আলমডাঙ্গায় সরকারি কলেজে বিদায় সংবর্ধনা

আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের দুইজনের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষক মিলনায়তনে বিদায় সম্ভাষণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে সহকারী লাইব্রেরিয়ান মোছাঃ মালেকা পারভিন এবং অফিস সহায়ক মোঃ মজিবর রহমানের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. মাহবুব আলমের সঞ্চালনায় এবং অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল মনয়েম হোসেন, শিক্ষক পরিষদের সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক মহিতুর রহমান, সাবেক প্রদর্শক প্রভাষক মোঃ শরিয়তউল্লাহ, সাবেক কোষাধ্যক্ষ নওসাদউজ্জামান প্রমুখ।

বিদায়ী বক্তব্যে অনুভূতি ব্যক্ত করেন, সহকারী লাইব্রেরিয়ান মোছাঃ মালেকা পারভিন ও অফিস সহায়ক মোঃ মজিবর রহমান।

আলমডাঙ্গার সিনিয়র সাংবাদিক হামিদুল ইসলাম আজমের সহধর্মিণী মালেকা পারভিন বলেন, সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এই কলেজ থেকে আজ অবসরে গেলাম। আর হয়তো দেখা হবেনা প্রিয় শিক্ষক কর্মচারীবৃন্দ, প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা। বাকি জীবন টা যেন সৎ ও সততার সঙ্গে অতিবাহিত করতে পারি সেই দোয়াই করবেন।




দামুড়হুদায় বিএনপির নির্বাচনী জনসভা ও গণমিছিল

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী, জেলা বিএনপি’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর নেতৃত্বে দামুড়হুদায় অনুষ্ঠিত হলো বিশাল নির্বাচনী জনসভা ও গণমিছিল।

হাজার হাজার নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গতকাল সোমবার বিকাল সাড়ে ৪ টার সময় দামুড়হুদা স্টেডিয়াম মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

দুপুরের পর থেকেই দামুড়হুদা উপজেলা শহরে মিছিলের নগরিতে পরিণত হয়। দলীয় স্লোগান, ব্যানার-ফেস্টুন আর উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ। চারদিক থেকে আসা মানুষের ঢলে পুরো দামুড়হুদা উপজেলা উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ নেয়। স্থানীয়দের মতে, অতীতে কখনোই দামুড়হুদায় এত বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম দেখা যায়নি।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, এই জনসমুদ্র প্রমাণ করে দামুড়হুদার মানুষ পরিবর্তন চায়, গণতন্ত্র চায়, ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চায়। দেশের মানুষ আজ দমন-পীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। ইনশাআল্লাহ, জনগণের শক্তিতেই বিজয় অর্জিত হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সবার আগে নারীর ক্ষমতা ও অধিকার নিশ্চিতে কাজ করা হবে। জামায়াতে ইসলাম নারীর যে অধিকারের কথা বলছে তা একদম ভুয়া, কারণ জামায়াত এই নির্বাচনে ৩০০ আসনের একটিতেও নারী নেতৃত্ব দেয়নি এবং কেন্দ্রীয় ভাবে নারী নেতৃত্বে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই। এই নির্বাচনে যার ভোট সে নিজে প্রয়োগ করবে, তাই তিনি বলেন এই জনসমাবেশ থেকে সবাই বাড়ি গিয়ে নিজের মা-বোন নিজের পরিবারের ভোটগুলো আগে নিশ্চিত করতে হবে। কেউ যেন ভুল বুঝিয়ে জান্নাতের টিকিট দেখিয়ে বিভ্রান্ত করতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

জনসভা ও গণমিছিলে উপস্থিত ছিলেন, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাজী মোজাম্মেল হক এর ছেলে মিথুন সহ যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত এ জনসভা ও গণমিছিল ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও নির্বাচনী প্রস্তুতির দৃঢ় প্রত্যয়।




জীবননগরে জামায়াত প্রার্থী রুহুল আমিনের গণমিছিল ও জনসভা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা–২ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামী–সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা আমীর মো. রুহুল আমিনের শেষ নির্বাচনী গণমিছিল ও জনসভা গতকাল সোমবার বিকেলে জীবননগরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিকেল ৪টার দিকে শহরের হাইস্কুল মাঠ থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়ে মুহূর্তেই জনসমুদ্রে রূপ নেয়। দুপুর থেকে উপজেলার আট ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা থেকে জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার–ফেস্টুন, দলীয় প্রতীকের পতাকা ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে মাঠে জড়ো হন। গণমিছিল শুরুর আগে সেখানে আসরের নামাজ আদায় করা হয়। ইমামতি করেন উপজেলা আমীর মাওলানা সাজেদুর রহমান।

হাইস্কুল মাঠ থেকে বের হয়ে গণমিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণের পর জীবননগর স্টেডিয়াম মাঠে সমাবেশে পরিণত হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রার্থী রুহুল আমিন বলেন, “রাজনীতির উদ্দেশ্য ক্ষমতা নয়—জনগণের সেবা। মানুষের অধিকার রক্ষা, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই আমার অঙ্গীকার। নির্বাচিত হলে শিক্ষা, কৃষি, উন্নয়ন ও যুবসমাজের কর্মসংস্থানে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”

তিনি দলমত–নির্বিশেষে শান্তি–শৃঙ্খলাভিত্তিক সমাজ গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা আমীর মাওলানা সাজেদুর রহমান।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন— বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম শাহজাহান কবির, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদউদ্দীন, এনসিপির জেলা সভাপতি খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লব, জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি সাগর আহমেদ, খেলাফত মজলিশের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা জোবায়ের আহম্মদ খান, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মহিউদ্দিন, মাওলানা ইসরাইল হোসেন, মাওলানা হাফিজুর রহমান, নায়েবে আমীর বিল্লাল হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা সেক্রেটারি মাফুজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি মাজেদুর রহমান লিটন, শ্রমিক কল্যাণের সভাপতি কামাল হোসেন প্রমুখ।

নির্বাচনকে ঘিরে জীবননগর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।




আলমডাঙ্গায় জামায়াতের নির্বাচনী জনসভায় গণজোয়ার

আলমডাঙ্গায় জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের বিশাল জনসভায় ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জোরালো অঙ্গিকার নিয়ে, দুর্নীতি ও বৈষম্যহীন চুয়াডাঙ্গা গড়ার প্রতিশ্রুতিতে বক্তব্য দিলেন, অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল।

আলমডাঙ্গায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা–১ (আলমডাঙ্গা–চুয়াডাঙ্গা) আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকাল ৩টায় আলমডাঙ্গা শহরের এটিম মাঠে আয়োজিত এ জনসভায় হাজারো নেতাকর্মী, সমর্থক, নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে মাঠ পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার সূচনা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের আমীর শফিউল আলম বকুল। জনসভায় ১১ দলীয় জোট ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য এবং চুয়াডাঙ্গা–১ আসনে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোট মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি ভোটারদের কাছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে চুয়াডাঙ্গায় কোনো দুর্নীতি ও বৈষম্য থাকতে দেওয়া হবে না। উন্নয়ন বঞ্চনা দূর করে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ চুয়াডাঙ্গা গড়ে তোলা হবে। কৃষিনির্ভর এ জেলায় কৃষকদের স্বার্থরক্ষা, উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। কৃষকের অতি পরিশ্রমে ফলানো ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে।প্রয়োজনে কৃষি পন্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার প্রতিষ্ঠা করা হবে। যুবসমাজ কে মাদকমুক্ত করে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে শ্রমশক্তি তে রুপান্তর করা হবে। চাঁদাবাজি, ট্রেন্ডারবাজী, সিন্ডিকেট মুক্ত সমাজ গড়ে তোলা হবে। আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে।

তার বক্তব্যের শেষাংশে আবেগঘন ও দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার তুলে ধরলে উপস্থিত জনতা মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে মনোযোগ সহকারে তা শোনেন।

অনুষ্ঠানে এ সময় উপস্থিত ছিলেন— আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মোল্লা মো. ফারুক এহসান, চুয়াডাঙ্গা–১ আসনের নির্বাচনী পরিচালক ও জেলা যুব বিভাগের পরিচালক নূর মোহাম্মদ হুসাইন টিপু, জামায়াতে ইসলামী সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আলতাফ হোসাইন, জেলা শ্রমিক কল্যাণ বিভাগের সভাপতি কাইমুদ্দিন হিরোক, সাবেক জেলা আমীর আনোয়ারুল হক মালিক, আইন বিষয়ক সম্পাদক দারুস সালাম, খেলাফত মজলিসের খুলনা বিভাগীয় সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, জামায়াতের জেলা ইউনিট সদস্য অ্যাডভোকেট মুসলিম উদ্দিন, আলমডাঙ্গা পৌর শাখার আমীর মাহের আলী, সেক্রেটারি মসলেম উদ্দিন,গাংনী-আসমানখালী আমীর আব্বাস উদ্দিন, শহীদ মোস্তাফিজুর রহমানের বড় ভাই হাফিজুর রহমানসহ আরও অনেকে।

জনসভা শেষে একটি নির্বাচনী মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি আলমডাঙ্গা শহরের এটিম মাঠ থেকে শুরু হয়ে স্টেশন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আলিফ উদ্দিন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।




দর্শনায় বিএনপির নির্বাচনী জনসভা ও গণমিছিল

দর্শনায় বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবুর ধানের শীষ প্রতিকের পক্ষে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টায় দলীয় স্লোগান, ব্যানার-ফেস্টুন আর উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো দর্শনা

দর্শনা আল হেরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে ধানের শীষের পক্ষে একটি বিশাল মিছিল বের হয়ে দর্শনা পুরাতন বাজার ৩ রাস্তার মোড়ে এসে শেষ হয়। দর্শনা থানা এলাকার ৬টি ইউনিয়ন ও দর্শনা পৌরসভার হাজার হাজার মানুষ ধানের শীষের মিছিলে অংশ নেয়। এসময় দর্শনা শহরের হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতির ফলে ব্যপক যানজোট সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় দর্শনা মুজিবনগর সড়কে শত শত যানবহন অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

দর্শনা শহরের পুরাতন তিন রাস্তার মোড়ে এসে মিছিলটি শেষ করে মিছিলে অংশ গ্রহনকারীদের উদ্যোশে বক্তব্য রাখেন, নিবার্চন পরিচালনা কমিটির প্রধান হাজী খন্দকার শওকত আলী, দর্শনা পৌর বিএনপি’র সিনিয়ার সহ-সভাপতি ও সমন্বয়ক কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান বুলেট, দর্শনা সরকারী কলেজের সাবেক জিএস এনামুল হক শাহ (মুকুল), দর্শনা পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সিনিয়ার সহ-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন ও দর্শনা পৌর সমন্বয়ক প্রভাষক আল হাজ মশিউর রহমান।ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক।

শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত এ জনসভা ও গণমিছিল ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও নির্বাচনী প্রস্তুতির দৃঢ় প্রত্যয়।

বক্তারা উপস্থিত মিছিলে অংশগ্রহণকারী সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা সকাল সকাল সেন্টারে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দেবেন। আপনাদের এলাকার অন্যদেরকে গুছিয়ে নিয়ে ভোট সেন্টারে পাঠাবেন। যার যার এলাকায় ফিরে গিয়ে নিজ নিজ এলাকার মানুষকে ধানের শীষে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করবেন। এরপর উপস্থিত ধানের শীষের পক্ষে অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ দিয়ে মিছিলের কর্মসূচি শেষ করেন।




গাংনীর গাড়াবাড়ীয়াতে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা

মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের বিএনপি’র মনােনিত প্রার্থী আমজাদ হােসেনের পক্ষে গাঁড়াবাড়ীয়া ২ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র উদ্যোগে নির্বাচনী প্রচারণা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় গাংনী উপজেলার কাথুলি ইউনিয়নের গাড়াবাড়িয়া বাজারে নির্বাচনী প্রচারণা করা হয়।

নির্বাচনী প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন, গাংনী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান। বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিজা, বিএনপি নেতা খায়রুজ্জামান বাবু, মোফাজ্জেদ হোসেন, বশির আহমেদ, শাহিন আলম, লোকমান হোসেন, মহিরুল ইসলাম, বিশারত আলি, হাফিজুল ইসলাম, দ্বীন ইসলাম, শরীফ হোসেন, আরজান আলি, ইলিয়াস হোসেন, জিয়ারত আলী, কুদ্দুস আলী, মোফাজ্জল হোসেন, বিল্লাল হোসেন, ফিরোজ হোসেন, আব্দুল মতিন, তাজিম আলী।

আরো উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।




মেহেরপুরে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন ২৩৮ জন পর্যবেক্ষক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা, ২০২৫ অনুসরণ করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধিত ৮১টি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এর অংশ হিসেবে মেহেরপুর জেলার দুটি সংসদীয় আসনে মোট ২৩৮ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন।

মেহেরপুর-১ আসন (মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর উপজেলা) এলাকায় পর্যবেক্ষণের জন্য ১৭০ জন পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্যা চেঞ্জ এন্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান) থেকে ২০ জন, বিয়ান মনি সোসাইটি থেকে ১০ জন, মানব উন্নয়ন কেন্দ্র (মউক) থেকে ৫৬ জন, চারু ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন (সিডিএ) থেকে ৩ জন, বিবি আছিয়া ফাউন্ডেশন থেকে ৫ জন, রিসভা-বাংলাদেশ থেকে ৭ জন, বিচরণ কল্যাণ সংস্থা থেকে ১১ জন এবং SCOPE থেকে ৫৮ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন।

অন্যদিকে মেহেরপুর-২ আসন (গাংনী উপজেলা) এলাকায় ৬৮ জন পর্যবেক্ষককে দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে মানব উন্নয়ন কেন্দ্র (মউক) থেকে ৩৭ জন, ব্লুরাল ভিশন (আর.ডি) থেকে ৫ জন, মুক্তির বন্ধন ফাউন্ডেশন থেকে ৫ জন, বিবি আছিয়া ফাউন্ডেশন থেকে ৫ জন, হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) থেকে ১০ জন এবং রিসডা-বাংলাদেশ থেকে ৬ জন রয়েছেন।




চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে কে হবে আগামী দিনের কাণ্ডারী?

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে কে হবে আগামী দিনের কাণ্ডারী? চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে কে নির্বাচিত হতে চলেছে—এ নিয়ে আকাশে-বাতাসে গুঞ্জনের অন্ত নেই। গ্রামগঞ্জের রাস্তায়-রাস্তায়, চায়ের দোকানে, মাঠে-ঘাটে একই আলোচনা। গ্রামের মানুষ চেয়ে থাকে শহরবাসীর মুখের দিকে। শহরের বুক চিরে ভেসে ওঠে ভোটের আওয়াজ, আর সেই শব্দ ছড়িয়ে পড়ে গ্রামের মেঠোপথ ধরে পাড়া-মহল্লায়।

চুয়াডাঙ্গা জেলার সর্ববৃহৎ উপজেলা হলো আলমডাঙ্গা উপজেলা। এখানে একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে উপজেলা গঠিত। আলমডাঙ্গা উপজেলার মোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৬৩ হাজার ১৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৬১ হাজার ০৬১ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ৬২ হাজার ১৬৪ জন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আলমডাঙ্গা উপজেলার এই বিশাল ভোটার উপস্থিতি ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে তিনজন প্রার্থী নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফ। জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জহুরুল ইসলাম।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে চলেছে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির মধ্যে। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরই জন্মস্থান আলমডাঙ্গা। দুজনই আলমডাঙ্গার মাটি ও মানুষের নেতা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার দাবি রাখেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শরিফুজ্জামান শরিফ আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের পাঁচকমলাপুর গ্রামের সন্তান এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের ছত্রপাড়া গ্রামের সন্তান।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে দীর্ঘ সময় ধরে উভয় দল কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিরোধ আন্দোলনে রাজপথে লড়াই করেছে। দীর্ঘদিনের সেই ঘনিষ্ঠ মিত্ররা ৫ আগস্টের পর থেকে একে অপরের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হয়েছে। বিএনপি যখন মিটিং-মিছিল, জনসভা ও উঠান বৈঠকে ব্যস্ত সময় পার করছে, তখন জামায়াত ভিন্ন কৌশলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাস্তব প্রতিশ্রুতি ও ভরসার প্রদীপ জ্বালাচ্ছে।

গোষ্ঠীকোন্দলে লিপ্ত গ্রামকেন্দ্রিক রাজনীতিতে একই ছাতার তলে কখনো আবদ্ধ না থাকার মানসিকতাকে কাজে লাগিয়ে ভিন্ন রাজনৈতিক দল ফায়দা তুলছে। ফলে গ্রামীণ রাজনীতিতে দেখা দিচ্ছে বিভক্তির খেলা—শত্রুর শত্রু হয়ে উঠছে বন্ধু।

ফলস্বরূপ, জোটসঙ্গী হিসেবে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ থাকায় কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া তেমন কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চোখে পড়েনি। নির্বাচন অফিসে মনোনয়ন উত্তোলন থেকে শুরু করে জমাদান, প্রতীক বরাদ্দ, এমনকি সুজনের অনুষ্ঠানে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে যে সৌজন্যতা উভয় প্রার্থী দেখিয়েছেন, তা সত্যিই নজিরবিহীন।

উভয় দলই সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রচারণায় ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে ভোটারদের হৃদয়ে স্থান পাওয়ার আশায়। জামায়াত প্রার্থীর কৌশলে নতুন নতুন ভিন্নমাত্রা দেখা গেলেও বিএনপি প্রার্থী শরিফুজ্জামান শরিফ কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই।

চুয়াডাঙ্গা-১ আসন বিগত দিনে বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। ২০০৮ সালে প্রথম আওয়ামী লীগ এই আসন দখল করলেও আইলহাস, জেহালা ও বারাদী ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে দেখা গেছে। অন্যদিকে নাগদাহ, ডাউকি ও কুমারী ইউনিয়নে জামায়াতের প্রার্থীরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

আগামী ১২ তারিখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠ জরিপে দেখা গেছে, বিএনপির একটি সুসংগঠিত আদর্শিক ভোটব্যাংক বংশানুক্রমে গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী তাদের কট্টর অবস্থান থেকে কিছুটা বেরিয়ে এসে উদার মনোভাবের পরিচয় দিয়ে সাংগঠনিকভাবে এগিয়ে থাকলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ভোটারদের মাঝে নতুন স্বপ্ন ও নতুন উন্মাদনা সৃষ্টি করে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালাচ্ছে নিরলস পরিশ্রম ও নানান কৌশলে। মাঠ জরিপে আরও দেখা গেছে, আওয়ামী ভোটাররাই ভোটের ফলাফলে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে চলেছেন।

এ কারণে উভয় দলই ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে আওয়ামী ভোটারদের দলে ভেড়ানোর জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছে, যা চোখে পড়ার মতো। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যোগ্য ব্যক্তির মাথায় বিজয়ের মুকুট শোভা পাবে—এই আশায় প্রহর গুনছে আপামর জনতা।




পরাজয়ের গন্ধ পেয়ে আমাদের বিপক্ষে অপপ্রচার করা হচ্ছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মেহেরপুর জেলা শাখার আমির ও মনোনীত প্রার্থী তাজউদ্দিন খান বলেছেন, পরাজয়ের গন্ধ পেয়ে আমাদের বিপক্ষে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, আমাদের বোনেরা কোরআন হাতে শপথ দিচ্ছে। এ দেশের জনতা কি এসব বিশ্বাস করবে?

তিনি বলেন, এ দেশের জনতা অবস্থান নিয়েছে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে, টেন্ডারবাজদের বিরুদ্ধে এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে। আগামী ১২ তারিখে জনগণ প্রমাণ করে দেবে আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে।

সোমবার বিকেল ৪টার দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মেহেরপুর জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী গণমিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা জামায়াতের আমির আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের পর্যন্ত মোবাইল ফোন নিয়ে যেতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আমরা এটিকে একটি ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করছি। মানুষ যেন স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে এবং কে কীভাবে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দখলদারিত্ব করতে চায় তা ক্যামেরার মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরা যেত। আপনারা যদি সত্যিই সুষ্ঠু নির্বাচন চান, তাহলে অবাধ তথ্যপ্রবাহের সুযোগ দিতে হবে।

বিশাল এই নির্বাচনী গণমিছিলে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর শূরা কমিটির সদস্য ও সেক্রেটারি মো. ইকবাল হুসাইন, জেলা রাজনৈতিক সেক্রেটারি রুহুল আমিন, সদর উপজেলা আমির সোহেল রানা, পৌর আমির সোহেল রানা ডলার, সদর উপজেলা সেক্রেটারি জাব্বারুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।




গাংনীতে বিদেশী পিস্তল, ম‍্যাগজিন ও গুলি উদ্ধার

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় ধানখোলা ইউনিয়নে সেনাবাহিনীর অভিযানে ০১টি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও এ্যামুনিশন উদ্ধার হয়েছে।
আজ সোমবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ‍্যমে তা প্রকাশ করে।

সেখানে বলা হয়েছে গতকাল রবিবার আনুমানিক রাত ৩টায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গাংনীর ধানখোলা ইউনিয়নের চিৎলা গ্রামে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে একটি অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে একটি আম বাগানে তল্লাশি চালিয়ে ০১টি বিদেশী পিস্তল, ০২টি ম্যাগাজিন এবং ০২ রাউন্ড পিস্তলের এ্যামুনিশন(গুলি) উদ্ধার করা হয়।

অবৈধ অস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের সনাক্ত করতে গোয়েন্দা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।