দর্শনায় ২৩ বোতল মাদকসহ গ্রেফতার ২

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ২৩ বোতল কোডিন ফসফেট যুক্ত  WINCERE নামীয় সিরাপ সহ মিলন উদ্দিন (৪১) ও আব্দুল মান্নান(৪০) কে আটক করে চুয়াডাঙ্গা জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।  

আজ সোমবার সকাল ৭ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আটকৃত মিলন উদ্দিন দর্শনা থানার আকন্দবাড়িয়া গ্রামের মুজিবর রহমানের ছেলে ও মান্নান দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা জয়নগর সীমান্তবর্তী গ্রামের  চান্দু মাস্টারের এবং দর্শনা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলরের ছেলে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খানের নির্দেশে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার দর্শনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থানরত মিলনের চায়ের দোকান তল্লাশি করে ২৩ বোতল মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। ওই সময় দোকানের মালিক মিলন উদ্দিন ও আব্দুল মান্নান কে আটক করা হয়। 

দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ব্যাপারে থানায় একটি মাদকদ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে।




দর্শনায় নিখোঁজের একদিন পর নর্দমা থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার 

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় নিখোঁজের একদিন পর নর্দমা থেকে উদ্ধার হলো মাহিন (৫) নামে এক শিশুর মরদেহ। আজ সোমবার সকাল ৭ টার দিকে দামুড়হুদা  উপজেলার পারকৃষ্ণপুর মদনা  ইউনিয়নের সাড়াবাড়িয়া  গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সে ওই গ্রামের মামুন আলীর ছেলে। 

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ইউনুস আলী জানান, রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুর থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছিলো না। 

আজ সোমবার সকালে বাড়ির পাশের নর্দমায় পানিতে মাহিনকে ভাসতে দেখা যায়। পরে পরিবারের লোকজন নর্দমা থেকে মাহিনের মরদেহ উদ্ধার করে। 

এ ঘটনায় দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,আমরা পুলিশ পাঠেয়েছি ঘটনা তদন্ত পৃর্বক ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।




মেহেরপুরে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মেহেরপুর সদর উপজেলার শোলমারি গ্রামে তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় আসামি রিগান হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

আজ সোমবার দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আসামীর ২ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত রিগান হোসেন সদর উপজেলার তেরোঘরিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১০ মার্চ শোলমারি গ্রামে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশু পার্শ্ববর্তী তেরোঘরিয়া গ্রামে তার নানাবাড়িতে বেড়াতে যায়। ১৫ মার্চ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শিশুটি নানাবাড়ির পাশে খেলছিল। এ সময় রিগান হোসেন তাকে চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দোকানঘরের ভেতরে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনার পর শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে আসামি পালিয়ে যায়। পরে রিগানের মা ছকিনা খাতুন রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে নানাবাড়িতে রেখে যান। জ্ঞান ফিরে পেলে শিশুটি ঘটনাটি জানায়। পরে তাকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ায় পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় মেহেরপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মামলায় ১৭ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। বিচার চলাকালে আসামি দোষ স্বীকার করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে নারী শিশু নির্যাতন দম ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পি পি) মোস্তাফিজুর রহমান এবং আসামী পক্ষে পল্লব ভট্টাচার্য ও ইব্রাহিম শাহীন আইনজীবীর দায়িত্ব পালন করেন।




জীবননগরে তেল পাম্পে বিশৃঙ্খলার অপরাধে এক যুবকের কারাদণ্ড 

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের জীবননগর ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নিতে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে এক যুবককে কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে জীবননগর উপজেলা শহরের জীবননগর ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

সাজাপ্রাপ্ত যুবক হলেন- মহেশপুর উপজেলার তেলটুপি গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সিফাত হোসেন (২০)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, সকালে সিফাত হোসেন নামের এক যুবক জীবননগর ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসেন। ওই সময় সে পাম্পে অহেতুক বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করেন। এ সময় উপস্থিত জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে অশোভন আচারণ করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জমির উদ্দিন ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

ওই সময় আটক যুবকের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় তাকে ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করন। পরবর্তীতে আদালতের আদেশ অনুযায়ী সোমবার দুপুরে সাজাপ্রাপ্ত যুবককে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জনস্বার্থে ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।




দর্শনায় ১০টি স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক

দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলবন্দর থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের ১০টি স্বর্ণের বারসহ এক পাচারকারীকে আটক করেছে বিজিবি। উদ্ধার করা স্বর্ণের বারের মোট ওজন ১ কেজি ১৬৬ গ্রাম, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলস্টেশনে অভিযান চালিয়ে স্বর্ণের বারগুলো আটক ব্যক্তির কোমর থেকে উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তি আলমগীর খান (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ-রূপা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। তিনি দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা মোবারকপাড়ার মৃত বাদল খানের ছেলে।

চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, অবৈধভাবে ভারতে স্বর্ণ পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি দল দর্শনা রেলস্টেশনে অবস্থান নেয়। এ সময় এক ব্যক্তি ভারতের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া করে তাকে আটক করে।

পরে তার দেহ তল্লাশি করে কোমরে খাকি স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় দুটি পোটলা উদ্ধার করা হয়। ওই পোটলা থেকে ১০টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হবে এবং উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বারগুলো চুয়াডাঙ্গা ট্রেজারি অফিসে জমা রাখা হবে।




আলমডাঙ্গার অনুপনগরে ৮ শিক্ষার্থীকে পিটালেন প্রধান শিক্ষক

আলমডাঙ্গার অনুপনগরে আরশোলা দেখে চিৎকার করার অপরাধে ক্ষোভে অন্তত ৮ শিক্ষার্থীকে পিটিয়েছেন এক প্রধান শিক্ষক। এ ঘটনার বিচার দাবিতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে।

আলমডাঙ্গা উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার বাড়াদি ইউনিয়নের অনুপনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা। এ ঘটনায় গভীর রাত পর্যন্ত ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবার বিচারের দাবিতে অবস্থান নেয়।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবার জানায়, গত ১১ এপ্রিল সকালে পঞ্চম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী স্কুলে যায়। স্কুল শুরু হওয়ার আগেই শ্রেণিকক্ষে তেলাপোকা দেখে ভয়ে চিৎকার করে তারা। এতে প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে অন্তত আটজন শিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয় বলে জানান অভিভাবকেরা।

ঘটনাটি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা বলেন, ছোট শিশুদের পড়াশোনার জন্য বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়, কিন্তু সেখানে এমন শারীরিক শাস্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের আমি নিজের সন্তানের মতো দেখি। শাসন করতে গিয়ে বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।”

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, তিনি আগে বিষয়টি জানতেন না। পরে অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তদন্তের জন্য সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বকতিয়ার উদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তবে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বকতিয়ার উদ্দিন বলেন, তিনি এখনো বিষয়টি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




দামুড়হুদায় যুবদল নেতা মাহফুজুর রহমান মিল্টনের জানাজা সম্পন্ন

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মাহফুজুর রহমান মিল্টনের প্রথম জানাজা ব্যাপক শোক ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকাল ৯টায় দামুড়হুদা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় উপস্থিত থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি ও বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান (বাবু) গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, মিল্টনের মতো ভালো ও গুণী কর্মীদের জন্য বারবার রাজনীতির মাঠে ফিরে আসতে মন চায়। পরে সকাল ১০টায় জনপ্রিয় এই যুবনেতার নিজ গ্রাম পাটাচুরায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমের দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি বলেন, “মাহফুজুর রহমান মিল্টন ছিলেন একজন সৎ, মৃদুভাষী ও গুণী মানুষ। তাঁর মৃত্যুতে দলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।”

জানাজায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ হাসান মিল্টন, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উবায়দুর রহমান সাহেল, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, যুগ্ম সম্পাদক মন্টু মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক আবুল হাসেম, জেলা যুবদলের সভাপতি শরিফুজ্জামান সিজার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান ঝন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব খান, দামুড়হুদা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান বাচ্চু, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আরিফ ও সোহেল রানা, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাজাহান খানসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ দলীয় নেতাকর্মী, আত্মীয়-স্বজন ও সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মিল্টনের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




দর্শনায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদককে ফুলেল শুভেচ্ছা

দর্শনা ও আশপাশ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন কমিটির পক্ষ থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক উত্তম রঞ্জন দেবনাথকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

রবিবার রাত ৮টার দিকে দর্শনা রেলবাজারের মনোরঞ্জন মার্কেটের একটি কার্যালয়ে এ ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদককে শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দর্শনা জুয়েলারি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অনন্ত সান্তারা, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ দর্শনা পৌর শাখার সভাপতি সমীর কুমার সরকার, একই সংগঠনের আহ্বায়ক অজয় কুমার লোধ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ দর্শনা পৌর শাখার সদস্যসচিব অবনী সান্তারা, বাংলাদেশ পূজা ঐক্য ফ্রন্টের আহ্বায়ক অরুণ হালদার ও সদস্যসচিব শান্ত অধিকারী।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পুরাতন বাজার মন্দির কমিটির আহ্বায়ক স্বরূপ দাস ও সদস্যসচিব মিল্টন কুমার সাহা, দামুড়হুদা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সঞ্জয় হালদার ও শোভন দাসসহ নারায়ণ সরকার, লিটন দাস, দীপেন ঘোষ, শ্রভ্র লোধ, সঞ্জয় চক্রবর্তী, বিকাশ মজুমদার, সমরেশ, প্রণয়, শুভ, হৃদয়সহ হিন্দু সম্প্রদায়ের আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক উত্তম রঞ্জন দেবনাথের সফলতা কামনা করেন এবং তার নেতৃত্বে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।




আলমডাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় একজন আহত

আলমডাঙ্গা বাবুপাড়ার মরহুম হিলু মিয়ার ছেলে সুষম সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ায় রেফার করা হয়েছে।

গত শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ব্যক্তিগত কাজে চুয়াডাঙ্গা থেকে ফেরার পথে আলমডাঙ্গার হক ফিলিং স্টেশনের অদূরে তার জিপ গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ সময় সুষম গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আলমডাঙ্গার একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।

চিকিৎসক জানান, তার পায়ে প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা তাকে ভোরের দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, তার কোমরের হাড় ভেঙে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।




দামুড়হুদায় পুত্রবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে শ্বশুর গ্রেফতার

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় ছেলে বিদেশে থাকার সুযোগে পুত্রবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক শ্বশুরকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি উপজেলার জুড়ানপুর পশ্চিমপাড়ার মৃত খেদের বিশ্বাসের ছেলে রহিদুল ইসলাম (৫০)।

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার নিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী পুত্রবধূ অভিযুক্ত শ্বশুরের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। দামুড়হুদা মডেল থানার মামলা নং-০৭, তারিখ ০৯/০৪/২০২৬ ইং।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ছেলে বিদেশে থাকার সুযোগে অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে পুত্রবধূকে বিভিন্নভাবে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে প্রায়ই হুমকি-ধমকি ও মানসিক নির্যাতন করত। একাধিকবার একাকী পেয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।

ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত ৬ এপ্রিল ২০২৬ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে অভিযুক্ত শ্বশুর পুত্রবধূর ঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক নির্যাতনের চেষ্টা চালায়। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর আওতায় দামুড়হুদা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার ভিত্তিতেই আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।