সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এইডস সংক্রমণের ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

মানব সভ্যতাকে যে রোগগুলো হুমকির সম্মুখীন করে তুলেছে, প্রাণঘাতী এইডস তার মধ্যে অন্যতম। এটি একটি নীরব ঘাতক। এ রোগের ভাইরাসে আক্রান্ত হলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে ধ্বংস করে দেয়। তখন যেকোনো সংক্রামক জীবাণু সহজেই এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিকে আক্রমণ করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, যা স্বাস্থ্য খাতের জন্য নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত ঘেঁষা যশোর, চুয়াডাঙ্গা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কক্সবাজারসহ বেশ কয়েকটি জেলায় সংক্রমণের হার অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বেশি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আয়োজিত এক স্বাস্থ্য বিভাগের বৈঠকে জানা যায়, ২০২৪ সালে এ হাসপাতালে এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ২৫ জন। চলতি বছরের অর্ধেক সময়েই তা দ্বিগুণ হয়েছে। অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৯১৭ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ২৩ জন পুরুষ ও ১৪ জন নারী। এর মধ্যে ২৫ জন শিক্ষার্থী, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এত সংখ্যক শিক্ষার্থীর আক্রান্ত হওয়া ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি। একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে কক্সবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। গত জুন মাসে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে দ্বিতীয়বার একজন এইডস রোগী সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। কোভিডের সময় এই হাসপাতালেই আরেকজন এইডস রোগী প্রথমবার সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর পর একই রোগে আক্রান্ত আরেকজন নারী সন্তান জন্ম দিয়েছেন। এইডস রোগীদের সরকারিভাবে চিকিৎসা ও অন্যান্য সেবা প্রদানের জন্য একটি অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টার চালু রয়েছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচার ও সেবন, অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক এবং বিদেশফেরত কর্মীদের মধ্যে সচেতনতার অভাব এ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বাংলাদেশে এখনও এইচআইভি নিয়ে ব্যাপক কুসংস্কার রয়েছে। অনেকেই পরীক্ষা করাতে চান না, আবার আক্রান্তরাও লুকিয়ে থাকেন। ফলে চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয় এবং সংক্রমণও বেড়ে যায়। যশোরের এক রোগী জানান বিদেশে কর্মরত অবস্থায় ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও দীর্ঘদিন তা বুঝতে পারেননি তিনি। দেশে ফেরার পর অসুস্থ হলে পরীক্ষা করে জানা যায়, তিনি এইচআইভি পজিটিভ। কিন্তু সামাজিক লজ্জা ও ভয়ের কারণে তিনি দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেননি। ফলে পরিবারের আরও সদস্য সংক্রমণের শঙ্কায় পড়েছেন। এমন ঘটনা সীমান্তবর্তী জেলায় অজস্র, যা প্রকাশ্যে আসছে না শুধুমাত্র সামাজিক চাপের কারণে।

জাতিসংঘের এইডস বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইডস) মতে, বাংলাদেশ এখনও নিম্ন সংক্রমণ হারবিশিষ্ট দেশ হলেও সীমান্তবর্তী এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এ এলাকার তরুণরা অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়। যশোর সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। ভারত থেকে মানুষের অবাধ যাতায়াত, মাদক সেবন ও পাচার, যৌনপল্লির উপস্থিতি এবং নিরাপদ যৌন আচরণের অভাব সংক্রমণ বাড়াচ্ছে। এ ভাইরাস রোগীর দেহ থেকে অন্যের শরীরে ছড়ায় রক্ত ও বীর্যের মাধ্যমে। বীর্যের মাধ্যমে সংক্রমিত হয় বলেই এই রোগকে ‘সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ’ হিসেবে গণ্য করা হয়। এ রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে হলো ঘন ঘন জ্বর হওয়া ও এক-দেড় মাস ধরে একটানা জ্বর। জ্বরের সঙ্গে গলায় অস্বাভাবিক ব্যথা হয়। খাবার খেতে ও গলা দিয়ে নামতে সমস্যা হয়। প্রায় ৮৮ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে প্রথম তিন সপ্তাহের মধ্যেই গলায় র‌্যাশ দেখা দেয়। তীব্র প্রদাহ হতে শুরু করে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে ঘাম। ঘুমের মধ্যেও তীব্র ঘাম হয়। শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে বলে অল্পতেই বমি ভাব ও পেটের সমস্যা দেখা যায়।

বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ হাজারেরও বেশি এইচআইভি আক্রান্ত রোগী রয়েছেন, যার মধ্যে শনাক্তকৃত সংখ্যা তুলনামূলক কম। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রকৃত সংখ্যা এর দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। এইডস এখন নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে তা ধীরে ধীরে সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে এই মরণব্যাধি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক সংক্রমণের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। ইনজেকশনের সুচ ব্যবহার বিশেষত মাদকসেবীদের মধ্যে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অভিবাসী শ্রমিক বা বিদেশফেরত কর্মীরা সচেতনতার অভাবে পরিবারে ভাইরাস ছড়িয়ে দিচ্ছেন। সামাজিক লজ্জা ও কুসংস্কারের ভয়ে পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে মানুষ পিছপা হচ্ছেন।

এইডস একটি প্রাণঘাতী রোগ হলেও, সময়মতো চিকিৎসা ও সচেতনতার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আধুনিক কিছু ওষুধে রোগীর জীবন কিছুদিন বাড়ানো গেলেও সেসব চিকিৎসা পদ্ধতি মোটেও মধ্যবিত্তের আয়ত্তে নেই। সরকার বিভিন্ন জেলায় ভলান্টারি কাউন্সেলিং অ্যান্ড টেস্টিং সেন্টার (VCT) চালু করেছে। এইডস আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ১৩টি হাসপাতালে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টার চালু রয়েছে। এর মধ্যে যশোর একটি। যশোরে এইচআইভি পজিটিভ শতাধিক মানুষ রয়েছে। বর্তমানে যশোর সদর হাসপাতালের এআরটি সেন্টারে ২২০ জন এইচআইভি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে যশোর ছাড়াও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলার মানুষ রয়েছেন। এইডস রোগীদের সামাজিক অবস্থান যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য আমরা সচেষ্ট আছি। তাদের বিষয়ে গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়। ২০৩০ সালের মধ্যে আক্রান্তদের শতকরা ৯৫ ভাগ চিকিৎসার আওতায় আনার সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিওগুলো মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে।

এইডস প্রতিরোধে সমগ্র দেশে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো খুবই প্রয়োজন। কনডম ও নিরাপদ সুচ ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। স্কুল-কলেজে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অভিবাসী শ্রমিকদের দেশে ফেরার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে, কারণ বর বা কনে যদি এই ভাইরাসের বাহক হয়, তবে যৌন সম্পর্কের ফলে অন্যের শরীরে সহজেই প্রবেশ করবে এই ভাইরাস। প্রতিবার ইনজেকশন নেওয়ার সময় নতুন সিরিঞ্জ ও সূচ ব্যবহার করতে হবে। রোগাক্রান্ত প্রসূতির সন্তানের শরীরেও এইডস হতে পারে। সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ যৌন পেশাদারদের ক্ষেত্রে এই রোগের প্রভাব বেশি থাকে। মুমূর্ষু অবস্থায় রক্তের প্রয়োজন হলে অবশ্যই এইডস পরীক্ষা করে শরীরে রক্ত দিতে হবে।

ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে প্রতিরোধমূলক সেবা পৌঁছে দেওয়া, সহজে টেস্টের সুযোগ তৈরি করা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, অনেক রোগী সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা দিলেও পরীক্ষার প্রতি অনীহা প্রকাশ করেন, যা প্রতিরোধ কার্যক্রমে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে সরকারের সরবরাহকৃত এআরটি ওষুধ পর্যাপ্ত আছে এবং চিকিৎসা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সিভিল সার্জন কার্যালয়, সমাজসেবা অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সঙ্গে নিয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে সংক্রমণ প্রতিরোধে একযোগে কাজ চলছে। অনেক ক্ষেত্রেই সমাজে এইডস সংক্রমণ নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা বিরাজ করছে। অনেকেই ভুলভাবে মনে করেন, হাত মেলানো, একই প্লেটে খাওয়া বা পাশে বসে থাকার মাধ্যমে এইচআইভি ছড়ায়—যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ ধরনের ভুল ধারণা কেবল রোগীদের সামাজিকভাবে আরও কোণঠাসা করে তোলে। এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে উঠা-বসা দোষের নয়। তাদের সঙ্গ দেওয়া যায়। এ ধরনের রোগী নিয়মিত চিকিৎসা নিয়ে স্বাভাবিকভাবে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে।

সীমান্তবর্তী জেলায় রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পুরো দেশের জন্য সতর্ক সংকেত। এইডস প্রতিকারের ব্যবস্থা যেহেতু এখনো অজ্ঞাত, সেহেতু প্রতিরোধই হবে এইডস থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায়। মরণব্যাধি এইডস থেকে বাঁচতে হলে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। শুধু অসচেতনতার কারণে আমাদের দেশে এইডসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই সচেতন করতে না পারলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে। গণমাধ্যম, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করতে হবে। তাই এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এইডস নির্মূলে এগিয়ে আসতে হবে। এইডস প্রতিরোধে গণসচেতনতাই এখন মুখ্য বিষয়। তাই এইডস প্রতিরোধে প্রয়োজন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং কার্যকর পদক্ষেপ।

লেখক: সহকারী তথ্য অফিসার, তথ্য অধিদপ্তর




গাংনীর নওপাড়া থেকে আবারও মোটরসাইকেল চুরি

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার নওপাড়া- কুলবাড়িয়া রাস্তায় থেকে জামিরুল ইসলাম নামের এক ব্যাক্তির একটি ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল যার রেজিস্ট্রেশন নাম্বার (মেহেরপুর-হ – ১২-৬৫৫৩) চুরি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০ টার সময় মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে।

মোটরসাইকেল মালিক জামিরুল ইসলাম জানান, একটি লাল রংয়ের ১২৫ সিসি ডিসকভারি মোটরসাইকেল নওপাড়া-কুলবাড়িয়ার মধ্যবর্তী রাস্তার পাশে রেখে কৃষি জমিতে কাজ করছিলেন। কিছু সময় কাজ শেষে মোটরসাইকেল দেখতে এসে দেখেন সেখানে মোটরসাইকেল নেই। পরে রাস্তার সিসি টিভি ফুটেজে মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার ভিডিও পাওয়া যায়। মোটরসাইকেলটি হিজলবাড়িয়ার রাস্তায় নিয়ে যায় দুইজন ব্যাক্তি। চুরির সাথে সম্পৃক্ত দুজনকে সিসি টিভি ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। তবে তাদের সনাক্তের চেষ্টা চলছে।

এবিষয়ে গাংনী থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। গাংনী থানার ওসি বানী ইসরাইল বলেন, মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় জিডি করেছে। আমরা চোর সনাক্তের চেষ্টা করছি।

উল্লেখ্যঃ নওপাড়া গ্রামের জামিরুল ইসলামের একটি পালসার মোটরসাইকেল এর আগেও বাড়ি থেকে চুরি হয়ে যায়। একাধিকবার মোটরসাইকেল চুরি হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জামিরুল ইসলাম। তবে চুরির সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করার দাবী জানান এলাকাবাসী।




আলমডাঙ্গা বনিক সমিতির মতবিনিময় সভা 

আলমডাঙ্গা বনিক সমিতির বিশেষ বর্ধিত ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাহী সদস্যগণ যদি পর পর ৩ সভায় অনুপস্থিত থাকেন তাকে শোকচ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৭ টার সময় বনিক সমিতির কার্যালয়ে বিশেষ সভায় সভাপতিত্ব করেন, বনিক সমিতির সভাপতি আরেফিন মিয়া মিলন। সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আব্দুল্লাহ আল মামুনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, বনিক সমিতির সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান, হাজী রফিকুল আলম, কোষাধ্যক্ষ আলাউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ও জাহাঙ্গির আলম, ক্রীড়া সম্পাদক হাবিবুর রহমান।

বক্তারা সমিতির সদস্যদের ব্যাবসা-বাণিজ্য সহ সার্বিক উন্নয়ন, জনসেবামূলক কাজ ও বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেন। বিশেষ আলোচনায় বলা হয়, সমিতির সকল সদস্যদের চান্দা আদায়, যে সকল সদস্য সমিতির ফান্ড থেকে ঋন নিয়ে ব্যাবসা পরিচালনা করছেন, তারা সঠিক সময়ে ঋন পরিশোধ করছেন কিনা তা সময়ে সময়ে তদারকি করে তাদেরকে দ্রুত টাকা পরিশোধ করার জন্য অনুরোধ করতে হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বনিক সমিতির সদস্য হামিদুল ইসলাম আজম, বনিক সমিতির সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান, হাজী রফিকুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলম, ক্রীড়া সম্পাদক হাবিবুর রহমান, ধর্মীয় সম্পাদক রেজাউল করিম কাবিল, দপ্তর সম্পাদক শফিউল হাসান মিলন, নির্বাহী সদস্য, জয়নাল আবেদীন ক্যাপ, হাজী রফিকুল আলম, মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম, সাইদুর রহমান, সিরাজুল ইসলাম, ফারুক আলী, কাবলু মিয়া, তোতা মিয়া, রতন আলী প্রমুখ।

সভায় একজন ব্যবসায়ীর দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষিতে তার পাওনা টাকা পরিশোধ করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সে পাওনাদারদের কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা বুঝে পেয়েছে বলে জানান। সভাপতি সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার কাজ শেষ করেন।




আলমডাঙ্গায় কলেজছাত্রীকে প্রেমের সম্পর্কে দেহভাগ শেষে প্রতারণা

আলমডাঙ্গায় বিয়ের প্রলোভনে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে মামুনের বিরুদ্ধে। আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সিগঞ্জের কৃষ্ণপুর গ্রামে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর ধরে শারীরিক সম্পর্কের পর বিয়ে করতে অস্বীকৃতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতারিত এক কলেজছাত্রী আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, জেহালা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের হুমায়ুন কবিরের ছেলে মামুন (২৮) ফেসবুকের মাধ্যমে দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামের ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর মামুন গোপন ছবি ও ভিডিও চান। বিয়ের আশ্বাসে ছাত্রীটি তা পাঠালে পরবর্তীতে ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তাকে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেন।

কলেজছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, “ভিডিও ও ছবির ভয় দেখিয়ে সে আমাকে স্বামী-স্ত্রীর মতো সম্পর্ক করতে বাধ্য করেছে। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে সম্পর্ক ছিল। একাধিকবার বিয়ের কথা বললেও হঠাৎ জানিয়ে দেয়, সে আমাকে বিয়ে করবে না। এরপর ফোন ও ফেসবুকে ব্লক করে দেয়।”

ঘটনার পর গত সোমবার ভুক্তভোগী যুবকের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন। তবে মামুনের পরিবারের লোকজন তাকে মারধর করে বের করে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয়ভাবে দু’দফা সালিস বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। শেষ বৈঠকে মামুন প্রেমের সম্পর্ক ও শারীরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করলেও বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।

ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী বলেন, “আমাদের সম্পর্কের সব প্রমাণ আমার কাছে আছে। যদি মামুন আমাকে বিয়ে না করে, আমি আদালতে মামলা করব।” এ বিষয়ে অভিযুক্ত মামুনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।




আলমডাঙ্গায় প্রেমিকের বিয়ের খবরে কলেজ ছাত্রীর অনশন

আলমডাঙ্গা উপজেলার জোড়গাছা গ্রামে প্রেমিকের বিয়ের খবর প্রকাশ হওয়ার পর বিয়ের দাবিতে অনশনে বসেছেন এক কলেজছাত্রী। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টা ওই শিক্ষার্থীর অনশনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের জোড়গাছা গ্রামের গোলজার হোসেনের ছেলে নয়ন (২০) এবং বেলগাছি ইউনিয়নের কেদারনগর গ্রামের হায়েত আলী মন্ডলের মেয়ে কলেজছাত্রী শারমিন আক্তারের (১৮) মধ্যে দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের সময় নয়ন শারমিনকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল। সম্প্রতি নয়ন গোপনে অন্যত্র বিয়ের উদ্যোগ নিলে এ খবর জানাজানি হয়। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে শারমিন প্রেমিকের বাড়ির সামনে গিয়ে অনশনে বসে পড়েন।

শারমিন অভিযোগ করে বলেন, “নয়নের সঙ্গে আমার পাঁচ বছরের সম্পর্ক। সে আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সেই বিশ্বাসে আমরা একসঙ্গে সময় কাটিয়েছি। এখন অন্যত্র বিয়ে করার চেষ্টা করায় আমি ন্যায়বিচারের দাবিতে অনশনে বসেছি।”

এ ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। দুই পরিবারের সদস্যরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসীরা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনশন চলাকালে শিক্ষার্থীর দৃঢ় অবস্থান এবং প্রেমিকের পরিবারের নীরবতা নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।




আলমডাঙ্গা প্রিমিয়ার লীগের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

আলমডাঙ্গা প্রিমিয়ার লীগ (এপিএল) এর ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল আলমডাঙ্গা বিটিম মাঠে বিকালে এই ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এই ফাইনাল ম্যাচে অংশ গ্রহণ করে ফাইদা গ্রুপ বন্ডবিল ও বাবুপাড়া কোবা রাইডার্স।

প্রথমে টসে জিতে কোবা রাইডার্স ১৫ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১০৫ রান তোলে। পরে ফাইদা গ্রুপ কোন উইকেট না হারিয়ে ১০৫ রান তুলে নেই অতি সহজেই। ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হয় ফাইদা গ্রুপ দলের নাইম হোসেন, ম্যান অব দ্যা সিরিজ মাহাফুজ আহমেদ, সেরা ব্যাটসম্যান নির্বাচিত হন শাওন ও সেরা বোলার খালিদ।

ম্যাচ শেষে এপিএল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বিজয়ী দল ফাইদা গ্রুপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মেহেদী ইসলাম।

তিনি বলেন, খেলাধুলা জীবনের মানচিত্র পালটে দিতে পারে। জীবনের স্তম্ভিত পথকে গতিশীল করতে পারে। অপকর্মে অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে মুক্তি দিতে পারে খেলাধুলা। তাই যুব সমাজের প্রতি আহব্বানে করি এসো মাঠে যায়, স্বপ্ন বুনি। এ দেশ, এ জাতীর প্রয়োজনে জীবন গড়ি।




মেহেরপুরে ১২০ টাকায় স্বপ্ন পূরণ, পুলিশে চাকরি পেলেন ৯ জন

মেহেরপুরে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার মাপকাঠিতে ১২০ টাকা আবেদন ফি দিয়ে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৯ জন। ওয়েটিং লিস্টে রয়েছেন আরও দুইজন।

কনস্টেবল পদে উত্তীর্ণ এসব পুরুষদের নিয়ে শুক্রবার বিকেল ৫টায় মেহেরপুর পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেডে মতবিনিময় সভা করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী।

এ সময় কনস্টেবল পদে চাকরি চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়। শতভাগ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ৯ জন প্রার্থীর অনেকে তাদের মতামত প্রকাশের সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।

এসব প্রার্থীর মধ্যে অনেকেই ভ্যানচালক ও কৃষকের সন্তান, অনেকেই আবার অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তারা শতভাগ স্বচ্ছতা, মেধা ও নিজ যোগ্যতায় চাকরি পেয়ে নিয়োগ-সংশ্লিষ্ট সবার ও বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

চাকরি পাওয়া মো: অমিত হাসান বলেন, আমার বাবা একজন কৃষক। আমি দীর্ঘ চারটা মাঠ করার পর তিনবার ভাইভা দিয়েছি। এবার আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর অশেষ রহমতে মা-বাবার দোয়ায় ১২০ টাকার বিনিময়ে আমি পুলিশ কনস্টেবল পদে চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছি। আমি কোন দালাল চক্রের সাথে যোগ দিইনি, নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছি।

অমিত হাসানের বাবা বলেন, আমি একজন কৃষক। পরিবারের চারজন সদস্য নিয়ে সংসার চালানো খুব কষ্ট হচ্ছিল। আমার বড় ছেলে অমিত চাকরি পেয়েছে এতে আমি ও আমার পরিবার খুব খুশি।
আমার ছেলে ১১টা মাঠ করেছে, শেষ পর্যন্ত নিজ যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছে। এটা বড় ব্যাপার, কোনরকম টাকা-পয়সার লেনদেন করা লাগেনি। সর্বপ্রথম আমি আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহকে ধন্যবাদ জানাই। এরপর ধন্যবাদ জানাই এসপিকে, কারণ তিনি কোন রকম দুর্নীতি না করে যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি দিয়েছেন।

মো: মাহফুজ আলী বলেন, আমার আব্বু একজন ভ্যান চালক। ভ্যান চালিয়ে আমাদের দুই ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন। আমার আব্বু মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আমাদের মানুষ করেছেন। আমি নিজের যোগ্যতায় ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে উত্তীর্ণ হয়েছি। পরিবারের পাশে এবং একজন সৎ, যোগ্য পুলিশ হয়ে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।

মাহফুজ আলীর ভ্যানচালক বাবা বলেন, আমি একজন ভ্যান চালক। ভ্যানের উপর বাদাম ভেজে বিক্রি করে দুই সন্তানকে পড়াশোনা করাচ্ছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমি খুবই আনন্দিত আমার ছেলেকে নিয়ে। আজ সে নিজ যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছে। আমার ছেলে বলেছে, তার প্রথম বেতন আমার হাতে তুলে দেবে। আমার ইচ্ছা, সেই প্রথম বেতনটা আমি মসজিদে দিব।

মো: রুমান ইসলাম বলেন, আমার বাবা একজন কৃষক। আব্বু-আম্মুর যথেষ্ট বয়স হয়েছে। আমার চাকরিটা পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য খুব প্রয়োজনীয় ছিল। চাকরিটা পেয়ে আমি ও আমার পরিবার অনেক খুশি। চাকরিটা আমি নিজ যোগ্যতায় পেয়েছি, কোন টাকা-পয়সা বা লেনদেন ছাড়াই। চাকরিটা পেয়েছি শুনে সবার আগে বাবার কথা মনে পড়েছে, কারণ বাবা অনেক কষ্ট করে আমাকে এতদূর নিয়ে এসেছেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, আমরা বাংলাদেশ পুলিশ বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে পরিবর্তিত নিয়োগ পদ্ধতি অনুসরণ করার মাধ্যমে সুনামের সাথে সারা দেশব্যাপী স্বচ্ছতার সাথে ট্রেইনি রিক্রুমেন্ট কনস্টেবল (টিআরসি) সম্পন্ন করে এসেছি। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ এ এ পর্যায়ে টিআরসি রিক্রুমেন্ট কনস্টেবল সম্পূর্ণ হলো।

তারা নিয়োগ পেয়েছেন, তারা তাদের যোগ্যতা, মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন। মাঠ পর্যায়ে কাজের মাধ্যমে তাদের দক্ষতার প্রমাণ আপনারা দেখতে পাবেন বলে আশা করি। মেহেরপুরবাসী, সাংবাদিকগণ ও সাধারণ জনগণ সর্বদা পুলিশকে সহযোগিতা করে এসেছেন। আপনাদের সহযোগিতার ফলে আজকে সুষ্ঠুভাবে সুন্দরভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আর কোন দালাল চক্রের টাকা-পয়সা লেনদেনের মতো কোন সংবাদ বা তথ্য আমরা পাইনি। যদি কখনও এরকম তথ্য পাওয়া যায় অবশ্যই আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।




ঝিনাইদহে সূর্যের হাঁসি ক্লিনিকে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ঝিনাইদহে সূর্যের হাঁসি ক্লিনিকে বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল দুপুরে হামদহ সূর্যের হাঁসি ক্লিনিকে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্যক্তিগন উপস্থিত ছিলেন। এসময় অতিথি হিসেবে ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন, ডাঃ মোঃ কামরুজ্জামান, ঝিনাইদহ পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক মোহাঃ মোজাম্মেল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান,সূর্যের হাঁসির এর প্রধান কার্যালয়ের প্রতিনিধি ক্লিনিক্যাল সার্ভিসেসের জেনারেল ম্যানেজার ডা. নকুল কুমার বিশ্বাস, অপারেশনসের জেনারেল ম্যানেজার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ আশরাফুল কাদের (অব.), মার্কেটিং এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার গাজী মোহাম্মদ তানভীর মোস্তাফাসহ প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, ঝিনাইদহ ক্লিনিক ম্যানেজার মোঃ ইমতিয়াজ উদ্দিন ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক জাহিদ বিশ^াস উপস্থিত ছিলেন। ‘সূর্যের হাঁসি ক্লিনিক’ সকলের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে স্বাস্থ্য সেবার একটি নির্ভরযোগ্য ঠিকানা।

পরিশেষে অতিথিরা মনোরম পরিবেশে পরিচালিত সূর্যের হাঁসি ক্লিনিক পরিদর্শন করেন। সকলেই সূর্যের হাঁসি ক্লিনিক সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা দেন এবং পরবর্তীতে সূর্যের হাঁসি ক্লিনিক-এ সেবা গ্রহণের আশা ব্যক্ত করেন।




মেহেরপুরে কাম ফর হিউম্যানিটির ৭ম বর্ষপূর্তি পালিত

মেহেরপুরে তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে মানবতার উৎসব ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তারুণ্যের ভাবনায় মেহেরপুর, আজ শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাম ফর হিউম্যানিটি ( সিএফ এম ) এর আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়ক মামুন অর রশিদ বিজনের সভাপতিত্বে এবং অনিক হাসান ও তানজিমা তাসমীম হক মোহনার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাবেক সভাপতি কিংবদন্তি অভিনেতা আহমেদ শরীফ, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর সরকারী কলেজের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক হাসানুজ্জামান ডাবলু, মুক্তিযোদ্ধা আহাম্মদ আলী টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক রফিকুল আলম বকুল, সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ( রেজিঃ) কাজি আবুল মনসুর, সংগঠনের উপদেষ্টা শফিউর রহমান টমা। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাবেক উপদেষ্টা সৌরভ হোসেন,প্রত্যয় যুব সংঘের সভাপতি এস এম সুজন। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সুচনা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সিনিয়র উপদেষ্টা কায়েস মাহমুদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সেরা সংগঠন সম্মাননা প্রদান করা হয় জন্মভুমি মেহেরপুর,ইউনাইটেড মেডিকেল সাপোর্ট ফাউন্ডেশন ও বামুন্দী মানব উন্নয়ন ফাউন্ডেশন। রক্তযোদ্ধা সম্মাননা প্রদান করা হয় অনৃতরস পারভীন,মিয়াজান আলর ও কল্লোল পাত্রকে। বৃক্ষবন্ধু সৃম্মাননা প্রদান করা হয় কবি নজরুল শিক্ষা মন্জিল, হান্নানগন্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও প্রজন্ম সংগঠন কে।

এছাড় সেচ্ছাসেবী সম্মাননা প্রদান করা হয় রাইহান রাফি, বৃষ্টি মুন্সি, সাব্বির আহমেদ, নসহিদ, হাসানুজ্জামান সাইদ হোসেন বিশ্বাস ও কায়েস মাহমুদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আহমেদ শরীফ বলেন, মেহেরপুর আমার স্মৃতি বিজড়িত জেলা। আমি মেহেরপুরে অনেক সময় কাটিয়েছি। তিনি মেহেরপুরের সাবিত্রী ও রসকদম্ব মিস্টির কথা উল্লেখ করেন। তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাম ফর হিউম্যানিটির বিভিন্ন কাজের প্রশংসা করেন। তিনি স্বেচ্ছাসেবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা ভাল কাজ করে যাও অবশ্যই এর প্রতিদান একদিন পাবে। প্রতিদিন একটি করে ভাল কাজ করার আহবান জানান তিনি। বর্তমানে আহমেদ শরীফ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে বসবাস করেন।

পৈতৃক ভিটা কুষ্টিয়াতে তিনি কয়েকদিন আগে এসেছেন। সুস্থ সমাজ বিনির্মানে সকলকে কাজ করার আহবান জানান।সমাজের বিত্তবান ও সচেতন নাগরিকদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে সহযোগিতার আহবান জানান তিনি।




মেহেরপুরে স্বর্গীয় দিলিপ বাশফোড় স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

স্বর্গীয় দিলিপ বাশফোড়ের স্মরণে মেহেরপুরে একদিনব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে মেহেরপুরের গোভিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে দিনব্যাপী এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করে মেহেরপুর হরিজন ফ্রেন্ডস ক্লাব ফুটবল একাদশ।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন, মেহেরপুর সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও সাবেক পৌর বিএনপি’র সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর বিশ্বাস।

বাংলাদেশ বাশফোড় হরিজন কল্যাণ পরিষদ, মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি শ্রী মিঠু বাশফোড় এর সভাপতিত্বে টুর্নামেন্টে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নিজে ঢাদ কালচারাল একাডেমির সভাপতি রোকনুজ্জামান রোকন, বড়বাজারের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী মোঃ শাহিনুল্লাহ, বাংলাদেশ হরিজন যুব ঐক্য পরিষদ, মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি শ্রী জনি ভূইমালী প্রমুখ।

দিনব্যাপী প্রতিযোগিতায় স্থানীয় বিভিন্ন দল অংশ নেয়। প্রাণবন্ত খেলায় দর্শকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। টুর্নামেন্ট শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।