ঝিনাইদহে ৪টি আসনের ১টিতে বিএনপি ও বাকী ৩টিতে জামায়াত বিজয়ী

ঝিনাইদহে ৪টি সংসদীয় আসনের ১টিতে বিএনপি’র ধানের শীষ এবং বাকী ৩টি তে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হয়েছে।

ঝিনাইদহ-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোঃ আসাদুজ্জামান পেয়েছেন ১লাখ ৭১হাজার ৫শ’৯৮ ভোট নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লা প্রতীকের এস এম মতিউর রহমান পেয়েছেন ৫৫হাজার ৫শ’৭৭ ভোট। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ১লাখ ১৬হাজার ২১ ভোটে বিজয়ী হয়েছে। এই আসনে মোট ভোটার ছিল ৩লাখ ২৫ হাজার ২শ’৭৮ জন।

ঝিনাইদহ-২ (ঝিনাইদহ সদর ও হরিণাকুণ্ডু) আসনের ১৮৫টি কেন্দ্রের সর্বশেষ ফলাফলে জামায়াতের আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১লাখ ৯৩ হাজার ৬শ’৩৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের আব্দুল মজিদ পেয়েছেন ১লাখ ৭৫হাজার ৬৭ ভোট।

এই আসনে মোট ৫লাখ ৬হাজার ৬শ’৩২ ভোট এর মধ্যে পুরুষ ভোট রয়েছে ১লাখ ৬৪ হাজার ৭শ৭৮ ভোট এবং মহিলা ভোটার রয়েছে ১লাখ ৬৭ হাজার ৮শ’৯৭ ভোট।

ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর- মহেশপুর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোঃ মতিউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১লাখ ৭২ হাজার ৪শ’৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকের মেহেদী হাসান রনি পেয়েছেন ১লাখ ৪৮হাজার ৮২ ভোট। এই আসনে মোট কেন্দ্র ছিল ১৬৬টি এবং মোট ভোটার ৪লাখ ৩১হাজার ১৫ জন।

ঝিনাইদহ-৪ (সদরের আংশিক এবং কালীগঞ্জ) আসনের জামায়াতের প্রাথী মাও: আবু তালেব দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১লাখ ৪ হাজার ৩১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ সাইফুল ইসলাম ফিরোজ পেয়েছেন ৭৫হাজার ৭শ’৫০ ভোট এবং ধানের শীষের রাশেদ খান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬শ’৭০ ভোট। এই আসনে মোট ভোটার ছিল ৩লাখ ৩৩ হাজার ৪শ’৬১ ভোট।




আলমডাঙ্গায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল শিশু হাসানের

ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্য নানাবাড়ীতে বেড়াতে এসে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল ৫ বছরের শিশু হাসানের। ঘটনাটি ঘটেছে আলমডাঙ্গার ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের খোরদ গ্রামে। দুই গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আনুমানিক ১০টার দিকে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। শিশুটির অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও পুরো গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের শেখপাড়া গ্রামের ইসরাইল হোসেনের স্ত্রী তার বাপের বাড়ি ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্য সন্তানদের সাথে নিয়ে খোরদ গ্রামে বেড়াতে আসেন। পারিবারিক আনন্দঘন পরিবেশে সবার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিল ছোট্ট হাসান। সকালে সে তার নানা লাল্টু হোসনের সঙ্গে স্থানীয় ভোটকেন্দ্রে যায়। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান শেষে নানা-নাতি বাড়ীতে ফিরে আসে।

বাড়ীতে ফিরে সমবয়সী অন্য শিশুদের সঙ্গে লুকোচুরি খেলতে থাকে হাসান।

খেলার এক পর্যায়ে সবার অগোচরে বাড়ীর পাশের মাঠের মধ্যে অবস্থিত একটি ছোট পুকুরের দিকে চলে যায়। অসাবধানতাবশত পুকুরে পড়ে গেলে সে আর উঠতে পারেনি।

কিছু সময় পর শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে তাকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে তড়িঘড়ি করে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়। এদিকে খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো খোরদ গ্রামে শোকের মাতম চলছে।




মেহেরপুরের পিরোজপুরে ভোটারকে হুমকির অভিযোগ

মেহেরপুর জেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁঠালপোতা গ্রামে এক সাধারণ ভোটারকে ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতা আরিফুল ইসলাম (পিতা: আলিহিম বিশ্বাস) দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থক সাধারণ ভোটার ফারুক হোসেনকে (পিতা: সিরাজ) ভোটকেন্দ্রে না যেতে হুমকি দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন জানান, তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে যাতে তিনি ভোট দিতে কেন্দ্রে না যান। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।




মেহেরপুরে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমূখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন

মেহেরপুর জেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলার দুইটি সংসদীয় আসনের মোট ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ চলছে। সকালে মেহেরপুর-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদ অরুন সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। একই সময়ে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী তাজউদ্দীন খান ভোট প্রদান করেন।

এদিকে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সাহারবাটি চারচারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে সৃষ্ট সংঘর্ষে জামায়াতের ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, ভাটপাড়া গ্রামের জামায়াত কর্মী মোশাররফ হোসেনের ছেলে রিপন আলী (২৫), আহাজদদীনের ছেলে আনারুল ইসলাম (৫০)ইদ্রিস আলীর ছেলে আলাহাজ আলী(৪০), সাইদুল ইসলামের ছেলে সম্রাট (৩০), ভ্যানচালক ওয়ারেশ আলী(৪৫) সাহারবাটী গ্রামের বিএনপি কর্মী বক্কার আলী।

এছাড়া মুজিবনগর উপজেলার জয়পুর তারানগর ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষ আহত হয়েছে তিন জামায়াত কর্মী। খাসমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জামায়াতের ৪ কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহতরা অনেকেই মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল, গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

গাংনী সংসদীয় জামায়াত প্রার্থী নাজমুল হুদা তার কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের ভোটারদের কোন কেন্দ্রে যেতে দিচ্ছে না বিএনপির লোকজন এবং অনেককে মারধর করেছে এতে ১৫ জন আহত হয়েছেন অনেকের কয়েকজনের অবস্থা আশংকা জনক। এ বিষয়ে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে জানানো হয়েছে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলেছেন।

মেহেরপুর পুলিশ সুপার (এসপি) উজ্জ্বল কুমার রায় জানান, সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা শোনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবেই চলছে। সংঘর্ষের বিষয়ে আইনী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। ‌

এদিকে সকাল পৌণে আটটার সময় মেহেরপুর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী আমজাদ হোসেন ও জামায়াত প্রার্থী নাজমুল হুদা ভোট প্রদান করেন। ভোট প্রদান শেষে তারা দুজনে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন।

মেহেরপুর-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী তাজউদ্দীন খান অভিযোগ করে বলেন, সকাল থেকেই মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে জামায়াত-সমর্থক ভোটারদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে বিএনপি সমর্থকরা।

মুজিবনগরের জয়পুর তারানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নারী ভোটারদের বাধাপ্রদান, জামায়াতের এজেন্টদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা ও ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত কর্মী সমর্থকদের মধ্যে সৃষ্ট সংঘর্ষ জামায়াতের দুই কর্মী আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে, খবর পেয়ে ভ্রাম্যমান টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে জামায়াতের দুই কর্মীকে আটক করেছেন। তারা হলেন, মুজিবনগর জয়পুর গ্রামের হুজুর আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম ও মানিক হোসেনের ছেলে আশরাফ আলী। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আটক দুজন পুলিশী হেফাজতে রয়েছেন।

এদিকে গাংনী উপজেলার সাহারবাটি ভোট কেন্দ্রে ভোট প্রদানে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে জেলায় দুটি আসনে বিএনপি ও জামায়াতসহ অন্যান্য দলের ৭ প্রার্থী ভোট যুদ্ধ করছেন।

এদের মধ্যে মেহেরপুর-১ (সদর-মুজিবনগর) আসনে বিএনপি প্রার্থী সাবেক এমপি মাসুদ অরুন, জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা তাজ উদ্দীন খান, জাতীয় পার্টর প্রার্থী আব্দুল হামিদ ও সিপিবি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান। মেহেরপুর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী আমজাদ হোসেন, জামায়াত প্রার্থী নাজমুল হুদা ও জাতীয় পার্টর প্রার্থী আব্দুল বাকী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তবে ভোটের মাঠে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে মুলপ্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা। মেহেরপুরের দুটি আসনে ৫ লাখ ৮৭ হাজার ভোটার তাদের ভোট প্রদান করবেন।




ঝিনাইদহে ভোট বন্ধ ২০ মিনিট, সহকারী প্রিজাইডিং অব্যহতি

ঝিনাইদহ-৪ আসনের কালীগঞ্জ উপজেলার চাকুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালটের মুড়ি বইয়ে একাধিক টিপসই নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার সম্মিলনি দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী সাইফুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রের পুরুষ বুথের ভোটগ্রহণ ২০ মিনিট বন্ধ ছিল। পরে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিমা ইসলাম কেন্দ্রে এসে ভোটগ্রহণ শুরু করেন। এই কেন্দ্রে ৪টি গ্রামের ৩ হাজার ২৮৯ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাকুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মঞ্জুরুল আলম।

ভোটার রসুল আমিন অভিযোগ করেন, তিনি ভোট দিতে গেলে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ব্যালট দেওয়ার সময় ৪/৫টি ব্যালটের মুড়ি বইয়ে টিপ সই করিয়ে নেয়। এতে তার সন্দেহ হলে তিনি বিষয়টি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারকে জানান। এর আগে আরো ২/৩ জনের কাছ থেকে এভাবে টিপ সই নিয়েছেন। তিনি ওই অফিসারকে প্রত্যাহার ও আইনগত ব্যবস্থা দাবি করেন।

কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মঞ্জুরুল আলম বলেন, প্রায় ২০ মিনিট পুরুষ বুথের ভোট বন্ধ ছিল। এরপর স্বাভাবিক হয়েছে।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিমা ইসলাম জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সহকারী ওই প্রিজাইডিং অফিসারকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে।




মেহেরপুরে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৩

মেহেরপুরে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতাই বিএনপি সমর্থক্দের মামলায় জামায়াতের তিনজন গুরুত্বর জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ শুক্রবার গাংনী উপজেলার জোড়পুকুরিয়া বাজারে।

আহতরা হলেন-একই এলাকার জোড়পুকুরিয়া গ্রামের মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে উজ্জ্বল হোসেন, ইয়ার আলীর ছেলে মাসুদ রানা ও ঝন্টু আলীর ছেলে জুয়েল আহমেদ।

আহত উজ্জ্বল হোসেন বলেন, আমরা বাজারে চায়ের দোকানে বসে কথা বলছিলাম এমন সময় বিএনপি সমর্থিত রিপন হোসেন আমাকে বলে জামায়াত এতো ভোট পাইলো কি করে? তারপর আমাদের মধ‍্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রিপন ও তার লোকজন মিলে আমাদের উপর অর্তকিত হামলা চালায়। এবং আমাদের বেধড়ক মারধর করে।

পরে স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন‍্য গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

স্থানীয় রকিব হোসেন বলেন, আমরা পাশের দোকানে বসে ছিলাম এমন সময় দেখি বেশ কয়েকজন মিলে ধস্তাধস্তি ও মারামারি করছে। আমরা পরবর্তীতে উভয় পক্ষকে থামিয়ে আহতদের চিকিৎসার জন‍্য গাংনী হাসপাতালে নিয়ে আসি।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি উত্তম কুমার বলেন, সংঘর্ষের ঘটনার তথ‍্য পেয়ে ঘটনা স্থলে পুলিশ পৌঁছেছে। বতর্মানে উক্ত এলাকার পরিস্থিতি সাভাবিক। অভিযোগ পেলে আইনগত ব‍্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।




মুজিবনগরে ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ায় জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষে আহত-৫, আটক ২

মেহেরপুরের মুজিবনগরের জয়পুর গ্রামে ভোটারদের  ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা প্রদান করা কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে জামায়াত-বিএনপির ৫ জন সমর্থক আহত হয়েছে। এসময় দুইজন কে আটক করে পুলিশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে এঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন, বিএনপি সর্মথক আশাদুল ও জামায়াত সর্মথক-বাইজিদ, আবু ওবাইদা, মাহাফিজুর রহমান রিটন ও আইনাল গাজী। এসময় ঘটনাস্থল থেকে দুইজন জামায়াত কর্মীকে আটক করে পুলিশ। আটকৃতরা হলেন, শহিদুল ও আশরাফ হোসেন।

পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মুজিবনগর উপজেলার জয়পুর গ্রামে ভোট কেন্দ্রের ১০০ গজ দূরে বিএনপি এবং জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল ইসলাম সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সকালে জয়পুর গ্রামে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা প্রধান কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।

এসময় ঘটনাস্থল থেকে জামায়াত সমর্থক দুই কর্মীকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণ চলছে।




ঝিনাইদহে ভোটকেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড়

শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ভোট শুরুর আগেই কেন্দ্রে এসে উপস্থিত হয়েছেন ভোটাররা। কেন্দ্রের বাইরে দেখা দিয়েছে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে ঝিনাইদহ-৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত নারিকেলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঘুরে ভোটারদের দীর্ঘ লাইনে উপস্থিতির এমন চিত্র দেখা গেছে।

নারিকেলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা গৃহিণী মরিয়ম আক্তার বলেন, ফজরের নামাজ পড়েই এসে ভোট দিতে লাইনে দাঁড়িয়েছি। আমার দুটো ছেলে-মেয়ে আছে, ওরা বাসায় ঘুমাচ্ছে। ভেবেছিলাম খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ভোট দিয়ে বাসায় চলে যেতে পারব। কিন্তু এসে যে দীর্ঘ লাইন দেখতে পাচ্ছি, তাতে মনে হচ্ছে ভোট দিতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যাবে।

এই আসনে বিএনপি জোট থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোঃ রাশেদ খান, দশ দলীয় জামায়াত জোট থেকে মনোনীত প্রার্থী আবু তালেব লড়ছেন ‘দাঁড়িপাল্লা ’ প্রতীকে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আলোচিত সাইফুল ইসলাম ফিরোজ কাপ পিরিচ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।




নতুন দুই এমপি তাজউদ্দীন ও নাজমুল হুদা

মেহেরপুরের দুটি আসনে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীরা ভুমিধ্বস বিজয়ী হয়েছেন। স্বাধীনতা উত্তর মেহেরপুরের দুটি আসনের প্রথমবারের মতো জামায়াত ইসলামী থেকেেএমপি নির্বাচিত হলেন।

মেহেরপুর-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী তাজ উদ্দীন খান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১২২৮২৯ ভোট পেয়ে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী বিএনপি প্রার্থী মাসুদ অরুন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১০৪২২৪ ভোট।

অপরদিকে, মেহেরপুর-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী নাজমুল হুদা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯৪১৬৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপি প্রার্থী আমজাদ হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫৬৮৯ ভোট। জাতীয় পার্টি প্রার্থী আব্দুল বাকী লাঙ্গল প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১৭৯১। এ আসনের ভোট পোল হয়েছে ১৮৭০৩০টি। বাতিল হয়েছে ৫১২৬টি। এ আসেন ভোট পোল হয়েছে শতকরা ৬৯.২৬ শতাংশ।

মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের নির্বাচন কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানা গেছে। কেন্দ্র থেকে আসা ফলাফল ঘোষণা করেন স্ব স্ব উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, মেহেরপুর জেলার দুটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৮০ হাজার ৬০৮ জন। জেলায় মোট ২১৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হয়।

এর মধ্যে মেহেরপুর-১ (মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর) সংসদীয় আসনে ১২৩টি আসনে ভোটার ছিলেন৩ লাখ ১৩ হাজার ২১৬ জন । মেহেরপুর-১ আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দীতা করেন।

অপরদিকে মেহেরপুর-২ (গাংনী) সংসদীয় আসনে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭০ হাজার ৫ জন এবং ভোটকেন্দ্র ছিলো ৯০টি। এ আসেন তিন জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দীতা করেন।




মেহেরপুরের দুটি আসনে জামায়াতের প্রার্থী বিজয়ী

মেহেরপুরের দুটি আসনে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।

মেহেরপুর-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী তাজ উদ্দীন আহমেদ খান ১২২৮২৯ ভোট পেয়ে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী বিএনপি প্রার্থী মাসুদ অরুন পেয়েছেন ১০৪২২৪ ভোট।

অপরদিকে, মেহেরপুর-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী নাজমুল হুদা ৯৪১৬৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপি প্রার্থী আমজাদ হোসেন পেয়েছেন ৮৫৬৮৯ ভোট।

মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের নির্বাচন কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানা গেছে। কেন্দ্র থেকে আসা ফলাফল ঘোষণা করেন স্ব স্ব উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।