ঝিনাইদহে কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সংকট

ঝিনাইদহের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে তীব্র ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ না থাকায় সেবা নিতে এসে দিনের পর দিন ঘুরেও খালি হাতে ফিরছেন রোগীরা।

এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র ও অসহায় মানুষজন। বাধ্য হয়ে অনেকেই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি ক্লিনিক বা ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনছেন।

জানা যায়, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ঝিনাইদহের ৬ উপজেলার ৬৭ টি ইউনিয়নের ১৮৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করে সরকার। এক বছর আগেও এসব ক্লিনিক থেকে জ্বর, সর্দি, কাশি, মাথাব্যথাসহ সাধারণ রোগের জন্য বিনামূল্যে ২৭ প্রকার ওষুধ সরবরাহ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ ক্লিনিকে মাত্র ২ থেকে ৩ প্রকার ওষুধ রয়েছে, আবার কোথাও একেবারেই ওষুধ বিতরণ বন্ধ রয়েছে। ওষুধ নিতে এসে দিনের পর দিন ফিরে যেতে হচ্ছে সেবাপ্রত্যাশীদের।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, আজ কয়েক মাস ধরে এখানে এসে ওষুধ পাচ্ছি না। আগে তো সব রকম ওষুধ পাওয়া যেত। এখন আসলে শুধু কথা বলেই পাঠিয়ে দিচ্ছে।

রাশিদা খাতুন নামের আরেক সেবা প্রত্যাশী বলেন, আমার ছোট ছেলেটার জ্বর আর ঠান্ডা লেগেছে। আগেও এখান থেকে ফ্রি ওষুধ নিছি। আজ এসে শুনি ওষুধ নেই। গরিব মানুষের জন্য এই ক্লিনিক, কিন্তু এখন তো কোনো উপকারই পাচ্ছি না। বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হলে তো ৪-৫’শ টাকা লাগবে।

কালুহাটি কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রভাইডার মাজেদুল হক বলেন, আমাদের কাছে রোগী আসে, কিন্তু দেওয়ার মতো ওষুধ নেই। এতে রোগীরাও ক্ষুব্ধ হচ্ছেন, আমরাও বিব্রত হচ্ছি। এখন রোগী আসলে শুধু স্বাস্থ্য শিক্ষা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি। আমাদের তো কিছু করার নেই।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন মো. কামরুজ্জামান বলেন, সরকারি ভাবে ওষুধ সরবরাহ একদম কমে গেছে। কবে নাগাদ ঠিক হবে তাও সিওর বলা যাচ্ছে না। আশা করছি দ্রুতই ওষুধ সরবরাহ ঠিক হলে এই সংকট কেটে যাবে।




গাংনীর নওপাড়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মাগফেরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া

গাংনীর নওপাড়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জীবনের স্মৃতিচারণ ও তার রুহের মাগফেরাত কামনায় মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাংনীর কাথুলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি আয়োজিত মিলাদ মাহফিলে পবিত্র কোরআন ও হাদিস থেকে আলোচনা করেন, মাওলানা মোঃ আমিরুল ইসলাম।

দোয়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, ভাটপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও বিশিষ্ট বিএনপি’র প্রবীণ নেতা আব্দুর রউফ। দোয়া পরিচালনা করেন, নওপাড়া বড় মসজিদের ইমাম মাওলানা মোঃ শফিকুল ইসলাম।

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র চেয়ারপারসন মরহুমা খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন, গাংনী থানা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুর রউফ, কাথুলী ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামসহ অনেকে।

দোয়া ও মিলাদ পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন, ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক প্রচার সম্পাদক কাজল ও মহিত।

দোয়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি’র নেতাকর্মী, সমর্থকসহ গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

 




আলমডাঙ্গা কেশবপুরের রানা শশুরবাড়িতে খুন-সন্দেহভাজন সাইফুল আটক

আলমডাঙ্গার কেশবপুর গ্রামের রানা তার শশুরবাড়ি মালিহাদ গ্রামে খুন হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন সাইফুল ইসলামকে মীরপুর থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ’র ছেলে রানা(৩৫) কে নিজ শশুরবাড়ি মালিহাদ গ্রামে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, আলমডাঙ্গার কেশবপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ’র ছেলে রানা বেশ কয়েক বছর থেকে পার্শ্ববর্তী জেলা কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মালিহাদ গ্রামে আহসান আলীর কন্যাকে বিয়ে করে ঘর জামাই থাকেন। সেখানে তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।

মঙ্গলবার রাতে দুর্বৃত্তরা তাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে  হত্যা করেছে। মরদেহ শ্বশুর বাড়ির অদূরে আলি হোসেনের বাড়ির পাশে পাওয়া যায়।

আলি হোসেনের বাড়ি সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করে দেখা গেছে, ইটের গাথুনী দেওয়া বাড়িতে এখনো মেঝে প্লাস্টার হয়নি। মেঝেতে বালু থাকায় বালির ওপর ধ্বস্তাধস্তির চিহ্ন দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রানা ছেলে হিসেবে খুব ভালো ছিল। সকলের সঙ্গে ভালো ব্যাবহার করতো।তবে রানা খুব ঋনগ্রস্থ ছিল।

মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে সঠিক তথ্য না পাওয়া গেলেও পরকীয়া প্রেমের জেরে রানা খুন হতে পারে বলে স্থানীয়দের দু একজন ধারণা করেছেন।

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়ার মীরপুর থানা মৃতদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করেন। এব্যাপারে আলি হোসেনের জামাই সাইফুল ইসলামকে মীরপুর থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

মৃত রানার স্ত্রী জানিয়েছেন যে, এশার আজানের পর সাইফুল ইসলাম রানা কে চায়ের দোকান থেকে ডেকে নিয়ে আলি হোসেনের বাড়িতে খুন করে রাস্তায় ফেলে দিয়েছে।

বাদ মাগরিব কেশবপুর গ্রামের জানাজা নামাজ শেষে দাফনকাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।




আলমডাঙ্গা বণিক সমিতির উদ্যোগে সিআইপি সাহিদুজ্জামান টরিক’কে গণ সংবর্ধনা 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সিআইপি নির্বাচিত হওয়ায় সাহেদ গ্রুপের স্বত্বাধিকারীরা সাহিদুজ্জামান টরিককে আলমডাঙ্গা বনিক সমিতির পক্ষ থেকে গণ সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত ৮টায় আলমডাঙ্গা জেস টাওয়ারের হলরুমে বনিক সমিতি ও আলমডাঙ্গার সকল ব্যাবসায়ি সমিতির পক্ষ থেকে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সাহিদুজ্জামান টরিককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান বনিক সমিতি। এসময় তাঁকে স্মারক প্রদান করা হয়।আলমডাঙ্গা বনিক সমিতির সভাপতি আরেফিন মিয়া মিলনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ বিজনেস চেম সিঙ্গাপুর (বিডিচ্যাম)-এর সভাপতি এনআরবি ওয়ার্ল্ডের প্রেসিডেন্ট, সাহেদুজ্জামান টরিক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ব্যাবসায়ীরা সমাজের সবচেয়ে বিনয়ী মানুষ। তিনি বলেন, মনে রাখবেন ব্যাবসা করতে টাকার প্রয়োজন হয়না। প্রয়োজন সকলের সাথে যোগাযোগ, ভালো ব্যাবহার করা। বড় বড় ব্যাবসায়ীর ছেলের কাছে লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে ব্যাবসা শুরু করেছে, কিন্তু সে যদি মানুষ কে মানুষ না মনে করে তবে দেখবেন তার দোকান খুব অল্প সময়ের মধ্যে ফাঁকা হয়ে গেছে। কিন্তু যার টাকা নেই, কিন্তু সে যদি কোন বড় ব্যাবসায়ীর মন জয় করতে পারে দেখবেন সে একদিন আপনার এলাকায় বড় ব্যাবসায়ি হয়ে গেছে। তাই কাউকে ছোট ভাববেন না।

সাহিদুজ্জামান টরিক বলেন, ‘আমি চুয়াডাঙ্গা থেকে কিছু নিতে আসিনি, চুয়াডাঙ্গাকে কিছু দিতে এসেছি। আপনারা যদি আমাকে সহযোগিতা করেন, তাহলে আমি এই জেলার পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে চাই।’ তিনি বলেন, নিজের যোগ্যতা ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কই তার মূল শক্তি। শূন্য থেকে শুরু করে আজ তিনি এই অবস্থানে পৌঁছেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছোট ভাই শরীফুজ্জামান ওয়াদা করেছে- সে এমপি হোক বা না হোক, প্রশাসনের কাউকে তদবিরের জন্য সে ফোন দেবে না। আইন আইনের রাস্তায় চলবে। আমাদের বাক্য একটাই- এ দেশে আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।’ আমি কথা দিচ্ছি আপনারা যদি আমার ছোট ভাই শরিফুজ্জামানকে ভোট দেন তাহলে আমি চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গাকে পরিবর্তন করবো ইনশাল্লাহ। আপনারা যদি আমাকে সহোযোগিতা করেন, তাহলে আপনাদের এই অঞ্চলকে উন্নয়নের মাধ্যমে মডেল আলমডাঙ্গায় গড়ে তুলবো।

বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসতে পারে তাহলে আলমডাঙ্গার বন্ধ হয়ে যাওয়া কুমারী ভেটেরিনারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট আবার আমি কলেজ করবো ইনশাল্লাহ। আপনারা জায়গা দিলে আলমডাঙ্গায় প্রাইভেট হাসপাতাল বানিয়ে দেব।




শৈলকুপায় বেগম খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজার নামাজ ঝিনাইদহের শৈলকুপায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে শৈলকুপা শহরের সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে এ গায়েবানা জানাজার আয়োজন করা হয়। জানাজার নামাজ পরিচালনা করেন কোর্টপাড়া জামে মসজিদের ইমাম আবু সাঈদ রহমান।

গায়েবানা জানাজার নামাজে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, পৌর বিএনপির সভাপতি আবু তালেব মিয়া, সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা ঠান্ডুসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

জানাজার নামাজ শেষে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।




কোটচাঁদপুরে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

স্ত্রীর অধিকার চেয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী নারী শেফালী খাতুন। বুধবার সকালে কোটচাঁদপুর পৌর পাঠাগারে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। শেফালী খাতুন স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডপাড়া এলাকার মতিয়ার রহমানের মেয়ে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি কোটচাঁদপুর মিনার ডেকোরেটরে রান্নার কাজ করি। সেই সুবাদে সাকিলের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সে নিয়মিত আমার বাড়িতে যাতায়াত শুরু করে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, আমি তখন তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সাকিল স্থানীয় একটি মসজিদের হুজুর ডেকে এনে আমাকে বিয়ে করে। এরপর প্রায় ৮-৯ মাস আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে বসবাস করি। এ সময় সে আমার কাছ থেকে নগদ সাড়ে ৪ লাখ টাকা, একটি মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়। পরে ধীরে ধীরে আমাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে।

শেফালী খাতুন অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি আমি স্ত্রী পরিচয় নিয়ে তার বাড়িতে গেলে সাকিল ও তার মা আমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর কেউ জিজ্ঞেস করলে সে আমাকে তার স্ত্রী বলে অস্বীকার করতে থাকে।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে কোটচাঁদপুর থানায় যেতে চাইলে স্থানীয় এক কাউন্সিলর বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু কোনো সমাধান না হওয়ায় আমি আপনাদের শরণাপন্ন হয়েছি। আপনারা ঘটনাটি সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরুন, যাতে দেশের মানুষ জানতে পারে।

শেফালী খাতুন বলেন, হয় সাকিল আমাকে স্ত্রী হিসেবে মর্যাদা দিয়ে সঙ্গে রাখবে, নতুবা আমার কাছ থেকে নেওয়া টাকা, মোবাইল ও স্বর্ণালংকার ফেরত দেবে। তা না হলে আমি আদালতে মামলা করবো।

তিনি আরও জানান, তার বয়স ৩০ বছর। তিনি পেশায় একজন রান্নার কর্মী এবং এক সন্তানের জননী।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাকিল হোসেন বলেন, শেফালির সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। কেউ আমার সম্মান ক্ষুণ্ন করার জন্য তাকে দিয়ে এসব করাচ্ছে। আমি তার কাছ থেকে কোনো টাকা বা মালামাল নিইনি। তার আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।

সাকিল আহম্মেদ কোটচাঁদপুর পৌর শহরের পশু হাসপাতালপাড়া এলাকার পিরু আহম্মেদের ছেলে। তিনি কোটচাঁদপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।




ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ মেহেরপুর জেলা শাখার নবনির্বাচিত বোর্ডের দায়িত্ব গ্রহণ

ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ মেহেরপুর জেলা শাখার নবনির্বাচিত বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মাহফুজুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ মোহাম্মদ তোয়াশীন।

দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সভাপতি মাহফুজুর রহমান জেলা বোর্ডের সদস্য, ইউনিট পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সংগঠনের সাধারণ সদস্যদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই দায়িত্ব কোনো ব্যক্তিগত সাফল্যের প্রতীক নয়; বরং এটি সংগঠনের প্রতি সদস্যদের আস্থা, ত্যাগ ও সম্মিলিত পরিশ্রমের স্বীকৃতি।

নেতৃত্বকে ক্ষমতার নয়, বরং সেবা, দায়বদ্ধতা ও মানবিক দায়িত্বের জায়গা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সকলকে সঙ্গে নিয়ে মেহেরপুর জেলাকে ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশের একটি আদর্শ, কার্যকর ও শৃঙ্খলাবদ্ধ জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ তোয়াশীন তাঁর বক্তব্যে বলেন, সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করা তাঁর জন্য একই সঙ্গে সম্মানজনক ও দায়িত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, এই সাফল্য একক কোনো অর্জন নয়; বরং এটি সংগঠনের প্রতিটি সদস্যের বিশ্বাস, সহযোগিতা ও নিরলস পরিশ্রমের ফল। স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও ঐক্যের ভিত্তিতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, সংগঠিত ও ফলপ্রসূ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশের লক্ষ্য ও আদর্শ বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ মেহেরপুর জেলা শাখার নবনির্বাচিত কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সহ-সভাপতি আনাস আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ রুবাইয়া সুলতানা, প্রজেক্ট অফিসার মোছাঃ টুম্পা, মানব সম্পদ কর্মকর্তা মাসুমা সুলতানা রানী এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা নাফিস সাদিক।

এদিকে সংগঠনের মেহেরপুর জেলা শাখার সাবেক নেতৃবৃন্দ নবনির্বাচিত কমিটিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ মেহেরপুর জেলা শাখা আরও শক্তিশালী হবে এবং মানবিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে জেলায় একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, নবনির্বাচিত কমিটির ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্বে ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ মেহেরপুর জেলা শাখার কার্যক্রম নতুন গতি পাবে এবং মানবতার সেবায় সংগঠনটি আরও বিস্তৃত ভূমিকা রাখবে।




লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ চুয়াডাঙ্গার দুই তরুণ

চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গার দুই তরুণ লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ রয়েছেন। দুই পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কালুপোল গ্রামের ইসাহক আলীর ছেলে মিঠুন হোসেন (২৯) এবং আলমডাঙ্গা উপজেলার আইলহাস ইউনিয়নের খাসবাগুন্দা গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে সাঈদ মিয়া (২২) প্রায় ১৫ দিন আগে লিবিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সম্পর্কে তারা মামা-ভাগ্নে।

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার ঝাউদিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক তাদেরকে লিবিয়া নিয়ে যান এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সাগরপথের যাত্রায় সামিল করেন। পরিবারের ভাষ্যমতে, সাগরে নেমে নৌকা থেকে সর্বশেষ ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছিলেন মিঠুন ও সাঈদ আজ থেকে প্রায় ১৩ দিন আগে। এরপর থেকে তাদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

লিবিয়া হয়ে সাগরপথে ইতালি যাওয়ার সময় প্রায় প্রতিদিনই ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবে যাওয়া বা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। সেই ভয়াবহ বাস্তবতা মনে করে দিন দিন মা-বাবার আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। কোনো খোঁজখবর না পেয়ে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে চরম উৎকণ্ঠা, স্বজনেরা প্রায় পাগলপ্রায় অবস্থায় রয়েছেন।

নিখোঁজ দুই তরুণের পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে যদি কোনোভাবে তাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়।




এক টুকরো কম্বলের অপেক্ষায় আলমডাঙ্গার অসহায় পরিবার গুলো

হিমেল হাওয়ায় নীরব কান্না, একটু সহানুভূতির চোখে একটুকরো শীতবস্ত্র নামক কম্বলের আকুল আবেদন। ধনবান ও সম্পদশালীদের এগিয়ে আসার আহ্বান। ঠান্ডা হিমেল বাতাসে শীতের তীব্র আক্রমণে সাধারণ মানুষের জীবন থমকে গেছে।

আলমডাঙ্গায় তাপমাত্রা নেমে এসেছে প্রায় ৯ ডিগ্রিতে। কনকনে শীতে কাঁপছে উপজেলাবাসী, কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকরভাবে কম্বল বিতরণের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। নামমাত্র স্টেশনে দু’দিন বিতরণের কথা শোনা গেলেও সেই কম্বল ছিন্নমূল মানুষের হাতে পৌঁছায়নি।

উপজেলাজুড়ে ঘুরে দেখা গেছে, ঠান্ডার রাতে কারও কপালে জোটেনি একটুকরো উষ্ণতা। কনকনে শীতে প্রাণ কাঁপে, অথচ প্রশাসনের কম্বল এখনো পৌঁছায়নি অসহায় মানুষের হাতে। রাস্তায় এবং যারা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটায়, তাদের জন্য প্রশাসনের এই উদাসীনতা সরাসরি অমানবিকতার শামিল।

২০২২ সালের আদমশুমারি রিপোর্ট অনুযায়ী, আলমডাঙ্গায় ১৫টি ইউনিয়নের ২১১টি গ্রাম ও ১টি পৌরসভা নিয়ে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার মানুষ বসবাস করে। এছাড়াও উপজেলায় রয়েছে ৬টি আবাসন, ১৩টি এতিমখানা ও ১টি বৃদ্ধাশ্রম যার কোনোটিতেই এবার দৃশ্যমানভাবে কম্বল দেওয়া হয়নি।

অথচ এই শীতে বৃদ্ধদের শরীর নিথর হয়ে আসছে, আর প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকায়। প্রশ্ন জাগে এই শীতেও যদি প্রশাসন দায়িত্ব না নেয়, তাহলে কবে নেবে দায়িত্ব?

এটি শুধু অবহেলা নয়, এটি দায়িত্বহীনতার নির্মম উদাহরণ। দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে কম্বল বিতরণে ব্যর্থতার দায় সম্পূর্ণভাবে উপজেলা প্রশাসনের।

জামজামি ইউনিয়নের নারায়ণপুর আবাসনের এক বৃদ্ধা বলেন, এই শীতেও একটা কম্বল পেলাম না। যে শীত পড়ছে, মনে হচ্ছে এবারই সবচেয়ে বেশি শীত পড়ছে। আমরা গরিব মানুষ অন্যের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি কখন একটু গরম কাপড় পাব এই আশায়। গতবার উপজেলা থেকে আগে কম্বল দিয়েছিল, কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত পাইনি।

কম্বল বিতরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মানবাধিকার কমিশন আলমডাঙ্গা শাখার সভাপতি আল-আমিন হোসেন পরশ বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে যে কনকনে শীত পড়ছে, তাতে মানুষের হাড় কাঁপছে, অথচ উপজেলা প্রশাসন এখন পর্যন্ত কম্বল বিতরণের কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

সিনিয়র সাংবাদিক হামিদুল ইসলাম আজম বলেন, শীত কারও জন্য অপেক্ষা করে না, কিন্তু সহায়তা কেন এত দেরি করে? একটি কম্বল কারও কাছে শুধু কাপড় নয় এটাই তার জীবন বাঁচানোর শেষ আশ্রয়।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার বলেন, নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে এবার একটু দেরি হচ্ছে। প্রতিদিনই মিটিং অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে দুই-তিন কার্যদিবসের মধ্যে কম্বল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।




মেহেরপুরের অনলাইন ক্যাসিনো এজেন্ট প্রসেনজিৎ হালদার গ্রেপ্তার

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর গ্রামের ক্যাসিনো এজেন্ট প্রসেনজিৎ হালদারকে গ্রেপ্তার করেছে মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কোমরপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গ্রেপ্তার প্রসেনজিৎ হালদার কোমরপুর গ্রামের মধু হালদারের ছেলে।

ডিবি সূত্র জানায়, প্রসেনজিৎ হালদার সম্প্রতি মেহেরপুরে দায়ের হওয়া সাইবার সুরক্ষা আইনের একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

পাশাপাশি ক্যাসিনো সংশ্লিষ্টতা ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ঢাকা সিআইডি মানি লন্ডারিং ইউনিট অনুসন্ধান চালাচ্ছে। এছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক মামলাও রয়েছে।

এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনে মেহেরপুর জেলায় দায়ের হওয়া প্রথম মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে প্রসেনজিৎ হালদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চলমান অন্যান্য মামলাগুলোতেও গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।

গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত আলামত সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এগুলো যাচাই-বাছাই একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। যাচাই সম্পন্ন হলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।

উল্লেখ্য, এর আগেও অনলাইন জুয়া সাইট ও ক্যাসিনো এজেন্ট পরিচালনার অভিযোগে প্রসেনজিৎ হালদার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।