আলমডাঙ্গায় যৌথবাহিনীর অভিযানে ২০০ কেজি কারেন্ট জাল জব্দ

আলমডাঙ্গায় যৌথবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার দুপুরে পৌরসভার পশুহাট এলাকায় চালানো অভিযানে প্রায় ২০০ কেজি জাল উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু ব্যক্তি নিষিদ্ধ এই কারেন্ট জাল ব্যবহার করে স্থানীয় জলাশয় ও খাল-বিলে নির্বিচারে মাছ শিকার করছিল। এতে দেশীয় প্রজাতির মাছ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিষ কুমার বসুর নেতৃত্বে যৌথবাহিনী অভিযান চালায়।

অভিযানে উপস্থিত আলমডাঙ্গা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, কারেন্ট জাল মাছের জন্য ভয়াবহ। ছোট-বড় সব মাছই এতে আটকা পড়ে। এমনকি মাছের ডিম-পোনাও রক্ষা পায় না। ফলে মাছের প্রজনন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এজন্য আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি।

অভিযানে অংশ নেওয়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে মৎস্যসম্পদ রক্ষা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অসাধু ব্যবসায়ীরা এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবে।

সরকার কারেন্ট জালের উৎপাদন, বিক্রয় ও ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও গোপনে এখনো এসব জাল ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বুধবারের এ অভিযান এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, নিয়মিত অভিযান হলে নদী-খাল-বিলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য টিকে থাকবে এবং মাছের প্রজনন ও প্রজাতি রক্ষা পাবে।




আলমডাঙ্গায় ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ট্রাকচাপায় আব্দুর রাজ্জাক (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

গতকাল বুধবার দুপুর ১টার দিকে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার পশুহাট টাইগার মোড়ে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুর রাজ্জাক আলমডাঙ্গা উপজেলার হাউসপুর গ্রামের রহমান আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আলমডাঙ্গা বাজারে বাইসাইকেলের ব্যবসা করতেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুরে পশুহাট থেকে টাইগার মোড়ের দিকে একটি ট্রাক যাচ্ছিল। এ সময় এটি হঠাৎ ব্রেক ফেল করলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আব্দুর রাজ্জাককে চাপা দেন। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

আলমডাঙ্গা থানার ওসি মাসুদুর রহমান জানান, ঘটনার পর ট্রাকচালক ও হেলপার পালিয়ে যান।




আলমডাঙ্গায় কৃষি অফিসার বদলির প্রতিবাদে কৃষকদের মানববন্ধন

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীনকে হঠাৎ বদলির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

বদলির আদেশকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে উল্লেখ করে গতকাল বুধবার বিকেলে আলমডাঙ্গার হাইরোড আল-তায়েবার মোড়ে মানববন্ধন করেন তারা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

গত বৃহস্পতিবার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে রেহেনা পারভীনকে বদলি করা হয়।

মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা শতাধিক কৃষক অংশ নেন। তাদের অভিযোগ, রেহেনা পারভীন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কৃষি খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। তিনি নিয়মিত মাঠে গিয়ে কৃষকদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং ভেজাল বীজ ও সার মজুতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

ডাউকি ইউনিয়নের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা যতদিন মনে করতে পারি, কোনো কৃষি কর্মকর্তা মাঠে এসে এভাবে কৃষকের পাশে ছিলেন না। তিনি না থাকলে আবারও দুর্নীতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।

জামজামি ইউনিয়নের কৃষক লাল মিয়া বলেন, রেহেনা পারভীন সৎ ও ন্যায়ের পক্ষে ছিলেন। এই কারণেই প্রভাবশালী একটি মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে।

কৃষকদের দাবি, রেহেনা পারভীন মাঠপর্যায়ের কৃষকদের কাছে ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তার উপস্থিতিতেই সার পাচার ও মজুত বন্ধ হয়েছিল। মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তার বদলির জন্য চাপ দিয়েছে।

মানববন্ধন শেষে কৃষকদের একটি প্রতিনিধি দল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মেহেদী ইসলামের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়। তিনি সমকালকে বলেন, কৃষকদের দাবি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেব।

যোগাযোগ করা হলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, আমি সব সময় চেষ্টা করেছি কৃষকদের স্বার্থে কাজ করার। মাঠে থেকে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোই আমার প্রধান দায়িত্ব ছিল। বদলির বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। তবে কৃষকদের ভালোবাসা আমার জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রেহেনা পারভীন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আলমডাঙ্গায় কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। সার ডিলার পয়েন্টগুলো নিয়মিত মনিটরিং করায় ভেজাল সার ও মজুতের প্রবণতা অনেকটাই কমে যায়। এ কারণে একশ্রেণির ব্যবসায়ী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

কৃষকদের অভিযোগ, মূলত এই চাপ থেকেই তাকে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।




দামুড়হুদার জয়রামপুরে বিএনপির কর্মী সভা অনুষ্ঠিত

দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজনে কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকাল ৫টার দিকে কাঁঠালতলায় ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়।

হাউলী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. আবু হাসানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল ওয়াহেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক আবুল হাসেম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক নাফিজ আক্তার সিদ্দিকী।

হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামানের সঞ্চালনায় এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মালেক রুস্তম, দামুড়হুদা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহেল রানা, সদস্য হুমায়ূন কবির ডাবলু, মমিনুল ইসলাম, সুমন, হাউলী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি তরিকুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদল নেতা হাসান আলী, আরিফুল ইসলাম, নাজমুল, নুর সালাম, লাবিব সিদ্দিকী, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ফারুক হোসেন বাবু, সাধারণ সম্পাদক তামিম হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকবৃন্দ।

কর্মী সভায় বক্তারা বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি। দেশের এই ক্রান্তিকালে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিটি কর্মীকে সচেতন হতে হবে এবং মাঠে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। দলীয় ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে দলের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সামনে দিনগুলো আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের বিস্তার ঘটিয়ে প্রতিটি ইউনিটকে আরো সুসংগঠিত করতে হবে। ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রাম পর্যায়ে প্রতিটি নেতা-কর্মীকে দায়িত্বশীল হতে হবে এবং জনগণের কাছে দলের ভাবমূর্তি ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যেতে পারব ইনশাআল্লাহ।

অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক।




ওঝাগিরি নিষেধ জেনেও ঝিনাইদহে সাপ নিয়ে খেলা

ঝিনাইদহে সাপের কামড়ে গত কয়েক বছরে রেকর্ড সংখ্যক মৃত্যু হয়েছে। মৃত রোগীদের সবাইকেই সাপে কামড়ালে হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার কাছে নিয়ে ঝাড়-ফুক করা হয়েছে।

সাপে কামড়ালে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হাসপাতালে পৌছে চিকিৎসা নিলে রোগীর মৃত্যুর শঙ্কা থাকেনা। সাপে কামড়ানো রোগীর মৃত্যুর কারণ সময় মতো হাসপাতালে নিয়ে না আসা এবং ওঝার বাড়িতে ঝাড়-ফুক করে সময় নষ্ট করা। ওঝার বাড়িতে ঝাড়-ফুক করে রোগীর যন্ত্রণা উপশম না হলে শেষ সময়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে দেশের সর্বত্র এন্টিভেনম পাওয়া যায়। শুধু প্রয়োজন সাপে কামড়ালে ওঝার বাড়িতে না নিয়ে সময় মতো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু ঝিনাইদহের স্বাস্থ্য বিভাগ ওঝার মিথের কাছে পরাজিত হচ্ছে। মানুষকে কিছুতেই ওঝাগীরির বিশ্বাস থেকে সরানো যাচ্ছে না।

গত সপ্তাহের রবিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল আওয়াল ও সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ কামরুজ্জামান ওঝাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও পুলিশকে নির্দেশনা দেন।

সাপে কামড়ালে ওঝাদের কাছে না নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মাইকিং করার প্রস্তাবনাও রাখা হয়। কিন্তু জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু ও সদর উপজেলায় ৩টি স্থানে সাপ নিয়ে ঝাপান খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন তাদের কোন বাধা প্রদান করেনি। পুলিশও এবিষয়ে অবগত নয় বলে জানিয়েছে।

উন্নয়ন সমন্বয় সভায় উচ্চবাচ্যের পর গত ১৪ ও ১৫ আগস্ট সদর উপজেলার বৈডাঙ্গা গ্রামে দুইদিন ব্যাপী ঝাপান খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই খেলার আয়োজন করে এই এলাকার প্রেম কুমারের নেতৃত্বে। গত ১৮ আগস্ট হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চিতলা পাড়ায় ঝাড়ান খেলা অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ গত ২১ আগস্ট সদর উপজেলার সাগান্না গ্রামে সাপের ওঝা তৈয়ব আলী ফকিরের আয়োজনে ঝাপান খেলা অনুষ্ঠিত হয়। হাজার হাজার দর্শক এই খেলা দেখতে আসেন।

এদিকে দেশের বন্যপ্রাণি (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী সাপ ধরা বা খেলা দেখানো একটি অপরাধ, কারণ এই আইনের অধীনে বন্যপ্রাণি সংগ্রহ, আটকে রাখা ও প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বন্যপ্রাণি আইন, ২০১২-এর ৬(১) ধারা অনুযায়ী, সাপ একটি সংরক্ষিত প্রাণি এবং এর খেলা দেখানো বা প্রদর্শনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু এই আইনের বাস্তবে প্রয়োগ নেই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ফলসি গ্রামের দুলাল বারী নামের এক বৃদ্ধকে সাপে কামড়ায়। পরিবারের লোকজন তাকে হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার স্মরণাপন্ন হন। ওঝা মোবাইল কলের মাধ্যমেই ঝাড়-ফুক করে বিষ নামিয়ে দেওয়ার আশ্বস্থ করেন। শুধু রোগীকে ভাটির পাতা রস করে খাওয়াতে বলেন। ২২ সেপ্টেম্বর দুলাল বারী মারা যায়। ২০২৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের কোলা গ্রামের তুফান মন্ডল নামে এক সৌখিন সাপ পালনকারী পোষা সাপের কামড়ে মারা যান। গত ১০ মে শৈলকুপা উপজেলার খুলুমবাড়িয়া গ্রামের কাদের খন্দকার(৮০) নামের সাপের ওঝা সাপের কামড়ে মারা যান। তিনি তার পোষা সাপকে পানি পান করাতে গিয়ে দংশনের শিকার হন।

ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডাঃ কামরুজ্জামান বলেন, ওঝা সাপের বিষ নামাতে পারেন এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা। সাপ অনেক সময় ড্রাই বাইট করে থাকে। তবে রোগীকে সাপে কামড়ানোর দুয়েক ঘন্টার মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিলে রোগীর মৃত্যুর শঙ্কা থাকে না। ঝিনাইদহে সাপে কেটে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। অধিকাংশ রোগীকেই ওঝার বাড়িতে নিয়ে সময় নষ্ট করে শেষ সময়ে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। গত জেলা সমন্বয় সভায় ওঝাগীরী বন্ধে জেলা প্রশাসক মহোদয় ও আমি সকল ইউএনও, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও পুলিশকে ওঝাগীরিতে মানুষের বিশ্বাস তৈরি হয় এমন কর্মকান্ড রোধ করতে বলা হয়। কিন্তু তার পরেও দুই উপজেলায় জাপান খেলা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। খুব দুঃজনক। সাপ একটি বিপজ্জনক বন্য প্রাণি।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনে আরাকে সদর উপজেলা এলাকার দুই জায়গায় অনুষ্ঠিত ঝাপান খেলার বিষয়ে জানতে চাইলে বৃহষ্পতিবার তিনি বলেন, আমার জানা ছিল না। এখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি।

স্বেচ্ছায় সারাদেশে বিষধর সাপসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণি উদ্ধারের কাজ করেন বোরহান বিশ্বাস রোমন। তিনি বলেন, সাপে কাটার চিকিৎসা হাসপাতালে করানোর রীতির সাথে ঝাপান খেলা সাংঘর্ষিক। ঝাপান খেলা মানুষের ওঝার প্রতি মিথ্যা বিশ্বাস তৈরি করে। ঝাপান খেলা বন্ধ করা উচিৎ। এটা দেশের আইন অনুযায়ী একটি দন্ডনীয় অপরাধ। প্রশাসন চাইলে আইন অনুয়ায়ী ব্যবস্থা নিতে পারেন।




মেহেরপুর জেলা যুবলীগের সভাপতি সাজ্জাদুল আনাম সাজেদুল আটক

রাজধানী ঢাকার পল্লবী ১২ নম্বর রেসিডেন্সিয়াল এলাকায় বিশেষ অভিযানে মেহেরপুর জেলা যুবলীগের সভাপতি সাজ্জাদুল আনাম সাজেদুল আটক করেছে র‍্যাব-৪ ও পুলিশ।

বুধবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত যৌথভাবে পরিচালিত এ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাজ্জাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে তদন্ত চলমান রয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো মামলার বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। আটকের পর তাকে স্থানীয় থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

র‍্যাব জানায়, সাজ্জাদুল আনাম সাজেদুলের বিরুদ্ধে কিছু গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য আপাতত প্রকাশ করা সম্ভব নয়।




মেহেরপুর জেলা শিক্ষা অফিসার হযরত আলীকে বিদায় সংবর্ধনা

বদলি জনিত কারণে মেহেরপুর জেলা শিক্ষা অফিসার হযরত আলীকে এক আবেগঘন পরিবেশে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার দুপুরে জেলা শিক্ষা অফিসের হলরুমে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় প্রধান অতিথিকে ক্রেস্ট ও ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন শিক্ষকবৃন্দ।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদায়ী জেলা শিক্ষা অফিসার হযরত আলী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহিম, নজরুল শিক্ষা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সানজিদা ইসলাম, হাতিভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম, সীমান্ত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, কান্দেবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসরাইল হোসেন, গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম, মমিনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বার, শালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আওয়াল প্রমুখ।

পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন পিরোজপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার আসাদুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ইসরাইল হোসেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান, কবি নজরুল শিক্ষা মঞ্জিলের প্রধান শিক্ষক সানজিদা ইসলাম, আবুল কাশেমসহ অনেকে। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আমঝুপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এস এম ফয়জুল কবির।

বক্তারা বিদায়ী জেলা শিক্ষা অফিসার হযরত আলীর শিক্ষা উন্নয়নে অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং তাঁর সুস্থ, সুন্দর ও সফল জীবনের জন্য শুভকামনা জানান।




হরিণাকুণ্ডুতে সোনালী ব্যাংকের এটিএম বুথ উদ্বোধন

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে সোনালী ব্যাংকের এটিএম (অটোমেটেড টেইলর মেশিন) বুথ উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (২৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় সোনালী ব্যাংক হরিণাকুণ্ডু শাখার নীচ তলায় এই বুথের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।

উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম তারিক- উজ- জামান।

উদ্বোধন শেষে শাখা ম্যানেজারের কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্যাংকের ডিজিএম বিশ্বাস মোহাম্মদ মীজানুর রহমান, এজিএম রশিদুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াহেদ জোয়ার্দ্দার, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হক টিটু, উপজেলা নির্বাচন অফিসার পলাশ কুমার সাহা, প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুস সামাদ প্রমূখ। সভায় সভাপতিত্ব করেণ হরিণাকুণ্ডু সোনালী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক এজিএম মোবাশ্বের হোসেন। অলোচনা সভায় অতিথিরা বলেন হরিণাকুণ্ডুবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল সোনালী ব্যাংকে একটি এটিএম বুথ স্থাপনের। সেটা অনেক পরে হলেও আজ পূরণ হয়েছে। এখান থেকে সকল ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে টাকা তোলা ও জমা দেওয়া যাবে। বক্তারা ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা ও সেবার মান বৃদ্ধি করার উপরে গুরত্বারোপ করেণ।




শিক্ষার্থীদের পুলিশের ধাওয়া, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

পূর্বঘোষিত ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাহবাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে যাওয়ার পথে প্রকৌশলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে শিক্ষার্থীরা সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। একইসঙ্গে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

বুধবার (২৭ আগস্ট) দুপুর পৌনে ২টা নাগাদ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এরপর শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে সরে আসেন।

এর আগে তিন দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর শাহবাগ অবরোধ করেন তারা। শিক্ষার্থীদের স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠে শাহবাগ এলাকা।

তাদের স্লোগানের মধ্যে রয়েছে, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম, সংগ্রাম’, ‘কোটা না মেধায়, মেধায় মেধায়’, ‘সবার মুখে এক বয়ান, ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ান’, ‘অবৈধ ডিপ্লোমা কোটা অবসান চাই’, ‘কোটার নামে অবিচার, বন্ধ করো’, ‘কোটা প্রথা ভেঙে দাও, মেধাবিদের অধিকার ফিরিয়ে দাও’।

প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ৩ দফা দাবি হলো, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নামের আগে প্রকৌশলী লিখতে না দেওয়া, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের কাউকে পদোন্নতি দিয়ে নবম গ্রেডে উন্নীত না করা ও দশম গ্রেডের চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্নাতক প্রকৌশলীদের সুযোগ দেওয়া।

সূত্র: যুগান্তর




আলমডাঙ্গায় জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ গ্রাম পুলিশ আলমগীরের বিরুদ্ধে

আলমডাঙ্গার ডাউকি ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ আলমগীর জুয়ার বোর্ড পরিচালনা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগে বিক্ষোভের মুখে পড়েছে আলমগীর ।

আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশের দায়িত্বে থাকা আলমগীর হোসেন এখন হয়ে উঠেছেন জুয়া পরিচালনা গডফাদার। যিনি জনগণের নিরাপত্তা রক্ষার বদলে নিজেই অপরাধ সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রক বনে গেছেন।

অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ আলমগীর হোসেন ডাউকি ইউনিয়নের পোয়ামারি গ্রামের বাসিন্দা ওয়াহাব আলীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত আলমগীরের ছত্রছায়ায় চলে জুয়ার আসর। যুবসমাজ জুয়ার নেশায় জড়িয়ে পড়ছে, পরিবার ভাঙছে, সমাজ ধ্বংস হচ্ছে। এমনকি অল্প বয়সী ছেলেরাও অপরাধচক্রের শিকার হচ্ছে।

শুধু এখানেই শেষ নয়, প্রতারণারও ভয়াবহ অভিযোগ রয়েছে। ডাউকি পোয়ামারির এক অসহায় পরিবার অভিযোগ করেছে, সরকারি (পঙ্গু) ভাতা কার্ড করে দেওয়ার নাম করে তিনি ৬ হাজার টাকা নেন। কিন্তু এক বছরেরও বেশি সময় পেরোলেও কার্ডের কোনো খবর নেই। টাকা ফেরত চাইতে গেলে পরিবারটি হুমকি ও হয়রানির শিকার হয়।

প্রশাসনের নীরবতায় এ অভিযোগে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ। তারা বলছে, ইউনিয়নে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা একজন গ্রাম পুলিশই যখন অপরাধচক্রের হোতা, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? ডাউকি ইউনিয়নের প্রবীণ এক নাগরিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে আইন রক্ষা করবে তাকেই এখন আটকাতে চাইছে জনগণ, এটা কি গণতন্ত্রের অপমান নয়?

স্থানীয়দের একটাই দাবি অবিলম্বে কুখ্যাত গ্রাম পুলিশ আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। অন্যথায় ডাউকি ইউনিয়নের শান্তি ও নিরাপত্তা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়বে।