সাভারে ৫ মাসে ছয় খুনে জড়িত সিরিয়াল কিলার সম্রাট গ্রেপ্তার, আসল পরিচয় প্রকাশ
ঢাকার সাভারে পরিত্যক্ত পৌরসভা কমিউনিটি সেন্টারে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে।
ভবঘুরের ছদ্মবেশে ছয়টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মশিউর রহমান খান সম্রাট (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। মশিউর এসব হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় সাভার মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া জোড়া মরদেহের ঘটনায় তদন্তে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন একজনকে শনাক্ত করা হয়। ফুটেজে ওই ব্যক্তির চলাফেরা, অবস্থান ও সময়ের মিল পাওয়ায় তাকে নজরদারিতে আনা হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযান চালিয়ে মশিউর রহমান খান সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার সম্রাট কমিউনিটি সেন্টারে পাওয়া সর্বশেষ জোড়া মরদেহসহ ছয়টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি পুলিশের।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম জানান, গত পাঁচ মাসে সাভার এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনার ধরন ও আলামত বিশ্লেষণ করে একই ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। অবশেষে সিসিটিভি ফুটেজই হত্যাকারীকে শনাক্ত করতে বড় ভূমিকা রাখে। গ্রেপ্তার মশিউর রহমান খান সম্রাট সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকার মৃত সালামের ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার দুই হাত গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। পরে একই বছরের ১১ অক্টোবর ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার বাথরুমের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যার মাথা ও গলায় কাটা জখমের চিহ্ন ছিল।
এরপর ১৯ ডিসেম্বর একই ভবনের বাথরুম থেকে আগুনে পোড়া ও গলিত অবস্থায় আরেকটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ গত ১৮ জানুয়ারি একই ভবনের দ্বিতীয় তলার বাথরুমের ভেতর থেকে এক পুরুষ ও এক কিশোরীর আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের পাশে একটি চায়ের দোকানের কাছ থেকে অজ্ঞাত এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ধারণা করছে, এ ঘটনাটিও একই সিরিজ হত্যাকাণ্ডের অংশ।
পুলিশ জানায়, ধারাবাহিক এসব ঘটনার পর সাভার মডেল থানা ও ডিবি যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। জোড়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার পরপরই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য, অন্য কেউ জড়িত আছে কি না এবং আরও কোনো অপরাধের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা জানা যাবে। তিনি আরও জানান, অভিযুক্তের দেওয়া ঠিকানায় অভিযান চালিয়েও তার স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মাফলার ও আগুন লাগানোর কাজে ব্যবহৃত একটি দেশলাই আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ আশা করছে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সাভারের এই ভয়াবহ সিরিয়াল কিলিংয়ের পেছনের পূর্ণ রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
সূত্র: কালবেলা