নির্বাচনে সেনা বাহিনী মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে থাকবে

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাবসহ সব বাহিনী ২৯ ডিসেম্বর মাঠে নামবে। তারা মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৩ দিন দায়িত্ব পালন করবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমানের জারি করা এক পরিপত্রে এসব নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট সবাইকে পাঠানো হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়, নির্বাচনের দিন প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৫ থেকে ১৭ জন নিরাপত্তা রক্ষাকারী সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।

নির্বাচনকালীন পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, আর্মড পুলিশ, আনসার ব্যাটালিয়ন ও কোস্টগার্ড এবং সশস্ত্র বাহিনী ভোটের আগে-পরে ১৩ দিনের জন্য মোতায়েন থাকবে।

এতে আরো বলা হয়, ২৯ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনী মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া পুলিশ, আনসার-ভিডিপিসহ ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষাকারী সদস্যরা পাঁচ দিনের জন্য মোতায়েন থাকবে। ভোটের আগের দুদিন থেকে তাদের মোতায়েন করা হবে।

আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ২৭টি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে মোট বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৯৬ জন। তবে উচ্চ আদালত থেকে নির্দেশনা এলে এ সংখ্যা আরো বাড়তে বা কমতে পারে। এই নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ১০৩টি।

আর ভোটার সংখ্যা ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন এবং নারী ভোটার ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন। আর হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৮৫২ জন।
চার লাখ ছয় হাজার ৩৬৪ জন প্রিজাইডিং অফিসার, দুই লাখ ৮৭ হাজার ৭২২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার ৪৪৩ জন পোলিং অফিসার, মোট নয় লাখ নয় হাজার ৫২৯ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন।




সারা দেশে ৩ দিন মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫ জানুয়ারি রাত ১২টা থেকে ৮ জানুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের রাজনৈতিক-৬-এর জারি করা এক পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ৬ জানুয়ারি মধ্যরাত ১২টা থেকে ৭ জানুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস, পিকআপ, ট্রাক, লঞ্চ, ইঞ্জিনচালিত বোটসহ (নির্দিষ্ট রুটে চলাচলকারী ব্যতীত) অন্যান্য যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। এ ছাড়া সারা দেশে ৫ জানুয়ারি মধ্যরাত ১২টা থেকে ৮ জানুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

তবে নির্বাচনে প্রার্থী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচনী এজেন্টরা সেসব যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন না। পর্যবেক্ষক ও পোলিং এজেন্টদের যানবাহনে নির্বাচন কমিশনের স্টিকার ব্যবহার করতে হবে। জাতীয় হাইওয়েসমূহের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচনের কারণে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত লাইসেন্সধারী অস্ত্র বহন ও প্রদর্শনও করা যাবে না।

ভোট ঘিরে ২৯ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৩ দিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনী মাঠে দায়িত্ব পালন করবে।




মেহেরপুরে নারীতে রূপান্তরিত হয়েছে হিজড়ারা

দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর লিঙ্গ হিসেবে হিজড়া সাংবিধানিক স্বীকৃতি লাভ করে। কিন্তু ভোটার তালিকা হালনাগাদের পর মেহেরপুরের হিজড়া ভোটারদের নারীতে রূপান্তরিত করেছে জেলা নির্বাচন অফিস।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মেহেরপুরে দুইটি আসনে প্রকাশিত চুড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেখা যায় সমগ্র জেলায় হিজড়া ভোটার মাত্র ২ জন। সংখ্যাটি নিয়ে বিভিন্ন মহালে শুরু চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। জেলাতে হিজড়ার সংখ্যা নিয়েও বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ভেদে রয়েছে অস্পষ্টতা। ভোটার তালিকায় হিজরা সংখ্যা মাত্র ২ জন দেখালেও জেলা পরিসংখ্যান অফিস বলছে হিজড়া সংখ্যা ২৬, হিজড়াদের প্রতিনিধি বলছে মেহেরপুরে তাদের সংখ্যা ২৯ জন, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরে বলছে হিজরা সংখ্যা ২৫ আবার তাদের উপকার ভোগীর তালিকায় সংখ্যাটা ৩০ জনের।

ভোটার তালিকা হালনাগাদে এবারই প্রথম হিজড়া ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী কাদের মোঃ ফজলে রাব্বি মেহেরপুর প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমাদের কাছে যে সকল হিজরারা প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন সরকারি সুবিধা নিয়েছেন জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ী সকলের লিঙ্গ হিজড়া। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যে সংখ্যাটা দেখানো হচ্ছে সেটা সঠিক নয়। কেন এমন হলো ব্যাখ্যাটা উনারাই দিতে পারবেন। ‘

জেলা পরিসংখ্যান অফিস মেহেরপুরের উপ-পরিচালক মোঃ বছির উদ্দীন বলেন, ‘আমাদের সর্বশেষ শুমারি অনুযায়ী মেহেরপুর জেলায় মোট হিজড়া’র সংখ্যা ২৬ জন।’

হিজড়াদের পরিচয়ের স্বীকৃতির দীর্ঘ আন্দোলনের পর ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে হিজড়াদের ‘লিঙ্গ পরিচয়কে’ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে এ সংক্রান্ত ‘নীতিমালা অনুমোদন করা হয়।

২০১৪ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধিমালা প্রণয়নের সময়ই নির্বাচন কমিশন ‘হিজড়া’র অপশন প্রস্তাবিত নিবন্ধন ফরমে যুক্ত করে। কিন্তু ভোটার তালিকা আইন ও ভোটার তালিকা বিধিমালা সংশোধন না হওয়ায় ইতোপূর্বে তা কার্যকর সম্ভব হয়নি। ২০১৮ সালে বিধিমালা সংশোধনের পর এবারই প্রথম তাদের তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন ফর্মেও লিঙ্গ হিসেবে নারী ও পুরুষের পাশাপাশি হিজরা রাখা হয়েছে। ২০১৮ সালে তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছিলেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সময় নাই। এজন্য হিজড়ারা তাদের পছন্দ অনুযায়ী পুরুষ বা নারী যেকোনো একটি অপশন পছন্দ করে ভোটার হতে পারবে। ভোটার তালিকার পরবর্তী হালনাগাদে তাদের হিজড়া ভোটার হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করে তালিকাভুক্ত হবে।

হিজরাদের প্রতিনিধি সুমি খাতুন বলেন, ‘মেহেরপুর জেলায় আমাদের মোট সংখ্যা ২৯ জন। এরমধ্যে মেহেরপুর সদরে ১৯ জন ও গাংনীতে ১০ জন। আমরা সকলেই অনেক আগে থেকেই নারী ভোটার হিসাবে তালিকাভূক্ত। নতুন করে ভোটার হিসেবে আমাদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়নি।’

মেহেরপুর জেলা নির্বাচন অফিসার মো: ওয়ালিউল্লাহ মেহেরপুর প্রতিদিনকে বলেন, ‘মেহেরপুরে হিজড়া ভোটাররা নারী ভোটার হিসেবে আগে থেকেই তালিকাভুক্ত ছিলেন। নতুন যারা ভোটার হবেন আমরা তাদেরকে হিজড়া ভোটার দেখাবো। অন্যরা আগের তালিকাতেই থাকবেন। এ বছর গাংনীতে নতুন দুজন ভোটার হয়েছেন। আমরা তাদেরকে হিজড়া ভোটার হিসাবে দেখিয়েছি। অন্যদের আমরা আগের তালিকাতেই রেখেছি।’




ঝিনাইদহে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে হামলা-ভাংচুর আহত ৬, গ্রেপ্তার ২

ঝিনাইদহ-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুল এর নির্বচনী অফিসে নৌকা প্রতীকের সমর্থনকারীরা হামলা ও ভাংচুর করে ৬জনকে গুরুতর আহত করেছে। তাদের মধ্যে ৪ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটী ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া বাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন একই ইউনিয়নের ঘোড়ামারা গ্রামের রোজদার মন্ডলের ছেলে আকাশ মন্ডল (২২), বাজিতপুর গ্রামের লিয়াকত লস্করের ছেলে মোঃ আকিজ লস্কর (৩৭) একই গ্রামের খয়বার মন্ডলের ছেলে আব্বাস আলী (৩০) এবং মহসিন শেখ। আহত ২ জনকে আশংকাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে বলে স্বজনরা জানান।

এই হামলা এবং ভাংচুরের ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন ২জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলেন জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান জাকারিয়া। তিনি বলেন সংবাদ পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো পর পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। সহিংসতার সংবাদ পেলেই সেখানে পুলিশের গ্রেপ্তার অভিযান চলবে।




আলমডাঙ্গায় একের অধিক নির্বাচনী অফিস নির্মাণে তিন প্রার্থীকে জরিমানা

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে সংসদ নির্বাচনে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অপরাধে তিন প্রার্থীকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রামমাণ আদালত।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাচনে নিয়োজিত ম্যাজিস্ট্রেট ও আলমডাঙ্গা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজওয়ানা নাহিদ।

আদালত সূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গা পৌরসভার বিভিন্নস্থানে নির্বাচনী আচরণ বিধি মানা হচ্ছে কিনা সেটা তদারকিতে মাঠে নামে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আওয়ামীলীগের মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র ঈগল প্রতিকের প্রার্থীর পৌর এলাকায় একের অধিক নির্বাচনি অফিস থাকায় তাদের দুজন কর্মীকে জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। নৌকার প্রার্থীর কর্মীকে আড়াই হাজার টাকা ও ঈগল প্রতীক প্রার্থীর কর্মীকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া স্বতন্ত্র ফ্রীজ প্রতিকের প্রার্থীকে এম.এ. রাজ্জাক খাঁন রাজের বৈদ্যুতিক ল্যাম্পপোস্টে ভোটের পোস্টার স্থাপন ও মাপের অধিক বড় বিলবোর্ড নির্মাণের জন্য তার কর্মীকেও ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় নির্বাচনে নিয়োজিত ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার ভূমি রেজওয়ানা নাহিদ জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। নির্বাচনে সকল প্রার্থীকেই আইন মেনে চলতে হবে। নির্বাচন পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।




চুয়াডাঙ্গায় ঈগল প্রতীকের প্রার্থীর প্রচার কাজে নিয়োজিত ইজিবাইক চালককে ধারালা অস্ত্রাঘাতে জখম

চুয়াডাঙ্গা শহরের একাডেমী বিদ্যালয়ের মােড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী দিলীপ কুমার আগরওয়ালার ঈগল প্রতীকের প্রচার কাজে নিয়োজিত ইজিবাইক চালক রুবেল হােসনকে (৩০) ধারালাে অস্ত্রাঘাতে জখম করা হয়েছে। আহত রুবলকে রক্তাক্ত অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ৩টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে।

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বাগানপাড়ার মিনারুল ইসলামের ছেলে ইজিবাইক চালক আহত রুবেল চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী দিলীপ কুমার আগরওয়ালার নির্বাচন প্রচার কাজ নিয়জিত রয়েছে।

আহত রুবলের মামা আসাবুল হক বলেন, এদিন সকালে ঈগল প্রতীকের প্রচার কাজে ব্যবহৃত মেমোরী কার্ড

নিয়ে ওই এলাকার মফিজুরের সঙ্গে রুবলের বাকবিতন্ডা হয়। এরই মধ্যে মফিজুরের ভাগ্নে শাহাদাৎকে বিষয়টি জানায়। তারপর দুপুরে প্রচার চালাতে মাইক নিয়ে একাডেমী বিদ্যালয়ের মোড় গেলে শাহাদাৎ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করে। এরপর স্থানীয়দের সহযোগীতায় তাকে উদ্ধার করে সেখান থেকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করা হয়।

সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সোহরাব হোসন বলেন, আহত রুবলের শরীলের পিঠে ধারালো অস্ত্রাঘাতের জখম হয়েছে। সেই ক্ষতস্থানে সেলাই দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ভর্তি রাখা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ সেকন্দার আলী বলেন, এটা নির্বাচন কেদ্রীক কোন ঘটনা নয়। দুজনই ইজিবাইক চালক। একটি মেমোরী কার্ড দেওয়া নেওয়াকে কেদ্র করেই আঘাতের ঘটনাটি ঘটেছে। তবে বিচার প্রার্থীর কাছ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে সেটার ওপর ভিত্তি করে প্রয়াজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা মহাসড়কে বাস-পাওয়ারটিলার মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ২

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা-দর্শনা সড়কের লোকনাথপুর ফায়ার সার্ভিসের অদূরে বাস-পাওয়ারটিলার সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন রক্তাক্ত জখম হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে এ দৃর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনায় আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত জখম হয়েছেন, পাওয়ারটিলার চালক দামুড়হুদা উপজেলার নতিপোতা ইউনিয়নের কালিয়াবকরি গ্রামের মজিবরের ছেলে জহির ইসলাম কটা (৩৩) ও নতিপোতা গ্রামের আশাদুলের ছেলে গরু ব্যবসায়ী রিপন মিয়া (৩৬)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জীবননগর উপজেলার শিয়ালমারি পশু হাট থেকে গরু বিক্রি করে বাড়ি ফেরার পথে দর্শনা-দামুড়হুদা সড়কের মাঝে লোকনাথপুর ফায়ার সার্ভিসের কাছে পৌঁছালে বেপরোয়া গতিতে এসে পিছন দিক থেকে ধাক্কা দেয় কার্পাসডাঙ্গা থেকে ছেড়ে আসা ফরিদপুর গামী রেখা পরিবহন। ধাক্কা দেয়ায় পাওয়ারটিলার চালক কটা (৩৫) রাস্তার উপরে ছিটকে পড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় বেহুশ হয়ে যায়। তখন তাকে ধরে রাস্তার পাশে নিয়ে সরানোর জন্য গেলে রেখা পরিবহনের বাসটি চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে ১ জন গরু ব্যাপারি সামনে যেয়ে হাত উুঁচু করে দাড়ালে তাকে সাইড কাটিয়ে বাসটি সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

তাৎক্ষণিকভাবে পথচারীরা ফায়ার সার্ভিসের অফিসে জানালে সাথে সাথেই তারা গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে দামুড়হুদা চিৎলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চালক কটার অবস্থার অবনতি দেখা গেলে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বর্তমানে নিজ বাড়িতে আছেন। তবে গুরুতর আহত পাওয়ারট্রলির চালক কটার অবস্থা আশংকাজনক।




আলমডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় ছেলুন জোয়ার্দ্দারের গণসংযোগ

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের নৌকার মনোনীত প্রার্থী সোলায়মান হক জোয়ার্দার ছেলুন আলমডাঙ্গার বিভিন্ন ইউনিয়নে গনসংযোগ করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিকার তিনি পিটিআই মোড়,কান্তপুর ব্রিজ মোড়, মুন্সিগঞ্জপশুহাট, জেহালা, রোয়াকুলি, বন্ডবিল, রেলস্টেশন এলাকা ও আলমডাঙ্গা পৌর পশুহাট এলাকায় গণ সংযোগ করেন।

গন সংযোগ কালে তিনি বিভিন্ন মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করে নৌকায় ভোট প্রার্থনা করেন।

এ সময় তিনি বলেন,আওয়ামীলীগ সরকার উন্নয়নের সরকার,আওয়ামীলীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই দেশের উন্নয়ন হয়।বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে গৃহহীন দের গৃহ নির্মাণ করে দিয়েছে।যাদের জমি নেই তাদেরও জমি সহ গৃহ নির্মান করে দিয়েছে।বয়স্ক,বিধবা,প্রতিবন্ধি সহ ৫৩ প্রকারের ভাতা দেওয়া হচ্ছে।গরীব মানুষদের জন্য স্বল্প মুল্যে চাল ডাল, তেল,পেঁয়াজ দিচ্ছে।প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্টানে বিল্ডিং করে দিয়েছে।বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই তুলে দেওয়া হচ্ছে।সন্ত্রাস নির্মুল করার পর মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারছে।

বিগত সরকার আমলে সন্ত্রাসীদের লালন করা হয়েছিল।কিন্ত বর্তমান সরকার সন্ত্রাস নির্মুল করে যুগান্তকারি পদক্ষেপ নিয়ে মানুষকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মুক্তি দিয়েছে।

দেশের এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত ররাখতে আবারও নৌকায় ভোট দিবেন। গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু মুছা,সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাষ্টার,সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ লিয়াকত আলী লিপু মোল্লা,সাবেক পৌর সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম,পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক সাইফুর রহমান পিন্টু,কালিদাশপুর ইউনিয়নের সভাপতি জয়নাল আবেদীন,যুবলীগ নেতা হিটু,সৈয়কত খান প্রমুখ।




দর্শনা সীমান্তে গাঁজা ও ভারতীয় ইয়ারগানের বডিসহ গ্রেফতার ২

দর্শনা থানা পুলিশ অস্ত্র ও মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ৩ কেজি গাঁজা ও ইয়ারগানের ৮ টি বডি ব্যারেলসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃত হলো চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানার পারকৃষ্ণপুর মদনা ইউনিয়নের বড়বলদিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত হিসাব আলীর ছেলে সোহেল রানা (৩৫)একই গ্রামের মৃত আজিম উদ্দীনের ছেলে জিয়ারুল ইসলাম ওরফে কালো জিয়াকে (৪০),গ্রেফতার করে।

পুলিশ জানায় আজ বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) রাত পৌনে তিনাটার দিকে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি বিপ্লব কুমার সাহার নেতৃত্বে অস্ত্র ও মাদক বিরোধী অভিযান চালায় বড় বলদিয়া গ্রামের দক্ষিন পোতার চৌচালা টিনের বসত ঘরে।

এ সময় দর্শনা থানার এস আই তারেক হাসান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে টিনের ঘরের বসত ঘর থেকে ২ জনের স্বীকারোক্তিতে ৩ কেজি ভারতীয় গাঁজা ও ইয়ারগানের ৮ টি বডি ব্যারেল উদ্ধার করে। এ সব মালামালের আনুমানিক বাজার মৃল্য ১ লাখ ১০ হাজার টাকা।

আজ গ্রেফতারকৃত ২ জনকে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলাসহ চুয়াডাঙ্গা কোর্ট হাজতে প্রেরন করেছে।




জীবননগরে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা

জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নে যৌন হয়রানি (ইভটিজিং,)মাদক, জঙ্গিবাদ, দূর্নীতি প্রতিরোধ,আত্মহত্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার সময় উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন খাঁন সুরোদ্দীনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ড. কিসিন্ঞ্জার চাকমা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসিনা মমতাজ, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি তিথী মিত্র।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,মাদক যুব সমাজকে ধ্বংস করছে। বর্তমান যুব সমাজকে মাদক মুক্ত করে গড়ে তুলতে হলে খেলাধুলার পাশাপাশি আমাদের সকলকে একত্রে হয়ে কাজ করতে হবে। আত্মহত্যা একটা মহাপাপ। এ থেকে বেরিয়ে আসতে অভিভাবকসহ সকলকে সচেতন হতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে হবে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন শৃঙ্খলা যাতে অবনতি না হয় সেদিকে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। আরো বক্তব্য রাখেন মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক,সাংবাদিক আকিমুল ইসলাম, ইয়ুথ এ্যাসেম্বিলর সভাপতি মিথুন মাহমুদ, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক সাজেদুর রহমান প্রমূখ ।অনুষ্ঠানটি সার্বিক পরিচালনা করেন জীবননগর উপজেলা লোকমোর্চার সমন্বয়কারী আব্দুল আলীম সজল।