গণভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ

গণভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এই গেজেট প্রকাশ করা হয়।

গেজেটে ফলাফলের দেখা গেছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ না ভোট।

60658_59636

এতে আরো দেখা গেছে, গণভোটে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ২৮৬টি।

ভোট বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি এবং মোট ভোট ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কারের ওপর জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন ২৯৭ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে। পরে এদিন রাতে আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২৯৭ আসনের গেজেট ঘোষণা করে ইসি।

সূত্র: কালের কন্ঠ ।




নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের সরকারি ফলাফল গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

60657_19406

এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এদিন দেশজুড়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবার রেকর্ডসংখ্যক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মোট ৫১টি দল এই নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। নির্বাচনে মোট প্রার্থী ছিল ২ হাজার ২৯ জন; যার মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ২৭৪ জন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮০ জন।

এবারের নির্বাচনে মোট ১১৯টি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এদিকে নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি শুরু করেছে সংসদ সচিবালয়। বৈঠকে শপথের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্তটি সফলভাবে করতে প্রটোকল, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় সেবার বিষয় অগ্রাধিকার দিয়ে সাজানো হয়েছে সব পরিকল্পনা।

সূত্র : কালের কন্ঠ।




আলমডাঙ্গা ভূমিপুত্র এ্যাড রাসেল নির্বাচিত হওয়ায় খুশির বন্যা 

আলমডাঙ্গা উপজেলার ভূমিপুত্র এ্যাড মাসুদ পারভেজ রাসেল নির্বাচিত হওয়ায় উপজেলাবাসী মাঝে যেমন খুশির জোয়ার বইছে, ঠিক তেমনি কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশার এক লম্বা তালিকা সামনে প্রতিয়মান হয়েছে।

বাংলাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জানায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী এ্যাড মাসুদ পারভেজ রাসেল বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।

গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মধ্য রাতে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মাদ কামাল হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ১১ হাজার ১৫৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের শরীফুজ্জামান পেয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৮ ভোট।

এই আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ৬ হাজার ৩৩৭ জন। ভোটগ্রহণের হার ছিল প্রায় ৭৪ শতাংশ। পোস্টাল ব্যালটের ফলাফলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছে ২ হাজার ৭৪১ ভোট, ধানের শীষ পেয়েছে ৮১১ ভোট এবং হাতপাখা প্রতীক পেয়েছে ৮৯ ভোট।

দীর্ঘ ৩৪ বছর পর চুয়াডাঙ্গা ১ আসনে আলমডাঙ্গার সন্তান হিসেবে মাসুদ পারভেজ রাসেল বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। ১৯৯১ সালে আলমডাঙ্গা উপজেলার বড় গাংনীর গ্রামের কৃতিসন্তান মিয়া মুনসুর বিএনপি থেকে নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন।

মাসুদ পারভেজ রাসেলের এই বিজয় শুধু দলীয়করণে সীমাবদ্ধ ছিল না বরং আলমডাঙ্গা এই বৃহত্তর জনপদে মানুষের বঞ্চনার ফসল।বিগত দিনে দেখা গেছে ১৫ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আলমডাঙ্গায় উপজেলার মানুষকে চুয়াডাঙ্গা সররের মুখের দিকে চেয়ে থাকতে হয়েছে। করুনার পাত্র হতে চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়া জলের ফোটা নিয়ে সন্তোষ্টু পেতে হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাত্র ৫ টি ইউনিয়ন ও চুয়াডাঙ্গা পৌর সভা নিয়ে গঠিত হলেও সকল উন্নয়ন,কর্মপদ্ধত,কর্মপরিকল্পনা,সকল প্রকার সূযোগ সুবিধা চুয়াডাঙ্গা সদর কেন্দ্রীক,যার থেকে আলমডাঙ্গাবাসী চিরকাল বঞ্চিত।

আলমডাঙ্গাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রানের দাবি ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত দ্বিতলভবন বিশিষ্ট ঐতিহাসিক রেলস্টেশনের সংরক্ষণ ও আধুনিকায়ন,আলমডাঙ্গায় শহরের অপরিকল্পিত রাস্তা ও রাস্তা সংলগ্ন ড্রেনের সংস্করণ করে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ করা,,কুমার ও মাথাভাঙা নদীসহ সকল ক্যানেলের

দুষণরোধ,অবমুক্তকরন করে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি করা,যাতে কৃষকরা যথা সময়ে পানি পেতে পারে।

আলমডাঙ্গার মৌলিক প্রত্যাশা গুলি চিরকাল অবগ্যা আর অবহেলায় ফাইলবন্ধী হয়ে পড়ে থেকেছে।

কৃষকের দুর্দশার অন্ত নেই।সারের সিন্ডিকেট,ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত, ফসলের সংরক্ষণের জন্য হিমাগার প্রয়োজন,একটি সরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আলমডাঙ্গা পৌর সভায় একটি অত্যাধুনিক সরকারি হসপিটাল,যুবসম্প্রদায়ের জন্য কর্ম নিশ্চিত প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা।মাদকমুক্ত সমাজ গঠন,আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখা,সরকারি অফিস সহ সকল প্রতিষ্ঠানে দূর্ণীতি মুক্ত করা,পৌর সভার লাভজনক প্রতিষ্ঠান কে কলঙ্গমুক্ত করা এখন নবনির্বাচিত এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেলর বড় চ্যালেঞ্জ।

দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পাহারসম সমস্যা কাঁধে নিয়ে আলমডাঙ্গা ভূমিপুত্র এ্যাড মাসুদ পারভেজ রাসেল কতটা চাহিদা পূরণ করতে পারে সেটাই দেখার অপেক্ষায় উপজেলাবাসী।সেই সাথে স্বল্পপরিসর সময়ে এত সমস্যা সমাধানে দ্রুত করা সম্ভব নয়।তাই তাকে সময় ও সহোযোগিতায় সকলের নৈতিক কর্তব্য বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।




দামুড়হুদায় নির্বাচন পরবর্তী উত্তেজনা, কয়েকটি গ্রামে ভাঙচুর হুমকি 

গত বৃহস্পতিবার সারা দেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নসহ কয়েকটি গ্রামে উত্তেজনা ও সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর বিজয়ের পর কিছু উচ্ছৃঙ্খল কর্মী-সমর্থক বিজয় মিছিলের আড়ালে বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, জামায়াতের লোকজন ডুগডুগি, তারিনিপুর, ছোট দুধপাতিলা ও বড় দুধপাতিলা গ্রামসহ কয়েকটি পাড়া-মহল্লায় গালাগালি, হুমকি-ধামকি ও ছোট খাটো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বড় দুধপাতিলায় একটি পানের বরজে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তারিনিপুর গ্রামের স্থানীয়রা বলেন, মিরাজুল ইসলাম এর ছেলে মমিনুল হক, ঠান্ডুর ছেলে স্বপন, তোয়াক্কেল এর ছেলে হাফিজুল ইসলাম, লতিফ এর ছেলে রিয়ন ও ফজলুর ছেলে আশরাফুল সহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৫০-১০০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। তারা বলেন, হাউলী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড তারিনিপুর গ্রামে একটি বিএনপির দলীয় অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে।

কিছু স্থানীয় ব্যক্তি দাবি করেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু সদস্যরা এখন নব্য জামায়াত, তাদের পুরোনো কর্মীদের সমন্বয়ে জামায়াতের ইঙ্গিতে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে।

এদিকে ছোট দুধপাতিলা গ্রামের স্থানীয় মহিলারা জানান, বিজয় মিছিলের নামে জামায়াতের কর্মী সমর্থকরা খুবই নেক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা আমাদের হুমকি-ধামকি দিয়েছে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করতে গিয়েছে বাড়ির মহিলাদের সাথে খুবই খারাপ ব্যবহার করেছে গালাগালি করেছে। ঘরের ইট খুলে নিয়ে যেতে চেয়েছে।

একজন বৃদ্ধ নারী বলেন, জামায়াতের লোকজন এমন করবে আমার জানাছিলোনা, এই পাড়ার পুরুষ মানুষ কোথায় ভোট দিয়েছে জানিনা, তবে আমি এটা জানি মহিলারা সব দাঁড়ি পাল্লায় ভোট দিয়েছে, বাড়ির মহিলাদের ভোটে জিতে আবার আমাদের ঘরবাড়িই ভাংতে এসেছে। এটা আমরা কখনো মেনে নেবোনা। ভোটকি প্রকাশ্যে দেওয়ার জিনিস, এটা গোপনে হয়। এরপরেও এমন করলে নতুন এমপি রুহুল আমীন এর কাছে অভিযোগ করবো, যে আমাদের শান্তি নষ্ট করছে।

এদিকে ডুগডুগি বাজারে ‘আরিফ মেডিকেল’ নামের একটি ওষুধের দোকান বন্ধ থাকায় দোকানের শাটারে জোরে জোরে আঘাত করলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অনেক পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রাত কাটিয়েছেন বলেও জানা যায়। একাধিক এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ধর্মীয় আদর্শের কথা বলা কোনো দলের কর্মীদের কাছ থেকে এমন আচরণ আমরা প্রত্যাশা করি না।

তবে এ ঘটনায় জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরাও পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, বিএনপির লোকজন ইচ্ছাকৃতভাবে পায়ে পা লাগিয়ে গণ্ডগোল সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। কোনো দলীয় অফিস ভাঙচুর করা হয়নি। বরং মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাদের সমর্থকদের ওপর হামলা ও মারধর করা হয়েছে। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোন পক্ষের মতামত পাওয়া জায়নি।

সংবাদ পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টহল জোরদার করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকায় অধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি দেখা গেছে।




আলমডাঙ্গায় নির্বাচন পরবর্তী সংহিতায় আহত ১০

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর স্থানীয় অফিস ও দলটির কর্মী-সমর্থকদের দোকানে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

পৃথক সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বাড়াদী ইউনিয়নের নতিডাঙ্গা গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডে নতিডাঙ্গা বাজার ও আশপাশের এলাকায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতাকর্মীরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর স্থানীয় ওয়ার্ড অফিসে ভাঙচুর চালান এবং দলটির কর্মী-সমর্থকদের কয়েকটি দোকানে লুটপাট করেন।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে নতিডাঙ্গার সুলাইমান মুদির দোকান, রাজুর মুদি ও চায়ের দোকান এবং ইমাদুল নাপিতের দোকান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দোকানের মালামাল উল্টে দেওয়া হয় এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় স্থানীয় জামায়াত নেতারা তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর এলাকায় কর্মী-সমর্থকরা হুমকির মধ্যে রয়েছেন এবং নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিকেল চারটার দিকে নতিডাঙ্গা এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি টহল দল উপস্থিত হয়।

অপরদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের শ্রীরামপুর কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর বিজয় ঘোষণার পর একটি বিজয় মিছিল বের হয়। মিছিলটি জগন্নাথপুর ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহত বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে রয়েছেন জগন্নাথপুর উত্তরপাড়ার মুকুল (৪৫), মিজান (৪০) ও রনি (২০)। জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে আহত হয়েছেন হাসান (২২), লুৎফর (৬০), আবু বক্কর (৬৫), ইকরামুল (৫৫), শরিফুল (৪৫) ও আতিয়ার (৫৫)। সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন আলমডাঙ্গা উপজেলার কালীদাসপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর উত্তরপাড়ার মো. রিফাত ওরফে শ্রমিক (২০)। তিনি কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে বাড়িতে এসে মিছিলে চাচার ওপর হামলা হতে দেখে তাকে রক্ষা করতে গেলে দুর্বৃত্তরা পিছন থেকে তার মাথায় আঘাত করে।

স্থানীয়রা রিফাত কে প্রথমে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয় এবং বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রিফাত কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন।

ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে কালীদাসপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাজারে একটি চা-স্টলে ধাক্কাধাক্কিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় সাবেক চেয়ারম্যান নুর ইসলাম (৬২)–এর সঙ্গে স্থানীয়দের বাকবিতন্ডা হয় ।

নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এবিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের খবর পাওয়া পেলে পুলিশ তাৎক্ষণিক উপস্থিত হয় , এখন নিয়ন্ত্রণে আছে পরিস্থিতি।লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।




মুজিবনগরে দাড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার হাতে নিজ দলের কর্মী রক্তাক্ত জখম

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামে দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই যুবককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মজনু রহমানের ছেলে জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে দাড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার অভিযোগে মাদার আলীর ছেলে আকুব্বার ও ইউনুচ আলীর ছেলে বাবলুকে বেধড়ক মারধর করে।

মারধরের একপর্যায়ে বাবলুর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মুজিবনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত বাবলু জানান, তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে এবারের নির্বাচনে দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের মুজিবনগর উপজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র নেতা মজনু রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন মজনু, দেলোয়ার (পিতা: মজনু), ইজরাল (পিতা: মৃত গলি), হিরন (পিতা: আমজাদ), রাকিব (পিতা: দেলোয়ার), ভাষান (পিতা: মৃত দাউদ), হাসান (পিতা: আমজাদ) ও মনি (পিতা: আদম)।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেন, পূর্বের একটি তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে আকুব্বার নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা কাটাকাটির সময় বাবলু নিজে থেকে মাঝখানে জড়িয়ে পড়লে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত ব্যক্তির পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।




ঝিনাইদহ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আহত ১৩ 

ঝিনাইদহ-৪ আসনে নির্বাচন পরবর্তী পৃথক তিনটি সহিংসতায় কমপক্ষে ১৩ জন আহত হয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যলয় ভাংচুর ও অগ্নীসংযোগ করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঝিনাইদহ সদর ও কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এসব হামলা ও পাল্টা হামলা ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টার দিকে কালীগঞ্জ শহরের নীমতলা বাসষ্ট্যান্ডের বাজার রোডে অবস্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা করে ব্যপক ভাংচুর করা হয়। এসময় খোকন, ইভন ও জবেদ আলী নামে তিন বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে জখম করে।

আহত জবেদ আলীকে যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জবেদ আলী কালীগঞ্জ পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।

একই সময় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের ভিটশ্বর গ্রামের ধানের শীষের সমর্থকরা কাপপিরিচের সমর্থকদের উপর হামলা করে। এঘটনায় আকরাম হোসেন, ফজলুর রহমান, ফারুক হোসেন, নজরুল ইসলাম ও জাফর উদ্দীন নামে পাঁচজন জখম হয়। এরমধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জখম সবাইকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপরদিকে একই ইউনিয়নের খড়াশুনি গ্রামে কাপপিরিচের সমর্থক কওসার বিশ্বাসের উপর হামলা করে আহত করে ধানের শীষের সমর্থকরা।

এর আগে সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা বাজারের খালকুলা গ্রামে ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ধানের শীষের সমর্থক রবিউল শেখ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক কাপপিরিচ প্রতিকের মোশারেফ শেখ ও ইব্রাহিম শেখ আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ঝিনাইদহের মহেশপুরে দুর্বৃত্তরা প্রেসক্লাব মহেশপুর কার্যালয় ভাঙচুরর ও লুটপাট করে। এদিন রাত ৯ টার দিকে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের পাশেই অবস্থিত প্রেসক্লাব মহেশপুর কার্যালয়ে এ হামলা চালানো হয়।

এসব ঘটনায় কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন জানান, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




মেহেরপুরে আমবাগান থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মেহেরপুরে একটি আমবাগান থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে যেকোনো সময় এ ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জানা যায়, জহিরুল মিয়ার ইটভাটার পশ্চিম পাশে অবস্থিত একটি আমবাগানের আমগাছের ডালের সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন মুন্না (টাইসেল মিস্ত্রি)। তিনি মেহেরপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গোরস্থানপাড়া এলাকার সাইদুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, বিকেলের দিকে বাগানে একটি মরদেহ ঝুলতে দেখে তারা কাছে গিয়ে মুন্নাকে শনাক্ত করেন এবং দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিয়ে সংক্রান্ত হতাশা থেকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, এ কারণেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

পুলিশ জানায়, পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং এ বিষয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।




ঝিনাইদহে ৪টি আসনের ১টিতে বিএনপি ও বাকী ৩টিতে জামায়াত বিজয়ী

ঝিনাইদহে ৪টি সংসদীয় আসনের ১টিতে বিএনপি’র ধানের শীষ এবং বাকী ৩টি তে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হয়েছে।

ঝিনাইদহ-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোঃ আসাদুজ্জামান পেয়েছেন ১লাখ ৭১হাজার ৫শ’৯৮ ভোট নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লা প্রতীকের এস এম মতিউর রহমান পেয়েছেন ৫৫হাজার ৫শ’৭৭ ভোট। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ১লাখ ১৬হাজার ২১ ভোটে বিজয়ী হয়েছে। এই আসনে মোট ভোটার ছিল ৩লাখ ২৫ হাজার ২শ’৭৮ জন।

ঝিনাইদহ-২ (ঝিনাইদহ সদর ও হরিণাকুণ্ডু) আসনের ১৮৫টি কেন্দ্রের সর্বশেষ ফলাফলে জামায়াতের আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১লাখ ৯৩ হাজার ৬শ’৩৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের আব্দুল মজিদ পেয়েছেন ১লাখ ৭৫হাজার ৬৭ ভোট।

এই আসনে মোট ৫লাখ ৬হাজার ৬শ’৩২ ভোট এর মধ্যে পুরুষ ভোট রয়েছে ১লাখ ৬৪ হাজার ৭শ৭৮ ভোট এবং মহিলা ভোটার রয়েছে ১লাখ ৬৭ হাজার ৮শ’৯৭ ভোট।

ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর- মহেশপুর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোঃ মতিউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১লাখ ৭২ হাজার ৪শ’৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকের মেহেদী হাসান রনি পেয়েছেন ১লাখ ৪৮হাজার ৮২ ভোট। এই আসনে মোট কেন্দ্র ছিল ১৬৬টি এবং মোট ভোটার ৪লাখ ৩১হাজার ১৫ জন।

ঝিনাইদহ-৪ (সদরের আংশিক এবং কালীগঞ্জ) আসনের জামায়াতের প্রাথী মাও: আবু তালেব দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১লাখ ৪ হাজার ৩১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ সাইফুল ইসলাম ফিরোজ পেয়েছেন ৭৫হাজার ৭শ’৫০ ভোট এবং ধানের শীষের রাশেদ খান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬শ’৭০ ভোট। এই আসনে মোট ভোটার ছিল ৩লাখ ৩৩ হাজার ৪শ’৬১ ভোট।




আলমডাঙ্গায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল শিশু হাসানের

ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্য নানাবাড়ীতে বেড়াতে এসে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল ৫ বছরের শিশু হাসানের। ঘটনাটি ঘটেছে আলমডাঙ্গার ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের খোরদ গ্রামে। দুই গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আনুমানিক ১০টার দিকে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। শিশুটির অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও পুরো গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের শেখপাড়া গ্রামের ইসরাইল হোসেনের স্ত্রী তার বাপের বাড়ি ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্য সন্তানদের সাথে নিয়ে খোরদ গ্রামে বেড়াতে আসেন। পারিবারিক আনন্দঘন পরিবেশে সবার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিল ছোট্ট হাসান। সকালে সে তার নানা লাল্টু হোসনের সঙ্গে স্থানীয় ভোটকেন্দ্রে যায়। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান শেষে নানা-নাতি বাড়ীতে ফিরে আসে।

বাড়ীতে ফিরে সমবয়সী অন্য শিশুদের সঙ্গে লুকোচুরি খেলতে থাকে হাসান।

খেলার এক পর্যায়ে সবার অগোচরে বাড়ীর পাশের মাঠের মধ্যে অবস্থিত একটি ছোট পুকুরের দিকে চলে যায়। অসাবধানতাবশত পুকুরে পড়ে গেলে সে আর উঠতে পারেনি।

কিছু সময় পর শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে তাকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে তড়িঘড়ি করে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়। এদিকে খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো খোরদ গ্রামে শোকের মাতম চলছে।