শৈলকুপায় সংযোগ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ

সংযোগ ফাউন্ডেশন এর সহযোগিতায় ঝিনাইদাহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার ‘সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাসামগ্রী প্রদান করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার ‘আলমডাঙ্গা নূরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা’র ১৫০ শিক্ষার্থীর মাঝে এসব সামগ্রী প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সংযোগ ভলেন্টিয়ার্স প্রোগ্রামের ঝিনাইদহ জেলার উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্যদের মধ্যে সহকারী অধ্যাপক (অব:) ও সাংবাদিক খুরশিদ মোহাঃ সালেহ, দৈনিক ইত্তেফাকের সাংবাদিক ও সহকারী অধ্যাপক মোঃ শাহানুর আলম,  ঝিনাইদহ জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মুন্সী মোঃ আবু হাসান, সহ সমন্বয়ক খুরশিদ সাকলাইন কাব্য, প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান মিরাজ, সহকারী প্রিন্সিপাল মোঃ রিয়াদ হাসান, পরিচালনা পরিষদের সদস্য মোঃ রজব আলী প্রমূখ।

বিতরণকালে জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মুন্সী মোঃ আবু হাসান বলেন, এ অঞ্চলের ঝরে পড়া অসহায় সুবিধাবঞ্চিত, প্রতিবন্ধী ও এতিম শিশু কিশোরদের পাশে দাড়ানো আমাদের প্রধান লক্ষ্য এবং তাঁদের বেসিক ধর্মীয় এবং প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। তিনি সমাজের বিত্তবানদের এসকল কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।




মুজিবনগরে ডিবি’র অভিযানে ১০ বোতল ভারতীয় মদসহ আটক ১

মেহেরপুরের মুজিবনগরে অভিযান চালিয়ে ১০ বোতল ভারতীয় মদসহ শফিকুল (৩৩) নামের একজনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতের দিকে মুজিবনগর থানাধীন সোনাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটক শফিকুল সোনাপুর মাঝেরপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি আইয়ুব আলীর ছেলে।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে শফিকুলকে আটক করা হয়।

অভিযানের সময় শফিকুলের হেফাজত থেকে ১০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। যার বাজার মূল্য আনুমানিক ২০ হাজার টাকা। পরবর্তীতে আটক শফিকুল ও জব্দকৃত আলামতসহ তাকে মুজিবনগর থানায় হস্তান্তর করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু করা হয়।

এবিষয়ে মেহেরপুর ডিবি ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




অতিরিক্ত সচিব হলেন দারিয়াপুরের আব্দুর রশিদ

সরকারের যুগ্ম সচিব থেকে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেলেন আব্দুর রশিদ। তিনি মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর ক্লাবপাড়ার বাবুবাড়ীর মৃত শববত আলী ও রোকেয়া বেগমের ছোট ছেলে।

বর্তমানে তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব পদে কর্মরত আছেন।

আব্দুর রশিদ দারিয়াপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৪ সালে এসএসসি, মেহেরপুর সরকারি কলেজ থেকে ১৯৮৬ সালে এইচএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেন।

তিনি ২০তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ২০০১ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় ফরিদপুর জেলায় সহকারী কমিশনার হিসেবে। এরপর তিনি চারভদ্রাসন, দেবহাটা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ফরিদপুর, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদপুর জেলা পরিষদ, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার খুলনা পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।




গাংনীতে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

শেরপুরে বিএনপি’র হামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে দেশব্যাপী নারীদের প্রতি সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে মেহেরপুরের গাংনীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে দলটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৮টার দিকে গাংনী উপজেলা ও পৌর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

গাংনী উপজেলা শহরের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাসপাতাল এলাকা ঘুরে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন শহীদ আবু সাঈদ চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, গাংনী উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা আব্দুল হালিম, গাংনী পৌর জামায়াতের আমীর আহসানুল হকসহ স্থানীয় ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীরা “হত্যাকারীদের বিচার চাই”, “সন্ত্রাসী হামলা বন্ধ কর”, “নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত কর”—এমন নানা স্লোগান দেন।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, শেরপুরে পরিকল্পিত ও পূর্বপরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলায় জামায়াতে ইসলামীর একজন দায়িত্বশীল নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, এই হামলার রাজনৈতিক দায় বিএনপি এড়াতে পারে না। অবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, দেশে নারী নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, যা রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জানমালের সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তারা।

সমাবেশ থেকে অবিলম্বে সব ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ, নারীদের প্রতি সহিংসতা রোধ এবং শেরপুরের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানানো হয়।




আলমডাঙ্গায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জোর প্রস্তুতি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য দেশব্যাপী গণভোটকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় চলছে জোর প্রস্তুতি।

অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করছে উপজেলা নির্বাচন অফিস। লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড আশা করে সাধারণ মানুষ। বিগত দিনের অভিজ্ঞতা থেকে সাধারণ মানুষ চরম উৎকন্ঠা আর সন্দিহান থাকলেও প্রশাসনের উদ্যোগে জনগণের আস্থা অর্জন করায় নির্বাচন কমিশনের বড় চ্যালেঞ্জ বলে সুধীমহল মনে করে।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা-১ (আলমডাঙ্গা ও চুয়াডাঙ্গা সদর) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৭ হাজার ৪৮১ জন। এর মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭ হাজার ৫৬৫ জন। ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৮২ জন, নারী ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৭৭ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৬ জন।
এই বিপুলসংখ্যক ভোটারের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে উপজেলায় ১১২টি ভোটকেন্দ্র এবং ৫৯৩টি ভোটকক্ষ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাজের প্রায় ৮০ শতাংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে প্রায় ৪৫০ জন এই প্রশিক্ষণে অংশ নেন।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাচন অফিসে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে একটি ব্যতিক্রমী বার্তা। অফিসের সিঁড়িতে বড় অক্ষরে লেখা- ‘এই অফিসে কোনো নগদ টাকার লেনদেন হয় না। আমি ও আমার অফিস দুর্নীতিমুক্ত।’ এই ঘোষণা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থাকে আরও দৃঢ় করেছে।
নির্বাচনী প্রস্তুতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন, উপজেলা নির্বাচন অফিসার সেখ মাসুম বিল্লাহ। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগে তিনি মেধা, যোগ্যতা ও সততাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা অনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে তিনি বিধি অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে উপজেলা নির্বাচন অফিসার সেখ মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। অফিসে টানানো সতর্কবার্তাটি আমাদের মূলনীতির প্রতিফলন। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই আমরা অধিকাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।’
একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের এই প্রস্তুতি ও স্বচ্ছতা দেখে আলমডাঙ্গার সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ বাড়তে পারে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সব প্রস্তুতির ফলে আলমডাঙ্গায় একটি শান্তিপূর্ণ ও আদর্শ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

দেশের অন্যতম বৃহত্তর দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় ভোটারদের উপস্থিতি করা, নতুন ভোটারদের উৎসাহিত করে আনন্দ মুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসা এবং জামায়াতে বিএনপি’র প্রতিদ্বন্দ্বিতা যাহাতে অহিংস নীতিতে প্রতিয়মান হয় তা অধির আগ্রহে দেখার অপেক্ষা আছে সাধারণ মানুষ।




গাংনীর জোড়পুকুরিয়াতে বিএনপির নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জোড়পুকুরিয়া গ্রাম বিএনপি’র উদ্যোগে নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জোড়পুকুরিয়া বাজারে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।

জোড়পুকুরিয়া ১নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মোস্তাক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আমজাদ হোসেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, গাংনী উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আবাদুল আওয়াল, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু, মেহেরপুর জেলা বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো, মেহেরপুর জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান মাহবুব, মেহেরপুর জজকোর্ট জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি নেতা এ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, মেহেরপুর জেলা মহিলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি নাজমা খন্দকার, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাজমুল হুসাইনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সঞ্চালনায় ছিলেন, জেটিএস মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন হেলু।

জনসভায় বক্তারা বলেন, দেশ আজ এক কঠিন সময় পার করছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে বিএনপির বিকল্প নেই। তারা বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে দেশের উন্নয়ন, শিক্ষা, কৃষি ও অবকাঠামো খাতে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।

প্রধান অতিথি আমজাদ হোসেন তার বক্তব্যে বলেন,

“দেশকে আবার উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারায় ফিরিয়ে আনতে হলে বিএনপিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আনতে হবে। সাধারণ মানুষের ভোটে নির্বাচিত সরকারই পারে জনগণের কথা শুনতে ও সমস্যার সমাধান করতে।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপি জনগণের দল। কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় বিএনপি অতীতেও কাজ করেছে, ভবিষ্যতেও করবে।”

বক্তারা আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সকল নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

জনসভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।




গাংনীতে জামায়াতের নির্বাচনী গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে জামা ভেদয়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নাজমুল হুদার নেতৃত্বে নির্বাচনী গণমিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে গাংনী উপজেলার মটমুড়া গ্রামে এই গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গণমিছিলটি মটমুড়া স্কুলপাড়া থেকে শুরু হয়ে গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ক্লাবপাড়া এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নাজমুল হুদা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, ঘুষ ও চাঁদাবাজির রাজনীতিতে দেশ ও জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানুষের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে সৎ, যোগ্য ও আল্লাহভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ইনশাআল্লাহ জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে।” এ সময় তিনি আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে ইসলামী মূল্যবোধের পক্ষে রায় দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, গাংনী উপজেলা জামায়াতের আমীর ডা. রবিউল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলম হুসাইন, এনসিপির মেহেরপুর জেলা শাখার সংগঠক মোজাহিদুল ইসলামসহ জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। তারা আর দুর্নীতিবাজ ও লুটেরা নেতৃত্ব দেখতে চায় না। জামায়াতে ইসলামী জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে আগামী দিনে একটি কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে কাজ করবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে ঝিনাইদহে বিক্ষোভ

জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে ঝিনাইদহে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বিচার বিভাগীয় কর্মচারীরা।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন। এতে সংগঠনটির জেলা শাখার সভাপতি সুব্রত কুমার ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক আসাফুদ্দোলা মাসুম, যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান, রবিউল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

এ সময় বক্তারা জাতীয় নির্বাচনের আগেই পে-স্কেল ঘোষণা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। দ্রুত দাবি মানা না হলে কলম বিরতিসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

সমাবেশ শেষে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি জেলা জজ আদালত চত্বর থেকে শুরু হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বর প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।




দর্শনা শতাধিক আওয়ামী লীগ সমর্থিত শ্রমিক বিএনপিতে যোগদান

দর্শনা পৌর এলাকার রেল ইয়ার্ডের সরদার মনু মিয়াসহ শতাধিক আওয়ামী লীগ সমর্থিত শ্রমিক বিএনপিতে যোগদান করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে লেবার সরদার মনু মিয়ার নেতৃত্বে এসব শ্রমিক আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন।

যোগদান অনুষ্ঠানে দর্শনা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সমন্বয়ক হাজী খন্দকার শওকত আলী এবং হাবিবুর রহমান বুলেট নবাগতদের হাতে হাত রেখে দলে স্বাগত জানান।

এ সময় নেতৃবৃন্দ বলেন, চুয়াডাঙ্গা-২ নির্বাচনী এলাকায় আমরা একজন ভালো মানুষ পেয়েছি, যিনি সৎ, নির্ভীক এবং দলের কাছে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া নেই। তিনি একজন সেবক হিসেবে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মিঠু, আপু সুলতান, জিয়াউল হক শাহিন, যুবদল নেতা সেলিম মেহবুব লিটন, সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রদল নেতা সেলিম মাহফুজ মিলটনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সবশেষে বিএনপির নেতাকর্মীরা নবযোগদানকারী শ্রমিকদের হাতে ধানের শীষের ব্যাজ পরিয়ে দেন।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দর্শনা পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল।




চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের তিন প্রার্থী এক মঞ্চে, জাকের পার্টির শান্তি সমাবেশে মিলনমেলা

চুয়াডাঙ্গা-২ সংসদীয় আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাকের পার্টির উদ্যোগে “শান্তি সমাবেশ” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় চুয়াডাঙ্গা দর্শনা মুক্তমঞ্চে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের তিন প্রধান রাজনৈতিক দলের সংসদীয় প্রার্থী। তাঁরা হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী রুহুল আমিন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী হাসানুজ্জামান সজিব।

সমাবেশে তিনজন প্রার্থীই চুয়াডাঙ্গার সার্বিক উন্নয়নে দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বিএনপি প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, চুয়াডাঙ্গা একটি কৃষি ও সম্ভাবনাময় জেলা হলেও দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে পিছিয়ে রয়েছে। নির্বাচনে যে-ই বিজয়ী হোক না কেন, চুয়াডাঙ্গার মানুষের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে গিয়ে মানুষের উন্নয়নকে প্রাধান্য দিতে হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে সকল রাজনৈতিক দলের জনপ্রতিনিধি ও সুধীজনদের নিয়ে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেব। জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী রুহুল আমিন বলেন, চুয়াডাঙ্গার মানুষ শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়। সহিংস রাজনীতি নয়, তারা উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে চুয়াডাঙ্গাকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের কল্যাণে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী হাসানুজ্জামান সজিব বলেন, রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য, ক্ষমতার জন্য নয়। আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত, নৈতিক ও মানবিক সমাজ গড়তে চাই, যেখানে জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। তিনি আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গার উন্নয়নের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ধর্মীয় মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠন এবং তরুণদের কর্মসংস্থানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাই। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জাকের পার্টির জেলা সভাপতি আব্দুল লতিফ খান যুবরাজ এবং কেন্দ্রীয় পরিষদের জাকের পার্টি ছাত্র ফ্রন্টের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমান জিয়া।

তাঁরা বলেন, এই শান্তি সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য হলো রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে শান্তি, সহাবস্থান ও উন্নয়নের বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

সমাবেশে জাকের পার্টির নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।