আমঝুপি নূরানি ও হাফিজীয়া মাদরাসার অভিভাবক সমাবেশ

মেহেরপুরের আমঝুপি নূরানি ও হাফিজীয়া মাদরাসার উদ্যোগে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ১০টায় আয়োজিত এ অভিভাবক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শামসুল হুদা শিশির।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জহুরুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমঝুপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গেমস শিক্ষক শরিফ উদ্দিন।

এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন সভা সভাপতি আছাদ খান এবং সাধারণ সম্পাদক মো: মিথুন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক উমর ফারুক। সমাবেশে মাদরাসার তিনজন হাফেজকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তারা হলেন মো: আব্দুর রহমান তামিম, মো: সামির এবং মো: সাইদ।

বক্তারা শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা ও কুরআন শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে অভিভাবকদের সহযোগিতা কামনা করেন।




মেহেরপুর কাচাঁবাজারে সবজির বাজার স্থিতিশীল

মেহেরপুর কাঁচাবাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু সবজি ও নিত্যপণ্যের দামে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা কম-বেশি দেখা গেছে। শীতকালীন সবজির দাম স্বাভাবিক রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার মেহেরপুর কাঁচাবাজার পরিদর্শন করে প্রত্যেকটা সবজি, মাছ, মাংস ও মুরগির দাম ওঠানামা লক্ষ করা গিয়েছে।
পাইকারি বাজারে নতুন আলু ২৫ টাকায় অপরিবর্তিত, পেয়াজের দাম কমে ৩০ টাকায়, রসুন ৫০ টাকায় , কাচা মরিচ ৯০ টাকা স্থিতিশীল, আদা ১৩০ টাকা।

বেগুন ৪৫ টাকা স্থিতিশীল, শিম ও মূলা ১০ ও ৩০ টাকায় স্থিতিশীল, পটল ১১৫ টাকায় স্থিতিশীল, টমেটো ও শশা ৭০ টাকায় স্থিতিশীল, পেঁপে ২০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।

শীতকালীন সবজির মধ্যে ফুলকপি ২০ টাকা কেজি, বাধাকপি ১৫ টাকা কেজি ও পালংশাক ১৫ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বাজারে নতুন আলু ৩০ টাকায় অপরিবর্তিত, পেয়াজ ৬০ টাকা থেকে কমে ৪০ টাকায় , রসুন ৬০ টাকায় অপরিবর্তিত, কাচা মরিচ ১২০ টাকায় স্থিতিশীল, আদা ১৬০ টাকা।

বেগুন ৬০ টাকায় অপরিবর্তিত , শিম ও মূলা ১৫ ও ৪০ টাকায় স্থিতিশীল, পটলের দাম ১৪০ টাকায় অপরিবর্তিত, টমেটো ৮০ টাকায় অপরিবর্তিত , শশা ৯০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।

শীতকালীন সবজির মধ্যে ফুলকপি ৩০ টাকা কেজি, বাধাকপি ২৫ টাকা কেজি ও পালংশাক ১০ টাকা কমে ২০ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে রুই ২০০টাকা , তেলাপিয়া ১৫০ টাকা, পাঙাস ১৫০ টাকা, সিলভার ১৩০ টাকা, জিওল ৩০০ টাকা, ইলিশ ৬০০-৩০০০ টাকা, বাগদা চিংড়ী ৭০০ টাকা,গলদা চিংড়ী ৭০০ টাকা, দেশি চিংড়ী ৮০০-১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

মুরগীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৮০, সোনালি মুরগি ২৬০ টাকা , লেয়ার মুরগি ২৭০টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে৷
ছাগলের মাংস ১১০০ টাকায় এবং গরুর মাংস ৭৫০ টাকায় অপরিবর্তিত।

সবজি বিক্রেতারা বলেন, অন্য সকল সবজির দাম মোটামোটি ঠিকই আছে, শুধু কাঁচা মরিচের দাম বেশি। শীতকালে মেহেরপুরে মরিচ হয় না, তাই বাইরে থেকে মরিচ আমদানি করতে হয়। পরিবহন খরচ তারপর লেবার খরচ দিয়ে দোকান পর্যন্ত নিয়ে আসতে বেশি টাকায় কেনা পরে যায়। আমার নিরুপাই হয়ে বেশি দামে বিক্রি করি।

বাজারে আসা ক্রেতারা বলেন, সকল সবজির দাম ঠিক আছে, দুই-একটা সবজির দাম একটু ওঠানামা আছে। কিন্তু কাঁচা মরিচের দাম গত সপ্তাহের মতোই বেশি।

মেহেরপুর তহ-বাজার ব্যবসায়ি সমিতির সভাপতি হাফিজুর রহমান বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তন এবং সরবরাহ সংকটের কারণে কাঁচা মরিচ আর পটলের দাম বেড়েছে। এই সময়ে আমাদের মেহেরপুরে কাঁচা মরিচ এবং পটল হয় না। এছাড়া অন্যান্য সকল সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে।




আলমডাঙ্গায় ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার

আলমডাঙ্গায় পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ এক মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ২৮ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ সাকিব আল হাসান (২০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল পৌনে ৫ টার দিকে শ্যামপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে পুলিশ যুবককে গ্রেপ্তার ও ইয়াবা উদ্ধার  করে।

গ্রেপ্তারকৃত সাকিব আল হাসান আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারী ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের রইচ উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ জানিয়েছে, চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার  মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা পুলিশের সকল ইউনিটে একযোগে মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলে আলমডাঙ্গা থানার এসআই(নিঃ) মোঃ বাবলু খাঁন, সংগীয় অফিসার ফোর্সসহ শ্যামপুর গ্রামের কুলু মিয়ার বসত বাড়ীর সামনে পাঁকা রাস্তার উপর থেকে সাকিব আল হাসানকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার কাছ থেকে  ২৮ পিচ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।




গাংনীতে আল হেরা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দুস্থ্যদের মধ্যে কম্বল বিতরণ 

মেহেরপুরের গাংনীতে প্রফেসর মোঃ জাহিদুর রহমান নিজ অর্থায়নে গরীব দুস্থদের মধ্যে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করেছেন।

আল হেরা ফাউন্ডেশনের পরিচালক প্রফেসর মোঃ জাহিদুর রহমান গাংনী উপজেলার নওপাড়া, ভাটপাড়া, ধলা, মাইলমারী, কালিগাংনীসহ বিভিন্ন গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক কম্বল বিতরণ করেন। কম্বল বিতরণকালে  এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তি উপস্থিত ছিলেন।

জাহিদুর রহমান গাংনী উপজেলার নওপাড়া গ্রামের হাজী আব্দুর রহিমের ছেলে।

কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে জাহিদুর রহমান বলেন, আমার এলাকার কোনো শিক্ষার্থী যদি অর্থাভাবে পড়ালেখা করতে পারছেনা, আমার কাছে সহযোগীতা চাইলে আমি তার দায়িত্ব নেব। কোনো মানুষ যদি অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা চালাতে না পারে, তাদের সব ধরনের সহযোগীতা করবো।  সুখে-দুঃখে আমার এলাকার মানুষের পাশে থেকে সেবা করতে চাই। শেষে তিনি সকলকে নামাজের জন্য আহ্বান জানান। কম্বল পেয়ে অনেক খুশি অসহায় শীতে কাতর সকলে।




মুজিবনগরে ইটভাটা থেকে ট্রাক্টর চুরি

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার কেদারগঞ্জ বাজার সংলগ্ন অবস্থিত বিবিই ইটভাটা প্রাঙ্গন থেকে একটি ট্রাক্টর চুরির ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে এ চুরির ঘটনা ঘটে। ভাটার মালিক ফজলু মিয়া জানান, ইটভাটার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে—কালো কাপড় দিয়ে মুখ বাঁধা, জিন্স ও শার্ট পরিহিত এক ব্যক্তি ট্রাক্টরটি চালিয়ে নিয়ে যায়।

চুরি হওয়া ট্রাক্টরের ইঞ্জিনটি লাল রঙের মাহিন্দ্রা কোম্পানির এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত ট্রলিটি হলুদ রঙের। ট্রাক্টরটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮ লক্ষ টাকা বলে জানান ভাটার মালিক।

এ ঘটনায় তিনি সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।




দর্শনার ঈশ্বরচন্দ্রপুর মাঠ থেকে ৬৩৬ পিচ ভায়াগ্রা ট্যাবলেট উদ্ধার

দর্শনার ঈশ্বরচন্দ্রপুর মাঠ থেকে ৫৮ বিজিবি মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ৬৩৬ পিচ ভায়াগ্রা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে।

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭ টার দিকে ৫৮ বিজিবি এর অধীনস্থ নিমতলা বিওপি’র হাবিলদার আব্দুল জলিল মোল্লার নেতৃত্বে,দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার-৭৫/৩-এস হতে আনুমানিক ২শ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের মাঠের সাগর মিয়ার কলাবাগানের ভিতরে অভিযান চালায়।

এসময় বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন চোরাচালানী দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি আসামীবিহীন অবস্থায় ৬৩৬ পিচ ভায়াগ্রা ট্যাবলেট উদ্ধার করে।




আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দ্রুততম মানব তৌফিক ও মানবী মুসফিকা

আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ আয়োজিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬–এ দ্রুততম মানব ও মানবীর খেতাব অর্জন করেছেন তৌফিক আহম্মেদ ও মুসফিকা।

ছাত্রদের মধ্যে মানবিক বিভাগের তৌফিক আহমেদ ১০০ মিটার স্প্রিন্টে দ্রুততার সাথে অতিক্রম করে প্রথম স্থান অর্জন করে দ্রুততম মানবের খেতাব জয় করেন। একইভাবে, ছাত্রীদের মানবিক বিভাগ, দ্বাদশ শ্রেণির মুসফিকা ১০০ মিটার স্প্রিন্টে প্রথম হয়ে দ্রুততম মানবীর খেতাব অর্জন করেন।

উভয় বিজয়ীকে ঐশিকা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার সৌজন্যে ট্রফি প্রদান করা হয়েছে। তাদের এই সাফল্য ক্রীড়াঙ্গনে উদ্যম ও প্রতিভার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. মফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মনয়েম এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম ছরোয়ার।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষক পরিষদের সেক্রেটারি ও ক্রীড়া, সাহিত্য ও সংস্কৃতি কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক মহিতুর রহমান এবং সহকারী অধ্যাপক সাইদুর রহমানসহ কলেজের শিক্ষকবৃন্দ।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালায় ছিলেন, সিনিয়র প্রভাষক ডক্টর মাহবুব আলম। গত বৃহস্পতিবার কলেজ চত্বরে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।




দামুড়হুদায় ওরা বন্ধু সংঘ’র শীতবস্ত্র উপহার বিতরণ

দামুড়হুদায় “ওরা বন্ধু সংঘ”র উদ্যোগে ছাতিয়ানতলা ও কানাইডাঙ্গা গ্রামে শীতবস্ত্র উপহার বিতরণ করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে “হাসবো মোরা প্রাণ খুলে, বাঁচবো সবাই মিলেমিশে” এই স্লোগান ধারণ করে উপজেলার নাটুদহ, কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের হাতিয়াতলা ও কানাইডাঙ্গা গ্রামে বিধবা, অসহায় ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র উপহার (কম্বল) বিতরণ করা হয়।

ওরা বন্ধুর সংঘ’র প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুরশেদ বীন ফয়সাল (তানজির)-এর সভাপতিত্বে শীত নিবারণের জন্য শীতবস্ত্র (কম্বল) উপহার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট সমাজসেবক,  দেশ ব্রিকস এর স্বত্বাধিকারী মো:  আব্দুল কাদির।

শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, সকলের চেষ্টা ও সহযোগিতায় আমাদের সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর শীত নিরাময়ের জন্য নিজ নিজ দায়িত্ব আর কর্তব্য থেকে এগিয়ে আসার মাধ্যমেই রচিত হবে মানবিক সেতুবন্ধন। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর ইচ্ছাতে প্রকৃতির অঘোর নিয়মে ঋতুর পালাবদল ঘটে।সত্য প্রবাহ ও কনকনে হিমেল হাওয়া দরিদ্র নিম্নবিত্ত পরিবারের সকলের জন্য বিরূপ প্রভাব ফেলে এসময় প্রকৃতি মানুষের অসহায়ত্বকে আরও প্রকট করে তোলে।সর্বোপরি এ ধরনের কার্যক্রমে সকল শ্রেণী পেশার বৃত্তশালী মানুষদের পাশে থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান।

“ওরা বন্ধু সংঘে’র সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম মিরাদের সঞ্চালনা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইঞ্জিনিয়ার আক্তারুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার শাহাজান আলী। অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, সাব্বির হোসেন,  তিতুয়ার রহমান সহ উপকার ভোগীরা।

শীতবস্ত্র হাতে পেয়ে অনুভূতি প্রকাশ করেন, ৬৫ ঊর্ধ বিধবা উজানী, কমলা, খিলা খাতুন জানান, এর আগে আমরা কখনো কোনো প্রতিষ্ঠান বা সরকারিভাবে কম্বল পায়নি। এই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রথম শীতবস্ত পেলাম। যে সে পড়ছে এই শীতে বাঁচবো কি মরবো জানিনা। এই কম্বলটা পেয়ে অন্তত কিছুদিন শান্তিতে ঘুমাতে পারবো। আমরা দোয়া করি এই প্রতিষ্ঠানে যারা আছে তারা আরো বেশি বেশি মানুষের পাশে থাকুক। তাদের জন্য আমরা দোয়া করি আল্লাহ তাদেরকে আরও বেশি বেশি অসহায় দুস্থ বিধবা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করতে পারে।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মুরশেদ বীন ফয়সাল (তানজির) বলেন,  আমাদের সমাজের সংগতি সম্পন্ন ও সচ্ছল মানুষের ঘরে শীতকাল আনন্দ ও খুশির বার্তাবহ হলেও দেশের বৃহত্তর জনজীবনে ঈদ বেদনার ধূসর বার্তা বাহক মাত্র।

শীতকালীন সময়ে শীতবস্ত্রের অনেক প্রয়োজন থাকলেও আমাদের সংগঠন ওরা বন্ধু সংঘ গুটি কয়েক মানুষের সহযোগিতায় আপনাদের মধ্যে শীতবস্ত্র পৌঁছে দিতে পারছি,  এটি সত্যি আনন্দের।  দামুড়হুদায় ওরা বন্ধু সংঘের উদ্যোগে শীতবস্ত্র উপহার বিতরণ কর্মসূচি’র শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এরই মাধ্যমে প্রকাশ পায় আপনাদের প্রতি আমাদের মমত্ব ও ভালবাসা।

আমাদের সংগঠনের জন্য দোয়া করবেন, যারা আমাদের এ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন সহযোগিতা করেছেন তাদের সকলের জন্য দোয়া করবেন। সর্বোপরি আপনাদের সকলের সুস্বাস্থ্য মঙ্গল কামনা করছি।




আলমডাঙ্গা এসএসসি-৯৬ বন্ধুসভার বাৎসরিক পিকনিক অনুষ্ঠিত

আলমডাঙ্গা এসএসসি-৯৬ বন্ধুসভার বাৎসরিক পিকনিক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ আলমডাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বন্ধুসভার মিলন মেলা বসে।

দেশ বিদেশ থেকে আগত সকল বন্ধুদের উদ্যোগে এই মিলন মেলায় আলোচনা সভা, সংগীত, কবিতা পাঠ,কৌতুক,নাচ, নাটিকার মধ্যদিয়ে আনন্দ স্রোত উপভোগ করেন। শৈশবের অতৃপ্ত চোখের সুমধুর স্মৃতি রোমন্থন করেন।আলোচনা সভায় গৃহীত হয় যে অসচ্ছল বন্ধুদের পাশে দাঁড়াতে হবে,কেউ অসুস্থ বা বিপদে পড়লে সকলেই এগিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার সুমন, আতিক বিশ্বাস, আশরাফুল হক পান্না মাষ্টার, হাফিজ মাষ্টার, আরিফ মাষ্টার, দিপক মজুমদার, আব্দুল আওয়াল, জাভেদ আকতার, তুষার আহম্মেদ, রেফাজ্জেল হোসেন রিফাজ, গোলাম রহমান, যোসেপ, উজ্জ্বল হোসেন সুমন, বদরুদোজ্জা, জীবন মাহমুদ, জুলেল হোসেন, বোরহান উদ্দিন, সেখ জুয়েল, জাহিদ হাসান, মিরন সাহা, নজরুল ইসলাম শিপলু প্রমুখ।




চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী রুহুল আমিন’কে শোকজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় কর্মশালায় উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চুয়াডাঙ্গা-২ (দামুড়হুদা, জীবননগর ও সদর উপজেলার একাংশ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. রুহুল আমিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

নোটিশে ১৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় বিচারিক কমিটির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত বক্তব্য বা ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার এ নোটিশ জারি করেন সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান এবং জীবননগর সিভিল জজ আদালতের বিচারক নাসির হুসাইন। জানা গেছে, গত ১২ জানুয়ারি দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় দলীয় কর্মশালায় বক্তব্য দেন জামায়াতের প্রার্থী মো. রুহুল আমিন।

তার ওই বক্তব্যকে উসকানিমূলক ও নির্বাচনি আচরণবিধি পরিপন্থি দাবি করে এ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী মাহমুদ হাসান খানের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট এম এ সবুর একই দিন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
ওই অভিযোগের সূত্র ধরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে চিঠি পাঠানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কার্পাসডাঙ্গা জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি কর্মশালায় মো. রুহুল আমিন নির্বাচনে জয়লাভের লক্ষ্যে বাঁশে তেল মাখিয়ে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করার জন্য ভোট গ্রহণের আগে জনসাধারণকে নির্দেশনা দিয়েছেন, যা নির্বাচনি আচরণবিধিমালার পরিপন্থি। ইতোমধ্যে কর্মশালার ওই বক্তব্য বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পত্রিকার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। চিঠির সঙ্গে পেনড্রাইভে বক্তব্যের ভিডিও সংযুক্ত করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

সিভিল জজ নাসির হুসাইন স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়েছে, ভিডিও পর্যালোচনায় প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযোগ ও ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, মো. রুহুল আমিন বক্তব্যে বলেন, ‘সামনে ১২ তারিখ একটি লড়াই হবে। এই লড়াইয়ে যারা মরার জন্য যাবে তারাই জিতবে, যারা রক্ত ঝরানোর জন্য যাবে তারাই জিতবে। আর যারা বাঁচতে যাবে তারা হেরে যাবে।

এছাড়া তিনি কর্মীদের বাঁশের লাঠি ব্যবহার করতে উৎসাহ দিয়েছেন। এমন উসকানিমূলক বক্তব্য নির্বাচনে জনসাধারণের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করেছে। নোটিশে আরও বলা হয়, এ ধরনের বক্তব্য নির্বাচনে সহিংসতা সৃষ্টিতে উৎসাহ জোগায় এবং সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ বিনষ্ট করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্যটি ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে ভীতির সঞ্চার হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মো. রুহুল আমিন নির্বাচনে অবৈধ প্রভাব সৃষ্টি করেছেন এবং রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৫ ও ১৬ লঙ্ঘন করেছেন। এ অবস্থায় অভিযোগের বিষয়ে কেন তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে সুপারিশসহ প্রতিবেদন পাঠানো হবে না, তা জানতে ১৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় কমিটির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জামায়াতের প্রার্থী মো. রুহুল আমিন বলেন, আমার দেওয়া বক্তব্য কাউকে ভয়ভীতি দেখানোর জন্য নয় এবং এটি আচরণবিধি লঙ্ঘনের উদ্দেশ্যেও নয়। মূলত সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন নিশ্চিত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, আমরা ভোট চুরি করব না, কাউকে ভোট চুরি করতে দেব না—এটাই ছিল মূল বক্তব্য। যারা ভোট চুরি করতে আসবে, তাদের প্রতিহত করা হবে। সেই প্রতিরোধের প্রস্তুতি হিসেবে কর্মীদের সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।