গাংনীতে ভিজিএফের চাল বিতরণ নিয়ে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিএফের চাল বিতরণ ও প্যানেল চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে উপজেলা বিএনপির সভাপতিসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে উপজেলা বিএনপি সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি এলাঙ্গী গ্রামের মোশাররফ হোসেন কালু, স্থানীয় নেতা খাইরুল ইসলাম ও রাসেল আহমেদকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এই সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, সকাল ১০টা থেকেই উপজেলা বিএনপি সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালুর লোকজন লাঠি নিয়ে কড়ইগাছি মোড়ে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সারগিদুল ইসলামের লোকজন রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে লাঠি নিয়ে অবস্থান করছিলেন।
উত্তেজনা নিরসনে বর্তমানে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সরকার পরিবর্তনের পরপরই রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম সাকলায়েন সেপুকে সরিয়ে দিয়ে ওয়ার্ড সদস্য সারগিদুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

কিন্তু বিএনপির গাংনী উপজেলা সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু ও তাঁর লোকজন দাবি করেছেন, সারগিদুল ইসলাম অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ছাড়া গরিবদের জন্য বরাদ্দ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তিনি নিজের লোকজনের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করছেন। এর প্রতিবাদ জানাতে মঙ্গলবার বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা ইউনিয়ন পরিষদে আসেন।

গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ উত্তম কুমার দাশ বলেন, বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।




আলমডাঙ্গায় সাপের কামড়ে তিন বছরের শিশুর মৃত্যু

আলমডাঙ্গায় সাপের কামড়ে নুসাইবা (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার বারাদী ইউনিয়নের অনুপনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নুসাইবা অনুপনগর গ্রামের কামরুল মিয়ার মেয়ে। গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বাড়ির আশপাশে খেলাধুলা করার সময় হঠাৎ একটি সাপ নুসাইবাকে কামড় দেয়। বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকেলের দিকে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

নুসাইবার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। সন্ধ্যার দিকে নিথর মেয়েকে কোলে নিয়ে বাড়িতে ফেরার সময় বাবার আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্বজন ও প্রতিবেশীরাও কান্নায় ভেঙে পড়েন।




আলমডাঙ্গায় সাংবাদিকদের সঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যান সেলিমের মতবিনিময় ও ইফতার

আলমডাঙ্গার মুন্সিগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেহালা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আসিরুল ইসলাম সেলিম এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
সোমবার বাদ আসর মুন্সিগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ মতবিনিময় সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেহালা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি তাহাজ উদ্দিন মাস্টার, দৈনিক মাথাভাঙ্গার বার্তা সম্পাদক ও দৈনিক যুগান্তরের চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি ছড়াকার আহাদ আলী মোল্লা, আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য রহমান মুকুল, সিনিয়র সাংবাদিক শ্রী প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস, ফিরোজ ইফতেখার, তানভীর সোহেল, আতিক বিশ্বাস, দৈনিক মাথাভাঙ্গার শিফট ইনচার্জ আলম আশরাফ, আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাহিদ হাসান, সহ-সভাপতি সোহেল হুদা ও আব্দুল্লাহ হক, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক শাওন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অনিক সাইফুল ও তানজিদ হিরো, সাংগঠনিক সম্পাদক সঞ্জু আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রোকন, কোষাধ্যক্ষ শাহরিয়ার শরিফ, আইসিটি বিষয়ক সম্পাদক কাজী সোহাগ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রিপন আলী, কার্যনির্বাহী সদস্য সেলিম রেজা, সালাউদ্দিন মুক্তার, কলিন মোর্শেদ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আসিরুল ইসলাম সেলিম বলেন, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আগামী দিনে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান তিনি। তিনি বলেন, আলমডাঙ্গা উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে এ বৃহত্তর জনপদের মানুষের সেবা করতে চান।

তিনি আরও বলেন, অতীতে জেহালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। আগামী দিনেও উপজেলাবাসীর সেবা করার ব্রত নিয়ে এগিয়ে যেতে চান।

এ সময় তিনি উপজেলাবাসীর দোয়া ও আশীর্বাদের পাশাপাশি সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচনের দীর্ঘ সময়ে সাংবাদিকরা তার পাশে থাকবেন।




দর্শনা রেলবাজারে ৬ প্রতিষ্ঠানে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

দর্শনা রেলবাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৬টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করেন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক শাহীন আলম।

অভিযানে দেখা যায়, দর্শনা রেলবাজারের বেশিরভাগ দোকান দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করেনি। অনেক প্রতিষ্ঠানের ১০ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদোত্তীর্ণ রয়েছে। এছাড়াও কিছু দোকানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ধারা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এসব অনিয়মের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত চৌধুরী ক্লোথ স্টোরকে ১ হাজার টাকা, সানশাইন স্টুডিওকে ২ হাজার টাকা, সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ২ হাজার টাকা, মেসার্স নীলা ট্রেডার্সকে ২ হাজার টাকা, বিসমিল্লাহ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ১ হাজার টাকা এবং সবুজ বাংলা গার্মেন্টসকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন। মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।

এ সময় বাজার এলাকা পরিদর্শন করে ব্যবসায়ীদের রাস্তার ওপর মালামাল না রাখার নির্দেশনা দেয় প্রশাসন। যাদের নিজস্ব দোকান নেই, তাদের রাস্তার ওপর দোকান বসানো থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়।

অভিযানকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম বলেন, বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করে আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। রাস্তা দখল করে ব্যবসা করলে ভবিষ্যতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযানের সময় দর্শনা রেলবাজারের কাঁচাবাজার এলাকায় রাস্তা দখল করে কাঁচামাল কেনাবেচা এবং গার্মেন্টস ও বেডিং ব্যবসায়ীদের মালামাল দোকানের বাইরে রাস্তার ওপর ঝুলিয়ে রাখার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিকভাবে সতর্ক করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, বাজারের কিছু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার ওপর মালামাল রেখে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, যার কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। তারা বলেন, রাস্তা দখল করে ব্যবসা করা ঠিক নয় এবং প্রশাসনের এমন অভিযান বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দর্শনা থানা পুলিশের একটি দল এবং দর্শনা পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।




শেষ মুহূর্তে দর্শনায় জমে উঠেছে ঈদ বাজার

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় বিভিন্ন মার্কেটে জমে উঠেছে ঈদ বাজার। গতকাল সোমবার দর্শনা রেলবাজার ও দর্শনা পৌর মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা তাদের পছন্দের জামা, প্যান্ট, থ্রি-পিস, শাড়ি, সালোয়ার-কামিজসহ নানা ধরনের পোশাক কিনতে ভিড় করছেন।

এছাড়া যাদের পোশাক কেনা হয়ে গেছে, তারা প্রসাধনী ও অলংকার সামগ্রী কেনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। স্নো, পাউডার, চুড়ি, কানের দুল, ঘড়ি, নেকলেসসহ বিভিন্ন সাজসজ্জার সামগ্রী কিনতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে প্রসাধনীর দোকানগুলোতে।

বাজার ঘুরে গার্মেন্টস, জুতা ও স্যান্ডেলের দোকান, কাপড়ের দোকান এবং প্রসাধনীর দোকানগুলোতে বেশ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দোকান মালিকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, গত ১২ রমজান থেকে পুরোদমে কেনাবেচা শুরু হয়েছে এবং তা এখনও চলমান রয়েছে।

বিক্রেতা সন্টু, রেজাউল ইসলাম, ফারুক হোসেন ও সাজেদুর রহমান জানান, এখনও শতভাগ ক্রেতা বাজারে আসেননি। তবে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ক্রেতা তাদের ঈদের কেনাকাটা করতে বাজারে আসছেন। কেনাবেচাও মোটামুটি আশানুরূপ হচ্ছে।

ক্রেতা মাসুদুর রহমান বলেন, “আমার ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীর জন্য সাধ্য অনুযায়ী পছন্দের জামা, প্যান্ট, শাড়ি ও প্রয়োজনীয় পোশাক কিনেছি।”

ছোট্ট শিশু সাদিয়া খাতুন জানায়, “আমি জামা কিনেছি, এখন স্যান্ডেল কিনব।”

সাহিনা খাতুন বলেন, “আমার মায়ের জন্য শাড়ি, ছোট ভাই-বোনের জন্য জুতা ও স্যান্ডেল, আর নিজের জন্য সালোয়ার-কামিজ, স্যান্ডেল, সেন্ট, চুড়ি ও মেহেদি সাধ্যমতো কিনেছি।”

দর্শনা রেলবাজার, কেরু মার্কেট, দর্শনা পৌর মার্কেট ও কিয়ামত আলী মার্কেটসহ এলাকার বিভিন্ন মার্কেটে ঈদের কেনাকাটা বেশ জমে উঠেছে।




আলমডাঙ্গায় পুলিশের অভিযানে মাদকসহ একজন গ্রেফতার

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ২৮ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে অভিযান চালিয়ে তুষার হোসেন (৩২) নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

আলমডাঙ্গা থানার এসআই (নিঃ) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মুন্সিগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ক্যাম্প এলাকায় মাদকদ্রব্য উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলমডাঙ্গা থানাধীন জেহালা পুকুরপাড় এলাকায় মো. শহিদুল ইসলামের ফার্নিচার দোকানের সামনে কাঁচা রাস্তা থেকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় হাফিজুর রহমানের ছেলে মো. তুষার হোসেনকে মাদকসহ গ্রেফতার করা হয়।

জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার জেহালা ইউনিয়নের গড়চাপড়া গ্রামের বাসিন্দা তুষার হোসেন এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার কাছ থেকে ২৮ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) ধারার সারণির ২৯(ক) অনুযায়ী মামলা রুজু করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।




আলমডাঙ্গায় প্রেসক্রিপশন পয়েন্টের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল

আলমডাঙ্গায় প্রেসক্রিপশন পয়েন্টের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রেসক্রিপশন পয়েন্টের সৌজন্যে ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের নিয়ে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

সোমবার আলমডাঙ্গার লাইলা কনভেনশন হলে এ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মানবাধিকার কর্মী খাইরুল ইসলামের সঞ্চালনায় এবং আলহাজ্ব ডা. লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সিভিল সার্জন ডা. রওশন আরা, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন আলমডাঙ্গা শাখার সভাপতি আল আমিন হোসেন পরশ, সেক্রেটারি প্রভাষক খাইরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ সাইদুল ইসলাম, আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রচার সম্পাদক আব্দুল জব্বার, এপেক্স কোম্পানির আরএসএম আব্দুল জব্বার, ইথিক্যাল ফার্মার ম্যানেজার আরজু, ওরিয়ন ফার্মার ম্যানেজার শফিকুল ইসলামসহ ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভস অ্যাসোসিয়েশনের (ফারিয়া) প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ফরিদুল ইসলাম। আলোচনা শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন আরিফ হোসেন।




আলমডাঙ্গায় খেলাফত মজলিসের ইফতার মাহফিল

আলমডাঙ্গায় খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। খেলাফত মজলিস আলমডাঙ্গা উপজেলা শাখার আয়োজনে “খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণআন্দোলন গড়ে তুলুন” এবং রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য শীর্ষক এ আলোচনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার বিকাল ৫টার দিকে আলমডাঙ্গা চারতলা মোড়ের সেফ অ্যান্ড সুপার রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিস উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আনিসুর রহমান।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও কুষ্টিয়া জোন পরিচালক অধ্যাপক মাওলানা সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, দেশের ইসলামী ও সমমনা রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সংহতি ও ঐক্য আজ সময়ের অপরিহার্য দাবি। বিভক্তি বা মতানৈক্য জাতির কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। বরং জাতীয় স্বার্থে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কুষ্টিয়া জোন পরিচালক, সাবেক ব্যাংকার সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, যে চেতনা ও প্রত্যাশা নিয়ে জুলাই আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল, সেই চেতনার বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হলে রাজনৈতিক দল, যুব সংগঠন এবং সচেতন নাগরিক সমাজকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। যুবসমাজই জাতির ভবিষ্যৎ ও পরিবর্তনের প্রধান শক্তি। তাই দেশের কল্যাণে, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে এবং ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মনিরুজ্জামান, আলমডাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি আকরাম হোসাইন, কুষ্টিয়া জেলা যুব মজলিসের সেক্রেটারি হাফেজ মো. শফিউল ইসলাম, বাড়াদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মনিরুজ্জামান মনি এবং জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইমাম মাওলানা মো. আবুল বাশার।

আলহাজ্ব জাকারিয়া হাবিবের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আলমডাঙ্গা নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম পিন্টু এবং সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. আব্দুল হাই।

অনুষ্ঠান শেষে দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন মাওলানা মো. ইসহাক আলী।




বদলে দেওয়া এক জেলা প্রশাসকের গল্প

একজন জেলা প্রশাসক শুধু প্রশাসনিক প্রধানই নন, তিনি একটি জেলার উন্নয়ন, সুশাসন ও জনসেবার অন্যতম চালিকাশক্তি। অনেক সময় একজন সৎ, সাহসী ও উদ্যোগী জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বেই বদলে যেতে পারে একটি জেলার চিত্র। এমনই এক জেলা প্রশাসকের কর্মতৎপরতায় বদলে যাওয়ার গল্প এখন স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে। বলছিলাম ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদের কথা।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জেলার বিভিন্ন সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে শুরু করেন। দীর্ঘদিনের অবহেলা, দাপ্তরিক জটিলতা ও অনিয়মে জর্জরিত সেবাখাতগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে শুরু করেন ধারাবাহিক উদ্যোগ। ভূমি অফিসে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমাতে নিয়মিত অভিযান, সরকারি সেবা সহজ করতে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার এবং জনভোগান্তি কমাতে সরাসরি তদারকি—সব মিলিয়ে প্রশাসনে আসে নতুন গতি।

এ ছাড়া অবৈধ দখল, মাদক কারবার ও বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয়। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা বাড়তে শুরু করেছে।

শুধু আইন-শৃঙ্খলা নয়, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও দেখা গেছে তার সক্রিয়তা। জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ। নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে তিনি সরাসরি মানুষের সমস্যা শুনছেন এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের চেষ্টা করছেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চমক দেখিয়েছেন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। দেশের অন্যতম অপরাধপ্রবণ এ জেলায় রক্তপাতহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত করে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আগে যেখানে কোনো সমস্যার সমাধান পেতে দীর্ঘদিন ঘুরতে হতো, এখন অনেক ক্ষেত্রেই দ্রুত সেবা পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রশাসনের দূরত্ব কমিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন এই জেলা প্রশাসক।

জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও মানবাধিকার কর্মী আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও মানবিক নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি জেলার চিত্র বদলে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা তিনি শুরু করেছেন, তা অনেকের কাছেই নতুন আশার বার্তা হয়ে উঠেছে। জেলার মানুষ এখন আশা করছেন, এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে উন্নয়ন ও সেবার দিক থেকে আমাদের এই জেলা আরও এগিয়ে যাবে।




বাসে অগ্নিসংযোগের মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি-সম্পাদকসহ ৭ নেতা গ্রেপ্তার

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা ফারদিন আহম্মেদ নিরব হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা তিনটি বাসে অগ্নি সংযোগের ঘটনায় ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি সাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান জীবনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে গয়েন্দা পুলিশ। পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর ও তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

সোমবার দুপুরে ঝিনাইদহ সদর থানায় বাস মালিকের পক্ষে সাইফ নোমান এবং সৃজনী ফিলিং স্টেশনের পক্ষে শামসুল কবীর মিলন বাদী হয়ে মামলা দুটি করেন। জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান জীবন, যুগ্ম আহ্বায়ক এজাজ হাসান, অন্তর মাহমুদ, ‘দ্য রেড জুলাই’-এর আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাঈম, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবির, তাশদিদ হাসান ও রাসেল।

পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৭ মার্চ ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের মালিকানাধীন ‘তাজ ফিলিং স্টেশন’-এ তেল নিতে গিয়ে কর্মচারীদের হামলার শিকার হয়ে নিহত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী ফারদিন আহম্মেদ নীরব।

নীরব হত্যার পর উত্তেজিত নেতাকর্মীরা একই মালিকের ‘সৃজনী ফিলিং স্টেশন’-এ হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন রাত সোয়া তিনটার দিকে বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা ‘রয়েল পরিবহন’-এর দুটি ও ‘জে-লাইন পরিবহন’-এর একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এর আগে নিরব হত্যা মামলায় ৩জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বষয়টি নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তারেক রেজা বলেন, আমরাও চাই প্রকৃত অপরাধীর বিচার হোক। তবে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অনেকেই নিরপরাধ। হত্যার ঘটনার চেয়ে ভাঙচুরের বিষয়টিকে বড় করে দেখা হলে তা হবে দুঃখজনক। আমরা চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন।