গাংনীতে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি আত্মহত্যা

পারিবারিক কলহ ও বেকার জীবন-যাপনে মানষিক চাপে  গলায় ফাঁস দিয়ে আটাশ বছর বয়সি যুবক মোবারক হোসেন আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ভোমরদহ স্কুলপাড়া গ্রামে।

নিহত মোবারক হোসেন ওই গ্রামের কৃষক আক্কাছ আলীর ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত যুবক বতর্মানে বেকার জীবন-যাপন করছিল, এর আগে বেশ কয়েকবার প্রবাসে যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙ্গে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েন মোবারক হোসেন। তারই ধারাবাহিকতায় সাংসারিক বিষয় ও প্রবাসে যাওয়া নিয়ে আবারও পরিবারের লোকজনের সাথে কথা চলছিলো। তবে কোন ঝগড়া বিবাদ ছাড়াই শুক্রবার সকালে সবার অজান্তেই সে তার বসত ঘরের আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্ম হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরে পাশের বাড়ির লোকজন ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে চিকিৎসার জন‍্য তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

সেখানে থাকা কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তাসমেরী খাতুন মোবারক হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।




মেহেরপুরে বিএনপি প্রার্থীদের পরাজয়ের নেপথ্যে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুর-১ ও মেহেরপুর-২ আসনের ফলাফল শুধু রাজনৈতিক পালাবদল নয়, এটি একটি সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। দীর্ঘদিনের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ের মাঠে এবার জিতেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী; ভরাডুবি হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির।

মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান বলছে, ভোটাররা কেবল প্রার্থী নয়; আচরণ, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতির ওপর রায় দিয়েছেন।

২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী মাসুদ অরুণ প্রায় ১ লাখ ২ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হন। ২০০৮ সালে একই অঞ্চলে জামায়াত প্রার্থী পান মাত্র ৩৪ হাজার ভোট। কিন্তু এবার জামায়াত প্রার্থী মাওলানা তাজউদ্দিন খান পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৪৬১ ভোট, বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৭৮৭ ভোট। প্রশ্ন উঠছে, এই বিপুল ভোট এলো কোথায় থেকে?

স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল দলীয় ভোট স্থানান্তর নয়; বরং ‘নতুন ভোটার সক্রিয়তা’, বিশেষ করে নারী ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং নীরব ভোটারের প্রত্যাবর্তন এবং বিএনপির প্রান্তিক পর্যায়ের নেতা-সমর্থকদের অতি বাড়াবাড়ি ছাড়াও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দলের প্রার্থীকে পরাজিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সংগঠনিক দূর্বলতা, দলীয় অন্তর্কলহ, ৫ আগস্ট পরবর্তী জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন ও পাড়া-মহল্লার নেতাকর্মীদের অবাধ্য আচরণ। হাট-বাজার, খাল-বিল দখল, মামলার ভয় দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা ভোগ মানুষকে ভাবিয়ে তোলে। এসবের জবাব দিয়েছে ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে। আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী মেহেরপুরে বিএনপির নতুন কমিটিতে সাবেক এমপি মাসুদ অরুণসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করায় দলে বিরোধ শুরু হয়। নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান পক্ষ ও সাবেক এমপি মাসুদ অরুণ পক্ষ নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে একে অপরের বিরোধীতা করে সভা সমাবেশে বক্তব্য রাখে। একপর্যায়ে মাসুদ অরুণ দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর কামরুল পক্ষ বিরোধী শিবিরেই রয়ে যায়। যা নির্বাচনে পরাজয়েরও একটি কারণ। তৌফিকুল

ইসলাম নামের একজনের ফেসবুক আইডি থেকে একটি ৪১ সেকেন্ডের কল রেকর্ড ভাইরাল হয়েছে। তাতে শোনা যায় কামরুল ইসলাম দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেবার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

একাধিক ব্যবসায়ী, ইজারাদার ও গ্রামবাসীর অভিযোগ- ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিএনপির কিছু তৃণমূল নেতা হাট-বাজার, খাল-বিল ও স্থানীয় সম্পদ নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় মামলাভীতি, সামাজিক চাপে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়া এবং বিরোধী মতের লোকজনকে ‘১২ ফেব্রুয়ারির পর দেখে নেওয়া’ এমন কথাবার্তা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও জেলা বিএনপি নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অভিযোগ নাকচ করেছে, তবুও তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণহীনতা স্পষ্ট ছিল বলে স্বীকার করেছেন দলটিরই কয়েকজন সাবেক দায়িত্বশীল নেতা।

একজন ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা বলেন, দল তখন সংগঠন গোছানোর চেয়ে প্রভাব বিস্তারে ব্যস্ত ছিল, এটাই ভুল।

এদিকে জামায়াতে ইসলামী প্রকাশ্য শোডাউনের বদলে ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠন পুনর্গঠন করে। স্থানীয় মসজিদকেন্দ্রিক যোগাযোগ, অসুস্থ-অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো, চিকিৎসা-সহায়তা, শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ, এসবের মাধ্যমে তারা সামাজিক আস্থা তৈরি করে।

একজন স্কুল শিক্ষক বলেন, তারা বড় মিছিল করেনি, কিন্তু ঘরে ঘরে গেছে। মানুষ সেটা মনে রেখেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপি যখন ‘ক্ষমতার পরবর্তী প্রভাব’ নিয়ে ব্যস্ত, জামায়াত তখন ‘নির্বাচনের প্রস্তুতি’ নিয়েছে। এবারের নির্বাচনে চোখে পড়েছে নারীদের দীর্ঘ লাইন। বিশেষ করে যেসব পরিবার অতীতে রাজনৈতিক ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেত না, সেইসব নারীরা এবার প্রকাশ্যে ভোট দিয়েছেন। কয়েকটি কেন্দ্রে বিএনপি-বিরোধী পুরুষ কর্মীদের অনুপস্থিতি থাকলেও নারীদের উপস্থিতি ছিল দৃশ্যমান।

বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতি- এই দুই প্রশ্ন নারী ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। এটিকেই অনেকে বলছেন ‘ভোট বিপ্লব’-এর নীরব চালিকাশক্তি। বিভিন্ন কেন্দ্রে দেখা গেছে, বিএনপি বিরোধী পরিচিত পুরুষ নেতাদের উপস্থিতি কম।

স্থানীয়দের ধারণা, ভীতি এড়াতে তারা প্রকাশ্যে আসেননি। তবে তাদের পরিবারের সদস্যরা ভোট দিয়েছেন। এতে বোঝা যায়, ভোটাররা প্রকাশ্য অবস্থানের বদলে গোপন ব্যালটে মত প্রকাশে স্বস্তি পেয়েছেন। কিছু গ্রামে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বাড়ি থেকে গবাদিপশু নিয়ে যাওয়া, সম্পদ দখলের অভিযোগ, এসব ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি; তবে অফ দ্য রেকর্ড স্বীকার করেছেন, ভোট দিয়েছি ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ভেবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলেন, যখন ভোটার মনে করেন ফলাফলের পর তার সামাজিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে, তখন তিনি ‘সবচেয়ে কম ঝুঁকির’ বিকল্পকে বেছে নেন। বিএনপির জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রান্তিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে, এমন অভিযোগ দলটির ভেতরেও আছে। অন্তর্কলহ, কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ, ত্যাগী কর্মীদের অবমূল্যায়ন, এসব দীর্ঘদিনের ক্ষোভ নির্বাচনে বিস্ফোরিত হয়েছে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে মেহেরপুর-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. নাজমুল হুদা ৯৬ হাজার ৩০৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. আমজাদ হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৯৮৮ ভোট।

মেহেরপুর-২ গাংনী আসনে মেহেরপুর জেলা কমিটির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টনের একটি নিজস্ব ভোটব্যাংক আছে। তাকে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়াতে তিনিসহ তার সমর্থকদের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সেভাবে মাঠে নামতে দেখা যায়নি। ফলে তার সমর্থকরা প্রকাশ্য শ্লোগান নয়, আচরণের হিসাব কষেছেন। ক্ষমতার সময়ের ব্যবহার, তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক, এবং নির্বাচন-পরবর্তী নিরাপত্তার আশ্বাস এই তিন উপাদান নির্ধারণ করেছে গাংনীর ভোটের ফলাফল।

বিএনপির জন্য এটি আত্মসমালোচনার সময়; জামায়াতের জন্য এটি আস্থা ধরে রাখার পরীক্ষা। মেহেরপুরে এবার ভোট ছিল নীরব, কিন্তু রায় ছিল উচ্চকণ্ঠ।




আলমডাঙ্গায় পুলিশের অভিযানে মাদকসহ একজন গ্রেফতার

আলমডাঙ্গা থানার মাদক বিরোধী অভিযানে ৪০ পিচ ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেটসহ মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গা থানার এসআই (নিঃ) মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে মুন্সিগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পসহ থানা এলাকার একটি বিশেষ অভিযানে গত বুধবার রাত ১১টার দিকে কেদারনগর গ্রামের লালটু হোসেনের ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনকে তার বসত বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার উপর থেকে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৪০ পিচ ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮, ধারা ৩৬(১) সারণি ২৯(ক) অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়াও সিডিএমএস পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আসামীর বিরুদ্ধে আরও ৬টি মামলা রয়েছে।




আলমডাঙ্গায় ধারালো অস্ত্রসহ এক যুবক গ্রেফতার

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের অভিযানে ধারালো অস্ত্রসহ সোহেল রানা রাব্বি (২০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেল ৫টার দিকে মোবাইল ফোন কেনাবেচার টাকা-পয়সা লেনদেন নিয়ে বলরামপুর মণ্ডলপাড়ার মৃত আব্দুল মণ্ডলের ছেলে শামসুল হকের সঙ্গে কালিদাশপুর গ্রামের বাবুল মণ্ডলের ছেলে সোহেল রানা রাব্বির বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে রাব্বি শামসুল হকের বাড়ির সামনে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।

এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পাইকপাড়া পুলিশ ক্যাম্পে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাব্বিকে আটক করে দেহ তল্লাশি চালায়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি স্টিলের চাপাতি (কাঠের বাটযুক্ত, দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ ইঞ্চি) এবং একটি লোহার চেইন (এক পাশে তালা ও অপর পাশে লোহার রিং সংযুক্ত, দৈর্ঘ্য প্রায় ২৩ ইঞ্চি) উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এছাড়া সিডিএমএস পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আসামীর বিরুদ্ধে পূর্বে আলমডাঙ্গা থানার মামলা নং-১৯, তারিখ ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ২৯(ক)/৪১ ধারায় একটি মামলা রয়েছে।




আলমডাঙ্গা মাছ বাজারে তিন ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

আলমডাঙ্গা মাছ বাজারে ড্রেন দখল করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে তিন ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আলমডাঙ্গা পৌরসভার রাস্তা ও ড্রেনের উপর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং দখলমুক্ত করতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এস এম শাহনেওয়াজ মেহেদী।

অভিযানকালে মাছ বাজার এলাকায় রাস্তার ড্রেন অবৈধভাবে দখল করে মাছ বিক্রি করার প্রমাণ পাওয়ায় তিন ব্যবসায়ীকে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানাপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীরা হলেন গোবিন্দপুর মাঠপাড়ার বুলবুল হোসেনের ছেলে জনি আলম (৩০), কাটাভাঙ্গা গ্রামের সানোয়ার হোসেনের ছেলে শিতল হোসেন (৩৫) এবং

মাছ বাজারপাড়ার আহমেদ বিশ্বাসের ছেলে সুজন আহমেদ (৫০)।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এস এম শাহনেওয়াজ মেহেদী জানান, পৌরসভার রাস্তা ও ড্রেনের ওপর অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে পরিচ্ছন্ন ও যানজটমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




‘প্রাপ্তি স্বীকার’ রসিদে সই নিয়ে বিদায় দিলেন শিক্ষকদের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেয় নির্বাচন কমিশন। এর অংশ হিসেবে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় মোট ১১২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৬৯টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ উঠেছে, বাকি ৪৩টি ভোটকেন্দ্রে কোনো সরকারি বরাদ্দ ছাড়াই স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের ব্যক্তিগত অর্থে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করিয়েছেন ইউএনও খাদিজা আক্তার। এ ঘটনায় ইউএনও’র বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক শিক্ষক।

ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রতি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ও সংশ্লিষ্ট ডিভাইস স্থাপনে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতি কেন্দ্রে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে-এমন আশ্বাসে উপজেলা কার্যালয়ে শিক্ষকদের ডাকা হয়। তবে টাকা না দিয়ে ‘প্রাপ্তি স্বীকার’ রসিদে শিক্ষকদের দিয়ে সই করিয়ে নিয়েছেন ইউএনও।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৬৯টি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ও আনুষঙ্গিক ডিভাইস স্থাপনের জন্য বরাদ্দ ছিল ২২ লাখ টাকা। সরকারি ভ্যাট-ট্যাক্স বাদ দিয়ে প্রকৃত অর্থ দাঁড়ায় প্রায় ১৯ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অর্থে সর্বোচ্চ ৫৫টি কেন্দ্রের ব্যয় নির্বাহ সম্ভব। এ অবস্থায় বাকি কেন্দ্রগুলোতে কীভাবে ক্যামেরা স্থাপন করা হলো এবং শিক্ষকদের দিয়ে কেন অর্থ ব্যয় করানো হলো-তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সেই প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ইতোমধ্যে শিক্ষক মহলে বিষয়টি নিয়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত অর্থ পরিশোধ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

শিক্ষকদের দাবি, প্রশাসনের চাপে দ্রুত কাজ শেষ করতে হয়েছে। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তার স্বার্থে তারা আপত্তি তোলেননি। কিন্তু টাকা না পেয়ে এখন তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া জটিলতায় পড়ে তারা আদৌ টাকা ফেরত পাবেন কিনা তা অনিশ্চিত।

মালিবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাবুল ইসলাম বলেন,‘নির্বাচন সামনে রেখে দ্রুত ক্যামেরা স্থাপন করতে তাগাদা দেওয়া হয়। টাকা পরে পরিশোধ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। এজন্য ইউএনও অফিসে ডাকা হয় সব স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের। কিন্তু টাকা না দিয়ে উল্টো ‘প্রাপ্তি স্বীকার’ রসিদে সই নিয়ে বিদায় দেওয়া হয়েছে।’

পিরগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান বলেন,‘নির্বাচনের স্বচ্ছতার জন্য কাজ করেছি। কিন্তু এখন নিজের পকেটের টাকা ফেরত পাবো কিনা সেই চিন্তায় আছি।’

নেপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেন,‘ধারদেনা করে ক্যামেরা লাগিয়েছি। এখনো টাকার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমরা সরকারি কর্মচারী হয়েও এভাবে অনিশ্চয়তায় আছি।’

এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন,‘ইউএনও খাদিজা আক্তারের নির্দেশনা মোতাবেক শিক্ষকরা ক্যামেরা স্থাপন করেছে। ইউএনও’র সাথে কথা হয়েছে-ক্যামেরা স্থাপন বাবদ শিক্ষকরা যে টাকা খরচ করেছেন, তা বিভিন্ন খাত থেকে পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। তবে কবে নাগাদ টাকা পরিশোধ হবে-এ বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। শিক্ষকদের ব্যক্তিগত টাকায় ক্যামেরা স্থাপনের নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন,‘১১২ টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৬৯টি কেন্দ্রে সরকারিভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা ছিল। বাকি ৪৩টি কেন্দ্র অরক্ষিত থাকার কারণে স্ব-উদ্যেগে শিক্ষকদের নিজের টাকায় ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দিই। সেই মোতাবেক তারা ক্যামেরাগুলো স্থাপন করে। কিন্তু দু:খের বিষয় হলো-৪৩টি কেন্দ্রের কোন বরাদ্দ না আসায় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে স্কুলের স্লিপ ফান্ড থেকে সমন্বয় করার জন্য পরামর্শ দিয়েছি।

তবে আপাতত প্রাথমিক বিদ্যালয়েগুলোতে ১০ হাজার ও মাধ্যমিক ও মাদ্রাসাগুলোতে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। এসময় প্রত্যেক স্কুল প্রধানদের কাছ থেকে ‘প্রাপ্তি স্বীকার’ রসিদে সাক্ষর করে রেখেছি, কিন্তু এখনও টাকা দিতে পারিনি। পরবর্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে পর্যায়ক্রমে তাদের টাকা পরিশোধ করার ব্যবস্থা করা হবে।’




শৈলকুপায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাগ্নের আঘাতে মামা নিহত, আটক ২

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ত্রিবেনী ইউনিয়নের বসন্তপুর জয়ন্তী নগর গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে বোনজামাই ও ভাগ্নের মারপিটে মামা কেসমত আলী (৫৬) নিহত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কেসমত আলী ওই গ্রামের মৃত সিরাজ সর্দারের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, কৃষক কেসমত আলীর সাথে কয়েকবছর ধরে তার ছোট বোনজামাই নবছদ্দির জমি নিয়ে বিরোধ চলছিলো। বৃহস্পতিবার সকালে নবিছদ্দি ও কেসমত আলীর মধ্যে এ নিয়ে বাক-বিতন্ডা হয়। এরই এক পর্যায়ে নবিছদ্দি তারছেলে ও পরিবারের লোকজন কেসমত আলীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এ দিকে এ ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রাম থেকে আটক করা হয়েছে অভিযুক্ত নবিছদ্দি ও তার ছেলে রফিকুলকে।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ ফারিয়া তাহসিন বলেন, কেসমত আলীকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিলো। আঘাতজনিত কারণ অথবা স্ট্রোকেও সে মারা যেতে পারে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই সঠিক কারণ জানা যাবে।

শৈলকুপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, হত্যার ঘটনায় আমরা দুইজনকে আটক করেছি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে সেই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হবে।




নিয়মিত কর দিলেও মিলছে না শৈলকুপা পৌরসভার নাগরিক সুবিধা

ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভা-এ মিলছে না প্রত্যাশিত নাগরিক সেবা। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হলেও সেবার মান যেন পরিষদের চেয়েও নিম্নমানের। শহরজুড়ে ভাঙাচোরা সড়ক। সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা, আর রাত নামলেই অন্ধকারে ডুবে যায় অধিকাংশ এলাকা। এর সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্ভোগ নিত্যদিনের সঙ্গী। পৌরবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত কর পরিশোধ করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা।

জানা যায়, শৈলকুপা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯২ সালে। প্রায় ২২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভার বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। কিন্তু সেবার মান একেবারেই তলানিতে। পৌর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক সড়কের পিচ অনেক আগেই উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে ছোট-বড় যানবাহন। কোথাও আবার এখনো নির্মিত হয়নি পাকা সড়ক। কোথাও একযুগ আগে ইটের সলিং করা হলেও সেই রাস্তায় চলাচল করতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে। শুকনো মৌসুমে ধুলার কারণে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। আবার বৃষ্টি হলেই সড়কের খানাখন্দে পানি জমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।

পৌরবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে বসবাস করলেও তারা ন্যূনতম নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত। ড্রেন তো দূরের কথা, অনেক এলাকায় নেই ভালো রাস্তা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্ভোগ তাদের নিত্যদিনের বাস্তবতা। নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না ড্রেন। সড়কবাতির অভাবে রাত হলেই অন্ধকারে চলাচল করতে হয় বাসিন্দাদের। এছাড়া পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থাও নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।

রফিকুল ইসলাম নামের এক বাসিন্দা বলেন, আমরা নিয়মিত পৌরসভার কর দিচ্ছি। কিন্তু সেই অনুপাতে কোনো সেবা পাচ্ছি না। রাস্তাঘাটের অবস্থা এত খারাপ যে সামান্য বৃষ্টি হলেই চলাচল করা যায় না। ড্রেন পরিষ্কার না করায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নাসিমা খাতুন নামের এক বাসিন্দা বলেন, রাতে সড়কবাতি না থাকায় খুবই ভয় নিয়ে চলাফেরা করতে হয়। বিশেষ করে নারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বড় ঝুঁকি। বর্জ্য সময়মতো অপসারণ না করায় পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে।

আব্দুল হালিম নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, শৈলকুপা পৌরসভা প্রথম শ্রেণীর হলেও নাগরিক সুবিধা তৃতীয় শ্রেণীর মতো। সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। অনেক সময় নিজ খরচে পানি সংগ্রহ করতে হয়। আমরা দ্রুত সমস্যার সমাধান চাই।

এ ব্যাপারে শৈলকুপা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম শরিফুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে ইতোমধ্যে একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কার, নতুন করে পাকা রাস্তা নির্মাণ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।




মেহেরপুরে বিএনপি নেতা অ্যাড. কামরুল হাসানের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মেহেরপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসানের নিজ উদ্যোগে গতকাল বৃহস্পতিবার রায়পুর গ্রামে এক ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, যিনি তার বক্তব্যে দেশ, জাতি ও দলের কল্যাণ কামনায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি আগত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জাসাসের সদস্য সচিব বাকা বিল্লাহ, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক জয়েন্ট সেক্রেটারি রাকিবুল ইসলাম রিপন, রায়পুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিবুর রহমান টুকু, এবং আমদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস বিশ্বাস।

ইফতার মাহফিল শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং দলের অগ্রগতি কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতাকর্মী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।




প্রথম রোজা থেকেই সরগরম মেহেরপুরের ইফতার বাজার

পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম রোজাকে ঘিরে জমজমাট হয়ে উঠেছে মেহেরপুরের ইফতার বাজার।

দুপুর গড়াতেই শহরের অলিগলি, প্রধান সড়ক, হোটেল-রেস্তোরাঁ, মসজিদের সামনে ও ফুটপাথজুড়ে শুরু হয় ইফতারের হাঁকডাক।

ছোট-বড় অস্থায়ী ও স্থায়ী দোকানগুলোতে রঙিন ব্যানার, সাজানো টেবিল আর ভাজাভাজির গন্ধে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের আগ থেকেই দোকানগুলোতে সাজানো হতে থাকে বাহারি সব মুখরোচক খাবার। বিকেল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে। ইফতারের আগমুহূর্ত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেলের অনেক আগেই তপ্ত কড়াইয়ে শুরু হয় ভাজাভাজি। ছাঁকনিতে তুলে রাখা হচ্ছে বেগুনি, পেঁয়াজু, চপ ও জিলাপি। পাশাপাশি টেবিলে সাজানো রয়েছে ছোলা, বুন্দিয়া, হালিম, রেশমি কাবাব, গ্রিল চিকেন ও কাচ্চিসহ নানা পদের খাবার। এছাড়া লেবুর শরবত, বেলের শরবত ও তরমুজের শরবতসহ বিভিন্ন পানীয়ও রয়েছে ক্রেতাদের আকর্ষণের কেন্দ্রে।

প্রথম রোজা হওয়ায় অনেকেই একটু আগেভাগেই পরিবারের জন্য পছন্দের ইফতার সামগ্রী কিনতে বাজারে এসেছেন। শহরের বাসিন্দা খোকন জানান, প্রতি বছর পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে ইফতার করেন তিনি। তাই প্রথম দিনেই আগেভাগে বাজারে এসেছেন। তবে এবারের ইফতার সামগ্রীর দাম তুলনামূলক কিছুটা বেশি বলে মনে করছেন তিনি। তারপরও পরিবারের জন্য পছন্দের বিভিন্ন আইটেম কিনেছেন।

বিক্রেতারা জানান, প্রথম রোজায় ক্রেতাদের আগ্রহ বরাবরের মতোই বেশি। তবে কাঁচামালের দাম বাড়ায় ইফতার সামগ্রীর মূল্যও কিছুটা বেড়েছে। তারপরও ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত খাবার সরবরাহের চেষ্টা করছেন তারা।

সব মিলিয়ে প্রথম রোজায় প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে মেহেরপুরের ইফতার বাজার। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে শহরজুড়ে যেন এক ভিন্ন আবহ রোজাদারদের ব্যস্ততা আর ইফতারের প্রস্তুতিতে মুখর চারপাশ।