মেহেরপুরে বসতবাড়ি থেকে ৭১ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার, দুইজন পলাতক
মেহেরপুরের মল্লিকপাড়ায় অভিযান চালিয়ে একটি বসতবাড়ি থেকে ৭১ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
ঘটনাটি ঘটে গতকাল বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে রমেশ ক্লিনিকের সামনে রেহানা খাতুন নামের এক মহিলার বসতবাড়িতে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) এর ৮(গ), ৪০ ও ৪১ ধারায় দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযানে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিয়াপাড়া এলাকার মোঃ সাহাদাৎ হোসেনের ছেলে মোঃ চঞ্চল (৩৭) ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধ হেরোইন সংগ্রহ করে মল্লিকপাড়া এলাকার তার খালা মোছাঃ রেহানা খাতুনের (৪০) বসতবাড়িতে সংরক্ষণ করে ব্যবসা করে আসছিলেন।
সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী উপপরিদর্শক মোঃ মিনারুল ইসলামসহ ৬ সদস্যের একটি রেইডিং টিম বুধবার সন্ধ্যায় রমেশ ক্লিনিকের সন্নিকটে রেহানা খাতুনের উত্তরমুখী দুই কক্ষবিশিষ্ট একতলা পাকা বাড়ি ঘেরাও করে। তবে অভিযানের সময় আসামিদ্বয়কে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।
পরে স্থানীয় দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে রাত ৮টার দিকে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উত্তর-পূর্ব কোণের শয়নকক্ষে চার তাকবিশিষ্ট একটি প্লাস্টিক র্যাকের নিচের তাকে কাপড়ের ভাঁজে লুকানো অবস্থায় পলিথিনে মোড়ানো একটি হেরোইনের পোটলা উদ্ধার করা হয়।
দাপ্তরিক ডিজিটাল নিক্তিতে ওজন করে হেরোইনের পরিমাণ ৭১ গ্রাম পাওয়া যায়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা।
উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে ১ গ্রাম হেরোইন নমুনা হিসেবে পৃথক করে সিলগালা করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট অংশ যথানিয়মে জব্দ করে বিভাগীয় হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত দুজনই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা মামলাটির তদন্ত করবেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মোছাঃ রেহানা খাতুন ও মোঃ চঞ্চলের স্ত্রী একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে মোছাঃ রেহানা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর একটি নাটকীয় অভিযান সাজিয়ে তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে। অভিযানের সময় তিনি বাসায় উপস্থিত ছিলেন না। তার দাবি, তার বসতবাড়িতে কোনো তালা ভাঙার ঘটনা ঘটেনি এবং তিনি অনুপস্থিত থাকা অবস্থায় ঘরে হেরোইন উদ্ধারের দাবি তুলে