মারা গেছেন কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে

ভারতের কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে মারা গেছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে গত শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গত কয়েক মাস ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই শিল্পী। শনিবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

রোববার দুপুরে তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে এই বরেণ্য শিল্পীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। আগামীকাল সোমবার তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় গায়িকা আশা ভোঁসলে ১৯৩৩ সালে সংগীত অনুরাগী মঙ্গেশকর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ৯ বছর বয়স থেকেই পেশাদার গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। ১৯৪৩ সালে চলচ্চিত্রে প্রথম গান রেকর্ড করার পর ১৯৫০-এর দশকেই বলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নেন। বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের ছায়ায় ঢাকা না পড়ে নিজস্ব গায়কী ঢঙে তিনি কয়েক দশক ধরে শ্রোতাদের মাতিয়ে রেখেছিলেন।

দাদাসাহেব ফালকে ও বঙ্গবিভূষণসহ একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এ খ্যাতনামা গায়িকা। ১৯৯৭ সালে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্যও মনোনীত হন তিনি।

তার ব্যক্তিগত জীবন ছিল বেশ নাটকীয়। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পরিবারের অমতে নিজের ব্যক্তিগত সচিব ৩১ বছর বয়সী গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেন তিনি। তবে ১৯৬০ সালে সেই সম্পর্ক ত্যাগ করেন।

পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে বিখ্যাত সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণের (আর ডি বর্মণ) সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বর্মণ পরিবারের প্রবল আপত্তি থাকলেও তাদের দীর্ঘদিনের প্রেম পরিণয়ে রূপ পায়। ১৯৯৪ সালে আর ডি বর্মণের মৃত্যু পর্যন্ত তারা একসাথেই ছিলেন। জীবনের শেষ বছরগুলোতে তার নাতনি জেনাই ভোঁসলে ছিলেন এই সংগীত সম্রাজ্ঞীর ছায়াসঙ্গী। তার প্রয়াণে ভারতীয় সংগীতের একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল।

সূত্র: যমুনা টিভি।




গাংনীতে মাধ্যমিক শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সম্মেলন

মেহেরপুরের গাংনীতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সম্মেলন ও অবসর সুবিধা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আয়োজনে সমিতির নিজস্ব কার্যালয়ে সমিতির সভাপতি সৈয়দ জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান বাবলুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক, সমিতির সাবেক সভাপতি জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রমজান আলী, সাবেক প্রধান শিক্ষক জালালউদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আক্কাচ আলী, যমুনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জিয়াউর রহমান, প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক দিলরুবা ইয়াসমিন, প্রধান শিক্ষক আনিচুর রহমান, প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমিতির সভাপতি সৈয়দ জাকির হোসেন। সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান বাবলু বিগত সময়ে সমিতির বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বর্তমান কমিটি সমিতির সদস্যদের কল্যাণে কী কী কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সদস্যদের অবহিত করেন।

সভায় জানানো হয়, সমিতির সদস্যদের কল্যাণে ৫ লাখ টাকা স্থায়ী আমানত (ডিপোজিট) হিসেবে জমা করা হয়েছে। এছাড়া সমিতির গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে সমিতির যে সকল সদস্য ইতোমধ্যে অবসরে গেছেন, তাদের মধ্যে অবসর সুবিধা বাবদ প্রায় ৪ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়। সমিতির সম্পাদক বার্ষিক প্রতিবেদনে বিগত সময়সহ বর্তমান পর্যন্ত আর্থিক হিসাব উপস্থাপন করেন।

সভায় সমিতির নিজস্ব কার্যালয়ে কমিউনিটি সেন্টার বা কার্যালয়ের সামনে মার্কেট নির্মাণের বিষয়ে সদস্যদের মতামত নেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে কমিউনিটি সেন্টার বা মার্কেট নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

অনুষ্ঠানে সমিতির প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মনোজ্ঞ সংগীত পরিবেশন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সমিতির সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।




ঝিনাইদহে ছাত্রলীগ নেতাসহ ৩ জন ইয়াবাসহ আটক

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজ শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাহিদ হাসান সবুজসহ তিনজনকে ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ আটক করেছে মাগুরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

গতকাল শনিবার (১২ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে মাগুরা শহরের রতন হোটেলের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আবু জাফর বিশ্বাসের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ হাসান সবুজ, একই উপজেলার চাপড়ী গ্রামের মৃত দয়াল চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে দিপ্ত বিশ্বাস এবং একই গ্রামের হামিদ মিয়ার মেয়ে তমা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাগুরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মুন্সি রাসেল হোসেন।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাগুরা শহরের ঢাকা রোড এলাকায় ডিবি পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মাদক বিক্রির সময় হাতেনাতে তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৩০০ পিস ইয়াবা, মাদক বিক্রির নগদ ৩ লাখ টাকা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ২টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

এদিকে, আটক ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ হাসান সবুজকে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আচরণের কারণে ইতিপূর্বে তার বাবা আদালতের মাধ্যমে ‘ত্যাজ্যপুত্র’ ঘোষণা করেছিলেন। সে সময় বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।




দর্শনা সীমান্তে কোটি টাকার ৪ টি স্বর্ণের বারসহ আটক-১

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে কোটি টাকার বাড়াদি থেকে ৪ টি স্বর্ণের বারসহ এক পাচারকারীকে আটক করেছে ৬ বিজিবি। অবৈধভাবে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে স্বর্ণের বারগুলো নেওয়া হচ্ছিল সীমান্তবর্তী এলাকায়।

উদ্ধার স্বর্ণের বারগুলোর ডিজিটাল স্কেলে ওজন করে মোট ৪৫২ গ্রাম। আনুমানিক মূল্য ৯৬ লাখ ৯ হাজার ৫২০ টাকা

শনিবার ( ১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দর্শনার বারাদি সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারটি স্বর্ণের বারসহ শ্রী সমর হালদার (২৭) নামের এক চোরাকারবারিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ৬ (বিজিবি)। সীমান্তের পাঁচ কবর এলাকা থেকে এসব স্বর্ণের বার জব্দ করা হয়।

আটককৃত পাচারকারী সমর হালদার চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানাধীন পারকৃষ্ণপুর গ্রামের গোপাল হালদারের ছেলে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে দর্শনা সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারতে স্বর্ণ পাচার হবে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধীন বারাদি বিওপির একটি টহল দল পাঁচ কবর এলাকায় অবস্থান নেয়।

সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটে এক ব্যক্তি বাইসাইকেল যোগে সীমান্তের দিকে অগ্রসর হলে তাকে টহল দল থামার জন্য সিগন্যাল দেয়। কিন্তু তিনি সিগন্যাল অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া করে তাকে আটক করে।পরে তার দেহ তল্লাশি করে সবুজ টেপে মোড়ানো একটি পোটলা উদ্ধার করা হয়। পোটলাটি খুলে চারটি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। ডিজিটাল স্কেলে ওজন করে মোট ৪৫২ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ করা হয়। বিজিবি আরো জানায়, উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ৯৬ লাখ ৯ হাজার ৫২০ টাকা। এছাড়া আটক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও একটি বাইসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান জানান, জব্দকৃত স্বর্ণ ও অন্যান্য মালামাল যথাযথ প্রক্রিয়ায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে




কোটচাঁদপুরে বিএনপি নেতৃবৃন্দের প্রতিবাদ সভা

কোটচাঁদপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দের স্বেচ্ছাচারিতা এবং অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দকে অবমূল্যায়নের অভিযোগে প্রতিবাদ সভা করেছেন দলের ১১টি অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। গত শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় প্রিজন ক্লাবে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কোটচাঁদপুর পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আবুল হোসেন।

এ সময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান খান মুকুল, সদস্য সচিব মাহফুজুল আলম মামুন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম (শান্ত), পৌর যুবদলের সদস্য সচিব শাহানুর রহমান (শাহান), উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান সিদ্দিক, সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দীন লিওয়ন, সদস্য সচিব হুমায়ুন কবির হীরা, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক বাধন রাজবীর (নিশু), সদস্য সচিব ফজলে রাব্বী, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, সদস্য সচিব আবুল কাশেম (বাবু) এবং পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক ফিরোজ উদ্দিন (মানিক)।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন দলের পক্ষে কাজ করে আমরা হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। এখন ৫ আগস্টের পরের নেতাকর্মীদের ভিড়ে আমাদের খুঁজে পাওয়া কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তারা বলেন, আমরা বেশ কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করছি, নেতৃবৃন্দ আমাদের বাদ দিয়ে একটি দলের সঙ্গে ভাগাভাগিতে ব্যস্ত রয়েছেন। আমরা তাদের বলতে চাই, আপনারা এমনটি করবেন না। আমাদের কোনো সমস্যা থাকলে আমাদের ডাকুন এবং বসে সমস্যার সমাধান করুন।

উল্লেখ্য, এর আগে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের কিছু বিষয় নিয়ে দূরত্ব সৃষ্টি হয়, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে শুক্রবার অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে স্থানীয় সুধী সমাজের মতবিনিময় সভাকে কেন্দ্র করে। ওই দিন অনুষ্ঠানে যথাযথ মূল্যায়ন না পেয়ে দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও এলাঙ্গী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অনুষ্ঠানের আগে আমি ব্যক্তিগতভাবে অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেছি। এখন তারা যে অভিযোগ করছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। অঙ্গসংগঠনের ওই নেতাকর্মীরা এসব করে দলের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন।




আলমডাঙ্গা ইছেরদাড়ী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন

আলমডাঙ্গায় ডি-৫ খাল পুনঃখনন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। শহীদ জিয়ার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা আড়াইটার সময় আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছী ইউনিয়নের ডামোস-ঘোলদাঁড়ি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মিজ লুৎফন নাহার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন এ্যানী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন। তিনি খাল খননের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে চেয়েছিলেন। খাল খননের সঙ্গে সাধারণ মানুষ জড়িত থাকে, যারা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে কৃষিকাজ করে। তারা ফসল উৎপাদন করে, আর তাদের মাধ্যমেই দেশের খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়।

তিনি আরও বলেন, তৎকালীন সময়ে শহীদ জিয়াউর রহমান কোনো টেন্ডার করে খাল কাটেননি; স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে খাল খনন করা হয়েছে। আমরা তখন স্কুলের ছাত্র ছিলাম শুনলাম প্রেসিডেন্ট হেলিকপ্টারে করে খাল কাটতে আসছেন। একজন প্রেসিডেন্ট খাল কাটবেন এটা ছিল অবিশ্বাস্য ব্যাপার। কিন্তু আমরা দেখলাম, তিনি কোদাল দিয়ে খাল কেটে ঝুড়ি দিয়ে মাটি ফেলছেন। এভাবেই জিয়াউর রহমান দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিগত ১৭ বছর অনেক জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে শহীদ জিয়ার অসমাপ্ত কাজ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বিগত স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকার তা করতে দেয়নি। তারা খাল কেটেছে, কিন্তু দৃশ্যত কোনো কাজ খুঁজে পাওয়া যায়নি; শত শত কোটি টাকা লুটপাট করেছে।

শহীদ জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের যে ইশতেহার দিয়েছেন, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাল পুনঃখননের কথা উল্লেখ রয়েছে। আমরা সারা দেশে খাল পুনঃখনন করে দেশকে স্বনির্ভর বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তারেক রহমান বলেছেন “সবার আগে বাংলাদেশ”।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রুহুল কবির খান, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিউজ্জামান শরীফ, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের প্রধান প্রকৌশলী শাহাজান সিরাজ, জিকে সেচ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক জাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহম্মেদ, চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নাজিম উদ্দিন এবং কাজের ঠিকাদার হেমন্ত কুমার সিংহ রায়।

অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল কাউনাইন টিলু, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিন্টু, সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন, বেলগাছী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমজাদ হোসেন, সম্পাদক কামাল হোসেন, যুবদলের নেতা মীর উজ্জ্বল হোসেন ও রফিকুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এমদাদুল হোসেন, ছাত্রদলের নেতা তন্ময় ও শুভ প্রমুখ।




আলমডাঙ্গা রাসমণি জুয়েলার্স স্বর্ণের তিনটি চেইন ছিনতাই

আলমডাঙ্গায় অভিনব কৌশলে স্বর্ণের চেইন নিয়ে পালিয়েছে দুই দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মাঝে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় অভিনব কৌশলে স্বর্ণের তিনটি চেইন চুরি হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৫০ মিনিটে আলমডাঙ্গা চারতলা মোড়ে অবস্থিত রাসমণি জুয়েলার্সে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

দোকান সূত্রে জানা যায়, একজন ব্যক্তি ক্রেতা সেজে দোকানে প্রবেশ করে স্বর্ণের চেইন দেখতে চান। এ সময় দোকান মালিক বিভিন্ন ডিজাইনের তিনটি চেইন বের করে দেখানোর একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি হঠাৎ করেই চেইনগুলো নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে বাইরে অপেক্ষমাণ সহযোগীর মোটরসাইকেলে উঠে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

রাসমণি জুয়েলার্সের মালিক বিজু শিহি জানান, চুরি হওয়া তিনটি স্বর্ণের চেইনের আনুমানিক মূল্য প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা।

ঘটনার খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং তদন্ত শুরু করে।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাণী ইসরাইল বলেন, “ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।” তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের অভিনব কৌশলের চুরির ঘটনায় দোকানদারদের আরও সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।”

এদিকে ঘটনার পর স্বর্ণপট্টির ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।




দামুড়হুদা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাহফুজুর রহমান মিল্টনের ইন্তেকাল

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব, ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ মাহফুজুর রহমান মিল্টন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৪ বছর।

গতকাল শনিবার বিকাল ৩টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাঁকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে রেফার করেন। পরিবারের সদস্যরা অ্যাম্বুলেন্সযোগে কুষ্টিয়ায় নেওয়ার পথে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মাহফুজুর রহমান মিল্টন দামুড়হুদা উপজেলার পাটাচোরা গ্রামের মৃত শফিউদ্দীনের পুত্র। ১০ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। ব্যক্তিজীবনে তিনি এক কন্যা সন্তানের জনক। তাঁর মেয়ের নাম নওশীন (৬)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাহফুজুর রহমান মিল্টন এলাকায় অত্যন্ত সুনামধন্য, ত্যাগী ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন সক্রিয় ও জনপ্রিয়। তাঁর অকাল মৃত্যুতে পরিবারসহ পুরো দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আজ রবিবার সকাল ৯টায় দামুড়হুদা স্টেডিয়াম মাঠে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সকাল ১০টায় নিজ গ্রাম পাটাচোরায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে।

এদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন (এমপি) গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

শোকবার্তায় নেতৃদ্বয় বলেন, “মাহফুজুর রহমান মিল্টন ছিলেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক। রাজপথের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর সাহসী ভূমিকা সর্বমহলে প্রশংসিত। তাঁর মতো ত্যাগী নেতার অভাব সহজে পূরণ হওয়ার নয়।”

নেতৃদ্বয় মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।




দর্শনায় মহিলাসহ ৪ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার

দর্শনা থানা পুলিশ বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে মহিলাসহ ৪ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করেছে।

গতকাল শনিবার ভোরে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি দল বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পুলিশ দীর্ঘদিন পলাতক থাকা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন দর্শনা পৌরসভার ঈশ্বরচন্দ্রপুর মাঝপাড়ার আলীর ছেলে হাফিজুল ইসলাম ওরফে হ্যাপি (৪০), দর্শনার আজমপুরের সুরুজ মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া (৩৯), দর্শনা থানার তিতুদহ ইউনিয়নের সাড়াবাড়িয়া গ্রামের মৃত মজিবর শাহের ছেলে শাহাবুদ্দিন বদ্দি (৩৯) এবং দর্শনা পরানপুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের স্ত্রী ছালমা খাতুন (৩৯)।

গ্রেফতারের পর গতকালই তাদের চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।




মেহেরপুরের পুরাতন দরবেশপুরে মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩

মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক মহাসড়কের পুরাতন দরবেশপুরে দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আরাফ হোসেন (১৪) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্র নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুরাতন দরবেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আরাফ হোসেন মেহেরপুর সদর উপজেলার সিংহাটি পশ্চিমপাড়ার তৌহিদুল ইসলামের ছেলে।

আহতরা হলো একই গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে হোসাইন (১৪), মোমিনপুর গ্রামের শ্রী রঞ্জিত কুমার পাত্রের ছেলে শ্রী ইন্দ্রজিৎ পাত্র (৩৫) এবং তাঁর ভাই শ্রী সাজু পাত্র (৪০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আরাফ ও হোসাইন একটি টিভিএস আরটিআর মোটরসাইকেলে করে দ্রুতগতিতে মেহেরপুর থেকে চুয়াডাঙ্গার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা ইন্দ্রজিৎ ও সাজু পাত্রের টিভিএস মেট্রো মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই আরাফ হোসেনের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর মেহেরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরাফকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে হোসাইনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করে বারাদী পুলিশ ক্যাম্পে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।