মেহেরপুরে বেকারত্ব ও আমার ভাবনা

কোনো দেশের জনশক্তির তুলনায় কর্মসংস্থানের স্বল্পতার ফলে সৃষ্ট সমস্যাই বেকার সমস্যা। বর্তমান বাংলাদেশে এই সমস্যা জটিল ও প্রকট আকার ধারণ করেছে তার চেয়েও আরোও বেশী প্রকট মেহেরপুরে, কেন? বেকারত্ব বলতে মূলত বোঝায় কর্মক্ষম শ্রমশক্তির পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব।

আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী, “Unemployment (or joblessness) occurs when people are without work and actively seeking work.” The Bureau of Labour Statistics (BLS) বেকারত্বের সংজ্ঞায় বলেছে- ‘বেকারত্ব হচ্ছে এমন কিছু মানুষের কর্মহীন অবস্থা; যাদের কোনো কর্ম নেই। মেহেরপুরের ভৌগোলিক অবস্থান, আর্থ-সামাজিক অবস্থা, সামাজিক অবকাঠামো, মানুষের মানুষিকতার বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতার কারনে অন্য জেলার চেয়ে বেকারত্বের হার এখানে বেশী। আবার কাজের ধরণের সঙ্গে শ্রমশক্তির দক্ষতার অসঙ্গতির ফলে সৃষ্টি হয় এক ধরণের বেকারত্বের হার আরোও বৃদ্ধি হয়।

মেহেরপুরে বেকার সমস্যা সৃষ্টির পেছনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নানাবিধ কারণ রয়েছে। কিছু কারণ নিচে তুলে ধরা হলো- মেহেরপুর সীমান্তবর্তী একটি জেলা। এর শহরটিও সীমান্তঘেসা। এর জেলার অন্তর্গত বিশাল অংশই পাশের দুই জেলার বাজারমূখী। এই অংশটি অন্য পার্শ্ববর্তী দুই জেলার উপর বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। তাই মেহেরপুর শহরমুখীতা হ্রাস পেয়েছে। শহর তার বাজার হারাচ্ছে।

মেহেরপুর সাধারণত কৃষিকাজ নির্ভর জেলা যেখানে জীবিকার একমাত্র মাধ্যম কৃষি। এখানকার জমিতে একটি বছরে চারটি শষ্য উৎপাদন সম্ভব। তাই ভাত কাপড়ের তেমন অভাব না থাকলেও এখানে শিল্প না থাকায় বেকারত্বের হার দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। শিল্প বা অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে না উঠলে বেকারত্বের হার কমানো সম্ভব না।

তাছাড়া জনসংখ্যার সীমাহীন চাপই মূলত এর জন্য প্রধানত দায়ী। যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে, সেই অনুপাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ছে না। কৃষকের অসচেতনতা ও অপরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার বেকার সমস্যার অন্যতম কারণ। জমির উর্বরতা হ্রাস, কোনো কোনো ক্ষেত্রে জমি উৎপাদন শক্তিহীন হয়ে যাওয়ায় নষ্ট হয় কাজের সুযোগ। কায়িক শ্রমের প্রতি অনীহা বেকার সমস্যার একটি অন্যতম প্রধান কারণ। অভাব থাকলেও মেহেরপুরের মানুষ কায়িক পরিশ্রম করতে আগ্রহী নয়। প্রাতিষ্ঠানিক চাকরি না পেয়ে বেকার হয়ে বসে থাকে, কিন্তু নিজেই আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ভাগ্যোন্নয়নে উদ্যোগী হয় না। এখানকার যুবকরা ঘরে বসে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখে।

বেশীরভাগই নিজ যোগ্যতা না বুঝে শুরুতেই বড় মাছটি ধরতে চাই, শুরুতেই বড় পদটি চায়। ছোট কাজের প্রতি নাক শিটকানো

স্বভাব আমার এই এলাকায় প্রবল। বেকার বসে রাস্তায় সারাদিন আড্ডাবাজি করবে কিন্তু কর্মইচ্ছা নেই। আর আমাদের এই অঞ্চলের পিতামাতা অভিভাবকগনও অসচেতন। এরা যাকে বলি হোমসিকনেস বা সন্তানদের ঘরে আবদ্ধ করে রেখতে পছন্দ করেন। অন্য জেলার পিতামাতাদের দেখেছি সন্তানদের খুব অল্প বয়সেই কর্মমূখী করে তোলেন, কর্মের জন্য সন্তানকে বাহিরে পাঠিয়ে দেন। তাদের সন্তানরাও কয়েক বছরের মধ্যে স্বাবলম্বী হয়ে ঘরে ফিরে।

কিন্তু মেহেরপুরে সন্তানের সন্তান হওয়ার পরও পিতামাতা কোলের ভিতর আগলে রাখে। সন্তানের নাকি খুব বয়স হয় নি। এই মানসিকতাও বেকারত্বের হার বৃদ্ধির আর এক কারন। শিল্প কারখানা সৃস্টি, অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি, যুবকদের ভিতর কর্ম স্পৃহা জাগিয়ে তোলা, মন মানুষিকতা পরিবর্তনই বেকারত্বের হার কমানোর উপায় বের করা সম্ভব।

আমাদের ব্রতী এটাই হওয়া উচিত, এসো প্রকৃত মানুষ হই, কর্ম করি। আর বেকার থাকবো না, হয় চাকুরী দিবো, নইলে চাকরি করবো।

যা কাজ পাও তাই করো, চাকরি, ব্যবসা, অফিসিয়াল, নন অফিসিয়াল,সেলস ম্যান, সেলস অফিসার, মার্কেটিং অফিসার, ফ্লোর ইনচার্জ, সার্বেয়ার, স্টোর কীপার, ফিল্ড অফিসার, কালেকশান অফিসার, গার্মেন্টসের কিউসি,টীম মেম্বার থেকে শুরু করে সব কাজ। চাকরি দরকার, চেয়ার না।

কাজ করলে গা ভেঙ্গে যায় না। ইজ্জতও যায় না। যাদের লজ্জার ভয়ে তুমি এসব কাজ ছোট করে দেখছো, তারা তুমি দুপুরে উপুস করে আছো এটা জানবেও না। তারা তোমারে খাওয়ায় না পরাই?

কাজে কোন ‘না’ নেই। যাই পাও তাই করো। কর্মই ধর্ম। আর কর্মই ধর্ম করতে গেলে তোমার চর্ম হতে হবে পুরো। একেবারে মোটা চামড়া। পাতলা চামড়ার জন্য এই দুনিয়া না৷ এখানে কথা শুনতে হবে, গালি শুনতে প্রস্তুত থাকা লাগবে।

পানের দোকান দাও, যদিও এতে তোমার গুস্টির জাত চলে যাবে। ইজ্জত ধুলোয় মিশে যাবে। CNG চালাও। মাত্র ৪৫০ টাকা দৈনিক জমা। মাসে আয় প্রায় ৩০০০০/-। ভাবা যায়?

আরে আজব। না খেয়ে মরলে খোঁজ নেই। CNG চালালে ইজ্জত শেষ! অলরেডি পাঠাও উবার তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছে। পোলাপান এখন আয়ের বহু পথ খুঁজে নিয়েছে৷ তারা ফুড পান্ডায় পিৎজা সাপ্লাই দিয়ে কমিশন নেয়। তাতে তাদের বেজ্জতি হয় নি।

অত ভাবনার কিছু নেই। যা খুশি করো। শরবত বিক্রি করো, এখন দারুণ সিজন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান শহরে রুহ আফজা ফ্লেভরের শরবত বিক্রি করতেন। ভারতের নরেন্দ্র মোদি রেল স্টেসানে চা বিক্রি করতেন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার বিক্রি করতেন বাদাম।

যাদের তুমি শরম পাচ্ছো, আর দশ বছর পর নিজেই নিজের কাছে লজ্জা পাবা। তারা তোমার কোন উপকারেই আসে নি। লোহার জাহাজ পানিতে ভাসানো হবে জেনে এলাকার লোকজন (সম্ভবত যে সি পেরিয়ারকে) ঢিল মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিল। অথচ, সেটাই হয়ে গেল সভ্যতার বিশাল আবিস্কার।

যারা হাসে, তারা নেংটি ইঁদুরের মত আজীবনই হাসবে। তাদের ধারণা একটাই, ধুর পোলাটারে দিয়ে কিচ্ছু হবে না। নিজের ইচ্ছেকে প্রাধান্য দাও। স্বপ্নটাকে জিইয়ে রাখো।

মোটর গ্যারাজে আজই কাজ শুরু করে দাও, শরম পাওয়া ছেলেটার চাইতে দশ বছর এগিয়ে থাকবে তুমি। পড়ালেখা করতে করতে আতেঁল হয়ে যাবার পক্ষে আমি না। এক্সট্রা অর্ডিনারী ব্রেন থাকলে এই লেখাটা তোমার জন্যে না। এভারেজ মেধার তরুণদের নিয়ে কথা হচ্ছে৷ এভারেজ মেধাবীরা কেডিএস, কে এস আর এম, ওয়েল গ্রুপের মালিক হতে পেরেছে। টপার মেধাবীরা সেখানে চাকরি করছে।

দেখবে, পিঁপড়ারা কখনো থেমে যায় না৷ ওদের পথ কেউ আটকে দিলে বিকল্প পথ ঠিকই খুঁজে নেয়৷ পিঁপড়াদের থেকেও শেখার আছে অনেক কিছু৷

তুমি বেচে আছো, তুমি শ্বাস নিতে পারছো মানেই তুমি প্রাণবন্ত না। তুমি কেবলই জীবিত।

তুমি মানুষ হয়ে জন্মেছ বলেই সমাজে অস্তিত্ব আছে তা নয়। শুধু মানুষ হিসাবে নয়, তুমি একজন আছো এটা জানান দেয়াটাই তোমার অস্তিত্ব।

নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে তোমাকে নিজ পথ বেছে নিতে হবে। বাধা আসবেই, না আসলে বুঝবে তোমার পথ সঠিক নয়, বাধা অতিক্রম করতে হবেই। কেউ পথ আটকিয়ে দিলে বিকল্প পথ খুজে নিতে হবে যেমনটি পিঁপড়ারা করে। সাহস নিয়ে এগুতে হবে।

ভীরুতা বা ভাগ্যের উপর নির্ভরতা থাকলে কখনওই টাইমলাইনে আসা যায় না। একটি স্বপ্ন থাকা লাগে, একটি লক্ষ্য থাকা লাগে, হিম্মত লাগে, সাহস লাগে, আওয়াজ লাগে। থাকলে শোনাও। জানাও পৃথিবীকে তোমার অস্তিত্ব আছে।

You are not only alive.. you exist.

এসো তারুণ্যে জাগি, লজ্জাটাকে শিঁকেই তুলে বাঁচি। আগামীর পৃথিবীটা তোমার জন্যে অপেক্ষা করছে।

লেখক: মেহেরপুর প্রতিদিনের প্রকাশক।




মুজিবনগর সীমান্তের মাঠ থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন নাওগাড়া মাঠের ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৪৫ বছর।

আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় লোকজন মাঠে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে মুজিবনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেছে। নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।




রাজনীতির ব্যাকরণ: ক্ষমতা বনাম দায়বদ্ধতার সংকট

রাজনীতি কেবল ক্ষমতা দখলের লড়াই নয়; এটি মানুষের সেবা করার বিজ্ঞান এবং সমাজ পরিবর্তনের এক সুনিপুণ শিল্প। বর্তমানে আমরা যে রাজনীতির চর্চা দেখি, সেখানে অনেক সময় তাত্ত্বিক ও আদর্শিক ভিত্তি অনুপস্থিত থাকে।
অথচ ইতিহাস চেতনা ছাড়া রাজনীতি অন্ধ এবং মানুষের বিশ্বাস ও অনুভূতিকে অবজ্ঞা করা রাজনীতি আত্মঘাতী। রাজনীতি আসলে মানুষের বিশ্বাস ও অধিকার নিয়ে কাজ করার এক মহান দায়বদ্ধতা; এটি কেবল পদ-পদবী বা স্লোগানসর্বস্ব কোনো পেশা নয়।

একজন প্রকৃত রাজনীতিকের জন্য যে বিষয়গুলো অনুধাবন করা অপরিহার্য বলে আমি মনে করি:

১. জাতীয়তাবোধ ও বাঙালি জাতিসত্তা: আমাদের রাজনীতির ভিত্তি হলো হাজার বছরের ইতিহাস, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং বাংলা ভাষা। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—এই দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে আমাদের যে নিজস্ব জাতিসত্তা গড়ে উঠেছে, তার মূল সুরটি একজন নেতার হৃদয়ে প্রোথিত থাকতে হবে। জাতীয় পরিচয়হীন রাজনীতি শেকড়হীন বৃক্ষের মতো।

২. ইতিহাসের পাঠ ও দায়বদ্ধতা: ইতিহাস কেবল অতীতের ধূসর পাতা নয়, এটি ভবিষ্যতের মানচিত্র। যে নেতৃত্ব নিজের জাতির সংগ্রামের ইতিহাস ও পূর্বসূরিদের আত্মদান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন না, তিনি জনমানসের আবেগের ভাষা বুঝতে পারেন না। ইতিহাসবিমুখ রাজনীতি বারবার একই ভুলের আবর্তে ঘুরপাক খায়।

৩. ধর্মীয় অনুভূতি ও সামাজিক মূল্যবোধ: আমাদের ভূখণ্ডে ধর্ম মানুষের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। একজন সুকৌশলী ও আদর্শবান রাজনীতিবিদ কখনো মানুষের গভীরতম বিশ্বাসকে আঘাত করেন না। বরং ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধকে সম্মান জানিয়ে কীভাবে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন ঘটানো যায়, সেটাই হওয়া উচিত লক্ষ্য।

৪. জনতা বনাম জনগণের মনস্তত্ত্ব: জনসভা বা মিছিলে আসা ‘জনতা’ অনেক সময় সাময়িক হুজুগে চলে। কিন্তু একজন দূরদর্শী নেতাকে বুঝতে হয় স্থায়ী ‘জনগণের’ আকাঙ্ক্ষা। তাদের মনস্তত্ত্ব, অর্থনৈতিক সংকট এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রত্যাশা উপলব্ধি করাই রাজনীতির প্রথম ব্যাকরণ।

৫. রাষ্ট্রকাঠামো ও প্রশাসনিক জ্ঞান: দেশ পরিচালনার জন্য কেবল রাজপথের আন্দোলন যথেষ্ট নয়। সংবিধান, আইন এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রশাসনিক জটিলতা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকতে হয়। শাসনকাঠামো না বুঝে ক্ষমতা পাওয়া মানে হলো দিকচিহ্নহীন সমুদ্রে জাহাজ চালানোর ব্যর্থ চেষ্টা।

৬. ভূ-রাজনীতি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা: বর্তমান বিশ্বে রাজনীতি ও অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক রাজনীতির মারপ্যাঁচ বা ভূ-রাজনৈতিক কৌশল বুঝতে না পারলে কোনো রাজনৈতিক পদক্ষেপই দীর্ঘস্থায়ী সুফল বয়ে আনতে পারে না।

৭. আদর্শ ও কৌশলের মেলবন্ধন: রাজনীতিতে আদর্শ হলো আলোকবর্তিকা, আর কৌশল হলো গন্তব্যে পৌঁছানোর পথ। কৌশলহীন আদর্শ পঙ্গু, আর আদর্শহীন কৌশল হলো স্রেফ সুবিধাবাদ। এ দুটির সঠিক সমন্বয়ই একজন দক্ষ রাজনীতিবিদের পরিচয়।

৮. রাজনৈতিক সহনশীলতা ও সমঝোতা: আধুনিক রাজনীতি মানেই প্রতিপক্ষকে নির্মূল করা নয়। ভিন্নমতের মানুষকে শ্রদ্ধা করা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বুদ্ধিবৃত্তিক সমঝোতার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য রক্ষা করাই প্রকৃত নেতৃত্বের গুণ।

আমাদের মনে রাখতে হবে, পরিবর্তন শুরু হয় নিজের ঘর থেকে। আমি যদি সচেতন হই, আমার পরিবার যদি নৈতিক হয়, তবে পুরো দেশ বদলাতে বাধ্য। আসুন, আমরা অন্ধ অনুকরণ ছেড়ে যুক্তি, বিজ্ঞান এবং নৈতিকতার পথে হাঁটি এবং একটি বৌদ্ধিক বিপ্লব ঘটাই। জ্ঞান কোনো আকাশ থেকে আসা অলৌকিক কিছু নয়, এটি আমাদের প্রতিদিনের সচেতন ও নির্মোহ চিন্তার ফসল।




মেহেরপুরে সজিনা ডাঁটার ভালো ফলনের সম্ভাবনা

মেহেরপুরে সজিনা গাছে গাছে ডাঁটা বের হতে শুরু করেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর জেলায় কয়েক কোটি টাকার সজিনা ডাঁটা উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন কৃষি বিভাগ ও স্থানীয়রা।

জেলার প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনা এবং রাস্তার দুই পাশে থাকা সজিনা গাছে ডাঁটা ধরা শুরু হয়েছে। গাছের ডালজুড়ে ডাঁটা বের হওয়ায় কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, মেহেরপুরে প্রায় প্রতিটি বাড়িতে সজিনা গাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে যে পরিমাণ ডাঁটা পাওয়া যায়, তা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে অনেক পরিবার বাড়তি আয় করে থাকে। বাজারে সজিনা ডাঁটার চাহিদাও বেশ ভালো।

কৃষকদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর সজিনা ডাঁটার ভালো ফলন পাওয়া যাবে। এতে জেলার বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং কৃষকরাও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।

জেলা খামারবাড়ি অধিদপ্তরের উপপরিচালক সনজীব মৃধা বলেন, মেহেরপুরে সজিনা ডাঁটা চাষের নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে প্রায় প্রতিটি বাড়ি এবং রাস্তার পাশে সজিনা গাছ থাকায় প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডাঁটা উৎপাদন হয়। তিনি আরও বলেন, সজিনা গাছ একটি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ভেষজ উদ্ভিদ। এর পাতা, ডাঁটা ও অন্যান্য অংশ খাদ্য হিসেবে ব্যবহারযোগ্য এবং মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সব মিলিয়ে মেহেরপুরে সজিনা গাছে ডাঁটা ধরা শুরু হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এ বছর জেলায় সজিনা ডাঁটার ভালো উৎপাদন হয়ে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।




মেহেরপুরে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতিমূলক সভা

মেহেরপুরে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আতিকুল হক, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম জাকারিয়া, জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক এ. জে. এম. সিরাজুম মুনির, জেলা তথ্য অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা গণগ্রন্থাগারিক আফরোজা খানম, মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন আব্দুল মালেক, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আসাদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক লিটন, জেলা জামায়াতের রাজনৈতিক সেক্রেটারি রুহুল আমিনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।

সভায় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে সকাল ১০টায় আলোচনা সভা, দুপুর ১২টা থেকে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, সুবিধাজনক সময়ে দোয়া মাহফিল, রাত ১০টা ৩০ মিনিটে এক মিনিটের প্রতীকী ব্ল্যাকআউট এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এছাড়া ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন পতাকা ও ফেস্টুন দিয়ে সড়ক সজ্জিত করা, ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু, সূর্যোদয়ের সাথে সাথে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৮টায় সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এছাড়াও ২০ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে শিক্ষার্থীদের রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনা, জেলখানা, হাসপাতাল ও শিশু পরিবারে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, বিনোদন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া ও বিনা টিকিটে প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হবে। পাশাপাশি ১ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ক্রিকেট, ফুটবল, হাডুডু ও কাবাডি খেলার আয়োজন এবং ২৬ মার্চ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় দিবস দুটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।




মেহেরপুরে দুই সংসদ সদস্যের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল 

মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা তাজউদ্দিন খান এবং মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ নাজমুল হুদার উদ্যোগে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গদের সম্মানে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় মেহেরপুর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা তাজউদ্দিন খান এবং মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ নাজমুল হুদা। বক্তারা মাহে রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে পারস্পরিক সহনশীলতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও দেশের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ কে এম নজরুল কবির, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইকবাল হুসাইন, রাজনৈতিক সেক্রেটারি রুহুল আমিন, মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক লিটন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির সোহেল রানা, পৌর আমির সোহেল রানা ডলারসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।

ইফতার ও দোয়া মাহফিলে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা তুলে ধরা হয়।




আলমডাঙ্গায় বাসি খাবার বিক্রি, উত্তম মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে ৫ হাজার টাকা জরিমানা

পবিত্র মাহে রমজানে আলমডাঙ্গায় পচা ও বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগে একটি মিষ্টির দোকানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গতকাল বুধবার সকাল ১১টার দিকে আলমডাঙ্গা পৌর কাঁচাবাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পান্না আক্তার। অভিযানে ‘উত্তম মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’ এ সংরক্ষিত কিছু খাদ্যপণ্য পচা ও বাসি অবস্থায় পাওয়া যায় বলে প্রশাসন জানায়।

এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মাহফুজ রানা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম।

রমজানের মতো সংযম ও পবিত্রতার মাসে এ ধরনের অনিয়মের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বার্থ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




দামুড়হুদায় ২০ পিস ইয়াবাসহ চার মাদকসেবী গ্রেপ্তার

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে চারজন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করেছে দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

গতকাল বুধবার বেলা ১২টার দিকে দামুড়হুদা সদরের দশমীপাড়ায় মৃত আবুল কালামের ছেলে জহুরুল ইসলামের বাড়ির একটি কক্ষ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন দামুড়হুদা দশমীপাড়ার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে জাকির হোসেন (৩৫), ফিরোজ আলীর ছেলে আব্বাস আলী (৪২), মৃত আবুল কালামের ছেলে জহুরুল ইসলাম (৪০) এবং শফিউল কবীর ইউসুফের ছেলে রাসেল রানা (৩৫)।

অভিযান শেষে গ্রেপ্তারকৃতদের থানায় নিয়ে এসে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, মাদক সেবনরত অবস্থায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এলাকায় মাদক নির্মূলে থানা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন বলেন, “মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আজ আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।”




আলমডাঙ্গার খোরদেতে নিম্নমানের ইটের রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

আলমডাঙ্গার খোরদে ইউডিএফ প্রকল্পের আওতায় নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খোরদ গ্রামে ইউডিএফ প্রকল্পের অধীনে ৫২৫ ফুট রাস্তা নির্মাণে প্রায় ৮ লাখ টাকার টেন্ডার পায় জাহিদুল এন্টারপ্রাইজ। কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের ইট ব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গেলে স্থানীয় দুই সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম চঞ্চল ও শামীম রেজাকে ঠিকাদার জাহিদুল ও তার আত্মীয়স্বজনরা বাধা দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিম্নমানের (২ ও ৩ নম্বর) ইট দিয়ে হেরিংবোন কাজ চলার ছবি তুলতে গেলে ঠিকাদারপক্ষ হুমকি-ধমকি দেয়। একপর্যায়ে স্থানীয় কিছু লোকজনের সহায়তায় সাংবাদিকরা ছবি তুললে ঠিকাদারের আত্মীয়স্বজন এসে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এমনকি এক সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নিয়ে ছবি মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয় এবং গায়ে হাত তোলার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, ঠিকাদারপক্ষ প্রভাব খাটিয়ে কিছু লোককে নিজেদের পক্ষে নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। ফলে অনেকেই অনিয়ম দেখেও মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তাদের তথ্য সংগ্রহে সরাসরি বাধা দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয়।

এ বিষয়ে ভাংবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান (সোহান) বলেন, “দুই নম্বর ইট ব্যবহারের বিষয়টি আমি ফোনে জিজ্ঞাসা করেছি। তারা বলেছে ভুল করে চলে এসেছে। যেহেতু টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ হয়েছে, এরপর আর কিছু জানি না।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার বলেন, “ইট পরিবর্তন করার নির্দেশনা দিয়েছি। দ্রুত নিম্নমানের ইটগুলো তুলে নেওয়া হবে।” তবে এলাকাবাসীর দাবি, ইট উঠানোর কথা বলা হলেও সেখান থেকে কোনো ইট সরানো হয়নি। উল্টো রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের ইট ব্যবহার করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অপচেষ্টা ঢাকতেই এমন অনিয়ম করা হচ্ছে। তারা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিম্নমানের কাজ বন্ধ করে সঠিক মান বজায় রেখে রাস্তা নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।




জীবননগরে জামায়াতের সাংবাদিক সম্মেলন

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার হামলায় নিহত জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান হত্যাকাণ্ডের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরা এবং দ্রুত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাতে গতকাল বুধবার বিকেল ৪টায় উপজেলা কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র জীবননগর শাখা।

সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার ঘটনায় এলাকায় এখনো উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা হামলার পেছনের নেপথ্য রাজনৈতিক প্ররোচনা উদ্ঘাটন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তদন্তে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা সহায়তা ও নিহতের পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রীয় মানবিক সহায়তার আহ্বান জানানো হয়।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে একটি নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সময়ের দাবি।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা আমির সাজেদুর রহমান, নায়েবে আমির হাফেজ বিল্লাল হোসেন, মো. শাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা সেক্রেটারি মো. মাহফুজুর রহমান, আবু বকর সিদ্দিক, উপজেলা আইটি সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ এবং জীবননগর পৌর আমির ফিরোজ হোসেন প্রমুখ।