কুষ্টিয়ার মিরপুরে ন্যায্য মূল্যে মাংস, ডিম ও দুধ বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে কুষ্টিয়ার মিরপুর পৌরসভা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, মিরপুর।

যৌথ উদ্যোগে ন্যায্য মূল্যে গরুর মাংস, ডিম ও দুধ বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ নাজমুল ইসলাম এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ আব্দুল্লাহিল কাফি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল ইসলাম বলেন, রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনায় রেখে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তত্ত্বাবধানে দেশি ষাঁড় গরুর মাংস প্রতি কেজি ৬৭০ টাকা, ডিম প্রতি হালি ৩৪ টাকা এবং দুধ প্রতি লিটার ৭০ টাকা দরে বিক্রয় করা হচ্ছে। নির্ধারিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী পণ্য বিক্রয় নিশ্চিত করতে তদারকি ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ আব্দুল্লাহিল কাফি বলেন, ছুটির দিন ব্যতীত আগামী ২৭ রমজান পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। উদ্যোগটি সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের কার্যক্রম বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে এবং রমজানে ক্রেতাদের স্বস্তি দেবে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে পণ্য সরবরাহ অব্যাহত থাকলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে।




কুষ্টিয়ায় সংঘাত নয়, শান্তি-সম্প্রীতি স্থাপনে সাংবাদিকদের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভা

কুষ্টিয়ায় ‘সংঘাত নয়, শান্তি-সম্প্রীতি স্থাপনে সাংবাদিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে শহরের খেয়া রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা সাধারণ সম্পাদক হোসেন।

‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে প্রজেক্টরের মাধ্যমে উপস্থাপনা করেন জেন্ডার অ্যান্ড ইয়ুথ এম্পাওয়ারমেন্ট এক্সপার্ট।

দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের যশোর অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন যুগান্তর প্রতিনিধি এএম জুবায়েদ রিপন, দ্য ডেইলি স্টার প্রতিনিধি আনিস মন্ডল, দৈনিক দেশ রূপান্তর প্রতিনিধি হাসান আলী, প্রথম আলোর তৌহিদী হাসান, এখন টিভি প্রতিনিধি মেজবাহ উদ্দিন পলাশ, ভোরের কাগজের নুর আলম দুলাল, এটিএন বাংলার জেলা প্রতিনিধি তুহিন আহমেদ, বার্তা২৪-এর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট এসএম জামাল এবং দৈনিক বাংলার নাব্বির আল নাফিজ।

এমআইপিএস প্রকল্পের কার্যক্রম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরেন এমঅ্যান্ডই, রিসার্চ অ্যান্ড নলেজ ম্যানেজমেন্ট অফিসার সায়েদুল ইসলাম। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জেলা সুজন কুষ্টিয়ার সভাপতি ও পিএফজি সদস্য অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু হেনা মোহাম্মদ গোলাম রসুল বাবলু এবং মিজানুর রহমান লাকী। উপস্থিত ছিলেন এমআইপিএস প্রকল্পের খুলনা ক্লাস্টারের এরিয়া কোঅর্ডিনেটর এস এম রাজু জবেদ ও ফিল্ড কোঅর্ডিনেটর মো. আশরাফুজ্জামান।

সভার শুরুতে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ পরিচালিত মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি (এমআইপিএস) প্রকল্প সহিংসতা প্রশমনে কী কী কাজ করেছে তা সংক্ষেপে তুলে ধরেন পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি)-এর সমন্বয়কারী ও সুজন জেলা সহসভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম এবং ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপ (ওয়াইপিএজি)-এর সমন্বয়কারী সাদিক হাসান রহিদ।

সংলাপে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। ব্যক্তিগত সমস্যাকে অসাধু চক্র রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সমস্যায় রূপ দিয়ে সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করে। তবে দেশের মানুষ ধর্মীয় বিষয়ে সচেতন ও সতর্ক থাকায় এসব ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। ভবিষ্যতেও এ সচেতনতা বজায় রাখতে হবে এবং ধর্মীয় নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, সকল মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। ব্যক্তিস্বার্থ ও গোষ্ঠীস্বার্থে বিভিন্ন ইস্যু তৈরি হয়, যা পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস ক্ষুণ্ণ করে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা এবং মৌলিক চাহিদা পূরণে ঘাটতির কারণে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হয়নি। ধর্ম আমাদের জন্মসূত্রে প্রাপ্ত, এটি আবেগ ও বিশ্বাসের বিষয়।

তারা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো উদ্যোগী হলে দেশে সংঘাত-সংঘর্ষ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। পাশাপাশি শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিককে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান বক্তারা।

সভায় জাতীয় গণমাধ্যমের কুষ্টিয়া জেলার ২১ জন সাংবাদিক অংশ নেন।




ঝিনাইদহে চাঁদাবাজি বন্ধ না করলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

ঝিনাইদহ পৌরসভার হাটবাজারে অতিরিক্ত খাজনা আদায় ও খাজনার নামে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ইজারাদারের বিরুদ্ধে খাজনার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শহরের নতুন হাটখোলা বাজারে সংবাদ সম্মেলন করেন ব্যবসায়ীরা।

এ সময় বাজারের মাছের আড়ৎদার বাদশা বুলবুল, আব্দুল করিম মিয়া; কাঁচামালের আড়ৎদার হুমায়ন কবির কল্লোল এবং গোস্ত ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার দোহাই দিয়ে এবং ইজারামূল্য অতিরিক্ত নির্ধারণের অজুহাতে ইজারাদার খেয়ালখুশিমতো খাজনা আদায় করছেন। খাজনার রশিদ ছাড়াও ইজারাদার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে চাঁদা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

বাদশা মিয়া ও হাফিজুর রহমান নামে দুই ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, আগে এক মণ কাঁচামালে চার টাকা খাজনা ছিল। এখন সেই খাজনা প্রতি মণে ১৬০ টাকা দিতে হচ্ছে। চটের খাজনা আগে ১৫ থেকে ২০ টাকা ছিল, এখন দ্বিগুণ আদায় করা হচ্ছে। একজন গৃহস্থ চারটি কদু বিক্রি করতে এসে ৫০ টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

কুরবান আলী ও হাবিবুর রহমান বলেন, একটি ছাগল বিক্রি হলে দুই হাজার টাকা খাজনা আদায় করা হচ্ছে। অথচ আগে এত টাকা খাজনা দিতে হয়নি। খাজনা আদায়ের রশিদ না দিয়েই জোর করে টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন।

ব্যবসায়ীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রশাসন যদি খাজনার নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি বন্ধ না করে, তবে হাটবাজার বন্ধ করে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

ইজারাদার আক্তার হোসেন ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আগে যেমন খাজনা আদায় করা হতো, এখনো সেই নিয়মেই খাজনা আদায় হচ্ছে। নিয়মের বাইরে কিছু করা হচ্ছে না। ঝিনাইদহ পৌরসভাকে খাজনার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়ার জন্য একাধিকবার বলা হলেও তারা তা দেয়নি। এ কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, খাজনার নামে ইজারাদারের লোকজন যদি অতিরিক্ত টাকা আদায় করে, তবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক টাকাও যাতে বেশি নিতে না পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে হাটের ইজারা বাতিল করা হবে।




আলমডাঙ্গায় তিন সন্তানের জননীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার গাংনী ইউনিয়নের সাহেবপুর গ্রামে তিন সন্তানের জননীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

কুটিলা খাতুন (৪৩) নামের এই নারীর মরদেহ তার নিজ বাড়ির পাশে অবস্থিত একটি আমবাগান থেকে উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত কুটিলা খাতুন সাহেবপুর গ্রামের দিনমজুর হাসমত আলীর স্ত্রী।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কুটিলা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে স্তন ক্যান্সারের অসহনীয় যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি; বরং যন্ত্রণা আরও তীব্রতর হয়। অবশেষে তিনি তিন সন্তান রেখে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল বারি বলেন, দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় কুটিলা খাতুন মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। অসহনীয় যন্ত্রণা বাড়লে তিনি মাঝে মাঝে আত্মহত্যার চেষ্টাও করতেন বলে জানা গেছে।

পরিবারের বরাত দিয়ে রকিবুল ইসলাম জানান, ভোরে সেহরি শেষে সবার অজান্তে তিনি বাড়ির পাশের আমবাগানে যান। ফজরের নামাজের পর তার বোনের ছেলে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পায়। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দেওয়া হলে আসমানখালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

তিনি জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।




হরিণাকুণ্ডুতে আইন-শৃঙ্খলা ও সন্ত্রাস-নাশকতা প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আইন-শৃঙ্খলা এবং সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিদারুল আলমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-২ (সদর ও হরিণাকুণ্ডু) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলী আজম মোহা: আবু বকর।

প্রধান অতিথি এমপি আলী আজম মোহাঃ আবু বকর প্রথম বলেন,”উপজেলার সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। কোনো ধরনের সন্ত্রাস ও নাশকতা বরদাশত করা হবে না। মাদক, জুয়া ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।”

এসময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দজাদী মাহবুব মঞ্জুর মৌনা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান মাস্টার, জামায়াতে ইসলামী উপজেলা আমির মোঃ বাবুল হোসেন, সেক্রেটারি ইদ্রিস আলী মাস্টার, উপজেলা কৃষি অফিসার শরীফ মোহাম্মদ তিতুমীর, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ উজ্জ্বল কুমার কুন্ডু, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সাংবাদিক ও দপ্তর প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এলাকায় কোনো প্রকার অস্থিতিশীল পরিবেশ বা নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা চললে তা কঠোর হস্তে দমনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয় এবং উপজেলার হাট-বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশি টহল বৃদ্ধির ওপর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।




মেহেরপুরে অনলাইন জুয়ার প্রথম মাস্টার মাইণ্ড মুকুল ইসলাম গ্রেপ্তার

মেহেরপুরে সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের হওয়া জেলার প্রথম মামলার অন্যতম আসামি ও জেলা ব্যাপী অনলাইন ক্যাসিনো কারবার ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত কোমরপুর গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে মুকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী।

ডিবি পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি কার্যকর হওয়া সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৫-এর আওতায় মেহেরপুর জেলায় দায়ের হওয়া প্রথম মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন মুকুল ইসলাম। ওই মামলায় মোট ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছিল।

মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘সাইবার আইনে দায়ের হওয়া মামলার পলাতক আসামি হিসেবেই মূলত মুকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় জব্দ করা মোবাইল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অনলাইন জুয়া বা অবৈধ লেনদেনের কোনো ট্রেস পাওয়া গেলে নতুন আরেকটি মামলা দায়ের করা হবে। অন্যথায় বিদ্যমান মামলাতেই তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’

সাইবার মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মুজিবনগর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আরও ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৫-এর ২০(২), ২৪(২) ও ২৭(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

নথিতে উল্লেখ করা হয়, চক্রটি মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়াসহ আশপাশের এলাকায় অনলাইন জুয়া ও অবৈধ ই-লেনদেনের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল। আন্তর্জাতিক অনলাইন ক্যাসিনো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তারা দেশি-বিদেশি অর্থপাচারে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায় অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কোটি টাকার লেনদেনের পাশাপাশি ফেসবুক ও টেলিগ্রাম গ্রুপে দ্রুত আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।

এ বিষয়ে মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান বলেন, ‘অনলাইন ক্যাসিনো এজেন্টদের বিষয়ে মেহেরপুর জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। চিহ্নিত অপরাধীদের ধরতে জেলা ব্যাপী অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

কে এই মুকুল ইসলাম

অনুসন্ধানে জানা যায়, মেহেরপুর জেলায় অনলাইন জুয়া ছড়িয়ে পড়ার পেছনে যাদের নাম আলোচিত, মুকুল ইসলাম তাদের অন্যতম। শুধু মেহেরপুর নয়, বাংলাদেশে অনলাইন ক্যাসিনোর শুরুর দিকেই গুটিকয়েক ব্যক্তির মধ্যে তিনিও একজন এজেন্ট হিসেবে যুক্ত হন। করোনাকালে অনলাইন জুয়াড়ীদের হাতে খড়ি দিতেন এই মুকুল।

আরও জানা গেছে, নুরুল মাস্টার ও জামান মাস্টারের অর্থায়ন ও এজেন্ট সিম ব্যবহার করে মুকুল ইসলাম এবং ওয়াসিম হালদার মেহেরপুর জেলায় প্রথম অনলাইন ক্যাসিনো এজেন্টশিপ পরিচালনা শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে মুকুল নিজেই জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়লে নুরুল ও জামান তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন।

এরপর বিভিন্ন ব্যক্তিকে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট চ্যানেল দেওয়ার নামে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। প্রতারণার অর্থ দিয়ে জুয়া খেলতে গিয়ে একপর্যায়ে তিনি তার অবৈধ উপার্জনে অর্জিত সম্পদ বিক্রি করলেও এখনো অনলাইন জুয়ার চক্র থেকে বের হতে পারেননি।

হুমকি দিয়েছিলেন মেহেরপুর প্রতিদিনের সম্পাদককে

মেহেরপুর প্রতিদিনে অনলাইন জুয়া নিয়ে সংবাদ প্রকাশ শুরু হলে। প্রথম সংবাদের মুকুল ইসলাম নাম জড়িয়ে পড়ে। প্রথম সংবাদ প্রকাশের দিনই তিনি মোবাইল ফোনে মেহেরপুর প্রতিদিনের সম্পাদককে হুমকি দেন এবং বলেন আপনি যেখানে আছেন সেখানেই থাকেন। আপনি কিভাবে আমার বিরুদ্ধে নিউজ করেছেন আমি দেখতে চাই।  বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে মুকুল আত্মগোপনে চলে যায়।

 




দর্শনায় পূর্ব শত্রুতার জেরে কুপিয়ে জখম: ৮ জনের নামে মামলা

দর্শনা পৌরসভার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে রিপন (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখমের ঘটনায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত রোববার মাগরিবের পর মোটরসাইকেলযোগে নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে ঈশ্বরচন্দ্রপুর বড় মসজিদের সামনে তাকে এলোপাথাড়িভাবে কুপিয়ে জখম করা হয়। স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, প্রায় ৩/৪ মাস আগে একই গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে রিপনের সঙ্গে হাসেমের ছেলে খাইরুল ও সানিরুলের ছেলে রাশেদের মাদকসংক্রান্ত বিষয়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এরই জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মামলার বাদী রিপনের ছোট ভাই রুবেল হোসেন। তিনি হাসেম, খাইরুল, শোভন, কুদ্দুস, খোকনসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ১২ জনকে আসামি করে মামলা নং-১৩ দায়ের করেছেন।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাসেমের স্ত্রী ও মেয়েকে আটক করা হয়েছে।

দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




আলমডাঙ্গায় মাদকসহ এক যুবক গ্রেপ্তার

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ২০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ ফয়সাল নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আলমডাঙ্গা থানার এসআই (নিঃ) মো. বাবলু খান সঙ্গীয় ফোর্সসহ বিশেষ মাদকবিরোধী ডিউটি চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলমডাঙ্গা থানাধীন বাড়াদী ইউনিয়নের নতিডাঙ্গা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।

এ সময় নতিডাঙ্গা বাজার থেকে ফিরোজ খানের ছেলে মো. ফয়সাল আহম্মদকে তার বসতবাড়ির সামনে পাকা রাস্তার ওপর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ২০ (বিশ) পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা নং-১৯, তারিখ: ২৩/০২/২০২৬ খ্রি., ধারা: ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ৩৬(১) সারণির ২৯(ক) অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে।




দর্শনায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেকের দাফন সম্পন্ন

দর্শনা কেরুজ শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।

 সোমবার বাদ জোহর দর্শনা কেরুজ ক্লাব মাঠে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উবায়দুর রহমান সাহেলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে সেখানে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় লোকজন ছাড়াও চুয়াডাঙ্গা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আব্বাস উদ্দীন, উপজেলা আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের হাফিজুল ইসলাম, দর্শনা পৌর বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, সাবেক পৌর কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলীসহ অনেকে অংশ নেন।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন দর্শনা কেরুজ শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ সবুজ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মাসুদ, মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) আশরাফুল আলম ভূঁইয়া, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) আব্দুস ছাত্তার এবং কেরুজের শ্রমিক-কর্মচারীরা।

জানাজা শেষে আনোয়ারপুর কবরস্থানে বেদনাবিধুর পরিবেশে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।




আলমডাঙ্গার আসাননগরে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

আলমডাঙ্গার আসাননগর গ্রামে নিজ কক্ষ থেকে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।  সোমবার সকালে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহত সুজন (৩৫) আসাননগর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাব্বত আলীর ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সুজন তার স্ত্রী লিমা ও তিন সন্তানকে মারধর করে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। দীর্ঘদিন কোনো খোঁজ না পেয়ে তার বড় ছেলে লিমন বাড়িতে এসে গেট তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে ঘরের ভেতর রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় বাবার মরদেহ দেখতে পান।

প্রতিবেশীদের ভাষ্য, সুজন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। তিনি প্রায়ই স্ত্রী-সন্তানদের ওপর নির্যাতন করতেন। প্রতিবেশীরা বাধা দিতে গেলে তাদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করতেন, ফলে ধীরে ধীরে এলাকাবাসী তার বাড়িতে যাওয়া বন্ধ করে দেন।

তার বড় বোন হাসি জানান, সুজন দীর্ঘদিন মাদকাসক্ত থাকায় পরিবারের সঙ্গে তার তেমন যোগাযোগ ছিল না। তবে মাঝে মধ্যেই তিনি স্ত্রী লিমাকে মারধর করতেন।

এ বিষয়ে ওসি বানী ইসরাইল জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।