ঝিনাইদহে ভাগ্নেকে খুনের দায়ে মামার মৃত্যুদন্ড

মহেশপুরে ভাগ্নেকে খুনের দায়ে মামা আব্দুল জলিল সরকারকে মুত্যুদন্ড দিয়েছে ঝিনাইদহের দায়রা জজ আদালতের বিচারক।

আজ সোমবার দুপুরে ঝিনাইদহ সিনিয়র দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ নাজিমুদ্দৌলা এ রায় প্রদান করেন। দন্ডপ্রাপ্ত আব্দুল জলিল সরকার মহেশপুর উপজেলার ঘুগরী গ্রামের দুলু সরকারের ছেলে।

মামলার সংক্ষিপ্ত রায়ে জানা যায়, মহেশপুরের ঘুগরী গ্রামের দুলু সরকারের মেয়ের সাথে রইচ উদ্দিনের বিয়ে হয়। সেখানে একটি পুত্র সন্তান হয়। মা শিখা বেগম এক বছর পরে ছেলে সাইদুর রহমান রানাকে রেখে অন্যত্রে বিয়ে করে। আবার বাবাও অন্যত্রে বিয়ে করে। ফলে রানা তার নানা বাড়ীতে থেকে যায়। ২০১১ সালের মাঝামাঝি সময় নানা দুলু সরকার ইচ্চাকৃত ভাবে নাতিকে ৪ কাঠা জমি রেজিষ্ট্রী করে দেয়। এরপর থেকে মামা জলিলের সাথে ভাগ্নের রানার শত্রুতা বেড়ে যায়। জলিল তার পিতা-মাতাকে মারধর করতে শুরু করে।

একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ২০১৩ সালের ১০ আগষ্ট সন্ধ্যার পরে বাড়ীর সামনের রাস্তার উপর কুপিয়ে রক্তাক্ত করে জখম করে ভাগ্নে রানাকে। চিকিৎসার জন্য মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যায় রানা। ঐদিন রাতেই রানার পিতা বাদী হয়ে আব্দুল জলিল সরকারের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৩০২ ধারার একটি মামলা দায়ের করে মহেশপুর থানায়। তদন্ত শেষে একমাত্র আসামী মোঃ আব্দুল জলিল সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন পুলিশ। আদালতে দীর্ঘ দিন ধরে বিচার কার্য অনুষ্ঠিত হয়।

আজ সোমবার এ রায় প্রদান করা হয়। রায়ে দোষী সাব্যস্ত করে আব্দুল জলিলকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করে আদালত। এছাড়াও তিন লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য় করে আদালত। এ মামলার আসামী আব্দুল জলিল সরকার পলাতক রয়েছে।




আলমডাঙ্গায় জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযান ও আলোচনা সভা

আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে জাতীয় ইঁদুর নিধন অফিযান- ২০২৩ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়েছে।

‘ইঁদুরের দিন শেষ, গড়বে সোনার বাংলাদেশ ‘ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে কৃষি অফিসের হলরুমে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি অফিসার রেহানা পারভীন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের উপ-পরিচালক বিভাষ চন্দ্র রায়। তিনি বলেন- আপনারা জানেন ইঁদুর প্রতিবছর কত মেট্রিক টন ধান নষ্ট করে। সরকার ইঁদুর নিধন কল্পে পুরস্কার ঘোষণা করেছেন,আপনারা যদি ২শত থেকে ৫শত ইঁদুর মেরে তার লেজ কেটে কৃষি অফিসে জমা দেন তাহলে আপনাকে কৃষি সম্প্রসারণ অফিস থেকে পুরস্কৃত হবেন ,শুধু তাই নয় জাতীয় পর্যায় থেকেও আপনি পুরস্কৃত হতে পারেন,তাই সরকারের সম্পদ বাঁচাতে সকল কৃষক, কৃষানী ইঁদুর নিধনে সামিল হবেন।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক(উদ্যোন)মোমরাজ আলী, উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াহরদ,খালিদ সাইফুল্লাহ, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হামিদুল ইসলাম আজম, সিনিয়র সাংবাদিক প্রশান্ত বিশ্বাস, তানভীর সোহেল প্রমুখ।

এছাড়াও  সভায় শতাধিক কৃষক, কৃষানী উপস্থিত ছিলেন।




গাংনীর নবীনপুরে দোয়াত আলী মাদ্রাসার শুভ উদ্বোধন

গাংনী উপজেলার নবীনপুর ধলার মাঠে দোয়াত আলী মাদ্রাসার শুভ উদ্বোধন করেছেন মেহেরপুর -২ গাংনী আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন। আজ সোমবার বিকেলে তিনি মাদ্রাসার উদ্বোধন করেন।

মাদ্রাসার পরিচালক দোয়াত আলীর সভাপতিত্বে আলোচনায় বক্তব্য রাখেন নওয়াপাড়া গ্রামের প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা জাবের আলী মন্ডল,সুজন আলী,রাইফেল আলী,আওয়ামীলীগ নেতা মনিরুজ্জামান মাস্টার ও মনিরুজ্জামান আতু প্রমুখ।

গাংনী সরকারি ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক নাসিরুদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহিদুজ্জামান খোকন বলেন, বর্তমানে অন্যান্য শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। ধর্মীয় শিক্ষায় মানুষের মধ্যে মানবিক গুণাবলী তৈরি হয়। হাদিস এবং কোরআনের প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হলে মানুষ কখনো অপরাধ করবে না। মানুষের দ্বারা মানুষ কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কোরআনের প্রকৃত ব্যাখ্যা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিলে মানুষের মধ্যে ভাতৃত্ববোধ তৈরি হবে।
তিনি আরো বলেন,বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অন্যান্য শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি অনেক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। মাদ্রাসা সহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং নতুন নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে যা অন্যান্য সরকারের আমলে হয়নি। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কারো কাছে হাত না পাতারও আহবান জানান তিনি।

এ বিষয়ে এমপি সাহিদুজ্জামান খোকন বলেন,সবচেয়ে নেককারজনক ঘটনা হচ্ছে মানুষের কাছে হাত পাতা। মুসলমান জাতি সর্বোচ্চ জাতি। সকল ধর্মের চেয়েও মুসলমান ধর্ম বড়। তাই মুসলমান কখনো কারো কাছে হাত পেতে ছোট হবে না। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নিয়ে মানুষ অনেক কটুক্তি করে সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শিক্ষার্থীদের দিয়ে কখনো কারো কাছে হাত পেতে ছোট করবেননা। তাদেরকে অনেক বড় মানুষ বানাতে সাহায্য করবে মাদ্রাসা শিক্ষকরা। সে ব্যাপারে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবেন। নতুন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রতি তিনি সহযোগিতা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন বলেও তিনি বক্তব্য দেন। সেই সাথে নতুন এই ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ সাফল্য কামনা করেন।




মুজিবনগরে ডেন্টাল স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

মুজিবনগরে গুডনেইবারর্স বাংলাদেশ মেহেরপুর সিডিপি এর আয়োজনে, কমিউনিটির সুবিধাবঞ্চিত মানুষ বিশেষ করে মহিলা ও বাচ্চাদের দাঁতের রোগের চিকিৎসা এবং ডেন্টাল স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সোমবার সকালে গুডনেইবারর্স এর বল্লভপুর প্রজেক্ট অফিস চত্বরে এই ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।

দিন ব্যাপী কমিউনিটির সুবিধাবঞ্চিত মহিলা ও শিশুদের দাঁতের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দেন মো: কামরুল হাসান রিদয় (বিডিএস, পিজিটি- রাজশাহী)

এ সময় সিডিপি ম্যানেজারঃ বিভব দেওয়ান গুড নেইবারস বাংলাদেশ এর মেডিকেল অফিসার শুভ কুমার মজুমদার হেলথ অফিসার আহসানুল হক উপস্হিত ছিলেন।




সিলেটে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেবে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক

ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ব্রাঞ্চ ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেবে। আগ্রহী যোগ্য প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

যোগ্যতা

প্রার্থীকে যেকোনো বিষয়ে ন্যূনতম স্নাতক পাস হতে হবে । বয়সসীমা: ২০ নভেম্বর, ২০২৩ইং তারিখে সর্বোচ্চ ৫০ বছর। অভিজ্ঞতা: স্বনামধন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকে স্থায়ীকর্মী হিসেবে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কাজ করার পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অন্যথায়, আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে ।

বেতন

বেতন ও পদমর্যাদা নির্বাচিত প্রার্থীদের কর্মক্ষেত্রে পূর্ব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।

কর্মস্থল

সিলেট

আবেদন প্রক্রিয়া

আগ্রহী প্রার্থীরা

যোগ্য ও আগ্রহী প্রার্থীদেরকে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নিয়োগ সংক্রান্ত নির্ধারিত ওয়েবসাইট http://app.dutchbanglabank.com/Online_Job -এ অনলাইনে আবেদন করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। সম্প্রতি তোলা স্ক্যানকৃত ছবিসহ জাতীয় পরিচয়পত্র, সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, অভিজ্ঞতার সনদ এবং সর্বশেষ পে-স্লিপ এর স্ক্যানকৃত কপি আবেদনের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।

আবেদনের শেষ তারিখ

২০ নভেম্বর ২০২৩

সূত্র : বিডিজবস




বাইডেনের তথাকথিত উপদেষ্টা সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার মিয়ান আরেফি আটক

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টার মিথ্যা পরিচয় দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করার ঘটনায় মিয়ান আরেফি, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল হাসান সারওয়ার্দী এবং বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

গতকাল  রবিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে মহিউদ্দিন শিকদার নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে পল্টন থানায় এ মামলা করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগ এনেছেন বাদী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ডিএমপির মিডিয়া উইং।

আমেরিকার পাসপোর্টধারী মিয়ান আরেফির প্রকৃত নাম মিয়া জাহিদুল ইসলাম আরেফি। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়। শনিবার বিএনপির কার্যালয়ে মিথ্যা পরিচয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার পর রোববার বিকেলে তিনি দেশছাড়ার চেষ্টা করলে তবে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশে সোপর্দ করে।

২৮ অক্টোবর বিশৃঙ্খলার কারনে বিএনপির মহাসমাবেশ পন্ড হওয়ার পর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে অবঃ লেফটেন্যান্ট জেনারেল হাসান সারওয়ার্দী এবং বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে কিছু সংবাদমাধ্যমের সামনে মিয়ান আরেফি নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয় দেন।এসময় তিনি বলেন পুলিশ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইন ও বিচার বিভাগের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তার সরকারের (যুক্তরাষ্ট্র) কাছে সুপারিশ করেছেন।এসময় মিয়ান আরেফি তার বক্তব্যে দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার দিনে ১০ থেকে ১৫ বার যোগাযোগ হয় এবং মার্কিন সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে। তিনি মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকেও বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন।

উল্লেখ্য ওই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কাকরাইল মোড় থেকে আরামবাগ মোড় পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। তারা প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবনসহ সরকারি স্থাপনা এবং সরকারি গাড়িসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করে। এতে পুলিশের এক সদস্য নিহত ও পুলিশের ৪১ সদস্য আহত হন। সেসময় দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে ৩০ জন গণমাধ্যম কর্মী আহত হন। একপর্যায়ে বিকেল ৩টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা মহাসমাবেশ স্থগিত ঘোষণা করেন।

মামলার এজাহারে বলা হইয়েছে, ওই সংবাদ সম্মেলনে একপর্যায়ে মিয়ান আরেফির বক্তব্য শুনে এবং ভিডিও দেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটে।হাসান সারওয়ার্দী এবং ইশরাক হোসেন তাকে মিথ্যা বক্তব্য দিতে সহযোগিতা করেন এবং তার বক্তব্য সমর্থন করে বিএনপি নেতাকর্মীদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতিতে উসকানি দেন। মিয়ান আরেফি তাদের সহায়তায় সরকারের প্রতি বিদ্বেষ সৃষ্টি করে সারা দেশে নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। বিএনপি নেতাকর্মীদের মনোবল বাড়াতে আসামিরা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ করেছেন।




বিএনপি কী গণমাধ্যম বিমুখ হলো?

একজন নয় দু’জন নয় ২জন সাংবাদিক বিএনপি কর্মীদের হামলায় আহত! অবাক না হয়ে উপায় কী? একজন দু’জন হলে না হয় বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়া যেতো। কিন্ত সংখ্যাটা যখন এত বেশি তখন বলতেই হবে সাংবাদিকদের ওপর বিশেষ ক্ষোভ রয়েছে বিএনপি কর্মীদের। শুধু তাই নয়, বলতে হবে এই হামলা পরিকল্পিত এবং নির্দেশিত। কিন্তু কেন? সাংবাদিকদের সঙ্গে তো রাজনৈতিকে কর্মীদের শত্রুতা থাকার কথা নয় বরং বন্ধুত্ব থাকার কথা। যুগে যুগে তাই ছিল। কিন্তু কেন জানি, এই ২৮শে অক্টোবরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এবং ৯০ এর গণঅভ্যূত্থানের ধারাবাহিকতা ভাঙলো।

আমাদের প্রচলিত পদ্ধতি হচ্ছে, কোন রাজনৈতিক দল যেটা করবে সাংবাদিক সেটা প্রচার করবে। সারাদেশের মানুষ তাদের মাধ্যমেই কী হয়েছে সেটার একটা চিত্র পাবে এবং তার এই মুহূর্তের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু ২৮শে অক্টোবর আমরা কী দেখলাম? দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে একের পর এক সাংবাদিকের ওপর হামলা করা হলো। মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হলো। টেলিভিশনের গাড়ি ভাঙা হলো। অদ্ভুদ। আগে কখনো এরকম দেখেছি বা শুনেছি বলে আমি মনে করতে পারছি না।

একদল লোক যাদের কাজ তথ্য সংগ্রহ করা এবং ছবি তোলা। তারা নানা ঘটনার ছবি তোলে এবং তথ্য সংগ্রহ করে। পরে এই ছবি এবং তথ্য মিলিয়ে মানুষকে খবর জানায়। তাহলে কী এখন আমরা বলবো গণমাধ্যমকে বিএনপির দরকার নেই? আমার মনে হয়, সেটা বলার যায়। কারণ আমরা জানি, গত দুই মাস ধরে বিএনপি দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা দেশের অন্যতম দুটি টেলিভিশনে যাবে না এবং কথা বলবে না।

দুই টেলিভিশনের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখার সিদ্ধান্তটা অবশ্য প্রকাশ্য। গণমাধ্যমের প্রতি কোন রাজনৈতিক দলের এমন প্রকাশ্য বিদ্বেষ অবশ্য বিরল। কিন্তু কাজটি তারা করছে। সেই ধারাবাহিকতায় চিন্তা করলে বলা যায়, সাংবাদিকদের প্রতি বিএনপি কর্তৃপক্ষের বিদ্বেষ রয়েছে। আরও বলা যায় এই বিদ্বেষ সদ্য নয়। বেশ পুরোনো। না হলে একদিনেই ২৭ জন সাংবাদিকের ওপর হামলার সিদ্ধন্ত নেয়া যায় না।

আমি আহত কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের বেশিরভাগই ফটো সাংবাদিক। তারা প্রত্যেকেই কাজ করছিলেন। অর্থাৎ এই হামলা মাঠে কর্মরত সাংবাদিকের ওপর হামলা। যারা হামলা শিকার হয়েছেন, তারা নিজের পরিচয় লুকাননি। যে কারণে বিএনপি কর্মীদের হামলার জন্যে তাদের খুঁজে বের করতে দেরি হয়নি। পরে কেউ কেউ অবশ্য পরিচয় লুকিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন।

২৮শে অক্টোবর নিশ্চয়ই সাংবাদিকরা বার্তা পেয়ে গেছেন যে, এখন থেকে বিএনপির খবর সংগ্রহ করতে হলে সাবধানে করতে হবে। সেই সাবধানতা বিএনপির জন্যে কতটুকু ভালো হবে, আমি জানি না। কিন্তু সাংবাদিকদের অনেকেই বিএনপির কর্মসূচির্ খবর সংগ্রহ করার ঝুঁকি নিতে চাইবেন না, এটা এখন স্বাভাবিক। এই সরল সত্য বোঝার ক্ষমতা বিএনপি নেতাদের নেই, সেটা ভাবতে চাই না।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কেন বিএনপি প্রচলিত গণমাধ্যমকে এমন বার্তা দিল? তারাতো একটি রাজনৈতিক দল। নিজেদের কথা তো বলতেই হবে। তাহলে মাধ্যমটি কী হবে? এখনতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়া, আমি কোন মাধ্যম দেখছি না। তারা যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নির্ভর হয়ে পড়েছে, সে নিয়ে অবশ্য সন্দেহ থাকার কথা নয়। সেকথা পাঠক্ও নিশ্চই জানেন। কিন্ত প্রচলিত গণমাধ্যম ফেলে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নির্ভর কতটা ঠিক হলো?

চরিত্র অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে যা খুশি তাই বলা যায়। কিন্তু একজন গণমাধ্যম কর্মী কখনই যা খুশি তা বলতে পারেন না। কিছু বলতে হলে তাকে নানা পদ্ধতির মধ্য দিয়ে বলতে হয়। তার ক্লু লাগে সোর্স লাগে। নিশ্চিত হওয়ার দরকার পড়ে। তাই একজন সাংবাদিক যেটা বলেন সেটার ওপর মানুষ ভর করতে পারেন। কিন্তু সত্যের জন্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধমের ওপর ভরে করলে সেই ফল যে খুব ভালো হওয়ার কথা নয়, তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না।

সা্ংবাদিক তার কাজের পদ্ধতির কারণে হয়তো বিএনপিকে খুশি করতে পারছে না। যেকারণে তারা আজ প্রচলিত গণমাধ্যম বিমুখ। এখন বিএনপির এই প্রচলিত গণমাধ্যম বিমুখতার সূত্র ধরে কেউ যদি বলে, এই মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধেমে সরকার বিরোধী যত প্রপাগাণ্ডা এসবই বিএনপির পরিকল্পিত তিনি কী ভুল বলবেন? কেউ যদি বলেন সাংবাদিকদের হামলার পরিকল্পনা এবং সরকার বিরোধী প্রপাগাণ্ডার পরিকল্পনা একই সূত্রে গাঁথা, তিনিও কী ভুল বলবেন?

তাদের কথা ভুল না ঠিক সেটা আমার মূল আলোচনা নয়। মূল কথা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর ভর করে বৈতরনী পার হওয়া যাবে না। কারণ তারা একটি রাজনৈতিক দল। সাধারণ মানুষের কল্যাণের কথা বলে তাদের জন্ম। কিন্তু আমাদের এখনকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভরকেন্দ্র হচ্ছে ঘৃণা। এই ঘৃণা দিয়ে আর যাই হোক, মানুষের কল্যাণ করা যায় না।

এই লেখা লিখতে লিখতেই খবর পেলাম, শনিবারের সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের পররাষ্ট্র দপ্তরের মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া বিভাগ এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা বলেছে, ২৮ অক্টোবর ঢাকায় যে রাজনৈতিক সহিংসতা হয়েছে তা অগ্রহণযোগ্য। সাংবাদিকদের ওপর হামলাসহ প্রতিটি সহিংসতা পর্যালোচনা করা হবে। সম্ভাব্য ভিসা নিষেধাজ্ঞার জন্য এই সহিংসতা আমলে আসবে। আপাতত আর কিছু বলতে চাই না। শুধু বলি, মাথাভরা ঘৃণা থাকার ফল যে ভাল কিছু আনে না, তা প্রমাণের জন্যে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো না।

লেখক: গণমাধ্যম কর্মী।




কিংবদন্তি ম্যারাডোনার জন্মদিন আজ

সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনার ৬৩তম জন্মদিন আজ। কিন্তু এই কিংবদন্তি এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে। প্রায় তিন বছর আগে চলে গেছেন পৃথিবী ছেড়ে। ১৯৬০ সালের এই দিনে (৩০ অক্টোবর) আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেস প্রদেশের লানুস শহরে জন্মগ্রহণ করেন ম্যারাডোনা। সেদিন কে জানতো সদ্যভূমিষ্ট এই শিশুকে দেওয়া হয়েছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুরধার মেধা আর ইতিহাসের অন্যতম সেরা বাম পা!

কারো কাছে তিনি আবার পরিচিত সাক্ষাৎ ঈশ্বর হিসেবেও। আবার কারো কাছে তিনি বিদ্রোহী। যেভাবেই ডাকা হোক না কেন, তিনি দিয়েগো ম্যারাডোনা। বল পায়ে দক্ষ নিয়ন্ত্রণ, চিতার বেগে ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়াসহ আরও অনেক ঐতিহাসিক মুহূর্ত আর গোল বিশ্বসেরা ফুটবলারের বিতর্কে তাকে রেখেছে বেশ উঁচু স্থানে।

১৯৮৬ বিশ্বকাপে তার অসাধারণ নৈপুণ্যে দ্বিতীয় বারের মত বিশ্বকাপ জেতে আর্জেন্টিনা। সেই আসরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন ‘হ্যান্ড অব গড গোল’ ও শতাব্দীর সেরা গোলটি। এরপর ১৯৯০ বিশ্বকাপেও দলকে তুলেছিলেন ফাইনালে। সেইবার আর দলকে বিশ্বকাপ জিতাতে পারেনি ম্যারাডোনা। ২০ বছরের আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ক্যারিয়ারে আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা মোট গোল করেছেন ৩৪৬টি।

মাত্র দুই দশকের পেশাদার ক্যারিয়ারে ম্যারাডোনা খেলেছেন ছয়টি ক্লাবে। ১৬ বছর বয়সে পা দেওয়ার ঠিক দশদিন আগে নিজ শহরের ক্লাব আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের হয়ে অভিষেক হয়েছিল তার। বর্তমানে তাদের হোম গ্রাউন্ডের নামকরণ করা হয়েছে ম্যারাডোনারই নামে।

ক্লাব ক্যারিয়ারে বোকা জুনিয়র্স, বার্সেলোনা, নাপোলিসহ নানা ক্লাবে খেলেছেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো নাপোলিকে একক কৃতিত্ব চ্যাম্পিয়ন করা। তিনি ক্লাবটির অধিনায়কত্ব গ্রহণ করে ক্লাবটিকে নিয়ে যান ইতিহাসের সফলতম পর্যায়ে।

ফুটবল বিশ্বের অনন্য এই জাদুকরের মৃত্যু ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর। তার মৃত্যুর পরেই নাপোলি শিরোপা জিতেছে, আর্জেন্টিনা জিতেছে বিশ্বকাপ। ম্যারাডোনা তার জীবদ্দশায় সেই অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখতে পারেননি। জন্মদিনে এটিই হয়ত আর্জেন্টিনার ভক্তদের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ।

সূত্র: ইত্তেফাক




পুরোনো স্মার্টফোন দিয়ে ভালো ছবি তোলার কৌশল

স্মার্টফোন কেনার পর কয়েক বছরের ব্যবধানে এর কার্যক্ষমতা অনেকটাই কমে আসে। বিশেষ করে সেলফোনের ক্যামেরা দিয়ে আর ভালো ছবি তোলা যায় না। অনেকের ক্যামেরা ঘোলা হয়ে যায়। তবে শুধু ডিভাইস পুরোনো হলেই যে ছবি ঝাপসা হয় তা নয়। এর পেছনে আরও কিছু কারণ রয়েছে।

ব্যবহারকারীদের কিছু ভুল বা গাফিলতির কারণেও ডিভাইসের ক্যামেরা দিয়ে ভালো ছবি তোলা যায় না। তবে এ সমস্যার সমাধান রয়েছে। কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখলে পুরোনো ডিভাইস দিয়েও উন্নতমানের ছবি তোলা সম্ভব।

প্রথমেই সেলফোনে থাকা ক্যামেরা লেন্স ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। দীর্ঘদিন ডিভাইস ব্যবহার করলেও ক্যামেরার অংশ পরিষ্কারের বিষয়ে অধিকাংশ মানুষই অসচেতন। পরিষ্কার না থাকলে ক্যামেরার লেন্স ঘোলা হয়ে যায় এবং ছবি ঘোলা ওঠে। তাই ক্যামেরা ঘোলা হয়ে গেছে কিনা সেটি যাচাই করতে হবে এবং মাইক্রোফাইবার দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

অন্ধকারে বা কম আলোয় ছবি তোলা সবসময়ই কষ্টসাধ্য। সে সময় ছবি ঘোলা আসা স্বাভাবিক। তাই পর্যাপ্ত আলো না থাকলে ছবি না তোলাই ভালো। এজন্য সেলফোনে ব্রাইটনেস বাড়িয়ে দেওয়া যায়। এতে করে যে ছবিটি তোলা হয়েছে তা সহজে বোঝা যাবে। ছবির মানও ভালো থাকবে।

ছবি তোলার আগে ডিভাইস ক্যামেরার সেটিংস দেখতে হবে। বর্তমান সময়ের স্মার্টফোনে পোর্ট্রেইট, ল্যান্ডস্কেপ, নাইট মোডসহ বিভিন্ন অপশন রয়েছে। একেক সময়ে ছবি তোলার জন্য এসব অপশন ব্যবহার করা যায়। তবে রাতে ছবি তোলার জন্য নাইট মোড ব্যবহার করা ভালো।

হাই কনট্রাস্টে ছবি তুলতে হলে এইচডিআর মোড নির্বাচন করে নিতে হবে। এছাড়া ফটোতে ক্লিক করার সময় স্ক্রিনে ট্যাপ করে ম্যানুয়ালি এক্সপোজার ও ফোকাস ঠিক করুন। এতে ছবি ভালো আসবে।

সূত্র: ইত্তেফাক




নিখোঁজের চারদিন পর অটোচালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী গ্রামের বিজন (২৬) নামের এক ইজি বাইক চালকের নিখোজ হওয়ার চারদিন পর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিজন মোনাখালী গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।

গতকাল রবিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশে খবর দিলে মুজিবনগর থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌছে লাশ উদ্ধার করে। তবে কি কারণে এ হত্যা তা পুলিশ এখনো জানাতে পারেনি।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে বিজন তার ইজিবাইকে কয়েক ব্যক্তিকে চুয়াডাঙ্গা চুয়াডাঙ্গা নিয়ে যায়। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। একদিন পর পরিবারের পক্ষ থেকে মুজিবনগর থানায় অভিযোগ করতে গেলে বলা হয় চুয়াডাঙ্গা থানায় অভিযোগ করার জন্য।ঘটনার পরদিন মুজিবনগর উপজেলার ভবানন্দপুর গ্রামের মাঠ থেকে ইজিবাইকটি উদ্ধার করা হলেও তখন বিজনের কোন সন্ধান মেলেনি।

মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদি রাসেল বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর আমাদের তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান ছিলো। তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান আছে, যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে হবে। ‘

মেহেরপুর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি সাইফুল আলম বলেন,’ অভিযোগের পর অটোচালক বিজনের ফোন বন্ধ ছিল। তবে আমরা তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তদন্তে অনেকটা অগ্রসর হয়েছি। অপরাধীদের শীঘ্রই আইনের আওতায় আনা হবে।’