দর্শনা রেলবাজার দোকান মালিক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন আজ

সাড়ে সাত বছর পর দর্শনা রেলবাজার দোকান মালিক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ শুক্রবার। এই নির্বাচনে ১৩টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩১ জন প্রার্থী। দেখার অপেক্ষা, কে হাসেন বিজয়ের হাসি।

সভাপতি পদে ৩ ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৫ জনসহ বিভিন্ন পদে মোট ৩১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। চুয়াডাঙ্গা জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর দর্শনা, যা শিল্পনগরী হিসেবে সারাদেশে পরিচিত। দর্শনা দোকান মালিক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় বইছে নির্বাচনী উৎসবের আমেজ।

নির্বাচন তিন বছর অন্তর হওয়ার কথা থাকলেও এবার তা হচ্ছে দীর্ঘ সাড়ে সাত বছর পর। আগামী ১৪ নভেম্বর শুক্রবার অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে সরব আলোচনা, আর ভোটারদের মাঝে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

দর্শনা বাজারের ব্যবসায়ীদের এই নির্বাচন বরাবরই এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে এলাকা। বাজারের প্রতিটি অলি-গলি ও প্রধান সড়কে প্রার্থীদের ছবি ও প্রতীকসংবলিত ডিজিটাল বিলবোর্ড ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও চলছে প্রচার।

দিনে প্রার্থীদের মাঠে তেমন দেখা না গেলেও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে কেউ দলবদ্ধভাবে, কেউ একাই প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রতিটি ভোটারকে হ্যান্ডবিল দিয়ে দোয়া ও ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থীরা।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল দর্শনা রেলবাজার দোকান মালিক সমিতির সর্বশেষ ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন। তিন বছর মেয়াদি পরিষদ হলেও বিগত কমিটি টানা সাত বছরেরও বেশি সময় দায়িত্বে ছিল। নানা জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

অবশেষে চলতি বছরের ২৫ মে গঠন করা হয় উপদেষ্টা পরিষদ এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৫ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পান অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান। অন্য সদস্যরা হলেন সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক এফ.এ. আলমগীর, মোমিনুল ইসলাম ও মনির হোসেন।

গত ১৫ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দর্শনা রেলবাজার দোকান মালিক সমিতির কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রফেসর আজিজুর রহমান। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৩ অক্টোবর ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়।

খসড়া তালিকা অনুযায়ী ভোটার সংখ্যা ৭টি ওয়ার্ডে ৭৬৯ জন। ২৪ থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি, নাম ও ওয়ার্ড সংশোধন, ২৮ অক্টোবর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, ২৯-৩০ অক্টোবর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বিতরণ, ১ নভেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই ও আপিল শুনানি শেষে ২ নভেম্বর বৈধ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। ৩ নভেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ও ৪ নভেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।

১৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে দর্শনা ডিএস সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে গোপন ব্যালটে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে মাঠে রয়েছেন সাবেক সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন (চেয়ার), নতুনদের মধ্যে রয়েছেন লুৎফর রহমান (মই) ও তারিকুল ইসলাম জুয়েল (চশমা)।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন রতন (প্রজাপতি), সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান বাবু (চাঁদতারা), গত নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী সেলিম মাহমুদ লিটন (সাইকেল) এবং নতুন প্রার্থী রিয়েল ইসলাম লিওন (ছাতা) ও নাসির উদ্দিন খান হাসু (সূর্যমুখী ফুল)।

সহসভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আবুল বাসার (মোরগ), আরিফুল ইসলাম জয়নাল (কলস) ও রিন্টু জামান (মাছ)। সহসাধারণ সম্পাদক পদে আছেন আবিদ হাসান রিফাত (হরিণ) ও শরিফুল আলম (আনারস)।

কোষাধ্যক্ষ পদে সাবেক কোষাধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেন (টিউবওয়েল) ও মিজানুর রহমান (দেয়ালঘড়ি)।

দপ্তর সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক দপ্তর সম্পাদক সোহাগ হোসেন (টেবিল) ও কালু মিয়া (হারিকেন)।

ওয়ার্ড সদস্য পদে ১নং ওয়ার্ডে ফরজ আলী (কাঠাল) ও মো. শরিফ (পেয়ারা), ২নং ওয়ার্ডে জাহিদুল ইসলাম (মোবাইল) ও হারেজ উদ্দিন (সেলাই মেশিন), ৩ ও ৪নং ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুল ও শামীম মিয়া, ৫নং ওয়ার্ডে ওয়াসিম (ফুটবল) ও মেহেদী হাসান (বেলচা), ৬নং ওয়ার্ডে হানিফ খা (আম) ও আজিজুল ইসলাম আজিজ (পানপাতা), ৭নং ওয়ার্ডে হাবিব শিকদার (জবাফুল), সাইদুর রহমান টুটুল (উড়োজাহাজ) ও আজাহার খান ঝন্টু (চায়ের কাপ)।

এ নির্বাচনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান।




নভেম্বরের মধ্যে গণভোট দিতে হবে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইমারতের নির্বাচন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৬-২৭-২৮ সালের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নতুন আমির নির্বাচিত হয়েছেন ড. শফিকুর রহমান। এটি জামায়াতের সাংগঠনিক নিয়মনীতি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত নির্বাচন।

জামায়াতের সেশন শেষ হলে আমাদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নতুন আমির নির্বাচিত হন। নতুন আমির নির্বাচনের পর আমাদের পরবর্তী ধাপ হলো কেন্দ্রীয় মজলিস গঠন যা জামায়াতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ ও স্থান। মজলিস নির্বাচন হওয়ার কারণে আজ আমি মেহেরপুর সফর করেছি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার সময় মেহেরপুর শহরের পশুহাটসংলগ্ন চুয়াডাঙ্গা রোডে জেলা জামায়াতে ইসলামীর অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও অঞ্চল পরিচালক (যশোর-কুষ্টিয়া) মোবারক হোসাইন এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি সারা দেশে ৩০০ আসনে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে আমরা গত কয়েক মাস ধরে জনসাধারণের কাছে আমাদের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। নির্বাচনী প্রচার ও অভিযান বলতে যা বোঝায়, আমরা সেই অভিযানে লিপ্ত আছি এবং আমাদের প্রার্থীরা ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। আজ এখানে আমাদের রোকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে অনেক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ইতিমধ্যে তারা ঘরে ঘরে প্রার্থীর পরিচিতি ও ভোট দেওয়ার ব্যাপারে নারীদের অবহিত করেছেন। এটি শুধু মেহেরপুর নয়, সারা বাংলাদেশের চিত্র একই। আমরা আশা করি, আগামী নির্বাচন যদি সুন্দর ও সুস্থ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি সরকার গঠনের পর্যায়ে যাবে।

গণভোট নভেম্বরে হবে এটি আমরা সরকারের কাছে এবং বাংলাদেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল আহ্বান জানিয়েছি। আপনারা জানেন, বিএনপি-সহ অল্প কয়েকটি রাজনৈতিক দল গণভোটের বিপক্ষে। একই দিনে গণভোটের অসুবিধাগুলো জাতির সামনে তুলে ধরেছি। আমরা আশা করেছিলাম, সরকার গণভোটের পক্ষে নভেম্বরে রায় দেবে। কিন্তু এখন আমরা দেখলাম, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুস গণভোট এবং নির্বাচন একই দিনে করার কথা বলেছেন। আমরা জরুরি ভিত্তিতে আমাদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক আহ্বান করব এবং সেই বৈঠকে পর্যালোচনা করে ৮ দলের কমিটির মাধ্যমে সাংবাদিক সম্মেলনে আগামীর পদক্ষেপ জানিয়ে দেব।

মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজউদ্দিন খান, গাংনী-২ আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা কর্মপরিষদ ও শুরা কমিটির সদস্য নাজমুল হুদা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।




গাংনী আসনে এনসিপি থেকে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিলেন অ্যাড. সাকিল

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর প্রার্থী হিসেবে অ্যাডভোকেট সাকিল আহমেদ দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আজ সন্ধ্যায় এনসিপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তিনি এই মনোনয়নপত্র জমা দেন।

অ্যাডভোকেট সাকিল আহমেদ জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক, মেহেরপুর জেলার প্রধান সমন্বয়কারী এবং এনসিপি সমর্থিত আইনজীবীদের সংগঠন ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স অ্যালায়েন্স (NLA) এর মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়াও অ্যাডভোকেট সাকিল আহমেদ বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদার স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (SPP) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, এবং গাংনী উপজেলা থেকে এই পদে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সমাজসেবা, শিক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুক্ত থেকে তরুণদের মধ্যে নেতৃত্ব ও নাগরিক সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে যাচ্ছেন।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় অ্যাডভোকেট সাকিল আহমেদ বলেন, গাংনী আমার জন্মভূমি। এখানকার মানুষের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে আমি কাজ করতে চাই। ন্যায়, উন্নয়ন ও পরিবর্তনের রাজনীতি গড়তে এনসিপি আমার প্ল্যাটফর্ম।

এ সময় এনসিপি’র স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সমর্থকরা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তরুণ নেতৃত্ব, আইনি পেশায় অভিজ্ঞতা এবং গণমানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে অ্যাডভোকেট সাকিল আহমেদকে এই আসনে ‘যোগ্য প্রার্থী’ হিসেবে বিবেচনা করছে এনসিপি।




কোটচাঁদপুরের সাংবাদিক শামসুজ্জামানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের প্রয়াত সিনিয়র সাংবাদিক ও কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল্লাহ বাশারের পিতা খোন্দকার শামসুজ্জামানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পৌর শহরের কলেজ বাসস্ট্যান্ড এলাকার পৌর বাস টার্মিনালে কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এ দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

খোন্দকার শামসুজ্জামান ছিলেন প্রেসক্লাব কোটচাঁদপুরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দৈনিক মিল্লত পত্রিকার নিজস্ব সংবাদদাতা। তিনি সৎ, আদর্শবান ও গুণী সাংবাদিক হিসেবে সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

আলোচনা সভায় প্রয়াত শামসুজ্জামানের কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক ও তাঁর গুণাবলি তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন অতিথিরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামী’র সাবেক সেক্রেটারি প্রভাষক শরিফুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামী’র পৌর আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, খোন্দকার শওকত হোসেন, সাবেক থানা ছাত্রশিবির সভাপতি আনাছ উদ্দিন, বর্তমান ছাত্রশিবির সভাপতি হাফেজ মুজাহিদুল ইসলাম, গেলাম মর্তুজা, রহিম, জসিম উদ্দিনসহ গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

আলোচনা সভা শেষে মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।




দর্শনায় বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত, আতঙ্কে পৌরবাসী

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌর শহরের বিভিন্ন মহল্লায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। এতে পথচারী, শিশু ও প্রবীণরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কুকুর প্রায়ই রাস্তায় হাঁটাচলা করা মানুষকে তাড়া করছে, এমনকি কামড়ানোর ঘটনাও ঘটছে। সম্প্রতি শহরের রেলবাজার, মুজিবনগর রোড, কলেজপাড়া, পুরাতন বাজার ও বাসস্ট্যান্ড এলাকাসহ বিভিন্ন মহল্লায় বেশ কয়েকজন পথচারী ও গবাদিপশু (গরু-ছাগল) কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

পৌরবাসীর দাবি, দ্রুত পৌরসভার পক্ষ থেকে এসব বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও টিকাদান (ভ্যাকসিন) কার্যক্রম শুরু করা প্রয়োজন। নইলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে দর্শনা পৌরসভার সচেতন নাগরিকরা বলেন, প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকায় কুকুরের উৎপাত দেখা যাচ্ছে। পৌরসভার উচিত দ্রুত ভ্যাকসিন ও নির্বীজন কার্যক্রম শুরু করা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, যাতে বেওয়ারিশ কুকুরের ভয় থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি পেতে পারে।




মেহেরপুর রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন

মেহেরপুর রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডিন্ট পদে আল আমিন ইসলাম বকুল ও সেক্রেটারি পদে অ্যাড. মারুফ আহমেদ বিজন জয়লাভ করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার মেহেরপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সকাল ১১ টা থেকে বিরতীহীন ভাবে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। ভোটগণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ও মেহেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. নজরুল কবির ফলাফল ঘোষণা করেন।
ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে আল আমিন ইসলাম বকুল ২৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী অ্যাড. নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ১০৫ ভোট। সেক্রেটারি পদে অ্যাড. মারুফ আহমেদ বিজন ২৫৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, তাঁর প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী কাজী মিজান মেনন পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

বিজয়ী অন্যান্যদের মধ্যে নির্বাহী সদস্য নুর রহমান ২২১ ভোট, একেএম আনোয়ারুল হক কালু ২৫৩ ভোট, মাজাহারুল ইসলাম ২০৯ ভোট , মো: নজরুল ইসলাম ১৭৭ ভোট এবং সোহেল রানা ১৯৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছে।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আশাদুল ইসলাম ও আবু তালেব দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচনে ৭টি পদে ১৪ জন প্রতিদ্বন্দীতা করেন।




আরেকবার ধানের শীষে ভোট দিন, এলাকার উন্নয়নে কাজ করব

মেহেরপুর-২ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেন বলেছেন, “আপনারা আমাকে নিজের সন্তান মনে করে আকালের আমলে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে এমপি বানিয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগের সেই আমলে আমাকে দু’টা গম আর জেলা পরিষদের সামান্য বরাদ্দ ছাড়া কিছুই দেয়নি। তারপরও আমি আমার বরাদ্দকৃত সেই সামান্য অর্থ দিয়ে আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। আমি জানি, আপনারা এখনো আমাকে সন্তান হিসেবে ভালোবাসেন। সেই ভালোবাসা দিয়ে এবারও ধানের শীষে ভোট দিয়ে এই আসনটি বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের হাতে তুলে দেবেন। আমি নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নে নিজেকে সেবক হিসেবে আপনাদের পাশে রাখব।”

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে গণসংযোগকালে জনতার উদ্দেশ্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

সেই সময় তিনি গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ করেন। এর আগে তেঁতুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোরাদ আলী, বামন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আমিরুল ইসলাম, মেহেরপুর জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান গাড্ডু, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মিজানুর রহমান, গাংনী উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি সাজেদুর রহমান বুলবুল, তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর আলম, কাথুলী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি, গাংনী পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান বাবলু, পৌর জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সুরেলী আলভী, বিএনপি নেতা আবু সাদাত মো. সায়ম পল্টু, কাথুলী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান হোসাইন, বিএনপি নেতা আবদুস সাত্তার, গাংনী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাজমুল হোসেন, গাংনী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল হান্নান, জেলা যুবদলের সদস্য ফারুক হোসেনসহ বিএনপির নারী নেত্রী ও স্থানীয় বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

পথসভা শেষে বিশাল বহরের একটি মিছিল তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচির লিফলেট বিতরণ, ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা ও কুশল বিনিময় করেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। গণসমাবেশ ও মিছিলে বিপুল সংখ্যক নারী কর্মীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

সমাবেশে সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন আরও বলেন, “ছাত্র বয়স থেকে আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক। ছাত্র জীবন থেকে ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিয়েছি, যুবদলের নেতৃত্ব দিয়েছি। দীর্ঘদিন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। বিগত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মেহেরপুর ও গাংনীর নির্যাতিত-নিপীড়িত নেতাকর্মীদের আপদে-বিপদে পাশে থেকেছি।”

এদিকে বিএনপি প্রার্থী আমজাদ হোসেনের গণসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু।

তিনি অভিযোগ করেন, এলাকার এক ক্যাসিনো ব্যবসায়ীর টাকায় ধানের শীষের প্রার্থীকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে গাঁড়াবাড়িয়া গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন পলাশ নামের এক অনলাইন জুয়াড়ি। কয়েক মাস আগে ঘোষিত বিএনপির নতুন কমিটি থেকে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। সেই সুযোগে কিছু অনলাইন ক্যাসিনো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে জাভেদ মাসুদ মিল্টনের অনুসারীরা বিক্ষোভ ও মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে কর্মসূচি চালাচ্ছেন।

তিনি বলেন, “গাঁড়াবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন পলাশ ঢাকায় আওয়ামী লীগ, মেহেরপুরে জামায়াতের সমর্থক আর গাঁড়াবাড়িয়ায় বিএনপির পরিচয় দেয় এবং মিল্টন সাহেবের সঙ্গে চলাচল করে। ক্যাসিনো সম্রাটরা মিল্টন সাহেবকে টাকা দিয়ে আমজাদ সাহেবের নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসবের দাঁতভাঙা জবাব আমাদের সবাইকে দিতে হবে।”

সাংবাদিকদের উদ্দেশে আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, “আমজাদ সাহেব সৎ ও যোগ্য নেতা, তাকে নিয়ে অপসংবাদিকতা করবেন না।”

গণমিছিল ও পথসভায় তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের প্রবীণ বিএনপি নেতাকর্মী, তরুণ ভোটার ও বিপুল সংখ্যক নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিল।




আলমডাঙ্গায় ভাংবাড়িয়া ইউনিয়ন ওলামা দলের কমিটি গঠন

আলমডাঙ্গা উপজেলা ভাংবাড়িয়া ইউনিয়ন ওলামা দলের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার সময় ভাংবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে উৎসবমুখর পরিবেশে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট ইউনিয়ন কমিটি গঠন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি টিপু সুলতান। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মাওলানা মোঃ আনোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি কাজী আবুল হাসনাত।

প্রধান অতিথির অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যে মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দল শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি ইসলাম, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা একটি শক্তি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভাংবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতাউল হুদা,

আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি সানোয়ার হোসেন লাড্ডু, চুয়াডাঙ্গা জেলা ওলামা দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া স্বপন, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু হুরাইরা, সিনিয়র সহ-সভাপতি আল মামুন হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাহ কলম, সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজা হোসেন ও আবু মুসা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক।

ভাংবাড়িয়া ইউনিয়ন ওলামা দলের নবগঠিত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন সভাপতি মোঃ সবোদ আলী,সাধারণ সম্পাদক আবু নছর, সহ-সভাপতি মজিবুল ইসলাম, সহ-সভাপতি আলিম বিশ্বাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল উদ্দিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলামিন হোসেন।




নির্বাচনের আগে সরকারকে গণভোট দিতেই হবে

মেহেরপুরে অনুষ্ঠিত জেলা রোকন সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন বলেছেন, নির্বাচনের আগে সরকারকে গণভোট দিতেই হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার সময় মেহেরপুর শহরের পশুহাটসংলগ্ন চুয়াডাঙ্গা রোডে জেলা জামায়াতে ইসলামীর অফিসে এ রোকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর (১) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির তাজউদ্দিন খান। প্রধান আলোচক ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আলমগীর বিশ্বাস, যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল টিম সদস্য, গাংনী (২) আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা কর্মপরিষদ ও শুরা কমিটির সদস্য নাজমুল হুদা, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুল আলম, জেলা সেক্রেটারি মো. ইকবাল হোসাইন, জেলা রাজনৈতিক সেক্রেটারি কাজী মাওলানা রুহুল আমিন, সদর উপজেলা আমির সোহেল রানা, মুজিবনগর উপজেলা আমির মাওলানা খানজাহান আলী, গাংনী উপজেলা আমির ডা. রবিউল ইসলাম, সদর উপজেলা সেক্রেটারি মাস্টার জাব্বারুল ইসলাম এবং মুজিবনগর উপজেলা সেক্রেটারি মো. খাইরুল বাশ।

সম্মেলনে জেলা জামায়াতের রোকন সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




ঝিনাইদহে আ’লীগের লকডাউনের প্রতিবাদে শেখ মুজিবের ম্যুরাল গুড়িয়ে দিল ছাত্র জনতা

আওয়ামী লীগের ডাকা লকডাউনের প্রতিবাদে ঝিনাইদহে শেখ মুজিবের ‘এক তর্জনি’ বিশিষ্ট ম্যুরালটি বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দিল ছাত্র জনতা। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে ঝিনাইদহ শহরের সাবেক মুজিব চত্বরে স্থাপিত ‘এই ম্যুরালটি’ গুড়িয়ে দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আওয়ামী লীগের ডাকা লকডাউনের প্রতিবাদে সকাল ১০টার দিকে ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্র আন্দোলন শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিল শেষে চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শহীদ মিনারের সামনে বর্তমান স্বাধীনতা চত্বরে অবস্থিত শেখ মুজিবুর রহমানের ‘এক তর্জনি’ স্তম্ভটি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়।

এর আগে গত বছরের জুলাই বিপ্লব চলাকালে ৫ আগস্ট ‘এক তর্জনি’ ম্যুরালটি ভাঙচুর করা হলেও কিছু অংশ অবশিষ্ট ছিল। সেই অবশিষ্ট অংশ বৃহস্পতিবার সকালে বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা।

বিষয়টি নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্য সচিব সাইদুর রহমান বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ অবৈধভাবে ক্ষমতা ধরে রাখতে অতীতে অগ্নিসংযোগ করে মানুষ হত্যা করেছে। এখনো তারা সেই কাজটিই করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাজার হাজার মানুষকে আওয়ামী লীগ ও হাসিনা পঙ্গু করে দিয়েছে। দেড় হাজারের বেশি ছাত্র জনতাকে হত্যা করেছে। আজও শহিদদের রক্তে রাজপথ ভেজা। কিন্তু আওয়ামী লীগ হায়েনার মতো আবারও অগ্নিসন্ত্রাসে মেতে উঠেছে। যে কারণে, ছাত্র জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে বাকশালের জনক শেখ মুজিবের স্তম্ভটি গুড়িয়ে দিয়েছে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা ম্যুরালটি ভেঙে দিয়েছে। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।