মেহেরপুরে মেধায় ৭৬, সাধারণে ১৬২ জনের বৃত্তি লাভ, জেলায় সেরা সন্ধানী 

২০২৫ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ বছর দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪৬ হাজার ২০০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে মেধাবৃত্তি পেয়েছে ১৪ হাজার ৭০০ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৩১ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থী।

মেহেরপুর জেলায় এ বছর মেধাবৃত্তিতে ৭৬ জন শিক্ষার্থী কৃতিত্ব অর্জন করেছে। এর মধ্যে মেহেরপুর সদরে ২৭ জন, গাংনী উপজেলায় ৪৩ জন এবং মুজিবনগর উপজেলায় ৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ বৃত্তিতে জেলায় মোট ১৬২ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে মেহেরপুর সদরে ৫৮ জন, গাংনী উপজেলায় ৯১ জন এবং মুজিবনগর উপজেলায় ১৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

জেলার মধ্যে শীর্ষ স্থান অর্জন করেছে সন্ধানী স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এ বছর মোট ৮২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ২৩ জন মেধাবৃত্তি এবং ৩১ জন সাধারণ বৃত্তি লাভ করে। সব মিলিয়ে ৫৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি জেলার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে।

মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩১ জন মেধাবৃত্তি এবং ১০ জন সাধারণ বৃত্তি লাভ করেছে। জিনিস ল্যাবরেটরী স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ১৭ জন শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি এবং ২৪ জন সাধারণ বৃত্তি লাভ করেছে। মোমিনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১ জন মেধাবৃত্তি ও ৩ জন সাধারণ বৃত্তি লাভ করেছে। আমঝুপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩ জন সাধারণ বৃত্তি, আর আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২ জন সাধারণ বৃত্তি এবং কে আর আর এস উচ্চ বিদ্যালয়ের ১ জন শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি অর্জন করেছে। জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক স্কুল এন্ড কলেজের ১ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।

মেধাবৃত্তিতে সি.এফ.এম স্কুল থেকে ২ জন, হোগলবাড়িয়া মোহাম্মদপুর হাজী ভরাসউদ্দিন সেকেন্ডারি স্কুক থেকে ৩ জন, গাংনী পাইলট (মডেল) সেকেন্ডারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪ জন, সাহেবনগর সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ১ জন, রায়পুর সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ২ জন, ভাটপাড়া সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ১ জন এবং বাঁশবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪ জন ও আরও ২ জন শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি অর্জন করেছে।

সাধারণ বৃত্তিতে মিকোশিস সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ৩ জন, করমদি সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ২ জন, হারিয়াদহ মহিষাখোলা সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ১ জন, হোগলবাড়িয়া মোহাম্মদপুর হাজী ভরাসউদ্দিন সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ৩ জন, এইচ.বি. সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ৪ জন, বেতবাড়িয়া সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ১ জন, গাংনী পাইলট (মডেল) সেকেন্ডারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৯ জন, বাওট সোলাইমানী সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ১ জন, জোড়পুকুরিয়া সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ৬ জন, গারাডোব সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ১ জন, সাহেবনগর সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ৪ জন, বাদিয়াপাড়া মহব্বতপুর সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ৩ জন, যুগীরগোফা সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ১ জন, রায়পুর সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ৩ জন, কুমারিডাঙ্গা সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ১ জন, তেঁতুলবাড়িয়া ইসলামিয়া সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ২ জন, ভাটপাড়া সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ১ জন, গাংনী প্রি-ক্যাডেট অ্যান্ড জুনিয়র হাই স্কুল থেকে ৩ জন, বাঁশবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬ জন ও আরও ৩ জন, এম.এইচ.এ. সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল থেকে ১ জন এবং মোহাম্মদপুর আদর্শ হাই স্কুল থেকে ১ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে।

মুজিবনগর উপজেলায় মেধাবৃত্তিতে জয়পুর তারানগর হাই স্কুল থেকে ২ জন, মুজিবনগর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১ জন, দারিয়াপুর সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল থেকে ১ জন এবং গোপালনগর গার্লস স্কুল থেকে ২ জন শিক্ষার্থী কৃতিত্ব অর্জন করেছে। সাধারণ বৃত্তিতে জয়পুর তারানগর হাই স্কুল থেকে ৩ জন, মুজিবনগর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৪ জন, বাগোয়ান সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ২ জন, আনন্দবাস মিয়া মনসুর একাডেমি থেকে ২ জন, মহাজনপুর সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ১ জন এবং গোপালনগর গার্লস স্কুল থেকে ১ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।

এ সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ফলাফল অর্জনে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি সন্ধানী সংস্থা কৃতজ্ঞ।




জীবননগর থানা মডেল পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় শীর্ষে

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এর ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এ বছর জীবননগর উপজেলায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে জীবননগর থানা মডেল পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

২০২৫ সালে জীবননগর উপজেলা থেকে মোট ৩৮৫ জন শিক্ষার্থী জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

গতকাল বুধবার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। উপজেলায় ১৬ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ৩৩ জন সাধারণ গ্রেডে মোট ৪৯ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।

জীবননগর থানা মডেল পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে ১০ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ১৩ জন মোট ২৩ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে। জীবননগর থানা সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে ৬ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ১১ জন মোট ১৭ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।

এছাড়া শাপলাকলি আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে সাধারণ গ্রেডে ৩ জন, হাসাদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১ জন, উথলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২ জন, উথলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে ১ জন এবং কাশিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২ জন শিক্ষার্থী সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে।

বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী বৃত্তি পাওয়ার বিষয়ে জীবননগর থানা মডেল পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেবেকা সুলতানা জানান, শিক্ষকদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান এবং শিক্ষক, অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।




সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আলমডাঙ্গার এক যুবক, গুরুতর আহত এক

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রান গেল আলমডাঙ্গার এক যুবকের। আহত আরও একজন মৃত্যুশয্যায়।

ঘটনাটি ঘটেছে আজ বুধবার কুষ্টিয়ার মালিহাদ ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা মারফত আলি সড়কে। এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা শিকার দুইজনই আলমডাঙ্গা উপজেলার প্রাগপুর গ্রামের নিজামুল হকের ছেলে শামিম আহম্মেদ (১২) এবং মালয়েশিয়া প্রবাসী মনোয়ার হোসেনের ছেলে কিরন আহমেদ(১৫)।

জানা গেছে দুই কিশোর নিজ গ্রাম প্রাগপুর থেকে মোটরসাইকেল যোগে বেড়াতে যাচ্ছিল কুষ্টিয়া অভিমুখে।পার্শ্ববর্তী মালিহাদ গ্রাম থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মারফত আলি সড়কে পৌঁছালে তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের সঙ্গে একটি লাটাহাম্বার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুইজনই গুরুতর আহত হয়।

স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল-এ ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে কিরণের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

অন্যদিকে, শামিমের অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন।ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




আলমডাঙ্গার বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান লালটু আর নেই

আলমডাঙ্গার বহুল আলোচিত বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর উদ্দিন লালটু আর নেই। তিনি ৭৭ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুবরণ করেছেন বুধবার সন্ধ্যা ৭:২০ মিনিটে। তার মৃত্যুর খবর এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আনে।

জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলা চিৎলা ইউনিয়নের কয়ড়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে নূর উদ্দিন লালটু ছোটবেলা থেকেই সাহসী, দৃঢ়শারীরিক এবং শক্তিশালী মানুষ ছিলেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর তিনি এলাকায় জাসদ গণবাহিনী গড়ে তোলেন। পরে জাসদ গণবাহিনী থেকে অব্যাহতি নিয়ে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির ছত্রছায়ায় তৈরি সিরাজ বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন। এর ফলে উভয় বাহিনীর সদস্য, ধনী শ্রেণী এবং নিরীহ সাধারণ মানুষ রাস্তাঘাটে নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটত। এলাকায় তিনি চরমপন্থী নিষিদ্ধ সংগঠনের কমান্ডারের ভূমিকায় ছিলেন।

১৯৯৯ সালে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের প্রচেষ্টায় সকল নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেন। নুরুজ্জামান লালটু দীর্ঘ ১৯ বছর জেল খানায় কারাভোগের পর ২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পান। পরবর্তীতে তিনি সামাজিক সংগঠন ও জনসেবামূলক কাজে যুক্ত ছিলেন। তিনি ক্রীড়া প্রেমিক ছিলেন এবং তার নামে খেলার মাঠ তৈরি করেছেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবদানও রেখেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি কিছু দিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। গত মঙ্গলবার ভোরবেলা থেকে তীব্র অসুস্থতা অনুভব করলে বুধবার সন্ধ্যায় মৃত্যুবরণ করেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হবে।




দর্শনায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীসহ ৩ জন গ্রেফতার

দর্শনা থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে সি আর মামলার পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলার আসামীসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে।

বুধবার ভোরে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয় দর্শনা থানাধীন নেহালপুর গ্রামে। এ সময় নিয়মিত মামলার আসামী, মৃত করিম মন্ডলের ছেলে ফয়েজ উদ্দীন (৫০)কে গ্রেফতার করা হয়।

এরপর সি আর মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামী, সিলিন্দাপাড়ার লাল মোহাম্মদের ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩৬) এবং জয়নগর গ্রামের আমিরের ছেলে সোহেলকেও (২৬) গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত তিনজনকে চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।




দর্শনায় আদিবাসীদের মাঝে স্যানিটেশন বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন ও সামগ্রী বিতরণ

দর্শনায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মাঝে স্যানিটেশন বিষয়ে ওরিয়েন্টেশন ও স্যানিটেশন সামগ্রী বিতরণ করেছে মৌচাক সমাজ উন্নয়ন সংস্থা। বুধবার সকাল ১০টা থেকে দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ১৭ জন নারী ও পুরুষ আদিবাসীকে স্যানিটেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় এবং তাদের মাঝে স্যানিটেশন সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল সাবান, হারপিক, বালতি, ব্রাশ, বদনা ও খাবার।

মৌচাক সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি তক্কেল আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে বক্তব্য দেন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোপাইটার শাহিনুজ্জামান পলাশ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংস্থার ম্যানেজার মকবুল হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দর্শনা প্রেসক্লাব সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি আওয়াল হোসেন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব মামুন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মৌচাকের কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান।




কালীগঞ্জে রেল লাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে রেল লাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার সকালে উপজেলার বারবাজার এলাকার রেল লাইনের পাশ থেকে আনুমানিক ২০/২১ বছর বয়সী ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সকালে রেল লাইনের পাশের পুকুর পাড়ে এক যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। পরে রেল পুলিশ এসে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ট্রেনের ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

যশোর রেল পুলিশের এস আই জৌতিষচন্দ্র বর্মন বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। আমরা ধারণা করছি ট্রেনের ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের পর রিপোর্ট এলে সঠিক কারণ জানা যাবে।




দামুড়হুদায় বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ, পুলিশের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার খানপাড়া মহল্লাবাসী বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও মিছিল করেছেন। বুধবার বেলা ১১টার দিকে স্বল্প সময়ের জন্য এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিচারের দাবিতে এলাকাবাসী দামুড়হুদা চৌরাস্তার মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়কে বসে পড়েন। এসময় তারা ব্যানার ও মাইকিংসহ মিছিল করেন। হঠাৎ সড়ক অবরোধের ফলে কিছু সময়ের জন্য যানজটের সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।

সংবাদ পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। পুলিশের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান। স্থানীয়দের মতে, পুলিশের দক্ষতা ও মার্জিত আচরণের কারণে কোনো আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি মোবাইল ফোন ভাঙাকে কেন্দ্র করে অর্থ দাবি এবং তা নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে চুয়াডাঙ্গা থেকে মোটরসাইকেলে কয়েকজন যুবক দামুড়হুদার খানপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে ঢুকে সাজু ও রাজু নামে দুই ভাইকে কুপিয়ে জখম করে। তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করে। এসময় এলাকাবাসী একজনকে আটক করে গণপিটুনি দেয়।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত সার্জিক্যাল চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রেফার করেন। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার সকালে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত রাজু ও সাজুর পিতা বাবুল মিয়া বাদী হয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, বাইরে থেকে এসে স্থানীয়দের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওসি শেখ মেসবাহ উদ্দিন জানান, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। তারা বর্তমানে এলাকায় নেই। খুব দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।




মেহেরপুর জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা

মেহেরপুর জেলা পুলিশের আয়োজনে মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে পুলিশ লাইন্স ড্রিল শেডে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়। কল্যাণ সভায় জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সমস্যার বিষয়গুলো পুলিশ সুপারের কাছে তুলে ধরেন।

পুলিশ সুপার তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকটি সমস্যার সমাধান করেন এবং অন্যান্য বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। এ সময় তিনি উপস্থিত সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে সততা, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। এছাড়া জেলা থেকে বিভিন্ন সময়ে পিআরএল (অবসরোত্তর ছুটি) গমনকারী পুলিশ সদস্যদের বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)সহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।




মেহেরপুরে জনপ্রতি ফিতরা ১১০ টাকা, সর্বোচ্চ ২,৫০০ টাকা নির্ধারণ

মেহেরপুরে চলতি বছরের জন্য জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ১১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২,৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাকাতের নিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি মেহেরপুর জেলা শাখা বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এ হার নির্ধারণ করে।

বুধবার দুপুর ২টার দিকে মেহেরপুর হোটেল বাজার জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় ফিতরা ও জাকাতের নিসাব নির্ধারণ করা হয়।

মেহেরপুর জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি রোকনুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল ওহাব, দপ্তর সম্পাদক জামাল উদ্দিন, সহ-দপ্তর সম্পাদক ইদ্রিস আলী, সাইফুর ইসলাম, আব্দুর রহমানসহ স্থানীয় মুসল্লিগণ।

সভায় জানানো হয়, স্থানীয় বাজারদর বিবেচনায় শরিয়াহসম্মতভাবে এ হার নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী ফিতরা আদায়ের জন্য সকলকে আহ্বান জানানো হয়।