৬ দফা দাবীতে ঝিনাইদহ পৌর কাউন্সিলর এ্যাসোসিয়েশন সম্মেলন

বাংলাদেশ পৌর কাউন্সিল এ্যাসোসিয়েশন ঝিনাইদহ জেলা শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (১৪ অক্টোবর) ঝিনাইদহ পৌরসভার মুসা মিয়া আইসিটি ইনকিউবেটর এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়।

ঝিনাইদহ পৌরসভার কাউন্সিলর মহিউদ্দীনের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পৌরসভার মেয়র কাইয়ূম শাহরিয়ার জাহেদী হিজল।

এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ পৌর কাউন্সিল এ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ঝিনাইদহ পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম মধু, মাধবদী পৌর সভার কাউন্সিলর ও কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সভাপতি পরিমল চন্দ্র ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক ও নাটোর পৌরসভার কাউন্সিলর জাহিদুর রহমান জাহিদ, কুষ্টিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর ও কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি রিণা নাসরিন ও ঝিনাইদহ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মুস্তাক আহম্মেদসহ জেলার ৬ উপজেলার কাউন্সিলররা বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র কাইয়ূম শাহরিয়ার জাহেদী হিজল বলেন, পৌরসভার উন্নয়নে কাউন্সিলরদের ভুমিকা অপরসীম। ওয়ার্ডের ভোটাররা এলাকার উন্নয়নের জন্য যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচিত করে থাকেন। কাজেই ওয়ার্ডের উন্নয়নে অপনাদের সহয়তা দরকার হয়। তিনি কাউন্সিলরদের ন্যায় সঙ্গত দাবীর প্রতি একাত্বতা প্রকাশ করে বলেন, তিনি কাউন্সিলরদের দাবী সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌছে দিবেন। সভায় কাউন্সিলরা পৌর কাউন্সিলরদের মাসিক সম্মানী ভাতা বৃদ্ধি, প্রতি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের কার্যালয় নির্মান, পৌর কাউন্সিলরদের মন্ত্রনালয় থেকে পরিচয়পত্র প্রদান, সম্মান ও পদ মর্যাদা নির্ধারণ, পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতার ৮০ শাতাংশ সরকারের রাজস্ব তহবিল থেকে প্রদানসহ ৬ দফা দাবী তুলে ধরে তা দ্রুত বাস্তবায়নের আহবান জানানো হয়।




শান্তর থ্রোতে ছিটকে গেলেন উইলিয়ামসন

ইনজুরি যেন পিছুই ছাড়ছে না কেন উইলিয়ামসনের। চোট কাটিয়ে দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল কিউই অধিনায়ক। ইনজুরি থেকে ফিরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১০৭ বলে ৭৮ রানের ইনিংস খেলেন উইলিয়ামসন। ম্যাচ জয়ের জন্য বড় অবদান রাখেন তিনি। ম্যাচ জয়ের দিনে দুঃসংবাদ পেয়েছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক।

ব্যাটিংয়ের সময় শর্ট মিড উইকেট থেকে নাজমুল হোসেন শান্তর ছোঁড়া বলে বাঁ হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে ব্যাথা পান তিনি। শান্তর ছোড়া বলটি নন স্ট্রাইক প্রান্তে দৌড়ে আসা উইলিয়ামসনের বাঁ হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে লাগে। সঙ্গে সঙ্গেই ফিজিওর দ্বারস্থ হতে হয়েছে তাকে। সে সময় তাকে ব্যথায় কাৎরাতে দেখা যায়। হাতে ব্যান্ডেজ দিলেও ব্যথার কারণে ৩৯তম ওভারের মাঝ পথে মাঠ ছাড়েন উইলিয়ামসন।

ম্যাচের পরই তার স্ক্যান করানোর পরই দুঃসংবাদ পেয়েছেন উইলিয়ামসন। তার বুড়ো আঙুলের হাড়ে চিড় ধরা পড়েছে। চলতি মাসে তাকে আর দেখা যাবে না। নিউজিল্যান্ড দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে অন্তত এক সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে চলে গেছেন তিনি।

নিউজিল্যান্ডের প্রধান কোচ গ্যারি স্টেড এখনও উইলিয়ামসনকে নিয়ে আশাবাদী। এক বিবৃতিতে তিনি এই প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা অনুভব করতে পারছি তার অবস্থা, হাঁটুর চোট থেকে ফিরে আসার জন্য যে কঠোর পরিশ্রম করেছে। এরপরই এটা ঘটেছে। যদিও এটা হতাশাজনক খবর। প্রাথমিকভাবে তার চোট সনাক্তের পর আমরা কিছুটা আশাবাদী সে বিশ্রাম ও পুনর্বাসনের পর আবারও খেলতে পারবে। কেন (উইলিয়ামসন) স্পষ্টতই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং সে বিশ্বমানের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক। তাকে টুর্নামেন্টের শেষদিকে ফেরার জন্য আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করবো।’

সূত্র: ইত্তেফাক




মেহেরপুরে সবজির বাজারে আগুন

গত সপ্তাহে কয়েকদিনের টানা বর্ষণের অজুহাতে মেহেরপুরের কাঁচা বাজারে সবরকম শাক সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়েছে মাছের দামও। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বেগুন ও কাঁচা মরিচের দাম।

গতকাল শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে মেহেরপুর শহরের বড়বাজার ঘুরে দেখা যায় , সবকিছুই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। শাক-সবজি থেকে শুরু করে সবকিছুর দামই বেশি। সবজি বিক্রেতারা বলছেন টানা বর্ষণের কারণে মৌসুমী ফসলগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে সরবরাহ কম। তাই গত কয়েকদিনে প্রতিটি শাকসবজির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরকারি ছুটির দিন হওয়াতে ভোক্তা অধিকার ও জেলা প্রশাসনের প্রশাসনের বাজার মনিটরিং কমিটির সদস্যদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সরজমিনে মেহেরপুরের বড়বাজার কাঁচা বাজারে যেয়ে দেখা যায় প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকায়, পেঁয়াজ ৯০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা কেজি, রসুন ৩৫০ টাকা, আদা ২০০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, কাঁচা কলা ৬০ টাকা ও শসা ৬০ টাকা কেজি দ্বারা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মাছের দামও বেড়েছে।

পারুল আক্তার নামে এক গৃহিণী জানান, গত মাসের শুরুতে বেগুন, কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন শাকসবজির দাম নাগালের মধ্যে ছিল। কিন্তু গত কয়েকদিনে সব রকম শাকসবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

দিনমজুর রহিম মিয়া জানালেন বর্তমান উচ্চমূল্যের বাজারে পরিবার নিয়ে দুই বেলা ডাল ভাত খেতেও তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

পিরোজপুর থেকে আসা রিকশাচালক আদনান প্রচন্ড ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন সরকার কিছু পণ্যের দাম নির্ধারণ করে আমাদের সাথে তামাশা করছে। পণ্যগুলোর দাম যখন নির্ধারণ করেই দিয়েছে, তখন সঠিকভাবে তদারকি করছে না কেন।

এদিকে গরুর মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, খাসির মাংস প্রতি কেজি ১০০০ টাকা, দেশি মুরগির মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০০ টাকা এবং বয়লার মুরগির মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৭০/১৭৫ টাকা এবং ডিম প্রতি পিস ১৩ টাকা দরে।




ঢাকায় নিয়োগ দেবে পান্না গ্রুপ

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে পান্না গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি ড্রাইভার – পরিবহন পদে নিয়োগ দেবে। আগ্রহী যোগ্য প্রার্থীরা সহজেই আবেদন করতে পারেন।

পদের নাম

ড্রাইভার – পরিবহন।

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা

প্রার্থীকে এসএসসি / এইচএসসি অথবা সমমানের অন্য কোনো পরীক্ষায় পাস হতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল হতে পারে। বয়স ২৮ থেকে ৪০ বছর। পুরুষ প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী হতে হবে। লং রুটে গাড়ী চালানোর অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বাংলাদেশের যেকোনো জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে। অধিক সময় কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে। সময় সচেতন হতে হবে। প্রার্থীর যোগাযোগের দক্ষতা থাকতে হবে। প্রার্থীকে অবশ্যই সৎ, উদ্যোমী ও নৈতিকতাবোধ সম্পন্ন হতে হবে। প্রার্থীর অবশ্যই বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় পত্র থাকতে হবে।

কর্মস্থল

ঢাকা

বেতন

আলোচনা সাপেক্ষে।

আবেদনের প্রক্রিয়া

আগ্রহী প্রার্থীদের বিডিজবস অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

আবেদনের সময়সীমা

২৪ অক্টোবর ২০২৩

সূত্র : বিডিজবস




থ্রেডে এসেছে এডিট বাটন

মেটার থ্রেড পাচ্ছে এডিট বাটন। কোনো থ্রেড পোস্ট করার পাঁচ মিনিটের মধ্যে এডিট করার সুযোগ পাবেন। এভাবে অন্তত রিপোস্টের ঝক্কি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

থ্রেডের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী টুইটারের ১৬ বছর সময় লেগেছিল এই এডিট বাটন যুক্ত করতে। থ্রেড প্লাটফর্মটিতে গতি সঞ্চার করতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফিচারটি ওয়েব ও মোবাইল দুটো জায়গাতেই ব্যবহার করা যাবে। মোবাইল অ্যাপ এবং ওয়েব দুটো ভার্সনেই সহজে এডিট অপশন ব্যবহার করা যাবে এবং এই ফিচার ব্যবহার করার জন্য গুণতে হবে না সাবস্ক্রিপশন চার্জ।

মেটার সিইও মার্ক জারাকবার্গ এও জানিয়েছেন, থ্রেডে ভয়েস নোটস যুক্ত হতে চলেছে। ক্যারিওকে স্টাইলের ভয়েস নোট প্লাটফর্মটিতে বিশেষ সংযোজন বলা যায়।

সূত্র: ইত্তেফাক




মেহেরপুর জেলা বিএনপির অনশন

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণের দাবিতে বিএনপি’র কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনশন করেছে মেহেরপুর জেলা বিএনপি।

আজ শনিবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মেহেরপুর পৌর এলাকার কাঁসারী পাড়ায় অবস্থিত জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সন্নিকটে বিএনপি’র কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই অনশন কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি মাসুদ অরুন, সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন, আব্দুর রহমান বিশ্বাস, ইলিয়াস আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড: মারুফ আহমেদ বিজন, জেলা মহিলা দলের সভাপতি সাইয়েদাতুন্নেসা নয়ন সহ যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।




ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল নিয়ে চীনের রাগ বাংলাদেশের ওপর ঝাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র!

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মোটামুটি একটি ভারসাম্যমূলক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে এসেছে। সবসময়েই বাংলাদেশ বৃহৎ শক্তিগুলোর দ্বন্দ্ব থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেছে। যখনই কোন জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তখনই বাংলাদেশ কোন অবস্থান ব্যক্ত না করে তার পররাষ্ট্রনীতি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এই প্রথম বাংলাদেশ অনেকগুলো দ্বন্দ্বের মাঝখানে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে আছে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্র দেশগুলোর ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজি।

বলা বাহুল্য, ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির পাশাপাশি জিওগ্রাফিক্যাল অবস্থানের জন্য ইন্দোপ্যাসিফিক অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ইন্দোপ্যাসিফিক স্ট্র্যাটিজিতে দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবেশপথ হিসাবে কাজ করতে পারে বাংলাদেশ। এমনকি এই অঞ্চলের আরেক শক্তি ভারতের সাথে সীমান্তবর্তী দেশ হওয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। জনসংখ্যার বিচারেও বাংলাদেশ বড় একটি বাজার। অনেকেই বাংলাদেশের এই বাজারে ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন, বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন। আর ভারত এবং মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পর বাংলাদেশ যে বিশাল জলসীমা পেয়েছে, সেখানেও প্রচুর সম্পদ আছে। এসব কারণে বাংলাদেশ এখন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপানসহ কোয়াডের অন্য সদস্য এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ঢাকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হওয়ায় বাংলাদেশ স্বাভাবিকভাবেই ভারত সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর বেষ্টিত ইন্দোপ্যাসিফিক অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে ।

চীন কখন শক্তিশালী হয়ে উঠলো? বলা হয়ে থাকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি বড় ধরণের বাঁক বদল ঘটেছিল ২০১৭ সালে। সেবছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র চীনকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করে। ২০১৭ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র যত ধরণের প্রতিরক্ষা, সামরিক বা কূটনৈতিক দলিল প্রকাশ করেছে, তার সব কিছুর কেন্দ্রে আছে চীন । এখন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মাথাব্যাথা কীভাবে চীনকে ঠেকানো যায়। কীভাবে সেটা করা যাবে? যুক্তরাষ্ট্রের এসব কৌশলের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজি। এই স্ট্র্যাটেজির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইতমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ভারত—এই চার দেশের জোট কোয়াড গঠিত হয়েছে। বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বা বিআরই নামের যে মহা-পরিকল্পনা নিয়ে চীন বিভিন্ন দেশে প্রভাব বিস্তার করছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজি ছিল মূলত তার পাল্টা পরিকল্পনা, চীনকে ঠেকানোর কৌশল। ভারত এবং প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যত মিত্র দেশ আছে, এই ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজিতে তাদেরকে একটি চীন-বিরোধী জোটে জড়ো করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

একটু ইন্দোপ্যাসিফিক অঞ্চল ঘুরে দেখা যাক। এই অঞ্চল এর রাজনীতি অর্থনীতি কেনো এতো গুরুত্বপূর্ণ? ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দেশ আছে এক ডজনেরও বেশি। আছে চীন, ভারত, পাকিস্তানের মতো পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। আছে জাপান-কোরিয়ার মতো অর্থনৈতিক শক্তি। ইন্দো-প্যাসিফিক দেশগুলোতে যে জনসংখ্যা সেটা বৈশ্বিক জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি, যার ৫৮ শতাংশই আবার তরুণ। কর্মশক্তি এবং ভোক্তা -দুই হিসেবেই সংখ্যাটা বিশাল। এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৈশ্বিক অর্থনীতিরই দুই-তৃতীয়াংশ, জিডিপি’র পরিমাণ হচ্ছে বৈশ্বিক জিডিপি’র ৬০ শতাংশ। ছাড়া বিশ্বে যে সমুদ্র আছে, তার ৬৫ শতাংশ পড়েছে ইন্দো-প্যাসিফিকে, ভূমির ক্ষেত্রে যেটা ২৫ শতাংশ। যার কারণে এই অঞ্চল হয়ে উঠছে বৈশ্বিক রাজনীতির ভরকেন্দ্র এবং আগ্রহের কারণ।

এদিকে ভারতের সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক বিবিসি ও রয়টার্সের সাবেক সংবাদদাতা। গত ৮ অক্টোবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল হেরাল্ডের অনলাইন সংস্করণে ‘আই অন চায়না, প্রেসার অন বাংলাদেশ: আমেরিকাস লেটেস্ট গ্রেট গেম ইন দ্য ইস্ট’ শিরোনামে এক নিবন্ধে বাংলাদেশের ওপর মার্কিন চাপের অন্তর্নিহিত কারণগুলোকে তুলে ধরতে গিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন এত মাথাব্যথা সেই প্রশ্ন তুলেছেন। ভৌমিক বলেছেন, চীনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র যেসব কৌশল আঁটছে তার মধ্যেই এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে। ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের স্থল ও সমুদ্রে প্রবেশের রুটগুলোকে অবরুদ্ধ করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে তারা।

এই যে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশের ওপর ক্ষোভ তার কারণ দেশটি এতো স্ট্যাটেজিতে পা দিচ্ছে না বাংলাদেশ। এবং আমেরিকার জন্য বড় চিন্তার হলো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি। ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনায় ইন্দো-প্যাসিফিক এখন বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল, এই অঞ্চলকে ঘিরেই এখন তীব্র হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্বে দুই বৃহৎ শক্তিই বাংলাদেশকে তাদের পক্ষে চায় । ২৫ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল নিয়ে নিজেদের পররাষ্ট্রনীতি আবারও ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। এই অঞ্চলকে ঘিরে ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কী হবে, সেটাই মূলত তুলে ধরা হয়েছে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক রূপরেখা’ নামের ওই নীতিতে। “সবার সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে বৈরিতা নয়” বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির যে মূল ভিত্তি সেটিই তুলে ধরা হয়েছে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল ঘিরে বাংলাদেশের রূপরেখায় ।
আর বিপত্তিটা ঘটলো এখানেই। ফলাফল, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার লঙ্ঘন, সুষ্ঠু নির্বাচনের অজুহাতে দেশের অভ্যন্তরীণ সকল বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে প্রচ্ছন্নভাবে নানা দিক থেকে চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে বাংলাদেশকে । দীর্ঘবছর ধরেই বাংলাদেশের মানবাধিকার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের অজুহাতে দেশের প্রতিটি বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো। কিন্তু তারা অন্য অনেক দেশের কোন লঙ্ঘনকেই যুক্তরাষ্ট্র আমলে নেয় না। ফলে বলাই যায় যে, বাংলাদেশ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের এত কূটনীতিক তৎপরতার কারণ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল ঘিরে বাংলাদেশের নিরপেক্ষ অবস্থান ঘোষণা দেয়া।

আসলেই চীনকে প্রতিপক্ষ ভেবে কতদূর করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র? এ প্রশ্নের জবাব পাওয়া যায় ৯ অক্টোবর রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বে অব বেঙ্গল সম্মেলনে ‘ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রতিযোগিতা’ শীর্ষক অধিবেশনে যে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস সেটি থেকেই। তিনি সরাসরি বলেন, ইন্দোপ্যাসেফিক অঞ্চলে ক্রমেই চীনের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবাধে বাড়তে দিলে তা এ অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠবে। ফলে চীন ঠেকাও যেমন মনোভাবে আছে, সেটা করতে বাংলাদেশকে দুর্বল করে সাথে নেওয়ার কৌশলও বিদ্যমান।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী।




দেশের সাংস্কৃতিক উন্নয়নে শেখ হাসিনা সরকার

একটি জাতির সামগ্রিক সত্তার পরিচয় তার সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে প্রকাশ হয়। সাংস্কৃতিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে একটি জাতি জাতীয় ও বিশ্ব দরবারে নিজের অবস্থান তৈরি করে। এরই ধারাবাহিকতায় বাঙালি জাতি আজ বিশ্বের দরবারে তার স্বকীয় উন্নত সংস্কৃতির মাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে। আজ বাঙালি ও বাংলাদেশের সংস্কৃতির এই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের বলিষ্ঠ ও সৃজনশীল নেতৃত্বে।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আপামর বাঙালি তাঁর কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা অর্জন করেছে । এক্ষেত্রেও অন্যতম অনুপ্রেরণা ছিল বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতিগত আবেগ। এই সফল্য আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, সিপাহী বিদ্রোহ, তেভাগা আন্দোলন, সাঁওতাল বিদ্রোহ, এমনকি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মতো জীবন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতার ফল। বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক ঐক্য ও ঐতিহ্য প্রতিফলিত হয়েছে জাতির পিতার আদর্শে তথা মুজিবীয় ভাবধারায়। এই আদর্শ অনুসরণ করে জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে, কেন্দ্র থেকে প্রান্তিক জনপদ পর্যন্ত সংস্কৃতিচর্চার একটি উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারের হাত ধরে বাংলাদেশ আজ জীবনযাত্রার নব নব অভিযাত্রায় উন্নতির জোয়ারে ভাসছে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পাশাপাশি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান্নোয়নসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক রাজনীতিচর্চা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার পূরণ সম্ভব হয়েছে। রাস্তাঘাট, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ ও সোলার পোঁছে দেওয়া, ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার পাশাপাশি দেশে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে শেখ হাসিনা ও তাঁর আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় পর্যায়কে অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের নেতৃত্ব প্রমাণ করেছে।

বাংলাদেশ এমডিজির লক্ষ্য সফলভাবে পূরণ করে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এসডিজির লক্ষ্য পূরণের পথে দৃঢ় পদক্ষেপে অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশের এই উন্নয়নে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিকা প্রশংসনীয়। জনগণ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি বারবার আস্থা রেখেছে। মানুষের সেই আস্থার প্রমাণ দেখি দেশে অনুষ্ঠিত সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দিয়ে বারবার আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করার মধ্য দিয়ে। ১৯৭১ সালে জাতির পিতার নেতৃত্বের প্রতি ভরসা রেখে বাঙালি স্বাধীনতা লাভ করেছে, তেমনি শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি দেশের জনগণের বারবার আস্থা রাখার ফল আমরা পাচ্ছি।

আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বর্তমানে আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির পাশাপাশি সংস্কৃতিগতভাবে এগিয়ে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংস্কৃতিগত পদক্ষেপ নতুন প্রজন্মকে ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করছে। দেশে প্রযুক্তিগত উন্নতির ফলে জনগণের মধ্যে নতুন নতুন চিন্তাভাবনা, বিশ্বাস ও মূল্যবোধ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি এদেশের জনগণ বাঙালি সংস্কৃতিকে বিশ্ব পরিমণ্ডলেও পরিচিত করে তুলছে। এই সংস্কৃতিচর্চা ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের পরিবেশ সম্ভব হয়েছে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে। শেখ হাসিনার সরকার বাঙালি জাতির ইতিহাস ও সংস্কৃতি , মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সাহিত্য ও গবেষণামূলক কাজ সংরক্ষণ করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাথে প্রযুক্তি যুক্ত করে প্রযুক্তিগত জ্ঞানসম্পন্ন ও নিজস্ব সংস্কৃতিতে বলীয়ান শিক্ষিত জাতি হিসেবে আমাদের গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করছে।

আমাদের দেশে তৃণমূল পর্যায়ে অসংখ্য প্রতিভা লুকিয়ে রয়েছে। শেখ হাসিনার সরকার তৃণমূলের সেই প্রতিভা জাতীয় পর্যায়ে প্রকৃত পৃষ্ঠপোষকতার মধ্য দিয়ে বিকাশের ব্যবস্থা করেছে। এছাড়াও বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য অসাম্প্রদায়িক চেতনা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের হাত ধরে দেশে প্রকৃত অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ হচ্ছে। জ্ঞানচর্চার জন্য লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা, শিল্প-সাহিত্যচর্চার প্রকৃত পরিবেশ সৃষ্টি, গ্রামীণ সংস্কৃতিকে ব্যাপকভাবে পৃষ্ঠপোষকতার মধ্য দিয়ে দেশ আজ রুচিশীলতার আলো ছড়াচ্ছে। আজ আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশে সংস্কৃতবান আলোকিত মানুষ তৈরির প্রকৃত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকার শুধু যাতায়াত ব্যবস্থা কিংবা প্রযুক্তিগত উন্নয়নে মনোযোগ দিয়েছে তা নয়, এর পাশাপাশি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক উন্নয়নে নানারকম পদক্ষেপ হাতে নিয়ে তা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাজ লক্ষ্য করলে তার প্রমাণ মেলে। যেমন- জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, চারু-কারু এবং ললিত কলার সংরক্ষণ ও উন্নয়ন; প্রত্নতত্ত্ব, স্থাপত্য ও ভাস্কর্য; জাতীয় গ্রন্থাগার/গণগ্রন্থাগারের উন্নয়ন ও প্রবর্ধন; জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে বাংলার প্রচলনে সহায়তা; জাতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং চারুকলার বিকাশ ও উন্নয়নে সহায়তা প্রদান; শিল্প-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান; বিদেশি রাষ্ট্রসমূহের সাথে চুক্তি সম্পাদন ও সাংস্কৃতিক ভাবের আদান-প্রদান; পল্লি সাহিত্য, পল্লি সংস্কৃতি ও পল্লি মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা; শিল্পী, লেখক কিংবা সাহিত্যিকদের পেনশন প্রদান প্রভৃতি কর্মসূচি বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার সম্পূর্ণ সফলতার পরিচয় দিয়েছে। সরকার এরইমধ্যে প্রায় ১৮৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪১ টি উন্নয়ন প্রকল্প সম্পন্ন করেছে এবং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক উন্নয়নে ১৪ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশে বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও গ্রামীণ সংস্কৃতিতে ব্যাপক ইতিবাচক বিবর্তন এনেছে। আজ গ্রামে ইন্টারনেট সংযোগ থাকায় গ্রাম ও শহরে মধ্যে ঐক্য স্থাপিত হয়েছে। যাতায়াত ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়নের ফলে গ্রামের মানুষ হাঁস-মুরগির খামার, মৎস্যপালন ও কৃষিজাত দ্রব্য খুব দ্রুত দেশের সর্বত্র পাঠাতে পারছে। এতে করে গ্রামীণ অর্থনীতির ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি জাতীয় পর্যায়ে নিজের অবস্থান শক্ত করে তুলেছে। এছাড়াও গ্রামে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম অর্জন।

একটি দেশে মাঝে মাঝে এক শ্রেণির অপশক্তির দ্বারা জাতীয় সংস্কৃতি আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। এই ধরনের অপশক্তি দেশ ও জাতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে চায়। ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতিকে ধ্বংস করে দিতে পাকিস্তানি-বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা বাঙালি সংস্কৃতির উপর চরম আঘাত করে। পাকিস্তানিরা তাদের নিশ্চিত পরাজয় জেনেও বাংলাদেশকে সংস্কৃতিগতভাবে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে বুদ্ধিজীবীদের নৃশংসভাবে হত্যা করে। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে বাঙালি সংস্কৃতিকে চিরতরে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিলো সেই অপশক্তি। কিন্তু মুজিবীয় আদর্শ এবং মুক্তিযুদ্ধের মহান চেতনার ধারক ও বাহক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার সকল অপশক্তিকে পরাজিত করে বর্তমানে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বিশ্ব-পরিমণ্ডলে প্রতিনিয়ত পরিচিত করে তুলছে।

১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমির একটি অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘স্বাধীন জাতি হিসেবে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হলে আমাদের ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্ব অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে’ জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার জাতির পিতার সেই বক্তব্যকে প্রতিনিয়ত বাস্তবায়ন করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায়ই বলেন, ‘ আমি বিশ্বাস করি জাতির পিতার সাংস্কৃতিক দর্শন প্রতিষ্ঠা করা আমাদের কর্তব্য’দেশের জনগণ বর্তমানে যে উন্নতির স্বাদ পাচ্ছে এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিশ্বের দরবারে নিজের জায়গা করে নিয়েছে, তা সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণে।

আসন্ন বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে জনগণ বরাবরের মতো শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি আস্থা রাখবে নিঃসন্দেহে। কেননা, বাংলাদেশের জনগণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতার আদর্শ, শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে বিশ্বাস করে। সুতরাং বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের উন্নয়নের জোয়ার ও জাতির পিতার সাংস্কৃতিক দর্শনকে সমুন্নত রাখতে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের জন্য, বাংলাদেশের জনগণের সামষ্টিক ইতিবাচক স্বার্থের জন্য অপরিহার্য।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়, নেত্রকোণা।




দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদহে শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যে বি.এন.পি ও জামাতের অরাজকতা সৃষ্টি ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলার লক্ষ্যে শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শুক্রবার চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের নির্বাচনী এলাকার দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদহ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আয়োজনে চন্দ্রবাস স্কুল মাঠে এ শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

নাটুদহ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে নৌকা প্রত্যাশী প্রার্থীগণের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাদুল ইসলাম আজাদ, দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান মনজু, জীবননগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবু মোঃ আব্দুল লতিফ অমল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক কৃষিবিদ ডঃ মোঃ হামিদুর রহমান, জাতীয় দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ নূর হাকিম, এয়ার কমোডর (অবঃ) মোঃ আবু বক্কর, অ্যাডভোকেট শাহরিয়ার কবির।

এ সময় বক্তারা বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারা দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।রাস্তা, ঘাট, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন হয়েছে ব্যাপক হারে। শুধু তাই নয়, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধি ভাতা, শিক্ষা ভাতা, শিশু ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা সহ বিভিন্ন ভাতা প্রদান করছে বর্তমান সরকার। এছাড়াও মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, টানেল, বঙ্গবন্ধু স্যাটালাইট, অসংখ্য উড়াল সেতু সহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গোটাবিশ্বে বাংলাদেশ আজ মাথা উঁচু করে দাড়িয়েছে। আওয়ামীলীগ সরকারের উন্নয়ন দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছে বিরোধী দল। তাই তারা অহেতুক অরাজগতা সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচালের পায়তারায় মেতেছে। বিরোধী দলের অপকর্মকে রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করতে হবে। আসুন সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে জামাত বিএনপির অপকর্মকে রুখে দিই। সেই সাথে দলের ভিতরের যে সকল হাইব্রিড নেতারা দলের ক্ষতি করছে তাদের বিরুদ্ধেও রুখে দাড়াতে হবে। যাতে করে দলের বড় ধরনের ক্ষতি করতে না পারে। সেদিকে সকলকে খেয়াল রাখতে হবে।

এ সময় আরও উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি সিরাজুল আলম ঝন্টু, দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, এ্যাডভোকেট আবু তালেব, আওয়ামী লীগ নেতা- এম.এ ফয়সাল, আসাদুল হক সহ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন, নাটুদহ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম।




হাসের সঙ্গে কী গোপন বৈঠক, কেন অস্বীকার ফখরুলের?

ঢাকায় নিযুক্ত ‘যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) বৈঠক করেছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়লেও সত্যতা উড়িয়ে দিয়েছেন ফখরুল। এমনকি আমেরিকান অ্যাম্বাসির সঙ্গে বিষয়টির সত্যতা জানতে চেয়ে গণমাধ্যমগুলো যোগাযোগ করলে তারাও সরাসরি উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে গেছে। যখন আমেরিকার পক্ষ থেকে প্রাক নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল ঢাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের সঙ্গে কেবল বৈঠক শেষ করেছে সেসময় পিটার হাসের সঙ্গে এই গোপন বৈঠক নিয়ে অস্বীকারের খেলা কেনো খেলছে বিএনপি?

আলোচনার শুরু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। সেদিন দুপুরে বারিধারায় প্রায় দেড়ঘণ্টা ধরে বৈঠকটি হয়েছে বলে খবর আসতে থাকে। গণমাধ্যমগুলোর পক্ষ থেকে ফখরুল ইসলামের সঙ্গে সন্ধ্যার পর যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনও বৈঠক হয়নি। সম্পূর্ণ মিথ্যা ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে।’

যদিও বিএনপির একাধিক রাজনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পিটার হাসের সঙ্গে মির্জা ফখরুলের ওয়ান-টু-ওয়ান বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠক সম্পর্কে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়া অন্য কেউ অবহিত নয়। তবে গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিত করে যে পিটার হাস ও মির্জা ফখরুলের বৈঠকটি আমেরিকান ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে ফখরুল ইসলাম বেলা ১২টা ৫০ থেকে ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত অবস্থান করেন। এসময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটাস হাস ও মার্কিন দূতাবাসের পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কাউন্সিলর আর্থরো হিনস ক্লাবে উপস্থিত ছিলেন।

এবিষয়ে ফখরুল ইসলামকে শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) আবারও জিজ্ঞেস করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এটার উত্তর দেব না। কালকে দিয়ে দিয়েছি (উত্তর)। আমি আপনাদের একটাই অনুরোধ করব সব সময়, আমরা সবাই তো এ দেশের মানুষ। আমাদের প্রত্যেকেরই এই দেশের প্রতি, মাটির প্রতি, মানুষের প্রতি দায়িত্ব আছে। আপনারা সাংবাদিক, স্বাভাবিকভাবেই স্কুপ নিউজ খুঁজবেন। বাট এট দ্য সেম টাইম সেই বিষয়টাকে আমরা ডাইভার্ট করব না, যা জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেই এই সময় পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিষয়েই জানানো দরকার বলে মনে করেন শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। তিনি বলেন, একটা দেশের রাষ্ট্রদূত, এবং সেই দেশটি আমেরিকা, যখন বিএনপির মতো একটি দলের নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন তখন সেখানে নানা প্রশ্নের জন্ম দিবে এটাই স্বাভাবিক। এখন একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আরেকদিকে তাদের পর্যবেক্ষকরা দেশে এসে নানা দলের সঙ্গে গোষ্ঠীর সঙ্গে সভা করছে। সেসময় আলাদা করে ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে পিটার হাসের কী আলাপ?

এমনকি এইদিনে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যখন বিএনপি প্রতিনিধি দল দেখা করছেন তখন পিটার হাসের সঙ্গে কেনো কেবল ফখরুল ইসলাম আলমগীর গেলেন সেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দুপুরে ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলির সঙ্গে বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজ করেছে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। রাজধানীর বারিধারায় রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির প্রধান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ এবং বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়াল এতে অংশ নেন। বৈঠক শেষে তাঁরা রাষ্ট্রদূতের আমন্ত্রণে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান। এ সময় তাঁরা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তাঁরা রাষ্ট্রদূতকে জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা ছাড়াও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় চলমান এক দফা আন্দোলনের বিষয়ে অবহিত করা হয়।

এদিকে, বিএনপি ও দলটির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত একাধিক দলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের সঙ্গে এই বৈঠক নিয়ে কোন আলাপ হয়নি। যদি ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাক্ষাৎ করেনও যুগপৎ নেতাদের সাথে পরামর্শ ছাড়া এককভাবে কোন বড় সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। ফলে আলোচনা হলে জোটের নেতারা জানবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগপৎয়ের বাম ঘারানার এক নেতা বলেন, ‘খবরটি বৃহস্পতিবার আমরা যখন শুনেছি তখন অলরেডি গণমাধ্যম জেনে গেছে। কেনো ফখরুল ইসলাম বৈঠকের কথা অস্বীকার করছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুটো কারণ হতে পারে। এক কূটনৈতিক শিষ্টাচারজনিত কোনও বিশেষ কারণে বৈঠকের খবরটিকে সামনে আনতে চাইছে না বিএনপি। আরেকটি বিষয়ে হলো, কী আলাপ হয়েছে তিনি তা এখনই বলতে চান না।’