ঝিনাইদহে স্বর্ণময়ীর বাড়িতে শোকের মাতম, শহরে নিন্দার ঝড়

ঢাকার মিডিয়া কর্মী স্বর্ণময়ীর মৃত্যুকে কোন রকম ভাবেই মেনে নিতে পারছে না পরিবার, বাড়িতে বইছে শোকের মাতম, এদিকে কে নিয়ে ঝিনাইদহ শহর জুড়ে চলছে নিন্দার ঝড়।

গত ১৮ অক্টোবর ঢাকা স্ট্রিম হাউজের মিডিয়া কর্মী স্বর্ণময়ী শেরেবাংলা নগরের নিজ বাসায় আত্মহত্যা করে। এই আত্মহত্যার কারণ হিসেবে উঠে আসে একই হাউজের একই জেলার সিনিয়র পুরুষ সহকর্মী আলতাফ শাহনেওয়াজ নয়নের নাম।

স্বর্ণময়ী ঝিনাইদহ শহরের আর্দশ পাড়ার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ভক্তি গোপাল বিশ্বাসের মেয়ে। অপর দিকে আলতাফ শাহনেওয়াজ নয়ন একই শহরের হামদহ এলাকার মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত হোসেনে ছেলে।

এদের উভয়ের গ্রামের বাড়ি একই ইউনিয়নে এবং কর্মস্থল একই হাউজে হওয়ায় সর্ম্পকের সুত্রতা তৈরি হয়। কদিন ধরেই এনিয়ে ঢাকার মিডিয়া হাউজ এবং ঝিনাইদহে সোস্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।

কতিথ আলতাফ শাহনেওয়াজ নয়নের বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা বলে পরিচিতি থাকলেও যারা প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা তারা বলেন উনি কখোনই মুক্তিযুদ্ধ করেন নি, পরবর্তিতে বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগ করে তার ছেলের মাধ্যমে তিনি মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট অর্জণ করেছেন।

স্বর্ণময়ীর বন্ধু স্বজনদের নিকট থেকে জানা যায়, সে একজন অত্যন্ত সাহসি এবং প্রগতিশীল মানষিকতার মেয়ে ছিলেন। একই মিডিয়া হাউজে কাজ করার সুবাদে স্বর্ণময়ীকে নানাভাবে মানষিক এবং যৌন হয়রানি করত এই নয়ন। শুধু তাকেই নয় সেই অফিসের ২৬জন সহকর্মী তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন সম্পাদক বরাবর।

কিন্তু সম্পাদক নয়নের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করে অভিযোগ কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে থাকে এই আলতাফ শাহনেওয়াজের ডাক নাম নয়ন। যিনি নির্লিপ্ত নয়ন নামে কবিতা লিখতেন, ছিলেন প্রথম আলো পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদকও ।

তারপর তার পড়ালেখা ও বেড়ে ওঠা সম্পর্কে এখন নানা মুখরোচক আলোচনা শোনা যাচ্ছে। তিনি প্রতিবন্দ্বী কোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ায় সুযোগ করে নেন। এই ধরণের হয়রাণির ঘটনার শিকার হয়ে তার বোন আত্মহত্যা করে বলে আমরা জানি। যে নয়ন সেদিন তার বোনের ধর্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছিলো অনেকেই এগিয়ে এসছিল সেই প্রতিবাদ মিছিলে, আজ সে নিজেই একজনের আত্মহত্যার কারণ হয়ে দাড়ালেন বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে দাবি করেণ শহরের বিজ্ঞজনেরা।

সহকর্মীর বিরুদ্ধে এধরণের যৌন নিপিড়নের কারণে অত্মহত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এলাকাবাসী এবং এই নয়নের গ্রেপ্তার পূর্বক সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে শাস্তি দাবি করেণ তারা। তারা জানান এই অপরাধ ক্ষমাহীন। নয়ন তার ফেসবুকে লিখেছিল “যার ব্রে’স্টের শেপ এরকম ভচকানো, তার বাংলাটা ভচকানো হবে” উপরের এই বাক্যটি স্বর্ণময়ীকে নিয়ে নাকি লিখেছিল। যা স্বর্ণময়ীকে এক পর্যায়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে ।

স্বর্ণময়ীর বাড়িতে গেলে দেখাযায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক বাবা শোকে মুর্ছমান। অপরদিকে নয়নের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। স্বর্ণময়ীরা দুই ভাই বোনের মধ্যে সে ছোট। ঝিনাইদহবাসী এবং দেশের ২৪৭জন বিশিষ্ট নাগরিক এই প্ররোচিত হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করেণ।




চুয়াডাঙ্গায় ২ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার-১

চুয়াডাঙ্গা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ২ কেজি গাঁজাসহ একজনকে  গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত হলো দর্শনা থানার গিরিশনগর গ্রামের মৃত্য আইন জোয়াদ্দারের ছেলে বাচ্ছু মিয়া (৫৫)।

গতকাল মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে চুয়াডাঙ্গার জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই(নিঃ) আশিকুর রহমান সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে গিরিশ নগর হাসেম আলীর বাড়ির সামনে থেকে ২ কেজি গাঁজাসহ তাকে গ্রেফতার করে। গতকালই তাকে মাদক আইনে মামলাসহ চুয়াডাঙ্গা কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।




আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের অভিযানে মাদকদ্রব্য সহ গ্রেফতার ১

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে ২০(বিশ) পিচ টেপেন্ডাল ট্যাবলেট উদ্ধার সহ ১জনকে গ্রেফতার করেছে। গতকাল মঙ্গলবার আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাঃ মাসুদুর রহমান (পিপিএম) এর নেতৃত্বে এসআই(নিঃ) মোঃ আলমগীর কবীর, আলমডাঙ্গা থানা সংগীয় অফিসার ফোর্সসহ থানা এলাকায় নিয়মিত মোবাইল ডিউটি ও মাদক বিরোধী অভিযানকালে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলমডাঙ্গা থানাধীন গোবিন্দপুর গ্রামের মোল্লা মৎস প্রকোল্প এর সামনে পাঁকা রাস্তার উপর হতে আসামী গোবিন্দপুর পূর্বপাড়ার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মোঃ মিজানুর রহমান চঞ্চল(২৮) কে ২০(বিশ) পিচ মাদকদ্রব্য ট্যাপেন্ডল ট্যাবলেট সহ গ্রফতার করে।

পরে তার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত আলামত গতরাত ১১ ঘটিকায় জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করেন। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানার ধারা-২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এর ৩৬(১) সারণির ২৯(ক) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। গতকালই তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।




আলমডাঙ্গা ভাংবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

আসন্ন ভাংবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নির্বাচনে “১নং ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়ন সর্বজনীন শিক্ষা উন্নয়ন পরিষদ” এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে আসন্ন ভাংবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ ১নং ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়ন সার্বজনীন শিক্ষা উন্নয়ন পরিষদ প্যানেলের এই নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।

এসময় ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সহ-সভাপতি মজিরুল ইসলাম বিজু এ নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন। আবু তারেক মেম্বারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, প্রধান অতিথি ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি টিপু সুলতান। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সানোয়ার হোসেন লাড্ডু এবং বিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইউনিয়ন বিএনপি’র সহ-সভাপতি মজিরুল ইসলাম বিজু, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মাবুদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক তুহিবুল হুদা তুহিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক মোমিরুল ইসলাম রাজু।

ইউনিয়ন বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক খন্দকার নাজমুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মাবুদ পিন্টু মেম্বার, ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি মতিয়ার রহমান, আবুল হাসেম, সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান সেন্টু, উপজেলা যুবদলের সদস্য আবুজার, সেলিম রেজা, সাইফুল ইসলাম বদর, সাধন কুমার বিশ্বাস, সাইদুর রহমান, হাসমত, রাজাবুল, মকিবুল, জামান, শাকিবুল সহ স্কুল প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক সদস্য বিন্দু।

‘১নং ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়ন সার্বজনীন শিক্ষা উন্নয়ন পরিষদ’ প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন মোট ৫ জন। তারা হলেন- মোঃ আবু সাঈদ আলী, মোঃ আহসান হাবীব, মোঃ তরিকুল ইসলাম, মোঃ শামীম রেজা ও মহিলা অভিভাবক সদস্য মোছাঃ সাহার বানু।  আগামী ২৮ অক্টোবর ২০২৫ মঙ্গলবার এই নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটার সংখ্যা – ৪৫০ জন। সভাপতি বাদে মোট ৫টি পদের জন্য ১৪জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনী ইশতেহার এ ২০ বিষয়ে অঙ্গীকার দেওয়া হয়। তার মধ্যে অন্যতম বিষয়গুলো হলো, ” গরীব মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য মাসিক বেতন ফ্রি বা ক্ষেত্র বিশেষে হাফ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রতিটি ছাত্র/ছাত্রী যেন পড়ার টেবিলে বসে, সেই কারণে স্কুলে প্রতি সপ্তাহে বা প্রতি মাসে ১টি করে প্রত্যেকটি সাবজেক্টে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে কোন ছেলে, মেয়ের কাছ থেকে আর্থিক লেনদেন করলে সেটার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের স্কুল থেকে যে সমস্ত মেধাবী ছাত্ররা পাশ করে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাদের আমরা ডেকে স্কুলের ছেলে-মেয়েদের উৎসাহ প্রদান করানোর জন্য চেষ্টা করবো।”

বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ার কারণে এই নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।




মুজিবনগরের দারিয়াপুরে বিএনপির গণসংযোগ ও পথযাত্রা

মেহেরপুরের মুজিবনগরে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ ও পথযাত্রা করেছে মুজিবনগর উপজেলা ও দারিয়াপুর ইউনিয়ন বিএনপি।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মেহেরপুর জেলা বিএনপি’র (সাবেক) সভাপতি ও (সাবেক) সংসদ সদস্য জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাসুদ অরুনের নেতৃত্বে উপজেলার দারিয়াপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ধানের শীষের পক্ষে এ গণসংযোগ করা হয়। দারিয়াপুর ইউনিয়ন বিএনপি অফিসের সামনে থেকে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মোনাখালী খেলার মাঠে গিয়ে পদযাত্রা শেষ হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মেহেরপুর জেলা বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রশিদ, মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আকিব জাবেদ সেনজির, জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রোকন, মুজিবনগর উপজেলা যুবদলের সভাপতি আবুল হাসান। জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু হাসনাত আফরোজ, মেহেরপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন গাজী, উপজেলা সেচ্ছসেবক দলের আহ্বায়ক জুলফিক্কার আলী (ভুট্ট মেম্বার) সহ উক্ত গণসংযোগে উপজেলা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




মেহেরপুরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের গণসংযোগ

মেহেরপুর পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের নেতৃত্বে মেহেরপুর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে শহরের হোটেল বাজার থেকে গণসংযোগের সূচনা হয়। পরে নেতাকর্মীরা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।

এর আগে হোটেল বাজার এলাকায় এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন, আব্দুস সাত্তার মুক্তার। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মেহেরপুর পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস।

পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি নেতা বাবু, হাবিব ইকবাল, মামুনুর রশীদসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।




মেহেরপুরে প্রতারণা মামলায় এক জনের দুই বছরের কারাদণ্ড

মেহেরপুরে প্রতারণা মামলায় গোভিপুর গ্রামের প্রতারক হাবিবুর রহমানকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মেহেরপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত হাবিবুর রহমানকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। তিনি মেহেরপুর সদর উপজেলার গোভিপুর গ্রামের মৃত আয়নাল হকের ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মেহেরপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বোসপাড়ার আসিফ ইকবাল ২০২৩ সালে ব্যবসায়িক লেনদেনে প্রতারণার অভিযোগে হাবিবুর রহমানের জামাতা জায়েদ হোসেন জিম ও মেহেরপুর বড়বাজারের “মায়ের দোয়া বস্ত্রালয় অ্যান্ড গার্মেন্টস”-এর স্বত্বাধিকারী সোহেল রানাকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর সিআর ৭০৪/২০২৩।

বাদীপক্ষের অভিযোগে বলা হয়, ডিলারশিপ ব্যবসা পরিচালনার জন্য আসিফ ইকবাল জায়েদ হোসেন জিমকে ১৩ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ হিসেবে প্রদান করেন। পরবর্তীতে লভ্যাংশ নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে বিনিয়োগের টাকা ফেরত চাইলে তিনি প্রতারণার শিকার হন। পরে আসামির জামাতার পক্ষে জিম্মাদার হিসেবে আসামির শ্বশুর হাবিবুর রহমান বাদীর সঙ্গে একটি আপোষনামা সম্পন্ন করেন এবং ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর থেকে তিন মাসের মধ্যে পাওনা টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করেন।

কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তিনি টাকা পরিশোধ না করে নিজের নামীয় জনতা ব্যাংকের একটি চেক প্রদান করেন। ব্যাংকে চেকটি জমা দিলে স্বাক্ষর অমিল ও অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে তা ডিজঅনার হয় বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়।

মামলার তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামি হাবিবুর রহমানকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেন। তার বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের আরেকটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

আসামি পক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান।

উল্লেখ্য, একই আদালত গত ২৯ সেপ্টেম্বর এই মামলার অপর দুই আসামি—হাবিবুর রহমানের জামাতা জায়েদ হোসেন জিমকে দুই বছর ও “মায়ের দোয়া বস্ত্রালয় অ্যান্ড গার্মেন্টস”-এর স্বত্বাধিকারী সোহেল রানাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন।




মেহেরপুরে কালবেলার তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

আলোচনা সভা, কেক কাটা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মেহেরপুরে দৈনিক কালবেলার তৃতীয় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার সময় জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে আড়ম্বরপূর্ণভাবে দৈনিক কালবেলার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের আয়োজন করা হয়।

জেলা তথ্য অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কালবেলা এমন একটি পত্রিকা, যা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে। এই যুগে টিকে থাকা সত্যিই একটি কঠিন কাজ, কিন্তু কালবেলা সেটি করতে পেরেছে।

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করা সম্ভব, আর কালবেলা ঠিক সেটাই করছে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের খবর জানতে পারি। সংবাদকর্মীদের নিরলস পরিশ্রম ও দায়বদ্ধতার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি সেক্টরের উন্নয়নে তাদের অবদান অনস্বীকার্য।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি তোজাম্মেল আজম, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক মেহেরপুর প্রতিদিনের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মাহাবুব চান্দু।

কলেজ শিক্ষক এস. এম. রফিকুল আলম বকুল ও দৈনিক কালবেলার মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি খান মাহমুদ আল রাফির সঞ্চালনায় এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ জামিনুর রহমান খান, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেজবাহ উদ্দিন, দৈনিক মেহেরপুর প্রতিদিনের সম্পাদক ইয়াদুল মোমিন, বাসস প্রতিনিধি দিলরুবা খাতুন, এনসিপি মেহেরপুর জেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী আশিক রাব্বি, সদস্য হাসনাত জামান সৈকত, মোঃ তামিম ইসলামসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

কেক কাটার পর এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।




মেহেরপুরে আয়োজিত হলো গ্রীন স্কুল ক্যাম্পেইন 

মেহেরপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক গতকাল মঙ্গলবার তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ উদযাপন উপলক্ষ্যে মেহেরপুর সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ে গ্রীণ স্কুল ক্যাম্পেইন কার্যক্রম ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, মেহেরপুর সরকারী বালিকা বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক মো: আব্দুল লতিফ (ভারপ্রাপ্ত), সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, মেহেরপুর জেলার সহকারী পরিচালক শেখ কামাল মেহেদী।

এছাড়াও অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, ইউথ নেট গ্লোবালের মেহেরপুর সদর উপজেলার কো-অর্ডিনেটর মোঃ লাবিব হাসান ও মেহেরপুর জেলার সাব কো-অর্ডিনেটর মোনায়েম হোসেন এবং মেহেরপুর সমাজ ও পরিবেশ উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধি সুজন হোসেন । পরিবেশ অধিদপ্তর, মেহেরপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শেখ কামাল মেহেদী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ও সচেতনতামূলক পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। গ্রীণ স্কুল ক্যাম্পেইন কার্যক্রম অনুষ্ঠানে মেহেরপুর সরকারী বালিকা বিদ্যালয়, মেহেরপুর এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জনাব মো: আব্দুল লতিফ ৮ম ও নবম-দশম শিক্ষার্থীদের পরিবেশ বিষয়ে বিভিন্ন দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর, মেহেরপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব শেখ কামাল মেহেদী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশ আইন, পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব, শব্দ দূষণ, বায়ু দূষণ, মাটি দূষণ ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক সম্পর্কে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের মাঝে লেখাপড়ার পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্বের পালন ও সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের জন্য আহবান জানান।

ইউথ নেট গ্লোবালের মেহেরপুর জেলার সাব কো-অর্ডিনেটর মোনায়েম হোসেন পাওয়ার পয়েন্ট এ কঠিন, তরল বর্জ্য, সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ও গৃহস্থলীর বর্জ্য সম্পর্কে তার মূল্যবান মতামত উপস্থাপন করেন । এছাড়া মেহেরপুর সমাজ ও পরিবেশ উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধি জনাব সুজন হোসেন বর্জ্য হ্রাস, নবায়ন শক্তির ব্যবহার, বর্জ্য পুনঃব্যবহার , বিভিন্ন হস্ত শিল্প ও প্লাস্টিক বর্জন এবং প্লাস্টিকের বিকল্প ব্যবহার সম্পর্কে তার মূল্যবান বক্তব্য উপস্থাপন করেন ।




গাংনীতে ট্রাক-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১, আহত-৩

মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের গাংনী উপজেলার শুকুরকান্দী নামক স্থানে ট্রাক ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শুকুরকান্দীর গ্যাসপাম্পের অদূরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- উপজেলার বাদিয়াপাড়া গ্রামের উত্তরপাড়ার আরিফুল ইসলামের স্ত্রী সুমি খাতুন (৩৫)। আহতরা হলেন- বাদিয়াপাড়া গ্রামের মফিজুল হকের স্ত্রী  নোজিয়ারা খাতুন(৪০), একই গ্রামের আরিফুল ইসলামের ছেলে নিরব(১২), মহাব্বতপুর গ্রামের আনারুল ইসলামের ছেলে সিএনজি চালক হযরত আলী (৩২)।

সুমির ভাবি নোজিয়ারা খাতুন জানান, আমি অসুস্থ তাই আমাকে কুষ্টিয়ার ডাক্তার দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলো। কুষ্টিয়াগামী একটি ট্রাক দ্রুত গতিতে এসে আমাদের সিএনজিকে ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজিতে থাকা তিনজন যাত্রী ও সিএনজি চালক গুরুতর আহত হন।

বামন্দী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী স্টেশন ইনচার্জ নাসির উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় সুমি খাতুনকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ফারুক হোসেন জানান, সুমি খাতুনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কুষ্টিয়া নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকেরা সুমি খাতুন কে মৃত ঘোষণা করে। সেখান থেকে তার লাশ এখন বাড়ি ফেরার প্রক্রিয়া চলছে।

রাত দশটার দিকে নিহতের বাড়ি বাদিয়াপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে আশপাশের পরিবেশ। সকলেই লাশ ফেরার অপেক্ষায় বসে আছে।