গ্রামের অতীত স্মৃতি

বিধাতা বানাতে চায় উদার প্রকৃতি বন-বনান্তর গাছ-পালা মানুষ। আর মানুষ বানাতে চায় স্বর্গ পাথর নির্মিত প্রসাদ নাম দেয় শহর। সেখানে কি পায় তারা? বরং হারায় বেশি। কথা গুলো আমার নয়।

বয়সে প্রবীণ এক দাদার কাছে জানতে চেয়েছিলাম গ্রামের অতীত কথা। চরম এক ভাবাবেগে তিনি একটানে বলেছিলেন কথা গুলো এবং এ নিয়ে তিনি আরো যে স্মৃতিচারণ করেছিলেন তাইই আপনাদের কাছে জানাবার প্রয়াস পাচ্ছি। তিনি বলেছিলেন গ্রামের দিগন্ত বিস্তৃত মাঠের কথা, আমগাছ, জামগাছ, তাল-তরমুজ, সরষে ক্ষেতের রূপের কথা। সবুজ শ্যামলীময় ঘেরা হাজার-খানেক মানুষের বসতীর কথা। মুক্ত আকাশ সতেজ হাওয়া গ্রামবসীর সহজ-সরল অনাড়ম্বর জীবন-যাপনের কথা। নানামুখি এবং নানাবিধ উৎসব অনুষ্ঠান যা ছিল গ্রামের সুখ সমৃদ্ধির একান্ত উপমা। বর্ণনা করেছিলেন পাশেই বয়ে চলা নদীর কথা যা গ্রমের রূপ মাধুর্য্যকে আরো বর্ধিত করেছিল। আমিও সেই রূপ বর্ণনার সাথে মনের মাধুরী মিশিয়ে এক ঝলক কল্পনা করে নিয়েছিলাম পল্লী কবি জসিম উদ্দীনের ‘নিমন্ত্রণ’ কবিতার দুটি লাইন-
“তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে আমাদের ছোট গাঁয়
গাছের ছায়ায় লতায়-পাতায় উদাসী বনের বায়”

সে সবই আজ যেন কিংবদন্তী। সেদিনের সে সুখ-সমৃদ্ধি আজ ম্লান হয়ে পড়ে আছে স্মৃতির পাতায়। দিন যায় মাস পেরিয়ে বছর এমনি করে বদল হয় যুগের। বৃদ্ধি পায় মানুষ বুদ্ধি আসে মাথায় প্রয়োজন পড়ে উন্নতির । সে প্রয়োজনকে ভূয়সী মান্যতায় ভূষিত করা হয় ‘পল্লী উন্নয়ন অবকাঠামো’ নামে। আসে প্রগতি সে আশির্বাদে পুষ্ট হয় কৃষি বিপ্লব, শিল্প বিপ্লব। আসে কৃষি যন্ত্রপাতি সেচ সার কীটনাশক। আর ধীরে ধীরে উপেক্ষিত হতে থাকে উদার প্রকৃতি। বিশেষজ্ঞরা সমীক্ষা চালিয়ে বলেন সার সংক্ষেপ, দেখান উন্নয়নের সাথে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক যোগাযোগের । তাতে বানাতে হয় রাস্তা,কালভাট, ব্রীজ ।

বিদ্যুৎ এর নিয়ন আলোয় আলোকিত হয় রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, উপাসনলয়। তাতে নির্বিচারে নিধন হতে থাকে ছোট বড় বহু বৃক্ষ। পাখিরা হারায় তাদের আজীবনের আবাস। নষ্ট হয় ফসলি জমি, দুষ্ট হয় নদীর পানি, কোমল বাতাস। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা ভৈরব কোন মানুষ কিংবা দেবতার নাম নয় বরং সে একটি নদীর নাম। যার তীরে গড়ে ওঠা অনেক গ্রামরে মধ্যে মোনাখালী একটি গ্রাম যেখানে আমার জন্ম আমার বসবাস। তাই এ নদীর সাথে আমার মিতালী আজন্মের। ছেলেবেলা দুকুল ছাপিয়ে যেত পানিতে তখন নদীর তীরের মানুষ আনন্দে আয়োজন করতো নৌকা বাঁইচের। রঙ বেরঙের সাজানো নৌকোগুলো চলতো নদীর বুক চিরে মাঝি মাল্লাদের হেইও রব এক মাতাল আনন্দে পূর্ণ করত দর্শনার্থীদের। সহস্র অযুত মানুষের ভীড় ঠেলে পৌছে যেতাম নদীর কিনারে। হয়তো কারো হাত ধ’রে দাড়িয়ে থেকে দেখেছি সে অপরূপ দৃশ্য। সে সময় এ নদীর উপর, কোনো ব্রীজ ছিলোনা। ছিল ‘খেয়াঘাট, পারাপারের জন্য থাকতো ছোট বড় নৌকো। ছাদের আলী, খোদাবক্সো, মকবুল শেখ এমন অনেক নাম না জানা খেয়া পারের মাঝি, তারা পার করতো এপার ওপার। এরা জীবিকার জন্য কাজ করতো। জীবিকার জন্য অনেক জেলেরা এ নদীতে মাছ ধরেই কাটাতো দিন। নদী পাড়ের এসব মানুষ গুলোর কাছে নদী ছিল অন্তঃপ্রাণ।

কিন্তু বিবর্তনের প্রকৃতি তার স্বভাবসিদ্ধ নিয়মে রঙ বদলের মতো বদল করলো সেসব মানুষের তুষ্ট গৃহস্থালী, বদলে দিল অনেক কিছুকে। নাকি এ বিবর্তনের জন্য মানুষই দায়ী কে জানে। তাই এ প্রসঙ্গ পাশে রেখে আমার দেহমন মানষিকতার উন্নয়নের সাথে সাথে অবলোকন করেছি আমাদের চিরচেনা অন্তঃপ্রাণ নদীটি যেন রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লো। ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকলো তার জৌলুস। মূলত নদীটির উৎসস্থল ভারতের ‘জলঙ্গী’ নদী যা গঙ্গার কোনো শাখা। সেসময় জানা গিয়েছিলো ভারতে গঙ্গার উপর ‘ফারাক্কা’ নামক বাধের কথা। হয়তোবা সে কারণেই বাংলাদেশের অনেক নদীই স্রোতহীন শ্রীহীন হয়ে পড়ে এবং কিছু বছরের ব্যবধানে ভৈরবের পানি শুন্যের কোঠায় চলে আসে। একে একে শেষ হয়ে যায় ছাদের আলী, খোদাবক্সো, মকবুল মাঝির প্রয়োজন। শেষ হয় জেলেদের জীবিকার গল্প। এক পর্যায়ে বাংলাদেশ সরকার নদীটি খননের কাজ হতে নেয় এবং অনেক অর্থের বিনিময়ে খননের কাজও শেষ হয়। তাতে পানির উপস্থিতি কিছুটা হলেও লক্ষ্য করা যায় কিন্তু প্রকৃতির পাগলামীতে যে নদীর সৃষ্টি হয়েছিলো কোনো অতীতে সেই প্রকৃত উচ্ছাস আর চোখে পড়েনি। স্রোতহীন নিথর দেহ নিয়ে ভৈরবের বুকে এখন শুধুই দীর্ঘশ্বাস।

আমি আমার শিশু-শৈশব কাল থেকে এ অবধি গ্রামে হিন্দু-মুসলিম দু-ধরনের সম্প্রদায়ের লোকজনকে একত্রে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে দেখেছি। এদের মধ্যে কোনো সাম্প্রদায়িক ঝামেলা প্রকট হতে দেখিনি। তবে গ্রামটির নামকরণের বিষয়ে অনেকখানি গোলমেলে মনে হয়। বিশেষ সূত্রে জানা যায় মোনাখালীর উত্তরপাড়ার প্রাচীন প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দক্ষিণপাড়ার পূজা মন্দিরের গাত্র ফলকে গ্রামের নাম হরেকেষ্ট পুর লেখা ছিল।

পরবর্তীতে পুরোনো আমলের অনেক কাগজ পত্রাদিতেও নাকি ‘মনিখালি’ নাম অভিহিত হতে দেখা যায়। অনেকে মনে করেন ‘মনিখালি’ নামের অপভ্রংশের কারণেই হয়তোবা মোনাখালীতে রূপ নিতে পারে। প্রশ্ন জাগে, হিন্দু সম্প্রদায়ের কোনো এক ইষ্ট দেবতার নাম ‘হরেকেষ্ট’ কে অতিক্রম করে কিভাবে মনিখালিতে রুপ নিয়েছিলো উত্তর পাইনি দাদার কাছেও। প্রশ্ন রইলো সময়ের কাছে। যদি জানা যায় ভবিষ্যতে কোনোদিন জানাবার প্রত্যাশা রইলো।

লেখকঃ কবি ও সাহিত্যিক




ঝিনাইদহে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

ঝিনাইদহের মহেশপুরে এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে মহেশপুরের বাগদিয়া ও সামন্তা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মহেশপুরের বাগদিয়া গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে হযরত আলী (১৮) ও সামন্তা চারাতলা পাড়ার আনোয়ার হোসেনের ছেলে আসের আলী ওরফে রাজু (১৯)।

জানা গেছে, গত ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় ওই স্কুলছাত্রী পাশের বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিল। পথিমধ্যে সামন্তা-বাগদিয়া গ্রামের রাস্তার ওপর থেকে দুই যুবক তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় পাশের একটি ফসলি খেতে। সে সময় আরও দুই যুবক তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। পরে ওই স্কুলছাত্রীর হাত বেঁধে ও মুখ চেপে ধরে তারা পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করে শাওন নামের এক যুবক। ঘটনাটি কাউকে জানালে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে ওই স্কুলছাত্রীকে ভয় দেখানো হয়।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় ওই স্কুলছাত্রীর ফুফু বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পরে পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে।




দামুড়হুদায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার

বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে চুয়াডাঙ্গার দৌলতদিয়ার দক্ষিণপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে দামুড়হুদা মডেল থানায় পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দামুড়হুদা উপজেলার উত্তর চাঁদপুর (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের হারুন অর রশিদ (৪৩) অভিযোগ করেন, তাকে কিরগিজস্তান দেশে নেওয়ার কথা বলে অভিযুক্ত একই গ্রামের আনছার আলী ও তার ছেলে মিলন হোসেন প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করে। পরে তাকে ভ্রমণ ভিসায় বিদেশে নিয়ে গিয়ে কোনো কাজের ব্যবস্থা না করে অবৈধভাবে সেখানে ফেলে রাখা হয়।

ভুক্তভোগী জানান, দীর্ঘদিন প্রবাসে মানবেতর জীবনযাপন শেষে পরিবারের পাঠানো আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করে তিনি দেশে ফিরে আসেন। এতে তার পরিবার প্রায় ৮ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। দেশে ফিরে অভিযুক্তদের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তারা নানা টালবাহানা শুরু করে এবং একপর্যায়ে তাকে হুমকি-ধামকি দেয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা আদালতে মামলা দায়ের হলে আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর থেকে আসামি পলাতক ছিল।

পরবর্তীতে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ, চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে তাকে দৌলতদিয়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি শুধু সাধারণ মানুষের সঙ্গেই নয়, নিজের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গেও প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একসময় তিনি ফায়ার সার্ভিসে চাকরি করলেও পরবর্তীতে তা ছেড়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ উপার্জনে জড়িয়ে পড়েন বলে এলাকাবাসীর দাবি। এছাড়াও, অভিযুক্তরা এ ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে আরও একাধিক ব্যক্তিকে বিদেশে নিয়ে গিয়ে বিপদে ফেলেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল এবং তার বিরুদ্ধে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলায় প্রতারণার একাধিক মামলা রয়েছে। তার নামে অন্তত তিনটি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে, যা ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৫ সালে দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে জারি করা হয়।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাকে চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।




হিমালয় কন্যা নেপাল ভ্রমণ

সমুদ্র মনকে প্রশস্ত করে আর পাহাড় আমাদের প্রকৃতির খুব কাছে নিয়ে যেতে পারে। পাহাড়ের নিস্তব্ধতা মনের সব ক্লান্তি দূর করে। এবারের লেখাটি হিমালয় কন্যা নেপাল ভ্রমণ নিয়ে।

আমি আল্লাহর রহমতে জাহাজ নিয়ে ৭০ টির  অধিক দেশে গিয়েছি এবং পৃথিবীর অধিকাংশ সাগর, মহাসাগর পাড়ি দিয়েছি। নেপাল ভ্রমণটি জাহাজ নিয়ে নয় বরং এটি ছিল আমার হানিমুন ট্রিপ। আমার সহধর্মিনীকে নিয়ে নেপাল ভ্রমণে গিয়েছিলাম বিমানে চড়ে। নেপালে কোন সমুদ্র নাই তাই হয়তো এর আগে যাওয়া হয় নাই। আমরা ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে নেপাল ভ্রমণে যাই। ঢাকা থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ত্রিভুবন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট কাঠমান্ডু তে পৌছাই। ফ্লাইটের সময় ছিল প্রায় দুই ঘণ্টার মতো। নেপাল যাওয়ার সুবিধা হল অগ্রিম কোন ভিসার প্রয়োজন না। কাঠমান্ডু এয়ারপোর্টেই অনএ্যারাইভেল ভিসা পাওয়া যায়।

আমরা নেপালে ৭ দিনের ভ্রমণে গিয়েছিলাম। প্রথমে কাঠমান্ডুতে দুইদিন ছিলাম তারপর যাই পোখারা সেখানে ছিলাম তিন দিন। পরে আবার কাঠমান্ডুতে ফিরে আসি তখন আরো দুইদিন ছিলাম কাঠমান্ডুতে। তারপর বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে দেশে ফিরে আসি।

কাঠমান্ডু এয়ারপোর্ট এ নামার পর আমাদের একজন ডাক্তার ভাইয়ের সাথে দেখা হয়। উনিও পরিবার নিয়ে নেপাল ভ্রমণে এসেছিলেন। কথার মাঝেই আমাদের পরিচয় হয়।  আমরা একই হোটেলে উঠেছিলাম এবং একসাথেই প্রায় সব জায়গাতেই ভ্রমণ করেছিলাম। দেশের বাইরে একসাথে ঘুরতে আমাদের ভালই লেগেছিল।

নেপাল ভ্রমণপিপাসুদের জন্য একটি চমৎকার গন্তব্য। এখানকার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে হিমালয় কন্যা,  কাঠমান্ডু দারবার স্কয়ার, পশুপতিনাথ মন্দির,বৌদ্ধনাথ স্তুপ, ভক্তপুর ও নাগর কোর্টের দর্শনীয় স্থান। এছাড়াও রয়েছে  সাগর মাতা  ন্যাশনাল পার্ক, লুম্বিনী, চিতওয়ান ন্যাশনাল পার্ক।

কাঠমান্ডুতে দর্শনীয় স্থানগুলো হল পশুপতিনাথ মন্দির, বৌদ্ধনাথ স্তুপ, কাঠমান্ডু দরবার স্কয়ার ইত্যাদি। আমরা শহরের প্রাণ কেন্দ্রেই একটি হোটেলে ছিলাম এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে বেড়িয়েছি।

কাঠমান্ডু নেপালের রাজধানী এবং বৃহত্তম নগরী যা হিমালয়ের কোলে অবস্থিত। এটি তার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের জন্য পরিচিত। এটি হিমালয় ভ্রমণের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। কাঠমান্ডুর  জনসংখ্যা প্রায় ৫০ লক্ষ। এখানকার ভাষা নেপালি তবে ইংরেজিও প্রচলিত। এখানে বৌদ্ধ এবং হিন্দু ধর্মের মানুষ বসবাস করে।

কাঠমান্ডু দরবার স্কয়ার এ প্রতিদিন প্রচুর দর্শনার্থীর  সমাগম হয়। এই দরবার স্কয়ারটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। কাঠমান্ডু ও দরবার ক্ষেত্রের চার পাশে দর্শনীয় স্থাপত্য কর্মের নিদর্শন রয়েছে। কয়েক শতাব্দী ধরে নির্মিত হয়েছে শিল্পকর্মগুলো। এছাড়াও এখানে বেশ কিছু চতুর্ভুজাকৃতির উঠোন এবং মন্দির রয়েছে। এটি হনুমান ধোকা দরবার ক্ষেত্র নামেও পরিচিত। শিল্পকর্মগুলো সত্যিই খুব নিখুঁত এবং সুন্দর বলে মনে হয়েছে।

পর্যটকদের জন্য অক্টোবর- নভেম্বর এবং মার্চ-এপ্রিল সবচেয়ে ভালো সময়।

কাঠমান্ডুতে অন্যতম কয়েকটি শপিং মলের মধ্যে রয়েছে সিভিল মল, সিটি সেন্টার ইত্যাদি। সিভিলমলে রয়েছে কাপড়ের দোকান,ইলেকট্রনিক্স এবং ফুড কোট। এছাড়া বিভিন্ন রকম ব্র্যান্ডেড জিনিসপত্রের জন্য সিটি সেন্টারটি জনপ্রিয়। এছাড়াও খুচরা  কেনাকাটার জন্য পিপলস প্লাজাটি ভালো। এখানে আন্তর্জাতিক পণ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প পাওয়া যায়। আমরাও ভ্রমণের ফাঁকে ফাঁকে কিছু কিছু শপিং এবং খাওয়া-দাওয়া করেছিলাম।

কাটমান্ডু থেকে পোখারার  দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। যেতে প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘন্টা সময় লাগে। আমরা টুরিস্ট বাসে কাঠমান্ডু থেকে পোখারা গিয়েছিলাম।

কাঠমান্ডু থেকে পোখারার রাস্তা অনেকটা রোমাঞ্চকর অভিযানের মতোই। পাহাড় কেটে কেটে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। যাত্রাপথে সবুজ পাহাড়, মনোরম গ্রাম, এবং ঝরে পড়া জলপ্রপাতসহ চমৎকার দৃশ্য দেখা যায়। রাস্তাটি আঁকাবাঁকা পাহাড় ও পর্বতের মধ্য দিয়ে চলে গেছে যেখান থেকে অন্নপূর্ণা ও ধুলাগিরি সহ হিমালয়ের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়। যেতে যেতে সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়। এছাড়াও যাত্রাপথে পড়ে মনোকামনা মন্দিরসহ ও বেশ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী স্থান যা টুরিস্টদের আকর্ষণ করে। পাহাড়ের উপর থেকে শহর ও গ্রাম গুলোকে খুব সুন্দর দেখা যায়। তবে রাস্তাগুলোতে চলার সময় খুবই সতর্কতা অবলম্বন করার দরকার অন্যথায় বড় রকম বিপদের আশঙ্কা থেকে যায়। তবে ভারী বর্ষণের সময় এইসব রাস্তা দিয়ে চলাচল করা খুবই বিপদজনক কারণ হঠাৎ করে পাহাড়ের কিছু অংশ ভেঙে পড়লে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

পোখারা নেপালের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি পর্যটন কেন্দ্র। এটি কাঠমান্ডু থেকে ২০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। এটি হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত হ্রদ ও পর্বতের অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য পরিচিত, যার মধ্যে  হ্রদ অন্যতম। এটি প্যারাগ্লাইডিং  ও ট্র্যাকিংয়ের জন্য জনপ্রিয়। এছাড়াও পোখারা কে হ্রদের শহর ও বলা হয়। এখানকার প্রধান আকর্ষণ হল সারংকোট। হিমালয়ের সূর্যোদয় ও অন্নপূর্ণা রেঞ্জের প্যানোরামিক দৃশ্য দেখার সেরা স্থান সারংকোট।

আমরা পোখারাতে শহরের মধ্যেই একটি হোটেলে ছিলাম এবং সেখান থেকেই আশেপাশে ভ্রমণ করেছি।

আমরা খুব ভোরবেলায় পাঁচটার দিকে হিমালয়ের চুড়াতে  সূর্যোদয়ের দৃশ্য দেখার জন্য সারাংকোট যেয়ে উপস্থিত হই। পোখারার অদূরে ১৬০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত সারাংকট সূর্যোদয়ের জন্য একটি বিখ্যাত স্থান। এখান থেকেই অন্নপূর্ণা ও ফিশটেইল পার্বত মালার ওপর সূর্যোদয়ের চমৎকার প্যানোরামিক দৃশ্য দেখা যায়। ভোরবেলা হিমালয়ের ছুড়ায় সূর্যের সোনালী আভা পড়ার দৃশ্যটি পর্যটকদের মুগ্ধ করে। প্রচুর পর্যটকের সমাগম দেখলাম সেখানে যে যার মত সৌন্দর্য উপভোগ করছে এবং ছবি তুলছে। মেঘের ওপর থেকে সূর্য ওঠা এবং হিমালয়ের চূড়াগুলো ধীরে ধীরে উজ্জ্বল হয়ে ওঠার দৃশ্য আমাদেরও সত্যিই মুগ্ধ করেছে । এছাড়াও এই পাহাড় থেকে পোখারা শহর ও ফেওয়া লেকের দৃশ্যও মনোরম।

অন্নপূর্ণা এবং মাউন্ট এভারেস্ট হিমালয় পর্বতমালার দুটি অত্যন্ত বিখ্যাত কিন্তু ভিন্নধর্মী শৃঙ্গ। অন্নপূর্ণার উচ্চতা ৮০৯১ মিটার এবং এটি পৃথিবীর দশম উচ্চতম শৃঙ্গ। তবে এটি পৃথিবীর অন্যতম বিপদজনক পর্বত। এভারেস্টে তুলনায় এর মৃত্যুহার অনেক বেশি। মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা ৮৮৪৮.৮৬ মিটার যা পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ। এটি নেপাল ও চীন সীমান্তে অবস্থিত।

এছাড়াও আমরা পোখারাতে ফেওয়া হ্রদ, ডেভিস ফলস এর পাতাল ঝর্ণা এর সৌন্দর্য উপভোগ করেছি। ভ্রমণের মাঝে কখনো কখনো লোকাল খাবার খেয়েছি আবার কখনো কখনো ম্যাকডোনাল্ডস বা কেএফসি খেয়েছি। তুলনামূলকভাবে মনে হয়েছিল খাবারের খরচ সেখানে কিছুটা কম। এছাড়াও আমরা সেখানকার বিভিন্ন রকম লোকাল ফল খেয়েছিলাম যা টেস্টি ছিল।

 পোখারা থেকে আমরা ঐতিহ্যবাহী মনোকামনা মন্দির দেখার জন্য গিয়েছিলাম। পোখারা থেকে মনোকামনা মন্দিরের দূরত্ব ছিল প্রায় একশ কিলোমিটার। আমরা ট্যাক্সি ভাড়া নিয়ে সেখানে গিয়েছিলাম এবং যেতে প্রায় দুই ঘন্টা সময় লেগেছিল। মনোকামনা মন্দিরটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৩০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এটি একটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত মন্দির যেখানে যেতে হলে কেবলকারের  মাধ্যমে যেতে হয়। আমরা কেবলকার স্টেশন থেকে কেবলকারে উঠে স্থানটি দেখতে গিয়েছিলাম। কেবলকারে উঠে হিমালয় পর্বতমালা দেখা যায়।  অনেকেই দেখলাম মুরগি,ছাগলসহ বিভিন্ন উপঢৌকন নিয়ে মন্দিরটিতে গিয়েছে। স্থানীয় লোকজন বিশ্বাস করে দেবী তার ভক্তদের মনোকামনা পূরণ করেন।

 পোখারা প্রাকৃতিক বৈচিত্রের জন্য চমৎকার একটি জায়গা। যেকোনো দর্শনার্থীকেই মুগ্ধ করবে এই শহরটি। পরবর্তীতে আমরা পোখারা থেকে টুরিস্ট বাসে কাঠমান্ডু ফিরে আসি এবং দুইদিন কাঠমান্ডুতে অবস্থান করে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে ঢাকা ফিরে আসি।

তবে নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ বিমানবন্দর হিসাবে পরিচিত যা ভৌগলিক অবস্থান, ঘন কুয়াশা এবং উঁচু পাহাড়ের কারণে চ্যালেঞ্জিং। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৪০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এবং ৮৭০০ ফুট উঁচু পাহাড়ের খুব কাছে হওয়ায় এখানে অবতরণ পাইলটদের জন্য অত্যন্ত সতর্কমূলক কাজ। বিমানবন্দরটি ৪৪০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত যার ফলে এখানে রানওয়ে ছোট মনে হয় এবং বিমান থামানোর জন্য পাইলটদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়। এছাড়াও এখানে সর্বশেষ ২০১৮ সালে এবং অতীতে বেশ কয়েকটি বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাই এই বিমানবন্দরটিকে অনেকেই বিশ্বের অন্যতম বিপদজনক বিমানবন্দর হিসেবে গণ্য করেন।

নেপালের একটি পবিত্র স্থান হল গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান। গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান লুম্বিনী যা বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম নেপালের তেরাই অঞ্চলে অবস্থিত। এই পবিত্র স্থানে রানী মায়াদেবী খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে সিদ্ধার্থ গৌতমকে (গৌতম বুদ্ধ) জন্ম দিয়েছিলেন। এই স্থানটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত। গৌতম বুদ্ধ ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা এবং একজন মহান আধ্যাত্মিক গুরু। তিনি অহিংসা এবং ত্যাগের শিক্ষা দিয়ে বিশ্বব্যাপী মানবতাবাদ প্রতিষ্ঠা করেন।

 

মাস্টার মেরিনার,(এ এফ এন আই) 

এক্স ক্যাডেট, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি চট্টগ্রাম।




কুষ্টিয়ায় এলপিজি গ্যাসে অতিরিক্ত দাম, এক লাখ টাকা জরিমানা

কুষ্টিয়া শহরে এলপিজি গ্যাসে অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বুধবার (১ এপ্রিল) কুষ্টিয়া সদর উপজেলার এন.এস. রোড ও কাটাইখানা মোড় এলাকায় তদারকিমূলক এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মূলত এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রয়কারী দোকানগুলোতে মনিটরিং করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কুষ্টিয়ার সহকারী পরিচালক মোঃ মাসুম আলী। তিনি জানান, “আগামীকাল থেকে গ্যাসের দাম বাড়বে” এমন অজুহাতে বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছিল।

এমন অভিযোগের ভিত্তিতে এন.এস. রোডের আলিফ আখলাক স্টোরের অভিযান চালিয়ে অনিয়ম ধরা পড়ে। প্রতিষ্ঠানটি “আগামীকাল থেকে গ্যাসের দাম বাড়বে” এই অজুহাতে পূর্বে কম দামে (১৩০০-১৩৮০ টাকা) ক্রয় করা ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে, প্রায় ১৮০০ টাকায় বিক্রি করছিল।

এ ঘটনায় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
তিনি আরও জানান, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে এবং ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযানে সহযোগিতা করেন উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশের একটি চৌকস টিম এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১২, কুষ্টিয়া ক্যাম্পের একটি টহল দল।




মেহেরপুর আমঝুপিতে নারীদের মাঝে মউকের সেলাই মেশিন বিতরণ

মেহেরপুরের আমঝুপিতে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও জীবন-জীবিকার উন্নয়নে দরিদ্র অসহায় নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন ও সিট কাপড় বিতরণ করা হয়েছে।

দক্ষতামূলক সেলাই প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন বিতরণের মাধ্যমে জীবন-জীবিকার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বুধবার সকাল ১০টার দিকে মানব উন্নয়ন কেন্দ্রের (মউক) হলরুমে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের সহায়তায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মউক।

মউকের নির্বাহী প্রধান আশাদুজ্জামান সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ খায়রুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ নাসিমা খাতুন এবং উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান।

অনুষ্ঠানে আমঝুপি, বারাদি ও পিরোজপুর ইউনিয়নের ২০ জন দরিদ্র ও অসহায় নারীর মাঝে সেলাই মেশিন ও সিট কাপড় বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথি তাদের হাতে এসব উপকরণ তুলে দেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মানবাধিকার কর্মী সাদ আহমেদ।

বক্তারা বলেন, নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে তারা নিজেরাই আয়-উপার্জনের মাধ্যমে পরিবারে অবদান রাখতে পারবেন এবং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠবেন।




ঝিনাইদহে ভ্যানের ধাক্কায় পথচারী নিহত

ঝিনাইদহে ব্যাটারিচালিত ভ্যানের ধাক্কায় শমসের আলী (৭৫) নামের এক পথচারী বৃদ্ধ নিহত হয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে শহরের আরাপপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শমসের আলী হরিনাকুন্ডু উপজেলার সাবেক বিন্নি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মন্ডলের ছেলে। বর্তমানে তিনি শহরতলী মুরারীদহ গ্রামে ছেলে বাড়িতে থাকতেন।

স্থানীয়রা জানায়, সকালে ছেলের বাড়ি থেকে ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুরে যায় শমসের আলী। আরাপপুর এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি কলাবোঝায় ভ্যান তাকে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

ঝিনাইদহ আরাপপুর হাইওয়ে থানার ওসি মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, নিহতের লাশ সদর হাসপাতালের হিমঘরে রাখা আছে। পরিবার থেকে অভিযোগ দিলে ময়নাতদন্ত করা হবে।




ঝিনাইদহের ২৬ কিলোমিটার সড়কে বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গিকার বাস্তবায়নে ঝিনাইদহে ২৬ কিলোমিটার সড়কে বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার সকালে শৈলকুপা উপজেলার বসন্তপুর এলাকায় এ কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। সেসময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ছাড়াও সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সড়কপথকে সবুজে ঘেরা রাখতে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। শেখপাড়া-লাঙ্গলবাধ সড়কের ২৬কিলোমিটার এলাকায় প্রায় ২ হাজার ৫০০চারা রোপন করা হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, জেলার প্রতিটি সড়কে পর্যায়ক্রমে সৌন্দর্যবর্ধক ও পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ঝিনাইদহ জেলাকে একটি নান্দনিক ও পর্যটন সম্ভাবনাময় জেলায় রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করায় সড়ক ও জনপদ বিভাগকে স্বাগত জানাচ্ছি। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এখন থেকে তারা যে প্রকল্পগুলো গ্রহণ করবে, সেখানে পরিবেশকে অগ্রাধিকার দিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা।




কুষ্টিয়ায় সাব-কন্ট্রাক্টিং তালিকাভুক্তি বিষয়ক অবহিতকরণ সভা

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে সাব-কন্ট্রাক্টিং তালিকাভুক্তি বিষয়ক এক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার সকালে কুষ্টিয়ার বিসিক জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে কার্যালয়ের প্রশিক্ষণ কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় পিপিআর ২০২৫ অনুযায়ী সাব-কন্ট্রাক্টিং সংক্রান্ত বিধিমালা অন্তর্ভুক্তি এবং ওয়ার্ক অর্ডার সার্ভিস (ওএসএস)-এর মাধ্যমে সাব-কন্ট্রাক্টিং তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।

সভায় স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য বড় সুযোগ উল্লেখ করে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের উপ মহাব্যবস্থাপক আশানুজ্জামান মুকুল বলেন, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় দেশীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে সরকার নতুন বিধিমালা চালু করেছে। এর ফলে স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি সরকারি চাহিদা পূরণের সুযোগ পাবে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী এখন থেকে ৫৯টি সরকারি দপ্তরে প্লাস্টিক, সিরামিক ও ধাতব পণ্য সরবরাহ করা যাবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে দেশীয় উৎপাদন বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ক্ষুদ্র শিল্প খাত আরও শক্তিশালী হবে। উদ্যোক্তাদের এখনই প্রস্তুত হয়ে এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

এতে কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধি কাজী রফিকুর রহমান, নাসিব কুষ্টিয়ার প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউনুস খান, সাধারণ সম্পাদক এসএম নুরুন্নবীসহ এবং সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিসিক কুষ্টিয়ার উপ ব্যবস্থাপক সোহেল রানা, বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা সোহাগ আহমেদ, সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাপলা সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।




কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিদ্যুৎষ্পৃষ্ট হয়ে আজমল হোসেন (১৩) নামেষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আজমল হোসেন দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের ফারাকপুর গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের ছেলে এবং সে তারাগুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

নিহত স্কুলছাত্রের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার বিকেলের দিকে নিজ বাড়ির গোসলখানায় গোসল করার জন্য বৈদ্যুতিক মোটরের সুইচ দিতে গিয়ে সে বিদ্যুৎষ্পৃষ্ট হয়। এসময় পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়।

এবিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা এক স্কুলছাত্র চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎষ্পৃষ্ট হয়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা তিনি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ অবহিত করেননি। বিষয়টি জানানো হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।