দামুড়হুদায় ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা

দামুড়হুদায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান সাহেল।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন আলম, উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মশিউর রহমান, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নীলিমা আক্তার হ্যাপি, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, উপজেলা জামায়াতের আমির নায়েব আলী, দামুড়হুদা মডেল মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মামুনুর রশীদসহ উপজেলার বিভিন্ন ঈদগাহ কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

সভায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করেন সভার সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ঈদে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা না করার জন্য কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়াও ঈদের জামাত সুষ্ঠুভাবে আয়োজন, ঈদগাহ মাঠ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে ঈদের দিন মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নজর রাখবে প্রশাসন।

সার্বিকভাবে একটি আনন্দঘন ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে ঈদ উদযাপনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানান সভাপতি।

সভায় বক্তারা বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দামুড়হুদা উপজেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতর আনন্দমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপন করা সম্ভব।




দর্শনা কলেজপাড়া ঈদগাঁ কমিটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল

দর্শনা কলেজপাড়া ঈদগাঁ কমিটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দর্শনা সরকারি কলেজ একাডেমি ভবনের সামনে এ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

কলেজপাড়া ঈদগাঁ কমিটির সভাপতি ও জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম তরফদারের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে অংশ নেন দর্শনার সাবেক মেয়র আতিয়ার রহমান হাবু, ঈদগাঁ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাবেক অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান, দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান, সাবেক শ্রমিক নেতা আতিয়ার রহমান আতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা খালিদ হোসেন এবং দর্শনা সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি হারুন অর রশিদ।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল গনি মাস্টার, ইদ্রিস আলী, মিরাজ উদ্দিন ও রাজু নাতি প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন নাজমুল হুদা।




জন্মগত প্রতিবন্ধী অসহায় মুসলিমার প্রতি বিত্তবানদের সহায়তার আহ্বান

জন্মগত প্রতিবন্ধী অসহায় মুসলিমা খাতুনের জন্য মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন তার পরিবার ও স্থানীয়রা।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া গ্রামের মৃত ছাকারদ্দীন ও মৃত বিলকিস রাবেয়ার মেয়ে মুসলিমা খাতুন জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী।  বর্তমানে তার বয়স প্রায় ৩৮ বছর। দীর্ঘদিন ধরে মা-বাবাহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

জানা যায়, মুসলিমা খাতুন খুব ছোট বয়সেই মায়ের স্নেহ হারান। তার মা বিলকিস রাবেয়া দীর্ঘদিন ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত থাকার পর ২০০০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। মায়ের মৃত্যুর পর বাবার স্নেহেই কোনোভাবে দিন কাটছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে তার বাবা ছাকারদ্দীনও মারা যান। এরপর থেকে সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েন মুসলিমা।

মা-বাবার মৃত্যুর পর প্রায় ২৩ বছর ধরে তিনি মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামে তার নানাবাড়িতে বসবাস করছেন। সেখানে বৃদ্ধ নানির তত্ত্বাবধানে কোনোভাবে দিন পার করছেন। তবে বয়সের ভারে নানি এখন আর আগের মতো দেখাশোনা করতে পারেন না। ফলে প্রতিবন্ধী মুসলিমার জীবনযাপন দিন দিন আরও কষ্টকর হয়ে উঠছে।

জন্মগত প্রতিবন্ধকতার কারণে মুসলিমা খাতুন স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না এবং কোনো ধরনের কাজ করাও তার পক্ষে সম্ভব নয়। নিজের জীবিকার কোনো উপায় না থাকায় অন্যের সহানুভূতি ও সাহায্যের ওপর নির্ভর করেই তার দিন কাটছে। আর্থিক সংকটের কারণে চিকিৎসা, খাবার ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জোগাড় করতেও তাকে চরম কষ্টে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, সামান্য সহযোগিতা ও সমাজের মানবিক মানুষের সহায়তা পেলে মুসলিমা খাতুনের জীবন কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতে পারে।

মুসলিমার ভাই সেলিম বাবু সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও মানবিক সংগঠনসহ সকল হৃদয়বান মানুষের কাছে অসহায় জন্মগত প্রতিবন্ধী মুসলিমা খাতুনের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।

এলাকাবাসীর আশা, মানবিক সহায়তা পেলে অসহায় মুসলিমা খাতুনের জীবনে নতুন করে বাঁচার আশা জাগবে।




মুজিবনগরে ব্লাড ব্যাংক সংগঠনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মুজিবনগর ব্লাড ব্যাংকের উদ্যোগে সংগঠনের রক্তদাতাদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বিকেলে মুজিবনগর কমপ্লেক্সের ভেতরে এ ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মুজিবনগর ব্লাড ব্যাংক সংগঠনের সভাপতি ইকবাল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাহাজ সাব্বির, সিনিয়র সহ-সভাপতি বায়েজিদ মোল্লা।

এছাড়া ব্লাড ব্যাংক সংগঠনের উপদেষ্টা সাইমন মণ্ডল, সাজেদুল ইসলাম রিপন, আনোয়ার হোসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




শৈলকুপায় জমির মামলা চলাকালেই তৃতীয় পক্ষের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই বিবাদী জেলহাজতে থাকার সুযোগে বিতর্কিত জমিতে জোরপূর্বক সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। একাধিক মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও এসব তোয়াক্কা না করে তারা নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

মামলার বিবরণ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শৈলকুপা উপজেলার মহেশপুর মণ্ডলপাড়া গ্রামের আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে একই গ্রামের মৃত জাফর ইকবালের ছেলে শাহ আলম সাগর ও সবুজ হোসেনসহ তাদের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে আনোয়ারুল ইসলাম তাদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ আনেন।

পরে আনোয়ারুল ইসলাম বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং—শৈল: দ্রুত, সি/আর-৫২/২৫)। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ শাহ আলম সাগর ও সবুজ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়।

অভিযোগ রয়েছে, তারা জেলহাজতে থাকার সুযোগে তাদের সহযোগীরা বিরোধপূর্ণ ওই জমি দখল করে সেখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা শৈলকুপা থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলে সেখানে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ করার সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করা হবে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




গাংনীর রাইপুর ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণ অনিশ্চিত

বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের জেরে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়নে প্রায় ৩২শ অতিদরিদ্র মানুষ ভিজিএফের চাল থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বশীলরাই পরিষদে যেতে সাহস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে উপজেলার অন্য সব ইউনিয়ন পরিষদ ইতোমধ্যে খাদ্যগুদাম থেকে চাল উত্তোলন করে বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে। কিন্তু রাইপুর ইউনিয়নে এখনো কোনো সিদ্ধান্তই নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে থমকে আছে ভিজিএফের চাল উত্তোলন ও বিতরণ কার্যক্রম। ঈদ উপলক্ষে সরকারের বরাদ্দ দেওয়া এই চাল পাওয়ার কথা ছিল ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার ২০০ অতিদরিদ্র মানুষের।

গত মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষের জেরে এখনো উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে চাল উত্তোলনই করতে পারেনি ইউনিয়ন পরিষদ। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিপক্ষের হামলার আশঙ্কায় ইউনিয়ন পরিষদে যেতে ভয় পাচ্ছেন প্যানেল চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য এবং সচিব পর্যন্ত। ফলে পরিষদের কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকও করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে প্রতিপক্ষ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালুর লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ১০ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেলে করে ইউনিয়ন পরিষদে এসে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, তার ছোট ভাইয়ের দোকান এবং কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতেও গিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্যানেল চেয়ারম্যান।

এ পরিস্থিতিতে ভিজিএফের চাল উত্তোলন ও সুষ্ঠুভাবে বিতরণ নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে সহায়তা চেয়েছেন প্যানেল চেয়ারম্যান।

রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সারগিদুল ইসলাম জানান, আমার প্রতিপক্ষ গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালু ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান গোলাম সাকলায়েন সেপুকে পরিষদে জোর করে বসানোর অপচেষ্টা করেন। তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে দেশীয় অস্ত্র, লাঠি-সোঁটা নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ দখল ও চাল উঠলে তা লুট করার ঘোষণা দেন। এতে রাইপুর ইউনিয়নের হতদরিদ্র লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।

গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে শত শত সশস্ত্র লোক নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে এলে এলাকার লোকজন তাদের সেই হামলা প্রতিহত করেন। তারপর থেকে এলাকার সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে বুধবার সারাদিন ১০/১৫টি মোটরসাইকেলযোগে সন্ত্রাসীরা পরিষদের আশপাশে আসে এবং নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আমাকে খুঁজতে থাকে।

তিনি আরও বলেন, অত্র ইউনিয়নের প্রায় ৩২শ হতদরিদ্র মানুষের ভিজিডির চাল উত্তোলন এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তিনি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান প্রশাসনিক সহযোগিতা করে হতদরিদ্রদের মাঝে চাল বিতরণ করতে।

এদিকে এলাকার ভুক্তভোগীরা বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভিজিএফের চাল না পেলে অনেকের ঈদের আনন্দই মাটি হয়ে যাবে। তারা বলেন, আমরা মারামারি বুঝি না। আমরা দরিদ্র মানুষ। আমাদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল ঈদের আগেই আমাদের দেওয়া হোক।

গাংনী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টির দ্রুত সমাধান না হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাল বিতরণ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক বিরোধ ভুলে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতির সমাধান হবে এবং ঈদের আগেই ভিজিএফের চাল পাবেন প্রকৃত উপকারভোগীরা।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালু ও বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান সারগিদুল ইসলামের মধ্যে ভিজিডির চাল বিতরণ ও প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে সৃষ্ট সংঘর্ষে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালুসহ উভয় পক্ষের প্রায় ১০ জন আহত হন। আহত আলফাজ উদ্দীন কালুকে উদ্ধার করে প্রথমে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে সেখান থেকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাশ বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ দিলে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।




পুনর্গঠনের দায়বদ্ধতা: ববি হাজ্জাজ, এমপি

একটি জাতির জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন বিজয় মোটেই বিজয়ের মতো অনুভূত হয় না। সেটি হয়ে উঠে হিসাব-নিকাশের এক তালিকা। তখন কেবল ভাঙনের শব্দ শোনা যায়।

দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠান, শূন্যপ্রায় রাজকোষ,—সব মিলিয়ে যেন এক সচল কিন্তু গন্তব্যহীন রাস্তা। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী আছে কিন্তু শিক্ষা নেই; দপ্তরে কর্তৃত্ব আছে কিন্তু কোনো মহৎ উদ্দেশ্য নেই। বাংলাদেশের নতুন সরকার ক্ষমতার মসনদে বসেনি, বরং এক চরম পরিণতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।

আমাদের মতো যারা এক দশকেরও বেশি সময় রাজপথে আন্দোলন, সমাবেশ, যুক্তি আর প্রতিরোধের লড়াইয়ে শামিল ছিলেন, তাদের কাছে সরকার গঠন কোনো রাজ্যাভিষেক নয়। এটি ইতিহাসের এর এক কঠিন পরীক্ষা। যে ভোটের অধিকারের জন্য আমরা লড়াই করেছি এখন তার মর্যাদা রক্ষা করার সময়। যারা দীর্ঘ বিরোধিতার সময়ে জনগণের পক্ষে কথা বলেছেন, এখন ক্ষমতার প্রখর রোদে দাঁড়িয়ে সেই জনগণের কাছেই আমাদের জবাবদিহি করতে হবে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান নির্বাচনের আগে জাতির সামনে যে ইশতেহার তুলে ধরেছিলেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি কেবল প্রতিশ্রুতির কোনো লম্বা তালিকা বা দক্ষিণ এশীয় রাজনীতির প্রচলিত চটকদার কোনো সাহিত্য ছিল না। এর মূলে ছিল ভোটের মর্যাদা ফিরিয়ে আনা, দায়বদ্ধ সরকার গঠন, সাংবিধানিক ও নির্বাচনী সংস্কার এবং এমন এক বাংলাদেশ গড়া যা অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও রাজনৈতিকভাবে স্বচ্ছ। ৫১টি অগ্রাধিকার ভিত্তিক পয়েন্টের মাধ্যমে তিনি একটি রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখিয়েছেন যা জনগণের কাছে সরাসরি দায়বদ্ধ । এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য। যে দেশে দীর্ঘদিন ধরে কাজের চেয়ে ফাঁকা বুলি বা স্লোগান বেশি ছিল এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছিল, সেখানে প্রতিশ্রুতি দেওয়াটা বড়ো কথা নয়; বরং আসল চমক হলো উন্নয়নকে জনগণের অধিকার ও জবাবদিহির সাথে যুক্ত করা।

কিন্তু ইশতেহার বিমূর্তভাবে শাসন করে না। ইশতেহার শূন্যে বাস্তবায়িত হয় না; একে লড়তে হয় উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ধ্বংসস্তূপের সাথে। বিশ্বব্যাংকের হিসেবে, ২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.০ শতাংশে নেমে এসেছে। বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদন গ্যাস সংকটে স্থবির।

আইএমএফ-এর মতে, আমাদের ব্যাংকিং খাত চরম ঝুঁকিতে; রাজস্ব আদায় জিডিপির মাত্র ৬ দশমিক ৯ শতাংশ আর খেলাপি ঋণের বোঝা পাহাড়সম। এগুলো কেবল কাগজের সংখ্যা নয়, এগুলো একটি ভেঙ্গে পড়া রাষ্ট্রের লক্ষণ। এ হলো আমাদের উত্তরাধিকারের অর্থনৈতিক গদ্য: মন্থর প্রবৃদ্ধি, দুর্বল বিনিয়োগ আর প্রভাবশালীদের কবজায় থাকা ব্যাংকিং ব্যবস্থা। এর সাথে যুক্ত হয়েছে জরাজীর্ণ শহর, ভেঙে পড়া সেবা খাত আর এক বিশাল তরুণ প্রজন্ম, যাদের স্বপ্নের পরিধি কর্মসংস্থানের সুযোগের চেয়ে অনেক বড়ো।

আমরা ভাগ্যের দোহাই দিতে পারি, কিন্তু একটি উন্নয়নশীল দেশে ভাগ্য মানে হলো বিদ্যুৎ ঠিকঠাক থাকা, ঋণের সঠিক মূল্য থাকা, স্কুলে পড়াশোনা হওয়া আর ঘুষ ছাড়া দাপ্তরিক কাজ হওয়া।

ইতিহাস তার দুষ্ট হাসিতে আরও একটা বোঝা যোগ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে শিপিং ব্যাহত হওয়া এবং কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকা আমাদের জ্বালানি ও সার সরবরাহকে হুমকির মুখে ফেলেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন খরচ, সারের কারখানা, শিল্পের উৎপাদন—সব জায়গায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যখন আমাদের উপকূল থেকে অনেক দূরে একটি সরু জলপথ আমাদের বাজারের মেজাজ নির্ধারণ করা শুরু করে, তখন ভূগোলই হয়ে ওঠে ভাগ্য।

আমাদের অঞ্চলটিও খুব একটা স্থিতিশীল নয়। দক্ষিণ এশিয়া এখনো কৌশলগত অবিশ্বাস আর সীমান্ত সমস্যার জালে বন্দি। এমন এক প্রতিবেশে কোনো সরকারের পক্ষে ভাববিলাস বা অহংকারের সুযোগ নেই। আবেগ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না। মুখের বুলি দিয়ে সার্বভৌমত্ব রক্ষা হয় না। আজকের পৃথিবীতে সার্বভৌমত্ব মানে সক্ষমতা। খাদ্যে সক্ষমতা, জ্বালানিতে সক্ষমতা, শিক্ষায় সক্ষমতা, প্রশাসনে সক্ষমতা, বিশ্বাসযোগ্যতায় সক্ষমতা।

এই কঠিন সময়ে প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বের এক ভিন্ন আঙ্গিক তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। বর্তমানের জাঁকজমকপূর্ণ রাজনীতির ভিড়ে তিনি মিতব্যয়িতা ও গাম্ভীর্যকে বেছে নিয়েছেন, যেমনটি করেছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব। ক্ষমতা তার কাছে ছিল আমানত। জবাবদিহি ছিল তার শাসনের কেন্দ্রে। আমাদের মতো একটি দরিদ্র দেশে নেতৃত্বের এই কৃচ্ছ্রসাধন কেবল লোকদেখানো নয়, এটি পুরো রাজনৈতিক শ্রেণির জন্য একটি শিক্ষা যেখানে ভোগবিলাসের রাজনীতির সমাপ্তি অনিবার্য। মন্ত্রিসভা নিয়েও আমাদের সংযত থাকা দরকার। এটি কোনো জাদুকরদের দল নয়, আবার অযোগ্যদের সমাবেশও নয়। এখানে অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের আন্দোলনের কণ্ঠস্বরও যুক্ত হয়েছে। একটি পুনরুদ্ধার হতে থাকা গণতন্ত্রে মন্ত্রিসভাকে চাকচিক্যময় হওয়ার প্রয়োজন নেই; একে হতে হবে দক্ষ, সংহত এবং ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার মতো বিনয়ী।

আমার নিজের দায়িত্বের জায়গা থেকে আমি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই শিক্ষাকে। রাজনীতি যদি শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার রাস্তা হয়, তাহলে তার কোনো নৈতিক মূল্য নেই। রাজনীতির মূল্য তখনই, যখন তা মানুষের জীবনের সম্ভাবনা বদলায়। শিশুর ভবিষ্যৎ বদলায়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষার ক্ষেত্রে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে আমরা এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যা একজন শিক্ষার্থীকে বুঝতে, লিখতে এবং যৌক্তিকভাবে চিন্তা করতে শেখাবে। প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি যদি মজবুত না হয়, তবে উচ্চশিক্ষা কেবল হতাশারই জন্ম দেবে। ২০২২ সালে বাংলাদেশের সাত বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ছিল ৭৪ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে তা ছিল ৭৭.৯ শতাংশ। আমাদের সাক্ষরতার হার কাগজে-কলমে বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু কেবল নাম দস্তখত করতে পারা বা ফরম পূরণ করতে পারার নাম শিক্ষা নয়। আমাদের লক্ষ্য তাই শুধু সাক্ষরতার সংখ্যা বাড়ানো না। আমাদের লক্ষ্য প্রকৃত সাক্ষরতা, যা শিশুকে মাধ্যমিক স্তরে সফল করবে, কারিগরি শিক্ষাকে শক্ত করবে এবং উচ্চশিক্ষাকে অর্থবহ করবে।

সামনের কাজ তাই বিশাল। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে হবে, কিন্তু মানুষের উপর নিষ্ঠুর বোঝা চাপিয়ে নয়। রাষ্ট্রকে সংস্কার করতে হবে, কিন্তু বিশৃঙ্খলা তৈরি করে নয়। দৃঢ় হাতে শাসন করতে হবে, কিন্তু গণতন্ত্রের দাবি জলাঞ্জলি দিয়ে নয়। ইশতেহারের চেতনা ধরে রাখতে হবে কিন্তু নামমাত্র স্লোগানে গা ভাসানো যাবে না।

তবু আশার জায়গা আছে। সে আশা মিছিলের ঢাকঢোলের আশা না। সে আশা পতাকা ওড়ানোর আবেগের আশা না। সে আশা আরও গভীর। রাজপথের লড়াই থেকে উঠে আসা একটি সরকারকে এটা প্রমাণ করতে হবে তাদের এতদিনের লড়াই আর ত্যাগ কেবল স্লোগান বা নাটক ছিল না, ছিল একটি মানবিক ও জবাবদিহিমূলক দেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা।

এখন তাই কথার চেয়ে কাজের মূল্য বেশি। নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত প্রজাতন্ত্রের কাছে আজ উল্লাস অর্থহীন। এই প্রজাতন্ত্র চায় সংযম। চায় সততা। চায় দায়িত্বশীলতা এবং সবচেয়ে বেশি চায় কাজ।




সড়ক দুর্ঘটনায় দৈনিক সংগ্রামের মেহেরপুর জেলা সংবাদদাতা আহত

দৈনিক সংগ্রামের মেহেরপুর জেলা সংবাদদাতা আকতারুজ্জামান সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন।

জানা গেছে, আজ বুধবার আমঝুপি শেখপাড়া মোড়ে একটি মোটরসাইকেল ও পাখি ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।

পরে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি বর্তমানে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।




কুষ্টিয়ায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

কুষ্টিয়ায় কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার সকালে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন্সে পবিত্র ঈদুল ফিতর-২০২৬ উপলক্ষে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গের মাঝে ঈদ শুভেচ্ছা ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের পক্ষ থেকে এই ঈদ শুভেচ্ছা ও উপহার প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে শহীদ পুলিশ সদস্যদের পরিবারের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শিকদার মো. হাসান ইমাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ।

এ সময় কর্মকর্তারা বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে যেসব পুলিশ সদস্য কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের অবদান জাতি সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। শহীদ পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় পাশে থাকবে বলেও তারা আশ্বাস দেন।

জেলার সাতজন শহীদ পুলিশ সদস্যের পরিবারের কাছে ঈদের শুভেচ্ছা বার্তাসহ খাদ্যসামগ্রী ও উপহার তুলে দেওয়া হয়।




আলমডাঙ্গায় ডাকাতি প্রস্তুতি মামলার দুই আসামি গ্রেফতার

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ডাকাতি প্রস্তুতি মামলার সঙ্গে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানার এসআই (নিঃ) শীতর বিশ্বাস সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ থানার বিভিন্ন এলাকায় গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় আলমডাঙ্গা থানাধীন রুয়াকুলি গ্রামের বদরগঞ্জ মাঠে মো. লোকমানের কাঁঠাল বাগানের সামনে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের ওপর সমবেত হয়ে ডাকাতি প্রস্তুতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন আসাননগর গ্রামের আকমল হোসেনের ছেলে মো. খোরশেদ (৩০) এবং আলমডাঙ্গা পৌরসভার কোর্টপাড়া এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে শরিফুল ইসলাম (২৬)।

বুধবার (১১ মার্চ) ভোর ৪টার দিকে আলমডাঙ্গা থানাধীন সাদাব্রীজ মোড় এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে আলমডাঙ্গা থানার মামলা নং-৩৪, তারিখ ২৮/০৮/২০২৫ খ্রি., ধারা ৩৯৯/৪০২ পেনাল কোডে তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।