আলমডাঙ্গা পৌরসভার উন্মুক্ত ইজারায় রেকর্ড ৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা

আলমডাঙ্গা পৌরসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের হাট-বাজার ও বিভিন্ন স্থাপনার ইজারায় রেকর্ড পরিমাণ ৭ কোটি ৫৪ লাখ ৬১ হাজার ৫ টাকা সর্বোচ্চ দর উঠেছে। সিন্ডিকেট ভেঙে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় ইজারা সম্পন্ন হওয়ায় এ সাফল্য এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার বেলা ২টা থেকে পৌর কার্যালয়ে গোপন ব্যালট পদ্ধতিতে ইজারা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টার দিকে সকলের উপস্থিতিতে টেন্ডার বাক্স খোলা হয়। স্থানীয় ও বহিরাগত একাধিক ইজারাদার এতে অংশ নেন।

পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তারের তত্ত্বাবধানে ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এস এম শাহনেওয়াজ মেহেদী, উপজেলা প্রকৌশলী তাওহীদ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

ইজারাকৃত খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে পশুহাট ৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, পুরাতন মোটরসাইকেল হাট ১ কোটি ৬৬ লাখ ৫ হাজার টাকা, তহবাজার ৬৫ লাখ ১৯৯ টাকা, ছাগল হাট ২৮ লাখ ৫০০ টাকা, বাইসাইকেল হাট ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, আনন্দধাম তহবাজার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, পানহাট ১৮ লাখ টাকা, পশু জবাইখানা ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা, সকল গণশৌচাগার ১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, তাঁতীসেড কাপড় হাট ২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা এবং সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।

এছাড়া রেলস্টেশন, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, নতুন মাছবাজারসহ অন্যান্য খাতও উন্মুক্ত ডাকে ইজারা সম্পন্ন হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেট ও নামমাত্র দরে ইজারা দেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এবার উন্মুক্ত প্রক্রিয়ায় ইজারা হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেলের তদারকি ও উদ্যোগে স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত হয়েছে।

পৌর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, রাজস্ব বৃদ্ধির ফলে পৌর এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম ও নাগরিক সেবা আরও গতিশীল হবে।




কেরু অ্যান্ড কোম্পানিকে দুর্নীতিমুক্ত কারখানা গড়া হবে

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান ও বিভিন্ন বিভাগের মহাব্যবস্থাপকদের সঙ্গে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় তিনি কেরুতে পৌঁছালে কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। পরে দর্শনা কেরুর ২ নম্বর অতিথি ভবনে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কেরু চিনিকলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের কাছে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন সংসদ সদস্য রুহুল আমিন।

তিনি বলেন, “কেরু কোম্পানি আমাদের সবার প্রতিষ্ঠান। কেরু চিনিকলের যে সব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করবো। কেরু কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছেন। জৈব সার উৎপাদন থেকে লাভ হয়েছে, যা আশাব্যঞ্জক।”

তিনি আরও বলেন, “আমি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কেরু কর্মকর্তারা যেন নিরাপদ, সৎ ও স্বচ্ছভাবে কাজ করতে পারেন, সে জন্য কর্মপরিবেশ উন্নয়নে কাজ করবো। কেরু ডিস্টিলারি থেকে ১৭০-১৯০ কোটি টাকা লাভের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এটি অর্জন করা গেলে কেরু কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।”

কেরু চিনিকলের ছাই যেন পরিবেশ দূষণ না করে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কেরু হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসক সংখ্যা বৃদ্ধি ও আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার কথাও বলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান, মহাব্যবস্থাপক (কারখানা) সুমন কুমার সাহা, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) আব্দুস ছাত্তার, মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) আশরাফুল আলম ভূঁইয়া, জিএম (ডিস্টিলারি) রাজিবুল হাসান, এডিএম মির্জা গালিব ওমর আল ফারুকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

আলোচনা শেষে সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দর্শনা প্রেসক্লাবে যান। সেখানে প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমন, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. আওয়াল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম বিল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবিদ হাসান রিফাত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব মামুনসহ অন্যরা।

পরে তিনি প্রেসক্লাবে কিছু সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য আড্ডা দিয়ে বড়বলদিয়া গ্রামে ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দেন।




মেহেরপুরে জাটকা বিক্রি ও অবৈধ মাটি কাটায় জরিমানা

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারমূল্য ভোক্তাদের কাছে সহনীয় পর্যায়ে রাখতে মেহেরপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বাজার মনিটরিং টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমাইয়া জাহান ঝুরকার নেতৃত্বে বড়বাজার মাছের আড়তে অভিযান চালানো হয়। এ সময় জাটকা মাছ বিক্রির অপরাধে একজন বিক্রেতাকে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ এর ৫(১) ধারায় ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া ১১ কেজি ২০০ গ্রাম জাটকা জব্দ করে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার জিম্মায় সরকারি শিশু পরিবারে বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়।

এরপর হাসপাতাল রোড এলাকায় পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ফোর্সসহ চোরাচালানবিরোধী টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করে ১২টি যানবাহন তল্লাশি করা হয়।

একই দিনে আমঝুপি ইউনিয়নের রামনগর এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এর ১৫(১) ধারায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব আবীর আনসারীর নেতৃত্বে কৃষি বিপণন কর্মকর্তা, মেহেরপুর ও মেহেরপুর পুলিশ ফোর্সের সমন্বয়ে মুজিবনগর উপজেলার কেদারগঞ্জ হাটে বাজার মনিটরিং টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে পোল্ট্রির দোকানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৩৯ ধারা এবং কৃষি বিপণন আইন, ২০১৮ এর ১৯(১) এর ঙ ধারায় দুই ব্যবসায়ীকে ৫০০ টাকা করে মোট ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




দর্শনায় মৌচাক সমাজ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে উঠান বৈঠক

দর্শনায় মৌচাক সমাজ উন্নয়ন সংস্থার বাস্তবায়নে এবং বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে দর্শনা পৌরসভার কালিদাসপুর গ্রামের আদিবাসী পাড়ায় স্যানিটেশন উন্নয়ন কর্মসূচির উপকারভোগীদের নিয়ে এ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে স্যানিটেশন বিষয়ে আদিবাসী নারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।

উঠান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মৌচাক সমাজ উন্নয়ন সংস্থার ম্যানেজার মোহাম্মদ মকবুল হোসেন। অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে পরিচালনা করেন মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান।




আলমডাঙ্গায় ডাকাতি প্রস্তুতি মামলার আসামি গ্রেপ্তার

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ডাকাতি প্রস্তুতি মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. মাসুদ রানা (২৫)।

গত সোমবার রাত ৮টার দিকে আলমডাঙ্গা পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারী ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে।

জানা গেছে, আলমডাঙ্গা থানার এসআই (নিঃ) শীতল বিশ্বাসের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্সসহ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আলমডাঙ্গা থানার মামলা নং-৩৪, তারিখ ২৮ আগস্ট ২০২৫, জিআর নং-২১৭, তারিখ ২৮ আগস্ট ২০২৫, ধারা ৩৯৯/৪০২ পেনাল কোড-এর মামলার আসামি।

গ্রেপ্তারের পর তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।




কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পেঁয়াজের বাম্পার ফলনের আশা, চাষিদের মুখে হাসি

অনুকূল আবহাওয়া, উর্বর জমি ও কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যায় চলতি মৌসুমে উপজেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা। উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজে মোড়া পেঁয়াজের ক্ষেত এখন সম্ভাবনার নতুন বার্তা দিচ্ছে। ভালো ফলনের প্রত্যাশায় কৃষকদের মুখে ফুটে উঠেছে তৃপ্তির হাসি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা, বাগুলাট, পান্টি, চাপড়া, নন্দলালপুর ও শিলাইদহসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী পেঁয়াজের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং সময়মতো সার ও সেচ ব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষেতজুড়ে পেঁয়াজের বৃদ্ধি সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতি বিঘা জমিতে ৬০ থেকে ৮০ মণ পর্যন্ত ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকে বিকাল পর্যন্ত কৃষকরা মাঠে অবস্থান করে গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ সেচ দিচ্ছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ রোগবালাই প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় এ বছর রোগবালাইয়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম। ফলে উৎপাদন ব্যয়ও কম হয়েছে, যা তাদের লাভের আশা বাড়িয়েছে।

উপজেলার একাধিক কৃষক জানান, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া পেঁয়াজ চাষের জন্য অত্যন্ত সহায়ক ছিল। গাছের বৃদ্ধি ভালো হওয়ায় তারা আশাবাদী—বাজারে দাম অনুকূলে থাকলে এ বছর ভালো লাভ করা সম্ভব হবে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম জানান, কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা দিতে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি রোগবালাই দমন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কুমারখালীর এ উৎপাদন জেলার অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে কৃষকদের আর্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সব মিলিয়ে কুমারখালীর বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দোল খাওয়া সবুজ পেঁয়াজক্ষেত যেন নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে। কৃষকদের পরিশ্রম আর স্বপ্নের ফসল ঘিরে তৈরি হয়েছে আশার আলো—যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে শুভ সংকেত বয়ে আনবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




দর্শনায় ৯ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় ৯টি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে দর্শনা থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে দর্শনা বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত মারুফ খান ওরফে অন্তর (২৮)। তিনি দর্শনা পৌরসভার আজিমপুর গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দর্শনা রেলবাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় নয়টি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি মারুফ খান ওরফে অন্তরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। তাকে চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।




কুষ্টিয়ার মিরপুরে ন্যায্য মূল্যে মাংস, ডিম ও দুধ বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে কুষ্টিয়ার মিরপুর পৌরসভা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, মিরপুর।

যৌথ উদ্যোগে ন্যায্য মূল্যে গরুর মাংস, ডিম ও দুধ বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ নাজমুল ইসলাম এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ আব্দুল্লাহিল কাফি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল ইসলাম বলেন, রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনায় রেখে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তত্ত্বাবধানে দেশি ষাঁড় গরুর মাংস প্রতি কেজি ৬৭০ টাকা, ডিম প্রতি হালি ৩৪ টাকা এবং দুধ প্রতি লিটার ৭০ টাকা দরে বিক্রয় করা হচ্ছে। নির্ধারিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী পণ্য বিক্রয় নিশ্চিত করতে তদারকি ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ আব্দুল্লাহিল কাফি বলেন, ছুটির দিন ব্যতীত আগামী ২৭ রমজান পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। উদ্যোগটি সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের কার্যক্রম বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে এবং রমজানে ক্রেতাদের স্বস্তি দেবে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে পণ্য সরবরাহ অব্যাহত থাকলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে।




কুষ্টিয়ায় সংঘাত নয়, শান্তি-সম্প্রীতি স্থাপনে সাংবাদিকদের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভা

কুষ্টিয়ায় ‘সংঘাত নয়, শান্তি-সম্প্রীতি স্থাপনে সাংবাদিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে শহরের খেয়া রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা সাধারণ সম্পাদক হোসেন।

‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে প্রজেক্টরের মাধ্যমে উপস্থাপনা করেন জেন্ডার অ্যান্ড ইয়ুথ এম্পাওয়ারমেন্ট এক্সপার্ট।

দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের যশোর অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন যুগান্তর প্রতিনিধি এএম জুবায়েদ রিপন, দ্য ডেইলি স্টার প্রতিনিধি আনিস মন্ডল, দৈনিক দেশ রূপান্তর প্রতিনিধি হাসান আলী, প্রথম আলোর তৌহিদী হাসান, এখন টিভি প্রতিনিধি মেজবাহ উদ্দিন পলাশ, ভোরের কাগজের নুর আলম দুলাল, এটিএন বাংলার জেলা প্রতিনিধি তুহিন আহমেদ, বার্তা২৪-এর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট এসএম জামাল এবং দৈনিক বাংলার নাব্বির আল নাফিজ।

এমআইপিএস প্রকল্পের কার্যক্রম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরেন এমঅ্যান্ডই, রিসার্চ অ্যান্ড নলেজ ম্যানেজমেন্ট অফিসার সায়েদুল ইসলাম। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জেলা সুজন কুষ্টিয়ার সভাপতি ও পিএফজি সদস্য অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু হেনা মোহাম্মদ গোলাম রসুল বাবলু এবং মিজানুর রহমান লাকী। উপস্থিত ছিলেন এমআইপিএস প্রকল্পের খুলনা ক্লাস্টারের এরিয়া কোঅর্ডিনেটর এস এম রাজু জবেদ ও ফিল্ড কোঅর্ডিনেটর মো. আশরাফুজ্জামান।

সভার শুরুতে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ পরিচালিত মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি (এমআইপিএস) প্রকল্প সহিংসতা প্রশমনে কী কী কাজ করেছে তা সংক্ষেপে তুলে ধরেন পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি)-এর সমন্বয়কারী ও সুজন জেলা সহসভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম এবং ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপ (ওয়াইপিএজি)-এর সমন্বয়কারী সাদিক হাসান রহিদ।

সংলাপে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। ব্যক্তিগত সমস্যাকে অসাধু চক্র রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সমস্যায় রূপ দিয়ে সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করে। তবে দেশের মানুষ ধর্মীয় বিষয়ে সচেতন ও সতর্ক থাকায় এসব ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। ভবিষ্যতেও এ সচেতনতা বজায় রাখতে হবে এবং ধর্মীয় নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, সকল মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। ব্যক্তিস্বার্থ ও গোষ্ঠীস্বার্থে বিভিন্ন ইস্যু তৈরি হয়, যা পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস ক্ষুণ্ণ করে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা এবং মৌলিক চাহিদা পূরণে ঘাটতির কারণে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হয়নি। ধর্ম আমাদের জন্মসূত্রে প্রাপ্ত, এটি আবেগ ও বিশ্বাসের বিষয়।

তারা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো উদ্যোগী হলে দেশে সংঘাত-সংঘর্ষ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। পাশাপাশি শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিককে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান বক্তারা।

সভায় জাতীয় গণমাধ্যমের কুষ্টিয়া জেলার ২১ জন সাংবাদিক অংশ নেন।




ঝিনাইদহে চাঁদাবাজি বন্ধ না করলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

ঝিনাইদহ পৌরসভার হাটবাজারে অতিরিক্ত খাজনা আদায় ও খাজনার নামে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ইজারাদারের বিরুদ্ধে খাজনার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শহরের নতুন হাটখোলা বাজারে সংবাদ সম্মেলন করেন ব্যবসায়ীরা।

এ সময় বাজারের মাছের আড়ৎদার বাদশা বুলবুল, আব্দুল করিম মিয়া; কাঁচামালের আড়ৎদার হুমায়ন কবির কল্লোল এবং গোস্ত ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার দোহাই দিয়ে এবং ইজারামূল্য অতিরিক্ত নির্ধারণের অজুহাতে ইজারাদার খেয়ালখুশিমতো খাজনা আদায় করছেন। খাজনার রশিদ ছাড়াও ইজারাদার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে চাঁদা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

বাদশা মিয়া ও হাফিজুর রহমান নামে দুই ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, আগে এক মণ কাঁচামালে চার টাকা খাজনা ছিল। এখন সেই খাজনা প্রতি মণে ১৬০ টাকা দিতে হচ্ছে। চটের খাজনা আগে ১৫ থেকে ২০ টাকা ছিল, এখন দ্বিগুণ আদায় করা হচ্ছে। একজন গৃহস্থ চারটি কদু বিক্রি করতে এসে ৫০ টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

কুরবান আলী ও হাবিবুর রহমান বলেন, একটি ছাগল বিক্রি হলে দুই হাজার টাকা খাজনা আদায় করা হচ্ছে। অথচ আগে এত টাকা খাজনা দিতে হয়নি। খাজনা আদায়ের রশিদ না দিয়েই জোর করে টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন।

ব্যবসায়ীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রশাসন যদি খাজনার নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি বন্ধ না করে, তবে হাটবাজার বন্ধ করে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

ইজারাদার আক্তার হোসেন ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আগে যেমন খাজনা আদায় করা হতো, এখনো সেই নিয়মেই খাজনা আদায় হচ্ছে। নিয়মের বাইরে কিছু করা হচ্ছে না। ঝিনাইদহ পৌরসভাকে খাজনার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়ার জন্য একাধিকবার বলা হলেও তারা তা দেয়নি। এ কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, খাজনার নামে ইজারাদারের লোকজন যদি অতিরিক্ত টাকা আদায় করে, তবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক টাকাও যাতে বেশি নিতে না পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে হাটের ইজারা বাতিল করা হবে।