গাংনীতে লোডশেডিংয়ে বিক্রি কমেছে মাছ ও মাংসের
একদিকে জ্বালানি সংকট অপরদিকে লাগাতার লোডশেডিংয়ে বিক্রি কমেছে মাছ ও মাংসের। বিপরীতে বেড়েছে দাম।
এদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সন্ধ্যা ৭টায় দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জেলার ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। ব্যাবসায়ীরা বলছেন তাদের পণ্য বিক্রি কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ।
ব্যাবসায়ীরা বলছেন,জ্বালানি ও বিদুৎ সংকটে বিক্রি কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। সেই সাথে মহাজনদের কাছ থেকে কিনতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।
ক্রেতারা বলছেন, সারাদিনে ৮ থেকে ১০ ঘন্টা বিদুৎ থাকছে না। আবার যখন বিদুৎ পাচ্ছি তার স্থায়ীত্ব হচ্ছে কখনও আধা ঘন্টা কখনও এক ঘন্টা। যার ফলে ফ্রিজে থাকা মাছ,মাংশ এমনিতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এজন্য মাছ মাংশ কেনা কমিয়ে দিয়েছেন তারা।
মাছ বিক্রেতা মন্টু মিয়া বলেন, আর বইলেন না ভাই, বাজারে এখন আর বড় মাছ কেও কিনতে চাইছে না। ৩ থেকে ৫ কেজি ওজনের মাছ বিক্রি নাই বললেই চলে। কারন হলো কারেন্ট না থাকা। ৫ কেজি ওজনের বড় মাছ তো আর একদিনে খাওয়া যায় না। ফ্রিজে রেখে বেশ কয়েকদিন ধরে মানুষ খাই। আর কারেন্ট না থাকাই ফ্রিজে কোন কিছু রাখলে তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে মানুষ মাছ কেনা কমিয়ে দিয়েছে।
মাছ বিক্রেতা জামাল হোসেন বলেন, আমাদের এই ঐতিহ্যবাহী বামন্দী বাজারে প্রায় একশজনের মত মাছের ব্যাবসার সাথে জড়িত। সপ্তাহ দেড়েক ব্যাবধানে হঠাৎ করে সকলের ৩০ শতাংশ মাছ বিক্রি কমে গেছে। মাছের দাম বেড়ে গেছে। আর বিদুৎ না থাকাই মানুষ মাছ কিনে নিয়ে গিয়ে বাড়িতে ফ্রিজে রেখে রেখে ধীরে শুস্তে খাবে সে পরিস্থিতি নেই। বরং ফ্রিজে যা রাখা আছে তাই নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে খেয়ে ফেলতে হচ্ছে।
মাংস বিক্রেতা জাহিদ বলেন, হঠাৎ করেই বাজারে মাংস বিক্রি কমে গেছে। মানুষের ফ্রিজে যে মাংস আছে এখন সেগুলো খাওয়াতে ব্যাস্তো। কারেন্ট না থাকাতে ফ্রিজে থাকা যতো মাছ মাংশ আছে সেগুলো নষ্ট হওয়ার ভয়ে সব খাচ্ছে।
মাছ চাষি সম্রাট আহমেদ বলেন,প্রচন্ড রোদ ও তাপের কারনে পুকুরের পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। স্যালো ইঞ্জিন দিয়ে পানি দেবো সে পরিস্থিতিও নেই। তেল সংকট। আবার বিদুৎতের লোডশেডিং। পুকুরে পানি কম থাকাই মাছ মরে যাচ্ছে। অথচ মাছ ব্যাবসায়ীদের বলছি মাছ নিয়ে যেতে। তারা বলছে হাটে মাছ বিক্রি নাই। আমি মাছ নিয়ে এক রকম বিপদের মধ্যে আছি।
মাছ ক্রেতা প্রবাসী সোহাগ আলী বলেন,আমি তিন বছর পর ছুটিতে দেশে আসছি। দেশে এসে দেখি যেমন গরম পড়ছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে লোডশেডিং। আজ বাজারে এসে পাঁচ কেজি ওজনের একটা কাতলা মাছ দেখে খুব লোভ হলো মাছটি কিনবো। বাড়িতে গিন্নির কাছে ফোন দিয়ে মাছটি নেবো কিনা জিজ্ঞেস করতেই। বলে দিলো বড় মাছ নিতে হবে না। কারেন্ট থাকছে না। ফ্রিজে রাখলেও মাছ নষ্ট হয়ে যাবে।
বামন্দী বাজারে মাংস কিনতে আসা হোটেল ব্যাবসায়ী ইয়ারুল ইসলাম বলেন, আমাদের হোটেলের ব্যাবসা। একেকদিন একেকরকম বেচাকেনা হয়। আমাদের ফ্রিজে সবসময় কেজি পাঁচেক মাছ-মাংস রেখে দিতে হয়। যেদিন চাহিদা বেশি থাকে ফ্রিজ থেকে বের করে রান্নার জন্য রেডি করি। অথচ সপ্তাহ খানেক ধরে কারেন্টের যে অবস্থা, ফ্রিজ ঠান্ডা হওয়ার আগেই কারেন্ট চলে যাচ্ছে। যার ফলে ভিতরে থাকা সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
গাংনী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের এলাকায় প্রয়োজন প্রায় ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কিন্তু বর্তমানে আমরা পাচ্ছি মাত্র ৪ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।