ঈদকে ঘিরে বাজারে জাল নোটের ছড়াছড়ি
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঝিনাইদহসহ আশপাশের জেলাগুলোতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জালনোট চক্র। ঈদের আগে বাজারে লেনদেন বাড়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এসব চক্র জাল টাকা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এতে সাধারণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা প্রতারণার ঝুঁকিতে পড়ছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এসব চক্র অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জালনোট তৈরি করছে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে সহজে শনাক্ত করা কঠিন। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ শুরু করেছে।
জানা গেছে, জালনোটের কারবার এখন আর পাড়া-মহল্লার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও চলছে এ টাকার রমরমা ব্যবসা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে খোলা হয়েছে শতাধিক পেজ। এসব পেজে দেওয়া হচ্ছে নানা ধরনের অফার। লোভনীয় এসব অফারে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে সংঘবদ্ধ চক্র। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঝিনাইদহসহ আশপাশের জেলায় ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এসব নকল টাকা।
এক লাখ টাকার জালনোট বিক্রি করা হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায়। ১০০ টাকা থেকে শুরু করে সব ধরনের নোট সরবরাহ করছে চক্রটি। এসব নোট এতটাই নিখুঁত যে সহজে আসল-নকল বোঝা যায় না।
সূত্র জানায়, অল্প সময়ে বড়লোক হওয়ার লোভে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীও এই কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। ঈদের আগে পোশাক, খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন খাতে কেনাকাটা বেড়ে যায়। এই সময়কে লক্ষ্য করে কাপড় বাজারসহ বিভিন্ন হাটবাজারে লেনদেনের সময় জালনোট চালানোর ঘটনা বেশি ঘটছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের তাড়াহুড়োকে কাজে লাগিয়ে ৫০০ ও ১ হাজার টাকার জালনোট চালিয়ে দেওয়া হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা।
শহরের কেপি বসু সড়কের কাপড় ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “এক ব্যক্তি দোকানে এসে ৭ হাজার টাকার মূল্যের দুটি শাড়ি কেনেন। সবগুলোই নতুন টাকার নোট দেন। পরে ওই ব্যক্তি চলে গেলে জানতে পারি ৭ হাজার টাকার মধ্যে ৪ হাজার টাকাই জালনোট।”
পায়রা চত্বর এলাকার ফল ব্যবসায়ী কাওসার আলী বলেন, “ইফতারের কিছুক্ষণ আগে দুই যুবক মোটরসাইকেলে করে ফল কিনতে আসে। তারা ২ হাজার ৫০০ টাকার ফল কিনে নিয়ে যায়। পরে আড়তে টাকা দিতে গেলে মালিক বলেন ১ হাজার টাকার দুটি নোট জাল। তখন বুঝতে পারি ওই যুবকেরা জালনোট দিয়ে গেছে।”
অপরাধ বিশ্লেষক মো. লিয়াকত হোসেন বলেন, “বিভিন্ন উৎসব এলেই জালনোট চক্রের তৎপরতা বেড়ে যায়। তারা মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে। এতে প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঈদের মৌসুমে প্রশাসনের নজরদারি আরও কঠোর করতে হবে। পাশাপাশি বাজারে প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। না হলে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।”
সোনালী ব্যাংক ঝিনাইদহ শাখার উপ-ব্যবস্থাপক বসির উদ্দিন মেহেরপুর প্রতিদিনকে বলেন, “আসল টাকার নোট শনাক্ত করার জন্য কয়েকটি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য রয়েছে যেমন জলছাপ, নিরাপত্তা সুতা ও রং পরিবর্তনশীল কালি। এসব বৈশিষ্ট্য যাচাই করলে জালনোট শনাক্ত করা সহজ হয়। তবে ঈদের বেচাকেনার সময় ব্যবসায়ীদের হাতে সময় কম থাকে। এজন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কাজটি দক্ষ লোক দিয়ে করা উচিত।”
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ র্যাব ক্যাম্পের অধিনায়ক মেহেদি ইমরান সিদ্দিকি মেহেরপুর প্রতিদিনকে বলেন, “জালনোট কারবারের সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোকে শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। আমাদের সাইবার মনিটরিং টিম জালনোটের বিজ্ঞাপনদাতাদের বিষয়ে অনলাইনে কাজ করছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতারক চক্রের বিষয়ে আমরা তথ্য পেয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
চুয়াডাঙ্গায় ডিজেল সংকটে বিপাকে কৃষক, ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা
চুয়াডাঙ্গায় ডিজেল তেলের সংকটে কৃষকদের মাঝে হাহাকার দেখা দিয়েছে। ধানক্ষেতে সেচ দিতে না পারায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলার বেশির ভাগ ফিলিং স্টেশনেই ডিজেল নেই। অনেক পাম্পে “ডিজেল নেই” লেখা ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে কৃষকদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পাম্প মালিকরা ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রেখেছেন।
চুয়াডাঙ্গা কৃষিনির্ভর একটি সমৃদ্ধ জনপদ। এ অঞ্চলের জমি অত্যন্ত উর্বর হওয়ায় এখানে সব ধরনের ফসল উৎপাদিত হয়। বিশেষ করে ধান উৎপাদনের জন্য এ অঞ্চলকে শস্যভান্ডার বলা হয়। বর্তমানে জেলার মাঠজুড়ে সবুজ ধানক্ষেতের সমারোহ দেখা গেলেও সেচ দিতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
কৃষকরা জানান, ধানের খেতে সেচ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। সেচ দিতে না পারলে জমি ফেটে যাবে এবং ফলন কমে যাবে। এতে চাষাবাদে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। অনেক কৃষকই দুই-এক লিটার ডিজেলের জন্য কন্টেইনার বা বোতল হাতে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরছেন, কিন্তু কোথাও তেল পাচ্ছেন না।
কৃষকদের ভাষ্য, প্রতিদিন ধানক্ষেতে সেচ দেওয়ার জন্য অন্তত দেড় লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু ডিজেলের অভাবে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে ফিলিং স্টেশনের মালিকরা বলছেন, তারা ডিপো থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে ডিজেল পাচ্ছেন। অনেক সময় গাড়ির ধারণক্ষমতার তুলনায় কম তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এতে অর্ধেক ভর্তি ট্যাংকার আনতে গিয়ে পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানান তারা।
কোটচাঁদপুরে ট্রেনের ধাক্কায় লাটা হাম্পার চালক নিহত, আহত হেলপার
কোটচাঁদপুরে ট্রেনের ধাক্কায় ইঞ্জিনচালিত লাটা হাম্পার গাড়ির চালক আলাউদ্দিন (৫০) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গাড়ির হেলপার আহত হয়েছেন।
রোববার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বড় বামনদহ ছোট রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, রোববার সকালে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা সাগরদাঁড়ি ট্রেনের ধাক্কায় ইঞ্জিনচালিত লাটা হাম্পার গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই গাড়ির চালক আলাউদ্দিন নিহত হন। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার ঈশ্বরবা গ্রামের মসলেম উদ্দিনের ছেলে। তবে আহত হেলপারের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী লালবানু বলেন, “আমি লাইনের পাশে কাজ করছিলাম। ট্রেন চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর দেখি গাড়িটি লাইনের পাশে পড়ে আছে। পাশে একজন পড়ে কাতরাচ্ছিলেন। মুখে পানি দিয়ে আল্লাহর নাম নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই তিনি মারা যান। পাশে আরেকজন আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। পরে স্থানীয়রা তাদের ভ্যানে করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।”
কোটচাঁদপুর রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার তুর্কি বলেন, “ওই সময় ডিউটিতে ছিলেন স্টেশন মাস্টার মোশারফ হোসেন। আমি আসার পর এ ধরনের ঘটনার কথা শুনেছি। যেখানে দুর্ঘটনার কথা বলা হচ্ছে, সেটি আউটার সিগনালের বাইরে পিডব্লিউডি এলাকার মধ্যে।”
কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রায়হানা আক্তার লিমা বলেন, “একজনকে আমরা মৃত অবস্থায় পেয়েছি। অন্যজন আহত ছিলেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
মেহেরপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবি, কথিত সাংবাদিক গ্রেপ্তার
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে সরকারি অফিসে চাঁদা দাবির অভিযোগে আব্দুর রউফ নামে এক কথিত সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে মেহেরপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, আব্দুর রউফ বর্তমান মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নিজেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আত্মীয় ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।
সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কয়েকটি সেলফি প্রকাশ করেন আব্দুর রউফ। এরপর থেকে সেই ছবি দেখিয়ে নিজের প্রভাব ও ক্ষমতা জাহির করে বেড়াতে শুরু করেন তিনি। রমজান মাসের শুরু থেকে অফিসের প্রধান সহকারী মোশারফ হোসেন ও পরিসংখ্যানবিদ আকরাম হোসেনের কাছে মুঠোফোনে কল ও হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে নানা ধরনের হুমকি দিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন রউফ।
রোববার সকালে সরাসরি অফিসে এসে আবারও ওই টাকা দাবি করলে অফিসের কর্মচারীরা তাকে আটক করেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে সদর থানায় নিয়ে যায়।
সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসের পরিসংখ্যানবিদ আকরাম হোসেন বলেন, “রমজান মাসের শুরু থেকেই আব্দুর রউফ নিজেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আত্মীয় ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে বারবার হুমকি দিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। রোববার সকালে অফিসে এসে একই দাবি করলে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।”
সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আঞ্জুমান আরা বলেন, “আমি যখন অফিসে থাকি না, সেই সময়টাকেই বেছে নিয়ে আব্দুর রউফ বারবার আমার অফিসে আসে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমার অফিসের পরিসংখ্যানবিদ আকরাম হোসেন আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সঙ্গে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আমি লিখিত আবেদন করব।”
সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, “চাঁদাবাজির চেষ্টার অভিযোগে আব্দুর রউফ নামে এক ব্যক্তিকে সদর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে এসেছে। সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসে চাঁদা দাবির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মেহেরপুর সদর থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের হয়েছে।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে একাধিকবার আলোচনায় এসেছেন আব্দুর রউফ। গত বছর গাংনী উপজেলায় চাঁদা আদায়ের চেষ্টাকালে তিনি গণধোলাইয়ের শিকার হন এবং ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। কয়েক মাস কারাগারেও ছিলেন তিনি।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল মেহেরপুর সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামে এক হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করলে সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে অবৈধভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অপরাধে অতীতেও একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের দণ্ডের মুখে পড়েছিলেন আব্দুর রউফ।
আলমডাঙ্গা পৌরসভার উদ্যোগে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান
আলমডাঙ্গা পৌর সভার উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন স্থানে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। পৌর প্রশাসকের আয়োজনে পৌরসভা কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।
অভিযানের সময় শহরের রাস্তা, ড্রেন ও নালা পরিস্কার রাখা হয়েছে এবং মশার বংশবিস্তার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জনসচেতনতা মূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক পান্না আকতার বলেন, “শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং মশা বাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। নাগরিকদের সচেতন হতে হবে এবং নোংরা আবর্জনা স্তূপ না বানিয়ে নিজ নিজ জায়গা পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।”
অভিযানে অংশ নেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শারমিন আক্তার। তিনি বলেন, “মশা বাহিত রোগ থেকে রক্ষা পেতে আবর্জনা স্তূপ ও নোংরা পানির জমার জায়গা পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যাতে মশা ডিম পাড়তে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।”
মেহেরপুরে ডায়াবেটিস হাসপাতালের ভিত্তি প্রস্তরের উদ্বোধন
মেহেরপুরের পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন এলাকায় মেহেরপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালের নিজস্ব জায়গায় হাসপাতালের ভিত্তি প্রস্তরের উদ্বোধন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলার জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: খায়রুল ইসলাম, হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।
ডায়াবেটিস হাসপাতালের এই উদ্যোগের মাধ্যমে মেহেরপুরে রোগীদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
মেহেরপুরে বাজার মনিটরিং ও জরিমানা আদায়
মেহেরপুর সদর উপজেলার শোলমারী নতুনপাড়া এলাকায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শেখ তৌহিদুল কবীরের নেতৃত্বে পুলিশ ফোর্স ও আনসার ব্যাটালিয়ন সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালিত হয়। আনসার স্টোর নামক দোকানে লাইসেন্সবিহীন ডিজেল মজুদ ও বিক্রির অভিযোগে পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬-এর ৪(খ) ধারার লঙ্ঘনের জন্য ২০(১) ধারায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জেলা প্রশাসন এই ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার মাধ্যমে বাজারে ন্যায্য মূল্য ও ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সচেষ্ট রয়েছে।
অন্যদিকে, মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার আনন্দবাস বাজারে জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাজার মনিটরিং টাস্কফোর্স ও মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
খুচরা পর্যায়ে বেগুন, শসা, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, মরিচ, পেঁপে, ফুলকপি, কাঁচাবাজার, মাছ ও মাংসসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অধিকাংশ দোকানে ক্রয়-বিক্রয়ের পাকা ভাউচার সংরক্ষণ ও মূল্য তালিকা প্রদর্শনের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এসময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০, ৩৮ ও ৫২ ধারার লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনজন ব্যবসায়ীকে মোট ৮,৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
ঝিনাইদহে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন, বাজারে নেই ন্যায্য দাম
দেশের অন্যতম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকা ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এ বছর পেঁয়াজের ভালো ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন চাষিরা। মাঠভর্তি পেঁয়াজ থাকলেও বাজারে দাম কম থাকায় উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না অধিকাংশ কৃষক। ফলে লাভ তো দূরের কথা, অনেকেই লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
কৃষকেরা জানান, এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে বীজ, সার, সেচ ও শ্রমিকসহ অন্তত ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। কিন্তু বাজারে দাম কম থাকায় সেই খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন, আবার কেউ কেউ দাম বাড়ার আশায় ঘরে মজুত করে রাখছেন।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে শৈলকুপা উপজেলায় পেঁয়াজের উৎপাদন বিগত বছরের তুলনায় বেশ ভালো হয়েছে। তবে বাজারে সরবরাহ বেশি হওয়ায় শুরুতেই দাম পড়ে গেছে। পাইকারি বাজারে প্রতিমণ পেঁয়াজের দাম অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচের নিচে নেমে এসেছে। এতে করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর শৈলকুপা উপজেলায় ১২ হাজার ৮৪৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ করা হয়েছে। প্রতিমণ পেঁয়াজ উৎপাদনে আকারভেদে খরচ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকা পর্যন্ত। সম্প্রতি উপজেলার বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আওধা গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, “এত কষ্ট করে এ বছর পেঁয়াজ চাষ করলাম, কিন্তু বাজারে এসে দেখি দাম নেই। খরচের টাকাই উঠছে না। পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাড়ানো এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ সরকারকে নিতে হবে। তা না হলে আগামী বছর থেকে আর পেঁয়াজ চাষ করব না।”
লাঙ্গলবাঁধ বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক রমজান আলী বলেন, “সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচ খরচ মিলিয়ে প্রতিমণ পেঁয়াজে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হয়েছে। এখন বাজারে এসে বিক্রি করতে হচ্ছে ৯৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। এই লোকসান নিয়ে আমাদের মতো কৃষকদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।”
শৈলকুপার ভাটইবাজারের আড়তদার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “বর্তমানে পেঁয়াজ কিনে দেশের বিভিন্ন মোকামে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে আমাদের। সেখানে মোটা অঙ্কের টাকা লোকসান দিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে। এ বছর চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজ বেশি উৎপাদন হয়েছে। ফলে যত দিন যাচ্ছে দাম কমছে। তবে সামনে ঈদুল ফিতরে চাহিদা বাড়বে বলে আশা করছি। সেই সঙ্গে পেঁয়াজের দামও কিছুটা বাড়তে পারে।”
এ ব্যাপারে শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু ন্যায্যমূল্য না পেয়ে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বাজার ব্যবস্থাপনা অনেকগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। চাষিদের সুবিধার্থে উৎপাদিত পণ্যের একটি নির্ধারিত মূল্য থাকা প্রয়োজন। তা না হলে এ উপজেলায় পেঁয়াজের উৎপাদন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”
আলমডাঙ্গায় সুদ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর সংবাদ সম্মেলন
আলমডাঙ্গার নাগদাহ ইউনিয়নের ব্যানাগাড়ি গ্রামের গ্রামবাসী সুদ ব্যবসায়ীর দ্বারা হয়রানির অভিযোগে শনিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। গ্রামবাসীর উদ্যোগে ব্যানাগাড়ি মোড়ে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তুলে তারা প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সতর্ক করেছেন।
ভুক্তভোগীদের পক্ষে ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রনি মাহমুদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, “হিংসার বশবর্তী হয়ে গ্রামে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে ইউপি চেয়ারম্যান, আমি রনি মাহমুদ, গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী পিন্টু রহমান, সমাজসেবক আরজ আলী, টাবলু ও চাকরিজীবী মুকুল হোসেনসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তাকে প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।”
লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালে গ্রামের ইসরাইল হোসেনের ভোলারদাড়ি মোড়ে একটি মুদি দোকান ছিল। সেই দোকানে সুদে কারবার চলত। ২০২২ সালে জমির মালিক বাড়ি নির্মাণের জন্য দোকানটি ভেঙ্গে দেন। দোকান ভাঙার পরও তার সুদের ব্যবসা থেমে যায়নি। ‘ডেইলি সমিতি’ নামে গ্রামে অসহায় দরিদ্র ও দিনমজুরদের টাকা আত্মসাৎ করেছে এবং বিভিন্নভাবে সুদের মাধ্যমে আরও মানুষকে অর্থদণ্ডের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এতে অনেক দরিদ্র পরিবার তাদের জমা করা টাকা ফেরত না পেয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
তিনি জানান, ইসরাইল হোসেনের কাছে গ্রামবাসীর কালাম অনুযায়ী সাড়ে ৫ লাখ টাকার পাওনা রয়েছে। কোর্টে অভিযোগের পূর্বে চেয়ারম্যান, মেম্বর ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে কয়েকবার বসার চেষ্টা করা হলেও ইসরাইল হোসেনের অসহযোগিতা, অনিয়ম ও হিসাবের গরমিলের কারণে কোনো সমাধান সম্ভব হয়নি। পরে ২০২৩ সালে কোটে ইসরাইল হোসেনের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলা দায়ের করা হয়। মামলার ফলশ্রুতিতে কালামের দুই বছরের জেল হয়।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রামবাসীরা আরও বলেন, ইসরাইল হোসেনের দাবি যে তিনি চেয়ারম্যান, মেম্বরসহ স্থানীয় কিছু মানুষের বিরুদ্ধে প্রাণ নাশের হুমকি পেয়েছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি মোবাইল বা অন্য কোন মাধ্যমে হুমকির প্রমাণ দেখাননি। গ্রামবাসী ইতিমধ্যেই তার একঘর আচরণ থেকে বিরত হয়েছে এবং ঈদে তার সঙ্গে আর কোনো লেনদেন করতে চায় না।
গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যদি সুদখোর বা মাদক সেবীদের সামাজিকভাবে বয়কট করে, তবে তারা মুসলিম বা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সেই উদ্যোগকে সমর্থন করবে।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন।