গাংনীতে মাথাভাঙ্গা নদী কেড়ে নিল শিশুর প্রাণ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চর গোয়াল গ্রামে মাথাভাঙ্গা নদীর পানিতে ডুবে আব্রাহাম (২) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আব্রাহাম একই গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী আকাশ আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীর ধারে বাড়ি হওয়ায় সকালে বাড়ির পাশে খেলাধুলার সময় অসাবধানতাবশত শিশুটি নদীতে পড়ে যায়।

কিছুক্ষণ পর এলাকাবাসী তাকে নদীর পানিতে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে তাকে উদ্ধার করা হলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




৬ হাজারের বেশি নামজারি মামলা নিষ্পত্তি, জেলায় প্রথম দামুড়হুদা ভূমি অফিস

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় সেবা ও দক্ষতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহিন আলম। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মধ্যে তিনি ৬ হাজারেরও বেশি নামজারি মামলা নিষ্পত্তি করে চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে দামুড়হুদা ভূমি অফিস।

২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর তিনি দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই দর্শনা পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বও সফলভাবে পালন করেছেন। ব্যস্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলিয়েও তিনি গড়ে ১৫ দিনের মধ্যে নামজারি নিষ্পত্তি নিশ্চিত করেছেন, যা জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ ছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন, অবৈধ মাটি কাটা রোধ, সার ও তেল মজুদবিরোধী অভিযান, মাদকবিরোধী কার্যক্রম, ভেজাল ওষুধ ও খাদ্যদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে শতাধিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন তিনি।

ভূমি সেবা সহজীকরণ ও রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল কার্পাসডাঙ্গা বাজারে বিশেষ ক্যাম্পের মাধ্যমে শতাধিক চান্দিনা লিজ নবায়ন করা হয়। পাশাপাশি সরকারি সম্পদ রক্ষা, নিলাম-ইজারা কার্যক্রম এবং ভূমি অফিস সংস্কারকাজও চলমান রয়েছে।

উপজেলা ভূমি অফিস ছাড়াও হাউলি ও কুড়ালগাছি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারকাজ এগিয়ে চলছে।

প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য একাডেমিক ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনা বিষয়ক মোটিভেশনাল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যা প্রশংসিত হয়েছে।

দর্শনা পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশক নিধন, সড়ক উন্নয়ন, সড়কবাতি স্থাপন, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং খেলাধুলার প্রসারে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

উপজেলা সার্ভেয়ার পদে শূন্যতা ও সার্ভার জটিলতাসহ নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তিনি সেবার মান উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে কর্মরত থাকাকালীন দেড় বছরে ১০ বছরের পেন্ডিং নামজারি মামলা নিষ্পত্তি করে খুলনা বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন তিনি।

এ বিষয়ে মো. শাহিন আলম বলেন, “জনগণের ভোগান্তি দূরীকরণ ও সেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই আমার প্রথম লক্ষ্য। অতীতের মতো সর্বোচ্চ আত্মনিবেদন নিয়ে কাজ করে যেতে চাই।”

তার এই নিষ্ঠা, কর্মদক্ষতা ও জনবান্ধব উদ্যোগ ইতোমধ্যে এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।




চুয়াডাঙ্গায় জেলা নাগরিক কমিটির স্মারকলিপি প্রদান

উন্নয়ন বঞ্চনার ১৩টি অভিযোগ তুলে চুয়াডাঙ্গা জেলা নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার দুপুর ৩টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কমিটির নেতৃবৃন্দ এ স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, মো. তৌহিদ হোসেন, অধ্যক্ষ শাহাজাহান আলী বিশ্বাস, আহাদ আলী মোল্লা, মো. সাহাবুদ্দীন, মো. লাবলুর রহমান, মোহা. শাফায়েতুল ইসলাম, আছির উদ্দীন, অ্যাডভোকেট কাইজার জোয়ার্দ্দার, শেখ সেলিমসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, মহান মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত চুয়াডাঙ্গা এখনো কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। জেলার আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি সন্তোষজনক নয় এবং নাগরিকরা বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। এসব সমস্যা সমাধানে ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।

দাবিগুলো হলো

১। চুয়াডাঙ্গা শহরের ওভারপাস নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করে নাগরিকদের দুর্ভোগ দূর করতে হবে (যা ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল)।

২। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ২৫০ শয্যা চালু করে দালালনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ করতে হবে এবং চিকিৎসক, সেবিকা ও কর্মচারীদের দায়িত্বশীল সেবা নিশ্চিত করতে হবে। ডায়াগনস্টিক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩। বিদ্যুৎ বিভাগের গ্রাহক হয়রানি, দুর্নীতি, মিটার ভাড়ার নামে অবৈধ আদায় এবং লাইনম্যানদের ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে।

৪। মাথাভাঙ্গা নদীর দখল ও দূষণ রোধ, অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত, সীমানা নির্ধারণ এবং মাথাভাঙ্গা-ভৈরব আপার ব্যারেজ নির্মাণ করতে হবে। পৌরসভা ও কেরু অ্যান্ড কোম্পানির বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধে আধুনিক ব্যবস্থাপনা চালু করতে হবে।

৫। শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পথচারীদের চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।

৬। দর্শনা স্থলবন্দর ও রেলবন্দর দ্রুত চালুর পদক্ষেপ নিতে হবে।

৭। পানচাষিদের জন্য পান গবেষণা ইনস্টিটিউট, মাটি গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করতে হবে।

৮। জনগণের চলাচলের জন্য সিএস, এসএ ও আরএস ম্যাপে থাকা রাস্তা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দখলমুক্ত করতে হবে।

৯। জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর ঐতিহাসিক লাল ভবনকে ‘স্বাধীনতা ভবন’ ঘোষণা করে সেখানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন করতে হবে।

১০। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অবৈধ দখল, জুলুম-নির্যাতন বন্ধ করে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন ঘটাতে হবে।

১১। আবুল হোসেন স্মৃতি সাধারণ গণগ্রন্থাগার ও শ্রীমন্ত টাউন হল পৌরসভার অবৈধ নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করে নির্বাচিত কমিটির কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

১২। চুয়াডাঙ্গার দীর্ঘদিনের দাবি বাইপাস সড়ক নির্মাণে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

১৩। জীবননগরের দত্তনগর কৃষি ফার্মে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে হবে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি উন্নত ও মানবিক চুয়াডাঙ্গা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক শেখ সেলিম জানান, উত্থাপিত দাবিসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ২৬ এপ্রিল রোববার সকাল ৯টায় শহীদ হাসান চত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি দলমত নির্বিশেষে জেলার সর্বস্তরের নাগরিকদের ওই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।




সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য ও পেশাগত দায়বদ্ধতা অপরিহার্য

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম বলেছেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার যেমন কোনো বিকল্প নেই, তেমন একটি সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য ও পেশাগত দায়বদ্ধতাও অপরিহার্য।

গতকাল বুধবার মেহেরপুর সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত “গণমাধ্যমের অপসাংবাদিকতা রোধ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন” বিষক দিনব্যাপী কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সারাদেশে সাংবাদিকদের ডাটাবেইসের কাজ চলছে। যাতে করে সাংবাদিকরা তাদের অধিকার পেতে পারে।

কর্মশালায় জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অর্ধ শতাধিক সাংবাদিক অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর জেলা তথ্য অফিসার আবদুল্লাহ আল মাসুদ। বক্তব্য দেন প্রেস কাউন্সিলের সচিব আব্দুস সবুর, মেহেরপুর পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় ও মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ।

সাংবাদিকদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর প্রতিদিনের সম্পাদক ও  কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি ইয়াদুল মোমিন, স্টার টিভির ব্যুরো প্রধান রাশেদুজ্জামান, বাসস প্রতিনিধি দিলরুবা খাতুন, ইত্তেফাক প্রতিনিধি আমিরুল ইসলাম অল্ডাম, মাই টিভি প্রতিনিধি তৌহিদ উদ দৌলা রেজা, তোফায়েল হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে সার্টফিকেট তুলে দেন।




দর্শনায় বাড়ছে হাতপাখার কদর, বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পল্লি বিদ্যুতের সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা হাতপাখার কদর আবারও বেড়ে গেছে। তীব্র তাপপ্রবাহ ও ভ্যাপসা গরমে মানুষের কাছে হাতপাখাই এখন প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে।

দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়াশোনায় চরম সমস্যার মুখে পড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রাম ও শহর উভয় এলাকাতেই হাতপাখার চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বৈদ্যুতিক পাখার ওপর নির্ভরশীলতা কমে গিয়ে মানুষ এখন তালপাতা, বাঁশ ও সুতোর তৈরি ঐতিহ্যবাহী হাতপাখার দিকে ঝুঁকছে।

দর্শনা রেলবাজারের মুদি ব্যবসায়ী সেলিম জানান, “চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হাতপাখার দামও বেড়েছে। আগে ৩০-৩৫ টাকায় পাখা পাওয়া গেলেও এখন ৭০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, দর্শনায় দিনে-রাতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ ও গ্রামীণ পরিবারের সদস্যদের জন্য হাতপাখাই হয়ে উঠেছে সহজলভ্য স্বস্তির মাধ্যম।

দর্শনা বাজারের এক বিক্রেতা বলেন, “আগে গরমের সময় কিছু পাখা বিক্রি হতো। কিন্তু এবার বিদ্যুতের সমস্যার কারণে চাহিদা অনেক বেড়েছে। প্রতিদিনই নতুন করে পাখা আনতে হচ্ছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এসএসসি পরীক্ষার্থী জানায়, “রাতে পড়তে বসলে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন হাতপাখা ছাড়া উপায় থাকে না। গরমে পড়াশোনা করা খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে। পরীক্ষার সময় এত লোডশেডিং হলে ভালো ফল করা কঠিন।”

এ বিষয়ে দর্শনা পল্লি বিদ্যুতের সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মাজেদ বলেন, “আমাদের দর্শনা অফিসে ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন, কিন্তু আমরা পাচ্ছি মাত্র ৩ মেগাওয়াট। তাই বাধ্য হয়ে ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে। আমরা যা পাচ্ছি, সেটিই সরবরাহ করছি।”




দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ঝিনাইদহের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক নৈশ্য প্রহরি

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ৫৬ নং বাকড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ্য প্রহরি কাম দপ্তরির বিরুদ্ধে স্কুলে না গিয়েও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের অভিযোগ উঠেছে।

বিভিন্ন মামলার আসামি হওয়াই প্রায় ২ মাস আত্মগোপনে থাকার পরেও বহাল তবিয়তে রয়েছে এই কর্মচারী।

জানাগেছে, ২০১৮ সালে বিদ্যালয়টিতে নৈশ্য প্রহরি কাম দপ্তরি পদে নিয়োগ পায় সাইফুল ইসলাম। বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

কিন্তু হরিশংকরপুর ইউনিয়র পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার ফারুকুজ্জামান ফরিদের দাপটে সাইফুল ইসলাম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই বেতন-ভাতা ভোগ করে গেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি মামলার আসামি হয়েছেন সাইফুল ইসলাম।

সেই মামলার কারণে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে না গিয়েও হাজিরা খাতায় প্রভাব খাটিয়ে স্বাক্ষর করে নিয়েছেন। এই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিদ্যালয়টিতে যেয়ে সাইফুল ইসলামের দেখা পাওয়া যায়নি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুব্রত ভৌমিক বলেন, বেশ কিছুদিন সাইফুল ইসলাম বিদ্যালয়ে আসেন না।

স্কুলে না আসার বিষয়ে সাইফুল ইসলামকে কোন কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসকে তিনি বিষয়টি জানিয়েছেন। কিন্তু কোন আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্কুলে না আসার কারণ জানতে সাইফুল ইসলামে মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোনকল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।




ঝিনাইদহকে ঢেলে সাজাতে চান নবাগত জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন

অবহেলিত ঝিনাইদহ জেলাকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নবাগত জেলা প্রশাসক মো.নোমান হোসেন।

যোগদানের পর জেলার সুশিল সমাজ, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। এরমধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি পালন করতে জেলার আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মতবিনিময়কালে তিনি বলেন,মাদকের সাথে জড়িতরা যত শক্তিশালী হোক না কেন,তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরো বলেন,পর্যায়ক্রমে পায়রা চত্তর,আরাপপুর,হামদহ,মর্ডান মোড়,ট্রাক টার্মিনাল,বাস টার্মিনাল,শহীদ মিনার এলাকা,চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড,‘ট’ বাজারসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও অলিগলি দখলমুক্ত করা হবে। এছাড়াও শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নারী ও পুরুষদের জন্য অবিলম্বে গনসৌচাগার নির্মাণ করে দুর্ভোগ লাঘব করা হবে।

এছাড়াও আদালত চত্বর,সদর হাসপাতাল,পাসপোর্ট অফিস,বিআরটিএ,ভ’মি অফিস,সাব-রেজিষ্টার কার্যালয় সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দালালচক্র দমন ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি হুশিয়ারি দেন।

এসময় তিনি আরো বলেন,অবৈধভাবে আবাদি জমির মাটি কেটে শ্রেণি পরিবর্তন রোধ, ইটভাটায় মাটি বিক্রি বন্ধ,সরকারি গাছ কর্তন প্রতিরোধ,সরকারি অফিসে দুর্নীতি কমানো এবং ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম গতিশীল করাসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জেলাকে ঢেলে সাজাতে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন জেলা প্রশাসক মো.নোমান হোসেন।

স্থানীয়দের মতে, এসব উদ্যোগে গ্রহণ করা হলে ঝিনাইদহ শহর ধীরে ধীরে একটি পরিকল্পিত ও মডেল শহরের রূপ নেবে।




গাংনীতে কালবের উদ্যোগে মিউচুয়াল বেনিফিট প্রদান অনুষ্ঠিত

গাংনী উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের আয়োজনে এবং দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লীগ অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (কালব) সহযোগিতায় মিউচুয়াল বেনিফিট প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি ও গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সমিতির সহ-সভাপতি আবু সায়েম পল্টু।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমিতির ডিরেক্টর ও গাংনী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্বপন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমিতির ডিরেক্টর হারুনুর রশিদ রবি, সাধারণ সম্পাদক ও গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ আক্তারুজ্জামান, কালবের জেলা ব্যবস্থাপক সুজয় কুমার বসু, শাখা ব্যবস্থাপক কাউছার আলী এবং মিউচুয়াল বেনিফিট গ্রহীতা ছানোয়ার হোসেন বাবলু।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সমিতির সদস্য ও গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজের আইসিটি বিভাগের প্রভাষক আসমা আক্তার বানু সম্প্রতি হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেন। সমিতির নিয়ম অনুযায়ী মিউচুয়াল বেনিফিটের আওতায় মোট ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৩৮০ টাকার মধ্যে তার ঋণ বাবদ ৩ লাখ ৪২ হাজার ৭০০ টাকা পরিশোধ করা হয় এবং অবশিষ্ট ১ লাখ ১২ হাজার ৬৩০ টাকা নগদ তার নমিনি স্বামী ছানোয়ার হোসেন বাবলুর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল কালাম আজাদ স্বপন বলেন, “এই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন সংকটময় সময়ে পাশে থেকে সহায়তা করে আসছে। বিশেষ করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টি অত্যন্ত প্রশংসনীয়।” তিনি সমিতির কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, কোনো সদস্য মৃত্যুবরণ করলে তার ঋণের দায় পরিবারের ওপর চাপানো হয় না। পাশাপাশি নমিনি বা পরিবারের সদস্যদের মিউচুয়াল বেনিফিট ও দাফন-কাফনের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়, যা সমিতির মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় বহন করে।

অনুষ্ঠানে সমিতির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও গতিশীল করতে সকল সদস্যকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও কালব শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণে কাজ করে যাবে।




ঝিনাইদহে বিউটি পার্লার কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ

ঝিনাইদহে শামীমা সুলতানা নামে এক বিউটি পার্লার কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত অবস্থায় তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে সদর উপজেলার ডাকবাংলা এলাকার শান বিউটি পার্লারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। শামীমা সুলতানা ওই পার্লারের মালিক এবং পার্শ্ববর্তী নাথকুন্ডু গ্রামের শানু মিয়ার মেয়ে।

আহত শামীমা সুলতানা জানান, বিকেলে পার্লারে যাওয়ার পথে তার তালাকপ্রাপ্ত স্বামী নাজিমুদ্দীনের নেতৃত্বে ৪-৫ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামছুল আরেফিন বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




দামুড়হুদায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ২ হাজার ৮০০ পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় ৮টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মোট ২ হাজার ৮০০ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়। এ সময় বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উবায়দুর রহমান সাহেল।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো দামুড়হুদা সরকারি পাইলট হাইস্কুলে ৪৪৪ জন, দামুড়হুদা পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩৪৩ জন, মেমনগর বিডি হাইস্কুলে ৩১১ জন, দর্শনা বালিকা বিদ্যালয়ে ৩৪৪ জন, কার্পাসডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২৭১ জন, কার্পাসডাঙ্গা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩২৮ জন, দামুড়হুদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ (ভোকেশনাল) কেন্দ্রে ২৯৩ জন এবং দামুড়হুদা ডিএস দাখিল মাদ্রাসায় ২০৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এছাড়া কার্পাসডাঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ১৬৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উবায়দুর রহমান সাহেল জানান, “শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।”