ঝিনাইদহে শিক্ষার মান উন্নয়নে মতবিনিময় সভা

ঝিনাইদহ জেলার শিক্ষার গুণগত মানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ’র সভাপতিতে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নারায়ণ চন্দ্র পাল।

এছাড়াও প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষকবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভায় জেলা প্রশাসক জেলার শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে শিক্ষকদের নিকট বিভিন্ন আইডিয়া ও ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে মতামত জানতে চান।

শিক্ষকরা মুক্ত আলোচনায় তাদের ভাবনা ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। আলোচনায় শিক্ষার মান উন্নয়ন, বিদ্যালয় পরিচালনা, ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি বৃদ্ধি, বিদ্যালয় পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, শিক্ষার মূল্যবোধ নিশ্চিতকরণ, ঝরে পড়া শিক্ষার্থী হ্রাস, জবাবদিহিতা ও মনিটরিং জোরদারকরণ, অভিভাবক সমাবেশ আয়োজনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে।

জেলা প্রশাসক অত্যন্ত ধৈর্য ও গুরুত্বের সঙ্গে সকলের বক্তব্য শোনেন। সভার শেষপর্বে শিক্ষকদের প্রস্তাবনার আলোকে প্রতি বছর প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দেন তিনি।




ঝিনাইদহে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উব্ধুদ্ধকরণে জেলা ইমাম সম্মেলন

গণভোটের প্রচার ও ভোটার উব্ধুদ্ধকরণে ঝিনাইদহে জেলা ইমাম সম্মেলন অনুষ্টিত হয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে শহরের একটি পার্কে এ সম্মেলনের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। এতে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক রিয়াজুল ইসলামসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। সেসময় বক্তারা, গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া উল্লেখ করে বলেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে গণভোট সম্পন্ন করতে ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাঁরা খুতবা ও ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভোটারদের সচেতন হয়ে দায়িত্বশীলভাবে ভোট প্রদানের পরামর্শ দেন। সম্মেলনে জেলার ৬ উপজেলার ৭০০ জন ইমাম অংশ নেয়।




ঝিনাইদহে অপরাধীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় অর্তকিত হামলার প্রতিবাদ ও অপরাধীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারী) দুপুরে উপজেলার বিষ্ণুদিয়া গ্রামে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে শতাধিক নারী-পুরুষসহ গ্রামবাসী অংশ নেয়। এসময় তারা অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান।

মানববন্ধনে ইবি ছাত্রদলের সাবেক নেতা মোক্তার হোসেন, আহত যদিয়ার মেম্বারের বড়ভাই মশিয়ার রহমান, জাহিদুলের মা রিজিয়া খাতুন, আহম্মদের মেয়ে আকলিমা খাতুন, সোহেলের ভাবি উর্মি খাতুনসহ আহতের পরিবারের লোকজন বক্তব্য রাখেন। বক্তারা, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানান।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাহিদ চৌধুরী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেনের মধ্যে সামাজিক বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত ১৯ জানুয়ারী সকালে আবু জাহিদ চৌধুরীর সমর্থকরা আবুল হোসেনের সমর্থকদো উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় আবুল হোসেনের সমর্থক জাহিদ, ফদিয়ার মেম্বার, আহম্মদ ও সোহেলসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বর আহত হয়। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বর্তমানে তাদেও অবস্থা আশঙ্কা জনক।




চাঁদবাজদের পুনর্বাসন নয়, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজদের পুনর্বাসন নয়, বরং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তাদের চাঁদাবাজিতে জড়াতে না হয়।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত মনোনীত ও ১১ দল সমর্থিত মেহেরপুর-১ আসনের প্রার্থী তাজ উদ্দিন খান এবং মেহেরপুর-২ আসনের প্রার্থী নাজমুল হুদার সমর্থনে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মেহেরপুর ছোট জেলা, মাত্র তিনটি উপজেলা। মানুষ একে অপরকে চেনে। অথচ এই জেলাও চাঁদাবাজদের দখলে চলে গেছে। জনগণের রায়ে আমরা ক্ষমতায় এলে এই মানুষগুলোর দায়িত্ব আমরা নেব। তাদের কাজ দেব, যাতে চাঁদাবাজি করতে না হয়।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামি। আমাদের প্রথম ভোট হবে হ্যাঁ ভোট। সবাই হ্যাঁ ভোট নিশ্চিত করলে দেশ বিজয়ী হবে। ভোটের দিন কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। কেউ ভোট ডাকাতি করতে এলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
গত ৫৪ বছরের শাসকদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই সময়ের মধ্যে দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয়নি। তরুণ সমাজ মাদক ও নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। তাদের জন্য আমাদের মায়া হয়। দায়িত্ব পেলে দেশকে ফুলের মতো সাজাবো, যাতে মানুষ দেশ নিয়ে গর্ব করতে পারে।’

চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা চাঁদাবাজি করবো না, দুর্নীতি করবো না, দুর্নীতিকে প্রশ্রয়ও দেবো না। মানুষ ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে কাকে ভোট দেবে।’

বেকার ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা বেকার ভাতা দেবো না, রাষ্ট্রের টাকা থাকলেও না। ভাতা দিলে বেকারত্ব কমে না, বরং বাড়ে। আমরা ভাতা নয়, কাজ দেবো।’

তিনি আরও বলেন, তরুণদের শক্তিতেই দেশ এগিয়ে যাবে। সেই লক্ষ্যেই যুব সমাজকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

জনসভা শেষে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান মেহেরপুরের দুইটি আসনের প্রার্থীদের হাতে দলীয় নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন এবং উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সহযোগিতা কামনা করেন।

সমাবেশে মেহেরপুর জেলার জামায়াত ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সমাবেশ স্থল কানাই কানাই পূর্ণ হয়ে যায়। সমাবেশ মঞ্চে এনসিপির নেতৃবৃন্দসহ ১০ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




মেহেরপুরের ইটভাটা;  রাজস্ব আর ছাড়পত্রের জটলা

মেহেরপুর জেলার ইটভাটাগুলো যেন একই আগুনে পোড়ানো হলেও রাষ্ট্রের কাছে তাদের পরিচয় এক নয়। জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও রাজস্ব (কাস্টমস) বিভাগ তিন দপ্তরের তিন রকম হিসাব, তিন রকম অবস্থান। এর ফাঁকে নির্বিঘ্নে চলেছে অধিকাংশ অবৈধ ইটভাটা, আর দায়ের ভার পড়ছে পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের ঘাড়ে।

জেলা প্রশাসনের নথিতে ইটভাটার সংখ্যা ১০৩টি। পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসেবে তা ১১৩টি। অথচ রাজস্ব বিভাগের হিসাবে ভাটার সংখ্যা মাত্র ৬৮টি। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে ১১৩ ভাটার মধ্যে বর্তমানে চালু রয়েছে ৭৮টি ইটভাটা, যার মধ্যে পরিবেশগত ছাড়পত্র আছে মাত্র দুটি ভাটার। বাকি ভাটাগুলো কীভাবে বছরের পর বছর উৎপাদনে রয়েছে- সেই প্রশ্নের জবাব স্পষ্ট নয়। ছাড়পত্র নেই, তবু রাজস্ব আদায় হচ্ছে বছরের পর বছর ধরে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা শেখ কামাল মেহেদি স্বীকার করেন, ছাড়পত্র না থাকা সত্ত্বেও ইটভাটা থেকে ভ্যাট আদায় করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, এতে এক ধরনের বৈধতা দেওয়া হচ্ছে, যা পরিবেশ আইনের পরিপন্থী। তবে প্রশ্ন উঠেছে— যদি ভাটাগুলো অবৈধ হয়, তাহলে সেগুলো থেকে নিয়মিত রাজস্ব আদায় হচ্ছে কীভাবে? রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মোফাজ্জেল হোসেন জানান, চলতি অর্থবছরে ইটভাটা খাত থেকে ৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান ও জরিমানার কারণে ভাটা মালিকেরা রাজস্ব প্রদানে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

ভাটা   মালিকদের অভিযোগ আরও গুরুতর। তাদের দাবি, বিভিন্ন সরকারি দিবস ও প্রশাসনিক কর্মসূচি পালনে জেলা প্রশাসন নিয়মিতভাবে তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা নেয়। অথচ একই প্রশাসন আবার পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে মোটা অঙ্কের জরিমানা করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভাটা মালিক বলেন, আমরা নিয়ম মেনে ছাড়পত্র নিতে চাই। আবেদন করেছি। কিন্তু প্রয়োজনীয়  কাগজপত্র নেই বলা হয়, আবার কী লাগবে তাও স্পষ্ট করে বলা হয় না। এভাবে ছাড়পত্র না দিয়ে আমাদের অবৈধ বানিয়ে রাখা হচ্ছে।

ছাড়পত্র ছাড়া ভাটা চালু থাকলে কীভাবে নিয়মিত উৎপাদন চলছে? ছাড়পত্রবিহীন ভাটা থেকে ভ্যাট আদায় বন্ধে কেন উদ্যোগ নেই? চলতি মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও কাস্টমস বিভাগের যৌথ অভিযানে ১০টি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ২৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। অভিযানের পরপরই ইটের বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, কয়েকটি ইটভাটায় জরিমানার অজুহাতে প্রতি হাজার ইটে দাম বাড়ানো হয়েছে ২ হাজার টাকা করে। এক নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবসায়ী বলেন, আইনের ব্যর্থতার খেসারত আমাদের দিতে হচ্ছে। জরিমানা হয় ভাটায়, দাম বাড়ে ইটের বাজারে।

জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সভায় ইটভাটার বৈধতা, ছাড়পত্র ও রাজস্ব আদায় নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত আসেনি। পরিবেশ রক্ষা না রাজস্ব আদায়— কোনটি অগ্রাধিকার পাবে, সেই নীতিগত সিদ্ধান্ত এখনো ঝুলে আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দপ্তরগুলোর এই দ্বৈতনীতি ইটভাটাগুলোকে আইনের ফাঁক গলে টিকে থাকার সুযোগ করে দিচ্ছে। আর সেই ফাঁকে নষ্ট হচ্ছে কৃষিজমি, দূষিত হচ্ছে বাতাস, বাড়ছে নির্মাণ ব্যয়। মেহেরপুরের ইটভাটার চুল্লিতে শুধু ইট নয়— পুড়ছে প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা, আইনের শাসন আর জনস্বার্থ। প্রশ্ন, এই আগুন নেভাবে কে?

পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকলে ভাটা নিবন্ধন বৈধ হয় কীভাবে? অবৈধ ভাটা থেকে রাজস্ব আদায় কি পরোক্ষ বৈধতা নয়? ইটভাটা মালিক সমিতি আইনগত মর্যাদা নেই (স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন)। জরিমানার অজুহাতে ইটের দাম বাড়ানো কতটা ন্যায্য?  একটি ইটভাটা যদি পরিবেশ অধিদপ্তরের চোখে অবৈধ হয়, কিন্তু রাজস্ব বিভাগের খাতায় বৈধ করদাতা হয় তাহলে সেটি আইনসম্মত না অবৈধ? এই প্রশ্নের উত্তর না মিললে মেহেরপুরের ইটভাটার ধোঁয়ার সঙ্গে আইনের শাসনও ক্রমেই মিলিয়ে যাবে।




সিপিবি প্রার্থী অ্যাড. মিজানুর রহমানের মুজিবনগরে গণসংযোগ

মেহেরপুর-১ আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহা. মিজানুর রহমান গতকাল রবিবার বিকেলে মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী, বিশ্বনাথপুর ও শিবপুর এলাকায় গণসংযোগ করেন।

গণসংযোগকালে তিনি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও জনদুর্ভোগের কথা শোনেন।

এসময় তিনি সিপিবির রাজনৈতিক দর্শন, নীতি ও কর্মসূচি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরেন এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন।

গণসংযোগে স্থানীয় সিপিবি নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও উপস্থিত ছিলেন।




মেহেরপুরে ধানের শীষের পক্ষে ছাত্রদলের নির্বাচনী প্রচারণা

মেহেরপুর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডে মেহেরপুর-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মাসুদ অরুনের দিকনির্দেশনা ও পরামর্শে প্রতিদিনের ধারাবাহিক ওয়ার্ডভিত্তিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ধানের শীষের প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

এ কর্মসূচিতে মেহেরপুর পৌর ছাত্রদলের সভাপতি তৌফিক এলাহির নেতৃত্বে পৌর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

প্রচারণাকালে নেতাকর্মীরা এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নেন, কুশল বিনিময় করেন এবং জননেতা মাসুদ অরুনের সালাম ও শুভেচ্ছা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেন।

এ সময় এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক সাড়া ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয়রা ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং আসন্ন নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




মেহেরপুরে ৫ ও ৮ নং ওয়ার্ডে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণা

মেহেরপুর পৌর যু্বদল ও ছাত্রদলের নেতৃত্বে ৫ ও ৮নং ওয়ার্ডে মাসুদ অরুনের পক্ষে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার বিকেলে পৌরসভার ৫ ও ৮ নং ওয়ার্ডে মাসুদ অরুনের পক্ষে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণা, গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মসূচিতে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে স্লোগান দেন, সাধারণ মানুষের মাঝে ধানের শীষ প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করেন এবং আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন কামনা করেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সাবেক ভিপি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস। আরো উপস্থিত ছিলেন ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মকসেদ।

এসময় আরোও উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব নওশেল আহমেদ রনি, যুগ্ম আহবায়ক শিমুল বিশ্বাস,যুবনেতা নাহিদ মাহাবুব সানী, হিরক ও চঞ্চল, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব জারজিস ইউসুফ রমিক, ৫ নং ওয়ার্ড ছাত্রদল এর সভাপতি সারোয়ার হোসেন পাপ্পুসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের যুবদল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ।




আলমডাঙ্গার খোরদে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালো স্কুলছাত্র

আলমডাঙ্গায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে দশম শ্রেণির ছাত্র নাহিদ ইসলাম (১৫)। চিকিৎসার পথে নিভে গেল এক সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীর জীবন।

ঘটনাটি ঘটেছে আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের খোরদ গ্রামে। এ হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে নিহতের পরিবারসহ পুরো এলাকা।

নিহত নাহিদ ইসলাম হাটবোয়ালিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং খোরদ গ্রামের মালিতাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের সেজো ছেলে।

গতকাল শনিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হাটবোয়ালিয়া-ভালাইপুর সড়কের খোরদ ঈদগা মোড় সংলগ্ন এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, একটি চলন্ত আখবোঝাই ট্রলি থেকে আখ টানতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ভারসাম্য হারিয়ে নাহিদ সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। তবে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে নেওয়ার পথে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা এলাকায় পৌঁছালে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নাহিদের মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পরিবারে নেমে আসে শোকের মাতম। কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা-মা ও স্বজনরা। একই সঙ্গে তার সহপাঠী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও গভীর শোক ও বেদনার আবহ বিরাজ করছে।

রবিবার সকালে হাটবোয়ালিয়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন। পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে রবিবার বেলা ১১টার দিকে খোরদ কবরস্থানে নাহিদ ইসলামের দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ জানায়, ঘটনায় কোনো বাদী না থাকায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও গ্রামীণ সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল ও সচেতনতার অভাবের বিষয়টি সামনে এনেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। নিহত নাহিদ ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।




দুটি বিষয় অনুমোদনের চিঠি পেল মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়

বহুল প্রতীক্ষিত মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম চালু করার লক্ষ্যে দুটি বিষয়ে অনুমোদনের চিঠি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

রবিবার দুপুরের পর ইউজিসির ম্যানেজমেন্ট অনুবিভাগের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অতিরিক্ত পরিচালক ড. মহিবুল আহসান স্বাক্ষরিত চিঠি মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরণ করা হয়।

মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীন এ বিষয়ে বলেন, “দীর্ঘদিনের চেষ্টার ফসল আজকের এই চিঠি। এই চিঠি হাতে পাওয়ার ফলে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

তিনি এ সময় জেলার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

ইউজিসি কর্তৃক অনুমোদিত দুটি বিষয় হলো Faculty of Engineering and Technology অনুষদের অধীনে: Computer Science & Engineering (CSE) Faculty of Arts অনুষদের অধীনে: English Language & Communication Studies.

চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি সংক্রান্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন (রিপোর্ট) দাখিল করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।