মেহেরপুর পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ইকবাল হোসেন বুলবুল আর নেই

সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন দোদুলের মেজো ভাই মেহেরপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ইকবাল হোসেন বুলবুল ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শনিবার ভোরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

ইকবাল হোসেন বুলবুল শহরের বোসপাড়ার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম ছহিউদ্দীন বিশ্বাসের মেজ ছেলে।

তার মৃত্যুতে মেহেরপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

মরহুমের জানাজার নামাজের সময় ও স্থান পরে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।




ঝিনাইদহে আহত বিএনপি কর্মীর মৃত্যু

ঝিনাইদহে জামায়াতের নারী কর্মীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিলকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির সংঘর্ষে আহত বিএনপি কর্মী তরু মিয়া (৪৮) ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে জামায়াতের নারী কর্মীদের সমাবেশ ও ইফতার মাহফিল পণ্ড করতে গিয়ে বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হন।

বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আহতদের ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তরু মিয়ার অবস্থা শঙ্কাপন্ন হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় তরু মিয়া মারা যান।

নিহত তরু মিয়া মাধবপুর গ্রামের মৃত মনছুর আলীর ছেলে। প্রায় দুই দশক তিনি প্রবাসে ছিলেন। পাঁচ মাস আগে দেশে ফিরে এসে তার ছেলে শিপন রহমান ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতা হওয়ায় তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

ইউনিয়ন যুবদল নেতা আবু কালাম বলেন, “জামায়াতের হামলায় আমিসহ বিএনপির ৭ নেতা-কর্মী আহত হন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাদের ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। তরু মিয়া মারাত্মক আহত ছিলেন। অবস্থা খারাপ হলে ডাক্তাররা তাকে ঢাকায় রেফার্ড করেন। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টার দিকে আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়। মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়িতে আনা হচ্ছে।”

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, “আহত তরু মিয়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। পুনরায় কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সেই কারণে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। সংঘর্ষের ঘটনাসহ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঘটনায় যথাযথ আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”




দর্শনায় ভিজিএফ চাল বিতরণে রাজনৈতিক টানাপোড়েন

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌরসভায় ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রমকে ঘিরে রাজনৈতিক মতানৈক্য, তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে তীব্র সমালোচনা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ ও প্রভাব বিস্তারের কারণে প্রকৃত দরিদ্রদের অনেকেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। ফলে চাল না পেয়ে বহু অসহায় মানুষ হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, দর্শনা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মোট ৩ হাজার ৮৫ জন উপকারভোগীর জন্য কার্ডপ্রতি ১০ কেজি হারে মোট ৩০ হাজার ৮৫০ কেজি ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত পৌরসভার ৩, ৪, ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে চাল বিতরণ করা হয়। তবে তালিকায় নাম না থাকায় অনেক দরিদ্র মানুষ চাল পাননি। পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী রবিবার ১৫ মার্চের মধ্যে বাকি তালিকা সম্পন্ন করে চাল বিতরণ শেষ করা হবে।

চাল নিতে এসে তালিকায় নাম না পেয়ে অনেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, উপার্জনে অক্ষম ও অসহায় দুঃখী নারী চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বাড়ি ফিরে যান। একজন বৃদ্ধা আক্ষেপ করে বলেন, “আমার স্বামী নেই, সন্তান নেই। কাজ করার শক্তিও নেই। মানুষের দয়ার ওপর বেঁচে আছি। তবুও একটা চালের কার্ডও পেলাম না।” ইসারন নেছা নামের আরেক বৃদ্ধা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার দেখার কেউ নেই। তেল তো দূরের কথা, চালের কার্ডও এখনো পাইনি।” নিয়াজ উদ্দিন নামের এক ভ্যানচালক জানান, ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও কোনো ভিজিএফ কার্ড তিনি পাননি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তালিকা তৈরির সময় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের প্রভাব ও মতবিরোধের কারণে অনেক প্রকৃত দরিদ্রের নাম বাদ পড়েছে। অন্যদিকে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও উঠেছে। এতে বিভিন্ন ওয়ার্ডে তালিকা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে এবং তার প্রভাব পড়েছে চাল বিতরণ কার্যক্রমে।

চাল বিতরণের সময় অনিয়মের একটি ঘটনাও সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক নারী একাই ১৭টি টোকেন নিয়ে চাল নিতে এলে বিষয়টি দর্শনা পৌরসভার প্রধান সহকারী শাহ আলমের নজরে আসে। পরে তিনি টোকেনগুলো জব্দ করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেন।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, কেরু অ্যান্ড কোম্পানির কয়েকজন চাকরিজীবী এবং বাজারের কিছু কাপড় ব্যবসায়ীও ভিজিএফের চাল পেয়েছেন। অথচ প্রকৃত দরিদ্র অনেক পরিবার তালিকায় নাম না থাকায় বঞ্চিত হয়েছেন।

জানা গেছে, গত ৩ মার্চ ভিজিএফের চাল সুষ্ঠুভাবে বিতরণের লক্ষ্যে দর্শনা পৌর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে একটি সভা করে। সেখানে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে রাজনৈতিক মতবিরোধ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে নির্ধারিত সময়েও তালিকা প্রস্তুত শেষ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পৌর প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তালিকা প্রস্তুতের জন্য সর্বোচ্চ ৮ দিনের সময় দেওয়া হলেও প্রায় ১০ দিন পার হলেও কয়েকটি ওয়ার্ডের তালিকা সম্পূর্ণ হয়নি।

দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট বলেন, “পৌর কর্তৃপক্ষের আহ্বানে প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য দুইজন করে প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়েছে। তাদের মাধ্যমেই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। কিছু তালিকা জমা পড়েছে, বাকিগুলোও দ্রুত জমা দেওয়া হবে। তবে কোনো সচ্ছল ব্যক্তি যদি ভিজিএফের চাল পেয়ে থাকেন, তাহলে তা ঠিক হয়নি।”

অন্যদিকে দর্শনা পৌর জামায়াতের আমীর শাইকুল ইসলাম অপু বলেন, “আমাদের দলের কেউ স্বজনপ্রীতি বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন। আমাদের প্রতিনিধিরা প্রকৃত প্রাপকদের নামই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।”

এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও দর্শনা পৌর প্রশাসক শাহিন আলম বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং পূর্বের তালিকা থেকেও কিছু নাম নেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, একটি ওয়ার্ডে অনেক দরিদ্র মানুষ থাকলেও সবাইকে কার্ড দেওয়া সম্ভব নয়। সরকার যে পরিমাণ কার্ড বরাদ্দ দিয়েছে, সে অনুযায়ী তালিকা করা হয়েছে। তবে কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখা হবে।




মুজিবনগরে উপজেলা ছাত্রদলের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

মুজিবনগর উপজেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আকিব জাভেদ সেনজি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম মিঠুন, বাগোয়ান ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ শেখ, মুজিবনগর উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমরান আলী, মুজিবনগর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া মোল্লা। এছাড়াও স্থানীয় অন্যান্য ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ইফতার ও দোয়া মাহফিলে ছাত্রদল নেতারা একত্রিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ, যুব সমাজের উন্নয়ন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য দোয়া ও আলোচনা করেন।




মেহেরপুরে প্রশাসনের বাজার মনিটরিং ও জরিমানা

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার মূল্য ভোক্তাদের কাছে সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।

শুক্রবার জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জয়া ধর মুমুর নেতৃত্বে সদর উপজেলার হোটেল বাজার ও পশুর হাট এলাকায় বাজার মনিটরিংসহ মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় খুচরা পর্যায়ে বেগুন, শসা, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, মরিচ, পেঁপে, ফুলকপি, কাঁচাবাজার, মাছ ও মাংসসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানকালে বাজারের অধিকাংশ দোকানে ক্রয়-বিক্রয়ের পাকা ভাউচার সংরক্ষণ এবং মূল্য তালিকা প্রদর্শনের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এ সময় পণ্যের মূল্য তালিকা সংরক্ষণ না করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৩৯ ধারায় ৩টি মামলায় মোট ১ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে জেলা প্রশাসনের আরেক এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ভুবন চন্দ্র হালদারের নেতৃত্বে মুজিবনগর উপজেলার কেদারগঞ্জ এলাকায় মুজিবনগর থানা পুলিশ টিম ও ট্রাফিক সার্জেন্টের সহযোগিতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

মোবাইল কোর্ট চলাকালে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া যানবাহন চালানো এবং অবৈধভাবে ফুটপাত দখলের দায়ে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর আওতায় ৬টি মামলায় মোট ৩ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




আলমডাঙ্গা ফ্রেন্ডস ক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল

আলমডাঙ্গা ফ্রেন্ডস ক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ৫টায় আলমডাঙ্গা এটিম মাঠে এই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সহকারী অধ্যাপক মিজানুর রহমান মিজার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নুরুল ইসলাম দীপু মাস্টার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মীর উজ্জ্বল হোসেন, ইকবাল হোসেন, কবি আসিফ জাহান ও আহসান হাবিব।

অনুষ্ঠানে ফ্রেন্ডস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মরহুম গোলাম মোস্তফা মোহর, সাবেক উপদেষ্টা মরহুম আলতাফ হোসেন, মরহুম মোস্তাহার আলি ওস্তাদ, মরহুম তুহিনূর রহমান তুহিন, মরহুম আহসান হাবিব শাহীন (জজ), মরহুম আতাউর রহমানসহ সকল সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

বিশ্ব মানবতার ঐক্য ও শান্তি কামনায় দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন হাটবোয়ালিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক কবি আসিফ জাহান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, আলমডাঙ্গার ঐতিহ্যের প্রতীক ফ্রেন্ডস ক্লাবের সোনালি দিনের সফলতাকে নতুন প্রজন্মকে দায়িত্ব নিয়ে অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। ফ্রেন্ডস ক্লাবের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস খেলাধুলার মাঠে জাগরণ সৃষ্টি করে এগিয়ে নিতে হবে।




মুজিবনগরের মোনাখালী ইউনিয়ন জামায়াতের ইফতার মাহফিল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মোনাখালী ইউনিয়ন শাখার আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিবপুর প্রাঙ্গণে এই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

মোনাখালী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মুখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন সেক্রেটারি রাকিব ফরহাদের পরিচালনায় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য এবং জেলা বায়তুলমাল সেক্রেটারি জারজিস হুসাইন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুজিবনগর উপজেলা জামায়াতের আমীর ও মোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খানজাহান আলী, মুজিবনগর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও দারিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ফিরাতুল ইসলাম নাইম, মুজিবনগর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি খাইরুল বাসার, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ফজলুল হক গাজী, পেশাজীবী সংগঠনের উপজেলা সেক্রেটারি মোশাররফ হোসেন এবং উপজেলা বায়তুলমাল সেক্রেটারি আমির হোসেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রোজার শিক্ষা গ্রহণ করে হানাহানি ও মারামারি ভুলে সবাইকে সমাজে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে হবে। রমজান মাসের এক মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে বাকি ১১ মাস সেই শিক্ষার আলোকে চলতে হবে।

ইফতার মাহফিলে ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।




আলমডাঙ্গায় এক দোকানে মূল্য তালিকা না থাকায় ২ হাজার টাকা জরিমানা

ভাংবাড়ীয়া বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে মূল্য তালিকা না থাকায় এক মুদি দোকানিকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ওই দোকানিকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে ভাংবাড়ীয়া বাজারে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দেখা যায়, বাজারের ভাই ভাই স্টোর-এর মালিক রহিদুল ইসলামের মুদি দোকানে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করা হলেও দোকানে কোথাও পণ্যের নির্ধারিত মূল্য তালিকা টাঙানো ছিল না। ফলে ভোক্তারা পণ্যের প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে জানতে পারছিলেন না এবং অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছিল।

এ সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৩৮ ধারায় দোকান মালিক রহিদুল ইসলামকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তিনি ভবিষ্যতে দোকানে সঠিকভাবে মূল্য তালিকা প্রদর্শনের প্রতিশ্রুতি দেন।

অভিযানটি পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল নাঈম। তিনি এ সময় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সঠিক মূল্য তালিকা দোকানের দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক। অন্যথায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযান চলাকালে উপস্থিত ছিলেন হাটবোয়ালিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মিজানুর রহমানসহ পুলিশের সদস্যরা।

ভোক্তাদের অধিকার রক্ষা এবং বাজারে পণ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত পরিচালনা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।




ঈদের আগে পাখিভ্যান হারিয়ে দিশেহারা কিশোর রাকিবের পরিবার

ঈদের আগে নিভে গেছে একটি অসহায় পরিবারের আশা। পঙ্গু পিতার সংসারে মাত্র ১৪ বছরের কিশোর রাকিব পড়াশোনা ছেড়ে পাখিভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিল। কিন্তু আলমডাঙ্গায় প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে তার পাখিভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি পোয়ামারি গ্রামের এক কিশোরের উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম পাখিভ্যান প্রতারণার মাধ্যমে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঈদের আগে চরম বিপাকে পড়েছে অসহায় পরিবারটি। প্রতারণার শিকার কিশোরটির নাম রাকিব (১৪)। সে পোয়ামারি গ্রামের ক্যানেলপাড়ার বাসিন্দা মো. তারেখ আলির (৩৫) ছেলে। গত বুধবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা শহরের বাগানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে রাকিবের বাবা তারেখ আলি পঙ্গুত্ববরণ করেন। এরপর থেকে তিনি আর কোনো কাজ করতে পারেন না। সংসারের দায়িত্ব নিতে বাধ্য হয়ে বড় ছেলে রাকিব মানুষের কাছ থেকে ঋণ করে একটি পাখিভ্যান কিনে ভ্যান চালিয়ে কোনোমতে পরিবারের খরচ চালাত।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গত বুধবার দুপুরে তিনজন ব্যক্তি আলমডাঙ্গা থেকে যাত্রী সেজে রাকিবের ভ্যানে ওঠে। পরে তারা তাকে চুয়াডাঙ্গা শহরের বাগানপাড়া এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে সুযোগ বুঝে মুহূর্তের মধ্যে রাকিবের পাখিভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায় প্রতারকরা। হঠাৎ করে উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম হারিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে পরিবারটি। সামনে ঈদ থাকায় তাদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।

রাকিবের মা বলেন, সামনে ঈদ। আমার দুই ছেলে বারবার ঈদের কাপড় চায়। কিন্তু আমাদের তো ঠিকমতো খাবারই জোটে না। এখন আবার যে ভ্যান দিয়ে সংসার চলত সেটাও নেই।

পরিবারটি প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে ভ্যানটি উদ্ধার করার অনুরোধ জানিয়েছে। স্থানীয়রা আশাবাদী, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে এবং এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াবে, যেন অন্তত ঈদের আগে তারা আবার স্বাভাবিকভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

এলাকাবাসী জানান, এই ঘটনায় সমাজের সহানুভূতিও প্রয়োজন। অসহায় রাকিবের পরিবারের জন্য সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত।




দামুড়হুদায় তামাক ক্ষেতে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের একটি তামাক ক্ষেতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার দলিয়ারপুর গ্রামের মৃত শরিফ উদ্দিনের তামাক ক্ষেতের ভেতর থেকে ওই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত নারী জোবেদা খাতুন (৪৫)। তিনি দলিয়ারপুর গ্রামের মৃত তুফান হোসেনের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে জোবেদা খাতুন ঘাস কাটতে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। ইফতারের সময় হয়ে গেলে পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে গোপালপুর গ্রামের মাঠের একটি তামাক ক্ষেতের মধ্যে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে দলিয়ারপুর পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

দলিয়ারপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকতার হোসেন জানান, সকালে ঘাস কাটতে গিয়ে ওই নারী আর বাড়ি ফেরেননি। পরে স্থানীয়রা তামাক ক্ষেতের মধ্যে তার হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে খবর পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তিনি জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে শুনেছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বিস্তারিত বলা যাবে।

স্থানীয়দের ধারণা, ধর্ষণের পর অথবা ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ায় তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।