মহান শহীদ দিবসে ঝিনাইদহে জাতীয় পতাকার অবমাননা 

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার বিধান থাকলেও ঝিনাইদহ শহরের বিভিন্ন স্থানে তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পতাকা স্ট্যান্ডের চূড়ায় উত্তোলন করা হয় পতাকা। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝিনাইদহ আঞ্চলিক কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা কালো পতাকার নিচে উত্তোলন করা হয়েছে বলে দেখা গেছে। বিধিমেতাবেক জাতীয় শোক দিবসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখলেও তা কখনই কালো পতাকার নিচেই যাবে না। কালো পতাকা ছোট স্ট্যান্ডে বাধতে হবে তা অবশ্যই জাতীয় পতাকার নিচেই থাকবে।

শহরের আরও কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও পতাকা অর্ধনমিত না রেখে পূর্ণ উচ্চতায় তোলা হয়েছে, যা আজকের জন্য অবমাননা কর। সচেতন নাগরিকরা বিষয়টি জাতীয় পতাকার অবমাননার শামিল হিসেবে দেখছেন। এব্যাপারে শামীমা ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী ডা.শামীমা সুলতানা বলেন আমাদের কাজের ছেলেটি বিষয়টি ভূল করেছে আমি এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি এখন নামিয়ে ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দেখভালের জন্য সচেতন মহল প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট শাখার সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।




মেহেরপুরে চল্লিশ বস্তা সার জব্দ, ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

মেহেরপুরে অবৈধভাবে পরিবহনকালে ৪০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। মুজিবনগরের কেদারগঞ্জ বাজারে নেওয়ার পথে এসব সার আটক করা হয়।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে মেসার্স মোয়াজ্জেম হোসেনের প্রোপাইটার মনিরা নাজমার প্রতিনিধি রাশেদুল নামের এক ব্যক্তিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার বিকেলে পুলিশ সুপারের বাসভবনের সামনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমাইয়া জাহান ঝুরকা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

জানা যায়, মেহেরপুর থেকে মুজিবনগরের কেদারগঞ্জ বাজারের আলিয়াদ সারের দোকানে এসব সার সরবরাহ করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান চালান।

এ সময় ইঞ্জিনচালিত নছিমনে থাকা ৪০ বস্তা সার জব্দ করা হয়। জব্দকৃত সার কৃষকদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।




মুজিবনগরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জিয়াউদ্দীন বিশ্বাসের দাফন সম্পূর্ণ

মুজিবনগরে হাজারো মানুষের ভালোবাসা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি, মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, মুজিবনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের ৪ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব জিয়াউদ্দীন বিশ্বাসের দাফন সম্পূর্ণ সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার দুপুরে আলহাজ্ব জিয়াউদ্দীন বিশ্বাসের মৃতদেহ আনন্দবাস বিশ্বাসপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে বিশ্বাসপাড়া ফুটবল খেলার মাঠে মৃতদেহের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে জানাজার নামাজের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মিরা দাড়িয়ে শোক শ্রদ্ধা জানান।

এ সময় তার বিগত সময়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ড, তার ভালো কাজের কৃতঙ্গতা প্রকাশ করে বিভিন্ন কথা উপস্থিত জনগনের সামনে তুলে ধরেন মেহেরপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য, মেহেরপুর জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা তাজউদ্দীন খান এবং মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম।

এ সময় তিনার রাজনৈতিক জীবনের সকল ভূলত্রুটির জন্য সকলের কাছে ক্ষমা পার্থনা করেন।

উক্ত জানাজায় অন্যদের মধ্যে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান, সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুন সহ জেলা বিএনপি ও উপজেলা বিএনপি এর নেতা কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এছাড়াও মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগ ও মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ সহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, এছাড়াও জেলা উপজেলার বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ হাজার হাজার জনগণ উক্ত জানা যায় অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে খেলার মাঠেই রাষ্ট্রীয়ভাবে তার লাশের গার্ড অফ অনার প্রদান করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে তাকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং সালাম প্রদর্শন করা হয়।

উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার রাত এগারোটার দিকে ঢাকা স্কয়ার হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি এক সন্তান সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।




মেহেরপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস মেহেরপুরে উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর মিলনায়তন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীন।

আলোচনা সভায় শহীদদের আত্মত্যাগ, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার গুরুত্ব নিয়ে আলোকপাত করা হয়।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন পুলিশ সুপার জনাব উজ্জ্বল কুমার রায়।

সভায় এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, মেহেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ, বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

আলোচনা সভার সমাপ্তিতে জেলা শিশু একাডেমি, মেহেরপুর কর্তৃক আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা




কোটচাঁদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।

দিবসটি পালন উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এতে উপজেলা প্রশাসন, সরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকালে সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বর থেকে প্রভাতফেরি র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা চত্বরে এসে শেষ হয়।

পরে উপজেলা মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এনামুল হাসানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান।

উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা ও একাডেমিক সুপারভাইজার ফারুক হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কোটচাঁদপুর সার্কেল) সায়েম ইউসুফ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহেল রানা, অফিসার ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. তাজুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র এস কে এম সালাহউদ্দিন বুলবুল সিডল, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, এনসিপির অ্যাম্বাসেডর হৃদয় আহসান প্রমুখ।

এ সময় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে দোয়া ও শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।




গাংনীতে সড়ক থেকে হলুদ বোঝাই অটো ছিনতাই

মেহেরপুর গাংনী উপজেলার নওদা মটমুড়ার কাজলের ইটভাটার সামনের সড়কে চালক ও আরোহীকে গাছের সাথে বেধে রেখে হলুদ বোঝাই ব‍যাটারি চালিত অটো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ শনিবার আনুমানিক ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে।

স্থানীয়রা জানান,আজ ভোরে নওদামটমুড়া-বামন্দী আঞ্চলিক সড়কে কাজলের ইটভাটার সামনে একটি গাছের সাথে দুজনকে বাধা অবস্থায় দেখে পথচারীরা চরগোয়ালগ্রামের আনিচুর ও উজ্জ্বল হোসেনকে উদ্ধার করে।

পরে তাদের কাছ থেকে জানতে পারেন তাদের হলুদ বোঝাই ইজিবাইকটি ছিনতাই হয়েছে।

আনিচুর সাথে মোবাইলে কথা বলে জানা যায়,আজ ভোরে নিজ গ্রাম থেকে উজ্জ্বল হোসেনকে সাথে নিয়ে হলুদ  বিক্রির জন‍য পাশ্ববর্তী উপজেলা আলমডাঙার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ‍যে নওদামটমুড়ার কাজলের ইটভাটার সামনে পাঁচজন তাদের পথ রোধ করে। তাদের সড়কের পাশে থাকা একটি গাছে বেধে রাখে। এবং তাদের ইজিবাইক ও সাথে থাকা হলুদ নিয়ে চলে যায়। পরে তারা চিৎকার করলে পথচারীর ও স্থানীয়রা এসে তাদের উদ্ধার করে।

আনিচুরের স্ত্রী জানান,এই অটো চালিয়ে যা আয় হয় তাই দিয়ে সংসার চালাই। আমি স্বামী স্ট্রোকের রুগী অন‍য কোন কাজও করতে পারে না। আজ সকালে আলডাঙা যাওয়ার পথে গাছে বেধে রেখে অটো গাড়িটা ছিনতাই করে নিয়ে গেলো। এখন আমার সংসার চলবে কি করে?




মেহেরপুরে শহীদ মিনারগুলোতে জনতার ঢল

মেহেরপুরে একুশের প্রথম প্রহরে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে মেহেরপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সর্বস্তরের মানুষ।

এ সময় নেপথ্যে বাজছিল অমর একুশের কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’। পাশাপাশি মাইক্রোফোনে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরেন কর্মরত ব্যক্তিরা।

রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবীর, পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।

পরে প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুষ্পস্তবক নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এদিকে দিনটি উপলক্ষে গাংনী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিদ হোসেন।

পরে গাংনী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার আনোয়ার হোসেন, মেহেরপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক সামসুল আলম সোনা, গাংনী থানার পক্ষে ওসি উত্তম কুমার দাস ও ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল মামুন, গাংনী কৃষি অফিসের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত কৃষি অফিসার মতিয়র রহমান, গাংনী পৌরসভার পক্ষে প্রশাসক আনোয়ার হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে, পল্লী বিদ্যুৎ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ভিডিপিসহ বিভিন্ন সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।




অমর একুশে উপলক্ষে মেহেরপুর জেলা জামায়াতের আলোচনা সভা

অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে মেহেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার সকালে জেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির তাজউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন, রাজনৈতিক সেক্রেটারি কাজী রুহুল আমিন, নায়েবে আমির মাহবুবুল আলম, পৌর আমির সোহেল রানা ডলার এবং জেলা বিএমএ’র সভাপতি ডা. আব্দুস সালাম প্রমুখ।

বক্তারা মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তারা নতুন প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস জানার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভা শেষে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।




মেহেরপুরের ভাষা সংগ্রামীরা কেউ ইতিহাসেও বেঁচে নেই

ভাষা আন্দোলনর সময় প্রায় অখ্যাতই ছিল ভারত সীমান্তঘেঁষা প্রান্তিক মহকুমা শহর মেহেরপুর। যার পরিচিতি ঘন আমবাগান আর পলাশীর ঐতিহাসিক স্মৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

কিন্তু ইতিহাসের সেই নীরব জনপদ ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৫ মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে জেগে উঠেছিল দৃঢ় প্রতিবাদে। রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, রাজবন্দীদের মুক্তি চাই, পুলিশি জুলুম চলবে না স্লোগানে মুখর হয়েছিল পথঘাট।

ভাষাসংগ্রামীদের স্মৃতিচারণে জানা যায়, ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ মেহেরপুরে হরতাল পালিত হয়। “উর্দুই হবে রাষ্ট্রভাষা” ঘোষণার বিরুদ্ধে মেহেরপুর হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা ধর্মঘট ও বিক্ষোভে অংশ নেন। প্রশাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে শহরজুড়ে ছাত্রমিছিল বের হয়। রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক হলেও চেতনায় পিছিয়ে ছিল না এই শহর।

১৯৫১ সালের এপ্রিল মাসে আন্দোলন আবারও বেগবান হয়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় গুলিবর্ষণ ও হতাহতের খবর পৌঁছালে মেহেরপুরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ২২ ফেব্রুয়ারি সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। মুন্সী সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে আওলাদ হোসেন, কাওসার আলী, ইসমাইল হোসেনসহ শিক্ষার্থীরা পোস্টারিং ও পিকেটিংয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

২৪ ফেব্রুয়ারি একটি বিক্ষোভ মিছিল শহর প্রদক্ষিণকালে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেও তা ছত্রভঙ্গ করতে পারেনি। কালাচাঁদ হলের সামনে আবুল কালামের সভাপতিত্বে সমাবেশে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে বক্তারা সরকারের নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। ঢাকার ডাকে সাড়া দিয়ে প্রান্তিক মেহেরপুরে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ পদচারণায় একুশের আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়।

ভাষার দাবি তখনও পূরণ হয়নি। ১৯৫৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শহীদ দিবসের প্রভাত ফেরি পালন করতে গিয়ে প্রশাসনের কঠোর দমননীতির মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা। শুক্লা গাঙ্গুলির নেতৃত্বে রিপন গার্লস স্কুলের ছাত্রীরা ওই প্রভাত ফেরিতে যোগ দেন, শিক্ষকদের বাধা উপেক্ষা করে। প্রভাতফেরিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে মেহেরপুর সরকারি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মুন্সি সাখাওয়াৎ হোসেন, নজীর হোসেন বিশ্বাস এবং তাঁর সহযাত্রী কদম রসুল, সামসুল আলা, আবুল কাসেম, ইসমাইল হোসেন প্রমুখ গ্রেপ্তার হন। পরে শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের তদবিরে তাদের ছাড়িয়ে আনা ছাড়াও বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। আজ ওই সাতজনের কেউই জীবিত নেই।

রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে মিছিলে অংশ নেওয়া গোলাম কাউসার চানার পুত্র জি এফ মামুন লাকি জানান, এতদিন ভাষাসংগ্রামীদের মূল্যায়ন বলতে একুশে ফেব্রুয়ারি এলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া দিয়ে সংবর্ধনাই ছিল একমাত্র স্বীকৃতি। ২০২৪ সালের পর সেই আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনাও বন্ধ হয়ে গেছে।

মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব চান্দু বলেন, এত বছরেও ভাষাসংগ্রামীদের রাষ্ট্রীয় তালিকা হয়নি। তাঁদের পরিবারগুলোর খোঁজ-খবর নেওয়ারও কোনো উদ্যোগ নেই। এটি ইতিহাসের প্রতি অবহেলা।”

মেহেরপুরের ভাষাসংগ্রামীদের নাম আজও কোনো সরকারি পূর্ণাঙ্গ তালিকায় নেই। তাঁদের অনেকেই প্রয়াত; পরিবারগুলোও অবহেলিত। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সম্মাননা কিংবা আর্থ-সামাজিক সহায়তার বিষয়টি অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি অর্জন করা জাতির জন্য এটি এক বেদনাদায়ক প্রশ্ন। প্রান্তিক শহরের যাঁরা রাষ্ট্রভাষার দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন, গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের ঝুঁকি নিয়েছিলেন, তাঁদের নাম-পরিচয় কি ইতিহাসের প্রান্তেই পড়ে থাকবে?

মেহেরপুরের সচেতন মহল মনে করে, অবিলম্বে ভাষাসংগ্রামীদের যাচাই-বাছাই করে রাষ্ট্রীয় তালিকা প্রণয়ন, তাঁদের পরিবারের খোঁজ-খবর নেওয়া এবং প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করা জরুরি। নইলে প্রান্তিক এই শহরের অবদান ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে বিস্মৃতির অতলে- আর ইতিহাস হয়ে উঠবে অসম্পূর্ণ।




ঝিনাইদহে জমি রেজিস্ট্রি করতে গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা

জমি ক্রয়-বিক্রয় মানুষের জীবনের বড় বিনিয়োগগুলোর একটি। কিন্তু সেই জমি রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে নির্ধারিত সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের।

এ ধরণের ঘটনা ঘটেই চলেছে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে। দলিল লেখক, দালাল ও অফিস-সংশ্লিষ্ট কতিপয় অসাধু চক্রের কারণে জমি রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়া হয়ে উঠেছে ব্যয়বহুল ও ভোগান্তিপূর্ণ।

জানা গেছে, জমির মূল্য ও সরকারি নির্ধারিত ফি অনুযায়ী রেজিস্ট্রি খরচ নির্দিষ্ট থাকলেও বাস্তবে তা দিতে হচ্ছে আরও কয়েকগুণ বেশি।

কখনো দলিল দ্রুত সম্পন্ন করা, কখনো নথি যাচাই বা সই নেওয়ার অজুহাতে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। অনেক ক্ষেত্রে টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা বা ভুলত্রুটি দেখিয়ে হয়রানি করা হয় জমির ক্রেতা-বিক্রেতাদের। দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ওয়াজেদ আলী খার নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে হরিণাকুণ্ডু সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রামরাজত্ব কায়েম করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত। এমনকি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রারের নাম ব্যবহার করে এই অর্থ আদায় করা হলেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না জমি ক্রেতা বিক্রেতারা।

সূত্র জানায়, রেজিস্ট্রি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ওয়াজেদ আলী একটি চক্র গড়ে তোলে। চক্রটি ভুয়া দলিল রেজিস্ট্রিসহ নানা অনিয়ম করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। চক্রটি যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তখন তাদের ব্যবহার করে থাকে ফলে অনেকে প্রকাশ্যে তাঁদের বিরুদ্ধে মুখ খোলে না।

আদর্শ আন্দুলিয়া গ্রামের আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ‘দালাল ছাড়া রেজিস্ট্রি অফিসে কোনো কাজই হয় না। আমার ৮ লাখ টাকা মূল্যের একটি জমি রেজিস্ট্রি করতে সরকারি ফি ছাড়াও অন্তত ৫০ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ করতে হয়েছে। টাকা না দিলে কাজ হচ্ছিল না তাই বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছি।’

নারায়নকান্দি গ্রামের লিয়াকত আলী বলেন, ‘আমার শাশুড়ির নামে থাকা জমি স্ত্রীর নামে হস্তান্তরের পর বিক্রির সময় কাগজপত্রে নানা ত্রুটির কথা বলে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে বড় অঙ্কের টাকা না দিলে এ অফিসে কোনো কাজ হয় না। রেজিস্ট্রির দিন বিপুলসংখ্যক মানুষ জমি রেজিস্ট্রি করতে এলে তাদের কাছ থেকে নানা অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন ওয়াজেদ আলীর নেতৃত্বে সঙ্ঘবদ্ধ চক্র। এ নিয়ে অনেকবার ইউএনও অফিসে জানিয়ে কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘হরিণাকুণ্ডু- সাবরেজিস্ট্রি অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক তদন্ত ও প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নইলে জমি রেজিস্ট্রির মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাখাতে সাধারণ মানুষ হয়রানি ও অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়তেই থাকবে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘সারাদেশে যেভাবে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস পরিচালনা করা হয়। আমরা এখানে সেভাবেই পরিচালনা করে থাকি। অফিস পরিচালনার জন্য দাতা-গ্রহীতাদের কাছ থেকে সামান্য কিছু টাকা নেওয়া হয়।’

হরিণাকুণ্ডু সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের সাবরেজিস্টার মোমিন মিয়া বলেন, আমাদের এখানে সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ এ ধরণের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ ব্যাপারে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিদারুল আলম বলেন, বিষয়টি শুনেছি। আমাদের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাসিক আইনশৃঙ্খলায় সভায় এ নিয়ে সকলকে সর্তক করা হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।’