আলমডাঙ্গায় অপহরণের ৯ দিনেও ফিরোজের হদিস নেই, উৎকণ্ঠায় পরিবার

আলমডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়া সড়কে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় অপহৃত ফিরোজের আজও হদিস মেলেনি। তার পরিবার গভীর উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। নিখোঁজের ৯ দিন অতিবাহিত হলেও তিনি আদৌ বেঁচে আছেন, নাকি খুন হয়েছেন এ বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন সমালোচনার মুখে পড়েছে। এলাকাবাসী আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও পুলিশের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন।

উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় একটি ক্রোকারিজ কোম্পানির ডেলিভারি ভ্যান থামিয়ে প্রায় দেড় লাখ টাকা লুট করা হয় এবং ডেলিভারি ম্যান ফিরোজ হোসেন নিখোঁজ হন। ঘটনাটি গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাত ১০টার দিকে বৈদ্যনাথপুর এলাকায় ঘটে। তার ব্যবহৃত পণ্যবাহী আলমসাধু গাড়িটি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার করেছে। সেই সঙ্গে উদ্ধার হয়েছে তার পরনের লুঙ্গি ও গায়ের পোশাক।

ঘটনার পর রাতভর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ দল অনুসন্ধান চালিয়েও ফিরোজ হোসেনের সন্ধান পায়নি। নিখোঁজ ফিরোজ হোসেন আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদি ইউনিয়নের খালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি গত তিন বছর ধরে বিজি ক্রোকারিজ কোম্পানিতে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মেহেরপুর জেলার মথুরাপুর এলাকায় পণ্য সরবরাহ শেষে আলমডাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তার সঙ্গে ছিলেন কোম্পানির ম্যানেজার বাচ্চু হোসেন। পথে হাটবোয়ালিয়া নতুন বাজার এলাকায় পৌঁছালে বাচ্চু হোসেন নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে গাড়ি থেকে নেমে যান। এরপর ফিরোজ একাই আলমসাধু নিয়ে যাত্রা অব্যাহত রাখেন।

রাত ১০টার দিকে বৈদ্যনাথপুর মাঠ এলাকায় পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা আলমসাধু থামিয়ে তার কাছে থাকা প্রায় দেড় লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর থেকে ফিরোজ হোসেন নিখোঁজ এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, এ ঘটনায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ দল তদন্ত করেছে। সম্ভাব্য ছিনতাই ও অপহরণের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। আশপাশের মাঠ ও সড়কসংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।




গাংনীতে ব্যাংক এশিয়ার ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা

ব্যাংক এশিয়া এজেন্ট ব্যাংকের মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা শাখার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ইফতারপূর্ব আয়োজিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ব্যাংক এশিয়া এজেন্ট ব্যাংকের গাংনী উপজেলা শাখার পরিচালক মো. মাসুম কিবরিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য নজমুল হুদা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাংনী উপজেলা জামায়াতের আমির ডা. রবিউল ইসলাম, পৌর শাখার আমির আহসানুল হক, ব্যাংক এশিয়ার সিনিয়র অফিসার মো. রোয়েল মিয়া, মেহেরপুর জেলা শাখার ব্যবস্থাপক ফিরোজ আল মামুন এবং গাংনী পৌর জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক জিল্লুর রহমান।

সঞ্চালনায় ছিলেন সাংবাদিক রাশিদুল ইসলাম বোরহান।

আলোচনা সভায় ব্যাংক এশিয়ার বিভিন্ন এজেন্ট শাখার পরিচালক ও গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন।




চুয়াডাঙ্গায় ছাত্রশিবিরের নতুন কমিটি ঘোষণা

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে বারোটায় চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে এই সেটআপ ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে সাবেক সভাপতি মো. সাগর আহমেদকে জেলা সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয় এবং সাবেক অফিস সম্পাদক হাফেজ মাসুম বিল্লাহকে জেলা সেক্রেটারি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক মহিবুর রহমান মুহিব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইউসুব আলী।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবির চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান জোয়ার্দার, হাফেজ বিলাল হুসাইন, মাহফুজুর রহমান ও মহসিন এমদাদুল্লাহ জামেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা পৌর আমির হাসিবুল ইসলাম, জেলা অর্থ সম্পাদক বায়েজিদ বোস্তামী, জেলা সাহিত্য সম্পাদক আবু রায়হানসহ বিভিন্ন থানা পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে নবনির্বাচিত দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে বলেন, যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাদের একার পক্ষে সব কাজ করা সম্ভব নয়। আমাদের সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। যুবসমাজকে সব ধরনের অনৈতিক ও ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে ফিরিয়ে এনে একটি সুন্দর চুয়াডাঙ্গা জেলা গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নবনির্বাচিত জেলা সভাপতি সাগর আহমেদ। সঞ্চালনা করেন সাবেক সেক্রেটারি হাফেজ আমিরুল ইসলাম।

সভায় সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।




দর্শনায় বেশি দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগে তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা

পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বাজারে অভিযান পরিচালনা করেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে দর্শনা রেলবাজারে বিভিন্ন দোকান ও অবৈধ যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশফাকুর রহমান এবং আবদুল্লাহ আল নাঈম।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযান চলাকালে দোকানে নির্ধারিত মূল্যতালিকা যথাযথভাবে প্রদর্শন না করা এবং কিছু পণ্য বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন ধারায় তিনটি মামলায় মোট ৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এর মধ্যে মাস্টার ফাস্ট ফুড কর্নারকে ২ হাজার টাকা, মনির মুরগির দোকানকে ১ হাজার টাকা এবং মো. জয়নাল মুদি দোকানকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান চলাকালে বাজারের আরও অন্তত ১০টি দোকান পরিদর্শন করা হয়। এ সময় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি ও ক্রয়ের বিষয়ে সতর্ক করা হয় এবং মূল্যতালিকা দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি দোকান মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দকে সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়।

এ বিষয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশফাকুর রহমান বলেন, “রমজানজুড়ে জেলার বিভিন্ন বাজারে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি ঠেকাতে প্রশাসনের নজরদারি জোরদার থাকবে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসন প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”




দামুড়হুদা বাজারে শাহি কাচ্ছি হাউজে ২ হাজার টাকা জরিমানা

দামুড়হুদা বাজার ও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এক ব্যবসায়ীকে ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন পণ্যের বাজারমূল্য, মূল্যতালিকা ও প্রস্তুতকৃত পণ্যের বিশুদ্ধতা মনিটরিং করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রমজান উপলক্ষে বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও প্রস্তুতকৃত পণ্যের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মোবাইল কোর্ট অভিযানে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর আওতায় একটি মামলায় শাহি কাচ্ছি হাউজের ব্যবসায়ীকে ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

এ সময় ব্যবসায়ীদের পণ্যের সঠিক মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির বিষয়ে সতর্ক করা হয়। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।




অনলাইন জুয়ার অদৃশ্য সম্রাট জামান মাস্টার গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ

মেহেরপুরে অনলাইন জুয়া ও অবৈধ ডিজিটাল লেনদেনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি বিস্তৃত অপরাধ নেটওয়ার্কে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। মধ্যরাতে নাটকীয় অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন এই চক্রের আলোচিত মুখ জামান উদ্দিন ওরফে জামান মাস্টার। আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা মামলায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, ২৫ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে জেলা ডিবি পুলিশ ও কোমরপুর পুলিশ ক্যাম্পের যৌথ দল জামান মাস্টারের বাড়ি ঘিরে ফেলে। রাত ১টা ১০ মিনিট থেকে একাধিকবার গেট খুলে দিতে বলা হলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

বরং পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রভাবশালীর নাম উল্লেখ করে পুলিশকে অভিযান বন্ধের চাপ দেওয়া হয় বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দায়িত্বশীল সূত্র। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শেষ পর্যন্ত পুলিশ প্রাচীর টপকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে এবং জামান মাস্টারকে আটক করে।

গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে কোনো মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ উদ্ধার করা যায়নি। পুলিশ ধারণা করছে, অভিযানের আগেই গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল ডিভাইস সরিয়ে ফেলা হতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জামান মাস্টার কোনো বক্তব্য দেননি। পরে তাকে মুজিবনগর থানায় রাষ্ট্রপক্ষের দায়ের করা সাইবার সুরক্ষা আইনের দ্বিতীয় মামলায় (মামলা নম্বর–৪) গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে। তদন্তে অনলাইন জুয়ার অর্থের উৎস, হুন্ডি ও ডিজিটাল লেনদেনের পথ, এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় পলাতক আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

মাত্র দুই দিন আগে মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়া এজেন্টদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।’

গার্মেন্টস কর্মী থেকে জুয়ার সাম্রাজ্য!! কে এই জামান মাস্টারঃ

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর উত্থানের গল্প। একসময় ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকরি করা জামান মাস্টার গ্রামে ফিরে মুজিবনগর আদর্শ মহিলা কলেজ নামের একটি নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে অফিস সহকারী কাম হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন।

পরবর্তীতে কোমরপুর বাজারে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একটি এজেন্ট ব্যাংকিং পয়েন্ট চালু করার পর থেকেই তার আর্থিক অবস্থার নাটকীয় পরিবর্তন শুরু হয়।

জানা গেছে, তিনি আন্তর্জাতিক অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্ম Linebet, 1xBet এবং Melbet–এর আঞ্চলিক এজেন্ট হিসেবে মাঠপর্যায়ে অর্থ সংগ্রহ ও লেনদেন পরিচালনা করতেন। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে কাঁচা ঘর থেকে দোতলা বিলাসবহুল বাড়ি, জমি, দামি গাড়ি ও একাধিক মোটরসাইকেলের মালিক বনে যান তিনি। যার কোনো বৈধ আয়ের উৎস পুলিশ এখনো শনাক্ত করতে পারেনি।

প্রশাসনিক ছত্রচ্ছায়ার অভিযোগ

মেহেরপুরকে কেন্দ্র করে সারাদেশে বিস্তৃত এই অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্কের অন্যতম সংগঠক হিসেবে জামান মাস্টারের নাম উঠে এসেছে। শুরু থেকেই তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে নুরুল ইসলাম ওরফে লালন মাস্টারের নাম সামনে আসে, যিনি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই প্রভাব ও ছত্রচ্ছায়ার কারণেই দীর্ঘদিন ধরে কোটি কোটি টাকার অবৈধ অনলাইন জুয়ার সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন। চক্রের অন্যান্য সদস্য, অর্থের প্রকৃত উৎস এবং সম্ভাব্য পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্তে নতুন করে অনুসন্ধান জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পড়ুন  ধরাছোঁয়ার বাইরে অনলাইন জুয়ার অন্যতম চার হোতা মুকুল-জামান-নুরুল-মাদার




ছয় মাসের মধ্যে অপারেশন থিয়েটার চালু করা হবে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমীনের নেতৃত্বে দামুড়হুদা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক ব্যতিক্রমধর্মী পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতর ও বাইরের বিভিন্ন স্থানে এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় সংসদ সদস্যসহ দলীয় নেতাকর্মীরা নিজ হাতে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, চত্বর ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেন।

পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে এমপি রুহুল আমীন বলেন, দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আমরা নিজের হাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করেছি। হাসপাতালের ভেতর ও বাইরে সব জায়গায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। এখানে নতুন আটজন চিকিৎসক যোগদান করেছেন, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁদের মাধ্যমে এলাকাবাসী আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে যেমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, এখনও সে কথাই বলছি আগামী ছয় মাসের মধ্যে এখানে অপারেশন থিয়েটার চালু করা হবে, ইনশাআল্লাহ। হাসপাতালটিতে চোখের রোগীদের দেখার ব্যবস্থা রয়েছে, যা একটি ইতিবাচক দিক। প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রও এখানে পাওয়া যাচ্ছে। ইনডোর রোগীরা চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন।

সরকারি হাসপাতালের প্রতি জনগণকে আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। এখানে অনেক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, সেদিকে আমরা গুরুত্ব দেব। সবাই মিলে আমরা এই হাসপাতালটিকে এলাকার স্বাস্থ্যসেবার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করব, ইনশাআল্লাহ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফাহমিদা আক্তার রুনা, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আজিজুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের আমীর নায়েব আলী, সেক্রেটারি জেনারেল আবেদ উদ দৌলা টিটন, দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবুল কাশেমসহ উপজেলা জামায়াতের নেতাকর্মী, জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ, কর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।




মুজিবনগরে গুড নেইবারসের বিশেষ স্বাস্থ্য ও পুষ্টি ক্যাম্পেইন

মেহেরপুরের মুজিবনগরে গুড নেইবারস বাংলাদেশ, মেহেরপুর সিডিপির উদ্যোগে বিশেষ স্বাস্থ্য ও পুষ্টি ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মেহেরপুর সিডিপি বল্লভপুর অফিস প্রাঙ্গণে এ বিশেষ স্বাস্থ্য ও পুষ্টি ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। সিডিপি ম্যানেজার বিপুল রেমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল হুদা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন গাইনাকোলজিস্ট ডা. সিনথিয়া আফরিন সিমি, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এম. এম. জাহিদুল ইসলাম, এনজিও প্রতিনিধি জন অমৃত মণ্ডল, সিডিপির ম্যানেজার (এডমিন) ভিক্টর টিজ্যা এবং মেডিকেল অফিসার আসিফ হাসান ভূঁইয়া সহ গুড নেইবারস মেহেরপুরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গুড নেইবারস মেহেরপুর সিডিপির হেলথ অফিসার আহসানুল হক।

ক্যাম্পেইনের মূল কার্যক্রমের মধ্যে ছিল মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য বিষয়ে আলোচনা, স্বল্পমূল্যে গাইনি ও মেডিসিন রোগী দেখা, কমিউনিটির জন্য ৩০% ছাড়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পুষ্টি প্যাকেজ সরবরাহ এবং ৪০% ছাড়ে নির্দিষ্ট ওষুধ সরবরাহ।

গুড নেইবারস বাংলাদেশ জানায়, এ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে কমিউনিটির মধ্যে সুলভ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুষ্টি জ্ঞান সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।




মেহেরপুরের নাসিমা আনিস পেলেন বাংলা একাডেমির কথাসাহিত্য পুরস্কার

মেহেরপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য আজ এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। জেলার কৃতি কথাসাহিত্যিক নাসিমা আনিস অর্জন করলেন দেশের অন্যতম সম্মানজনক স্বীকৃতি— বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫। তিনি এবার কথা সাহিত্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেলেন।মেহেরপুরে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি কথা সাহিত্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কার অর্জন করছেন। এ অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং মেহেরপুরবাসীর জন্য এক অনন্য সম্মান ও আনন্দের উপলক্ষ।

নাসিমা আনিস মেহেরপুরের মুজিবনগরের ঐতিহ্যবাহী বল্লভপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হাবিব আনিসুর রহমানের সহধর্মিণী। পারিবারিকভাবেও তাঁদের সন্তানরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। ইতিপূর্বে মেহেরপুরের লেখক রফিকুর রশীদ শিশু সাহিত্যে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (২০২১)পান।

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবার ৯ জনকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখায় ৯ বিশিষ্টজনকে এই পুরষ্কার তুলে দেন ।

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ প্রাপ্তরা হলেন- কথাসাহিত্যে নাসিমা আনিস; প্রবন্ধ/গদ্যে সৈয়দ আজিজুল হক; শিশুসাহিত্যে হাসান হাফিজ; অনুবাদে আলী আহমদ; গবেষণায় মুস্তাফা মজিদ ও ইসরাইল খান; বিজ্ঞানে ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী ও মুক্তিযুদ্ধ মঈদুল হাসান।

কথাসাহিত্যে নাসিমা আনিসের অবদান দীর্ঘদিনের। তাঁর রচনায় উঠে এসেছে সমাজবাস্তবতা, মানবিক টানাপোড়েন, নারীর আত্মসংগ্রাম ও সময়চেতনার সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ। “কাঞ্চনের জন্য ভালোবাসা”, “চন্দ্রভানুর পিনিস”, “বৃহন্নালা বৃত্তান্ত”, “সূর্য ওঠার সময়”, “কুয়াশা কুয়াশা ভোর”, “স্বপ্ন আমার বাঁচবো”, “মোহিনীর থান”, “কিডনির কারবার” প্রভৃতি গ্রন্থ পাঠকমহলে বিশেষভাবে সমাদৃত। তাঁর গল্প “কয়লা নামে কোনো জায়গা নেই” সমকালীন সাহিত্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত।

তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে অনার্সসহ এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ঢাকার ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি শিক্ষকতা জীবনে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীর প্রেরণার উৎস ছিলেন।

উল্লেখ্য, এর আগে তিনি বাংলা একাডেমি প্রদত্ত ‘আবু রুশদ সাহিত্য পুরস্কার’ লাভ করেন (২০২৪), যা তাঁর সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিকে আরও দৃঢ় করেছে।

মেহেরপুরবাসীর পক্ষ থেকে কথাসাহিত্যিক নাসিমা আনিসকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। তাঁর সাহিত্যসাধনা আরও সমৃদ্ধ হোক, বাংলা সাহিত্য ভান্ডার তাঁর কলমে হোক আরও আলোকিত—এই প্রত্যাশা রইল।




মেহেরপুরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধলা গ্রামের রেজাউল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ মো. গোলাম কবির এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর তারিখে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধলা গ্রামে নিজ স্ত্রী জাহানারা খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন রেজাউল ইসলাম। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে লাশ গোপন ও স্বাভাবিক মৃত্যুর গল্প দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়।

পুলিশি তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে নিহত নারীর মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধে হত্যার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে আসে। পাশাপাশি প্রতিবেশী ও স্বজনদের সাক্ষ্য এবং আসামির আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অপরাধ প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে রেজাউল ইসলাম জানান, বিবাহের ২৫ বছর পরও স্ত্রীর পরকীয়া সংক্রান্ত সন্দেহ ও পারিবারিক বিরোধের জেরে তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটান। প্রথমে ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করলেও পরে সত্য স্বীকার করেন।

রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, পাবলিক প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ যথাযথভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হয়েছে।