দামুড়হুদায় পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে গাঁজাসহ আটক ১

দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ রইচউদ্দীন (৪০) নামে একজনকে আটক করেছেন।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কার্পাসডাঙ্গার বাঘাডাঙ্গা গ্রাম থেকে। আসামী রইচউদ্দীন কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের কার্পাসডাঙ্গা ভুমিহীনপাড়ার আরজুল্লাহ’র ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায় দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আলমগীর কবিরের নেতৃত্বে কার্পাসডাঙ্গা ক্যাম্পের এসআই ইমরান হোসেন, এএসআই মোঃ মসলেম উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা কালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে দামুড়হুদা মডেল থানাধীন বাঘাডাঙ্গা গ্রামস্থ জনৈক ফারুক হোসান এর কলাবাগানের সামনে কার্পাসডাঙ্গা হতে বাঘাডাঙ্গাগামী পাকা রাস্তার উপর হতে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ রইচউদ্দীন কে হাতেনাতে আটক করেন।

গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।




যাদের নামে ভিসানীতির অপপ্রচার, তারাই যুক্তরাষ্ট্রে

বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কাদের ওপর ভিসানীতি আরোপ করা হয়েছে সেই নামগুলো দেশটির পক্ষ থেকে প্রকাশ না করা হলেও সামাজিক মাধ্যমে ঘুরপাক খায় বিভিন্ন ব্যক্তির নাম সম্বলিত তালিকা। অথচ তাদের অনেকেই অবস্থান করছেন যুক্তরাষ্ট্রে কিংবা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান করেছিলেন। গুজব রটানো হয়েছিল বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখিত হয়েছে। কিন্তু দেখা গেল – গত শনিবার (১৪ অক্টোবর) তিনি স্ত্রীসহ সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্র গেছেন।

সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে দেখা যায়, ভিসা নীতিকে কেন্দ্র করে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি গোষ্ঠী। এর মধ্যে বিএনপি এবং তাদের অঙ্গসংগঠনের নামে চালু থাকা পেজ এবং বিভিন্ন গ্রুপ থেকে এসব গুজব পোস্ট করা হচ্ছে। সেখান থেকে কপি করে সেগুলো ফেসবুকে ছড়িয়ে দিচ্ছে তাদের অনুসারীরা। দেশে এবং বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন ফেসবুক পেজ এবং আইডি থেকে ছড়ানো হচ্ছে অপপ্রচার।

ভিসা নীতি ঘোষণার পর অপপ্রচারকারিদের তৈরি তালিকায় নাম আসে সাবেক ও বর্তমানসহ কয়েকজন প্রধান বিচারপতির, বিচারপতির, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহ বেশ কয়েক জন কমিশনার, ব্যবসায়ী মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের নাম। তবে দেখা গেছে, তাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন কিংবা যুক্তরাষ্ট্র গিয়ে এসেছেন।

অপপ্রচার থেকে মুক্তি পায়নি খোদ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানের ছেলে শেখ লাবিব হান্নান। তাকে নিয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর একটি অজ্ঞাত ওয়েব সাইটে নিবন্ধ লেখা হয় ভারতীয় সাংবাদিক চন্দন নন্দির নামে। সেখানে অজ্ঞাত সুত্রের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়- ‘যুক্তরাষ্ট্রে পড়ুয়া লাবিব হান্নানকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। হেডলাইনে বড় করে বলা হয়- ‘মার্কিন ভিসা নীতির প্রয়োগ শুরু, বিমানবাহিনী প্রধানের ছেলে দেশে ফেরত’। অথচ লাবিব হান্নান লেখাপড়া করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-তে। তিনি বর্তমানে একটি বহুজাতিক তামাক প্রস্তুতকারী কোম্পানিতে কর্মরত আছেন। চন্দন নন্দির নামে ছাপানো ওই লেখার প্রতিবাদ শুরু হলে প্রকাশের কয়েকঘন্তা পর তা সরিয়ে ফেলা হয়। তবে সেটির স্ক্রিনশট নিয়েও অপপ্রচার চালান কয়েকদিন ধরে।

এরপর একই লেখক আরেকটি লেখার সূত্র ধরে চালান হয় আরেকটি অপপ্রচার। চন্দন নন্দির নামে আরেকটি লেখা একই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন – যুক্তরাষ্ট্র – কানাডা সম্প্রতি বিমান বাহিনী প্রধানের ভিসা প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশের জন্য হেলিকপ্টার কেনার উদ্দেশ্যে সশরীরে পর্যবেক্ষণ করতে ভিসার আবেদন করেছিলেন তিনি।

অপপ্রচারকারিরা এর সঙ্গে যুক্ত করেছে – বিমান বাহিনী প্রধান চিঠি দিয়ে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ জানতে চেয়েছিলেন। যদিও এমন কিছুই ঘটেনি। বিএনপি’র বিভিন্ন নেতা এবং নেত্রী এই গুজব নিয়েও অপপ্রচার চালিয়েছেন সামাজিক মাধ্যম এবং ইউটিউবে। গত শনিবার বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। এক সফরসঙ্গী ও স্ত্রীসহ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।
সফরের অংশ হিসেবে বিমান বাহিনীর দুটি সি-১৩০ পরিবহন বিমানের নিরীক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের (পিডিএম এবং ‘সি চেক’) কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন বিমানবাহিনী প্রধান। সরকারি সফর শেষে ২১ অক্টোবর বাংলাদেশে ফিরবেন তিনি।

দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা একজন ব্যক্তিকে নিয়ে এমন কুৎসা রটনার প্রেক্ষিতে কেউ কেউ ফেসবুকে লিখেছেন- বাংলাদেশ বিরোধী গুজবকারীদের মুখে ছাই দিয়ে বিমান বাহিনী প্রধান এখন নিউইয়র্কে! গত সেপ্টেম্বর মাসে ফেইসবুক, ইউটিউব এবং বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে দেশবিরোধীচক্র গুজব ছড়িয়েছিল বিমান বাহিনী প্রধানের আমেরিকা ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। আবার কেউ কেউ লিখেছেন- বিএনপি জামায়াত পন্থী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা অখ্যাত ভারতীয় সাংবাদিক চন্দন নন্দীর রেফারেন্স দিয়ে বিমানবাহিনী প্রধানের মার্কিন ভিসা ব্যানের গল্প প্রচার করছিলো ।




ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্যর মেজরিটি দল শিবিরকে চায় কেন?

ছাত্রদলের নেতৃত্বে গঠিত ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্যে যুক্ত হতে চায় ছাত্রশিবির। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াতের এই সংগঠনটি ছাত্র ঐক্যে যুক্ত হওয়ার জোরালো তৎপরতা শুরু করেছে। সূত্র বলছে, ঐক্যের কিছু কিছু সংগঠন চায় শিবির তাদের সাথে যুক্ত হোক। কেননা মাঠের আন্দোলনের জন্য শিবিরকে তাদের লাগবে বলে তারা মনে করে। শিবির কেন লাগবে প্রশ্নে বিশ্লেষকরা বলছেন, সাংগাঠনিকভাবে শক্তিশালী হওয়ায় শিবির থাকলে তারা রাস্তার আন্দোলন জোরালো করতে পারবে বলে মনে করছে। কিন্তু এটা ভুল কৌশল। কেননা জামায়াত বিএনপিকে সাথে নিলে তারা জনসমর্থন হারাবে।

ভোটের অধিকার, সন্ত্রাস-দখলদারমুক্ত নিরাপদ ক্যাম্পাস, সর্বজনীন শিক্ষা ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ১৫টি ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য’ আত্মপ্রকাশ করে। চলতি বছরের জুন-জুলাইয়ে ছাত্রদের সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে ছাত্রদল, ছাত্র ফেডারেশনসহ বিভিন্ন সংগঠন কাজ শুরু করে। গত আগস্টে প্রক্রিয়াটি একটি গঠনের মধ্যে আসে। এতে রাখা হয়নি ছাত্রশিবিরকে।

ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্যের ১৫টি সংগঠন হলো— জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ছাত্রলীগ (জেএসডি), গণতান্ত্রিক ছাত্রদল (এলডিপি), নাগরিক ছাত্র ঐক্য, জাগপা ছাত্রলীগ, ছাত্র ফোরাম (গণফোরাম, মন্টু), ভাসানী ছাত্র পরিষদ, জাতীয় ছাত্রসমাজ (কাজী জাফর), জাতীয় ছাত্রসমাজ (বিজেপি-পার্থ), জাগপা ছাত্রলীগ (খন্দকার লুৎফর), ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ, বিপ্লবী ছাত্র সংহতি এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।

ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্যের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ছাত্রশিবির শুরু থেকেই আমাদের এখানে ঢুকতে চায়। এটার কৌশল হিসেবে তারা কয়েকটি সংগঠনের মাধ্যমে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের চাপ প্রয়োগ করছে। কীভাবে শিবিরকে এই ঐক্যে নেওয়া যায়, শিবির ছাড়া ছাত্র ঐক্য কাজ করতে পারবে না। তারা প্রভাবিত করতে চেষ্টা করছে।’

কেন অন্য সংগঠনগুলোর মনে হয় তাদের সাথে শিবিরকে লাগবে জানতে চাইলে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবীর বলেন, ‘বিএনপি কখনোই জামায়াত বা তার অঙ্গসংগঠনকে ছাড়তে পারবে না। তারা এটা করতে চায় না। এই সংগঠনগুলোর আদর্শ জন্ম পথ সব এক, আমি এদের একই মায়ের পেটের সহেদর হিসেবে দেখি। ফলে কখনও বাদ দিয়েছে িএমনটা নয়। বরং তারা অপ্রকাশ্যে কিছুদিন থেকে মানুষের সমবেদনা জোগাড় করতে চেয়েছিলো।’

গত ১১ অক্টোব ছাত্রশিবিরের ঝটিকা মিছিল থেকে সংগঠনটির ১২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয় ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য। মূলত সেদিন থেকেই এই বিষয়টি জোরেশোরে উঠতে শুরু করে। বিবৃতিতে কাদের সাক্ষর ছিলো সেটা দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যায় কারা শিবিরকে এই ঐক্যে যুক্ত করতে যায়। সাক্ষরদাতারা হলেন, ছাত্র ঐক্যের সমন্বয়ক রাশেদ ইকবাল খান (ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছাত্রদল), মশিউর রহমান রিচার্ড (সভাপতি-ছাত্র ফেডারেশন) ও আরিফুল ইসলাম আদীব (সাধারণ সম্পাদক, ছাত্র অধিকার পরিষদ)।




কোটচাঁদপুরে রাইয়ান পার্ল হারবালের মুক্তা গবেষণাগার উদ্বোধন

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রাইয়ান পার্ল হারবালের মুক্তা গবেষণাগারটি পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে শুভ উদ্বোধন করলেন,মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নাহিদ রশীদ। গতকাল  সোমবার রাতে এ গবেষণাগারের উদ্ভোধন করেন তিনি।

কোটচাঁদপুরের রাইয়ান পার্ল হারবালের উদ্যোক্তা নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম মুক্তা গবেষণাগারটি কোটচাঁদপুরের রাইয়ান পার্ল হারবালে। যে গবেষণাগারটি উদ্ভোধন করেছেন,মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নাহিদ রশীদ। আর এ উদ্ভোধনের মধ্য দিয়ে নতুন একটি দ্বার উন্মোচিত হল আজ।

তিনি বলেন, এ গবেষণাগার থেকে ট্রেনিং করে, তরুন উদ্যোক্তারা নতুন জ্ঞান অর্জন করেছেন। যা তারা কাজে লাগিয়ে নিজেদের জীবন তথা সমাজকে বদলে দিতে পারবে।

তিনি আরও বলেন,ঝিনুক থেকে ঝিনাইদহের জন্ম। সেই ঝিনুকের মাঝে মুক্তা চাষ ও মুক্তার তৈরী গহনার উৎপাদন, বিপনন করে ঝিনাইদহকে মুক্তার নগরী হিসেবে গড়ার আশা প্রকাশ করেন,নজরুল ইসলাম। আর এ সবের জন্য তিনি সচিবের নিকট সার্বক সহায়তা কামনা করেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন,সচিবের একান্ত সচিব মাহমুদ উল্লাহ মারুফ,খুলনা মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারি পরিচালক বিশ্বজিৎ বৈরাগী, কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উছেন মে, জেলা মৎস্য অফিসার ফরহাদুর রেজা, দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্চয় কুমার।

উদ্ভোধনের পরে তিনি মুক্তা গবেষণাগারটি পরিদর্শন করেন। ঘুরে ঘুরে দেখেন,স্থানীয় ভাবে ঝিনুকের মাঝে উৎপাদিত মুক্তা ও মুক্তার তৈরী গহনা। তিনি এ সব দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বলেন, এটা একটা ভাল উদ্যোগ। আমি এ মুক্তা গবেষণাগারে সমৃদ্ধি কামনা করছি। এ ছাড়া সরকারি ভাবে কোন সহায়তা থাকলে তিনি করবেন বলে জানান।

পরে তিনি এশিয়ার বৃহৎ মৎস্য হ্যাচারি কোটচাঁদপুরের বলুহর হ্যাচারি কমপ্লেক্সটিও পরিদর্শন করেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।




আওয়ামীলীগ সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পায়নি কানাডার আদালত

বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ, তার অঙ্গসংগঠন যুবলীগ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে কানাডায় ২০১৯ সালের মার্চে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় চান বুরহান উদ্দিন শিকদার মাসুদ নামে একজন বাংলাদেশি। তবে তার শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় চাওয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল কানাডার শরণার্থী সুরক্ষা বিভাগ (আরপিডি)। অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা না থাকায় সেটি প্রত্যাখান করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলেও মাসুদ আদালতকে যথাযথ প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় কানাডার ফেডারেল আদালত তা খারিজ করে দিয়েছেন। গত ১২ অক্টোবর মামলা খারিজ করে রায় প্রকাশ করে কানাডার ফেডারেল আদালত।

মামলার রায়ে বলা হয়, বুরহান উদ্দিন শিকদার মাসুদের অভিযোগগুলো বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেনি আরপিডি। যার প্রেক্ষিতে মাসুদ শরণার্থী আপিল বিভাগে (আরএডি) আবেদন করেন। আপিল করার পরে, তিনি তার পক্ষে নতুন প্রমাণ দাখিল করার চেষ্টা করেছিলেন। আরপিডির তদন্তকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন মাসুদ। আরএডি নতুন প্রমাণ গ্রহণ করেনি কারণ সেগুলো বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয়নি এবং আপিলটি খারিজ করে দেওয়া হয়।

ফেডারেল আদালতের নথিতে বলা হয়, মাসুদ তার আপিল খারিজের বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার বিষয়ে বেশ কয়েকটি যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। এগুলোকে তিনটি বিভাগে বিভক্ত করা যেতে পার- মূল নথিগুলো দেখার জন্য আরএডির অনুরোধের ন্যায্যতা; নতুন প্রমাণ গ্রহণ না করার এবং মৌখিক শুনানি না করার আরএডির সিদ্ধান্তের চ্যালেঞ্জ এবং আরএডির বিশ্বাসযোগ্যতার তদন্তের চ্যালেঞ্জ।

কানাডার ফেদারেল আদালতের বিচারক সাদ্রেহাশেমী রায়ে বলেন, ‘মাসুদ আমাকে সন্তুষ্ট করেননি যে আরএডির প্রক্রিয়াটি অন্যায্য ছিল বা নতুন প্রমাণ এবং বিশ্বাসযোগ্যতার উপর এর মূল অনুসন্ধানগুলো অযৌক্তিক। প্রাপ্তকারণগুলোর উপর ভিত্তি করে, আমি বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার আবেদনটি খারিজ করে দিচ্ছি।

রায়ে বলা হয়, মাসুদ বাংলাদেশের নাগরিক। তার অভিযোগ, তার বাবা-মা ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে তার মায়ের বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে সমাবেশ আয়োজনে জড়িত ছিলেন। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে মাসুদ অভিযোগ করেন যে, আওয়ামী লীগ তার পিতামাতার বিরুদ্ধে বিএনপি সমর্থন এবং সরকার বিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে। মাসুদ বলেন, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে তার বাবা আওয়ামী লীগকে দাবি করা টাকা দিতে অস্বীকার করায় তার ওপর হামলা চালানো হয় ‘

এর পরের মাসে মাসুদ স্টুডেন্ট ভিসায় কানাডায় আসেন। কানাডায় আসার পর থেকে তার বাবা-মাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তার বাবাকে অপহরণ করা হয়েছে এবং যুবলীগের সদস্যরা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। মাসুদ আরও দাবি করেছেন যে, পুলিশ তার মাকে ডেকে নিয়ে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল।

মাসুদ ২০১৯ সালের মার্চ মাসে কানাডায় শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দাবি করেছিলেন। ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তার শরণার্থী দাবির শুনানি হয়। শুনানির পরে, আরপিডি পুলিশ এবং আদালতের নথিগুলোর মূল কপি দেখতে চাওয়া হয়। তবে তদন্তে সেই মূল কপিগুলো কম্পিউটারে এডিট করে বানানো বলে মনে হয়। যার ফলে আরও প্রমাণ এবং এই সংক্রান্ত নথি তার কাছে চাওয়া হয়। মাসুদ আরপিডিকে মূল তথ্য সরবরাহ করেছিলেন এবং এই বিষয়ে আরও প্রমাণ এবং উপস্থাপনা দাখিল করেছিলেন। আরপিডি ২০২১ সালের জুনে তার শরণার্থী আশ্রয় দাবি প্রত্যাখ্যান করে। কারণ তার সরবরাহ করা পুলিশ এবং আদালতের রেকর্ডগুলো জালিয়াতি বলে মনে করে আরপিডি এবং শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, মাসুদের অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্য নয়।

এরপর ২০২১ সালের জুন মাসে মাসুদ আরপিডির বাতিল করা আবেদনের বিরুদ্ধে একটি আপিল আরএডি’র কাছে দায়ের করেন। মাসুদের আইনজীবী নতুন প্রমাণ এবং আপিলের উপর আইনী উপস্থাপনের জন্য অতিরিক্ত সময়ের জন্য বেশ কয়েকটি অনুরোধ করেছিলেন। আরএডি এই অনুরোধগুলো মঞ্জুর করেছে। আরপিডির মতো, আরএডি প্রাথমিকভাবে আরপিডিতে জমা দেওয়া কিছু নথির মূল এবং আরএডিতে দায়ের করা নতুন প্রমাণের মূল কাগজ দেখার জন্য অনুরোধ করেছিল। তবে আপিলের সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে মাসুদ কোন মূল কাগজ জমা দেননি।

আরএডি ২০২২ সালের ২১ শে মার্চ আপিলটি খারিজ করে দেয়। আরপিডির মতো, আরএডি দেখতে পেয়েছে যে মাসুদ তার দাবি প্রমাণ করতে জালনথি জমা দিয়েছিলেন।

সর্বপ্রথম ২০১৭ সালে মোহাম্মাদ জুয়েল হোসেন গাজী নামে ঢাকার মিরপুরের স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন কর্মীর কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন নাকচ হওয়ার পর কানাডার ফেডারেল কোর্টে রিভিউর আবেদনে বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলা হয়। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বিএনপির কর্মী হিসেবে মো. মোস্তফা কামাল নামে এক ব্যক্তি আশ্রয় চাইলে দ্বিতীয় দফায় বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। একই বছরের অক্টোবরে মাসুদ রানা এরপর ২০২২ সালে ছাত্রদল কর্মী সেলিম বাদশার অভিবাসন নাকচ করার সময়ও বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন উল্লেখ করেন কানাডার আদালত।

সর্বশেষ গত ১৫ জুন মোহাম্মদ জিপসেদ ইবনে হক নামে এক বিএনপিকর্মী কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করলে তা নাকচ করে দেন দেশটির ফেডারেল কোর্ট। রায়ে উল্লেখ করা হয়, ওই ব্যক্তি এমন দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যেই সংগঠন বল প্রয়োগ এবং সন্ত্রাসের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাতের চেষ্টা করছে। রিভিউর আবেদন নিষ্পত্তিকালে আদালতের বিচারক বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করেন।




কৃষি যান্ত্রিকীকরণে বদলে যাচ্ছে হাওর কৃষি

সবুজে ঘেরা শস্য-শ্যামল প্রাণের দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। আবার নদীর দেশ, হাওর-বাওড় বা ভাটির দেশও বাংলাদেশ। ভাটি বাংলার অপরূপ রূপে মাতিয়েছে যেন বাংলার প্রকৃতিকে। দিগন্ত বিস্তৃত হাওর এবং তাদের চৌহদ্দি মিলে আমাদের এই ভাটির বাংলা বা হাওর অঞ্চল।

বাংলাদেশের ভূ-বৈচিত্র্যের এক অনন্য দিক হচ্ছে হাওর। বিশাল ভূ-গাঠনিক অবনমনের সাথে ছোট ছোট নদী-নালা, খাল-বিল, ডোবা আর বিস্তীর্ণ সীমাহীন বিল মিলিয়ে গঠিত হয়েছে এই হাওরাঞ্চল। প্রধানত বৃহত্তর সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে এই হাওরসমূহের দেখা মেলে।

হাওরের নামগুলোও বেশ আকর্ষণীয়। টাঙুয়ার হাওর, হাকালুকি হাওর, শনির হাওর, টগার হাওর, মাটিয়ান হাওর, দেখার হাওর, হালির হাওর, সানুয়াডাকুয়া হাওর, শৈলচকরা হাওর, বড় হাওর, হৈমান হাওর, কড়চা হাওর, ধলা পাকনা হাওর, আঙ্গারখালি হাওর, নখলা হাওর, চন্দ্রসোনার থাল হাওর, ডিঙ্গাপুতা হাওর এরকম আরও কত বিচিত্র নামের হাওর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ভাটির এসব জেলায়।

হাওরের অপরূপ প্রাকৃতিক শোভা ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে পরিবর্তিত হয়ে ফুটে ওঠে ভিন্ন ভিন্ন অবয়বে। বর্ষায় হাওরে পানিরাশির ব্যাপ্তি এত বেশি থাকে যে দেখে মনে হয় সমুদ্র। এই সময়ে হাওরের হৃদয়কাড়া সৌন্দর্য আর দিগন্ত জোড়া অথৈ জলরাশি যে কারোর মন উদাস করে দেয়।

উদ্দাম ঢেউয়ের অবিরাম মাতামাতি আর মন মাতাল করা উদাসী হাওয়া যেন ভুলবার নয়। হাওরে নৌকা ভ্রমণের সুখস্মৃতি যিনি জীবনে একবার পেয়েছেন তিনি বারবার ফিরে যাবেন হাওরের টানে। স্মৃতি আহরণের এই তৃষ্ণা জাগরূক থাকে আমৃত্যু। বাংলার আদি ও আসল রূপ অপরূপ হয়ে ফোটে হাওরেই।

হাওর পাড়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনও হাওর দ্বারা প্রভাবিত। এই অঞ্চলের মানুষের চিন্তা-চেতনা, মেধা-মনন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, অর্থনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্য, কৃষি সবকিছু হাওরকেন্দ্রিক। তাই এসব ক্ষেত্রে হাওর এলাকার সঙ্গে দেশের অন্যান্য এলাকার বৈসাদৃশ্য চোখে পড়ার মতো।

বাংলাদেশের হাওর এলাকার গঠন ও প্রভাব—

বাংলাদেশের বিশাল অংশ হাওর এলাকা হিসেবে পরিচিত। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল তথা কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও ব্রাক্ষণবাড়িয়া অর্থাৎ এই সাত জেলার প্রায় ৮ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে হাওর অঞ্চল গঠিত, যা দেশের মোট আয়তনের প্রায় এক-পঞ্চামাংশ।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, দেশে ছোট-বড় ৩৭৩টি হাওর রয়েছে। হাওর এলাকায় প্রায় ২০ মিলিয়ন লোক বসবাস করে যা মোট জনসংখ্যার ১০ ভাগ। বাংলাদেশে আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে হাওরের রয়েছে বিশাল প্রভাব। মূলত ধান চাষ, মৎস্য চাষ, হাঁস চাষ, পানি ফলের চাষ, ইত্যাদি এই অঞ্চলের মূল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।

চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ০.৭৩ মিলিয়ন হেক্টর, বছরে ধান উৎপাদন হয় ৫.২৩ মিলিয়ন টন যা আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাওরে শস্য নিবিড়তা বা ক্রপ ইনটেনসিটি হচ্ছে ১৪৭ শতাংশ। জিডিপিতে হাওরের অবদান ০৩ শতাংশ-এর ২৫ শতাংশ আসে কৃষি থেকে। হাওর এলাকায় ৩৪ শতাংশ পরিবার প্রান্তিক কৃষক, ৫ শতাংশ পরিবার জাতীয় পর্যায়ের অনেক নিচে এবং ৫১ শতাংশ পরিবার ছোট কৃষক (জাতীয় ৪৯.৫ শতাংশ)। তাছাড়া, ২৮ শতাংশ লোক অতি দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাতের ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় কৃষি ও কৃষিজীবী মানুষের জীবন জীবিকার ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। অতি বৃষ্টি, বজ্রসহ বৃষ্টি, শিলা বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে আগাম ও নাবি বন্যা কৃষকের জন্য নিত্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিনিয়ত পাহাড়ি ঢলে নদী ভরাট হওয়ায় নদীতে পানি ধারণ ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।

এপ্রিল মাসে বোরো ধান সংগ্রহের সময় হঠাৎ ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হাওর অঞ্চল প্লাবিত হয়ে নিমিষেই ব্যাপক ফসল হানি ঘটে। সদ্য বাড়বাড়ন্ত ফসল হারিয়ে কৃষকের মর্মান্তিক আহাজারি হাওর ছাড়িয়ে দেশের অন্য প্রান্তেও অনুরণিত হয়।

বোরো ধান সংগ্রহের মৌসুমে কৃষকের আতঙ্ক ও উদ্বেগের শেষ থাকে না এই ভেবে যে কখন তার শ্রমেঘামে ফলানো সোনার ধান পাহাড়ি ঢলে বিলীন হয়ে যাবে। প্রকৃতির কাছে কাতর মিনতি আর ক’টা দিনের যাতে ধান কাটার উপযুক্ত হয়। অনেক সময় কৃষকরা ঢল আসার আগেই আধ-পাকা ধান কেটে ঘরে তোলতে চায় কিন্তু কৃষি শ্রমিকের অপ্রাপ্ততা ও অধিক মজুরির কারণে তাও সম্ভব হয় না।

হাওর এলাকার কৃষির উন্নয়ন যাত্রা—

হাওর এলাকার প্রান্তিক কৃষকের কথা চিন্তা করে হাওরকেন্দ্রিক উন্নয়ন ভাবনা প্রথম শুরু হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাধ্যমে। হাওর ও জলাভূমি এলাকার জনগণের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে হাওর উন্নয়ন বোর্ড গঠনের নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তীকালে ১৯৭৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে হাওর উন্নয়ন বোর্ড গঠন করা হয় কিন্তু হাওর এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের যে স্বপ্ন নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হাওর উন্নয়ন বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন তা অকার্যকর হয়ে পড়ে।

১৯৮২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর বোর্ডটি বিলুপ্ত করা হলে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন স্থবির হয়ে পড়ে। হাওর এলাকার মানুষ তাদের শিক্ষা-দীক্ষা থেকে শুরু করে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে পিছিয়ে পড়ে। জাতির পিতার পর হাওর এলাকার উন্নয়নের সুবাতাস আবার আসতে থাকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে।

১৯৯৮ সালের ৩ অক্টোবর কিশোরগঞ্জ জেলার মিটামইনে এক জনসভায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাওর ও জলাভূমি এলাকার উন্নয়নে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারই ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালের ১০ জানুয়ারি দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ড’ এবং বোর্ডের ‘কার্যনির্বাহী কমিটি’ গঠন করা হয়।

এরপর, হাওর ও জলাভূমি এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে ২০১৪ সালের ১৭ নভেম্বর হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডকে অধিদপ্তর ঘোষণার নির্দেশ প্রদান করেন। তারই ধারাবাহিকতায় হাওর এলাকার জনজীবন, জীবিকা, পরিবেশ-প্রতিবেশসহ সার্বিক উন্নয়নের জন্য ২০১২ থেকে ২০৩২ সাল পর্যন্ত মোট ২০ বছর মেয়াদি একটি হাওর মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। শুকনো ও বর্ষায় হাওরাঞ্চলের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বহুমুখী ও পরিকল্পিত উপায়ে উদ্যোগ বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিলে খুলে যাবে এতদঅঞ্চলের অপার সম্ভাবনার দুয়ার।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে হাওরের কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন—

হাওর অঞ্চলের কৃষি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে অনেকটা ভিন্নতর। হঠাৎ পাহাড়ি ঢল এবং অতি বৃষ্টিজনিত বন্যা আসার পূর্বে বোরো ধান সংগ্রহ ছিল এই অঞ্চলের কৃষির প্রধানতম সমস্যা। এছাড়া হাওর অঞ্চলে শ্রমিক সংকট নিরসনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই এহেন পরিস্থিতিতে যদি ফসল রোপণ, কাটা ও তোলার জন্য যন্ত্রের ব্যবহার করা যায় তবে এই সমস্যা বহুলাংশে সমাধান করা সম্ভব হবে।

বিষয়টি আমলে নিয়ে হাওরের কৃষিকে টেকসই করার জন্য সাম্প্রতিক সময়ে বর্তমান সরকার বেশকিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রচলিত শ্রমিকের মাধ্যমে পরিচালিত ফসল রোপণ, কর্তন, মাড়াই এবং নির্বিঘ্নে ঘরে তোলার মতো কৃষিকাজ প্রতিস্থাপিত করার লক্ষ্যে শক্তিচালিত কৃষি যন্ত্রপাতি কিনতে এখন সরকার সারাদেশে ৫০ শতাংশ এবং হাওর ও উপকূল এলাকায় ৭০ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে।

যন্ত্রপাতির দাম একটু বেশি হওয়ার কারণে সরকার ঋণ সুবিধাও সম্প্রসারণ করেছে-যাতে কৃষকরা ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে সহজে তা কিনতে পারে। ফলে ৩ বছরে শুধু ধান কাটতে কম্বাইন হারভেষ্টারের ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ২০০০ শতাংশ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেবে গত বোরো মৌসুমে নেত্রকোনায় ৭১ শতাংশ, ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় ৬০ শতাংশ, হবিগঞ্জে ৫২ শতাংশ, মৌলভীবাজারে ৫০ শতাংশ এবং সুনামগঞ্জে ৪১ শতাংশ জমির ধান কম্বাইন হারভেষ্টার দিয়ে কাটা হয়েছে, যা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। ফলশ্রুতিতে এই অঞ্চলের বোরো ধান উৎপাদনে শ্রমিকের যে সংকট রয়েছে, তা অনেকটা কেটে যাচ্ছে এবং সময়মতো সংগ্রহ সম্ভব হচ্ছে বলে উৎপাদিত ধান নষ্টও হচ্ছে না।

আর যন্ত্রের ব্যবহারে খরচ কম হওয়ায় কৃষকও ধান উৎপাদন করে ভালো দাম পাচ্ছেন। পাশাপাশি কৃষির একেকটি যন্ত্র একেকজন কৃষককে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলেছে। এভাবে সরকারের কৃষি যান্ত্রিকীকরণ কর্মসূচি হাওর অঞ্চলের কৃষির উৎপাদনশীলতা এবং কৃষকের জীবনমান বৃদ্ধিতে অপরিসীম ভূমিকা রাখছে।

পরিশেষে বলা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে ক্রমেই হাওর কৃষিতে বাড়ছে ঝুঁকি। এইসব ঝুঁকি মোকাবিলা করে কৃষিকে লাভজনক করতে কৃষি কাজের আধুনিকীকরণ অত্যন্ত জরুরি। কৃষি কাজের আধুনিকীকরণ অনেকাংশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপর নির্ভরশীল যা কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বপ্ন নিয়ে হাওর উন্নয়ন বোর্ডের গোড়াপত্তন করেছিলেন তারই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরে রূপান্তরের মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনারবাংলা বিনির্মাণে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করছেন।

হাওরে সমন্বিত কৃষির যান্ত্রিকীকরণকে এগিয়ে নিতে এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দ করেছেন। এইসব কর্মসূচিতে সরকার যে টাকা দিচ্ছে তা সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

স্থানীয় পর্যায়ে কৃষিযন্ত্রপাতিসমূহ মেরামতের জন্য প্রশিক্ষিত সার্ভিস প্রোভাইডার তৈরি কৃষিযান্ত্রিকীকরণকে এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। প্রয়োজনে তাদের জন্য ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।

সর্বোপরি, হাওরের স্থিতিশীল ইকোসিস্টেমকে ব্যাহত না করে বর্তমান সরকারের পরিকল্পিত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হাওর কৃষিকে লাভজনক, বানিজ্যিকীকরণ ও আধুনিকায়ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে কৃষিসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

লেখক: পরিচালক, আইকিএসি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর।




মেহেরপুরে টেপেন্টাডল ট্যাবলেট সহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

মেহেরপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ৪০০ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সহ একজনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

আজ মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর সোয়া একটার সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মেহেরপুর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিদর্শক খসরু আল মামুনের নেতৃত্বে একটি দল মেহেরপুর সদর থানার আমঝুপি পশ্চিমপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ সদর আলী ছেলে হারুন আলীকে নিজ বাসভবন থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ভারতীয় এই ট্যাবলেট সহ আটক করে।

অভিযানের নেতৃত্ব দেয়া উপরিদর্শক খসরু আল মামুন বলেন, ‘আটকৃত মাদক ব্যবসায়ী হারুন আলীকে মেহেরপুর সদর থানায় সোপর্দ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মাদকাসক্তরা ইয়াবার বিকল্প হিসেবে ট্যাপেন্টাডল ওষুধ সেবন করছে। ইয়াবা না পাওয়া গেলেই তারা এটি হাতে তুলে নিচ্ছে। বাংলাদেশে এটির উৎপাদন নিষিদ্ধ হলেও প্রতিবেশী ভারতে এখনও এটি বৈধ হওয়ায় এটি পাচার হয়ে আসছে।’




দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির ৫ অভ্যাস

মানুষের মনে দুশ্চিন্তা আসবেই। কিন্তু এই দুশ্চিন্তাকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। কারণ অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা আমাদের মন ও শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এর কারণে সৃষ্ট হতে পারে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা। তাই দুশ্চিন্তাকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। এটি এমন এক সমস্যা যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে আরও আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে। জীবনের ছোট-বড় সব বিষয়কে দুর্বিষহ করে তোলে দুশ্চিন্তা। এই সমস্যা এড়াতে কিছু কাজ করতে হবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ৫ অভ্যাস সম্পর্কে-

মনোযোগের অভ্যাস তৈরি
মনোযোগের অভ্যাস তৈরি করতে হবে। এতে দুশ্চিন্তা করার প্রবণতা অনেকটাই কমে যায়‌। দুশ্চিন্তার সময় আমরা অতীত নয় ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবি। সেটা না ভেবে সেই মুহূর্তে চোখের সামনে যা আছে তাতে মন দিতে হবে। এতেই তৈরি হবে মনোযোগের অভ্যাস।

প্রাণ খুলে হাসুন
২০০৫ সালে পরিচালিত গবেষণায় জানা যায়, সবসময় গম্ভীর থাকার বদলে প্রাণ খুলে হাসলে শতকরা বিশভাগ বেশি ক্যালরি পোড়ানো যায়। প্রাপ্তবয়স্ক কিছু মানুষকে নিয়মিত হাস্যকর এবং তুলনামূলক গম্ভীর চলচ্চিত্র দেখানোর পর গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে আসেন।

নিয়মিত আমোদ-প্রমোদ হৃৎস্পন্দনের হার বাড়িয়ে দেয়। ২০১০ সালে প্রকাশিত আমেরিকান জার্নাল অফ কার্ডিওলজি’র তথ্যানুসারে, হাসি-ঠাট্টার ফলে দেহের সংবহনতন্ত্র বা বিভিন্ন নালীর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাই ঠোঁটের কোণে সবসময় এক চিলতে হাসি রাখুন কিংবা পারলে মন খুলে হাসুন।

পর্যাপ্ত ঘুম
রোজ অন্তত ছয় থেকে সাত ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি। ঘুম দুশ্চিন্তা কমাতে অনেকটাই সাহায্য করে।‌ একই সঙ্গে মন শান্ত রাখতেও ভূমিকা রাখে পরিমিত ঘুম‌। ঘুম পর্যাপ্ত হলে তা দুশ্চিন্তা দূর করতে জাদুকরি ভূমিকা রাখে। সেইসঙ্গে মনও শান্ত থাকে। তাই ঘুম যেন ভালো হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। ঘুম ভালো হলে আরও অনেক স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

প্রাণায়াম
মন শান্ত রাখতে প্রাণায়াম অনেকটাই গুরুত্বপূর্ণ। গভীরভাবে শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগই প্রাণায়ামের মূল নিয়ম। রোজ ভোরে ১০ মিনিট এই ব্যায়াম করলে অনেকটাই উপকার মেলে।

নিজেকে ব্যস্ত রাখুন
দুশ্চিন্তাকে মাথা থেকে দূরে রাখতে হলে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। আপনার মস্তিষ্ক এবং হাত ব্যস্ত থাকে এমন কোন কাজ করুন যেমন গেম খেলুন বা কোন হস্তশিল্প তৈরি করুন। বলা হয়ে থাকে, ‘অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা।’ এটি কিন্তু বাস্তবিকই সত্য। আপনি কোনো কাজ না করে অলসভাবে শুয়ে বসে থাকলে হতাশা আর দুশ্চিন্তা আপনাকে ঘিরে ধরবে- এটাই স্বাভাবিক। তাই যে কোনো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।

সূত্র: ইত্তেফাক




নিয়োগ দেবে মানবিক সাহায্য সংস্থা

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে মানবিক সাহায্য সংস্থা (এমএসএস)। প্রতিষ্ঠানটিতে লোন অ্যান্ড সেভিংস অফিসার (এলএসও) নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী যোগ্য প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।

পদের নাম

লোন অ্যান্ড সেভিংস অফিসার (এলএসও)

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা

প্রার্থীকে যেকোনো বিষয়ে স্নাতক/স্নাতকোত্তর/সমমান পাস হতে হবে। বয়স সর্বোচ্চ ৩৫ বছর। পুরুষ এবং নারী প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। প্রার্থীকে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানে ক্ষুদ্র উদ্যোগ/ মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ ঋণ কার্যক্রমে মাঠকর্মী পদে নূন্যতম তিন বছরের অভিজ্ঞতাসহ ঋণ কার্যক্রমে কমপক্ষে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

অধিকতর দক্ষ, অভিজ্ঞ ও যোগ্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়স সীমা শিথিলযোগ্য। শিক্ষানবিশকাল ছয় মাস। তবে কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার ভিত্তিতে শিক্ষানবিশকাল হ্রাস/বৃদ্ধি হতে পারে। সংস্থার যেকোনো কর্মএলাকায় কাজ করতে আগ্রহী হতে হবে। মটর সাইকেল চালানো এবং বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। কম্পিউটারে ওয়ার্ড, এক্সেল, বাংলা ও ইংরেজি টাইপিং এবং ইন্টারনেট ব্যবহার জানা বাধ্যতামূলক।

যোগদানের সময় মা/বাবা/আপন ভাই/বোন/স্বামী/স্ত্রী/নিকটতম আত্মীয় দ্বারা (দুইজন) জামিনদার হিসাবে নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

চাকুরীতে যোগদানের সময় সংস্থার নিয়মানুযায়ী ১৫,০০০/- টাকা জামানত হিসাবে প্রদান করতে হবে যা নির্দিষ্ট সময়ান্তে সংস্থা ত্যাগকালে সংস্থায় প্রচলিত নিয়মানুযায়ী লভ্যাংশসহ ফেরৎ প্রদান করা হবে। আবেদনপত্রে অবশ্যই সচল মোবাইল নাম্বার উল্লেখ করতে হবে।

কর্মস্থল

বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে।

বেতন

স্থায়ীকরণের পর মাসিক বেতন ২৫,০০০- ২৯,৩৩০ টাকা। অধিকতর দক্ষ, অভিজ্ঞ ও যোগ্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বেতন আলোচনা সাপেক্ষে। শিক্ষানবিশকালে মাসিক বেতন প্রার্থীর যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। মোবাইল ভাতা, মোটরসাইকেল জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা ইত্যাদি মাসিক বেতনের অন্তর্ভূক্ত নয়।

কোম্পানির সুযোগ সুবিধাদি

চাকুরি স্থায়ীকরণের পর সংস্থার নিয়মানুযায়ী উৎসব ভাতা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচ্যুইটি, কর্মী নিরাপত্তা তহবিল, মোটর সাইকেল জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা, মোবাইল ফোন ভাতা, চিকিৎসা অনুদান, মৃত্যু/দুর্ঘটনা জনিত (বীমা সুবিধার ন্যায়) আর্থিক সহায়তা ও সন্তানদের জন্য শিক্ষা বৃত্তি, বাই-সাইকেল/মোটর সাইকেল ক্রয় বাবদ সুদবিহীন ঋণ সুবিধাসহ সংস্থার বিধি মোতাবেক অন্যান্য সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

আবেদনে প্রক্রিয়া

আগ্রহী প্রার্থীকে ২৫/১০/২০২৩ইং তারিখের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ জীবন বৃত্তান্তসহ সকল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সনদপত্র ও জাতীয় পরিচয় পত্রের/ জন্ম নিবন্ধন সনদের ফটোকপি, বর্তমান/ সর্বশেষ কর্মরত প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ডের ফটোকপি এবং সদ্য তোলা এক কপি পাসপোর্ট সাইজ রঙ্গীন ছবিসহ “নির্বাহী পরিচালক, মানবিক সাহায্য সংস্থা (এমএসএস), SEL সেন্টার (৪র্থ তলা), ২৯, পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা-১২০৫” বরাবর আবেদন করতে হবে যা সরাসরি হাতে হাতে/ ডাক/ কুরিয়ার যোগে পাঠাতে হবে। আবেদনপত্র এবং খামের উপর অবশ্যই পদের নাম উল্লেখ্য করতে হবে।

এমএসএস নিজস্ব অফিস ব্যতীত অন্যকোন মাধ্যমে (বিকাশ, রকেট ও নগদ ইত্যাদি) আর্থিক লেনদেন করেনা। নিয়োগ প্রত্যাশী প্রার্থী থেকে কোন প্রতারক চক্র অন্যকোন মাধ্যমে টাকা দাবী করলে না দেওয়ার জন্য সংস্থা কর্তৃক অনুরোধ করা হলো। শুধুমাত্র বাছাইকৃত প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচনী পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান SMS/মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানানো হবে। চাকুরীর জন্য কোন প্রকার তদবির প্রার্থীর অযোগ্যতা হিসাবে গণ্য হবে। এমএসএস কর্তৃপক্ষ এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সংশোধন/সংযোজনসহ নিয়োগ বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে। নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কোন প্রকার টিএ/ডিএ প্রদান করা হবে না।

আবেদনের শেষ তারিখ

২৫ অক্টোবর ২০২৩

সূত্র : বিডিজবস।




মেহেরপুরে সেলাই মেশিন বিতরণ

মেহেরপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে ৪০ জন দরিদ্র ও প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে বারোটার দিকে জেলা পরিষদের হলরুমে এ সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম।

উচ্চমান সহকারী শাহিন ইকবালের সঞ্চালনায় সেলাই মেশিন বিতরণী অনুষ্ঠানে, সহকারি প্রকৌশলী মজিদুর রহমান চৌধুরী,প্যানেল চেয়ারম্যান আজিমুল বারী মুকুল, সদস্য ইমতিয়াজ হোসেন মিলন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।