দামুড়হুদায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ জনের কারাদণ্ড

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় উপজেলার হাউলি ইউনিয়নের জয়রামপুর মালিতাপাড়া এলাকায় এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকাবাসী প্রথমে মাদকদ্রব্যসহ ৪ জনকে আটক করে। পরে বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাদক সেবন ও সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮” অনুযায়ী তাদের বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড প্রদান করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে জয়রামপুর গ্রামের মৃত শামসুদ্দিনের ছেলে রবিউল ইসলামকে ২ বছরের কারাদণ্ড, দামুড়হুদা দশমী পাড়ার আমিন উদ্দীনের ছেলে কালাম হোসেনকে ১ বছর, দোস্ত গ্রামের রজব আলীর ছেলে রানা মিয়াকে ৬ মাস এবং কুমারীদহ গ্রামের মোমিন উদ্দিনের ছেলে মাহফুজ উদ্দিনকে ৩ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম। এ সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকসংক্রান্ত কোনো অপরাধ সহ্য করা হবে না।




কুষ্টিয়ায় শিক্ষার্থীর আকস্মিক মৃত্যু: স্বাভাবিক কারণ বলছেন চিকিৎসক, অপপ্রচার না ছড়ানোর আহ্বান

কুষ্টিয়ার এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. জুবায়ের আহমেদের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

তিনি দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা এলাকার মো. মহাসিন আলীর ছেলে এবং প্রতিষ্ঠানটির আবাসিক হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করতেন।

গত বুধবার দিবাগত রাতে আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ অসুস্থতা অনুভব করলে তার রুমমেটরা দ্রুত তাকে জাগিয়ে তোলে এবং বিষয়টি হল সুপারকে অবহিত করে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এটি একটি স্বাভাবিক মৃত্যু।

জানা গেছে, শিক্ষার্থী জুবায়ের দীর্ঘদিন ধরে অ্যাজমা (শ্বাসকষ্টজনিত) সমস্যায় ভুগছিলেন এবং নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করতেন। পারিবারিকভাবেও এ রোগের ইতিহাস রয়েছে বলে জানা যায়।

এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক রাসেল। তিনি বলেন, “এটি একটি দুঃখজনক কিন্তু স্বাভাবিক ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে অযথা অপপ্রচার না চালানোর জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।”

শিক্ষার্থীর বাবা মো. মহাসিন আলী জানান, “গত মঙ্গলবারও ছেলের সাথে আমার কথা হয়েছে, সে ভালোই ছিল। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার জন্য নিয়মিত ওষুধ খেত। তার মৃত্যুর বিষয়ে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই এবং এ ঘটনার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”

প্রতিষ্ঠান সূত্রে আরও জানা যায়, আবাসিক শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে রাখা হয় এবং অসুস্থতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

একজন অভিভাবক জানান, “আমার সন্তান এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং গত চার বছর ধরে এডুকেয়ারের হোস্টেলে রয়েছে। আমরা নিশ্চিন্তে থাকি। আগে অসুস্থ হলে কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে এবং আমরা এসে দেখেছি। আমি চুয়াডাঙ্গায় থাকি, কিন্তু ভালো শিক্ষার জন্যই এখানে রেখেছি। এখানকার পড়াশোনার মান ভালো এবং আবাসিকে যথাযথ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিয়মের মধ্যে রাখা হয়, যা তাদের পড়াশোনার জন্য সহায়ক। সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি আন্তরিকভাবে কাজ করছে।”

এ ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা সকলকে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার জন্য আহ্বান।




ঝিনাইদহে অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতার সমাপনী ও মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন

ক্রীড়া পরিদপ্তরের বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচি ২০২৫-২০২৬ এর আওতায় ঝিনাইদহ জেলা ক্রীড়া অফিসের আয়োজনে দিনব্যাপী (অনূর্ধ্ব-১৬) অ্যাথলেটিকস ও গ্রামীণ খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়াম মাঠে খেলার উদ্বোধন করা হয়। খেলা শেষে বিভিন্ন ইভেন্টের ১ম, ২য় ও ৩য় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

উক্ত প্রতিযোগিতায় ৮ টি স্কুল অংশগ্রহণ করে। একই দিনে মাসব্যাপী অ্যাথলেটিকস প্রশিক্ষণের (অনূর্ধ্ব-১৪) উদ্বোধন করা হয়।

উক্ত অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও মাসব্যাপী অ্যাথলেটিকস প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জেলা ক্রীড়া অফিসার আমানুল্লাহ আহমেদ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা তথ্য অফিসার মো: আব্দুর রউফ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত, জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুজ্জামান ঝন্টু, মো: আবু বকর সিদ্দিক অধ্যক্ষ, ভুটিয়ারগাতি আলিম মাদ্রাসা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ, দর্শনার্থীবৃন্দ।

মাসব্যাপী (২১ টি সেশনে) অ্যাথলেটিকস প্রশিক্ষণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৩৫ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করে।




ঝিনাইদহে চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

ঝিনাইদহে চিকিৎসকের অবহেলায় আসমা হক নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও পর্যাপ্ত নজরদারি পেলে ওই প্রসূতির প্রাণ বাঁচানো সম্ভব ছিল।

গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে জেলা শহরের শামীমা ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল প্রসবব্যথা নিয়ে শামীমা ক্লিনিকে ভর্তি হন আসমা। পরে সেখানে তার সিজার করা হয়। সিজারের পর নবজাতক সুস্থ থাকলেও আসমার শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। এর মধ্যেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র দিয়ে দেয়।

স্বজনরা বুধবার দুপুরে তাকে বাড়িতে নিয়ে গেলে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে আবারও রাতে শামীমা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আসমার চাচা আমির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ভর্তি করার পর দীর্ঘ সময় চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। যে ডাক্তারের সিজার করার কথা ছিল, তিনি সিজার করেননি। আমার ভাতিজিকে অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এরপর সে আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আবার হাসপাতালে নিয়ে আসি। সে সময় দায়িত্বরত নার্স ও চিকিৎসকরা কোনো ব্যবস্থা নেননি। এতে রোগীর অবস্থার অবনতি হলেও দ্রুত কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যবস্থা করা হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে ওই ক্লিনিকের মালিক ডা. শামীমা বলেন, “হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো দায় নেই।”

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান বলেন, “প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনা আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে পরে বলতে পারবো।”

অভিযোগ উঠেছে, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদাসীনতায় একের পর এক প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক-হাসপাতালের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজরদারির দাবি জানিয়েছেন জেলার সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।




শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে

দর্শনা কেরু উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে এ অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

কেরু উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে এ অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কেরু অ্যান্ড কোম্পানির সুযোগ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রাব্বিক হাসান।

এ সময় তিনি বলেন, এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর মা যদি তাদের সন্তানের প্রতি সচেতন হন, তবে ওই সন্তানের অবশ্যই ভালো রেজাল্ট হবে। সেই সঙ্গে মাঝে মাঝে বিদ্যালয়ে এসে সন্তানের খোঁজ-খবর নিলে তারা লেখাপড়ায় ফাঁকি দিতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। যে শিক্ষার্থী যে বিষয়ে দুর্বল, তাকে অতিরিক্ত পাঠদানের মাধ্যমে অনুশীলন করাতে হবে। এতে বিদ্যালয়ের সুনাম ও মান বৃদ্ধি পাবে। এজন্য শিক্ষক-অভিভাবকদের সমন্বয়ে ৩ মাস অন্তর অন্তর এ ধরনের অভিভাবক সমাবেশ করা প্রয়োজন। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহাব্যবস্থাপক (কারখানা) সুমন কুমার সাহা, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) আব্দুছ ছাত্তার, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) এডিএম মির্জা গালিব।

অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মমিনুল ইসলাম ও ইঞ্জিনিয়ার তুহিন নাইম ইসলামসহ প্রায় ৪ শতাধিক অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন।
অভিভাবক সমাবেশের অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন রাসেল আহম্মেদ ও ফারহা জেসমিন আফরোজ।




দামুড়হুদায় মাথাভাঙ্গা নদীতে মোবাইল কোর্ট: অবৈধ জাল ও কোমড় অপসারণ

মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে দামুড়হুদা উপজেলার হাউলি ইউনিয়নের মাথাভাঙ্গা নদীর সুবলপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে নদীতে স্থাপিত ৫টি অবৈধ কোমড় অপসারণ করা হয় এবং প্রায় ২০০ মিটার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে কোমড় স্থাপন এবং নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করে আসছিল। এসব অবৈধ পদ্ধতির কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল এবং নদীর জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছিল। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অভিযান চলাকালে নদীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত অবৈধ কোমড় চিহ্নিত করে অপসারণ করা হয়। একইসঙ্গে নদীতে বিছানো বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে ঘটনাস্থলেই আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ সময় স্থানীয় জেলেদের মাঝে সচেতনতামূলক বার্তা প্রদান করা হয়, যাতে তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকেন।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম। অভিযানে উপজেলা মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

অভিযান শেষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অবৈধ জাল ও স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রশাসনের এ উদ্যোগে স্থানীয় সচেতন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং নদী রক্ষায় নিয়মিত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।




জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক সম্মাননা পেলেন রফিকুল আলম বকুল

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে মেহেরপুর সদর উপজেলায় কলেজ পর্যায়ে (কারিগরি) শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা আহাম্মদ আলী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এপেক্সিয়ান রফিকুল আলম বকুল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে শিক্ষা সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পার্থ প্রতীম শীল এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলামের হাত থেকে তিনি সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ গ্রহণ করেন। এ সময় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রফিকুল আলম বকুল একজন দক্ষ স্কাউটার। তিনি বাংলাদেশ স্কাউটসের রোভার শাখার একজন উডব্যাজার। এছাড়া তিনি মেহেরপুর জেলা রোভার স্কাউটসের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি মুক্তিযোদ্ধা আহাম্মদ আলী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ রোভার স্কাউটস গ্রুপের ইউনিট লিডার।

তিনি প্রতিষ্ঠানের একজন জনপ্রিয় শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় এই শিক্ষক ২০১৯ সালে উপজেলা পর্যায়ে, ২০২২ সালে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে এবং ২০২৪ সালেও উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত হন। তিনি কলেজের বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ও সঞ্চালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে থাকেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের একজন পরীক্ষক ও নিরীক্ষক।

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি শিক্ষা ও রোভারিং বিষয়ক লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত। তিনি যৌথভাবে এইচএসসি (বিএম) হিসাববিজ্ঞান নীতি ও প্রয়োগ-২ (দ্বিতীয় পত্র) বই রচনা ও সম্পাদনা করেছেন।

আইসিটি ক্ষেত্রেও তিনি অত্যন্ত দক্ষ। জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি (বগুড়া) থেকে আইসিটিতে একাধিক কোর্স সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া ব্যানবেইসের অধীনে আইসিটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এবং এটুআই আইসিটি ডিভিশনের মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন প্রশিক্ষণও সম্পন্ন করেছেন। তিনি জাতীয় শিক্ষক বাতায়নের একজন সক্রিয় সদস্য।

এছাড়াও তিনি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তিনি ‘কিশোরের ডাক’, কসবা ব্লাড ব্যাংক সোসাইটি ও গাংনী পাবলিক লাইব্রেরির উপদেষ্টা। আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এপেক্স ক্লাব জেলা-০৬-এর গভর্নর ও ন্যাশনাল বোর্ড মেম্বার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বসুন্ধরা শুভ সংঘের মেহেরপুর জেলা সভাপতি হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।

এদিকে একই প্রতিষ্ঠান থেকে কারিগরি পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ শাহী উদ্দীন এবং কলেজ পর্যায়ে (কারিগরি) শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছেন একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার স্নিগ্ধা।




লিটন মাহমুদ গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক

‎গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে লিটন মাহমুদকে। ‎গত বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাবের জরুরি সভায় ক্লাবের সকল সদস্যদের সম্মতিতে তাকে এই পদে মনোনীত করা হয়।

‎জরুরি সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি জুলফিকার আলী কানন

‎এসময় বক্তব্য রাখেন, সহ-সভাপতি সাহাজুল ইসলাম সাজু, সাবেক সভাপতি এম এ লিংকন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান পাভেল, প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি মাসুম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম কবি, অর্থ সম্পাদক ইজাজ হোসেন ছোটন, ক্লাবের সদস্য আখতারুজ্জামান আক্তার, মাহাবুল ইসলাম, সাঈদ হাসান, ফিরোজ হোসেন পলাশ, হাসানুজ্জামান প্রমুখ।

এর আগে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিয়াদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রেসক্লাবের শৃঙ্খলা ভংঙ্গের অভিযোগ ওঠায় সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যহতি দেয়া হয়।

‎সাধারণ সম্পাদক মিয়াদুল ইসলামের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে।

এঘটনায় বিভিন্ন পত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হয়েছে। মিয়াদুল ইসলাম নিজেকে ভূঁয়া সাংবাদিক ও চাঁদাবাজ মুচলেকা দেন।

এসব বিষয় অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি সত্য মিথ্যা তদন্তের জন্য গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর পরবর্তীতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।




গাংনীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিশুর মৃত্যু

মেহেরপুরের গাংনীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেলাল হোসেন (৬) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল বুধবার রাতে গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের করমদী সাজিপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত বেলাল হোসেন ওই গ্রামের প্রবাসী মো. রকিবুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, বেলাল নিজ বাড়িতে একটি লোহার পেরেক নিয়ে টেবিলের ওপর খেলছিল। এ সময় তার মা মোবাইল ফোনে তার বাবার সঙ্গে কথা বলছিলেন। অসাবধানতাবশত শিশুটি হাতে থাকা পেরেকটি টেবিলের ওপর থাকা বৈদ্যুতিক সকেটে প্রবেশ করালে সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়।

পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় সন্ধানী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হক জানান, বেলাল টেবিলের ওপর বসে খেলছিল। এ সময় হাতে থাকা পেরেক সকেটে লাগলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরও বলেন, ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন এবং বিপজ্জনক বস্তু শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা উচিত।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, পেরেক সকেটে ঢোকানোর ফলে শিশুটি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) উত্তম কুমার দাস জানান, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।




আলমডাঙ্গায় বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রি, ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

আলমডাঙ্গায় বোতলজাত ভোজ্যতেল (সয়াবিন) নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি ও বাজারজাত করার অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার মুন্সিগঞ্জ বাজারে তদারকিমূলক অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় বোতলজাত সয়াবিন তেল নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি ও বাজারজাত করার অপরাধে মুক্তার হোসেন খানের প্রতিষ্ঠান ‘খান স্টোর’-কে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তিনি আরও জানান, তদারকির সময় ব্যবসায়ীদের আইন মেনে মানসম্মত পণ্য ক্রয়-বিক্রয়, ভাউচার সংরক্ষণ, মেয়াদোত্তীর্ণ ও মানহীন পণ্য বিক্রি থেকে বিরত থাকা এবং নির্ধারিত ও যৌক্তিক মূল্যে পণ্য বিক্রির জন্য সচেতন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন ক্যাব প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম এবং জেলা পুলিশের একটি টিম।

অধিদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে।