মাহবুব এবং নাবাটেক বিশ্বের প্রতিষ্ঠাতা নাদিমুল হক জুলাস। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন বাইসিসের সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন।

দর্শনা পরানপুর গ্রামের জয়নাল আবেদিন ও নাসরিন খাতুন দম্পতির একমাত্র ছেলে জাহিদ হাসান জিহাদ নিজের প্রতিভা, নেতৃত্ব এবং একনিষ্ঠ পরিশ্রম দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। যন্ত্রমানবে তার দক্ষতা এবং দলের প্রতি তার নিবেদন ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

দলে জিহাদের সঙ্গে ছিলেন আরও দুই মেধাবী সদস্য ওয়ারিদ আব্দুল্লাহ ও নুজহাত ফাইজা। পুরো দলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন পরামর্শদাতা সাদেকুল ইসলাম।

আগামী ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক পর্বে দলটি বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে। সেখানে তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ উদ্ভাবকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। চুয়াডাঙ্গার মানুষের জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক অর্জন।

নিজ অনুভূতি জানিয়ে জিহাদ বলেন, এই সাফল্য দর্শনা ও চুয়াডাঙ্গার মানুষের। কঠোর পরিশ্রমের ফলস্বরূপ আমরা স্বর্ণপদক অর্জন করেছি। বিশ্বমঞ্চে দেশের পতাকা বহন করা আমাদের স্বপ্ন ছিল, এখন সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পেয়েছি। চাই, আমাদের সাফল্য তরুণদের বিজ্ঞানচর্চায় আরও অনুপ্রাণিত করুক।

জিহাদের মা-বাবা জানান, শৈশব থেকেই জিহাদের প্রযুক্তির প্রতি গভীর আগ্রহ। আজ তার পরিশ্রমের মূল্য মিলেছে। আমরা চাই সে দেশকে আরও বড় করে তুলে ধরুক। সবার দোয়া ও ভালোবাসা যেন তার সঙ্গে থাকে।




দামুড়হুদায় শিক্ষা প্রদর্শনী ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

দামুড়হুদায় মারকাযুস সুন্নাহ বালক-বালিকা কওমী মাদরাসায় শিক্ষা প্রদর্শনী ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় মাদরাসা প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে অত্র প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হাজী আব্দুল কাদিরের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুফতি জুনাঈদ হাবিবী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু হাসান এবং আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল কামাল উদ্দিন।

আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক কুতুব উদ্দিন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন, বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের ইমাম হাজী আব্দুস সবুর, বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের সেক্রেটারি ডা. মনির খান এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুফতি একলাছুর রহমান।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন অতিথিবৃন্দ, সুধীজন, প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।