আলমডাঙ্গায় বিএনপির প্রভাবশালী দুই গ্রুপের সমন্বয়; ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান

আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপি’র দীর্ঘদিন ধরে চলমান দুই গ্রুপের সংঘাতময় বিরোধিতার অবসান ঘটার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে সমন্বয় সভা। গতকাল সন্ধ্যায় লায়লা কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর দুইটি প্রভাবশালী গ্রুপের মধ্যে সমন্বয়ের লক্ষ্যে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোঃ শরীফুজ্জামান শরীফের সঙ্গে আলমডাঙ্গা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি শহিদুল কাউনাইন টিলু ওস্তাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিরুল ইসলাম সেলিমসহ টিলু ওস্তাদ গ্রুপের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অধিকাংশ সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আসন্ন নির্বাচনে দলীয় ঐক্য ও সংগঠনকে শক্তিশালী করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, এই সমন্বয় সভার মধ্য দিয়ে আলমডাঙ্গা বিএনপিতে ঐক্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। সভা শেষে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, দল ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোঃ শরীফুজ্জামান শরীফের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।




মুজিবনগরে কৃষকদের প্রণোদনার নামে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার অভিযোগ

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলায় কৃষকদের লক্ষ্য করে প্রণোদনার নামে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কিছু অসাধু ব্যক্তি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি প্রণোদনা দেওয়ার কথা বলে নগদ টাকা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, এমনকি বিকাশ নম্বর পর্যন্ত দাবি করছে— এমন তথ্য জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোমিন স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সরকারি প্রণোদনা পাওয়ার জন্য কোনো কৃষকের কাছ থেকে নগদ টাকা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর অথবা বিকাশ নম্বর নেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী কখনোই এ ধরনের তথ্য চাইবেন না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি প্রতারক চক্র বিভিন্ন কৌশলে কৃষকদের ভুল পথে পরিচালিত করছে এবং অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাই এমন কোনো দাবি এলে কৃষকদের তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলার কৃষি অফিস অথবা সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি দপ্তর জানিয়েছে, সরকারি প্রণোদনার সব কার্যক্রম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। তাই কোনো অবস্থাতেই কারও কাছে ব্যক্তিগত তথ্য বা টাকা প্রদান না করতে কৃষকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রতারণা রোধে এলাকায় সচেতনতা বাড়াতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে।




সংসার সুখের আশায় সৌদিতে গিয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেলেন ফজলুল

পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রবাসে গিয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে সৌদি আরবে মারা গেছেন আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার বন্ডবিল উত্তরপাড়ার ফজলুল হক ওরফে ফজা (৪৭)।

গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে সৌদি আরবের আল কাসিম প্রদেশের রোবাইদা শহরে কর্মস্থলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ফজলুল হক। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি। কিছুক্ষণ পরই চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিকেলের দিকে মৃত্যুর খবরটি আলমডাঙ্গায় পৌঁছালে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে নেমে আসে শোকের মাতম।

ফজলুল হক আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার বন্ডবিল উত্তরপাড়ার দাউদ আলীর ছেলে। জীবনের প্রায় অর্ধেক সময়ই কেটেছে তার প্রবাসজীবনে। পরিবারকে ভালো রাখতে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে বিদেশের মাটিতে দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন তিনি। সর্বশেষ প্রায় তিন থেকে চার বছর আগে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে থেকেই তিনি বুকের বাম পাশে ব্যথা অনুভব করছিলেন। বিষয়টি অবহেলা না করে তিনি সৌদি আরবে চিকিৎসকের কাছে যান এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন করছিলেন। তারপর থেকে ভালোই ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে স্বাভাবিকভাবেই কাজে যোগ দেন। কর্মস্থলে কাজ করার একপর্যায়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যায়। ধারণা করা হচ্ছে স্ট্রোক বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।

মৃত ফজলুল হক এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। তার ছেলে শাওন (২২) শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী এবং মেয়েটি বিবাহিত। বাড়িতে রয়েছেন তার বৃদ্ধ বাবা, স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী ছেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। ফলে তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর অনিশ্চয়তা ও মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

ফজলুল হকের জামাই শাহিন আলম জানান, প্রতিদিনই শ্বশুরের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে কথা হতো। মৃত্যুর আগের রাতেও তাদের কথা হয়েছে। তিনি বলেন, শ্বশুর কয়েক দিন ধরে বুকে ব্যথা অনুভব করছিলেন। ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ খাচ্ছিলেন। হঠাৎ এমন খবর আমাদের জন্য মেনে নেওয়া খুব কষ্টের। ফজলুল হকের মরদেহ দ্রুত দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

প্রবাসে জীবনের সবটুকু উজাড় করে দেওয়া এই শ্রমজীবী মানুষের মৃত্যুতে এলাকাবাসী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।




মেহেরপুরে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই মেহেরপুর জেলার ১৪৬৬টি প্রাথমিক ও ৪১৫টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হাতে নিজ নিজ বিদ্যালয় থেকে একযোগে নতুন বই তুলে দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় মেহেরপুর জেলা কালেক্টরেট স্কুলে উপস্থিত থেকে বই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন, মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবীর। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম।

গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই বই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। বছরের প্রথম দিনে নতুন বই পেয়ে শিক্ষার্থীরা হাসিমুখে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফিরছে।

অভিভাবকরা জানান, নতুন বই পাওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে।




গাংনী মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে তালা দেওয়ার অভিযোগ

মেহেরপুরের গাংনী মহিলা ডিগ্রী কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হতে না পেরে বেদারুল ইসলাম নামের এক সহকারী অধ্যাপকের বিরুদ্ধে কলেজের অধ্যক্ষেরব কক্ষে তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে অধ্যক্ষর মূল ফটোকে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে সহকারী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম তালা খুলে দেন। তালা দেয়াকে কেন্দ্র করে কলেজে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

গাংনী মহিলা ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিরুল ইসলাম বলেন, সকালে কলেজে গিয়ে কার্যালয়ের সামনে তালা ঝুলতে দেখতে পাই পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ শিক্ষকবৃন্দকে অবগত করি। পরে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা কলেজে আসার পর তালা খুলে দেওয়া হয়।

গাংনী মহিলা ডিগ্রী কলেজ পরিচালনা পর্ষদের অভিভাবক সদস্য সাবেক কাউন্সিলর শাহিদুল ইসলাম জানান, আমরা জানতে পেরেছি সহকারী অধ্যাপক বেদারুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হতে চেয়েছিলেন সেটি না পেরে তিনি কলেজে তালা দিয়েছেন।

সহকারী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন তিনি তালা খুলে দিয়েছেন চাবি কোথায় পাইলেন জানতে চাইলে তিনি এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি।

সহকারী অধ্যাপক বেদরুল ইসলাম তালা দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মহিলা ডিগ্রী কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোঃ : আনোয়ার হোসেন বলেন তালা মারার বিষয়টি শুনেছি বিষয়টি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হয় এহেন কোন কর্মকান্ডের জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মহিলা ডিগ্রী কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা জানান, গত ৩০শে ডিসেম্বর অধ্যক্ষ খোরশেদ আলম অবসরে যান।

এর আগে কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক সহকারী অধ্যাপক আমিরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিষয়টি মানতে না পেরে সহকারী অধ্যাপক বেদারুল ইসলাম কলেজে তালা দিয়েছেন।




সরকারি ছুটির দিনেও গাংনী সাব-রেজিস্ট্রি অফিস খোলা রাখার অভিযোগ

সারা বাংলাদেশে সরকারি অফিসে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলেও সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে মেহেরপুরের গাংনী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সকল কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে- এমন অভিযোগ উঠেছে সাব-রেজিস্ট্রার নাইমা ইসলামের বিরুদ্ধে।

‎স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, ৩১ ডিসেম্বর বিএনপি’র চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক দিবস উপলক্ষে সরকারি ভাবে সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। অথচ সেই সরকারি নির্দেশ অমান্য করে গাংনী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়মিত কার্যক্রম চালু রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ছুটি থাকা সত্ত্বেও কোন ক্ষমতাবলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস খোলা রাখা হয়েছে- তা বোধগম্য নয়। তারা এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

‎এদিকে বিষয়টি জানার পর গাংনী উপজেলা যুবদলের নেতা শাহিবুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত হয়ে অফিস কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সারা দেশ শোকাহত।

‎এমন দিনে আপনারা কীভাবে অফিস খুলে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন-এর ব্যাখ্যা চাই।

‎এ সময় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী নার্গিস আক্তার জানান, অফিসের কিছু কাজ পেন্ডিং থাকায় তারা অফিস খুলেছিলেন। তবে নিষেধ করার পর তারা তাৎক্ষণিকভাবে অফিস বন্ধ করে চলে যান।

‎পরবর্তীতে এ বিষয়ে পুনরায় জানতে চাইলে অফিস সহকারী নার্গিস আক্তার অফিস খোলার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, কিছু পেন্ডিং কাজের কারণে অফিস খোলা হয়েছিল। পরে লোকজন নিষেধ করলে আমরা অফিস বন্ধ করে চলে যাই।

‎তবে অভিযোগের বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার নাইমা ইসলাম অফিস খোলার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।




মেহেরপুরে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ দুই যুবক আটক

মেহেরপুর র‍্যাব ১২ ক্যাম্পের বিশেষ অভিযানে অস্ত্র ও গুলি সহ দুই যুবককে আটক করা হয়েছে । এ সময় তাদের কাছ থেকে বিদেশী দুটি পিস্তল, ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বাজুডাঙ্গা গ্রামে আল-সালেহ পাবলিক ওয়েলফেয়ার হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে পিস্তল ও গুলি উদ্ধারসহ তাদের আটক করে র‍্যাব সদস্যরা। আটককৃতরা হলেন, কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার সিদ্দিক আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন গিট্টু একই গ্রামের ভাঙ্গাপাড়া এলাকার দিদার মন্ডলের ছেলে মিশন ইসলাম।

র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানায়, বিকালে র‍্যাবের একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে দৌলতপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় আটক গিট্টুর কাছ থেকে আমেরিকার তৈরী একটি বিদেশী পিস্তুল, তিন রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগজিন উদ্ধার হয়। এছাড়া মিশন আলীর কাছ থেকে আফগানিস্তানের তৈরি একটি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি, ২ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব-১২, সিপিসি-৩-এর কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার আল মামুন চিশতী জানান, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে অস্ত্র মজুদের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ১টি আমেরিকার তৈরি পিস্তল ও ১টি আফগানিস্তানের তৈরি রিভলবার সহ ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানায় হস্তান্তর করা হবে। সোহাগ হোসেন গিট্টুর নামে হত্যা ও অপহরণ মামলাসহ ৪টি এবং মিশনের নামে একটি মারামারি মামলা রয়েছে।




আলমডাঙ্গায় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

আলমডাঙ্গায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ৪০ (চল্লিশ) পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রয়ের নগদ টাকা উদ্ধারসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি আলমডাঙ্গা রেলস্টেশনপাড়ার বাসিন্দা রুবেল হোসেন (৩২)। তিনি আলমডাঙ্গা থানার ১০ মামলার আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের এসআই (নিঃ) আলমগীর হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ থানা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত ৯টা ৩০ মিনিটে আলমডাঙ্গা স্টেশনপাড়াস্থ গণশৌচাগারের পশ্চিম পাশে পাকা রাস্তার ওপর থেকে রুবেল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত রুবেল হোসেন আলমডাঙ্গা স্টেশনপাড়ার বাসিন্দা রেজাউল ইসলামের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় ১০টি মামলা রয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরায়েল জানান, উদ্ধারকৃত আলামত জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধৃত আসামির বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা নম্বর-০১, তারিখ-০১/০১/২০২৬ খ্রি., ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এর ৩৬(১) ধারার সারণির ২৯(ক) অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।




আলমডাঙ্গায় রাষ্ট্রীয় শোকের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বই বিতরণ

আলমডাঙ্গায় রাষ্ট্রীয় শোকের মধ্যে বছরের প্রথম দিনে নতুন বই বিতরণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচির কারণে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই আলমডাঙ্গা উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থীর হাতে ২০২৬ সালের বিনামূল্যের নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে আলমডাঙ্গা প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ বই বিতরণ কর্মসূচিতে শত শত শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে কালিদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আসানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসাররা নিজ নিজ ক্লাস্টারে বই বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করেন।

নতুন বছরের প্রথম দিনেই নতুন বই হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণজুড়ে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও প্রাণচাঞ্চল্য। রঙিন মলাটের নতুন বই পেয়ে শিক্ষার্থীরা জানায়, বছরের শুরুতেই পাঠ্যবই পাওয়ায় তারা পড়াশোনায় আরও মনোযোগী ও আগ্রহী হয়ে উঠবে।

বই বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.এস.এম শাহনেওয়াজ মেহেদী, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আলাউদ্দিন, সহকারী শিক্ষা অফিসার রবিউল ইসলাম, মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারিস উদ্দিন, আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন এটমসহ অন্যান্যরা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার বলেন, নতুন পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের প্রথম ধাপ। নিয়মিত অধ্যয়ন ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের আদর্শ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আলাউদ্দিন শিক্ষার্থীদের নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সময়ের সঠিক ব্যবহার ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবে।

এছাড়াও বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বই বিতরণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান করেন।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানান, সরকারের নির্দেশনা ও জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনায় মন্দিরে প্রার্থনা

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় ঝিনাইদহে মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের মদন মোহন মন্দিরে এ প্রার্থনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ।

এ সময় জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক চন্দন বসু, সদস্য সচিব অরুণ কুমার ঘোষ, জেলা পুজা উদ্যাপন ফ্রন্টের সদস্য সচিব সমীর কুমার হালদার, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট কানন কুমার দাস, জরিপ বিশ্বাস ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুব্রত কুমার মল্লিক, স্থানীয় বিএনপি নেতা বিমল কুমার ঘোষ, সুভাষ দে, কেন্দ্রীয় বারোয়ারি মন্দিরের সভাপতি বিকাশ রায় বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তার ভূমিকা এবং দেশ গঠনে তার অবদানের কথা স্মরণ করে বক্তব্য রাখেন। পরে মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা ও বিদেহীর আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।