নারী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রোমানা আহমেদ

মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাবেক শিশু বিষয়ক সম্পাদক রোমানা আহমেদ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুর-১ সংসদীয় আসন থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন।

একজন নারী প্রার্থী হিসেবে তাঁর মনোনয়ন উত্তোলনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলামের কাছ থেকে রোমানা আহমেদের প্রতিনিধি দল আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে।

দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় রোমানা আহমেদ তৃণমূল পর্যায়ে একজন পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ। তিনি এর আগে টানা দুইবার মেহেরপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় তাঁর এই অভিজ্ঞতা তাঁকে শক্তিশালী নারী নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মেহেরপুর-১ আসনে একজন অভিজ্ঞ নারী প্রার্থীর মনোনয়ন উত্তোলন বিএনপির জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এতে নারী ভোটারদের পাশাপাশি তরুণ ভোটারদের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া পড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।

মনোনয়নপত্র উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মিজান মেনন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আজমল হোসেন মিন্টু, সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৌরভ হোসেন, জেলা মহিলা দলের সহসভাপতি সাবিয়া সুলতানাসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নারী নেতাকর্মীরা।

রোমানা আহমেদের মনোনয়ন উত্তোলনের খবরে জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ও প্রত্যাশা দেখা দিয়েছে। নারী নেতৃত্বের অগ্রযাত্রায় তাঁর এই পদক্ষেপ মেহেরপুরের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




সহকারী অধ্যাপক হলেন ঝিনাইদহের মানবিক চিকিৎসক প্রসেনজিৎ পার্থ

ঝিনাইদহে গরিবের বন্ধু, মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন কার্ডিওলজি স্পেশালিষ্ট ডাঃ প্রসেনজিৎ বিশ্বাস পার্থ। প্রাইভেট চেম্বারেও বিনামূল্যে অসহায় দরিদ্র রোগী দেখে শুধু জেলা সদরে নয় পুরো জেলার মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি তিনি সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদন্নোতি পেয়েছেন। অহংকারের লেশ মাত্র নেই এ চিকিৎসকের মনে। সদালাপী সাদা মনের মানুষ হয়ে তিনি সব সময় নিজেকে আড়াল রাখতেই পছন্দ করেন। ব্যতিক্রমী এ মানুষটি ঝিনাইদহে দীর্ঘদিন চিকিৎসা সেবা দিয়ে সহকর্মী, রোগী ও তাদের আত্মীয়-স্বজন ও সুশীল সমাজের প্রশংসা আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন।

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগী আব্দুল আজিজ বলেন,বুকে ব্যথা নিয়ে চিকিৎসক প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের চেম্বারে এসেছিলাম। তার রোগী দেখার ফিস দেওয়ার মত টাকা আমার কাছে ছিলো না। পরে ডাঃ বিষয়টি জানতে পেরে আমাকে চেম্বারে ডেকে বিনা টাকায় চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। এমনকি শারীরিক যত্নে নানা পরামর্শ দেন।

সেই সাথে আমাকে আশ্বস্ত করেন তার চেম্বারে টাকার অভাবে কোন রোগী চিকিৎসা সেবা না নিয়ে ফিরে যাবে না। তার এমন মহতি উদ্যোগে আমরা ঝিনাইদহবাসী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। এমন চিকিৎসক যেন প্রতিটি জেলায় জেলায় তৈরি হয় সেই কামনা করি। তাহলে কোন অসহায় দ্ররিদ্র মানুষ আর বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না।

এ বিষয়ে ডাঃ প্রসেনজিৎ বিশ্বাস পার্থ বলেন, বাবার ইচ্ছে ছিলো আমাকে ডাক্তারি পড়ানো। ছোট বেলা থেকেই সেভাবে লেখাপড়ার সহযোগীতা করেছেন আমার মুক্তিযোদ্ধা বাবা। আমার বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই মনে হয়েছে আমি দেশ ও সমাজের মানুষের সেবা করবো। সেই থেকে বাবার ইচ্ছে আর আমার স্বপ্ন নিয়ে ডাক্তার হবার প্রাণপন চেষ্টা করি। প্রথমে আমি বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাশ করে ৩২ তম বিসিএস এ সুপরিশ প্রাপ্ত হই। পরে ঝিনাইদহ স্বাস্থ্য বিভাগে মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান করে দীর্ঘ ৫ বছর দায়িত্ব পালন করি।

এরপর উচ্চতর ডিগ্রী অর্জনের জন্য শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ডি-কার্ড কোর্সে ভর্তি হয়ে পাস করি। পরে কার্ডিওলজি তে এফসিপিএস পার্ট-১ পাস করে বাংলাদেশ জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে এ্যাসিস্টেন্ট রেজিস্টার হিসেবে ৩ বছর চাকুরি করি। কিন্তু নিজের এলাকার মানুষের চিকিৎসা সেবার কথা চিন্তা করে ঢাকার লোভনীয় পদ ও উন্নত সুযোগ সুবিধা থাকা স্বত্বেও আমি ঝিনাইদহে ফিরে এসেছি।

বর্তমানে আমি এখন ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে কার্ডিওলজি কনসালটেন্ট ও সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছি। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে জাতীর শ্রেষ্ঠসন্তান তথা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আমার কাছে চিকিৎসা সেবা নিতে কোন টাকা লাগবেনা।

তিনি আরো বলেন, চিকিৎসক এমন একটা পেশা যা সহজেই মানুষের কাছাকাছি এসে প্রত্যক্ষভাবে সেবা করা যায়। তাই জীবনে যতদিন বেচে থাকবো মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার চেষ্টা করে যাবো। চিকিৎসক ঠিকই আমি হয়েছি কিন্তু কতটুকু মানুষ হতে পেরেছি সেটা আপনারাই মূল্যায়ন করবেন।




ঝিনাইদহের বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে এবার প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।

কৃষকের সহযোগিতা, কৃষিভিত্তিক এনজিওতে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ, জমি বন্ধক নিয়ে টাকা না দেওয়াসহ নানা প্রতারণার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের নার্সারি নিজের দেখিয়ে ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কার হাতিয়ে নেয় প্রতারক ইদ্রিস আলী। সে সময় স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও কৃষি সংগঠনগুলো তাকে সংবর্ধনা প্রদান করে। সেটাকেই পুঁজি করে শুরু হয় তার প্রতারণা।

কিছুদিন পর তিনি ‘কৃষক কল্যাণ সংস্থা’ নামে কৃষিভিত্তিক একটি এনজিও প্রতিষ্ঠা করেন। সেই এনজিওতে চাকরি দেওয়ার নামে ওই এলাকার ১০ থেকে ১৫ জন যুবক-যুবতীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে জমি লিজ নিয়ে সেই জমি বন্ধক রাখার অভিযোগও রয়েছে।

ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান খান লাবু বলেন, আমার কাছ থেকে ১৫ বছর আগে ৭ বিঘা জমি লিজ নিয়েছিল ইদ্রিস আলী। শুরুর দিকে লিজের টাকা দিলেও পরে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। শুধু তাই নয়, আমার জমি অন্য কৃষকের কাছে বন্ধক রেখেছে। এখন আমি জমিও পাচ্ছি না, আবার টাকাও পাচ্ছি না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লক্ষীপুর জমাদ্দার পাড়ায় জৈব সার কারখানা তৈরি করেছেন ইদ্রিস আলী। সেই কারখানায় মোট ৪ জন শেয়ার রয়েছে। ৩ জনের কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা নিয়ে শুরু করলেও এখন সকল মুনাফা একাই ভোগ করছেন। মূলধনের টাকা ফেরত চাইলে উল্টো থানায় অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছেন।

দ্রুত এই প্রতারকের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইদ্রিস আলীকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি সামসুল আরেফিন বলেন, আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




ঝিনাইদহে পুস্তক প্রকাশনা ও বিক্রয় সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন

বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রয় ও প্রকাশনা সমিতির ঝিনাইদহ জেলা শাখার (২০২৬-২০২৭) দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এতে রাজু বুক ডিপোর স্বত্বাধিকারী মো: মোস্তাফিজুর রহমান টিপু সভাপতি এবং উদয়ন বুক হাউস এর স্বত্বাধিকারী মোঃ মোহায়মেনুর রহমান রাজু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছে।

আজ বিকালে পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রয় সমিতির কার্যালয়ে এই নির্বাচন সম্পন্ন হয়। জেলার পুস্তক প্রকাশনা ও বিক্রয় সমিতির সদস্যরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ মোট ১৭টি পদে প্রতিনিধি নির্বাচিত হন।

এই নির্বাচনে বিজয়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সকলকে ঝিনাইদহ জেলা দোকান মালিক সমিতি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন তাদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।




সিরাজগঞ্জে গণঅধিকার পরিষদ নেতার মরদেহ উদ্ধার

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানাধীন যমুনা নদীর বালুবাহী ড্রেজার থেকে গণঅধিকার পরিষদের এক নেতার মরদেহ উদ্ধার করেছে চৌহালী নৌ থানা পুলিশ।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে জালালপুর ইউনিয়নের পাড়ামোহনপুর এলাকায় যমুনা নদীতে চলমান একটি ড্রেজার থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত হাফিজুল ইসলাম হাফিজ (৩১) এনায়েতপুর থানা গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বাঐখোলা গ্রামের কমল মুন্সীর ছেলে।

জানা গেছে, নিহত হাফিজসহ কয়েকজন মিলে জালালপুর, আড়কান্দি ও পাড়ামোহনপুর এলাকায় বালুর ব্যবসা করতেন। গত রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাতে একটি ড্রেজারের বাল্কহেডে সহযোগীদের সঙ্গে খাবার খেয়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে সহকর্মীরা তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে এনায়েতপুর থানা পুলিশ ও চৌহালী নৌ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

চৌহালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফিরোজ উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, নিহতের শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন নেই এবং প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু বলেই মনে হয়েছে। নিহত হাপিজ রাতে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশটি হস্তান্তর করা হয়েছে।




মেহেরপুরে ড্রামট্রাক-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে একজন নিহত, আহত ১

মেহেরপুর সদর উপজেলার আমদহ-টেংরামারি সড়কের আশরাফপুরে ড্রামট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী লিজন হোসেন নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন চালক রকিবুল ইসলাম।

আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে আশরাফপুরে একটি ইটভাটার পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত লিজন মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে এবং আহত রকিবুল সদর উপজেলার চকশ্যামনগর গ্রামের সামসুল হোদা মন্ডলের ছেলে। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, চকশ্যামনগর থেকে একটি মোটর সাইকেল নিয়ে লিজন ও রকিবুল আশরাফপুরের দিকে যাচ্ছিল। অপরদিক থেকে আসা বালি বোঝাই একটি ড্রাম ট্রাক আমদহের দিকে যাচ্ছিল। আশরাফপুর ইটভাটা নিকট পৌছালে অসাবধানবশত ড্রাম ট্রাকের সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেল আরোহী লিজন মারা যান এবং চালক রকিবুল গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং বালি বোঝাই ড্রাম ট্রাকটি জব্দ করে।

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় কারণ অনুসন্ধান চল




মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিজিবির নজরদারি জোরদার

খুলনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান ও শ্রমিক সংগঠনের খুলনা বিভাগীয় সংগঠক মোস্তাফিজুর রহমান শিকদার আহত হওয়ার পর থেকে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)’র পক্ষ থেকে ব্যাটালিয়নের আওতাধীন মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

ঘটনার পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ মেহেরপুর সীমান্তের পিলার ৭৫/০ থেকে ১৩১/৮-আর পর্যন্ত প্রায় ১৩০ কিলোমিটার এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি ও নজরদারি কার্যক্রম শুরু করেছে।

সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টহল বৃদ্ধি, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, যেসব সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই, সেসব এলাকা বিশেষভাবে সিলগালা করা হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে যেন কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা অপরাধী পালিয়ে যেতে না পারে, সে লক্ষ্যে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মুজিবনগর, নাজিরাকোনা, দারিয়াপুর, বুড়িপোতা, ইছাখালী, ঝাঝা,‌ হরিরামপুর, শোলমারিসহ বিভিন্ন বিওপি এলাকায় অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তসংলগ্ন অভ্যন্তরীণ এলাকায় যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

সীমান্ত এলাকা ছাড়াও গাংনী উপজেলা শহরে, মুজিবনগরের কেদারগঞ্জ ও মেহেরপুর শহরে বিজিবির বিভিন্ন দল টহল ও তল্লাশি করতে দেখা গেছে। ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান জোরদার করেছে।

খুলনায় এনসিপি নেতা মোতালেব হোসেনকে (৪২) গুলি করে আহত করার ঘটনায়- মেহেরপুরের গাংনীর সীমান্ত এলাকায় নজরদারি, পাহারা ও টহল জোরদার করেছে বিজিবি।

এদিকে ৪৭ বিজিবির পক্ষ থেকেও সোমবার বিকাল থেকে গাংনী সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় পাহারা ও টহল জোরদার করা হয়। ৪৭ বিজিবি’র পক্ষ থেকে সোমবার বিকেলে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২২ ডিসেম্বর খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সামনে দিয়ে যাওয়ার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির শ্রমিক উইং এর খুলনা বিভাগীয় আহবায়ক ও এনসিপি কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মোঃ মোতালেব সিকদারকে (৪২) দুর্বৃত্তরা গুলি করে আহত করে। এঘটনায় জড়িত দুষ্কৃতকারীকে আটক এবং সীমান্ত অতিক্রম রোধকল্পে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী গাংনী বিভিন্ন সীমান্তে নিচ্ছিদ্র নজরদারী ও পাহারা জোরদার করা হয়েছে।

এর প্রেক্ষিতে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এর অধীনস্থ বিওপিসমূহ কর্তৃক দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এবং সীমান্তের আশেপাশের এলাকায় ৮টি চেকপোষ্ট স্থাপনের মাধ্যমে দুষ্কৃতকারীকে আটকের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও নিয়মিত টহলের পাশাপাশি সীমান্তে দ্বিগুন টহল তৎপরতা বৃদ্ধি, চেকপোষ্টে তল্লাশি কার্যক্রমের মাধ্যমে দৃষ্কৃতকারী, অপরাধীর সীমান্ত অতিক্রম রোধকল্পে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকায় দুর্বৃত্তরা তার মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে শেখ হাসিনা সিটি মেডিকেল সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়।




আমঝুপি শিশু কিশোর সংগঠনের ২৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

আমঝুপি শিশু কিশোর সংগঠনের ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাৎসরিক প্রীতিভোজ ও জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার মুজিবনগর উপজেলার অনন্যা পার্কে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কেক কাটা, আলোচনা সভা ও প্রীতিভোজের মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের নতুন জার্সি উন্মোচন করা হয়। জার্সির স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন দোয়েল।

এ উপলক্ষে সংগঠনের নতুন কমিটিও ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান মুস্তাক আহমেদ মিলন, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আবু সাঈদ শুভ। পাশাপাশি ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা পরিষদ চূড়ান্ত করা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আমঝুপি শিশু কিশোর সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, খেলাধুলাসহ সমাজের প্রায় সকল ইতিবাচক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ভবিষ্যতেও এই ঐতিহ্যবাহী সংগঠন সমাজ উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যষক্ত করেন তারা। অনুষ্ঠানটি প্রীতিভোজের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।




মীর শামসুজ্জোহার কৃতিত্বময় জীবন আজও স্বরণীয়

আলমডাঙ্গা মীর শামসুজ্জোহা ডিগ্রী কলেজের প্রতিষ্টাতা দানবীর, শিক্ষানুরাগী, চাটার্ড একাউনটেন্ট মীর শামসুজ্জোহার ২৩ তম মৃত্যু বার্ষিকীর দিনেও তার কৃতিত্ত্বময় জীবন আজও স্বরণীয়।

প্রাথমিক পড়াশোনা হারদী প্রাইমারি স্কুলে। পরে ভর্তি হন আলমডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে। পায়ে হেঁটে ৪ মাইল দূরে অবস্থিত বিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করে মেট্রিকুলেশন শেষে খুলনা আযম খাঁন কমার্স কলেজে ভর্তি হন। খুলনা পিপলস জুট মিলে চাকুরী করে ও নাইট কলেজে পড়াশোনা করে সেখান থেকে আই, কম পাস করে পরবর্তীতে ঢাকা জগন্নাথ কলেজ হতে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করে অধ্যয়ন করেন চাটার্ড এ্যাকাউন্টেন্সি (সিএ)। সিএ পাস করার পর পাড়ি জমান লন্ডনে বড় ভাই প্রবাসী ডাঃ সামসুল আলমের নিকট। সেখানে গড়ে তোলেন বর্তমানে বিশ্বের বহুদেশে বিস্তৃত ও বিখ্যাত “জোহা এন্ড কোম্পানি” চাটার্ড এ্যাকাউন্ট অডিট ফার্ম।

জোহা সাহেবের কর্মজীবন লন্ডনে হলেও জন্মভূমিকে কোনোদিন ভুলতে পারেননি। তিনি নিজ এলাকা ও দেশের জন্য যা করেছেন, তা অনন্য। এম.এস হুদা ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজি, এম.এস জোহা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, এম.এস জোহা কৃষি কলেজ ও এম.এস জোহা বিজনেন্স ম্যানেজমেন্ট কলেজ তথা নিপ্পন জোহা এডুকেশন কমপ্লেক্স। প্রতিষ্ঠা করেছেন মীর শাসসুল ইসলাম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, এছাড়া তার ভাবি নার্গিস ইসলামের নামে প্রতিষ্ঠিত নার্গিস ইসলাম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়।

ল্যাবরেটরীতে গ্যাস বিস্ফোরণে বড় ছেলে নিপ্পন জোহা মাত্র ছয় বছর বয়সে মৃত্যু ঘটে। নিপ্পন জোহার নামে আলমডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজে একটি লাইব্রেরি ভবন নির্মাণ করে দেন জোহা সাহেব। যার নামে এই ক্যাম্পাসে নিপ্পন জোহা টেকনিক্যাল স্কুল, এস.এস.সি (ভোক) প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর পিতার নামে হারদী গ্রামে মীর সামসুদ্দীন আহমেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন।

এছাড়াও বর্তমানে আলমডাঙ্গায় পাঁচ ভাই ও দুই বোন। বড়ভাই প্রয়াত ডাঃ মীর শামসুল আলম, এম.আর.সি.পি লন্ডনে বসবাস ও কর্মস্থল ছিল। মেজ ভাই মরহুম মীর সামসুল হুদা ছিলেন সাবেক ফরেষ্ট রেঞ্জার। সেজ স্বয়ং সুবিদিত শিক্ষানুরাগী ও দানবীর মীর শামসুজ্জ্বোহা, ৪র্থ ভাই মরহুম মীর শামসুল আজম, এম.এ (অর্থনীতি) ছিলেন জোহা এন্ড ব্রাদার্স’র এম.ডি আর ছোট ভাই মরহুম মীর শামসুল ইসলাম ছিলেন অতিরিক্ত কর কমিশনার।

স্ত্রী হামিদা জোহা লন্ডনে শিক্ষকতা করতেন ও একমাত্র ছেলে ডাঃ ময়েন জোহা লন্ডনে ডাক্তারী পেশায় নিয়োজিত আছেন। আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অংক শিক্ষক শ্রদ্ধেয় মরহুম   আবুল হোসেন ও আমেরিকার বিখ্যাত চেনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোনায়েম চৌধুরী তাঁর ক্লাসমেট ছিলেন। ২০০২ সালের ২২ শে ডিসেম্বর নিয়তির অমোঘ বিধানে লন্ডনে দানবীর এই মহাপুরুষের মৃত্যু হয়।

গতকাল তার ২৩ তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে হারদী এমএস জোহা কলেজে তার জন্য দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজের হলরুমের সামনে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এম এস জোহা কলেজের অধ্যক্ষ নিয়ামত আলী।সহকারি অধ্যাপক  একে এম ফারুকের উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন, সহকারি অধ্যাপক, মীর শামসুজ্জোহা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান, সহকারি অধ্যাপক মিজানুর রহমান, সহকারি অধ্যাপক জেসমিন আরা প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সদস্য আব্দুস সাত্ত্বার খান ‘শামসুদ্দিন আহমেদ মধ্যমিক, বিদ্যালয় অব: প্রধান শিক্ষক, ‘মোঃ মহিনুল হক, হিতৈষী সদস্য, মোঃ আব্দুল হান্নান, বিদ্যোৎসাহী সদস্য, মোঃ আরব আলী, অভিভাবক সদস্য মহির উদ্দিন, মোঃ আব্দুস সাত্তার, শিক্ষক প্রতিনিধি মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, সমাজ সেবক মহিনুল ইসলাম, মোঃ শহিদুল ইসলাম খান। দোয়া পরিচালনা করেন, সহকারি অধ্যাপক আব্দুর রহমান।




আলমডাঙ্গায় বালি বোঝাই ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেল কিশোরের

বালি বোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেলো কিশোর তানজিলের। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক কিশোর নিহত হয়েছেন।

গতকাল সোমবার রাত ৭ টার দিকে উপজেলার আলমডাঙ্গা-চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের মুন্সিগঞ্জ নিগার সিদ্দিক কলেজ এলাকায় সেলিম চেয়ারম্যানের ইটভাটার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কিশোর তানজিল (১৭) আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার বন্ডবিল স্কুল পাড়ার তোহিদুল ইসলামের ছেলে সাংবাদিক মহিদুল ইসলামের ভাইপো।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, তানজিল রাত ৭ টার দিকে সে তার বোনের বাড়ি উপজেলার নাগদাহ গ্রামে যাচ্ছিলেন। এ সময় বালুভর্তি একটি ট্রাক তাঁকে চাপা দেয়। এতে ট্রাকটির পেছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। স্থানীয় লোকজন ট্রাকটি ধাওয়া করলে দ্রুত পালিয়ে যায়। অপরদিকে মোটরসাইকেলের পিছনে বসে থাকা দোলাভাই ছিটকে পড়ে আহত হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা জেলা হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বানী ইসরাইল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ নিহত কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।