দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ৩ দিন বন্ধ

ভারতের নদিয়া জেলার বিধানসভা নির্বাচনের কারণে তিন দিন বন্ধ থাকবে দর্শনা-গেদে বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল।

তবে যেসব ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে অবস্থান করছেন, তারা ফিরতে পারবেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের এক অফিস আদেশের সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দর্শনা ইমিগ্রেশনের ইনচার্জ এসআই তুহিন।

তিনি জানান, আগামী ২৯ এপ্রিল ভারতের নদিয়া জেলায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে নদিয়া জেলার সীমান্তবর্তী চুয়াডাঙ্গার দর্শনা বন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ৯টা ২০ মিনিট থেকে ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দর্শনা আইসিপির কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন দিয়ে পাসপোর্টধারী নাগরিকদের গমনাগমন বন্ধ করে দিয়েছে ভারতের গেদে বন্দর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।

তবে বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকরা নিজ দেশে ফিরতে পারবেন। আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে পূর্বের মতো কার্যক্রম চালু হবে।




দামুড়হুদায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

দামুড়হুদায় শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সাধনসহ সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে “প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬ ইং” উপজেলা পর্যায়ের ফাইনাল খেলার উদ্বোধনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার বেলা ৪টায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে টুর্নামেন্টটি চিৎলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমীন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনাদের সকল সমস্যা, সুবিধা-অসুবিধা আমরা দেখবো। বিনিময়ে আপনারা আমাদের ছোট ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শুধু শিক্ষাদানই নয়, মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন এবং নৈতিকতার শিক্ষা দেবেন।” এ সময় তিনি স্কুলের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি সকল ইভেন্টে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার উবায়দুর রহমান সোহেল। সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও বলেন, “আমাদের এই সীমান্তবর্তী উপজেলায় খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। কারণ সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের আনাগোনা বেশি। শিক্ষার্থীরা খেলাধুলায় মনোনিবেশ করলে তারা মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা পাবে। শুধু তাই নয়, খেলাধুলা একজন শিক্ষার্থীর দেহ ও মন ভালো রাখে।” তিনি ইভেন্টে অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ জানান।

সবুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বখতিয়ার রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহা. মশিউর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী খালিদ হাসান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দামুড়হুদা উপজেলা শাখার আমীর নায়েব আলী, সেক্রেটারি জেনারেল আবেদ-উদ-দৌলা টিটন, দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, খেলায় অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়, আমন্ত্রিত অতিথি ও বিপুল পরিমাণ দর্শকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু হাসান।




গাংনীতে টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদককারবারী যুবক আটক

মেহেরপুরের গাংনীতে মাদকবিরোধী অভিযানে চালিয়ে ১০০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মুন্না শেখ (২২) ও সজল ইসলাম(২১) নামের দুই যুবককে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল।

রবিবার দুপুরে গাংনী-মেহেরপুর সড়কের হলপাড়া নামক এলাকায় ব্যাটারীচালিত অটোবাইকে তল্লাশী করে তাদের আটক করা হয়।

আটক মুন্না শেখ মেহেরপুর পৌরসভাধীন কাথুলী মোড় এলাকার মনিরুল ইসলামের ছেলে এবং সজল আলী একই এলাকার জাহিদুল ইসলামের ছেলে।

মাদকদ্রব‍্য সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই রহমত আলীর নেতৃত্বে মাদকদ্রব‍্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল সন্দেহজনক হওয়ায় একটি ব্যাটারীচালিত অটোবাইকের গতিরোধ করে। এসময় যাত্রীদের মধ্যে দুই যাত্রীকে তল্লাশী করলে তাদের কাছ থেকে টাপেন্টাডল ট‍্যাবলেট পাওয়া যায়। এবং ১০০ পিস টাপেন্টাডল ট‍্যাবলেটসহ তাদের দুজনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে গাংনী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।




শৈলকুপা থানায় ১৪ ঘণ্টা সাংবাদিককে আটক রেখে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার

ঝিনাইদহের শৈলকুপা থানায় আশরাফুল ইসলাম নামের এক সাংবাদিককে বাড়ি থেকে ডেকে এনে ১৪ ঘণ্টা আটকে রাখার পর একটি হত্যা মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে উপজেলার গাড়াগঞ্জের বড়দা ব্রিজ এলাকা থেকে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়। রোববার দুপুর ২টা পর্যন্ত তাকে শৈলকুপা থানার মধ্যে আটকে রাখা হয়েছিল। এই দীর্ঘ সময় আটকে রাখার কোনো কারণই জানায়নি পুলিশ। ওই সাংবাদিকের পরিবারের দাবি, ১৪ ঘণ্টা আটকে রাখার পর কেন বা কী উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলো তা স্পষ্ট নয়। অথচ সংঘর্ষে হত্যার শিকার মোহন শেখ তার চাচাতো দাদা হন।

আশরাফুল ইসলাম বাংলা এডিশনের ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি এবং ঝিনাইদহ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি শৈলকুপা উপজেলার মাধবপুর গ্রামের আক্কাচ আলীর ছেলে। পূর্বে তার নামে কোনো মামলা নেই বলে জানিয়েছে শৈলকুপা থানার পুলিশ।

আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী শান্তা খাতুন বলেন, শনিবার রাতে তার স্বামী আশরাফুল ইসলাম স্ত্রীর বাবার বাড়ি ব্রাহিমপুর গ্রামে অবস্থান করছিলেন। এ সময় রাত ১২টার দিকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বড়দা ব্রিজ এলাকায় ডেকে আনেন শৈলকুপা থানার এসআই তরিকুল ইসলাম। থানার ওসি ওই সাংবাদিকের সঙ্গে চা খাবেন জানিয়ে তাকে শৈলকুপা থানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর থেকে থানায় তাকে প্রায় ১৪ ঘণ্টা আটক রাখা হয়।

আশরাফুলের বাবা আক্কাচ আলী বলেন, “আমার ছেলে পেশায় একজন সংবাদকর্মী। সে দীর্ঘদিন ধরে জেলা শহরে বসবাস করে আসছে। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকলেও পুলিশ তাকে থানায় ১৪ ঘণ্টা আটকে রেখে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। আমার ছেলে নিরপরাধ। যে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সেই মামলার বাদী আমার আপন চাচাতো ভাই। যিনি হত্যার শিকার হয়েছেন, তিনি আমার ছেলের আপন চাচাতো দাদা। আমার ছেলেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফাঁসানো হচ্ছে।”

মামলার বাদী মোহন শেখের ছেলে হারুন অর রশিদ বলেন, “গত ২৩ এপ্রিল সকালে আমার বাবাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনায় ৪২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করি। অথচ রোববার দুপুরে সেই মামলায় আমার আপন চাচাতো ভাতিজা আশরাফুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আমার বাবা হত্যার ঘটনায় ভাতিজা জড়িত নয়। ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “আমার ভাতিজা সাংবাদিকতা করে, জেলা শহরে থাকে। সে হত্যার সঙ্গে জড়িত নয় এ কথা জানালেও পুলিশ তাকে আদালতে পাঠিয়েছে।”

শৈলকুপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, “একটি মামলার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে আশরাফুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তিকে আটক রাখা হয়েছিল। এখন তাকে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।” কী মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, “আদালতে খোঁজ নিয়ে মামলার বিবরণ জেনে নিন।”

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক আশরাফুল ইসলামকে যে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, নিহতের সঙ্গে তার নিবিড় পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। মামলার এজাহারে নাম না থাকার পরও তাকে গ্রেপ্তার এবং স্বয়ং বাদীর আপত্তির বিষয়টি পুলিশের পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই ঘটনাকে ‘আইনের অপপ্রয়োগ’ হিসেবে অভিহিত করে নিন্দা জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করতেই এই নাটকীয় গ্রেপ্তারের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা অবিলম্বে ওই সাংবাদিকের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।




শৈলকুপায় মোহন শেখ হত্যার ঘটনায় ৪২ জনকে আসামী করে মামলা, গ্রেপ্তার ১

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় গত বৃহস্পতিবার সামাজিক আধিপত্য বিস্তার করা নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে মোহন শেখ নিহতের ঘটনায় ৪২ জনকে আসামী করে শৈলকুপা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।

শনিবার বিকালে নিহতের ছেলে হারুনর রশিদ বাদী হয়ে এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। এ ঘটনায় শের আলী নামের এজাহারভূক্ত এক আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ন কবির মোল্লা বলেন, গত বৃহস্পতিবার উপজেলার ৯নং মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় মোহন শেখ নামের এক জন নিহত হন।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে হারুনর রশিদ বাদী হয়ে শনি বার দুপুরে ৪২ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তিনি আরও বলেন এই মামলায় শের আলী নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।




ঝিনাইদহে গ্রাম আদালত উৎসব অনুষ্ঠিত

জেলায় জেন্ডার সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গ্রাম আদালত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার পিছিয়ে পড়া নারী জনগোষ্ঠীর মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। কমিউনিটি বেতার সংস্থা ‘রেডিও ঝিনুক’ এ উৎসবের আয়োজন করে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক রথীন্দ্র নাথ রায় উৎসব উপলক্ষ্যে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন।

রেডিও ঝিনুকের স্টেশন ব্যবস্থাপক ইমন হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা গ্রাম আদালতের ব্যবস্থাপক মো. ওহিদুর রহমান, বেসরকারি সংস্থা সৃজনী ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক মো. রহিদুর রহমান, পোড়াহাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

উৎসবে কুইজ প্রতিযোগিতা, সচেতনতামূলক বইয়ের স্টল, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ভিডিও চিত্র প্রদর্শন সহ পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। এসময় বিভিন্ন এলাকার নারী, কিশোরী ও প্রান্তিক নারী সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আয়োজকরা জানান, জেলার পিছিয়ে পড়া নারী জনগোষ্ঠীর জেন্ডার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও গ্রাম আদালতের সুবিধা সম্পর্কে অবহিত করতেই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজনের মধ্যদিয়ে নারীরা তাদের অধিকার, গ্রাম আদালতে বিচারপ্রাপ্তি ও যাবতীয় সুবিধাদি সম্পর্কে সহজেই জানতে পারছেন।




মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সীমান্তে প্রায় ১০ হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধার

মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদক ও ভারতীয় চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৪৭ বিজিবি)।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) দিনব্যাপী পরিচালিত এসব অভিযানে ইয়াবা, মদ, গাঁজা ও নেশাজাতীয় ওষুধ উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার দুপুরে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) সদর থেকে একটি বিশেষ টহল দল মিরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মেহেরপুর থেকে কুষ্টিয়াগামী ‘আলহাজ্ব এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৯ হাজার ৯৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ২৯ লাখ ৯১ হাজার টাকা।

একই দিন ভোরে কাজীপুর বিওপির একটি দল কাজীপুর বর্ডারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০ বোতল ভারতীয় মদ, ৯০০ পিস ডেক্সামেথাসন এবং ৬০০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট জব্দ করে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

এছাড়া প্রাগপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ গরুরা মাঠ এলাকা থেকে ২ লাখ ৫৫ হাজার ২০০ টাকা মূল্যের ৪ হাজার ৬৪০ প্যাকেট ভারতীয় পাতার বিড়ি এবং জামালপুর বিওপির ধর্মদাহ মাঠ এলাকা থেকে ৪ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক জানান, জব্দকৃত এসব চোরাচালান পণ্যের সর্বমোট আনুমানিক মূল্য ৩৭ লাখ ৪০ হাজার ২০০ টাকা।

তিনি আরও বলেন, “সীমান্ত সুরক্ষা এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করে আসছে।

দেশের যুবসমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”




এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. রুহুল আমিন

কুষ্টিয়ার স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. রুহুল আমিন। তার এ সফর প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিদর্শনকালে তিনি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম গভীর মনোযোগসহ পর্যবেক্ষণ করেন। শ্রেণিকক্ষের পাঠদান পদ্ধতি, ল্যাবরেটরি সুবিধা, শিক্ষার মান, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং সামগ্রিক একাডেমিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন, যা উপস্থিত সবার মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলে।

পরে অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন।

তিনি বলেন, “শিক্ষকরা যখন তোমাদের শাসন করেন বা বকাঝকা করেন, তা তোমাদের মঙ্গলের জন্যই করেন। নিয়মিত পড়াশোনা করা এবং ক্লাসের পড়া ক্লাসেই শেষ করা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষকদের নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, ভবিষ্যতে তোমাদের মধ্য থেকেই কেউ এই জায়গায় দাঁড়িয়ে কথা বলবে এই লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। গ্লোবালাইজেশনের এই যুগে নিজেকে বিশ্লেষণ করে দক্ষ করে তুলতে হবে, তবেই সফলতা অর্জন সম্ভব।”

তার এই পরিদর্শনকে শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে পাঠদান পদ্ধতি উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হক, পরিচালক মো. সোহেল রানা, প্রিন্সিপাল (একাডেমিক) মিস দিলরুবা পারভিন, ভাইস প্রিন্সিপাল মো. ফায়জুর রহমানসহ সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার পরিদর্শন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।




ময়লা-আবর্জনায় ডুবে কোটি টাকার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন

ভবনের সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতেই চোখে পড়ে ধুলোবালি আর ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। দেখলেই বোঝা যায়, অনেক দিন এই পথে কারও পদচারণা হয়নি। ভবনের বাইরের দেয়ালে জমেছে শেওলা।

ভেতরের দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে। প্রতিটি কক্ষের শাটারগুলোতে ধরেছে মরিচা। কনফারেন্স কক্ষের আসবাবপত্রেও জমে আছে পুরু ধুলোর আস্তরণ। সাংগঠনিক কাজকর্মে খোলা হচ্ছে না অফিস ভবন। ভবনটি ব্যবহূত না হওয়ায় অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে কমপ্লেক্সের মূল্যবান আসবাবপত্র। যেন নীরব সাক্ষ্য। এটাই দামুড়হুদা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের ভেতরের বাস্তব চিত্র।

গতকাল শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে— ভাঙা জানালা, টয়লেটের, বেসিন, আসবাবপত্রেও যান্ত্রিক ডিভাইস শক্তি জেনারেটর, ভবনজুড়ে এখন কেবল দুর্গন্ধ আর কুকুর বিড়ালের বিচরণ। ভবনের চারপাশে নোংরা আবর্জনায় ভরপুর। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এখন পরিণত হয়েছে ভুতুরে বাড়িতে। নেই মুক্তিযোদ্ধাদের পদচারণা, নেই কোনো কার্যক্রমের চিহ্ন। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে নির্মিত এই ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত ও অযত্নে পড়ে আছে।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর তত্ত্বাবধানে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন এর কলেজ রোডে দক্ষিণ পাশে ৪ তলা বিশিষ্ট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবনের প্রাথমিক খরচ যোগান দিতে প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় দোকানঘর নির্মাণ করা হয়। এছাড়া তৃতীয় তলায় রয়েছে অফিস কক্ষ, বিশাল আকৃতির একটি কনফারেন্স রুম। অফিস কক্ষে রয়েছে উন্নত আসবাবপত্রসহ আধুনিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। ভবনের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হলে ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু ভবনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাতায়াত নেই। সারা বছর ভবনগুলো তালাবদ্ধ থাকে। মাসের পর মাস অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন অবস্থায়, ময়লা-আবর্জনায় ডুবে থাকে। তাই অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার ভবনসহ মূল্যবান আসবাবপত্র।

একই সঙ্গে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ অপচয় হচ্ছে।

এদিকে, এলাকার সাধারণ মানুষও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সঠিক পরিকল্পনা না করে কোটি টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ করা হলেও তা ব্যবহার না হওয়ায় রাষ্ট্রের সম্পদ দেখভাল করার কেউ না থাকায় ফলে অযত্ন–অবহেলায় দিন দিন নষ্ট হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ভবনটি।

একাধিক মুক্তিযোদ্ধা বলেন, নিজেদের মাঝে অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। ভবনটি দামুড়হুদা উপজেলা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে কার্পাসডাঙ্গা বাজার হওয়ায় অনেক মুক্তিযোদ্ধাই সেখানে যেতে অনীহা প্রকাশ করেন। প্রায় সকল বীর মুক্তিযোদ্ধার বয়সই ৯০-এর কোটায়, সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠা তাঁদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। ভবনটি মাসের পর মাস তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার এটিও একটি কারণ। মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করে বলেন, সঠিক পরিকল্পনা না করে ভবনটি নির্মাণ হওয়ায় এটি আজ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তাঁদের কল্যাণে ভবনটি নির্মিত হলেও ব্যবহার না হওয়ায় তাঁরা প্রত্যাশিত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।এতে কোটি টাকার সরকারি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। অপচয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: উবায়দুর রহমান সাহেল বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মী নাই এ জন্য এই অবস্থা। আমরা পরিষ্কার -পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নিয়েছি কাজ চলছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবী দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সরকারি এই সম্পদ পুরোপুরি মাদক ব্যবসায়ীদের দখলে চলে যাওয়ার আশঙ্কা।




চুয়াডাঙ্গায় তাপদাহ অব্যাহত, নিউমোনিয়ায় শিশুর মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গার উপর দিয়ে অব্যাহত রয়েছে মৃদু তাপদাহ। সেই সাথে ভ্যাপসা গরমে বেড়েছে দুর্ভোগ। বাড়ছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ গরমজনিত নানা রোগ। এদিকে, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাহা নামে ৬ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল শনিবার বেলা ১১ টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি। রাহা চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার তালতলা গ্রামের সম্রাট আলীর ছেলে।

গত শুক্রবার সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় শিশু রাহাকে। গরমে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। সকাল থেকেই উত্তপ্ত হতে শুরু করছে চুয়াডাঙ্গার জনপদ। ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল হয়ে পড়েছে জনজীবন।

ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কাজকর্ম। জীবিকার তাগিদে তীব্র রোদে পুড়ে কাজ করতে হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষকে। তীব্র গরমে ঘরে-বাইরে কোথাও মিলছে না স্বস্তি। খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না কেউ।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, গতকাল শনিবার বিকেল ৩ টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৪৭ শতাংশ।