মেহেরপুরের দুটি আসনে যাচাই-বাছাইয়ে ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে মেহেরপুর-১ ও মেহেরপুর-২ সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের উপস্থিতিতে এ যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

এ সময় জমাকৃত নথিতে ত্রুটি থাকায় মেহেরপুর-১ আসনের পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। অপরদিকে মেহেরপুর-১ আসনের চারজন এবং মেহেরপুর-২ আসনের তিনজন প্রার্থীকে ত্রুটি সংশোধনের জন্য সময় দেওয়া হয়। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়।

মেহেরপুর-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মাসুদ অরূন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী তাজ উদ্দিন খান, কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ (সিপিবি) মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান এবং জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী আব্দুল হামিদকে ত্রুটি সংশোধনের সময় দেওয়া হয়।

এ ছাড়া মেহেরপুর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমজাদ হোসেন, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নাজমুল হুদা এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল বারীকেও ত্রুটি সংশোধনের শর্তে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় প্রদান করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে বিভিন্ন কারণে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

দলীয় মনোনয়ন না থাকায় কামরুল হাসান, আমিরুল ইসলাম ও রোমানা আহমেদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহবুবুর রহমান মোবুর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন না থাকা এবং ২০ নম্বর ফরম যথাযথভাবে পূরণ না করায় এনসিপি মনোনীত প্রার্থী সোহেল রানার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।




চুয়াডাঙ্গায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও মোকাবিলায় শুভসংঘের আলোচনা

চুয়াডাঙ্গায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ও তা মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে করণীয় বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বসুন্ধরা শুভসংঘ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আয়োজনে শনিবার বেলা ১১টায় শহরের স্থানীয় দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার কার্যালয়ে ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও স্থানীয়দের করণীয়’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি হেমন্ত কুমার সিংহ রায়। সভার প্রধান আলোচক ও রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রিসোর নির্বাহী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম।

রিসোর্স পারসন জাহিদুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় কেবল রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চা, বৃক্ষরোপণ, জলাশয় সংরক্ষণ, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকতে পারলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষতির মাত্রা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও তরুণ সমাজকে জলবায়ু সচেতনতা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আর বৈশ্বিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রত্যক্ষ প্রভাব দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনজীবনে প্রতিনিয়ত অনুভূত হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা জেলার মতো সীমান্তবর্তী ও কৃষিনির্ভর এলাকায় অতিরিক্ত তাপপ্রবাহ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও তীব্র শৈত্যপ্রবাহ মানুষের জীবন ও জীবিকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সুপেয় পানির সংকট, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে।

সভাপতির বক্তব্যে হেমন্ত কুমার সিংহ রায় বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম জোরদার করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি ভবিষ্যতে চুয়াডাঙ্গা জেলায় বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং পরিবেশবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের কথা জানান।
আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তি পর্যায় থেকে দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা জামান আখতার ও জিসান আহমেদ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান সেলিম, কর্ম ও পরিকল্পনা সম্পাদক আল মুতাকাব্বির সাকিব, দপ্তর সম্পাদক শেখ লিটন, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মনোয়ারা খুশি, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শামসুজ্জোহা রানা, ক্রীড়া সম্পাদক সালমান ফার্সি, সদস্য নাফিস আহমেদ, একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার, রিফাহ মুবাশশিরা ও মুমতাহিনা রহমান মৌলি এবং একাদশ স্নাতক শিক্ষার্থী আকতিয়া সাদিয়া।




মুজিবনগরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইছাহক মল্লিকের দাফন সম্পন্ন

মুজিবনগরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইছাহক মল্লিকের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ইছাহক মল্লিক (৭৮) মুজিবনগর উপজেলার আনন্দবাস গ্রামের মরহুম অস্থির মল্লিকের ছেলে। তিনি শুক্রবার দিবাগত রাতে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন।

শনিবার সকাল ১০টায় উপজেলার রতনপুর কবরস্থান প্রাঙ্গণে তার মরদেহ জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত করে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়।

এ সময় মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল হুদা, মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল ইসলামসহ মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা ইছাহক মল্লিকের মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরে মেহেরপুর পুলিশ লাইনের একটি চৌকস পুলিশ দল মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

গার্ড অব অনার প্রদান শেষে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর রতনপুর কবরস্থানে নামাজে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা ইছাহক মল্লিকের জানাজায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল হুদা, মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন, লুৎফর রহমান, আয়ুব হোসেন, নায়েক আলী, সাবদার আলীসহ অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মৃত্যুকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইছাহক মল্লিক চার মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।




২৭তম বিসিএস ক্যাডার হয়েও যোগদান করলেন না শফিকুল ইসলাম

২৭ তম বিসিএস এ কৃষি ক্যাডার হিসেবে নিয়োগ পেলেও যোদান করলেন না মেহেরপুরের কৃতি সন্তান আনছার কমান্ড্যান্ট শফিকুল ইসলাম। তিনি মেহেরপুর সদর উপজেলার চাঁদবিল গ্রামের মৃত নাসির উদ্দিনের ছেলে।

শফিকুল ইসলাম ২৭ তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ২০০৭ সালে কৃষি ক্যাডারে মেধা তালিকায় ১৫৩ তম স্থান লাভ করেন। তৎকালীন সময়ে ২৭ তম বিসিএস থেকে ১০৩৭ জনকে চাকুরী হতে বাদ দেয়া হয়। বর্তমান অন্তবর্তী সরকার গঠনের পর সুপ্রিম কোর্টের রায় মোতাবেক ১৮ বছর পর ২৭ তম বিসিএস এর মাধ্যমে জ্যেষ্ঠতা দিয়ে সকল বঞ্চিতদের নিয়োগ দিতে বলা হয়। সে মোতাবেক গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে শফিকুল ইসলামকে কৃষি ক্যাডারে যোগদান করার জন্য পিএসসি সুপারিশ করে এবং গত ১ জানুয়ারি যোগদান করার জন্য বলা হয়। কিন্তু তিনি আর ক্যাডার পদে যোগদান করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেন।

শফিকুল ইসলাম বর্তমানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক পদমর্যাদায় পটুয়াখালী জেলা কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছরে বাহিনী, সহকর্মী, বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের ভালবাসা ও মায়া ত্যাগ করে তিনি ক্যাডার পদে যোগদান না করার সিদ্ধান্ত।

শফিকুল ইসলাম মেহেরপুর সদর উপজেলার ১৯৯১ সালে আমঝুপি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৯৩ সালে মেহেরপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি , ২০০১ সালে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হতে কৃষিতে অনার্স এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহ থেকে সয়েল সায়েন্স বিষয়ে ১ম শ্রেণীতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।




মেহেরপুরে জাতীয় সমাজসেবা দিবস উদযাপন

“প্রযুক্তি ও মমতায়, কল্যাণ ও সমতায়, আস্থা আজ সমাজসেবায়” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মেহেরপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে জাতীয় সমাজসেবা দিবস ২০২৬।

জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় মল্লিক পুকুর এলাকা থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়। কার্যক্রমটি স্বপ্নছুঁই পার্কের সামনে এসে শেষ হলে সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক আশাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তরিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া জাহান ঝুরকা, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আনিছুর রহমান এবং জুলাই যোদ্ধা খন্দকার মুহিত।
আলোচনা সভায় বক্তারা সমাজসেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার, মমতাময়ী সমাজ গঠন এবং সবার কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতি আস্থা স্থাপন করে সমতাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণই এবারের জাতীয় সমাজসেবা দিবসের মূল লক্ষ্য।
আলোচনা সভা শেষে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার, ব্যবসায়িক ঋণ ও প্রতিবন্ধী কার্ড বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




আমজাদ হোসেনের বার্ষিক আয় ৯ লাখ ২৬ হাজার টাকা স্থাবর ১ কোটি ৬৬ লাখ, অস্থাবর সম্পদ ১০ কোটি

মেহেরপুর—২(গাংনী) আসনের বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক এমপি আমজাদ হোসেনের বার্ষিক আয় ৯ লাখ ২৬ হাজার টাকা, অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৬৬ লাখ ৯৯ হাজার ৯৬৮ টাকা, স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ১০ কোটি টাকার।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মেহেরপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হুলফনামায় তিনি এই তথ্য দিয়েছেন।

আমজাদ হোসেনের হলফনামা বিশ্লেষণ করে আরও জানা গেছে, তিনি বার্ষিক ৯লাখ ২৬ টাকা আয় করেন, তার মধ্যে কৃষি খাত থেকে ১লাখ ২৭ হাজার ৫শ টাকা , বাড়ি ভাড়া থেকে ৬৩ হাজার টাকা এবং ব্যবসা থেকে ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৫শ টাকা আয় করেন।

তাঁর হাতে নগদ টাকা রয়েছে ১ কোটি ৩২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৯৯ টাকা, অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে ১১ তোলা সোনা যার মূল্য দেখিয়েছেন ২ লাখ ৫২ হাজার ৫শ টাকা, পুরাতন ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক পণ্য ও আসবাবপত্র বাবদ দেখিয়েছেন ৮৮ হাজার ৫শ টাকা, একটি দুইনলা বন্দুক যার মূল্য ৫০ হাজার টাকা এবং একটি পিস্তুল যার মূল্য দেখিয়েছেন ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে আনুমানিক অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন ১ কোটি ৬০ লাখ ৪২ হাজার ২৯৯ টাকা।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে পৈতৃকসূত্রে প্রাপ্ত ২৫ বিঘা জমি পেয়েছেন যার মূল্য অজানা উল্লেখ করেছেন, ২৭ শতক কৃষি জমি মূল্য দেখিয়েছেন ২ হাজার টাকা, অকৃষি জমির মধ্যে ঢাকার পূবার্চলে ১০ কাঠা জমির মূল্য দেখিয়েছেন ৩৩ লাখ ১০ হাজার ২০ টাকা, এলাকায় সাড়ে ২৪ শতকের একটি জমি রয়েছে মূল্য দেখিয়েছেন ৯৫ হাজার টাকা, পৈতৃকসূত্রে প্রাপ্ত ৩ বিঘা বাড়ির জমির মূল্য দেখাননি।

গাংনী শহরে ৩ তলা বাড়ি যার মূল্য দেখিয়েছেন ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা, টিনসেড গোডাউনের মূল্য দেখিয়েছেন ২০ হাজার টাকা। ব্যবসা হিসেবে ইটভাটা দেখিয়েছেন যার মূল্য দেখিয়েছেন ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে স্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন ১০ কোটি টাকা।

স্ত্রীর নামে স্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন ১ কোটি টাকা। যার মধ্যে সাড়ে ২৪ শতকের অকৃষি জমি ৯৮ হাজার টাকা, সাড়ে ১২ শতক জমিসহ দুই তলা ভবন ৮ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। যে গুলো অর্জনকালীন সম্পদ হিসেবে দেখিয়েছেন।

আমজাদ হোসেনের নামে মেহেরপুর পূবালী ব্যাংকে ঋণ আছে ১৭ লাখ ২৭ হাজার ৮৫১ টাকা। আয়কর বিবরণিতে তিনি বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ ২৬ হাজার টাকা, মোট সম্পদ দেখিয়েছেন ১ কোটি ৬৬ লাখ ৯৯ হাজার ৯৬৮ টাকা। ২০২৫—২৬ অর্থ বছরে তিনি আয়কর দিয়েছেন ৮০ হাজার টাকা। আয়কর বিবরণিতে এক সন্তানের বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৩ লাখ টাকা, সন্তানের মোট সম্পদ দেখিয়েছে ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা।

আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ৭টি মামলা ছিলো। যার মধ্যে একটি থেকে তিনি অব্যহতি পেয়েছেন এবং ৬টি থেকে খালাস পেয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

প্রসঙ্গত, আমজাদ হোসেনে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিভিন্ন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুর—২ আসনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।




মেহেরপুরে তীব্র শীতে সবজির বাজার স্থিতিশীল 

মেহেরপুর কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম গত সপ্তাহের সাথে স্থিতিশীল রয়েছে। শীতকালীন সবজির দাম ও স্থিতিশীল। সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ কিছু সবজি ও নিত্যপণ্যের দামে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা ওঠানামা দেখা গেছে।

গতকাল শুক্রবার মেহেরপুর কাঁচাবাজার পরিদর্শন করে এসকল ওঠনামা দেখা যায়।

পাইকারি বাজারে নতুন আলু ২৫ টাকায় অপরিবর্তিত, পেয়াজ ৫০ টাকা থেকে কমে ৪৫ টাকায়, রসুন ৫০ টাকায় অপরিবর্তিত, কাচা মরিচ ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকা, আদা ৩০ টাকা কমে ১২০ টাকা। বেগুন ৩৫ টাকা থেকে কমে ৩০ টাকায়, শিম ও মূলা ১০ ও ৩০ টাকায় স্থিতিশীল, পটল ৯০ টাকায় স্থিতিশীল, টমেটো ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকায়, শশা ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৬৫ টাকা, পেঁপে ২০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। শীতকালীন সবজির মধ্যে ফুলকপি ৫ টাকা কেজি, বাধাকপি ১০ টাকা কেজি ও পালংশাক ১০ টাকা বেড়ে ৩০ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারে নতুন আলু ৩০ টাকায় অপরিবর্তিত, পেয়াজ ৬০ টাকা থেকে কমে ৫৫ টাকায়, রসুন ৬০ টাকায় অপরিবর্তিত, কাচা মরিচ ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা, আদা দাম কমে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ৪০ টাকায় স্থিতিশীল , শিম ও মূলা ২০ ও ৪০ টাকায় স্থিতিশীল, পটল ১১০ টাকায় স্থিতিশীল, টমেটো ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকায়, শশা ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা, পেঁপে ২৫ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। শীতকালীন সবজির মধ্যে ফুলকপি ১০ টাকা কেজি, বাধাকপি ২০ টাকা কেজি ও পালংশাক ১০ টাকা বেড়ে ৪০ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে রুই ২০০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৫০ টাকা, পাঙাস ১৬০ টাকা, সিলভার ১৮০ টাকা, জিওল ২৫০-৩৫০ টাকা, ইলিশ ৩০০-৩০০০ টাকা, দেশি চিংড়ী ১০০০ টাকা, গলদা ৭০০ টাকা।

মুরগীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৭০, সোনালি মুরগি ২৬০, লেয়ার মুরগি ২৬০৷  ছাগলের মাংস ১১০০ টাকায় এবং গরুর মাংস ৭৫০ টাকায় অপরিবর্তিত।

সবজি বিক্রেতারা জানান, “বাজারে সরবরাহ ভালো আছে। পাইকারিতে দাম কম থাকায় খুচরা বাজারেও দাম কম। দাম কম হলে ক্রেতা বেশি আসছে, এতে বিক্রি অনেক ভালো হচ্ছে।”

অন্যদিকে ক্রেতারা বলেন, “আগের তুলনায় এখন সবজির দাম অনেক কম। পরিবারের জন্য বাজার করে অনেক স্বস্তি পাচ্ছি। প্রতিদিনের কেনাকাটায় কম খরচ হচ্ছে, এটাই বড় সুবিধা।”

মেহেরপুর তহ-বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফি বলেন,“বর্তমানে সবজির উৎপাদন ভালো হওয়ায় বাজারে সরবরাহ পর্যাপ্ত। পাইকারিতে স্থিতিশীল দাম খুচরা বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আমরা বাজার নিয়মিত ঘুরে দেখছি , যাতে কেউ ইচ্ছামতো দাম বাড়াতে না পারে। ক্রেতারা স্বস্তিতে বাজার করতে পারছেন এটাই আমাদের সবার জন্য ভালো ।”




আলমডাঙ্গায় বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনায় মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা

বাংলাদেশের সাবেক প্রধান মন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনা করে আলমডাঙ্গা উপজেলা পুজাউদযাপন ফ্রন্টের উদ্যোগে  সত্যনারায়ন মন্দিরে আলোচনা সভা ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ পুজা উদযাপন ফ্রন্টে আলমডাঙ্গা শাখার আহবায়ক মরিমল কুমার কালু ঘোষের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মনীন্দ্রনাথ দত্ত। তিনি বলেন, দেশ নেন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা সনাতন ধর্মাবলম্বীর গভীর ভাবে শোকাভিভূত। তার আত্মার শান্তি কামনা করছি।

প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ডাঃ অমল কুমার বিশ্বাস। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পৌর পুজা উদযাপন ফ্রন্টের আহবায়ক জয় কুমার বিশ্বাস, পৌর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি লিপন কুমার বিশ্বাস, সম্পাদক পলাশ আচার্য, বিজয় কুমার সিহি, হারান অধিকারি, উৎপল দত্ত, শম্ভু দত্ত, দিপ্তি দত্ত, অশ্বিনী পরামানিক, গোপেন ভট্টাচার্য, রতন সাহা, আনন্দ পাল, সন্দিপ কর্মকার, শুশিল কর্মকার, রাবিন্দ্র দাস, অনুপ ঘোষ, নিরঞ্জন পরামানিক, জন বিশ্বাস, কল্লোল অধিকারি, মিহির বিশ্বাস, সহ সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্ত বৃন্দ। প্রার্থনা পরিচালনা  করেন, সত্য নারায়ণ মন্দিরের পুরোহিত সনু শর্মা।




দর্শনায় বীর মুক্তিযোদ্ধার ইন্তেকাল, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

দর্শনা আনোয়ারপুর নিবাসি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম চিশতি (৭৬) চিকিৎসাধীন অবস্হায় কেরুজ হাসপাতালে গতকাল দুপুরে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে ৩ ছেলে ২ মেয়ে সহ তিনি অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ঐদিন বিকালে কেরুজ ক্লাব মাঠে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব ওবাইদুর রহমান সাহেল ও একদল জেলা পুলিশের গার্ড অব অনার প্রদানের পর পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় নিজ গ্রাম চন্ডিপুর খামার পাড়ায় বাবার পাশে রাত ৯ টার দিকে সমাহিত করা হয়।

এসময় দর্শনা থানা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খাজা আবুল হাসানাত, বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম, ফজলুর রহমান, বদরুল আলম ফিট্টু, এরশাদ মাস্টার, আঃ খালেক, কুষ্টিয়া লালন একাডেমীর আলম হোসেন, আবু জাফর সাইদ, জুলফিকার, আলমডাঙার হাফিজ মাস্টার, চুয়াডাঙ্গা ওহিদ স্টোরের মালিক ওহিদুল ইসলাম চিশতি, বাংলাদেশ টেলিভিশনের লোকসংগীত শিল্পী ও বাউল পরিষদের সভাপতি মনিরুজ্জামান ধীরু বাউল সহ কয়েক”শ” মানুষ জানাজায় অংশ গ্রহণ করেন।

উল্লেখ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম চিশতি চুয়াডাঙ্গা জেলার একমাত্র লোকজ সাংস্কৃতিতে শিল্পকলা পদকপ্রাপ্ত সংগঠন দর্শনা বাউল পরিষদের উপদেস্টা মন্ডলির সদস্য ছিলেন।




আলমডাঙ্গায় নাশকতা মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার

আলমডাঙ্গায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে নাশকতা মামলার আসামি আওয়ামী লীগের নেতা গ্রেফতার হয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে নাশকতা মামলায় বাড়াদি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শাকিল (৫২) কে গ্রেফতার করেছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে তার নিজ গ্রাম বাড়াদি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেফতারকৃত আসামি শাকিল আলমডাঙ্গা উপজেলার বাড়াদি গ্রামের সৌরভের ছেলে।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বানী ইসরাইল বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনের লক্ষ্যে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবেই এই গ্রেপ্তার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে গতকাল তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।