দর্শনা সরকারি কলেজের প্রয়াত শিক্ষকবৃন্দের রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া

দর্শনা সরকারি কলেজের প্রয়াত সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দের রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকাল ৪টায় দর্শনা সরকারি কলেজের মুক্তমঞ্চে প্রয়াত শিক্ষক প্রফেসর আব্দুল হামিদ, উপাধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন, প্রফেসর আব্দুল গফুর, প্রফেসর নুর আলী ও প্রফেসর জমশেদ আলীসহ সকল শিক্ষকের রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সাবেক শিক্ষক প্রফেসর আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ দোয়া ও স্মরণসভায় প্রয়াত শিক্ষক প্রফেসর আব্দুল হামিদের বড় ছেলে হারুন অর রশিদ জুয়েল, উপাধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেনের বড় ছেলে বাবন এবং প্রফেসর নুর আলীর বড় ছেলে নাজমুল হুদা তাদের প্রয়াত পিতার স্মৃতিচারণ করেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দর্শনা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান, প্রাক্তন ছাত্র ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, চুয়াডাঙ্গা জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাবু তরফদার, দর্শনা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস এনামুল হক শাহ মুকুল, দর্শনা পৌর বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান বুলেট, দক্ষিণচাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিয়াকত আলী এবং সাবেক পৌর ছাত্রদলের সভাপতি ইকবাল হোসেন।

প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন দর্শনা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেন, দর্শনা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মোফাজ্জেল হোসেন মোফা ও সাধারণ সম্পাদক পলাশ আহম্মেদ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দর্শনা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি হারুন অর রশিদ।




কুষ্টিয়ায় সজীব গ্রুপ ও রোনিতা ফুডের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

কুষ্টিয়ায় রোনিতা ফুড ও সজীব গ্রুপের উদ্যোগে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে শহরের একটি খেলার মাঠে আয়োজিত এ খেলায় নবীন ও প্রবীণ খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ।

আয়োজনে সহযোগিতা করে সজীব গ্রুপের কোমল পানীয় পিওরো কোলা। খেলাটি ঘিরে ছিল উৎসবমুখর আবহ, যেখানে জয়-পরাজয়ের চেয়ে সম্প্রীতি ও আনন্দই ছিল মূল আকর্ষণ।

সজীব গ্রুপের ডিপো প্রধান আক্তার হোসেন বলেন, “কোমল পানীয় পিওরো কোলার সহযোগিতায় আমরা এই ফুটবল খেলার আয়োজন করেছি। এতে একসময়ের প্রবীণ খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ ছিল বিশেষ আকর্ষণ।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদন নয়, বরং সহমর্মিতা ও বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। কোম্পানির সহযোগিতায় ভবিষ্যতেও এমন খেলাধুলা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।”

রোনিতা ফুডের পরিচালক এস এম জামাল বলেন, “খেলাধুলা করলে শরীর ও মন ভালো থাকে। আমরা আমাদের কোম্পানির সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে এই আয়োজন করেছি, যেখানে নবীন ও প্রবীণদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে।”

খেলায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত হলে কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝে কিছুটা স্বস্তি মিলবে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে।

খেলায় অংশ নেওয়া এক প্রবীণ খেলোয়াড় বলেন, “দীর্ঘদিন পর আবার ফুটবল খেললাম। একসময় বিভিন্ন টুর্নামেন্টে নিয়মিত অংশ নিতাম। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আর খেলা হয়নি। আজ এতদিন পর মাঠে নেমে খেলতে পেরে সত্যিই খুব ভালো লাগছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই আয়োজন আমাদের পুরোনো দিনের স্মৃতিগুলো আবার ফিরিয়ে এনেছে।”




আলমডাঙ্গায় ‘নো কার্ড, নো ফুয়েল’ কার্যক্রমেও মিলছে না তেল

আলমডাঙ্গায় জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ন্ত্রণে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ‘নো কার্ড, নো ফুয়েল’ কার্যক্রম। তবে তেল পাম্পে জ্বালানি নিতে ভিড় করলেও অনেক গ্রাহক কার্ড প্রদর্শন করছেন না। এমনকি তেল পাম্প কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সদস্যদেরও কার্ড যাচাই করতে দেখা যায়নি।

উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো যানবাহনে পেট্রোল বা অকটেন সরবরাহ না করার নির্দেশনা রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার থেকে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়। সব যানবাহনের চালক বা মালিককে নির্ধারিত ফুয়েল কার্ড প্রদর্শন করেই তেল নিতে হবে। এ নিয়ম না মানলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি পাম্পে ট্যাগ অফিসার থাকার কথা থাকলেও কোনো পাম্পেই তাদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করেই চলছে জ্বালানি তেল সরবরাহ।

সরেজমিনে বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার তিনটি তেল পাম্পের মধ্যে গত শুক্রবার মেসার্স হক তেল পাম্পে ফুয়েল কার্ড ছাড়াই তেল সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতিদিনের মতো শুক্রবারও পাম্পে ছিল দীর্ঘ লাইন। কেউ কেউ রাত তিনটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছেন। অন্যদিকে, জেলার কৃষকরাও ডিজেল সংগ্রহ করতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রতিদিন তাদের কাজের প্রয়োজনে মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে হয়।

তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক আশিকুর রহমান আশিক বলেন, “শুক্রবার ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। প্রায় দুই ঘণ্টা পর ৫০০ টাকার পেট্রোল পেয়েছি। কিন্তু পাম্পে কোথাও ফুয়েল কার্ডের ব্যবহার দেখলাম না। প্রায় সবাই কার্ড ছাড়াই তেল নিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, পুলিশ বা ট্যাগ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়নি। উপজেলা প্রশাসনের মনিটরিংও চোখে পড়েনি।

আরেক গাড়িচালক আবু জাফর বলেন, “লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পেতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনের লোকজন বা পাম্পের পরিচিতরা লাইনের বাইরে থেকে তেল নিয়ে যাচ্ছে। আমরা যারা লাইনে আছি, তারা বঞ্চিত হচ্ছি। কষ্ট করে ফুয়েল কার্ড করলাম, কিন্তু এর ব্যবহার দেখলাম না।”

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রায় ৬ হাজারের বেশি ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি তেল পাম্পে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োজিত থাকার কথা রয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসন দায়িত্ব পালন করছে। জরুরি সেবার জন্য ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও সাংবাদিকদের জন্য আলাদা সুবিধাও রাখা হয়েছে।

আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার বলেন, “প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলার তিনটি পেট্রোল পাম্পে কার্ডধারীদের তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে কৃষিকাজের স্বার্থে ডিজেল সরবরাহে কিছুটা শিথিলতা রাখা হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তেলের অপচয় ও অবৈধ বিক্রি বন্ধ হবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে। নিয়ম অমান্য করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফুয়েল কার্ডে গ্রাহক আগে কত তারিখে ও কী পরিমাণ তেল নিয়েছেন তা উল্লেখ থাকে, যা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। কার্ড পেতে আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন কপি ও ছবি জমা দিতে হয়েছে। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।




পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সম্ভব। এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প এলাকার সামগ্রিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার গোস্বামী দুর্গাপুর ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ কিলোমিটার খাল খনন কাজের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, খাল খনন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

জ্বালানি তেলের সংকট নেই উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও সরকার এখনও দেশের ভেতরে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে। আমাদের চাষিরা যাতে নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল ও বিদ্যুৎ পায়, সে বিষয়ে সরকার তৎপর রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহ, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুবউদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার, পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে এলাকার দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।




গাংনীতে অবৈধ ভাবে ডিজেল মজুদের চেষ্টার ঘটনায় মামলা, আটক ২ 

মেহেরপুরে অবৈধ ভাবে লরি থেকে তেল নামানোর ঘটনায় গাড়ির চালক ও তেল ক্রেতার নামে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে তাদের বিরুদ্ধে মামলা শেষে আদালতের মাধমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

আটকৃতরা হলেন, একই উপজেলার ছাতীয়ান গ্রামে উজ্জ্বল হোসেন ও সাহেব নগর গ্রামের রিপন হোসেন।

গাংনী থানার ওসি তদন্ত আল মামুন জানিয়েছেন, রাত আড়াইটার দিকে গাংনী উপজেলার সাহেবনগর বাজারে একটি সার ও কীটনাশকের দোকানে অবৈধ ভাবে অধিক মুলে বিকির উদ্দেশে  লরি থেকে তেল নামানোর খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। এসময় তাদের কাছে থাকা সাড়ে ৪ হাজার লিটার ডিজেল তেল বোঝায় লরিটি থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।

অবৈধভাবে তেল বেচাকেনার দায়ে লরি চালক উজ্জল হোসেন ও তেল কেনায় জড়িত রিপন আলীর বিরুদ্ধে মামলা শেষে আজ শুক্রবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।




দুদকের মামলায় ফেঁসে গেলেন সাবেক মেয়রসহ চার কর্মকর্তা

চেক জালিয়াতি মামলায় ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র সাইদুল করিম মিন্টুসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আদালতে চার্জসীট দাখিল করেছে। তদন্ত শেষে ঝিনাইদহ দুদকের সহকারী পরিচালক বজলুর রহমান আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

আজ শুক্রবার দুপুরে চার্জসীট দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাবু বিশ্বাস। মামলায় অন্যান্য আসামীরা হলেন, ঝিনাইদহ পৌরসভার সাবেক সচিব আজমলহোসেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান চান ও হিসাব রক্ষক মখলেচুর রহমান। তারা ২০১১ সালের ১ জুন থেকে ২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ৩৭টি কাজের বিপরীতে সোনালী ব্যাংকের ৩১৬ ও ঝিনাইদহ জনতা ব্যাংকের ১৪২৫০৩ নং অ্যাকাউন্ট থেকে এই টাকা উত্তোলন করেন।

দুদকের সহকারী পরিচালক বজলুর রহমান জানান, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঝিনাইদহ পৌরসভার বিভিন্ন কাজের বিলের টাকা বিল ভাউচারের বিপরীতে চেকে অতিরিক্ত অঙ্ক বসিয়ে ও অঙ্কটি কথায় লিখে আসল চেকের টাকাসহ অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন মর্মে প্রমাণিত হয়।

তিনি বলেন, সোনালী ব্যাংক পিএলসি ঝিনাইদহ শাখার হিসাব নং ৩১৬ থেকে তিন লাখ আটান্ন হাজার উনিশ টাকার বিপরীতে চেকের মাধ্যমে তারা ৩০ লাখ টাকা অতিরিক্ত তুলে নেন। এই নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুর বিরুদ্ধে দুদক তিনটি মামলায় চার্জসীট দিল।

তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ২০১১ সালের ১ জুন তারিখে পৌরসভার ক্যাশ বইতে জনৈক নওশের আলীর নামে ১০ হাজার টাকা লিপিবদ্ধ আছে। অথচ ১০ হাজার টাকার স্থলে সোনালী ব্যাংকের ৩১৬ নং একাউন্ট থেকে ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। জালিয়াতির মাধ্যমে চার লাখ টাকা বেশি উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়। নওশের আলী ছাড়াও যাদের নামে চেক ইস্যু করা হয়েছে তারা হলেন, প্রসাশনিক

কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান চানের নামে ১২টি, নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল উদ্দীনের নামে ২০১৩ সালের ৩ মার্চ ৩০৬ নং ভাউচারে ৩ হাজার ২১২ টাকার স্থলে ২ লাখ ৩ হাজার ২১২ টাকা, ২০১৩ সালের ২৬ সেপ্টম্বর হিসাব রক্ষক মখলেছুর রহমানের নামে ৭৯ নং ভাউচারে ১৩ হাজার দুই’শ টাকার স্থলে ২ লাখ ১৩ হাজার ২০০ টাকা, ২০১১ সালের ৬ জুন দেলোয়ার হোসেনের নামে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, ২০১১ সালের ২৩ আগষ্ট এবং ২০ সেপ্টেম্বর ১১৩ ও ১৫৫ নং ভাউচারে সাইদুর রহমানের নামে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৬৩ টাকার স্থলে ৩ লাখ ১৩ হাজার ৪৬৩ টাকা, কনজারভেন্সি পরিদর্শক সামছুল আলমের নামে যথাক্রমে ১০, ৪৫, ১০০, ১৪৮ ও ৩৮২ নং ভাউচারে এক লাখ ৪৮ হাজার ২২ টাকার স্থালে ৬ লাখ ৪৮ হাজার ২২ টাকা, ২০১৩ সালের ২০ জানুয়ারি ২২১ নং ভাউচারে কমিশনার তোফাজ্জেল হোসেনের নামে ২১ হাজার টাকার স্থলে ২ লাখ ২১ হাজার, ২০১৩ সালের ১১ আগষ্ট ৩৭ নং ভাউচারে পানি বিভাগের বিল ক্লার্ক আনোয়ার হোসেনের নামে ৫ হাজার ৪০ টাকার স্থলে ২ লাখ ৫ হাজার ৪০ টাকা, একই বছরের ১১ আগষ্ট ৩৪ নং ভাউচারে কমিশনার মতলেব মিয়ার নামে ৫০ হাজার টাকার স্থলে দেড় লাখ টাকা, ওই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি ২৪৩ নং ভাউচারে জনৈকা সাহিনা মৌসুমির নামে ১০ হাজারের স্থলে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা, ১১০ নং ভাউচারে কমিশনার সাইফুল ইসলাম মধুর নামে সোনালী ব্যাংকের ৩১৬ নং একাউন্ট থেকে যার চেক নং ৯৩৯৪৮৩৯, ৩০ হাজার টাকার স্থলে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা, ২০১৪ সালের পহেলা মে মাসে ৩০০ নং ভাউচারে মিঠু ইলেক্ট্রনিক্সের নামে ১৫ হাজার ৪১০ টাকার স্থলে ২ লাখ ১৫ হাজার ৪১০ টাকা, ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ২১৯ নং ভাউচারে কমিশনার বশির উদ্দীনের নামে ৫০ হাজারের স্থলে আড়াই লাখ টাকা, ২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর ঝিনাইদহ জনতা ব্যাংকের ১৪২৫০৩ নং চেকে রবিউল ইসলামের নামে ৯ হাজার ৬৫০ টাকার স্থলে ৪ লাখ ৯ হাজার ৬৫০ টাকা, ২০১২ সালের ১৮০ ও ২০১৪ সালের ২৮০ ভাউচারে স্যানেটারি ইন্সপেক্টর শংকর কুমার নন্দীর নামে ৭২ হাজার টাকার স্থলে ৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং ২০১৩ সালের ২০ নভেম্বর ১৩৩ নং ভাউচারে ইঞ্জিনিয়ার মুন্সি আবু জাফরের নামে ২১ হাজারের বিপরীতে ১ লাখ ২১ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়।

এমন অভিযোগের একটির বিষয়ে সত্যতা জানতে ঝিনাইদহ শহরের মিঠু ইলেক্ট্রিকে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, তাদের দোকান থেকে ২০১৪ সালের পহেলা জানুয়ারি দুই হিসাবে ৩২’শ টাকা, একই বছরের ৭ জুলাই ২৫ হাজার ৫০০ টাকা, ২০ এপ্রিল ৯৩০০ টাকার হিসাব পরিশোধ করা হয়। কোনক্রমেই তাদের দুই লাখ টাকার বিল পৌরসভা দেয়নি।

চার্জসীটের বিষয়ে ঝিনাইদহ দুর্নীতিদমন কমিশনের আইনজীবী এ্যাড আবু তালেব শুক্রবার দুপুরে জানান, “চেক জালিয়াতি মামলায় ঝিনাইদহ পৌরসভার

সাবেক মেয়র সাইদুল করিম মিন্টুসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আদালতে চার্জসীট দাখিল করেছে। চার্জসীট দাখিলের পর আসামীদের আদালত থেকে জামিন গ্রহনের বিধান রয়েছে। তবে তারা জামিন নিয়েছেন কিনা তা জানি না”।




২২ বছরের পথচলায় বই, স্যালাইন আর ভালোবাসা

কুষ্টিয়ার ব্যস্ত শহর কিংবা নিরিবিলি গ্রাম—যেখানেই চোখ যায়, সেখানেই দেখা মেলে এক পরিচিত দৃশ্য। কাঁধে একটি ব্যাগ, ভেতরে স্বরবর্ণের বই আর খাবার স্যালাইন—এই নিয়েই নিরলস ছুটে চলেছেন কাজী সোহান শরীফ। টানা ২২ বছর ধরে তিনি হয়ে উঠেছেন পথশিশু, প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষের এক নির্ভরতার নাম।
পথেই তার কর্ম, মানুষই তার প্রেরণা মানবসেবা তার কাছে কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যেখানে অবহেলিত শিশু, যেখানে অসহায় মানুষ—সেখানেই উপস্থিত সোহান। কখনো বই দিয়ে শিশুদের হাতে তুলে দেন শিক্ষার আলো, আবার কখনো স্যালাইন দিয়ে লড়াই করেন জীবন বাঁচানোর প্রয়োজনে। তার এই পথচলায় নেই কোনো প্রচারণা, নেই প্রাপ্তির হিসাব। মানুষের হাসিই তার একমাত্র প্রাপ্তি।
বই আর স্যালাইন—দুটি অস্ত্রেই লড়াই প্রতি বছরের শুরুতে নতুন বই নিয়ে পথশিশুদের মাঝে হাজির হন তিনি। অক্ষরজ্ঞানহীন শিশুদের হাতে তুলে দেন স্বরবর্ণের বই, খাতা-কলম। অন্যদিকে বছরের পুরো সময়জুড়েই চলে খাবার স্যালাইন বিতরণ, যা ডায়রিয়া প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
গরমে স্যালাইন, শীতে কম্বল, উৎসবে সেমাই-চিনি—প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন তিনি।
উদ্ভাবনী চিন্তায় এক ধাপ এগিয়ে মানবসেবার পাশাপাশি উদ্ভাবনেও নিজেকে আলাদা করে তুলেছেন সোহান। মশা নিধনের জন্য তৈরি করেছেন ফগার মেশিন। অন্ধদের জন্য বানিয়েছেন আল্ট্রা সেন্সর চশমা ও লাঠি, যা সামনে বাধা থাকলে সংকেত দিয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করে। মাত্র তিন মাসের প্রচেষ্টায়, ইউটিউব দেখে এবং নিজের মেধা কাজে লাগিয়ে এই প্রযুক্তি তৈরি করেছেন তিনি—স্বল্প খরচে, সম্পূর্ণ দেশীয় উদ্যোগে।
নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নীরব কাজ সমাজের লজ্জা ও সংকোচ ভেঙে কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও কাজ করছেন সোহান। অনেকেই সরাসরি নিতে সংকোচ বোধ করায় তাদের মায়েদের মাধ্যমে পৌঁছে দেন স্যানিটারি ন্যাপকিন। পাশাপাশি জরায়ু ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির কাজও করে যাচ্ছেন।
সংগ্রাম থেকে উঠে আসা এক মানুষ খোকসা উপজেলার কালিবাড়ি এলাকায় জন্ম নেওয়া সোহানের শৈশব কেটেছে অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে। সেই কষ্টই তাকে শিখিয়েছে অন্যের কষ্ট বুঝতে। ১৮ বছর বীমা কোম্পানিতে চাকরির পর তিনি পেশা হিসেবে বেছে নেন প্রতিবন্ধীদের জন্য সার্জিক্যাল পণ্য তৈরি।
বর্তমানে কুষ্টিয়া শহরে নিজের ছোট পরিসরের কর্মস্থলে হুইলচেয়ার, কৃত্রিম হাত-পা তৈরি করেন। গরিবদের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই তিনি কোনো লাভ নেন না।
প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে নীরবে। তার কাজের প্রভাব এখন দৃশ্যমান—
বহু পথশিশু প্রথমবারের মতো বই হাতে পেয়েছে। স্যালাইনের মাধ্যমে ডায়রিয়ার ঝুঁকি কমছে। প্রতিবন্ধীরা পাচ্ছে সহায়ক যন্ত্র
অন্ধদের জন্য প্রযুক্তি তৈরি নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। স্থানীয়দের কাছে তিনি এখন এক আস্থার নাম, এক মানবিকতার প্রতীক।
চ্যালেঞ্জ আছে, তবুও থামেননি। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা বা নিয়মিত অর্থায়ন ছাড়াই এই দীর্ঘ পথচলা সহজ নয়। তবুও থেমে থাকেননি সোহান। নিজের সীমিত সামর্থ্য নিয়েই এগিয়ে চলেছেন মানুষের পাশে থাকার অদম্য ইচ্ছা নিয়ে।
ভবিষ্যতের স্বপ্ন
তার স্বপ্ন আরও বড়—
নিজের কাজকে একটি সংগঠনের মাধ্যমে বিস্তৃত করা, উদ্ভাবিত প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা, আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো। এই লক্ষ্য পূরণে তিনি সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা কামনা করছেন।
কাজী সোহান শরীফ প্রমাণ করেছেন—মানবতার জন্য কাজ করতে বড় অর্থের প্রয়োজন নেই, দরকার বড় একটি মন। তার এই নিরলস পথচলা শুধু কুষ্টিয়ার গর্ব নয়, পুরো দেশের জন্যই এক অনুপ্রেরণার গল্প।



মেহেরপুরেও ছড়িয়ে পড়েছে হাম

সারাদেশের মতো মেহেরপুরেও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সংক্রামক রোগ হামের আক্রান্তের সংখ্যা। চলতি বছরের মার্চ মাসে মেহেরপুরে ১৩ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে ৬ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। সংক্রমণ রোধে তাদের জন্য ডায়রিয়া ওয়ার্ডের নিচে আলাদা ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেনারেল হাসপাতালের আরএমও সউদ কবির জানান, এক মাস থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্যে হামের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। গত মাস থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৩ জন হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমানে ৬ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার বাসিন্দা মঞ্জিলা খাতুন বলেন, সাত দিন আগে আমার ৯ মাসের কন্যাশিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে জ্বর মনে হলেও পরে চিকিৎসকরা তা হাম বলে শনাক্ত করেন। এরপরই অন্য শিশু রোগীদের কাছ থেকে আমার শিশুকে আলাদা করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এখানকার চিকিৎসাসেবার মান মোটামুটি ভালো।
সদর উপজেলার আনারুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলের বয়স ১৯ মাস। এর আগে দুটি টিকা দেওয়া হয়েছিল। তত্ত্বাবধান সরকারের সময়ের পর আর টিকা দেওয়া হয়নি। প্রথমে জ্বর আসে, পরে গায়ে দানা দানা বের হতে থাকে। হাসপাতালে আনার পর হাম শনাক্ত হয়।

জেনারেল হাসপাতালের নার্স জানান, হামে আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অভিভাবকদেরও সচেতন করা হচ্ছে যাতে অন্য শিশুদের সংক্রমণ না ঘটে।

মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ হাবিবুর রহমান বলেন, হাম হলে জ্বর, শরীরে ব্যথা এবং নাক দিয়ে পানি পড়া শুরু হয়। এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ এবং সহজেই অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই আক্রান্ত রোগীদের আইসোলেশনে রাখা জরুরি। তিন-চার দিনের মধ্যে শরীরে র‍্যাশ দেখা দেয় এবং পরে মুখে ঘা হতে পারে। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা নিতে হবে। হামের প্রতিষেধকের একমাত্র উপায় ভ্যাকসিন দেওয়া।




মেহেরপুরে সাড়ে ৪ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ

মেহেরপুরের গাংনীতে লরি বোঝায় সাড়ে ৪ হাজার লিটার ডিজেল থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গাংনী উপজেলার সাহেবনগর বাজার থেকে লরি বোঝায় তেল জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, ঝিনাইদহ ঢ ৪১-০০৪৩ লরিটি খুলনা ডিপো থেকে ডিজেল নিয়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার গোয়াল গ্রামে যাওয়ার কথা ছিল। অথচ শুক্রবার মধ্যে রাতে অবৈধ ভাবে গাংনী উপজেলার সাহেবনগর বাজারের রিপন নামের এক সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ীর দোকানে লরি থেকে তেল নামানো হচ্ছে এমন খবর ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৪ হাজার লিটার ডিজেলসগ লরিটি থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

গাংনী থানার ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এস আই আব্দুল করিম বলেন, তেলের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তেল বোঝায় লরিটি জব্দ করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কাগজপত্র যাচাই শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এনিয়ে গত দুদিনে মেহেরপুর থেকে ১০ হাজার লিটারের অধিক ডিজেল উদ্ধার করা হলো।




শুধু ভালো রেজাল্ট হলেই হবে না, সত্যিকারের মানুষ হতে হবে

মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দিন বলেছেন, বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একশ্রেণীর শিক্ষার্থী শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান বা মর্যাদা দেয় না, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, একজন শিক্ষক তার দায়িত্ব ও কর্তব্যের জায়গা থেকে শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে বকাঝকা করেন বা পড়ালেখায় চাপ প্রয়োগ করেন।

তিনি আরও বলেন, কিন্তু একশ্রেণীর অভিভাবক ও শিক্ষার্থী এ বিষয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, যা অনভিপ্রেত। তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো রেজাল্টের দিকে মনোযোগ না দিয়ে প্রতিটি বিষয়ে মৌলিক জ্ঞান (বেসিক নলেজ) অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে কম পাশের হার লক্ষ্য করা যায়। অনেক শিক্ষার্থী অন্যান্য বিষয়ে ভালো করলেও ইংরেজি বিষয়ে ন্যূনতম নম্বর না পাওয়ায় অকৃতকার্য হয়ে থাকে। এছাড়া ভর্তি পরীক্ষায় খাতার টপশিটে বিভিন্ন ভুলের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তিনি দেশের অভ্যন্তরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরামর্শ দেন। আন্ডারগ্র্যাজুয়েট কোর্স সম্পন্ন করার পর বিদেশে যাওয়া উচিত বলে তিনি মত দেন। বিশেষ করে অভিভাবকদের আর্থিক বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিদেশে পড়াশোনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেন।

তিনি বলেন, শুধু এ প্লাস বা ভালো ফলাফল করলেই চলবে না, পাশাপাশি ভালো মানুষও হতে হবে। বাবা-মা, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে। একজন ভালো ছাত্রের চেয়ে বেশি প্রয়োজন একজন ভালো ও দায়িত্বশীল মানুষ হওয়া।

তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখির অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মেহেরপুরের গাংনীতে সন্ধানী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের করণীয় বিষয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে তিনি সন্ধানী স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান ল্যাবরেটরি, নার্সিং ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি কক্ষ ও ক্লাসরুমসহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং সন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে বিজ্ঞান ল্যাবরেটরিতে আরও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

পরিদর্শন শেষে সন্ধানীর কনফারেন্স রুমে শিক্ষা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধানী সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আবু জাফরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা আহাম্মদ আলী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের সহকারী অধ্যাপক রফিকুল আলম বকুল। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ হাসানুজ্জামান বিশ্বাস ও সন্ধানী নার্সিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ শাহনাজ পারভিন সুমী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কলেজ শাখার একাডেমিক প্রধান রাজু আহমেদ।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে উপাচার্য উচ্চশিক্ষা ও দেশ-বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ-সুবিধা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উপাচার্যকে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেরাব হোসেন সামি, মৌমিতা আক্তার এবং দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন লাবিব ও স্নেহা উপাচার্যের কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন করে শিক্ষা বিষয়ে জানার আগ্রহ প্রকাশ করে