দেশীয় কোম্পানির ট্যাংকারে উপচে পড়ছে পেট্রোল-অকটেন, নিচ্ছে না সরকার

দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিতরণ নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। দেশীয় কোম্পানিগুলোর ট্যাংকারে পেট্রোল ও অকটেন উপচে পড়লেও তা গ্রহণ করছে না সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। ফলে একদিকে পাম্পে দীর্ঘ লাইন, অন্যদিকে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে তেল জমে থাকার দ্বৈত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে পেট্রোল ও অকটেনের মোট চাহিদার প্রায় ৭৫ শতাংশ পূরণ করে স্থানীয় পাঁচটি প্রতিষ্ঠান—এর মধ্যে চারটি বেসরকারি ও একটি সরকারি। প্রতি মাসে দেশে প্রায় ৭৫ হাজার টন পেট্রোল ও অকটেনের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ সরবরাহ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি, যা দেশের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী।

তবে অভিযোগ উঠেছে, বিপিসি গত ৮ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটিকে চিঠি দিয়ে তাদের কাছ থেকে তেল গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এতে করে প্রতিষ্ঠানটির ট্যাংকারগুলো এখন উপচে পড়ার মতো অবস্থায় রয়েছে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও হুমকির মুখে পড়েছে।

মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন পাম্পে ১ থেকে ২ কিলোমিটার পর্যন্ত লাইন তৈরি হওয়া এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একাধিক বৈঠক করেছেন। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন এবং জ্বালানি খাতে কোনো অব্যবস্থাপনা রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশও দিয়েছেন।

এদিকে দেশে অকটেন মজুতের সক্ষমতা ৫৩ হাজার টন হলেও বর্তমানে মজুত রয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার টন। এর মধ্যেই ১০ এপ্রিল ৩৭ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ আসায় বিপিসি আরও চাপের মধ্যে পড়েছে বলে জানা গেছে।

সুপার পেট্রোকেমিক্যালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণব কুমার সাহা ১৬ এপ্রিল বিপিসির চেয়ারম্যানকে পাঠানো এক চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। যুগান্তর তিনি জানান, ৫ এপ্রিলের বৈঠকে এপ্রিলে ৩৭ হাজার টন পেট্রোল-অকটেন এবং ৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের জন্য তাদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল। সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও নেওয়া হয়। কিন্তু ৮ এপ্রিল থেকে বিতরণ কোম্পানিগুলো তেল নেওয়া বন্ধ করে দেয়।

তিনি আরও বলেন, ফেব্রুয়ারিতে একটি জাহাজ আসার পরও বিপিসি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তেল গ্রহণ করেনি, যার ফলে মার্চে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছিল। ২০ এপ্রিল কাঁচামাল নিয়ে আরেকটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে, কিন্তু ট্যাংক খালি না হলে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে।

অন্যদিকে, মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহীরুল হাসান বলেন, অকটেন সংরক্ষণের আর জায়গা নেই। তাই বেসরকারি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে অল্প অল্প করে তেল নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা—এই তিনটি বিতরণ কোম্পানি দৈনিক গড়ে ১২ হাজার ৭৭৭ টন ডিজেল, ১ হাজার ৪৯৬ টন পেট্রোল এবং ১ হাজার ১৯৩ টন অকটেন সরবরাহ করছে। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর ৮ মার্চ থেকে সরকার তেল সরবরাহে রেশনিং চালু করে। পরে ঈদের আগে সেই রেশনিং তুলে নেওয়া হলেও সরবরাহ সীমিত রাখার নির্দেশনা বহাল থাকে।

সরকারি কর্মকর্তারা মনে করছেন, সরবরাহ সীমিত থাকার কারণে বাজারে আতঙ্ক ও মজুতদারির প্রবণতা বেড়েছে, যার ফলে পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। তবে দেশীয় উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও তা গ্রহণ না করার কারণে বিপিসির অবস্থান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

 

সূত্র: যুগান্তর




লিবিয়া উপকূলে বাংলাদেশিসহ ১৭ অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের স্বপ্ন দেখা ১৭ জন অভিবাসীর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে লিবিয়ার উপকূল থেকে। লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির পশ্চিমে অবস্থিত জুয়ারা উপকূল থেকে গত কয়েক দিনে এই মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে স্থানীয় চিকিৎসকদের একটি দল নিশ্চিত করেছে।

লিবিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ইমার্জেন্সি মেডিসিন অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টার জানিয়েছে, ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১১৭ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই উপকূলীয় অঞ্চল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকারী সংস্থাটি তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে উদ্ধার অভিযানের কিছু ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিতে দেখা যায় যে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মরদেহগুলো সাদা প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে অ্যাম্বুলেন্সে তুলছেন।

উদ্ধারকৃত ১৭ জনের মধ্যে ১৪ জনের মরদেহ ইতিমধ্যেই যথাযথ ধর্মীয় ও আইনি নিয়মে দাফন করা হয়েছে। এর মধ্যে শনাক্ত হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ ত্রিপোলিতে অবস্থানরত তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে বাকি দুইজন মরদেহের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। লিবিয়ার স্থানীয় কর্মকর্তারা এই বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করছেন যাতে নিহতদের সঠিক পরিচয় এবং তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা যায়। সাধারণত ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় নৌকাডুবি কিংবা সাহারা মরুভূমি পাড়ি দেওয়ার সময় তীব্র পানি ও খাদ্য সংকটে অভিবাসীদের এমন মৃত্যু ঘটে।

২০১১ সালে নেটো সমর্থিত বিদ্রোহের মাধ্যমে তৎকালীন শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই লিবিয়া ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার অন্যতম প্রধান ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যুদ্ধ দারিদ্র্য এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা থেকে বাঁচার আশায় আফ্রিকা এবং এশিয়ার হাজার হাজার মানুষ নিজেদের জীবন বাজি রেখে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।

সূত্র: আর টিভি




জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ল

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশের ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার।শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন মূল্য আগামীকাল রবিবার থেকে কার্যকর হবে।

নতুন নির্ধারিত দরে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা হয়েছে, যা ১৫ টাকা বৃদ্ধি।

কেরোসিনের দাম ১১২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে—এ ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ১৮ টাকা। অকটেনের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে; লিটারপ্রতি ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকায় উন্নীত হয়েছে, অর্থাৎ ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে পেট্রলের দাম ১১৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে, যা লিটারপ্রতি ১৯ টাকা বেশি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতার প্রভাব এ সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়বে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে। পরিবহন খরচ বাড়ার ফলে পণ্য পরিবহনে ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দামে প্রভাব ফেলবে। এছাড়া কৃষিখাতে সেচ ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যেতে পারে, ফলে খাদ্যপণ্যের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও এ কারণে আরো বেড়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা জনগণের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধি নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব না দিলে ভবিষ্যতে এমন চাপ আরো বাড়তে পারে।

সূত্র: কালের কন্ঠ।




দামুড়হুদা ও দর্শনায় ৬ ঘন্টার ব্যবধানে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় মাত্র ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। পৃথক দুই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৪ বছরের শিশু রুফাইয়িত হোসেন ও ৯ মাস বয়সী শিশু আনিসা।

শনিবার সকালে ও দুপুরে উপজেলার নাটুদা ও কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের দর্শনা থানা এলাকায় এই হৃদয়বিদারক দুটি ঘটনা ঘটে। একদিনে দুই শিশুর মৃত্যুতে ঐ এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

জানা গেছে, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নাটুদা ইউনিয়নের বোয়ালমারি গ্রামে নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে মারা যায় রুফাইয়িত হোসেন (৪)। সে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের ঢোলমারি গ্রামের আসমান আলীর ছেলে।

স্বজনরা জানান, মায়ের সঙ্গে নানা আবুল কাশেমের বাড়িতে বেড়াতে আসে রুফাইয়িত। সকালে বাড়ির পাশে খেলাধুলা করতে করতে একপর্যায়ে সবার অগোচরে পাশের পুকুরে পড়ে যায় সে। অনেক খোজাখুজির পর এক পর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম নেমে আসে।

এর কয়েক ঘণ্টা পর দুপুরে দর্শনা থানার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের চন্ডিপুর খামারীপাড়ায় ঘটে আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। আনোয়ার হোসেনের ৯ মাস বয়সী শিশু কন্যা আনিসা অসাবধানতাবশত বাড়ির পাশের একটি পানিভর্তি গর্তে পড়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে উদ্ধার করলেও তাকে আর বাচানো সম্ভব হয়নি।

একই দিনে ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই শিশুর এমন করুণ মৃত্যুতে হতবাক স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্য, সামান্য অসতর্কতা আর নজরদারির ঘাটতিই কেড়ে নিল দুটি নিষ্পাপ প্রাণ। এ ঘটনায় দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।

দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মেজবাহ উদ্দিন জানান, একটি ঘটনায় স্বজনদের কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্য ঘটনাতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।




দর্শনায় ৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ বৃদ্ধা আটক

দর্শনা থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় দর্শনা পৌরসভার রেলকলোনী (মোবারকপাড়া) এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়।

আটককৃত মাদক কারবারি হলেন- দর্শনা পৌরসভার মোবারকপাড়া মৃত মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে নুরু হোসেন (৬২)।

পুলিশ জানায়, দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মেহেদী হাসানের তত্ত্বাবধানে থানা পুলিশের একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রেলকলোনী মোবারক পাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

এসময় নুরু হোসেন বাসায় অভিযান চালিয়ে বাসা তল্লাশি করে ৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে উপস্থিত জনসাধারণ ও সাক্ষীদের সামনে বিধি মোতাবেক জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে আলামত জব্দ করা হয়। পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনায় আটককৃতের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দর্শনা থানায় মামলা হয়েছে।

দর্শনা থানা পুলিশের এই সফল অভিযানে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।




কুষ্টিয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ২০

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার সকালে সদর উপজেলার উজানগ্রাম ও গজনবীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের সময় কমপক্ষে ৩০টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার উজানগ্রাম ও গজনবীপুরসহ ছয়টি গ্রাম মিলিয়ে দুটি গোষ্ঠী রয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রথমে গজনবীপুর এলাকায় সংঘর্ষ হয়। পর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে উজানগ্রাম এলাকায়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। এ সময় দুই গ্রামের কমপক্ষে ৩০টি বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা জানান, এলাকায় গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে উভয় পক্ষের কেউ এখনো থানায় মামলা করেনি। মামলা করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




খুলনায় চিকিৎসক হয়রানির প্রতিবাদে ঝিনাইদহে বিক্ষোভ সমাবেশ

খুলনার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম বাবলুকে হয়রানির প্রতিবাদে ঝিনাইদহে চিকিৎসকদের বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের সামনে এ কর্মসূচীর আয়োজন করে ডক্টরস্ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।

এতে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে ড্যাবের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সদর হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকসহ অন্যান্যরা অংশ নেয়।

ঘন্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচীতে ড্যাবের সদস্য ডা: আব্দুল খালেক, ডা: আনোয়ারুল ইসলাম, ডা: জাকির হোসেন, ডা: শাহিন ঢালী, ডা: আরাফাত রহমান, ডা: হামিদুর রহমান বেলাল, ডা: তন্দ্রা, ডা: তারিন শুভসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

কর্মসূচী থেকে বক্তারা, চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম বাবলু হয়রানির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।

গত ১৩ এপ্রিল খুলনার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর লবী’র উপস্থিতিতে স্থানীয় কিছু নেতা ডাক্তার বাবলুকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে। একই সাথে হাসপাতালের ট্রাস্ট্রি বোর্ডের চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করতে চাপ প্রয়োগ করে বলে অভিযোগ করা হয়।




কুষ্টিয়ায় আটক ২১ জামায়াত কর্মী-সমর্থককে আদালতে প্রেরণ

কুষ্টিয়ার মিরপুরে শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় আটক জামায়াতে ইসলামীর ২১ জন কর্মী-সমর্থককে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে মিরপুর থানা হাজত থেকে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার আমলা ইউনিয়নের বুরাপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, আটক ২১ জনকে শনিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার মিরপুর উপজেলার বুরাপাড়া গ্রামে দুই শিশুর মধ্যে খেলাধুলা নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এক শিশুর অভিভাবক অপর পক্ষের কাছে জানতে চাইলে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষরা ওই অভিভাবকের ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। আহত ব্যক্তিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় মামলা হলে ২১ জনকে আটক করে পুলিশ।




কুষ্টিয়ায় পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার, বাস চলাচল শুরু

কুষ্টিয়ায় দাবি আদায়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকা বাস চলাচল আবার শুরু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ১টায় কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মালিক ও শ্রমিক নেতাদের মধ্যে বৈঠকে সমঝোতা হওয়ায় স্থানীয় রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সমঝোতার পর কুষ্টিয়া-মেহেরপুর, কুষ্টিয়া-প্রাগপুর, কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া-খুলনা-যশোর, কুষ্টিয়া-বরিশাল, কুষ্টিয়া-রাজশাহী, কুষ্টিয়া-পাবনা-সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল শুরু হয়েছে।

কুষ্টিয়া জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাহাবুল আলম জানান, সকাল ১১টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে শ্রমিকদের দাবি উপস্থাপন করা হয়। পরে দুপুর ১টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়।

কুষ্টিয়া জেলা বাস মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, শ্রমিক সংগঠনের নেতারা তাদের দাবির কথা জানান। দাবি পূরণ না হওয়ায় শুক্রবার থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ ছিল। আজ বৈঠকে সমঝোতা হওয়ায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার ভোর থেকে কুষ্টিয়ার অভ্যন্তরীণ সব রুটে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সঙ্গে কুষ্টিয়া-খুলনা-যশোর রুটে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের বাসও বন্ধ ছিল। গত ১৫ এপ্রিলের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার আল্টিমেটাম দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু হয়। পরে মালিক সমিতির শ্রমিকরাও এতে একাত্মতা প্রকাশ করে বাস চলাচল বন্ধ রাখেন।

শ্রমিকদের দাবির মধ্যে ছিল পরিবহন সংশ্লিষ্ট মালিকদের মতো শ্রমিকদেরও সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং শ্রমিক সংগঠনের নামে কুষ্টিয়া-খুলনা রুটে একটি বাস চলাচলের অনুমোদন।




গাংনীতে সাপের কামড়ে এক কৃষক মৃত্যু

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় বিষধর সাপের কামড়ে রুহুল আমিন (৫৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মটমুড়া মন্ডলপাড়া গ্রামের বাড়ির সামনে মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রুহুল আমিন একই গ্রামের আনছার মন্ডলের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় রাতের দিকে বাড়ির পাশে মাঠে বাতাস খেতে যান রুহুল আমিন। এ সময় একটি সাপ তাকে কামড় দেয়। কিছুক্ষণ পর তিনি বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান।

নিহতের ভাই জিয়াউর রহমান বলেন, “ভাইকে সাপে কামড় দেওয়ার পর আমরা স্থানীয় এক ওঝাকে ডাকি। তিনি প্রায় দেড় ঘণ্টা ঝাড়ফুঁক করে বলেন, কোনো বিষ নেই, নির্বিষ সাপ কামড় দিয়েছে। কিন্তু রাতের দিকে ভাইয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।”

তিনি আরও জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই রুহুল আমিনের মৃত্যু হয়।

গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) মামুন জানান, সাপের কামড়ে আহত রুহুল আমিন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বর্তমানে তার মরদেহ কুষ্টিয়ায় রয়েছে।