চুয়াডাঙ্গা জেলা রোভারের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ স্কাউটস চুয়াডাঙ্গা জেলা রোভার আয়োজনে প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার সকাল সাড়ে দশটার সময় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে এই প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

চুয়াডাঙ্গা জেলা রোভারের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নিগার সিদ্দিক ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আবু নাসিরের সভাপতিত্বে প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও চুয়াডাঙ্গা জেলা রোভারের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. এ কে এম সাইফুর রশিদ।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা রোভারের সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাহিদুল হাসান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক সফিকুল ইসলাম,চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. আব্দুল আজিজ, চুয়াডাঙ্গা জেলা রোভারের সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ জাহিদুল হাসান।

এ সময়ে আরোও উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা রোভারের রোভার নেতা প্রতিনিধি ও বড়শলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রী কলেজ রোভার স্কাউটস গ্রুপের ইউনিট লিডার আব্দুল মুকিত জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা জেলার রোভারের কোষাধ্যক্ষ ও আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ রোভার স্কাউটস গ্রুপের ইউনিট লিডার মাকসুদুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা জেলা রোভারের সহকারী কমিশনার ও প্রাইম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট রোভার স্কাউটস গ্রুপের ইউনিট লিডার এমদাদ হোসেন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপের ইউনিট লিডার আজিম হোসেন, দর্শনা ডিএস ফাজিল মাদ্রাসা রোভার স্কাউটস গ্রুপের ইউনিট লিডার মুনজুরুল হক সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আগত রোভার স্কাউটস ইউনিট লিডার ও রোভার স্কাউটের সদস্যবৃন্দ।

প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় মোট ১১টি ইভেন্টে রোভার সদস্যরা অংশগ্রহণ করে।উক্ত প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা রোভারের রোভার নেতা প্রতিনিধি আব্দুল মুর্কিত জোয়ার্দার, জেলা রোভারের সহকারী কমিশনার এমদাদ হোসেন, দর্শনা ডিএস ফাজিল মাদ্রাসার ইউনিট লিডার মুনজুরুল হক। জেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ রোভাররা বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করবে




ঝিনাইদহে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শ্যামা পূজা অনুষ্ঠিত

ঝিনাইদহে উদযাপন করা হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ উৎসব শ্যামা পূজা। ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন হাটখোলা শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী জেলা কালীমন্দিরে রোববার সকাল ৯ টা দিকে এ পূজা শুরু করা হয়। এসময় প্রদীপ উজ্জ্বলন করেন শ্রী বাবু কনকান্তি দাস।

হিন্দু সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব এই পূজা। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে সাধারণত শ্যামা পূজা বা কালীপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। রোববার সকাল ৯ টা থেকে পূজা শুরু হয় রাত ৮ টা ১০ মিনিটে প্রদীপ প্রজ্জলন করা হয়। এছাড়া রাত ১২টা ৩০ মিনিটে পুষ্পা(পাঠা) বলি শুরু হয়। পরে ভক্তরা ফলসহ বিভিন্ন উপকরন দিয়ে নৈবেদ্য সাজিয়ে দেবীকে অর্পন করেন। এ সময় উলু ধ্বনি, শঙ্খ, ঘণ্টা ও ঢাকের আওয়াজে মুখোরিত হয়ে ওঠে মন্দির।

অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আজিম উল আহসান, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আরতী দত্ত, ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের যুব ক্রীড়া সম্পাদক মামুনুর রশিদ টোকন, মন্দিরের সভাপতি পঞ্চরস পোদ্দার, সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত দেবুসহ আরো অনেকে ।

পূজার আয়োজক সভাপতি, ও সাধারণ সম্পাদক জানান, শ্যামাপূজা উপলক্ষে মন্দিরে স্থাপন করা হয়েছে কালী প্রতিমা। আলোক সজ্জা ও নাচ গানে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ছে মন্দিরে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও আয়োজন করা হয়েছে নানা আনুষ্ঠানিকতা।

পরিশেষে ভক্তদের মাঝে শাড়ি বিতরণ ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।




কার্পাসডাঙ্গায় শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি সনদ ও পুরষ্কার বিতরণ

কার্পাসডাঙ্গা ইসলামিয়া প্রি ক্যাডেট বেবী টিচিং সেন্টার কতৃক আয়োজিত সরকারি বৃত্তি সনদ ও পুরষ্কার বিতরণ করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইসলামিয়া প্রি ক্যাডেট বেবী টিচিং সেন্টারের অত্র প্রতিষ্ঠানের পরিচালক  মওলানা আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে আজ রবিবার সকাল ১০  সময় অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা প্রা: শিক্ষা অফিসার আবু হাসান ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল করিম বিশ্বাস, জেলা কিন্ডারগার্টেন এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মামুন উর রশিদ, চুয়াডাঙ্গা সরকারি মহিলা কলেজ প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলম , কার্পাসডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক সাইফুল ইসলাম , চুয়াডাঙ্গা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক আব্দুস সালাম   ।

আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান, সাংবাদিক মেহেদী হাসান মিলনসহ অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষিকা, ছাত্র ছাত্রী ও অবিভাবকবৃন্দ ।

এসময় উপস্থিত অতিথিবিন্দুরা শিক্ষার্থীদের হাতে সরকারি বৃত্তি ও সনদ তুলেদেন ।




চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের গনশৌচাগার থেকে নবজাতক উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের গনশৌচাগার থেকে এক নবজাতক মেয়েকে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (১১ নভেম্বর) রাত আড়াইটার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের পঞ্চমতলার মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের গনশৌচাগার থেকে উদ্ধার করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) এ এস এম ডা. ফাতেহ আকরাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গতকাল শনিবার গভীর রাতে গনশৌচাগার থেকে পাওয়া নবজাতকটি উদ্ধার করে কর্মরত নার্স ও স্বেচ্ছাসেবীরা। বর্তমানে সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে। নবজাতকটি আমাদের সিনিয়র স্টাফ নার্স সাবিনা ইয়াসমিন রেখার কাছে আছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে।

মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবী রেশমা খাতুন ঢাকা রাত আড়াইটার দিকে এক রোগী গনশৌচাগারের যান। সেখানে বাচ্চার কান্নার আওয়াজ শুনে আমাদেরকে জানান। আমি গিয়ে দেখি শৌচাগারের (কমোডের) মধ্যে নবজাতকের মাথা ও বাইরে দেহ ছিল। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা শেষে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ধারণা করা হচ্ছে শৌচাগারে মেয়ে বাচ্চাটি ভূমিষ্ঠ হয়েছে। তবে আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি, বাচ্চার মাকে পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল জুড়ে বইছে সামালোচনা।




গাংনীতে গাঁজাসহ মাদক সেবনকারী আটক

মেহেরপুরের গাংনীতে ১শত গ্রাম গাঁজাসহ মাফিক নামের এক মাদক সেবনকারীকে আটক করেছে বামন্দী ক্যাম্প পুলিশ।

আটকৃত মাফিক (২৫) উপজেলার ছাতিয়ান শেখ পাড়ার মিয়ার রহমানের ছেলে।

আজ রবিবার (১২ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে বামন্দী পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এস আই শরিফুল ইসলাম ও এএসআই শরিফুল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারি মাফিককে আটকরে।

বামন্দী পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বামন্দী-রামগর সড়কের আল-ফালা ক্লিনিকের সামনে থেকে তার দেহ তল্লাশী করে পরনে থাকা প্যান্টের ডান পকেট থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থা (২০ পোটলা) ১০০ গ্রাম গাঁজার উদ্ধার করা হয়। তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাদায়ে পূর্বক জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।




দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম জেনোসাইড জাদুঘর খুলনায়, উদ্বোধন কাল

গণহত্যার ইতিহাসকে শুধু একাডেমিক পরিসরে রাখার পরিবর্তে জনগণের কাছে তুলে ধরার জন্য দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ও একমাত্র গণহত্যা জাদুঘর ‘১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর’আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে আগামীকাল সোমবার। ইতোমধ্যে প্রস্তুতিমূলক সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাস্ট্রিবোর্ডের চেয়াম্যান ড. মুনতাসীর মামুন। এটি বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আনার পথে আরেকধাপ এগিয়ে যাওয়া বলে মনে করছেন মুক্তিযুদ্ধ গবেষকরা।

প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা এর রূপকল্প জানতে চাইলে বলেন, একাডেমিক পরিসরের বাইরে গণহত্যার ইতিহাসকে তুলে ধরার বিভিন্ন সৃজনশীল প্ল্যাটফর্মে কাজ করা এর উদ্দেশ্য। মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যার ইতিহাস রচনাকে ত্বরান্বিত করতে উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সম্ভাব্য গবেষক তৈরি করা হবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের গণহত্যাকে তুলে ধরা এবং স্বীকৃতি অর্জন করার পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ বিভিন্ন নীতি প্রণয়নের জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ সৃষ্টি করবে এই প্রতিষ্ঠান।

’১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর’ শুধু বাংলাদেশেরই নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র গণহত্যা জাদুঘর। ২০১৪ সালের ১৭ মে খুলনা শহরের একটি ভাড়া বাড়ীতে এই জাদুঘর ও আর্কাইভের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই জাদুঘরকে জমি এবং বাড়ী উপহার দেন এবং সেটিকে সংস্কার করে খুলনার ২৬ সাউথ সেন্ট্রাল রোডের নিজস্ব ভবনে গণহত্যা জাদুঘর নতুন করে যাত্রা শুরু করে ২০১৬ সালের ২৬ মার্চ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জাদুঘর ট্রাস্টের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন।
তরুণ প্রজন্মের কাছে একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যার চিত্র তুলে ধরতে জাদুঘরে রয়েছে প্রতীকি বধ্যভূমি। রয়েছে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র। রয়েছে ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে লিখিত প্রেস রিলিস, ১৯৭২ সালে শহিদ পরিবারকে দেওয়া চেক, চিঠিসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুষ্প্রাপ্য সব নথিপত্র ও নিদর্শন রয়েছে। ৭ই মার্চের ভাষণের সেই মাইকটি রয়েছে জাদুঘরে।

জাদুঘরের উদ্যোগ ও বাস্তবতা বিষয়ে জানতে চাইলে মুনতাসীর মামুন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বড় উপাদান গণহত্যা ও নির্যাতনের ইতিহাস। প্রধানমন্ত্রী এগিয়ে না এলে এতো বড় উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের পথে এই প্রকল্প অনন্য উদ্যোগ। এটি এই দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম জেনোসাইড মিউজিয়াম। আমরা এর কাজ করতে পেরে গর্বিত, আনন্দিত। এবং সবচেয়ে বিশেষ দিক হলো, এটি করা হয়েছে ঢাকার বাইরে, খুলনায়। এখন থেকেই এটাকে কেন্দ্র করে গণহত্যা বিষয়ক গবেষণা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথে এগুতে আর বাধা থাকবে না বলে আমি বিশ্বাস করি। এখানে ইতোমধ্যে দেশের বাইরে থেকেও জেনোসাইড বিষয়ক গবেষকরা এসেছেন, বিস্মিত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক সংগঠিত গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধে সর্বসাধারণের অবদানের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বাংলাদেশে ২০১৪ সালের ১৭ মে অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে খুলনার ময়লামোতায় একটি ভাড়া বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর’। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অংশ গণহত্যা-নির্যাতনের দুষ্প্রাপ্য নিদর্শন, মুক্তিযুদ্ধের সময়ের অসংখ্য দুষ্প্রাপ্য ছবি এবং ভাস্কর্য রয়েছে জাদুঘরে। পরবর্তীতে এটিকে আরও সুসংগঠিত করে সোমবার উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।




শেখ হাসিনাতেই আস্থা: মেট্রোরেল চড়লেন প্রায় ৩ শ’ সাংবাদিক

রাজধানীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত প্রায় ৩০০ সাংবাদিক ভ্রমণ করলেন মেট্রোরেল। প্রেস ক্লাব থেকে যাত্রা করে উত্তরার উত্তর স্টেশনে নেমে মেতেছিলেন তুমুল আড্ডায়। সঙ্গে ছিলো সঙ্গীত শিল্পী বৃষ্টি দে’র কণ্ঠে চমৎকার সব গানের পরিবেশনা। প্রায় দেড় ঘণ্টার ওই আড্ডায় যোগ দিয়েছেলেন সিনিয়র সাংবাদিকরাও।

রবিবার সকাল পৌনে ৯টায় প্রেস ক্লাব স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে সোয়া ৯টায় উত্তরা উত্তর স্টেশনে পৌঁছান সাংবাদিকরা।

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার মধ্য মণি প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা। তার হাত ধরেই গত ১৫ বছর বাংলাদেশ শুধু এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে। বাংলাদেশের বদলে যাওয়ার গল্প তার হাত ধরেই। মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু, দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, পায়রা সমুদ্র বন্দর, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দররের তৃতীয় টার্মিনাল, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে শুরু করে এরকম বহু স্থাপনা তৈরি হয়েছে গত ১৫ বছরে। যেগুলো এখন বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন।

বাংলাদেশের এগিয়ে যাওযাকে সমর্থন জানিয়ে শেখ হাসিনাতেই আস্থা রাখতে চান বাংলাদেশের মানুষ। দেশের উন্নয়ন, অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে সাধারণের মত দেশের সাংবাদিক সমাজও ‘শেখ হাসিানেতই আস্থা’ রাখতে চান।

বাংলাদেশ অবজারভারের সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম, বাসসের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ সিনিয়র সাংবাদিকরা।

সকালের নাস্তা শেষে গান পরিবশেন করেন শিল্পী বৃষ্টি দে। গানের শেষে সকল সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় ফটোসেশন। সবেশেষে সাংবাদকিরা সকাল ১১টা ১০ মিনিটের মেট্রোরেল চড়ে আবারও প্রেস ক্লাব আসেন।




কুষ্টিয়ার খোকসাতে আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক ১

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের দেবীনগর গ্রাম থেকে একটি রিভালবার ও ২ রাউন্ড গুলিসহ একাধিক মামলার এক চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে আটক করেছে খোকসা থানা পুলিশ।

রোববার (১২ নভেম্বর) ভোর ৫টার দিকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন- খোকসা উপজেলার উসমানপুর ইউনিয়নের হায়দার মেম্বারের ছেলে মো. ইদ্রিস (৩০)

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খোকসা থানা অফিসার ইনচার্জ মোস্তফা হাবিবুল্লাহ, এসআই আকরামুল হক, সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে খোকসা ওসমানপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া ওয়াজেদ আলীর বসত বাড়ির পশ্চিম পাশে বাঁশ বাগানের মধ্যে অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় রিভলবার ও ২ রাউন্ড গুলি সহ মো. ইদ্রিসকে আটক করেন।

এ বিষয়ে খোকসা থানা অফিসার ইনচার্জ মোস্তফা হাবিবুল্লাহ বলেন মো. ইদ্রিসকে আমরা গতরাতে অস্ত্রসহ আটক করেছি, অস্ত্র মামলায় তাকে রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।




আগে রাতে বাস পুড়িয়ে ভয় দেখিয়ে অবরোধ, মানুষ অতিষ্ট

বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর ডাকা চতুর্থ দফায় দুদিনের অবরোধের প্রথম দিনে রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলো থেকে ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার বেশিরভাগ গণপরিবহন। এছাড়া সকাল থেকে দেখা যায়নি যাত্রীদেরও তেমন আনাগোনা। তবে রাজধানীর ভেতরের জনজীবন অনেকটা স্বাভাবিক ছিলো। রাস্তায় দিনের কাজ করতে বের হওয়া মানুষজন বলছে, অবরোধর আগের দিন রাতে বাস পুড়িয়ে ভীতি সঞ্চার করা হচ্ছে। এই ভয় দেখিয়ে অবরোধ করে জনগনকে পাশে পাচ্ছে মনে করলেও আসলে সমর্থন হারাচ্ছে বিএনপি।

২৮ অক্টোবর বিএনপির সমাবেশের পর চলমান হরতাল ও অবরোধে গত ২৯ অক্টোবর থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত ১২ দিনে ঢাকা মহানগর এলাকায় ৬৪টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এসব ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ড. খন্দকার মহিদউদ্দিন গতকাল শুক্রবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে শনিবার (১১ নভেম্বর) রাত ৮টা ২০ মিনিটে আরামবাগ পুলিশ বক্সের পাশে, সাড়ে ৮টার দিকে গাবতলীর বাস স্ট্যান্ডের সামনে, রাত ৯টার দিকে গুলিস্তান সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটের সামনে এবং রাত সাড়ে ৯টায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ফল-পট্টির সামনে বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর রাতে ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

রবিবার সকালে বাস টার্মিনালে দেখা যায়, যারা জরুরি প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেতে টার্মিনালে এসেছেন, তারাও আতঙ্ক মাথায় নিয়েই অপেক্ষা করছেন বাসের। যদিও কাউন্টারের পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, যাত্রী সংখ্যা একেবারেই নগন্য, তাই বাস ছাড়া যাচ্ছে না। গাবতলী টার্মিনাল থেকে একটি বাসও দুপুর পর্যন্ত ছেড়ে যায়নি। বেশিরভাগ বাস কাউন্টারই ছিল বন্ধ। এছাড়া যারা কাউন্টার খুলে রেখেছেন, তারাও যাত্রী সংকটে অলস সময় পার করছেন। যাত্রী না থাকায় কাউন্টার খোলা রেখে এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি করছেন কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা। আগের রাতে বাস পুড়িয়ে ভয় দেখানোর কারণেই যাত্রীরা আসতে সাহস করছে না বলে মনে করেন তারা।

সকাল থেকে কয়েকভাগে রিক্সা বদল করে কাজের জায়গায় পৌঁছান খন্দকার শাকিব। তিনি বলেন, কোথাও কোন অবরোধের লেশ নেই। দুরপাল্লার যোগাযোগ সম্পন্ন হচ্ছে না। কিন্তু মানুষের মধ্যে এ কর্মসূচি নিয়ে কোন মাথাব্যাথা নেই। তাহলে বারবার একই কর্মসূচি ডেকে তারা কী বুঝাতে চাচ্ছে তা আমাদের বোধগম্য না।

বিদেশ থেকে এসে কুমিল্লা যাবেন রবিউল আলমের পরিবার। তারা রাস্তার পরিস্থিতি কী হবে বুঝতে না পেরে একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রওনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঢাকায় হোটেলে থেকে অবরোধ শেষ হলে যাবেন এমন সিদ্ধান্তও নিতে পারছেন না। কেননা আদৌ অবরোধ নামে এই কর্মসূচি শেষ হবে কিনা তাকে কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি।

আগুন লাগানোর বিষয়টি কীভাবে ঘটছে জানাতে গিয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ড. খন্দকার মহিদউদ্দিন ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দুষ্কৃতকারীরা অনেকটা ফাঁকা বাসে যাত্রীবেশে উঠে এবং তারা পিছনের দিকে ফাঁকা সিটে বসে পড়েন। পরে সময়-সুযোগ বুঝে গাড়িতে আগুন দিয়ে নেমে যায়। গাড়ির পেছন থেকে খুব দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পরে এমন ধরনের দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে তারা। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বিভিন্ন এলাকা থেকে। ঐ সময় তাদের কাছ থেকে পেট্রোল, গান পাউডার, তুলা, পুরোনো কাপড় ইত্যাদি জব্দ করা হয়েছে।




২০৩০ সালের মধ্যে কুষ্ঠ নির্মূল করার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে কুষ্ঠ রোগ নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ উপলক্ষে তিনি কুষ্ঠ রোগীদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক কারখানাগুলোকে উন্নতমানের ওষুধ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কুষ্ঠরোগ নির্মূলে আমরা দৃঢ় অঙ্গীকার করছি।’

রবিবার (১২ নভেম্বর) সকালে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘দ্বিতীয় জাতীয় লেপরোসি (কুষ্ঠ রোগ) সম্মেলন’ ২০২৩-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। সরকার কুষ্ঠ নির্মূল কার্যক্রমকে আরও শক্তিশারী করার উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিরোধ করাটাই সব থেকে বেশি দরকার। কি কারণে হচ্ছে এবং এটা যেন আর না হয় সে দিকেই আমাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দেওয়া দরকার।’

প্রধানমন্ত্রী ‘অ্যাপ্রোচ টু জিরো লেপরোসি বাই ২০৩০’ এর লক্ষ্য অর্জনের জন্য তহবিল বৃদ্ধি করাসহ আরও সবরকম সহযোগিতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেন। তিনি দেশে উন্নতমানের যে ওষুধ কোম্পানি রয়েছে তাদের কুষ্ঠরোগের ওষুধ উৎপাদনেরও আহ্বান জানান।

কুষ্ঠরোগীদের দূরে সরিয়ে রাখার জন্য ব্রিটিশ সরকার যে আইন করেছিল ‘দ্য লেপারস অ্যাক্ট ১৮৯৮’, আওয়ামী লীগ সরকার তা রোহিত করেছে বলেও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কাজেই এখন আর কেউ কুষ্ঠরোগীদের তাদের ন্যায্য অধিকার বঞ্চিত করতে পারবে না। পরিবার থেকে শুরু করে আশাপাশের আর কেউ তাদের ঘৃণার চোখে দেখতে পারবে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কুষ্ঠরোগীদের সহানুভূতি ও সেবা যেমন দরকার তাদের পাশে থাকাও দরকার। তাদের মনবল সৃষ্টি করা দরকার এবং সকলে সেটাই করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেনে। এটা ছোঁয়াচে রোগ বলে পুরনো ভ্রান্ত ধারণা এক সময় যেটা ছিল, সেটা থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে।’ অনেকেই এর থেকে বেরিয়ে এসেছেন এবং বের হতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।‘আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি এবং এবং এখন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলছি কাজেই এখন আর সেই পুরনো ধ্যান-ধারণায় থাকলে চলবে না। তাহলে আমরা স্মার্ট হতে পারবো না,’ বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় আবারও মেডিক্যাল রিসার্সের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দেশে আরও মেডিক্যাল রিসার্স খুব বেশি দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মেডিক্যাল সায়েন্সের ওপর রিসার্স দরকার, যেটা আপনারা একটু কমই করেন। দয়া করে যদি মেডিক্যাল সায়েন্সের ওপর রিসার্স করেন, তাহলে দেখবেন আমাদের দেশে জলবায়ুর সঙ্গে সম্পর্কিত যতরকম রোগ আছে, তার ওপর একটি ভালো ধারণা এনে এর যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারবো। এতে যে ধরনের ওষুধ বা যা যা দরকার, আমরা তৈরি করতে পারবো। এই অনুরোধটা আমার থাকলো।’