মেহেরপুরের ইসলামনগর মৌজায় অন্তর্ভুক্তির প্রতিবাদে বাহাগুন্দা গ্রামবাসীর বিক্ষোভ

মেহেরপুর সদর উপজেলার নবগঠিত ৯৭ নম্বর ইসলামনগর মৌজায় গাংনী উপজেলার ৫০ নম্বর বাহাগুন্দা মৌজার ১ থেকে ১২৫৬ নম্বর আরএস দাগ অন্তর্ভুক্ত করার গেজেট নোটিফিকেশন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন বাহাগুন্দা গ্রামবাসী।

​আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর বাহাগুন্দা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি গ্রামের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাহাগুন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে গ্রামবাসী তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

​সমাবেশে বক্তারা বলেন, নবগঠিত ইসলামনগর মৌজায় বাহাগুন্দা মৌজার বড় একটি অংশ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় গ্রামবাসী চরম প্রশাসনিক ও নাগরিক জটিলতার মুখে পড়বেন। বিশেষ করে জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, খাজনা পরিশোধ ও ভূমি-সংক্রান্ত কাগজপত্র নিষ্পত্তিসহ সরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে।

​বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, এতদিন বাহাগুন্দা মৌজার যাবতীয় কাজ গাংনী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে সম্পন্ন হতো। কিন্তু নতুন গেজেটের ফলে মৌজা বিভক্ত হওয়ায় জমির অবস্থানভেদে গ্রামবাসীকে কখনো মেহেরপুর সদর, আবার কখনো গাংনী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ছুটতে হবে। এতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নাগরিক ভোগান্তি বহুগুণ বাড়বে। এছাড়া ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রেও বিভ্রান্তি ও জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ​তাই বাহাগুন্দা মৌজাকে পূর্বের প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে বহাল রেখে ইসলামনগর মৌজায় অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত বাতিলের জোর দাবি জানান তারা।

​প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ধানখোলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মফিদুল ইসলাম, ধানখোলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নুর ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এসময় বিপুলসংখ্যক গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ঘোষণা দেন।

​সমাবেশ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত গেজেট নোটিফিকেশন পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, জনস্বার্থবিরোধী এ সিদ্ধান্ত বাতিল না করা হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।




মেহেরপুরের বুড়িপোতা সীমান্তে ৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা বিওপি সীমান্তের খালপাড়া এলাকা দিয়ে চারজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) ভোরে সীমান্তের শূন্যরেখার ওপারে চারজন ব্যক্তিকে দেখতে পান স্থানীয়রা। এ সময় তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। ফলে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ওই ব্যক্তিরা সীমান্ত এলাকা থেকে সরে যায়।

স্থানীয়দের দাবি, পুশইনের চেষ্টা করা চারজনের মধ্যে একজন পুরুষ ও তিনজন নারী ছিলেন। তবে তাদের পরিচয়, জাতীয়তা কিংবা কী কারণে তাদের সীমান্তে আনা হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোরে সীমান্ত এলাকায় অস্বাভাবিক নড়াচড়া লক্ষ্য করার পর বিষয়টি বিজিবিকে অবহিত করা হয়। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুশইনের আশঙ্কায় সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সীমান্তের বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার তেহট্ট থানার নাটনা বিএসএফ ক্যাম্প অবস্থিত।

এ বিষয়ে বিজিবি-৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক কর্ণেল নাজমুল হাসান জানান, শুক্রবার ভোরে বৃষ্টির আগে বিএসএফ চারজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি এবং ফিরে যায়।

তিনি বলেন, “সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি বদ্ধপরিকর।”




মেহেরপুর প্রতিদিন পরিদর্শন করলেন ডিএফপির কর্মকর্তারা

মেহেরপুর জেলার জনপ্রিয় পত্রিকা মেহেরপুর প্রতিদিন কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) কর্মকর্তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিএফপির উপপরিচালক (বিজ্ঞাপন ও নিরীক্ষা) মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল এ পরিদর্শন কাজে অংশ নেন। অন্যদের মধ্যে ডিএফপির পরিদর্শক এনামুল হক ও অডিটর আব্দুল মান্নান উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় তারা মেহেরপুর প্রতিদিনের নিউজরুম, স্টুডিও ও সম্পাদকীয় কক্ষ পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে মেহেরপুর প্রতিদিনের স্টাফদের সঙ্গে পত্রিকার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন, বিভিন্ন রেজিস্টার পরিদর্শন করেন এবং বার্ষিক নিরীক্ষা সম্পন্ন করেন।

পরিদর্শনকালে উপপরিচালক মেহেরপুর প্রতিদিনের অবকাঠামো, অফিস ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত পত্রিকা প্রকাশের জন্য প্রশংসা করেন।

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন মেহেরপুর প্রতিদিনের সম্পাদক ইয়াদুল মোমিন ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মাহাবুব চান্দু। এ সময় মেহেরপুর প্রতিদিনের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক সাকিব হাসান রুদ্র, সার্কুলেশন ম্যানেজার ইয়াসির ইউসুফ ইমন, গ্রাফিক্স ডিজাইনার রাফি হাসান এবং স্টাফ রিপোর্টার পলাশ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।




গাংনীতে ২ গ্রাম হেরোইনসহ আটক ১

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ধলা গ্রামের সাবদারের বাড়ির সামনের পাকা রাস্তা থেকে ২ গ্রাম হেরোইনসহ ইনারুল ইসলাম (৪০) নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে ধলা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে আটক করেন। আটককৃত ইনারুল ইসলাম মেহেরপুর সদর উপজেলার উজলপুর গ্রামের দবির আলীর ছেলে।

​ধলা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) পলাশ পারভেজ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি রামকৃষ্ণপুর ধলার মোড় এলাকা দিয়ে মাদক পাচার হচ্ছে।

এমন তথ্যের ভিত্তিতে এএসআই বিল্লাল হোসেন, এএসআই নওফেল মোল্লা ও কনস্টেবল মকছেদ আলীকে সাথে নিয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে সন্দেহভাজন হওয়ার কারণে তাকে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ২ গ্রাম নিষিদ্ধ মাদক হেরোইন উদ্ধার করা হয়।

এসআই পলাশ পারভেজ আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটককৃত ইনারুল ইসলামকে ধলা পুলিশ ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। তাকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গাংনী থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ধলার মোড় এলাকায় ধলা ক্যাম্পের ইনচার্জ পলাশ পারভেজের নেতৃত্বে নিয়মিত টহল ও নজরদারির কারণে মাদক কারবারিরা নড়ে চড়ে বসছে। এই অভিযানের ফলে স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।




দামুড়হুদার হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং মাদকসহ নানা সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেছে হাউলী ইউনিয়ন বিএনপি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জয়রামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে দুটি ফুটবল, দুই সেট জার্সি ও দুই সেট এংলেট (শিনগার্ড) উপহার প্রদান করা হয়। একই দিনে জয়রামপুর ডি.এস. দাখিল মাদ্রাসায়ও দুটি ফুটবল বিতরণ করা হয়।

এ সময় হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ও সাধারণ সম্পাদক নাফিজ আক্তার সিদ্দিকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক মালেক রুস্তম,৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজকে মাদক, অপরাধ ও বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। সুস্থ বিনোদন ও শরীরচর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেমন শারীরিক ও মানসিকভাবে বিকশিত হবে, তেমনি দেশ ও সমাজের জন্য যোগ্য নাগরিক হিসেবেও গড়ে উঠবে।

সেই লক্ষ্য থেকেই শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় উৎসাহ দিতে এসব ক্রীড়া সামগ্রী উপহার দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাঠমুখী তরুণরাই আগামী দিনের সম্পদ। খেলাধুলার মাধ্যমে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে ওঠে।

শিক্ষার্থীরা যেন মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের পরিবর্তে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে, সে উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

ক্রীড়া সামগ্রী পেয়ে বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান।




দামুড়হুদায় পাবলিক টয়লেট থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডের একটি পাবলিক টয়লেট থেকে ফরিদ উদ্দীন খান (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহত ফরিদ উদ্দীন খান দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদহ ইউনিয়নের চারুলিয়া গ্রামের খানপাড়ার মৃত শিক্ষক নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদ উদ্দীন খানের ৯০ বছর বয়সী মা অসুস্থ হয়ে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি ঢাকায় কর্মস্থল থেকে গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বৃহস্পতিবার সকালে দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে একটি পাবলিক টয়লেটে প্রবেশ করেন।

দীর্ঘ সময় বের না হওয়ায় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ গিয়ে টয়লেটের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মায়ের সঙ্গে দেখা করার আকুলতা নিয়েই তিনি ঢাকা থেকে ছুটে এসেছিলেন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, মায়ের সঙ্গে আর তার দেখা হলো না। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা অপেক্ষা করছিলেন সন্তানের জন্য, আর স্বজনরা গ্রহণ করলেন তার নিথর দেহ।

দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “ফরিদ উদ্দীন বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছান। পরে পাবলিক টয়লেটে প্রবেশের পর অসুস্থ হয়ে মারা যান বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”




মেহেরপুরের বলিয়ারপুরে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু

মেহেরপুর সদর উপজেলার বলিয়ারপুর গ্রামে বজ্রপাতে আসাদ (৪২) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৪টার দিকে সদর উপজেলার বারাদি ইউনিয়নের বলিয়ারপুর দরগাতলা মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আসাদ বলিয়ারপুর গ্রামের আজিমুদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষিকাজের উদ্দেশ্যে আসাদ দরগাতলা মাঠে অবস্থান করছিলেন। এ সময় আকাশে মেঘ জমে বৃষ্টি শুরু হয়। একপর্যায়ে বজ্রপাতের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।




ঝিনাইদহে ৩ দিন ব্যাপী ফল মেলার উদ্বোধন

‘করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস’ এ শ্লোগানে ঝিনাইদহে শুরু হয়েছে ৩ দিন ব্যাপী ফল মেলা।

বৃহস্পতিবার সকালে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-এ নবী, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ মেলায় ৫ টি স্টল প্রদর্শণ করা হয়েছে। প্রায় অর্ধশত প্রকার দেশীয় ফল ও ফল আবাদের উন্নত প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে মেলায়।

আগামী ২০ জুন শেষ হবে এ মেলা। দেশীয় ফলের উৎপাদন ও ভোক্তা সচেতনতা বাড়াতে এ ধরণের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন আয়োজকরা।




ঝিনাইদহে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা

‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা, গড়বে আগামীর শুদ্ধতা’ এই এ শ্লোগানকে সামনে রেখে ঝিনাইদহ দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে ।

বৃহস্পতিবার সকালে ঝিনাইদহের মুক্তিযোদ্ধা মসিউর রহমান ডিগ্রি কলেজে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক)।

‘অভাব নয়, সীমাহীন লোভ ও হীন মানসিকতাই দুর্নীতির প্রধান কারণ’ শীর্ষক এই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ৪ টি বিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা। ফাইনালে মুখোমুখি হয় সদরের বারেক আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও এম কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

পক্ষে থাকা দল যুক্তি দেয় মানুষের সীমাহীন লোভ, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং অসৎ মানসিকতাই দুর্নীতির মূল কারণ। অন্যদিকে বিপক্ষে থাকা দল দাবি করে, দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও সামাজিক বৈষম্যও দুর্নীতি বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রতিযোগিতা শেষে বিচারকদের রায়ে বারেক আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন এবং এম কে মাধ্যমিক বিদ্যালয় রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

প্রতিযোগিতা শেষ বিজয়ী ও রানার্সআপ পক্ষের মাঝে ট্রফি তুলে দেন অতিথিরা। সেসময় সরকারী নুরুন্নাহার মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর রুহুর আমিন, মুক্তিযোদ্ধা মসিউর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন্নাহার লিজি, সরকারী নুরুন্নাহার মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শরিফুজ্জামান, দুপ্রক জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বাবলু কুন্ডু, কেসি কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফজলে রাব্বীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, এমন আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী চেতনা আরও জোরদার হবে এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হবে দায়িত্ববান ও নীতিবান।




মেহেরপুরের শ্যামপুরে সরকারি রাস্তা দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ

মেহেরপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে আদালতের ১৪৫ ধারার আদেশ অমান্য করে স্থানীয়দের ব্যবহৃত সরকারি রাস্তার জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে রুহুল আমিন ও তার ভাতিজা ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় প্রশাসনসহ সব নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরকারি রাস্তা দখল করায় ক্ষোভ বিরাজ করছে গ্রামবাসীর মধ্যে। তিন শতাধিক কৃষকের মাঠের ফসল বহনের একমাত্র রাস্তা দখল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরাও। দফায় দফায় সালিস, স্থানীয় ভূমি অফিসের বাধা, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনার কোনো তোয়াক্কা করছেন না জমি দখলকারী রুহুল আমিন ও তার লোকজন।

স্থানীয়দের ব্যবহৃত শত বছরের এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দখলমুক্ত চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসী।

গতকাল বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন এলাকার অর্ধশত মানুষ।

সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, আদালতের নির্দেশে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ ১৪৫ ধারা জারি করে সংশ্লিষ্ট জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই নির্দেশ অমান্য করে ঘর নির্মাণের কাজ অব্যাহত রাখেন রুহুল আমিন।
শ্যামপুর হঠাৎপাড়া এলাকায় সরকারি রাস্তার ওপর এই সংবাদ সম্মেলন করেন গ্রামবাসী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শ্যামপুর গ্রামের কাবিল হোসেনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ। এ সময় ইকবাল হোসেন, ইয়ারুল ইসলাম, আহমেদ আলী, হোসেন আলী, আইযুব আলী, নুর হক, রমজান আলী ও মোতালেব হোসেনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে তারা অভিযোগ করেন, শ্যামপুর গ্রামের শত বছরের পুরোনো সরকারি রাস্তা দখল করে ঘর নির্মাণ করছেন রুহুল আমিন। ঘর নির্মাণের শুরু থেকে বাধা দিলেও ক্ষমতার দাপটে কোনো বাধাই মানছেন না রুহুল ও তার লোকজন।

শ্যামপুর গ্রামের বজলুর রহমান, সুইট ও রাজুর ইন্ধনে সরকারি রাস্তা দখলের অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

গ্রামবাসীদের দাবি, প্রায় ২০ ফুট প্রস্থ এবং ১৬২ মিটার দীর্ঘ ওই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ পরিবারের চলাচল রয়েছে। পাশাপাশি কৃষকেরা তাদের ফসল পরিবহনের জন্য এই রাস্তা ব্যবহার করেন। রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে জনদুর্ভোগ মারাত্মকভাবে বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী এসএ ও আরএস খতিয়ান এবং দাগে ওই এলাকায় সরকারি রাস্তা চিহ্নিত রয়েছে। সিএস, এসএ ও আরএস ম্যাপেও রাস্তার অস্তিত্ব উল্লেখ থাকলেও তা উপেক্ষা করে দখল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এ ঘটনায় আবুল কালাম আজাদ মেহেরপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ওই স্থানে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

এর আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দায়ের করা অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানা যায়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালত ও প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে পুনরায় ঘর নির্মাণের কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে গ্রামবাসীরা দ্রুত সরকারি রাস্তা উদ্ধার করে সাধারণ মানুষের চলাচল নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা সতর্ক করে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।