কুষ্টিয়ায় জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা, ব্যস্ত শহরের মার্কেটগুলো

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া শহরে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে পোশাকের দোকানগুলোতে নারী, পুরুষ ও শিশুদের নতুন পোশাক কিনতে মানুষের উপস্থিতি বেশি দেখা যাচ্ছে।

শহরের এনএস রোড এলাকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, লাভলী টাওয়ার শপিং মল, পরিমল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু সুপার মার্কেট, জেলা পরিষদ মার্কেট এবং ছয় রাস্তা মোড় এলাকার বিভিন্ন শোরুমে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে দিন দিন। এসব মার্কেটে দেশি-বিদেশি নানা ডিজাইনের

পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, শাড়ি, ফতুয়া ও শিশুদের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে।
এছাড়াও জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ও ফ্যাশন হাউস যেমন আড়ং, দর্জিবাড়ী, আর্টিকেল, সেইলরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঈদ উপলক্ষে নতুন নতুন কালেকশন এসেছে। অনেক দোকানে বিশেষ ছাড় বা অফারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে।

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন শপিংমলে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। এরই মধ্যে কুষ্টিয়ার বঙ্গবন্ধু সুপার মার্কেটের “স্টাইল ফ্যাশন” দোকানে দেখা যাচ্ছে নানা ডিজাইনের থ্রি-পিসের সমাহার।

দোকানটিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন নতুন ডিজাইনের থ্রি-পিস সাজিয়ে রাখা হয়েছে, যা ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতারা ভিড় করছেন তাদের পছন্দের পোশাক কিনতে।

ক্রেতারা জানান, স্টাইল ফ্যাশনে বিভিন্ন রঙ ও ডিজাইনের থ্রি-পিস পাওয়া যাচ্ছে। মান ও দামের দিক থেকেও তারা সন্তুষ্ট। একজন ক্রেতা বলেন, “ঈদ উপলক্ষে পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতে এসেছি। এখানে অনেক সুন্দর থ্রি-পিস পাওয়া যাচ্ছে, দামও তুলনামূলক সাশ্রয়ী।”

স্টাইল ফ্যাশনের দোকান মালিক ফিরোজ হোসেন জানান, ঈদকে সামনে রেখে তারা নতুন নতুন কালেকশনের থ্রি-পিস দোকানে এনেছেন। তিনি বলেন, “ক্রেতাদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন ডিজাইন ও মানসম্মত পোশাক সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিদিনই ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ছে। আশা করছি ঈদের আগের দিনগুলোতে বিক্রি আরও বাড়বে।”

শহরের মীম ফ্যাশনের মালিক রানা জানান, ঈদকে সামনে রেখে গত কয়েক দিন ধরে দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। তিনি বলেন, “ঈদের কেনাকাটার মূল সময় এখন শুরু হয়েছে। আশা করছি ঈদের আগের সপ্তাহে বিক্রি আরও বাড়বে।”

ব্যবসায়ীরা জানান, এবারের ঈদ মৌসুমকে ঘিরে বাজারে নতুন ডিজাইনের পোশাক আনা হয়েছে। অন্যদিকে ক্রেতারাও নিজেদের পছন্দের পোশাক কিনতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাজারে আসছেন।

সব মিলিয়ে ঈদকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া শহরের মার্কেটগুলোতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে এবং দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, কেনাকাটার ব্যস্ততাও ততই বাড়ছে।




দর্শনায় ভিজিএফের চাল থেকে বঞ্চিত দরিদ্ররা, কাদতে কাদতে ফিরলেন বৃদ্ধ-বিধবারা

দর্শনা পৌরসভার ভিজিএফের চাল বিতরণে তালিকা জটিলতা, অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে পৌরসভার ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রকৃত দরিদ্র, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও অসহায় অনেক মানুষ চাল না পেয়ে কাদতে কাদতে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, কিছু সচ্ছল ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীও এই ভিজিএফের চাল পেয়েছেন, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, দর্শনা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের উপকারভোগীদের জন্য কার্ডপ্রতি ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী: ১ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৩৫ জনের জন্য ৩,৩৫০ কেজি, ২ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৯০ জনের জন্য ৩,৯০০ কেজি, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৩৫ জনের জন্য ৩,৩৫০ কেজি, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৩৩ জনের জন্য ৩,৩৩০ কেজি, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৪২ জনের জন্য ৩,৪২০ কেজি, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৪২ জনের জন্য ৩,৪২০ কেজি, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ২৮৩ জনের জন্য ২,৮৩০ কেজি, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৯৭ জনের জন্য ৩,৯৭০ কেজি এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৩২৮ জনের জন্য ৩,২৮০ কেজি বরাদ্দ রয়েছে।

মোট ৯টি ওয়ার্ডে ৩,৮৫০ জন উপকারভোগীর জন্য ৩০,৮৫০ কেজি চাল বরাদ্দ রয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল থেকে দুপুর তিনটা পর্যন্ত ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ৩ মার্চ দর্শনা পৌর কর্তৃপক্ষ ৯টি ওয়ার্ডের রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে একটি সভা করেন। ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়, দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে পৌরসভায় জমা দিতে হবে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এক সপ্তাহ পার হলেও অনেক ওয়ার্ডে তালিকা সম্পূর্ণ হয়নি এবং কোথাও অতিরিক্ত নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি করেছে।

ভিজিএফের চাল বিতরণের সময় দেখা যায়, তালিকায় নাম না থাকায় অনেক অসহায় মানুষ চাল পাননি। ভুক্তভোগীদের মধ্যে অনেকেই বয়োবৃদ্ধ, কেউ বিধবা, কেউ স্বামী পরিত্যক্তা, আবার কেউ এমন আছেন যারা চলাফেরা করতে পারেন না বা ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবনযাপন করেন। তাঁরা কাদতে কাদতে ফিরে গেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিতরণের সময় বিভিন্ন অনিয়মও হয়েছে। একজন মহিলা একাই ১৭টি টোকেন বা কার্ড নিয়ে চাল নিতে আসেন। পৌর কর্মচারী শাহ আলম তাৎক্ষণিকভাবে টোকেনগুলো আটক করেন। এছাড়া কিছু সচ্ছল ব্যক্তি এই ভিজিএফের চাল পেয়েছেন, যেমন কেরু অ্যান্ড কোম্পানিতে চাকরি করেন এমন কয়েকজন এবং বাজারে কাপড়ের ব্যবসা করেন এমন কয়েকজন।

দামুড়হুদা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও দর্শনা পৌর প্রশাসক শাহিন আলম জানান, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে চাল পৌঁছে দিতে প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে পৌর কর্মচারী দায়িত্ব পেয়েছেন। তবে কিছু ওয়ার্ডের তালিকা এখনো সম্পূর্ণ হয়নি, ফলে পুরো চাল বিতরণ শেষ করতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে।

প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায়দের দাবি, তালিকা পুনরায় যাচাই করে যারা সত্যিকারের প্রাপ্য, তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত ভিজিএফের চাল বিতরণের ব্যবস্থা করা হোক। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বৈষম্য ও অভিযোগ থাকবে।




জীবননগরে নিহত জামায়াত নেতার দাফন সম্পন্ন

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত জামায়াত নেতা মফিজুর রহমানের দাফন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বুধবার বিকেল ৩টায় তাঁর নিজ গ্রাম সুটিয়া ঈদগাহ ময়দানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সুটিয়া কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় জামায়াতের নেতা-কর্মীসহ এলাকার শত শত মানুষ অংশ নেন।

বিএনপির হামলায় বড় ভাই হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর ১০ দিন পর মারা যান ছোট ভাই মফিজুর রহমান। তিনি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের জামায়াতের আমীর ছিলেন।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিএনপির হামলায় বাঁকা ইউনিয়ন আমীরসহ ৪ জন গুরুতর আহত হন। এদের মধ্যে জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামের ওয়াহেদ মিয়ার ছেলে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মফিজুর রহমান (৩২) ও তার বড় ভাই হাফিজুর রহমান (৪৬) আহত হন। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরে তাদের ঢাকা অরোরা হাসপাতালে নেওয়া হলে রবিবার (১ মার্চ) রাত ১টায় হাফিজুর রহমান মারা যান।

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বাঁকা ইউনিয়ন আমীর মফিজুর রহমান একই হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দশ দিন চিকিৎসার পর তিনি মারা যান। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা ১২টায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এই সংঘর্ষের ঘটনায় হাফিজুর রহমান নিহতের পর ২ মার্চ জীবননগর থানায় নিহত পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখ ও ৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পুলিশ মাত্র দু’জনকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সোলাইমান শেখ জানান, আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।




জীবননগর মাধবখালীতে কবরস্থানের গেট নিয়ে উত্তেজনা

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবখালী গ্রামে কবরস্থানের গেট নির্মাণকে কেন্দ্র করে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে যে কোনো সময় আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার মাগরিবের নামাজের পর মাধবখালী গ্রামের মণ্ডলপাড়া ও খানপাড়ার লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। কবরস্থানের গেট নির্মাণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে স্থানীয়রা জানান।

খবর পেয়ে জীবননগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনায় উভয় পক্ষই জীবননগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে বুধবার জামিনের জন্য দুই পক্ষ চুয়াডাঙ্গা আদালতে গেলে সেখানে আবারও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এ সময় মণ্ডলপাড়ার দুর্জয় খানপাড়ার বাঁধনকে হাত কেটে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বাঁধন বলেন, কবরস্থানের গেট নির্মাণ নিয়ে থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর থেকেই দুর্জয় তাকে একাধিকবার মোবাইলে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। বুধবার আদালতে জামিনের জন্য গেলে দুর্জয় তার ওপর হামলার চেষ্টা করেন। সঙ্গে লোকজন থাকায় তিনি সেখান থেকে সরে যান। এতে তারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার করে দুর্জয় বলেন, তিনি কাউকে হুমকি দেননি; বরং প্রতিপক্ষই তাদের ওপর হামলা করেছে।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সোলায়মান শেখ সাংবাদিকদের জানান, মাধবখালী গ্রামের কবরস্থানের গেট নির্মাণকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগগুলো আদালতে পাঠানো হয়েছে।




দামুড়হুদায় ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা

দামুড়হুদায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান সাহেল।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন আলম, উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মশিউর রহমান, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নীলিমা আক্তার হ্যাপি, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, উপজেলা জামায়াতের আমির নায়েব আলী, দামুড়হুদা মডেল মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মামুনুর রশীদসহ উপজেলার বিভিন্ন ঈদগাহ কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

সভায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করেন সভার সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ঈদে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা না করার জন্য কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়াও ঈদের জামাত সুষ্ঠুভাবে আয়োজন, ঈদগাহ মাঠ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে ঈদের দিন মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নজর রাখবে প্রশাসন।

সার্বিকভাবে একটি আনন্দঘন ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে ঈদ উদযাপনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানান সভাপতি।

সভায় বক্তারা বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দামুড়হুদা উপজেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতর আনন্দমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপন করা সম্ভব।




দর্শনা কলেজপাড়া ঈদগাঁ কমিটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল

দর্শনা কলেজপাড়া ঈদগাঁ কমিটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দর্শনা সরকারি কলেজ একাডেমি ভবনের সামনে এ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

কলেজপাড়া ঈদগাঁ কমিটির সভাপতি ও জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম তরফদারের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে অংশ নেন দর্শনার সাবেক মেয়র আতিয়ার রহমান হাবু, ঈদগাঁ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাবেক অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান, দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান, সাবেক শ্রমিক নেতা আতিয়ার রহমান আতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা খালিদ হোসেন এবং দর্শনা সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি হারুন অর রশিদ।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল গনি মাস্টার, ইদ্রিস আলী, মিরাজ উদ্দিন ও রাজু নাতি প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন নাজমুল হুদা।




জন্মগত প্রতিবন্ধী অসহায় মুসলিমার প্রতি বিত্তবানদের সহায়তার আহ্বান

জন্মগত প্রতিবন্ধী অসহায় মুসলিমা খাতুনের জন্য মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন তার পরিবার ও স্থানীয়রা।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া গ্রামের মৃত ছাকারদ্দীন ও মৃত বিলকিস রাবেয়ার মেয়ে মুসলিমা খাতুন জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী।  বর্তমানে তার বয়স প্রায় ৩৮ বছর। দীর্ঘদিন ধরে মা-বাবাহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

জানা যায়, মুসলিমা খাতুন খুব ছোট বয়সেই মায়ের স্নেহ হারান। তার মা বিলকিস রাবেয়া দীর্ঘদিন ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত থাকার পর ২০০০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। মায়ের মৃত্যুর পর বাবার স্নেহেই কোনোভাবে দিন কাটছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে তার বাবা ছাকারদ্দীনও মারা যান। এরপর থেকে সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েন মুসলিমা।

মা-বাবার মৃত্যুর পর প্রায় ২৩ বছর ধরে তিনি মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামে তার নানাবাড়িতে বসবাস করছেন। সেখানে বৃদ্ধ নানির তত্ত্বাবধানে কোনোভাবে দিন পার করছেন। তবে বয়সের ভারে নানি এখন আর আগের মতো দেখাশোনা করতে পারেন না। ফলে প্রতিবন্ধী মুসলিমার জীবনযাপন দিন দিন আরও কষ্টকর হয়ে উঠছে।

জন্মগত প্রতিবন্ধকতার কারণে মুসলিমা খাতুন স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না এবং কোনো ধরনের কাজ করাও তার পক্ষে সম্ভব নয়। নিজের জীবিকার কোনো উপায় না থাকায় অন্যের সহানুভূতি ও সাহায্যের ওপর নির্ভর করেই তার দিন কাটছে। আর্থিক সংকটের কারণে চিকিৎসা, খাবার ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জোগাড় করতেও তাকে চরম কষ্টে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, সামান্য সহযোগিতা ও সমাজের মানবিক মানুষের সহায়তা পেলে মুসলিমা খাতুনের জীবন কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতে পারে।

মুসলিমার ভাই সেলিম বাবু সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও মানবিক সংগঠনসহ সকল হৃদয়বান মানুষের কাছে অসহায় জন্মগত প্রতিবন্ধী মুসলিমা খাতুনের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।

এলাকাবাসীর আশা, মানবিক সহায়তা পেলে অসহায় মুসলিমা খাতুনের জীবনে নতুন করে বাঁচার আশা জাগবে।




মুজিবনগরে ব্লাড ব্যাংক সংগঠনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মুজিবনগর ব্লাড ব্যাংকের উদ্যোগে সংগঠনের রক্তদাতাদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বিকেলে মুজিবনগর কমপ্লেক্সের ভেতরে এ ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মুজিবনগর ব্লাড ব্যাংক সংগঠনের সভাপতি ইকবাল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাহাজ সাব্বির, সিনিয়র সহ-সভাপতি বায়েজিদ মোল্লা।

এছাড়া ব্লাড ব্যাংক সংগঠনের উপদেষ্টা সাইমন মণ্ডল, সাজেদুল ইসলাম রিপন, আনোয়ার হোসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




শৈলকুপায় জমির মামলা চলাকালেই তৃতীয় পক্ষের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই বিবাদী জেলহাজতে থাকার সুযোগে বিতর্কিত জমিতে জোরপূর্বক সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। একাধিক মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও এসব তোয়াক্কা না করে তারা নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

মামলার বিবরণ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শৈলকুপা উপজেলার মহেশপুর মণ্ডলপাড়া গ্রামের আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে একই গ্রামের মৃত জাফর ইকবালের ছেলে শাহ আলম সাগর ও সবুজ হোসেনসহ তাদের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে আনোয়ারুল ইসলাম তাদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ আনেন।

পরে আনোয়ারুল ইসলাম বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং—শৈল: দ্রুত, সি/আর-৫২/২৫)। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ শাহ আলম সাগর ও সবুজ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়।

অভিযোগ রয়েছে, তারা জেলহাজতে থাকার সুযোগে তাদের সহযোগীরা বিরোধপূর্ণ ওই জমি দখল করে সেখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা শৈলকুপা থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলে সেখানে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ করার সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করা হবে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




গাংনীর রাইপুর ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণ অনিশ্চিত

বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের জেরে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়নে প্রায় ৩২শ অতিদরিদ্র মানুষ ভিজিএফের চাল থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বশীলরাই পরিষদে যেতে সাহস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে উপজেলার অন্য সব ইউনিয়ন পরিষদ ইতোমধ্যে খাদ্যগুদাম থেকে চাল উত্তোলন করে বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে। কিন্তু রাইপুর ইউনিয়নে এখনো কোনো সিদ্ধান্তই নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে থমকে আছে ভিজিএফের চাল উত্তোলন ও বিতরণ কার্যক্রম। ঈদ উপলক্ষে সরকারের বরাদ্দ দেওয়া এই চাল পাওয়ার কথা ছিল ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার ২০০ অতিদরিদ্র মানুষের।

গত মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষের জেরে এখনো উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে চাল উত্তোলনই করতে পারেনি ইউনিয়ন পরিষদ। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিপক্ষের হামলার আশঙ্কায় ইউনিয়ন পরিষদে যেতে ভয় পাচ্ছেন প্যানেল চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য এবং সচিব পর্যন্ত। ফলে পরিষদের কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকও করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে প্রতিপক্ষ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালুর লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ১০ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেলে করে ইউনিয়ন পরিষদে এসে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, তার ছোট ভাইয়ের দোকান এবং কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতেও গিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্যানেল চেয়ারম্যান।

এ পরিস্থিতিতে ভিজিএফের চাল উত্তোলন ও সুষ্ঠুভাবে বিতরণ নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে সহায়তা চেয়েছেন প্যানেল চেয়ারম্যান।

রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সারগিদুল ইসলাম জানান, আমার প্রতিপক্ষ গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালু ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান গোলাম সাকলায়েন সেপুকে পরিষদে জোর করে বসানোর অপচেষ্টা করেন। তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে দেশীয় অস্ত্র, লাঠি-সোঁটা নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ দখল ও চাল উঠলে তা লুট করার ঘোষণা দেন। এতে রাইপুর ইউনিয়নের হতদরিদ্র লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।

গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে শত শত সশস্ত্র লোক নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে এলে এলাকার লোকজন তাদের সেই হামলা প্রতিহত করেন। তারপর থেকে এলাকার সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে বুধবার সারাদিন ১০/১৫টি মোটরসাইকেলযোগে সন্ত্রাসীরা পরিষদের আশপাশে আসে এবং নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আমাকে খুঁজতে থাকে।

তিনি আরও বলেন, অত্র ইউনিয়নের প্রায় ৩২শ হতদরিদ্র মানুষের ভিজিডির চাল উত্তোলন এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তিনি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান প্রশাসনিক সহযোগিতা করে হতদরিদ্রদের মাঝে চাল বিতরণ করতে।

এদিকে এলাকার ভুক্তভোগীরা বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভিজিএফের চাল না পেলে অনেকের ঈদের আনন্দই মাটি হয়ে যাবে। তারা বলেন, আমরা মারামারি বুঝি না। আমরা দরিদ্র মানুষ। আমাদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল ঈদের আগেই আমাদের দেওয়া হোক।

গাংনী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টির দ্রুত সমাধান না হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাল বিতরণ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক বিরোধ ভুলে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতির সমাধান হবে এবং ঈদের আগেই ভিজিএফের চাল পাবেন প্রকৃত উপকারভোগীরা।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালু ও বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান সারগিদুল ইসলামের মধ্যে ভিজিডির চাল বিতরণ ও প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে সৃষ্ট সংঘর্ষে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালুসহ উভয় পক্ষের প্রায় ১০ জন আহত হন। আহত আলফাজ উদ্দীন কালুকে উদ্ধার করে প্রথমে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে সেখান থেকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাশ বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ দিলে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।