আলমডাঙ্গায় নিরাপদ সড়কের প্রত্যাশায় বিভিন্ন সড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা

আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন নিয়ন্ত্রণে চলাচলের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ডাউকি, জামজামি, আইলহাস, নাগদাহ, খাসকররা ইউনিয়নে এই ভ্রাম্যমাণ আদালতে মোট ৫ জনের কাছে ৫১০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আর নিরাপদ সড়কে  মানুষের চলাচলে জন্য এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে। আলমডাঙ্গা থানা ও বিজিবি’র যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার ভূমি এ এস এম শাহনেওয়াজ মেহেদী। তিনি বলেন, বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে জীবনকে যেমন ঝুকিতে ফেলে দেয় তেমনিভাবে অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি চালানো আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। জনস্বার্থে এই রকম অভিযান অব্যাহত থাকবে।




দর্শনায় বিভিন্ন সংগঠন থেকে ৫০ জনের জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান

দর্শনার নেহালপুর, কুড়ালগাছি, প্রতাপপুর, আমডাঙ্গা     ১নং ওয়ার্ডে ও নেহালপুর ইউনিয়নে পথসভায় এ যোগদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ১১দলীয় জোটের এমপি প্রার্থী জনাব মোঃ রুহুল আমিন।

তিনি বলেন, দেশের তরুণ সমাজই ভবিষ্যৎ শক্তি। কিন্তু সঠিক দিকনির্দেশনা, প্রশিক্ষণ ও ন্যায়ভিত্তিক সুযোগের অভাবে বহু শিক্ষিত যুবক আজ বেকার। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে কারিগরি, আইটি, শিল্প ও উদ্যোক্তা খাতে আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে যুবকদের দক্ষ করে তোলা হবে।

তিনি আরও বলেন, চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘুষ, তদবির ও রাজনৈতিক পরিচয়ের সংস্কৃতি বন্ধ করে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। এতে করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

এদিকে নেহালপুরে পথসভায় অনুষ্ঠান পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন থেকে ৫০জন জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করছেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের নির্বাচন পরিচালক মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল কাদের, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এডভোকেট শাহজাহান কবির, শরীক দলের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, এবি পার্টির জেলা সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেন, এনসিপি’র আহ্বায়ক খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লব। এছাড়াও কুলগাছি ইউনিয়নের সাদিকুল সহ অসংখ্য নেতাকর্মীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।




অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম

চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার সাংবাদিকদের জন্য প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) কর্তৃক ‘নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা’ বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রশিক্ষণের উদ্বোধন হয় গত বুধবার সকালে চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউস অডিটরিয়ামে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, প্রশিক্ষণ কো-অর্ডিনেটর সাহানোয়ার সাইদ শাহীন। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির চুয়াডাঙ্গা জেলা ইউনিটের সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিক, মেহেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ফজলুল হক মন্টু, সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল হক মানিক, মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তোজাম্মেল আযম ও সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব চান্দু।

প্রশিক্ষণে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। উদ্বোধনী দিনে ইউল্যাবের শিক্ষক ও সাংবাদিক নাজিয়া আফরিন মনামী নির্বাচনী সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। আলোচনার মধ্যে ছিল নির্বাচনকালীন আচরণবিধি, সংবাদ সংগ্রহে নিরাপত্তা, ভুয়া তথ্য ও গুজব প্রতিরোধ, রাজনৈতিক দলের সমান গুরুত্ব প্রদান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে দায়বদ্ধ প্রতিবেদন প্রণয়নের বিষয়।

কর্মশালার দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ সমাপনী অধিবেশনে প্রশিক্ষক ছিলেন, ঢাকা মেইলের নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল।

প্রশিক্ষণ প্রদানকালে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির কারণে গুজব দ্রুত ছড়ায়। জনগণ সত্য জানতে গণমাধ্যমের দিকে তাকায়। এই আস্থার মর্যাদা রক্ষার জন্য সাংবাদিকদের প্রতিটি সংবাদ যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা জরুরি। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সময়ে ভুল সংবাদ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। তাই নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চা করতে হবে।

চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বলেন, আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে চাই। ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিবেন এবং অনিয়ম বা জাল ভোটের ক্ষেত্রে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন আরও বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। তারা দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

দুই দিনের প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের হাতে পিআইবি’র পক্ষ থেকে সনদপত্র প্রদান করা হয়।




আলমডাঙ্গায় শরিফুজ্জামান শরিফের নির্বাচনী প্রচারণায় মানুষের ঢল

আলমডাঙ্গার ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের হাটবোয়ালিয়া হাটুভাঙ্গা আমতৈলপাড়া ২ নং ওয়ার্ড বিএনপি  এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর উদ্যোগে ধানের শীষ প্রতীকের এক বিশাল র‍্যালি ও গনমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। র‍্যালিটি হাঁটুভাঙ্গা ব্রীজ পাড়া এলাকা থেকে শুরু হয়ে হাটবোয়ালিয়া বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

র‍্যালি চলাকালে পুরো এলাকা ধানের শীষ প্রতীকের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। স্লোগানের মাধ্যমে তারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিএনপিকে বিজয়ী করার মধ্য দিয়েই এই অঞ্চলে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

র‍্যালিতে বিএনপি’র অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, যুবক ও বয়স্কসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

নারী ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। পুরো আয়োজন শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলেন, এই গণজোয়ার র‍্যালির মাধ্যমে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ আরও জোরদার হলো।

তারা আশা প্রকাশ করেন, জনগণের এই অভূতপূর্ব সাড়া আগামী দিনে নির্বাচনী মাঠে বড় প্রভাব ফেলবে।




কোটচাঁদপুরে বিপুল পরিমাণ অ্যালকোহলসহ আটক ১

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক বিশেষ অভিযানে ১৭৪ বোতল অবৈধ অ্যালকোহলসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন তালসার রোড এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় সহকারী উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ সেলিম রাজা’র নেতৃত্বে একটি চৌকস দল কোটচাঁদপুর থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। দুপুর অনুমান ২:০০ ঘটিকার সময় দলটি মেইন বাসস্ট্যান্ডের তালসার রোডস্থ ‘সোনালী হোমিও হল’ নামক একটি চেম্বারে তল্লাশি চালায়।

তল্লাশিকালে বড় কার্টুনের ভিতর লুকানো অবস্থায় ১৭৪ বোতল অ্যালকোহল উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বোতলের গায়ে ১০০ মিলি অ্যালকোহলের লেবেল যুক্ত ছিল। অবৈধভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব মাদক মজুত রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

অভিযান চলাকালীন মাদক কেনাবেচার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে ঘটনাস্থল থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি কোটচাঁদপুর আদর্শ পাড়ার আয়নাল হকের ছেলে মোঃ আমিরুল ইসলাম।

উদ্ধারকৃত আলামত: ১৭৪ বোতল অ্যালকোহল, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫২,০০০/- (বায়ান্ন হাজার) টাকা।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে উদ্ধারকৃত মাদকসহ কোটচাঁদপুর মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ২৪(খ) ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে (মামলা নং-০১, তারিখ-০৫/০২/২৬)।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঝিনাইদহ জেলাকে মাদকমুক্ত করতে এই ধরনের চিরুনি অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।




কোটচাঁদপুরে বাণিজ্যিকভাবে প্রথম ব্রোকলির চাষ

বাণিজ্যিকভাবে প্রথম ব্রোকলির চাষ হয়েছে কোটচাঁদপুরে। ব্রোকলি উচ্চ মূল্যের ক্যান্সার প্রতিরোধী একটি সবজি।

এছাড়া স্বল্প ব্যয়ে, কম সময়ে ভালো ফলন হয় সবজিটিতে। এ কারণে এই সবজি চাষ করে আগামীতে চাষিরা অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাশের গ্রামের সাবেক স্কুল শিক্ষক কলিম উদ্দিন বলেন, আমার ৭০ বছর জীবনে এমন কপির চাষ কোনো দিন দেখি নাই। এ কারণে খবর পেয়ে দেখতে এসেছি। জানতে পারলাম এ কপি অনেক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন।

ওই গ্রামের আয়না খাতুন বলেন, এমন কপির চাষ আগে কোনোদিন দেখিনি এ গ্রামে। তবে এ কপি দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও সুস্বাদু। আর অধিক পুষ্টি আছে বলে জানতে পেরেছি।

এর আগে এমন চাষ দেখেনি তহুরা খাতুনও। তিনি বলেন, কপির মতো দেখতে। তবে কপির তুলনায় খেতে বেশ স্বাধের এ সবজিটি।

চাষি মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, নতুন ফসলের চাষ করা আমার একটা শখ। আর এসব নতুন ফসলের ধারনা নিয়ে থাকি আমি ইউটিউব দেখে। এরপর চাষ করি। গেল বছর  আমার নতুন চাষ ছিল রঙ্গিন ফুলকপি। এর ধারাবাহিকতায় এ বছর আমি চাষ করেছি ব্রোকলির। এছাড়া এর পাশাপাশি আমার চাষ রয়েছে মালটা, আম, পেয়ারা ও কলার ।

তিনি বলেন, ব্রোকলি অন্যান্য চাষের তুলনায় একটু ভিন্ন ধর্মী ফসল। এটা অল্প সময়ে, কম টাকা ব্যয় করে  ফসল উৎপাদন করা যায়। লাভের পরিমাণ বেশি। তিনি ভুট্রার চাষের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, আমরা অনেকে ভূট্রার চাষ করে থাকি। যা এক বিঘা চাষ করতে ব্যয় হয় ২০/২২ হাজার টাকা। উৎপাদন খরচ বাদ দিলে লাভ হয় মাত্র ২০ হাজার টাকা। সেখানে এক বিঘা ব্রোকলি সর্বোচ্চ ব্যয় হয় ১০ হাজার টাকা। উৎপাদন খরচ বাদে লাভ হয় ৫০/৬০ হাজার টাকা। এছাড়া এ চাষ করতে লাগে না তেমন কোনো কীটনাশকের ব্যবহার।

মোস্তাক বলেন, ব্রোকলি একটি অতি পুষ্টি সম্বলিত সবজি। রয়েছে বাজারে বেশ চাহিদা। বিক্রি করতে পড়তে হয় না কোনো সমস্যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ব্রোকলি কপি জাতীয় সবজি। এটা যেমন কপির মতো তরকারি রান্না খাওয়া যায়। তেমনি খাওয়া যায় লুডুস ও সালাত হিসেবেও। এটা একটা উচ্চমূল্যের সবজি। ব্রোকলি ক্যান্সার প্রতিরোধী সবজি।

তিনি বলেন, এ সবজিটি মাত্র ৭০ দিনের মধ্যে বাজারজাত করা যায়। আর কম সময়ে চাষিরা ৮০/৯০ হাজার টাকা লাভবান হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, কোটচাঁদপুরে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ব্রোকলির চাষ মোস্তাক হোসেন নামের এক চাষি শিবনগর মাঠে। তুলনামূলক ভাবে ফুল কপি, বাধা কপির তুলনায় বেশ লাভ জনক চাষ। এ বছর কোটচাঁদপুরে ৯৯ হেক্টর জমিতে কপির চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বাঁধা কপি ৪৮ হেক্টর ও ৫১ হেক্টর জমিতে ফুল কপি রয়েছে।




গাংনীতে অবৈধ পথে আসা সাড়ে ৫শ কেজি জিরা উদ্ধার

মেহেরপুরের গাংনীতে অবৈধভাবে পাচার হয়ে আসা সাড়ে ৫শ কেজি জিরা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে গাংনী উপজেলার ব্রজপুর গ্রামের সড়ক থেকে বস্তাবোঝাই এসব জিরা উদ্ধার করে ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্প।

গাংনীর ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আব্দুল করিম জানান, ভারতীয় পণ্য পাচার হয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার রামনগর-ব্রজপুর সড়কে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ সময় সড়কে বস্তাবোঝাই করে আসা একটি শ্যালোইঞ্জিনচালিত আলগামন থামানো হয়। পরে গাড়িটির বস্তা খুলে বিপুল পরিমাণ জিরা উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত সাড়ে ৫শ কেজি জিরাসহ অবৈধ পণ্য বহনের দায়ে চালক ও গাড়িটি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মামলা শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




দামুড়হুদায় গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আমের সোনালি মুকুল

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় বসন্তের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে আমগাছগুলোতে দেখা মিলছে প্রচুর আমের মুকুল। মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত হয়ে উঠেছে দামুড়হুদা উপজেলার গ্রাম-গঞ্জ। মুকুল থেকে মৌমাছির মধু সংগ্রহের উৎসবে যেন মেতে উঠেছে প্রকৃতি।

উপজেলার সদরসহ সকল গ্রামের আমগাছগুলো এখন মুকুলে ভরপুর। গাছে গাছে উঁকি দিচ্ছে আমের সোনালি মুকুল। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে মুকুলের মিষ্টি সুবাস। মুকুল যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য ইতোমধ্যে বাগান মালিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান পরিচর্যায়।

চারদিকে শোনা যাচ্ছে কোকিলের মিষ্টি কুহু কুহু ডাক আর মৌমাছির গুনগুন শব্দ। মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ যেন জাদুর মতো কাছে টানছে ভ্রমরদের। গাছের প্রতিটি শাখা-প্রশাখায় চলছে ভ্রমরের সুরের ব্যঞ্জনা। বসন্তের স্নিগ্ধ আবহে শোভা ছড়াচ্ছে স্বর্ণালি মুকুল।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বাগানসহ অনেক বাড়ির উঠানেও আমগাছে শোভা পাচ্ছে মুকুল। বাতাসে মুকুলের সুবাসিত পাগল করা ঘ্রাণ। গাছের আমপাতার সবুজ বিছানায় মুকুলের সোনালি রেণু যেন ফাগুনকে ফুলশয্যায় সাজিয়ে তুলেছে। এর সঙ্গে সঙ্গে বিদায় নিচ্ছে শীতকাল।

তবে আমের ফলন অনেকটাই আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি বছর আমের ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন আমচাষিরা। বাগান মালিকরা জানান, আগাম মুকুল দেখে তারা অনেক খুশি। এই মুকুল টিকে থাকলে এবার বাম্পার ফলন পাওয়া যাবে। তবে ঘন কুয়াশা পড়লে মুকুল পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দামুড়হুদার জয়রামপুর মল্লিকপাড়ার আম ব্যবসায়ী কাওছার আলী বলেন, “গত বছর ১২ বিঘা জমিতে আমার আম বাগান ছিল। ঝড়ের কারণে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল, এতে আমি বড় অঙ্কের লোকসানে পড়ি। এ বছর সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ৬ দাগে মোট ১৭ বিঘা জমিতে আম বাগান নিয়েছি। বর্তমানে আমগাছে যেন কোনো পোকার আক্রমণ না হয় বা মুকুল নষ্ট না হয়, সে জন্য নিয়মিত ওষুধ প্রয়োগ করে পরিচর্যা করছি। মুকুলের পরিমাণ মোটামুটি ভালো আছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে লাভবান হতে পারব।”

দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, “আমরা সব সময় আমচাষিদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে আসছি। প্রয়োজনে সব সময় তাদের পাশে আছি। চলতি বছর উপজেলায় ৭৯৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে।”




হারিণাকুণ্ডুতে নিখোঁজের ১২ ঘন্টা পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নে নিখোঁজের ১২ ঘন্টা পর জসিম উদ্দিন (৩০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে উপজেলার টেংরাখালির মাঠের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত জসিম উদ্দিন দৌলতপুর গ্রামের মোক্তার আলীর ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরের দিকে ঘাস কাটার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন জসিম উদ্দিন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

ওই দিন রাত পোনে ১২টার দিকে টেংরাখালির মাঠের একটি ভুট্টাক্ষেতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতের প্রতিবেশী জহিরুল ইসলাম জহির জানান, মরদেহের গলায় ফাঁসের দাগ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, তাকে মারধর করে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকান্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত জানা যাবে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান।




হরিণাকুণ্ডুতে সরকারী কর্মচারীদের মানববন্ধন

বৈষম্যহীন ৯ম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন ও বাস্তবায়নের দাবীতে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে সরকারী কর্মচারীদের মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রয়ারি) সকালে উপজেলার দোয়েল চত্বরে বাংলাদেশ কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচী পালন করা হয়।

এতে সংগঠনটির উপজেলা শাখার সভাপতি মীর জাহাঙ্গীর হোসেন, সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইমদাদুল হকসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

সেসময় বক্তারা জাতীয় নির্বাচনের আগেই পে-স্কেল ঘোষণা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। দ্রুত দাবী মানা না হলে কর্ম বিরতিসহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসুচী পালনের ঘোষণার হুশিয়ারি দেন বক্তারা।