জীবননগরে ডিবি পরিচয়ে ছিনতাইয়ের চেষ্টা, গণপিটুনিতে আটক ২

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ডিবি পুলিশের পোশাক পরে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করার সময় দুই ভুয়া সদস্যকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাদের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ সময় তাদের আরও চার সহযোগী পালিয়ে যায়।

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের পীচমোড় চিংড়িখালী ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক দুজন হলেন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বাজারপাড়া এলাকার ইউসুফ আলী বিশ্বাসের ছেলে রিজভী সালমান রহমান (২৯) এবং একই উপজেলার গাবতলাপাড়া গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে আহাদ আলী (৩৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডিবি পুলিশের পোশাক পরে কয়েকজন ব্যক্তি ওই এলাকায় এক নারীর কাছ থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া করলে দুইজন ধরা পড়ে। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাদের গণপিটুনি দেয় এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করে। তবে তাদের সঙ্গে থাকা আরও চারজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ বলেন, “আমি চুয়াডাঙ্গায় একটি মিটিংয়ে ছিলাম। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে থানা পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়। আটক দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




আলমডাঙ্গায় মসজিদে ফ্রি কুরআন শিক্ষা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার পারকুলা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী জামে মসজিদে ফ্রি কুরআন শিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের পারকুলা গ্রামের এই মসজিদটি ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে গ্রামবাসীর সহযোগিতা ও মসজিদ কমিটির তত্ত্বাবধানে এখানে ধর্মীয় শিক্ষা ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

২০১৯ সাল থেকে মসজিদটির উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্রি কুরআন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। তিন যুগের সভাপতি হাজী মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন, মসজিদ কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং গ্রামবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় এ কার্যক্রমের মাধ্যমে বহু শিশু-কিশোর ও মুসল্লি কুরআন শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ কুরআন তেলাওয়াত শিখতে সক্ষম হয়েছে এবং এই শিক্ষা কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।

যেসব শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ কুরআন তেলাওয়াত শিখতে পেরেছে, তাদের সম্মাননা ও উৎসাহ দিতে গ্রামবাসীর উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। পরে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা নজরুল ইসলাম।

আয়োজকদের মতে, শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং কুরআন শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

এই কুরআন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন সময় জুমার দিনে দিকনির্দেশনা ও শিক্ষা প্রদান করেন হাফেজ মাওলানা নজরুল ইসলাম। নিয়মিত ক্লাস পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন হাফেজ হুসাইন।

উল্লেখ্য, পারকুলা জামে মসজিদের আদলে দেশের অন্যান্য মসজিদেও মসজিদভিত্তিক ফ্রি কুরআন শিক্ষা কার্যক্রম চালুর জন্য সরকারের প্রতি এবং দেশের মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ কুরআন শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে এবং ইসলামের মৌলিক শিক্ষার প্রসার আরও বৃদ্ধি পাবে।




আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা

আলমডাঙ্গায় উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে সোমবার এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। মাদক, চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার, থানা ওসি (অপারেশন) আলী হোসেন, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল হক, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মৌদুদ আলম খান, ইউপি চেয়ারম্যান মিনাজ উদ্দিন, তবারক হোসেন, আসাদুল হক মিকা, আশিকুর রহমান ওল্টু, সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, আলমডাঙ্গা সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইলিয়াস হোসেন, তথ্য কর্মকর্তা স্নিগ্ধা দাস, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম এবং আলমডাঙ্গা ছাত্র সমন্বয়ক আহ্বায়ক আরাফাত হোসেন।

এছাড়াও উপজেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সভায় উপস্থিত ছিলেন।




আলমডাঙ্গায় ডামোশ-ঘোলদাড়ি খাল পুনঃখননের অনুমোদন, কৃষকদের স্বস্তি

দীর্ঘদিনের দাবি ও অপেক্ষার পর অবশেষে আলমডাঙ্গা উপজেলার ডামোশ থেকে ঘোলদাড়ি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখননের অনুমোদন পাওয়া গেছে। বহু বছর ধরে অবহেলা, দখল ও ভরাটের কারণে প্রায় বিলীন হয়ে যাওয়া খালটি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডামোশ থেকে ঘোলদাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত এই খালটি একসময় এলাকার কৃষি ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। বর্ষা মৌসুমে আশপাশের জমির অতিরিক্ত পানি এই খালের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্কাশন হতো এবং শুষ্ক মৌসুমে খালের পানি ব্যবহার করে কৃষকেরা সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাব, বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখল, মাটি ফেলে ভরাট এবং আবর্জনা জমতে জমতে খালটির অনেকাংশ কার্যত অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা সৃষ্টি হয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দেয় এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটে পড়েন কৃষকেরা। এতে এলাকার কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

এ অবস্থায় খালটি পুনঃখননের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী। অবশেষে সেই দাবি বাস্তবায়নের পথে এগোনোয় এলাকায় স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। খাল পুনঃখননের অনুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, খালটি সচল হলে আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশন হওয়ায় জলাবদ্ধতার সমস্যাও অনেকাংশে কমে যাবে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকদের আর্থিক ক্ষতিও কমবে বলে তারা আশা করছেন।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে খাল পুনঃখননের কাজ শুরু করা হলে এলাকার কৃষি ও পরিবেশের জন্য তা বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে খালটি যেন আবার দখল ও ভরাটের শিকার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ডামোশ থেকে ঘোলদাড়ি পর্যন্ত এই খাল পুনঃখনন করা হলে শুধু কৃষি নয়, এলাকার সার্বিক পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ খালটি দ্রুত পুনরুদ্ধার করে আগের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা হবে।




কুষ্টিয়ায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান: দুই ফ্যাশন হাউজকে জরিমানা

কুষ্টিয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

সোমবার কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মজমপুর ও আর.এ. খান রোড এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ও ফ্যাশন হাউজে মনিটরিং কার্যক্রম চালানো হয়।

অভিযান চলাকালে আর.এ. খান রোডের শৈশব ফ্যাশন হাউজকে ডিসকাউন্ট পণ্যে ছাড়ের হার উল্লেখ না করা এবং অতিরিক্ত ভ্যাট আদায়কৃত পণ্যের গায়ে তা উল্লেখ না করায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া মিথ্যা বিজ্ঞাপন প্রচার এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যথাযথ পণ্য বিক্রি না করার অভিযোগে ভেরু ফ্যাশন হাউজকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা আদায় করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাসুম আলী। এ সময় অভিযানে সহায়তা করেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক।

অভিযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের একটি টিম এবং র‍্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের একটি টহল দল দায়িত্ব পালন করে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানায়, বাজারে ন্যায্যতা বজায় রাখা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় এ ধরনের তদারকি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




ঝিনাইদহে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন

অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ঝিনাইদহে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।সোমবার সকালে শহরের পায়রা চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করে কনজুমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচীতে ক্যাবের সভাপতি এন এম শাহজালাল, সাধারণ সম্পাদক শরিফা খাতুন, জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহেরসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

সেসময় বক্তারা বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এবং ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতে আরও তদারকির দাবি জানান তারা।




ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে ফ্রেন্ডস চ্যারিটির উপহার বিতরণ

মেহেরপুরে গরিব ও দুস্থ মানুষের মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছে “ফ্রেন্ডস চ্যারিটি”।

জিনিয়াস ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের এসএসসি-২০২১ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গঠিত এই সংগঠনের পক্ষ থেকে এবছর ১২০টি গরিব-দুস্থ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে।

সংগঠনের সদস্যরা জানান, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল গরিব-দুস্থ পরিবারের মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া, যাতে তারা ঈদকে আরও আনন্দমুখরভাবে উদযাপন করতে পারেন।

“ফ্রেন্ডস চ্যারিটি” ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজে অবদান রেখে আসছে। সংগঠনটি শীতবস্ত্র বিতরণ, অসহায়দের চিকিৎসায় সহায়তা প্রদান এবং বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর মতো বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা জানান, প্রথমে মাত্র ২৪টি পরিবারের মাঝে উপহার বিতরণের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। বর্তমানে ১২০টি পরিবারের মাঝে সহায়তা পৌঁছে দিতে পেরে তারা আনন্দিত।

তারা ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করার আশা প্রকাশ করেন, যাতে সমাজের সব শ্রেণির মানুষ ঈদসহ বিভিন্ন উৎসব আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করতে পারেন।

উল্লেখ্য, গত শনিবার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।




মেহেরপুরে অসহায় মানুষের মাঝে জেলা পরিষদের আর্থিক সহায়তা বিতরণ

মেহেরপুরে জেলা পরিষদের অনুদান খাতের অর্থের মাধ্যমে অসুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার সকালে জেলা পরিষদের মিলন আয়তনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ৮০ জন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে এ আত্মিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির। এ সময় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ গোলাম জাকারিয়া, নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সামিউল হক, উচ্চমান সহকারী শাহিন ইকবালসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




মেহেরপুরে ঘাস কাটার মেশিনের নিচ থেকে ১৭ বোতল কোডিন সিরাপ উদ্ধার

মেহেরপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ শালিকা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ঘাস কাটার মেশিনের নিচে তৈরি করা গোপন চেম্বার থেকে ১৭ বোতল কোডিন ফসফেটযুক্ত সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক বিদ্যুৎ বিহারী নাথের নেতৃত্বে সদর উপজেলার দক্ষিণ শালিকা এলাকার পুরাতন জামে মসজিদপাড়ায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে মো. ফয়জুদ্দিন (৫৫) নামক এক ব্যক্তির বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ঘাস-বিটালি কাটার মেশিনের নিচে বিশেষভাবে তৈরি করা গোপন চেম্বার থেকে ১৭ বোতল ‘এসকাফ’ নামের কোডিন ফসফেটযুক্ত সিরাপ উদ্ধার করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ফয়জুদ্দিন ও তার স্ত্রী মুশিয়া দীর্ঘদিন ধরে কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেনসিডিল ও ফেনসিডিলজাতীয় মাদকদ্রব্যের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে এসব সিরাপ উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় অভিযুক্ত ফয়জুদ্দিন ও তার স্ত্রী মুশিয়াকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক বিদ্যুৎ বিহারী নাথ বাদী হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।




মেহেরপুরের বারাদী ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফের চাল বিতরণ

মেহেরপুরের বারাদী ইউনিয়ন পরিষদে হতদরিদ্র ও অতি দরিদ্র মানুষের মাঝে ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণ করা হয়েছে।  সোমবার সকাল থেকে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এ চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়।

দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ১০ কেজি করে চাল পেয়ে সন্তুষ্টির হাসি নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন সুবিধাবঞ্চিত মানুষরা। তাদের জন্য এই ১০ কেজি চাল কয়েকদিনের খাদ্যচিন্তা লাঘব করবে বলে জানান অনেকেই।

চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজন একে অপরের সঙ্গে কথা বলে সময় কাটান এবং সুখ-দুঃখের গল্প ভাগাভাগি করেন। অনেক প্রবীণ মানুষের কাছে এটি যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

এবার প্রকৃত দুঃস্থ, অতি দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে সহায়তা পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা স্বচ্ছভাবে কাজ করতে পেরেছেন বলেও তারা মন্তব্য করেন। এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।

এ বিষয়ে বারাদী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক রাকিবুল ইসলাম বলেন, এবার আমরা ব্যতিক্রমভাবে বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। পরিষদের দফাদার ও চৌকিদারদের দিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত দুঃস্থ ও অতি দরিদ্র নারী-পুরুষের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই তালিকার ভিত্তিতেই চাল বিতরণ করা হয়েছে, এতে সবাই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তিনি আরও জানান, ইউনিয়নের ১ হাজার ৩০০টি দুঃস্থ ও অতি দরিদ্র পরিবারের মাঝে ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচির আওতায় ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।