কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ৫ তলা থেকে পড়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু, মামলা দায়ের

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের ৫ তলা থেকে পড়ে রুবেল (৩০) নামের এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

গত বুধবার দুপুরে হালিমা বেগম একাডেমির সামনে রথপাড়া এলাকায় গোলাম রহমান খানের নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রুবেল মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের মজলিসপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক আলীর ছেলে।

ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের দাবি, ভবন নির্মাণে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান রুবেল। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি রাজমিস্ত্রীর সহকারী (হেলপার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহেদুর রহমান জানান, নিহতের মামা শাহাজাহান আলী বাদী হয়ে ভেড়ামারা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর-১৮। তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




মেহেরপুরে জিয়ার খাল খনন উদ্বোধন ও বাংলা নববর্ষ উদযাপন নিয়ে র প্রস্তুতি সভা

মেহেরপুর জেলা বিএনপির উদ্যোগে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর জিয়ার খাল খনন উদ্বোধন এবং বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাভেদ মাসুদ মিল্টন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান। এছাড়াও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ মোহাম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিফ ও সাধারণ সম্পাদক ইহান উদ্দিন মনা, মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় খাল খনন উদ্বোধন অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিস্তারিত প্রস্তুতি আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বক্তারা উভয় অনুষ্ঠান সফল করতে সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।




জীবননগরে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

চুয়াডাঙ্গার নবাগত জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ লুৎফুন নাহার জীবননগর উপজেলায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বেলা ১১টায় জীবননগর উপজেলা অডিটরিয়ামে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জীবননগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল।

এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ব্যবসায়ী, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মিজ্ লুৎফুন নাহার বলেন, জীবননগরসহ পুরো চুয়াডাঙ্গা জেলার সার্বিক উন্নয়নে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। তিনি প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করে উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থিত বক্তারাও এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন এবং উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।




দর্শনায় জামায়াতের লিফলেট বিতরণ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দর্শনা পৌর শাখার উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে “গণভোটের রায় অমান্য করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা” এবং “জনগণের ক্ষমতা ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান” জানিয়ে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দর্শনা রেলবাজার এলাকায় এ লিফলেট বিতরণ করা হয়। দর্শনা রেলবাজারের মুক্তমঞ্চ থেকে শুরু করে বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এসব লিফলেট বিতরণ করা হয়।

লিফলেট বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, দর্শনা থানা সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান টুকু, সহকারী সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, দর্শনা পৌর জামায়াতের আমির ও সাবেক কমিশনার সাহিকুল আলম অপু, পৌর সেক্রেটারি শাহরিয়ার আলম দবির, জামায়াত নেতা মোহাম্মদ উল্লাহ, আমজাদ হোসেন, সুমন হোসেন, ছানোয়ার হোসেন প্রমুখ।




কুষ্টিয়ার মিরপুরে ৩১ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এর উদ্যোগে প্রায় ৩১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন সদরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব মাদক ধ্বংস করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেন, মাদকমুক্ত দেশ গঠনে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। জিরো টলারেন্স নীতি মেনে প্রতিটি সদস্য সীমান্তে দিন-রাত মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি মাদক মোকাবিলায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন। এরপর প্রধান অতিথি মাদকদ্রব্য ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১৪ কোটি ৮০ লাখ টাকারও বেশি মূল্যের চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়। এর মধ্যে মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ৩১ কোটি ৩৪ লাখ ৯৭ হাজার ৯৯৫ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে।

ধ্বংসকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ২৬ কেজি হেরোইন, ৬ কেজি কোকেন, ৬৭ হাজার ৪৯৬ পিস ইয়াবা, ৭,৭৮৭ বোতল ফেনসিডিল, ৪,৪৩২ বোতল বিদেশি মদ, ৫৫০ কেজি গাঁজা এবং বিপুল পরিমাণ ভায়াগ্রা ও সিলডেনাফিল ট্যাবলেট। এছাড়াও ৩০ বোতল এলএসডি এবং ভারতীয় ইনজেকশন ও বিড়ি ধ্বংস করা হয়।

অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. রাশেদ কামাল রনি, কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ বেসামরিক প্রশাসনের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজিবি জানিয়েছে, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিতেই নিয়মিত বিরতিতে এ ধরনের ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।




দামুড়হুদায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ জনের কারাদণ্ড

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় উপজেলার হাউলি ইউনিয়নের জয়রামপুর মালিতাপাড়া এলাকায় এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকাবাসী প্রথমে মাদকদ্রব্যসহ ৪ জনকে আটক করে। পরে বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাদক সেবন ও সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮” অনুযায়ী তাদের বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড প্রদান করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে জয়রামপুর গ্রামের মৃত শামসুদ্দিনের ছেলে রবিউল ইসলামকে ২ বছরের কারাদণ্ড, দামুড়হুদা দশমী পাড়ার আমিন উদ্দীনের ছেলে কালাম হোসেনকে ১ বছর, দোস্ত গ্রামের রজব আলীর ছেলে রানা মিয়াকে ৬ মাস এবং কুমারীদহ গ্রামের মোমিন উদ্দিনের ছেলে মাহফুজ উদ্দিনকে ৩ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম। এ সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকসংক্রান্ত কোনো অপরাধ সহ্য করা হবে না।




কুষ্টিয়ায় শিক্ষার্থীর আকস্মিক মৃত্যু: স্বাভাবিক কারণ বলছেন চিকিৎসক, অপপ্রচার না ছড়ানোর আহ্বান

কুষ্টিয়ার এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. জুবায়ের আহমেদের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

তিনি দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা এলাকার মো. মহাসিন আলীর ছেলে এবং প্রতিষ্ঠানটির আবাসিক হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করতেন।

গত বুধবার দিবাগত রাতে আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ অসুস্থতা অনুভব করলে তার রুমমেটরা দ্রুত তাকে জাগিয়ে তোলে এবং বিষয়টি হল সুপারকে অবহিত করে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এটি একটি স্বাভাবিক মৃত্যু।

জানা গেছে, শিক্ষার্থী জুবায়ের দীর্ঘদিন ধরে অ্যাজমা (শ্বাসকষ্টজনিত) সমস্যায় ভুগছিলেন এবং নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করতেন। পারিবারিকভাবেও এ রোগের ইতিহাস রয়েছে বলে জানা যায়।

এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক রাসেল। তিনি বলেন, “এটি একটি দুঃখজনক কিন্তু স্বাভাবিক ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে অযথা অপপ্রচার না চালানোর জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।”

শিক্ষার্থীর বাবা মো. মহাসিন আলী জানান, “গত মঙ্গলবারও ছেলের সাথে আমার কথা হয়েছে, সে ভালোই ছিল। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার জন্য নিয়মিত ওষুধ খেত। তার মৃত্যুর বিষয়ে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই এবং এ ঘটনার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”

প্রতিষ্ঠান সূত্রে আরও জানা যায়, আবাসিক শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে রাখা হয় এবং অসুস্থতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

একজন অভিভাবক জানান, “আমার সন্তান এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং গত চার বছর ধরে এডুকেয়ারের হোস্টেলে রয়েছে। আমরা নিশ্চিন্তে থাকি। আগে অসুস্থ হলে কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে এবং আমরা এসে দেখেছি। আমি চুয়াডাঙ্গায় থাকি, কিন্তু ভালো শিক্ষার জন্যই এখানে রেখেছি। এখানকার পড়াশোনার মান ভালো এবং আবাসিকে যথাযথ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিয়মের মধ্যে রাখা হয়, যা তাদের পড়াশোনার জন্য সহায়ক। সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি আন্তরিকভাবে কাজ করছে।”

এ ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা সকলকে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার জন্য আহ্বান।




ঝিনাইদহে অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতার সমাপনী ও মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন

ক্রীড়া পরিদপ্তরের বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচি ২০২৫-২০২৬ এর আওতায় ঝিনাইদহ জেলা ক্রীড়া অফিসের আয়োজনে দিনব্যাপী (অনূর্ধ্ব-১৬) অ্যাথলেটিকস ও গ্রামীণ খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়াম মাঠে খেলার উদ্বোধন করা হয়। খেলা শেষে বিভিন্ন ইভেন্টের ১ম, ২য় ও ৩য় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

উক্ত প্রতিযোগিতায় ৮ টি স্কুল অংশগ্রহণ করে। একই দিনে মাসব্যাপী অ্যাথলেটিকস প্রশিক্ষণের (অনূর্ধ্ব-১৪) উদ্বোধন করা হয়।

উক্ত অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও মাসব্যাপী অ্যাথলেটিকস প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জেলা ক্রীড়া অফিসার আমানুল্লাহ আহমেদ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা তথ্য অফিসার মো: আব্দুর রউফ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত, জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুজ্জামান ঝন্টু, মো: আবু বকর সিদ্দিক অধ্যক্ষ, ভুটিয়ারগাতি আলিম মাদ্রাসা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ, দর্শনার্থীবৃন্দ।

মাসব্যাপী (২১ টি সেশনে) অ্যাথলেটিকস প্রশিক্ষণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৩৫ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করে।




ঝিনাইদহে চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

ঝিনাইদহে চিকিৎসকের অবহেলায় আসমা হক নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও পর্যাপ্ত নজরদারি পেলে ওই প্রসূতির প্রাণ বাঁচানো সম্ভব ছিল।

গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে জেলা শহরের শামীমা ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল প্রসবব্যথা নিয়ে শামীমা ক্লিনিকে ভর্তি হন আসমা। পরে সেখানে তার সিজার করা হয়। সিজারের পর নবজাতক সুস্থ থাকলেও আসমার শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। এর মধ্যেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র দিয়ে দেয়।

স্বজনরা বুধবার দুপুরে তাকে বাড়িতে নিয়ে গেলে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে আবারও রাতে শামীমা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আসমার চাচা আমির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ভর্তি করার পর দীর্ঘ সময় চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। যে ডাক্তারের সিজার করার কথা ছিল, তিনি সিজার করেননি। আমার ভাতিজিকে অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এরপর সে আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আবার হাসপাতালে নিয়ে আসি। সে সময় দায়িত্বরত নার্স ও চিকিৎসকরা কোনো ব্যবস্থা নেননি। এতে রোগীর অবস্থার অবনতি হলেও দ্রুত কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যবস্থা করা হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে ওই ক্লিনিকের মালিক ডা. শামীমা বলেন, “হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো দায় নেই।”

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান বলেন, “প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনা আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে পরে বলতে পারবো।”

অভিযোগ উঠেছে, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদাসীনতায় একের পর এক প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক-হাসপাতালের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজরদারির দাবি জানিয়েছেন জেলার সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।




শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে

দর্শনা কেরু উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে এ অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

কেরু উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে এ অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কেরু অ্যান্ড কোম্পানির সুযোগ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রাব্বিক হাসান।

এ সময় তিনি বলেন, এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর মা যদি তাদের সন্তানের প্রতি সচেতন হন, তবে ওই সন্তানের অবশ্যই ভালো রেজাল্ট হবে। সেই সঙ্গে মাঝে মাঝে বিদ্যালয়ে এসে সন্তানের খোঁজ-খবর নিলে তারা লেখাপড়ায় ফাঁকি দিতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। যে শিক্ষার্থী যে বিষয়ে দুর্বল, তাকে অতিরিক্ত পাঠদানের মাধ্যমে অনুশীলন করাতে হবে। এতে বিদ্যালয়ের সুনাম ও মান বৃদ্ধি পাবে। এজন্য শিক্ষক-অভিভাবকদের সমন্বয়ে ৩ মাস অন্তর অন্তর এ ধরনের অভিভাবক সমাবেশ করা প্রয়োজন। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহাব্যবস্থাপক (কারখানা) সুমন কুমার সাহা, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) আব্দুছ ছাত্তার, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) এডিএম মির্জা গালিব।

অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মমিনুল ইসলাম ও ইঞ্জিনিয়ার তুহিন নাইম ইসলামসহ প্রায় ৪ শতাধিক অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন।
অভিভাবক সমাবেশের অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন রাসেল আহম্মেদ ও ফারহা জেসমিন আফরোজ।