জমজমাট গুড়ের হাট; সারাদেশে যাচ্ছে ঝিনাইদহের খেজুর গুড়

ঝিনাইদহের হাট-বাজারগুলোতে মাঘের শুরুতেই বেড়েছে খেজুর গুড়ের বেচাকেনা। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার খেজুর গুড়ের মান ভালো। ভালো দামও পাচ্ছেন গাছিরা। রস সংগ্রহের পরে প্রান্তিক গাছি ও কৃষকেরা তাদের প্রস্তুত করা খেজুর গুড় বিক্রি করছেন হাটে নিয়ে।

জেলার সবচেয়ে বড় খেজুর গুড়ের হাট ‘সাফদারপুর বাজার’। কোটচাঁদপুর উপজেলার সাফদারপুর বাজারে এই গুড়ের হাট বসে। এ বাজারে সপ্তাহে দুই দিন অন্তত ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার খেজুর গুড় বেচাকেনা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে রেললাইন। রেললাইনের পাশেই সাফদারপুর খেলার মাঠ। ওই মাঠেই সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার দুই দিন খেজুর গুড়ের হাট বসে। বেলা ১১টা থেকেই আশেপাশের গাছি ও কৃষকরা তাদের বাড়িতে উৎপাদিত খেজুর গুড় হাটে নিয়ে আসেন বিক্রি করার জন্য।

এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী এলাকা ছাড়াও দুর-দুরান্তের গাছি ও কৃষকরা দুপুরের পরপর হাটে পৌছান নিজেদের গুড় নিয়ে। বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, ভ্যান, আলমসাধু (ইঞ্জিনচালিত) গাড়ি সহ নানা উপায়ে গাছিরা তাদের গুড় হাটে নিয়ে আসেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জমে ওঠে খেজুর গুড়ের হাট।

এরই মধ্যে সাফদারপুর খেজুর গুড়ের হাট জেলার সবচেয়ে বড় হাটে পরিণত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলার বড় পাইকারি ব্যবসায়ীরা আসেন এই হাটে। যাচাই-বাছাই, দাম-দর ও হাকডাকে মুখোর হয়ে ওঠে গুড়ের হাট। এই হাটে ঝোলা গুড়, দানা গুড়, জিড়েন রসের গুড়, পাটালি সহ বিভিন্ন ধরণের খেজুরের গুড় পাওয়া যায়। যে কারণে ব্যবসায়ী ছাড়াও সাধারণ ক্রেতারাও ভিড় জমান এ হাটে।

আশরাফুল ইসলাম নামে একজন গুড় বিক্রেতা বলেন, এই হাট অনেক পুরনো, বাপ-দাদাদের কাছে শুনেছি, আগেও ব্যবসায়ীরা ট্রেনে করে এসে এই হাট থেকে গুড় কিনে নিয়ে যেতো। এখনো খুলনা, যশোর, নাটোর, পাবনা, ঢাকার ব্যবসায়ীরা এখানে গুড় কিনতে আসেন। বাইরের ব্যবসায়ীরা হাটে আসে, যে কারণে আমরাও একটু ভালো দাম পাই।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জেলার ৬টি উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার ২৩৫টি খেজুর গাছ রয়েছে। এর মধ্যে রস আহরণযোগ্য গাছের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার ৭৬০টি। চলতি শীত মৌসুমে জেলার ৬টি উপজেলা থেকে প্রায় ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ২৪১ লিটার খেজুর রস ও প্রায় ৮৭২ মেট্রিন টন খেজুর গুড় উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তারা বলছে, জেলায় উৎপাদিত এসব খেজুর গুড় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা সহ বড় বড় শহরে নিয়মিত সরবরাহ করছেন ব্যবসায়ী ও গাছিরা।

দোড়া গ্রামের নাজমুল হোসেন নামে একজন বলেন, হাটে ১০/১২ কেজি ওজনের গুড়ভর্তি এক ভাড় গুড় ১৩০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৮০০ টাকায় বেচাকেনা হয়। দাম নির্ভর করে গুড়ের মানের ওপর। যাচাই বাছাই করে এখান থেকে গুড় কিনে নিয়ে যান ব্যবসায়ীরা। সাধারণ ক্রেতারাও আসেন গুড় কিনতে।

সলেমানপুর গ্রামের তাসলিমা খাতুন গিনি নামে এক ক্রেতা বলেন, অনেকের আত্মীয় স্বজনরা বিভিন্ন শহরে বসবাস করে। শীত এলেই তাদের জন্য গুড় কিনে পাঠাতে হয়। ঢাকায় মেয়েকে গুড় পাঠাবো, খুলনায় দেবর-কে গুড় পাঠাবো। গ্রাম থেকে না কিনে সরাসরি হাটে এসেছি, যেন দাম একটু কম হয়। হাটে এসে গুড় দেখে শুনে কিনতে পারলে ভালো হয়। ব্যবসায়ীরা ছাড়াও বহু মানুষ এই হাটে এসে গুড় কিনে নিয়ে যায়।

পাইকারি গুড় ব্যবসায়ী ও আড়তদার উজ্জল কুমার শাহা বলেন, একেবারেই গ্রামের সাধারণ গাছি ও কৃষকরা এই হাটে গুড় বিক্রি করার জন্য আসে। সাফদারপুর হাটে ভেজাল গুড় খুব একটা আসে না। আমরা এখানে ভালো মাল পাই, যে কারণে এই হাট থেকে নিয়মিত মাল কিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠাই। এ বছর গুড়ের উৎপাদন বেশি, দামও ভালো।

সাফদারপুর গুড়ের হাটের ইজারাদার আবুল কাশেম বাবু বলেন, খেজুর গাছ কমছে গাছিও কমছে। সরকার যদি খেজুর গুড়ের ঐতিহ্য ধরে রাখতে উদ্যোগ নেয়, তাহলে গাছিরা বাঁচবে। শীত এলে কৃষকরা এই খেজুর গাছের রস ও গুড় বিক্রি করে ভালো আয় করেন। সরকারি সহায়তা পেলে গুড় উৎপাদন বাড়বে। যা দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখতে পারে।

তিনি জানান, প্রায় ৩৫/৪০ বছরের পরনো এই হাট। প্রতি সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার এই গুড়ের হাট বসে। সপ্তাহে অন্তত ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার গুড় বেচাকেনা হয় এই হাটে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ঝিনাইহ জেলায় প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার ২৩৫টি খেজুর গাছ রয়েছে। এরমধ্যে রস আহরণযোগ্য গাছের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার ৭৬০টি। জেলায় সবচেয়ে বেশি খেজুর গাছ কোটচাঁদপুর উপজেলায়। যে কারণে উপজেলার সাফদারপুরে খেজুর গুড়ের হাট গড়ে উঠেছে। খেজুর গাছ রোপন বৃদ্ধি ও গাছিদের পৃষ্ঠপোষকতা করা গেলে গুড়ের উৎপাদন আরও বাড়বে।




গাংনীর বামুন্দী বাজারে গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানে অগ্নিকাণ্ড, আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামুন্দী বাজারে অকটেন, পেট্রোল ও গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জনবসতি এলাকায় দাহ্য পদার্থের অবৈধ ব্যবসা বন্ধের দাবিও উঠেছে।

জানা গেছে, বামুন্দী বাজারের জনতা ব্যাংকের নিচে অবস্থিত সামিয়া ট্রেডার্স (প্রোপাইটর আব্দুল আল হোসেন ওরফে মিঠু), যিনি যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ডিলার এবং বামুন্দী বাজারের মেসার্স আছিয়া এন্টারপ্রাইজ-এর মালিক মোখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে জনবসতি এলাকায় খোলা বাজারে একই স্থানে অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাস সিলিন্ডার মজুত ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

আজ রবিবার সকালে সামিয়া ট্রেডার্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে বাজারের জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাধারণ ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত হয়ে ছুটাছুটি শুরু করেন। খবর পেয়ে বামুন্দী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, জনবসতি এলাকায় এ ধরনের দাহ্য পদার্থের দোকান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তারা এসব দোকান অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে জনবসতি এলাকায় অবৈধভাবে এসব ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে বামুন্দী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের নির্দেশনা অমান্য করে খোলা বাজারে অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে, যা জনবসতি এলাকায় সম্পূর্ণ অবৈধ। তিনি এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বামুন্দী বাজারের হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী মেহেরুল্লাহ বলেন, আজকের অগ্নিকাণ্ডে আল্লাহর রহমতে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। তবে জনবসতি এলাকায় এ ধরনের অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত।

জনতা ব্যাংক বামুন্দী শাখার ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন বলেন, যেহেতু প্রতিষ্ঠানটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত বলে দাবি করা হচ্ছে, সেক্ষেত্রে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের নির্ধারিত সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে ব্যবসা করা উচিত। তিনি আরও বলেন, আগুন ছড়িয়ে পড়লে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহকদের প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যাংকের কোটি কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত। প্রতিষ্ঠানটি নিরাপদ স্থানে হলে ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে সামিয়া ট্রেডার্সের মালিক আব্দুল আল হোসেন (মিঠু) বলেন, তিনি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে লাইসেন্স নিয়েছেন। তবে তিনি লাইসেন্স দেখাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, কোথায় কীভাবে ব্যবসা করবেন তা তার ব্যক্তিগত বিষয়। অগ্নিকাণ্ডে কোনো ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বামুন্দী ফায়ার সার্ভিসকে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনবসতি এলাকায় বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স রয়েছে কি না তা যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




চার জেলায় দক্ষ জনশক্তি গড়ছে শিরোপা ডেভলপমেন্ট সোসাইটির ‘রেইজ’ প্রকল্প

মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ এই চার জেলায় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ‘রেইজ’ প্রকল্পের আওতায় কাজ করে যাচ্ছে শিরোপা ডেভলপমেন্ট সোসাইটি।

বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহযোগিতায় বাস্তবায়িত রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (RAISE) প্রকল্পের মাধ্যমে কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলায় পিছিয়ে পড়া তরুণদের স্বাবলম্বী করে তুলছে শিরোপা ডেভলপমেন্ট সোসাইটি।

প্রকল্পটির মাধ্যমে শতভাগ ও প্রায় শতভাগ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বেকারত্ব হ্রাসে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে।

রবিবার সকালে মেহেরপুরের মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স পর্যটন মোটেলে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিরোপা ডেভলপমেন্ট সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, পিছিয়ে পড়া তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই রেইজ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এ প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণরা আত্মনির্ভরশীল হয়ে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিরোপা ডেভলপমেন্ট সোসাইটির উপ-সমন্বয়কারী (অগ্রসর) রাশেদ। তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে কেবল কারিগরি দক্ষতাই নয়, তরুণদের জীবনদক্ষতা ও কর্মক্ষেত্রের উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিরোপা ডেভলপমেন্ট সোসাইটির রেইজ প্রকল্পের প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মাস্টার ক্রাফটস পারসন উৎপল হালদার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রেইজ প্রকল্পের ইমপ্লয়মেন্ট সাপোর্ট অফিসার সবুজ হোসাইন।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




মেহেরপুরে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সাথে সদর উপজেলা বিএনপির মতবিনিময় সভা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সদর উপজেলা বিএনপির আয়োজনে আজ রবিবার বিকেল চারটার দিকে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুন। সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ মোহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান।

সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক লিটন, রোমানা আহমেদ, বিএনপি নেতা আনোয়ারুল হক কালুসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

মতবিনিময় সভায় আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার ও নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিষয়ে আ




ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ট্রাকের ধাক্কায় মানসিক প্রতিবন্ধী নিহত

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ঝাউদিয়া এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় এক মানসিক প্রতিবন্ধী নিহত হয়েছে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) ভোররাতে উপজেলার ঝাউদিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মন্নু মোল্লা (৪০) উপজেলার বিজুলিয়া গ্রামের আবু তৈয়ব মোল্লার ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, মানসিক প্রতিবন্ধী মন্নু মোল্লা রাতে শৈলকুপা-হাটফাজিলপুর সড়কে ঘুরাঘুরি করছিলো। রাত ৩ টার দিকে একটি ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। ভোরে স্থানীয়রা রাস্তার পাশের তার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে তার লাশ উদ্ধার করে।

শৈলকুপা থানার ওসি হুমায়ন কবির মোল্লা বলেন, ধারনা করা হচ্ছে ট্রাকের ধাক্কায় মন্নু নিহত হয়েছে। অভিযোগ না থাকায় পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।




ঝিনাইদহে ১২ দিন ব্যাপী কৃষি মেশিনারিজ ও যন্ত্রপাতি প্রদর্শনী মেলার উদ্বোধন

একটাই লক্ষ্য হতে হবে দক্ষ’ এই শ্লোগানে ঝিনাইদহে শুরু হয়েছে ১২ দিন ব্যাপী কৃষি মেশিনারিজ ও যন্ত্রপাতি প্রদর্শনী মেলা। আজ রোববার দুপুরে শহরের বড় খাজুরা গ্রামে এ মেলার উব্দোধন করা হয়।

এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মেসার্স মল্লিক ট্রেডার্সের স্বত্তাধিকারী রাজু মল্লিকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝিনাইদহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন।

বিশেষ অতিথি ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান, উপাধ্যক্ষ মাহবুব উল ইসলাম, পৌরসভার সাবেক কমিশনার গোলাম মোস্তফা, বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান মন্টু, বর্তমান কমিশনার আব্দুর রহমান রিপন, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক লোকমান হোসেন। ১২ দিনব্যাপী এই মেলায় স্মার্ট পাওয়ার ট্রিলার, চাপ কাটার, গ্লেন্ডার মেশিন, চপিং মেশিনসহ নানা প্রযুক্তির প্রদর্শন করা হয়।

মেসার্স মল্লিক ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী রাজু মল্লিক বলেন, আধুনিক কৃষি গড়ে তুলতে কৃষকদের নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতির সঙ্গে পরিচিত করানোই এই মেলার মূল উদ্দেশ্য। কৃষি খাতে দক্ষ জনবল তৈরি এবং সময় ও শ্রম সাশ্রয়ের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক মেশিনারিজ ব্যবহারের বিকল্প নেই। কৃষকরা যেন সহজে এসব যন্ত্র সম্পর্কে জানতে ও ব্যবহার শিখতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। রোববার থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত।




কোটচাঁদপুর শহরের দুই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর শহরের দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাঁশ, কাঠ ও টিন দিয়ে নির্মিত পাশাপাশি দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একটিতে চটের বস্তা ও পুরোনো কাগজের দোকান এবং অপরটিতে ফুসকা-চটপটির দোকান ছিল। রাতে দোকান দুটি বন্ধ থাকার সময় স্থানীয়রা চটের বস্তা ও পুরোনো কাগজের দোকান থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে। এ সময় ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তাদের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং দুইটি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়ে যায়।

অগ্নিকাণ্ডের সময় পুরো শহর বিদ্যুৎশূন্য হয়ে পড়ে। পরে কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

কোটচাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আবুল হাসেম জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা না থাকায় আগুন নেভাতে তাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডের সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের কাজে সহায়তা করেন।

চটের বস্তা ও পুরোনো কাগজের দোকানের মালিক তৌহিদ অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে তার দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রায় দুই বছর আগেও একইভাবে রাতে তার দোকানে আগুন লাগানো হলে পাশের চারটি দোকান ভস্মীভূত হয়। সে সময় প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। এবারও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে আরেক চটের বস্তা ব্যবসায়ীকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করেন তিনি।

অন্যদিকে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ফুসকা-চটপটির দোকানের মালিক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, গত দুই বছরে এখানে দুইবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। কীভাবে আগুন লাগে তা তিনি জানেন না। এবার আগুনে সবকিছু পুড়ে গিয়ে তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে গেছেন বলে জানান।




মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মেহেরপুরের প্রবাসী কাদের মিয়ার মৃত্যু

মেহেরপুর সদর উপজেলার ঝাঝা গ্রামের প্রবাসী কাদের মিয়া মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

গতকাল শনিবার মালয়েশিয়ায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাদের মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় প্রবাসজীবন কাটাচ্ছিলেন। হঠাৎ তার মৃত্যুর খবরে পরিবার ও এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

মরহুম কাদের মিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।




আলমডাঙ্গায় বিশেষ অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার ৩ 

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছে ৩ জন।

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ও পাঁচকমলাপুর ক্যাম্প পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৮ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও একটি পালসার মোটরসাইকেলসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে।

গত শুক্রবার দিনগত রাতে ১টার সময় পাঁচকমলাপুর ক্যাম্প পুলিশ কান্তপুর ব্রীজমোড় থেকে ও আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ষ্টেশনপাড়াস্থ খাদ্য গোডাউনের সামনে থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে।

জানা গেছে, উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে সাইদুল ইসলাম(৩৩) দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছিল। সে এলাকাসহ আশপাশ গ্রামে মোটরসাইকেল যোগে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট বিক্রয় করে বেড়ায়। গত শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাঁচকমলাপুর ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ এসআই আহম্মদ আলী সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স নিয়ে কান্তপুর ব্রীজ মোড়ে অভিযান চালিয়ে সাইদুলকে তার মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার করে। তার নিকট থেকে ৫ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করে।

একই রাতে আলমডাঙ্গা থানার এসআই ওয়াহিদুল ইসলাম সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে ষ্টেশনপাড়াস্থ খাদ্য গোডাউনের সামনে থেকে সনাতনপুর গ্রামের বাবলু মন্ডলের ছেলে সোহেল রানা রাব্বি(২০), বর্তমানে আলমডাঙ্গা মাদ্রাসাপাড়ার আক্কাচ আলীর বাড়ির ভাড়াটিয়া ও আলমডাঙ্গা শহরের রথতলাপাড়ার সোলাইমান হোসেনের ছেলে নাহিদ হাসান(২১) কে গ্রেফতার করে। তাদের নিকট থেকে উদ্ধার করে ১৩ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট। তারা শহরের বিভিন্ন মহল্লায় ট্যাপেন্টাডল বিক্রয় করে বেড়ায় বলে জানা গেছে।

তাদের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় পৃথক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।




দর্শনায় নাইট গার্ডকে রাতে বেঁধে রেখে জমির ফলন্ত কলাগাছসহ ভেকু দিয়ে জোরপূর্বক মাটি কেটে ভাটায় বিক্রি

দর্শনায় নাইট গার্ডকে রাতে বেঁধে রেখে জমির ফলন্ত  কলাগাছসহ ভেকু দিয়ে জোরপূর্বক মাটি কেটে ভাটায় বিক্রি করছে বলে জমির মালিক নাস্তিপুর গ্রামের গোলাম রহমানের ছেলে আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেছে।

গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে নাইট গার্ড ইছাহক আলী (৭৫) জানান, আমি নাস্তিপুর গ্রামের গোলাম রহমানের ছেলে আরিফুল ইসলাম এর কলাবাগান ঠেকায়।এ সময় ৭/৮জন লোক এসে আমাকে ডেকে নিয়ে কলাবাগানের জমির পাশে বাঁশ গাছের সাথে আমার মাপলার দিয়ে বেঁধে ভেকু দিয়ে মাটিকাটা শুরু করে।

রাত ১টা ৫মিনিটে আমাকে ছেড়ে দেয়। এরপর ভোর ৫টা পর্যন্ত ভেকু দিয়ে কলাবাগান তছরুপ করে ৫কাঠা জমির মাটি কেটে নিয়ে যায়। এসময় আমার প্রেসার বেড়ে গেছে তাদের জানালে তারা মদের বোতল থেকে আমার মাথায় পানি দেয়। এরপরও আমাকে ছাড়েনি। আমি তাদের চিনতে পারিনি।

এসময় বাঁশ বাগানের পাশের গলিতে শুকুরো বাঘের ছেলে জুয়েল দাঁড়িয়ে ছিলো আমাকে দেখছিল। ট্রাক্টর ড্রাইভার কায়েশকে চিনতে পেরেছি। সে ওদুদশাহর ভাটায় ট্রাক্টর চালাতো। আমাকে বেঁধে রেখে ৫/৬ জন পাশে মদ খাচ্ছিল আর কিছু লোক মাটি কাটছিলো।

সকালে জমির মালিককে জানালে, তারা ঘটনার তদন্ত করে জয়রামপুর হেডভাটায় ঐ মাটি নিয়ে বিক্রী করা হয়েছে বলে জানান, সাবেক পারকৃষ্ণপুর মদনা ইউনিয়নের চঞ্চল মেম্বরের ভাই আরিফুল ইসলাম। কলাবাগান ও মাটি বিক্রী করার মালিক পক্ষের ক্ষয়ক্ষতি প্রায় লক্ষাধিক টাকা। এ বিষয়ে মামলার প্রক্রীয়া চলছে বলে জানান, জমির মালিক আরিফুল ইসলাম।