গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে মেহেরপুরে ১১ দলের গণমিছিল

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে মেহেরপুরে ১১ দলের উদ্যোগে গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২ মে) বিকেলে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় শহরের শহীদ শামসুজ্জোহা পার্ক থেকে একটি গণমিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ তাজ উদ্দিন খান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ নাজমুল হুদা, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সূরা কমিটির সদস্য ও সেক্রেটারি মোঃ ইকবাল হুসাইন, জেলা রাজনৈতিক সেক্রেটারি রুহুল আমিন, সদর উপজেলা আমির সোহেল রানা, সদর উপজেলা সেক্রেটারি জাব্বারুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।




মেহেরপুরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’র উদ্বোধন

শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’র সারা দেশের ন্যায় মেহেরপুরেও উদ্বোধন করা হয়েছে।

“ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা” এই স্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার বিকেলে মেহেরপুর জেলা স্টেডিয়ামে ভার্চুয়ালি এ কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ সময় মেহেরপুরে বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজ উদ্দীন খান, পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাবেদ মাসুদ মিল্টন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ খায়রুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান এবং পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাসসহ অন্যান্যরা।

সারা দেশের মতো মেহেরপুরেও এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মধ্য থেকে প্রতিভা অন্বেষণের কার্যক্রম শুরু হলো। আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকতায় এবার ইউনিয়ন ও সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড পর্যায় থেকে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করা, বাছাই করা এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।




নানা সংকটের মধ্যে চলছে হরিণাকুন্ডু হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা

নানা সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যসেবা। চিকিৎসক ও জনবল সংকট, ওষুধের ঘাটতি এবং চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির কারণে কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা রোগীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চিকিৎসক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রয়েছে। এক্স-রে মেশিন চালু থাকলেও নানা অজুহাতে তা সচল থাকে না নিয়মিত। পাশাপাশি প্যাথলজি পরীক্ষাও ঠিকভাবে সম্পন্ন হয় না। এমনকি পদায়ন থাকা সত্ত্বেও অনেক চিকিৎসক হাসপাতালে যান না বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামে বাসিন্দা রহিম উদ্দিন বলেন, সকাল থেকে হাসপাতালে বসে আছি, কিন্তু এখনো ডাক্তার দেখাতে পারিনি।

আমরা গরিব মানুষ, বারবার শহরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব না। এখানে ঠিকমতো সেবা পেলে আমাদের অনেক উপকার হতো।

হরিশপুর গ্রামে সালমা খাতুন বলেন, আমার বাচ্চাকে নিয়ে অনেক দূর থেকে এসেছি। ডাক্তার না থাকায় ঠিকভাবে চিকিৎসা পাচ্ছি না।

শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হয়, যেখানে খরচ অনেক বেশি। এর আগেরদিন হাসপাতালে আসছিলাম। ডাক্তার এক্সরে করতে দিয়েছিলো। হাসপাতালে নাকি হয় না তাই বাইরে থেকে করতে হয়েছিলো।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আলমগীর হোসেন বলেন, জনবল সঙ্কট আছে অজ্ঞান করা ডাক্তারসহ কিছু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্কট আছে তার পরেও সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এক্্র-রে মেশিন ঠিক আছে, তবে মাঝে মাঝে যান্ত্রিক ত্রুটি থাকলে সমস্যা হতে পারে তবে আমরা যারা আছি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা এবং শ্রমদিয়ে সেবার মান সর্বাধিক দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, হাসপাতালে যে ৩ জন চিকিৎসক ঠিক মত আসেন না তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি হাসপাতালের সেবার মান বৃদ্ধিতে।

উল্লেখ্য, হরিণাকুন্ডু উপজেলার প্রায় আড়াই লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য ২০০৫ সালে হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এখানে অনুমোদিত ৩৩জন ডাক্তারের পোষ্ট থাকলেও ২২জন কর্মরত আছেন এবং মোট ১৬৭ জন জনবলের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৯৯ জন। প্রতি মাসে প্রায় ১৩ হাজারের বেশি রোগী এই হাসপাতাল থেকে সেবা নিচ্ছেন।




দর্শনায় আঁখের রোগ ও পোকা দমন অভিযানের উদ্বোধন

দর্শনা কেরু চিনিকলের আওতায় ২০২৫-২৬ রোপন মৌসুমে আঁখের একর প্রতি ফলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তঃ প্ররিচর্য়াসহ আঁখের রোগ ও পোকা দমন অভিযানের উদ্বোধন করেন কেরুজ ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান।

শনিবার সকাল ১০টায় মিলগেট (পশ্চিম) সাবজোনের ২৪ নং ইউনিটের অধিনে গোবিন্দপুর মাঠে লিপু শাহের জমি থেকে একর প্রতি ফলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তঃ প্ররিচর্য়াসহ আঁখের রোগ ও পোকা দমন ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে।

পোকা দমন ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠানে কেরু চিনিকলের সুদক্ষ ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, এখন আঁখের পরিচর্যা ও যত্ন নেওয়ার উপযুক্ত সময় চলছে। আঁখের পোকা দমন ও নিয়মানুযায়ী জমিতের প্রয়োগ করতে হবে এবং কোন পোকার আক্রমন না হয়। সে বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে, তাহলে আঁখের ভাল ফলন করা সম্ভব হবে।

এ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কেরুজ মিলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) মোহাম্মদ আশরাফুল আলম ভুইয়া, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ডিজিএম মাহবুবুর রহমান, (পশ্চিম) সাবজোনের ২৪ নং ইউনিটের সাবজোন প্রধান মোস্তাহিদুল ইসলাম, মোঃ ওয়েসকরনী ও জমির মালিক লিপু শাহ ও স্থানীয় কৃষকরা।




চুয়াডাঙ্গায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু,হাসপাতালে ভর্তি ১৪

চুয়াডাঙ্গায় হামে আক্রান্ত হয়ে আমির হামজা (৮ মাস) নামে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানাধীন কুড়ালগাছি গ্রামের ইব্রাহীমের ছেলে।

শনিবার (২ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে গত ২৪ এপ্রিল হুমাইরা (৯ মাস) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১৭ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে ৩ জন ছাড়পত্র নিয়েছেন। এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১৪ জন রোগী।

এ পর্যন্ত জেলায় মোট ৭৪ জন হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মোট মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। আজকের এই মৃত্যুসহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) নাজমুস সাকিব বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশু রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। নিয়মিত চিকিৎসায় অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছে।

তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত স্থানসংকুলানের অভাবে নতুন করে বৃহৎ পরিসরে আইসোলেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ১৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছে




গাংনীতে শিশু ধর্ষণ চেষ্টা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় শিশু ধর্ষণ চেষ্টা মামলার পলাতক আসামি শাকিল আহমেদ (২৮) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শাকিল আহমেদ গাংনী উপজেলার রামনগর গ্রামের বাগানপাড়া এলাকার মইদুল ইসলামেের ছেলে।

গাংনীর বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পের একটি টিম শনিবার (০২ মে) বেলা ১১টার দিকে রামনগর বাজারে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

শাকিলের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণির এক মাদ্রাসা শিক্ষর্থীকে অপহরণ ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা রয়েছে।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বামন্দী পুলিশ ক‍যাম্প ইনচার্জ পুলিশের উপ-পরিদর্শক শ‍যামা পদ।

ওই ছাত্রী গত ২ এপ্রিল সকালে মাদ্রাসাতে কোরআন পড়তে যাচ্ছিল। পথের মধ্যে তাকে জোর করে মুখ চেপে ধরে নিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি গোরস্থানের মধ্যে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় শাকিল।

এসময় ওই শিশুটির চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসলে সে পালিয়ে যায়।

এঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭/৩০ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার পর থেকেই পলাতক ছিলেন শাকিল আহমেদ।

গাংনী থানার তদন্ত অফিসার আল মামুন এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন গ্রেপ্তর শাকিলকে দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।




দর্শনায় ২টি রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

দর্শনার আকন্দবাড়িয়া ও রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২টি রাস্তা নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে এ উদ্বোধন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনকৃত সড়ক দুটি হলো দর্শনা থানার বেগমপুর ইউনিয়নের আকন্দবাড়িয়া আবাসন প্রকল্প থেকে শৈলমারী বিলের ধার পর্যন্ত ১ হাজার ২৫০ মিটার এবং আকন্দবাড়িয়া থেকে রাঙ্গিয়ারপোতা সড়কের ৭৫০ মিটার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমপি রুহুল আমিন বলেন, “আমি এমপি হওয়ার পর প্রথমবার দর্শনায় রাস্তার কাজের উদ্বোধন করলাম। আমার নির্বাচনী এলাকার একটি রাস্তাও কাঁচা থাকবে না এই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। জনগণের উন্নয়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বা কাজে গাফিলতি সহ্য করা হবে না।

তিনি উল্লেখ করেন, চুয়াডাঙ্গা-২ আসন একটি কৃষিপ্রধান এলাকা। এ অঞ্চলের সড়ক, সেতু ও কালভার্ট উন্নয়ন হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে এবং কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারজাত করতে পারবেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আখতার হোসেন, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, দর্শনা পৌর আমির সাহিকুল ইসলাম অপু, রফিকুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, মতিয়ার রহমান, আক্কাছ আলীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।




মেহেরপুরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মে দিবস পালন 

মেহেরপুর জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রা শেষে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুর রউফ মকল। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা নায়েবে আমীর মহাবুব উল আলম।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা রাজনৈতিক সেক্রেটারি রুহুল আমিন, পৌর আমীর সোহেল রানা ডলার, সহ-সভাপতি শাকিল হোসেন সাব্বির, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম লিটন, সহ-সাধারণ সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক তাওফিকুল ইসলাম, শ্রমিক নেতা আবুল হোসেনসহ ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা।

সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরিকুল ইসলামের হাতে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। পরে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।




মেহেরপুরে বিএনপির উদ্যোগে মহান মে দিবস পালন

মহান মে দিবস উপলক্ষে মেহেরপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শুক্রবার সকালে জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাবেদ মাসুদ মিল্টন এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসানের নেতৃত্বে মিছিলটি কোর্ট রোড থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলে জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক লিটন, মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আমিরুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ মোহাম্মদ, সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিফ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এহান উদ্দিন মনা, জেলা জাসাসের সদস্য সচিব বাকাবিল্লাহসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




আইনের শাসন ও ক্ষমতার দাপট—একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার

মেহেরপুরের সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ভাই এবং যুবলীগ নেতা শহীদ সরফরাজ মৃদুলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদালতের নির্দেশ দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা পুনর্গঠনে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ব্যবসায়ী অংশীদার দেবাশীষ কুমার বাগচির দায়ের করা এনআই এ্যাক্টের অধীনে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলাটি যেভাবে আইনি পরিণতির দিকে এগোচ্ছে, তা ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের জন্য একটি কড়া বার্তা।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দায়ের করা এই মামলায় আদালত নিয়মমাফিক বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছেন। গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি আদালত যখন আসামিকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার দ্বিগুণ জরিমানা অর্থাৎ ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন, তখন এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে আইনের চোখে সবাই সমান। বিবাদী পক্ষ নির্ধারিত সময়ে আপিল না করায় সাজাটি চূড়ান্ত হয় এবং বর্তমানে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা অনুযায়ী সম্পত্তি ক্রোকের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

অস্থাবর ও স্থাবর সম্পত্তির খতিয়ান আদালতের নির্দেশে আসামির ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা সমপরিমাণ সম্পদের তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মেহেরপুর ও হরিরামপুর মৌজার প্রায় ৩.৩৬ একর জমি এবং বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী। এই বিশাল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের মাধ্যমে বাদি দেবাশীষ কুমার বাগচির পাওনা আদায়ের যে পথ প্রশস্ত হয়েছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। সাধারণত রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করতে সাধারণ ব্যবসায়ীরা ভয় পান, কিন্তু এই মামলার অগ্রগতি প্রমাণ করে যে ধৈর্য ও আইনি লড়াই বৃথা যায় না।

জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) জানিয়েছেন যে, জেলা প্রশাসকের বদলিজনিত কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে, তবুও আগামী সপ্তাহের মধ্যে আদেশ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি আশাব্যঞ্জক। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, “Justice delayed is justice denied”। ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের সম্পত্তি ক্রোকের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা অনেক সময় জনমনে সন্দেহের উদ্রেক করে। তাই মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের উচিত হবে কোনো প্রকার চাপের মুখে না নতি স্বীকার করে আদালতের এই রায়টি দ্রুত কার্যকর করা।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি নেতিবাচক ধারণা প্রতিষ্ঠিত ছিল যে, মন্ত্রীর আত্মীয় বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা হলে আইনের উর্ধ্বে থাকা যায়। কিন্তু শহীদ সরফরাজ মৃদুলের এই মামলাটি সেই মিথ ভেঙে দিচ্ছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যবসায়িক অংশীদারকে ঠকানো বা চেক জালিয়াতির মতো অপরাধ যে পার পায় না, তা এই রায়ের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে।

দেবাশীষ কুমার বাগচির আইনি জয় কেবল এক ব্যক্তির জয় নয়, এটি সকল ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা। মেহেরপুর জেলা প্রশাসন যদি আগামী সপ্তাহের মধ্যে সফলভাবে এই সম্পত্তি ক্রোক সম্পন্ন করতে পারে, তবে তা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। আমরা আশা করি, বিচার বিভাগ এবং নির্বাহী বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পাবে এবং সমাজ থেকে জালিয়াতি ও ক্ষমতার দাপট নির্মূল হবে। আইনের এই কঠোর প্রয়োগ যেন কেবল নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে না হয়ে সর্বস্তরে বজায় থাকে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।