কর্মসূচি দিয়ে বিএনপি নেতারা কেন আত্মগোপনে?

বিএনপির দুটি ডেডলাইন। এক ১০ ডিসেম্বর, দুই ২৮ অক্টোবর। এই দুই তারিখে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হবে বলে ঘোষণা দেয় বিএনপি। ১০ ডিসেম্বর কিছুই হয়নি। একই ভাবে ২৮ অক্টোবরের পরও এখনও ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে যে সহিংসতা হয়েছে, তার দায় এড়াতে পারেনা দলটি। রাজনীতির নামে এই আগুন সন্ত্রাসের কারণে টানা

‘শান্তিপূর্ণ’আন্দোলন করা এই দলটির নেতারা এখন ছন্নছাড়া। গ্রেপ্তার হয়েছেন অনেক কেন্দ্রীয় নেতা। আত্মগোপনে প্রায় নেতা। স্যোশাল মিডিয়াতে অবরোধ কর্মসূচি দিয়ে দায় ছাড়ছে বিএনপি। এতে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে মাঠ পযায়ের নেতাকর্মীরা।

২৮ অক্টোবরের সহিংসতার পরই গ্রেপ্তার হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জম হোসেনসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য নেতাদের আর মাঠে দেখা যায়নি। দলীয় কার্যালয়ও তালা মেরে রাখা হয়েছে। শুধু গোপন স্থান থেকে স্যোশাল মিডিয়ায় লাইভে এসে সরকারের সমালোচনা করে কর্মসূচি ঘোষণা করছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খানসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। তারা কোথায় আছেন কেউ জানেন না। অথচ তারা জনসভায় গরম গরম কথা বলে কর্মীদের উজ্জিবিত করেছেন। সরকারের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাবেন না বলেও নেতাকর্মীদের সামনে প্রতিজ্ঞাও করেছিলেন।

নিজ দলের নেতাদের উপর ভরসা রাখতে পারছেন না মাঠ পর্যায়ের বিএনপির কর্মীরা। কারণ ঈদের পর আন্দোলন, ৩১ দফা-১০ দফা-১ দফা আন্দোলন, ১০ ডিসেম্বরের পরে খালেদা জিয়ার কথায় দেশ চলবে এরকম অবান্তর কথাবার্তা আর বারবার আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়ায় অনেক আগেই বিএনপির হাই কমান্ড থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল তারা। সর্বশেষ ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশ করে চূড়ান্ত আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার হঠানো হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপির হাই কমান্ড। এতে নতুন করে তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু ২৮ অক্টোবর পার হয়ে গেলেও সরকার পতনের কোন নামগন্ধ নেই। বরং ২৮ তারিখই হঠাৎ করে সমাবেশ স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে সমাবেশস্থল থেকে একপ্রকার পালিয়ে যেয়ে তৃণমূলের নেতা কর্মীদের হতাশ করেছিল বিএনপির হাই কমান্ড।

কেন্দ্রীয় নেতাদের মতবিরোধ, হরতাল-অবরোধে কর্মীদের মাঠে নামিয়ে দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের রাজপথে অনুপস্থিতি, সব মিলিয়ে এবার পুরোপুরি হতাশায় বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এর প্রমাণও ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে। দল হরতাল ও অবরোধের মত কঠোর কর্মসূচি দিলেও দেশের বেশিরভাগ এলাকাতেই নেতাকর্মীদের হরতালের পিকেটিং বা অবরোধ সফল করে তুলতে মাঠে দেখা যায়নি।

সাধারণত রাজনৈতিক আন্দোলনে নেতারা সব সময় থাকেন সামনের সারিতে। কারণ তিনি তাঁর দলের কর্মীদের পথপ্রদর্শ। ইতিহাসও তাই বলে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সামনের কাতারে ছিলেন মহাত্মা গান্ধী। বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের আন্দোলনে রাজপথে সব সময় সক্রিয় ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে জনতার কাতারে ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে রাজপথে আন্দোলনও করেছেন তিনি।

২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপিবিরোধী ধারাবাহিক সংগ্রামে শেখ হাসিনার সাথে রাজপথে মিছিলের সামনে থেকেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। পুলিশের নির্যাতন সহ্য করেও মাঠ ছেড়ে যাননি তারা। শুধু ব্যতিক্রম বিএনপির ক্ষেত্রে। দলটির নেতারা বড় বড় কথা বলে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অথচ আন্দোলনের সময় মাঠে নেই কোনো নেতা। কেউ কেউ গ্রেপ্তার হলেও বেশিরভাগ নেতা আত্মগোপনে চলে গেছেন। কর্মীদের কথা তারা ভাবছেন না তারা। বিএনপির মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে এখন হতাশা বিরাজ করছে। অনেকে বলছেন, বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতাদের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে- কর্মীদের গাছে তুলে মই কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক আদর্শ না থাকলে কোনো নেতাই কর্মীদের কাতারে থাকেন না। যাদের দেশ ও কর্মীদের জন্য দরদ নেই তারাই এমন কর্মকাণ্ড করতে পারেন। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, কর্মীদের তারা ক্ষমতায় যাওয়ার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। তথ্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) এমনটিই ইঙ্গিত করেছেন।

মঙ্গলবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, গত ২৮ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব আমান উল্লাহ আমান তার অনুসারীদের নিয়ে নয়াপল্টনের মঞ্চের পাশে অবস্থান নেয়। মঞ্চে অবস্থিত বিএনপির এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনা ছিল পুলিশের ওপর বর্বরোচিত ও নৃশংস হামলার মাধ্যমে পুলিশের মনোবল ভেঙ্গে দেওয়া। প্রয়োজনে এক বা একাধিক পুলিশ সদস্যকে হত্যার মাধ্যমে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা, যাতে করে একটি নতুন ইস্যুর সৃষ্টি হয়।

সিটিটিসির তথ্য বলছে, অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে কর্মীদের দিয়ে নাশকতা চালিয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের কথা তারা চিন্তা করেনি। অথচ তাদের নেতা হওয়া উচিত, যারা কর্মীদের ভালো-মন্দ বোঝেন। কর্মীদের বিপদে সবার আগে সামনে দাঁড়ান। বিএনপি নেতাদের অবস্থার ঠিক তার উল্টো। নিজেদের মঙ্গলের জন্য সবার আগেই তারাই আত্মগোপনে গেছেন। কর্মীদের কথা কেউ ভাবছেন না। এখন কর্মীরাও সেটি বুঝতে পারছেন। ধারাবাহিক অবরোধ কর্মসূচি দিলেও সারাদেশে মাঠ পর্যায়ে দেখা মিলছে না কর্মীদের। এসব ঘটনা থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের বোঝা উচিত, তৃণমূলের কর্মীরা কী চাইছেন। শুধু গোপন স্থানে থেকে কিংবা লন্ডন থেকে ভিডিও বার্তা দিয়ে এখন তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করতে পারবেনা দলটি।

বিএনপি দুই বার ডেডলাইন দিয়েও বর্তমান সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করাতে পারেনি। এতদিন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার যে দাবি বিএনপি করে আসছিল ২ নভেম্বর পার হয়ে যাওয়ায় সেই সুযোগ আর নেই। বর্তমানে সরকার চাইলেও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আর চালু করতে পারবেনা। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে হলে সংসদে দুই তৃতীয়াংশের বেশি সদস্যের সমর্থনে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। কিন্তু ২ নভেম্বর বর্তমান জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশন সমাপ্ত হয়ে গেছে। তাই এখন সরকার রাজী হলেও বিএনপির দাবি অনুসারে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আইনগতভাবে করার সুযোগ নেই।

আত্মগোপনে থাকা বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে এখন দুটি পথ খোলা- হয় নির্বাচনে অংশ নিতে হবে অথবা নির্বাচন বর্জন করতে হবে। বিএনপি যেহেতু নির্বাচন মুখী দল তাই তৃণমূল নেতা-কর্মীদের আগ্রহ নির্বাচন নিয়ে। এমনিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বর্জন করায় অনেকে নেতাকর্মী হতাশ হয়েছেন। কেউ কেউ দলের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করেছেন, অনেকে জিতেছেনও। আগামী জাতীয় নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশগ্রহণ না করে, তাহলে দলের কর্মীদের ধরা রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করেন জেলা পর্যায়ের নেতারা। এখন বিএনপি কী মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কথা বিবেচনা করবে নাকি ২০১৮ সালের মতো নির্বাচন বর্জন করবে সেটিই দেখার বিষয়।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী।




দামুড়হুদার চিৎলায় আওয়ামীলীগের শান্তি-উন্নয়ন সমাবেশ অনুষ্ঠিত

দামুড়হুদার চিৎলার মোড়ে শান্তি-উন্নয়ন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকাল ৪টার সময় বিএনপি জামায়াতের নৈরাজ্য ও অবৈধ হরতাল-অবরোধের প্রতিবাদে দামুড়হুদার চিৎলার মোড়ে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের আয়োজনে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ত্র্যাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপকমিটির সদস্য মো হাশেম রেজা।

দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ৫নং ওয়ার্ড সভাপতি আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন জুড়ানপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহসভাপতি মো আইন উদ্দিন মন্ডল, নাটুদহ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ইন্নাল শেখ, নতিপোতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী, জীবননগর উথলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ৯নং ওয়ার্ড সভাপতি সরফরাজ আলী, মদনা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম, জুড়ানপুর ইউনিয়ন কৃষকলীগের ১নং ওয়ার্ড সভাপতি শরিফ উদ্দীন, কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতা আবু কাইজার মাস্টার, মদনা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতা আবেদ বিশ্বাস, নতিপোতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতা পিজির আলী, নাটুদহ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতা জসিম উদ্দিন খান, আওয়ামী লীগ নেতা জান মোহাম্মদ, আবদুল হামিদ, জীবননগর পৌর যুবলীগের সাবেক সহ সভাপতি জসিম উদ্দিন মিন্টু, চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি নাসির উদ্দীন।

এসময় অতিথি ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা যুবলীগ নেতা হাবিবুর রহমান হাবি, মশিউর রহমান তুশার, রিংকু, শাকিল আহমেদ, বকুল ও আ:কুদ্দুস প্রমুখ।




স্থিতিশীল রাজনীতিতে বিদেশি শক্তির প্রভাব

আমরা যাঁরা বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে তত্ত্বের আশ্রয় নিয়ে থাকি তাঁরা বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও তত্ত্বের বাইরে গিয়ে এড়াতে পারি না। বিশেষত বিভিন্ন সময়ে সাহিত্য সমালোচনার খাতিরে ‘উপনিবেশবাদ’, ‘উত্তর-উপনিবেশবাদ’, ‘নয়া উপনিবেশবাদ’ ইত্যাদি তত্ত্বের প্রয়োগ চোখে পড়ে। অথচ বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদেশি শক্তির যে প্রভাব, সেটি নিয়ে কারো ‘নয়া ঔপনিবেশিক’ কোনো বিশ্লেষণ চোখে পড়ছে না। বিষয়টি ভাবায় একারণে, নিকট অতীতেও যাঁরা বাংলাদেশে ‘সাম্রাজ্যবাদ’, ‘হেজিমনি’ ইত্যাদি নিয়ে সরব ছিলেন তাঁরাও বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদেশি শক্তির প্রভাব নিয়ে সেরকম দৃষ্টিভঙ্গিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্যত্র বক্তব্য দিচ্ছেন না।

শুরুতে বলা প্রয়োজন, বর্তমান রাজনীতিতে বিদেশি শক্তির প্রভাব সৃষ্টি-প্রয়াসের ধরন নিয়ে। পশ্চিমা দেশগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে বসার আহ্বান জানান। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন প্রক্রিয়ার আহবান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, গত ৩১শে অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুক বৈঠক করেন আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলের সাথে। সেখান ব্রিটিশ হাইকমিশনার অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টির উপর জোর দিয়েছেন। এভাবেই সম্প্রতি বিদেশি শক্তি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্নভাবে হস্তক্ষেপ করে চলেছে। তাদের কথাবার্তা এবং ভূমিকা নিরপেক্ষ মনে হচ্ছে না। তাদের অভিপ্রায়ে একটি দলের ‘মুখপাত্রের’ ভূমিকা পরিলক্ষিত হচ্ছে। যেকারণে বিদেশি শক্তির এমন ভূমিকাকে যথেষ্ট সন্দেহের চোখেই দেখবার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিদেশি শক্তির এমন প্রভাবকে কর্তৃত্ববাদী আচরণ হিসেবেই তাত্ত্বিকভাবে উপস্থাপন করা যায়। যাকে বলা যায় ‘নয়া উপনিবেশ’। সেই সূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান আচরণে নয়া উপনিবেশের অন্যতম একটি উদ্দেশ্য, ‘রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে কি তাদের উদ্দেশ্য জোর করে অন্য কাউকে ক্ষমতায় বসানো, যাতে পরবর্তীকালে এদের সহায়তায় বাংলাদেশে তাদের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়, যেটি আওয়ামী লীগ সরকার করতে দিতে রাজি নয়?

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা পুরোপুরি কলোনিয়াল বা নয়া ঔপনিবেশিক লক্ষণাক্রান্ত। বিএনপির সভা-সমাবেশ বা কর্মসূচির ধরন দেখে এটি পরিস্কার, দলটি চায় যেকোনো মূল্যে ক্ষমতা। নির্বাচন তাদের কাছে কোন বিষয় নয়। নির্বাচন যদি সুষ্ঠুও হয় আর তাতে যদি আওয়ামী লীগ জয় লাভ করে তাতেও তারা নির্বাচনকে সুষ্ঠু বলবে না। বরং বিদেশি শক্তির প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় যাওয়াই তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। একারণে, নিজেদের দল গোছানো, সংলাপে সাড়াদান এসবে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। নির্বাচনের সময় এলেই দলটির ক্ষমতার কথা মনে পড়ে, সংবিধান মেনে নির্বাচন হওয়াটা তাদের কাছে বড় বিষয় নয়।

দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এটা স্পষ্ট, বিএনপি চায় ‘ক্ষমতা’, আর তারা মনে করছে বিদেশি শক্তি তাদের মুখে তুলে খাইয়ে দিবে তা। কিন্তু বিদেশি শক্তির ভূমিকাকে এত সরল করে দেখার সুযোগ নেই। সেকারণেই তারা অনধিকার চর্চায় নানা বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। ঘোলা জলে মাছ শিকারের অপেক্ষায় আছে। বাংলাদেশ যতই বলুক, ‘বাংলাদেশ কোন রাষ্ট্রের সাথেই বৈরিতা চায় না, সবার সাথেই বন্ধুত্ব চায়।’ তাতে বিদেশি শক্তির কিছু এসে যায় না। নয়া উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা যাদের লক্ষ্য তারা বিএনপিকে ব্যবহার করে দেশে ‘ডলার সাম্রাজ্যবাদ’ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। ক্ষমতার মোহে অন্ধ যারা তারা এখন এটি বুঝবে না। ব্যবহৃত হওয়ার পর বুঝেও লাভ নেই। কারণ, জনগনের শক্তিকে না জাগিয়ে বিদেশ ভক্তি যারা করে তাদের কপালে বাংলাদেশের ক্ষমতা কখনো জুটবে বলে মনে হয় না। আমার কাছে মনে হয়, এরা দেশই বুঝে না এবং সময়ের ভাষা বুঝতে পারার মধ্যে নেই! যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্য এটি বড় ব্যর্থতা!

‘শর্তহীনভাবে সংবিধানের মধ্যে থেকে আলোচনায় রাজি থাকলে সংলাপে যেতে আপত্তি নেই আওয়ামী লীগের।’—আওয়ামী লীগকে এই যৌক্তিক দাবির বাইরে নেয়ার মত সামর্থ্য বিএনপির আপাতত নেই। থাকলে নিজ দেশের জনগণের ওপর নির্ভর করত তারা। বিদেশি ভুয়া উপদেষ্টার জন্ম দিয়ে, বিদেশি শক্তির ওপর ভর করে নয়া উপনিবেশের নব্য রাজাকারের ভূমিকায় দলটি যেতে চাইত না। বর্তমানে বিদেশি শক্তির চাওয়া আর বিএনপির চাওয়ার মধ্যে পার্থক্য করা যাচ্ছে না।

কাজেই আওয়ামী লীগ যেভাবে বিদেশি শক্তির প্রভাব উপেক্ষা করেই নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যেতে চাইছে সেটি আসলে নয়া উপনিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। নিজ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষারও লড়াই। অন্যদিকে নব্য রাজাকারের দল ও দোসর এদেশের সংবিধান মানবে সে প্রত্যাশা কেউই করে না। বর্তমানে যে দলগুলো বিদেশি শক্তিকে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক নয় সেই দলগুলোই নির্বাচনে আসবে। বিদেশি শক্তি কি একে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলবে? নিজ স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলে কখনোই বলবে না। ফলে বিদেশি শক্তির প্রভাব এড়াতে সংবিধান মেনেই নির্বাচন হওয়া উচিত। আশাকরি, আওয়ামী লীগ বিদেশি শক্তির কাছে নতি স্বীকার করবে না।

রাশিয়া, চীন কিংবা ভারত, তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র নয়া উপনিবেশের মানসিকতা থেকেই এটি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস তাই উপনিবেশের শৃঙ্খল হাতে ছুটে চলেছেন!
বাংলাদেশের স্থিতিশীল রাজনীতিতে বিদেশি শক্তি তাদের নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য যে প্রভাব সৃষ্টি করতে চাইছে তা রুখে দিতে এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী মুক্তিকামী প্রতিটি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

লেখক: কথাসাহিত্যিক ও সহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।




আলমডাঙ্গার কালিদাসপুরে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ

আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুরে বিএনপি-জামায়াত চক্রের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র, আগুন সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও অপতৎপরতার প্রতিবাদে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে কালিদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়ন যুবলীগের উদ্যোগে শান্তি সমাবেশ ও উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দিলীপকুমার আগরওয়ালা বলেন, বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সকলকে সৈচ্চার হতে হবে। তারা সন্ত্রাসী সংগঠন। বিএনপি পুলিশ, সাংবাদিক ও আনসার মারা রাজনীতি করছে। দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, দেশকে পিছিয়ে ফেলার লক্ষ্যে তারা আগুন সন্ত্রাসী করছে। বঙ্গবন্ধুর দেখানো আদর্শের পথেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। আপনারা নির্বাচনে আসেন, ইতিপূর্বে মত মনোনয়ন বাণিজ্য আর হচ্ছে না। দেশে দ্রব্যমূল্য যেমন বেড়েছে তেমনি মানুষের মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে। এদেশে না খেয়ে মরার মত কোন মানুষ নেই, হয়ত কিছু মানুষ কষ্টে থাকতে পারে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে তৃণমূল নেতারা জান-মালের ক্ষতি করে চলেছে।

তিনি আরো বলেন, দচুয়াডাঙ্গা জেলার মাটি আওয়ামীলীগের ঘাটি হিসেবে আবারো প্রমাণ করতে হবে। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। আপনারা সরকারের উন্নয়নের চিত্র সাধারণ মানুষের নিকট তুলে ধরবেন। বিএনপি ক্ষমতায় থেকে এতিমের টাকা মেরে খেয়েছে। তাদের ভোট দিয়ে দেশের মানুষ কুয়ো কেটে কুমির নিয়ে আসবে। এমনটা কোনদিনও বিএনপির স্বপ্ন পূরণ হবে না। গত ১৫ বছরে দেশের আমূল পরিবর্তন করেছে আওয়ামীলীগ সরকার। মেট্রোরেল দেশের মানুষ কখনো স্বপ্নেও দেখেননি। এখন উত্তর থেকে মতিঝিলে ৪৫ মিনিটেই পৌঁছে যাওয়া যায়। পদ্মাসেতু হয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকায় যেতে ৩ ঘন্টার উর্ধে লেগেছে। যা ইতোপূর্বে ৬/৭ ঘন্টা লেগে যেতো। আমরা শান্তিতে বিশ্বাসী, অশান্তি কখনো মেনে নিবো না। বিএনপি গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চায়। তারা বিদেশী প্রভুদের উপর নির্ভরশীল। আমরা নির্বাচন করবো, জামায়াত-বিএনপি নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না। আমার লক্ষ্য এই এলাকার মানুষকে স্ব-নির্ভর হয়ে দেখতে চাই। আমি সবাইকে নিয়ে স্মার্ট চুয়াডাঙ্গা গড়তে চাই। ঘুষ-দুর্নীতি ও মাদক মুক্ত আলমডাঙ্গা-চুয়াডাঙ্গা গড়তে চায়। আমি ৫ বছরে চুয়াডাঙ্গার আমূল পরিবর্তন করতে চাই।

শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে আলমডাঙ্গা উপজেলা সাবেক কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা শফিউর রহমান জোয়াদ্দার সুলতানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কাওসার আহমেদ বাবলু, আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্নসাধারণ সম্পাদক কাজী রবিউল হক, আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জেলা যুবলীগের যুগ্নআহবায়ক জিল্লুর রহমান, জেলা কৃষকলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক মোমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক জোয়াদ্দার, পদ্মবিলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু তাহের বিশ্বাস, কালিদাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা মইনুদ্দিন পারভেজ, কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন টাইগার, খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম মন্ডল, ডাউকি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম দিপু মাস্টার, খাসকররা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন মাস্টার, গাংনী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক রকিবুল হাসান, চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগের সদস্য তপন কুমার বিশ্বাস, হাসিবুল ইসলাম, কমল কুমার বিশ্বাস, জনি মেম্বার।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন সাইফুল ইসলাম ও রেজাউল ইসলাম বাবু।




চুয়াডাঙ্গায় ত্রি জেলা গরুর মেলাকে ঘিরে জমকালো আয়োজন

চুয়াডাঙ্গা জেলায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশের সবথেকে বড় গরুর মেলা। বিডিএফএ এর আয়োজন ত্রি জেলার গরুর মেলায় অংশগ্রহণ করছে মেহেরপুর চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার বড় ছোট মিলে খামারের মালিকগণ।

আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটার সময় চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে এই মেলার শুভ উদ্বোধন করা হয়।

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নাহিদ রশীদ।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি বলেন, এ ধরনের মেলার আয়োজনের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া খামারীরা কিছু শিখবে যা পরবর্তীতে তাদের খামার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে। মেলার মাধ্যমে সবাই গরুর বিভিন্ন জাত সর্ম্পকে জানতে পারবে। বাংলাদেশের মাংসের যে চাহিদা তা মেটানোর উদ্দেশ্যেই মেলার আয়োজন। এখান থেকে উদ্যোক্তা তৈরি হবে। বর্তমানে দেশে গোখাদ্যের দাম কমানোর জন্য সরকার কাজ করছে। প্রাণিসম্পদ খাতটা আরও কীভাবে বাড়ানো যায় সে লক্ষ্যে এই মেলা সহায়ক হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষুদ্র খামারিদের সুখ-দুঃখ সেভাবে উঠে আসে না। এ মেলার মাধ্যমে খামারিরা নীতি-নির্ধারকদের কাছে তাদের সমস্যা তুলে ধরবেন। এ ছাড়া সারা দেশের খামারিদের সঙ্গে শক্ত মেলবন্ধন তৈরির জন্যই এমন আয়োজন করা হয়েছে। তৃণমূলের খামারিদের উৎসাহ দেওয়া, অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রশিক্ষণ এবং তাদের দুঃখ-দুর্দশা তুলে ধরতেই গরু মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রামের পর বিডিএফের চতুর্থতম আয়োজনে গরুপালনের রাজধানী হিসেবে খ্যাত চুয়াডাঙ্গার প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের উৎসাহ দেয়া, অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রশিক্ষণ এবং তাদের দুঃখ-দুর্দশা তুলে ধরতেই এই গরু মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

এ সময় তিনি আরও ,বলেন বিভাগীয় শহর বাদে এই প্রথম কোন জেলা শহরে এই মেলাটি অনুষ্ঠিত। বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মাস এসোসিয়েশনের আয়োজনে এই ত্রি জেলা গরু মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সারাদেশের ৩ হাজারের বেশি খামারি এতে অংশ নেন। মেলার গরুর র‌্যাম্পে হেঁটে বেড়িয়েছে গরু। এছাড়াও মেলায় তোলা হয় ২৫২ টি বিভিন্ন জাতের গরু।

চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া জেলার রেজিস্ট্রেশন ভুক্ত খামারিদের গরু প্রদর্শন, বিক্রি ও স্বাস্থ্য সম্মত উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। মেলাটি শুক্রবার ও শনিবার দিনব্যাপী চলবে।
মেলায় স্থানীয় উদ্যোক্তাদেরকে দু’দিনব্যাপী উন্নত জাতের গরু তৈরির জন্য ভালো জাত নির্বাচন কম দামে গরুর সুষম খাদ্য তৈরি এবং মোটাতাজা করনের পদ্ধতির বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের দ্বারা দুটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) ডাঃ মোহাম্মদ রেয়াজুল হক,চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা,চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন, চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দার সহ আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বৃন্দ।




মেহেরপুরে তিন প্রতিষ্ঠানে পন্য সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা পরিবেশক সমিতির

মেহেরপুর শহরের তিনটা প্রতিষ্ঠানে পন্য সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা করেছে জেলা পরিবেশক সমিতি।

শুক্রবার বিকালে পরিবেশক সমিতির কার্যালয়ে এক জরুরি সভা শেষে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।  শহরের হোটেল বাজারের কালাম ব্রাদার্স মুদি, নিউ বম্বে কনফেকশনারি ও আদি বম্বে এই তিনটি প্রতিষ্ঠানে সকল ধরনের মালামাল সরবরাহ বন্ধ করা সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবেশক সমিতি।

জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এসিআইয়ের কনজ্যুমার ব্যান্ডের মেহেরপুর বিক্রয় প্রতিনিধি মোঃ তারেক আজিজ কে কালাম ব্রাদার্স মুদি প্রতিষ্ঠানের মালিক কালু বিহারী কর্তৃক বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি প্রদান করে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। পরে এসিআই এর বিক্রয়় প্রতিনিধি তারেক আজিজ মেহেরপুুর জেলা পরিবেশক সমিতির কাছেে অভিযোগ দাখিল করে। এরই প্রেক্ষিতে জেলা পরিবেশক সমিতির জরুরী সভায় তিনটা প্রতিষ্ঠানের পণ্য সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দেন।

এসিআই এর মেহেরপুর বিক্রয় প্রতিনিধি তারেক আজিজ জানান, আমি সততার সাথে এসিআই কোম্পানির পন্য মেহেরপুর শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অর্ডার কালেকশন করি। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আমি কালামব্রাদার্সের মুদি দোকানে যাই সরবরাহকৃত পন্যের টাকা নিতে। দোকান মালিক কালু বিহারী আমাকে বলেন আমার দোকানে কোন বাকি নাই। টাকা পরিশোধ করে দিয়েছি। এই কথা বলায় আমি তাহাকে বলি আপনি টাকা দেননি। টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দোকান মালিক আমার গায়ে হাত তোলে। পরে আমি মেহেরপুর জেলা পরিবেশক সমিতিতে একটি অভিযোগ দাখিল করি।

শহরের কালাম ব্রাদার্স এর মালিক কালু বিহারী ঘটনার স্বীকার করে বলেন, কিছু বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। সে আমাকে মেরেছে আমিও মেরেছি।

জেলা পরিবেশক সমিতির সভাপতি মোঃ হাসেম আলী জানান, ঘটনাটি শোনার পর পরে আমি আমার পরিবেশক সমিতির সকল সদস্যকে জরুরি মিটিং আসতে বলি। সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কালাম ব্রাদার্স সহ তিনটি প্রতিষ্ঠানে সকল ধরনের পণ্য সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছি।

পরিবেশক সমিতির জরুরি সভায় সভাপতি হাসেম আলী সভাপতিত্ব উপস্থিত ছিলেন সমিতির উপদেষ্টা আজিজুর রহমান, গোলাম মোস্তফা, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, নির্বাহী সদস্য সাদরুল ইসলাম নাহিদ, নুরুজ্জামান, মেহেদী হাসান পলাশ, ওমর ফারুক, সোমেল রানাসহ সমিতির অনান্য সদস্যগন।




চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সাপ্তাহিক সাহিত্য আসর পদধ্বনি অনুষ্ঠিত

চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সাপ্তাহিক নিয়মিত সাহিত্য আসরের ১৫১২ তম পদধ্বনি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার সাড়ে ছয়টার সময় শহীদ আলাউল হলে চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সাপ্তাহিক পদধ্বনি অনুষ্ঠিত হয় ।

১৫১২ তম এই আসরে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি কবি নজমুল হেলাল। স্বরচিত লেখা পাঠ করেন গোলাম কবীর মুকুল, আবু নাসিফ খলিল, হুমায়ুন কবীর, বনলতা,শহিদুল ইসলা, ডা.তোফাজ্জল হোসেন,কামাল হোসেন,শিরোনাম মেহেদী,আশিকুজ্জামান আসাদ,,হোসেন মোহাম্মদ ফারুক, গুরু কাজল, সুমন ইকবাল, কবি নজমুল হেলাল প্রমুখ। স্বরচিত লেখার উপর বিশদভাবে আলোচনা করেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহয়োগী অধ্যাপক মুন্সি আবু সাইফ ।

ইংরেজি সাহিত্যের উপর বিশদভাবে আলোচনা করেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহয়োগী অধ্যাপক খোন্দকার রোকনুজ্জামান। চিরায়ত সাহিত্য থেকে অভিনয় করেন নটরাজ হারুন অর রশিদ ।

অতিথি হিসেবে অনুভূতি ব্যক্ত করেন জাতীয় শ্রমিকলীগের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আফজালুল হক বিশ্বাস এবং সহ সভাপতি আব্দুস সালাম।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সহ সাধারণ সম্পাদক সুমন ইকবাল।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শহিদুল রনি, বাঁধন মুন্সি,বেঙ্গলী,আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ।অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে সভাপতি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।




প্রবারণা উৎসবে সমাবেশ শ্যামাপূজায় অবরোধ কর্মসূচিতেই জোর বিএনপির

আগামী ১২ নভেম্বর রবিবার সনাতন সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা ও দীপাবলী। এইদিন থেকে চতুর্থপর্বের অবরোধ এর ডাক দিয়েছে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো। অবরোধ চলবে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত। পূজার্থীদের নির্বিঘ্নে চলাচল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখে এ দিনটিতে ডাকা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহারের জন্যে বিএনপিসহ সকল বিরোধী দলীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

এর আগেও লক্ষীপূজা এবং বৌদ্ধদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমার দিন ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশ প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হলেও তারা শোনেনি। এসময় বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের নেতারা বলেছিলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণার কারণে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন দূরদূরান্ত থেকে বৌদ্ধ বিহারে উৎসবে অংশ নিতে নানা বাঁধা-বিঘ্নতার সম্মুখীন হবে। ২৮ অক্টোবর সমাবেশ ভয়বহ সহিংস রূপ নিলে রাজধানীতে কোন উৎসব করতে পারেনি তারা।

শুক্রবার ১১ নভেম্বর বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত এক বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বিরোধী দলসমূহ ঐক্য পরিষদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে রবিবার অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করবেন।’ তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক সংগঠনগুলো ধর্মীয় এইসব উৎসবের দিনগুলো বিবেচনায় নিয়ে সম্মান জানানো উচিত বলে আমি মনে করি। গত ২৮তারিখ অনুরোধ তারা রাখেনি। আশা করছি রবিবারেরটা তারা রাখবেন, অবরোধ পিছিয়ে দিবেন।’

ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের ইতিহাস বলছে, বাংলাদেশে বিএনপি জামায়াত কখনোই সংখ্যালঘুদের কোন অধিকারের বিষয়ে ছাড় দেয়নি। তারা কখনোই দেশের কোন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর দাবি সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিচারে নেয়নি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব বলছে, ১৯৯৬, ২০০১ বা তার আগের প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক পরের বছরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টা বেশি ছিল। শুধু ব্যতিক্রম চিত্র দেখা যায় ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর। ১৯৯৬ এর নির্বাচনের বছরে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২১৪টি, পরের বছরে ৫৫৪টি । ২০০১ সালে ধর্ষণের ঘটনা ৫৬৬টি হলেও পরের বছরে তা দাঁড়ায় ১ হাজার ৯১টিতে। ২০১৪ সালে নির্বাচনের বছরে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে ৫৪৫টি, পরের বছরে এ সংখ্যা ছিল ৬৯০। ২০১৮ সালে নির্বাচনের বছরে ধর্ষণের ঘটনা ৫৫৬টি, পরের বছরে তা দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৭টিতে।




কক্সবাজার পর্যন্ত রেল উদ্বোধন কাল; মাত্র ১৮৮ টাকায় সৈকত হবে সর্বসাধারণের

পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত দেখতে যাওয়া মানেই ছিলো খরচের চিন্তা। কক্সবাজার পর্যন্ত রেল যোগাযোগ না থাকায় সর্বরাধারণের চিন্তার বাইরে ছিলো তার সৌন্দর্য দেখার স্বপ্ন। কিন্তু এবার স্বপ্ন হবে সত্যি। এই রেলপথ শনিবার উদ্বোধন করেবন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে চালু হচ্ছে ট্রেন। এই রুটে ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়া যাবে মাত্র ১৮৮ টাকায়।

শুক্রবার (১০ নভেম্বর) কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনের উদ্বোধনী প্রস্তুতি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে রেল সচিব হুমায়ুন কবির ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রেনের সর্বনিম্ন ভাড়া সম্পর্কে এই তথ্য দেন।

এ সময় রেলওয়ে সচিব বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন শেষে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করবে বলে আমরা আশা করছি। সেই ট্রেনে সর্বনিম্ন ভাড়া যেটি ধরা হয়েছে সেটি হচ্ছে ১৮৮ টাকা। আর এটি নন এসি মেইল ট্রেন। সর্বোচ্চ ভাড়া এসি বার্থে ১ হাজার ৭২৫ টাকা। বর্তমানে রেলের যে ভাড়ার হার আছে সেই অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি জানান, ১ ডিসেম্বর শুধু আন্তঃনগর ট্রেন চালু হবে। পাশাপাশি কমিউটার ও মেইল ট্রেনও চালু হবে।

সচিব বলেন, ভবিষ্যতে এই রুটে পর্যটক কোচ চালু করা হবে। শুধু ঢাকা নয় উত্তর অঞ্চল ও দেশের অন্যান্য অংশ থেকেও কক্সবাজারে রেলপথে আসা যাবে। এতে করে যোগাযোগের নতুন পথ উন্মোচন হবে।

এ সময় বাংলাদেশ রেলের মহাপরিচালক কামরুল আহসান বলেন, ঢাকা থেকে যে ট্রেনটি কক্সবাজার আসবে সেটি সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ঢাকা ছাড়বে। আর কক্সবাজার এসে পৌঁছাবে ৬টা ৩০ মিনিটে। পর্যায়ক্রমে এই রুটে আরও ট্রেন বাড়ানো হবে।

রেলপথ নির্মাণের আগে কক্সবাজারের সঙ্গে কোনও রেল যোগাযোগ ছিল না। শুরুতে এটি ছিল দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হতে ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ’ প্রকল্প। এতে মোট ১২৯ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার রেল লাইন নির্মাণের কথা ছিল। পরে রামু থেকে ঘুমধুম অংশের কাজ স্থগিত করা হয়। এখন চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে।




১০০ জনকে নিয়োগ দেবে পপি

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পিপলস ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন (পপি)। প্রতিষ্ঠানটিতে শাখা ব্যবস্থাপক পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী যোগ্য প্রার্থীরা সহজেই আবেদন করতে পারেন।

পদের নাম

শাখা ব্যবস্থাপক

পদসংখ্যা

১০০ জন।

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা

প্রার্থীকে স্নাতক/স্নাতকোত্তর পাস হতে হবে। বয়স ২৬ থেকে ৪২ বছর। ক্ষুদ্র অর্থায়ন কার্যক্রমে শাখা ব্যবস্থাপক হিসাবে ন্যূনতম এক বছরের অভিজ্ঞতা । এক্ষেত্রে শাখার ঋণস্থিতি কমপক্ষে ৩-৪ কোটি টাকা হতে হবে। সংশ্লিষ্ট কাজে দুই বছরের অধিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন স্নাতক/সমমান পাশ প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। কম্পিউটারে ও মাইক্রোফিন-৩৬০ সফ্টওয়ার ব্যবহারে অভিজ্ঞ হতে হবে। মোটরসাইকেল চালনায় পারদর্শী এবং বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে।

কর্মস্থল

বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে।

বেতন

শিক্ষানবিশকালে সর্বসাকুল্যে =৩৭,৩০০/- এবং স্থায়ীকরণের পর-=৪২,৪৪৫/-(ক্রেডিট ভাতা, হার্ডশিপ ভাতা, মোবাইল বিল, লাঞ্চভাতা ও অন্যান্য ভাতাসহ)

আবেদনের প্রক্রিয়া

শিক্ষানবিশকাল ছয় মাস। স্বল্প মূল্যে একক আবাসন সুবিধা, স্বল্পসুদে মোটরসাইকেল ক্রয়ের ঋণ ও মোটরসাইকেলের জ্বালানী, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং স্থায়ীকরণের পর বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচ্যুইটি, বছরে দুইটি উৎসব ভাতা ও বৈশাখী ভাতা প্রদত্ত হবে। এছাড়াও দূরত্ব ভাতা, উৎসাহ ভাতা, হাওড় ভাতা ও শহর ভাতা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) প্রদত্ত হবে।

নির্বাচিত প্রার্থীদের পপি’র কর্ম এলাকায় নিয়োগ দেওয়া হবে।

নিয়োগের জন্য মনোনীত হলে প্রার্থীদের জামানত বাবদ শাখা ব্যবস্থাপক ২৫,০০০/- টাকা জামানত বাবদ প্রদান করতে হবে যা সুদসহ ফেরতযোগ্য।

প্রার্থীদেরকে “পিপল্স ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন (পপি)” একাউন্ট নম্বর-৪৪১৬৪৩৬০০০৯৪৬ (সোনালী ব্যাংক লিঃ, লালমাটিয়া শাখা) অনুকূলে সোনালী ব্যাংকের যে কোনো শাখার মাধ্যমে ২০০/- টাকা অনলাইনে জমা করে জমা রশিদ আবেদনপত্রের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। খামের উপরে অবশ্যই পদের নাম উল্লেখ করতে হবে।

আগ্রহী প্রার্থীদেরকে জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষা সনদ ও অভিজ্ঞতার সনদপত্র ও ছাড়পত্র, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটোকপি , ২ কপি সদ্য তোলা রঙ্গিন ছবি, এলাকার দুইজন গণ্যমান্য ব্যক্তির (যাদের মধ্যে একজন শিক্ষক) নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং আবেদনকারীর পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত, মোবাইল নম্বরসহ আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।

আবেদনের সময়সীমা

৩০ নভেম্বর ২০২৩

সূত্র : বিডিজবস