মেহেরপুরের নাসিমা আনিস পেলেন বাংলা একাডেমির কথাসাহিত্য পুরস্কার

মেহেরপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য আজ এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। জেলার কৃতি কথাসাহিত্যিক নাসিমা আনিস অর্জন করলেন দেশের অন্যতম সম্মানজনক স্বীকৃতি— বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫। তিনি এবার কথা সাহিত্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেলেন।মেহেরপুরে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি কথা সাহিত্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কার অর্জন করছেন। এ অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং মেহেরপুরবাসীর জন্য এক অনন্য সম্মান ও আনন্দের উপলক্ষ।

নাসিমা আনিস মেহেরপুরের মুজিবনগরের ঐতিহ্যবাহী বল্লভপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হাবিব আনিসুর রহমানের সহধর্মিণী। পারিবারিকভাবেও তাঁদের সন্তানরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। ইতিপূর্বে মেহেরপুরের লেখক রফিকুর রশীদ শিশু সাহিত্যে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (২০২১)পান।

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবার ৯ জনকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখায় ৯ বিশিষ্টজনকে এই পুরষ্কার তুলে দেন ।

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ প্রাপ্তরা হলেন- কথাসাহিত্যে নাসিমা আনিস; প্রবন্ধ/গদ্যে সৈয়দ আজিজুল হক; শিশুসাহিত্যে হাসান হাফিজ; অনুবাদে আলী আহমদ; গবেষণায় মুস্তাফা মজিদ ও ইসরাইল খান; বিজ্ঞানে ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী ও মুক্তিযুদ্ধ মঈদুল হাসান।

কথাসাহিত্যে নাসিমা আনিসের অবদান দীর্ঘদিনের। তাঁর রচনায় উঠে এসেছে সমাজবাস্তবতা, মানবিক টানাপোড়েন, নারীর আত্মসংগ্রাম ও সময়চেতনার সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ। “কাঞ্চনের জন্য ভালোবাসা”, “চন্দ্রভানুর পিনিস”, “বৃহন্নালা বৃত্তান্ত”, “সূর্য ওঠার সময়”, “কুয়াশা কুয়াশা ভোর”, “স্বপ্ন আমার বাঁচবো”, “মোহিনীর থান”, “কিডনির কারবার” প্রভৃতি গ্রন্থ পাঠকমহলে বিশেষভাবে সমাদৃত। তাঁর গল্প “কয়লা নামে কোনো জায়গা নেই” সমকালীন সাহিত্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত।

তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে অনার্সসহ এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ঢাকার ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি শিক্ষকতা জীবনে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীর প্রেরণার উৎস ছিলেন।

উল্লেখ্য, এর আগে তিনি বাংলা একাডেমি প্রদত্ত ‘আবু রুশদ সাহিত্য পুরস্কার’ লাভ করেন (২০২৪), যা তাঁর সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিকে আরও দৃঢ় করেছে।

মেহেরপুরবাসীর পক্ষ থেকে কথাসাহিত্যিক নাসিমা আনিসকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। তাঁর সাহিত্যসাধনা আরও সমৃদ্ধ হোক, বাংলা সাহিত্য ভান্ডার তাঁর কলমে হোক আরও আলোকিত—এই প্রত্যাশা রইল।




মেহেরপুরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধলা গ্রামের রেজাউল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ মো. গোলাম কবির এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর তারিখে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধলা গ্রামে নিজ স্ত্রী জাহানারা খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন রেজাউল ইসলাম। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে লাশ গোপন ও স্বাভাবিক মৃত্যুর গল্প দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়।

পুলিশি তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে নিহত নারীর মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধে হত্যার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে আসে। পাশাপাশি প্রতিবেশী ও স্বজনদের সাক্ষ্য এবং আসামির আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অপরাধ প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে রেজাউল ইসলাম জানান, বিবাহের ২৫ বছর পরও স্ত্রীর পরকীয়া সংক্রান্ত সন্দেহ ও পারিবারিক বিরোধের জেরে তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটান। প্রথমে ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করলেও পরে সত্য স্বীকার করেন।

রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, পাবলিক প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ যথাযথভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হয়েছে।




গাংনীতে ২৪টি পরিবারের মাছ ধরার জাল পুড়িয়ে দিল দুর্বৃত্তরা

রাতের আঁধারে ২৪টি পরিবারের স্বপ্ন ও আয়ের উৎস পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। প্রায় তিন লাখ টাকার মাছ ধরার জাল আগুনে পুড়ে যায় বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

ঘটনাটি গত বুধবার মধ্যরাতে গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের মটমুড়া ক্লাব বাজার এলাকায় ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত মাছ ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম বলেন, “আমরা ২৪টি পরিবার একসঙ্গে মাছ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমাদের সংসার এই জালের ওপর নির্ভরশীল। অথচ কারা যেন রাতের আঁধারে আমাদের জালগুলো পুড়িয়ে দিয়েছে। এখন আমরা কী খাবো, কীভাবে আয় করবো? নতুন করে জাল কিনতে বর্তমানে প্রায় চার লাখ টাকা লাগবে। যদি আমাদের ওপর কারও এত রাগ থাকতো, তাহলে আমাদের গায়ে আঘাত করলেও সহ্য করতে পারতাম। কিন্তু এত বড় ক্ষতি কীভাবে সামাল দেবো?”

আরেক মাছ ব্যবসায়ী মহিবুল হোসেন বলেন, “আমরা ঋণ নিয়ে দুটি জাল কিনে মাছের ব্যবসা করি। কিস্তি পরিশোধের পাশাপাশি ২৪টি পরিবার এই জালের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করি। যতদিন পর্যন্ত নতুন জাল কেনার টাকা জোগাড় করতে না পারবো, ততদিন আমাদের বসে থাকতে হবে। তাই অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।”

এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। আগুনে পুড়ে যায় বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

ঘটনাটি গত বুধবার মধ্যরাতে গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের মটমুড়া ক্লাব বাজার এলাকায় ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত মাছ ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম বলেন, “আমরা ২৪টি পরিবার একসঙ্গে মাছ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমাদের সংসার এই জালের ওপর নির্ভরশীল। অথচ কারা যেন রাতের আঁধারে আমাদের জালগুলো পুড়িয়ে দিয়েছে। এখন আমরা কী খাবো, কীভাবে আয় করবো? নতুন করে জাল কিনতে বর্তমানে প্রায় চার লাখ টাকা লাগবে। যদি আমাদের ওপর কারও এত রাগ থাকতো, তাহলে আমাদের গায়ে আঘাত করলেও সহ্য করতে পারতাম। কিন্তু এত বড় ক্ষতি কীভাবে সামাল দেবো?”

আরেক মাছ ব্যবসায়ী মহিবুল হোসেন বলেন, “আমরা ঋণ নিয়ে দুটি জাল কিনে মাছের ব্যবসা করি। কিস্তি পরিশোধের পাশাপাশি ২৪টি পরিবার এই জালের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করি। যতদিন পর্যন্ত নতুন জাল কেনার টাকা জোগাড় করতে না পারবো, ততদিন আমাদের বসে থাকতে হবে। তাই অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।”

এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।




জনবিরোধী সকল কার্যক্রম বন্ধ করা হবে: এমপি তাজউদ্দীন খান

সকলকে সঙ্গে নিয়ে মেহেরপুরে জনবিরোধী সকল কার্যক্রম বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন মেহেরপুর-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খান।

বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে মেহেরপুর সদর হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, প্রিয় দেশটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চাই। তারই অংশ হিসেবে এই হাসপাতাল পরিষ্কার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

পাশাপাশি তিনি হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট দূরীকরণ এবং নতুন ভবন দ্রুত চালুর আশ্বাস দেন। এছাড়াও হাসপাতালকে দুর্নীতি ও দালালমুক্ত করার ঘোষণা দেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বুলবুল কবীর, জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির সোহেল রানাসহ জামায়াতের নেতাকর্মীরা। তারা হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশগ্রহণ করেন।




মেহেরপুরে মেধায় ৭৬, সাধারণে ১৬২ জনের বৃত্তি লাভ, জেলায় সেরা সন্ধানী 

২০২৫ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ বছর দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪৬ হাজার ২০০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে মেধাবৃত্তি পেয়েছে ১৪ হাজার ৭০০ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৩১ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থী।

মেহেরপুর জেলায় এ বছর মেধাবৃত্তিতে ৭৬ জন শিক্ষার্থী কৃতিত্ব অর্জন করেছে। এর মধ্যে মেহেরপুর সদরে ২৭ জন, গাংনী উপজেলায় ৪৩ জন এবং মুজিবনগর উপজেলায় ৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ বৃত্তিতে জেলায় মোট ১৬২ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে মেহেরপুর সদরে ৫৮ জন, গাংনী উপজেলায় ৯১ জন এবং মুজিবনগর উপজেলায় ১৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

জেলার মধ্যে শীর্ষ স্থান অর্জন করেছে সন্ধানী স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এ বছর মোট ৮২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ২৩ জন মেধাবৃত্তি এবং ৩১ জন সাধারণ বৃত্তি লাভ করে। সব মিলিয়ে ৫৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি জেলার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে।

মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩১ জন মেধাবৃত্তি এবং ১০ জন সাধারণ বৃত্তি লাভ করেছে। জিনিস ল্যাবরেটরী স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ১৭ জন শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি এবং ২৪ জন সাধারণ বৃত্তি লাভ করেছে। মোমিনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১ জন মেধাবৃত্তি ও ৩ জন সাধারণ বৃত্তি লাভ করেছে। আমঝুপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩ জন সাধারণ বৃত্তি, আর আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২ জন সাধারণ বৃত্তি এবং কে আর আর এস উচ্চ বিদ্যালয়ের ১ জন শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি অর্জন করেছে। জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক স্কুল এন্ড কলেজের ১ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।

মেধাবৃত্তিতে সি.এফ.এম স্কুল থেকে ২ জন, হোগলবাড়িয়া মোহাম্মদপুর হাজী ভরাসউদ্দিন সেকেন্ডারি স্কুক থেকে ৩ জন, গাংনী পাইলট (মডেল) সেকেন্ডারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪ জন, সাহেবনগর সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ১ জন, রায়পুর সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ২ জন, ভাটপাড়া সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ১ জন এবং বাঁশবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪ জন ও আরও ২ জন শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি অর্জন করেছে।

সাধারণ বৃত্তিতে মিকোশিস সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ৩ জন, করমদি সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ২ জন, হারিয়াদহ মহিষাখোলা সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ১ জন, হোগলবাড়িয়া মোহাম্মদপুর হাজী ভরাসউদ্দিন সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ৩ জন, এইচ.বি. সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ৪ জন, বেতবাড়িয়া সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ১ জন, গাংনী পাইলট (মডেল) সেকেন্ডারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৯ জন, বাওট সোলাইমানী সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ১ জন, জোড়পুকুরিয়া সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ৬ জন, গারাডোব সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ১ জন, সাহেবনগর সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ৪ জন, বাদিয়াপাড়া মহব্বতপুর সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ৩ জন, যুগীরগোফা সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ১ জন, রায়পুর সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ৩ জন, কুমারিডাঙ্গা সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ১ জন, তেঁতুলবাড়িয়া ইসলামিয়া সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ২ জন, ভাটপাড়া সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ১ জন, গাংনী প্রি-ক্যাডেট অ্যান্ড জুনিয়র হাই স্কুল থেকে ৩ জন, বাঁশবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬ জন ও আরও ৩ জন, এম.এইচ.এ. সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল থেকে ১ জন এবং মোহাম্মদপুর আদর্শ হাই স্কুল থেকে ১ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে।

মুজিবনগর উপজেলায় মেধাবৃত্তিতে জয়পুর তারানগর হাই স্কুল থেকে ২ জন, মুজিবনগর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১ জন, দারিয়াপুর সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল থেকে ১ জন এবং গোপালনগর গার্লস স্কুল থেকে ২ জন শিক্ষার্থী কৃতিত্ব অর্জন করেছে। সাধারণ বৃত্তিতে জয়পুর তারানগর হাই স্কুল থেকে ৩ জন, মুজিবনগর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৪ জন, বাগোয়ান সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ২ জন, আনন্দবাস মিয়া মনসুর একাডেমি থেকে ২ জন, মহাজনপুর সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ১ জন এবং গোপালনগর গার্লস স্কুল থেকে ১ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।

এ সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ফলাফল অর্জনে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি সন্ধানী সংস্থা কৃতজ্ঞ।




জীবননগর থানা মডেল পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় শীর্ষে

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এর ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এ বছর জীবননগর উপজেলায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে জীবননগর থানা মডেল পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

২০২৫ সালে জীবননগর উপজেলা থেকে মোট ৩৮৫ জন শিক্ষার্থী জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

গতকাল বুধবার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। উপজেলায় ১৬ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ৩৩ জন সাধারণ গ্রেডে মোট ৪৯ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।

জীবননগর থানা মডেল পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে ১০ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ১৩ জন মোট ২৩ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে। জীবননগর থানা সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে ৬ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ১১ জন মোট ১৭ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।

এছাড়া শাপলাকলি আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে সাধারণ গ্রেডে ৩ জন, হাসাদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১ জন, উথলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২ জন, উথলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে ১ জন এবং কাশিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২ জন শিক্ষার্থী সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে।

বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী বৃত্তি পাওয়ার বিষয়ে জীবননগর থানা মডেল পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেবেকা সুলতানা জানান, শিক্ষকদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান এবং শিক্ষক, অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।




সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আলমডাঙ্গার এক যুবক, গুরুতর আহত এক

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রান গেল আলমডাঙ্গার এক যুবকের। আহত আরও একজন মৃত্যুশয্যায়।

ঘটনাটি ঘটেছে আজ বুধবার কুষ্টিয়ার মালিহাদ ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা মারফত আলি সড়কে। এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা শিকার দুইজনই আলমডাঙ্গা উপজেলার প্রাগপুর গ্রামের নিজামুল হকের ছেলে শামিম আহম্মেদ (১২) এবং মালয়েশিয়া প্রবাসী মনোয়ার হোসেনের ছেলে কিরন আহমেদ(১৫)।

জানা গেছে দুই কিশোর নিজ গ্রাম প্রাগপুর থেকে মোটরসাইকেল যোগে বেড়াতে যাচ্ছিল কুষ্টিয়া অভিমুখে।পার্শ্ববর্তী মালিহাদ গ্রাম থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মারফত আলি সড়কে পৌঁছালে তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের সঙ্গে একটি লাটাহাম্বার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুইজনই গুরুতর আহত হয়।

স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল-এ ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে কিরণের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

অন্যদিকে, শামিমের অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন।ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




আলমডাঙ্গার বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান লালটু আর নেই

আলমডাঙ্গার বহুল আলোচিত বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর উদ্দিন লালটু আর নেই। তিনি ৭৭ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুবরণ করেছেন বুধবার সন্ধ্যা ৭:২০ মিনিটে। তার মৃত্যুর খবর এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আনে।

জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলা চিৎলা ইউনিয়নের কয়ড়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে নূর উদ্দিন লালটু ছোটবেলা থেকেই সাহসী, দৃঢ়শারীরিক এবং শক্তিশালী মানুষ ছিলেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর তিনি এলাকায় জাসদ গণবাহিনী গড়ে তোলেন। পরে জাসদ গণবাহিনী থেকে অব্যাহতি নিয়ে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির ছত্রছায়ায় তৈরি সিরাজ বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন। এর ফলে উভয় বাহিনীর সদস্য, ধনী শ্রেণী এবং নিরীহ সাধারণ মানুষ রাস্তাঘাটে নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটত। এলাকায় তিনি চরমপন্থী নিষিদ্ধ সংগঠনের কমান্ডারের ভূমিকায় ছিলেন।

১৯৯৯ সালে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের প্রচেষ্টায় সকল নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেন। নুরুজ্জামান লালটু দীর্ঘ ১৯ বছর জেল খানায় কারাভোগের পর ২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পান। পরবর্তীতে তিনি সামাজিক সংগঠন ও জনসেবামূলক কাজে যুক্ত ছিলেন। তিনি ক্রীড়া প্রেমিক ছিলেন এবং তার নামে খেলার মাঠ তৈরি করেছেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবদানও রেখেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি কিছু দিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। গত মঙ্গলবার ভোরবেলা থেকে তীব্র অসুস্থতা অনুভব করলে বুধবার সন্ধ্যায় মৃত্যুবরণ করেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হবে।




দর্শনায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীসহ ৩ জন গ্রেফতার

দর্শনা থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে সি আর মামলার পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলার আসামীসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে।

বুধবার ভোরে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয় দর্শনা থানাধীন নেহালপুর গ্রামে। এ সময় নিয়মিত মামলার আসামী, মৃত করিম মন্ডলের ছেলে ফয়েজ উদ্দীন (৫০)কে গ্রেফতার করা হয়।

এরপর সি আর মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামী, সিলিন্দাপাড়ার লাল মোহাম্মদের ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩৬) এবং জয়নগর গ্রামের আমিরের ছেলে সোহেলকেও (২৬) গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত তিনজনকে চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।




দর্শনায় আদিবাসীদের মাঝে স্যানিটেশন বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন ও সামগ্রী বিতরণ

দর্শনায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মাঝে স্যানিটেশন বিষয়ে ওরিয়েন্টেশন ও স্যানিটেশন সামগ্রী বিতরণ করেছে মৌচাক সমাজ উন্নয়ন সংস্থা। বুধবার সকাল ১০টা থেকে দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ১৭ জন নারী ও পুরুষ আদিবাসীকে স্যানিটেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় এবং তাদের মাঝে স্যানিটেশন সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল সাবান, হারপিক, বালতি, ব্রাশ, বদনা ও খাবার।

মৌচাক সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি তক্কেল আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে বক্তব্য দেন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোপাইটার শাহিনুজ্জামান পলাশ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংস্থার ম্যানেজার মকবুল হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দর্শনা প্রেসক্লাব সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি আওয়াল হোসেন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব মামুন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মৌচাকের কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান।