সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য ও পেশাগত দায়বদ্ধতা অপরিহার্য

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম বলেছেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার যেমন কোনো বিকল্প নেই, তেমন একটি সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য ও পেশাগত দায়বদ্ধতাও অপরিহার্য।

গতকাল বুধবার মেহেরপুর সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত “গণমাধ্যমের অপসাংবাদিকতা রোধ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন” বিষক দিনব্যাপী কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সারাদেশে সাংবাদিকদের ডাটাবেইসের কাজ চলছে। যাতে করে সাংবাদিকরা তাদের অধিকার পেতে পারে।

কর্মশালায় জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অর্ধ শতাধিক সাংবাদিক অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর জেলা তথ্য অফিসার আবদুল্লাহ আল মাসুদ। বক্তব্য দেন প্রেস কাউন্সিলের সচিব আব্দুস সবুর, মেহেরপুর পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় ও মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ।

সাংবাদিকদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর প্রতিদিনের সম্পাদক ও  কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি ইয়াদুল মোমিন, স্টার টিভির ব্যুরো প্রধান রাশেদুজ্জামান, বাসস প্রতিনিধি দিলরুবা খাতুন, ইত্তেফাক প্রতিনিধি আমিরুল ইসলাম অল্ডাম, মাই টিভি প্রতিনিধি তৌহিদ উদ দৌলা রেজা, তোফায়েল হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে সার্টফিকেট তুলে দেন।




দর্শনায় বাড়ছে হাতপাখার কদর, বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পল্লি বিদ্যুতের সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা হাতপাখার কদর আবারও বেড়ে গেছে। তীব্র তাপপ্রবাহ ও ভ্যাপসা গরমে মানুষের কাছে হাতপাখাই এখন প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে।

দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়াশোনায় চরম সমস্যার মুখে পড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রাম ও শহর উভয় এলাকাতেই হাতপাখার চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বৈদ্যুতিক পাখার ওপর নির্ভরশীলতা কমে গিয়ে মানুষ এখন তালপাতা, বাঁশ ও সুতোর তৈরি ঐতিহ্যবাহী হাতপাখার দিকে ঝুঁকছে।

দর্শনা রেলবাজারের মুদি ব্যবসায়ী সেলিম জানান, “চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হাতপাখার দামও বেড়েছে। আগে ৩০-৩৫ টাকায় পাখা পাওয়া গেলেও এখন ৭০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, দর্শনায় দিনে-রাতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ ও গ্রামীণ পরিবারের সদস্যদের জন্য হাতপাখাই হয়ে উঠেছে সহজলভ্য স্বস্তির মাধ্যম।

দর্শনা বাজারের এক বিক্রেতা বলেন, “আগে গরমের সময় কিছু পাখা বিক্রি হতো। কিন্তু এবার বিদ্যুতের সমস্যার কারণে চাহিদা অনেক বেড়েছে। প্রতিদিনই নতুন করে পাখা আনতে হচ্ছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এসএসসি পরীক্ষার্থী জানায়, “রাতে পড়তে বসলে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন হাতপাখা ছাড়া উপায় থাকে না। গরমে পড়াশোনা করা খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে। পরীক্ষার সময় এত লোডশেডিং হলে ভালো ফল করা কঠিন।”

এ বিষয়ে দর্শনা পল্লি বিদ্যুতের সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মাজেদ বলেন, “আমাদের দর্শনা অফিসে ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন, কিন্তু আমরা পাচ্ছি মাত্র ৩ মেগাওয়াট। তাই বাধ্য হয়ে ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে। আমরা যা পাচ্ছি, সেটিই সরবরাহ করছি।”




দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ঝিনাইদহের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক নৈশ্য প্রহরি

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ৫৬ নং বাকড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ্য প্রহরি কাম দপ্তরির বিরুদ্ধে স্কুলে না গিয়েও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের অভিযোগ উঠেছে।

বিভিন্ন মামলার আসামি হওয়াই প্রায় ২ মাস আত্মগোপনে থাকার পরেও বহাল তবিয়তে রয়েছে এই কর্মচারী।

জানাগেছে, ২০১৮ সালে বিদ্যালয়টিতে নৈশ্য প্রহরি কাম দপ্তরি পদে নিয়োগ পায় সাইফুল ইসলাম। বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

কিন্তু হরিশংকরপুর ইউনিয়র পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার ফারুকুজ্জামান ফরিদের দাপটে সাইফুল ইসলাম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই বেতন-ভাতা ভোগ করে গেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি মামলার আসামি হয়েছেন সাইফুল ইসলাম।

সেই মামলার কারণে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে না গিয়েও হাজিরা খাতায় প্রভাব খাটিয়ে স্বাক্ষর করে নিয়েছেন। এই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিদ্যালয়টিতে যেয়ে সাইফুল ইসলামের দেখা পাওয়া যায়নি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুব্রত ভৌমিক বলেন, বেশ কিছুদিন সাইফুল ইসলাম বিদ্যালয়ে আসেন না।

স্কুলে না আসার বিষয়ে সাইফুল ইসলামকে কোন কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসকে তিনি বিষয়টি জানিয়েছেন। কিন্তু কোন আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্কুলে না আসার কারণ জানতে সাইফুল ইসলামে মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোনকল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।




ঝিনাইদহকে ঢেলে সাজাতে চান নবাগত জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন

অবহেলিত ঝিনাইদহ জেলাকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নবাগত জেলা প্রশাসক মো.নোমান হোসেন।

যোগদানের পর জেলার সুশিল সমাজ, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। এরমধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি পালন করতে জেলার আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মতবিনিময়কালে তিনি বলেন,মাদকের সাথে জড়িতরা যত শক্তিশালী হোক না কেন,তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরো বলেন,পর্যায়ক্রমে পায়রা চত্তর,আরাপপুর,হামদহ,মর্ডান মোড়,ট্রাক টার্মিনাল,বাস টার্মিনাল,শহীদ মিনার এলাকা,চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড,‘ট’ বাজারসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও অলিগলি দখলমুক্ত করা হবে। এছাড়াও শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নারী ও পুরুষদের জন্য অবিলম্বে গনসৌচাগার নির্মাণ করে দুর্ভোগ লাঘব করা হবে।

এছাড়াও আদালত চত্বর,সদর হাসপাতাল,পাসপোর্ট অফিস,বিআরটিএ,ভ’মি অফিস,সাব-রেজিষ্টার কার্যালয় সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দালালচক্র দমন ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি হুশিয়ারি দেন।

এসময় তিনি আরো বলেন,অবৈধভাবে আবাদি জমির মাটি কেটে শ্রেণি পরিবর্তন রোধ, ইটভাটায় মাটি বিক্রি বন্ধ,সরকারি গাছ কর্তন প্রতিরোধ,সরকারি অফিসে দুর্নীতি কমানো এবং ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম গতিশীল করাসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জেলাকে ঢেলে সাজাতে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন জেলা প্রশাসক মো.নোমান হোসেন।

স্থানীয়দের মতে, এসব উদ্যোগে গ্রহণ করা হলে ঝিনাইদহ শহর ধীরে ধীরে একটি পরিকল্পিত ও মডেল শহরের রূপ নেবে।




গাংনীতে কালবের উদ্যোগে মিউচুয়াল বেনিফিট প্রদান অনুষ্ঠিত

গাংনী উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের আয়োজনে এবং দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লীগ অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (কালব) সহযোগিতায় মিউচুয়াল বেনিফিট প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি ও গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সমিতির সহ-সভাপতি আবু সায়েম পল্টু।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমিতির ডিরেক্টর ও গাংনী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্বপন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমিতির ডিরেক্টর হারুনুর রশিদ রবি, সাধারণ সম্পাদক ও গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ আক্তারুজ্জামান, কালবের জেলা ব্যবস্থাপক সুজয় কুমার বসু, শাখা ব্যবস্থাপক কাউছার আলী এবং মিউচুয়াল বেনিফিট গ্রহীতা ছানোয়ার হোসেন বাবলু।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সমিতির সদস্য ও গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজের আইসিটি বিভাগের প্রভাষক আসমা আক্তার বানু সম্প্রতি হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেন। সমিতির নিয়ম অনুযায়ী মিউচুয়াল বেনিফিটের আওতায় মোট ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৩৮০ টাকার মধ্যে তার ঋণ বাবদ ৩ লাখ ৪২ হাজার ৭০০ টাকা পরিশোধ করা হয় এবং অবশিষ্ট ১ লাখ ১২ হাজার ৬৩০ টাকা নগদ তার নমিনি স্বামী ছানোয়ার হোসেন বাবলুর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল কালাম আজাদ স্বপন বলেন, “এই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন সংকটময় সময়ে পাশে থেকে সহায়তা করে আসছে। বিশেষ করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টি অত্যন্ত প্রশংসনীয়।” তিনি সমিতির কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, কোনো সদস্য মৃত্যুবরণ করলে তার ঋণের দায় পরিবারের ওপর চাপানো হয় না। পাশাপাশি নমিনি বা পরিবারের সদস্যদের মিউচুয়াল বেনিফিট ও দাফন-কাফনের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়, যা সমিতির মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় বহন করে।

অনুষ্ঠানে সমিতির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও গতিশীল করতে সকল সদস্যকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও কালব শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণে কাজ করে যাবে।




ঝিনাইদহে বিউটি পার্লার কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ

ঝিনাইদহে শামীমা সুলতানা নামে এক বিউটি পার্লার কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত অবস্থায় তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে সদর উপজেলার ডাকবাংলা এলাকার শান বিউটি পার্লারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। শামীমা সুলতানা ওই পার্লারের মালিক এবং পার্শ্ববর্তী নাথকুন্ডু গ্রামের শানু মিয়ার মেয়ে।

আহত শামীমা সুলতানা জানান, বিকেলে পার্লারে যাওয়ার পথে তার তালাকপ্রাপ্ত স্বামী নাজিমুদ্দীনের নেতৃত্বে ৪-৫ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামছুল আরেফিন বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




দামুড়হুদায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ২ হাজার ৮০০ পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় ৮টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মোট ২ হাজার ৮০০ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়। এ সময় বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উবায়দুর রহমান সাহেল।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো দামুড়হুদা সরকারি পাইলট হাইস্কুলে ৪৪৪ জন, দামুড়হুদা পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩৪৩ জন, মেমনগর বিডি হাইস্কুলে ৩১১ জন, দর্শনা বালিকা বিদ্যালয়ে ৩৪৪ জন, কার্পাসডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২৭১ জন, কার্পাসডাঙ্গা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩২৮ জন, দামুড়হুদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ (ভোকেশনাল) কেন্দ্রে ২৯৩ জন এবং দামুড়হুদা ডিএস দাখিল মাদ্রাসায় ২০৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এছাড়া কার্পাসডাঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ১৬৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উবায়দুর রহমান সাহেল জানান, “শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।”




ঝিনাইদহে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

ঝিনাইদহে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে আরিফ হোসেন (১৭) ও সোহান আহমেদ (১৭) নামে দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঝিনাইদহ-মাগুরা সড়কের পাঁচমাইল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আরিফ হোসেন সদর উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে এবং সোহান আহমেদ একই গ্রামের শিপন আহমেদের ছেলে।

ঝিনাইদহ আরাপপুর হাইওয়ে পুলিশের জাহানুর আলী জানান, আরিফ হোসেন ও সোহান আহমেদ মোটরসাইকেলে তেল নিতে ঝিনাইদহ শহরের দিকে যাচ্ছিল। পথে ঝিনাইদহ-মাগুরা সড়কের পাঁচমাইল এলাকায় পৌঁছালে একটি মাহিন্দ্রা গাড়ির সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে তারা রাস্তায় ছিটকে পড়ে।

এ সময় সামনের দিক থেকে আসা বালিবোঝাই একটি ট্রাক তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তারা মারা যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।




আলমডাঙ্গায় ভুট্টা ক্ষেতে শিষ নেই, ভেজাল বীজের অভিযোগে বিপাকে কৃষক

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের টেপারগাড়া মাঠজুড়ে ভুট্টা ক্ষেতে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। সময়মতো পরিচর্যা করেও অধিকাংশ গাছে শিষ আসেনি। এতে শতাধিক কৃষক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, ভেজাল বীজের কারণেই এ বিপর্যয়।

জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক তানজেল রহমান জানান, স্থানীয় বাজারের এক বিক্রেতার কাছ থেকে ভুট্টার বীজ কিনে দেড় বিঘা জমিতে সাড়ে তিন মাস আগে বপন করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী পরিচর্যা করলেও গাছ স্বাভাবিকভাবে বড় হয়নি। এখনো অধিকাংশ গাছে শিষ বের হয়নি, আর যেগুলো হয়েছে সেগুলোও নিম্নমানের।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, টেপারগাড়া মাঠের বিস্তীর্ণ এলাকায় একই চিত্র। শতাধিক কৃষকের প্রায় আড়াই শতাধিক বিঘা জমির ভুট্টা ক্ষেতে গাছ খর্বাকৃতির, অনেক গাছে শিষই নেই। ফলে উৎপাদন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন কৃষকেরা।

ভুক্তভোগী কৃষকদের ভাষ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে আলমডাঙ্গা পৌর শহরের কালিদাসপুর সাদা ব্রিজ এলাকার ‘কৃষি পল্লী সিড স্টোর’ নামের একটি দোকান থেকে তাঁরা ‘নসিব এগ্রো-৪০৫৫’ নামের উচ্চ ফলনশীল ভুট্টার বীজ সংগ্রহ করেন। দীর্ঘ তিন মাস পরিচর্যার পরও গাছে শিষ না আসায় তাঁরা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জমি চাষ, সার, সেচ ও শ্রম খরচসহ প্রতি বিঘায় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা ব্যয় করেও আশানুরূপ ফলন পাচ্ছেন না।

একই গ্রামের কৃষক মো. ওমর উদ্দিন বলেন, “তিন বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছিলাম। গাছ ভালো হলেও শিষ আসেনি। প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ করেছি। ফলন তো দূরের কথা, পশুখাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করার মতো কিছু পাইনি।”

কৃষক মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, “বীজের দোকানদার বলেছিলেন, এটি উন্নত জাতের বীজ, ফলন ভালো হবে। কৃষি অফিস থেকেও প্রদর্শনী প্লট হিসেবে বীজ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমরা প্রতারিত হয়েছি। এই বীজে কোনো ফলন আসেনি।”

একই গ্রামের সালেহা খাতুন বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর নিজেই চাষাবাদ করে সন্তানদের লালন–পালন করছি। কিন্তু এবার ভেজাল বীজে ক্ষতিগ্রস্ত হলাম। গাছ বড় হয়নি, শিষও ছোট। যেখানে বিঘাপ্রতি ৪০ মণ ফলন হওয়ার কথা, সেখানে দুই মণও হবে না।”

ভুক্তভোগী কৃষকদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পারভেজ মঙ্গলবার দুপুরে টেপারগাড়া মাঠের ভুট্টা ক্ষেত পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




আলমডাঙ্গায় ৫৭ লাখ টাকার প্রকল্পে নজিরবিহীন অব্যবস্থাপনা

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমার নদীর ওপর নির্মিত প্রায় ৫৭ লাখ টাকার একটি সেতু নির্মাণের ১০ বছর পার হলেও জনসাধারণের কোনো কাজে আসেনি। সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি এখন গরুর গোবর শুকানোর জায়গায় পরিণত হয়েছে যা প্রকল্প বাস্তবায়নে চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, কালিদাসপুর ইউনিয়নের আসাননগর ও বকশিপুর গ্রামের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয় প্রায় ৫৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকা।

কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো সেতুর দুই প্রান্তে এখনো কোনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এ অবকাঠামোটি সম্পূর্ণ অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে।

আসাননগর গ্রামের বাসিন্দা শিলু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি শুধু একটি সেতু নয়, তিনটি গ্রামের সংযোগস্থল। এই রাস্তা হলে ১০ গ্রামের মানুষ উপকৃত হতো, এমনকি কুষ্টিয়ার মানুষও সহজে চলাচল করতে পারত। অথচ এখন এটি মানুষের নয়, গরুর কাজে লাগছে।”

বকশিপুর গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুল বলেন, “সংযোগ সড়কটি নির্মাণ হলে আলমডাঙ্গায় যেতে ২০ মিনিটের পথ ৫ মিনিটে নেমে আসবে।”

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, পরিকল্পনার অভাব ও প্রশাসনিক উদাসীনতায় একটি সম্ভাবনাময় প্রকল্প আজ জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ ১০ বছরেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় মানুষের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

কালিদাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুল হক মিকা বলেন, “বিষয়টি আগেও বহুবার জানানো হয়েছে। বরাদ্দ না থাকলে তো রাস্তা করা সম্ভব নয়।”

অন্যদিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, “সেতুটি সম্পর্কে আগে জানা ছিল না। সম্প্রতি বিষয়টি জেনেছি। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।”

তবে প্রশ্ন থেকেই যায় দীর্ঘ ১০ বছর ধরে একটি সরকারি সেতু অব্যবহৃত পড়ে থাকার দায় কে নেবে? আর কতদিন অপেক্ষা করলে এই ‘মৃত সেতু’ ব্যবহার উপযোগী হবে?

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে জনগণের টাকায় নির্মিত এই সেতুকে চলাচলের উপযোগী করা হোক। অন্যথায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।