দর্শনা প্রেসক্লাবের সভাপতির ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ সভা

দর্শনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুলের ওপর হামলার প্রতিবাদে দর্শনা প্রেসক্লাবে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার ইফতার মাহফিল শেষে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

ইকরামুল হক পিপুল জানান, প্রয়াত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লিয়াকত আলীর ছেলে টুটুল শাহ তাকে গালিগালাজ ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘ওসি-এসপি আমার পকেটে থাকে’ বলেও হুমকি দেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শ্যামপুর গ্রামের শিলনের ছেলে ইমনকে (১৫) এসির তার চুরির অভিযোগে টুটুল শাহ দর্শনা থানায় নিয়ে যান। তবে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ না থাকায় পুলিশ সামাজিকভাবে মুচলেকা নিয়ে তাকে তার দাদা ফয়েজ উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করে। একই সঙ্গে তাকে দর্শনা ছেড়ে তার মামার বাড়ি ফরিদপুরে চলে যাওয়ার শর্ত দেওয়া হয়। এ সময় ইকরামুল হক পিপুল উপস্থিত ছিলেন।

পরে এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে টুটুল শাহ ও তার চাচাতো ভাইরা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুলের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় দর্শনা থানায় মৌখিক অভিযোগ করা হয়েছে। পরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে বলে জানান ইকরামুল হক পিপুল ও প্রেসক্লাবের সদস্যরা।

প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন দর্শনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান ধীরু, সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমন, সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব মামুন, চঞ্চল হেমমুদ, ওয়াসিম রয়েল, সাংবাদিক রাজিব মল্লিক, ইমতিয়াজ রয়েল, হাসমত আলী, মোস্তাফিজুর রহমান কচি, কামরুজ্জামান যুদ্ধ, রিফাত রহমান, শ্রী সুকমল বাঁধন, সাব্বির আলিম, ফারাদ হোসেন ও আব্দুল হান্নান।

এ বিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান জানান, ইমনকে থানায় আনা হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ইকরামুল হক পিপুলের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনার বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে ইমনের দাদা ফয়েজ উদ্দিন তাকে থানায় দিলে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।




দর্শনা প্রেসক্লাবের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

দর্শনা প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমিতির আয়োজনে গতকাল শনিবার ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন দর্শনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান ধীরু।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দর্শনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমন, সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব মামুন, চঞ্চল হেমমুদ, ওয়াসিম রয়েল, সাংবাদিক রাজিব মল্লিক, ইমতিয়াজ রয়েল, হাসমত আলী, মোস্তাফিজুর রহমান কচি, কামরুজ্জামান যুদ্ধ, রিফাত রহমান, শ্রী সুকমল বাঁধন, সাব্বির আলিম, ফারাদ হোসেন ও আব্দুল হান্নান।




গাংনীর বামন্দীতে রমজানের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা ও ইফতার মাহফিল

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও বিশ্বাস পরিবারের উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার বিকেলে বামন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাশিদুল ইসলাম সোহাগের পারিবারিক চত্বরে ইফতারপূর্ব আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রাশিদুল ইসলাম সোহাগ। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, গাংনী পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা, মেহেরপুর জেলা জাসাসের সভাপতি বাকা বিল্লাহ, গাংনী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দাল হক এবং জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বিপ্লব।

ইফতার মাহফিলে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

উল্লেখ্য, বামন্দী বিশ্বাস পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিবছরই এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়ে থাকে।




কুষ্টিয়া পৌরবাজারে তিন প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

কুষ্টিয়ায় বাজার তদারকির অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

শনিবার জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে সদর উপজেলার পৌরবাজার এলাকার বঙ্গবন্ধু সুপার মার্কেটে তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কাপড়ের দোকান ও কসমেটিকসের দোকান মনিটরিং করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাসুম আলী।

তিনি জানান, একদর নীতি অনুসরণের কথা থাকলেও কাপড়ের গায়ে মূল্যতালিকা উল্লেখ না থাকায় পৌরবাজারের থ্রি পিস কর্নারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া বিদেশি কসমেটিকসের ক্রয় রশিদ না থাকা এবং পণ্যের মোড়কে আমদানিকারকের নাম ও দেশীয় মূল্য উল্লেখ না থাকায় পৌরবাজারের ইমন ভ্যারাইটিজ স্টোরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই অপরাধে বিদেশি কসমেটিকসের মোড়কে আমদানিকারকের নাম ও দেশীয় মূল্য উল্লেখ না থাকায় জ্যোতি কসমেটিকসকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানের সময় এসব জরিমানা আদায় করা হয়।

বাজারে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এ সময় অভিযানে সহযোগিতা করেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক।

এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশের একটি চৌকস টিম এবং র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের একটি টহল দল উপস্থিত ছিল।




কোটচাঁদপুরে কৃষকের গোয়ালঘর ভস্মীভূত, আগুনে পুড়ল তিনটি গরু

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বলুহর ইউনিয়নের এড়ান্দাহ পূর্বপাড়া গ্রামে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মশা তাড়ানোর ‘ধূপ’ থেকে সূত্রপাত হওয়া আগুনে মো. উমবাত আলী নামে এক কৃষকের গোয়ালঘর ভস্মীভূত হয়েছে এবং গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত আয়ুব আলীর ছেলে মো. উমবাত আলী প্রতিদিনের মতো গত রাতেও তার গোয়ালঘরে মশা তাড়ানোর জন্য শুকনো গোবর বা নেড়ি দিয়ে ধূপের (কুণ্ডলী) ব্যবস্থা করেন। রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে হঠাৎ ওই ধূপের আগুন থেকে পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা গোয়ালঘরটি গ্রাস করে নেয়।

আগুনে ঝলসে ঘটনাস্থলেই প্রায় ১ লাখ টাকা মূল্যের একটি গরু মারা যায়। এছাড়া আগুনে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে আরও দুটি গরু, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। গরুর ঘরসহ সব মিলিয়ে ওই কৃষকের প্রায় ৪ লাখ টাকার সমপরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে।




চুয়াডাঙ্গায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন

চুয়াডাঙ্গায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

শনিবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সার্বিক সহযোগিতায় সার্কিট হাউজ এলাকা থেকে এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়ে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পরিচালনা করা হয়।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। এ সময় অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। অভিযানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘প্লাস্টিক, পলিথিন ও বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনার কারণে পরিবেশে মারাত্মক দূষণ সৃষ্টি হয়। এর ফলে নানা রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং ডেঙ্গুর প্রকোপও দেখা দিতে পারে। তাই আগেভাগেই সচেতনতা বাড়াতে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই অভিযান শুরু করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রতি সপ্তাহের শনিবার এ ধরনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর চুয়াডাঙ্গা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

অভিযান চলাকালে শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি এবং মহাসড়কের পাশ থেকে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ সময় বাসা-বাড়ির বাসিন্দাদের উদ্দেশে সচেতনতামূলক বার্তা দেওয়া হয় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলা এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অভিযানে অংশগ্রহণকারীরা অঙ্গীকার করেন, পৌর শহরের কোথাও ময়লা-আবর্জনার স্তুপ থাকতে দেওয়া হবে না এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাই একযোগে কাজ করবেন।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি. এম. তারিক-উজ-জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আলাউদ্দিন আল আজাদ, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নাঈম, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশিস মোমতাজ, মির্জা শহিদুল ও আশফাকুর রহমান এবং টিটিসির অধ্যক্ষ মুছাব্বেরুজ্জামানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু ও খালিদ মাহমুদ মিল্টন, পৌর জামায়াতের আমির হাসিবুল ইসলাম, নায়েবে আমির মাহবুব আশিক, সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশিদ ঝন্টুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং চুয়াডাঙ্গা ভলেন্টিয়ার্সের সদস্যরা।




মেহেরপুর পৌর আ. লীগের সভাপতি ইকবাল হোসেন বুলবুলের দাফন সম্পন্ন

মেহেরপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ইকবাল হোসেন বুলবুলের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে মেহেরপুর শহরের শহীদ শামসুজ্জোহা পার্কে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

শনিবার ভোরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

ইকবাল হোসেন বুলবুল শহরের বোসপাড়ার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম ছহিউদ্দীন বিশ্বাসের মেজ ছেলে এবং সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন দোদুলের মেজো ভাই।

জানাজায় প্যারোলে মুক্তি পেয়ে উপস্থিত হন জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সরফরাজ হোসেন মৃদুল।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইকবাল হোসেন বুলবুলের বড় ভাই সহিদ সাদেক হোসেন (বাবুল), জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মিয়াজান আলী, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম শাহিন, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক আহ্বায়ক আরিফুল এনাম বকুল, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাসুদ অরুন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাসসহ তার আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।




গাংনীতে সাপ্তাহিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে মেহেরপুরের গাংনীতে সাপ্তাহিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার সকালে গাংনী উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে এ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন উপজেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসন।

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। তিনি সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও এ ধরনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন, পৌর প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।




শৈলকুপার ১৮৪০ কৃষক পাবেন ‘কৃষি কার্ড’

দেশের প্রান্তিক চাষিদের ভাগ্যোন্নয়নে এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের আদলে সারা দেশে চালু হতে যাচ্ছে ‘কৃষি কার্ড’।

দেশের আটটি বিভাগের নয়টি উপজেলায় প্রাথমিকভাবে চালু হচ্ছে ‘কৃষি কার্ড’ কর্মসূচি। এরমধ্যে রয়েছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা। প্রি পাইলটিং হিসেবে উপজেলার আবাইপুর ইউনিয়নের কৃপালপুর ব্লকের ৬টি গ্রামে প্রাথমিকভাবে শুরু হয়েছে কৃষি কার্ডের তথ্য সংগহ। পাচপাখিয়া, কৃপালপুর, যুগনী, বাগনী, চরবাগনী, পদ্মনগর গ্রামের কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করতে মাঠে কাজ করছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ।

শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন,‘চলতি মাসের মধ্যে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ শেষ করতে হবে। এরপর এপ্রিল মাসের ৭ তারিখের মধ্যে কার্ড তৈরি করতে হবে। আর পয়লা বৈশাখে কার্ড বিরতণ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রাথমিকভাবে এই উপজেলায় ১৮৪০ জন কৃষক এই ‘কৃষি কার্ড পাবে, যা পরবর্তিতে পর্যায়ক্রমে আরও বাড়বে।




ঝিনাইদহে লাশ নিয়ে বিএনপির বিক্ষোভ, জামায়াতের দাবি স্ট্রোকে মৃত্যু, গ্রেপ্তার ৩

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে নিহত কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীর লাশ নিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি। অন্যদিকে স্ট্রোকে মৃত্যুর দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে জামায়াতে ইসলামী ঝিনাইদহ সদর শাখা।

শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে ঝিনাইদহ মর্গ থেকে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিএনপি। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে হামদহ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, দলটির নেতাকর্মী ছাড়াও নিহতের স্বজনরা বক্তব্য রাখেন।

সে সময় জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. এম এ মজিদ বলেন, জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীকে মাথায় আঘাত করে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছে। সিটি স্ক্যানে তার মাথায় আঘাতের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে, যে কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তারা ইনসাফের লেবাস পরে করে বে-ইনসাফ। ওরা একটি বেইমান মুনাফেক দল। আমরা এই ন্যাক্কারজনক হত্যার বিচার চাই।

এদিকে তরু মুন্সীর মৃত্যু স্ট্রোকজনিত কারণে হয়েছে বলে দাবি করেছে জামায়াত।

শনিবার দুপুরে জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলা জামায়াতের থানা আমীর ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মাধবপুর গ্রামে মহিলা জামায়াতের ইফতার মাহফিল ছিল। সেখানে বিএনপির লোকজন গিয়ে নারীদের মারধর ও শ্লীলতাহানি করে। যে কারণে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়। তরু মুন্সীর গায়ে কেউ আঘাত করেনি। তিনি হার্টের রোগী, তার মৃত্যু স্ট্রোকজনিত কারণে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ড. হাবিবুর রহমান।

তিনি আরও বলেন, তরু মুন্সী শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। মারামারির কারণে তিনি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে স্ট্রোক করেন। যে কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যু নিয়ে অপ-রাজনীতি করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে জামায়াতের মহিলা শাখার পক্ষ থেকে ইফতারের আয়োজন করা হয়। দুপুরে ইফতারের আয়োজন নিয়ে নারী কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে মহিলা কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীর অবস্থা গুরুতর হলে তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। সেখানে রাত ৮টার দিকে মারা যান তরু মুন্সী। নিহত তরু ইউনিয়ন কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন (অর্থ ও প্রশাসন) জানান, তরু মুন্সীর ছেলে শিপন মিয়া ৫১ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং সেই মামলায় এ পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।