লালনের অনুষ্ঠানে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় গাংনীর মোমিনুল নিহত

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাধাগোবিন্দপুর ধলা গ্রামের মোমিনুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি কুষ্টিয়ায় লালন শাহের অনুষ্ঠানে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে কুষ্টিয়ায় লালন শাহের মাজারের সন্নিকটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মোমিনুল ইসলাম রাধাগোবিন্দপুর ধলা গ্রামের লিয়াকত আলির ছেলে।

মোমিনুল ইসলামের স্ত্রী রূপা খাতুন জানান, গতকাল শুক্রবার বিকেলে গ্রামের বেশ কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে লালনের তিরোধান অনুষ্ঠানে যায় মোমিনুল। অনেক ঘোরাঘুরি করে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়লে ট্রেনলাইনের পাশে অবস্থান নেয়। এ সময় একটি ট্রেন চলে আসলে মোমিনুল ও তার বন্ধুরা দ্রুত সরে আসতে গিয়ে ট্রেনের সাথে ধাক্কা লেগে মোমিনুলের মাথায় আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মোমিনুলের।

কুষ্টিয়া থানা পুলিশ মোমিনুলের মরদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। সেখান থেকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয় এবং তা গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

মোমিনুলের মৃত্যুর খবর জানার পর থেকে পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

মোমিনুলের মা মেমিনা খাতুন জানান, আমার ছেলে মোমিনুল কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে লালনের মাজারে অনুষ্ঠানে যাবার কথা বলে শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়। মধ্যরাতে মোবাইলে জানতে পারি, আমার ছেলে ট্রেনের ধাক্কায় মারা গেছে।

মোমিনুল এক সন্তানের জনক। তার খালা নূরনিহার জানান, খুবই দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে সংসার চালাতো। তার একটি শিশু সন্তান রয়েছে।

মোমিনুলের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে লাশ দেখতে ভিড় করেন শত শত মানুষ।




অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণ থেকে বাঁচতে করণীয়

গ্রিক শব্দ অ্যানথ্রাক্স (Antharx) এর বাংলা তড়কা রোগ এবং আভিধানিক অর্থ কয়লা। এটি ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস বা ব্যাসিলাস সেরিয়াাস বায়োভার অ্যানথ্রাসিস ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট একটি সংক্রমণ। ১৮৭৫ সালে জার্মান বিজ্ঞানী রোবের্ট কচ প্রথম অ্যানথ্রাক্স এর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানান দেন। তবে তারও পূর্বে ১৭৫২ সালে বিজ্ঞানী মারেট এবং ১৭৬৯ সালে বিজ্ঞানী ফোর্নিয়ার ত্বকের অ্যানথ্রাক্সের প্রথম ক্লিনিকাল বর্ণনা দিয়েছিলেন। এর পূর্বে এটি ছিলো কেবলই ঐতিহাসিক বিবরণ। এ বিরল রোগটি মানুষের ক্ষেত্রে আফ্রিকা এবং মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় সব চেয়ে বেশি দেখা যায়। এটি মহাদেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় দক্ষিণ ইউরোপে বেশি দেখা যায়। উত্তর ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায় এ সংক্রমণ অস্বাভাবিক। বিশ্বব্যাপী বছরে কমপক্ষে দুই হাজার টি সংক্রমণের ঘটনা ঘটে। এ সংক্রমণ সাধারণত ত্বকের সংস্পর্শ, শ্বাস- প্রশ্বাস বা অন্ত্রের শোষণের মাধ্যমে ঘটে। এ রোগে সংক্রমিত হওয়াার একদিন থেকে দুই মাসেরও বেশি সময় পরে লক্ষণগুলি পরিলক্ষিত হয়। ত্বকে একটি ছোটো ফোস্কা দেখা যায় যার চারপাশে ফোলাভাব থাকে; যা প্রায়শই কালো কেন্দ্রবিন্দুসহ ব্যথাহীন আলসারে পরিণত হয়। জ্বর, বুকে ব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট এর অন্যতম উপসর্গ। এছাড়াও, এ সংক্রমণে ডায়রিয়া (যার মধ্যে রক্ত থাকতে পারে), পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং বমিও হতে পারে।

প্রাথমিকভাবে, অ্যানথ্রাক্স মূলত ব্যাকটেরিয়া জনিত গবাদি পশুর একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ। এ রোগে আক্রান্ত পশু হঠাৎ করে মারা যায়। এরোগটি গরুর ডাকমিনা, ধাস ও ধড়াস নামেও পরিচিত। সাধারণত ক্ষুরাযুক্তপ্রাণী যেমন- গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষে এ রোগ ব্যাপকভাবে দেখা যায়। গবাদিপশুতে এ রোগের মৃত্যুর হার শতভাগ। আক্রান্ত বা মৃতপশুর সংস্পর্শে আসা মানুষেরও অ্যানথ্রাক্স হওয়ার সম্ভাবনা সর্বোচ্চ। আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে এ রোগের জীবাণু মাটিতে প্রতিকূল পরিবেশে সুপ্ত অবস্থায় ‘স্পোর’ নামক একপ্রকার প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থায় ৪০-৫০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে এবং অনুকূল পরিবেশে সক্রিয় হয়ে গবাদি পশুকে আক্রান্ত করতে পারে। তাই একবার কোথাও দেখা দিলে পরবর্তীতে বারবার সে এলাকায় এ রোগ দেখা দিতে পারে। নিম্ন জলাভূমি, নদীর পাড় ও উপকূলীয় অঞ্চলে এর প্রকট প্রাদূর্ভাব দেখা যায়। সে হিসেবে আমাদের দেশে সাধারণত সিরাজগঞ্জ,মেহেরপুর, পাবনা,রাজবাড়ি, রাজশাহী ও টাঙ্গাইল জেলায় এ রোগটির প্রাদুর্ভাব বেশি। তবে চলতি বছরে সংক্রমণ দেখা দেয় রংপুরের বিভিন্ন উপজেলায় এবং উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুও ঘটে। গণমাধ্যমের বদৌলতে জানা যায় ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে এ সংক্রমণে ৪৩১ জন আক্রান্ত হয়।

গ্রীষ্মের শুরূ থেকে বর্ষাকাল (মার্চ-সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত, খরা মৌসুমের পরে হঠাৎ বৃষ্টিপাত হলে এবং বন্যার পরের সময়ই সাধারণত সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ সময়কাল। সংক্রমিত পশু-খাদ্য যেমন- ঘাস, কচুরিপানা ইত্যাদি;অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত মৃত পশুকে খোলা স্থানে ফেলে রাখলে শকুন, কুকুর, শেয়াল ইত্যাদি শবাহারী প্রাণি; কখনো কখনো মাছি এবং অ্যানথাক্স আক্রান্ত মৃত পশু পঁচে-গলে মাটিতে মিশে গেলে হাড় থেকেও পশুতে এ রোগ ছড়াতে পারে। আক্রান্ত বা মৃত পশুর শ্লেষ্মা, লালা, রক্ত, মাংস, হাড়, চামড়া, পশম বা নাড়ি-ভুঁড়ির সংস্পর্শ, আক্রান্ত পশুর মাংস খাওয়া, পশুর চামড়া এবং অন্যান্য উপজাত (হাড়, দাঁত, শিং ইত্যাদি) প্রক্রিয়াজাতকরণ কাজে যুক্ত থাকার মাধ্যমে সাধারণত মানুষে এটি ছড়ায়। মূলত অ্যনথ্রাক্স আক্রান্ত পশুর মাংস কাটার সময় মানুষের মধ্যে অ্যানথ্রাক্স ছড়ানোর সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। পশু জবাই করা , সেটির মাংশ কাটাকাটি করা এবং মাংস ধোয়া বা রান্নার সময় অনেকক্ষণ মাংস, রক্ত ও হান্ডির সংস্পর্কে থাকতে হয়। সে সময় আক্রান্ত পশুর রক্তের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে অ্যানথ্রাক্স। মাংস কাটাকাটির সময় মানুষের শরীরের চামড়ায় কোনো রকম ক্ষত থাকলে তার দেহে অ্যানথ্রাক্সের জীবানু প্রবেশ করার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আমাদের দেশে পশুর অ্যানথ্রাক্স হলেও অনেক সময় তা জবাই করে মাংস কম দামে বিক্রি করে ফেলা হয়। ঐ মাংস কাটাকাটি করার সময় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হওয়া সম্ভাবনা থাকে। তবে পশু থেকে মানুষের মধ্যে অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণ হলেও মানুষ থেকে অন্য মানুষের মধ্যে অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণ হয় না।

পশুতে অ্যানথ্রাক্সের লক্ষণগুলো হচ্ছে- আক্রান্ত পশু হঠাৎ করে মারা যাওয়া,নাক, মুখ ও পায়ুসহ শরীরের বিভিন্ন ছিদ্র দিয়ে রক্তক্ষরণ এবং বের হওয়া রক্ত জমাট না বাঁধা,প্রচন্ড জ্বর (প্রায় ৪০-৪২০ সে./১০৪-১০৭০ ফা:),শরীরের লোম খাড়া হয়ে যাওয়া, জাবর কাটা বন্ধ হয়ে যাওয়া, মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকা, মাংস পেশীর কম্পন, প্রাথমিকভাবে অস্তিরতা বা উত্তেজনা কাজ করলেও পরবর্তীতে নিস্তেজ হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট ও দাঁত কটকট করা, খিঁচুনি ও কাঁপুনি, সাধারণত ২-২৪ ঘন্টার ভেতর মারা যাওয়া এবং এক দিনের বেশি বেঁচে থাকলে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় (জিহ্বা, গলা, বুক, নাভি) পানি জমে যাওয়া। পশুর দেহে মৃত্যুর পরবর্তী লক্ষণগুলোর মধ্যে মৃত পশুর পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে উঠে, নাক, মুখ, প্রসাব ও মলদ্বার দিয়ে আলকাতরার মত কালো রক্ত বের হওয়া, মৃতদেহ শক্ত না হওয়া এবং অতি তাড়াতাড়ি পচন শুরু হওয়া অন্যতম। আর মানুষে অ্যানথ্রাক্স রোগটি সাধারণত তিনটি রূপে দেখা যায়। যথা-ত্বকের অ্যানথ্রাক্স, পরিপাকতন্ত্রের অ্যানথ্রাক্স ও শ্বাসতন্ত্রেও অ্যানথ্রাক্স। এর মধ্যে ত্বকের অ্যানথ্রাক্সই বেশি দেখা যায়। সাধারণত আক্রান্ত পশুর সংস্পর্শে আসার ৩-১০ দিনের মধ্যে এ রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। ত্বকের অ্যানথ্রাক্সের সাধারণ লক্ষণগুলো হচ্ছে-প্রথমে চামড়ায় লালচে দাগ হয়, আক্রান্ত স্থান চুলকায় ও ফুলে উঠে, পরবর্তীতে আক্রান্ত স্থানে ১.৫-২ ইঞ্চি আকারের ফোসকা উঠে, ফোসকার মাঝখানে পচনের মত কালচে দাগ হয়ে ব্যথাহীন ঘা এর সৃষ্টি হয়; তবে সাধারণত জ্বর থাকে না।

পশুর ক্ষেত্রে অ্যানথ্রাক্স রোগের চিকিৎসায় প্রাথমিক অবস্থায় দ্বিগুণ মাত্রার পেনিসিলিন জাতীয় এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করে উপকার পাওয়া যায়। অতিতীব্র সংক্রমণের ক্ষেত্রে সাধারণত চিকিৎসার সুযোগ থাকে না। মানুষ থেকে মানুষে অ্যানথ্রাক্স ছড়ায়না, কিন্তু মানুষের শরীর এবং পোশাক অ্যানথ্রাক্স জীবাণু বহন করতে পারে। শরীর থেকে জীবাণু দূর করার জন্য ব্যাকটেরিয়া নিরোধক সাবান দিয়ে গোসল এবং গোসলের পানি ব্লিচিং বা কোনও ব্যাকটেরিয়া নিরোধক দ্বারা শোধিত করা এবং জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত জিনিসপত্র ৩০ মিনিটের অধিক সময় ধরে ফুটাতে হবে। কোনো কোনো জায়াগা থেকে জীবাণু ধ্বংসে ক্লোরিন ব্লিচিং কার্যকরী নয়; বরং এক্ষেত্রে ফরমালডিহাইড ব্যবহার করা উচিত। আক্রান্ত বাক্তির কাপড় পুড়িয়ে ফেলা জীবাণু ধ্বংসের একটি কার্যকর পদ্ধতি। মানুষ আক্রান্ত হবার পর যত দ্রুত সম্ভব অ্যানথ্রাক্স জীবাণুনাশক দিতে হবে; যত দেরি হবে জীবনের ঝুঁকি তত বাড়বে। মানুষের জন্য অ্যানথ্রাক্স টিকা প্রথম ১৯৫৪ সালে বাজারে আসে। ত্বকের অ্যানথ্রাক্স সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য অসুখ। তবে সময়মত চিকিৎসা না করালে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সকল সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে এ রোগের চিকিৎসা করার সুযোগ রয়েছে।

গবাদিপশুকে এ মারাত্মক সংক্রমণ হতে রক্ষা করতে হলে পশু-খাদ্য ভালো করে ধুয়ে খাওয়াতে হবে। রোগ নিয়ন্ত্রণে বর্ষার শুরুতেই সকল পশুকে নিয়মিত টিকা প্রদান করতে হবে। রোগ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে অসুস্থ পশু হতে আলাদা করা, নিকটস্থ প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ,চিকিৎসকের পরামর্শ মত ব্যবস্থা গ্রহণ, কোনো ক্রমেই অসুস্থ পশু জবাই ও কাটাকাটি না করার প্রতি অবশ্যই জোর দিতে হবে। অসুস্থ পশুর মাংস খাওয়া, বিতরণ ও ফ্রিজে সংরক্ষণ না করা,অসুস্থ পশুর সংস্পর্শে আসা সুস্থ পশুগুলোকে টিকা প্রদান অথবা ৪/৫ দিন কার্যকরী এন্টিবায়োটিক দ্বারা চিকিৎসা করে ১০/১২ দিন পর টিকা দেওয়া,আক্রান্ত এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সকল সুস্থ গবাদি পশুকে তড়কা রোগের টিকা দেওয়া অত্যাবশ্যক।

চিকিৎসকের পরামর্শ মতে, কোনো পশু মারা গেলে কোনো অবস্থাতেই মৃত পশুকে যেখানে- সেখানে ফেলে কিংবা নদীতে ভাসিয়ে বা মুচিকে চামড়া ছাড়াতে দেয়া যাবে না। মৃত পশুকে মাটিতে কমপক্ষে ৬ ফুট গভীর গর্ত করে চুন ছিটিয়ে পুঁতে অথবা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। মৃতদেহ সম্ভব হলে মৃত্যুবরণের জায়গাতেই সৎকার করা উচিত; তা না হলে মৃত পশুর দেহের সব স্বাভাবিক ছিদ্রপথ(মুখ, নাক, পায়ু ও যোনিদ্বার) তুলা, কাপড় বা অন্য কিছুদিয়ে বন্ধ করার পর সানান্তর করতে হবে। পাথর ও কাটাযুক্ত জিনিস ব্যবহার করে জায়গাটিঢেকে দিতে হবে যাতে শেয়াল বা কুকুর তা খুজে বের করতে না পারে। অসুস্থ পশুর সকল মলমূত্র, রক্ত ও বিছানাপত্র একইগর্তে ফেলতে হবে বা পুড়িয়ে দিতে হবে। আক্রান্ত স্থানে ব্লিচিং পাউডার বা অন্য কোন জীবাণুনাশক ঔষধ দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে এবং সঠিকভাবে মৃত পশুর দেহ পুঁতে ফেলার নির্দেশনার জন্যপ্রয়োজনে নিকটস্থ প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করা উচিত।

অ্যানথ্রাক্স রোগের সংক্রমণ রোধে প্রথমেই পশুতে সংক্রমণ রোধ করতে হবে। কারণ পশু থেকেই বিভিন্নভাবে এ সংক্রমণকারী ব্যাকটেরিয়া মানুষে ছড়ায়। গবাদি পশু খামারিদের জন্য চলমান বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে এ সংক্রান্ত সেশনের ব্যবস্থা রাখা, প্রয়োজনে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা অত্যাবশ্যক। অসুস্থ পশু জবাই এবং জবাইকৃত গরুর মাংস যাতে কোনোভাবেই বাজারজাত করতে না পারে সে জন্য সারাদেশে কসাইখানায় নির্দেশিত চলমান পরিদর্শন কার্যক্রম বেগমান এবং আইনের প্রয়োগের বিকল্প নেই। এ সংক্রমণের ভয়াবহতা অনুসারে সর্বস্তরের অংশীজনদের সমন্বিত প্রস্তুতি বরাবরই অপ্রতুল। সর্বোপরি এ মহামারি আকার ধারণ করার পূর্বেই এ মারাত্মক সংক্রমণ ও মৃত্যু ফাঁদ হতে রক্ষা পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, গবাদিপশু খামারি, কসাই, ভোক্তাদের সমন্বয়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলা উচিত।

লেখক: তথ্য অফিসার, জেলা তথ্য অফিস খাগড়াছড়ি




মেহেরপুরে সবজির দাম নিম্নমুখী, স্বস্তিতে ক্রেতারা

মেহেরপুরে সবজির উচ্চমূল্যে বিপাকে পড়া ক্রেতারা এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। গত দুই এক সাপ্তাহ সবজি ও মুরগির দাম স্থিতিশীল এবং নিম্নমুখী ও। স্বস্তিতে রয়েছেন ক্রেতারা।

বাজারে সবজির ও মুরগির দামে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে মাছের দাম একটু বাড়তি।

মেহেরপুর পাইকারি ও খুচরা বাজারে ঠিক মতো সরবরাহ থাকায় বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল আছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

পাইকারি বাজারে আলু, পেয়াজ ও রসুন ১৫, ৬৫ ও ৭০ টাকায় স্থিতিশীল। তবে কাঁচামরিচের দাম আবারও নিম্নমুখী। গত সাপ্তাহের থেকে ২০ টাকা কমে ৯০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

ঢেঁড়স, বেগুন, পটল অপরিবর্তিত থেকে ৪০, ৭০, ৫০ টাকা। শশা ৩৫ থেকে বেড়ে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মূলায় ১০ টাকা কমে ২০ টাকা। শাক, পেঁপে,ঝিঞা ও ধন্দল কেজিপ্রতি ৩০,১৫, ৪০ ও ২৫ টাকায় স্থিতিশীল। গজর ও টমেটো ১২০ টাকা, ১১৬ টাকা স্থিতিশীল।

খুচরা বাজারে আলু, পেয়াজ রসুন, ২০, ৭০,১০০ টাকায় অপরিবর্তিত। আবারও কাঁচামরিচের দাম কমেছে, গত সপ্তাহের চেয়ে ২০ টাকা কমে ১২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

ঢেঁড়স, বেগুনে অপরিবর্তিত থেকে ৫০ , ৮০ টাকা। শাক অপরিবর্তিত থেকে ৪০ টাকায় করে বিক্রি হচ্ছে। মুলায় ১০ টাকা কমে কেজি প্রতি ৩০ এবং শশায় ১০ টাকা বেড়ে কেজিপ্রতি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ও ঝিঞা ১৫ ও ৫০ টাকায় স্থিতিশীল। ধন্দল ৪০ টাকায় অপরিবর্তিত ।

গজর ও টমেটোতে দাম স্থিতিশীল । গাজর ১৪০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকায় অপরিবর্তিত।

মুরগি বাজারে ব্রয়লার মুরগী ও সোনালী মুরগীতে কেজিপ্রতি ১৮০ ও ২৮০ টাকা স্থিতিশীল এবং লেয়ার মুরগিতে ১০ টাকা বেড়ে ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুরগি ব্যবসায়ী জহির বলেন গত সপ্তাহ এবং এই সপ্তাহ মুরগির দামে কোনরকম কম বেশি নেই সব দাম একই আছে, তবে লেয়ার মুরগি ১০ টাকা এদিক ওদিক হয়েছে ।

মাছের বাজারে রুই ৩২০, তেলাপিয়া ১৮০, পাঙাশ ১৮০, সিলভার ২০০, কৈই ২২০, জিওল ১০০০, চিংড়ি ১২০০, পাকাল ৭০০।

মাছ ব্যবসায়ি বাপ্পা বলেন, মাছে আমদানি কিছু দিন হলো কম সেজন্য বেজি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে সেজন্য মাছ বাজার বেশি। ঠিক মতো আমদানি শুরু হলে মাছের বাজার আবারও কমে যাবে।

ছাগলের মাংস ১১০০ টাকায় এবং গরুর মাংস সর্বদা ৭৫০ টাকায় অপরিবর্তিত।

সবজি বিক্রেতা মনিরুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহেও যেমন দামে বিক্রি করেছি, এখনো তেমনই চলছে। নতুন করে কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি।

সবজি বিক্রেতা হাফিজুর রহমান বলেন, কোন সবজির দাম বাড়েনি আগের মতোই স্বাভাবিক আছে। কাচা মরিচের দাম কমেছে সপ্তাহ খানে আগে ১৪০ টাকায় বিক্রি করা কাচা মরিচে এখন ১২০ টাকা।

অন্যদিকে সবজি ক্রেতা রুবিনা খাতুন জানান, এই সপ্তাহে সবজির দাম বাড়েনি, এটা আমাদের জন্য ভালো। অন্তত সংসারের হিসাবটা ঠিক রাখা যাচ্ছে।

সবজি ক্রেতা রাজু আহমেদ বলেন, সব কিছু দাম এখন হাতের নাগালে। আবার কাঁচা মরিচের দামও নিম্নমুখী। চাহিদা মতো বাজার করতে পারছি।

মেহেরপুর তহ বাজার সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফি বলেন, শাক-সবজি সবকিছুর দাম স্বাভাবিক রয়েছে। শাক সবজির দামে কোন রকম বৃদ্ধি নেই বরং সকল সবজির দাম এখন নিম্নমুখী। বিশেষ করে কাঁচা মরিচ দাম তো আবার ও কমেছে গত সপ্তাহের ১৪০ টাকার কাঁচা মরিচ এখন ১২০ টাকা।

তিনি আরও বলেন, আসলে কাঁচা মালের দাম তো সব সময় আবহাওয়া তারপর আমদানির ওপর নির্ভর করে। আমদানি ঠিক থাকায় কাচামালের দাম এখন অনেক কম এবং নিম্নমুখী ।




মেহেরপুরে জেলার সেরা গাংনীর সন্ধ্যানী স্কুল অ্যান্ড কলেজ

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। মেহেরপুর জেলায় এবারের গড় পাসের হার ৪১%। যা বিগত বছর গুলোর তুলনায় অনেক কম। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ ৫ প্রাপ্তর সংখ্যাও। মেহেরপুরের দুটি সরকারি কলেজ ও পৌর কলেজের ফলাফলও তুলনামূলক খারাপ হয়েছে।

এইচএসসি (জেনারেল) শাখায় মেহেরপুর সদর উপজেলায় মেহেরপুর সরকারি কলেজে এ বছর মোট ৫৪৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ৩১৮ জন। পাসের হার ৫৮%। মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজে মোট ৭৩১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ৪৬৪ জন। পাসের হার ৬১.২%। মুজিবনগর সরকারি ডিগ্রি কলেজে ৩২২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ১৩২ জন, গড় পাসের হার ৪১%। মহাজনপুর মহাবিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ১০ জন এবং গড় পাসের হার ১৫%। ছহিউদ্দিন ডিগ্রি কলেজ (বর্তমান নাম মেহেরপুর পৌর কলেজ) এ বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ৩৯৭ জন, এর মধ্যে পাস করেছে ১৮১ জন। গড় পাসের হার ৪৬%। যাদুখালি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এ বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ৭১ জন, এর মধ্যে পাস করেছে ৯ জন। পাসের হার ১৩%। এ আরবি কলেজ থেকে এ বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ৭২ জন, পাস করেছে ২৬ জন, গড় পাসের হার ৩৬%।

গাংনী উপজেলায় সন্ধ্যানী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ১০৩ জন, পাস করেছে ৯৭ জন, গড় পাসের হার ৯৪%, যা মেহেরপুর জেলায় সর্বোচ্চ গড় পাসের হার। গাংনী সরকারি কলেজে এ বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ৩১৫ জন, পাস করেছে ১৯৪ জন, গড় পাসের হার ৪৭%। গাংনী মহিলা কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ২৫৯ জন, পাস করেছে ১২৬ জন, গড় পাসের হার ৪৯%। কাজিপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ১৭২ জন, পাস করেছে ৫৯ জন, গড় পাসের হার ৫২%। মড়কা জাগরণ কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ৩ জন, পাস করেছে ১ জন, গড় পাসের হার ৩৩%। বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজ (বর্তমান তেরাইল জোড়পুকুরিয়া ডিগ্রি কলেজ) থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ১০২ জন, পাস করেছে ৪১ জন, গড় পাসের হার ৪০%। বামুন্দী নিশিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ২০৮ জন, পাস করেছে ৫০ জন, গড় পাসের হার ২৪%। করমদি ডিগ্রি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ১৯৪ জন, পাস করেছে ৪৬ জন, গড় পাসের হার ৩১%। গাংনী পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ১৪৯ জন, পাস করেছে ৭২ জন, গড় পাসের হার ৪৮%। কুতুবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ২৬ জন, পাস করেছে ১০ জন, গড় পাসের হার ৬২%। বিএন কলেজ থেকে ১৬ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।

মুজিবনগর উপজেলায় মুজিবনগর সরকারি কলেজে এ বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ৩২২ জন, পাস করেছে ১৩২ জন, গড় পাসের হার ৪১%। মহাজনপুর মহাবিদ্যালয়ে মোট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ১০ জন এবং গড় পাসের হার ১৫%। মুজিবনগর আদর্শ মহিলা কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ৬৭ জন, পাসের হার ৩৭%।

এইচএসসি পরীক্ষায় মেহেরপুর জেলায় গড় পাসের হারে গাংনীর সন্ধ্যানী স্কুল অ্যান্ড কলেজ শীর্ষস্থান দখল করেছে।

এইচএসসি বিএম শাখায় মেহেরপুর সদরে মুক্তিযোদ্ধা আহাম্মদ আলী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ৭৮ জন, পাস করেছে ২৭ জন, গড় পাসের হার ৩৫%। মেহেরপুর সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২২ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ১৯ জন, গড় পাসের হার ৮৬%। গাংনী উপজেলায় গাংনী পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ৭৩ জন, পাস করেছে ২৬ জন, গড় পাসের হার ৩৬%। গাংনী সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ৮১ জন, পাস করেছে ২৪ জন, গড় পাসের হার ৩০%। হাড়াভাঙ্গা ফাজিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ১৭ জন, পাস করেছে ৬ জন, গড় পাসের হার ৩৫%। তেরাইল ডিগ্রি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ৬৩ জন, পাস করেছে ৩০ জন, পাসের হার ৪৮%। গাংনী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ৪১ জন, পাস করেছে ৯ জন, গড় পাসের হার ২২%। ধানখোলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ১৬ জন, পাস করেছে ৫ জন, গড় পাসের হার ৩১%। মুজিবনগর উপজেলায় আন-নূর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ৬০ জন, পাস করেছে ৩৫ জন, গড় পাসের হার ৫৮%।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় আমঝুপি আলিম মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ২০ জন, পাস করেছে ১৭ জন, গড় পাসের হার ৮৫%। মেহেরপুর দারুল উলুম আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ৪১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ৩৪ জন, গড় পাসের হার ৮৩%। মানিকনগর ডিএস মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ২১ জন, পাস করেছে ১৫ জন, গড় পাসের হার ৭১%। মানিকদিয়া এগারপাড়া মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ১৮ জন, পাস করেছে ১৬ জন, গড় পাসের হার ৮৯%। হাড়াভাঙ্গা ফাজিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ১৯ জন, পাস করেছে ১৬ জন, গড় পাসের হার ৮৪%। গাংনী সিদ্দিকিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ২৫ জন, পাস করেছে ২৪ জন, গড় পাসের হার ৯৬%।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মেহেরপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ১৭৮ জন, পাস করেছে ৭৮ জন, গড় পাসের হার ৫৯% এবং মুজিবনগর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ১৫ জন, পাস করেছে ৫ জন, গড় পাসের হার ৫০%।




আলমডাঙ্গা স্বয়ম্ভর পাবলিক লাইব্রেরির উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিজ্ঞান আলোচনা

আলমডাঙ্গা স্বয়ম্ভর পাবলিক লাইব্রেরির উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিজ্ঞান আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টায় স্বয়ম্ভর পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় বিজ্ঞান বিষয়ক এক প্রাণবন্ত আলোচনা সভা।

অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বশির আহমেদ। তিনি আলোচনায় বলেন, “বিজ্ঞানের অগ্রগতি ছাড়া পৃথিবীতে টিকে থাকা কঠিন। আধুনিক পৃথিবীতে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ কিংবা অস্ত্রে পরাক্রমশালী দেশকে উন্নত বলা যায় না। যে দেশ বিজ্ঞানে উন্নত, সেই দেশই সত্যিকারের উন্নত। বিজ্ঞান মুখস্থ করার বিষয় নয়—এটি জানার ও বোঝার বিষয়।

শিক্ষার্থীদের পরিবার ও সমাজ উভয় ক্ষেত্রেই বিজ্ঞানভিত্তিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি স্কুল পর্যায়ে আধুনিক ও কার্যকর বিজ্ঞানাগারের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।” অনুষ্ঠানে আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নবম ও দশম শ্রেণির প্রায় ২০০ জন ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করে। এছাড়া ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন, হাটবোয়ালিয়া মাধ্যমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মতিউল হুদা, কুমারী ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নান, আলমডাঙ্গা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. হাসিনুর ইসলাম, আলমডাঙ্গা সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. সিদ্দিকুর রহমান।

এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন, হাটবোয়ালিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো: আলমগীর কবির, হাটবোয়ালিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছা: সানজিদা পারভীন, এরশাদপুর একাডেমির সহকারী শিক্ষক মোছা: আফরোজা খুশি ও  মো: আব্দুল হান্নান।আপ্যায়নে ও শৃঙ্খলায়- তুষার মুক্ত স্কাউটের চৌকস সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




আলমডাঙ্গা কোর্টপাড়া কমিউনিটির উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি সম্পন্ন

আলমডাঙ্গা কোর্টপাড়া কমিউনিটির উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে।” একটি স্বপ্ন বিনির্মানে মানবিক নাগিরিক সেবায় ঐক্যবদ্ধ আমরা” কোর্টপাড়া কমিউনিটির শিক্ষা, চিকিৎসা, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান একজন নাগরিকদের মৌলিক অধিকারে পাশে থাকবে এই স্লোগান কে সামনে রেখে এগিয়ে চলেছে এই স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক নাগরিক সমাজ। গতকাল শুক্রবার সকাল ৭ টা থেকে ১টা পর্যন্ত মহল্লার সকল গলি, অপরিচ্ছন্ন স্থান, খাল‌ প্রভৃতি স্থানে পরিচ্ছন্ন কাজ করা হয়।

আলমডাঙ্গা কোর্টপাড়া কমিউনিটির সদস্য গোলাম মোস্তফা  বিশ্বাস বলেন, প্রতি ১৫ দিন পরপর এই পরিচ্ছন্ন কাজ করা হবে। কমিউনিটির নিজ অর্থায়নে গাড়িতে করে নোংরা আবর্জনা অপসারণ করে শহরের বাহির ফেলা আসা হচ্ছে। যাতে মশা মাছি,বিভিন্ন রোগ জীবাণুর প্রাদুর্ভাব না হয় তার জন্য এই পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এই পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করেন, আলমডাঙ্গা কোর্টপাড়া কমিউনিটির আহব্বায়ক ইকবাল হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, সদস্য গোলাম বিশ্বাস, ইসলাম মোল্লা, আবু সাইদ, রফিকুল ইসলাম, ফারুক হোসেন, রনি,‌ বাবলু হোসেন, আব্দুর রশিদ, ইকরামুল হক বুলু, রবিউল হক, রাসেল, জামেল, হিমেল বিশ্বাস, জাহাঙ্গীর হোসেন, রাসেল(ছোট), মন্ডল, মামুন প্রমুখ।




গাংনী শহরে ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র কর্মীসভা অনুষ্ঠিত

গাংনী পৌর বিএনপি’র ৯ নং ওয়ার্ড শাখার কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার এশার নামাজের পর ৯ নং ওয়ার্ডের থানাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ফজলুল হকের সভাপতিত্বে এবং পৌর বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বাবলুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি ও গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ নাসিরুদ্দিন। পৌর বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়ামিন আলী বাবলু, সাবেক সাবেক কাউন্সিলর নাসিরুদ্দিন , ১নং ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল গনি। সাবেক ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবু সরকার, সাবেক ছাত্রনেতা সুজন কবির, রাইপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম, সাদ আলী ও সাবেক ছাত্রনেতা ফারুক হোসেন, সাবেক ছাত্রনেতা আবুল কালাম আজাদ৷ কৃষক দলের আব্দুল গাফফার   সহ স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির নেতৃবৃন্দ। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতায় সাবেক সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেন বলেন, বিএনপি আপনাদের দল, জনগনের দল এই দলকে ক্ষমতায় আনতে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের জনগন কে সাথে নিয়ে ভালো কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বিএনপি’র নবগঠিত কমিটির সমালোচনা করে বলেন, ওয়ার্ডে যে কমিটি হয়েছে সেখানে বিএনপি’র ত্যাগী নেতাকর্মীদের জায়গা হয়নি নুতন কমিটিতে। নুতন কমিটি করেছে আওয়ামীলীগ ও অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে। তিনি জানান কমিটি গঠনের  পর আবার পরিচিত সভা করার প্রয়োজন কেন?  কারণ তিনি বলেন, কমিটিতে দলের নেতাকর্মীদের জায়গা দেননি বলেই পরিচিতি সভা করা লাগছে। তিনি সকলকে সাথে নিয়ে ধানের শীষের প্রতীকের উপর  আস্থা রাখবেন। আমার উপর আস্থা রাখবেন। আমি আপনাদের কে সাথে নিয়ে অতীতে যেমন দলের জন্য কাজ করেছি ভবিষ্যতে ও আপনাদেরকে সাথে নিয়ে দলের পক্ষে কাজ করবো ও ধানের শীষের প্রতীকে বিজয়ী করবো।

তিনি একটি দলের নাম উল্লেখ না করে বলেন, কারো কথায় বিভ্রান্ত হবেন না। কেউ আপনাদের জান্নাতের টিকিট দিতে পারবে না। মসজিদ সহ ধর্মীয় জায়গায় প্রোগাম না করে স্কুল, কলেজ সহ অন্য জায়গায় প্রোগাম করবেন। তিনি দলের নেতাকর্মীদের সকল প্রকার ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।




দামুড়হুদার জয়রামপুরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন ; ৬ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি 

দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর দীঘির পাড়ার আলম নামের এক মৎস্য চাষির ৫ বিঘা জলকরে রাতের আঁধারে কে বা কাহারা শত্রুতামূলক বিষ প্রয়োগে করেছে। এতে পুকুরের সব মাছ মরে ভেসে উঠেছে। গতকাল শুক্রবার জয়রামপুর দিঘির পাড়ার পুকুরে রাতে কে বা কাহারা বিষ ট্যাবলেট দিয়ে এই মাছ মেরে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছে মৎস্য চাষি আলম।

জানা যায়, দামুড়হুদা উপজেলা সদরে দশমী পাড়ার ইউনুচ আলির ছেলে আলম জয়রামপুর দিঘি পাড়ায় ৫ বিঘা পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করে আসছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে উক্ত পুকুরে গিয়ে দেখে যে, পুকুরে গ্যাস ট্যাবলেট ও বিষ প্রয়োগ করিয়া সমুদয় মাছ মারিয়া ফেলেছে। পুকুরের সমুদয় মাছ ভেসে উঠেছে। এতে প্রায় ৬ লক্ষ টাকার মাছ ক্ষয়-ক্ষতি হইয়াছে। এমন খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মরা মাছ দেখতে এলাকার উৎসুক জনতা ভিড় জামাই পুকুর ধারে।

স্থানীয়দের মতে এই ধরণের কাজ যেই করুক না কেন তাকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।যাতে ভবিষ্যতে যেন এমন ক্ষতি কেউ কারো না করতে পারে।

মাছ চাষী আলম বলেন, আমাদের পুকুরে গ্যাস ট্যাবলেট ও বিষ প্রয়োগ করিয়া সমুদয় মাছ মারিয়া ফেলেছে। আমার পুকুরের সমুদয় মাছ ভেসে উঠেছে এবং আনুমানিক ৬ লক্ষ টাকার মাছ ক্ষয়-ক্ষতি হইয়াছে। ইহাতে আমি আর্থিক দিক দিয়ে খুবই ক্ষতিগ্রস্থ হইয়াছি। এখন ঋণের টাকা কিভাবে পরিশোধ করব সেই চিন্তায় মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।

 দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডঃ মশিউর রহমান বলেন ,পুকুরে বিষ প্রয়োগের ফলে যে মাছ মারা যায়। সেই মাছ খেলে স্বাস্থ্য হানি হতে পারে । যেহেতু মাছে বিষ বিদ্যমান থাকে।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি হুমায়ুন কবির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুকুরে বিষ প্রয়োগে মাছ মেরে ফেলেছে এই মর্মে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিভাবে মাছ মারা গেছে এখনই বলা যাচ্ছে না। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




জীবননগরে পৌর বিএনপি ও সকল অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে জনসভা অনুষ্ঠিত

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে পৌর বিএনপি ও সকল অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার জীবননগর মুক্ত মঞ্চে বিকাল ৪ ঘটিকায় এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়ন ও আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন কে সামনে রেখে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি ও বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে অবিচল। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা এবং ৩১ দফা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই দেশকে আবারও সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।বিএনপি জনগণের দল এই দলের শক্তি হলো জনগণ। তাই আগামী দিনে সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকতে হবে। প্রতিটি মানুষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যেতে হবে। সাধারণ জনগন বিএনপির মূল শক্তি। আগামী জাতীয় নির্বাচনে আপনাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে ধানের শীষ কে বিজয়ী করবেন এটাই আপনাদের কাছে প্রত্যাশা।

তিনি আরো বলেন, আগামী দিনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমান বাংলাদেশের নেতৃত্বে আসবেন এবং জনগণের ওপর নির্ভর করে দেশকে এগিয়ে নেবেন। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে গণতন্ত্রকে পূর্ণ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই আগামী দিনের সোনার বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।’

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন, জীবননগর পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান কবীর এবং সভা সঞ্চালনা করেন, জীবননগর পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান ডাবলু। এছাড়াও জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, জীবননগর পৌর বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি তাজুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউদ্দিন শফি, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দীন ঠান্ডু।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, জীবননগর পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হযরত আলী সরকার, সদস্য সচিব মনিরব হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আরসাফ হোসেন, সদস্যসচিব সুমন বিশ্বাস, কৃষক দলের আহ্বায়ক ইউনুচ আলী, সদস্যসচিব নাজমুল সবুর, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি জাহিদ হোসেন, মৎস্যজীবী দলের ৪ নং ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ সুমন মিয়া,পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কিরণ হাসনাত রাসেল, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রিমন, ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম, জীবননগর উপজেলা বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি রমেন বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক সাগর বিশ্বাসসহ পৌর, ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সভায় পৌর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মৎস্যজীবী দল , শ্রমজীবিদল সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সভাস্থলে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং বক্তাদের বক্তব্যে উপস্থিত জনতা করতালিতে সমর্থন জানায়। অনুষ্ঠান শেষে দেশের শান্তি, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনা করা হয়।




কোটচাঁদপুরে জামায়াতে ইসলামী’র যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত 

“মানবতার সেবা ও দেশ পরিচালনার যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি লাভ” এই প্রতিপাদ্যে যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানাতে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোটচাঁদপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে  অনুষ্ঠিত হয়েছে যুব সমাবেশ।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে কোটচাঁদপুর কামিল মাদরাসা মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো তরুণ অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জনাব অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর-মহেশপুর) আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী। তিনি বলেন, “সত্য সমাগত মিথ্যা বিতাড়িত, সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী। যুবকরাই দেশের ভবিষ্যৎ। মানবতার সেবা ও দেশ পরিচালনার যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টিই হতে হবে আমাদের জীবনের মূল লক্ষ্য।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ঝিনাইদহ জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি জনাব অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হাই, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোটচাঁদপুর উপজেলা শাখা আমীর ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা তাজুল ইসলাম। তারা বলেন, “বর্তমান সমাজে নৈতিক অবক্ষয় রোধে ইসলামী আদর্শে শিক্ষিত, নীতিনিষ্ঠ যুব সমাজ গড়ে তোলাই সময়ের দাবি।”

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাস্টার শাহাবুদ্দিন খান, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান  মুয়াবিয়া হুসাইন, সাবেক আমির আজিজুর রহমান, মশিয়ার রহমান, রেজাউল করিম, সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, পৌর আমীর মুহাদ্দিস আব্দুল কাইয়ুম, সেক্রেটারি মাহফুজুল হক মিন্টু প্রমুখ।

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন, জনাব মুহাম্মদ শরিফুল ইসলাম, সম্পাদক, (যুব, মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক বিভাগ) কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী, এবং অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জনাব মোঃ শিমুল হোসেন, সভাপতি, যুব বিভাগ, কোটচাঁদপুর উপজেলা শাখা। বক্তারা বলেন, দেশের সার্বিক অগ্রগতি, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা ও ইসলামী মূল্যবোধের বিকাশে যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে। তারা শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক রাজনীতির মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের আহ্বান জানান।