আলমডাঙ্গায় ১০ লক্ষাধিক টাকার গাছ ১ লাখে বিক্রি

আলমডাঙ্গায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ৭ টি মূল্যবান গাছ মাত্র ১ লক্ষ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। আলমডাঙ্গা-সরোজগঞ্জ সড়কের সাতকপাট ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে বেলগাছি অভিমুখে নামমাত্র দরপত্রের মাধ্যমে গাছ কাটার অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ৭টি মূল্যবান গাছ মাত্র ১ লাখ টাকায় দরপত্রের মাধ্যমে কেটে ফেলা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ গাছগুলো অকারণে কেটে ফেলা হয়েছে, যা পরিবেশ ও জনস্বার্থবিরোধী।এই গাছ কাটার জন্য প্রতিবাদে ফেটে পড়ছে আলমডাঙ্গাবাসী। গাছ কাটার প্রতিবাদে গতকাল রবিবার দুপুরে স্থানীয়দের উদ্যোগে “সম্মিলিত আলমডাঙ্গাবাসী” ব্যানারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, “চুয়াডাঙ্গা একটি দুর্যোগপ্রবণ জেলা। এখানে গরমে প্রচণ্ড গরম আর শীতে প্রচণ্ড ঠান্ডা দেখা দেয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। অথচ চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের টেন্ডারের মাধ্যমে অবৈজ্ঞানিক ও অযৌক্তিকভাবে গাছ কাটা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী চার ইঞ্চি রেখে গাছ কাটার কথা থাকলেও বাস্তবে ৫-৬ ফুট গভীর করে কেটে ফেলা হয়েছে, যা সড়কের ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, টেন্ডারে ৭টি গাছ কাটার অনুমতি থাকলেও এর মধ্যে সুস্থ ও ব্যবহারযোগ্য গাছও কেটে ফেলা হয়েছে। টেন্ডারে গাছের মূল্য নির্ধারণ করা হয় মাত্র ১ লাখ ৭ হাজার টাকা, অথচ বাজারমূল্যে এর মূল্য ছয় থেকে সাত গুণ বেশি। এতে স্পষ্ট অনিয়ম ও স্বার্থসংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত মেলে।

অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান দাবি জানান— কাটা গাছের গর্ত দ্রুত ভরাট করা, সংশ্লিষ্ট ইজারাদারের লাইসেন্স বাতিল করা এবং টেন্ডার থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে আলমডাঙ্গায় নতুন করে গাছ লাগানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “প্রশাসন উদ্যোগ না নিলে আমরা নিজেরাই নির্বাচিত স্থানে গাছ লাগাব।”

অনুষ্ঠান শেষে প্রতীকীভাবে মেহগনি ও আম গাছ রোপণ করা হয়। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী সাধারণ মানুষ বড় বড় গাছ বিনা কারণে কেটে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানান।




মুজিবনগরে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস ২০২৫ উদযাপন

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলায় আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস ২০২৫ পালন করা হয়েছে। গতকাল কেদারগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় শান্তি সহায়ক গোষ্ঠী (পিএফজি) ও যুব শান্তি দূত গোষ্ঠী (ওয়াইপিএজি)-এর উদ্যোগে, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং যুক্তরাজ্যের এফসিডিও’র অর্থায়নে এ দিবসটি উদযাপন করা হয়।

“এখনই পদক্ষেপ গ্রহণ করি, শান্তিময় বিশ্ব গড়ি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় নেতা, তরুণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন, পিএফজি সমন্বয়কারি মো: ওয়াজেদ আলি খান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, পিস অ্যাম্বাসেডর মো: আবুল খায়ের বাসার, ঝরনা খাতুন, মুনশী মোকাদ্দেস হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: সাবদার আলি, সদস্য মো: আব্দুল লতিফ, মো: রেজাউল হক, মো: শফিকুল ইসলাম, রোকসানা খাতুন, হাফেজ মতিয়ার রহমান, প্রেসক্লাব সভাপতি মুনশী ওমর ফারুক, ওয়াইপিএজি সমন্বয়কারি মো: রিয়াজ শেখ, সহ-সমন্বয়কারি নাদিম আনজুম বিন রেজা এবং অন্যান্য পিএফজি ও ওয়াইপিএজির সদস্যবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, দুর্নীতি ও সহিংসতা দূর করতে রাজনৈতিক নেতাদের সহনশীল হতে হবে এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। তারা আরও বলেন, শান্তি টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। পারস্পরিক বোঝাপড়া, সহমর্মিতা ও সহনশীলতার মাধ্যমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তরুণ প্রজন্মকে শান্তি ও সম্প্রীতির চর্চায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।




দর্শনায় মোটর সাইকেল চোর সন্দেহে যুবককে গণ-পিটুনী দিয়ে থানায় সোর্পদ

দর্শনায় মোটর সাইকেল চোর সন্দেহ করে এক যুবককে গণ-পিটুনী দিয়ে দর্শনা থানায় সোর্পদ করে সাধারণ জনতা। পুলিশ ও মোটর-সাইকেল মালিক পারকৃষ্ণপুর গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে মাসুদ রানা জানান, সন্দেহভাজন যুবক একজন ভারসাম্যহীন।

সে দর্শনা রেলগেট নামক স্থানের পাশে টিভিএস মোটর-সাইকেল নং:- চুয়াডাঙ্গা-হ- ১৫-৩৭০৩ গাড়িতে হাত রেখে নাড়াচাড়া করছিল। এসময় মোটর-সাইকেল চোর মনে করে এলাকার লোকজন ছুটে এসে মারটিপ শুরু করে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এরপর পুলিশ তার নাম ঠিকানা জিজ্ঞাসা করলে সে ভিন্ন নাম ঠিকানা বলতে থাকে। সে বলে তার নাম ইয়ামিন মিয়া, পিতার নাম জিল্লু মিয়া আবার বলে ঝিরু মিয়া। বাড়ি ঠিকানা জিজ্ঞাসা করলে সে বলে চান্দুরা, ঢাকা গাজীপুর। আবার কখনো বলে শেরপুর। ঠিকানা ঠিকমত বলতে পারছিল না।

এসময় দর্শনা থানার অফিসার ইনর্চাজ মোহম্মদ শহীদ তিতুমীর চুয়াডাঙ্গা জেলা সমাজ সেবা কর্মতার কাছে বলে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানান। আজ সোমবার তাকে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার মাধ্যমে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় তাকে ঢাকা মানসিক চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রেরণ করা হবে বলে অফিসার ইনর্চাজ মোহম্মদ শহীদ তিতুমীর জানান।




দর্শনায় পৃথক দুইটি স্থানে দুই যুবকের অপমৃত্যু 

দর্শনায় পৃথক দুইটি স্থানে দুই যুবকের অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। দর্শনা থানাধীন প্রতাপপুর গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে বাবুল আক্তার (৩৭) রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। সে সেলুনের কাজ করতো। এছাড়া সে মালেশিয়ায় গিয়েছিল। সেখানে অসুস্থ্যতা বোধ করলে বাড়ি চলে আসে। তার ১৪ বছর ও ৮ বছরের ২টি ছেলে আছে।

সকালে বাড়ির লোকজন তার ঘরে গিয়ে ডেকে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে গায়ে হাত দিয়ে দেখে সে রাতে ঘুমের ঘরে কোনো এক সময় মারা গেছে। এ বিষয় ৯৯৯ এ কেউ একজন মোবাইল ফোন করে বলেন, তাকে মেরে ফেলা হয়েছে বলে। এরপর এসপি সার্কেল মোস্তাফিজুর রহমান ও দর্শনা থানার অফিসার ইনর্চাজ মোহম্মদ শহীদ তিতুমীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন তদন্ত করেন।

এছাড়া বেলা ১টার দিকে ডিবি, পিআইবি, ডিএসবি ও পুলিশ অধিকতর তদন্ত কাজ শুরু করেন। বেলা পৌনে ৩টার দিকে পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য তার লাশ চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়ে দেন। বাবুল আক্তারের পিতা তাজুল ইসলাম ও স্থানীয় লোকজন জানান, সে দীর্ঘদিন ধরে ডাবেটিকস-সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিল। এ বিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনর্চাজ মোহম্মদ শহীদ তিতুমীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন তদন্ত করে করেছেন বলে জানান, তিনি সাংবাদিকদের জানান, সে অসুস্থ্যতা জনিত কারণেই মারা গেছে।

যেহেতু ৯৯৯ নাম্বারে কেউ একজন মোবাইল ফোন করে বলেন, তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। এ কারণে আমরা তার লাশ ময়না তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছি। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে সঠিক ঘটনাটি জানা যাবে।

এছাড়া দর্শনা থানাধীন গহেরপুরের এক যুবক গলাই ফাঁস দিয়ে মারা গেছে। সে গহেরপুর গ্রামের তপন মাঝির ছেলে প্রান্ত (১৮)। গত শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির পাশে বাগানে গাব গাছের সাথে গলাই ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে বলে পুলিশ জানায়। পুলিশ ও গ্রামবাসী জানান, প্রান্তর মাথায় সমস্যা ছিল। দর্শনা থানার অফিসার ইনর্চাজ মোহাম্মদ শহীদ তিতুমীর জানান, রাত ২টা ৩০ মিনিটের সময় ময়না তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়।




আলমডাঙ্গায় দুটি প্রতিষ্ঠানে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

আলমডাঙ্গায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যপণ্যের বাজারে শৃঙ্খলা আনতে ভোক্তা-অধিকারের তদারকি অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়। গতকাল রবিবার সকাল ১২টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত উপজেলার মুন্সিগঞ্জ এলাকায় এ অভিযান চলে।

অভিযান চলাকালে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মিষ্টি তৈরি ও সংরক্ষণের অভিযোগে শ্রী উজ্জ্বল কুমার সাহার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মদন মহন মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে, লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে DTSI মবিলের দাম বেশি নেওয়ায় মো. গোলাম মোস্তফার প্রতিষ্ঠান তাজ মটরসকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সব মিলিয়ে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এসময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভবিষ্যতে ভোক্তার অধিকার ক্ষুন্ন না করার জন্য সতর্ক করা হয়। এছাড়া হোটেল ও মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের অবিলম্বে ত্রুটি সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। সহযোগিতায় ছিলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র কেমিস্ট নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস, নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সজীব পাল এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের একটি টিম। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে— ভোক্তা স্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




আলমডাঙ্গায় যুব ফোরামের উদ্যোগে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু

আলমডাঙ্গায় যুব ফোরামের উদ্যোগে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে যুব ফোরামের খুলনা বিভাগীয় উদ্যোগে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির যাত্রা শুরু হয়েছে। খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। গতকাল সকাল দশটার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার এম সবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, যুব ফোরাম খুলনা বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মোঃ আসাদুজ্জামান লিমন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে যুব ফোরাম এর সভাপতি মোঃ আসাদুজ্জামান লিমন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা জলবায়ু যোদ্ধা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। এরই ধারাবাহিকতায় খুলনা বিভাগের দশটি জেলায় মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। আজকের উদ্বোধনী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা এখানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করেছি। আমাদের লক্ষ্য শুধু গাছ রোপণ নয়, আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও টেকসই পরিবেশ গড়ে তোলা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এম সবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সিদ্দিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, যুব ফোরাম খুলনা বিভাগীয় কমিটির উপদেষ্টা মোঃ আজিজুর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, যুব ফোরাম চুয়াডাঙ্গা জেলার সভাপতি শাহরিয়ার হোসেন জয়, সাধারণ সম্পাদক মোঃ ঈশান বাবু, যুগ্ম সম্পাদক তানিয়া আফরোজ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী এবং যুব ফোরামের সদস্যরা।

প্রধান শিক্ষক মোঃ সিদ্দিকুর রহমান এ সময় যুব ফোরামের এ মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “মাসব্যাপী এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিবেশ সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। যুব ফোরামের পক্ষ থেকে এমন কার্যক্রম আমাদের সমাজের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। যুব ফোরাম এর সভাপতি মোঃ আসাদুজ্জামান লিমনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

যুব ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাসব্যাপী এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি জেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ এলাকা এবং জনসাধারণের মাঝে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, সুন্দর ও সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলাই যুব ফোরামের মূল লক্ষ্য।




হরিনাকুণ্ডুতে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস পালিত

হরিণাকুণ্ডুতে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস পালন করা হয়েছে।

রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ স্কাউটস হরিণাকুণ্ডু উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এ দিবসটি পালন করা হয়।

এ  উপলক্ষে  উপজেলা কাব স্কাউট ও স্কাউট সোনামণিদের নিয়ে একটি বিশাল সাইকেল র‌্যালির আয়োজন করা হয়।

এছাড়া উপজেলা স্কাউটস এর সকল কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ র‌্যালি ও আলোচনা সভায় অংশ গ্রহণ করেন।




বাংলাদেশসহ ৯ দেশের ওপর আরব আমিরাতের ভিসা নিষেধাজ্ঞা

নয়টি দেশের ওপর পর্যটন ও কর্ম ভিসার উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এই তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এই নির্দেশনা।

এছাড়া ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক এই নয় দেশের নাগরিকরাও নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।

দেশটির অভিবাসন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো হলো- আফগানিস্তান, লিবিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া, লেবানন, বাংলাদেশ, ক্যামেরুন, সুদান ও উগান্ডা।

নিরাপত্তা উদ্বেগ, ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং কোভিড-১৯-এর মতো মহামারিকে নিষেধাজ্ঞার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটি। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কারণ প্রকাশ করেনি আমিরাত সরকার।

তবে বর্তমানে এর মধ্যে কিছু দেশ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর্যটন ও কর্মক্ষেত্রের ভিসার জন্য আবেদন করতে পারে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে এই আবেদনের সুযোগ আর থাকবে না ওই দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য, যা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

সূত্র: যুগান্তর




২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ১২ জনের মৃত্যু, চলতি বছরে সর্বোচ্চ

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ের মধ্যে আরো ৭৪০ জন ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

আজ রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে আজ রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা মহানগরের হাসপাতালগুলোতে ২৩৭ জন, বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশন বাদে) ১৬৫ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশন বাদে) ১৪৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশন বাদে) ৭৭ জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশন বাদে) ২৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশন বাদে) ২২ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশন বাদে) ৫২ জন ও রংপুর বিভাগে (সিটি করপোরেশন বাদে) ৩ জন, সিলেট বিভাগে (সিটি করপোরেশন বাদে) ৯ জন ভর্তি হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১২ জনের মধ্যে ছয়জন নারী ও ছয়জন পুরুষ। তাদের মধ্যে বরিশাল বিভাগের ৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১ জন রয়েছে।

চলতি বছরে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ ছাড়া এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪১ হাজার ৮৩১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।




ডিপিআই’র সভাপতি নির্বাচিত হলেন আব্দুস সাত্তার দুলাল

Disabled Peoples’ International (DPI)-এর সভাপতি হিসেবে আব্দুস সাত্তার দুলাল নির্বাচিত হয়েছেন। তার এই নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশও সম্মানিত হয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার সাধারণ সভায় অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে আব্দুস সাত্তার দুলাল এশিয়া এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেন।

১৯৮১ সালে কানাডার উইনিপেগে প্রতিষ্ঠিত Disabled Peoples’ International (DPI) হলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, মর্যাদা এবং অন্তর্ভুক্তির জন্য একটি বিশ্বব্যাপী আন্দোলন। এটি ১৪০টি জাতীয় পরিষদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে ছয়টি আঞ্চলিক পরিষদ, বিশ্ব পরিষদ এবং একটি বিশ্ব নির্বাহী বোর্ড। ডিপিআই বিশ্বব্যাপী মাইলফলক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সনদ (ইউএনসিআরপিডি), এবং তৃণমূল থেকে বিশ্বব্যাপী শক্তিশালী প্রচারণার মাধ্যমে বৈষম্য ও বর্জনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

আব্দুস সাত্তার দুলাল ১৯৬০ সালে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেন। ১৫ বছর বয়সে এক জীবন বদলে দেওয়া দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যান তিনি, যার ফলে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন। ১৯৮২ সালে প্রতিবন্ধী অধিকার আন্দোলনে যোগদানের পর থেকে তিনি বিপিকেএসসহ ৩০টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন (ওপিডি) প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি ৭১টি দেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি মূল বক্তব্য প্রদান করে আসছেন এবং জাতিসংঘ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আইএলও, জাইকা, ইউএসএআইডি, এডিবি, সিবিএম, এইড, বিএফটিডব্লিউ, হ্যান্ডিক্যাপ ইন্টারন্যাশনালসহ আরও অনেক সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন।

আব্দুস সাত্তার দুলাল বিশ্বাস করেন, প্রকৃত অগ্রগতির জন্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব, সাশ্রয়ী পদ্ধতি, গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা এবং স্থানীয় ক্ষমতা কাঠামো প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাদের অন্তর্ভুক্তি ছাড়া টেকসই মানব, সামাজিক এবং পরিবেশগত উন্নয়ন অসম্ভব। তার নেতৃত্ব তাকে কোরিয়ায় উচ্চ-স্তরের আন্তঃসরকারি সভায় ইউএনইএসক্যাপ থেকে মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রতিবন্ধী অধিকার চ্যাম্পিয়ন’ পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা অর্জন করিয়েছে। তিনি ১৯৯২ সাল থেকে স্বেচ্ছায় জাতিসংঘে প্রতিবন্ধী অধিকার বিশেষজ্ঞ হিসেবেও কাজ করছেন।

আব্দুস সাত্তার দুলাল তার অক্লান্ত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জীবনকে রূপান্তরিত করার পাশাপাশি জনসাধারণের ধারণার পরিবর্তন, প্রতিবন্ধী করদাতাদের ক্ষমতায়ন এবং পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করে এমন প্রতিনিধিত্বমূলক সংস্থাগুলিকে শক্তিশালী করেছেন। মানবাধিকারকে এগিয়ে নেওয়া এবং সবার জন্য গ্রহণযোগ্য, উপভোগ্য ও টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নের জন্য তার কাজ অব্যাহত রয়েছে।