মেহেরপুরে ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের দারুণ উদ্ভাবনের প্রদর্শনী

মেহেরপুরে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই মেলায় ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা স্বয়ংক্রিয় কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, ফার্ম সম্প্রসারণ প্রযুক্তি, উন্নত কৃষি ব্যবস্থা এবং ফ্যাক্টরি কার্বন ফিল্টারসহ নানা উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করছে।

বুধবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে, জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এ মেলার উদ্বোধন করা হয়।

মেলার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শিল্পী রাণী রায়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ খায়রুল ইসলাম।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি বলেন, বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তাধারা ও গবেষণামুখী মনোভাব দেশকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী কাজ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার আহ্বান জানান।
মেলায় জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে তাদের উদ্ভাবিত নানা প্রকল্প উপস্থাপন করছে।

মেলায় আগত দর্শনার্থীরা শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রকল্প ঘুরে দেখছেন এবং তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাধারার প্রশংসা করছেন।

আয়োজকরা জানান, দুই দিনব্যাপী এই মেলায় বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, প্রদর্শনী এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। মেলার শেষ দিনে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।




মুজিবনগরে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফার্স্ট কনসার্নের ঘুড়ি উৎসব

“মাদক নয়, উড়াই ঘুড়ি, আলোকিত সমাজ গড়ি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মেহেরপুরের মুজিবনগরে ব্যতিক্রমধর্মী মাদকবিরোধী ঘুড়ি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় মুজিবনগর উপজেলা খেলার মাঠে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফার্স্ট কনসার্ন (BYFC), মুজিবনগর শাখার আয়োজনে এবং মুজিবনগর উপজেলা প্রশাসন ও মেহেরপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করা এবং একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ার লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রাসেল আহমেদ, পরিদর্শক বিদ্যুৎ বিহারী নাথ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সেলিম রেজা।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মুজিবনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মুন্সী ওমর ফারুক প্রিন্স, সাধারণ সম্পাদক হাসান মোস্তাফিজুর রহমানসহ প্রেসক্লাবের সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইয়ুথ ফার্স্ট কনসার্ন, মুজিবনগর শাখার প্রোগ্রাম ম্যানেজার জন অমৃত মণ্ডল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা বলেন, “যুবসমাজই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের মাদকমুক্ত রাখতে হলে এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি আরও বেশি আয়োজন করা জরুরি।”

বিশেষ অতিথিরা মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে বলেন, মাদক প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

উৎসবে অংশগ্রহণকারী তরুণ-তরুণীরা রঙিন ঘুড়ি উড়িয়ে আনন্দ-উল্লাসের মাধ্যমে মাদকবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে দেন। পুরো অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে, যাতে একটি মাদকমুক্ত ও আলোকিত সমাজ গড়ে তোলা যায়।

ঘুড়ি ওড়ানোতে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।




কোটচাঁদপুরে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দিলেন স্ত্রী

কোটচাঁদপুরে স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার গভীর রাতে উপজেলার বলাবাড়িয়া খানপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে স্বামী উজ্জ্বল খাঁ কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জানা গেছে, কোটচাঁদপুরের বলাবাড়িয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর খাঁর ছেলে উজ্জ্বল খাঁ (৪২)। দীর্ঘদিন ধরে তারা একত্রে সংসার করলেও প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ চলত তাদের মধ্যে। মঙ্গলবার সকালে এ দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। তবে অনেকেই এই ঘটনা চরম সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ঘটনার বিষয়ে স্বামী উজ্জ্বল খাঁ বলেন, “আমি ক্লাস ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময় রুবিনাকে বিয়ে করি। সেই সময় থেকে আমরা একসাথে সংসার করছি এবং দুই কন্যা সন্তানের জনক। কিছুদিন ধরে রুবিনা আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করছিল। এজন্য আমি বাইরে ছিলাম। সোমবার রাতে বাড়ি ফিরে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি।

এ সুযোগে সে ধারাল দান্ট দিয়ে আমার গোপনাঙ্গে কোপ দেয়। চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন ছুটে আসে। এরপর আমাকে কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান বলেন, “উজ্জ্বলের পরিবারের লোকজন থানায় এসে মামলা করেছেন। মামলা হলে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




ঝিনাইদহের নতুন ডিসি নোমান হোসেন

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) মো. নোমান হোসেনকে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন মোঃ ইসমাইল হোসেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে ঝিনাইদহের বর্তমান জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানাগেছে। উল্লেখ, বেশ কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আব্দুল্লাহ আল মাসুদকে নিয়ে নেতিবাচক খবর প্রকাশিত হয়।

এবং সর্বশেষ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সদ্যবিদায়ী নির্বাহী অফিসার হোসনেয়ারার বদলির পর তার অডিও রের্কড ফাঁস হয়। এরপর দেশজুড়ে আলোচনায় আসে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহআল মাসউদ।

 




ঝিনাইদহে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত

স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭এপ্রিল) সকালে সিভিল সার্জন অফিসের সামনে থেকে একটি র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীটি বিভিন্ন সড়ক ঘুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়| পরে সিভিল সার্জন অফিসের সম্মেল কক্ষে হয় আলোচনা সভা। এতে সিভিল সার্জন ডা.মো. কামরুজ্জামান, সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা.মোস্তাফিজুর রহমান, সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা: মালিহা ইসলাম আইভি, ফারহানা তাসনিম, সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহমানসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন|

বিজ্ঞানভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব উল্লেখ করে বক্তারা সচেতনতা বৃদ্ধি ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।




মেহেরপুরে বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

মেহেরপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়।

আসন্ন বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে যথাযোগ্য মর্যাদা, আনন্দঘন পরিবেশ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় নববর্ষের বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এসময় বক্তারা বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি নিরাপদ, সুন্দর ও আনন্দমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হবে।




গাংনীতে ট্রলির চাকা খুলে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু, আহত ৬

মেহেরপুরের গাংনীতে ছাদ ঢালাই কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে স্যালো ইঞ্জিন চালিত ট্রলির চাকা খুলে সাবেদুল ইসলাম (৪৫) নামের এক নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এসময় ৬ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার সকালে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া মহাসড়কের আকুবপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাবেদুল ইসলাম গাংনী উপজেলার তেরাইল গ্রামের বিলপাড়া এলাকার কায়েমউদ্দিনের ছেলে।

ট্রলিতে থাকা আরও ৬ জন আহত হয়েছেন। তারা হলেন তেরাইল গ্রামের বিলপাড়া এলাকার নজরুল ইসলাম (৫০), সজিব হোসেন (১৬), ইসরাফিল হোসেন (৩৫), তুহিন হোসেন (২৪), জহুরুল ইসলাম (৪৭) এবং ভরাট গ্রামের সুরুজ হোসেন (১৬)।

আহতদের উদ্ধার করে বামুন্দির একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় জানান,মঙ্গলবার সকালে তেরাইল বাজার থেকে সাত জন শ্রমিক শ্যালো ইঞ্জিনচালিত একটি ট্রলিতে করে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা বাজারে একটি বাড়ির ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করতে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে আকুবপুর এলাকায় পৌঁছালে ট্রলিটির চাকা খুলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে যায়। এ সময় ট্রলির নিচে চাপা পড়ে সাবেদুল ইসলামের বাম পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

‎স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথে দুপুরের দিকে তার মৃত্যু হয়।

গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ উত্তম কুমার দাস সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।




গাংনীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়লো বসতবাড়ি ও পানের বরজ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুরে মধ্যরাতে গোয়ালঘরে আগুন লেগে তিনটি গরু দগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দুটি গরু পুড়ে মারা গেছে। আগুনে বসতবাড়ি ও পাশের পান চাষের বরজ পুড়ে যায়। এক নিমিষেই তিন বিঘা জমির পানের বরজসহ চারটি পরিবারের স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনাটি সোমবার মধ্যরাত ১২টার দিকে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মিলিটারি পাড়ায় মিন্টু হোসেনের বাড়িতে ঘটে। পানের বরজের মালিকরা হলেন একই এলাকার নজরুল ইসলাম ও ইন্তাজুল হক।

স্থানীয়দের ধারণা, গরু রাখা গোয়ালঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মিন্টু হোসেন বলেন, “রাতে বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখে বাড়ির দিকে ছুটে আসি।

কোনোভাবে পরিবারের সদস্যদের ঘর থেকে বের করতে পেরেছি। কিন্তু আমার তিনটি গরু, মুরগি ও ঘরের সব আসবাবপত্র চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গরুগুলো ঋণের টাকায় কিনেছিলাম। এখন কীভাবে সেই ঋণ শোধ করবো বুঝতে পারছি না। গতকাল সব ছিল, আজ আমি নিঃস্ব।”

পান চাষি নজরুল ইসলাম বলেন, “বাড়ির পাশে দুই বিঘা জমিতে পানের আবাদ ছিল। রাতে শুনতে পাই বরজে আগুন লেগেছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে সব পুড়ে গেছে। আমি জমি লিজ নিয়ে চাষ করেছিলাম, এখন সব শেষ।”

আরেক চাষি ইন্তাজুল হক বলেন, “রাতের আগুনে আমাদের বরজের সব পান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমি ও আমার পরিবার পথে বসে গেছি। প্রায় ১৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, মধ্যরাতে মিন্টু হোসেনের গোয়ালঘরে আগুন লাগে। এতে তিনটি গরু দগ্ধ হয়, যার মধ্যে দুটি মারা গেছে। গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। মিন্টু একজন অসহায় মানুষ; ঋণ করে গরু কিনেছিলেন, এখন তার সবকিছুই পুড়ে গেছে।

কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম হুসাইন বলেন, “আগুনে একটি পরিবারের বসতবাড়ি ও তিনটি গরু পুড়ে গেছে। পাশাপাশি পানের বরজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে এবং বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।”




গাংনীতে মশার কয়েলের আগুনে প্রাণ গেল বৃদ্ধার

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় মশার কয়েল থেকে সৃষ্ট আগুনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মরিয়ম খাতুন (৮৮) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার তেতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের করমদি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আজ দুপুরে নিহতের মরদেহ নিজ গ্রামে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

নিহত মরিয়ম খাতুন ওই গ্রামের খেড়ু শেখের স্ত্রী এবং ১২ সন্তানের জননী।

নিহতের মেজো পুত্রবধূ আশুরা খাতুন জানান, সোমবার রাত ৮টার দিকে শাশুড়িকে খাবার খাইয়ে মশার কয়েল জ্বালিয়ে তিনি নিজ ঘরে চলে যান। রাত ১১টার দিকে পোড়া গন্ধ পেয়ে বাইরে এসে দেখেন, শাশুড়ির বিছানায় আগুন জ্বলছে।

পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত আগুন নিভিয়ে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই শ্যামা পদ জানান, কয়েল থেকে সৃষ্ট আগুনে অগ্নিদগ্ধের একটি ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বৃদ্ধার মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন।




আলমডাঙ্গা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ড্রেন-রাস্তার চরম দুর্ভোগ, স্থানীয়দের উদ্যোগে সংস্কার শুরু

আলমডাঙ্গা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ড্রেন ও ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পৌরসভার কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় শেষ পর্যন্ত নিজ উদ্যোগেই ড্রেন পরিষ্কার ও রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বছরের পর বছর ধরে ওই এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা বিরাজ করছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ড্রেনের পানি উপচে রাস্তায় উঠে আসে এবং অনেক সময় বাসাবাড়ির ভেতরেও ঢুকে পড়ে। এতে পুরো এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

এ অবস্থায় স্থানীয়দের সম্মিলিত উদ্যোগে প্রায় ৪০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে ড্রেন পরিষ্কার ও আংশিক রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়েছে। সোমবার (৫ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ড্রেনের ঢাকনা খুলে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হচ্ছে, যাতে পানি চলাচল স্বাভাবিক থাকে। পাশাপাশি কাঁচা ও ভাঙা রাস্তাগুলো সংস্কারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা পৌরসভা থেকে কোনো ধরনের নাগরিক সুবিধা পাই না। বৃষ্টি হলেই ড্রেনের পানি ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে, তখন দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে যায়। বাধ্য হয়ে নিজেরাই কাজ শুরু করেছি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, ড্রেন সংস্কার, রাস্তা উন্নয়ন কিংবা জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভার কার্যকর কোনো উদ্যোগ দীর্ঘদিন দেখা যায়নি। ফলে দিন দিন স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।

এলাকাবাসী দ্রুত আলমডাঙ্গা পৌর প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে নাগরিকদের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তারা উন্নত ও টেকসই সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, নিরাপদ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত সড়ক বাতি এবং জনস্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ীভাবে ড্রেন ও রাস্তার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপই এখন এলাকাবাসীর একমাত্র প্রত্যাশা।