গাংনীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিশুর মৃত্যু

মেহেরপুরের গাংনীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেলাল হোসেন (৬) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল বুধবার রাতে গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের করমদী সাজিপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত বেলাল হোসেন ওই গ্রামের প্রবাসী মো. রকিবুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, বেলাল নিজ বাড়িতে একটি লোহার পেরেক নিয়ে টেবিলের ওপর খেলছিল। এ সময় তার মা মোবাইল ফোনে তার বাবার সঙ্গে কথা বলছিলেন। অসাবধানতাবশত শিশুটি হাতে থাকা পেরেকটি টেবিলের ওপর থাকা বৈদ্যুতিক সকেটে প্রবেশ করালে সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়।

পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় সন্ধানী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হক জানান, বেলাল টেবিলের ওপর বসে খেলছিল। এ সময় হাতে থাকা পেরেক সকেটে লাগলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরও বলেন, ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন এবং বিপজ্জনক বস্তু শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা উচিত।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, পেরেক সকেটে ঢোকানোর ফলে শিশুটি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) উত্তম কুমার দাস জানান, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।




আলমডাঙ্গায় বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রি, ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

আলমডাঙ্গায় বোতলজাত ভোজ্যতেল (সয়াবিন) নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি ও বাজারজাত করার অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার মুন্সিগঞ্জ বাজারে তদারকিমূলক অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় বোতলজাত সয়াবিন তেল নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি ও বাজারজাত করার অপরাধে মুক্তার হোসেন খানের প্রতিষ্ঠান ‘খান স্টোর’-কে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তিনি আরও জানান, তদারকির সময় ব্যবসায়ীদের আইন মেনে মানসম্মত পণ্য ক্রয়-বিক্রয়, ভাউচার সংরক্ষণ, মেয়াদোত্তীর্ণ ও মানহীন পণ্য বিক্রি থেকে বিরত থাকা এবং নির্ধারিত ও যৌক্তিক মূল্যে পণ্য বিক্রির জন্য সচেতন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন ক্যাব প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম এবং জেলা পুলিশের একটি টিম।

অধিদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে।




দর্শনায় ১৬ বছরের হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

দর্শনা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছরের হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

বুধবার ভোর রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আনিছুর রহমান দর্শনা থানাধীন রাঙ্গিয়ারপোতা মাঝপাড়ার মৃত বাবলু আলীর ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসানের নির্দেশনায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল গভীর রাতে তার নিজ বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় জি আর মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি আনিছুর রহমানকে আটক করা হয়।

দর্শনা থানার ওসি মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “জি আর মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে বুধবার চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”




আলমডাঙ্গায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব: ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

আলমডাঙ্গা উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে গাছপালা, বসতবাড়ি, দোকানপাট ও বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একাধিক স্থানে বড় গাছ উপড়ে সড়ক ও বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ে থাকায় যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিট থেকে রাত ৯টা ৫ মিনিট পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টা ধরে প্রবল বেগে ঝড় বয়ে যায়। এ সময় দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করেন।

ঝড়ের সময় উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশের পুরোনো ও বড় গাছ ভেঙে পড়ে। কোথাও কোথাও এসব গাছ বিদ্যুতের খুঁটি ও তারের ওপর পড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে রাতভর অন্ধকারে কাটাতে হয়েছে অনেক এলাকাবাসীকে।

এ ছাড়া ঝড়ে বেশ কিছু কাঁচা ও টিনশেড ঘরের চালা উড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাটের ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষকেরা জানান, মাঠের বিভিন্ন ফসল বিশেষ করে সবজি ও মৌসুমি চাষের গাছ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা।

ঝড়ের পরপরই অনেক এলাকায় সড়কের ওপর পড়ে থাকা গাছ সরাতে স্থানীয় লোকজন স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ শুরু করেন। তবে বিদ্যুতের তারের ওপর গাছ পড়ে থাকায় কিছু এলাকায় পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তালিকা প্রণয়ন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ দ্রুত পুনঃস্থাপনে কাজ চলছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়রা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পরিষ্কার, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




দামুড়হুদায় ইউটিউব দেখে আঙুর চাষ, আট মাসেই রানার সাফল্য

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুমারীদহ মাঠে কৃষক রানা আলীর আঙুর বাগানে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে রসালো আঙুর।

বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন তিনি। তার এই উদ্যোগে যেমন তিনি আশাবাদী, তেমনি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন আশপাশের কৃষকরাও।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউটিউব দেখে প্রথমে আঙুর চাষে আগ্রহী হন রানা আলী। পরে স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের পরামর্শে প্রায় এক বিঘা জমিতে আঙুর চাষ শুরু করেন।

আট মাস আগে জয়রামপুর গ্রামের কুমারীদহ মাঠে নিজের হলুদ গোলাপ ফুলের বাগানের মধ্যেই আঙুরের চারা রোপণ করেন তিনি। দেশীয় চারা ছাড়াও ভারত থেকে বাইকুনুর, গ্রিনলং, অ্যাকোলোর, জয়সিডলেস ও ব্ল্যাক ম্যাজিক জাতের চারা সংগ্রহ করে চাষ শুরু করেন রানা।

চারা রোপণের তিন মাসের মধ্যেই গাছে ফুল ও ফল আসতে শুরু করে। বর্তমানে আট মাসের মাথায় গাছে থোকায় থোকায় আঙুর ঝুলছে। আর মাত্র ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই ফল বাজারজাত করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

রানা আলি জানান, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত জমি প্রস্তুত, চারা, সার, সেচ, পরিচর্যা ও শ্রমিক ব্যয়সহ মোট খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। বাগানের নিয়মিত পরিচর্যার জন্য ছয়জন শ্রমিক কাজ করছেন। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতি কেজি আঙুর ৩০০ টাকা হলেও তিনি ২০০ টাকা দরে বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছেন।

সে হিসেবে প্রায় সাত লাখ টাকার আঙুর বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। তার বাগান দেখতে প্রতিদিনই স্থানীয় কৃষকদের ভিড় জমছে।

এছাড়া তিনি ১২ হাজার কলমের চারা উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করে ইতোমধ্যে ১,২০০টি চারা উৎপাদন করেছেন, যার মধ্যে বিক্রি করেছেন তিন লাখ ৬০ হাজার টাকার চারা।

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানান, নতুন ফল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে তারা সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

দামুড়হুদা উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, এলাকার মাটি ও আবহাওয়া আঙুর চাষের জন্য উপযোগী।

সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে এটি কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে। তিনি আরও বলেন, রানা আলীর এই উদ্যোগ অন্য কৃষকদেরও উদ্বুদ্ধ করবে।




জ্বালানি সংকটে মেহেরপুরে মোটরসাইকেল বিক্রিতে ভাটা

ঈদু মৌসুমে প্রতি বছর মোটরসাইকেল বিক্রির সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন বিক্রেতারা। তবে এবার জ্বালানি সংকটের কারণে ঈদের পর মেহেরপুরে মোটরসাইকেল বিক্রিতে অস্বাভাবিক মন্দা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় ডিলার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্যান্য বছরের মতো ঈদের আগে বিশেষ ছাড় ও অফার থাকলেও এবার তেল সংকটের কারণে অনেক ক্রেতাই মোটরসাইকেল কেনার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে যাচ্ছেন।

তবে মেহেরপুরে ইলেকট্রিক বাইকের বিক্রি বেড়েছে। আগে যেখানে একটি শোরুমে মাসে তিন থেকে চারটি ইলেকট্রিক বাইক বিক্রি হতো, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫টি।

বিক্রেতারা জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে মোটরসাইকেল ব্যবহারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন মোটরসাইকেল কেনার আগ্রহ কমে গেছে। অনেক ক্রেতাই এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। এছাড়া বাইক সার্ভিসিং এর সংখ্যাও কমে গেছে।

মেহেরপুর শহরের মেসার্স হোসেন মোটরসাইকেল গ্যালারির ম্যানেজার নাইহান নাহিদ বলেন, ঈদের সময় স্বাভাবিকের তুলনায় বিক্রি ভালই ছিল, কিন্তু এই মাসে তেল সংকটের কারণে বেচাকেনা প্রায় শূন্য। আমাদের বিক্রি ৯০% কমেছে।

বাজাজ শোরুমের মোঃ হাসিদুর রহমান বিপ্লব জানান, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির তুলনায় এই মাসে বিক্রি অনেক কম। তেল সংকটের কারণে মানুষ মোটরসাইকেল চালাচ্ছে না, কিনছে ও না।

হিরো শোরুমের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ কবিরুজ্জামান সেন্টু বলেন, তেলের সংকটের পর বিক্রি আগের তুলনায় প্রায় ৯০% কমে গেছে।

ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল শোরুমের মোঃ রোহিত ইসলাম বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আগের তুলনায় আমাদের ইলেকট্রিক বাইকের বিক্রি দ্বিগুণ। যেখানে মাসে পাঁচ থেকে ছয়টি বিক্রি হতো, এখন আমরা মাসে ১৫ থেকে ২০টি বিক্রি করতে পারছি।

জেলা শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক সময় প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না।

রাইডার ও সাধারণ চালকরা জানান, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে তারা আগের মতো গাড়ি চালাতে পারছেন না।

গাংনী থেকে এক রাইডার বলেন, তেল নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়। এজন্য এখন ট্রিপ কমিয়ে দিয়েছি।
বিক্রেতারা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনগুলোতে বিক্রি আরও কমে যাবে।




দর্শনায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশুর মৃত্যু

দর্শনায় তেলবাহী ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে আতিকা (৩) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত আতিকা দর্শনা মোবারকপাড়ার আতাহারের মেয়ে এবং সোনালী ব্যাংকের ক্যাশিয়ার মোবারকের নাতনি।

বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে দর্শনা হঠাৎপাড়া রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোনালী ব্যাংকের ক্যাশিয়ার মোবারকের স্ত্রী শিশুটি আতিকাকে সঙ্গে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে সিএনজিযোগে দর্শনার দিকে আসছিলেন। হঠাৎপাড়া রেলগেটে নামার সময় রাস্তার অপর পাশে তার নানা মোবারক দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় শিশুটি দৌড়ে রাস্তা পার হতে গেলে যশোর চ-০১-০০০২ নম্বরের একটি তেলবাহী ট্রাক তাকে চাপা দেয়। ট্রাকের চাকা শিশুটির মাথার ওপর দিয়ে চলে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর দর্শনা থানা পুলিশ ট্রাকটি জব্দ করে এবং চালক নিমাই চন্দ্র অধিকারীকে আটক করে।

এ বিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে তেলবাহী ট্রাক ও এর চালককে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”




আলমডাঙ্গা ডামোশ-ঘোলদাড়ি খাল পুনঃখননের উদ্বোধনের প্রস্তুতি পরিদর্শনে শরিফুজ্জামান শরিফ

দীর্ঘদিনের দাবি ও অপেক্ষার পর অবশেষে আলমডাঙ্গা উপজেলার ডামোশ থেকে ঘোলদাড়ি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখননের অনুমোদন পাওয়া গেছে। অচিরেই এই খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে চলছে জোর প্রস্তুতি।

বুধবার সকালে প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিদর্শন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফ।

বহু বছর ধরে অবহেলা, দখল ও ভরাটের কারণে প্রায় বিলীন হয়ে যাওয়া খালটি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ সরকারের পানি উন্নয়ন মন্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডামোশ থেকে ঘোলদাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত এই খালটি একসময় এলাকার কৃষি ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। বর্ষা মৌসুমে আশপাশের জমির অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতো এবং শুষ্ক মৌসুমে খালের পানি ব্যবহার করে কৃষকেরা সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাব, বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখল, মাটি ফেলে ভরাট এবং আবর্জনা জমতে জমতে খালটির অনেকাংশ কার্যত অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা সৃষ্টি হয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দেয় এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটে পড়েন কৃষকেরা। এতে এলাকার কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

এ অবস্থায় খালটি পুনঃখননের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী। অবশেষে সেই দাবি বাস্তবায়নের পথে এগোনোয় এলাকায় স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। খাল খননের অনুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, খালটি সচল হলে আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশন হওয়ায় জলাবদ্ধতার সমস্যাও অনেকাংশে কমে যাবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকদের আর্থিক ক্ষতিও কমবে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে খাল খননের কাজ শুরু করা হলে এলাকার কৃষি ও পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে খালটি যেন আবার দখল ও ভরাটের শিকার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ডামোশ থেকে ঘোলদাড়ি পর্যন্ত এই খাল পুনঃখনন করা হলে শুধু কৃষি নয়, এলাকার সার্বিক পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ খালটি দ্রুত পুনরুদ্ধার করে আগের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা হবে।




ঝিনাইদহে পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় ধর্মযাত্রা

পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় এক ব্যতিক্রমধর্মী ধর্মযাত্রায় বের হয়েছেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি এলাকার বাসিন্দা সরোজিত কর্মকার।

নিজ বাড়ি থেকে যাত্রা শুরু করে তিনি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে গীতা পাঠ ও ধর্ম প্রচার করে এখন ঝিনাইদহে পৌচেছেন।

মঙ্গলবার রাতে ঝিনাইদহ শহরের গিলাবাড়িয়া শিব মন্দির প্রাঙ্গণে তিনি গীতা পাঠ করেন। এ সময় স্থানীয় ভক্ত ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে ধর্মীয় আবহ সৃষ্টি হয়। গীতা পাঠের মাধ্যমে তিনি মানুষের মাঝে নৈতিকতা ও ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করার আহ্বান জানান।

সরোজিত কর্মকার জানান, তার এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা করা এবং সমাজে ধর্মীয় মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়া। তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে আধ্যাত্মিক চর্চা বাড়লে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা সহজ হবে। ধর্মযাত্রার অংশ হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে কয়েকটি এলাকায় গীতা পাঠ করেছেন আগামী দিনগুলোতে মাগুরা জেলার বিভিন্ন স্থানসহ সদর উপজেলার আলমখালী এলাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানেও তিনি একইভাবে গীতা পাঠ ও ধর্ম প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি।




শৈলকুপায় মুদি দোকানিকে কুপিয়ে যখম

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার হুদাকুশোবাড়িয়া গ্রামে আনোয়ার মন্ডল নামের এক মুদি দোকানিকে কুপিয়ে যখম করেছে প্রতিপক্ষরা।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) রাত ৯ টার দিকে উপজেলার আওধা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহত আনোয়ার মন্ডল হুদাকুশোবাড়িয়া গ্রামের মৃত জনাব আলী মন্ডলের ছেলে। বর্তমানে তিনি মাগুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আহতের স্বজনরা জানায়, মঙ্গলবার রাত ৯ টার দিকে আনোয়ার মন্ডল তার দোকান বন্ধ করছিলেন। সেসময় হুদাকুশোবাড়িয়া গ্রামের ফারুক মন্ডল, সুমন মন্ডল, জামাল হোসেন, আতিক হোসেন, নিশান ও রবিউল মুন্সী আনোয়ারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর যখম করে। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মারধরের ব্যাপারে ফারুক মন্ডল বলেন, আমি এমন কোন ঘটনাতো জানি না। তাই বলে ফোন কেটে দেন।

শৈলকুপা থানার ওসি ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লাকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। অপরদিকে লাঙ্গলবাধ ক্যাম্পের আইসি এস আই আনিসুজ্জামানের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।