মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা

মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার প্রাক্কালে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. মহা. আব্দুস সালাম ক্লাবে সদস্যদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন।

আজ শনিবার ১৮ নভেম্বর সকাল দশটায় মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাবে সকল সদস্যের উপস্থিতিতে বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি তোজাম্মেল আজমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব চান্দুর সঞ্চালনায় প্রেসক্লাবের সকল সদস্য তাদের নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেন। এ সময় প্রেসক্লাবের গত এক বছরের আয় ব্যয়ের হিসাব উত্থাপন করা হয। আগামী ২৪-২৫ সালের কমিটি নির্বাচন উপলক্ষে ৩ সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। অতঃপর মধ্যাহ্নভোজনের পূর্বে ক্লাবের পক্ষ থেকে নতুন দুই সদস্যকে বরণ করে নেয়া হয়। নতুন দুই সদস্য হলেন দৈনিক কালবেলার জেলার প্রতিনিধি খান মাহমুদ আল রাফি এবং সমাজের কথা প্রতিনিধি সোমেল রানাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়।

পরে কেরাম প্রতিযোগীতায় চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ দলকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। খেলায় অংশগ্রহণকারী সদস্যদেরকেও সান্তনা পুরস্কার প্রদান করা হয়।

সবশেষে ২০২৩-২৪ সালের দ্বিবার্ষিক কমিটি গঠনের জন্য আব্দুল্লাহ আল আমিন ধুমকেতুকে প্রধান করে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিটি সর্বসম্মতি ক্রমে অনুমোদন দেয়া হয়। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন আনোয়ারুল হক কালু ও মাহবুবুল হক মন্টু।

কয়েকদিন যাবত মেহেরপুর প্রেসক্লাবের অর্থযুগে পদার্পণের উদযাপন উপলক্ষে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।




হরতাল-অবরোধে ক্ষতির মুখে শিক্ষার্থীরা; ছুটির দিনে স্কুলে পরীক্ষা

বিএনপি-জামায়াতের ডাকা অবরোধ-হরতালে ক্ষতির মুখে পড়েছে শিক্ষার্থীদের জীবন। অবরোধ-হরতালের প্রভাব পড়েছে সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের প্রায় দুই কোটি শিক্ষার্থীর ওপর। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা। শুধু পরীক্ষা নয়, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে সারা দেশের স্কুলগুলোতে নতুন বই পাঠানো হয়। হরতাল-অবরোধের কারণে এসব কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সহিংসতার আতঙ্কে স্কুলে কমে গেছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।

করোনার কারণে দেড় বছর বন্ধ ছিল দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেই দশা থেকে মুক্তি পেয়েই অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে মূল্যায়ন, অটো পাস এবং সবশেষ সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। তবে করোনার প্রভাবে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিখন ঘাটতি দেখা দিয়েছিল মারাত্মক আকারে। সেই প্রভাব কাটিয়ে উঠে আগামী বছর পূর্ণ সিলেবাসে ও পূর্ণ নম্বরে ফিরছে পাবলিক পরীক্ষা। কিন্তু জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচির কারণে আবার শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সব শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। পরীক্ষা গ্রহণ ও মূল্যায়ন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। হরতাল-অবরোধে বছর শেষে বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সমস্যা না হলেও পরবর্তী কর্মসূচিগুলো সহিংস হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে কারণে বার্ষিক পরীক্ষা বা মূল্যায়ন ‘অসম্পূর্ণ’ রেখেই শিক্ষাবর্ষ শেষ করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের।

নতুন শিক্ষাক্রমে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বার্ষিক সামষ্টিক মূল্যায়ন ৫ নভেম্বর শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে তা পিছিয়ে ৯ নভেম্বর থেকে শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। নতুন শিক্ষাক্রম চালু হওয়া শ্রেণিগুলোতে ৯ নভেম্বর শুরু হয়েছে মূল্যায়ন। এখন দ্বিতীয় পর্যায়ের মূল্যায়ন চলছে। ১৯ নভেম্বর তৃতীয় ও শেষ পর্যায়ের মূল্যায়ন শুরু হবে। চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। এদিকে বার্ষিক পরীক্ষাও শুরু হয়েছে নভেম্বরের শুরুতে। চলতি মাসের মধ্যে বার্ষিক পরীক্ষাও শেষ করতে হবে। অন্যদিকে, কিন্ডারগার্টেনগুলোতে এখনো ক্লাস চলছে। তবে উপস্থিতি কম। আগামী ২২ নভেম্বর কিন্ডারগার্টেনগুলোতে পরীক্ষা শুরু হতে পারে।

গত সপ্তাহে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। রাজধানীর স্বনামধন্য ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক পরীক্ষাসূচি অনুযায়ী গত ১৩ নভেম্বর দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষা শুরু হয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী চলতি মাসের ৩০ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটির পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হরতালের কারণে বাধ্য হয়ে শুক্র ও শনিবারও পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়েছে। একইভাবে বন্ধের দিনে পরীক্ষা ও মূল্যায়ন চলছে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজেও।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কেয়া রায় চৌধুরী বলেন, ‘হরতালের কারণে আমরা রবি ও সোমবারের পরীক্ষা এগিয়ে এনেছি। এ দুদিনের পরীক্ষা শুক্র ও শনিবার হবে। কিন্তু এর পরও নভেম্বরে পরীক্ষা শেষ করা যাবে বলে মনে হচ্ছে না। রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা-ও জানি না। সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির শঙ্কা তো থেকেই যাচ্ছে।’

মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) এবিএম আলীনূর রহমান বলেন, ‘মাউশির নির্দেশে স্কুল খোলা রাখছি। এখন পরীক্ষার সময়। কোনো পরীক্ষা পেছায়নি। বরং ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির মূল্যায়ন পরীক্ষা শনিবার বন্ধের দিনে নিতে হচ্ছে। তার পরও রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে উদ্বেগ তো আছেই।’

অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে না। তাদের কর্মসূচির কারণে শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন। সে কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর আরও সহনশীল হওয়া প্রয়োজন।’

কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, ‘কিন্ডারগার্টেনে এখনো পরীক্ষা শুরু হয়নি। ক্লাস চললেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম। আগামী ২২ নভেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরু হতে পারে। হরতাল-অবরোধের কারণে অভিভাবকদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় শুক্র ও শনিবারও পরীক্ষা হতে পারে।’

হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি নবীন প্রজন্মের অপূরণীয় ক্ষতি করছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তিনি বলেন, ‘রাজনীতির মূল লক্ষ্য আমাদের প্রজন্মের অধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, এখন হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচির কারণে চাকরির পরীক্ষা, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন, ক্লাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারছে না। শুধু তাই নয়, সে মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হচ্ছে। কারণ তার প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার অংশ ছিল এই মূল্যায়ন।’

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুক বলেন, ‘দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন শিক্ষাক্রম শুরু হয়েছে। সবার কাছে নতুন হওয়ায় অনেকে তা বুঝে উঠতে পারছেন না। স্কুলে স্কুলে মূল্যায়ন হচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অবশ্যই তা বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের একদিনও অপচয় করা যাবে না। প্রতিটি দিন, ঘণ্টা, মিনিট আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে স্কুলে আসতে চায়। ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিতে চায়। নতুন কারিকুলামের আলোকে মূল্যায়নে অংশ নিতে চায়। সেজন্য শিক্ষার্থীরা স্কুলে স্কুলে মানববন্ধনও করেছে। বিএনপিকে বলব, বিদেশে পালিয়ে থাকা ব্যক্তির নির্দেশে দেশ ধ্বংসের কর্মসূচি না দিয়ে শিক্ষার্থীদের কথা ভাবুন, দেশের কথা ভাবুন।’




আশ্রয়ন প্রকল্প: দারিদ্র্য বিমোচনের হাতিয়ার

স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে ১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী তৎকালীন নোয়াখালী বর্তমান লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চরপোড়াগাছা গ্রামের দূর্দশা দেখে এই আশ্রয়হীন, ভূমিহীন ও অসহায় ছিন্নমূল মানুষদের পুনর্বাসনের সর্বপ্রথম উদ্যোগ নেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দেশী ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মাধ্যমে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করার পর স্থবির হয়ে পড়ে দেশের গৃহহীন-ভূমিহীন পরিবার পুনর্বাসনের মতো জনবান্ধব ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমগুলো।

দীর্ঘ ২১ বছর পর তাঁর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে পুনরায় শুরু করেন বঙ্গবন্ধুর সেই জনবান্ধব ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমগুলো। পিছিয়ে পড়া ছিন্নমূল মানুষকে মূলধারায় আনার জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সামনে নিয়ে আসেন “অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মডেল” নামে বিভিন্ন কর্মসূচি। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭ সালে ২০ মে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত কক্সবাজার জেলার সেন্টমার্টিন পরিদর্শন শেষে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেন বঙ্গবন্ধুকন্যা এবং একই বছর বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিনি সারা দেশের গৃহহীন-ভূমিহীন মানুষকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে শুরু করেন “আশ্রয়ণ প্রকল্প”।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা- “বাংলাদেশের একজন মানুষও ভূমিহীন থকবে না, গৃহহীন থাকবে না, ঠিকানাবিহীন থাকবে না”। তিনি তার সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কোমড় বেঁধে নেমেছেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ৮ লাখ ২৯ হাজার ৬০৭টি পরিবার পুনর্বাসিত হয়েছে এবং পুনর্বাসিত মানুষের সংখ্যা ৪১ লাখ ৪৮হাজার ৩৫ জন (আনুমানিক এক পরিবারে ৫ ব্যক্তি হিসাবে)।

শুধুমাত্র আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ পরিবার সরাসরি পুনর্বাসিত হয়েছে এবং ভূমি মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের বেশকিছু কর্মসূচির অধীনে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৯৯০ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। শুধুমাত্র মুজিববর্ষেই এই প্রকল্পের আওতায় ২ শতাংশ খাসজমি বন্দোবস্ত প্রদানপূর্বক ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৮৫১টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে একক গৃহ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে এবং পুনর্বাসিত জনসংখ্যা ১১ লক্ষ ৯৪ হাজার ২৫৫ জন। ফলশ্রুতিতে বর্তমানে দেশের ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত জেলা ২১টি এবং উপজেলা ৩৩৪টি।

শুধু গৃহহীন-ভূমিহীন নয়, স¤পদের সুষম বণ্টনের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুকন্যা এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী- হতদরিদ্র ভিক্ষুক, বিধবা, মান্তা, বেদে ও হিজড়া সম্প্রদায়, কুষ্ঠ রোগী, তিন পার্বত্য জেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবার, কয়লা খনির জন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী (রাখাইন) পরিবার, হরিজন সম্প্রদায়, বাগদী সম্প্রদায়, প্রতিবন্ধী পরিবার, জলবায়ু উদ্বাস্তু মানুষকে ভূমি ব্যবহারের আওতায় এনে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্বে এটি প্রথম ও সর্ববৃহৎ উদ্যোগ, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীকে মূলস্রোতে তুলে আনার জন্য স¤পূর্ণ বিনামূল্যে বাসস্থান নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। একইসাথে পুনর্বাসিত পরিবারের জন্য বিনা মূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, আধুনিক স্যানটিশেন, প্রার্থনাঘর, কবরস্থানসহ পুকুর খনন ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের জন্য রাস্তা নির্মাণ, যা এখনো চলমান। এককথায় এই আশ্রয়ণ প্রকল্প গৃহহীনদের মাঝে নিশ্চিন্তে দৈনন্দিন সকল কাজ শেষে একটা নিরাপদ আশ্রয়স্থল। ঘরের আঙ্গিনায় কৃষিকাজ করে নিজেদের শাক-সবজি চাষ, হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল পালন, মাছ-মাংসের চাহিদাসহ, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবার প্রবল আগ্রহ ও সাহস যুগিয়ে যাচ্ছে। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিও চাঙ্গা হচ্ছে এবং একই সাথে দেশের অর্থনীতিতে বাড়তিমাত্রা যোগ করছে।
যেহেতু দেশের চরম দারিদ্র্যের আওতাভুক্ত জনগণই এই গৃহায়ন কর্মসূচির প্রধান উপকারভোগী, সেহেতু কমে আসছে হতদরিদ্রদের সংখ্যা, কমছে দারিদ্র্যের হার। অনেকের ধারণা, এই আশ্রয়ন প্রকল্পের কারণে দেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে জনসংখ্যা শতকরা ১০ ভাগ থেকে ৫ দশমিক ৮ এ নেমে এসেছে।

ইতোমধ্যে সারাবিশ্বে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পৃ দারিদ্র্য বিমোচনে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একদিকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে যেমন দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে বের হয়ে আসার অপার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে এর মাধ্যমে সম্মানজনক জীবিকা ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, উপার্জন ক্ষমতা ও সঞ্চয় বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়িয়ে দক্ষ মানবস¤পদ উন্নয়ন, পরিবেশের উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর অধিকারের মতো বিষয়গুলোর মাধ্যমে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অতীতেও ছোটোখাটো করে এদেশে এই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছে। কখনই সফল তো হয়নি, বরং কখনো-কখনো দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সৃষ্টি করেছে। জেনারেল জিয়ার সময় সমতলের মানুষদের পার্বত্য অঞ্চলে সেটেল করানোর যে ন্যক্কারজনক উদ্যোগ ছিল, তা থেকেই পরবর্তীতে পাহাড়ে অসন্তোষ আর শান্তি বাহিনীর সৃষ্টি। এখনও যে পাহাড় মাঝে-মধ্যে অশান্ত হয়ে ওঠে, তার জন্য যদি একজন ব্যক্তিকে দায়ী করতে হয়, তার নাম জেনারেল জিয়া।

এমনকি টঙ্গীতে জেনারেল এরশাদ যে এরশাদ নগর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, এখন সেখানে হারিকেন জ্বালিয়েও মূল বরাদ্দপ্রাপ্ত একজনের হদিস পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। অথচ এসবের বিপরীতে ব্যপক সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সূচিত আশ্রয়ণ প্রকল্পটি এবং এই সাফল্যের শতভাগ কৃতিত্ব একমাত্র তারই। কারণ, তিনি এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে তাঁর সুনিপন ধ্যান-ধারণার প্রয়োগ ঘটিয়েছেন।

গত ১০ এপ্রিল বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস “আশ্রয়ণ: অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে শেখ হাসিনা মডেল” নামে এই সৃজনশীল কর্মের মেধাস্বত্বের স্বত্বাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে- এক এলাকার মানুষকে এই প্রকল্পের আওতায় অন্য এলাকায় স্থানান্তর করা হয়নি, যা অতীতে প্রতিবারই করা হয়েছে। চরের মানুষকে পুনর্বাসন করা হয়েছে চর এলাকাতেই আর পাহাড়ের মানুষকে পাহাড়েই। এর উল্টোটি করা হয়নি কোনো ক্ষেত্রেই। ফলে, আশ্রয়ণ প্রকল্পে যারা ঠিকানা পেয়েছেন তারা সেখানেই থিতু হচ্ছেন, পুরনো ঠিকানায় ফিরে যাওয়ার কথা মাথায়ও আনছেন না।

আশ্রয়ন প্রকল্পের উপকারভোগী দু-একজনের অভিব্যক্তি টেনে আনা যেতেই পারে। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার স্বপ্ননগর ও নগরকান্দার আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে বদলে যাওয়া আশ্রয়হীন ছবেদা বেগম, লতিফা আক্তার, হাফিজুর রহমানসহ আরো অনেকেই বলেন “কিছু দিন আগেও ভাবিনী নিজের ভাল একটা বসবাসের ঠিকানা হবে, এখন সেটি হয়েছে, বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে পারছি, নিজের হাঁস-মুরগি পালনসহ নানা কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, সত্যই এটা স্বপ্নের। এমনটি হবে ভাবিনি, সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রধানমন্ত্রী হাসিনার জন্য দোয়া করি। তিনি যেন আমাদের দিকে আরো তাকান। আমাদের জন্য আরো কিছু করে দেন”।

অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্পে কেউ কেউ বলেছেন, “বাবা-মা যা করেনি, শেখ হাসিনা তা করেছেন”। আবার অনেকে এও বলেছেন, “আমরা এতদিন জলে ছিলাম। পরের জায়গায় পলিথিন দিয়ে ঘর বানিয়ে থাকতাম। এতে আমাদের খুব কষ্ট হতো। এখন আমরা ঘর পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের ঘর দিয়েছেন। এখন আমাদের আর কষ্ট নেই। আমরা খুব খুশি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করি”।

সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পে নির্মিত দেশের প্রথম হরিজন পল্লিতে ঘর পাওয়া সুনীল লাল বাঁশফোর বলেছিলেন “আমরা খুব কষ্টে ছিলাম। বাপ-মা খুব কষ্ট করছেন। ভালো বাড়ি ও জমি ছিল না। সবাই আমাদের কেমন চোখে দেখে। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের এমন উপহার দিলেন, যেন আমাদের নতুন জীবন দিলেন। এতো সুন্দর পাকা ঘরবাড়ি দিয়েছেন। আমরা খুব খুশি। শেখ হাসিনা আমাদের জীবনটা বদলায় দিয়েছেন”।

মনে করিয়ে দেয়-“আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও / রহিমুদ্দীর ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও। বাড়ি তো নয় পাখির বাসা-ভেন্না পাতার ছানি / একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি”। পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের সেই আসমানীরা এখন নিজের ঠিকানা পেয়ে স্বাবলম্ভি হতে শুরু করছে। নিঃসন্দেহে বলা যায়- এই প্রকল্পের মাধ্যমেই পারিবারিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের নবদিগন্ত সূচনা হয়েছে এই দেশের আকাশে।

এমনকি সারাবিশ্বেই এই আশ্রয়ণ প্রকল্প আজ দারিদ্র্য বিমোচনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। অন্য দেশের কোন পরামর্শে নয়, এই উদ্যোগ বাংলাদেশ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। প্রত্যাশা থাকবে গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর এই মহতী ও মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে আগামীতেও এবং গৃহহীন মুক্ত হবে দেশের ৬৪ জেলা।

লেখক: প্রক্টর, সিলেট কৃষি বিশ^বিদ্যালয়, সিলেট।




খুলনা রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ ওসি দর্শনা থানার বিপ্লব কুমার শাহ

খুলনা রেঞ্জের ১০ জেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হয়েছেন চুুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লব কুমার শাহা,এস আই খাঁন আব্দুর রহমান,এ এস আই বশির আহম্মেদ।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মইনুল হক, বিপিএম (বার) সিপিএমের সভাপতিত্বে জানুয়ারি ২০২৩ মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সভায় ওয়ারেন্ট তামিল, মাদকদ্রব্য উদ্ধার, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, মামলা নিষ্পত্তি সহ দর্শনা থানার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য বিপ্লব কুমার শাহ অফিসার ইনচার্জ, চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানা কে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হিসাবে ঘোষণা করেন।

অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার শাহা, দর্শনা থানার এস আই খাঁন আব্দুর রহমান, এ এস আই বশির আহম্মেদকে শ্রেষ্ট ক্রেষ্ট তুলে দেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মইনুল হক, বিপিএম (বার তাদের হাতে। তার এই পুরস্কার প্রাপ্তিতে সহযোগিতা করার জন্য চুয়াডাঙ্গা জেলার সকল অফিসার ফোর্সসহ সকল পুলিশ সদস্য, চুয়াডাঙ্গা বাসী ও সকল শুভাকাঙ্খীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

এ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন ও অর্থ), মোঃ নিজামুল হক মোল্যা, সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মোঃ নিজামুল হক মোল্যা, অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন ও অর্থ), জয়দেব চৌধুরী বিপিএম- সেবা, অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট), মোঃ হাসানুজ্জামান পিপিএম, অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস্) খুলনা রেঞ্জ, আরআরএফ, খুলনা সহ রেঞ্জ কার্যালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং খুলনা রেঞ্জের ১০টি জেলার পুলিশ সুপারবৃন্দ ও খুলনা রেঞ্জের ইন-সার্ভিস টেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট (পুলিশ সুপার) বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




দর্শনায় ৬ হাজার পিচ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার ২

দর্শনা থানা পুলিশ মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ৬ হাজার পিচ নেশাজাতদ্রব্য ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই জনকে গ্রেফতার করেছে।

জানাযায় আজ শনিবার বেলা ১১ টার দিকে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার শাহার নেতৃত্বে অভিযান চালায় পরানপুর গ্রামের কফি হাউজ এন্ড ফাস্টফুড দোকানের সামনে।

এ সময় দর্শনা থানার এসআই নীতিশ বিশ্বাস গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সঙ্গীয় ফোর্সসহ একটি মটরসাইকেল কে ধাওয়া করে ধাওয়া করে দর্শনা সিএ্যান্ডবিপাড়ার লালু মুন্সির ছেলে পারভেজ (২০) ও দক্ষিণ চাঁদপুর হল্ট ষ্টেশন পাড়ার আব্দুল খালেকের ছেলে সাব্বির ইসলামকে (১৯) গ্রেফতার করে।

পরে তাদের স্বীকারোক্তিতে মটরসাইকেলে অভিনব কায়দায় লুকানো মটরসাইকেলের সিটের নিচে লুকানো ৬ হাজার পিচ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ তাদেরকে গ্রেফতার করে। ছয় হাজার পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটের বাজার মূল্য ৩ লক্ষ টাকা।

আজ তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলাসহ চুয়াডাঙ্গা কোর্ট হাজতে প্রেরন করেছে।




দলীয় কাজে সরকারি সুবিধা নিচ্ছেন না শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ কার্যালয়ে শনিবার সকাল ১০টায় ব্যক্তিগত গাড়িতে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিক্রির দলীয় কর্মসূচি উদ্বোধন করে প্রথম ফরমটি তিনিই কিনলেন। ফরম বিক্রির কর্মীরা জানান, আপাতত তিনি ফরম নিয়েছেন, গোপালগঞ্জ-৩ আসনের জন্যে। প্রধানমন্ত্রীর এর পরের কর্মসূচি ছিল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত। এই কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে যান সরকারি গাড়িতে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় কাজ ছাড়া কোন সরকারি সুবিধা নিচ্ছেন না।

শুক্রবার বিকাল ৩টায় আওয়ামী লীগের তেজগাঁও কার্যালয়ে ছিল দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভা। তফসিল ঘোষণার পর দলের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় সভাপতিত্ব করেন শেখ হাসিনা। এখানেও প্রধানমন্ত্রী আসেন ব্যক্তিগত গাড়িতে। নির্বাচনের খুটিঁনাটি নানা বিষয় নিয়ে তিনি টানা বক্তৃতা করেন কিন্ত সরকারি টেলিভিশন বিটিভি কোন লাইভ সম্প্রচার করেনি। বিটিভির প্রতিবেদক জিহাদুর রহমান জিহাদ জানান, তফসিল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সংগ্রহ নিয়ে বিটিভির কিছু পরিবর্তন এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর যেকোন কার্যক্রম অন্য গণমাধ্যম যেমন কাভার করে, তারাও সেভাবে করবে। এখানে সরকার প্রধান হিসাবে আলাদা কোন কাভারেজ তিনি পাবেন না। এটা আসলে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।

এর আগে গত ৩১শে অক্টোবর গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আরপিও অনুযায়ী নির্বাচনের তফসিল হবে। তারপর থেকে কোনো মন্ত্রী ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবেন না। সুযোগ-সুবিধাও পাবে না। কিন্তু সরকারি ওয়ার্ক চলবে। তিনি জানান, প্রার্থী হওয়ার পর, গণভবনে কোন কনফারেন্স তিনি করবেন না। তখন কোন সংবাদ সম্মেলন করতে হলে, আওয়ামী লীগের আলাদা কোন অফিসে করা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘তফসিলের পর থেকে ভোটের ফলাফলের সরকারি গেজেটে প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত ‘নির্বাচন-পূর্ব সময়’। এই সময়ে যে সরকার থাকবে তাদের কার্যক্রমে বেশ কিছু পরিবর্তন আসবে এবং ক্ষমতাও অনেক কমে আসবে। নির্বাচন-পূর্ব সময়ে সরকার কোনো নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেবে না। একই সঙ্গে নতুন কোনো উন্নয়ন প্রকল্পও গ্রহণ করবে না। সরকারের যেসব মন্ত্রী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন, তাদের সুযোগ-সুবিধা কমে আসবে। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রচারের তারা কোনো প্রোটোকল পাবেন না। তিনি আরও বলেন, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও কানাডার মতো সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশে যেভাবে নির্বাচনকালীন সরকার থাকে, সেভাবে চলবে। অর্থাৎ নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে রুটিন ওয়ার্ক পালন করব, যেন সরকার অচল হয়ে না যায়।’

এরই মধ্যে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, যেহেতু তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এখন থেকে রুটিন কাজ করে যাবে। নির্বাচনকালীন যে সরকার থাকে তারা পলিসি ডিসিশন নেয় না, যেন একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকে। তারা এমন কিছু করবে না, যা জনগণ সরকারকে ভোট দিতে আকৃষ্ট করে। তিনি সংবিধানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর ৫(২) অনুচ্ছেদে বলা আছে, নির্বাচন কমিশন যে কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় যে কোনো দায়িত্ব পালনে বা সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবে। ৪৪(ঙ) অনুচ্ছেদ অনুসারে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়া বিভাগীয় কমিশনার, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার, পুলিশ সুপার এবং তাদের অধস্তন কর্মকর্তাকে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া বদলি করা যাবে না। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনবোধে যে কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলির ব্যবস্থা নিতে পারবে। ‘নির্বাচন কমিশন এ সময় নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১’ প্রয়োগ করতে পারবে।




অবশেষে টরোন্টোতেই ভিডিওতে ধরা পড়ল বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরী

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিজ হাতে গুলি করে খুন করা এস এইচ এম বি নূর চৌধুরীকে নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার করেছে কানাডিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিবিসি। যে প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো আত্মগোপনে থাকা নূর চৌধুরীর দেখা মিলেছে। সিবিসি টেলিভিশিনের জনপ্রিয় অনুসন্ধানী বিভাগ ‘দ্যা ফিফথ স্টেট’ এ ‘দ্যা এসাসিন নেক্সট ডোর’ শিরোনামের ৪২ মিনিটের এই প্রতিবেদনটি প্রচারিত হয় শনিবার (বাংলাদেশ সময়) সকাল ৮টায়।

প্রতিবেদনে নূর চৌধুরীর কানাডায় পালিয়ে যাওয়া, ২৭ বছর সেখানে থেকে যাওয়া এবং খুনের অভিযোগে হওয়া শাস্তি বাস্তবায়নে তাকে বাংলাদেশের ফেরত চাওয়া বিষয়গুলো উঠে এসেছে। কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার বলেছেন, ‘এই একটি ইস্যু বাদে কানাডার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ। কেবল বাংলাদেশি হাই কমিশনার হিসেবে নয় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ হিসিবে আমি চাই তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হোক।’

নূর চৌধুরী কোথায় আছেন, কি করছেন, এ নিয়ে জানা থাকলেও তথ্য আকারে সামনে আসেনি তেমন। তার অবস্থান নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরির প্রচেষ্টা ছিলো। ধারণা করা হচ্ছে, এই রিপোর্ট প্রচারের মধ্য দিয়ে সেই ধোঁয়াশা কেটে যাবে এবং কানাডিয়ান সাধারণ জনগণ তাদের পাশের বাসায় থাকা ভয়ানক এই খুনি সম্পর্কে পরিষ্কার একটি ধারণা পাবে।

প্রতিবেদনে টরন্টোর নিজ ফ্লাটের ব্যালকনীতে নূর চৌধুরীকে এক ঝলক দেখানো হয়। গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আত্মগোপনে থাকা নূর চৌধুরীকে ড্রাইভিং সিটে বসে থাকা অবস্থাতে ধরতে পারেন প্রতিবেদক। কিন্তু কথা না বলে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে কোনমতে কেটে পড়েন তিনি। দীর্ঘদিন অনুসরণ করে খুঁজে বের করেছে ফিফথ স্টেটের অনুসন্ধানী দলটি।

বঙ্গবন্ধুকে নিজ হাতে গুলি করে হত্যার পর কূটনীতিক হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালন করেন নূর চৌধুরী। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এলে তিনি পালিয়ে প্রথমে আমেরিকা, পরে কানাডায় ঢোকেন দর্শনার্থী হিসেবে। এরপর ১৯৯৯ সালে শরণার্থী হিসেবে থেকে যাওয়ার আবেদন করলেও কানাডা সরকার তা নাকচ করে দেয়। আপিল করেও হেরে যান নূর চৌধুরী। ২০০৯ সালে তাকে কানাডা থেকে নূরকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেয় কানাডিয়ান সর্বোচ্চ আদালত। কিন্তু বাংলাদেশে পাঠালে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে— এমন শঙ্কার কথা জানিয়ে ২০১০ সালের দিকে সরকারের কাছে ‘প্রি রিমুভাল রিস্ক এসেসমেন্ট’র আবেদন করেন নূর চৌধুরী। যেহেতু কানাডা মৃত্যুদণ্ড সমর্থন করে না, সেহেতু এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রায় ১৪ বছর ধরে কানাডায় মুক্ত জীবন যাপন করছেন তিনি।




অবরোধ-হরতালের বিরুদ্ধে শিল্পী সমাজের মানববন্ধন

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির ডাকা অবরোধে দেশের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির তথ্য তুলে ধরে শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশের শিল্পী সমাজ। মানববন্ধনে বক্তারা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রাখার আহবান জানান।

শনিবার হরতাল-অবরোধের বিরুদ্ধে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ”ধ্বংসের বিরুদ্ধে শিল্পীসমাজ” ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন উপস্থিত হয়ে তারা এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মানববন্ধনে চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ বলেন, ‘আমার বাচ্চারা আজকে বন্ধের দিনে পরীক্ষা দিচ্ছে। এই অবরোধের কারণে তারা অনলাইন ক্লাস করছে। বাচ্চারা যখন এ বিষয়গুলো জানতে চায় আমরা উত্তর দিতে পারি না। তারা ভিন্ন মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠছে। আজকালের শিক্ষার্থীরা হরতাল অবরোধ চায় না কারণ স্মার্ট হিসেবে গড়ে উঠছে। বর্তমান সরকারের দোষ কি? তিনি পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি করেছে? এগুলো কারও দোষ হলে আমরা সেই দোষীর পক্ষেই রয়েছি। তাই আগামী নির্বাচনে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়ে জয়ী করতে চাই।’

এসময় অভিনেত্রী নিপুন বলেন, ‘শেখ হাসিনাতেই আমার আস্থা। আমি অভিনেত্রী থেকে নারী উদ্যোক্তা হয়েছি শেখ হাসিনার কারণেই। আজকে যারা নারী উদ্যোক্তা হয়েছে, তারা প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণেই হয়েছে। কারণ তিনি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য কোনো ভ্যাট রাখছেন না। আপনারা যারা হরতাল অবরোধ দিচ্ছেন, যার কারণে আমাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আপনাদের কাছে আমাদের প্রশ্ন-আপনারা কি আবারও হরতাল অবরোধে অস্থিতিশীল দেশ চান? আমরা কোভিডের সময়ও ব্যবসায় এতোটা ক্ষতিগ্রস্ত হইনি,যতটা এই হরতাল অবরোধের কারণে হতে হচ্ছে। তাই আমি বলবো,আমার মেয়ের নিরাপত্তার জন্য সামনের ৭ই জানুয়ারি শেখ হাসিনাকে আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।’

অভিনেতা রিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘আজকে আমাদের টেলিভিশনের পর্দায় থাকার কথা থাকলেও আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়েছি। এর কারণ হলো আজকে বিএনপি যেই নৃশংসতা সৃষ্টি করেছে তার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান। তারাই ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে হত্যা করেছে। তারাই আজকে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে। পুলিশ বাহিনীর উপর হামলা করছে। হাসপাতাল, এম্বুলেন্সে হামলা করছে। তারা প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা করছে। তাদের এই নৃশংসতা দেশাদ্রোহীতার শামিল বলে মনে করি ‘

চিত্র নায়িকা মাহিয়া মাহী বলেন, ‘আমরা চাই না আর কোনভাবে বিএনপি এদেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করুক। আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে আছি, শিল্পী সমাজ আজকে এই সহিংসতার বিরুদ্ধে রয়েছে।’

শমী কায়সার বলেন, ‘শহীদ পরিবার আজ মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছে। আমরা দেখেছি এক সময় তাদেরকে এই দেশে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। বাংলাদেশের শিল্পী সমাজ সব সময় সত্যর পক্ষে দাঁড়িয়েছে, তারা সত্যকে লালন করে সত্যের জন্য কথা বলেছে, আর সেই সত্যিটি হলো মুক্তিযুদ্ধ। সবাই বলে সংলাপ করেন। কিন্তু যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, স্বাধীন রাষ্ট্রে যারা বিশ্বাস করেনি, স্বাধীন রাষ্ট্রের বিপক্ষে যারা ছিলো, তাদের সাথে বসে কখনো দেশ বিনির্মানের গল্প হয় না ‘

অভিনেত্রী তারিন জাহান বলেন, ‘আমি এদেশের নাগরিক এবং একজন শিল্পী। একজন নাগরিক হিসেবে আমার চাহিদা দেশের উন্নয়ন, আমার নিরাপত্তা। সেটি কে নিশ্চিত করছে তা বোঝার যথেষ্ট বোধ আমার রয়েছে। আমরা দেখছি একটি দেশ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ-চেতনা নিয়ে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে আমরা দেখতে পাচ্ছি আরেকটি দল বলছে জনগণের জন্য রাজনীতি করছে,কিন্তু অগ্নি সন্ত্রাসের মাধ্যমে জনগণের জান-মালের ক্ষতি করছে,আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের পুড়িয়ে মারছে ‘

নির্মাতা গুলজার আহমেদ বলেন, ‘জনগণের জান মাল ধ্বংস করে মানুষের পেটে লাথি মেরে কিভাবে আন্দোলন করে। বিএনপি বলে তারা না-কি জনগণের স্বার্থে রাজনীতি করে৷ অথচ তারা দিনে আনে দিনে খায় এমন শ্রমিকদের বাসে আগুন দেয়। বিদেশিদের এজেন্ডা বাস্তয়নেই কাজ করছে। ’

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন অভিনেত্রী জোতিকা জ্যোতি, মুক্তিযোদ্ধাযোদ্ধা বিচ্ছু জালাল, অভিনেত্রী শম্পা রেজা, দিলারা হক, তানবীর সুইটি, অভিনেতা তুষার খান, ধ্রুব গ্রহ,এসডি রুবেল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা ও পরিচালক সালাউদ্দিন লাবলুসহ অনেক শিল্পী ও পরিচালক।




বন্ধ হচ্ছে ডিসকর্ডের এআই চ্যাটবট ক্লাইড

ডিসকর্ডের এআই চ্যাটবট ক্লাইড বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি এক সাপোর্ট নোটে এমনটিই জানিয়েছে ডিসকর্ড। চ্যাটবটটির কার্যক্রম ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। ডিএম-এ এখন আর ক্লাইডকে ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যাবে না।

চলতি বছর পরীক্ষামূলকভাবে ডিসকর্ড এই চ্যাটবটটি চালু করে। শুরু থেকেই তারা কমিউনিটির প্রধান অংশ হিসেবে এটিকে প্রতিষ্ঠিত করার চিন্তা করেছিল। কিন্তু সম্প্রতি তা বন্ধেরই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

কেন, কি কারণে এই চ্যাটবট বন্ধ হচ্ছে তা এখনও জানা যায়নি। তবে অনেকে ধারণা করছেন, আপাতত বাতিল হলেও ভবিষ্যতে পেইড ফিচার হিসেবে এটিকে চালু করা হবে। এও হতে পারে, ডিসকর্ডের মতো প্লাটফর্মে এমন একটি ফিচারের তেমন প্রয়োজন নেই।

ডিসকর্ড তাদের প্লাটফর্মে অনেকগুলো ফিচার নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। এভাবে ডিসকর্ডের ব্যবহারকারীরা অসংখ্য সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন। তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডেভেলপারদের জন্য ভালো একটি প্লাটফর্ম গড়ে তুলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।




ঝিনাইদহে কলা ক্ষেত থেকে দিনমজুরের লাশ উদ্ধার

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের একটি কলা ক্ষেত থেকে আসলাম হোসেন (৪৮) নামে এক দিনমজুরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত আসলাম হোসেন পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার নিমাইচড়া ইউনিয়নের বহরমপুর গ্রামের ফরিদুল ইসলামের ছেলে।

আজ শনিবার (১৮নভেম্বর) দুপুরে খবর পেয়ে পুলিশ রক্তাক্ত লাশটি উদ্ধার করে। তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিক ভাবে ধারণা করছে। ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত কিছু জামাকাপড়, একটি শাবল, কিছু বেগুন ও একটি কাস্তে পাওয়া গেছে।

মহারাজপুর ইউনিয়নের খামারাইল ওয়ার্ডের মেম্বর জাহিদুল ইসলাম জানান, সকালে রামনগর গ্রামের কলা ক্ষেতে লাশ পড়ে থাকার বিষয়টি জানতে পেয়ে প্রথমে ইউপি চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম মিয়া জানায় পরে পুলিশকে অবগত করে তিনি। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে লাশটি উদ্ধার ও সনাক্ত করার চেষ্টা করে। মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম জানান, নিহত ব্যক্তি দিনমজুরের কাজ করে। তার মাথায়, হাতের তালু ও কানের পাশে আঘাতের চিহ্ন আছে। সম্ভবত শাবল দিয়ে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হতে পারে। আবার অনেকে মনে করছেন, পাশের ক্ষেত থেকে বেগুন তোলার কারণে কেউ চোর সন্দেহে তাকে হত্যা করতে পারে।

নিহতের ভাই মনিরুল ইসলাম জানান, গত মঙ্গলবার কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে সে বের হয়েছে। তার মোবাইল ফোন নষ্ট হওয়ার কারণে পরিবারের সাথে তার যোগাযোগ ছিলো না।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মীর আবিদুর রহমান জানান, মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাশের পরিচয় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান, নিহত আসলাম পাবনার চাটমোহর উপজেলার নিমাইচড়া ইউনিয়নের বহরমপুর গ্রামের ফরিদুল ইসলামের ছেলে।

এই হত্যার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা চালানো হবে।