প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শেষ দিনে শিক্ষার্থীদের মাঝে হাসি ফুটালো শুভসংঘ

প্রাথমিক বিদ্যালয জীবনের শেষ দিনে অশ্রু সিক্ত বিদায় বেলায শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি ফোটালো মেহেরপুর শুভসংঘ।

আজ রবিবার সকালে মেহেরপুর সদরের বামনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ১৮ শিক্ষার্থীদের মাঝে পরীক্ষা সহায়ক উপকরণ সামগ্রী তুলে দেন সংগঠনটির সদস্যরা।

বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষা উপকরণ পেয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে ‍উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। শিশুদের হাতে শিক্ষা উপকরণ হিসেবে খাতা, কলম, হার্ডবোর্ড, স্কেল,ফাইল ও জ্যামিতি বক্স তুলে দেওয়া হয়েছে।

বসুন্ধরা শুভসংঘ মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি এস এম রফিকুল আলম বকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক কালের কণ্ঠ জেলা প্রতিনিধি ও বসুন্ধরা শুভসংঘ মেহেরপুর জেলা শাখার উপদেষ্টা ইয়াদুল মোমিন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফৌজিয়া আফরোজ তুলি, সহকারী শিক্ষক স্বামীমা ইয়াসমিন সাথী।

কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি ইয়াদুল মোমিন বলেন, আজকে তোমাদের প্রাথমিক শিক্ষা জীবনের শেষ দিন। শেষ দিন অর্থাৎ এই স্কুল থেকে বিদায়। এরপরে তোমরা যাবা নতুন কোন স্কুলে, নতুন কোনো পরিবেশে। এই বিদায় উন্নতির জন্য বিদায়, ভালোর জন্য বিদায়। এই বিদায সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কোনো একটি জায়গা ছেড়ে দেওয়া। তোমাদের এই বিদায় ক্ষণে আমরা বসুন্ধরা শুভ সংঘের মাধ্যমে তোমাদের মুখে একটু হাসি ফুটাতে চাই, যে হাসিটা তোমাদের এই বিদায়কে একটু স্বস্তি দেবে, একটু আনন্দ দেবে।

তিনি আরো বলেন, বসুন্ধরা শুভ সংঘ এমন উদ্যোগ সারা দেশে নিচ্ছে। যারা খুবই অসহায় গরিব, তাদের স্বাবলম্বী করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। মেহেরপুরে কয়েকবার শত শত কম্বল বিতরণ করেছি। যারা একেবারে অসহায়, তাদের স্বাবলম্বী করার জন্য দোকান করে দিয়েছি। একটা মেয়েকে তার পড়ালেখা করানোর জন্য শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করেছি। এভাবে আমরা অনেক কাজ করি, কিন্তু নীরবে নিভৃতে।

সভাপতির বক্তব্য এস এম রফিকুল আলম বকুল বলেন, তোমাদের উপহারে একটা কথা লেখা আছে শুভ কাজে সবার পাশে। আমরা আসলে কি করতে চাই সেটা লেখা আছে। আমরা ভালো কাজের সবার সাথে থাকতে চাই, সবার সাথে হাত মিলিয়ে কাজ করতে চাই উদ্দেশ্য আমাদের এটাই। উপহার যদি একটি চকলেটও হয়, আমার কাছে মনে হয় ওটাও একটি উপহার। আমাদের এটা খুবই সামান্য একটি উপহার, কিন্তু আমার কাছে মনে হয় আমাদের সমাজের প্রত্যেককে যদি এই কাজটা করতে থাকি, তাহলে এই কাজটা আর সামান্য থাকবে না, অসামান্য হয়ে যাবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফৌজিয়া আফরোজ তুলি বলেন, বসুন্ধরা শুভ সংঘ তোমাদের হাতে একটি উপহার তুলে দিয়েছে। কালকে তোমাদের পরীক্ষা, পরীক্ষায় একটু সাহায্য হবে। শুভ সংঘ যেহেতু শুভ কাজে আছে, বাংলাদেশে মাদক, বাল্যবিবাহ এবং হানাহানি আমরা যেন অসহিষ্ণু জাতি হিসেবে সারা পৃথিবীতে পরিচিত হতে যাচ্ছি। এগুলো নিয়ে কাজ করলে আমার মনে হয় আরো ভালো হবে।
আর আমার শিশুদের কাছেও আমার অনুরোধ থাকবে তোমরা যেন মারামারি, হানাহানি বা অসহিষ্ণুতা পরিহার করে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সহযোগিতামূলক আচরণ করো।

বসুন্ধরা শুভসংঘ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. নাফিউল ইসলামের সঞ্চালনায় এসময় সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ অনিক হাসান, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ সম্পাদকঃ আব্দুল্লাহ আল নোমান, কার্যকরী সদস্যঃ লামইয়া, আলিফ খান , লিখন আলী, মোঃ মনিব, আলিফ হাসান, নাসিম রানা, জুনাইদ ইকবাল, সাকিব হাসান রুদ্র, ইয়াছির ইউসুফ ইমন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




কনডেম ঘোষিত ভবনগুলোতে সরকারি অফিসের কার্যক্রম

মেহেরপুর শহরের বুকে দীর্ঘ বছরের জীর্ণ শীর্ণকায় দাঁড়িয়ে আছে বেশ কয়েকটি পুরোনো ভবন। এসব ভবনগুলোতে সরকারি বিভিন্ন অফিস। হাসপাতাল ভবন, ভূমি রেজিস্ট্রেশন অফিস, জেলা কারা কর্মকর্তার বাসভবন, জেলা সমবায় ব্যাংক ও জেলা সমবায় অফিস, জেলা প্রশাসকের পুরাতন কার্যালয়, ওয়াবদা অফিস ভবন, গাংনী উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন অফিস অন্যতম। ভবনগুলো বয়সে সেঞ্চুরি অতিক্রম করেছে।

কোনটিবা ষাটোর্ধ্ব, দীর্ঘ বছরের ইতিহাস ছুঁয়ে গেছে তাদের শরীর। দেড় থেকে দুই যুগের বিভিন্ন সময়ে গণপূর্ত বিভাগ নোটিশ দিয়ে বলেছিল তোমরা আর বাসযোগ্য নও। তারপরও ভবনগুলো ঠিক মানুষের মতোই আজও দাঁড়িয়ে আছে- ভঙ্গুর, চিন্তিত, অথচ প্রাণের স্পন্দন নিয়ে।

পুরাতন সরকার হাসপাতালটি যেন এক বৃদ্ধ অভিভাবক। বহু রোগীর কান্না, ডাক্তারদের ছুটে চলা, কিংবা অপারেশন থিয়েটারের আলো সে দেখেছে একসময়। এখন তার করিডোরে শোনা যায় পুলিশের ওয়াকিটকির শব্দ। ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ে মেঝেতে সাদা ধুলোর মতো জমে থাকে অতীতের স্মৃতি। অথচ প্রতিদিন এক ডজন পুলিশ সদস্য সেখানে ডিউটি করেন ব্যস্ততা আর ভয় মিলেমিশে তাদের সকাল-বিকেল তৈরি করে। ভবনটি যেন নীরবে বলেÑ আমার দেওয়ালে ফাটল আছে!

ভূমি রেজিস্ট্রেশন অফিসের অবস্থা আরও আলাদা। সে যেন প্রতিদিনের ভিড় আর ভাঁজে ভাঁজে জীবনের হিসাব লেখা এক ক্লান্ত লেখক। দলিল লেখকরা জানালার ধারে বসে একেকটা চুক্তি লিখছেন, আর দেয়ালের ফাটলগুলো স্বাক্ষী দিচ্ছে সময়ের নিঃশব্দ ক্ষরনের। প্রতিদিন দুই শতাধিক মানুষের আনাগোনায় ভবনটি কেঁপে ওঠে।

তবুও কাগজে-কলমে জমির হিসাব থামে না, মানুষের আগমন থামে না। পাশেই নতুন ভবনে অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ দায়ীত্ব পালন করলেও পুরাতন ভবনে দলিল সম্পাদনার কাজ করেন দলিল লেখিয়ে মুহরীরা। ভবনটিতে নব্বই দশকেও সাবজজ আদালত ছিল।

ওই সময ভবনটি ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সাইনবোর্ড লটকে দিলে আদালতটি পাশেই স্থানান্তর হয় বহুতল ভবনে। তারপর থেকেই এখানে ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়। সরেজমিনে ভুমি রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দেখা যায় ভবনের শরীরে গণপুর্ত বিভাগের লটকে দেয়া ‘এই ভবনটি পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ন’। দেয়ালে লটকানো সতর্কতা কানে না তুলেই প্রতিদিন চলতে থাকে দলিল সম্পাদনের কাজ। যেন ভয় নেই, সময় নেই। যেন চোখের সামনে ছুরি ঝুলছে, তবুও মানুষ হাসে, কাজ করে, ঘরে ফেরে।

আর জেলা কারা কর্মকর্তার পুরোনো বাসভবন সে যেন নিঃসঙ্গ বুড়ো কাকাবাবু। একসময় গাম্ভীর্যে দাঁড়িয়ে থেকেছে, এখন ভরে গেছে দাগে, ভয়ে আর অস্থিতে ইঁট-পাথরের কণ্ঠস্বর। তবুও জেলা প্রশাসনের চতর্থ শ্রেণির একজন কর্মচারী রাতে ঘুমিয়ে পড়েন ঠিক সেই ঘরেÑ যেখানে ছাদের ফাটল অন্ধকারে যেন হুহু করে চিৎকার করে। ঘরের ভিতরে তাদের নিঃশ্বাস চাপা; ভয় আছে, তবুও কর্তব্যের বাঁধনে জীবন থামে না।

জেলা সমবায় ব্যাংক ভবনটি নির্মিত হয় বৃটিশ শাসনামলের ১৯১৯ সালে। ভবনটি ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়লে পাশেই টিনশেড করে সেখানে ব্যাংকের কার্যক্রম চালু আছে। ইতোমধ্যে ভবনের সামনের অংশ ২০২৪ সালে ধ্বসে পড়েছে। ধ্বসেপড়া ভবনের মধ্যেই ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত ক্যাশিয়ার মো. সামসদ্দীন মিয়া জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। সামসদ্দীন জানান- কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকায় তিনি মৃত্যুভয় উপক্ষো করে স্বামী স্ত্রী বসবাস করছেন। সংস্কার করে একটি অংশে জেলা সমবায় অফিসের কার্যক্রমও চালু আছে।

বৃটিশ শাসনামলের কালেকটর ভবন বৃটিশ শাসনামলের পর মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয় হয়। ১৯৮৪ সালে মহকুমা থেকে মেহেরপুর জেলা হলে নতুন ভবনও তৈরী হয়। সেই কারেকটর ভবনে এখন অফিসার্স ক্লাব ও বিআরটিএ অফিস পরিচালিত হচ্ছে। অবিভক্ত বাংলার মেহেরপুর থানা ভবনও বহুবছর আগে নির্মিত। নতুন ভবনের দরপত্র আহবান হয়েছে। ঠিকেদার চলতি সপ্তাহেই নতুন ভবন নির্মানের কাজ শুরু করবেন বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জামিলুর রহমান খান।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা পরিষদ ভবনে উপজেলার সরকারি বিভিন্ন অফিস। দীর্ঘ বছরের এই ভবনে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। মাঝে মধ্যে ছাদের প্লাষ্টার খসে পড়ে কারোবা মাথায় কিম্বা অফিসের চেয়ার টেবিলে। এই ভবনের বিভিন্ন দফতরেরকর্মকর্তা কর্মচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়ীত্ব পালন করছেন।

গণপূর্ত বিভাগের নথিতে কোন পরিসংখ্যান নেই কতটি ভবন ব্যবহারযোগ্য নয়। গণপূর্তের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জামাল উদ্দীন বলেন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অফিস আদালতের ভবন ব্যবহার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ফলে সেসব ভবনের তালিকা করা হয়নি। ব্যবহার অযোগ্য ভবনে যদিও অফিসের লোকবল গা ছমছম করা দিন পার করছে। বিষয়টি গণপূর্তের দেখার দায়ীত্ব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি ভূকম্পনের পর বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন এই অঞ্চল ভূমিকম্পের মাঝারি ঝুঁকিতে। একটু দোলনামাত্র ভবনগুলো হয়তো আর দাঁড়াতে পারবে না। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায় ঝুঁকির ওপরে দাঁড়িয়ে থাকা এই মানুষেরা কি শুধুই সংখ্যার অংশ? নাকি অবহেলার ভারে নুইয়ে পড়া ভবনগুলো কেবল ইট-পাথরের শরীর নয় সময়ের কাছে ফেলনা হয়ে যাওয়া জীবন্ত কাহিনি?

যে শহর তার স্মৃতি রক্ষা করতে জানে না, সে শহর কি ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে? মেহেরপুরের বাতাসে এই প্রশ্নটাই আজ সবচেয়ে ভারী হয়ে ভাসছে।




দর্শনায় স্বাদ ও সংস্কৃতি মিলনে ৬ষ্ঠ বার্ষিকী পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত 

দর্শনায় “শীতের দুয়ার, লাগলোরে ধুম, পিঠা খাওয়ার” শ্লোগানকে সামনে রেখে ৬ষ্ঠ তম পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটি গতকাল সকাল ১০টায় দর্শনা পুরাতন বাজার সোসাইট চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়। দর্শনা ওমেন্স ক্লাবের আয়োজনে এই উৎসবের উদ্বোধন করেন তানজিনা মিলি, দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয় কমিটি সদস্য ও দর্শনা সরকারি কলেজের সাবেক জিএস এনামুল হক শাহ (মুকুল), প্রথম আলোর সাংবাদিক শাহ আলম সনি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা বদরুল আলম ফিট্টু।

দ্বিতীয় পর্বে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, স্টল প্রদর্শনী, নৃত্য, দেশাত্মবোধক গান এবং লোক সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের ভিড় জমে। পুরস্কার বিতরণ করেন দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন, দর্শনা ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোহেল তরফদার, পিন্টু শাহ, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার দেব নাথ, ওমেন্স ক্লাবের সভাপতি কামরুনাহার রাণী শাহ এবং সাধারণ সম্পাদক শাহিনা আজাদ স্বপ্না।

উৎসবে বক্তব্য রাখেন ওমেন্স ক্লাবের সভাপতি রাণী শাহসহ অন্যান্য অতিথিরা। দিনব্যাপী উৎসবে মোট ১৫টি স্টল অংশগ্রহণ করে। প্রদর্শিত পিঠার মধ্যে সাদের আঙ্গিনা প্রথম স্থান অর্জন করে, পল্লী পিঠা ঘর দ্বিতীয় স্থান এবং সায়ন পিঠা ঘর তৃতীয় স্থান অর্জন করে।

সন্ধ্যায় আচঁল ব্যান্ডের সংগীত পরিবেশনায় লোক সংগীত উপভোগ করা যায়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দামুড়হুদা আব্দুল ওয়াদুদ শাহ ডিগ্রী কলেজের উপ-সহকারী অধ্যাপক মরিয়ম মারুফা, প্রভাষক মিল্টন কুমার সাহ এবং ওমেন্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহিনা আজাদ স্বপ্না খাতুন।




খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় মেহেরপুরের বারাদিতে বিএনপির দোয়া মাহফিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় গতকাল শনিবার বিকালে মেহেরপুরের বারাদি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বারাদি ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে এ দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান।

বারাদি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আফারুল ইসলাম ডাবলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, আনসারুল হক, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ মোহাম্মদ, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিফ, জেলা জাসাসের সদস্য সচিব বাকাবিল্লাহ, সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক লেয়াকত আলীসহ বারাদি ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।

দোয়া মাহফিলে বক্তারা বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন। তাঁর আশু রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনায় দল-মত নির্বিশেষে সকলে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।




জীবননগর প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির শপথ গ্রহণ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর প্রেসক্লাবের ২০২৫-২৭ সেশনের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১২টায় জীবননগর প্রেসক্লাবের আয়োজনে রেস্টুরেন্ট থ্রি স্টারের কনফারেন্স রুমে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজিব হাসেন কচি আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটির সভাপতি এমআর বাবু ও সাধারণ সম্পাদক নূর আলমকে শপথ পাঠ করান। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মানিক আকবর।

অনুষ্ঠানে বক্তারা সাংবাদিকতার মূল আদর্শ সত্য, ন্যায় ও নিরপেক্ষতা অটুট রেখে জনস্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে কনফারেন্স প্রাঙ্গণে ছিল প্রাণবন্ত পরিবেশ। উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গা পত্রিকার সম্পাদক প্রকাশক বিপুল আশরাফ, জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ডিবিসি টিভির জেলা প্রতিনিধি কামরুজ্জামান সেলিম, দৈনিক চুয়াডাঙ্গা প্রত্রিকা পত্রিকার সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান।

শপথ গ্রহণ করেন দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার মামুনউর রহমান, আন্দোলনের বাজার পত্রিকার মুন্সী রায়হান উদ্দিন, দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার মাজেদুর রহমান লিটন, মাথাভাঙ্গা পত্রিকার নারায়ণ ভৌমিক, দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার হুমায়ুন কবির, আকাশ খবর পত্রিকার বশির উদ্দিন বিশ্বাস, সকালের সময় পত্রিকার এম আই মুকুল, দৈনিক দেশের বানী পত্রিকার জাহাঙ্গীর আলম, দৈনিক এই আমার দেশ পত্রিকার মুন্সী খোকন, দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার মিঠুন মাহমুদ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি আকিমুল ইসলাম, দৈনিক জনবানী পত্রিকার জামাল হোসেন খোকন, মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।




দর্শনা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের ধানের শীষের পক্ষে শোডাউন ও দোয়া মাহফিল

দর্শনা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃত্বে ধানের শীষের পক্ষে শোডাউন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল শনিবার বিকাল ৪টার দিকে দর্শনা রেলইয়ার্ড থেকে শোডাউন বের হয়ে দর্শনা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দর্শনা প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন যশোর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পলাশ আহমেদ।

বক্তব্য শেষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন ওলামা ছাত্রদলের নেতা হাফেজ আসিফ রোমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দর্শনা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নবনির্বাচিত সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন মোফা, সহসভাপতি মোঃ রায়হান, সহসভাপতি রাজু আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক পলাশ আহমেদ, সিনিয়র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুশফিকুর রহমান সাইফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মোহাম্মদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলিফ হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের হোসেন নিশান, সাংগঠনিক সম্পাদক লিখন হাসান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সজিব হোসেন, প্রচার সম্পাদক ফারুক হোসেন, দপ্তর সম্পাদক রাকিবুল হাসান রিফাত, ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ ইব্রাহিমসহ দর্শনা পৌর ছাত্রদল ও কলেজ ছাত্রদলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




দর্শনায় ধানের শীষে ভোট চেয়ে শ্রমিক দলের গণসংযোগ

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় জেলা শ্রমিক দলের উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু পক্ষে আগামী সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ মার্কায় ভোট চাওয়া ও গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় দর্শনা বাস স্ট্যান্ডে এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

গণসংযোগ পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা শ্রমিক দলের সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম সাবু তরফদার। এ সময় তিনি বিভিন্ন দোকান ও সাধারণ মানুষের কাছে ধানের শীষ মার্কায় ভোট চেয়ে বিএনপির ৩১ দফা লিফলেট বিতরণ করেন।

তিনি বলেন, “চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, বিজিএমই সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির উপ-কোষাধ্যক্ষ, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু ভাইকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করলে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব হবে।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ ফারুক, প্রচার সম্পাদক শওকত আলি লিটন, শ্রমিকদল নেতা ও দর্শনা থানা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আলমগীর হোসেন মোল্লা, শ্রমিক দল নেতা খন্দকার মুন্নাফ, জেলা শ্রমিক দলের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, শ্রমিক দল নেতা জহুরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর, সোহরাব হোসেন, নাদের হোসেন, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ প্রমুখ।




মেহেরপুর-১ আসনে সিপিবি থেকে মনোনয়ন পেলেন অ্যাড. মিজানুর রহমান

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুর-১ (মেহেরপুর-মুজিবনগর) আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মনোনয়ন পেয়েছেন এ্যাডভোকেট মোহা: মিজানুর রহমান।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড থেকে তিনি মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন ।

অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে আইনজীবীর পেশায় নিযুক্ত এবং সিপিবি মেহেরপুর জেলা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি জানিয়েছেন, শ্রমিক, কৃষক ও মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাকে প্রাধান্য দিয়ে একটি বিকল্প রাজনীতি গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন। এছাড়া বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়েও পদক্ষেপ নেবেন।




আলমডাঙ্গায় ইজিবাইকের ধাক্কায় কিশোরের মৃত্যু

আলমডাঙ্গায় সড়ক পার হতে গিয়ে ইজিবাইকের ধাক্কায় কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল শনিবার বিকেলে উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের বাদেমাজু হাজামপাড়া এলাকার সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ইজিবাইক চালক দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।

নিহত শিশির আহমেদ মিহিন (১২) ডাউকি ইউনিয়নের হাজামপাড়ার আক্তার ফারাজীর ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে সবার ছোট।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার বিকেলে নিজ বাড়ি থেকে সড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতিতে ছুটে আসা একটি ইজিবাইক তাকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় মিহিন সড়কে পড়ে গেলে গাড়িটি তার শরীরের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে সে গুরুতর আহত হয়।

পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে আলমডাঙ্গার একটি ক্লিনিকে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মিহিনের মৃত্যু হয়।

সড়ক দুর্ঘটনায় মিহিনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তার মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানার ওসি মাসুদুর রহমান জানান, বাড়ি থেকে বের হয়ে সড়ক পার হওয়ার সময় ইজিবাইকের ধাক্কায় কিশোরটি আহত হয় এবং পরে কুষ্টিয়ায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যরা অপমৃত্যুর মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




দর্শনায় দারুল হিকমা ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট একাডেমির বার্ষিক প্রদর্শনী

দর্শনায় দারুল হিকমা ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট একাডেমির আয়োজনে বার্ষিক প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে বাংলা, ইংরেজি, অ্যারাবিয়ান, অঙ্ক ও ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বক্তারা বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। প্রাথমিক শিক্ষার মান নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ অথচ পরিকল্পিতভাবে শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে ফেলা হয়েছিল। প্রাথমিক শিক্ষার বইয়ে মানহীন গল্প-কাহিনী যুক্ত করে একটি বিভ্রান্তিকর শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, দর্শনা দারুল হিকমা ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো শিশুদের বাংলা, ইংরেজি, অ্যারাবিয়ান, অঙ্ক ও ধর্মীয় শিক্ষায় আলোকিত করছে যা সত্যিই প্রশংসনীয়। অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে তারা তাদের সন্তানদের উন্নতমানের শিক্ষায় শিক্ষিত করতে আগ্রহী।

গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে একাডেমির ভবনের সামনে বার্ষিক প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দর্শনা পৌর বিএনপি সমন্বয় কমিটির অন্যতম নেতা ও মেমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আলহাজ মোঃ মশিউর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মাওলানা আমিনুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাবিলনগর আলিম মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক, পিএইচডি গবেষক মোঃ আরিফুল ইসলাম হাওলাদার, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুল আওয়াল, দর্শনা পৌর জামায়াতে ইসলামী সভাপতি সাদিকুজ্জামান অপু, দর্শনা প্রেসক্লাব সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল, বিশিষ্ট সমাজসেবক আয়ুব আলী, মোঃ আমিনুল ইসলাম, বিএনপি নেতা ইস্থানুল ইসলাম, সমাজসেবক নজরুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।