দর্শনায় দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে বোনের সংবাদ সম্মেলন

দর্শনায় দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখল ও দোকানের মালামাল লুটের অভিযোগে দুই বোন সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে দর্শনা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দর্শনা কলেজপাড়ার মৃত দীন মোহাম্মদের মেয়ে মমতাজ বেগম বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, “আমি অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি আমার ওপর সংঘটিত অন্যায়, নির্যাতন, সম্পত্তি দখল ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি তুলে ধরার জন্য। আমি ও আমার ভাইয়েরা দক্ষিণচাদপুর মৌজার ৩৯৭ নম্বর খতিয়ানের ৫৫৮০ নম্বর দাগে অবস্থিত পৈত্রিক জমির বৈধ ওয়ারিশ। প্রায় এক বছর আগে ওয়ারিশদের সম্মতিতে সেনাক্যাম্পে একটি বৈঠকের মাধ্যমে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে জমির অবস্থান ও হিস্যা নির্ধারণ করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি ও আমার ভাই মিজানুর রহমান আমাদের প্রাপ্য অংশে একটি পাকা দোকান নির্মাণ করি। নির্মাণকালে কোনো পক্ষ থেকেই আপত্তি তোলা হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “দোকান নির্মাণ শেষ হওয়ার পর আমার আপন দুই ভাই মোঃ সাজেদুর রহমান বাবু ও মোঃ সাইফুর রহমান রোকন জোরপূর্বক দোকানের দখল নেওয়ার চেষ্টা শুরু করে। এ বিষয়ে আমি আদালতে মামলা দায়ের করি। পরে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার লক্ষ্যে দর্শনা থানায় একটি সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আমাকে অশালীন আচরণের শিকার হতে হয় এবং একপর্যায়ে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করা হয়, যা উপস্থিত লোকজন প্রতিহত করে।”

মমতাজ বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমি নতুন ব্যবসা শুরু করার উদ্দেশ্যে আমার দোকানে প্রায় ১০ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য মজুদ করি। কিন্তু গত ২২ মার্চ ২০২৬ তারিখ ভোরে অভিযুক্তরা আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দোকানের তালা ভেঙে সব মালামাল লুট করে নিয়ে যায় এবং দোকানে নতুন তালা লাগিয়ে দেয়। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ ঘটনার পেছনে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির কু-পরামর্শ ও প্ররোচনা রয়েছে।”




গাংনীতে প্রবাসীর বাড়িতে হামলার ঘটনায় সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের হুমকি

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চৌগাছা গ্রামে প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের জেরে এবার সাংবাদিকদের হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে অভিযুক্ত পক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযুক্ত জয় ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা এ ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত কিশোর গ্যাং লিডার জয়, তার বন্ধু জিতু ও তাদের সহযোগীরা সংবাদটি বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল থেকে মুছে ফেলার জন্য স্থানীয় সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তারা নিউজ পোর্টালের কমেন্ট সেকশন এবং হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে সাংবাদিকদের হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন গাংনীতে কর্মরত একাধিক সংবাদকর্মী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলার ঘটনার পর কয়েকটি পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে থানায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশিত হলে অভিযুক্তরা আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর জয় ও তার অনুসারীরা কয়েকজন সাংবাদিককে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়। সংবাদ প্রকাশে ‘খারাপ পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাংবাদিক বলেন, ঘটনার সত্য তুলে ধরাই আমাদের দায়িত্ব। কিন্তু এখন উল্টো আমাদেরই হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে আমরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

এদিকে, হামলায় আহত দৈনিক সময়ের চিত্র পত্রিকার সাংবাদিক সুমন আলীর পরিবার এখনও আতঙ্কে রয়েছে। তাদের দাবি, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কোনো ঘটনার সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া গুরুতর অপরাধ। এতে স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, সাংবাদিকদের হুমকির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




শৈলকুপায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু, আহত-৪

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের খড়িবাড়িয়া গ্রামে বজ্রপাতে সমির বিশ্বাস (৪০) ও অপু বিশ্বাস (২২) নামের দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সেসময় আহত হয়েছে আরও ৪ জন কৃষক।

শনিবার বেলা ১২ টার দিকে খড়িবাড়িয়া গ্রামের দক্ষিণ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। মৃত সমির মৃত সমির ওই গ্রামের সুশিল বিশ্বাস ও অপু ওই এলাকার প্রকাশ বিশ্বাসের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, সমির বিশ্বাস তার বাবার সঙ্গে মাঠে পেঁয়াজ তোলার কাজ করছিলেন। একই সময়ে পাশের ক্ষেতে কাজ করছিলেন প্রকাশ বিশ্বাসের ছেলে অপু বিশ্বাসসহ আরও কয়েকজন। হঠাৎ বজ্রপাত হলে তারা গুরুতর আহত হন।

আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সমির বিশ্বাস ও অপু বিশ্বাসকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি আহতদের মধ্যে দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. এহেতাম শহীদ জানান, দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতদের হাসপাতালে আনা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে সমির ও অপু মারা যান।




চুয়াডাঙ্গায় পুঁতে রাখা ৭টি ল্যান্ডমাইন ধ্বংস করল সেনাবাহিনী

চুয়াডাঙ্গায় একটি ভুট্টার জমিতে সেচ নালা তৈরির সময় উদ্ধার হওয়া সাতটি শক্তিশালী ল্যান্ডমাইন নিষ্ক্রিয় করেছেন সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। উদ্ধারের ২৯ দিন পর শনিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদরের মাখালডাঙ্গা গ্রামের স্কুলপাড়া মাঠে বিকট শব্দ ও কম্পনের মধ্য দিয়ে ল্যান্ডমাইনগুলো ধ্বংস করা হয়।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শহিদুল ইসলাম বলেন, ধারণা করা হচ্ছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এসব স্থলমাইন পুঁতে রেখেছিল।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, সদর উপজেলার দিননাথপুর গ্রামের কৃষক হযরত আলীর মাখালডাঙ্গা গ্রামের স্কুলপাড়া মাঠে একটি চাষের জমি রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য নালা (ক্যানাল) তৈরির কাজ করছিলেন। এ সময় তার কোদালের আঘাতে তিনটি শক্তিশালী ল্যান্ডমাইন বেরিয়ে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকাটি পুলিশ পাহারায় ঘিরে রাখা হয়।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি সেনাবাহিনীকেও অবহিত করা হয়। এরপর শনিবার সকালে সেনাবাহিনীর ৫৫ রেজিমেন্ট, যশোর ইউনিটের ১৫ সদস্যের একটি বোম্ব ডিসপোজাল দল ক্যাপ্টেন রিফাতুল ইসলামের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালায়। এ সময় সেখান থেকে একে একে মোট সাতটি শক্তিশালী ল্যান্ডমাইন উদ্ধার করা হয়।

দুপুরে সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দলটি প্রথমে চারটি এবং পরে বাকি তিনটি ল্যান্ডমাইন নিষ্ক্রিয় করে। এ সময় প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ও বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং আকাশ কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। বিস্ফোরণের ফলে ল্যান্ডমাইন নিষ্ক্রিয় করা স্থানগুলো বড় গর্তে পরিণত হয়। অভিযান চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।




দর্শনায় ১৪ ঘণ্টা লাইনে থেকেও পেট্রোল মেলেনি, বাইকারদের ক্ষোভ

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পেট্রোল সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। টানা ১৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও পেট্রোল না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা। এতে এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী বাইকারদের অভিযোগ, শুক্রবার রাত ৮টা থেকে তারা মেসার্স দর্শনা ফিলিং স্টেশনের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পেট্রোল সরবরাহ শুরু হবে। সেই আশায় রাতভর অপেক্ষা করেন শতাধিক বাইকার। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে সকাল ৯টা বাজলেও সরবরাহ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

শরিফুল নামের এক বাইকার বলেন, প্রায় ১৩-১৪ ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, এখনো পেট্রোল পাইনি। আমরা কি শুধু লাইনে দাঁড়িয়েই থাকব, নাকি আমাদের অন্য কোনো কাজ নেই?

আরেক বাইকার আমির হোসেন বলেন,শুক্রবার রাত থেকেই অপেক্ষা করছি। বলা হয়েছিল সকালে তেল দেওয়া হবে। এখন সকাল ৯টা, তবুও কোনো কার্যক্রম নেই। এটি চরম অব্যবস্থাপনা।

সোবাহান নামের একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। সময়মতো তেল দিতে না পারলে আগে জানানো উচিত ছিল। এই হয়রানির জন্য পাম্প কর্তৃপক্ষই দায়ী।

এদিকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও পেট্রোল না পেয়ে ক্ষুব্ধ বাইকাররা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং দ্রুত জ্বালানি সরবরাহের দাবি জানান। এতে কিছু সময়ের জন্য স্টেশন এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে।

পরে সকাল ১০টা থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতি মোটরসাইকেলে ৩০০ টাকার জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়।

অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স দর্শনা ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পেট্রোল সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনা ছিল। তবে শুক্রবার রাতের ঝড়-বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।

তারা আরও জানায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে এবং দ্রুত পেট্রোল সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, জ্বালানি সরবরাহে এমন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নতুন নয়। বারবার ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কার্যকর নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপ ছাড়া এ সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে না বলে মনে করছেন তারা।

ভুক্তভোগী বাইকাররা দ্রুত সমস্যার সমাধান, সঠিক তথ্য প্রদান এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




মেহেরপুরে ভৈরব সাহিত্য সাংস্কৃতিক চত্বরের স্বাধীনতা দিবস পালন

মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মেহেরপুরের অন্যতম সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন “ভৈরব সাহিত্য সাংস্কৃতিক চত্বর” এর আয়োজনে শুক্রবার বিকালে মেহেরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, “ভৈরব সাহিত্য সাংস্কৃতিক চত্বর” এর সভাপতি অ্যাডভোকেট এম. আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি নূরুল আহমেদ এবং নাট্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাইদুর রহমান।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কবি ও গীতিকার বাশরী মোহন দাস, সংগঠনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু নায়েছ লাবলু, সদস্য মোঃ শাহজাহান, আবুল হাসেম, কবি মাহফুজা সুলতানা সুমি, শিল্পী ও কবি আসাদুল ইসলাম খোকন প্রমুখ।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মেহের আমজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তিতে অংশগ্রহণ করেন কবি ম. গোলাম মোস্তফা, মুহাম্মদ মহসীন, এস. এম. এ. মান্নান, বাশরী মোহন দাস, শফিকুর রহমান সেন্টু, নূর হোসেন, সাইফুল ইসলাম ও বদরুদ্দোজা বিশ্বাস প্রমুখ।




দর্শনায় দুই তেল পাম্পে পেট্রোল সংকট, ভোগান্তিতে মোটরসাইকেল চালকরা

দর্শনার দুটি তেল পাম্পে পেট্রোল সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। প্রতিদিন কিছুসংখ্যক মোটরসাইকেল পেট্রোল পেলেও শত শত মোটরসাইকেল পেট্রোল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে।

দর্শনা তেল পাম্পে পেট্রোল আসার খবর পাওয়া মাত্রই শত শত মোটরসাইকেল পাম্পে লাইন দেয়। পাম্প মালিকদের দাবি, ডিপো থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পেট্রোল না পাওয়ায় এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

তেল পাম্প মালিকরা জানান, আগে যেখানে ডিপো থেকে সাড়ে ৪ হাজার লিটার পেট্রোল সরবরাহ করা হতো, এখন সেখানে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৩ হাজার লিটার। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোলের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। আগে ৪ থেকে ৫ দিন পরপর পেট্রোল আনতে হতো, এখন ৩ হাজার লিটার পেট্রোল ২-৩ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

পেট্রোল সরবরাহের সময় পুলিশের সহায়তায় পাম্পে পেট্রোল বিক্রি করা হচ্ছে। পেট্রোল শেষ হয়ে গেলে ‘তেল নেই’ লেখা ব্যানার টানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, অনুসন্ধানে জানা গেছে, এলাকায় অবৈধভাবে চড়া দামে পেট্রোল বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। পারকৃষ্ণপুর গ্রামের একটি দোকানে ঈদের পরদিন (২১-০৩-২০২৬) ৩০০ টাকা লিটার দরে পেট্রোল বিক্রি নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এছাড়া আকুন্দবাড়িয়া তমালতলা এলাকায় ২৮০ টাকা, সাড়াবাড়িয়া চাররাস্তার মোড়ে ২০০ টাকা এবং প্রতাপপুর এলাকায় ২৬০ টাকা লিটার দরে পেট্রোল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, কিছু অসাধু মোটরসাইকেল মালিক পাম্প থেকে পেট্রোল সংগ্রহ করে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা দরে দোকানদারদের কাছে বিক্রি করছে। এরপর সেই পেট্রোল বিভিন্ন দোকানে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে, যার ফলে সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা বলেন, অসাধু বিক্রেতাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওবাইদুর রহমান সাহেল বলেন, কোথায় কোথায় অবৈধভাবে পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে তার তথ্য দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




দর্শনায় বিভিন্ন মামলার ৮ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার

দর্শনা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন মামলার ৮ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ভোর রাতে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন দর্শনা থানার চাকুলিয়া গ্রামের নুর আলমের ছেলে আপন তিন ভাই সাদ্দাম হোসেন (৩০), শহিদুল ইসলাম (৪০) ও সিরাজুল ইসলাম (৩৫); দর্শনা আকন্দবাড়িয়া নতুনপাড়ার মোজাম্মেল হক পচার ছেলে সাইফুল ইসলাম ফিল্টু (৩৫); তিতুদহ ইউনিয়নের খাড়াগোদা গ্রামের মুকুল হোসেনের ছেলে মতিয়ার রহমান ওরফে হৃদয় (২৩); দর্শনা মোহাম্মদপুরের আবু বক্কারের ছেলে মনির (২৪); বেগমপুর ইউনিয়নের ঝাঝরি গ্রামের মৃত বাবর আলীর ছেলে আসমাউল ইসলাম (৩০); এবং আজমপুর গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে সুজন (২২)।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্ট ছিল। তাদের শুক্রবার চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।




কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ভ্যান চালককে কুপিয়ে হত্যা

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে তাজেম নামের এক ভ্যান চালককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের বুরুজ বাখই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তাজেম কুমারখালী উপজেলার বাখই এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে। স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে বুরুজ বাখই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনের মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর একাধিক চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত করছে।




চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের বিশেষ সাপ্তাহিক সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত

২৬শে মার্চ উদযাপন উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের বিশেষ সাপ্তাহিক সাহিত্য আসর “স্বাধীনতায় পদধ্বনি- ১৬১১” অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেল চারটায় পরিষদের শহীদ আলাউল হলে এর আয়োজন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরাবতা পালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

অর্থ সম্পাদক মিম্মা সুলতানা মিতার সঞ্চালনায় একাত্তরের স্বাধীনতার উপর লিখিত স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন গুরু কাজল মল্লিক, বনলতা, মো: খালেকুজ্জামান, গোলাম কবীর মুকুল, মো: আনছার আলী, মোছা: মর্জিনা খাতুন, মো: মোজাম্মেল হক, শেখ সেলিম, সুমন মালিক, মো: হুমায়ুন কবীর, মিম্মা সুলতানা মিতা। চিরায়ত সাহিত্য থেকে পাঠ করেন জাকিয়া সুলতানা ঝুমুর ও মরিয়ম সুলতানা ভূবনের লেখা পাঠ করে শোনান ইকবাল আতাহার তাজ।

পঠিত লেখাগুলো নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা করেন চুয়াডাঙ্গার উজ্জ্বল নক্ষত্র ড: মুন্সি আবু সাইফ, স্বাধীনতার উপর বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ মো: শাহজাহান আলী, অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান, মো: তৌহিদ হোসেন। আসরে আরোও উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সী, শেখ পিন্টু, মরিয়ম সুলতানা ভূবন, মিফতাহুল আওয়াল, মো: আব্বাসউদ্দীন, হারুন অর রশিদ, আকিব তৌফিক চৌধুরী।

সভাপতি তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন ১৯৭১ এ মহান মুক্তিযুদ্ধে চুয়াডাঙ্গার জেলা পরিষদ ডাক বাংলোর পুরাতন ভবনটি দক্ষিন পশ্চিম রণাঙ্গনের সেক্টর কমান্ডার তৎকালীন মেজর আবু ওসমান চৌধুরীর কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হতো। আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি হিসেবে স্মরণীয় করে রাখতে ঐ ভবনটিকে স্বাধীনতা ভবন ঘোষণার দাবি জানিয়ে স্বাধীনতা দিবস পদধ্বনি ১৬১১ পর্বের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।