দর্শনা ওয়াল্টন প্লাজার আর্থিক সহায়তা প্রদান ও দোয়া মাহফিল

দর্শনা ওয়াল্টন প্লাজার পণ্যক্রয় করে মারা যাওয়া একটি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত হয়েছে।

আজ বুধবার বিকাল ৪ টায় দর্শনা বাসস্ট্যান্ড পাড়ায় এ আর্থিক সহায়তা প্রদান ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত হয়।

দর্শনা বাসস্ট্যাান্ড পাড়ার মৃত আব্দুস ছাত্তার মাষ্টারের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪৫) দর্শনা ওযালটন প্লাজা থেকে ৫ হাজার ৬৪০ টাকা মূল্যের একটি ব্লেন্ডার কিস্তিতে ক্রয় করেন। এ মাল ক্রয়ের পর দুটি কিস্তি দেওয়ার পরে তিনি মৃত্যু বরণ করেন।

এ বিষয়ে দর্শনা ওয়ালটন প্লাজা থেকে কিস্তিতে পণ্য ক্রয় করে মারা যাওয়ার পর কিস্তি ক্রেতা ও পরিবার সুুরক্ষা নীতির আওতায় মৃত সাইফুল ইসলামের পরিবারেেক আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। দর্শনা ওয়ালটন প্লাজার আর্থিক ৫০ হাজার টাকার সহায়তা গ্রহণ করেন মৃত সাইফুল ইসলামের স্ত্রী। মৃত বরণকারী সাইফুল ইসলামের বড় ভাই ফরহাদ হোসেনের উপস্থাপনায় উপস্থিত থেকে আলোচনা করেন, ঝিনাইদহ জোনের জোনাল সেলস ম্যানেজার সাব্বির হোসেন, জোনাল ক্রেডিট ম্যানেজার জুনায়েদ নোমানী, দর্শনা ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজার বেনজীর আহাম্মেদ।

এসময় জোনাল ক্রেডিট ম্যানেজার জুনায়েদ নোমানী বলেন,বিশ্বে একমাত্র ইলেকট্রিক এ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স কোম্পাানী ওয়ালটনই সর্বপ্রথম কিস্তি ক্রেতা ও পরিবার সুুরক্ষা নীতির আওতায় অনাদায়ী কিস্তির টাকা মওকুফ সহ মৃত ব্যক্তির পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে এবং পরবর্তীতে এই সহায়তা আরো বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।

জীবননগর ওয়ালটন প্লাজার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ সহ উক্ত প্লাজার কর্মচাারীবৃন্দ। এসময় অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন দর্শনা বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাও. ওসমানন গণি।




মেহেরপুর জেলা ছাত্রলীগের বর্ণাঢ্য র‍্যালি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সাফল্য ও উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিতে মেহেরপুর জেলা ছাত্রলীগের বর্ণাঢ্য র‍্যালির আয়োজন করেছে মেহেরপুর জেলা ছাত্রলীগ।

বুধবার বিকেলে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে মেহেরপুর জেলা ছাত্রলীগের বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বড়বাজার চৌরাস্তার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

মেহেরপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুস সালাম বাঁধনের নেতৃত্বে মেহেরপুর সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি খন্দকার জুলকার নাইম বাইজিদ, গাংনী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসিফ ইকবাল অনিক, বারাদি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আল মামুন, মহাজনপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইমাম হোসেন ইমন, শ্যামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান সহ জেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গঠনে শেখ হাসিনা সরকারের অবদান

বাংলাদেশ আয়তনে ছোট এবং অধিক ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হলেও স্বাধীনতা পরবর্তী ৫২ বছরে সারা বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল ও ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন। জাতির সংকটকালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি উন্নয়নে যে রূপ রেখা দিয়েছিলেন পরবর্তীকালে তার সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা তা বাস্তবে রূপান্তর করে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে প্রকট খাদ্য সমস্যা দেখা দেয় এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সেই সংকট অবশ্য প্রথম বছরেই কাটিয়ে উঠে বাংলাদেশ। তারপর বিভিন্ন সময় পাকিস্তানি ভাবধারার বেশ কয়েকটি সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনায় বাংলাদেশ আবারও পথ হারায়। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর খাদ্য সংকট নিরসনে কাজ শুরু করে। অতঃপর খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য শেখ হাসিনার সরকার দক্ষ হাতে দেশ পরিচালনা করতে থাকেন । এরই ধারাবাহিকতায় আবারও প্রাণ ফিরে পায় দেশের কৃষিতে এবং শুরু হয় খাদ্য উৎপাদনে সবুজ বিপ্লব। এরফলে ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। এজন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) কর্তৃক মর্যাদাপূর্ণ সেরেস পদকও পান। কিন্তু ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামায়াত-বিএনপি জোট সরকারে শাসনামলে সেই স্বপ্নগুলো আবারও ধাক্কা খায়। পুনরায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে ২৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতিসহ সরকার পরিচালনা শুরু করেন। ২০১৩ সালে এসে আবারও দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। সে বছর খাদ্য উদ্বৃত্তও হয়। এর পরের বছর থেকে দেশের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত চাল বিদেশেও রফতানি শুরু হয়। শেখ হাসিনা সরকারের সাফল্যের ধারাবাহিকতা কৃষিতে কৃতিত্ব এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পরিসংখ্যানেই পরিলক্ষিত হয়।

স্বাধীনতার ৫০ বছরে কৃষিতে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। একদিকে কৃষিজমি কমেছে, অন্যদিকে কয়েকগুণ বেড়েছে জনসংখ্যা। তবুও খাদ্যের কোনো অভাব নেই। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের খাদ্য সঙ্কটের বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল।

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য এক নজরে সরকারের অবদানগুলো:

১.খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের স্থান দশম। এক ও দুই ফসলি জমিগুলো অঞ্চল বিশেষে প্রায় চার ফসলি জমিতে পরিণত করা হয়েছে এবং দেশে বর্তমানে ফসলের নিবিড়তা ১৯৪ শতাংশ।

২.২০১৮ সালে সার খাতে ৫৮ হাজার ৯ শত ৪৫ কোটি টাকা আর্থিক সহযোগিতা দেয়া হয়েছে।

৩.২০০৮-০৯ অর্থবছর হতে কৃষি প্রণোদনা/পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে ৮২৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ৭৪ লাখ ৫৪ হাজার ৩১৩ জন কৃষক উপকৃত হয়েছে।

৪.প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া এবং বিভিন্ন ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

৫.২ কোটি ৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৭ জন কৃষককে কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড প্রদান করেছে।

৬.১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ করে দেয়ায় ১ কোটি ১ লাখ ১৯ হাজার ৫৪৮টি ব্যাংক হিসাব খোলা সম্ভব হয়েছে।

৭.ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ। লবণাক্ততা, খরা, জলমগ্নতা সহনশীল ও জিংকসমৃদ্ধ, ধানসহ এ পর্যন্ত ধানের ১০৮টি উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে।

৮নিবিড় সবজি চাষের মাধ্যমে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৫৪ হাজার মেট্রিক টন সবজি উৎপাদন করে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

৯.আম উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম। দেশে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১২.৮৮ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়েছে।

১০.কৃষি পণ্য রফতানি থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৬ শত ৭৩ দশমিক ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে।

১১.২০০৮-০৯ অর্থবছরে ধান, গম, পাট, ভূট্টা, আলু, সবজি, তৈল ও মসলাসহ বিভিন্ন ফসলের গুণগত মানসম্মত বীজ সরবরাহের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮ শত ৭৪ মেট্রিক টন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৯ হাজার ৯ শত ২২ মেট্রিক টনে।

১২.২৮ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ১২টি আলুবীজ হিমাগার নির্মাণ এবং ৪টি টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে।

১৩.২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট ১৪ হাজার ৫ শত ২০ দশমিক ৪২ কোটি টাকার কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

১৪.বর্তমানে ৬.৪০ লাখ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার আধুনিক খাদ্য গুদাম/সাইলো নির্মাণের লক্ষ্যে কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

১৫.দেশের উত্তরাঞ্চলে ১.১০ লাখ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন খাদ্যগুদাম নির্মাণ করা হয়েছে।

১৬.সারাদেশে ১০০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষম ৭০ টি গুদাম এবং ৫০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষম ১৩০টি গুদাম নির্মাণ।

১৭.মংলা বন্দরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন কনক্রিট গ্রেইন সাইলো নির্মাণ।

১৮.ভিজিডি, ভিজিএফ, জিআর ইত্যাদি খাতে ২০১৬-১৭ অর্থ-বছরে ৮.৩৭ মেট্রিক টন পরিমাণ খাদ্যশস্য সরবরাহ।

১৯.২০১৫ সালে শ্রীলংকায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন চাল রপ্তানি।

২০.২০১৬ সালে নেপালে ২০ হাজার মেট্রিক টন চাল সাহায্য হিসেবে প্রেরণ।

২১. ২০১৬ সাল হতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ১০ টাকা কেজিতে বিতরণের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

ড. মোঃ আশরাফুজ্জামান জাহিদ,সহযোগী অধ্যাপক, পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়




বিদেশে কৃষি পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের সাফল্য

সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশকে প্রকৃতির লীলানিকেতন বলা যায়। অপূর্ব সৌন্দর্যে, শস্য-সম্পদে ও নানা প্রকার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ভরা এইরূপ দেশ পৃথিবীতে বিরল। ফুলে-ফলে ও সৌন্দর্যে ভরা বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে মুগ্ধ হয়ে দ্বিজেন্দ্রনাথলাল রায় লিখেছিলেন-
“ ধনধান্য পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা
তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা,
ও সে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ স্মৃতি দিয়ে ঘেরা।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
ও সে সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি।“

যে জাতি হাজার বছর ধরে পরাধীনতার গ্লানি লালন-পালন ও বহন করে আসছিল , সেই জাতিকে সুসংগঠিত করে একখণ্ড স্বাধীন ভূমি উপহার দেন- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। গর্বের আত্মপরিচয় হিসেবে জাতি লাভ করে, লালসবুজ পতাকা- জাতীয় সঙ্গীত-রণ সঙ্গীত। সেই মহানায়ক পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১০ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে পা রাখেন। স্বাভাবিকভাবেই দেশ শাসনের ভার জাতি তাঁর ওপর অর্পণ করে। সদ্য স্বাধীন রক্তঝরা, মুক্তিযুদ্ধে বিধ্বস্ত একটি দেশ। হাজারো সমস্যা, আর্থিক দৈন্যতা, নেই মূলধন, নেই বৈদেশিক মুদ্রা। অপরদিকে পরাজিত শক্তির উৎকট ঝামেলা, দেশ-বিদেশের গভীর ষড়যন্ত্র।

সকল প্রতিহিংসা উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২-৭৩ আর্থিক বছর প্রথম বাংলাদেশের বাজেট পেশ করেন। বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা উন্নয়ন খাতের মধ্যে ১০১ কোটি টাকা রাখেন কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে। সেই বাজেট কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের মাইলফলক।বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার অন্যতম ভিত্তি ছিল কৃষি।তাই তো স্বাধীনতার ঊষালগ্নে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে তিনি দেশে সবুজ বিপ্লবের/ কৃষি বিপ্লবের ডাক দেন।শুরু হয় কৃষিতে গ্রামীণ উন্নয়ন আর আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার।মওকুফ করেন ২৫ বিঘা পর্যন্ত খাজনার দায়।প্রত্যাহার করেন লাখ লাখ কৃষি ঋণের সার্টিফিকেট মামলা,ভূমিহীন কৃষকের নামে বিতরণ করা হয় খাসজমি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে সরকার গঠনের পরপরই কৃষিকে অগ্রাধিকারভুক্ত খাত হিসেবে চিহ্নিত করেন। সদ্য স্বাধীন দেশের ৩০ লাখ টন খাদ্য ঘাটতি পূরণে বঙ্গবন্ধু তাৎক্ষণিক আমদানির মাধ্যমে এবং স্বল্প মেয়াদে উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদ, উন্নত বীজ, সেচ ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করে এবং কৃষিঋণ মওকুফ, সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার ও খাসজমি বিতরণ করে কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জনের চেষ্টা করেন। বঙ্গবন্ধু বলতেন, ‘একটা স্বল্প সম্পদের দেশে অনবরত কৃষি উৎপাদন-হ্রাসের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে না। দ্রুত উৎপাদন বৃদ্ধির সকল প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে। চাষিদের ন্যায্য ও স্থিতিশীল মূল্য প্রদানের নিশ্চয়তা দিতে হবে।’

১৯৭৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,ময়মনসিংহে বঙ্গবন্ধুর বজ্রকন্ঠে ঘোষিত হয়- কৃষিবিদদের আর্থ-সামাজিক মর্যাদার স্বীকৃতি -প্রথম শ্রেণির পদ মর্যাদা।সেদিন বাকৃবির আকাশে -বাতাসে ভেসে ওঠে “বঙ্গবন্ধুর অবদান,কৃষিবিদ ক্লাসওয়ান।”বঙ্গবন্ধু সেদিন বলেছিলেন, ‘আমি তোদের পদমর্যদা দিলাম, তোরা আমার মান রাখিস’। তখন থেকে কৃষিবিদরা প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা লাভ করেন। শিক্ষার্থীদের সেদিন কাগজ কলম বইয়ের পাশাপাশি প্যান্ট- কোট খুলে গ্রামে কৃষকদের সঙ্গে কাজ করার আহবান জানিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে সেদিন বলেছিলেন সবুজ বিপ্লব ব্যতিত দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসস্পূর্ণতা অর্জন করেছে। তার শুরুটা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু এবং তার অসমাপ্ত কাজটুকু সম্পন্ন করেছেন তারই সুযোগ্য উত্তরসূরী কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণই নয়, বরং আজ কৃষি পন্য বহিবিশ্বে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। আজ কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথ ধরে তাঁর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন দীর্ঘ ২১ বছর পর সরকার গঠন করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার কর্মসূচি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তখন দেশে খাদ্য ঘাটতি ছিল প্রায় ৪০ লাখ মেট্রিক টন। বাজেটে কৃষি গবেষণার জন্য একটি পয়সাও কোনো বরাদ্দ ছিল না। সে বছর ১২ কোটি টাকা শুধু কৃষি গবেষণার জন্য বরাদ্দ করা হয় এবং পরবর্তী বাজেটে ১০০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ পায় কৃষি এবং আইসিটি এই দুই সেক্টর। শুরু থেকেই কৃষি গবেষণাকে সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। ফলে পরবর্তী পাঁচ বছরে উন্নয়ন-অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে অর্জিত হয় চমকপ্রদ সাফল্য। প্রথমবারের মতো দেশ খাদ্যে নির্ভরশীলতা অর্জন করে।

২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বিএনপি-জামাত জোট সরকার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আবারো দেশের কৃষিতে স্থবিরতা নেমে আসে। ২০০২ সালে দানাজাতীয় খাদ্যের উৎপাদন ২ কোটি ৬৮ লাখ টন থেকে নেমে আসে ২ কোটি ৬১ লাখ টনে। আবারো শুরু হয় নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারা।২০০৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বে যখন দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে তখন খাদ্য ঘাটতি ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নির্বাচনী ইশতেহার ‘দিন বদলের সনদ’ অনুযায়ী ‘রূপকল্প ২০২১’ প্রণয়ন করা হয়। পাশাপাশি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয় কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে।

আওয়ামীলীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকি প্রদান, ১০ টাকায় কৃষকের জন্য ব্যাংক হিসাব চালুকরণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, কৃষিতে প্রণোদনা প্রদান, সার বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাসহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ফলশ্রুতিতে ২০১৩ সালে এসে দেশ শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতাই অর্জন করেনি, খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত হয়। এসডিজি কে সামনে রেখে ২০০৯ সালে উন্নয়নের যে অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল তার গতি ও পরিধি সরকারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় মেয়াদে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়।

দ্বিতীয় মেয়াদে প্রণীত হয় (২০১৪-১৮) সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা। এরই অংশ হিসেবে রূপকল্প ২০২১ এবং রূপকল্প ২০৪১ এর আলোকে জাতীয় কৃষিনীতি, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট, ডেল্টাপ্লান ২১০০সহ নানা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। দেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্যমোচন ও রপ্তানি আয়ে মৎস্য খাতের অবদান আজ সর্বজনস্বীকৃত। জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ মৎস্য উৎপাদন করেছে ৪৭ দশমিক ৫৯ লাখ টন। এ সময় ৭৪ হাজার ৪২ টন মৎস্য পণ্য রপ্তানি করে ৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। মৎস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০৪১ সালে দেশে মাছের উৎপাদন দাঁড়াবে ৯০ লাখ টন।

বাংলাদেশ হতে নানাবিধ কৃষিপণ্যসমূহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এরমধ্যে পাট ও পাটজাত দ্রব্য, চা পাতা, আম, কাঁঠাল, লেবু, লিচু, লটকন, আমড়া, পেয়ারা, শুকনা বরই, হিমায়িত সবজি আলু, কচু, পটল, মুখীকচু, লাউ, পেঁপে, শিম, করলা, কাকরুল, চিচিঙ্গা, মিষ্টি কুমড়া, গুড়া মসলা, কালিজিরা, হলুদেপরীক্ষাগারের অভাব, বিমানবন্দরে হিমাগারের পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকা, বিভিন্ন কৃষিপণ্যের কাক্সিক্ষত জাতের অভাব, ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেট প্রাপ্তি সহজীকরণ ইত্যাদি। গুণগত মানসম্পন্ন ও নিরাপদ সবজি ফল উৎপাদন, শ্যামপুরস্থ প্যাক হাউজের কার্যকর ব্যবহার, বিমানে কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে স্পেস বৃদ্ধি, কৃষিপণ্যর জন্য বিমান বন্দরে পৃথক গেট ও স্ক্যানার মেশিন স্থাপন করা, বিমানবন্দরে ইঅউঈ-এর ক্লোড বেটারেজের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ, বিমান ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে আনা, কৃষিপণ্য পরিবহনের সুবিধা বৃদ্ধি, পণ্য রপ্তানির জন্য প্যাকেজিং এর মান বৃদ্ধি, আলুর উন্নত জাতের সরবরাহ বৃদ্ধি, বিদেশস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তা বৃদ্ধি, দেশে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পরীক্ষাগার তৈরি ইত্যাদি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি এদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানীতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করতে পারে।

লেখক- সহকারী অধ্যাপক,ফিশারিজ বিভাগ ও প্রভোস্ট (ভারপ্রাপ্ত),মির্জা আজম হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়




২৮ অক্টোবর ঢাকায় নৈরাজ্যের পরিকল্পনা করছে বিএনপি-জামায়াত

আগামী ২৮ অক্টোবর নিয়ে উদ্বেগে আছে ঢাকাবাসী। যদিও আইনশৃঙ্খলা রাক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তারা গণমাধ্যম কর্মীদের বলছেন ভয়ের কিছু নেই। তারা সব সময় মানুষের পাশে আছে। কেউ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করলে সমস্যা নেই। কিন্তু মানুষের জানমাল ক্ষতি করার চেষ্টা করলে তা শক্ত হাতে প্রতিরোধ করা হবে।

কী নিয়ে এত উদ্বেগ, জানতে চাওয়া হয়েছিল পল্টন এলাকার একজন ফুটপাথের ব্যবসায়ীকে। তিনি জানান, তাদের সামনে ভাসছে আজ থেকে ১৭ বছর আগে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ভয়ঙ্কর স্মৃতি। সেদিন যেদিন পুরো রাজধানী রণক্ষেত্রে পরিণত করেছিল ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের কর্মীরা। সেদিনের বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিক দলগুলোর ওপর চড়াও হয়েছিল ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে থেকে আসা বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা।

ওই সময়ের গণমাধ্যমগুলোতে দেখা যায়, শুধু ২৮ অক্টোবরই নয়, ২৯ অক্টোবরও দেশজুড়ে সহিংসতা হয়। এই সিহিংসতা সারাদেশে শুরু হয়েছিল, আগেরদিন, অর্থৎ ২৭ অক্টোবর। তিন দিনের ওই সংঘর্ষে সারাদেশে অন্তত ২৩ জন মারা যান। এরমধ্যে ২৮ অক্টাবরেই নিহত হন ১১ জন।

নিরপেক্ষ-নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক অধীনে নির্বাচন, বিএনপির চেয়ারপারসনের মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানো এবং সরকার পতনের দাবিতে বিএনপি আগামী ২৮ অক্টোবর শনিবার রাজধানীতে মহাসমাবেশ ডেকেছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা দিয়েছেন, এই দিন থেকে শুরু হবে সরকার পতনের মহাযাত্রা। তাই বিএনপির পাশাপাশি তাদের জোট শরিক জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দলগুলোও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সমাবেশের ডাক দিয়েছে।

এদিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহউদ্দিন নাছিম জানান, বিএনপিসহ বিরোধীদলের নৈরাজ্য, অগ্নিসন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও করার পরিকল্পনা করছে। তাই আওয়ামী লীগও রাজপথ পাহারায় থাকবে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম গণমাধ্যমে জানান, ২০১৭ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপি-জামায়াত জোট ঢাকার রাজপথ নিজেদের দখলে রাখতে মরিয়া হয়ে ওঠেছিল। অপরদিকে আওয়ামী লীগ সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নেমেছিল বিএনপির ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার প্রতিবাদে। তারা ওই দিন পল্টন ময়দানে সমাবেশের ডাক দিলে বিএনপির, জামায়াত, শ্রমিকদলসহ সরকার সমর্থক বিভিন্ন সংগঠন পল্টন, বায়তুল মোকাররামের দক্ষিণগেটসহ বিভিন্ন এলাকা নিজেদের দখলে রাখতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তখনই আওয়ামী লীগ ও তাদের জোট শরিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। তাণ্ডব হয় গোটা নগরীতে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হাবিবুর রহমান জানান, ২৮ অক্টোবর রাজধানীবাসীর নিরাপত্তায় ১০ হাজারেরও বেশি পুলিশ মোতায়েন থাকবে। ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে কঠোর নজরদারি করা হবে। যাতে কেউ আগ্নেয়াস্ত্র কিংবা জনস্বার্থ বিঘ্নিত করে- এমন ধরণের অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করতে না পারে। তিনি আরও জানান, রাজধানীর গুরুত্ত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে জলকামান, বেরিকেড, সাঁজোয়া যান, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড নিয়ে প্রস্তুত থাকবে আইনশৃংখলাবাহিনী। গণপরিবহনে তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করা হবে।

র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, ওই দিন পুলিশের পাশাপাশি সক্রিয় থাকবে র্যাব। রাজনৈতিক দলগুলো যাতে শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের কর্মসূচি পালন করতে পারে সে জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আর ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, দিনটিকে ঘিরে নাশকতার আশঙ্কা নেই। যদিও আশঙ্কা ধরে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী নানা নিরাপত্তা পরিকল্পনা করে। ২৮ অক্টোবর সব দল যেন নির্বিঘ্নে কর্মসূচি পালন করতে পারে, সেই ব্যাপারে আরও নানা পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।




মেহেরপুরে সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরে তাঁতী লীগের আনন্দ র‍্যালি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরে আনন্দ র‍্যালি ও লিফলেট বিতরণ করেছে সদর থানা তাঁতী লীগ।

আজ বুধবার বিকালে শহরের কাথুলী সড়ক থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শিল্পকলা একাডেমি মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

মেহেরপুর জেলা তাঁতী লীগের সভাপতি নুর ইসলাম সুবাদের নেতৃত্বে জেলা তাঁতী লীগের সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম মানিক, সদর থানা তাঁতী লীগের আহবায়ক রতন শেখ, সদস্য সচিব মিজানুর রহমান আবু, মুজিবনগর উপজেলা তাঁতী লীগের আহ্বায়ক মোঃ খালেক, মেহেরপুর পৌর তাঁতী লীগ সভাপতি মো: রাজিব, সাধারণ সম্পাদক রক্তিম, আমদহ ইউনিয়ন তাঁতী লীগ সভাপতি রবিউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো: সুমন, মহাজনপুর ইউনিয়ন তাঁতী লীগ সভাপতি মো: আক্কাস আলী, সাধারণ সম্পাদক ইসরাফিল, মোনাখালী ইউনিয়ন তাঁতী লীগ সভাপতি সাহেব জোয়াদ্দার, সাধারণ সম্পাদক জমির, তাতী লীগ নেতা মো: বিজন, পালু শেখ মেম্বার, ফয়সাল, মনিসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা অংশ র‌্যালীতে অংশ নেন।




ঝিনাইদহে পাচঁ বছরের সাজা প্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার

মাদক মামলার পাঁচ বছরের সাজা প্রাপ্ত আসামি টিপু সুলতানকে গ্রেফতার করেছে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীন উদ্দিন জানান, গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে সাজাপ্রাপ্ত পালাতক আসামি টিপু সুলতান ডিসি কোট এলাকায় অবস্থান করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিত্বে এএসআই সোহাগ হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বুধবার দুপুরে তাকে গ্রেফতার করে। সে এসসি- ৪৮৮/১৭, ঝি:জিআর- ১০৪/১৭, ১৯৯০ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯ (১) এর ৯ (খ) ধারার পাঁচ বছরের সাজা প্রাপ্ত আসামি।

টিপু সুলতান সদর উপজেলার ব্যাপারীপাড়্ াএলাকার (কোরবানের বাড়ির ভাড়াটিয়া) ও মৃত আব্দুল গাফফারের ছেলে। গ্রেফতারকৃত টিপু সুলতানকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।




সমাবেশ ঘিরে কোন সহিংসতা করা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

বিএনপি জামায়াতের কাছে দেশ নিরাপদ নয়। তারা আগামীতে ক্ষমতায় এলে দেশে হত্যাযজ্ঞ চালাবে, আগামী ২৮ অক্টোবর বিএনপি সমাবেশ ঘিরে কোন সহিংসতা করা হলে সরকার ও দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বুধবার দুপুরে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণে নব-নির্মিত ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিরোধীরা যারা দেশের উন্নয়ন চায়নি। যারা দেশে অগ্নিসন্ত্রাসী, গ্রেনেড হামলা, লুটপাট করেছে তারা আবারো একই চিন্তা চেতনা নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। তাই আমাদের সাবধান হতে হবে। আগামী নির্বাচনে আবারো নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘২৮ অক্টোবর বিএনপি সমাবেশ ঘিরে কোন সহিংসতা করা হলে সরকার ও দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপিকে বার বার নির্বাচনে আসার জন্য বার বার আহ্বান করা হচ্ছে। তাদের কোন কর্মসূচীতে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে না। তারা জনগণের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে আমরা দলীয় ভাবেও প্রস্তুত আছি। আমরা রাজনৈতিকভাবে সবকিছুই মোকাবেলা করবো।’

ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা: শুভ্রা রানী দেবনাথ’র সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ্িস্থত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল আজম খান চঞ্চল, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের সচিব জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম,অতিরিক্ত সচিব সাইফুল্লাহিল আজম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডাঃ রাশেদা সুলতানাসহ স্থানীয় প্রশাসনের নেতৃবৃন্দ। নব-নির্মিত ভবন উদ্ভোধনের আগে আয়োহক ও অতিথিরা মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। বিকেলে মহেশপুরের ভৈরবায় ২০ শয্যা হাসপাতালের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।




মহাসমাবেশ সফল করতে মেহেরপুরে বিএনপির প্রস্তুতি সভা, সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

২৮ অক্টোবর ঢাকার মহাসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে মেহেরপুরে বিএনপি’র এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বুধবার বিকাল পাঁচটায় মেহেরপুর কাথুলী সড়কের একটি কমিউনিটি সেন্টারে এ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মেহেরপুর ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি মাসুদ অরুণের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সভাপতি মেহেদী আহমেদ রুমি।

জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেনের সঞ্চালনায় বিশেষ বক্তা হিসেবে রয়েছেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জাবেদ মাসুদ মিলটন। প্রস্তুতি সভায় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে। তবে প্রস্তুতি সভা থেকে কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা জানা যায়নি।

তবে, প্রস্তুতি সভায় সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে জানান জেলা বিএনপির সভাপতি মাসুদ অরুন। তিনি বলেন, প্রস্তুতি সভাটি ঘরোয়া। যে কারণে সাংবাদিকদের প্রবেশ না করতে অনুরোধ করা হয়েছে।




মেহেরপুরে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রকল্পের শিক্ষক ও সুপারভাইজারদের মাসিক সমন্বয় সভা

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন কর্মসুচীর আওতায় মেহেরপুর সদর উপজেলার শিক্ষক ও সুপারভাইজারদের নিয়ে মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল বুধবার সকাল ১০ টার দিকে আমঝুপিতে মউকের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মউকের নির্বাহী প্রধান আশাদুজ্জামান সেলিমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন মেহেরপুর জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক শেখ সুরুজ্জামান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মুরাদ হোসেন। কর্মসুচীর ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার সাদ আহম্মেদ।

সভায় বর্তমান শিখন কেন্দ্র গুলোর শিখন শেখানো অবস্থা, কেন্দ্রের পড়া লেখার মান যাচাইসহ কেন্দ্রের পরিবেশ ও ছাত্র ছাত্রীর উপস্থিতি বিষয়ে আলোচনা করা হয়। মেহেরপুর সদর উপজেলার ৭০ জন শিখন কেন্দ্রের শিক্ষক ও সুপারভাইজারগণ অংশগ্রহণ করেন।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহযোগিতায় মানব উন্নয়ন কেন্দ্র মউক মেহেরপুর জেলায় আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন কর্মসুচী বাস্তবায়ন করছে।