দামুড়হুদায় প্রবীণ ও দুর্যোগকালীন পুষ্টি বিষয়ক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে প্রবীণ পুষ্টি ও দুর্যোগকালীন পুষ্টি বিষয়ক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। “পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়ব স্বনির্ভর বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মিলনায়তনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি ইনস্টিটিউটের আয়োজনে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও স্বাগত বক্তব্য প্রদান করা হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রবীণদের শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্য রক্ষায় পুষ্টিকর খাবার, বিশেষ করে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজে প্রবীণদের যথাযথ সম্মান, যত্ন ও সহনশীল আচরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, কোনো প্রবীণ ব্যক্তি যেন খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে কষ্ট না পান, সে বিষয়ে পরিবার ও সমাজের সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দুর্যোগকালীন সময়ে শিশু থেকে প্রবীণ সকলের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য সংগ্রহ ও সুষম বণ্টন নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এমওডিসি ডা. আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আরএমও ডা. মহিব্বুল্লাহ, মেডিকেল অফিসার ডা. রোখসানা খাতুন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা লীলিমা আক্তার হ্যাপী, সমাজসেবা কর্মকর্তা তোফাজ্জেল হক, সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হোসনী মোবারক, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, দামুড়হুদা বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল বাবু, দর্শনা থানা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খাজা আবুল হাসনাতসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রবীণ ব্যক্তিবর্গ।




দামুড়হুদায় ভুয়া পশু চিকিৎসকের ১০ হাজার টাকা জরিমানা

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় ভুয়া পশু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের ডুগডুগি বাজারে হোসেন ফার্মেসির সামনে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহীন আলম।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, জয়রামপুর হাজীপাড়ার মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে উবায়দুর রহমান রুনু দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে পশু চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে অবৈধভাবে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। তিনি ভিজিটিং কার্ডে নিজেকে “পশু চিকিৎসক” উল্লেখ করে বিভিন্ন এলাকায় নির্বিঘ্নে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

এ অপরাধে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল আইন, ২০১৯ অনুযায়ী তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, তার অপচিকিৎসার কারণে ইতোমধ্যে বেশ কিছু গরু-ছাগলের মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার নজরে এলে তার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নীলিমা আক্তার হ্যাপী সহযোগিতা করেন। এ সময় অভিযুক্তকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।

স্থানীয় সচেতন মহল এ ধরনের অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন।




আলমডাঙ্গায় নকল ভুট্টাবীজ বিক্রয়, বিঘাপ্রতি ৮ হাজার টাকা জরিমানা

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নকল ভুট্টাবীজ ব্যবহারের কারণে ফলন বিপর্যয়ের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বীজ কোম্পানি, ডিলার ও সাব-ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে বিঘাপ্রতি ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর ও শ্রীরামপুর এলাকায় প্রায় ৮৬০ বিঘা জমিতে ‘নসিব’ ও ‘প্রাইম’ জাতের ভুট্টাবীজ ব্যবহার করে চাষ করেন কৃষকরা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায়, প্রত্যাশিত ফলন হয়নি। ভুট্টার মোচা ছোট ও দানাহীন হওয়ায় হতাশায় পড়েন কৃষকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গা সাদা ব্রিজ এলাকার কাছারি বাজার সংলগ্ন ‘কৃষি পল্লি সীড স্টোর’ এর মালিক নাজমুল হুদা রাব্বি উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ১৪ জন সাব-ডিলারের মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৫৮০ কেজি নকল বীজ বিক্রি করেন। ওই বীজ ব্যবহার করে কৃষকরা বিপুল পরিমাণ জমিতে আবাদ করেন।

বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ সরেজমিনে ক্ষেত পরিদর্শন করেন।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বীজ কোম্পানি, ডিলার ও সাব-ডিলারদের উপস্থিতিতে মোট ৪৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়, যা বিঘাপ্রতি ৮ হাজার টাকা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, “তদন্তে নকল বীজের কারণে ফলন বিপর্যয়ের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানা আদায় করা হয়েছে।”

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা রোধে কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।




দামুড়হুদায় দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা সদরের ফাস্ট মাল্টিমিডিয়া নামের একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পিতা রকিবুল ইসলাম (রিপন) অভিযোগে জানান, তার ছেলে রাহাত হুসাইন (১২) গুলশান পাড়ার ফাস্ট মাল্টিমিডিয়া স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল মুকিত (৩০) ও হুমায়ন (২৮) দীর্ঘদিন ধরে তার ছেলেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সামান্য কারণ বা বিনা কারণেই শিক্ষার্থীর কান ধরে টানা, চুল টেনে ধরা, শরীরে চিমটি কাটা, এমনকি মাথায় আঘাত করার মতো অমানবিক আচরণ করা হতো। প্রায় ১৫ দিন আগে মারধরের এক ঘটনায় শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসা নিতে হয়।

পরিবারের দাবি, বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ করার পর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

সর্বশেষ গত ২৬ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চুল ধরে টেনে মাথা নিচু করে পায়ের মাঝে ঢুকিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে শিশুটির পিঠ, কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।

এ ঘটনার পর অভিভাবক প্রতিবাদ জানাতে গেলে অভিযুক্ত শিক্ষকরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারমুখী আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি “ছেলেকে মেরেছি, যা পারিস করে নে” বলে হুমকি দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও শিক্ষার্থী মারধরের অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে ফাস্ট মাল্টিমিডিয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না, আমাকে কেউ কিছু বলেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উবায়দুর রহমান সাহেল বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। শিশুটিকে দেখেছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। সচেতন মহলও দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।




গাংনীতে মবেল কিনলেই ট্যাংকভর্তি তেলের অফার, পাম্প মালিকে জরিমানা

মবেল (ইঞ্জিন অয়েল) কিনলেই ট্যাংকভর্তি পেট্রোল বা অকটেন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তেল বিক্রির অভিযোগে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার একটি ফিলিং স্টেশন মালিককে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বামন্দী কিবরিয়া ফিলিং স্টেশনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় পাম্প মালিক গোলাম কিবরিয়ার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক লিটার মবেল কিনলে ট্যাংকি ফুল তেল এমন আকর্ষণীয় অফার দিয়ে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি করা হচ্ছিল। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে।

পরে গাংনী উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, এ ধরনের অফার মূলত ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করা এবং প্রচলিত আইন লঙ্ঘনের শামিল। তাই এ অপরাধে পাম্প মালিকের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, জনস্বার্থে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।




মেহেরপুরে মাদক মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মেহেরপুরে মাদক মামলায় রানা আহমেদ (২৬) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ মো. গোলাম কবির এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার অপর দুই আসামি সাইফুল ইসলাম ও রুহুল আমিনকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।

দণ্ডিত রানা আহমেদ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ছাতিয়ান হাওড়াপাড়া গ্রামের হামিদুল হকের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৯ এপ্রিল রাত দেড়টার দিকে গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা সেন্টারবাজার এলাকায় একটি ড্রাম ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে ৬৩৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ রানা আহমেদকে আটক করে পুলিশ। এ সময় ট্রাক থেকে অপর দুই আসামি সাইফুল ইসলাম ও রুহুল আমিন পালিয়ে যায়।

পরদিন তিনজনকে আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গাংনী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার প্রাথমিক তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা গাংনী থানার এসআই আব্দুল হক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার নথিপত্র পর্যবেক্ষণ, শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত রানা আহমেদকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন। একইসঙ্গে অপর দুই আসামিকে খালাস প্রদান করা হয়।মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষে রানা আহমেদের পক্ষে অ্যাডভোকেট কে এম নুরুল হাসান রঞ্জু, সাইফুল ইসলামের পক্ষে অ্যাডভোকেট এস এম আমানুল্লাহ আল আমান ও রুহুল আমিনের পক্ষে অ্যাডভোকেট আতাউল হক আইনজীবীর দায়িত্ব পালন করেন।




মেহেরপুরে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত

জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে মেহেরপুরে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা ও দায়রা জজ মো. গোলাম কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ, পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক মো. কেরামত আলী, শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক, পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম শাখাপি ইবনে সাজ্জাদ, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার লাবনী সুলতানা, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মারুফ আহমেদ বিজন, সুবিধাভোগী বেগম আলিয়া খাতুন ও শাকিল আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিনিয়র সহকারী জজ (সদর) মো. মাসুদ রানা।

এর আগে দিবসটি উপলক্ষে সকালে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। জেলা ও দায়রা জজ মো. গোলাম কবিরের নেতৃত্বে র‍্যালিটি আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়।

পরে শান্তির প্রতীক হিসেবে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে দিবসের উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে আইনজীবী প্যানেলের সদস্য এ কে এম জিল্লুর রহমান ও রুত সোভা মণ্ডলকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।




গাংনীতে পরীক্ষা কেন্দ্রে স্মার্টফোন রাখায় পরিদর্শক শিক্ষক বহিষ্কার

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে পকেটে স্মার্টফোন রাখার দায়ে এক পরিদর্শক শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) গাংনী উপজেলার বামন্দী নিশিপুর স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

কেন্দ্রের সচিব সাজ্জাদুল আনাম স্বপন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের ১০২ নম্বর কক্ষে দায়িত্ব পালন করছিলেন গাংনী উপজেলার ভাটপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আরিফ হোসেন (ইসলাম ধর্ম)।

পরিদর্শনের সময় তার পকেটে স্মার্টফোন থাকার বিষয়টি নজরে আসে। এ বিষয়ে তাকে অবহিত করা হলে তিনি মোবাইল ফোন সঙ্গে থাকার কথা স্বীকার করেন।

পরবর্তীতে তার কাছ থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় এবং তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে তাকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে নেওয়া হয়।

কেন্দ্র সচিব আরও জানান, বিষয়টি লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




কালীগঞ্জে সাপের কামড়ে যুবকের মৃত্যু

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিষধর সাপের কামড়ে ইমরান হোসেন (২৭) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার ত্রিলোচনপুর গ্রামের খালেক বিশ্বাসের ছেলে। সোমবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।

স্বজনরা জানায়, রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে ঘর থেকে বাইরে বের হন ইমরান। এ সময় একটি বিষধর সাপ তার ডান পায়ে ছোবল দেয়।

সঙ্গে সঙ্গে তিনি চিৎকার করলে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সেখানে প্রয়োজনীয় এন্টিভেনম না থাকায় চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।

তবে সেখানে নেওয়ার পর রাত প্রায় ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মৃত’র মামা খলিলুর রহমান জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের কারণে বাইরে বের হলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুত চিকিৎসার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।




ঝিনাইদহে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উদযাপন

‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির আয়োজনে মঙ্গলবার সকালে আদালত চত্বর বেলুন উড়িয়ে ও পায়রা অবমুক্ত করে দিবসটি উদ্বোধন করা হয়। পরে সেখান থেকে একটি র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে আদালতের সম্মেলন কক্ষে হয় আলোচনা সভা।

জেলা জজ ও জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান এমরান হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম নবী, অতিরিক্ত জেলা জজ হেলাল উদ্দিন, গৌতম কুমার ঘোষ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কাজী একরামুল হক আলম, সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটনসহ অন্যান্যরা।

সরকারি আইনগত সহায়তা মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে বক্তারা অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে এ সেবা নিতে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।