মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় দাউদ আলী (৪৪) নামের এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার দুপুরের দিকে মেহেরপুর জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মো: তাজুল ইসলাম এ রায় দেন। দাউদ আলী মেহেরপুর শহরের তাঁতীপাড়া এলাকার কাসেদ আলীর ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেহেরপুর জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৯ জুন মেহেরপুর শহরের তাঁতীপাড়া এলাকার ১১ বছর বয়সী শিশু রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে বাসার বাইরের রাস্তা দিয়ে হাঁটছিল। ওই সময় অভিযুক্ত দাউদ আলী তাকে বিভিন্ন রকম প্রলোভন দেখিয়ে তার বাসায় নিয়ে যায় এবং একটি কক্ষে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে তাকে বাসার মানুষজন অনেক খোঁজাখুঁজির পর পরের দিন সকালে অভিযুক্তের বাড়ি থেকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে।

এই ঘটনায় তার পিতা বাদী হয়ে মেহেরপুর জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

মেহেরপুর জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, শিশু ধর্ষণের ঘটনায় আদালতে একটি মামলা হয়। আদালত ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে। শিশুর ২২ ধারা জবানবন্দিতে শিশুটি সীকারোক্তি দেয় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের বিবরণ দেয়।

তিনি আরও বলেন, আসামি নিজেও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে সীকার করেছে যে সে ওই শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে। আদালত সাক্ষীদের সাক্ষ্য, ১৬৪ ধারা এবং শিশুর ২২ ধারা জবানবন্দি পর্যালোচনা করে দাউদ আলী দোষী প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে পল্লব ভট্টাচার্য, কামরুল হাসান, গোলাম মোস্তফা দায়িত্ব পালন করেন।




গাংনীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে টিন মিস্ত্রির মৃত্যু, আহত নারী

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামে দোকানঘরে টিনের ছাউনি দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এনামুল হক নামে এক টিন মিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে।

নিহত এনামুল হক ওই গ্রামের মৃত নজের আলীর ছেলে। এদিকে, এনামুল হককে বাঁচাতে গিয়ে মনোয়ারা খাতুন নামের এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত মনোয়ারা বর্তমানে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রবিবার (৩ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাহারবাটি ক্লাবপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, দিনমজুর এনামুল হক ক্লাবপাড়া এলাকায় মিঠুর দোকানে টিনের কাজ করছিলেন। এ সময় টিনের উপর দিয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক তারে স্পর্শ লাগলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।




গাংনীতে বোমা সদৃশ বস্তু ও চিরকুট উদ্ধার

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় বোমা সদৃশ একটি বস্তু ও রহস্যজনক চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার সকালে উপজেলার চর গোয়াল গ্রামের মাথাভাঙ্গা নদীর তীরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে নদীর পাড়ে একটি পরিত্যক্ত বস্তু পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। পরে সেটি কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করলে বোমা সদৃশ মনে হওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি দ্রুত গাংনী থানা পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমা সদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। একই সঙ্গে একটি রহস্যজনক চিরকুটও উদ্ধার করা হয়, যা বস্তুটির সঙ্গে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ছিল। নিরাপত্তাজনিত কারণে ঘটনাস্থলে সেটি খোলা হয়নি। ফলে চিরকুটে কী লেখা রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) আল মামুন জানান, সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমা সদৃশ বস্তু ও চিরকুট উদ্ধার করেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।




ঝিনাইদহে তবুও থামছে না মাদক কারবার

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা জেলা ঝিনাইদহে মাদক কারবারিরা দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকলেও থামছে না ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা ও মাদকদ্রব্যের অবাধ বেচাকেনা।

বিশেষ করে শহর ও গ্রামীণ এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট ছোট মাদক বিক্রির স্পট, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করছি।

জানা গেছে, জেলার কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও বাজার এলাকায় সক্রিয় রয়েছে মাদক কারবারিদের একটি শক্তিশালী চক্র।

ভারতীয় সীমান্তর্বর্তী উপজেলা মহেশপুরের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে মাদক প্রবেশ করে প্রথমে গ্রামাঞ্চলে মজুদ করা হয়, পরে তা খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় শহর ও আশপাশের এলাকায়। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী কতিপয় রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের ছত্রচ্ছায়ায় এসব কারবার পরিচালিত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হঠাৎ করেই জেলা শহর ছাড়াও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম চরমভাবে বেড়ে গেছে। এর মধ্যে জেলা শহরের কালিকাপুর, চাকলাপাড়া, হামদহ, আরাপপুর, পবহাটি, সদর উপজেলার সাধুহাটি, হাটগোপালপুর, খাজুরা। কালীগঞ্জের কাশিপুর, চাচড়া, শিবনগর, আড়পাড়া, ঢাকালে পাড়া, বলিদাপাড়া, সিংঙ্গী, ফয়লা, হেলাই মাস্টারপাড়া, পাইকপাড়া, চাপালী, আনন্দবাগ, খয়েরতলা। শৈলকুপার কবিরপুর, শেখপাড়া, ফুলহরি, কাচেরকোল, ভাটইবাজারসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে দুপুর থেকে থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে মাদক বেচাকেনা। এসব মাদক মহেশপুর সীমান্ত থেকে সড়কপথে বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঝিনাইদহ জেলায় ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলের সরবরাহ বেড়েছে কয়েক গুণ। আগে যেসব এলাকায় মাদক লেনদেন তুলনামূলক কম ছিল, সেখানেও এখন প্রকাশ্যেই চলছে কেনাবেচা। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকার নির্দিষ্ট কিছু চায়ের দোকান, পরিত্যক্ত ভবন, খেলার মাঠ ও গ্রামের নদীর চরে মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের আনাগোনা প্রতিনিয়ত চোখে পড়ছে। এসব জায়গাতে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে খোলামেলা পরিবেশে, অনেকে এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পায়।

আসন্ন ঈদকে উপলক্ষে প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে মাদক কারবারিরা যোগসাজশ করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এ ধরণের কর্মকা- পরিচালনা করে আসছে। স্থানীয় প্রশাসন মাঝেমধ্যে নামমাত্র অভিযান চালিয়ে খুচরা বিক্রেতাদের আটক করলেও বড় বড় কারবারিরা ধরাছোঁয়ার বাইরের থেকে যায়। এমনকি তাঁরা মোটা অংকের টাকার বিনমিয়ে থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে।

জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন , ‘আগে গোপনে মাদক বিক্রি হতো, এখন প্রকাশ্যেই চলে। সন্ধ্যার পর নির্দিষ্ট দোকান ও বাড়িতে এখন মাদকের আসর বসছে। স্কুল-কলেজপড়–য়া কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ সহজে মাদক পেয়ে আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। কেবল অভিযান পরিচালনা করে নয় সামাজিক প্রতিরোধ, পরিবারভিত্তিক সচেতনতা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার না করলে ঝিনাইদহে মাদকের বিস্তার ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদরে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।’

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শেখ মো. হাশেম আলী বলেন, ‘আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবলম্বন করছি। সম্প্রতি মাদকের বেশ কয়েকটি বড় চালান জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকজন কারবারিকে আটক করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। চিহ্নিত স্পটগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।’




দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরিবারের একমাত্র সম্বল চুরি : অনাহারে দিন কাটছে লতিবের

“মানুষের দুঃখ যত গভীর, ততই নীরব হয়ে যায় তার আর্তনাদ” এমনই এক নীরব কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাধাগোবিন্দপুর ধলা গ্রামের আব্দুল লতিব।

পরিবারের চার সদস্যের মধ্যে স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ তিনজনই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন লতিব নিজেই।

দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে পায়ে চালিত ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন তিনি। বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে কয়েক মাস আগে একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত পাখিভ্যান কিনেছিলেন। কিন্তু ঋণের কিস্তি শেষ হওয়ার আগেই গত ২৮ এপ্রিল দিবাগত রাতে চোরের দল তার বাড়ি থেকে ভ্যানটি চুরি করে নিয়ে যায়।

এর ফলে একদিকে ঋণের চাপ, অন্যদিকে পরিবারের খাদ্যসংকটে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। বর্তমানে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে পুরো পরিবারটির।

আব্দুল লতিব বলেন, “আমাদের পরিবারের সবাই কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধী। ভ্যানটা ছিল বলে কোনোভাবে খেয়ে-পরে বেঁচে ছিলাম। এখন একবেলা খেলে অন্যবেলা না খেয়ে থাকতে হয়। এই কষ্টের কথা এখন কাকে বলব?”

একই গ্রামের বাসিন্দা আরোজ আলী বলেন, “লতিব ভাই অনেক কষ্ট করে সংসার চালাতেন। তাদের দেখার মতো আর কেউ নেই। ভ্যানটাই ছিল তাদের একমাত্র ভরসা। এটি চুরি হওয়ায় তারা এখন খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত তার পাশে দাঁড়াক।”

স্থানীয়রা জানান, একটি ঝুপড়ি ঘরে পরিবারটি বসবাস করে। বৃষ্টি হলে ঘরে পানি ঢোকে এবং ঝড়ের সময় ঘর ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকে। কর্মসংস্থান হারিয়ে পরিবারটি এখন পুরোপুরি অন্যের সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কিন্তু সহায়তা পাওয়াটাও যেন দুর্লভ হয়ে উঠেছে।

কাথুলী ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মোঃ ফারুক হোসেন জানান, “লতিবের পরিবারের তিন সদস্যই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তাদের দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই। ভ্যানটিই ছিল তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের সহায়তার চেষ্টা চলছে।”

গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) আল মামুন বলেন, ভ্যানটি উদ্ধারের জন্য পুলিশের বিশেষ সোর্স নিয়োগ করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিবারটিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।”




দর্শনায় ডিবি পরিচয়ে ফোনে অপহরণের নাটক

দর্শনা পৌর এলাকায় ডিবি পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে মোবাইল ফোনে অপহরণ ও আটকের নাটক সাজিয়ে নতুন কৌশলে চাদাবাজি শুরু করেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র।

গত কয়েক দিনে রাজনৈতিক নেতা, সাবেক জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ীসহ অন্তত পাচজন ভুক্তভোগী বিকাশের মাধ্যমে লক্ষাধিক টাকা খুইয়েছেন। ঘটনায় শনিবার রাত ৮টার দিকে দর্শনা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীদের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রতারকরা প্রথমে বিভিন্ন নম্বর থেকে কল দিয়ে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয়। এরপর ‘আপনার ছেলেকে আটক করা হয়েছে’ বা ‘অপহরণ করা হয়েছে’ বলে আতঙ্ক তৈরি করে। কল কাটতে না দিয়ে তাৎক্ষণিক বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেয়। নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে।

দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক ইকবাল হোসেন জানান, গত শনিবার রাতে ০১৮৭১৫০৩৩১৪ নম্বর থেকে কল দিয়ে ছেলে অমিওকে আটকের কথা বলে ২৫ হাজার টাকা দাবি করে। তিনি ০১৮৩৬০৬৭৫৬৬ বিকাশ নম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠান। দর্শনা পৌরসভার সাবেক মেয়র আতিয়ার রহমান হাবু বলেন, গত সোমবার দুপুরে ০১৩১৮০৪৯৭৩৭ নম্বর থেকে কল দিয়ে ছেলেকে অপহরণের কথা বলে ফোনের লাইন না কেটে ১০ হাজার টাকা দাবি করে। রামনগরের শরিফ উদ্দিন জানান, গত ২১ মার্চ ০১৬০৩৭৯৮২৬২ নম্বর থেকে কল দিয়ে ডিবি পরিচয়ে ছেলে আব্দুল আল শাফিকে আটক দেখিয়ে নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে ১৫ হাজার টাকা চাদা দাবি করে। তিনি ০১৭৫৩৫৭৯৯৫৭ বিকাশ নম্বরে ১১ হাজার টাকা দেন।

এছাড়া দর্শনা রেল বাজারের বিকাশ ব্যবসায়ী রানার কাছ থেকে কৌশলে ০১৮৮৬৫৯৫৯৫৬ নম্বরে ২০ হাজার ও ০১৮৮৬৫৬৫৯৫৬ নম্বরে ৫ হাজার ৫ শত টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। দর্শনা পুরাতন বাজারের আব্দুল কাদের ট্রেডার্সের মালিক আব্দুল কাদেরের বিকাশ নম্বর নিয়ে কৌশলে ৯০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে প্রতারকরা।

প্রতারক চক্র ০১৮৭১৫০৩৩১৪, ০১৩১৮০৪৯৭৩৭ ও ০১৬০৩৭৯৮২৬২ নম্বর থেকে কল দিচ্ছে এবং ০১৮৩৬০৬৭৫৬৬, ০১৭৫৩৫৭৯৯৫৭, ০১৮৮৬৫৯৫৯৫৬ ও ০১৮৮৬৫৬৫৯৫৬ বিকাশ নম্বরে টাকা নিচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের কল পেলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে পরিবারের সদস্যের খোজ নিতে হবে। ডিবি বা পুলিশ কখনো ফোনে টাকা দাবি করে না। সন্দেহজনক কল পেলে সাথে সাথে ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দর্শনা ও দামুড়হুদা এলাকায় এ ধরনের প্রতারণা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চক্রটি শনাক্তে কাজ করছে।

দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিমেল রানা বলেন, এ বিষয়ে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




দর্শনায় মাদক সম্রাট খ্যাত রানা গ্রেফতার

দর্শনায় মাদক সম্রাট খ্যাত দক্ষিণ চাঁদপুরের রানা নামের এক মাদক মামলার আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার বিকেলে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজির নির্দেশে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের নেতৃত্বে দর্শনা থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

এ সময় দর্শনা থানাধীন পৌর এলাকার দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রাম থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি রানাকে (৩৫) গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত রানা দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের মল্লিকপাড়ার আক্তার হোসেনের ছেলে।

গ্রেফতারকৃত আসামিকে রবিবার চুয়াডাঙ্গা আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মুহাম্মদ হিমেল রানা বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কেউই আইনের আওতার বাইরে থাকবে না।”




ঝিনাইদহে যাত্রীবাহী বাসে মিলল সাড়ে ৭ কোটি টাকার ক্রিস্টাল আইস

ঝিনাইদহে একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে ৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ ক্রিস্টাল আইস উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

শনিবার দুপুরে জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ মাদক উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব জানায়, সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে ১ কেজি ৫১০ গ্রাম ‘ক্রিস্টাল মেথ’ বা ‘আইস’ উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝিনাইদহ র‍্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মোঃ ইমামীম মুবীন সরকার সুমন বলেন, উদ্ধারকৃত মাদক ঝিনাইদহ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে র‍্যাবের এ ধরনের অভিযান জেলাজুড়ে অব্যাহত থাকবে।




আলমডাঙ্গায় কাব্যগ্রন্থ ‘কিছু কথা’র মোড়ক উন্মোচন

আলমডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে কবি হাবিবুর রহমান মজুমদারের নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘কিছু কথা’ এর জমকালো মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেল ৪টায় স্থানীয় উপজেলা মঞ্চে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাহিত্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিশিষ্ট কবি গোলাম রহমান চৌধুরি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ও প্রবীণ শিক্ষক ওমর আলী মাস্টার।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যের পর মোড়ক উন্মোচন পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হামিদুল ইসলাম আজম। তিনি কবির লেখনী ও সাহিত্যচর্চার প্রশংসা করেন।

বিশেষ আলোচক হিসেবে কবি আসিফ জাহান কাব্যগ্রন্থটির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বইটির কবিতাগুলোর সাহিত্যমান ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খন্দকার শাহআলম মন্টু, উদ্ভাস সাহিত্য পরিষদের সভাপতি কবি কহন কুদ্দুস, গাঙচিল সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের সভাপতি শিক্ষক জামিরুল ইসলাম এবং সাংবাদিক-শিল্পী আতিক বিশ্বাস।

কবি সিদ্দিকুর রহমানের উপস্থাপনায় আরও বক্তব্য রাখেন চলচ্চিত্র পরিচালক জন অলফ, ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মকর্তা ও সাংবাদিক মাহফুজুর রহমানসহ অন্যান্যরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এ ধরনের সাহিত্যচর্চা স্থানীয় পর্যায়ে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ এবং নতুন পাঠক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে স্থানীয় কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।




আলমডাঙ্গায় ভাইয়ের জমিতে জোরপূর্বক বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ

আলমডাঙ্গায় আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ উপেক্ষা করে পৈতৃক ভিটায় জোরপূর্বক বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ভাংবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আজিল বক্স (৬৬)। তিনি তাঁর সহোদর ফজলুল হকের (৬৪), বৈধ মালিকানাধীন জমি জবরদখল করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

আদালতের নোটিশ জারির পরেও থামেনি নির্মাণ। আইনের প্রতি এই সুস্পষ্ট বৃদ্ধাঙ্গুলি এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।

ভূমি রেকর্ড সূত্রে ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে , আলমডাঙ্গা মৌজা-৪ নং নগরবোয়ালিয়ার ভাংবাড়িয়া গ্রামের মরহুম ওফাতুল্লা মণ্ডলের সাত সন্তানের মধ্যে জমিজমার বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। মরহুমের পুত্র ফজলুল হক (৬৪), পিতার ওয়ারিশ সূত্রে ১৩৬ খতিয়ানের ৩৭১০ দাগে ০.০৪৬৫ (একর) জমির আইনি অধিকারী। এ ছাড়া তিনি ১৯৯৮ সালের (১ মার্চ) মরহুম সাজেদুল আলম মল্লিকের ওয়ারিশগণের কাছ থেকে একই মৌজার- ৩৩৭ খতিয়ানের ৩৭০৯ দাগে ০.০৬ (একর) জমি ক্রয় করেন। দুটি জমি পাশাপাশি অবস্থিত হওয়ায় ফজলুল হক দীর্ঘকাল ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে উভয় অংশে দখলে ছিলেন।

কিন্তু হঠাৎ করেই তাঁর সহোদর আজিল বক্স সেই জমিতে জোরপূর্বক ঢুকে পড়েন এবং উচ্ছেদ করে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। ফজলুলের বৈধ দখল ও মালিকানাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে চলতে থাকে জোরপূর্বক নির্মাণকাজ।

আদালতের নির্দেশও মানছে না অভিযুক্ত। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মো. ফজলুল হক আদালতের দ্বারস্থ হন। গত (২৩-এপ্রিল ২০২৬), তারিখে আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির-১৪৫(১), ধারায় নোটিশ জারি করে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার কড়া নির্দেশ দেন। সেই নোটিশ যথাযথভাবে হাটবোয়ালিয়া পুলিশ ক্যাম্পে প্রেরণ করা হয়। তবু থামেননি আজিল বক্স। আদালতের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি ও তাঁর পুত্রেরা নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছেন।

ক্ষোভ ও হতাশায় ভুক্তভোগী ফজলুল হক বলেন , আমার ওয়ারিশ সূত্রে পাওনা ও ক্রয়কৃত জমিতে আমার ভাই আজিল বক্স ও তার ছেলেরা জোরপূর্বক বাড়ি তুলছে। আদালতের নোটিশ পুলিশ ক্যাম্পে জমা দেওয়ার পরেও তারা কাজ বন্ধ করেনি। এখন প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাচ্ছি নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধ করে আইনি মীমাংসার ব্যবস্থা করা হোক।

এ বিষয়ে হাটবোয়ালিয়া পুলিশ ক্যাম্পে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্টরা আলমডাঙ্গা থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেন। আদালতের নোটিশ হাতে পেয়েও কেন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি সে প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে।

সচেতনমহল বলছেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নীরব থাকলে বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।