হাসপাতালে সংরক্ষণ হবে রোগীর সব তথ্য

দেশের সব সরকারি হাসপাতালে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা চালু করা হচ্ছে। সেবাগ্রহীতার সব তথ্য স্থায়ীভাবে সার্ভারে সংরক্ষিত থাকবে। হাসপাতালে গেলে আলাদা আইডি নম্বরে রোগী, চিকিৎসক এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার সব তথ্য থাকবে। দ্বিতীয়বার গেলে পুরোনো রোগের কোনো তথ্য দিতে হবে না রোগীকে। এক ক্লিকে ডেটাবেজ থেকে সব তথ্য পাওয়া যাবে। উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল থেকে শুরু করে বিশেষায়িত সব সরকারি হাসপাতালে এ ব্যবস্থাপনা চালু করার পরিকল্পনা করেছে সরকার।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোগীকে কী কারণে কোন ওষুধ প্রদান করা হয়েছে, কোন মেডিকেলে পরীক্ষা করা হয়েছে– এসব তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। খুব সহজেই আগের রোগের ইতিহাস পর্যালোচনা করে চিকিৎসা দেওয়া যাবে। প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চালু করা হলে জনগণ সহজে সেবা পাবে, কমে আসবে হয়রানি ও চিকিৎসা ব্যয়। একজন রোগী দেশের যে কোনো সরকারি হাসপাতালেই তাঁর নিজস্ব ই-হেলথ রেকর্ডের মাধ্যমে এ সেবা ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হতে পারবেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর অবঠাকামো তৈরির সঙ্গে সেবার মান উন্নয়নে মনোযোগী হতে হবে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনী পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ, চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে সম্পর্ক আরও উন্নত করা জরুরি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থাপনা চালুকরণ শীর্ষক প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়ে চলতি মাসের শুরুতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বৈঠক হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব চলতি বছর জানুয়ারিতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। গত মার্চে আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগ থেকে পর্যবেক্ষণ প্রদান করে পুনর্গঠিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের শুরুতে এ প্রকল্পের কাজ চালু হতে পারে। প্রথমে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ১০০টি হাসপাতালে ওপেন মেডিকেল রেকর্ড সিস্টেম নামে একটি সোর্স সফটওয়্যারের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, এর মাধ্যমে হাসপাতালের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এই প্রকল্পের আওতায় ৬২৩টি সরকারি হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে হবে। নতুন করে সাড়ে চার হাজার লোক নিয়োগ, এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাদানকারী কর্মীকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ধীরে ধীরে সরকারি সব হাসপাতালকে ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় নিয়ে এসে শেয়ার্ড হেলথ রেকর্ড প্রবর্তন করা হবে। কেউ চাইলে নিজের হেলথ রেকর্ড দেখতে পারবে এবং যে কোনো প্রতিষ্ঠানে গ্রহণ করা সেবার তথ্য এতে সংরক্ষিত থাকবে। চিকিৎসাসেবা দ্রুত ও সহজলভ্য এবং সেবার মান উন্নত হবে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ কে আজাদ খান সমকালকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশের যে স্বপ্ন দেখছেন, ‘ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা’ তাতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে চিকিৎসায় রেফারেল পদ্ধতি চালু করা সহজ হবে। বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা থাকবে মানুষের হাতের নাগালে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন সমকালকে বলেন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সঙ্গে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা ফেরাতে হবে। চিকিৎসকের উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করতে হবে। অস্ত্রোপচার থেকে শুরু করে সব রোগের উন্নত চিকিৎসার যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করা এখন খুবই জরুরি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের পরিচালক শাহাদাত হোসেন বলেন, এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য উপজেলা থেকে শুরু করে বিশেষায়িত সব সরকারি হাসপাতালে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে দেশে আস্তে আস্তে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো তৈরি হবে। এর সঙ্গে উন্নত চিকিৎসাসেবা যুক্ত হলে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়া কমবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় ডিজিটাল হেলথ বাস্তবায়ন শুরু করে। ডিজিটাল হেলথ সেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে সারাদেশে সব কমিউনিটি ক্লিনিকে ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ স্বাস্থ্যকর্মীদের হাতে এখন ছোট কম্পিউটার আছে। এসবের মাধ্যমে অনলাইনে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহসহ টেলিমেডিসিন, স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং মনিটরিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

দেশের সব সরকারি হাসপাতাল ইন্টারনেটে যুক্ত। কোনো ডাটা এখন আর কাগজে আসে না, অনলাইন তথ্যভান্ডারে যুক্ত হয়। হাসপাতালগুলোতে আধুনিক টেলিমেডিসিন সেবা চালু হয়েছে। সব হাসপাতালে ভিডিও কনফারেন্সিং সিস্টেমে যুক্ত করা হয়েছে। মোবাইল ফোনে সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য কল সেন্টার ১৬২৬৩ প্রবর্তন করা হয়েছে। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।




পোকার আক্রমণে মেহেরপুরে আমন উৎপাদনে ঘাটতি

অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় চলতি আমন মৌসুমে ধানে বাদামি গাছ ফড়িং (কারেন) পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। গতবারের থেকে এবছর বিঘাপতি ৫ থেকে ৬ মন ধান কম উৎপাদন হচ্ছে। ফলে চাষীদের উৎপাদন খরচ ঘরে উঠছে না।

জানা গেছে, জমি প্রস্তুত, ধানের চারা লাগানো, সেচ, বিষ, কাটা-মাড়াসহ সকল উপকরণের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে গতবারের তুলনায়। ফলে গতবছর বিঘাপ্রতি জমিতে আমন ধান উৎপাদন করতে খরচ হয়েছিলো ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা। এবছর তা বেড়ে গিয়ে দাড়িয়েছে ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকা। ফলে ক্রমশ ধানের আবাদে অনিহা হয়ে উঠছে কৃষকরা। কিন্তু নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে তারা ধানের আবাদ ধরে রেখেছেন বলে জানান।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার তিন উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে ২৬ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে ধানের চাষ হয়েছে। বৃষ্টিপাত কম ও তাপমাত্রা বেশি থাকায় চলতি মৌসুমে বাদামি গাছ ফড়িংয়ের আক্রমণ বেড়েছে। কৃষকদের সচেতনতার মাধ্যমে পোকা দমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলেও ফলন গতবারের তুলনায় কিছুটা কম হয়েছে।

সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের ধানচাষী মইরুদ্দিন বলেন, এক বিঘা জমিতে ব্রি-৭৪ জাতের মোটা ধানের আবাদ করেছি। ভুই (জমি) পাকানো, চারা লাগানো, পানি (সেচ), বিষ, কাটা-মাড়া দিয়ে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গতবছর একই জমিতে ধান পেয়েছিলাম ২১ মন। এবার ১৫ থেকে ১৬ মনের বেশি হবে না। ধানে শীষ আসার আগে থেকেই কারেন পোকা লাগা শুরু হয়ছে। প্রতিবছর একবার বিষ দিলেই হয়। এবার চারবার বিষ দিতে হয়েছে। যে কারণে গতবছরে থেকে এবার খরচও বেশি হয়েছে।

সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামের শহিদুল ইসলাম এবার ৫বিঘা জমিতে ব্রি-৪৯ ধানের আবাদ করেছেন। তিনিও বলেন, গতবছর বিঘাপ্রতি ২০ থেকে ২১ মন করে ধান উৎপাদন হলেও এবার ১৪ মনের বেশি পাননি। এছাড়াও কারেন পোকার কারণে এবছর সার ও বিষ খরচ হয়েছে।

গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের ফিরোজ আলী বলেন, এবার আড়াই বিঘা জমিতে ধানের চাষ করেছি। বিঘাপ্রতি ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সংসারে দুবেলা ভাত জোটানোর জন্য ধানের আবাদ করি। প্রতিবছর সেখান থেকে কিছু বিক্রি করি। কিন্তু এবার কারেন পোকার ক্ষতির কারণে ফলন কম হয়েছে।

আড়ৎ ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন বলেন, আমন ধান সবেমাত্র কাটা-মাড়া শুরু হয়েছে। ভালো মানের ধান ১১শ থেকে সাড়ে এগারশ টাকা বেচাকেনা চলছে। তবে কয়েকদিন পর থেকে পুরোপুরি সিজেন শুরু হলে দাম কমবে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ হালদার বলেন, এ বছর বৃষ্টিপাত কম ও অপেক্ষাকৃত তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় বাদামি গাছ ফড়িং পোকার আক্রমণ হয়েছে। এ পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করে চাষীদের সচেতন করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক কৃষি কর্মকর্তাদের মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পোকা দমন করে তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা হয়েছে। তবে পোকা দমন করতে চাষীদের অতিরিক্ত খরচের মধ্যে পড়তে হয়েছে এবং কিছুটা হলেও ফলন কম হয়েছে।

তিনি বলেন, এখন আমন সিজন। কিন্তু অনেক চাষী আছে যারা বোরো সিজনের ধানও আবাদ করেছেন। যার ফলে ওই সকল চাষীদের ফলন কম হতে পারে। তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, অনেকচাষী আমন সিজনে ব্রি-৭৪ ধান চাষ করেছেন। ব্রি-৭৪ মূলত বোরো সিজনের ধান। আমন সিজনের জন্য উপেযাগী ব্রি-৭৫, ব্রি-৮৭, ব্রি-৯০ জাতের ধানের আবাদ করার পরামর্শ দেন।




‘ডার্ক প্যাটার্নের গল্পে যুক্ত হয়েছি’-আরিফিন শুভ

কিছুদিন আগেই পর্দায় এসেছে চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ অভিনীত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিক ‘মুজিব : একটি জাতির রূপকার’। বহুল আলোচিত এই সিনেমাটি মুক্তির পর দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছে দর্শক-সমালোচকদের। যার রেশ এখনও চলমান রয়েছে।

সিনেমাটিতে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন শুভ। চরিত্রটি রূপায়নে প্রায় ৩ বছর আটকে ছিলেন সিনেমাটির ইউনিটে। তবে মুক্তির পর দর্শকদের প্রশংসায় সেই কষ্ট লাঘব হয়েছে এই অভিনেতার। তাই হয়তো তিনি বারবার বলছিলেন, এমন সিনেমা করার পর আর কোনো কাজ না করলেও আক্ষেপ থাকবে না তার। তবে সেই সাফল্যের রেশ শেষ হতে না হতেই নতুন কাজে মন বাসাতে যাচ্ছেন আরিফিন শুভ।

সম্প্রতি ‘নীলচক্র’ নামের সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। সিনেমাটি পরিচালনা করছেন মিঠু খান। চিত্রনাট্য ও কাহিনি বিন্যাস করেছেন নাজিম উদ দৌলা ও মিঠু খান। শিগগিরই সিনেমাটির শুটিং শুরু হতে যাচ্ছে জানান শুভ। তবে এবারও কাজ শেষ না করে এ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতে নারাজ এই অভিনেতা।

আরিফিন শুভ বলেন, ‘নীলচক্রে দর্শকরা সমসাময়িক একটি গল্প দেখতে পাবেন। বলতে পারেন, ডার্ক প্যাটার্নের গল্পে যুক্ত হয়েছি। তবে প্যাটার্ন ডার্ক হলেও, সঙ্গে আরও কিছু আছে।’

উল্লেখ্য, এরইমধ্যে সিনেমাটির অ্যানাউন্সমেন্ট পোস্টার প্রকাশ হয়েছে, যেখানে রক্তের সঙ্গে প্রযুক্তির এক মিশেল দেখা গেছে। সিনেমাটিতে আরিফিন শুভর সঙ্গে আরও অভিনয় করছেন মন্দিরা চক্রবর্তী, ফজলুর রহমান বাবু, দীপান্বিতা মার্টিন, শাহেদ আলী, টাইগার রবি প্রমুখ।




মোবাইল নম্বর ছাড়াই চলবে হোয়াটসঅ্যাপ

হোয়াটস অ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলতে হলে মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হয়। এভাবেই সবার অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হয়। কিন্তু এবার বদলে যেতে চলেছে অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েটের এই পুরনো পদ্ধতি। ইমেইল ব্যবহারেও এখন হোয়াটস অ্যাপ অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে। নতুন এই ফিচারটি এখন পরীক্ষামূলকভাবে চালু রয়েছে। এটি কার্যকর হলে, ব্যবহারকারীরা তাদের ফোন নম্বর ছাড়া ইমেল দিয়েও অ্যাকাউন্টে লগ ইন করতে পারবেন।

সাধারণত ফোন বদল করলে হোয়াটসঅ্যাপ নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। তখন এসএমএসর মাধ্যমে ওটিপি যাচাইকরণ করেই হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট যুক্ত করে ফেলা সহজ একটি পদ্ধতি হবে এমনটাই স্বাভাবিক। আবার ভেবে দেখুন, কোনো নম্বর নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে বা ফোন চুরি হলে আরও বিপদ।

সাধারণত হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট যাচাইকরণের জন্য এসএমএস এ ওটিপি আসে। এই পাসওয়ার্ড ছাড়া কেউ অ্যাকাউন্টে লগইন করতে পারে না। এটি সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। তবে কারও যদি মোবাইল নম্বরটিই বদলে যায় বা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে, তাহলে তিনি আর এসএমএস পাবেন না। ফলে হোয়াটসঅ্যাপ এ লগইনও করতে পারবেন না।

ওয়াবেটাইনফ’র দাবি, ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপটি একটি ইমেল যাচাইকরণ ফিচার পরীক্ষা করছে। এটি ব্যবহারকারীদের মোবাইল নম্বর ছাড়াও ইমেল ব্যবহার করে তাদের অ্যাকাউন্টে লগ ইন করতে দেবে।

নতুন ফিচারটি যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার একটি সংযোজন হতে চলেছে। এসএমএস যাচাইকরণের পাশাপাশি এটিও থাকবে। এই ফিচার এন্ড্রোয়েড ও আইওএস-এর বিটা ভার্সনে পাওয়া যাচ্ছে। ব্যবহারকারীরা ‘অ্যাকাউন্ট সেটিং’ এই অপশন পাবেন। সেখানে ব্যবহারকারীরা তাদের ই-মেইল অ্যাড্রেস লিখতে পারেন। যা কোনোভাবেই অন্যকোনো পক্ষ জানতে পারবে না দীর্ঘদিন ধরে এই নতুন ই-মেইল যাচাইকরণ ফিচারটি পরীক্ষা করছে হোয়াটসঅ্যাপ। সর্বশেষ বিটা সংস্করণ ২.২৩.২৪.১০ আপডেট অনেকেই ফিচারটি ব্যবহার করতে পারছেন। শিগরিগরই এই সুবিধা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

সূত্র: ওয়েবেটাইনফো




মেহেরপুরের কাঁচা বাজারে কিছুটা স্বস্তি

শীতের শুরুতে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় ও কয়েক দফা অবরোধের কারনে মেহেরপুরে উৎপাদিত সবজি জেলার বাইরে না যেতে পারায় মেহেরপুর শহরে কাঁচা বাজারে সবজির দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে।

গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে মেহেরপুর বড় বাজারের আড়ৎ ও কাচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে,গত এক সপ্তাহ ধরে সব সবজির দাম বিগত অর্ধেকে নেমে এসেছে।ব্যাবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাইকারি বাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে শীতকালীন শাকসবজি বিক্রি করছেন তারা। তবে বিক্রেতারা বলছেন বাজারে সকল পণ্যের দাম কমলেও একই সাথে ক্রেতার সংখ্যাও কমে গেছে।

সরেজমিনে বড়বাজার কাঁচাবাজারে যেয়ে দেখা যায়,গত সপ্তাহে সীম বিক্রি হয়েছিল ১২০ টাকা কেজি আর এই সপ্তাহের ৩০ টাকা , কচুর দাম ১০০ টাকা কেজি থেকে কমে ৩০ টাকা, আলু ৬০ টাকা কেজি থেকে কমে হয়েছে ৪৫ টাকা কেজি, লাউ এর দাম ৫০ টাকা থেকে কমে ৩০ টাকা পিস, ফুলকপি ৮০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ২০ টাকা কেজি, বেগুন ৮০ টাকা কেজি থেকে কমে হয়েছে ৩০ টাকা, পালংশাক ৮০ টাকা কেজি থেকে কমে ৩০ টাকা কেজি। এছাড়াও সব সবজির তুলনামূলক কমলেও অধিকাংশ বিক্রেতা বলেছেন পণ্যের দাম কমার পর বাজারে ক্রেতার সংখ্যা না বেড়ে উপরন্ত অনেক কমে গেছে।

কাঁচা বাজারের বাজার করতে আসা ফারুক নামের এক ক্রেতা বলেন, অনেকদিন পর বাজার করতে এসে আজকে কিছুটা স্বস্তি পেলাম। সকল পন্যের দাম অনেকটা সহনীয়।

হোস্টেলে থাকা কলেজ ছাত্রী নিসাত বলেন, আমরা সপ্তাহে দুইবার বাজারে আসি। এ সপ্তাহে বাজারে অনেক নতুন সবজি উঠেছে, দামও তুলনামূলক ভাবে গত সপ্তাহের তুলনায় অনেক কম।




মেহেরপুরে আওয়ামী লীগের বিভক্তির দায় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর- আব্দুল মান্নান

সম্প্রতি একটি জনসভায় মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান দাবি করেছেন মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের আজকের যে বিভক্তি এর সম্পূর্ণ দায় মেহেরপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের।

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় আনতে হবে, ভোট নৌকায় দিতে হবে। জামায়াত-বিএনপির নৈরাজ্যের পাশাপাশি আরেকটি নৈরাজ্য গত ১০ বছর ধরে মেহেরপুর জেলাকে গ্রাস করছে। মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের আজকের যিনি সভাপতি, তিনি মনে করেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের কোন সিএস-আরএস রেকর্ড নাই। উনি মনে করছেন সিএস-আরএস রেকর্ড সব উনার। আজকের সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং ডাকেন না। নেতা কর্মীদের সাথে কথা বলতে চান না। আজকে আওয়ামী লীগের বিভক্তি হওয়ার পরও তিনি দলের সিনিয়র নেতাদের একবারও আলোচনার জন্য আহ্বান জানাননি। আমাদের সিদ্ধান্ত আমরা মেহেরপুরে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে পরিবর্তন চাই। পরিবর্তন করে দলীয় সভানেত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষে সম্মিলিতভাবে কাজ করে আমরা নৌকাকে বিজয়ী করবো। বিভিন্ন সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ও সাংবাদিকদের আমি অনুরোধ করছি আপনারা আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর কাছে তুলে ধরুন।আমরা পরিবর্তন চাই।’




মেহেরপুরে আলুর বীজের চড়া দামে লোকসানের শঙ্কায় কৃষক

মেহেরপুরে চলতি মৌসুমে আলুর বীজের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় পণ্যটি চাষ করে লাভ তোলা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।সরকারিভাবে গত বছর কার্ডিনাল ও ডায়মন্ড আলুর বীজ ৩০ থেকে ৩২ টাকা এবং এরিস্টন জাতের আলুর বীজ বিক্রি হয় ৩৫ টাকা কেজিতে।

সেখানে চলতি বছরে কার্ডিনাল ও ডায়মন্ড আলুর বীজ সরকারি দাম নির্ধারণ করা হয় ৫৬ টাকা। আর এরিস্টন জাতের আলুবীজ বিক্রির দাম নির্ধারণ করা হয় ৬০ টাকা। অথচ খুচরা বাজারে ডায়মন্ড আলু বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা করে। আর এরিস্টন বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা করে। কার্ডিনাল আলুর বীজ বিএডিসি কর্তৃক শেষ হওয়ায় বাজারে তার দেখা মিলছে না।

কৃষকদের বিঘাপ্রতি জমিতে আলু চাষের জন্য ছয় মণ হারে বীজের প্রয়োজন হয়। এর সঙ্গে অন্যান্য খরচ যোগ করলে এক বিঘা আলু চাষে কৃষকের বতর্মান সময়ে খরচ পড়বে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে, গত বছর যেটি ছিল ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।

কৃষকদের অভিযোগ, দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতির দোহাই দিয়ে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আলুর দামে বাড়িয়েছে, যার ফলে বেড়ে গেছে আলুবীজের দাম। বাজারে সব জিনিসের দাম বাড়ার পাশাপাশি অধিক দামে আলুবীজ কিনে চাষ করার পরে যখন আলু উৎপাদন শেষে বাজারে বিক্রি করতে যান, ঠিক তখনই আলুর দাম কমে যায়। তখন উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লোকসানে পড়তে হয়।

আর কৃষি বিভাগ বলছে, বতর্মানে আলুর বাজারদর একটু বেশি থাকায় বীজের দাম বেড়েছে। উৎপাদন বাড়লেই আলুর দাম কমে যাবে। তা ছাড়া আলুর বীজের তেমন কোনো সংকট নেই।

মেহেরপুরের গাংনীর কাজিপুর গ্রামের কৃষক হাকিম আলী বলেন, ‘আমরা গত বছর প্রতি কেজি আলুর বীজ কিনেছি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা করে। এ বছর তার দাম বেড়ে হয়েছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। ৩০ টাকায় বীজ কিনে আলু উৎপাদন করেও গত বছর আলুর বাজারে দাম কম পাওয়ায় লোকসান হয়েছে। আর এ বছর সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিক ও বীজের দাম বেশি। তাতে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে।

বতর্মানে এক বিঘা আলু চাষ করতে প্রায় ৩০ হাজার টাকার প্রয়োজন পড়বে, যা সব কৃষকের পক্ষে জোগাড় করা এক প্রকার অসম্ভব।

নওদাপাড়া গ্রামের কৃষক রাজা আহমেদ বলেন, ‘নিম্ন আয়ের মানুষ যেটিই পছন্দ করবে, তারই দাম বেড়ে যাবে। মনে করছিলাম এ বছর দুই বিঘা জমিতে আলুর চাষ করব, তবে আলুর বীজের যে দাম, তাতে করে আলু চাষ করে জয়ী হওয়া যাবে না। বর্তমানে সার, বীজ, বিষ ও জমির লিজ খরচ দিয়ে আলু চাষে যে পরিমাণ খরচ হবে, ভরা মৌসুমে আলু বিক্রি করে সেই টাকা উঠবে না। কারণ আমাদের যে সময় আলু উৎপাদন শেষে বাজারে নিয়ে যাব, তখন আলুর দাম একবারে কমে নিচে গিয়ে ঠেকবে। আর তখনই লস হবে।

আলু বীজ বিক্রেতা আবদুল মালেক বলেন, ‘এ বছর বীজ অথবা খাবার আলু দুটোর দামই বেশি। গতবার আমরা যে আলুর বীজ এই সময় ৩০ থেকে ৩২ টাকায় বিক্রি করেছি, এবার তার দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ফলে অনেক চাষিই আলু চাষে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

‘কেননা এত টাকা খরচ করে আলু উৎপাদন শেষে বাজারে বিক্রি করার সময় কৃষকরা আলুর দাম পায় না।’

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ অফিসার মো. সামসুল আলম বলেন, ‘চলতি মৌসুমে আলু বীজের দাম অন্য বছরের তুলনায় বেশি। কারণ বাজারে খাওয়ার আলুর দাম বেশি হওয়ায় এমনটি হয়েছে।

‘জেলায় এ বছর ৮৬০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের সম্ভবনা রয়েছে, যা কিনা গত বছরের সমান। কৃষকরা যত বেশি আলু চাষ করবে, তত বেশি উৎপাদন বাড়বে। উৎপাদন বাড়লেই আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং আলুর বাজারদর কমে আসবে। তাই উৎপাদনের বিকল্প নেই।




গাজায় নিহত ১১ হাজার ছাড়িয়েছে, ১০ মিনিটে প্রাণ হারাচ্ছে ১ শিশু

গাজায় নিহত ১১ হাজার ছাড়িয়েছে, ১০ মিনিটে প্রাণ হারাচ্ছে ১ শিশুফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় দখলদার ইসরাইলের হামলায় নিহতের সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। নিহতদের প্রায় সবাই শিশু, নারী ও বেসামরিক নাগরিক। গাজায় প্রতি ১০ মিনিটে একজন শিশুর মৃত্যু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস।

শুক্রবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরাইলি হামলায় শহরে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১১ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫০৬ জন শিশু। গাজায় নিহত নারীর সংখ্যা ৩ হাজার ২৭ জন। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

ইসরাইলি বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলায় গাজা সিটির আল-বুরাক স্কুলে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১০ নভেম্বর) এ হামলার ঘটনা ঘটে। গাজার বৃহৎ চিকিৎসাকেন্দ্র আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন, হামলার পর হাসপাতালে এসব মরদেহ নিয়ে আসা হয়।

গাজায় আঘাতপ্রাপ্ত অসংখ্য ব্যক্তি এবং গর্ভবতী নারীদের সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা কোনো রকম চেতনানাশক ছাড়াই অস্ত্রোপচার করছেন।

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় জ্বালানি সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে সেখানকার অন্যতম আল শিফা হাসপাতাল। গত ৪৮ ঘণ্টায় বন্ধ হয়ে গেছে আরও ৩টি হাসপাতাল। এ ছাড়া আল কুদস হাসপাতালের আইসিইউতে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভয়াবহ আকার নিয়েছে বলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস।

গাজার সবচেয়ে বড় হাসপাতালগুলোর একটি ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালও বিদ্যুৎ সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে। গাজার আরেকটি হাসপাতাল আল কুদসের আইসিইউ লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। রোগীতে পরিপূর্ণ থাকা আল শিফা হাসপাতালও জ্বালানি সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান শুক্রবার বলেছেন, গাজার অর্ধেক হাসপাতালই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফিলিস্তিনি উপত্যকার স্বাস্থ্যব্যবস্থা চূড়ান্ত সীমায় রয়েছে। ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে তিনি বলেন, গাজার ৩৬টি হাসপাতাল এবং এর দুই-তৃতীয়াংশ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের অর্ধেকই কাজ করছে না। যেগুলো কাজ করছে তারা তাদের সামর্থ্যের বাইরে কাজ করছে।

তিনি বলেন, গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা চূড়ান্ত সীমায় রয়েছে। তবু কোনো না কোনোভাবে জীবন রক্ষার জন্য লড়াই অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বলেন, সেখানকার স্বাস্থ্যকর্মীদের এখন ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জ্বালানির প্রচণ্ড প্রয়োজন। সেখানে প্রতি ১০ মিনিটে একটি শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তবে সেখানে কোথাও এবং কেউ নিরাপদ নয়।

ডব্লিউএইচও প্রধানের মতে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চারটি হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে জ্বালানির অভাবে। হাসপাতালগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে ৪৩০ শয্যা ছিল। তবে এর চেয়েও অনেক বেশি রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। ইসরাইলের হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত শতাধিক জাতিসংঘের কর্মী নিহত হয়েছেন।

গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলে প্রবেশ করে এক আকস্মিক হামলা চালান হামাসযোদ্ধারা। এতে এক হাজার ৪০০ জন নিহত হন। এ ছাড়া আরও দুই শতাধিক ব্যক্তিকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে গেছে হামাস। এ ঘটনার পর থেকেই গাজার ওপর হামলা চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী।

সম্প্রতি জাতিসংঘ বলেছে যে, গাজা শিশুদের কবরস্থান হয়ে উঠছে। এটি একটি যুদ্ধবিরতির দাবিকে বাড়িয়ে তুলছে। এর আগে জাতিসংঘের সংস্থার প্রধানরা গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য বিরল যৌথ আবেদন করেছেন। জাতিসংঘের ১৮টি সংস্থার নেতারা ইসরাইল-হামাস যুদ্ধে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। সেখানে ইসরাইলের ভয়াবহ হামলায় মৃতের সংখ্যায় হতবাক হয়েছেন তারা। এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংস্থাগুলোর প্রধানরা।

সূত্র যুগান্তর




আলমডাঙ্গায় ভুয়া পুলিশের এসআই সোহেল রানা গ্রেপ্তার

পুলিশ না হয়েও পুলিশের এসআই পরিচয়ে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. সোহেল রানা নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ।

গতকাল  শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের রেল জগন্নাথপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশের ভুয়া এসআই সোহেল রানা (২৭) কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের আজিবর রহমানের ছেলে। ইতিপূর্বেও তার বিরুদ্ধে মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার পৃথক দুটি প্রতারণার মামলা রয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাদিউজ্জামান জানান, গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকায় ডিউটি করার সময় এক ব্যক্তির গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। এ সময় ওই প্রতারক নিজেকে কুষ্টিয়া সদর থানায় কর্মরত এসআই হিসেবে পরিচয় দেন। তার কাছে থাকা পুলিশ আইডি কার্ড দেখতে চাইলে সে টালবাহানা করেন। পরে কুষ্টিয়া সদর থানায় তার তথ্য জানতে চাইলে সে পালানো চেষ্টা করে। এ সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি হ্যান্ডকাপ উদ্ধার করে পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে আলমডাঙ্গা থানার ওসি বিপ্লব কুমার নাথ জানান, সে পুলিশ পরিচয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রতারণা করে। তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে দুটি প্রতারণার মামলাও রয়েছে। আলমডাঙ্গা থানাও একটি প্রচারণা মামলা রুজু হয়েছে।




দর্শনা প্রেসক্লাবের সদস্যদের সাথে মনোনয়ন প্রত্যাশি শাহরিয়ার লল্টু মতবিনিময়

চুয়াডাঙ্গা-২ আসন থেকে দখলবাজ,স্বর্ণ চোরাচালান,মাদক কারবারী ও দৃনির্তি মুক্ত করার প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নেমেছে নৌকা প্রতিকের মনোনয়ন প্রত্যাশি বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর্জা শাহরিয়ার মাহমুদ লন্টু।

গতকাল সন্ধায় মতবিনিময় সভায় প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দর্শনা প্রেসক্লাবের উন্নয়নে আনুদান প্রদান করেন। এসময় তিনি যুদ্ধকালিন স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালে মদনা গ্রামে সমর সম্মুখ যুদ্ধে আমার বেঁেচ থাকার কথা ছিলো না। মহান আল্লাহ সেদিন আমাকে বাঁিচয়ে ছিল। সেই থেকে আমি আমার এলাকায় পিছু টানে। আমার বড় ভাই মীর্জা সুলতান রাজার স্বপ্ন পূরণে আমার এলাকা জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলার মানুষের উন্নয়নে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। মাননীয় প্রধান মন্ত্রি যদি আমাকে নৌকা প্রতিক দিয়ে মনোনীত করেন তাহলে আমি বিজয় হয় এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে যাবো।

তিনি আরো বলেন, নিয়োগ বানিজ্য, মাদক চোরাচালান,স্বর্ণ পাচার ও টেন্ডার বাজি ও দখল মুক্ত করতে কাজ করে কাজ করবো।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, যুদ্ধকালিন দামুড়হুদা ও আলমডাঙ্গ এ্কাংশের গেরিলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমান জোয়ার্দ্ধার।

আরো উপস্থিত ছিলেন, বিটিভির চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক রাজন রাশেদ, দর্শনা প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি আওয়াল হোসেন, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব মামুন, এফ এ আলমগীর, চঞ্চল মেহমুদ, আব্দুর রহমান,ওয়াসীম রয়েল ও ফরহাদ হোসেন প্রমুখ। মতবিনিময়সভা পরিচালনা করেন ইকরামুল হক পিপুল।