কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নবনির্মিত ভবনের শুভ উদ্বোধনী

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে, বলে দেশের সব ক্ষেত্রে উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যা হতে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণে নবনির্মিত ভবনের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি- জামায়াতের উদ্যেশে এ কথা বলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক (এমপি)।

তিনি বলেন,আপনারা অনেক ভাগ্যবান। আর আপনাদের এমপি অনেক কর্মঠ,যে কারনে আজ আপনাদের এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা বিএনপি- জামাত জোটের কথা ভূলি নাই। তারা যখন ক্ষমতায় ছিল,দেশের সব কমিউিনিটি ক্লীনিক বন্ধ করে দিয়ে ছিল। কারন ক্লীনিক গুলো শেখ হাসিনা করেছিল। ওই ক্লীনিকে সেবা নিলে, ভোট সবাই আওয়ামী লীগে দিবে। এখন তারাই আবার মাঠে নামছে,দেশের অরাজকতা সৃষ্টি করতে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডাঃ শুভ্রা রানি দেবনাথ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,ঝিনাইদহ-৩ আসনের সাংসদ সদস্য এ্যাডঃ শফিকুল আজম খাঁন চঞ্চল, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জাহাঙ্গীর আলম,স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম,স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের
অতিরিক্ত সচিব সাইফুল্লাহিল আজম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব ডাঃ রাশেদা সুলতানা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ও লাইন ডাইরেক্টর ডাঃ মোঃ রিজাওয়ানুল রহমান, পরিচালক স্বাস্থ্য বিভাগের খুলনার পরিচালক ডাঃ মনজুরুল মরশিদ, ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক এস এম রফিকুল ইসলাম, ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার আজিম-উল আহসান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছাঃ শরিফুন্নেছা মিকি,উপজেলা নির্বাহী অফিসার উঠছে মে কোটচাঁদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাজান আলী,অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুর রশিদ।




১১৮ জনকে নিয়োগ দেবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটিতে অস্থায়ী ৩০টি পদে সর্বমোট ১১৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী যোগ্য প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

পদসংখ্যা

সর্বমোট ১১৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

পদের নাম

সহকারী পরিচালক (প্রশাসন/এস্টেট ও ভূমি)।

পদসংখ্যা

৮টি (গ্রেড-৯)

যোগ্যতা

প্রার্থীকে স্নাতক (সম্মান)সহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে।

বেতন স্কেল

২২০০০-৫৩০৬০ টাকা।

পদের নাম

সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ ও প্রটোকল)।

পদসংখ্যা

১টি (গ্রেড-৯)

যোগ্যতা

প্রার্থীকে সাংবাদিকতা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বা সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিষয়ে স্নাতক (সম্মান)সহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। এ ছাড়া বাংলায় ও ইংরেজিতে প্রেস ব্রিফিং ও প্রতিবেদন তৈরিতে পারদর্শী এবং জনসংযোগ কাজে অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

পদের নাম

সহকারী পরিচালক (হিসাব)।

পদসংখ্যা

২টি (গ্রেড-৯)

যোগ্যতা

প্রার্থীকে ব্যবস্থাপনা, ফিন্যান্স অথবা অ্যাকাউন্টিং বিষয়ে স্নাতক (সম্মান)সহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে।

পদের নাম

সহকারী পরিচালক (ভূমি ব্যবহার)।

পদসংখ্যা

২টি (গ্রেড-৯)

যোগ্যতা

প্রার্থীর ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বা সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক (সম্মান)সহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে।

পদের নাম

সহকারী পরিচালক (পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ণ)।

পদসংখ্যা

১টি (গ্রেড-৯)

যোগ্যতা

প্রার্থীর অর্থনীতি, পরিসংখ্যান, ফিন্যান্স বা হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক (সম্মান)সহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে।

পদের নাম

সহকারী অথরাইজড অফিসার।

পদসংখ্যা

১৮টি (গ্রেড-৯)।

যোগ্যতা

প্রার্থীর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, স্থাপত্য অথবা নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে।

পদের নাম

সহকারী স্থপতি।

পদসংখ্যা

৬টি (গ্রেড-৯)।

যোগ্যতা

প্রার্থীর স্থাপত্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে।

পদের নাম

সহকারী আইন কর্মকর্তা।

পদসংখ্যা

২টি (গ্রেড-৯)।

যোগ্যতা

প্রার্থীরএলএলবি (সম্মান)সহ এলএলএম ডিগ্রি থাকতে হবে।

পদের নাম

সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল)।

পদসংখ্যা

৩টি (গ্রেড-৯)।

যোগ্যতা

প্রার্থীর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে থাকতে হবে।

পদের নাম

সহকারী প্রকৌশলী (বৈদ্যুতিক)।

পদসংখ্যা

১টি (গ্রেড-৯)।

যোগ্যতা

প্রার্থীর ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে।

পদের নাম

সহকারী নগর পরিকল্পনাবিদ

পদসংখ্যা

১৪টি (গ্রেড-৯)

যোগ্যতা

প্রার্থীর নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে।

পদের নাম

উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল)।

পদসংখ্যা

৭টি (গ্রেড-৯)।

যোগ্যতা

প্রার্থীর পুরকৌশল প্রকৌশলে ডিপ্লোমা থাকতে হবে।

পদের নাম

উপসহকারী প্রকৌশলী (বৈদ্যুতিক)।

পদসংখ্যা

১টি (গ্রেড-১০)।

বেতন স্কেল

১৬০০০-৩৮৬৪০ টাকা।

যোগ্যতা

প্রার্থীর তড়িৎ অথবা তড়িৎ প্রকৌশলে ডিপ্লোমা থাকতে হবে।

পদের নাম

প্রধান ইমারত পরিদর্শক।

পদসংখ্যা

২টি (গ্রেড-১০)।

যোগ্যতা

প্রার্থীর স্থাপত্য/সিভিল প্রকৌশল বিষয়ে ডিপ্লোমা থাকতে হবে।

পদের নাম

ইমারত পরিদর্শক।

পদসংখ্যা

১৯টি (গ্রেড-১০)।

যোগ্যতা

প্রার্থীর স্থাপত্য বা পুরকৌশল বিষয়ে ডিপ্লোমা থাকতে হবে।

পদের নাম

কানুনগো।

পদসংখ্যা

১টি (গ্রেড-১০)।

যোগ্যতা

প্রার্থীর চার বছর মেয়াদি সার্ভে (জরিপ) ডিপ্লোমা থাকতে হবে।

পদের নাম

হিসাব রক্ষক।

পদসংখ্যা

১টি (গ্রেড-১১)।

বেতন স্কেল

১২৫০০-৩০২৩০ টাকা।

যোগ্যতা

প্রার্থীর বাণিজ্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে থাকতে হবে।

পদের নাম

ফোরম্যান (যান্ত্রিক)।

পদসংখ্যা

১টি (গ্রেড-১১)

যোগ্যতা

প্রার্থীর যান্ত্রিক বা অটোমোবাইল প্রকৌশলে ডিপ্লোমা থাকতে হবে।

পদের নাম

ফোরম্যান (বৈদ্যুতিক)।

পদসংখ্যা

১টি (গ্রেড-১১)।

যোগ্যতা

প্রার্থীরতড়িৎ বা তড়িৎ প্রকৌশলে ডিপ্লোমা থাকতে হবে।

পদের নাম

সহকারী পরিসংখ্যানবিদ।

পদসংখ্যা

১টি (গ্রেড-১১)।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

প্রার্থীর পরিসংখ্যান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে।

পদের নাম

অটোক্যাড অপারেটর।

পদসংখ্যা

৩টি (গ্রেড-১২)।

বেতন স্কেল

১১৩০০-২৭৩০০ টাকা।

যোগ্যতা:

প্রার্থীর স্থাপত্য বিষয়ে ডিপ্লোমা থাকতে হবে।

পদের নাম

জিআইএস অপারেটর।

পদসংখ্যা

২টি (গ্রেড-১২)।

যোগ্যতা

প্রার্থীর কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স বা স্থাপত্য বিষয়ে ডিপ্লোমা থাকতে হবে।

পদের নাম

নিরাপত্তা তত্ত্বাবধায়ক।

পদসংখ্যা

১টি (গ্রেড-১৪)।

বেতন স্কেল

১০২০০-২৪৬৮০ টাকা্

যোগ্যতা

প্রার্থীর স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে।

পদের নাম

সার্ভেয়ার।

পদসংখ্যা

১টি (গ্রেড-১৫)।

বেতন স্কেল

৯৭০০-২৩৪৯০ টাকা।

যোগ্যতা

প্রার্থীর চার বছর মেয়াদি সার্ভে ডিপ্লোমা থাকতে হবে।

পদের নাম

কাটোগ্রাফিক অ্যাসিসটেন্ট।

পদসংখ্যা

১২টি (গ্রেড-১৫)।

যোগ্যতা

প্রার্থীর এইচএসসি বা সমমান ডিগ্রি থাকতে হবে।

পদের নাম

জিআইএস টেকনিশিয়ান।

পদসংখ্যা

২টি (গ্রেড-১৫)।

যোগ্যতা

প্রার্থীর এইচএসসি বা সমমান ডিগ্রি থাকতে হবে।

পদের নাম

অপারেটর।

পদসংখ্যা

১টি (গ্রেড-১৫)।

যোগ্যতা

প্রার্থীরএইচএসসি বা সমমান ডিগ্রি থাকতে হবে।

পদের নাম

ভারী গাড়িচালক।

পদসংখ্যা

১টি (গ্রেড-১৫)।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

প্রার্থীর এসএসসি বা সমমান এবং বৈধ লাইসেন্সসহ তিন বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

পদের নাম

ট্রান্সপোর্ট সুপারভাইজার।

পদসংখ্যা

১টি (গ্রেড-১৬)।

বেতন স্কেল

৯৩০০-২২৪৯০ টাকা।

যোগ্যতা

প্রার্থীরএইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

বয়সসীমা

নারী-পুরুষ উভয় আবেদন করতে পারবেন। বয়স সর্বোচ্চ ৩০ বছর। তবে মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর।

আবেদন ফি

১ থেকে ১১ পদের জন্য টেলিটক সার্ভিস চার্জসহ ৬৬৯ টাকা, ১২ থেকে ১৭ নম্বর পদের জন্য টেলিটক সার্ভিস চার্জসহ ৫৫৮ টাকা, ১৮ থেকে ২৩ নম্বর পদের জন্য টেলিটক সার্ভিস চার্জসহ ৩৩৫ টাকা, ২৪ থেকে ৩০ নম্বর পদের জন্য টেলিটক সার্ভিস চার্জসহ ২২৩ টাকা জমা দিতে হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া

আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে এই ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন।

আবেদনের সময়সীমা

১৯ নভেম্বর ২০২৩

সূত্র : প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট




গাংনীতে পিএসকেএসের উদ্যোগে মৎস্য উপকরণ বিতরন

গাংনীতে পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতি (পিএসকেএস) কর্তৃক সমন্বিত কৃষি ইউনিটভুক্ত মৎস্যখাত এর আওতায় জি-৩ রুই মাছ চাষ ও আধা-নিবিড় পদ্ধতিতে কার্প ফ্যাটেনিং প্রদর্শনীর জন্য মৎস্য উপকরণ বিতরন করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১ টার সময় সংস্থার খামারবাড়ি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে উপকরণ বিতরনের আয়োজন করে পিএসকেএস।

তেরাইল, জুগিরগোফা, বানিয়াপুকুর, কাষ্টাদহসহ অন্যান্য গ্রামের ২৫ জন উপকারভোগীর মাঝে জি-৩ রুই ও কার্প জাতীয় মাছের পোনাসহ মাছ চাষ সহায়ক ঝাঁকি জাল, রাসায়নিক সার, জিও লাইট, সবজি বীজ, পেঁপে, বেগুণ, ঝালের চারা ও অন্যান্য উপকরণ বিতরণ করা হয়।

এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মৎস্য প্রশিক্ষক মোঃ মতিউর রহমান ও সংস্থার কর্মকর্তাসহ চাষীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপকারভোগীদের উত্তম ব্যবস্থাপনায় মাছ চাষের পাশাপাশি পুকুর পাড়ের অনাবাদি জমিতে সবজি চাষের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা হয়। উক্ত কার্যক্রমে আর্থিকভাবে সহায়তা করছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)।




মাইক্রোসফটে আসছে নতুন আপডেট

২০২০ সালে বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্ত নেন, জিনের ডাটা সংরক্ষণে আলফানিউমেরিক সিম্বলে বদল আনার। কারণ এক্সেলের একটি ফিচার ডাটাগুলোকে রিসেট করে দিচ্ছিল। এই সিকোয়েন্সের নামগুলোকে তারা তারিখ হিসেবে চিহ্নিত করে। সম্প্রতি মাইক্রোসফট নতুন আপডেট নিয়ে আসছে। অটোমেটিক কনভারসনের এই ফিচারের বিষয়টি ঠিক করতে কাজ শুরু করেছে মাইক্রোসফট।

এই ফিচারের কিছু সমস্যা রয়েছে। কারণ যখন অটোমেটিক কনভারসন হয় তখন সিম্বল বা নিউমেরিক ডাটায় পরিবর্তন এনে ফেলে। এই পরিবর্তন হয়তো অনেক সময় এত লক্ষ্যনীয় না। কিন্তু বৈজ্ঞানিক জার্নালে পাবলিশ করলে ও সামান্য ডাটা পরিবর্তনও অনেক বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।

গত বছর কোম্পানিটি এক্সেলে ডাটাশিট যখন এমন পরিবর্তন করবে তখন যেন ব্যবহারকারীকে সতর্ক করে দেয় এমন একটি ফিচার যুক্ত করে। নতুন আপডেটের মাধ্যমে এই সমস্যার চিরতরে অবসান হবে বলে জানা গেছে।

সূত্র: দ্য ভার্জ




গাংনীতে মৎস্য সেবা ও পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

গাংনীতে পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতি (পিএসকেএস) কর্তৃক সমন্বিত কৃষি ইউনিটভুক্ত মৎস্যখাত এর আওতায় মৎস্য সেবা ও পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উক্ত পরামর্শ সভা পিএসকেএস খামার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় বুধবার সকাল ১০ টার সময়। উক্ত সভায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মৎস্য প্রশিক্ষক মোঃ মতিউর রহমান।

এ সময় চাষীদের পুকুরে প্রাথমিক খাদ্য পরীক্ষা, মাছের সাধারণ রোগ-প্রতিকার, মাছ চাষের সাধারণ সমস্যাবলী ও সমাধানসহ অন্যান্য বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। এছাড়াও খাদ্য ব্যবস্থাপনায় বিবেচ্য বিষয়সমূহ ও পানি পরীক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। উক্ত কার্যক্রমে আর্থিকভাবে সহায়তা করছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)।




গাংনীতে কন্যা শিশুকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগে একজন গ্রেফতার

মেহেরপুরের গাংনীতে ১১ বছর বয়সী এক কন্যা শিশুকে তার বাড়িতে গিয়ে জোরপূবক শ্লীলতাহানীর চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফারুক হোসেন (৪৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে বেতবাড়িয়া গ্রামের মৃত পিয়ার বক্সের ছেলে ফারুক হোসেন (৪৮) প্রতিবেশীর ১১ বছর বয়সী এক কন্যা শিশুকে জোরপূর্বক শীলতাহানীর চেষ্টা করে। পিতা মাতার অনুপস্থিতি টের পেয়ে কন্যা শিশুর বাড়িতে গিয়ে মেলা থেকে কেনা মাটির তৈরি টিয়া পাখি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘরের মধ্যে ঢুকে জোরপূর্বক শীলতাহানীর চেষ্টা করে। কন্যা শিশুর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসলে অভিযুক্ত ফারুক হোসেন সেখান থেকে দ্রুত পালিয়ে যান। এ ঘটনায় ওই দিনই শিশুর পিতা বাদী হয়ে থানায় গাংনী থামায় একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ ফারুক হোসেনকে গ্রেফতার করে।

গাংনী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাজুল ইসলাম জানান, কন্যা শিশুকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টার বিষয়ে থানায় একটি মামলা করা হলে আসামি ফারুক হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।




নীলচাষিদের আর্তনাদের স্মৃতি চিহৃ ‘আমঝুপি নীলকুঠি’

“ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের সঙ্গে মীরজাফর ও ষড়যন্ত্রীদের শেষ বৈঠক হয়েছে এবং তার ফলে শুধু নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিপর্যয় ঘটেনি বাঙালী হারিয়েছিলো তার স্বাধীনতা।’’

এই জনশ্রতি দিয়েই ঐতিহাসিক স্থাপনা আমঝুপির নীলকুঠির কালিমা লেপে ইতিহাস বিকৃতি করা হলো ১৯৭৯ সালের ২৬ মার্চ। তৎকালীন বৃহত্তর কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান ভূইয়াঁর একটি ফলক নীলকুঠিতে স্থাপন করার পর থেকে এই নীলকুঠিসহ পুরোগ্রামটিকে ষড়যন্ত্রীদের অংশি হিসেবে ইতিহাসের কালো অধ্যায় রচনা করা হলো। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ইতিহাস বিকৃতি করে একটি বই লিখে তাকে সহযোগীতা করছিলেন লেখক আবুল আহসান চৌধুরী।

বিভিন্ন লেখকের বই থেকে জানা গেছে, ১৮১৮ থেকে ১৮২০ খৃস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়কালে মেহেরপুরের আমঝুপি, ভাটপাড়া, কাথুলি, বামন্দীসহ বেশকিছু স্থানে নীলকুঠি স্থাপিত হয়।

ইতিহাস বলে, ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর সেনাপতি লর্ড ক্লাবের নেতৃত্বে নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হন এবং বাংলা তার স্বাধীনতা হারায়। পলাশীর যুদ্ধে কয়েকবছর পর লর্ড ক্লাইভ ইংল্যাণ্ডে ফিরে যান এবং ১৭৭৪ সালের ২২ নভেম্বর তিনি ইংল্যাণ্ডে আত্মহত্যা করেন।

কিন্তু বিকৃত ইতিহাসে জনশ্রুতির দোহায় দিয়ে বলা হয়েছে, পলাশীর যুদ্ধের আগে মাঝে মধ্যে লর্ড ক্লাইভ আমঝুপি নীলকুঠিতে আসতেন এবং এই নীলকুঠিতে মীরজাফরের সাথে ষড়যন্ত্রের বৈঠক করে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হারানোর নীল নকশা করেন। যে নীলকুঠি জন্ম হয় ১৮১৮ সালে অর্থাৎ পলাশী যুদ্ধের ৬১ বছর পর। সেই নীলকুঠিকে কিভাবে লর্ড ক্লাইভ-–মীরজাফরের ষড়যন্ত্রের নীলনকশার বৈঠকখানা বলা হয় ?

আমঝুপি নীলকুঠি

নীলকুঠির ভবনের উত্তর দিক

নীলকুঠি কেন স্থাপন করা হয়

১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দে এ বঙ্গে কোম্পানী আইন প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই সময় মেহেরপুরসহ সমগ্র নদীয়া ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাষনভুক্ত হয়। পরবর্তিতে ১৭৭৮ সালে ক্যারেল ব্লুম নামের এক ইংরেজ মেহেরপুর সহ বিভিন্ন স্থানে নীল চাষ শুরু করেন। ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী তাদের ব্যবসায়ীক প্রসারের কারণে উনিশ শতকের শুরুর দিকে আমঝুপি নীলকুঠিসহ বিভিন্ন স্থানে অবকাঠামো নির্মাণ করে। ইংরেজ কুঠিয়াল কেনি, সিম্পসেন, ফার্গুসেনের সতীর্থদের অত্যাচার আর শোষণের স্থান ছিলো এই নীলকুঠি।

নীলকরদের অত্যাচার আর নির্যাতনের সাক্ষী আমঝুপি নীলকুঠি। কর পরিশোধ না করতে পারলে নীলচাষিদের উপর চলতো নানা নির্যাতন, এমনকি হত্যা করে লাশ মূত্যুকুপে নিক্ষেপ করে উল্লাস করা হতো। নীলকুঠিতে এখনো সে সকল নির্যাতনের স্মৃতি চিহৃ আকাশে বাতাসে বয়ে বেড়ায়। শুনশান নিরবতায় প্রাকৃতিক নির্জনতার প্রতিটি পরতে রয়েছে সে নির্যাতনের ক্ষত চিহৃ।

জানা যায়, অত্যধিক লাভজনক হওয়ায় ১৭৯৬ সালে মেহেরপুর অঞ্চলে নীল চাষ শুরু হয়। এ সময় বিখ্যাত বর্গী দস্যু নেতা রঘুনাথ ঘোষালির সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে গোয়ালা চৌধুরী নিহত হলে মেহেরপুর অঞ্চলে রানী ভবানীর জমিদারীভুক্ত হয়। রানী ভবানী নিহত হলে কাসিম বাজার অঞ্চলটি ক্রয় করেন হরিনাথ কুমার নন্দী। পরে হাত বদল হয়ে গোটা অঞ্চলটি মথুরানাথ মুখার্জির জমিদারীভুক্ত হয়। এক সময় মথুরানাথ মুখার্জির সঙ্গে কুখ্যাত নীলকর জেমস হিলের বিবাদ বাধে। মথুরানাথ-এর ছেলে চন্দ্র মোহন বৃহৎ অঙ্কের টাকা নজরানা নিয়ে মেহেরপুরকে জেমস হিলের হাতে তুলে দেন। চন্দ্র মোহনের ছেলে মহেষ মুখার্জি জেমস হিলের মন্ত্রী নিযুক্ত হন। ইতিহাসে ইনিই নীলদর্পণ নাটকে গুপে দেওয়ান নামে পরিচিত।

নীল গাছ পচা পানি জ্বালিয়ে তৈরি করা হতো নীল রঙ। এক বিঘা জমিতে আড়াই থেকে তিন কেজি নীল উৎপন্ন হতো- যা উৎপাদন করতে ব্যয় হতো ১২-১৪ টাকা। অথচ চাষীরা পেতো মাত্র তিন-চার টাকা। চাষীদের দাদন দিয়ে নীল চাষে বাধ্য করা হতো যাতে তারা জমিতে নীল চাষ বাদি দিয়ে অন্য চাষ না করতে পারে। ফলে বলা হয়, নীল গাছ থেকে যে রঙ তৈরি করা হতো তা ছিল চাষীদের বুকের পুঞ্জ্ভিূত রক্ত। জমাটবাঁধা ক্ষোভে নীলচাষিরা আস্তে আস্তে আন্দোলন গড়ে তোলে। এক সময় দুর্বার আন্দোলনে নীলকররা আমঝুপি ছেড়ে পালিয়ে যায়।

আমঝুপি নীলকুঠি নীলকরদের শত অত্যাচারের একটি ঐতিহাসিক স্থান। নীলকুঠিয়াল মিকেনী, সিম্পসন, ফার্গুসেন, জেমস হিল এদের আনন্দের হোলি আর কৃষকদের নির্যাতিত হওয়ার কাহিনী আমঝুপি নীলকুঠির আকাশে-বাতাসে এখনো জড়িয়ে আছে।

আমঝুপি বাজার থেকে দক্ষিণ দিকে আধা কিলোমিটার পিচঢালা পথ যেতেই নীলকুঠির প্রধান ফটক দেখা যাবে। খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের উদ্যোগে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ডিসি ইকোপার্ক নির্মাণের উদ্যোগে নেওয়া হয় ২০১৮ সালের দিকে। সে সময় এই ফটকটি নির্মাণ করা হয়। ইকোপার্কের জন্য নীলকুঠির স্থাপনাগুলো কিছু সংস্কার করা হয়। তবে পার্কটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। প্রধান ফটক পেরিয়ে সড়ক বরাবর সেই নীলকরদের শোষণের স্মৃতিচিহৃ নীলকুঠি ভবন। ভবনের আগে সড়কের দুই পাশে আম ও লিচুর বাগান। ভবনের উত্তর দিকে কাজলা নদী। কাজলা নদীর সাথে ব্রীজের মাধ্যমে ভবনের সংযোগ রয়েছে। নীল উৎপাদন করতে প্রচুর পানি লাগতো এবং যোগাযোগ সহজ করার জন্য নীলকুঠিগুলো ইংরেজরা বানিয়েছিলো নদীর পাড়ে। নীলকুঠিতে পৌছালেই এক প্রাকৃতিক নির্জনতা লক্ষ্য করা যায়। নীলকুঠির বিভিন্ন স্থানে ইংরেজদের সেই নীল গাছ চোখে পড়ে। সারি সারি নারিকেল গাছ চোখ জুড়াবে। ভবনের উত্তর-পূর্ব দিকে দুটি বড় আকারের কড়ুই গাছ পুরো নীলকুঠির সৌন্দর্য্যকে আকড়ে ধরে রয়েছে। আম, লিচুসহ বিভিন্ন গাছে পাখিদের আনাগোনা বেশ। একটু কান পাতলেই পাখিদের ডাক শোনা যায়। কখনো কখনো মনে হয় নিজর্নতায় নীলচাষীদের করুণ আর্তনাদও শোনা যাচ্ছে।

আমঝুপি নীলকুঠি

নীলকুঠি ভবন থেকে কাজলা নদীতে যাওয়ার ব্রীজ

নীলকুঠির মূল ভবনে যা আছে

আমঝুপি নীলকুঠির মূল ভবনটি আয়তাকার আকৃতির। নদীপথের যাত্রার সুবিাধায় ভননটি কাজলা নদী মুখ করে উত্তরমুখী করা হয়। তবে বর্তমানে দক্ষিনমুখী হয়ে প্রবেশ করতে হয়। ভবনটিকে দুদিক থেকেই সামনের দিকে মনে হয়। ৩৭ মিটার দৈঘ্য এবং ২২ মিটার প্রস্থের এ ভবনটিতে ছোটবড় ১৩টি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শয়ন কক্ষ, নাচঘর, স্নেকপ্রুফ কক্ষ, মৃত্যুকুপ। প্রচলিত আছে, ইংরেজদের মনোরঞ্জনের জন্য নতর্কীদের নাচতে হতো। কোন প্রজা খাজনা কিংবা নীলচাষে অনীহা প্রকাশ করলে তাকে হত্যা করে মূত্যুকুপে নিক্ষেপ করা হতো। স্নেকপ্রুফ কক্ষটি এত মসৃণ যে সাপ কিংবা পিপড়া চলতে পারবে না। নীলকুঠিতে আরো রয়েছে পুরাতন রেকর্ড রুম, কয়েদখানা, কাচারী ঘর, নায়েবদের আবাসন।

১৯৭৮ সালে ভবনটিকে নতুন করে ৮২ লাখ টাকা খরচ করে সংস্কার করা হয় এবং পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এলাকার উন্নয়নের নাম করে তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান ভ’ইয়া ১৯৭৯ সালের ২৬ মার্চ ওই বিকৃত ইতিহাসের ফলক লাগিয়ে দেন ভবনটিতে। পরবর্তিতে ২০১৭ সালে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধিনে প্রথ্নতত্ত্ব অধিদপ্তর নীলকুঠি মূলভবন সহ ৩ একর ৬১ শতক জমি অধিগ্রহণ করে। ভবনটির ভিতরে নতুন করে কিছু সংস্কার করা হয় এবং একটি জাদুঘর করা হয়। তবে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে বাকি ৬১ একর জমি। পরিচর্যার অভাবে বাগানের জৌলুস হারাচ্ছে।
ঐতিহাসিক এ নীলকুঠিতে প্রায় প্রতিদিন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা যান। বছরে প্রায় ২০ হাজার পর্যটক নীলকুঠি পরিদর্শন করেন। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে নীলকুঠিকে প্রসারিত করতে হলে কিছু সুবিধা বাড়ানোর দাবী জানিয়েছেন তারা।

নীলকুঠি চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে চায়ের টং দোকান দিয়ে ব্যবসা করছেন সামসুল হক মিলন। চা খেতে খেতে মিলনের সাথে কথা হয় নীলকুঠি সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে । মিলন বলেন, সপ্তাহে সাধারণত শুক্রবার ও শনিবার পর্যটক আসে। মহিলা পর্যটকদের জন্য অসুবিধা পড়তেই হয়। এখানে কোন টয়লেটের (ওয়াশরুম) ব্যবস্থা নেই। অনেকটা বাধ্য নীলকুঠির পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে তাদের সে ব্যবস্থা করতে হয়। মিলন আরো বলেন, ২০১৮ সালে সরকারিভাবে একটি টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু পানির ব্যবস্থা না করতে পারায় সেটা নাকি উদ্বোধন করা গেল না।

মেহেরপুরের সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক, সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও স্থানীয়রা বারবার আমঝুপি নীলকুঠির বিকৃতি ইতিহাসের ফলক মুছে সঠিক ইতিহাসে স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু আজও সে ফলক রয়ে গেছে।

আমঝুপি নীলকুঠি

নীলগাছ

কিভাবে যাবেন আমঝুপি নীলকুঠি

ঢাকাসহ দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে বাসযোগে মেহেরপুর জেলা শহওে আসতে হবে। জেলা শহর থেকে ৭ কিলোমিটার পূর্বে আমঝুপি নীলকুঠির অবস্থান। জেলা শহর থেকে রিক্সা বা ইজিবাইকে করে খুব সহজেই যেতে পারবেন নীলকুঠিতে। সপ্তাহে প্রতি রবিবার পূর্নদিবস এবং সোমবার দুপুর ২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে নীলকুঠির মূলভবন। অন্যান্য দিন সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ১০ টাকা প্রবেশ ফি দিয়ে ঘুরে দেখতে পারবেন ঐতিহাসিক নীলকুঠি ভবনটি।




প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মেহেরপুরে শেষ হয়েছে দুর্গাপূজা

ঢাকের বাদ্য আর আবীর খেলার মধ্য দিয়ে মেহেরপুরে বিসর্জন হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। মহালয়ার মধ্য দিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে এই পূজার উৎসব শুরু হয়েছিল।

মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) সকালে বিজয়ী দশমীতে বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনে সমাপ্তি হলো দুর্গাপূজার। বিকেল থেকে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা বা দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা ছিলো মেহেরপুর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ।

তবে প্রতিমা বিসর্জন কালে ভৈরব নদে কচুরিপানা নিয়ে সনাতন ধর্মাবলীদের মধ্যে কিছুটা চাপা অসন্তোষ লক্ষ্য করা যায়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মেহেরপুর শহরের শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির, নায়েববাড়ি মন্দির, হরিসভা মন্দির,বকুলতলা পূজা মন্দির, হরিজন বালক পূজা মন্দির, সদর উপজেলার গোভীপুর বায়পাড়া দূর্গা মন্ডপ, গোভীপুর দাসপাড়া দূর্গা পূজা,বামনপাড়া সর্বজনীন কালী মন্দির, পিরোজপুর দূর্গা মন্দির, পিরোজপুর কালীমাতা দাসপাড়া মন্দির,মুজিবনগর উপজেলার মহাজনপুর সার্বজনীন দূর্গা মন্দির, বাবুপুর সার্বজনীন দূর্গা মন্দির, কোমরপুর সার্বজনীন দূর্গা মন্দির, মোনাখালী পূজা মন্ডপ, রতনপুর দাসপাড়া পূজা মন্ডপ, বল্লভপুর পূজা মন্ডপ, এবং দারিয়াপুর পূজা মন্ডপ মেহেরপুর ভৈরব নদে বিসর্জন দেয়া হয়। এছাড়াও গাংনীতে কাজলা নদে বিভিন্ন মন্ডলের প্রতিমা বিসর্জন করা হয়।

উল্লেখ্য এই বছর মেহেরপুর জেলায় মোট ৪৩ টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে মেহেরপুর সদর উপজেলায় ১৪ টি, গাংনীতপ ২২ টি এবং মুজিবনগর উপজেলায় ৭ টি মণ্ডপ ছিল। কোনরকম বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজার সম্পন্ন হওয়ায় মেহেরপুর জেলা পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে জেলা বাসি ও জেলা প্রশাসন সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কত জ্ঞাপন করেছে।




এখন আনন্দে লেখাপড়া শুরু হচ্ছে শিশুদের

শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ শিশুর মৌলিক অধিকার । এটা শিশুর সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ করে। এজন্য শিক্ষাকে জাতির মেরুদণ্ড বলা হয়। আর প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে তার ভিত্তি। কাজেই সব শিশুর শিক্ষা গ্রহণের অধিকার রয়েছে। বৃটিশ আমল থেকে পাকিস্তান আমল পর্যন্ত এদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা খুবই অবহেলিত ছিল। ১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিসংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভের পর বঙ্গবন্ধুর সরকার শত প্রতিকুলতা সত্ত্বেও প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে ৩৬,১৬৫টি প্রথমিক বিদ্যালয়কে ১,৫৬,৭২৪ জনবলসহ জাতীয়করন করেন। শিক্ষার ইতিহাসে এ ছিল এক যুগান্তকারী ঘটনা। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া একটি দেশের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন।

শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়ন এবং যুগোপযোগী কৌশল ও পরিকল্পনা গ্রহণ করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু বিখ্যাত বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-এ-খুদার নেতৃত্বে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। শুধু তাই নয়, সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার কথা বলা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর সরকারের পর তাঁরই যোগ্য উত্তরসুরী শেখ হাসিনার সরকার ২০১৩ সালে ২৬,০০০ বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জনবলসহ একযোগে জাতীয়করণ করেন।

প্রাথমিক শিক্ষার মধ্যমেই আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সূচনা। মৌলিক পাঠদানও শুরু হয় প্রাথমিক থেকে। যে কারনে প্রতিটি শিশুর বিদ্যালয়ে উপস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য প্রাথমিক শিক্ষায় সকল শিশুর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা ও শিক্ষায় সকল শিশুর শতভাগ উপস্থিতি এবং ঝরে পড়ার হার হ্রাস করার জন্য ১৯৯০ সালে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাশ করা হয়। অন্যদিকে ২০১০ সালে শিক্ষাক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে “শিক্ষাকে দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রধান হাতিয়ার” বিবেচনায় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের নিয়ে প্রথম একটি পরিপূর্ণ শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয় ।

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তোলার জন্য পাঠ্যবইয়ে আনা হয়েছে নানা পরিবর্তন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরকে বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং যুগোপযোগী পাঠদান কার্যকর করার লক্ষ্যে বিদ্যালয়গুলোতে আইসিটি উপকরণ বিতরণ, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের প্রচলন, শিক্ষকদের আইসিটির উপর প্রশিক্ষণ, বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণসহ নানাবিধ প্রচেষ্টা গ্রহণ করায় শিক্ষার গুণগত মান যেমন বেড়েছে তেমনি শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও বেড়েছে।

এতোসব উদ্যগের ফলে বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু ভর্তির শতকরা হার ৯৭.৫৬ যদিও তা ২০০৫ সালে ছিল ৮৭.২০ শতাংশ। অন্যদিকে ইউনিসেফের ২০০৪ সালের হিসাবে বাংলাদেশে স্বাক্ষরতার হার ছিল প্রায় ৪০.৫ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষদের স্বাক্ষরতার হার ৫০ শতাংশ এবং নারীদের মধ্যে ৩১ শতাংশ। ২০২২ সালের হিসাব মতে দেশে বর্তমানে স্বাক্ষরতার হার ৭৪.৬৬ শতাংশ এর মধ্যে পুরুষের স্বাক্ষরতার হার ৭৬.৫৬ শতাংশ এবং নারীদের স্বাক্ষরতার হার ৭২.৮২ শতাংশ। ২০০৪ সালের তুলনায় স্বাক্ষরতার হার বেড়েছে প্রায় ৩৪ ভাগ। বিশেষ করে নারীদের স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইংগিত বহন করে।

শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং ঝরে পড়ার হার রোধ করতে বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে রঙিন বই তুলে দেওয়া, উপবৃত্তি কার্যক্রম, স্টুডেন্ট কাউন্সিল গঠন প্রভৃতির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালুকরণ, আকর্ষণীয় শিক্ষা উপকরণ, বিনোদনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, লেখাপড়ার মাঝে খেলা ও ছবি আঁকার বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করে পাঠদান করানো শিক্ষার্থীদের পাঠে অংশগ্রহণ যেমন বেড়েছে তেমনি ঝরে পড়ার হারও কমেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্থানীয় জনসমাজের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করার ফলে বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী ভর্তি করানো ও তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। ব্যানবেইস এর তথ্যমতে ২০০৫ সালে যেখানে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ঝরে পড়ার হার ছিল ৪৭.২% সেখানে ২০২২ সালে ১৩.৯৫% নেমে এসেছে।

ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় বিদ্যালয়মুখী করার জন্য সরকারের একটি অন্যতম উদ্যোগ ছিল রিচিং আউট অব স্কুল চিল্ড্রেন (রস্ক) নামক একটি প্রকল্প যা ‘আনন্দ স্কুল’ নামে পরিচিত। এ বিদ্যালয়ের মাধ্যমে শিশুরা ২য় বারের মতো প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করা সুযোগ পায়। প্রথমে যদিও এ বিদ্যালয়গুলোর যাত্রা শুরু হয় গ্রামে তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার কারণে এসডিজির মূল স্লোগান খবধাব হড় ড়হব ইবযরহফ সামনে রেখে আনন্দ স্কুল সম্প্রসারিত হয় শহরের বস্তি এলাকায়। ফলে বস্তির সুবিধা বঞ্চিত শিশুরাও প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। শুধু তাই নয় প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিদ্যালয়ে অবস্থান নিশ্চিত করতে অ্যাসিস্টিভ ডিভাইস বিতরণসহ সুবিধা বঞ্চিত গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইন ২০১২ প্রণয়ন করা হয়।

করোনা পরিস্থিতিতে নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত থেকে হতদরিদ্রের কাতারে দাঁড়ানো পরিবারের শিক্ষার্থীদের খাতা-কলমসহ সব ধরনের শিক্ষা উপকরণ বিনামূল্যে সরবরাহ এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি স্কুল ক্যাচমেন্ট এলাকা ভিত্তিক জরিপের মাধ্যমে প্রতিটি শিশুর ভর্তি নিশ্চিত করা, নিয়মিত মা সমাবেশ, উঠান বৈঠক ইত্যাদি কারনে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকার্যক্রমে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়ার হার কমেছে। ঝরে পড় রোধে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ প্রকল্প দারুন ভূমিকা রেখেছে। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিরাপত্তায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের মতো বেসরকারি সংস্থা যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

লেখক- চেয়ারম্যান, শিক্ষাবিভাগ ও ডিন, শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) শিক্ষক সমিতি ২০২৩।




দামুড়হুদায় ডিবি পুলিশের অভিযানে কেরুর ট্রাকে বাংলামদ সহ আটক ৩

দামুড়হুদা দর্শনা মহা সড়কের মাঝামাঝি স্হান থেকে জেলা ডিবি পুলিশের অভিযানে বাংলাদেশ কেরু এন্ড কোম্পানীর ট্রাকে বাংলামদ ও চালক সহ ৩ জনকে আটক করেছে জেলা ডিবি পুলিশ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে আসামীদের কে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা ডিবি পুলিশের ওসি ফেরদৌস ওয়াহিদ জানায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর ছিল যে কেরুর ওয়্যার হাউজ শান্তাহার থেকে চুরি করে ট্রাকে মদের একটি বড় চালান আসছে।সে খবর পাওয়ার পর দামুড়হুদা ফিলিং স্টেশন ও ফায়ার সার্ভিসের মাঝামাঝি স্হানে ডিবি পুলিশের একটি টহলদল এম্বুস করে।রাত নয়টার দিকে গাড়িটি পুলিশ বেরিকেট পার হওয়ার চেস্টা করলে গাড়িটি আটক করা হয়।

যে ট্রাকে কেরুর শানতাহার পন্যাগার থেকে কেরুর ট্রাকে চুরি করা মদ নিয়ে দর্শনায় ফিরে আসা হচ্ছে, যা পুজার বাজারে দর্শনা এলাকায় অনেক টাকায় বিক্রি করা হবে। রাতেই ট্রাকটি তল্লাশী করে ১০ লিটার মদ সহ চালক মনিরুল ইসলাম,হেলফার সানোয়ার হোসেন ও বাপ্পারাজকে আটক করা হয়।পরে কেরুর নিজস্ব ট্রাক (নম্বর চুয়াডাঙ্গা-হ ১১০০০৯) ডিবি হেফাজতে রেখে বাংলামদ সহ গতকাল মঙ্গলবার আসামীদেরকে চুয়াডাঙ্গা কোটে চালান করা হয়েছে।

চিনিকলের পরিবহন বিভাগের অফিস জানান গত ২২ অক্টোবর কেরুর ডিস্টিলারির উৎপাদিত পন্য নিয়ে ট্রাকটি কেরুর শানতাহার ওয়্যার হাউজে যায় এবং মালামাল রেখে গতকাল ২৩ অক্টোবর রাতে ট্রাকটি ফিরে আসার সময় পুলিশের কাছে আটক হয়। কেরু চিনিকলের জি এম (প্রশাসন) মোঃ ইউসুপ আলি জানান ঘটনাটি শুনেছি আজ মঙ্গলবার সরকারি ছুটি বুধবার অফিস যথারিতি চলবে, অভিযুক্তদের বিষয়ে খোজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।