গাংনীতে সাপ্তাহিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে মেহেরপুরের গাংনীতে সাপ্তাহিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার সকালে গাংনী উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে এ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন উপজেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসন।

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। তিনি সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও এ ধরনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন, পৌর প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।




শৈলকুপার ১৮৪০ কৃষক পাবেন ‘কৃষি কার্ড’

দেশের প্রান্তিক চাষিদের ভাগ্যোন্নয়নে এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের আদলে সারা দেশে চালু হতে যাচ্ছে ‘কৃষি কার্ড’।

দেশের আটটি বিভাগের নয়টি উপজেলায় প্রাথমিকভাবে চালু হচ্ছে ‘কৃষি কার্ড’ কর্মসূচি। এরমধ্যে রয়েছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা। প্রি পাইলটিং হিসেবে উপজেলার আবাইপুর ইউনিয়নের কৃপালপুর ব্লকের ৬টি গ্রামে প্রাথমিকভাবে শুরু হয়েছে কৃষি কার্ডের তথ্য সংগহ। পাচপাখিয়া, কৃপালপুর, যুগনী, বাগনী, চরবাগনী, পদ্মনগর গ্রামের কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করতে মাঠে কাজ করছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ।

শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন,‘চলতি মাসের মধ্যে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ শেষ করতে হবে। এরপর এপ্রিল মাসের ৭ তারিখের মধ্যে কার্ড তৈরি করতে হবে। আর পয়লা বৈশাখে কার্ড বিরতণ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রাথমিকভাবে এই উপজেলায় ১৮৪০ জন কৃষক এই ‘কৃষি কার্ড পাবে, যা পরবর্তিতে পর্যায়ক্রমে আরও বাড়বে।




ঝিনাইদহে লাশ নিয়ে বিএনপির বিক্ষোভ, জামায়াতের দাবি স্ট্রোকে মৃত্যু, গ্রেপ্তার ৩

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে নিহত কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীর লাশ নিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি। অন্যদিকে স্ট্রোকে মৃত্যুর দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে জামায়াতে ইসলামী ঝিনাইদহ সদর শাখা।

শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে ঝিনাইদহ মর্গ থেকে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিএনপি। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে হামদহ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, দলটির নেতাকর্মী ছাড়াও নিহতের স্বজনরা বক্তব্য রাখেন।

সে সময় জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. এম এ মজিদ বলেন, জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীকে মাথায় আঘাত করে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছে। সিটি স্ক্যানে তার মাথায় আঘাতের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে, যে কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তারা ইনসাফের লেবাস পরে করে বে-ইনসাফ। ওরা একটি বেইমান মুনাফেক দল। আমরা এই ন্যাক্কারজনক হত্যার বিচার চাই।

এদিকে তরু মুন্সীর মৃত্যু স্ট্রোকজনিত কারণে হয়েছে বলে দাবি করেছে জামায়াত।

শনিবার দুপুরে জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলা জামায়াতের থানা আমীর ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মাধবপুর গ্রামে মহিলা জামায়াতের ইফতার মাহফিল ছিল। সেখানে বিএনপির লোকজন গিয়ে নারীদের মারধর ও শ্লীলতাহানি করে। যে কারণে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়। তরু মুন্সীর গায়ে কেউ আঘাত করেনি। তিনি হার্টের রোগী, তার মৃত্যু স্ট্রোকজনিত কারণে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ড. হাবিবুর রহমান।

তিনি আরও বলেন, তরু মুন্সী শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। মারামারির কারণে তিনি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে স্ট্রোক করেন। যে কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যু নিয়ে অপ-রাজনীতি করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে জামায়াতের মহিলা শাখার পক্ষ থেকে ইফতারের আয়োজন করা হয়। দুপুরে ইফতারের আয়োজন নিয়ে নারী কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে মহিলা কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীর অবস্থা গুরুতর হলে তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। সেখানে রাত ৮টার দিকে মারা যান তরু মুন্সী। নিহত তরু ইউনিয়ন কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন (অর্থ ও প্রশাসন) জানান, তরু মুন্সীর ছেলে শিপন মিয়া ৫১ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং সেই মামলায় এ পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।




মেহেরপুরে সাপ্তাহিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে মেহেরপুরে সাপ্তাহিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার সকালে মেহেরপুর শহরের পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে এ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির।

উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। তিনি সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও এ ধরনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম আবু সাইদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খাইরুল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

উদ্বোধনের পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।




মেহেরপুর পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ইকবাল হোসেন বুলবুল আর নেই

সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন দোদুলের মেজো ভাই মেহেরপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ইকবাল হোসেন বুলবুল ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শনিবার ভোরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

ইকবাল হোসেন বুলবুল শহরের বোসপাড়ার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম ছহিউদ্দীন বিশ্বাসের মেজ ছেলে।

তার মৃত্যুতে মেহেরপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

মরহুমের জানাজার নামাজের সময় ও স্থান পরে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।




ঝিনাইদহে আহত বিএনপি কর্মীর মৃত্যু

ঝিনাইদহে জামায়াতের নারী কর্মীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিলকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির সংঘর্ষে আহত বিএনপি কর্মী তরু মিয়া (৪৮) ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে জামায়াতের নারী কর্মীদের সমাবেশ ও ইফতার মাহফিল পণ্ড করতে গিয়ে বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হন।

বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আহতদের ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তরু মিয়ার অবস্থা শঙ্কাপন্ন হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় তরু মিয়া মারা যান।

নিহত তরু মিয়া মাধবপুর গ্রামের মৃত মনছুর আলীর ছেলে। প্রায় দুই দশক তিনি প্রবাসে ছিলেন। পাঁচ মাস আগে দেশে ফিরে এসে তার ছেলে শিপন রহমান ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতা হওয়ায় তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

ইউনিয়ন যুবদল নেতা আবু কালাম বলেন, “জামায়াতের হামলায় আমিসহ বিএনপির ৭ নেতা-কর্মী আহত হন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাদের ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। তরু মিয়া মারাত্মক আহত ছিলেন। অবস্থা খারাপ হলে ডাক্তাররা তাকে ঢাকায় রেফার্ড করেন। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টার দিকে আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়। মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়িতে আনা হচ্ছে।”

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, “আহত তরু মিয়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। পুনরায় কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সেই কারণে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। সংঘর্ষের ঘটনাসহ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঘটনায় যথাযথ আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”




দর্শনায় ভিজিএফ চাল বিতরণে রাজনৈতিক টানাপোড়েন

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌরসভায় ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রমকে ঘিরে রাজনৈতিক মতানৈক্য, তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে তীব্র সমালোচনা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ ও প্রভাব বিস্তারের কারণে প্রকৃত দরিদ্রদের অনেকেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। ফলে চাল না পেয়ে বহু অসহায় মানুষ হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, দর্শনা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মোট ৩ হাজার ৮৫ জন উপকারভোগীর জন্য কার্ডপ্রতি ১০ কেজি হারে মোট ৩০ হাজার ৮৫০ কেজি ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত পৌরসভার ৩, ৪, ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে চাল বিতরণ করা হয়। তবে তালিকায় নাম না থাকায় অনেক দরিদ্র মানুষ চাল পাননি। পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী রবিবার ১৫ মার্চের মধ্যে বাকি তালিকা সম্পন্ন করে চাল বিতরণ শেষ করা হবে।

চাল নিতে এসে তালিকায় নাম না পেয়ে অনেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, উপার্জনে অক্ষম ও অসহায় দুঃখী নারী চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বাড়ি ফিরে যান। একজন বৃদ্ধা আক্ষেপ করে বলেন, “আমার স্বামী নেই, সন্তান নেই। কাজ করার শক্তিও নেই। মানুষের দয়ার ওপর বেঁচে আছি। তবুও একটা চালের কার্ডও পেলাম না।” ইসারন নেছা নামের আরেক বৃদ্ধা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার দেখার কেউ নেই। তেল তো দূরের কথা, চালের কার্ডও এখনো পাইনি।” নিয়াজ উদ্দিন নামের এক ভ্যানচালক জানান, ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও কোনো ভিজিএফ কার্ড তিনি পাননি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তালিকা তৈরির সময় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের প্রভাব ও মতবিরোধের কারণে অনেক প্রকৃত দরিদ্রের নাম বাদ পড়েছে। অন্যদিকে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও উঠেছে। এতে বিভিন্ন ওয়ার্ডে তালিকা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে এবং তার প্রভাব পড়েছে চাল বিতরণ কার্যক্রমে।

চাল বিতরণের সময় অনিয়মের একটি ঘটনাও সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক নারী একাই ১৭টি টোকেন নিয়ে চাল নিতে এলে বিষয়টি দর্শনা পৌরসভার প্রধান সহকারী শাহ আলমের নজরে আসে। পরে তিনি টোকেনগুলো জব্দ করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেন।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, কেরু অ্যান্ড কোম্পানির কয়েকজন চাকরিজীবী এবং বাজারের কিছু কাপড় ব্যবসায়ীও ভিজিএফের চাল পেয়েছেন। অথচ প্রকৃত দরিদ্র অনেক পরিবার তালিকায় নাম না থাকায় বঞ্চিত হয়েছেন।

জানা গেছে, গত ৩ মার্চ ভিজিএফের চাল সুষ্ঠুভাবে বিতরণের লক্ষ্যে দর্শনা পৌর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে একটি সভা করে। সেখানে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে রাজনৈতিক মতবিরোধ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে নির্ধারিত সময়েও তালিকা প্রস্তুত শেষ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পৌর প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তালিকা প্রস্তুতের জন্য সর্বোচ্চ ৮ দিনের সময় দেওয়া হলেও প্রায় ১০ দিন পার হলেও কয়েকটি ওয়ার্ডের তালিকা সম্পূর্ণ হয়নি।

দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট বলেন, “পৌর কর্তৃপক্ষের আহ্বানে প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য দুইজন করে প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়েছে। তাদের মাধ্যমেই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। কিছু তালিকা জমা পড়েছে, বাকিগুলোও দ্রুত জমা দেওয়া হবে। তবে কোনো সচ্ছল ব্যক্তি যদি ভিজিএফের চাল পেয়ে থাকেন, তাহলে তা ঠিক হয়নি।”

অন্যদিকে দর্শনা পৌর জামায়াতের আমীর শাইকুল ইসলাম অপু বলেন, “আমাদের দলের কেউ স্বজনপ্রীতি বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন। আমাদের প্রতিনিধিরা প্রকৃত প্রাপকদের নামই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।”

এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও দর্শনা পৌর প্রশাসক শাহিন আলম বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং পূর্বের তালিকা থেকেও কিছু নাম নেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, একটি ওয়ার্ডে অনেক দরিদ্র মানুষ থাকলেও সবাইকে কার্ড দেওয়া সম্ভব নয়। সরকার যে পরিমাণ কার্ড বরাদ্দ দিয়েছে, সে অনুযায়ী তালিকা করা হয়েছে। তবে কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখা হবে।




মুজিবনগরে উপজেলা ছাত্রদলের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

মুজিবনগর উপজেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আকিব জাভেদ সেনজি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম মিঠুন, বাগোয়ান ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ শেখ, মুজিবনগর উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমরান আলী, মুজিবনগর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া মোল্লা। এছাড়াও স্থানীয় অন্যান্য ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ইফতার ও দোয়া মাহফিলে ছাত্রদল নেতারা একত্রিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ, যুব সমাজের উন্নয়ন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য দোয়া ও আলোচনা করেন।




মেহেরপুরে প্রশাসনের বাজার মনিটরিং ও জরিমানা

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার মূল্য ভোক্তাদের কাছে সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।

শুক্রবার জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জয়া ধর মুমুর নেতৃত্বে সদর উপজেলার হোটেল বাজার ও পশুর হাট এলাকায় বাজার মনিটরিংসহ মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় খুচরা পর্যায়ে বেগুন, শসা, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, মরিচ, পেঁপে, ফুলকপি, কাঁচাবাজার, মাছ ও মাংসসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানকালে বাজারের অধিকাংশ দোকানে ক্রয়-বিক্রয়ের পাকা ভাউচার সংরক্ষণ এবং মূল্য তালিকা প্রদর্শনের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এ সময় পণ্যের মূল্য তালিকা সংরক্ষণ না করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৩৯ ধারায় ৩টি মামলায় মোট ১ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে জেলা প্রশাসনের আরেক এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ভুবন চন্দ্র হালদারের নেতৃত্বে মুজিবনগর উপজেলার কেদারগঞ্জ এলাকায় মুজিবনগর থানা পুলিশ টিম ও ট্রাফিক সার্জেন্টের সহযোগিতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

মোবাইল কোর্ট চলাকালে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া যানবাহন চালানো এবং অবৈধভাবে ফুটপাত দখলের দায়ে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর আওতায় ৬টি মামলায় মোট ৩ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




আলমডাঙ্গা ফ্রেন্ডস ক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল

আলমডাঙ্গা ফ্রেন্ডস ক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ৫টায় আলমডাঙ্গা এটিম মাঠে এই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সহকারী অধ্যাপক মিজানুর রহমান মিজার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নুরুল ইসলাম দীপু মাস্টার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মীর উজ্জ্বল হোসেন, ইকবাল হোসেন, কবি আসিফ জাহান ও আহসান হাবিব।

অনুষ্ঠানে ফ্রেন্ডস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মরহুম গোলাম মোস্তফা মোহর, সাবেক উপদেষ্টা মরহুম আলতাফ হোসেন, মরহুম মোস্তাহার আলি ওস্তাদ, মরহুম তুহিনূর রহমান তুহিন, মরহুম আহসান হাবিব শাহীন (জজ), মরহুম আতাউর রহমানসহ সকল সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

বিশ্ব মানবতার ঐক্য ও শান্তি কামনায় দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন হাটবোয়ালিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক কবি আসিফ জাহান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, আলমডাঙ্গার ঐতিহ্যের প্রতীক ফ্রেন্ডস ক্লাবের সোনালি দিনের সফলতাকে নতুন প্রজন্মকে দায়িত্ব নিয়ে অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। ফ্রেন্ডস ক্লাবের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস খেলাধুলার মাঠে জাগরণ সৃষ্টি করে এগিয়ে নিতে হবে।