আলমডাঙ্গায় টাইফয়েড প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন

আলমডাঙ্গায় টাইফয়েড প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। টাইফয়েড প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আলমডাঙ্গায় শুরু হয়েছে টিকাদান কর্মসূচি। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় আলমডাঙ্গা গার্লস স্কুল প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অশীষ কুমার বসু, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন, তদন্ত ওসি লিয়াকত আলীসহ স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।

উদ্বোধন শেষে ডা. শারমিন আক্তার বলেন, “টাইফয়েড একটি সংক্রামক রোগ, যা মূলত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। টিকা গ্রহণের মাধ্যমে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে। সরকারের এই মহতী উদ্যোগ সফল করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “টিকা গ্রহণের জন্য অনলাইনে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। তাই এ বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে এবং সবাইকে অংশ নিতে উৎসাহিত করতে হবে।” সরকারের এই কর্মসূচির মাধ্যমে ধীরে ধীরে উপজেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়নে টাইফয়েড টিকা প্রদান কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, সরকারের এমন স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগে তারা সন্তুষ্ট এবং আশা করছেন, এর ফলে এলাকাজুড়ে শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।




আলমডাঙ্গায় প্রাণীসম্পদ উন্নয়নমূলক সভা অনুষ্ঠিত

আলমডাঙ্গায় প্রানীসম্পদ উন্নয়নমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে ও পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে প্রাণীসম্পদ খাতের উন্নয়ন—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আলমডাঙ্গায় উন্নয়নমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিস প্রাঙ্গণে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তর।

সভায় সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এস. এম. মাহমুদুল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শাহাবুদ্দিন বলেন, “চুয়াডাঙ্গা জেলার মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলা সবচেয়ে বড়। এখানে খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বড় পশুর হাট রয়েছে, আছে ভেটেরিনারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটও। আলমডাঙ্গায় বিপুল সংখ্যক খামারি রয়েছেন, যাদের অংশগ্রহণে প্রাণীসম্পদ খাত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নিতে।”

তিনি আরও জানান, প্রতি কোরবানির ঈদে শুধু আলমডাঙ্গা উপজেলা থেকেই চার থেকে পাঁচ হাজার গরু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তর বর্তমানে ২৩টি সমিতির মাধ্যমে প্রান্তিক খামারিদের সেবা দিচ্ছে।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ওল্টু, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, এনসিপি জেলা কমিটির সদস্য হাসানুজ্জামান, উপজেলা প্রাণীসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. এ. এন. এম. মোস্তাকিম মুকুট।

এছাড়া প্রাণীসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থাপনায় বক্তব্য দেন, সিনিয়র সাংবাদিক হামিদুল ইসলাম, ইউনিয়ন ভেটেরিনারি সুপারভাইজার কামাল হোসেন এবং খামারি কোকিলা খাতুন।

বক্তারা বলেন, মাঠপর্যায়ে প্রাণীসম্পদ বিভাগের সেবার মান আরও বাড়াতে তথ্য-উপাত্তের সঠিক ব্যবহার ও কর্মকর্তা-খামারিদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। সভা শেষে উপস্থিত কর্মকর্তারা উপজেলা পর্যায়ে খামারিদের জন্য প্রশিক্ষণ, রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার ও দপ্তরের সেবা আরও সহজলভ্য করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।




দামুড়হুদায় টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন 

দামুড়হুদায় টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ১০ টার সময় দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে উপজেলার গোবিন্দহুদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে এই টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডাঃ মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে এসময় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এইচ তাসফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবুহাসান, মাধ্যমিক একাডেমিক সুপার ভাইজার রাফিজুল ইসলাম, দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামসুজোহা পলাশ, গোবিন্দহুদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ইকবাল হোসেন, স্যানিটারী ইন্সপেক্টর নিয়ামত আলী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক মহবুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানটির সার্বিক ব্যবস্থায় ছিলেন, এমটিআই ফারুক আহমেদ। উপজেলায় ৬৬ হাজার ৭ শত ৭০ জনকে টাইফয়েড টিকাদান করা হবে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এর মধ্যে স্কুল পর্যায়ে ৪৪ হাজার ২ শত ৩ জন এবং কমিউনিটি পর্যায়ে ২২ হাজার ৫ শত ৬৭ জন।




চুয়াডাঙ্গায় স্পিরিট পানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নে গত দু’দিনে বিষাক্ত স্পিরিট পানে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আরো তিনজন দিনমজুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতদের সবাই নিম্নআয়ের পেশাজীবী কেউ ভ্যানচালক, কেউ মিল শ্রমিক, আবার কেউ মাছ ব্যবসায়ী।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই ইউনিয়নের ডিঙ্গেদহ বাজার এলাকায় কয়েকজন মিলে স্পিরিট পান করে। এরপর একে একে ছয়জন মারা যান। গতকাল রবিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যুর পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

মৃত ব্যক্তিরা হলেন- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নফরকান্তি গ্রামের পূর্বপাড়ার ভ্যানচালক খেদের আলী (৪০), খেজুরা গ্রামের হাসপাতালপাড়ার মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সেলিম (৪০), পিরোজখালি গ্রামের স্কুলপাড়ার ভ্যানচালক মোহাম্মদ লালটু ওরফে রিপু (৩০), শংকরচন্দ্র গ্রামের মাঝেরপাড়ার শ্রমিক মোহাম্মদ শহীদ (৪৫), ডিঙ্গেদহ গ্রামের টাওয়ারপাড়ার মিল শ্রমিক মোহাম্মদ সামির (৫৫) এবং ডিঙ্গেদহ এশিয়া বিস্কুট ফ্যাক্টরি পাড়ার শ্রমিক সরদার মোহাম্মদ লালটু (৫২)।

এ ছাড়া একই এলাকার দিনমজুর আলিম উদ্দিন বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই বাজারে অবৈধভাবে দেশি মদ বিক্রি চলছে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন তারা।

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের বলেন, অ্যালকোহলিক পয়জনিংয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশি তদন্ত চলছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আফরিনা ইসলাম বলেন, রবিবার ৫টার দিকে পরিবারের সদস্যরা লান্টু মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। তারা জানান, তিনি দুদিন আগে স্পিরিট পান করেছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যা ৭টা ৩২ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।




গাংনীতে রড সিমেন্টের দোকানের বিপুল পরিমাণ সারের মজুদ রহস্য!

মেহেরপুরের গাংনীতে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের এসওপি সার জব্দ নিয়ে শুরু হয়েছে ধুঁয়াশা। অবশেষে স্থানীয়দের জোর তৎপরতায় গাংনী উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতিতে ৩৩৬০ বস্তা সার প্রাথমিকভাবে জব্দ করে গাংনী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলামের জিম্মায় রেখেছেন।

এ সময় গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন, উপজেলা কৃষি অফিসার ইমরান হোসেন, গাংনী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল গাফ্ফার উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, গতরাতে কয়েকটি সারের ট্রাক ৩৩৬০ বস্তা সার মেহেরপুর-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক সড়কের গাংনী বসুন্ধরাপাড়া এলাকায় আর এ এন্টারপ্রাইজ (যার প্রোপাইটার গাংনী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম এবং পরিচালনায় বাপ্পি ও আব্দুল হালিম) গোডাউনে আনলোড করা হয়। রহস্যজনকভাবে একই গোডাউন থেকে রবিবার সন্ধার দিকে আবারও ওই সার ট্রাকে লোড শুরু করে কয়েকজন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হলে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগসহ পুলিশসহ আইনশৃংখলাবাহিনীর সদস্যদের খবর দেন। এক পর্যায়ে মেহেরপুর জেলা প্রশাসককেও খবরটি দেন। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন, কৃষি অফিসার ইমরান হোসেন ঘটনাস্থলে পৌছান।

এক পর্যায়ে সারগুলো নিয়ে সৃষ্টি হয় ধু¤্রজাল। পরে গাংনী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলামসহ শ্রমিক ইউনিয়নের কয়েকজন এসে জানান, এসওপি সারগুলো ঝিনাইদহ জেলার জন্য একটি তামাক কোম্পানী নিয়ে এসেছে। ওখানে সমস্যার কারনে এই গোডাউনে রাখা হয়েছে।

সারগুলো চিটাগাঙের নাফকো কোম্পানী থেকে ক্রয় করেছে একটি টোব্যাকো কোম্পানী। তবে, টোবাক্য কোম্পানীর কোনো লোক সারগুলোর কাছে আসেনি।

আর এ এন্টারপ্রাইজ একজন পরিচালক বাপ্পি জানান, আমাদের এটা রড সিমেন্টের দোকান। শ্রমিকলীগ নেতা মনিরুজ্জামান ফোন করে বলেছে সারগুলো নামবে পরে এসে কোম্পানীর লোকজন নিয়ে যাবে। তারা ভাড়া দেবে। আমার ঘর ফাঁকা ছিল। আমার ঘরে সার নামিয়েছি। আজকে তারা নিয়ে যাচ্ছে। তবে, গাড়ির চালকরা জানান, সার বোঝায় থাকলে ট্রাকের চাকা নষ্ট হয়ে যাবে এজন্য আমরা সারগুলো এখানে নামিয়ে রেখেছি। এব্যাপারে থানায় জিডি করতেও গেছি। কিন্তু থানার স্যার না থাকায় জিডি করা হয়নি।

শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ও ট্রান্সপোর্টের এজেন্ট আক্তারুজ্জামান বলেন, এই মাল চুয়াডাঙ্গার জীবনগরে  আনলোড হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কি কারণে সেখানে সার আনলোড করা হয়নি। আমাদের ফোন করে বললো গাংনীতে মাল আনলোড করে নেন। আমরা এখনো জানিনা কি কারণে মালগুলো এখানে আনলোড করেছে।

এ ব্যাপারে গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার ইমরান হোসেন বলেন, এই সারটা বৃটিশ আমেরিকান কোম্পানী এখানে নিয়ে এসেছে। আমাদের গাংনী থানার ওসি জানানোর পর ঘটনাস্থলে এসে সারটা আপাতত জব্দ করে এবং তাদের চালানের কাগজপত্র নিয়েছি। আগামীকাল সারের প্রকৃত মালিকদের আসতে বলেছি। তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে পরবর্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসনে বলেন, বর্তমানে সার নিয়ে একটি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সারটি সংশ্লিষ্ট যারা কিনেছেন তাদের সাথে কৃষি অফিসারের কথা হয়েছে। তারা আসলে উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে বিষয়টি সূরাহা করা হবে।




মেহেরপুরে বিএনপি থেকে ৭০ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মেহেরপুর জেলা শাখার উদ্যোগে সদর উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৭০ জন বিএনপি নেতাকর্মী জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। গতকাল রবিবার এশার নামাজের পর গোপালপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ যোগদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মেহেরপুর জেলা আমির ও মেহেরপুর-১ আসনের প্রার্থী তাজউদ্দিন খান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মেহেরপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইকবাল হুসাইন, মেহেরপুর শ্রমিক ফেডারেশনের জেলা সভাপতি আব্দুর রউফ মুকুল, রাজনৈতিক সেক্রেটারি কাজি রুহুল আমিন, মেহেরপুর সদর উপজেলা আমির সোহেল রানা, মেহেরপুর পৌর শাখার আমির সোহেল রানা ডলার, উপজেলা সেক্রেটারি ও আমঝুপি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী জাব্বারুল ইসলাম মাস্টার, শ্যামপুর ইউনিয়ন আমির মফিদুল ইসলাম, সেক্রেটারি মকলেছুর রহমান, গোপালপুর ওয়ার্ড সভাপতি ইমাদুল হকসহ শ্যামপুর ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। নতুন যোগদানকারীদের হাতে ফুল তুলে দিয়ে ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে স্বাগত জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে মাওলানা তাজউদ্দিন খান বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের আন্দোলনে জামায়াত সবসময় জনগণের পাশে আছে। এই যোগদান আমাদের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করবে।

স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানান, নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতাকর্মীদের জামায়াতে যোগদান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।




মেহেরপুরে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার নির্দেশ বিএনপি মহাসচিবের 

মেহেরপুর-১ আসনে বিএনপির জয় নিশ্চিত করতে এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা মানতে দলের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় বিএনপির গুলশান কাযর্যালয়ে মেহেরপুর-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী তিন নেতাকে এ নির্দেশনা দিয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে।

বিএনপির মহসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ডাকে দলীয় কার্যালয়ে আসন ভিত্তিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. কামরুল হাসান এবং শিক্ষক নেতা জাকির হোসেন।

উপস্থিত তিনজেনর মধ্যে অ্যাড. কামরুল হাসান ও জাকির হোসেন মেহেরপুর প্রতিদিনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তাঁরা দুজনই বলেন, দলীয় বিভেদ কোন্দল ভুলে গিয়ে ঐক্যদ্ধভাবে দলীয় সকল কর্মসূচী পালন করতে  মহাসচিব নির্দেশনা দিয়েছেন। মহাসচিব বলেছেন, কেউ কারো বিরুদ্ধে যেন বিষেদামূলক কোন কথা না বলেন । দল যাকে মনোনয়ন দেবে সকলেই যাতে তাঁর হয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করতে পারে এবং দলীয় বিজয় নিশ্চিত করতে পারেন।

তবে, গতকাল রাতের এ বৈঠক শুরু হওয়ার আগে থেকে সোশ্যাল মিডিয়া মেহেরপুরের  বিএনপির নেতা-কর্মী সমর্থকরা বিভিন্ন জনের পক্ষ নিয়ে আলহামদুলিল্লাহসহ বিভিন্ন স্ট্যাটাসের ঝড় তোলে সরব করে রাখেন।




মেহেরপুরে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

মেহেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে।

রবিবার সকালে মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে একজন ছাত্রীকে টিকা প্রদানের মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে এ ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পার্থ প্রতিম শীল, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. খায়রুল ইসলাম, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আঞ্জুমান আরা, জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক সিরাজুম মুনির, জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক আব্দুস সাত্তার, সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. ইনজামামুল হক, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. রোমানা হেলালী জুশি, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম এবং মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

মেহেরপুর জেলায় ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৯৭ জন শিশুকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মেহেরপুর সদর উপজেলায় ৮০ হাজার ১৪৫ জন, গাংনী উপজেলায় ৪৭ হাজার ৯৪৩ জন, মুজিবনগর উপজেলায় ২৬ হাজার ৯৩৮ জন এবং মেহেরপুর পৌরসভায় ১৩ হাজার ২৭১ জন।

তবে এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ৭১ হাজার ১৬৯ জন শিশুর রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৭ হাজার ৭২৫ জন, গাংনী উপজেলায় ২৮ হাজার ৭৪৫ জন এবং মুজিবনগর উপজেলায় ৮ হাজার ৯৭৫ জন।




মুজিবনগরে আমিরুল ইসলামের গণসংযোগ ও পথসভা অব্যাহত

মেহেরপুর-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী, মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী ইউনিয়নে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়ন এবং ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে গণসংযোগ করেছেন।

রবিবার বিকেল ৪টায় গণসংযোগের উদ্দেশ্যে মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী ইউনিয়নের শিবপুর ও বিশ্বনাথপুর গ্রামে পৌঁছালে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

তিনি মোনাখালী ইউনিয়নের শিবপুর ও বিশ্বনাথপুর গ্রামে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে গণসংযোগ, পথসভা ও ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ করেন।

এ সময় সাধারণ জনগণের মাঝে তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ধানের শীষে ভোট প্রদানের আহ্বান জানান আমিরুল ইসলাম।

গণসংযোগকালে মোনাখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান এবং আগামী নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জাতীয়তাবাদী দলকে ক্ষমতায় আনার অঙ্গীকার করেন।

গণসংযোগে আরও উপস্থিত ছিলেন বাগোয়ান ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ইসলাম আলী, মোনাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রায়হান কবীর, সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান টুটুল, দারিয়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান, জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক হাবিবুর রহমান ভিকু, মুজিবনগর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনারুল ইসলামহ, দারিয়াপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম, মেহেরপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ফাহিম আহনাফ লিংকনসহ

মোনাখালী ও দারিয়াপুর ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রামের বিএনপি, যুবদল, কৃষক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।




মেহেরপুরের আমঝুপিতে জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস পালন

“কৃষি জমিতে তামাক চাষ, খাদ্য নিরাপত্তায় সর্বনাশ।” প্রতিপাদ্য মেহেরপুরে জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস ২০২৫ পালন উপলক্ষে মানববন্ধন ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সুবাহ্ সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে এবং বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের সহযোগিতায় গতকাল রবিবার সকালে সদর উপজেলার আমঝুপি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা অবিলম্বে তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা চূড়ান্ত করার দাবি জানান।

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি স্মারকলিপির অনুলিপি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের কাছেও হস্তান্তর করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুবাহ্ সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মঈন-উল-আলম এবং স্থানীয় সংগঠনের প্রতিনিধি ও সদস্যবৃন্দ।