কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দুষ্কৃতকারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে গুলিবিদ্ধ ১০
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গভীর রাতে দুষ্কৃতকারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম (৩৬) মরিচা ইউনিয়নের মো. হাফেজ প্রামাণিকের (৭০) ছেলে। গুলিবিদ্ধ অন্যরা হলেন— সোহেল রানা (৪৫), তার স্ত্রী তমা খাতুন (২৬), কামরুল ইসলাম (৩৭), মুন্নি (২৪), রুনা খাতুন (২৭), মিতা খাতুন (৩০), তৌহিদুল ইসলাম (৩০) এবং তার স্ত্রী মেরিনা (২৫)।
এদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে একদল মুখোশধারী দুষ্কৃতকারী স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রবিউল ইসলামকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে দুষ্কৃতকারীরা ব্রাশফায়ার ও শটগান দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে নারী-পুরুষসহ ১০ জন গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনার পেছনে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিরোধ থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মেহেরপুরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু, ১৬ কেন্দ্রে অংশ নিচ্ছে ৮৩১৩ পরীক্ষার্থী
সারা দেশের ন্যায় আজ মঙ্গলবার মেহেরপুরেও শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি, দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষা একযোগে শুরু হয়েছে।
এবার মেহেরপুর জেলার তিনটি উপজেলার ১৬টি কেন্দ্রে মোট ৮ হাজার ৩১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে এসএসসি (জেনারেল) শাখায় ৬ হাজার ২০৬ জন, দাখিলে ১ হাজার ২৩৭ জন এবং ভোকেশনাল শাখায় ৮৭০ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।
জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রভিত্তিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো-মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৮৮ জন, মেহেরপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ৭৫৩ জন, আমঝুপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৪৫৩ জন, গাংনী পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে ৪৫৭ জন, বামুন্দী নিশিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৬৫৬ জন, গাংনী সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ৬৫৯ জন, বামুন্দী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ৪৬৮ জন, বেতবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৫৮৪ জন, রায়পুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৪৭২ জন, মুজিবনগর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৪৮৮ জন, দারিয়াপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২৮৮ জন, মেহেরপুর দারুল উলুম আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৪৭২ জন, গাংনী সিদ্দিকিয়া সিনিয়র মাদ্রাসায় ৭৬৫ জন, মেহেরপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩৭১ জন, দাঙ্গী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে (ভেন্যু: সন্ধানী স্কুল অ্যান্ড কলেজ) ২৪৮ জন এবং মুজিবনগর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২৫১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
দর্শনায় গাঁজা বিক্রেতার ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১ বছরের কারাদণ্ড
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানাধীন এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে গাঁজা সেবন ও সংরক্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক বদরুল ইসলাম ও রাকিবুল ইসলাম রাসেলের তত্ত্বাবধানে একটি রেইডিং টিম দর্শনা পৌরসভার শান্তিপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে আরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে ১০০ গ্রাম গাঁজা সেবন ও সংরক্ষণের অভিযোগে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। তিনি দর্শনা পৌরসভার শান্তিপাড়া (৪নং ওয়ার্ড) এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত শওকত ইসলামের ছেলে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহিন আলম। তিনি ঘটনাস্থলেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করে আসামিকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
পরে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
এ বিষয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহিন আলম বলেন, “মাদক সমাজের জন্য একটি মারাত্মক অভিশাপ। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যারা মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাদক নির্মূলে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে।
দামুড়হুদার জুড়ানপুরে অবৈধ ডিজেল জব্দ, ৫ হাজার টাকা জরিমানা
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর গ্রামের ক্লাব মোড় এলাকায় একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০০ লিটার ডিজেল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে পেট্রোলিয়াম আইনে দোকান মালিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন এ অভিযান পরিচালনা করে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জুড়ানপুর ক্লাব মোড় এলাকায় অবস্থিত মানিক স্টোরে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালানো হয়। এ সময় দোকান থেকে প্রায় ৩০০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়।
মানিক স্টোরের মালিক মানিক, জুড়ানপুর গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে। এ ঘটনায় পেট্রোলিয়াম আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহিন আলম। তিনি জানান, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও বিক্রির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের মতে, এ অভিযানের ফলে এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
মেহেরপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের নবাগত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মতবিনিময়
মেহেরপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নবাগত জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শিল্পী রানী রায়ের সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হল রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ খায়রুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শিল্পী রানী রায়।
মতবিনিময় সভায় উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, জুলাই যোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, ধর্মীয় নেতা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, মাদক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি, যা সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি মাদক নির্মূলে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে প্রশাসন একা নয়, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ খায়রুল ইসলাম বলেন, “ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। গুজব, ভুয়া তথ্য এবং অনলাইন আসক্তি থেকে দূরে থাকতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”
সভায় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন বিষয়ক মতামত তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক উপস্থিত সবার বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
মেহেরপুর কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
মেহেরপুর কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরিকুল ইসলাম ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পার্থপ্রতিম শীল।
মেহেরপুর কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিসেস রেহানা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খন্দকার বদরুদ্দোজা (শান্ত), শিক্ষিকা সেলিনা আফরোজা, নাজমা আক্তার, ফাতেমা খাতুন, শাহানা আক্তার, বিথী খাতুন, শাহিনা আফরোজ, রওশন আরা সহ শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ী কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। প্রধান অতিথি শিল্পী রানী রায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।
সভাপতি রেহানা ইয়াসমিন অনুষ্ঠান সফল করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে বিদ্যালয়ের এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে বলে জানা গেছে।
সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ দম্পত্তির আয়কর নথি জব্দ
সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ও তার স্ত্রী সৈয়দা মোনালিসা ইসলাম এবং বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এটিএম বিভাগের কার্টোগ্রাফার মো. আব্দুস সোবহানের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুর্নীতি দমন কমিশনের পৃথক তিনটি আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো সাব্বির ফয়েজের আদালত এই আদেশ দেন।
সাবেক সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন ও তার স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দ চেয়ে আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম। এছাড়া আব্দুস সোবহানের আয়কর নথি জব্দের আবেদন করেন সহকারী পরিচালক মো. মাহবুব মোর্শেদ।
ফরহাদ হোসেনের আয়কর নথি জব্দের আবেদনে বলা হয়, আসামির বিরুদ্ধে অসাধু উপায়ে অর্জিত এবং অসৎ উদ্দেশ্যে নিজ স্বার্থে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য সরকারের দায়িত্বশীল পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ এক কোটি ১১ লাখ ৮৬ হাজার ২৫২ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রাখার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া তার নিজ নামে ১২টি ব্যাংক হিসাবে মোট জমার পরিমাণ ৬ কোটি ৫৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭১ টাকা ও মোট উত্তোলনের পরিমাণ ৬ কোটি ৩৫ লাখ ৬৮ হাজার ৯৯৬ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার মূল আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র/তথ্যাদি জব্দ করা একান্ত প্রয়োজন।
ফরহাদ হোসেনের স্ত্রী মোনালিসা ইসলামের আয়কর নথি জব্দের আবেদনে বলা হয়, তাদের বিরুদ্ধে একে অপরের সহযোগিতায় অসৎ উদ্দেশ্যে নিজ স্বার্থে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য তার স্বামী ফরহাদ হোসেনের ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রভাব ও আর্থিক সহায়তায় জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৯৪ কোটি ৫ লাখ ৯৩২ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রাখার অভিযোগ রয়েছে।
এ অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং দণ্ডবিধি শাস্তিযোগ্য অপরাধে মামলা করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি সৈয়দা মোনালিসা ইসলামের নামীয় মূল আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র/তথ্যাদি জব্দ করা প্রয়োজন।
আব্দুস সোবহানের আয়কর নথি জব্দের আবেদনে বলা হয়, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত এক কোটি ১০ লাখ ২৪০ টাকা ৮৯ পয়সা মূল্যের সম্পদ অর্জন করে তা দখলে রাখা এবং ৫৯ লাখ ৯০ হাজার ১৫৫ টাকা ৮৯ পয়সা মূল্যের সম্পদের তথ্য অসৎ উদ্দেশ্যে গোপন করার অভিযগে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মো. আব্দুস সোবহানের নামে পরিচালিত আয়কর নথি জব্দ করা একান্ত প্রয়োজন।
সূত্র: কালবেলা।
মেহেরপুরে কোচিং সেন্টার ও ফটোকপি দোকান বন্ধের নির্দেশ
এসএসসি, দাখিল, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে মেহেরপুরে বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এসব পরীক্ষার দিনগুলোতে প্রতিদিন পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে থেকে পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত সকল পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশে অবস্থিত ফটোকপির দোকান বন্ধ রাখতে হবে। একই সঙ্গে জেলার সকল কোচিং সেন্টারও এই সময়ের মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনা ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।
আলমডাঙ্গায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ৪ জন গ্রেফতার
আলমডাঙ্গায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে ১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
গতকাল রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করে।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন আলমডাঙ্গা উপজেলার গোবিন্দপুর মণ্ডলপাড়া গ্রামের মৃত আক্কাস আলীর ছেলে মুরাদ (৩৫), একই গ্রামের সোহরাব উদ্দিনের ছেলে সাহাদৎ (৩৫), মৃত আনছার আলীর ছেলে শুকুর আলী (৫০) এবং স্টেশনপাড়া এলাকার রেজাউলের ছেলে রবিউল (৩০)।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৪ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে গাঁজা সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগে প্রত্যেককে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লাহ আল শামীম।