“স্বাধীন নারী, আলোকিত সমাজ”

আজকের পৃথিবীতে “নারীর স্বাধীনতা” কেবল একটি শব্দ নয়—এটি একটি সমাজকে বদলে দেওয়ার শক্তি। স্বাধীনতা মানে শুধু বাইরে কাজ করার সুযোগ নয়; স্বাধীনতা মানে নিজের মতো করে বাঁচার অধিকার। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা এখনো এমন এক সমাজে বাস করি যেখানে মেয়েদের ইচ্ছা–অধিকার–স্বপ্নকে অনেক সময়ই তুচ্ছ করে দেখা হয়। অথচ সমাজ যত আধুনিকই হোক, নারীর স্বাধীনতা ছাড়া কোনো উন্নয়নই সম্পূর্ণ হতে পারে না।

একবিংশ শতাব্দীতে পৃথিবী সামনে এগোয়, প্রযুক্তি বদলায়, সভ্যতা উন্নত হয়—কিন্তু নারীর স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্নগুলো এখনো একই জায়গায় ঘুরপাক খায়। নারী স্বাধীনতা আসলে কী? “নারীর স্বাধীনতা” আজও একটি আলোচিত, বিতর্কিত এবং একই সঙ্গে জরুরি বিষয়। শব্দটি যতটা সহজ, বাস্তবে তার প্রয়োগ ততটা কঠিন। কারণ স্বাধীনতা মানে শুধু বাইরে কাজ করার অনুমতি নয়; স্বাধীনতা মানে নিজের মতো করে বাঁচার অধিকার। আর এই অধিকার অর্জনের পথেই সবচেয়ে বড় বাধা—সমাজের চোখে আজও নারীর প্রতি অদৃশ্য বৈষম্য।

শিক্ষার অধিকার, কাজের সুযোগ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা—এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি থাকলেও বাস্তবতার চিত্র পুরোপুরি উজ্জ্বল নয়। শহরের নারী হয়তো কিছুটা এগোতে পেরেছে, কিন্তু গ্রাম থেকে শহরতলি—এখনও অসংখ্য নারী বাল্যবিয়ে, যৌতুক, সহিংসতা, কর্মসংস্থানের অভাব আর সামাজিক নজরদারির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের স্বাধীনতা এখনও “সমাজ কি বলবে”—এই চার শব্দের কাছে বন্দি।

একজন নারীর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে গভীর দৃষ্টিতে চিন্তা করলে পরিষ্কারভাবে ওঠে আসবে নারীর জীবন কতটা ভয়াবহ। এই ভয়াবহতার পেছনে যে কেবল পুরুষ সমাজ দায়ী তা নয়, বরং নারী ও পুরুষ সমানভাবে দায়ী।আমরা কথায় কথায় পুরুষের দোষ খুঁজে বেড়াই, কিন্তু নিজেদের দুর্বলতাগুলো নিয়ে কখনোই মুখ খুলি না। নারীবাদী হতে গিয়ে, আমরা অনেকটাই পুরুষ বিদ্বেষী হয়ে উঠেছি, যা আসলে আমাদের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করতে শেখায়। কিন্তু নারীরা যদি নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে শেখে, নিজের জায়গাটা নিজে চিনে নিতে শেখে, পুরুষের সাধ্য নেই নারীকে আটকানোর।

নারীর স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় বাধা হলো সমাজের সেই অদৃশ্য দেয়াল, যা চোখে দেখা যায় না—কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপে তাকে আটকে ধরে। স্কুলে পড়াশোনা করতে গেলে “মেয়ে হয়ে এত দূর যাবে?”, চাকরি করতে চাইলে “বাড়ির কাজ আগে শেখো, সিদ্ধান্ত নিতে চাইলে “এইসব বিষয়ে মেয়েদের মাথা ঘামানোর দরকার নেই—এই সব কথাই যেন তার চারপাশে অদৃশ্য শৃঙ্খল হয়ে থাকে।এক শ্রেণির জনগোষ্ঠী আছে যারা উগ্রতার দোহাই দিয়ে নারী স্বাধীনতাকে কৌশলে ধ্বংস করার চেষ্টায় মত্ত। আরেক ধরনের জনগোষ্ঠী নারী স্বাধীনতার আড়ালে উগ্রতাকে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যস্ত। নারী স্বাধীনতা মানে উগ্রতা নয়। তাই নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী হোন, উগ্রতায় নয়।স্বাধীনতার আসল অর্থ হলো—নিজের সিদ্ধান্ত নিজের হাতে থাকা, নিজের জীবনের দিশা নিজে বেছে নেওয়া, এবং নিজের সম্ভাবনাকে পূর্ণতা দিতে পারা।

নারী যদি নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে না পারে, তাহলে সে শুধু ব্যক্তিগতভাবে পিছিয়ে পড়ে না; পুরো সমাজই পিছিয়ে যায়। কারণ পরিবার, অর্থনীতি, সংস্কৃতি—সব ক্ষেত্রেই নারীর অবদান অপরিসীম। একজন নারী যখন শিক্ষিত হয়, কর্মক্ষম হয়, নিজের অধিকারের বিষয়ে সচেতন হয়—তখন শুধু সে নয়, তার পরিবার থেকেও শুরু হয় বদল। একজন শিক্ষিত মা পুরো প্রজন্মকে বদলে দিতে পারে। তাই নারীর স্বাধীনতা মানে ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করা।

আমাদের সমাজে এখনো অনেক মেয়ে নিজের স্বপ্ন চাপা রেখে বাঁচে। কারও পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় বিয়ের চাপে; কারও চাকরির স্বপ্ন অন্ধকারে হারিয়ে যায় পরিবার–সমাজের ভুল ধারণায়। অথচ অধিকার চাওয়াটা কোনো অপরাধ নয়—এটা মানুষের জন্মগত অধিকার। নারীকে সম্মান দেওয়া মানে সমাজকে সম্মান দেওয়া। কারণ সমাজ চলে নারী–পুরুষ—দুজনের সমান অবদানে।

নারীর স্বাধীনতা রুখে দেওয়া মানে শুধু পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নয়—অনেক সময় নারীরাই নারীর পথ আটকে দেয়। “মানুষ কি বলবে”—এই ভয়ের বাঁধন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে যাচ্ছে।পরিবর্তন শুরু করতে হবে ঘর থেকে। মেয়ে-ছেলে উভয়কে শৈশব থেকেই শেখাতে হবে—সমতা মানে প্রতিযোগিতা নয়, সম্মান।

আজ দরকার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। নারীকে বন্ধন নয়—সমর্থন দিতে হবে; সন্দেহ নয়—বিশ্বাস দিতে হবে। মেয়েরা যখন নিজের মতো করে বাঁচতে পারবে, তখন তারা শুধু নিজের জীবনই আলোকিত করে না; পুরো সমাজকে আলোকিত নারীর স্বাধীনতা তাই কোনো দাবি নয়—এটা প্রয়োজন, এটা ভবিষ্যতের ভিত্তি।

সময় এসেছে—নারীকে তার প্রাপ্য স্বাধীনতাকে সত্যিকারের সম্মান দেওয়ার।নারীর স্বাধীনতা কোনো উপকার নয়, কোনো দয়া নয়—এটি তার জন্মগত অধিকার।যেদিন সমাজ এই সত্যকে স্বীকার করবে, সেদিনই আমরা সত্যিকারের অর্থে আধুনিক হব।




মুজিবনগরে ঐতিহ্যবাহি খ্রিস্টীয় আনন্দ মেলার উদ্বোধন 

মেহেরপুরের মুজিবনগরে খ্রিস্টান সম্প্রদায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দঘন পরিবেশে তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব বড়দিন উদযাপন করেছে।

বড়দিন উপলক্ষে গত বুধবার বল্লভপুর ইমানুয়েল চার্চ প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সপ্তাহ ব্যাপি ঐতিহ্যবাহী খ্রিস্টীয় আনন্দমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

আনন্দমেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বল্লভপুর ডিনারের দিন রেভা: দীপক উজ্জ্বল বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চার্চ অফ বাংলাদেশ কুষ্টিয়া ডায়াসিসের বিশপ রেভা: হেমেন হালদার।

আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে মশাল প্রজ্জ্বলন মাধ্যমে দিনব্যাপী খ্রিস্টীয় আনন্দমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

সন্ধ্যায় মুজিবনগরের বল্লভপুর ইমানুয়েল চার্চ প্রাঙ্গনে শিশুদের সঙ্গে কেক কেটে বড়দিনের উৎসবের উদ্বোধন এবং যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন উদযাপন করেন, জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবীর ও জেলা পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।

‘শুভ বড়দিন’ উপলক্ষে পুরো বল্লভপুর এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। গির্জা ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বসতবাড়িগুলো আলোকসজ্জায় ঝলমল করতে দেখা যায়। নানা রঙের সাজ, আল্পনা ও নান্দনিক সাজসজ্জায় গির্জা প্রাঙ্গণ ও বাড়ির আঙিনা হয়ে ওঠে বর্ণিল।

বড়দিনের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মজীবী স্বজনরা নাড়ির টানে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। অতিথিদের আপ্যায়নে বাড়ির গৃহিণীরা পিঠাপুলি ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন করেন।

২৫ সে ডিসেম্বর বড়দিন উপলক্ষে ১ শত বছরের ঐতিহ্য খ্রিস্টীয় আনন্দমেলা জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মশাল প্রজ্জ্বলন, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে শিশুদের সঙ্গে কেক কেটে বড়দিনের আনন্দ ভাগাভাগি করা হয়।

অনুষ্ঠানে বল্লভপুর ডিনারীর ডীন রেভা. দীপক উজ্জ্বল বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাইট রেভা. হেমেন হালদার, বিশপ, কুষ্টিয়া ডায়োসিস।

এ সময় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবীর, পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহি অফিসার সাইফুল হুদা, মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তি, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের মাধ্যমে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।




আলমডাঙ্গায় বিভিন্ন মামলায় ৬ আসামি গ্রেফতার

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে চুরি মামলাসহ বিভিন্ন মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানা ৬ আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত চুরি মামলার আসামী হলো- আলমডাঙ্গার ক্যানেলপাড়ার অশোক ঘোষের ছেলে অন্তিম ঘোষ (২৫),

এছাড়াও অন্য মামলার আসামীরা হলো- উপজেলার ওসমানপুর গ্রামের নুর উদ্দিনের ছেলে সাগর ওরফে হ্যাবল (২১), দুর্গাপুর গ্রামের মৃত নবাব মন্ডলের ছেলে মো. হানিফ (৩৭), পূর্ব কমলাপুর মাধবী তলার নুরুল ইসলামের ছেলে

মো. আল মামুন (৪০), নওদাপাড়ার মৃত সিরাজ মালিতার ছেলে মো. খলিল মালিতা (৬০), প্রাগপুর গ্রামের মৃত আজিম উদ্দিনর ছেলে মো. স্বপন (২৬) ফরিদপুর গ্রামের আজিজুল হকের স্ত্রী মোছা. সিপালী বেগম।

পুলিশ জানিয়েছে, গত বুধবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে গ্রেফতারকৃতরা সবাই বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি।

আলমডাঙ্গা থানার কর্মকর্তারা জানান, গ্রেফতারকৃত সাতজনকে বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।




দর্শনার জয়নগর মাঠ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৫৮ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার

দর্শনা ৬ বিজিবি অভিযান চালিয়ে জয়নগর মাঠ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৫৮ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টার দিকে দর্শনা জয়নগর  আইসিপি ক্যাম্প কমান্ডার এনামুল কবিরের নেতৃত্বে অভিযান চালায় জয়নগর মাঠে। এ সময় বিজিবি কয়েকজন লোক মাঠে ঘাস বোঝায় করে নিয়ে যাচ্ছে।এতে করে বিজিবির সন্দেহ হলে তাদেরকে দাঁড়াতে বলে তারা ঘাসের বস্তা ফেলে দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

পরে বিজিবি ঘাসের বস্তা খুলে ৫৮ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তারা কোনো চোরাচালানীকে আটক করতে পারেনী।




দামুড়হুদায় ফার্স্ট মাল্টিমিডিয়া মডেল স্কুলের বার্ষিক ফলাফল প্রকাশ

দামুড়হুদায় ১ যুগ পদার্পণ উপলক্ষে ফার্স্ট মাল্টিমিডিয়া মডেল স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার সময় ফার্স্ট মাল্টিমিডিয়া স্কুল কতৃপক্ষের আয়োজনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উবায়দুর রহমান সাহেল। এসময় তিনি বলেন, আমরা যারা অভিভাবক আছি বাচ্চাদেরকে প্লে থেকে ১০ম শ্রেনী পর্যন্ত গাইড করে থাকি, তার পর আমরা সন্তানের তেমন খোজ খবর রাখি না, এটা ঠিক নয় আপনার সন্তান প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আপনাদের এই গাইড ধরে রাখতে হবে। যেন কোনোভাবেই আমার সন্তান যেন বিপথে না যায়। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে আমরা সবাই মর্ডনাইজ হয়ে যাচ্ছি এরকম তাল মিলাতে গিয়ে আমরা আমাদের পারিবারিক শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলছি। এখন কেউ আর বড়দের সেইভাবে শ্রদ্ধা ও ছোটদের স্নেহ করছে না। আমরা আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছি। একসময় ভোরবেলা ফজরের নামাজ পড়ে মক্তব্যে আমরা হুজুরের কাছ থেকে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করতাম, সন্ধ্যা হলে অভিভাবকদের ভয়ে পড়ার টেবিলে বসতাম ও বড়দের দেখলে ভয়ে পাশ কাটিয়ে যেতাম এই বিষয় গুলো তেমন দেখা যায় না। এই শূন্যতা পূরণ করতে হলে আমাদের পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অভিভাবক ডাঃ আতাউর রহমান রতন, স্টার নিউজ চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাব সহ- সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক জহির রায়হান, দৈনিক সমকাল চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি ও দামুড়হুদা প্রেসক্লাব সহ- সভাপতি মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, কৃর্তি শিক্ষার্থী অভিভাবক নাছিমা খাতুন, অভিভাবক আশরাফুল ইসলামসহ শিক্ষক- শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী ও আমন্ত্রণিত অভিভাবকবৃন্দ।

স্কুলের ১ যুগ পদার্পণ উপলক্ষে কেক কেটে উদযাপন করা হয় এবং আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিজয়ী শিক্ষার্থী ও প্লে থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ডায়মন্ড ও প্লাটিনাম গ্রুফের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানটির সার্বিক ব্যবস্থায় ছিলেন, ফার্স্ট মাল্টিমিডিয়া মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ।




মুজিবনগরে পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির কম্বল বিতরণ

মেহেরপুরের মুজিবনগরে প্রচন্ড শীতে মানুষের মাঝে একটু উষ্ণতা এনে দিতে পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতি শীতার্থ মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার আনন্দবাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে

পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির আয়োজনে  মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নে ১৫০  জন অসহায় দরিদ্র প্রবীণ মানুষের মাঝে এ সমস্ত কম্বল বিতরণ করা হয়।

কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে  উপস্থিত ছিলেন, পলাশী পাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির উপ নির্বাহী পরিচালক কামরুজ্জামান, পরিচালক কামরুল আলম ও বাগোয়ান ইউনিয়নের প্রবীন ইউনিয়ন সভাপতি।




চিকিৎসাধীন অবস্থায় রকিবুল ইসলামের মৃত্যু

মেহেরপুরের আমদহে ডাম্প ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত রকিবুল ইসলাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বুধবার দিবাগত রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিহত রকিবুল ইসলাম মেহেরপুর সদর উপজেলার চকশ্যামনগর গ্রামের শামসুল হুদার ছেলে। তিনি মালয়েশিয়া প্রবাস ফেরত ছিলেন।

এর আগে একই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন তার ভাগ্নে মো. লিজন (৩২)। তিনি মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী গ্রামের মো. মফিজুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রকিবুল ইসলাম ও তার ভাগ্নে লিজন মোটরসাইকেলযোগে মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী গ্রাম থেকে সদর উপজেলার টেংরামারি এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে সদর উপজেলার আশরাফপুর বাইপাস সড়কের বোরিং এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবাহী ডাম্প ট্রাকের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষে দু’জনই সড়কে ছিটকে পড়েন। এ সময় ডাম্প ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই লিজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় রকিবুল ইসলামকে উদ্ধার করে প্রথমে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে একদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে বুধবার দিবাগত রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।




গাংনীতে বিজিবির অভিযানে মদ-ট্যাবলেট ও পটকা উদ্ধার

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজীপুর সীমান্তে ভারতীয় মদ, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও পটকা উদ্ধার করেছে বিজিবি।

আজ বুধবার রাত দেড়টার দিকে কাজীপুর বর্ডারপাড়া এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় সেগুলো উদ্ধার করা হয়। ৪৭-বিজিবি ব্যাটেলিয়ন প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাজীপুর এলাকার ১৪৬/৪-এস হতে আনুমানিক ৩০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কাজীপুর বর্ডারপাড়া নামক স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সুবেদার মোঃ হাবিবুর রহমান এর নেতৃত্বে নিয়মিত টহল দল ওই স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ভারতীয় ৩০ বোতল মদ, ৭শ’ পিস সিলডিনাফিল ট্যাবলেট এবং ১১শ’৪০পিচ চকলেট বাজি (পটকা) উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন লক্ষ টাকা।




তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানের পাইলট ইন কমান্ডার ছিলেন মেহেরপুরের ইমন

দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সফরসঙ্গী হিসেবে তার সাথে আছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং তাদের আদরের পোষা বিড়াল ‘জেবু’।

গতকাল বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত সোয়া ১২টার দিকে (স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া ৬টায়) লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনের ফ্লাইটটি ঢাকার পথে রওনা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে লন্ডন থেকে ঢাকায় বহনকারী বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন তিনজন জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ পাইলট। ফ্লাইটের পাইলট-ইন-কমান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মেহেরপুরের কৃতি সন্তান ক্যাপ্টেন ইমামুল ইসলাম ইমন, যিনি দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতার জন্য পরিচিত।

ডেকে তার সঙ্গে সহকারী পাইলট হিসেবে আছেন দুই অভিজ্ঞ ক্যাপ্টেন—রাশেদিন ও আসিফ ইকবাল।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একাধিক সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে অভিজ্ঞ ও সিনিয়র পাইলটদের সমন্বয়ে এই ফ্লাইট ক্রু গঠন করা হয়েছে।




মাতৃভূমিতে তারেক রহমান

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মাটিতে পা রাখলেন তারেক রহমান। আজ সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি ২০২ ফ্লাইটটি অবতরণ করে।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরের রেড জোনে তাকে শুভেচ্ছা জানাবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

সেখান থেকে বের হয়ে ঢাকার ৩০০ ফিট সড়কে দলের আয়োজিত গণসংবর্ধনা সমাবেশে যাবেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।

এরপর তারেক রহমান মায়ের সঙ্গে দেখা করতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন। এরপর তাঁর গুলশানের বাসভবনে ফেরার কথা রয়েছে।

এর আগে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে গ্রাউন্ড টার্নঅ্যারাউন্ডের পর সকাল ১১টা ১২ মিনিটের দিকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

তারও আগে বুধবার লন্ডনের (২৪ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ১৫ মিনিট) তারেক রহমানকে বহনকারী ফ্লাইটটি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

এদিকে ঐতিহাসিক এই মাহেন্দ্রক্ষণে প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে রাজধানীর জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে এসেছে লাখ লাখ মানুষ।

তীব্র শীত উপেক্ষা করে রাত থেকে সমাবেশস্থলে অবস্থান নেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ। এদিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করে। ভোর থেকে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত পুরো এলাকা।

সরেজমিন দেখা গেছে, রাজধানীর প্রায় সব এলাকা থেকে দল বেঁধে হেঁটে কিংবা বাস-ট্রাক-মোটরসাইকেলে করে স্লোগান দিতে দিতে ৩০০ ফিট ও বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।