দামুড়হুদায় প্রকৃতিকে রাঙিয়ে তোলা বসন্তের রুপকন্যা শিমুল বিলুপ্তপ্রায়

গাছে গাছে সবুজ পাতা, মুকুল আর ফুল আর কোকিলের ডাক মনে করিয়ে দেয় বসন্তের আগমনি বার্তা। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে আবহমান গ্রামবাংলার প্রকৃতিকে রাঙিয়ে অনেক ফুল ফুটলেও এখন আর তেমন চোখে পড়ে না রক্তলাল নয়নাভিরাম শিমুল ফুল।

কিন্তু কালের বিবর্তনে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার আগুন ঝরা ফাগুনে চোখ ধাঁধানো গাঢ় লাল রঙের অপরূপ সাজে সজ্জিত শিমুল গাছ এখন বিলুপ্তপ্রায়।

এক-দেড় যুগ আগেও দামুড়হুদা উপজেলা বিভিন্ন গ্রামের অধিকাংশ বাড়ির আনাচে কানাচে আর রাস্তার পাশে অনেক শিমুল গাছ দেখা যেত। প্রতিটি গাছে গাছে প্রস্ফুটিত শিমুল ফুলই স্মরণ করিয়ে দিত বসন্তের আগমনী বার্তা। বসন্ত আগমনের এক সঙ্গে প্রকৃতি প্রতিটি গাছেই আসতে শুরু করেছে নতুন পাতা। ইতি মধ্যেই কোকিলের সুমিষ্ট কুহুতালে ফাগুনের উত্তাল বাসন্তী হাওয়া দিচ্ছে দোলা। মুকুল আর শিমুল ফুল দেখে বোঝা যায় শীত বিদায় নিয়ে আসছে ফাগুন। শিমুল গাছের শাখাগুলো বসন্তের আগমনে লাল শাড়ির ঘোমটা পরা গ্রাম্য নববধূর সাজে সজ্জিত হতে দেখা যায়, যা দর্শনে হতাশ প্রেমিকের মনেও জাগিয়ে তোলে আশা।

অন্যান্য গাছের তুলনায় শিমুল গাছ অনেক উঁচু হওয়ায় বহু দূর থেকে এ মনোরম দৃশ্য চোখে পড়ে। কেবল সৌন্দর্যই বিলায় না, শিমুল গাছের রয়েছে নানা উপকারিতা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব।

প্রাকৃতিকভাবে তুলা আহরণের অন্যতম অবলম্বন শিমুল গাছ। এ গাছের সব অংশেরই রয়েছে ভেষজ গুণ। গ্রামে শিমূল গাছ ঔষধি গাছ হিসেবেও পরিচিত। গ্রামাঞ্চলের মানুষ বিষ ফোড়া, আখের গুড় তৈরিতে শিমুলের রস ও কোষ্ঠ কাঠিণ্য নিরাময়ে গাছের মূলকে ব্যবহার করতো।

শিমুল গাছ ৯০ থেকে ১০০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয় এবং বেশ মোটাও হয়। নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে শিমুল গাছ দেড় শ’ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। শীতের শেষে পাতা ঝরে পড়ে। বসন্তের শুরুতেই গাছে ফুল ফোটে। আর এ ফুল থেকেই হয় ফল।

চৈত্র মাসের শেষের দিকে ফল পুষ্ট হয়। বৈশাখ মাসের দিকে ফলগুলো পেকে শুকিয়ে গিয়ে বাতাসে আপনা আপনিই ফল ফেটে প্রাকৃতিকভাবে তুলার সঙ্গে উড়ে উড়ে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়া বীজ থেকেই এর জন্ম হয়। বালিশ, লেপ ও তোশক তৈরিতে শিমুল তুলার জুড়ি নেই। অথচ বর্তমানে মানুষ এ গাছকে তুচ্ছ মনে করে কারণে অকারণে কেটে ফেলছে।

ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হলেও সেই তুলনায় রোপণ করা হয়নি। ফলে আজ বিলুপ্তির পথে গাছটি। শিমুল গাছ উজাড় হওয়ার ফলে পরিবেশের ওপরে পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। গাছটি নিধনের জন্য একমাত্র ইটভাটাই দায়ী। এ গাছ অনেক উঁচু হওয়ায় কাক, কোকিল, চিল, বকসহ বিভিন্ন ধরনের পাখি বাসা বেঁধে বসবাস করত। এ গাছ উজাড় হওয়ার ফলে এসব পাখিরা আবাসস্থল হারিয়ে পড়েছে অস্তিত্ব সঙ্কটে। গাছ না থাকায় আবাসস্থলের অভাবে ধীরে ধীরে এসব পাখিরাও হারিয়ে যাচ্ছে।
গ্রামে শিমূল গাছ ঔষধি গাছ হিসেবেও পরিচিত। কিন্তু কালের বিবর্তনে আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় তেমন চোখে পড়ে না শিমুল গাছ। প্রতিনিয়ত বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে শিমুল গাছ। যার কারনে গ্রাম বাংলার বুক থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে, অতি চিরচেনা শিমূল গাছ।




আলমডাঙ্গায় নির্বাচনী পরবর্তী সহিংসতা রোধে নবনির্বাচিত এমপির প্রেসব্রিফিং

আলমডাঙ্গায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা রোধে নবনির্বাচিত এমপি প্রেস ব্রিফিং করেছেন।

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা ও প্রেস ব্রিফিং করেছেন।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার সময় আলমডাঙ্গা পৌর জামায়াতের কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা আমির প্রভাষক শফিউল আলম বকুল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের নির্বাচন বিভাগের পরিচালক শেখ নূর মোহাম্মদ হোসেন টিপু।সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা পৌর আমির মাহের আলী, উপজেলা সেক্রেটারি মামুন রেজা, পৌর সেক্রেটারি মুসলিম উদ্দিন এবং উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি তরিকুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী। উক্ত মতবিনিময় সভায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন” চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যারা আমাকে তাদের সেবক হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। এই বিজয় আমার একার নয়—এটি সাধারণ জনগণের বিজয়।দল মত নির্বেশেষে সকলেকে সাথে নিয়ে দেশের অগ্রযাত্রায় অংশীদার হতে চাই।

নির্বাচন পরবর্তী যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে তা রোধ করতে প্রতিপক্ষ বন্ধুদের উদ্বাস্তু আহব্বান জানাচ্ছি। আমরা কোন প্রকার সংঘাত, সহিংসতা চাই না।আমাদের এই জনপদের শুখে শান্তিতে স্বাধীন ভাবে বসবাস করুন এটাই আমাদের সকলের কাম্য হোক।
আপনারা বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবেন—এটাই আমার প্রত্যাশা।

সেই সাথে বিরোধী রাজনৈতিক মতের সকল বন্ধুদের সহযোগিতা কামনা করছি। সহিংসতার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে আমরা ঐক্য, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

”তিনি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনকে একটি শক্তিশালী, আধুনিক ও দুর্নীতিমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধিতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে সকলের উদ্দেশ্যে বলেন সহিংসতা নয়,আমরা সকলেই ভাই ভাই।তাই সহিংসতা পরিহার করে সুস্থ সুন্দর সমাজ গঠনে এগিয়ে আসি।

সেই সাথে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতায় কামনা করেন। এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




ঝিনাইদহ-৩ আসনে বিএনপি ও জামায়াত নেতার কুশল বিনিময়

বিএনপির ধানের শীর্ষের প্রার্থী মেহেদী হাসান রনির দলীয় কার্যালয়ে গেলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়ি পাল্লার বিজয়ী প্রার্থী মতিয়ার রহমান।

গতকাল শুক্রবার রাতে মহেশপুরের ওই কার্যালয়ে গিয়ে দেখা করেন তিনি। এ সময় একে অপরের হাতে হাত রেখে কুশল বিনিময় ও আলিঙ্গন করতে দেখা যায় ওই দুই নেতাকে। এট রাজনৈতিক সৃষ্টাচার হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কোটচাঁদপুর-মহেশপুর নিয়ে ঝিনাইদহ-৩ আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে প্রতিদ্বন্দিতা করেন ৪ জন প্রার্থী। যার মধ্যে বিএনপির ধানের শীর্ষে মেহেদী হাসান রনির,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মতিয়ার রহমান,ইসলামী আন্দোলন (হাতপাখা) প্রতিকের সারোয়ার হোসেন ও গণঅধিকার পরিষদ (ট্র্যাক) প্রতিকের সুমন কবির। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মতিয়ার রহমান। এর পরের দিন শুক্রবার রাতে সৌজন্যে স্বাক্ষাত করতে যান বিএনপির ধানের শীর্ষির প্রার্থী মেহেদী হাসান রনির দলীয় কার্যালয়ে । এ সময় ওই দুই নেতাকে একে অপরের হাতে হাত রেখে স্বাক্ষাত করতে দেখা যায়। এরপর তারা মিলিত হন আলিঙ্গনে। এটাকে ভাল রাজনৈতিক সৃষ্টাচার বলে অভিহিত করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে।

এ সময় তাঁরা নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন। এ ছাড়া এলাকার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথাও জানান ওই দুই নেতা।অধ্যাপক মতিয়ার রহমান বলেন,“নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মাত্র। ভোট শেষ মানেই আমাদের মধ্যকার প্রতিযোগিতা শেষ। এখন আমাদের সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার মানুষের উন্নয়ন ও শান্তি নিশ্চিত করা। আমি সবাইকে নিয়ে মহেশপুর-কোটচাঁদপুরকে একটি আদর্শ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।




ঝিনাইদহে বসন্ত বরণ ও পিঠা মেলা অনুষ্ঠিত

পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ঝিনাইদহে অনুষ্ঠিত হয়েছে জমজমাট পিঠা মেলা ও বসন্ত বরণ উৎসব। শনিবার (১৪ ফেব্রুযারি) সকালে শহরের মর্নিংবেল চিলড্রেন একাডেমীতে অনুষ্ঠিত হয় এ আয়োজন।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা পিঠা উৎসবে তালবড়া, চিকেনপুলি, পাকান, জামাই পিঠা, নকশী পিঠা, কাঠ গোলাপ, মালাই রোল, ললিপপ, চন্দ্রপুলি, ফুলপিঠা, মুড়ি, মুড়কি, পাটিসাপটাসহ নানান গড়নের পিঠায় সাজানো হয়েছিল স্টলগুলো। নতুন ও ঐতিহ্যবাহী পিঠার স্বাদ নিতে সেখানে ভিড় করেন নানা বয়সী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আয়োজন ঘিরে উপস্থিত দর্শনার্থীদের মধ্যে ছিল উৎসবের উচ্ছ্বাস। পিঠার স্বাদ ও মনোরম পরিবেশ উপভোগ করে সন্তুষ্টি নিয়ে বাড়ি ফেরেন আগতরা।

পিঠা মেলার পাশাপাশি পরিবেশন করা হয় বসন্তের গান, যা উৎসবে বাড়তি মাত্রা যোগ করে। শিশুদের অংশগ্রহণে পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবক মুসকান রুবায়েত মিরা বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিশুদের জন্য খুবই আনন্দের। আমাদের দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পিঠার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

অভিভাবক গাউস গোর্কি বলেন, পিঠা মেলা ও বসন্ত উৎসব একসাথে আয়োজন করায় পরিবেশটা আরও প্রাণবন্ত হয়েছে। শিশুরা যেমন মজা পেয়েছে, তেমনি আমরাও পুরনো দিনের স্মৃতি মনে করতে পেরেছি।

নাজমা খাতুন নামের আরেক অভিভাবক বলেন, শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি এমন সাংস্কৃতিক আয়োজন তাদের মানসিক বিকাশে সহায়ক।

এ বিষয়ে আয়োজক প্রতিষ্ঠান মর্নিংবেল চিলড্রেন একাডেমীর পরিচালক শাহিনুর আলম লিটন বলেন, পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে শিশুদের আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি আমাদের ঐতিহ্য তুলে ধরতেই এই আয়োজন। ভবিষ্যতেও আমরা এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখবো।




ঝিনাইদহ-৩ আসনে জামানত হারিয়েছেন ২ প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ -৩ আসনে জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন (হাতপাখা) প্রতিকের সারোয়ার হোসেন ও গণঅধিকার পরিষদ (ট্র্যাক) প্রতিকের সুমন কবির।

ওই দুই প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন এ আসনের ধানের শীর্ষ ও দাঁড়ি পাল্লা প্রতিকের প্রার্থীদের সঙ্গে। ভোটে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন তারা।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা প্রহল্লাদ বলেন,ঝিনাইদহ-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩১ হাজার ১৫ জন। এর মধ্যে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ৩ লাখ২৭ হাজার ১৬৬ টি। যা মোট ভোটারের ৭৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট বৈধ ভোটের কমপক্ষে এক-অষ্টমাংশ, অর্থাৎ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। সেই হিসাবে এই আসনে জামানত রক্ষা করতে প্রয়োজন ছিল ৪০ হাজার ৮ শ ৯৬ ভোট। কিন্তু ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতিকের সারোয়ার পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৭০ ভোট। যা মোট বৈধ ভোটের প্রায় ১ দশমিক ১৫ শতাংশ। আর গণঅধিকার পরিষদ (ট্র্যাক) প্রতিকের সুমন কবির পেয়েছেন ৩ শ ৬৮ ভোট। যা বৈধ ভোটের শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ।

এ আসনে ৪ জন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করেন,যার মধ্যে ছিলেন বিএনপির ধানের শীর্ষের মেহেদী হাসান রনি। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮ শ ২১ ভোট। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়ি পাল্লা প্রতিকের মাওলানা মতিয়ার রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮ শ ৫৭ ভোট পেয়ে। হাতপাখা ৩ হাজার ৭০ ভোট ও ট্র্যাক ৩ শ ৬৮ ভোট।

উপজেলা নির্বাহী ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এনামুল হাসান জানান, জামানত বাঁচাতে প্রার্থীকে মোট ভোটের একটা নিদিষ্ট শতাংশ পেতে হবে। সে তুলনায় এ আসনে দুই জন প্রার্থী খুবই কম ভোট পেয়েছেন। তবে জামানত বাজেয়াপ্ত জানতে হলে আপনাকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।




মেহেরপুরের বারাদীতে পরিত্যক্ত হাইটেক জুস ফ্যাক্টরিতে আগুন

মেহেরপুর সদর উপজেলার বারাদী বাজারের অদূরে হাইটেক জুস ফ্যাক্টরির ভেতরে আগুনে পুড়ে গেছে পরিত্যক্ত জিনিসপত্র। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাইটেক জুস ফ্যাক্টরির ভেতরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

বিল্ডিংয়ের ভেতর থেকে কালো ধোঁয়া বাইরে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে মেহেরপুর ফায়ার সার্ভিসের দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

হাইটেক জুস ফ্যাক্টরিটি ২০০৬ সালে নির্মিত হয়। বছর দেড়েক চালু থাকার পর ফ্যাক্টরির মালিকের মৃত্যুর কারণে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় ফ্যাক্টরি ও অফিস ভবনের দামী আসবাবপত্র, সরঞ্জাম ও মেশিনপত্র চুরি হয়ে যায়। বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে জুস ফ্যাক্টরি ভবনটি।

ফ্যাক্টরির ভেতরে অপ্রয়োজনীয় বিপুল পরিমাণ ককশিট, শোলা ও তুলাজাতীয় দ্রব্য পড়ে ছিল। সিগারেটের আগুন থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে বলে জানিয়েছেন দমকলকর্মীরা।

তবে কোনো আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানান ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান মুকুল।




গণভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ

গণভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এই গেজেট প্রকাশ করা হয়।

গেজেটে ফলাফলের দেখা গেছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ না ভোট।

60658_59636

এতে আরো দেখা গেছে, গণভোটে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ২৮৬টি।

ভোট বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি এবং মোট ভোট ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কারের ওপর জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন ২৯৭ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে। পরে এদিন রাতে আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২৯৭ আসনের গেজেট ঘোষণা করে ইসি।

সূত্র: কালের কন্ঠ ।




নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের সরকারি ফলাফল গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

60657_19406

এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এদিন দেশজুড়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবার রেকর্ডসংখ্যক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মোট ৫১টি দল এই নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। নির্বাচনে মোট প্রার্থী ছিল ২ হাজার ২৯ জন; যার মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ২৭৪ জন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮০ জন।

এবারের নির্বাচনে মোট ১১৯টি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এদিকে নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি শুরু করেছে সংসদ সচিবালয়। বৈঠকে শপথের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্তটি সফলভাবে করতে প্রটোকল, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় সেবার বিষয় অগ্রাধিকার দিয়ে সাজানো হয়েছে সব পরিকল্পনা।

সূত্র : কালের কন্ঠ।




আলমডাঙ্গা ভূমিপুত্র এ্যাড রাসেল নির্বাচিত হওয়ায় খুশির বন্যা 

আলমডাঙ্গা উপজেলার ভূমিপুত্র এ্যাড মাসুদ পারভেজ রাসেল নির্বাচিত হওয়ায় উপজেলাবাসী মাঝে যেমন খুশির জোয়ার বইছে, ঠিক তেমনি কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশার এক লম্বা তালিকা সামনে প্রতিয়মান হয়েছে।

বাংলাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জানায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী এ্যাড মাসুদ পারভেজ রাসেল বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।

গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মধ্য রাতে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মাদ কামাল হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ১১ হাজার ১৫৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের শরীফুজ্জামান পেয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৮ ভোট।

এই আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ৬ হাজার ৩৩৭ জন। ভোটগ্রহণের হার ছিল প্রায় ৭৪ শতাংশ। পোস্টাল ব্যালটের ফলাফলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছে ২ হাজার ৭৪১ ভোট, ধানের শীষ পেয়েছে ৮১১ ভোট এবং হাতপাখা প্রতীক পেয়েছে ৮৯ ভোট।

দীর্ঘ ৩৪ বছর পর চুয়াডাঙ্গা ১ আসনে আলমডাঙ্গার সন্তান হিসেবে মাসুদ পারভেজ রাসেল বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। ১৯৯১ সালে আলমডাঙ্গা উপজেলার বড় গাংনীর গ্রামের কৃতিসন্তান মিয়া মুনসুর বিএনপি থেকে নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন।

মাসুদ পারভেজ রাসেলের এই বিজয় শুধু দলীয়করণে সীমাবদ্ধ ছিল না বরং আলমডাঙ্গা এই বৃহত্তর জনপদে মানুষের বঞ্চনার ফসল।বিগত দিনে দেখা গেছে ১৫ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আলমডাঙ্গায় উপজেলার মানুষকে চুয়াডাঙ্গা সররের মুখের দিকে চেয়ে থাকতে হয়েছে। করুনার পাত্র হতে চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়া জলের ফোটা নিয়ে সন্তোষ্টু পেতে হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাত্র ৫ টি ইউনিয়ন ও চুয়াডাঙ্গা পৌর সভা নিয়ে গঠিত হলেও সকল উন্নয়ন,কর্মপদ্ধত,কর্মপরিকল্পনা,সকল প্রকার সূযোগ সুবিধা চুয়াডাঙ্গা সদর কেন্দ্রীক,যার থেকে আলমডাঙ্গাবাসী চিরকাল বঞ্চিত।

আলমডাঙ্গাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রানের দাবি ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত দ্বিতলভবন বিশিষ্ট ঐতিহাসিক রেলস্টেশনের সংরক্ষণ ও আধুনিকায়ন,আলমডাঙ্গায় শহরের অপরিকল্পিত রাস্তা ও রাস্তা সংলগ্ন ড্রেনের সংস্করণ করে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ করা,,কুমার ও মাথাভাঙা নদীসহ সকল ক্যানেলের

দুষণরোধ,অবমুক্তকরন করে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি করা,যাতে কৃষকরা যথা সময়ে পানি পেতে পারে।

আলমডাঙ্গার মৌলিক প্রত্যাশা গুলি চিরকাল অবগ্যা আর অবহেলায় ফাইলবন্ধী হয়ে পড়ে থেকেছে।

কৃষকের দুর্দশার অন্ত নেই।সারের সিন্ডিকেট,ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত, ফসলের সংরক্ষণের জন্য হিমাগার প্রয়োজন,একটি সরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আলমডাঙ্গা পৌর সভায় একটি অত্যাধুনিক সরকারি হসপিটাল,যুবসম্প্রদায়ের জন্য কর্ম নিশ্চিত প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা।মাদকমুক্ত সমাজ গঠন,আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখা,সরকারি অফিস সহ সকল প্রতিষ্ঠানে দূর্ণীতি মুক্ত করা,পৌর সভার লাভজনক প্রতিষ্ঠান কে কলঙ্গমুক্ত করা এখন নবনির্বাচিত এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেলর বড় চ্যালেঞ্জ।

দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পাহারসম সমস্যা কাঁধে নিয়ে আলমডাঙ্গা ভূমিপুত্র এ্যাড মাসুদ পারভেজ রাসেল কতটা চাহিদা পূরণ করতে পারে সেটাই দেখার অপেক্ষায় উপজেলাবাসী।সেই সাথে স্বল্পপরিসর সময়ে এত সমস্যা সমাধানে দ্রুত করা সম্ভব নয়।তাই তাকে সময় ও সহোযোগিতায় সকলের নৈতিক কর্তব্য বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।




দামুড়হুদায় নির্বাচন পরবর্তী উত্তেজনা, কয়েকটি গ্রামে ভাঙচুর হুমকি 

গত বৃহস্পতিবার সারা দেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নসহ কয়েকটি গ্রামে উত্তেজনা ও সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর বিজয়ের পর কিছু উচ্ছৃঙ্খল কর্মী-সমর্থক বিজয় মিছিলের আড়ালে বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, জামায়াতের লোকজন ডুগডুগি, তারিনিপুর, ছোট দুধপাতিলা ও বড় দুধপাতিলা গ্রামসহ কয়েকটি পাড়া-মহল্লায় গালাগালি, হুমকি-ধামকি ও ছোট খাটো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বড় দুধপাতিলায় একটি পানের বরজে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তারিনিপুর গ্রামের স্থানীয়রা বলেন, মিরাজুল ইসলাম এর ছেলে মমিনুল হক, ঠান্ডুর ছেলে স্বপন, তোয়াক্কেল এর ছেলে হাফিজুল ইসলাম, লতিফ এর ছেলে রিয়ন ও ফজলুর ছেলে আশরাফুল সহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৫০-১০০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। তারা বলেন, হাউলী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড তারিনিপুর গ্রামে একটি বিএনপির দলীয় অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে।

কিছু স্থানীয় ব্যক্তি দাবি করেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু সদস্যরা এখন নব্য জামায়াত, তাদের পুরোনো কর্মীদের সমন্বয়ে জামায়াতের ইঙ্গিতে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে।

এদিকে ছোট দুধপাতিলা গ্রামের স্থানীয় মহিলারা জানান, বিজয় মিছিলের নামে জামায়াতের কর্মী সমর্থকরা খুবই নেক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা আমাদের হুমকি-ধামকি দিয়েছে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করতে গিয়েছে বাড়ির মহিলাদের সাথে খুবই খারাপ ব্যবহার করেছে গালাগালি করেছে। ঘরের ইট খুলে নিয়ে যেতে চেয়েছে।

একজন বৃদ্ধ নারী বলেন, জামায়াতের লোকজন এমন করবে আমার জানাছিলোনা, এই পাড়ার পুরুষ মানুষ কোথায় ভোট দিয়েছে জানিনা, তবে আমি এটা জানি মহিলারা সব দাঁড়ি পাল্লায় ভোট দিয়েছে, বাড়ির মহিলাদের ভোটে জিতে আবার আমাদের ঘরবাড়িই ভাংতে এসেছে। এটা আমরা কখনো মেনে নেবোনা। ভোটকি প্রকাশ্যে দেওয়ার জিনিস, এটা গোপনে হয়। এরপরেও এমন করলে নতুন এমপি রুহুল আমীন এর কাছে অভিযোগ করবো, যে আমাদের শান্তি নষ্ট করছে।

এদিকে ডুগডুগি বাজারে ‘আরিফ মেডিকেল’ নামের একটি ওষুধের দোকান বন্ধ থাকায় দোকানের শাটারে জোরে জোরে আঘাত করলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অনেক পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রাত কাটিয়েছেন বলেও জানা যায়। একাধিক এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ধর্মীয় আদর্শের কথা বলা কোনো দলের কর্মীদের কাছ থেকে এমন আচরণ আমরা প্রত্যাশা করি না।

তবে এ ঘটনায় জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরাও পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, বিএনপির লোকজন ইচ্ছাকৃতভাবে পায়ে পা লাগিয়ে গণ্ডগোল সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। কোনো দলীয় অফিস ভাঙচুর করা হয়নি। বরং মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাদের সমর্থকদের ওপর হামলা ও মারধর করা হয়েছে। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোন পক্ষের মতামত পাওয়া জায়নি।

সংবাদ পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টহল জোরদার করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকায় অধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি দেখা গেছে।