মেহেরপুরে নির্বাচন ও গণভোটের প্রাসঙ্গিক আইন ও বিধিবিধান প্রতিপালন শীর্ষক সেমিনার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ এর প্রাসঙ্গিক আইন ও বিধিবিধান প্রতিপালন শীর্ষক সেমিনার মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার সময় সেমিনারের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির। জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক খাতুনে জান্নাত। সেমিনারে নির্বাচনের বিভিন্ন বিধিবিধান তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তারিকুল ইসলাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ খায়রুল ইসলাম, গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন ও মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল হুদা, মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মুহা. আবদুল্লাহ আল-আমিন, জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব চান্দু প্রমুখ। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও মিডিয়া কর্মীরা অংশ নেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সবাইকে সজাগ থেকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে হবে। কেউ কাউকে ভয়ভীতি বা হুমকি-ধামকি দিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




মেহেরপুরে ইটভাটায় অভিযান, দুই লাখ টাকা জরিমানা

মেহেরপুর সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ফতেপুর এলাকায় অবস্থিত এইচবি ব্রিকস ইটভাটার প্রোপ্রাইটর মোঃ ইয়াসিনকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে পরিবেশ অধিদপ্তর, পুলিশ ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া জাহান ঝুরকা।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এইচবি ব্রিকস ইটভাটায় ফিক্সড চিমনি ব্যবহার এবং জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অপরাধে ভাটার প্রোপ্রাইটর মোঃ ইয়াসিনকে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এর ৬/১৬ ধারায় দুই লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।




মেহেরপুরে শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

মেহেরপুরে ৫৪তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে মেহেরপুর জেলা স্টেডিয়াম মাঠে জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আবদুর রাহীম।

এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতি, মেহেরপুরের আয়োজনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ক্রীড়া সংগঠক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে অতিথিরা বলেন, খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও সৌহার্দ্যবোধ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।




গণভোট উপলক্ষে গাংনীতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

গণভোট ২০২৬ সফল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে গণভোটের প্রচারণা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মঙ্গলবার বিকালে গাংনী উপজেলা পরিষদ চত্তরে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা নির্বাচন অফিসার এনামুল হক।

সভায় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ইমাম, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথি সৈয়দ ড.এনামুল কবির গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, গণভোট জনগণের মতামত প্রকাশের একটি গণতান্ত্রিক মাধ্যম। এ প্রক্রিয়াকে অর্থবহ করতে হলে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সচেতন অংশগ্রহণ জরুরি। গণভোট সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচারণা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গণভোটকে সামনে রেখে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।




জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে মেহেরপুরের নাফিউল ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় একাধিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন মেহেরপুর সরকারি কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ নাফিউল ইসলাম।

তিনি নির্ধারিত বক্তৃতা, উপস্থিত বক্তব্য (একক) এবং তাৎক্ষণিক অভিনয় এই তিনটি বিভাগেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে বিভাগীয় পর্যায়ের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

এর আগে গত ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন মোঃ নাফিউল ইসলাম। পরবর্তীতে ১২ জানুয়ারি ২০২৬ জেলা পর্যায়েও তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে নিজের মেধা ও প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।

মোঃ নাফিউল ইসলাম মেহেরপুর সদর উপজেলার আমদহ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মোঃ ফয়েজ শেখের পুত্র।
তার এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষকবৃন্দ, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি বিরাজ করছে।




গাংনীতে অবৈধ ইটভাটায় লাখ টাকা জরিমানা

 মেহেরপুরের গাংনীতে উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে একটি অবৈধ ইটভাটায় ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করেন গাংনী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিদ হোসেন।

এসময় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক টিপু সুলতানসহ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি টিম উপস্থিত ছিলেন। অভিযান চলাকালে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৩ এর ৬/১৬ ধারা অনুযায়ী অবৈধভাবে খড়ি পোড়ানোর অপরাধে বামন্দী বিক্সের পরিচালক মিজানুর রহমান (৫৫) কে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

 উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিদ হোসেন বলেন, ধারাবাহিকভাবে অবৈধভাবে পরিচালিত প্রতিটি ইটভাটায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালানো হবে। পরিবেশ রক্ষা ও আইনের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।




জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম দামুড়হুদার রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের দুই শিক্ষার্থী

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত বাংলা ও ইংরেজি রচনা প্রতিযোগিতায় দামুড়হুদা উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে দামুড়হুদা রেসিডেন্সিয়াল আইডিয়াল স্কুলের দুই কৃতি শিক্ষার্থী।

উপজেলার একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে জেলা পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জন করেছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা তাদের শিক্ষা কার্যক্রম ও সক্ষমতার উজ্জ্বল প্রমাণ। গত বুধবার সকাল ১০টায় দামুড়হুদা পাইলট গার্লস স্কুলে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় উপজেলার মোট ৫৩টি স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় বাংলা ও ইংরেজি রচনা বিভাগে দামুড়হুদা রেসিডেন্সিয়াল আইডিয়াল স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী লামিয়া হোসেন লুবনা এবং সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাবিয়া বসরি নিজ নিজ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে।

এই সাফল্যের মাধ্যমে তারা জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছে।

প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এর আগেও আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী প্রাথমিক পর্যায়ে দেশসেরা বৃত্তি অর্জন করেছে। শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান, শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার ফলেই আজ এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।

এই অর্জনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।




টেণ্ডার ছাড়া মেহেরপুর গণপূর্তের কয়েক কোটি টাকার কাজ!

সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির নীতি উপেক্ষা করে মেহেরপুর গণপূর্ত বিভাগ (পিডব্লিউডি) কয়েক কোটি টাকার সরকারি ভবন সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কোনো প্রকল্প অনুমোদন, দরপত্র আহ্বান কিংবা উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা ছাড়াই।

এসব কাজ বাছাই করা কয়েকজন ঠিকাদারের মাধ্যমে করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রফিকুল হাসানের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলোকেই এই অনিয়মের আওতায় আনা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে জেলা জজ আদালত ভবন, পুলিশ সুপারের বাসভবন ও কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের বাসভবন, মুজিবনগর কমপ্লেক্স, বিআরটিএ অফিস, সদর হাসপাতাল, নির্বাহী প্রকৌশলীর নিজস্ব সরকারি বাসভবন, জেলা কারাগার, থানাভবনসহ অন্তত এক ডজন সরকারি দপ্তর।

এসব ভবনের সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজের কোথাও দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি, প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের কোনো নথি নেই, এমনকি কাজের কার্যাদেশও পাওয়া যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘জরুরি’ অজুহাত দেখিয়ে ধারাবাহিকভাবে একাধিক ভবনে কয়েক কোটি টাকার কাজ করানো কোনোভাবেই বৈধ নয়। সরকারি বিধিতে জরুরি ক্রয়ের সীমা, অনুমোদন ও পরবর্তী নিয়মিতকরণের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, যা এখানে অনুসরণ করা হয়নি। সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতিতেও নির্দিষ্ট সীমার বেশি অর্থের কাজ টেন্ডারের মাধ্যমে করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু মেহেরপুরে সেই আইন কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঠিকাদার ও গণপূর্ত বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী নিজ ক্ষমতাবলে নির্দিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদারকে কাজ ভাগ করে দিচ্ছেন। কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে কারিগরি যোগ্যতা, দরপ্রস্তাব বা প্রতিযোগিতার কোনো মূল্য নেই; মূল্যবান হয়ে উঠেছে ‘ব্যক্তিগত সখ্য’।

এক ঠিকাদার বলেন, জেলায় অন্তত ৬০-৭০ জন বৈধ ঠিকাদার আছে। কিন্তু আমরা কেউ জানি না কোথায় কাজ হচ্ছে, কবে টেন্ডার হবে। সবকিছু হয় গোপনে। কয়েকজন ঠিকাদারকে দিয়েই কোটি কোটি টাকার কাজ করানো হচ্ছে।

শুধু ঠিকাদার নয়, গণপূর্ত বিভাগের ভেতরেও এই অনিয়ম নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, আমাদের প্রকৌশলীরা জানেনই না কোন কাজের কত বাজেট, কীভাবে বরাদ্দ হচ্ছে। পরে যদি অডিট বা তদন্ত আসে, দায় পুরো বিভাগকে নিতে হবে। আরেক কর্মকর্তা বলেন, এভাবে নিয়ম ভেঙে কাজ করানো মানে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্নীতি ও মামলার পথ তৈরি করা।

উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল গাফফার বলেন, আমি ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা। ছাপোষা চাকরি করি। এক্স ইএন ও এসডিই স্যার আমাকে কাজ দেখাশোনার জন্য যেভাবে নির্দেশ দেন, আমি সেই নির্দেশই পালন করি মাত্র। কোনো কিছু জিজ্ঞাসা থাকলে আপনি এক্স ইএন ও এসডিই স্যারকে জিজ্ঞেস করতে পারেন। কাজের টেন্ডার হয়েছে অথবা হয়নি এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না।

তিনি জানান, তিনি এসপি বাসা, জজ আদালত ও সদর থানার শেড নির্মাণসহ মেরামতের কাজ দেখভাল করছেন।

উপসহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন বলেন, আমি মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল ও পিডব্লিউডি ভবনের সাইট দেখভাল করি। কিছুদিন আগে হাসপাতালে মেরামত কাজ শেষ হয়েছে। কাজের টেন্ডার হয়েছে কিনা, তা আমার জানা নেই। এক্স-ইএন এবং এসডি স্যারদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজের তদারকি করে থাকি। এছাড়া আর কিছু বলতে পারব না বলে তিনি মোবাইল কেটে দেন।

উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন বলেন, অফিসের বস এক্স-ইএন স্যার। তিনি যেভাবে বলেন, সেভাবেই করতেই হয়।

অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রফিকুল হাসান দরপত্র ছাড়া বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা সংস্কারকাজ চলমান থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, “৫ আগস্টের পর জেলায় তিনজন পুলিশ সুপার ও দুইজন জেলা প্রশাসক বদলি হয়েছেন। নতুন কর্মকর্তারা এলে তাদের অফিস ও বাসভবন ব্যবহারযোগ্য করতে হয়।

তাছাড়া পুলিশ সুপারের বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডে দুটি এসিসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। জরুরি অবস্থায় দরপত্রের সময় পাওয়া যায়নি।”

সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিচার বিভাগের ভবনগুলোতেই এই অনিয়ম হয়েছে।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের নীরব সম্মতি ছাড়া এসব কাজ কীভাবে চলতে পারে? যখন প্রশাসনের ভবনই অনিয়মের মাধ্যমে সংস্কার হয়, তখন সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার বা দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে আস্থা রাখবে কীভাবে?




দর্শনায় পাখি শিকারীর হাতে দুই নারী নিযার্তনের স্বীকার, থানায় অভিযোগ

দর্শনায় পাখি শিকারীর হাতে দুই নারী নিযার্তনের স্বীকারের ঘটনায় দর্শনা থানায় একটি অভিযোগ হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা ৩টার দিকে দর্শনা রিফিউজি কলনীর দুই নারী আব্দুস শুকুরের স্ত্রী জাহিদা খাতুন (৪০) ও সমশের আলীর স্ত্রী নুরজাহান খাতুন (৫৫) পরাণপুর ও রামনগর মাঠে ছাগল চরাতে যায়। এদিকে আগে থেকে পাখী শিকারী রিফিউজি কলনীর রোজির খাতুনের ছেলে রাজু হোসেন ও সাজু হোসেন ঐ মাঠে আগে থেকে পাখী ধরা ফাঁদ পেতে রাখে।

এসময় জাহিদা খাতুন (৪০) ও নুরজাহান খাতুন (৫৫) রামনগর মাঠে ছাগল চরাতে গিয়ে পাখী ধরা এলাকায় ছাগল নিয়ে গেলে তাদের ছাগল সরাতে বলে। এদিকে জাহিদা খাতুন ও নুরজাহান খাতুন ছাগল সরাতে দেরী করে। এসময় রাজু হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে ঐ দুই নারীকে বাঁশের কাবারী দিয়ে বেদম প্রহার করে এবং জাহিদা খাতুনের গলাই হাঁসুয়া দিয়ে  জবাই করতে যায়। এতে জাহিদার গলাই ও কোমরের নীচে ফোলা রক্তজমাট ও ক্ষত হয়। নুরজাহান ছুটে এসে তাকে বাঁচাতে আসলে ধাক্কা দিয়ে ফেলে আহত করে। এতেই রাজু শান্ত না হলে আশেপাশের মাঠের লোকজন এসে জাহিদাকে রক্ষা করে।

এলাকাবাসী জানান, রাজু দীর্ঘদিন সুন্ডো, বেতোগাড়ীর মাঠ, রামনগর মাঠ, মাথাভাঙ্গা গোপাল খালীর মাঠে অতিথি পাখি, ডাউক পাখী, টিয়া পাখী, হাঁসপাখী, পানকৌড়ি, ঘুঘু পাখীসহ নানা ধরনের পাখি শিকার করে বিক্রী করে আসছে। তার একমাত্র কাজই পাখি ধরে বিক্রি করা বলে জানা গেছে।

আইনগত পাখি ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও সে আইনের তোয়াক্কা না করে নির্বিঘ্নে প্রতিনিয়ত পাখী ধরে চলেছে। এদিকে জাহিদা খাতুনের উপর নিযার্তন করার ঘটনায় জাহিদা খাতুন বাদী হয়ে দর্শনা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। এ বিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার্স ইনচার্জ মেহেদী হাসানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজু হোসেনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




দামুড়হুদায় এসএসসি ৯২ ব্যাচের উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ 

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শীতপ্রবণ জেলা চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় এসএসসি ১৯৯২ ব্যাচের উদ্যোগে শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়েছে। কনকনে শীতের মধ্যে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে গতকাল সোমবার বিকাল ৩টায় উপজেলার দশমী ঈদগাহ মাঠে এই শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উবায়দুর রহমান সাহেল। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দামুড়হুদা উপজেলা শীতপ্রবণ এলাকা হওয়ায় এখানকার দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষ শীতকালে সবচেয়ে বেশি কষ্টের সম্মুখীন হন। এমন বাস্তবতায় এসএসসি ’৯২ ব্যাচের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বন্ধুদের মধ্যে যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা আজও অটুট রয়েছে, তা আমাদের সমাজের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। শুধু নিজেদের মধ্যে মিলনমেলায় সীমাবদ্ধ না থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবিকতা।

তিনি আরও বলেন, এই ধরনের সামাজিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে এবং নতুন প্রজন্মকে মানবিক কাজে উৎসাহিত করে। ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশাবাদী। এসএসসি ’৯২ ব্যাচ দামুড়হুদা উপজেলার সভাপতি নাসির উদ্দিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে

উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামসুজ্জোহা পলাশ, দামুড়হুদা মডেল থানার পক্ষে এসআই উত্তম, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আল হেলাল রাজা, মাহফুজুর রহমান বেল্টু, আব্দুল হালিম ভুট্টু, সাইফুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন লিটন, তাহাজ উদ্দিন তাজু, আব্দুল মমিন, আলাউল হক, আসাদুর রহমান বাদশা, আব্দুর রশিদ, আব্দুল গাফফার শক্তি, আসলাম উদ্দীন, ইকবাল হোসেন, একরামুল হক লিটন, আব্দুল খালেক, একরামুল হকসহ ব্যাচের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

অনুষ্ঠান শেষে শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হলে উপকারভোগীরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।