আলমডাঙ্গার মুন্সিগঞ্জে জ্বালানি তেলের দীর্ঘ লাইন: তদারকিতেও ভোগান্তি চরমে
আলমডাঙ্গা উপজেলায় জ্বালানি তেলের সংকট ঘিরে ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। উপজেলার জেহালা ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জ পশুহাট এলাকায় অবস্থিত এনামুল হক ফিলিং স্টেশনে আজ ভোর থেকেই তেল নিতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর ৫টার আগেই মোটরসাইকেল, ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন যানবাহনের সারি কয়েকশ মিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। সূর্য ওঠার আগেই শুরু হওয়া এই অপেক্ষা অনেকের জন্য কয়েক ঘণ্টায় গড়িয়েছে। তেল পাওয়ার অনিশ্চয়তা থাকলেও প্রশাসনের উপস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন লাইনে দাঁড়ানো ব্যক্তিরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন পাম্প এলাকায় সরাসরি তদারকি করছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে তেল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ফুয়েল কার্ড বা বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে তেল দেওয়া হচ্ছে না।
এ ছাড়া শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দুটি পৃথক লাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চাকরিজীবী ও জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা লাইন, যাতে তারা দ্রুত তেল নিয়ে কাজে ফিরতে পারেন। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ, কৃষিজীবী ও পরিবহন চালকদের জন্য রাখা হয়েছে পৃথক দীর্ঘ লাইন।
তবে তেল সরবরাহ সীমিত হওয়ায় গ্রাহকভেদে তেলের পরিমাণে ভিন্নতা দেখা গেছে। কেউ ৫০০ টাকার, কেউ ৮০০ বা ১ হাজার টাকার তেল পাচ্ছেন। বিশেষ প্রয়োজন বিবেচনায় কিছু গ্রাহককে বেশি তেল দেওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে। এ নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও প্রশাসনের উপস্থিতিতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি।
দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ফুয়েল কার্ড যাচাই করে তেল দেওয়া হচ্ছে। সীমিত মজুতের মধ্যে সবার মধ্যে সমন্বয় রেখে তেল বণ্টনের চেষ্টা চলছে, যাতে কেউ একেবারে বঞ্চিত না হন।
বর্তমানে প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে পাম্পটির তেল বিক্রি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এ সংকট কাটবে।