মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনলেন শুভসংঘের বন্ধুরা

মেহেরপুরে ৫৫ তম মহান স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণমূলক গল্প শুনলেন শুভসংঘের সদস্যরা। আজ বৃহস্পতিবার বিকালে স্থানীয় দৈনিক মেহেরপুর প্রতিদিন পত্রিকার কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শুভ সংঘের মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি রফিকুল আলম বকুলের সভাপতিত্বে মুক্তিযুদ্ধের স্মুতিচারণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা (অব.) ক্যাপ্টেন আব্দুল মালেক।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধে কারণে ৩ বার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি। শুধুমাত্র একটি স্বাধীন দেশের জন্য আমরা মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাঁজি রেখে যুদ্ধ করেছি। কোন কিছু পাওয়ার আশায় নয়।’

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানীদের অস্ত্র ও ক্ষমতার কাছে আমাদের কিছুই ছিলনা। আমাদের ছিল অদম্য মনোবল আর কৌশল। তোমরা যারা তরুণ আছো দেশকে ভালোবাসো।’

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘মেহেরপুর জেলায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কমবেশি ৩৫০ জন। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতা এসে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছে। সেগুলো মিলে বর্তমানে ৬৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেছে। বর্তমান সরকারের কাছে দাবী জানাই , উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের রেখে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হোক।’

আলোচনা সভায় কালের কণ্ঠর মেহেরপুর প্রতিনিধি ইয়াদুল মোমিন, শুভসংঘের যুগ্ম সম্পাদক সাজিদ হোসেন, রাকিবুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম তুহিন, কোষাধাক্ষ ইয়াসির ইউসুব ইমন, সদস্য রাফি হাসান, কামরুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম পাতা, লাওহে মাহফুজা ইশরা।




হরিণাকুণ্ডুতে বিএনপির বিক্ষোভ, জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কাপাশহাটিয়া ইউনিয়ন কৃষকদলের নেতা নিহতের ঘটনায় হরিণাকুণ্ডু উপজেলা বিএনপি উদ্যোগে হরিণাকুণ্ডুতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাইজাল হোসেন কাসেম হত্যা সাথে জড়িত জামায়াতের নেতা-কর্মীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

এদিকে কাশেমের মৃত্যুর খবর শুনার সাথে সাথে বুধবার রাতেই জামায়াতের নেতা কর্মীদের দুইটি দোকানসহ অন্তত ০৮/ ১০টি বাড়ি ঘরে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায় বিএনপির কর্মী সমর্থকরা।

এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনেন আয়োজ করে। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা জামায়াতের আমীর বাবুল হোসেন বলেন গত কাল বুধবার ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসের মন্তব্য কে কেন্দ্র করে জামায়াত এবং বিএনপির কর্মীদের মধ্যে বাক বিতন্ডার তৈরি হয় এক পর্যায়ে বিএনপি কর্মীরা জামায়াতের কর্মীদের গায়ে হাত দিলে তারা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার মধ্যে আবুল কাশেম দুর থেকে দড়িয়ে এসে এই ঘটনা ঠেকানোর চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং হাসপতালে আনার পথে ষ্ট্রোক জনিত কারণে মৃত্যু বরণ করে। তার গায়ে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। এই মৃত্যুতে জামায়াত শোক প্রকাশ করেছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতে বিএনপির নেতাকর্মীরা জামায়াতের ৮ নেতা কর্মীর বাড়ি ঘরে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটায়।

এতে কুল্ল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামের আব্দুল আজিজ তার বড় ভাই মেশাররফ হোসেন, নায়েব আলী, আবুল কালাম আজাদ, মাসুদুর রহমান, মিটুল হোসেন, গোলাম মোস্তফা, মতিয়ার রহমান লিটন ও মাজিজ মন্ডলসহ অনেকের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এরমধ্যে জামায়াত নেতা মোস্তফা, মিটুল, আজিজ ও মতিয়ার রহমানের বাড়ি, দোকান ও খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে রাতেই ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে।

মতিয়ার রহমান লিটন নামে এক জামায়াত সমর্থক দাবি করেন, বুধবার সংঘর্ষ নিহত হবার পর রাত ১১ টার দিকে তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। অথচ তিনি সংঘর্ষের সময় বাড়িতে ছিলেন না, কিছুই জানেন না।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহতের ছেলে মেহেদি হাসান ১২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ১৩ জনকে আসামী করে হরিণাকুণ্ডু থানায় হত্যা মামলা দিয়েছে। তবে পুলিশ এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাসের কমেন্ট করাকে কেন্দ্র করে নিহত কৃষকদল নেতা ও তার চাচা নাজের আলী, বিএনপি সমর্থক মন্টু, এনামুল ও সেলিমসহ কয়েকজনের সাথে জামায়াত নেতা রিমন হোসেন ও আব্দুল আজিজের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়।

এ নিয়ে বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে ফের তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয় এবং এক পর্যায়ে একটি চায়ের দোকানে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

কুল্ল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামের এক প্রত্যক্ষদর্শী এনামুল হক জানান, উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের একপর্যায়ে আবুল কাসেম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।

বাহারন নামে ওই গ্রামের এক নারী জানান, কাসেমকে কেউ মারেনি লোকজনের মারামারি দেখে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে পরে হার্ট এ্যটাকে তার মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় তাদের বাড়িতে হামলা করে তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে বিএনপির লোকজন।

উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সাইদুর রহমান বিটু জানান, বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে আবুল কাশেমকে জামায়াত সমর্থিত লোকজন ঐক্যবদ্ধ হয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেণ। কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শরাফুদ্দৌলা ঝন্টু জানান, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তবে পরিবারটি বিএনপি জামায়াতে বিভক্ত। রাতে এ ঘটনার জেরে অনেকের বাড়িঘরে হামলা করা হয়েছে। ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. এম এ মজিদ বলেন, জামায়াত ফ্যাসিস্ট আ’লীগকে সঙ্গে নিয়ে একের পর এক বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যা করছে। এটা ভালো লক্ষন নয়। এভাবে চলতে থাকলে বিএনপি ঘরে বসে থাকবে না। তিনি এ হত্যার বিচার দাবী করেন।

এ ব্যাপারে হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া হাসান বৃহস্পতিবার দুপুরে জানান,নিহতের ছেলে বাদি হয়ে ১৪জনের নামে মামলা করেছে। রাতেই কুল্ল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামে পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো। সঙ্গে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও টহলে ছিল। একটা রান্নাঘরে সামান্য একটু আগুন দিয়েছে বড় কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার বিকাল ৩.৩০ ঘটিকায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে।




দর্শনায় পৃথক ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত

দর্শনায় পৃথক পৃথক ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। এ দিবসটির শ্রদ্ধার সাথে স্বরন করতে দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট ও ব্রাইটের নেতৃত্বে, রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদদের স্বরনে দর্শনা কেরু সৃতি সৌধে পুষ্পমাল্য অর্পন করেছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পৌর বিএনপির সমন্বয়ক লুৎফর রহমান, সোয়েব।

অন্যদিকে, দর্শনা পৌর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পন করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টার দিকে দর্শনা পৌর বিএনপির অন্যতম সমন্বয়ক আলহাজ্ব মশিউর রহমানের নেতৃত্বে দর্শনা পুরাতন বাজার বিএনপির দলীয় কার্যলয় থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালিটি দর্শনা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দর্শনা কেরু এ্যান্ড কোম্পানীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পন করে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাবু, দর্শনা পৌর বিএনপির অন্যতম সমন্বয়ক ও ঐতিহ্যবাহী মেমনগর বিডি হাইস্কুল পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ মশিউর রহমান,মাহবুবুল ইসলাম খোকন, মহিদুল ইসলাম, দর্শনা থানা ছাত্রদলের সভাপতি আরাফাত হোসেন, দর্শনা থানা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোরশেদুর রহমান লিঙ্কন, দর্শনা পৌর ছাত্রদল নেতা আব্দুর রহিম মুন্না, আঃ রাজ্জাক শাহীন প্রমুখ।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন দর্শনা রেলবাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি বিএনপি নেতা তোফাজ্জল হোসেন, হাজী মোখলেছুর রহমান, দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক রেজাউল ইসলাম, নাসির উদ্দিন খেদু, বিএনপি নেতা আজিজুল ইসলাম, আব্দুল কাদের, তোফাজ্জল ইসলাম তুফোন, আজিজুল হক প্রমুখ।অপরদিকে দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক এনামুল হক শাহ মুকুলের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য র‍্যালি শেষে মুক্তিযোদ্ধা শহীদ বেদীতে পুষ্প মাল্য অর্পণ করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন,দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয় কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন,মালেক মোল্লা,দর্শনা পৌর যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক অপু সুলতান,সাবেক কমিশনার সাইফুল ইসলাম মুকুল,জলিল, সামসুল, আলমগীর,রবিউল ইসলাম রবি, দর্শনা পৌর কলেজ কলেজ ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, অপরদিতে দর্শনা কেরু উচ্চ বিদ্যালয়ে যথাযথ মর্যদার সাথে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে।

অন্যদিকে, দর্শনা কেরু এ্যান্ড কোম্পানীর ব্যাবস্থাপনা পরিচালকের নেতৃত্বে সকাল ৭ টায় জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযোদ্ধা শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন।দর্শনা পৌরসভা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ,অংকুর আদর্শ বিদ্যালয়,এ ছাড়া,মৌচাক সমাজ কল্যান স্ংস্থা, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়।এর আগে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।




পদ্মায় বাসডুবি; কুষ্টিয়ার ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার, ৩ জনের দাফন সম্পন্ন

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস সৌহার্দ্য পরিবহন ডুবে যাওয়ার ঘটনায় কুষ্টিয়ার নিহত ৪ জনের মধ্যে ৩ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

কুষ্টিয়ার নিহতরা হলেন- কুষ্টিয়া পৌরসভার মজমপুর গ্রামের মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার খাগড়বাড়িয়ার হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), একই উপজেলার ধুশুন্ডু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইস্রাফিল (৩), একই উপজেলার সমসপুর গ্রামের গিয়াসউদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৩)।

ইতোমধ্যে সদরের জুগিয়ায় নিজ গ্রামে মর্জিনার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন করা হয়। সেখানে নিহতের স্বামী আবু বক্কর ও ভাই, স্বজন ও প্রতিবেশীরা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা জানাজায় অংশনেন।

ঢাকায় বসবাসরত চিকিৎসক মেয়ের বাসায় যাওয়ার জন্য রাজবাড়ীর পাংশা থেকে সোহার্দ পরিবহনের বাসে উঠেন স্থানীয় পল্লী বিদ্যুতের বিলিং সুপার ভাইজার মর্জিনা খাতুন। এর ঘন্টাখানেক পরেই মুত্যুর খবর পান পরিবারের লোকজন। বাস দুর্ঘটনাকে দায়িত্বে অবহেলা ও অব্যবস্থাপনা হিসেবে দেখছেন স্বজন ও এলাকার মানুষ। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচার চান।

মর্জিনা খাতুন হাসি যাঁকে হাসি আপা নামে চিনতেন পুরো এলাকার মানুষ। হাসিখুশি মানুষটি সবার সাথে মিশতেন, খোঁজ খবর রাখতেন। সেই মানুষটির চির বিদায়ে এলাকায় শোকের ছায়া। স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল। হাসিকে হারিয়ে কান্না করছে পুরো এলাকার মানুষ।

এদিকে খোকসায় নিহত আয়েশা সিদ্দিকা ও ইস্রাফিলের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রাজিবের শেষকৃত্যের প্রক্রিয়া চলছে। খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বুধবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ডুবে যাওয়া সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি কুষ্টিয়া হয়ে ঢাকা যাচ্ছিল। কুমারখালী ও খোকসা ধেকে কয়েকজন যাত্রী নেয় বাসটি।




মুজিবনগরে নানা আয়োজনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে মেহেরপুরের মুজিবনগরে ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিনটির শুভ সূচনা করা হয়।সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক ও অর্পণ করে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল হুদা, মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহেদুর রহমান, মুজিবনগরের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আহসান আলী খান সহ মুক্তিযোদ্ধা বৃন্দ,,আনসার ব্যাটালিয়ন, টুরিস্ট পুলিশ, সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সরকারি, স্বেচ্ছাসেবী এবং স্কুল কলেজের প্রতিনিধিবৃন্দ।

পরে সকাল ৮ টায় মুজিবনগর উপজেলা চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংগীতের সুরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল হুদা ও মুজিবনগর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহেদুর রহমান। পরে মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ ও বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মুজিবনগর থানা অফিসার ইনচার্জ শান্তির প্রতীক কবুতর উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

এ সময় বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিএনসিসি এবং বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শন করেন। কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রোদর্শনের পরে বিভিন্ন ক্রীড়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা শেষে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ পরবর্তী সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল শেষে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।




মুজিবনগরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে উপজেলা বিএনপির শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন

মুজিবনগরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে বাংলাদেশ বিনির্মাণ সকল শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছেন মুজিবনগর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ।

দিবসটি পালন উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টার সময় মুজিবনগর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আমিরুল ইসলামের নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপি’ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ র‍্যালী সহকারে মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সে অবস্থিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তব অর্পণ করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় বাংলাদেশ বিনির্মাণে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মশিউর রহমানসহ যুবদল, ছাত্রদল,সেচ্ছাসেবকদল সহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ।




হরিণাকুণ্ডুতে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে কৃষকদল নেতার মৃত্যু

এক বাচ্চা হওয়ার খবরে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া নিয়ে স্থানীয় জামায়াত-বিএনপি কর্মীদের মধ্যে বাকবিতন্ডার জেরে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কুল্ল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামের দু’পক্ষের মাঝে কথপোকথন শেষে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এসময় আবুল কাশেম নামে এক কৃষকদল নেতার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৭টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। নিহত আবুল কাশেম হরিনাকুণ্ডু উপজেলার কাপাশহাটিয়া ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক ও কুল্ল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামের আব্দুল লতিফ মন্ডলের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, ঈদুল ফেতরের কয়েকদিন আগে স্থানীয় জামায়াত নেতা মুতালেবের ভায়ের মেয়ে হওয়ায় ফেসবুক আলহামদুলিল্লাহ বলে পোষ্ট দেয় সেই পোস্টের কমেন্ট করে একজন বিএনপি নেতা। তার এই কমেন্ট করা নিয়ে ওই গ্রামের আব্দুল আজিজ ও কৃষকদল নেতা আবুল কাশেমের বাকবিতন্ডা হয়। তারা একে অপরের চাচাতো ভাই। বাকবিতন্ডার জেরে বুধবার রাতে আবুল কাশেম ও আব্দুল আজিজ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে উভয়ের পরিবারের লোকজন মারামারিতে লিপ্ত হয়। এসময় হাতাহাতির এক পর্যায়ে অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে যান আবুল কাশেম। পরে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জুবায়ের বলেন আবুল কাসেম হাসপাতালে পৌছানোর মৃত্যু বরণ করেছে। বাইরে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই ইন্টারনাল হেমারেজ হতে পারে পরে তবে সেটা পোস্টমর্টেম ছাড়া জানা যাবেনা।

কাপাশহাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফুদ্দৌলা ঝন্টু জানান, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারামারি হয়েছে। কয়েকদিন ধরেই তাদের মাঝে বিরোধ চলে আসছিলো।

এ দিকে এঘটনাকে রাজনৈতিক বিরোধ দাবি করে জেলা যুবদলে সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম পিন্টু অভিযোগ করেন, “স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের লোকজনের যৌথ হামলায় কৃষকদল নেতা নিহত হয়েছেন। জামায়াতের লোকজন ঝিনাইদহে গুপ্ত হত্যার রাজনীতি শুরু করেছে এর আগে তারা ঝিনাইদহ সদরের কৃষকদল নেতা তরু মুন্সী হত্যা করেছে। এটা তাদেও পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।

হরিণাকুন্ডু উপজেলা জামায়াতের আমির বাবুল হোসেন জামায়াতের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, “ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া নিয়ে একই পরিবারের সদ্যদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এক পর্যায়ে নিহত আবুল কাশেম তারই চাচা নাজের মন্ডলের ছোঁড়া ইটের আঘাতে মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্ত এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে কোন ভাবেই জামায়াত জড়িত নয়।”

এ ব্যাপারে হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া জানান, ফেসবুকে লেখালেখি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে মারামারি হয়েছে বলে শুনেছি। আমি ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা করেছি। চাচাতো ভাইদের মাঝে মারামারি হয়েছে, এমনটা জানতে পেরেছি। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। মরদেহ ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।




মেহেরপুরে অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

মেহেরপুর সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে উপজেলার রাজনগর গ্রামের ঘোড়ামারা পাড়ায় মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

মেহেরপুর সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কয়েকদিন আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় থাকায় এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে তদন্ত চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।




মেহেরপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত

মেহেরপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে মহান স্বাধীনতা দিবস।

আজ বৃহস্পতিবার প্রত্যুষে মেহেরপুর সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শহরের কলেজ মোড়ে অবস্থিত শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির, মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজ উদ্দিন খান, পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক শামসুল আলম সোনাকে সঙ্গে নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষে সর্বপ্রথম শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

এরপর পর্যায়ক্রমে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজ উদ্দিন খান, জেলা পুলিশের পক্ষে পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষে আহ্বায়ক শামসুল আলম সোনা, স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ, জেলা পরিষদের পক্ষে প্রশাসক জাবেদ মাসুদ মিল্টন, পৌরসভার পক্ষে প্রশাসক পার্থ প্রতিম শীল, গণপূর্ত বিভাগের পক্ষে এস এম রফিকুল হাসান, মেহেরপুর সরকারি কলেজের পক্ষে অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. নজরুল কবির, র‌্যাবের পক্ষে আব্দুল্লাহ আল মামুন পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

এছাড়াও সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিরুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সঞ্জীব মৃধা, সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, সমবায় অফিসের কর্মকর্তা এনামুল হক, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওবায়দুল বাশার, মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ মুহা. আব্দুল্লাহ আল আমিন, মেহেরপুর পৌর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফয়েজ উদ্দিনসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পৃথকভাবে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

সকাল ৯টায় স্টেডিয়াম মাঠে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া দিনের বিভিন্ন সময়ে আলোচনা সভা, উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে।




রাজনীতির এবিসিডি ( ABCD)

রাজনীতি হলো এমন একটি সামাজিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে জনগণের শাসন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এটি একটি রাষ্ট্র বা সমাজের শাসনব্যবস্থা, সরকার গঠন, এবং নীতি-নির্ধারণের প্রক্রিয়া। রাজনীতি মূলত দেশের সরকার এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন এবং দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে বোঝায়।

রাজনীতি শুধুমাত্র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, দল গঠন বা সরকার গঠন নয়, বরং এটি সমাজে ক্ষমতা, সম্পদ, নীতি এবং শাসন কীভাবে পরিচালিত হবে, তার একটি সুসংগঠিত কাঠামো তৈরি করে।

রাজনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল প্রক্রিয়া, যা রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থা, সরকার গঠন, এবং জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করে। এটি দেশের অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়ম এবং নীতি তৈরি করে, যার মাধ্যমে জনগণের অধিকার রক্ষা এবং দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। রাজনীতি সমাজে শান্তি, ন্যায় এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং জাতি বা দেশের কল্যাণে অবদান রাখে।

রাজনীতি চর্চার জন্য প্রয়োজন হয় রাজনৈতিক দলের। একটা রাজনৈতিক দলের যেমন থাকে সমর্থক, তেমনি থাকে তাদের কর্মী ও নেতৃত্বের জন্য নেতা। আর প্রত্যেকে মানুষ ও রাষ্ট্রের নাগরিকদের হতে হয় রাজনৈতিক সচেতন। কারণ রাজনীতি উপর নির্ভর করে রাষ্ট্র, দেশ সমাজ ও নাগরিকদের ভাগ্য। একটি গনতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মানের উপর নির্ভর করে রাষ্ট্রের মান তেমনি দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মানের উপর নির্ভর করে সেই রাজনৈতিক দলের মান।

রাজনৈতিক সচেতনতা আর রাজনৈতিক নেতা-কর্মী হওয়াটা এক বিষয় নয়।

অবশ্যই প্রত্যেক নাগরিককে রাজনৈতিক সচেতন হতে হবে। কিন্তু নেতা বা কর্মী হতে হলে শিক্ষা, দীক্ষা, জ্ঞানের একটা নির্দিষ্ট পর্যায়ের যোগ্যতা থাকতেই হবে।

নেতৃত্বের যোগ্যতা একটা নানান গুনের প্যাকেজ, শুধুমাত্র ত্যাগ শব্দ দ্বারা আখ্যায়িত করা যায় না। মাল মসলা অনেক কিছু লাগে। আদর্শ থাকা লাগে, স্বপ্ন থাকা লাগে, দেশপ্রেম থাকা লাগে, পরিশ্রম যাকে আমরা ত্যাগ বলি সেটা মাস্ট থাকা লাগে, সততা লাগে, লাগে শিক্ষা, মধুর ব্যবহার, বাচনভঙ্গি ও অন্যেদের ইম্প্রেস করার শক্তি, লাগে অর্থের যোগানও। সব মিলিয়ে নেতৃত্ব দেয়ার সকল গুণাবলি।

জ্ঞানহীন পেশাহীন ব্যক্তির হাতে রাজনীতি কখনোই নিরাপদ নয়। যার নিজের কোন পেশা নেই, তার আয়ের উৎস কি! যে নিজেকে নিজেকেই দাড় করাতে পারে, সে অন্যকে কি উপকার করবে!

এবার আসি তৃণমূলে বিশেষভাবে একটু পশ্চাৎপদ এলাকায়। সেখানকার রাজনৈতিক ভাবনা ও চাহিদা বা ধারণা কেমন।
গ্রাম-গঞ্জে যাবেন, দেখবেন মানুষের কি কি চাহিদা, তাদের কাছে রাজনীতিটা কি, কেমন তা বোঝা যায়। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই নানান অভিযোগ। বিশেষ করে স্থানীয় এম.পি’র উপর, এই রাস্তা ভাঙ্গা, ঐ কবরস্থানের প্রাচীর হয়নি। মসজিদের গেট হয়নি, নানান অভিযোগের ভিতর বেশীর ভাগই থাকে অবকাঠামোমূলক উন্নয়নের কথা। অনেকেই এর জন্য স্থানীয় এম.পি. কেই দায়ী করে থাকেন।

একদিন এক গ্রামে এক উঠান বৈঠকের সময় বলেই আমি ফেললাম, আচ্ছা আপনার যেসব উন্নয়নের কথা বলছেন এগুলো কি একজন এম.পি’রই একমাত্র কাজ ? এগুলোর জন্য তো স্থানীয় সরকার আছেন, যেমন; জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ। এগুলো তো তাদেরও কাজ। আমাকে একজন প্রশ্ন করলো, তাহলে এম.পি’র কাজ কি?

একজন এম.পি একজন প্রধান অভিভাবক, আইন প্রণেতা। তিনি স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্ন দেখান ও সেই স্বপ্নের রূপকল্প তৈরী করেন এবং বাস্তবায়ন করেন। যুবকদের নতুন দিনের জন্য প্রস্তুত করা, তাদেরকে U-Turn করানো যেমন; বিশ্ব আজ IT যুগে। তাদেরকে সেভাবে প্রস্তুত করা, আমরা কোন পথে হাটবো সেই পথ প্রদর্শন করা। সমাজের মৌলিক সমস্যা নির্ণয় করে সেগুলো সমাধানের পথ বের করা, টার্গেট দেওয়া যে আগামী ৫ বছর আমরা এই পর্যন্ত, ১০ বছর আমরা ঔ পর্যন্ত যাবো। যেমন; বেকারত্ব একটি সমস্যা কিভাবে তা রোধ করা যায়, এরকম অসংখ্য মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া। সামাজিক ব্যাধী দূর করে ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠা করা। হুম, ধরুন যদি কোন ব্রীজ ভাঙ্গা, বিশেষ মেরামত দরকার তার জন্য জনস্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থার জন্য নির্দেশ দেওয়া। কেবল; বাহ্যিক অবকাঠামোমূলক উন্নয়নই (visible infrastructure development) একজন এম.পি’র কাজ নয়। অদৃশ্য অবকাঠামোমূলক উন্নয়ন (invisible infrastructure development) কাজের কতটুকু অগ্রগতি তার উপর নির্ভর করে একজন এম.পি’র সফলতা।
একজন এম.পি’র সফলতা নির্ণয় করা যায় তিনি কতটুকু সমাজকে এগিয়ে নিতে পেরেছেন, শুধু মাচায় বসে চা খাওয়ায় এম.পি’র কাজ না।

সময় বদলাচ্ছে, রাজনীতি গতিধারাও বদলাচ্ছে। ব্রিটিশ আমলের রাজনৈতিক ধারা, আদি ধারায় চর্চা, সেই ৯০- ২০০০ দশকের ট্রেন্ড এখন ২৬ এ আর চলবে না। পুরানো ধারা, পুরানো একঘেয়ে চর্চা এই প্রজন্ম গিলছে না। অবশ্যই আমাদের নতুনত্ব আধুনিক ও যুগোপযোগী মেধার চর্চার দিকে এগুতে হবে।

“ধর, মার” শ্লোগান থেকে বের হতেই হবে। শুধুই মিছিল মিটিং করে কেবল পুরানো রুটিন ওয়ার্ক করে রাজনীতি আর টিকবে না। এই ধারা চলমান রাখতে গিয়ে বড় বড় দলকেও হোচট খেতে দেখা গেলো। অতীত থেকে শিক্ষা না নেওয়ায় শুধুমাত্র পুরানো ধাচের রাজনীতি করতে গিয়ে ইতিমধ্যে বড় ধাক্কা খেয়ে গেছে। রাজনৈতিক চর্চায় আধুনিক ভাবধারা যুক্ত করতে না পারলে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না।

দলের কর্মী মানে আদম সাপ্লাইয়ার নয়, যে লোকজন জোগাড় করে মিছিল করো আর প্রয়োজনে লাঠি ধরো। দলের কর্মীদের শুধু মিছিল করিয়ে বিদায় দিলে কাজ হবে না। দলের কর্মীদের প্রত্যেককে এক একটা মানব সম্পদে রুপান্তর করতে হবে। তাদের কাজে দক্ষতা নেয়া পেশাদার বানাতে হবে, যাতে তারা কর্মক্ষেত্রে দলীয় নির্ভরশীলতা কাটিয়ে স্বনির্ভর হতে পারে।

এখন কর্মীদের যেমন রাস্ট্রবিজ্ঞানের বেসিক জ্ঞান থাকতে হবে, নতুন বিশ্বকে চিনতে হবে, তেমনি জানতে হবে ইতিহাস-বিজ্ঞান-ইকোনমিকস-আইসিটি-বিশ্ব রাজনীতি- অর্থনীতি ও যুদ্ধ কৌশল ইত্যাদির মিনিমান ধারণাটুকু। আর নেতাদের তো এগুলোর উপর দক্ষতা মাস্ট। যে যতো বড় নেতা, তার জ্ঞানের উচ্চতা থাকতে হবে ততই বেশী।

তাছাড়া নিজেদের সময় সময় সংষ্কার করা, ভুলগুলোর জন্য অনুতপ্ত হওয়া ও আধুনিকায়নের মাধ্যমেই সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে।

সহনশীলতা, শ্রদ্ধাবোধ, মানুষের পালস বোঝার ক্ষমতা বৃদ্ধি করা, কথা বলতে শেখা, কনভিন্স পাওয়ার আয়ত্ত্ব করা জানতেই হবে।

শিক্ষিত সৎ দেশপ্রেমিকদের জন্য রাজনৈতিক পথ সুগম করা খুব জরুরি। বর্তমান আইসিটি যুগে সাইবার ফাইটে পরাজয় মানে যুদ্ধে অর্ধেক পরাজয়। টেকনোলজি, টেকনিক্যাল, সাহসী ম্যানপাওয়ার যার, জয় তার।

রাজনৈতিক আদর্শ – আদর্শের উপর গড়ে উঠে একটা রাজনৈতিক দল তেমনি চর্চার উপর নির্ভর দলের সমৃদ্ধি অগ্রগতি। সময়ের সাথে সাথে চর্চার পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন প্রয়োজন হয়। চর্চায় পরিবর্তন মানে আদর্শের পরিবর্তন না।

আদর্শ ঠিক রেখে
আগামীর রাজনীতির ধারা হোক
পরিবর্তনের, প্রজন্মের, স্বপ্নের ও বুদ্ধিমত্তার।

politics of change, politics of hope and politics of dream, politics of intellectuals.