ঝিনাইদহে বিদেশী পিস্তল ও ২ রাউন্ড গুলিসহ আটক ১

ঝিনাইদহে গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১টি বিদেশী পিস্তল, ১টি ম্যাগজিন ও ২রাউন্ড গুলিসহ একজনকে আটক করেছে।

আজ সোমাবার (৬অক্টোবর) সকাল সাড়ে দশটার দিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ অভিযান চালিয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামের শরিফুল ইসলামের দোকানের সামনের পাকা রাস্তার উপর থেকে তাকে আটক করা হয়।

ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার আজিম-উল- আহসান সোমাবার দুপুরে পুলিশ সুপারের এর কার্যালয়ে প্রেসব্রিফিং করে এসব তথ্য জানান। প্রেসব্রিফিং এ তিনি আরও জানান একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমাবার সকালে জেলা গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল ইসলাম এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার এস আই আবু সায়েম, এএসআই জাহিদ হাসানসহ একদল ফোর্স নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় আভিযানিক দলটি ১টি বিদেশী পিস্তল, ১টি ম্যাগজিন ও ২ রাউন্ড গুলিসহ আসামী ইজাহারকে গ্রেপ্তার করে। ইজাহার মাগুরা জেলার খিলগাতি বাজার এলাকার মৃত আঃ লতিফ মোল্লার ছেলে।

প্রেসব্রিফিং আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান জাকারিয়া, মীর আবিদুর রহমান, ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন উদ্দিন, ডিবি’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুয়েল ইসলাম প্রমুখ।




কোটচাঁদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক গ্রেফতার

কোটচাঁদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক( ৬২)কে গ্রেফতার করেছেন, থানা পুলিশ। রবিবার রাতে তাকে মহেশপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আল মাসুদ মিয়া।

জানা যায়,কোটচাঁপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক। তিনি উপজেলার ফাজিলপুর গ্রামের মৃত দলিল উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে। আব্দুর রাজ্জাক গেল ১ নভেম্বর কোটচাঁদপুর থানার নাশকতা মামলার আসামি। মামলা হওয়ার পর তিনি মহেশপুর উপজেলার একতাঁরপুর গ্রামে লেন্টু মেম্বরের বাসায় ছিলেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে তাকে মহেশপুরের ওই বাসা থেকে গ্রফতার করেন। সোমবার সকালে তাকে আদালতে পাঠিয়েছেন থানা পুলিশ।

এ ব্যাপারে কোটচাঁদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আল মাসুদ মিয়া বলেন,নাশকতা মামলায় রবিবার রাতে
বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি মহেশপুর উপজেলা একতাঁরপুর গ্রামের লেন্টু মেম্বরের বাসায় পালিয়ে ছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন,উপজেলা বিএনপির সভাপতি সহ ওই মামলায় আজ পর্যন্ত ১০ জন গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যহত রয়েছে।




নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকেরের ৭৯তম জন্মদিন আজ

নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকেরের ৭৯তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৪ সালের আজকের দিনে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জনপ্রিয় এ অভিনেতা। ১৯৭২ সালের আরণ্যক নাট্যদলের ‘কবর’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে পথচলা শুরু করেন আলী যাকের। ১৯৭৩ সাল থেকে কাজ করছেন নাগরিক নাট্যসম্প্রদায় নিয়ে।

‘বহুব্রীহি’, ‘তথাপি পাথর’, ‘আজ রবিবার’ এর মতো টিভি নাটকে অভিনয় করেও তিনি প্রশংসা পেয়েছেন। ‘অচলায়তন’, ‘বাকী ইতিহাস’, ‘সৎ মানুষের খোঁজে’, ‘তৈল সংকট’, ‘এই নিষিদ্ধ পল্লীতে’, ‘কোপেনিকের ক্যাপ্টেন’সহ বেশ কয়েকটি মঞ্চ নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন আলী যাকের। বেতারে অর্ধশতাধিক নাটকে কাজ করেছেন এ কিংবদন্তি।

দীর্ঘ কর্মজীবনে নাটকে অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। এছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী পদক, নরেন বিশ্বাস পদকসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন আলী যাকের।

আলী যাকের ১৯৭৭ সালে অভিনেত্রী সারা যাকেরের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দুই ছেলেমেয়ে ইরেশ যাকের ও শ্রিয়া সর্বজয়াও অভিনয়শিল্পী।

২০২০ সালের ২৭ শে নভেম্বর ৭৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন গুণী অভিনেতা আলী যাকের।

সূত্র: ইত্তেফাক




লিরিক্স স্টিকার এলো ইনস্টাগ্রামে

আরেকটি নতুন ফিচার। ইনস্টাগ্রামের রিলসে গান প্লে হলে এখন লিরিক দেখা যাবে। লিরিক স্টিকার নামে নতুন এই ফিচারটি সম্প্রতি সংযুক্ত হয়েছে। অনেকটা ফেসবুকের স্টোরির মতো ফিচার। তবে ইনস্টাগ্রামের নতুন ফিচারে আরো কাস্টোমাইজেশন সুবিধা পাওয়া যাবে।

নতুন এই ফিচার ব্যবহার করতে হলে আপনাকে শুধু রিলসে গান যুক্ত করে লিরিক্স স্টিকার সিলেক্ট করতে হবে। স্ক্রিনে তখন গানের লিরিক্সগুলো দেখতে পারবেন।

তারপর পছন্দমতো লিরিক্সের ফন্ট, টেক্সট কাস্টোমাইজ করে নিন। নতুন আপডেট এখন থেকেই রোল আউট করা শুরু হয়েছে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস




মেহেরপুরে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি গ্রেফতার

মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার পোড়াপাড়া নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে গাংনী থানার এস আই হাফিজুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

গাংনী থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা এস আই আব্দুল মতিন জানান, গত রবিবার দায়ের করা নাশকতা মামলার আসামি হিসেবে তাকে আটক করা হয়েছে। আটকের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।




সংলাপ নয় সংঘাতেই বিএনপির ভরসা

রাজনীতির মাঠে সংলাপ শব্দটি আবারও ঘুরতে শুরু করেছে। বহুল আলোচিত ২৮ অক্টোবরের পর এবার শর্তহীন সংলাপের বিষয়টি সামনে এনেছেন আরেক আলোচিত কূটনীতিক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস। গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির সহিংসতার পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস হরতাল অবরোধের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন ভবনে গিয়ে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালের সাথে বৈঠক করলেন। যদিও বৈঠকটি পূর্ব নির্ধারিত ছিলো না। সিইসির সঙ্গে বৈঠক সেরে বেরিয়ে এসে নিজেই সাংবাদিকদের সামনে এসে কথা বললেন। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পুরোনো কথাগুলো বললেন। শেষ দিকে এসে বললেন গণতান্ত্রিক নির্বাচনে কোনো পক্ষের রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো স্থান নেই। তার আশা সব পক্ষ শর্তহীনভাবে সংলাপে বসে সামনের দিকে এগোবে। পিটার হাসের সাথে সুর মিলিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরাও শর্তহীন সংলাপের বিষয়টি আলোচনায় এনেছেন। ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতও সরকারের মন্ত্রীদের সাথে দেখা করে শর্তহীন সংলাপের প্রসঙ্গটি তুলেছেন।

এতো গেলো মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তাদের সঙ্গী সাথীদের কথা। এখন প্রশ্ন হলো বিএনপি কি সংলাপে বিশ্বাসী? এ প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ বা না এরকম এককথায় না দিয়ে একটু বিশ্লেষণে আসা যাক। দলটি কখনোই যে কোনো সংলাপ করেনি তা কিন্তু নয়। তারা যে সংলাপগুলো করেছে তা সফল হয়নি কারণ তারা সব সময়ই শর্ত জুড়ে দিয়েই আলোচনার টেবিলে যেতে চায়। আমরা ২০০৬ সালে আব্দুল জলিল ও মান্নান ভূঁইয়ার সেই সংলাপের কথা কিন্তু আমরা ভুলে যায়নি। সংলাপটি কেনো ভেস্তে গিয়েছিলো তা কিন্তু পরে আমরা পরিস্কার হয়েছি। দুই নেতাই সে সময় প্রায় একটা সমাধানে চলে এসেছিলেন কিন্তু খালেদা জিয়ার গ্রিন সিগন্যাল না থাকায় সেসময় দুজনের সংলাপটি ভেস্তে যায়। তার পরের রাজনীতির চিত্র আমরা দেখেছি।

২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা খালেদা জিয়াকে ফোন করে আলোচনার জন্য ডেকেছিলেন। খালেদা জিয়া সেসময় সাড়া দেননি। এরপর তো সবাই জানেনই বিএনপি তার সঙ্গী স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতকে সাথে নিয়ে অবরোধের নামে বেছে নিলো আগুন সন্ত্রাসের পথ। বহু নিরপরাধ মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করেছে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীরা।

২০১৮ সালেও ড.কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি জোট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সংলাপে বসেছিলো। তারা সেই নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলো। এক একটি আসনে একাধিক প্রার্থী দেয়ার পাশাপাশি মনোনয়ন বাণিজ্য সামনে আসায় নির্বাচনের পর থেকেই শুরু হয় মিথ্যাচারের রাজনীতি।

এবার আসা যাক সাম্প্রতিক পরিস্থিতির দিকে। শর্তহীন সংলাপের কথা পিটার হাসই যে নতুন বললেন তা কিন্তু নয়। ২৮ অক্টোবর বিএনপির তাণ্ডবের আগে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব না দিলেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শর্তহীন সংলাপের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বিএনপি একেবারে শুরুতেই তা নাকচ কওে দেয়। মির্জা ফখরুল সাহেব থেকে শুরু করে দুদু-রিজভীরা শর্তজুড়ে দিয়ে বলতে থাকলেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকার মানলেই কেবল সংলাপ। এভাবে শর্ত দিয়ে কি সংলাপ হয়? আপনারা শেখ হাসিনার পদত্যাগ চান তাহলে সংলাপ করবেন কার সাথে?

এবার আরেকটু পিছনের দিকে যাই গত বছরের জুলাই মাসে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও অংশীজনদের সাথে সংলাপে বসেছিলো। কিন্তু বিএনপি সে সংলাপে যায়নি। শুধু বিএনপিই নয় তাদের সমমনা দলসহ ৯টি দল সংলাপে যায়নি। এমনকি ইসি গঠনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সংলাপে এর আগে দু’বার গেলেও শেষবার তারা গর হাজির। তাদের অভিযোগ ছিলো ইসি গঠনে তাদের কোনো মতামতই নাকি রাখা হয়না। যদিও বর্তমান সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালের নামের প্রস্তাবক বিএনপিরই ঘনিষ্ঠ প্রয়াত ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

এবার আবারো আসি সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে। হাস সাহেবরা সংলাপের প্রসঙ্গটি সামনে আনার পর ঠিক সংলাপ আকারে না হলেও নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করছে তাদের প্রস্তুতি জানাতে। কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোকে এজন্য আগেভাগেই চিঠিও পাঠিয়েছে। বিএনপির চিঠি পৌঁছেছে পল্টনের কার্যালয়ে। তবে সেখানে চিঠি সংগ্রহ করার মতো কেউ ছিলেন না। চিঠিটি পড়ে আছে কলাপসিবল গেটের ভিতরে একটি চেয়ারে। চিঠি যাওয়ার খবর শুনে অজ্ঞাত স্থান থেকে রুহুল কবির রিজভী বরাবরের মতোই এ নির্বাচন কমিশনের আলোচনায় যাবেন না বলে জানিয়ে দেন।

এতোদিন বিএনপি যাদের ওপর নির্ভর করেছিলো, যে পিটার হাসকে অবতার ভাবতে শুরু করেছিলেন বিএনপির নেতারা এখন তার প্রস্তাব করা সংলাপেও ভরসা রাখতে পারছে না দলটি। আসলে দলটি কি চায়? তারা তো সংলাপ চায় না। সংলাপ চাইলে কি ২০১৪ সালে খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার সংলাপের প্রস্তাবটি অসৌজন্যমূলকভাবে প্রত্যাখান করতে পারতেন?

বিএনপি তার পুরোনো অবস্থান থেকে একচুলও সরেনি। সংলাপে নয় অবরোধের আগুনেই ভরসা রাখছে তারা। বিএনপি যে সহিংস সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে তার প্রমাণ তারা প্রতি পদে পদেই দিচ্ছে। আসলে তারা কোনোকালেই জনতায় ভরসা রাখতে পারেনি। তারা চিনেছে শুধু ক্ষমতা তাও আবার পেছনের দরজা দিয়ে। মিলিটারি ডিক্টেটর জিয়াউর রহমান পিছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখল করে বিএনপির জন্ম দিয়েছিলেন। হ্যাঁ-না ভোট, ২০০১ সালের কারচুপির নির্বাচন, ২০০৭ সালে ক্ষমতা ছাড়তে টালবাহানার পর এখন সহিংসতার পথে রক্তপাত ঘটিয়ে ক্ষমতা চায় দলটি।

বিএনপিকে বলবো যাদের ওপর আশা করে আছেন, যাদের মুরুব্বি মেনেছেন, যাদের প্রভু ভাবছেন তাদের কেউই আপনাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিতে পারবে না। তাই আগুন সন্ত্রাসের পথ ধরে ক্ষমতায় যাওয়ার আশা ছেড়ে জনতায় ভরসা রাখুন। এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো- দলটি কি পারবে লন্ডনি প্রেসক্রিপশন থেকে বেরোতে? যদি না পারে তাহলে ওই প্রবাদটিই সত্য বলে ধরে নিতে হবে ‘চোরাই না শোনে ধর্মের কাহিনী’।

লেখক: সাংবাদিক ও সাবেক ছাত্রনেতা।




দর্শনায় জামায়াত-বিএনপির অগ্নিসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা

দর্শনায় জামায়াত- বিএনপির অগ্নি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দর্শনা পৌর আওয়ামীলীগের প্রতিবাদ সভা অনুষ্টিত হয়েছে।

আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে দর্শনা বাসষ্ট্যান্ড চৌরাস্তার মোড়ে এ প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত থেকে আলোচনা করেন,দামুড়হুদা উপজেলা চেয়ারম্যান ও দর্শনা পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলী মুনছুর বাবু,দর্শনা পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম আলী,দর্শনা পৌর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন,দামুড়হুদা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল হান্নান ছোট, সহ সম্পাদক মান্নান খাঁন,আব্দুস সালাম ভুট্ট মামুন শাহ,হবা জোয়াদ্দার, দর্শনা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নাহিদ পারভেজ,সাধারন সম্পাদক তোফাজ্জেল হোসেন, তপু,লোমান,মিল্লাত,প্রমুখ।

বক্তরা বলেন,নির্বাচন বানচাল করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অগ্নি সন্ত্রাস করে মানুষের জান মালের ক্ষতি করছে জামায়াত বিএনপি। তাদের অরাজগতা রুখে দিয়ে সন্ত্রাসীদের আইনের হাতে তুলে দিতে হবে। জামায়াত বিএনপির অগ্নি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনগনের সাথে নিয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে। দেশ ও মানুষের বৃহত্তর স্বার্থে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে ক্ষমতার আসনে বসাতে হবে আওয়ামীলীগকে।




সাবধান! চারদিকে বিদ্বেষ…

এই লেখাটি লিখতে বসে উগ্র জাতীয়তাবাদ চর্চার প্রবর্তক অ্যাডলফ হিটরারের তথ্যমন্ত্রী গোয়েবলসের সূত্রটি খুব মনে পড়ছে। মিথ্যাকে সত্য বানানোর একটি সূত্র দিয়েছিলেন তিনি। এই সূত্র অনুসরণ করা সভ্যতা বিবর্জিত, সন্দেহ নেই। কিন্ত এটি যে খুব সত্য সেকথা বলার অপেক্ষা রাখে না। তিনি বলেছিলেন একটি মিথ্যা বার বার বলতে থাকলে তা এক সময় বেশিরভাগ মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে। একটি মিথ্যা বার বার বলে সত্য বানানোর একটি জলজ্যান্ত উদাহরণ আমাদের সবার সামনে এই মুহূর্তেই আছে। কিন্তু সেটি আপাতত মনে করিয়ে দিচ্ছি না। শুধু বলছি, এখন আমাদের চারদিকে বিদ্বেষ। আমারা বিদ্বেষের সাগরে ডুবে যাচ্ছি।

বলছি বর্তমান সময়ের কথা। আজ থেকে ২০ বছর আগে হলে হয়তো কোন বিদ্বেষ সামনে আসলে বেশিরভাগ মানুষ সেটা বিচার বিবেচনা করে, ধরে ফেলতে পারতো। তিনি হাতে সময় পেতেন। কিন্ত এর এখন পরিমাণ এতি বেশি যে, মানুষ নিজস্ব বিবেচনা প্রয়োগ করার সময় পাচ্ছে না। একটা ঘটনা আসতে আসতে আরেকটা চলে আসে। তিনি কোনটা রেখে কোনটা বিবেচনায় আনবেন? তাই তিনি এখন ভাবেন, এত বিচার বিবেচনায় যাওয়ার চেয়ে ঘটনা শুনে ভুলে যাওয়াই ভাল। কিন্ত কোন ঘটনা শোনার পর পুরোপুরি ভুলে আসলে যাওয়া যায় না, মনে একটা ছাপ কিন্তু থেকেই যায়। আর এভাবেই তিনি হাজারটা বিদ্বেষের অন্ধকারে ডুবে যান।

এই বিদ্বেষ নিয়ে জাতিসংঘের একটি ওয়েব পেজে সবচেয়ে কার্যকর কথাটি বলেছেন, জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস। তিনি সেখানে বলেন, মানুষ ইন্টারনেটে অভ্যস্ত হওয়ার পর সমাজে বিদ্বেষ ছড়ানোর মাত্রা বেড়েছে। এটি এখন আমাদের রাষ্ট্রীয় এবং সমাজ জীবনের অন্যতম ঝুঁকি। কারণ প্রথাগত গণমাধ্যমের চেয়ে অনলাইলইনে বিদ্বেষ ছড়ানো অনেক সহজ। পদ্ধতির কারণে এখানে একটি বিদ্বেষ বার সামনে আসতে পারে এবং বার বার বহু মানুষকে এর সঙ্গে জড়াতে পারে। অনলাইনে বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্যে, তিনি বার বার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পদ্ধতিগত দুর্বলতা এবং মনিটরিং এর সীমাবদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

এই ওয়েব পেজেই বলা হয়, বিশ্বব্যাপী ইস্যুটি মোকাবেলা করার জন্য জাতিসংঘ বিদ্বেষ বার্তার একটি কাঠামো দিতে চায়। এরইমধ্যে তারা কোন ধরণের বার্তা বিদ্বেষ হিসাবে চিহ্নিত করবে, সেব্যাপারে একটি প্রাথমিক ধারণা দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে সেটাই হচ্ছে বিদ্বেষ বার্তা, যার মাধ্যমে সমাজে শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা থাকে। সেই বক্তব্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে যেমন হতে পারে, আবার হতে পারে কোন গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের নামেও। কোন আচরণ, বক্তব্য বা লেখায় আক্রমণ বা অবমাননাকর বা বৈষম্যমূলক ভাষা ব্যবহার করলেও সেটা বিদ্বেষ বার্তা হিসাবে বিবেচিত হবে।

আজ অবধি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অধীনে বিদ্বেষ বার্তার কোনো সর্বজনীন সংজ্ঞা তৈরি হয়নি। বিষয়টি নির্মাণের পর্যায়ে আছে। তাই আপাতত জাতিসংঘের আভাস ধরে আমরা বলতে পারি, যে বার্তায় সমাজের শান্তি নষ্ট হয় সেটাই বিদ্বেষ বার্তা। মূল বিষয় বিষয় হচ্ছে শান্তি ভঙ্গ। কিন্তু স্থান কাল পাত্র ভেদে একই রকম বার্তায় একটি সমাজে শান্তি ভঙ্গ হতে পারে আবার আরেকটি সমাজে নাও হতে পারে। মূল বিষয় হচ্ছে সমাজ বুঝে বার্তাটি ছড়ানো।

সমাজ বোঝার প্রসঙ্গ আসলেই পরিকল্পনার প্রসঙ্গটি চলে আসে। আর কোন একটি উদ্দেশ্য পূরণের জন্যেই কেবল মানুষ সময় দিয়ে, অর্থ দিয়ে সমাজ বোঝে। আর সেই উদ্দেশ্য যদি অসৎ হয় তাহলেই বলতে হবে ছড়ানো বার্তাটি বিদ্বেষ বার্তা। এখন আমরা মোটামুটি এরকম একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারি যে, অসৎ উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে কোন বার্তা ছড়ানো হলে সেটাকে আমরা বিদ্বেষ বার্তা বলবো।

যাই হোক, গুতেরেস এবং জাতিসংঘের প্রসঙ্গ এই লেখায় আনলাম কারণ, তারা কথা বলছিলেন, বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিতে। সেখানে বিদ্বেষ বার্তার অ্যাকাডেমিক আলোচনাই ছিল মুখ্য। আন্তর্জাতিক একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাধান হিসাবে তাঁর সেটাই করার কথা। তিনি কোন সমস্যা সমাধান করতে চাইলে আগে কাগজে কলমে করবেন। তার পর সমাজে নিয়ে যাবেন। কিন্তু তিনি যদি এই বিদ্বেষ বার্তার সামাজিক প্রভাব কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তা দেখতে চাইতেন তাহলে তার বাংলাদেশের দিকে মনোযোগ দেয়া দরকার ছিল।

খুব মোটা দাগে বিদ্বেষ ছড়ানোর একটি উদ্যোগ সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে বাংলাদেশে। যে কারণে পরিকল্পনাকারীরা সেই বিদ্বেষের সবটা ছড়াতে পরেনি। কিন্তু বিদ্বেষ বার্তা ছড়ানোর দু’জন মানুষ চিহ্নিত হয়েছে। এখানে বলে রাখা ভাল যে আমার লেখার উদ্দেশ্য সমাজে বিদ্বেষ ছড়ানোর কুফল সম্পর্কে বলা। যে কারণে সেই চিহ্নিত দু’জন মানুষের নাম এবং নির্দিষ্ট কাজের কথা উল্লেখ করছি না। তার দরকারও নেই। কারণ এরই মধ্যে প্রচলিত গণমাধ্যমে এসব বিস্তারিত এসেছে।

এখন বলা যায় পরিকল্পিতভাবে তারা একটি চূড়ান্ত বিদ্বেষ প্রচার করতে চাচ্ছিলেন। যেটা একটি দেশের বেশিরভাগ মানুষের কাছে সত্য মনে হয়। যার ওপর ভর করে একটি রাষ্ট্রের সরকারের মত একটি প্রতিষ্ঠান উৎখাত হতে পারে। এরই মধ্যে প্রকাশ্য হয়েছে যে, তারা এই কাজটি করার জন্যে দির্ঘদিন প্রস্তুতি নিয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষের মন ও মনন বিশ্লেষণ করেছেন। অতঃপর বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্যে মাঠে নেমেছেন। এখানে তাদের বিদ্বেষ ছড়ানোর আরও উদাহরণ দেয়া যেতো। সেটা প্রাসঙ্গিকও হতো। কিন্তু সেই ছোট্ট গবেষণাটি আমার পাঠকের জন্যেই রেখে দিলাম। কারণ তার হাতের কাছেই ইন্টারনেট। আমি যা দেবো, এক ক্লিকেই তিনি তার ১০গুণ বেশি দেখে নিতে পারবেন।

যাই হোক। যে কেউ একটি সরকার বা মত, দর্শন কিম্বা ব্যক্তির বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারেন। লিখে, বলে, অবস্থান নিয়ে বা যে কোন উপায়ে এর প্রতিবাদ করতে পারেন। তিনি তার মতের পক্ষে জনমত গঠন করতে পারেন। খুব কড়া যুক্তি দিয়ে, তথ্য দিয়ে সমালোচনা করতে পারেন। ধরা যাক একটি রাজনৈতিক দল একটি দেশের সরকার পরিচালনা করছে। পরিচালনা করতে গিয়ে তারা কিছু অনিয়ম করছে। যার প্রভাবে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। কেউ যদি এর সালোচনা করতে চান, তাহলে তিনি সেই অনিয়ম নিয়ে কথা বলবেন। নিয়মটা কী হওয়া উচিত সেটাও বলবেন প্রকাশ্যে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, নিজের মত প্রতিষ্ঠায় তারা আর যাই করুণ বিদ্বেষ ছড়াতে পারবেন কী? কারণ বিদ্বেষ ছড়ালেই তো প্রশ্ন উঠবে কাজটি তিনি কেন করছেন? উদ্দেশ্য কী? নানা আপত্তি উঠবে। গুতেরেসের এত কথা বলার পর সেই আপত্তি, আর কারও ব্যক্তিগত আপত্তি নেই। হয়ে গেছে সভ্যতা রক্ষার আপত্তি। পাঠক ভাবুন, বিদ্বেষের মত ভয়ঙ্কর বিষ ছড়ানোর দরকার হয় কখন? যখন একটি সত্যের ওপর মিথ্যার প্রলেপ দেয়ার দরকার। আর বিদ্বেষ ছড়িয়ে যদি দুর্বৃত্ত সফল হয়ে যায় সেই প্রলেপযুক্ত মিথ্যাটি বর্তায়, যাদের মধ্যে সেটি ছড়িয়েছে, তাদের ওপর। যেটা ওই মানব গোষ্ঠীর জন্যে বছরের পর বছর কাঁধে বয়ে বেড়ানোর শঙ্কা তৈরি হয়।

কিন্তু সবচেয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য হচ্ছে, আমরা চাইলেই এখনই এই বিদ্বেষ ছড়ানো বন্ধ করতে পারবো না। অনলাইনে তো আরও না। জাতিসংঘের বার্তা অনুযায়ী কাজ চলছে প্রতিরোধের। কিন্তু কবে নাগাদ মানুষ এই বিদ্বেষ বার্তা থেকে সুরক্ষা পাবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। তাহলে উপায় কী? এরকম চলতেই থাকবে? ততদিনে যে ক্ষতি হবে এর দায় কে নেবে? সুতরাং আমাদের বিদ্বেষ ছড়ানো বন্ধের তাৎক্ষণিক সমাধান চাই।

আমি প্রচলিত গণমাধ্যমে কাজ করছি ২৫ বছরের বেশি। আমার চিন্তা বলে, এই বিদ্বেষ নিয়ে প্রথম প্রতিরোধটা আসা উচিত প্রচলিত গণমাধ্যমের কাছ থেকে। কোন বার্তা ছড়ালেই সেটা সমাজের জন্যে বিদ্বেষ কী না তাদেরকেই প্রথম চিহ্নিত করতে হবে। কারণ তারা ওই সমাজের মানুষ নিয়েই কাজ করে। সামাজের আদি নাড়ি নক্ষত্র তাদের জানা। আমি যুদ্ধে নামতে বলি না। শুধু বলি বিদ্বেষটা কেন ছড়ানো হলো? কে ছড়ালো? কী ভাবে ছড়ালো? কিসের বিনিময়ে ছড়ালো ? সত্যটা কী? এরকম কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলেই হবে। মাধ্যমটা যেহেতু “গণ” সেহেতু “গণ” এর প্রতি তাদের একটা দায় আছে বৈকী?

তবে ইচ্ছে থাকলেও গণমাধ্যমের পক্ষে অনেক সময় এই দায় নেয়া অসম্ভব হতে পারে। কারণ একটি গণমাধ্যমে কিছু প্রচার হতে হলে, প্রমাণ অপ্রমাণের বিষয় থাকে। তথ্য সূত্র লাগে। পক্ষ বিপক্ষ লাগে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মত সে চাইলেই কিছু একটা লিখে দিতে পারে না। যে কারণে অনেক বিষয় সত্য বুঝতে পারলেও, সে সত্য প্রকাশ করতে পারে না। এক্ষেত্রে শেষ ভরসা সমাজের মানুষ। আমি মানুষের বোধের ওপর সবচেয়ে বেশি ভরসা করি। তাই যেসব মানুষ দাবি করেন, তাদের বোধ শক্তি প্রখর তাদেরই বিদ্বেষ রোধে এগিয়ে আসতে হবে। আমি তাকেও যুদ্ধে নামতে বলি না। শুধু বলি, আগে নিজে বিষয়টি বুঝুন এবং যিনি বোঝেন না তার সঙ্গে আলোচনা করুন। জাতিসংঘও কিন্তু বিদ্বেষ ছড়ানো বন্ধের জন্যে মিডিয়া লিটারেসি বা গণমাধ্যম স্বাক্ষরতার কথা বলছে। এই মিডিয়া লিটারেসি আসলে বোধ সম্পন্ন মানুষের সংখ্যা বাড়ানো ছাড়া আর কিছু নয়।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী।




চুয়াডাঙ্গাতে সড়ক দুর্ঘটনায় মেহেরপুরের যুবক নিহত

চুয়াডাঙ্গায় মোটরসাইকেল-পাখিভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এজাজ আহমেদ রাজা (২৪) নামে যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার (৫ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে আলুকদিয়া বাজার সংলগ্ন জ্যোতি মিলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মুরসালিন হোসেন (৩৫) নামে পাখি ভ্যান চালক। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাব্বুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত এজাজ আহমেদ রাজা মেহেরপুর সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামের আলফাজ উদ্দিনের ছেলে। আহত মুরসালিন হোসেন চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার খাঁপাড়া গ্রামের খেদের আলীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে দ্রুত গতির একটি মোটসাইকেল ও পাখি ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী ও পাখি ভ্যান চালক উভয়ই মারাত্মক ভাবে আহত হন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মোটরসাইকেল আরোহীকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত পাখি ভ্যান চালককে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাব্বুর রহমান জানান, নিহতের মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। এ ঘটনায় আইনগত বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




এই অবরোধে মানুষের আগ্রহ নেই, আছে বিরক্তি

আজ রোববার থেকে শুরু হয়েছে বিএনপির ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ। গত ২৮শে অক্টোবর সমাবেশ শেষে, ৩১শে অক্টোবর থেকে ২রা নভেম্বর ৩ দিনের অবরোধ শেষে এই অবোরোধের ডাক দেয়। যদিও ২০১৮ সালে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ডাকা লাগাতার অবরোধ এখনো চলছে। কারণ তিনি সেই অবরোধ শেষ করার ঘোষণা দেননি। পল্টন মোড়ের পানের দোকানদার ইস্রাফিল মোল্লা জানান, ৫ বছর আগের সেই অবরোধ বিএনপি দাপ্তরিক ভাবে না তুলে নিলেও তার মত ছোট ব্যবসায়ীসহ বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ জীবনের তাগিদে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করে নিয়েছিলেন। এবারো বিএনপির কর্মসূচির সেই অবস্থা হবে বলে আভাস দেন ইস্রাফিল।

কবে থেকে মানুষ আস্থা হারালো অবরোধের মত কর্মসূচীতে? এই প্রশ্নের জবাবে, সাবেক ছাত্রলীগ এবং বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতা হাসান তারেক জানান, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে সবচেয়ে বড় বিবর্তন দেখা যায় ২০১৪ সালের বিএনপির ডাকা টানা অবরোধ কর্মসূচী থেকে। সেই প্রথম অবরোধের নামে শুরু হয় আগুন সন্ত্রাস। পেট্রোল বোমা, অকটেন দিয়ে চলন্ত যাত্রীবাহী বাস পুড়িয়ে দেয়া। অবরোধ না মানলে জনসাধারণের উপর হামলা, জানমালের ক্ষতি, রাষ্ট্রীয় সম্পদের উপর হামলা এবং সর্বোপরি পুলিশের উপরে হামলা করতে দেখা যায় বিএনপির কর্মী সমর্থকদের।

শুধু ২০১৪ সালের নির্বাচন পূর্ব আর নির্বাচন উত্তর কর্মসূচীতে ২০০’শর বেশি সাধারণ মানুষ আগুনে পুড়ে মারা যায়। পুলিশ মারা যায় প্রায় ৭০ জনের মতো। আবার সেই অবরোধ শুরু হলো। এরইমধ্যে চোরাগোপ্তা হামলাও শুরু হয়ে গেছে। ২০২৩ সালে এসে সেই একই ধারা বজায় রেখেছে তারা। কোনো মিছিল নেই, কোথাও রাস্তায় জড়ো হয়ে বসে থাকা নেই। কোথাও জনসম্পৃক্ততা নেই, কোন পোস্টার নেই, কোন লিফলেট নেই, শুধু হুটহাট করে গোপনে কয়েকজন বিএনপির দলীয় কর্মী এসে অতর্কিত হামলা করে আগুন দিয়ে আবার পালিয়ে যায়।

গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী গত ২৯, ৩০ ও ৩১ শে অক্টোবরের অবরোধে, গাড়ি পোড়ানো হয়েছে ৩১ টি। মারা গেছেন ২ জন পুলিশ অফিসার আর ৩ জন পথচারী। বিভিন্ন জায়গার চোরাগোপ্তা হামলা এবং আগুন ধরাতে গিয়ে জনগণের রোষানলে পড়ে আটক হয়েছে একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী।

হাসান তারেক আরও জানান, ২০২৩ সালে এসেও দেখা যাচ্ছ, জনসম্পৃক্ততাহীন বিএনপি শুধু একটিই প্রতিবাদের ভাষা বোঝে- সেটা হচ্ছে সন্ত্রাস। একদিকে তারা গণমানুষের অধিকারের সাথে সম্পৃক্ত এমন কোন দাবি সৃষ্টি করতে পারছে না, যাতে জনগন স্বেচ্ছায় সম্পৃক্ত হবে বা অংশগ্রহন করবে। দ্বিতীয়ত, তারা চেষ্টা করছে সরকার ও প্রশাসনকে ভয় দেখাতে ও জনগণের ক্ষতি করে সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করতে। এই দুই কারনেই তারা বেছে নিয়েছে আগুন সন্ত্রাস বা সহিংস সন্ত্রাসের মতো কর্মকাণ্ড। চোরাগোপ্তা হামলা করে, পুলিশ বা জনসাধারণকে হত্যা করে তারা চাইছে জান মালের উপর হুমকি সৃষ্টি করতে।

ইদানিং কালের অবরেধ নিয়ে, একজন বামপন্থী সাবেক ছাত্র নেতা বললেন, সাধারণ মানুষের দাবী-দাওয়া পূরণের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার ছিল অবরোধ। বিএনপি জামায়াতের অপব্যবহারের কারণে এই কর্মসূচিটি খেলো হয়ে গেছে। অথচ বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধিকার আন্দোলনের ক্ষেত্রে ৬৬, ৬৯, ৭০ সালে তথা মুক্তিযুদ্ধের আগে অবরোধ করে পাকিস্থানি সামরিক শাসকের ভীত নাড়িয়ে দিয়েছিল বাঙালি। ৭১’এর ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ঘোষনার পর বাঙালি সর্বাত্মক অবরোধের মাধ্যমে, কার্যত বাংলাদেশ অচল করে দিয়ে স্বাধীনতার ভীত রচনা করে। বাংলার প্রতিটি মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন ছিল সেই কর্মসূচির প্রতি।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও দেখা যায় মানুষের অধিকার আদায়ে কার্যকর হরতাল ও অবরোধের মত কর্মসূচি। ৯০ এর দশকের পত্রপত্রিকায় দেখা যায়, অবরোধ হয়েছে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পতনের দাবিতে। তখন অবরোধের দিনে রিকশা ছাড়া কোন যানবাহন চলতো না ঢাকা শহরে। ‘৯৬ সালেও আওয়ামী লীগের ডাকা অবরোধে কার্যত অচল হয়ে যেতো ঢাকা শহর। ২০০৪ সালে সেসময়ের বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড দিয়ে হত্যার চেষ্টা এবং ২২জন আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীকে হত্যার প্রতিবাদে যে অবরোধ করেছিল আওয়ামী লীগ তাতেও মানুষ সর্বাত্মকভাবে অংশ নিয়েছিল। সেই সহিংসতার প্রতিবাদে সেদিন কোন সন্ত্রাস হয়নি। রাজনৈতিকভাবেই প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমেছিল হাজার হাজার মানুষ।