দর্শনা কেরু এ্যান্ড কোম্পানীর ১৯০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন

এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম ২য় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড ১৯০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে, যা প্রায় নয় দশকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বিদেশি মদ আমদানিতে কঠোর বিধিনিষেধ ও চড়া মুনাফার সুবাদে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই ডিস্টিলারিটি দারুণ সাফল্য পেয়েছে, যা কোম্পানিটির মুনাফা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

লোকসানি চিনি ইউনিটের ৬২ কোটি টাকা লোকসান সমন্বয় করার পরও কেরুর সমন্বিত নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১২৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৫২ শতাংশ বেশি। শুধু ডিস্টিলারি ইউনিট থেকেই মুনাফা গত অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে। এ থেকেই স্পষ্ট, মদের ব্যবসাই এখন কোম্পানিটির মূল আর্থিক চালিকাশক্তি।

তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিস্টিলারিটির মোট আয় ৩ শতাংশ কমে ৪৪৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। মূলত গত বছরের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে উৎপাদন ও মদের ব্যবহার কমে যায়।

তা সত্ত্বেও এই পরিসংখ্যান গত দুই বছরের কাছাকাছি। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরসহ টানা তিন বছর ধরে ডিস্টিলারি ইউনিটটি ধারাবাহিকভাবে ৪০০ কোটি টাকার বেশি মোট রাজস্ব ও ১০০ কোটি টাকার বেশি নিট মুনাফা অর্জন করেছে। এই ইউনিটে প্রায় বারো ধরনের মদ উৎপাদন হয়।

মুনাফার পাশাপাশি রাজস্ব বৃদ্ধির তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০১৯ অর্থবছর থেকে শুরু করে গত সাত বছরে প্রতিবারই মুনাফার ক্ষেত্রে আগের বছরকে ছাড়িয়ে গেছে কেরু। ডিস্টিলারি ইউনিটের নিট মুনাফার হার ৪৩ শতাংশ। অন্যদিকে চিনির ব্যবসা এখনও অলাভজনক রয়ে গেছে।

নিট মুনাফার মার্জিন একটি কোম্পানির লাভজনকতা নির্দেশ করে। সব খরচ বাদ দেওয়ার পর মোট রাজস্বের কত শতাংশ মুনাফা হিসেবে থাকে, তা-ই উঠে আসে নিট মুনাফায়। নিট মুনাফার হার বেশি হলে সেটি কোম্পানির দক্ষতা ও আর্থিক সক্ষমতার পরিচায়ক। এর অর্থ, কোম্পানি তাদের বিক্রি থেকে বেশি আয় ধরে রাখতে পারছে।

১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ও ১৯৭২ সালে জাতীয়করণ করা কেরু অ্যান্ড কো (বাংলাদেশ) মূলত একটি চিনিকল পরিচালনা করে। এর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি দর্শনায় অবস্থিত লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিস্টিলারিতে চিনির উপজাত ঝোলাগুড় থেকে স্থানীয়ভাবে অ্যালকোহল তৈরি করে।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি আখ থেকে চিনি তৈরির পর অবশিষ্টাংশ বা ছোবড়া থেকে জৈব-সার উৎপাদন করে। কোম্পানিটির বাণিজ্যিক খামার ও একটি ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিটও রয়েছে।

কেরুর কর্মকর্তারা জানান, ২০২১ সালে সরকার বিদেশি মদ আমদানিতে বিধিনিষেধ কঠোর করার পর থেকে কেরু ব্র্যান্ডের মদের চাহিদা বেড়েছে। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে কেরুকে তার সক্ষমতা ও উৎপাদন দুটিই বাড়াতে হয়েছে।

কেরুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, ‘কোম্পানির ইতিহাসে ডিস্টিলারি ইউনিট থেকে এত বেশি মুনাফা আর কখনও হয়নি। বিদেশি মদ আমদানিতে কঠোর বিধিনিষেধের কারণে দেশে উৎপাদিত কেরু ব্র্যান্ডের মদের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আমাদের উৎপাদন বাড়াতে হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু ডিস্টিলারি ইউনিটই নয়, কেরুর অন্যান্য ব্যবসায়িক বিভাগ—খামার, জৈবসার ও ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিটগুলোও এ বছর ইতিহাসে সর্বোচ্চ মুনাফা করেছে।’

অধিক মুনাফা সত্ত্বেও বিক্রি কমে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে বিক্রি কিছুটা কমে গিয়েছিল। তবে বছরের শেষের দিকে তা আবার বাড়ে, যা মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়।

রাব্বিক আরও বলেন, ‘কারখানার অভ্যন্তরীণ ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও ডিস্টিলারি ইউনিটের বকেয়া পাওনা আদায়ের মতো বেশ কিছু উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা মুনাফার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছি। এছাড়া গত বছর আমরা মদের দামও বাড়িয়েছি।’

চিনি ইউনিটের জন্য ১০২ কোটি টাকার বিএমআরই প্রকল্প

মদ থেকে বিপুল মুনাফা এলেও কেরুর চিনি উৎপাদন কার্যক্রম কেরুর আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬২ কোটি টাকা লোকসানের ফলে এর মোট পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ৯৩১ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

কেরুর সুযোগ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান, যোগদানের পর থেকে চিনিকলটির সব বিভাগ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।চিনি বাদে সব বিভাগে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রুপ নিয়েছে।তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাজারের চাহিদা অনুযায়ী চিনি উৎপাদন করতে পারছি না। ফলে আখ মাড়াই করে উৎপাদিত চিনিতে বড় ধরনের লোকসান হচ্ছে। এর সঙ্গে ঋণের উচ্চ সুদ চিনি ইউনিটের লোকসানকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।’

চিনি ইউনিটকে পুনরুজ্জীবিত করতে কেরু ১০২ কোটি টাকা ব্যয়ে এর আধুনিকায়নের কাজ করছে। এর মধ্যে ৯২ কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে ও ১০ কোটি টাকা কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে আসছে।

বিএমআরই (ব্যালেন্সিং, মডার্নাইজেশন, রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড এক্সপ্যানশন) প্রকল্পটি ২০১২ সালে দুই বছর মেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে শুরু হলেও বারবার বিলম্বের শিকার হয়েছে এবং ১৩ বছর পরেও পরীক্ষামূলক উৎপাদন শেষ করতে পারেনি। সম্প্রতি আখ মাড়াই মৌসুম সময়ের আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় পরীক্ষামূলক উৎপাদন ব্যর্থ হয়। এরপর প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

এই বিনিয়োগ চিনি ইউনিটকে লাভজনক করতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রাব্বিক হাসান বলেন, ‘সরকার আধুনিকায়নের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। এটি শেষ হলে আগামী বছর নতুন প্রকল্পটি চালু হবে। তখনই কেবল বলা সম্ভব হবে এটি আসলেই লাভজনক হবে কি না।’




ঝিনাইদহে দেশ রূপান্তর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

ঝিনাইদহে জাতীয় দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় ঝিনাইদহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দেশ রূপান্তর পত্রিকার ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ।

অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহ সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, আবুবকর বিশ্বাস, যুগ্ম সম্পাদক এম শাহজাহান আলী, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন, সাবেক সভাপতি সাইফুল মাবুদ, নিজাম জোয়ার্দার বাবলু, বিমল সাহা, এম রায়হান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আজাদ রহমান, মাহমুদ হাসান টিপু, ফয়সাল আহমেদ, সময় টেলিভিশনের নিজস্ব প্রতিবেদক লোটাস রহমান সোহাগ, স্টার নিউজ টেলিভিশনের প্রতিনিধি শাহজাহান নবীন, বাংলাদেশ বেতারের জেলা প্রতিনিধি আহসান কবির, সাংবাদিক বসির আহাম্মেদ প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। দেশ রূপান্তর পত্রিকাসহ দেশের সকল পত্র-পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া দেশ ও জনগণের কল্যাণে গঠনমূলক ও বস্তনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।




চুয়াডাঙ্গায় ভাড়া বাসা থেকে যুবতীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার শেখ পাড়া থেকে যুবতীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মুমতাহেনা অহনা (২২) নামের ওই তরুণী চুয়াডাঙ্গা শেখ পাড়াতে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

এলাকায় জানাজানি ও চাঞ্চল্য সৃস্টি হলে বুধবার সাড়ে ৩টার দিকে খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধারের কাজ শুরু করে। ভাড়া বাড়িতে একায় থাকতেন তিনি।

নিহত মুমতাহেনা অহনা গোপালগঞ্জ জেলা সদরের বাসিন্দা। তিনি চুয়াডাঙ্গা সমবায় নিউ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত ‘রংধনু গিফট গার্ডেন’এ ব্র্যান্ড প্রমোটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছেছে এবং মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

রংধনু গিফট গার্ডেনের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান জুয়েল বলেন, মুমতাহা অহনা টেকমো এন্টারপ্রাইজ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের অধিনে চাকরি করছেন।

আমার দোকানের ব্র‍্যান্ড প্রোমোটার ছিলেন। আজ সকালে দোকানে না আসায় মোবাইলফোনে অসংখ্য কল করা হলেও কোন সাড়া পাইনি। দুপুরে জানতে পারি শেখপাড়াস্থ বাড়া বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রায় বছর খানেক যাবত আমার দোকানে কর্মরত ছিল। গত কয়েকদিন আগেই শেখপাড়ায় ভাড়া বাড়িতে উঠে। তিনি ডিভোর্সি ছিলেন। পারিবারিক কারণে হয়তো আত্মহত্যা করতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাড়ির মালিক বলেন, এক শিশু ঝুলন্ত অবস্থায় দেখার পর আমাদেরকে জানায়। পরে আমরাও জানালা দিয়ে দেখি ঝুলন্ত অবস্থায়। পরে সদর থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার কাজ চালাই।




জাতীয় সংকট মোকাবেলায় দীন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই

জাতীয় সংকট মোকাবেলায় আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন হেযবুত তওহীদের শীর্ষ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দীতে সংগঠনটির ঈদ পুনর্মিলনী ও কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার, দরিদ্রের ওপর ধনীর বঞ্চনা এবং শাসিতের ওপর শাসকের জুলুম চলছে। পৃথিবী এক ধরনের নরককুণ্ডে পরিণত হয়েছে।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এসব সংস্থা শান্তি, নিরাপত্তা, মানবতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আদালতে বিপুলসংখ্যক মামলা ঝুলে আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সামাজিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গুজব ও অপতথ্য এখন মহামারীর আকার ধারণ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে সহিংসতা উসকে দেওয়া হচ্ছে।

প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বহুবার সংবিধান সংশোধন হলেও মানুষের কাঙ্ক্ষিত মুক্তি আসেনি। নির্দিষ্ট সময় পরপর শুধু শাসক পরিবর্তন হচ্ছে, কিন্তু বাস্তব পরিবর্তন ঘটছে না।

তিনি আরও বলেন, মানুষের তৈরি তন্ত্র দিয়ে প্রকৃত মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ব্রিটিশ আমলের রাজনৈতিক, বিচারিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো বর্তমান সময়ে কার্যকর নয়।

দীনের শাসনব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, কোরআনের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনা করলেই প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

মেহেরপুর জেলা হেযবুত তওহীদের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন, উপদেষ্টা নিয়ামুদ্দীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুফায়দাহ পন্নী, খুলনা বিভাগীয় সভাপতি তানভীর আহমেদ, আঞ্চলিক সভাপতি জসেব উদ্দিন এবং জেলা সভাপতি সাহারুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শামসুজ্জামান মিলন। সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।




মেহেরপুরে আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস পালিত

মেহেরপুরে আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস পালিত হয়েছে। দিবস উপলক্ষে মেহেরপুরে র‍্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে মেহেরপুর শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে একটি র‍্যালি বের হয়ে জেলা পরিষদ পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

“আর নয় শব্দদূষণ, চাই সুস্থ জীবন” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শিল্পী রানী রায়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আতিকুল হক, সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম আর সাইফ এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরিকুল ইসলাম। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, অতিরিক্ত শব্দ মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।




মেহেরপুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচন স্থগিত

তফসিলে নির্ধারিত দিনে কোন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ না করায় মেহেরপুর প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার মেহেরপুর প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশন এ নির্বাচন স্থগিত করে।

স্থগিতাদেশে বলা হয়েছে, মেহেরপুর প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত দিন মনোনয়ন পত্র বিক্রয় না হওয়ায় তফসিলের অন্যান্য কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আগামী ১০ মে মেহেরপুর প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে ভোট গ্রহণের দিন ধার্য ছিলো। তফসিল অনুযায়ি ২৫ এপ্রিল খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয় ২৭ এপ্রিল। গতকাল ২৮ এপ্রিল ছিলো মনোনয়নপত্র বিক্রয়।

আজ ২৯ এপ্রিল ছিলো মনোনয়ন পত্র দাখিলের দিন। ২ মে ছিলো খসড়া প্রার্থী তালিকা ও ৫ মে ছিলো চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ।

এদিকে, এনপিবি নিউজ ও বাংলা ট্রিবিউনের মেহেরপুর প্রতিনিধি আবু আক্তার করণের সদস্য পদ ফিরিয়ে না দেওয়ায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আইনগত নোটিশ পাঠিয়েছেন তিনি।
আবু আক্তার করণের আইনজীবী সেলিম রেজা কল্লোল প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ৩দিনের মধ্যে সদস্যপদ পুন:বহাল করার জন্য বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আইনগত নোটিশে জানানো হয়েছে।




মেহেরপুরে ঘুমন্ত মানুষের ঘরে ঢুকে পড়লো মাদকবাহী মাইক্রোবাস

মেহেরপুর সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী তেরঘরিয়া গ্রামে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি দ্রুতগতির মাইক্রোবাস ঘুমন্ত মানুষের ঘরের দেওয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েছে।

এ ঘটনায় ঘরের দেওয়াল চাপা পড়ে আরশাদ আলী নামের এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে দেড় কেজি গাঁজাসহ অনিক হোসেন বিপ্লব নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) ভোর পাঁচটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, তেরঘরিয়া গ্রামের সড়কের পাশেই আরশাদ আলীর বাড়ি। ভোরে যখন বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন দ্রুতগতির একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে তার ঘরে আঘাত করে।

এতে ইটের দেওয়াল ভেঙে পড়ে ঘরের মালিক আরশাদ আলী আহত হন। ধাক্কা দেওয়ার পর মাইক্রোবাসটি রাস্তার ওপর উল্টে যায়।

বিকট শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা দেখতে পান মাইক্রোবাসটির ভেতরে গাঁজা রয়েছে। এ সময় স্থানীয় জনতা মাইক্রোবাসের চালক অনিক হোসেন বিপ্লবকে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয়রা তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। আহত আরশাদ আলীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

মেহেরপুর সদর থানার রামদাসপুর পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) অনুপ কুমার দাস জানান, সীমান্ত এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে মাইক্রোবাসটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে গন্তব্যে যাচ্ছিলো। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি ওই বাড়িতে ঢুকে পড়ে।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে দেড় কেজি গাঁজা ও দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়েছে। আটক বিপ্লবের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এই ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।




আলমডাঙ্গার অনুপনগরে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ঘুম, সমালোচনায় প্রধান শিক্ষক

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার অনুপনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে অফিস কক্ষে ঘুমানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে স্কুল চলাকালীন সময়ে তাঁর ঘুমানোর কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক নিয়মিতভাবে ক্লাস না নিয়ে অফিস কক্ষে সময় কাটান। কখনও কখনও শিক্ষার্থীদের ক্লাস বন্ধ রেখে তিনি ঘুমান বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।মঙ্গলবারও তাঁকে অফিস কক্ষে চেয়ারে বসে ঘুমাতে দেখা যায়। সেই সময়ের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

এদিকে, এর আগেও ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ রয়েছে। অভিভাবকদের দাবি, গত ১১ এপ্রিল ক্লাস চলাকালে তেলাপোকা দেখে ভয় পেয়ে চিৎকার করায় কয়েকজন ছাত্রীকে মারধর করেন তিনি। এতে অন্তত আটজন ছাত্রী আহত হয়। পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে সেদিন রাতেই অভিভাবকেরা স্কুল প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে প্রধান শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানান। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় মাঝে মাঝে অফিস কক্ষে বিশ্রাম নেন। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি।

অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক উগ্র মেজাজের এবং প্রায়ই শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। তিনি নিয়মিত দেরিতে স্কুলে আসেন এবং অনেক সময় ক্লাস শেষ হওয়ার আগেই চলে যান। সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক ভালো নয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুসের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।




আদালতের নির্দেশে আলমডাঙ্গার চার ইউপি চেয়ারম্যান স্বপদে পুনর্বহাল

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার চারটি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের স্বপদে পুনর্বহাল করা হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনার আলোকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।

গত ২২ এপ্রিল জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে বিষয়টি জানানো হয়। পুনর্বহাল হওয়া চেয়ারম্যানরা হলেন চিৎলা ইউনিয়ন পরিষদের হাসানুজ্জামান সরোয়ার, খাদেমপুর ইউনিয়ন পরিষদের মোজাহিদুর রহমান জোয়াদ্দার, ডাউকি ইউনিয়ন পরিষদের তরিকুল ইসলাম এবং খাসকররা ইউনিয়ন পরিষদের তাফসির আহম্মেদ মল্লিক লাল।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ এবং বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে পূর্বে জারি করা প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়েছে।

এর আগে চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতির কারণে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম সচল রাখতে ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক আদেশে চারটি ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা এবং আইসিটি কর্মকর্তাকে যথাক্রমে ডাউকি, খাদেমপুর, চিৎলা ও খাসকররা ইউনিয়নে পূর্ণ আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা দিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

পরে এ আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ চেয়ারম্যানরা হাইকোর্ট বিভাগে পৃথক রিট পিটিশন দায়ের করেন। শুনানি শেষে ২০২৬ সালের ১২ মার্চ আদালত ওই আদেশের কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন এবং চেয়ারম্যানদের স্বপদে বহাল রেখে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেন।

পুনর্বহালের পর চেয়ারম্যানরা বলেন, আদালতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা দায়িত্ব পালন করবেন এবং জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকবেন।

আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, আদালতের নির্দেশনা এবং বিভাগীয় কমিশনারের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চেয়ারম্যানদের পুনর্বহালের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।




দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক

দেশের ঐতিহ্যবাহী ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি পরিদর্শন করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।

মঙ্গলবার দুপুরে তিনি কেরু অ্যান্ড কোম্পানির অতিথি ভবনে পৌঁছালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসানের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে জেলা প্রশাসক প্রতিষ্ঠানটির ডিস্টিলারি ইউনিটসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান সাহেল, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং কেরু অ্যান্ড কোম্পানির জিএম (প্রশাসন) আল ফারুক ওমর শরিফ গালিব, জিএম (কারখানা) সুমন কুমার সাহাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।