মেহেরপুরে জেলা আওয়ামী লীগের উন্নয়ন ও শান্তি সমাবেশ

মেহেরপুরের শহীদ শামসুজ্জোহা পার্কে জামায়াত-বিএনপির হরতাল, অবরোধ, অগ্নি সন্ত্রাস, নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ সম্পন্ন হয়েছে৷

আজ বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর ) বিকাল সোয়া ৪ টায় এই শান্তি সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশে মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে এসে যোগ দিয়েছেন। একপর্যায়ে শান্তিসমাবেশটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

সমাবেশটি মুলত জামাত-বিএনপি’র নৈরাজ্যের প্রতিবাদে হলেও এর পাশাপাশি মেহেরপুর-১ সংসদীয় আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধেও একাট্টা হয়েছেন মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে সকল বক্তা তাদের বক্তব্যে দলের সিনিয়র নেতাদের অবমূল্যায়ন করা সহ নানা অভিযোগ এনে মেহেরপুর -১ সংসদীয় আসনে নৌকার মাঝি পরিবর্তনে দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড, ইয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে    মেহেরপুর জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক অ্যাডভোকেট ও জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম পেরেশানের সঞ্চালনায় শান্তি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক অ্যাড. মিয়াজান আলী, সহসভাপতি ও মুজিবনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান, জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা উপ কমিটির সদস্য এম এ এস ইমন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জেমস স্বপন মল্লিক, মেহেরপুর পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন, মুজিবনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কামরুল হাসান চাদু, সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর আল মামুন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা, যুবলীগের সদস্য সাজেদুল ইসলাম সাজু প্রমুখ।




বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাবেন না : ইনু

মানবাধিকারের নামে বিদেশি বিশ্ব সংস্থাগুলো বাংলাদেশের দণ্ডিত অপরাধী ও চিহিৃত সন্ত্রাসীদের পক্ষে যে ভাষায় ওকালতি শুরু করেছে তা বিশ্ব সংস্থার মর্যাদা ক্ষুন্ন করছে বলে মন্তব্য করেছেন হাসানুল হক ইনু।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলাতে বিদেশি সংস্থার প্রতি আহ্বান জানান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও জাসদ সভাপতি।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন চার তলা একাডেমিক ভবনের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন ইনু।

এ সময় হাসানুল হক ইনু বলেন, ইসরায়েলের আক্রমণে গাজায় যে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে সেটা বাঁচানোর চেষ্টা না করে বাংলাদেশের দণ্ডিত অপরাধীদের পক্ষে ওকালতি করা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল।

এসময় জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন, মি,রপুর উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আহম্মদ আলী, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জহুরুল ইসলাম, তালবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আরিফুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক দিলারা জোয়ার্দারসহ জাসদের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




তফসিল ঘোষণার সময় হয়ে গেছে- সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ‘‘দ্রুত আমরা তফসিল ঘোষণা করব, কারণ সময় হয়ে গেছে। শিগগিরই আমরা বসে চূড়ান্ত করব।’

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এ কথা বলেন তিনি।

বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে সিইসি বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন করতে আমাদের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা খুব দ্রুত তফসিল ঘোষণা করব।’

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এদিন বেলা ১১টা ৫২ মিনিটে বঙ্গভবনে যান চার নির্বাচন কমিশনারসহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তাদের সঙ্গে কমিশন সচিব মো. জাহাংগীর আলমও ছিলেন।

সংবিধান অনুযায়ী সংসদের পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বর্তমান সংসদের মেয়াদ ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি শেষ হবে। এক্ষেত্রে ৯০ দিনের গণনা শুরু হবে ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর থেকে। নভেম্বরের মাঝামাঝি জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও জানুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আসনভিত্তিক ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। এতে মোট ভোটার ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩। মোট ভোটারের মধ্যে নারী ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২, পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮৫২ জন।

সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তরুণদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ভোটার সংখ্যা বেড়েছে ৫ লাখ ৪০ হাজার ১৯৩ জন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ৩০০ আসনভিত্তিক ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করেছে ইসি। এ তালিকা অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হবে।

ইসি জানায়, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করা দীর্ঘদিনের রীতি রয়েছে। এরপরই তফসিল ঘোষণা হবে। ১৪ অথবা ১৫ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানায় ইসি। ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে বা জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন হবে। এরই মধ্যে ১ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইসি।




নির্বাচনের তফশিল আগামী সপ্তাহে

জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন বাকি তফশিল ঘোষণাসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা। তফশিল ঘোষণার আগে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে থাকে নির্বাচন কমিশ।

ওই রেওয়াজ অনুযায়ী আজ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল ও নির্বাচন কমিশনার। আগামী সপ্তাহে এ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে ইসি।

জানুয়ারির প্রথম দিকে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিব মো. জাহাংগীর আলম গতকাল জানিয়েছেন, নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পরিবেশ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনে বদ্ধপরিকর ইসি। এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটসংক্রান্ত প্রচার শুরু করেছে কমিশন। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে এখন পর্যন্ত যেসব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে তার সারসংক্ষেপ জানাবে কমিশন। ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা সম্পর্কেও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করবে। প্রস্তুতি নিয়ে রাষ্ট্রপতির পরামর্শ ও নির্দেশনা দিলে তা শুনবে কমিশন।

এরপরই আগামী সপ্তাতে কমিশন সভা করে নির্বাচনের তফশিল চূড়ান্ত করবে ইসি। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তফশিল ঘোষণা করবেন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভি ওই ভাষণ সম্প্রচার করবে।

ওই ভাষণে সব দলকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাবেন সিইসি। ওই ভাষণে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে নির্বাচন আয়োজন করছেন বলেও উল্লেখ করা হতে পারে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময়সূচি নিয়ে বুধবার সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম। নির্বাচন আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার মতো পরিবেশ রয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনে বদ্ধপরিকর ইসি। সব প্রস্তুতি গুছিয়ে আনা হয়েছে। নভেম্বরের প্রথমার্ধে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা হবে। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। রেওয়াজ অনুযায়ী তফশিল ঘোষণার আগে কমিশন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এ ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার এ সাক্ষাতের সূচি রয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদের মেয়াদ ২৯ জানুয়ারিতে শেষ হবে। এই হিসাবে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে।

ওই সময়ের মধ্যেই নির্বাচন করতে যাচ্ছে কমিশন। যদিও নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবিতে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন আয়োজনের বিরোধিতা করে আসছে।

এই ইস্যুতে অনেক দল নির্বাচনে অংশ নেবে না বলেও জানিয়ে আসছে। তবে তাদের ওই দাবি আমলে নিচ্ছে না ইসি। সংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে ভোটগ্রহণে অনড় কমিশন।

নির্বাচন কমিশন সচিব গতকালও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোটগ্রহণের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধের যে কোনো দিন তফশিল ঘোষণা করা হতে পারে। সে হিসাবে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন হতে পারে। নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা নিয়ে এখনো কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়নি।

১২-১৪ নভেম্বরের মধ্যে তফশিল ঘোষণা করা হবে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে জাহাংগীর আলম বলেন, কমিশন যখন সিদ্ধান্ত নেবে, তখন তা গণমাধ্যমে জানানো হবে। নির্বাচন কমিশনের যেসব প্রস্তুতিমূলক কাজ রয়েছে তার সব এগিয়ে রয়েছে। নির্বাচনি মালামালও ধাপে ধাপে জেলা পর্যায়ে পাঠানো হচ্ছে।

কয়েকটি রাজনৈতিক দলের বিরোধিতার মুখে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে সচিব বলেন, পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মাঠে থাকবেন। ভোটাররা নির্বিঘ্নে যাতে ভোট দিতে পারেন, সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিপত্র জারি করবে।

নির্বাচনি প্রচার শুরু : আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের উৎসাহিত করতে প্রচার চালাবে নির্বাচন কমিশন। বুধবার নির্বাচন কমিশনের ফেসবুক পেজে ওই প্রচার শুরু করেছে। ২০০৫ সালের ১ জানুয়ারির আগে যাদের জন্ম সেসব ভোটাররা এ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন বলে প্রচার চালানো হচ্ছে। এতে বলা হচ্ছে, ওই সময়ের পরে যাদের জন্ম তাদের পরিচয়পত্র থাকলেও তারা ভোট দেওয়ার যোগ্য হবেন না। নির্বাচনে ভোট দিতে জাতীয় পরিচয়পত্র থাকার প্রয়োজন হবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র যুগান্তর




ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের দ্বি-বাষিক নির্বাচন (২০২৪-২৫) বর্ষের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির সভায় এই তফসিল ঘোষণা করা হয়।

প্রেসক্লাবের সভাপতি এম রায়হানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান টিপুর সঞ্চালনায় নির্বাহী কমিটির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী ২ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করবেন এ্যাড.সুভাষ বিশ্বাস মিলন। নির্বাচনে সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহ-সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক, প্রচার সম্পাদক, ক্রীড়া সম্পাদক, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক, আইসিটি বিষয়ক সম্পাদক ও ৭টি নির্বাহী সদস্যপদসহ মোট ১৭টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।




শিক্ষাঙ্গনে এখন সন্ত্রাস নেই কেন?

রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতাকে পূর্ণতা দান করতে প্রয়োজন ছিলো সুশিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি, যাতে ছোট্ট আয়তনের দেশটি অধিক জনসংখ্যার চাপ কিছুটা হলেও সামাল দিতে পারে।

তাই স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়া খাতগুলোর একটি হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষাখাতটি গুরুত্ব পেয়েছিলো বলেই স্বাধীনতা অর্জনের ছয় মাসের মধ্যেই পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর রেখে যাওয়া শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে গঠন করা হয় একটি কমিশনের।

গত দশ বছরে প্রাথমিক শিক্ষা, মাধ্যমিক শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, মাদ্রাসা শিক্ষা এবং উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের সাফল্য আজ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঝরে পড়া রোধ, শিক্ষার প্রসার, বাল্য বিবাহ রোধ, নারীর ক্ষমতায়ন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধিসহ সমতা বিধানের লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় বিভিন্ন প্রকল্পগুলো ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।
অন্যদিকে ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় উপবৃত্তির টাকা অনলাইনে প্রদান করেছে।

সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা আর শিক্ষায় নারী-পুরুষের সমতা অর্জনের ক্ষেত্রে রীতিমতো বিপ্লব ঘটেছে বাংলাদেশে যা, বিশ্বের বহু দেশের কাছে অনুকরণীয়। সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, বিদ্যালয়ে ভর্তির হার শতভাগ, ছাত্র-ছাত্রীর সমতাসহ শিক্ষার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোল মডেল এখন বাংলাদেশ।

বিশ্বব্যাংক, ইউনেস্কো, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামসহ আন্তর্জাতিক দাতা ও গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশের শিক্ষার অগ্রগতিকে অন্যদের জন্য উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছে। শিক্ষায় নারী-পুরুষের সমতা অর্জনে বাংলাদেশ ছুঁয়েছে নতুন মাইলফলক।

মানব সম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ হওয়ায় বাংলাদেশ টেকশই ফল বয়ে এনেছে। লাখ লাখ শিশুকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা, নারী সাক্ষরতার মহার বৃদ্ধি মাতৃ মৃত্যুর হার কমিয়ে আনাকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে।

১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পর বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত হয়। গড়ে ওঠে নতুন নতুন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। তবে ২০০৯ থেকে গত ১০ বছরে দেশে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। দেশে নতুন ২২ টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে।

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার বাইরে বেসরকারি উদ্যোগে ৫২ টি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। উচ্চ শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিকীকরণের লক্ষ্যে Accreditation Council আইন পাস করা হয়েছে। উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭ লাখ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮ লাখে উন্নীত হয়েছে।

শিক্ষার গুনগত মান উন্নোয়ন ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি দেশের সার্বিক ক্ষেত্রে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হয়েছে। শিক্ষার কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক ডিজিটালাইজেশন হওয়ার কারনে শিক্ষাক্ষেত্রে দুনীর্তি রোধ হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ উন্নতি হয়েছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম আর নেই।

পূর্বে ‘শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস’ এই কথাটি জনগণের মনে ভীতির সৃষ্টি করতো। এক সময় ছিল যখন বিশ্ববিদ্যালয় যেনো হয়ে উঠছিল রাজনৈতিক সন্ত্রাস এর স্থান, জামায়াত ইসলামি এবং বিএনপি যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিল তখন ছাত্রনেতাদের উদ্বত্ব যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশের জন্য হুমকিতে পরিণত হয়েছিল, সুষ্ঠুভাবে ক্লাস ও পরীক্ষাতো দূরের কথা ছাত্র-ছাত্রী/কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভীতির সমুখে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারতো না, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রাবাস যেন পরিণত হয়েছিল সন্ত্রাসীদের স্থায়ী বাসস্থান।
সাধারণ ছাত্রদের কোন স্থান ছিলনা সেখানে।

কেউ যদি কোনদিন কিছু বলার সাহস করতো তাহলে তার হাত ও পায়ের রগ কেঁটে দিয়া হতো নিঃসংশ ভাবে, সর্বস্তরে সন্ত্রাস ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষা ব্যবস্থা প্রায় মন্থর হয়ে পরেছিল।

বর্তমান সরকার তাদের সুদক্ষ পরিকল্পনার মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গন সন্ত্রাস মুক্ত করে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে, এখন প্রতিটি বিভাগীয় শহরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠায় অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।

বিভিন্ন অনলাইন শিক্ষানীতি যেমন- ভর্তি করণ, রেজিস্ট্রেশন, পরীক্ষা বিভিন্ন জাটিল প্রক্রিয়াগুলি মানুষ নির্বিঘ্নে করতে পারছে। এখন আর নেতাদের চাপের মুখে পরতে হচ্ছে না, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কার্যক্রম এখন সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হচ্ছে।

টেন্ডার জমা দেওয়া থেকে শুরু করে পরীক্ষার ফল প্রকাশ পর্যন্ত অনলাইন এর মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হচ্ছে। এই সুযোগ গুলির কারণে এখন আর সন্ত্রাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থান পাচ্ছে না।

অধ্যাপক ড. হিমাংশু ভৌমিক, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর




আলমডাঙ্গার গোকুলখালিতে অ্যাম্বুলেন্স বাই-সাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে স্কুলছাত্র নিহত

দ্রুতগতির অ্যাম্বুলেন্স ও বাই-সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। আজ বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর আঞ্চলিক সড়কের গোকুলখালি ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিয়াম (১২) গোকুলখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। সে চিৎলা ইউনিয়নের কয়রাডাঙ্গা গ্রামের জুমাত আলীর ছেলে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার দুপুরে গোকুলখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বাই-সাইকেল যোগে বাড়ির দিকে যাচ্ছিল সিয়াম। এ সময় রাস্তা পারাপারের সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুত গতির  অ্যাম্বুলেন্সের সাথে তার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। স্কুলছাত্র সিয়াম ছিটকে গাড়ির নিচে চাপা পড়ে রক্তাক্ত জখম হয়।

স্থানীয়রা উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে, পথেই সে মারা যায়। এ সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী গোকুলখালি ব্রিজ এলাকায় সড়ক অবরোধ করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে অবরোধ তুলে নেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

হাঁপানিয়া পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, দুপুরে স্কুল ছুটির পর বাইসাইকেল যোগে বাড়ি যাচ্ছিল সিয়াম। এসময় রাস্তা পারারের সময় অ্যাম্বুলেন্সের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এতে গুরুত্বর আহতাবস্থা স্থানীয়রা উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত স্কুলছাত্রের মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। এ ঘটনায় আইনগত বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




জিজ্ঞাসাবাদে হামলার দায় স্বীকার করে নিলো বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতারা

গত ২৮ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত দেশব্যাপী পেট্রোল বোমা হামলা, বাসে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণসহ সহিংসতায় নেতৃত্ব দিয়েছেন বিএনপি নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এসব ঘটনায় জড়িত আটককৃতরা গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানিয়েছে। তথ্য প্রমাণ দেখে তাতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন গ্রেফতার হওয়া কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা বলেছেন- এগুলো করা ঠিক হয়নি।

আজ বুধবার (৮ নভেম্বর) দুপুর রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

ডিএমপি’র ডিবি প্রধান জানান, গ্রেফতারকৃত কামরুজ্জামান টুকু নিজে স্বীকার করেছেন বাস পোড়ানোর কথা। হৃদয় স্বীকার করেছেন তিনি বাংলামোটর, মৌচাক ফ্লাইওভার, কাকরাইল মোড়ে শুধু আগুন লাগিয়েছেন। পেট্রোল বোমা ও ককটেল সরবরাহ করেছেন রবিউল ইসলাম নয়ন। সবার নেতা হচ্ছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তার নেতৃত্বেই গত ২৮ তারিখ থেকে চলমান সময় পর্যন্ত বাসে আগুন, ককটেল নিক্ষেপ, পেট্রোল বোমা বা পেট্রোল লাগিয়ে আগুন জ্বালানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, গত ২৮ তারিখ যারা প্রধান বিচারপতির বাসভবনে ককটেল বিস্ফোরণ, বিআরটিসি বাসে আগুন, পুলিশ হাসপাতালে আগুন, অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর করে, পুলিশ মার্ডার মামলার আসামিদের অনেকের নাম সিসি ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে আমাদের কাছে এসেছে। পাশাপাশি গ্রেফতাররা আরও অনেকের নাম বলেছেন। তাদের ছবি পেয়েছি, তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

হারুন অর রশীদ বলেছেন, রাজধানীর পল্টনে বিএনপির ডাকা মহাসমাবেশ থেকে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা ও বিআরটিসির বাসে আগুনসহ কয়েক দফার অবরোধে নাশকতার দায় স্বীকার করেছেন রিমান্ডে থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। এমনকি এ ধরনের নাশকতা করা ঠিক হয়নি বলেও তারা মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, প্রথমত যেসব কেন্দ্রীয় নেতা আমাদের কাছে রিমান্ডে আছেন তারা প্রথমে বলছিলেন, নাশকতা আমাদের দলের লোকজন করেনি, মনে হয় অন্য কেউ করেছে। এটা নিয়ে তারা সন্দিহান ছিলেন। তখন আমাদের কাছে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, স্মার্ট টিমের করা ভিডিও তাদের (বিএনপি নেতাকর্মীদের) দেখানো হয়।

আমরা বলেছি -আপনারা স্টেজে ছিলেন, সমাবেশের নেতৃত্বে ছিলেন। এছাড়া ভিডিওতে তারা দেখেছেন, সমাবেশের দিন মঞ্চে থাকা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কে কী রোল প্লে করেছেন। সুলতান সালাউদ্দিন কোথায় লাঠি নিয়ে দৌড়াচ্ছেন, রবিউল ইসলাম নয়ন কোথায় আগুন লাগাচ্ছেন, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাঈদ মিন্টুর বাসা থেকে যে গানপাউডার আমরা পেয়েছি, মিন্টু এর স্বীকারোক্তি প্রদান করেছেন। সবকিছু দেখার পরে তারাও (কেন্দ্রীয় নেতা) দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এটা ঠিক হয়নি।

মূল পরিকল্পনাকারী কারা- এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবিপ্রধান বলেন, বিএনপির সমাবেশে অংশগ্রহণ করে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের ভূমিকা পালনকারী বেশ কয়েকজনকে আমরা ধরেছি। অংশগ্রহণকারী অনেকের নাম পেয়েছি। তাদের মধ্যে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষিবিষয়ক সম্পাদক সাইদ হাসান মিন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বাসা থেকে ৮ কেজি গান পাউডার উদ্ধার করা হয়। মিন্টু স্বীকার করেছেন, বাশার এবং মাসুদকে দিয়ে এগুলো তিনি বানান। রবিউল ইসলাম নয়ন ও সুলতান সালাউদ্দিন যে সহায়তা করেছেন তিনি সেটিও স্বীকার করেছেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ ডিভিশন ও মতিঝিল ডিভিশন অভিযান চালিয়ে অংশগ্রহণকারীকে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। তারা হলেন- ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা হাসান হাওলাদার। তিনি প্রথমে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে গুলতি নিয়ে পুলিশের ওপর মারবেল নিক্ষেপ করে ও বিআরটিসি বাসে আগুন দেন। কবি নজরুল ইসলাম কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আবুল হোসেন জুয়েল নাইটিঙ্গেল মোড়ে পুলিশের ওপরে হামলা করে, এর ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে আছে। পুলিশ মার্ডারের মামলায় যে দুজন ১৬৪ দ্বারা জবানবন্দি দিয়েছেন, তারা বলেছেন ছাত্রদলের মুগদা থানার সাধারণ সম্পাদক রানা মিয়া পুলিশ হত্যায় অংশগ্রহণ করেছেন, তাকেও আমরা গ্রেফতার করেছি।




আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্নিগ্ধা দাস।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন,শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। ফেসবুক, ইন্টারনেট ইউটিউবের দিকে আকৃষ্ট হয়ে যেনো লেখাপড়ায় অমনযোগী হয়ে না পড়ে সেদিকে অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে।

অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের প্রতি যত্নবান হতে হবে। তারা যেনো লেখাপড়ার প্রতি মনযোগী হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ঠিকমত স্কুলে আসা বাল্যবিয়ের শিকার না হয় সেদিকটাও অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।এছাড়াও নতুন শিক্ষাক্রম বিশেষ করে ষষ্ট ও শপ্তম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের নতুন শিক্ষা কারিকুলামের উপর গুরুত্ব দেন,শিক্ষকদের পাঠদানে মনোযোগী হতে পরামর্শ দেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হক, অভিভাবক সদস্য সোহেল রানা শাহিন,মহিলা সদস্য নাসরিন সুলতানা।

শিক্ষক প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলামের উপস্থাপনায় আরও উপস্থিত শামসুজোহা সাবু,হাসিনুর রহমান,আশরাফুল ইসলাম,প্রমুখ।সভায় প্রায় ৭শতাধিক অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন।




হাফিজের মতো পরীক্ষিত নেতাদের বিএনপি নিয়ে এত অভিযোগ কেনো?

নিজ দল বিএনপি নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। এর আগে শমসের মুবিন চৌধুরী একাধিকবার গণমাধ্যমে কথা বলে তাদের দলে না থাকতে পারার বিষয়গুলো সামনে এনেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দল হিসেবে এটা বিএনপির ব্যর্থতা।

আজ বুধবার বেলা ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন হাফিজ উদ্দিন। আগামী নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলেও ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, আগামী যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে সে নির্বাচনে শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমার পক্ষে অংশগ্রহণ করা সম্ভব না। তবে আমি মনে করি, বিএনপির এই নির্বাচনে যাওয়া উচিত। দলটিতে অসংখ্য ত্যাগী নেতাকর্মী রয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেওয়া উচিত ছিল বলেও তিনি মনে করেন।

এসময় তিনি যে অভিযোগগুলো তুলে ধরেন তা হলো-জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে বিএনপি ক্ষমতার বাহিরে, বিএনপিতে সত্যি কথা বলার মতো লোক নেই, চেয়ারপারসনের সামনে কোনো নেতা ইয়েস স্যার, রাইট স্যার বলা ছাড়া আর কোনো কিছু জানেন না। এসময় তিনি দাবি করেন, বিএনপিতে একনায়কতন্ত্র, কমিটি বাণিজ্য চলছে। এভাবে দল চলতে পারে না।

এদিকে গত সেপ্টেম্বরে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী ও চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা (বহিষ্কৃত) অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে তৃণমূল বিএনপিতে স্বাগত জানান দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অন্তরা সেলিমা হুদা। শমসের মবিন চৌধুরী ও তৈমূর আলম খন্দকারকে স্বাগত জানিয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অন্তরা সেলিমা হুদা সেসময় বলেন, আমি আশা করি, তাদের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এ দল আরও গতিশীল হবে। তাদের এ যোগদান তৃণমূল বিএনপি তথা আমার প্রয়াত বাবার দেশ গড়ার প্রত্যয় আরও এগিয়ে যাবে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে পররাষ্ট্র-সচিব ছিলেন শমসের মবিন চৌধুরী। তিনি একসময় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। ২০০৭ সালে তিনি অবসরে যান। ২০০৮ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ২০০৯ সালে দলের ভাইস চেয়ারম্যান হন। ২০১৫ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে বিকল্পধারা বাংলাদেশে যোগ দেন ও প্রেসিডিয়াম সদস্য হন। এবং সেখান থেকেও তিনি বেরিয়ে আসেন।

এদিকে আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে দলে যোগ দিলেন বিএনপির সাবেক জনপ্রতিনিধি ও সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ। বিএনপি ছেড়ে তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন শমসের মবিন চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। যোগ দিয়েই তারা দলটির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুভাষ সিংহ রায় মনে করেন কোন বিবেকবান মানুষ তারা যতই কোনো দলের সাথে থাকুক, যখন দেখা যায় দলটি মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে তখন তারা সেই দলে থাকতে পারবে না। এমনকি তারা বিএনপির জোট নিয়েও ভীতসন্ত্রস্ত। নেতাদের ধারণা, জোটের কারণে তারা থাকতে পারবে না। লক্ষ্য করে দেখবেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরদের মতো নেতারা একসময় তারেক রহমানের শাসনামল মানবে না। যেভাবে হ্যান্ডমাইক ধরায়ে দিয়ে তাকে দিয়ে হরতাল অবরোধের ডাক দিতে বাধ্য করা হলো, এই নেতারা কীভাবে দলে থাকবেন?