মেহেরপুরে ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের ২৭১তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতির জনক Samuel Hahnemann-এর ২৭১তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, ডা.মুন্সী মোজাম্মেল হক, সঞ্চালনা করেন ডা.মো: সাহারুল ইসলাম অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কুররআন তেলাওয়াত করেন ডা.মোঃ শহিদুল ইসলাম। সভাপতির স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে মুল পর্ব শুরু হয় এ সময় অতিথিদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন, জেলা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক কল্যাণ সংঘের সাধারণ সম্পাদক ডা.মো:আবুল কাশেম এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ডা.মোঃ মফিজুল ইসলাম ডা.মুন্সি জাহাঙ্গীর জিন্নাত, ডা.এ এইচ এম মান্নান, ডা.মোঃ খসরু আলম, ডা.মো: এম আর আলম, ডা.মো: হায়দার আলী, ডা.মোঃ মুন্সী এ এইচ এম রাশেদুল হক। 

হ্যানিম্যানের জীবন, কর্ম ও মানবকল্যাণে তাঁর অবদানের উপর আলোকপাত করেন। বক্তারা বলেন, ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান ১৭৫৫ সালের ১০ এপ্রিল জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে হোমিওপ্যাথি পদ্ধতির সূচনা করেন। তাঁর উদ্ভাবিত “Similia Similibus Curentur” নীতির মাধ্যমে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে, যা আজও বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।

আলোচনায় আরও উল্লেখ করা হয়, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতি নিরাপদ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত এবং তুলনামূলকভাবে ব্যয় সাশ্রয়ী হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এর গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে এই চিকিৎসা পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বক্তারা হ্যানিম্যানের আদর্শ অনুসরণ করে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত থাকার আহ্বান জানান এবং হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাকে আরও বিস্তৃত ও আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও হোমিওপ্যাথি অনুরাগীরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং বিশ্ব মানবতার কল্যাণে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।




‎জমি চাষে দুশ্চিন্তায় কৃষক, তেলের অপেক্ষায় পাম্পে ট্রাক্টরের দীর্ঘ লাইন

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় সরকারিভাবে তেল সংকট না থাকলেও বৈষম্যের মাধ্যমে তেল বিক্রির  অভিযোগ তুলেছেন কৃষকরা। সিন্ডিকেট করে তেল সংকট তৈরী করছে একটি মহল।

‎মেহেরপুরে তেলের সংকটে শুধু মোটরসাইকেল নয়, জমি চাষের কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টরের দীর্ঘ লাইনও এখন চোখে পড়ছে পেট্রোল পাম্পগুলোতে। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় সময়মতো জমি চাষ করতে পারছেন না ট্রাক্টর মালিকরা।

‎এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। স্থানীয় সিন্ডিকেট আর বৈষম্যের মাধ্যমে তেল বিক্রয়ের অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। আজ শুক্রবার ভোর তিনটার সময় থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে অবশেষে হামলার শিকার হলেন গাংনী উপজেলার জোড়পুকুরিয়া গ্রামের কৃষক কামাল হোসেন।

‎কামাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমি দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর তেল নিতে গেলে আমার সামনে চার-পাঁচজন জোরপূর্বক মেশিন কেড়ে নিয়ে  ট্যাঙ্কি ভর্তি করে তেল নিয়ে যাচ্ছিল। জোরপূর্বক তেল ‎নেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ করাই পাম্পে থাকা সিন্ডিকেটের লোকজন আমার উপর অতর্কিত হামলা করেছে। আমি বিএনপি করি, বিএনপির লোকজন আমাকে মেরেছে, আমি নেতা কর্মীদের অবগত করছি।

‎ট্রাক্টর চালকদের অভিযোগ, তাদের যেখানে ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন, সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর মিলছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ লিটার তেল। এই সীমিত তেল নিয়ে মাঠের কাজ চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

‎তবে জেলার উপজেলা কৃষি অফিস গুলো থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ভিত্তিতে ডিজেল কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে ট্রাক্টরের জন্য একদিনে ৫০ লিটার, পাওয়ার টিলারের জন্য দুই দিনে ২০ লিটার এবং সেচ ইঞ্জিনের জন্য দুই দিনে ১০ লিটার তেল বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে কৃষি অফিসগুলোতে ডিজেল কার্ড সংগ্রহ করতে ভিড়ও লক্ষ্য করা গেছে।

‎পাম্পে অপেক্ষমাণ ট্রাক্টর চালকরা জানান, সকাল থেকে লাইনে থাকলেও কখন তেল মিলবে তা নিশ্চিত নয়। তেল পেলেই মাঠে নামবেন, কিন্তু বিলম্বের কারণে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। তাদের মতে, সময়মতো জমি চাষ করা না গেলে বীজ বপনে দেরি হবে এবং ফসলও নামলা হয়ে যেতে পারে।

‎পাম্পে তেল নিতে আসা ট্রাক্টর চালক মহিবুল বলেন, ভোর থেকেই তিনি ট্রাক্টরে তেল নেওয়ার জন্য পাম্পে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু দুপুর হয়ে গেলেও কখন তেল পাবেন, তা নিশ্চিত নন। প্রয়োজন ৭০ থেকে ৮০ লিটার হলেও দেওয়া হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ লিটার।
‎এতে জমি ঠিকমতো চাষ করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, গম কাটা প্রায় শেষ, এখন পাট বোনার সময়, এজন্য জমি চাষ দেওয়া জরুরি। তাই দ্রুত ট্রাক্টরগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

‎ট্রাক্টর চালক ও মালিক সাইদ জানান, সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র এক হাজার টাকার তেল পেয়েছেন, যা কাজে লাগার মতো নয়। এতে একদিকে সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে কাজও বন্ধ থাকছে। তিনি বলেন, এভাবে চললে কাজ করা সম্ভব না, এবং ট্রাক্টর চালকদের জন্য সন্ধ্যার পর তেল দেওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

‎ট্রাক্টর চালক শফি বলেন, পাম্পে চাহিদা অনুযায়ী তেল না পেয়ে তিনি কৃষি অফিসে ডিজেল কার্ড নিতে এসেছেন। শুনেছেন, কার্ড থাকলে একদিনে ৫০ লিটার তেল পাওয়া যাবে এবং এই কার্ডের মাধ্যমে মাঠে ট্রাক্টর রেখেই তেল সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। এতে কিছুটা হলেও ভোগান্তি কমবে বলে আশা করছেন তিনি।

‎এদিকে কৃষকরাও পড়েছেন অনিশ্চয়তায়। চাষি আলী আজগর বলেন, ডিজেলের অভাবে ট্রাক্টর চালকরা জমি চাষ করতে পারছেন না। গম কাটা শেষ হওয়ায় এখন পাট ও আউশ ধানের আবাদ শুরু করার সময়। তিনি বলেন, এই সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ, তাই প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

‎এ ব্যাপারে গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়র রহমান বলেন, বর্তমান সময়ে জমি চাষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের অনুমতিক্রমে কৃষি যন্ত্রের জন্য ডিজেল কার্ড চালু করা হয়েছে। পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর ও সেচ পাম্প মালিকদের মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করে এই কার্ড দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, পাম্প মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। এর আগে গম কাটার কম্বাইন হারভেস্টারের জন্যও একই ধরনের কার্ড চালু ছিল।‎

‎মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় বলেন, ট্রাক্টর চালকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সব পাম্পে একসঙ্গে তেল পৌঁছায় না, তাই সকাল থেকেই তেল বিতরণ করার কথা বলা হয়েছে। তবে ট্রাক্টর চালকদের সন্ধ্যার পর তেল দেওয়ার দাবি গ্রহণ করা হয়নি, কারণ এতে আবার নতুন করে সমস্যা তৈরি হতে পারে।




ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকার গঠন দিবস আজ

ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকার গঠন দিবস আজ ১০ এপ্রিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এ দিনে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়। এদিনই স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য মুক্তিবাহিনী সংগঠন ও সমন্বয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায় এবং নয় মাসের যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে এই বিপ্লবী সরকার। এটি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। এরপর একই বছরের ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র রূপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করা হয়।

এদিন পাকিস্তানের নির্বাচিত জাতীয় এবং প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি গোপন স্থানে মিলিত হয়ে প্রবাসী সরকার গঠন করেন। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি এবং সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি (অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি) নির্বাচিত করা হয়। সৈয়দ নজরুল ইসলাম পরে তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেন।

মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা হলেন, খন্দকার মোশতাক আহমদ (পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ), এম মনসুর আলী (অর্থ বাণিজ্য ও শিল্প ) এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান (স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষি)।

১০ এপ্রিল সরকার গঠনের পরে ১১ এপ্রিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে তাজউদ্দিন আহমদ একটি বেতার ভাষণ দেন। এতে তিনি দেশব্যাপী পরিচালিত প্রতিরোধ যুদ্ধের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। এ ছাড়া ১৭ এপ্রিল মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের তারিখ নির্ধারিত হয়। মেহেরপুরের সীমান্তবর্তীর গ্রাম বৈদ্যনাথ তলায় হয় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান।

শপথের পরেই তাজউদ্দিন আহমদ এ স্থানের নাম দেন মুজিবনগর।

পরবর্তী সময়ে প্রবাসী সরকার মুজিবনগর সরকার হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এদিকে ১৭ এপ্রিল মুজিব নগর সরকারের মন্ত্রীরা শপথ নিলেও ১৮ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদের প্রথম সভায় মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করা হয়।

মুজিবনগর সরকারের সফল নেতৃত্বে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় অর্জনের মধ্যদিয়ে স্বাধীনতা লাভ করে।




মুজিবনগরে ছাত্র বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার

মেহেরপুরের মুজিবনগরে একটি মাদ্রাসার আরবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে বোর্ডিংয়ে থাকা এক ছাত্রকে বলাৎকারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক নুর উদ্দিন (২৫)-কে গ্রেফতার করেছে মুজিবনগর থানা পুলিশ।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা সাহিদুর রহমান তার ১১ বছর বয়সী ছেলে জুবায়েরকে মুজিবনগর বাজার আইডিয়াল মাদ্রাসা ও দারুল হিফজখানার বোর্ডিংয়ে রেখে পড়াশোনা করাচ্ছিলেন।  ৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় এক সহপাঠীর অভিভাবকের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, মাদ্রাসার আরবি শিক্ষক নুর উদ্দিন তার ছেলেকে বিভিন্ন সময়ে গভীর রাতে কক্ষে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার বলাৎকার করেছে।

খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর বাবা দ্রুত মাদ্রাসায় এসে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা লক্ষ্য করেন। পরে ছেলের সাথে কথা বলে তিনি ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে অবগত হন।

স্থানীয়দের মধ্যেও এ নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং আরও কয়েকজন ছাত্রের সাথে একই ধরনের ঘটনার অভিযোগ উঠেছে বলে আলোচনা হতে থাকে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ক্ষুব্ধ জনতা মাদ্রাসা ঘেরাও করে। এ সময় খবর পেয়ে মুজিবনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে।

ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।




কুষ্টিয়ায় নবীন বরণ, বিদায় ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

কুষ্টিয়ায় নবীন বরণ, বিদায় ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান-২০২৬ জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে কুষ্টিয়া ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং কুষ্টিয়া হাজী আবুল হোসেন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. রহুল আমিন।

কুষ্টিয়া ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া হাজী আবুল হোসেন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর মো. শফিকুর রহমান, রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন প্রফেসর মো. আখতার হোসেন, কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান খন্দকার আনোয়ারুল হক এবং চিফ ইনস্ট্রাক্টর মো. জাহাঙ্গীর আলম।

অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ভাইস প্রিন্সিপাল মো. রাশেদুল হাসান সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভাগীয় প্রধান মনোরুবা রহমানের সঞ্চালনায় সহযোগিতা করেন শামজ্জুমান সজীব, সোহেলী আক্তার, তাম্মী নেওয়াজ, অপু সেন, রুমি খাতুন, আফসানা হাবিব, এনামুল হক, জাহিদুজ্জামানসহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের মনোযোগী হয়ে পড়াশোনা করার পাশাপাশি নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, জীবনের প্রতিটি নতুন অধ্যায় নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আসে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসার মূল লক্ষ্য শুধু ভালো ফলাফল অর্জন নয়; বরং একজন দায়িত্বশীল, নৈতিক ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠাও গুরুত্বপূর্ণ।

বক্তারা আরও বলেন, প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত জ্ঞান অর্জন, দ্বিতীয় লক্ষ্য সৃজনশীল চিন্তা এবং তৃতীয় লক্ষ্য মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হওয়া। বর্তমান যুগে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিকল্প নেই দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ, বিদায়ী শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা এবং কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।




কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ৫ তলা থেকে পড়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু, মামলা দায়ের

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের ৫ তলা থেকে পড়ে রুবেল (৩০) নামের এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

গত বুধবার দুপুরে হালিমা বেগম একাডেমির সামনে রথপাড়া এলাকায় গোলাম রহমান খানের নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রুবেল মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের মজলিসপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক আলীর ছেলে।

ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের দাবি, ভবন নির্মাণে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান রুবেল। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি রাজমিস্ত্রীর সহকারী (হেলপার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহেদুর রহমান জানান, নিহতের মামা শাহাজাহান আলী বাদী হয়ে ভেড়ামারা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর-১৮। তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




মেহেরপুরে জিয়ার খাল খনন উদ্বোধন ও বাংলা নববর্ষ উদযাপন নিয়ে র প্রস্তুতি সভা

মেহেরপুর জেলা বিএনপির উদ্যোগে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর জিয়ার খাল খনন উদ্বোধন এবং বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাভেদ মাসুদ মিল্টন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান। এছাড়াও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ মোহাম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিফ ও সাধারণ সম্পাদক ইহান উদ্দিন মনা, মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় খাল খনন উদ্বোধন অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিস্তারিত প্রস্তুতি আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বক্তারা উভয় অনুষ্ঠান সফল করতে সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।




জীবননগরে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

চুয়াডাঙ্গার নবাগত জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ লুৎফুন নাহার জীবননগর উপজেলায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বেলা ১১টায় জীবননগর উপজেলা অডিটরিয়ামে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জীবননগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল।

এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ব্যবসায়ী, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মিজ্ লুৎফুন নাহার বলেন, জীবননগরসহ পুরো চুয়াডাঙ্গা জেলার সার্বিক উন্নয়নে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। তিনি প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করে উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থিত বক্তারাও এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন এবং উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।




দর্শনায় জামায়াতের লিফলেট বিতরণ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দর্শনা পৌর শাখার উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে “গণভোটের রায় অমান্য করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা” এবং “জনগণের ক্ষমতা ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান” জানিয়ে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দর্শনা রেলবাজার এলাকায় এ লিফলেট বিতরণ করা হয়। দর্শনা রেলবাজারের মুক্তমঞ্চ থেকে শুরু করে বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এসব লিফলেট বিতরণ করা হয়।

লিফলেট বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, দর্শনা থানা সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান টুকু, সহকারী সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, দর্শনা পৌর জামায়াতের আমির ও সাবেক কমিশনার সাহিকুল আলম অপু, পৌর সেক্রেটারি শাহরিয়ার আলম দবির, জামায়াত নেতা মোহাম্মদ উল্লাহ, আমজাদ হোসেন, সুমন হোসেন, ছানোয়ার হোসেন প্রমুখ।




কুষ্টিয়ার মিরপুরে ৩১ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এর উদ্যোগে প্রায় ৩১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন সদরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব মাদক ধ্বংস করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেন, মাদকমুক্ত দেশ গঠনে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। জিরো টলারেন্স নীতি মেনে প্রতিটি সদস্য সীমান্তে দিন-রাত মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি মাদক মোকাবিলায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন। এরপর প্রধান অতিথি মাদকদ্রব্য ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১৪ কোটি ৮০ লাখ টাকারও বেশি মূল্যের চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়। এর মধ্যে মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ৩১ কোটি ৩৪ লাখ ৯৭ হাজার ৯৯৫ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে।

ধ্বংসকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ২৬ কেজি হেরোইন, ৬ কেজি কোকেন, ৬৭ হাজার ৪৯৬ পিস ইয়াবা, ৭,৭৮৭ বোতল ফেনসিডিল, ৪,৪৩২ বোতল বিদেশি মদ, ৫৫০ কেজি গাঁজা এবং বিপুল পরিমাণ ভায়াগ্রা ও সিলডেনাফিল ট্যাবলেট। এছাড়াও ৩০ বোতল এলএসডি এবং ভারতীয় ইনজেকশন ও বিড়ি ধ্বংস করা হয়।

অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. রাশেদ কামাল রনি, কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ বেসামরিক প্রশাসনের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজিবি জানিয়েছে, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিতেই নিয়মিত বিরতিতে এ ধরনের ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।