আলমডাঙ্গার খোরদেতে নিম্নমানের ইটের রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

আলমডাঙ্গার খোরদে ইউডিএফ প্রকল্পের আওতায় নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খোরদ গ্রামে ইউডিএফ প্রকল্পের অধীনে ৫২৫ ফুট রাস্তা নির্মাণে প্রায় ৮ লাখ টাকার টেন্ডার পায় জাহিদুল এন্টারপ্রাইজ। কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের ইট ব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গেলে স্থানীয় দুই সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম চঞ্চল ও শামীম রেজাকে ঠিকাদার জাহিদুল ও তার আত্মীয়স্বজনরা বাধা দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিম্নমানের (২ ও ৩ নম্বর) ইট দিয়ে হেরিংবোন কাজ চলার ছবি তুলতে গেলে ঠিকাদারপক্ষ হুমকি-ধমকি দেয়। একপর্যায়ে স্থানীয় কিছু লোকজনের সহায়তায় সাংবাদিকরা ছবি তুললে ঠিকাদারের আত্মীয়স্বজন এসে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এমনকি এক সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নিয়ে ছবি মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয় এবং গায়ে হাত তোলার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, ঠিকাদারপক্ষ প্রভাব খাটিয়ে কিছু লোককে নিজেদের পক্ষে নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। ফলে অনেকেই অনিয়ম দেখেও মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তাদের তথ্য সংগ্রহে সরাসরি বাধা দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয়।

এ বিষয়ে ভাংবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান (সোহান) বলেন, “দুই নম্বর ইট ব্যবহারের বিষয়টি আমি ফোনে জিজ্ঞাসা করেছি। তারা বলেছে ভুল করে চলে এসেছে। যেহেতু টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ হয়েছে, এরপর আর কিছু জানি না।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার বলেন, “ইট পরিবর্তন করার নির্দেশনা দিয়েছি। দ্রুত নিম্নমানের ইটগুলো তুলে নেওয়া হবে।” তবে এলাকাবাসীর দাবি, ইট উঠানোর কথা বলা হলেও সেখান থেকে কোনো ইট সরানো হয়নি। উল্টো রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের ইট ব্যবহার করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অপচেষ্টা ঢাকতেই এমন অনিয়ম করা হচ্ছে। তারা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিম্নমানের কাজ বন্ধ করে সঠিক মান বজায় রেখে রাস্তা নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।




জীবননগরে জামায়াতের সাংবাদিক সম্মেলন

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার হামলায় নিহত জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান হত্যাকাণ্ডের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরা এবং দ্রুত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাতে গতকাল বুধবার বিকেল ৪টায় উপজেলা কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র জীবননগর শাখা।

সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার ঘটনায় এলাকায় এখনো উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা হামলার পেছনের নেপথ্য রাজনৈতিক প্ররোচনা উদ্ঘাটন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তদন্তে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা সহায়তা ও নিহতের পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রীয় মানবিক সহায়তার আহ্বান জানানো হয়।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে একটি নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সময়ের দাবি।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা আমির সাজেদুর রহমান, নায়েবে আমির হাফেজ বিল্লাল হোসেন, মো. শাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা সেক্রেটারি মো. মাহফুজুর রহমান, আবু বকর সিদ্দিক, উপজেলা আইটি সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ এবং জীবননগর পৌর আমির ফিরোজ হোসেন প্রমুখ।




কুতুবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ পুনর্বহাল

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কুতুবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সুন্নাত আলীকে তাঁর স্বপদে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর এস. এম. তৌহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

আদেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, মো. সুন্নাত আলীর বিরুদ্ধে আনীত মামলাসমূহ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, তাঁর চাকরি করার ক্ষেত্রে আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এর আগে গত ১২ জানুয়ারি গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে পাঠানো স্মারক এবং বোর্ডের আপিল অ্যান্ড আরবিট্রেশন কমিটির ৭৮তম সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।

বোর্ডের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জনাব মো. সুন্নাত আলীকে তাঁর সাময়িক বরখাস্তের তারিখ থেকে যাবতীয় পাওনাদিসহ স্বপদে পুনর্বহাল করতে হবে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে বোর্ডকে অবহিত করার জন্য প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

যশোর শিক্ষা বোর্ড এই আদেশের অনুলিপি মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক, গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং খুলনা অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠিয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা জানান, আদালতের বাধা না থাকায় বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুন্নাত আলী বলেন, “কাথুলী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আমানুল্লাহ বিশ্বাস কুতুবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি নিয়োগ হওয়ার পর থেকে শিক্ষক নিয়োগে মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেন করতেন। ঘুষ গ্রহণে বাধা দিতে গেলে তিনি আমাকে পেশিশক্তি প্রয়োগ করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেন। পরে তিনি আমার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা করেন। সে সময় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন অর্থকষ্টে থাকতে হয়েছে। অবশেষে সত্যের বিজয় হয়েছে, তা আবারও প্রমাণিত হলো।”




লাঠিসোটা নিয়ে বিক্ষোভকারী জামায়াত নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা শহরে লাঠিসোটা নিয়ে বিক্ষোভকারী জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় গাংনী বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেন গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু।

সমাবেশে আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লাঠিসোটা নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার না করে, তবে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।” একই সঙ্গে দুপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিলে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে দেওয়া কুরুচিপূর্ণ স্লোগান প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার দুপুরে গাংনী উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভাকে কেন্দ্র করে।

সভায় উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-ঘনিষ্ঠ কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম হুসাইনের বিরুদ্ধে ‘ফ্যাসিবাদী আচরণ’-এর অভিযোগ তুলে তাকে সভা থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানান বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা। এ সময় সভাকক্ষে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হস্তক্ষেপ করেন। পরে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং উপস্থিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার জন্য সভায় উপস্থিত সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন আসাদুজ্জামান বাবলু।

এর কিছুক্ষণ পর বিকেল চারটার দিকে গাংনী শহরে লাঠিসোটা হাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি উপজেলা জামায়াত কার্যালয় থেকে বের হয়ে হাসপাতাল বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এ সময় তারা তাদের নেতার ওপর হামলার অভিযোগ তুলে বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান বাবলুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এর প্রতিবাদে সন্ধ্যায় পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল করেন আসাদুজ্জামান বাবলুর সমর্থক বিএনপি নেতাকর্মীরা। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গাংনী শহরে টানটান উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যে কোনো বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়ালেও প্রশাসন বলছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে বিএনপির দেওয়া ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।




গাংনীতে আইনশৃঙ্খলা সভায় যুবদলের হামলার চেষ্টা, হট্টগোল; জামায়াতের বিক্ষোভ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা চলাকালীন সময়ে কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম হুসাইনের ওপর হামলার চেষ্টা চালায় যুবদলের একটি দল। এ সময় তারা আলম হুসাইনকে মিটিং থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানায়।

এর আগে একটি মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে প্রবেশ করে তারা। সে সময় গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা চলছিল। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য নাজমুল হুদা, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার দাস, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, উপজেলা জামায়াতের আমির ডাক্তার রবিউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু।

খবর পেয়ে গাংনীতে অবস্থানরত সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ ফোরামের সভায় মিছিল নিয়ে জোরপূর্বক প্রবেশ করায় পুলিশসহ উপস্থিত সকলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাজমুল হোসেন, যুবদল নেতা সাহিবুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আব্দুল গনি ও ছাত্রদল নেতা ইমনের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল সভাকক্ষে প্রবেশ করে কাজিপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা আলম হুসাইনকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তাদের সঙ্গে সভায় উপস্থিত ব্যক্তিদের ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে আসাদুজ্জামান বাবলু সভাকক্ষ থেকে বের হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। স্থানীয় আর্মি ক্যাম্পের সদস্যরা পৌঁছালে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

একটি সূত্র জানায়, ভিজিএফের চালের মোট বরাদ্দের ২৫ শতাংশ দাবি করেন ইউপি চেয়ারম্যান আলম হুসাইন। এ বিষয়টি নিয়ে যুবদলের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। যার কারণে এমন ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে অনেকে দাবি করেন।

গাংনী পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা বলেন, “উপজেলার সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সভাকক্ষে জোরপূর্বক প্রবেশ করে একজন চেয়ারম্যানকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা যে দলেরই হোক, অপরাধ করেছে। আমি লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।”

উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। উপস্থিত সকলের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ারও অঙ্গীকার করছি।”

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু বলেন, “আমাদের উপস্থিতিতেই যারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তারা সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। এদের রুখতে না পারলে গাংনীর বিএনপি মানুষের কাছে ধিকৃত হবে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।”

উপজেলা জামায়াতের আমির মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “রাজনীতির নামে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে গাংনীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।”

গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস বলেন, “ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা হতবাক।”

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশ প্রত্যাশা করি না। আজকের সভায় যা ঘটেছে তার দায় রাজনৈতিক নেতৃত্বকে নিতে হবে। সুষ্ঠু সমাধান না হলে প্রশাসন প্রক্রিয়াগত ব্যবস্থা নেবে।”

সভার প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য নাজমুল হুদা বলেন, “এটি শুধু আলম হুসাইনের ওপর হামলার চেষ্টা নয়, আমাদের সবার ওপর হামলা। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।”

এদিকে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গাংনী উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়।




মেহেরপুরের দুই প্রতিষ্ঠানে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

মেহেরপুরের মুজিবনগর ও সদর উপজেলায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান পরিচালিত হয়ে দুই ব্যবসায়ীকে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মুজিবনগরে অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদনের অভিযোগে মেসার্স আফিফ বাংলা ফুডকে ১০ হাজার টাকা এবং সদর উপজেলার কাথুলী মোড়স্থ শোলমারী হোটেলকে খাদ্যে নিষিদ্ধ দ্রব্য (হাইড্রোজ) ব্যবহার করার কারণে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন মেহেরপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (অতি. দা.) মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। অভিযানে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো: রিয়াজ মাহমুদ এবং জেলা পুলিশের একটি টিম সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।

অভিযানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ঔষধ, সেমাই, কসমেটিকস ও হোটেলগুলোর কার্যক্রম তদারকি করা হয়। উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে, যাতে তারা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন মেনে পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ করে। নিয়মিত এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।




ইউএনও’র উদ্যোগে আমঝুপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাস্কেটবল গ্রাউন্ড নির্মাণ শুরু

মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সাড়ে ৭ লাখ টাকার ব্যয়ে বাস্কেটবল খেলার গ্রাউন্ড নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন মেহেরপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ খায়রুল ইসলাম। আজ বুধবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে তিনি ঢালাই কাজের সূচনা করেন এবং নির্মাণের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন গ্রাউন্ডটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও ক্রীড়া চর্চাকে আরও উৎসাহিত করবে।




সার বিক্রেতাদের সনদ স্থগিতের প্রতিবাদে মেহেরপুরে মানববন্ধন

দেশব্যাপী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত কার্ডধারী খুচরা সার বিক্রেতাদের সনদ স্থগিত করার প্রতিবাদে মেহেরপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

মেহেরপুর জেলা খুচরা সার বিক্রেতা অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, মেহেরপুর জেলা শাখার উদ্যোগে বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা খুচরা সার বিক্রেতা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ইলিয়াস হোসেন, আহসান হাবিব প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সারাদেশে প্রায় ৪৪ হাজার সরকার অনুমোদিত কার্ডধারী খুচরা সার বিক্রেতার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম হতাশার মধ্যে দিনযাপন করছেন। দ্রুত সনদ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে তাদের ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তারা।

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। কর্মসূচিতে মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার খুচরা সার বিক্রেতারা অংশগ্রহণ করেন।




দাম বাড়ার আগেই তেল নিতে মেহেরপুরের পাম্পগুলোতে উপচে পড়া ভিড়

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কায় মেহেরপুরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির আগে কম দামে তেল কিনে রাখতে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার নিয়ে অনেকেই পাম্পে ছুটে আসেন।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার খবরের পর দেশেও মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এমন আশঙ্কায় আগেভাগেই তেল সংগ্রহে তৎপর হয়ে ওঠেন গ্রাহকরা।

দাম বাড়ার ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সন্ধ্যার পর থেকে পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। অনেকেই রাত ১২টার আগেই আগের দামে তেল নিতে চান বলে জানান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কিছু পাম্প মালিক নতুন নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রির প্রস্তুতি নিলেও এখনো আগের দামেই তেল বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইনে গাড়ির চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্থানীয়দের ধারণা, নতুন দাম কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত পাম্পগুলোতে এ ভিড় অব্যাহত থাকতে পারে।




ঝিনাইদহে খুচরা সার বিক্রেতা বহাল রাখা ও নীতিমালা সংশোধনের দাবীতে মানববন্ধন

সরকার অনুমোদিত কার্ডধারী খুচরা সার বিক্রেতা বহাল রাখা ও সার সংক্রান্ত নীতিমালা সংশোধনের দাবীতে ঝিনাইদহে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বুধবার (৪ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে খুচরা বিক্রেতা এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ জেলা শাখা। এতে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে জেলা ও উপজেলা শাখার খুচরা সার বিক্রেতারা অংশ নেয়।

ঘন্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচীতে সংগঠনটির জেলা শাখার সভাপতি সায়েদুল আলম বাদশা, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ, সদর উপজেলা শাখার সভাপতি তরিকুল ইসলাম টিপু, মহেশপুরের সভাপতি সাইফুল ইসলাম উজ্জল, হরিণাকুন্ডুর সভাপতি শামিম আহমেদ চাঁদ, শৈলকুপার সভাপতি বাবুল আক্তার, কোটচাঁদপুরের সভাপতি হারুন অর রশিদ ও কালীগঞ্জের সভাপতি জিল্লুর রহমানসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

সেসময় বক্তারা বলেন, খুচরা সার বিক্রেতাদের সনদ স্থগিত করায় দেশের ৪৪ হাজার পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। তাই তাদের বহাল রেখে সার নীতিমালা ২০২৫ এর পুর্ণগঠন স্থগিত করার দাবী জানান তারা। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন তারা।