দর্শনা প্রেসক্লাবে হামলা: ভাঙচুর ও সাংবাদিক আহত

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা প্রেসক্লাবে একদল দুর্বৃত্তের হামলায় একজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা প্রেসক্লাবের ভেতরে ঢুকে মারধর, মোবাইল ফোন ভাঙচুর এবং লাইট বন্ধ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রেসক্লাব সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আজিমপুর গ্রামের আতর আলীর ছেলে চঞ্চলসহ কয়েকজন ব্যক্তি প্রেসক্লাবের আশপাশে ঘোরাফেরা করছিলেন। একপর্যায়ে তারা প্রেসক্লাবের দেয়ালে অশোভন আচরণ করেন এবং সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ সময় প্রেসক্লাবের অফিস সহকারী আব্বাস আলী বিষয়টি দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হান্নানকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চঞ্চল তার ওপর হামলা চালায় এবং তাকে মারধর করে। পরিস্থিতি বেগতিক হলে হান্নান প্রেসক্লাবের ভেতরে আশ্রয় নেন।

অভিযোগ রয়েছে, এরপর চঞ্চলের নেতৃত্বে আরও ১০-১২ জনের একটি দল জোরপূর্বক প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে। তারা লাইট বন্ধ করে অন্ধকারের মধ্যে হান্নানের ওপর হামলা চালায় এবং তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ভাঙচুর করে। এতে প্রেসক্লাব এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার খবর পেয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসানসহ পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় দর্শনা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেন। সভায় বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমন, সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান ধীরু, সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, প্রেসক্লাব কোনো সাধারণ স্থান নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সেখানে ঢুকে এ ধরনের হামলা গণমাধ্যমকে ভয়ভীতি দেখানোর শামিল। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেন বলেন, “এটি শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্বের অপচেষ্টা। আমরা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং প্রশাসনের কাছে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।”




ঝিনাইদহে বায়োপেস্টিসাইডের ব্যবহার বিষয়ক কর্মশালা

ঝিনাইদহে ব্র্যাক সিড টেকসই কৃষি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বায়োপেস্টিসাইডের ব্যবহার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার সকালে সদর উপজেলা পশ্চিম দূর্গাপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজ এর আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন সদর উপজেলা কৃষি অফিসার নুর-এ-নবী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার রিজওনাল সেলস ম্যানেজার আকতারুল ইসলাম। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ডিলার মোহাইমিনুল ইসলাম, ব্র্যাক এর কোটচাঁদপুর ব্রাঞ্চের সিনিয়র টেরিটোরি অফিসার আল আমিন, ঝিনাইদহের টেরিটোরি সেলস অফিসার জাকির হোসেন প্রমূখ। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পশ্চিম দূর্গাপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রবিউল ইসলাম।

প্রশিক্ষণ শেষে প্রধান অতিথি সদর উপজেলা কৃষি অফিসার নুর-এ-নবী সহ অতিথিবৃন্দ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ৫০ জন কৃষকের মাঝে ব্র্যাকের হাইব্রিড জাতের বীজ ও ঔষধ প্রদান করেন।




দামুড়হুদায় জোরপূর্বক কৃষকের পাকা ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক পাকা ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে উপজেলার গোবিন্দহুদা গ্রামের আইড়মারি বিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দহুদা গ্রামের মৃত মওলা বক্সের ছেলে মাসুম বিল্লাহ ওরফে মন্টুর সঙ্গে একই গ্রামের মৃত বরকত আলী মণ্ডলের ছেলে নুরুল হকের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে। এর জের ধরে প্রায় সাত মাস আগে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মন্টুর চাচাতো ভাই জয়নুর (৫০) নিহত হন এবং খাজা আহমেদ (৫৫) ও জাহির (৪৫) গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী মাসুম বিল্লাহ মন্টু দাবি করেন, তিনি ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমিতে গত দুই বছর ধরে চাষাবাদ করে আসছেন। শনিবার সকালে তিনি খবর পান, নুরুল হক ও তার সহযোগীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার প্রায় দুই বিঘা জমির পাকা ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। পূর্বের ঘটনার কারণে নিরাপত্তাহীনতায় তিনি ঘটনাস্থলে যেতে পারেননি।

তিনি আরও জানান, তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হলেও পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা ধান কেটে নিয়ে চলে যায়। এর আগেও তার জমি থেকে ভুট্টা ও গম কেটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে নুরুল হকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুলতান মাহমুদ বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।




গাংনীতে এতিম ও প্রতিবন্ধী শিশুদের সম্মানে বিশেষ আপ্যায়ন

“মানবিকতার টানে, হাসুক প্রতিটি মুখ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে কসবা ব্লাড ব্যাংক ও জনকল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে এতিম ও প্রতিবন্ধী শিশুদের সম্মানে এক বিশেষ আপ্যায়ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার দুপুরে গাংনী উপজেলার কসবা গ্রামে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আহাম্মদ আলী, টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের সহকারী অধ্যাপক রফিকুল আলম বকুল, লুৎফুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামাল হোসেন লাল্টু, সংগঠনের সভাপতি রাসেল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক সাগর ইসলাম, সহ-সভাপতি আজিজুল হক আকাশসহ অন্যান্য সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপদেষ্টা রফিকুল আলম বকুল বলেন, কসবার একঝাঁক তরুণের এই মহতী উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের অসচ্ছল, স্বামী পরিত্যক্তা নারী, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জন্য নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শীতকালে শীতবস্ত্র বিতরণ, ঈদে খাদ্যসামগ্রী প্রদান এবং জরুরি প্রয়োজনে রক্তদানসহ নানা মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি এ কার্যক্রমে যারা আর্থিক সহায়তা, সময় ও শ্রম দিয়েছেন তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান এবং ভবিষ্যতে আরও সক্রিয়ভাবে মানবসেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ও বিত্তবানদেরও এ ধরনের উদ্যোগে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

সংগঠনের সভাপতি রাসেল আহমেদ বলেন, “আমাদের চারপাশের এই নিষ্পাপ শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। তাদের মুখে হাসি ফোটানো এবং একবেলা তৃপ্তি সহকারে খাওয়ানোর এই ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতারই অংশ।”

তিনি আরও বলেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়াতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন এবং এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




মেহেরপুরের তেল পাম্প পরিদর্শনে এমপি তাজউদ্দিন খান

মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ছায়া মন্ত্রিসভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তাজউদ্দিন খান জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং কৃত্রিম সংকট রোধে তেল পাম্প পরিদর্শন করেছেন।

শনিবার সকালে তিনি মেহেরপুর শহরের বিভিন্ন তেল পাম্প পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পাম্প মালিক ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শনকালে তাজউদ্দিন খান জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন এবং কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করতে সতর্ক করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর শূরা কমিটির সদস্য ও সেক্রেটারি মো. ইকবাল হুসাইন, জেলা রাজনৈতিক সেক্রেটারি রুহুল আমিন, সদর উপজেলা আমির সোহেল রানা, সদর উপজেলা সেক্রেটারি জাব্বারুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা খালেদ সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।




গ্রাহকদের ধৈর্যের সঙ্গে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি মোকাবেলার আহ্বান এমপি তাজউদ্দিন খানের

মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খান বলেছেন, বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিক সংকট চলছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে সংসদে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে এবং আজকের মতবিনিময় সভার মাধ্যমে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমাদের চাহিদার তুলনায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি। যার ফলে গ্রাহক পর্যায়ে লোডশেডিং হচ্ছে। তাই গ্রাহকদের অনুরোধ করবো, এই সময়টা ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবেলা করতে। আশা করি, স্বল্প সময়ের মধ্যেই এই সংকট কেটে যাবে।”
শনিবার দুপুরে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তাজউদ্দিন খান আরও বলেন, “সবচেয়ে বড় সুখবর হলো, ঈশ্বরদীর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রেড সংযোগ শিগগিরই চালু হবে। মে মাসে চালুর কথা থাকলেও, জিএম মহোদয়ের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, এটি জুলাই-আগস্টের মধ্যে সংযুক্ত হতে পারে। এই সংযোগ হলে মেহেরপুরবাসী শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা পাবে বলে আশা করা যায়।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) স্বদেশ কুমার ঘোষ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোঃ শফিউদ্দিন আহমদ, এজিএম (প্রশাসন) মোহাঃ জাকির হোসেন, জেলা জামায়াতে ইসলামীর শূরা কমিটির সদস্য ও সেক্রেটারি মো. ইকবাল হুসাইন, জেলা রাজনৈতিক সেক্রেটারি রুহুল আমিন, সদর উপজেলা আমির সোহেল রানা, সদর উপজেলা সেক্রেটারি জাব্বারুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা খালেদ সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।




দামুড়হুদায় মৌমাছির কামড়ে সিকিউরিটি গার্ডের মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় মৌমাছির কামড়ে আনিছুর রহমান (৪৫) নামে এক সিকিউরিটি গার্ডের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি খালিশপুর কনটেক মিলের সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিহত আনিছুর রহমান দামুড়হুদা সদরের পুরাতন বাজার পাড়ার বাসিন্দা আবু-গানীর ছেলে। সে দুই সন্তানের জনক ছিলেন।

জানাগেছে, গতকাল শনিবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে জয়রামপুর দোয়ার ধারে পৌঁছালে হঠাৎ এক ঝাঁক মৌমাছির আক্রমণের শিকার হন তিনি। এতে গুরুতরভাবে আহত হলে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকায় প্রায়ই মৌমাছির ঝাঁক দেখা যায় এবং আগে থেকেও কয়েকজন আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তারা আরও বলেন, “হঠাৎ করেই মৌমাছির ঝাঁক এসে আনিছুর ভাইয়ের ওপর হামলা করে। আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারে চলছে আহাজারি। এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে।




স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, চিকিৎসায় আন্তরিকতা ও রোগীদের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান

স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, চিকিৎসা সেবায় আন্তরিকতা এবং রোগীদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ তাজউদ্দিন খান।

তিনি বলেন, কোনো রোগী যখন ডাক্তারের কাছে যায়, তখন সে মনে করে তাকে ঠিকভাবে দেখা হয়নি। আবার চিকিৎসকরা যখন ২৪ ঘণ্টা সেবা দিয়ে যান, তখন তারা মনে করেন তারা যথাযথ চিকিৎসা দিচ্ছেন। এই দূরত্ব কমাতে পারস্পরিক বোঝাপড়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন, মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে যেখানে ১৭৭ জন চিকিৎসক থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে আছেন মাত্র ২৫ জন। এছাড়াও অন্যান্য জনবলেরও সংকট রয়েছে। “এই সীমিত সম্পদই আমাদের পুঁজি এই পুঁজিকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে সর্বোত্তম সেবা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে আমাদের ভাবতে হবে,” যোগ করেন তিনি।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের হলরুমে চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোঃ সাজ্জাদ হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য তাজউদ্দিন খান।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএমএ মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি ডা. এম এ সালাম, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সূরা কমিটির সদস্য ও সেক্রেটারি মো. ইকবাল হুসাইন, জেলা রাজনৈতিক সেক্রেটারি রুহুল আমিন, সদর উপজেলা আমির সোহেল রানা, সদর উপজেলা সেক্রেটারি জাব্বারুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মতবিনিময় সভায় হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং সেবার মানোন্নয়নে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।




মুজিবনগরে বাথরুমে রাখা বালতিভর্তি পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

মেহেরপুরের মুজিবনগরে বাথরুমে রাখা বালতিভর্তি পানিতে ডুবে ইব্রাহিম ইবনে আরিয়ান নামের দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

আজ শনিবার ( ২৫ এপ্রিল) সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দারিয়াপুর খান কালিতলা মোড় এলাকায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে।

শিশু আরিয়ান একই এলাকার শরিয়ত হোসেন দুদুর ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় শিশুটি বাড়ির ভেতরে খেলা করছিল। পরিবারের সদস্যদের অগোচরে সে বাড়ির বাথরুমে ঢুকে পড়ে। সেখানে পানিভর্তি একটি বালতির মধ্যে উপুড় হয়ে পড়ে গেলে শিশুটি আর উঠতে পারেনি। বেশ কিছুক্ষণ তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তার মা বাথরুমে উঁকি দিয়ে দেখতে পান বাথরুমে থাকা পানি ভর্তি বালতির মধ্যে শিশুটি ডুবে আছে। তাকে নিথর অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

ছোট্ট আরিয়ানকে হারিয়ে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




মুজিবনগরে সম্প্রীতি চর্চা ও মাদক থেকে দূরে রাখতে তরুণদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার রশিকপুর গ্রামে তরুণদের মধ্যে সম্প্রীতির চর্চা জোরদার করা এবং মাদক ও ডিজিটাল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পিএফজি (পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ) সমন্বয়কারী মো. ওয়াজেদ আলি খানের নিজস্ব উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার বিকেলে এক ক্রীড়া আয়োজন ও ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল তরুণদের মাঠমুখী করা এবং খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের মাঝে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলা। বর্তমান সময়ে স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও মাদকের ঝুঁকি তরুণ সমাজকে উদ্বেগজনক অবস্থায় ফেলেছে। এমন প্রেক্ষাপটে রশিকপুর গ্রামের তরুণদের সুস্থ বিনোদনের দিকে আকৃষ্ট করতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী তরুণদের মাঝে নতুন জার্সি, প্যান্ট ও ফুটবল বুট বিতরণ করা হয়। পরে গ্রামের মাঠে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, যা উপস্থিত সবার মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। নতুন ক্রীড়াসামগ্রী পেয়ে খেলোয়াড়দের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।

পিএফজি সমন্বয়কারী মো. ওয়াজেদ আলি খান বলেন, “আমাদের তরুণদের মাঝে কেবল সম্প্রীতির বার্তা দিলেই হবে না, বরং তাদের মাঠে নামিয়ে সম্প্রীতির চর্চা করাতে হবে। খেলাধুলা মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে এক হওয়ার সুযোগ করে দেয়। তারা যেন ডিভাইসের নেশা ও মাদকের মরণছোবল থেকে দূরে থেকে সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপন করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।”

অনুষ্ঠানে স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেন এবং এমন উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। অভিভাবকরাও মনে করেন, এ ধরনের কার্যক্রম তরুণদের বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করে সমাজে শান্তি ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।