সার সিন্ডিকেট, মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার বাস্তবায়নসহ ১৮ দফার অঙ্গিকার

মেহেরপুর-১ আসনের সিপিবি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান ১৮ দফার ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। আজ সোমবার সকাল ১১ টাই মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন।

ইশতেহারে তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ এবং ভাংচুরকৃত মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য পুনঃস্থাপন , সাম্য-মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ এবং জনগণের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন, গণ-অভ্যুত্থানের গণআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, কৃষক ও কৃষির জন্য পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ প্রাপ্তি এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি সহজে প্রাপ্তি নিশ্চিত এবং সার সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেওয়া এবং সরাসরি কৃষকের থেকে ধান ক্রয় নিশ্চিত, কৃষকের মৌসুমী ফসল পিয়াজ, আলু, ইত্যাদির জন্য সংরক্ষণাগার নির্মান, সকল প্রকার সরকারি অনুদান যথাযথভাবে বণ্টন নিশ্চিত, চাঁদা ও হাদিয়ার নামে জনগণের নিকট হতে শোষন ও লুটপাট বন্ধের চেষ্টা, স্থানীয় কৃষি (পাট, কলা, পিয়াজ, টমেটো, আম, ইত্যাদি) ভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান, হাইটেক (জুস, পানি, ইত্যাদি ফ্যাক্টারী) পুনঃরায় চালু করা, জনগণকে সাথে নিয়ে পুলিশসহ প্রশাসনের ঘুষ-দূর্নীতি বন্ধ, চীন ও জাপানসহ উন্নত দেশের কর্মসংস্থান মূলক বিষয়ে এলাকার যুবক-যুবতীদের টিটিসিতে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, অস্ত্র ও মাদক মুক্ত সমাজ গড়তে সর্বশক্তি নিয়োগ ও ক্যাসিনো ও অনলাইন জুয়া বন্ধে প্রশাসনকে নিয়ে শক্ত ভূমিকা গ্রহন, শিশু-কিশোরদের নিয়ে স্কুল পর্যায়ে নিয়মিত কাবাডি, ফুটবল, ক্রিকেট সহ দেশীয় বিভিন্ন খোলার আয়োজন, প্রশাসন এর উপরে কঠোর দৃষ্টি, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরকারের মাধ্যমে শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, বেকার যুবক-যুবতীতের কর্মসংস্থানের এবং কর্মসংস্থানের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ, মিথ্যা মামলা ও হয়রানী রোধে এবং ভিকটিমদের পুলিশের নিরাপত্তা নিশ্চিত ,পরিবেশ ভালো রাখতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে জনগণকে সচেতন ও রাষ্ট্রের মাধ্যমে সহযোগীতা।




দর্শনায় ধানের শীষের পক্ষে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

দর্শনা পরাণপুর গ্রামে ধানের শীষের পক্ষে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকাল ৪ টায় বিএনপি নেতা সরোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নারী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, ধানের শীষের প্রার্থী বিজিএমইএ এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর শ্যালোক শফিকুল ইসলাম সোহেল।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আপনাদের সবাইকে বলছি বাবু খান যদি ভাল লোক হয়। তবে তাকে একটা ধানের শীষে ভোট দেবেন। বাবু খান একজন স্বাবলম্বী ব্যবসায়ী। উনি কারো অনুদানের অপেক্ষা করেন না। উনি নিজে আপনাদের একটি হাসপাতাল আরো আনুসাংঙ্গিক যা লাগবে তিনি করে দেবেন। তার নিজের টাকায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করে দেবে। খেলার দায়িত্ব আমি নিয়েছি।

আমি বিভিন্ন স্থানে ক্লাব করে দেবো। আপনাদের ছেলে মেয়েদের খেলার সরমজান আমার কাছ থেকে পাবে। আপনারা বাড়ি ফিরে গিয়ে আশেপাশের লোকজনকে বলবেন বাবু খান একজন সাদা মনের ভাল মানুষ। সবাই তার ধানের শীষে একটি করে ভোট দিতে বলবেন।

এ নারী সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন, দর্শনা পৌর বিএনপি’র সাবেক সিনিয়ার সহ-সভাপতি ও সমন্বয়ক কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান বুলেট, পরানপুর একতা ক্লাবের সভাপতি ইন্তাজুল ইসলাম, একতা ক্লাবের উপদেষ্টা জাকির হোসেন, বকুল মালিতা, মিলন জোয়ার্দ্দার প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, হাবিবুর রহমান হাবু।




দর্শনায় জামায়াতের বিশাল গণমিছিলে রুহুল আমিন

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ১১দল সমর্থিত ও জামায়াত মনোনীত দাড়িপাল্লার প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমীর মোঃ রুহুল আমিনের পক্ষে বিশাল গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দর্শনা থানা শাখার উদ্যোগে গতকাল রবিবার বাদ আসর দর্শনায় এই গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। দর্শনা বাসষ্ট্যান্ড থেকে শুরু করে মিছিলটি রেলবাজার, রেলগেট, পুরাতনবাজার, থানা মোড়, ইসলামবাজার, রেলইয়ার্ড হয়ে রেলবাজারস্থ শহীদ শাহরিয়ার মুক্ত মঞ্চে এসে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

দর্শনা থানা আমীর মাওলানা রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমীর ও জাতীয় সংসদ পদ প্রার্থী মোঃ রুহুল আমিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও সাবেক দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা মোঃ আজিজুর রহমান, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মোঃ আব্দুল কাদের, এবি পার্টির জেলা সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেন, খেলাফত মজলিসোর জেলা সেক্রেটারী জুবায়ের খান, এনসিপির জেলা আহবায়ক খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লব, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি এস এম শাহজাহান কবির, মাজলিসুল মুফাসসিরিনের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আবু জার গিফারী, দর্শনা থানা নায়েবে আমীর মাজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারী জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, দামুড়হুদা যুব জামায়াতের সভাপতি মাওলানা আব্দুল খালেক, দর্শনা পৌর আমীর মোঃ সাহিকুল আলম অপু, মদনা ইউনিয়ন আমীর হাফেজ শহিদুল ইসলাম, কুড়–লগাছী ইউনিয়ন আমীর সদেকীন, বেগমপুর ইউনিয়ন আমীর মোশারফ হোসেন, নেহালপুর ইউনিয়ন আমীর লিটন মল্লিক, তিতুদহ ইউনিয়ন আমীর মোঃ রাফিজুল ইসলাম, গড়াইটুপি ইউনিয়ন আমীর মোঃ ইউনুছ আলীসহ সকল ইউনিয়ন সেক্রেটারী ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ্ব।

মিছিল শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ১১ দল সমর্থিত ও জামায়াত মনোনীত দাড়িপাল্লার প্রার্থী জেলা আমীর মোঃ রুহুল আমিন বলেন- আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে দর্শনা-দামুড়হুদা ও জীবননগরের সকল মানুষের মধ্যে একটাই স্লোগান উঠেছে সব দল দেখা শেষ দাড়িপাল্লার বাংলাদেশ। আমরা এই স্লোগানের সন্মান জানাতে চাই। আমরা জনগনকে আশ্বস্থ করতে চাই আপনারা যে স্লোগান তুলেছেন, সেই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশটাকে গড়ে তুলবো ইনশাল্লাহ। আমরা মানুষকে স্বাধীনভাবে নিরাপত্তার সাথে নিজ বাড়ীতে ঘুমানোর গ্যারান্টি দিতে চাই। হয়রানি মূলক মামলা কিংবা হয়রানি করে বাড়ী ছাড়া করতে চাইনা। আমরা মানুষের ঘর বানাতে চাই, ঘর ভাংতে চাইনা। আমরা মানুষকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে চাই, শত্রু হিসেবে গ্রহণ করতে চাইনা। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, সেটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, আমরা এই সৌন্দর্যকে সাথে নিয়ে বন্ধুত্বের হাত প্রসারিত করতে চাই। রাজনীতির ময়দানে কিলাকিলি বন্ধ করে কুলাকুলির সংস্কৃতি চালু করতে চাই।

আমরা ব্যবসায়ীদেরকে নিরাপত্তার সাথে ব্যবসা করার গ্যারান্টি দিতে চাই। ব্যবসায়ীদের চাঁদা দেবার যে সাংস্কৃতি চালু হয়েছে তা চিরদিনের মতো কবর দিতে চাই। আমরা ঐক্যবদ্ধ ও চাঁদাবাজ মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা দূর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত বাংলদেশ গড়তে চাই। আমরা আপনাদের হাতে বাংলাদেশের চাবী রাখতে চাই, যেন ফ্যাসিবাদ আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে আর না পারে। আর সেই জন্য দাড়িপাল্লার পক্ষে আপনাদের ভোট চাই।

১১দলের পক্ষে যদি আপনারা ভোট দেন আমরা আপনাদের স্লোগানকে সন্মান দিয়ে বলছি- আমরা আপনাদের স্বপ্ন পূরণ করে দেব, দেশ বেকারমুক্ত হবে, দূর্ণীতিমুক্ত হবে, চাঁদাবাজ মুক্ত হবে, ক্ষুধা মুক্ত হবে, দুঃশাসনমুক্ত হবে ইনশাল্লাহ। আমরা জুলাইয়ের রক্তকে সন্মান জানিয়ে দেশটাকে ঢেলে সাজাতে চাই। আমরা দর্শনা, দামুড়হুদা ও জীবননগরকে সাজিয়ে মানবতার কল্যাণে কাজ করতে চাই। আপনারা আসুন আমাদের সাথে।

নির্বাচনের এই শেষ মিছিলে দর্শনা থানা সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী যোগ দেয়ায় ক্ষণিকের জন্য দর্শনা মিছিলের শহরে পরিণত হয়। পথচারীরা মন্তব্য করেন অনেক বচর এত বড় রাজনৈতিক মিছিল দর্শনাবাসী দেখেনি।




দামুড়হুদায় মাদকসেবীদের তাণ্ডবে কৃষকের সোনাঝরা ফসল ধ্বংস; লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের জয়রামপুর হাজীপাড়ার মাঠে মাদকসেবীদের নৃশংস তাণ্ডবে এক কৃষি উদ্যোক্তার সোনাঝরা ফসল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত শনিবার দিবাগত গভীর রাতে পরিকল্পিতভাবে কলা বাগানে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার এলাকার বাসিন্দা কৃষি উদ্যোক্তা ইঞ্জিনিয়ার মাসুম জয়রামপুর হাজীপাড়ার মাঠে দীর্ঘদিন ধরে কলা, কচু , বেগুন, হলুদ, সরিষা,ওল, পেঁপে, বিভিন্ন প্রকার আমের বাগান, লিচু বাগান সহ বিভিন্ন ফসলের চাষ করে আসছেন। আগে পরিত্যক্ত পড়ে থাকা জমিগুলো তিনি আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের আওতায় এনে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেন। এতে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলেও একটি মাদকাসক্ত চক্র এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, রাতের আঁধারে মাদকসেবীরা মাঠের মধ্যে আগুন জ্বালিয়ে কলাবাগানে ভয়াবহ ক্ষতিসাধন করে। পরিত্যক্ত বিষের পলিথিন ও শুকনো পাতা ব্যবহার করে কলাগাছের মাথায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে একাধিক কলাগাছ পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়, অনেক গাছ ভেঙে ফেলা হয়। ফলে কলার মোচা ও পাতাসহ পুরো বাগান মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে। এতে প্রায় দুই লক্ষ টাকার অধিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী কৃষক।

কৃষি উদ্যোক্তা ইঞ্জিনিয়ার মাসুম জানান, “এর আগেও আমার বাগানের অনেকগুলো ফলন্ত মোটা লিচু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে, ফসল নষ্ট করা হয়েছে, এমনকি কাঁটাতারের বেড়া চুরি করে নিয়ে গেছে। স্থানীয়ভাবে সবাই জানে, একটি মাদকাসক্ত চক্র এসব করছে। আমি কৃষিকাজ শুরু করায় তারা তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ডে বাধা পাচ্ছে বলেই পরিকল্পিতভাবে ফসল নষ্ট করছে।

স্থানীয়রা জানান, জয়রামপুর হাজীপাড়ার মাঠ দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবীদের আড্ডাস্থল হিসেবে পরিচিত। মাঠটি নির্জন হওয়ায় সন্ধ্যার পর সেখানে সাধারণ মানুষের যাতায়াত কম থাকে। এই সুযোগে তারা নিয়মিত মাদক সেবন ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কৃষক ও এলাকাবাসী দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী কৃষক জানান, তিনি এ বিষয়ে দামুড়হুদা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন। কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন ও খাদ্য উৎপাদনের স্বার্থে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার দ্রুত বিচার এবং কৃষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

এবিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন বলেন, এবিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ করেনি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




নতুন পোশাকে শিশুর চোখে নতুন স্বপ্ন জাগালো আলমডাঙ্গা মানবাধিকার কমিশন

নতুন ড্রেসে নতুন স্বপ্ন, আলমডাঙ্গার নান্দবারে শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি ফোটাল বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন।

“ছোট্ট সহায়তায় বড় আশা” এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মানবিক কার্যক্রমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন আলমডাঙ্গা শাখা। গতকাল  রবিবার বেলা ১২টার সময় বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন আলমডাঙ্গা শাখার উদ্যোগে নান্দবারব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর হাতে নতুন স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ তুলে দেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন আলমডাঙ্গা শাখার সভাপতি আল আমিন হোসেন পরশ, স্কুলের প্রধান শিক্ষক হুমায়ন কবির টুলু, উপস্থিত ছিলেন আসমানখালী ক্যাম্পের ইনচার্জ ফিরোজ আহমেদ, ক্যাম্পের উপ পরিদর্শক শাহরিয়ার তপু, মানবাধিকার কর্মী চঞ্চল হোসেনসহ স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ। এসময় নতুন পোশাক ও ব্যাগ হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটে ওঠে।

জানা গেছে, চলতি বছর সংস্থাটির পক্ষ থেকে অসহায় পরিবারের জন্য বাসস্থান নির্মাণে নগদ অর্থ ও টিন সহায়তা প্রদান করা করেছে। তীব্র শীতে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন শীতার্তদের মাঝে ৪০০ এর অধিক কম্বল বিতরণ করা করেছে। এছাড়াও মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনার সময় ৪৬ ব্যাগ রক্তসহ গত বছর এপ্রিল মাস থেকে এখন পর্যন্ত ১০৭ ব্যাগ রক্তের ব্যবস্থা করেছে শাখাটি।

সভাপতি আল আমিন হোসেন বলেন, “আমরা অসহায় মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।




দুধ কলা খেয়ে বড় হয়ে এখন কাল সাপের মত আচরণ -জয়ন্ত কুমার কুন্ডু

স্বাধীনতার পর একটি দল আমাদের সঙ্গে থেকে দুধ কলা খেয়ে বড় হয়ে এখন কাল সাপের মত আচরণ করছেন। গতকাল রবিবার বিকেলে কোটচাঁদপুর হাইস্কুল মাঠে ঝিনাইদহ-৩ আসনের নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএনপি’র খুলনা বিভাগের সহ-সাংগাঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু।

তিনি বলেন, ওই দলটি কখনও আমাদের সঙ্গে কখনও পতিত আওয়ামীলীগের সঙ্গে কখনও জলে জঙ্গলে থেকে গুপ্ত রাজনীতি করেছেন। এখন তারা কথায় কথায় বলেন, বিএনপি চাঁদাবাজি করে। বিএনপি দখলবাজি করে। আর তাদের ভাবটা এমন, ঠাকুর ঘরে কেরে,আমি কলা খায়নি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি সাবেক অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মহেশপুর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মেহেদী হাসান (রনি), কেন্দ্রীয় বিএনপি’র তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কে এম আমিরুজ্জামান খান শিমুল, কেন্দ্রীয় জাসাসের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী  মনির খান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মিঠুন কুমার দাস।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের নেতা ইঞ্জিনিয়ার মমিনুর রহমান (মমিন), উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আশরাফুজ্জামান খান মুকুল, যুব দলের সদস্য সচিব মাহফুজুল আলম মামুন, পৌর ছাত্র দলের আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার বাধন রাজবীর (নিশু)। তারা বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীর্ষ প্রতিককে বিজয়ী করতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। রুখে দিতে দেশ বিরোধী অপশক্তিকে।

সভা উপলক্ষে এ দিন দুপুর থেকে কোটচাঁদপুর উপজেলা ও পৌর সভার ওয়ার্ড থেকে মিছিল সহকারে কোটচাঁদপুর পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হতে থাকে। সভা শেষে বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে বিশাল মিছিল বের হয়। এরপর মিছিলটি শহরের বিশেষ বিশেষ সড়ক ঘুরে বাজার চত্বরে এসে শেষ হয়।

সভা সঞ্চালনা করেন, জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন খোকন।




কৃষি, স্বাস্থ্য শিক্ষাসহ ১২ দফার অঙ্গিকার

মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক ন্যায় বিচার, সুশাসন এবং নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচন ইশতেহার ঘোষণা করেছেন মেহেরপুর-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী তাজ উদ্দিন খান।

গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় মেহেরপুর শহরের একটি রেস্টুরেন্টে তিনি এ ইশতেহার ঘোষণা করেন। এসময় জামায়ত, এনসিপির নেতৃবৃন্দও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন ইশতেহারের অংশ হিসেবে তাজ উদ্দিন বলেন, কৃষকদের জন্য সুদবিহীন ঋণ প্রদানসহ কৃষিকে আধুনিকরণ ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে।

৬০ বছরের উর্ধে এবং ৫ বছরের নিচের সকলের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষার আধুনিকীকরণ, গবেষণা-ভিত্তিক শিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ ও কর্মমূখী জনশক্তি গঠণের গুরত্ব দেওয়া হবে।

যুবকরা আপদ নয়, জাতীর সম্পদ, গ্রাজুয়েটদের দক্ষতা অজর্নের জন্য ২ বছর মেয়াদি ১০ হাজার টাকা করে সুদমুক্ত ঋণ প্রদান করা হবে।

মেহেরপুর শহরকে যানজট মুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় বাইপাস সড়ক নির্মানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

মুজিবনগর, আমঝুপি, ভাটপাড়া নীলকুঠি ও মেহেরপুরের ৬টি বিলসহ নদ-নদীগুলোকে নিয়ে পর্যটন জোন তৈরি করা হবে। শিশূদের জন্য বিনোদন পার্ক তৈরি করা হবে।

ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা জামায়াতের রাজনৈতিক সেক্রেটারি রুহুল আমিন।




ঝিনাইদহে একটিতে বিএনপি এগিয়ে; বাকি তিনটিতে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহের ৪টি সংসদীয় আসনের নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে।

নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার আর মাত্র ৪দিন বাকী। ধানের ক্ষেত থেকে শুরু করে মসজিদের আঙ্গিনা পর্যন্ত চলছে জয়-পরাজয়ে হিসাব নিকাশ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই আলোচনা।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ সমমনা কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনে না থাকলেও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১০দলীয় রাজনৈতিক জোট এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১দলীয় জোটসহ মোট ৩০টির মত দল নির্বাচনে অংশ গ্রহন করছে। তবে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে চলছে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতার লড়াই ।

ঝিনাইদহ ৪টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ঝিনাইদহ-১(শৈলকুপা) আসনটি আওয়ামী লীগের অধ্যষিত আসন। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে এই আসনে বাম রাজনৈতিক দল বিশেষ করে জাসদের ব্যাপক অবস্থান ছিলো। পরবর্তীতে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন এই আসনটিতে ক্ষমতায় ছিল। এই আসনে জামায়াতের সাংগঠনিক অবস্থা খুব একটি শক্তিশালী ছিলনা। ৫ আগষ্টের পরে জামায়াত সাংগঠনিক ভাবে ফিরে এসে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাই ফলে বিএনপির পাশাপাশি এই আসনটিতে নতুন করে চোখ রাঙ্গাচ্ছে জামায়াত।

এই আসনে ৫জন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি মনোনীত অ্যাড. আসাদুজ্জামানের ধানের শীষ প্রতীক জয়ের ব্যাপারে এগিয়ে রাখলেও মূল লড়াই হবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস এম মতিউর রহমানের দাড়িপাল্লা প্রতীকের সাথে। এই আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৩২৫২৭৮ জন।

ঝিনাইদহ-২(ঝিনাইদহ সদর-হরিণাকুণ্ডু) আসনটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ আসন। গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র এমপিদের দখলে থাকলেও তার আগের ১৫বছর বিএনপির প্রয়াত সাংসদ মশিউর রহমানের দখলে ছিল আসনটি। এই আসনে অনেক অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছেন এই বিএনপির প্রয়াত সাংসদ। তবে আসনটিতে জামায়াতের এমপি হওয়ারো নজির রয়েছে। দুই উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন এবং ২টি পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ৫লাখ ৫শ আট জন। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আব্দুল মজিদ। তিনি সাবেক ছাত্রনেতা, ইউনিয়নের একাধীক বারের চেয়ারম্যান ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। ফলে তার রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। মাঠে প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে আছেন বিএনপির এই প্রার্থী।

বিপরিত দিকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী একটি বেসরকারী কলেজের সহকারী অধ্যাপক আলী আজম মোঃ আবু বকর ক্লিন ইমেজের মানুষ রয়েছে শক্ত অবস্থানে। আসনটিতে জামায়াতের সাংগঠনিক অবস্থা অনেক ভাল তাছাড়া ২৪শে’র আন্দোলন পরবর্তী চাঁদাবাজী এবং লুটতরাজের বিরুদ্ধে দলীয় ইতিবাচক ভূমিকা রাখার কারণে সাধারণ ভোটারদের কাছে তার ভাল অবস্থান রয়েছে বলে ধারণা করছেন সাধারণ ভোটাররা। নির্বাচনে যে কোনো দলে অল্প ভোটের ব্যাবধানে জয়ী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই আসনে মোট ৬জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন এর মধ্যে ধানের শীষ এবং দাড়িপাল্লার মধ্যে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।

ঝিনাইদহ-৩ (কোঁটচাদপুর-মহেশপুর) এই আসনে জামায়াতের সাথে বিএনপির ছিল সুদীর্ঘ সম্পকর্, আওয়ামী লীগ পতনের পর ক্ষমতার ভাগাভাগি ও নির্বাচণী বৈতরণী পার হতে দুদলের সম্পর্ক এখন সাপে নেওলে। আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থীকে একটু এগিয়ে রাখলেও বিএনপি তা মানতে নারাজ, কারণ এই আসনটিতে রয়েছে বিএনপির পুরাতন ইতিহাস ও বারবার পাশ করার রেকর্ড।

আজকে যিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মেহেদী হাসান রনি, তিনি হলেন সাবেক দুই বারের এমপি প্রয়াত শহিদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে। তিনি বাবার দেখানো পথ এবং নেতা কর্মীদের একসাথে নিয়ে নির্বাচন মোকাবেলা করছেন, তিনি আশাবাদী ঝিনাইদহ-৩ আসনটি তিনি পূনরায় উদ্ধার করে তারেক জিয়াকে উপহার দিবেন। এদিকে এই আসনটি নিয়ে জামায়াতের নিশ্চিত জয় আশা করছেন দলের নেতা কর্মীরা। এই আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হলেন, কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান। তিনি একজন ভাল বক্তা এবং স্বনামধন্য ব্যক্তি।

তিনি আশা করেন, এলাকার উন্নয়ন ও মানুষে মানুষে সু সম্পর্ক বজায় রাখতে জামায়াতে ইসলামের বিকল্প নেই। এই আসন ২টি উপজেলা নিয়ে গঠিত কোঁটচাঁদপুর এবং মহেশপুর। মোট ভোটার ৪লাখ একত্রিশ হাজার পনের জন।

এরমধ্যে কোটচাঁদপুরে মোট ভোটার ১লক্ষ আঠাশ হাজার এবং মহেশপুরে মোট ভোটার ৩ লাখ ২হাজার ১শ চৌষট্টি জন।

জামায়াত প্রার্থীর বাড়ি কোটচাঁদপুরে এবং বিএনপির প্রার্থীর বাড়ি মহেশপুরে হওয়ায় কিছু ভোটার আঞ্চলিক অবস্থানের কথা কথাও বিবেচনা করছেন। তবে তেমনটি হলে জামায়াতের প্রার্থী কিছুটা সংকটে পড়বে। সব মিলে আসনটিতে লড়াই হবে দ্বিমুখী। এই আসনে আরও দুজন প্রার্থীও রয়েছে।

ঝিনাইদহ-৪ (সদর-কালীগঞ্জ) এই আসনে বিএনপির একজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে ফলে এখানে ত্রীমুখী লড়ায়ের সম্ভাবনা। আসনটিকে মূলত বিএনপি’র আসন হিসেবে ধরা হয়, কারণ এই আসন থেকে বিএনপির দীঘদিন ধরে জয়ের রেকর্ড রয়েছে। গত তিনটি নির্বাচন ছাড়া স্বাধীনতা পববর্তী বাকি সময় ধরে বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হলেন, গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, তিনি ঝিনাইদহ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং বিএনপিতে সদ্য যোগদানদানকারী প্রার্থী।

কালীগঞ্জ নির্বাচনী এলাকার মধ্যে বাড়ি না হওয়ায় কালীগঞ্জবাসী তাকে মেনে নিতে পারছেন না । অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ছিলেন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বিএনপির ভোট ব্যাংক দখলে রেখেছেন, তাছাড়া আওয়ামী লীগের ভোটও তিনি আশা করছেন।

এছাড়া এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন একটি মাদ্রাসার সুপার মাও. আবু তালেব, তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর। বিএনপি ভোট দুই ভাগে ভাগ হলে জামায়াত এই আসনটিতে নির্বাচিত হলেও অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। সাধারণ ভোটারদের ধারণা আসনটিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে সাইফুল ইসলাম ফিরোজের কাপ-পিরিচ এবং মাও. আবু তালিবের দাড়িপাল্লার মধ্যে। এই আসনে রয়েছে ৩লাখ তেত্রিশ হাজার ৪শ’একষট্ট্রি ভোটার।

সমাজের সুশিল বুদ্ধিজীবীদের ধারণা ঝিনাইদহ ৪টি আসনেই আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরদের জয়-পরাজয়ে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

ঝিনাইদহে অবাধ নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে জেলা রিটানিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ ও পুলিশ সুপার মোঃ মাহফুজ আফজাল জানিয়েছেন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে তারা সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন। বিশৃঙ্খলা দমনে কয়েক স্তরে আইন শৃঙ্খলা কাজ করছে, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে তারা বদ্ধপরিকর।




মেহেরপুরে বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচনী জনসভা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদান এবং ভোটকেন্দ্র পাহারার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাসুদ অরুন। তিনি বলেন, ভোটাররা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সকালে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন এবং ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করে কেন্দ্র পাহারা দেবেন।

রোববার বিকেলে মেহেরপুর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মাসুদ অরুন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান। পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আলমগীর খান সাতু, আনছারুল হক, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মারুফ আহমেদ বিজন, মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ মোহাম্মদ, জেলা কৃষক দলের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাহবুব, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী সায়েদাতুন্নেছা নয়ন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আকিব জাভেদ সেনজীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট প্রদান ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সবাইকে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান।




চুয়াডাঙ্গার জয়রামপুরে বিএনপির নির্বাচনী মিছিল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে দিন দিন পাল্টে যাচ্ছে ভোটের মাঠের চিত্র। নির্বাচনী প্রচারণায় ক্রমেই বাড়ছে সাধারণ মানুষের সরব অংশগ্রহণ।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রবিবার বিকেলে দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের জয়রামপুর ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজনে এক বিশাল নির্বাচনী মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আছরের নামাজের পর জয়রামপুর স্টেশন এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে গ্রামের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে কৃষক, দিনমজুর, শ্রমজীবী মানুষ, যুবক, বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। মিছিলজুড়ে ছিল সুশৃঙ্খল উপস্থিতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ।

স্থানীয়দের মতে, নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বাড়ছে। গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা। ফলে পুরো আসনজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।মিছিলে উপস্থিত ছিলেন হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক নাফিজ আক্তার সিদ্দিকী সাংগঠনিক সম্পাদক মালেক রুস্তমসহ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, আমরা এখন নির্বাচনী প্রচারণার শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছি। মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে চায়, নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চায়। জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি আমাদের অনুপ্রাণিত করছে।

তিনি আরও বলেন, ভোটারদের কাছে আমাদের মূল প্রত্যাশা হচ্ছে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। জনগণ যাকে যোগ্য মনে করবে, তাকেই ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করবে, এই প্রত্যাশাই করি। আপনারা জানেন যে, চুয়াডাঙ্গা ২ আসনে অন্য যে-কোন দলের প্রার্থীর চেয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু সবার সেরা। তিনি নির্বাচিত হলে এই অঞ্চলের আমুল পরিবর্তন ঘটবে।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে এবারের নির্বাচনী প্রচারণা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রাণবন্ত। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে মাঠের বাস্তবতায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগমুহূর্তে পুরো এলাকায় বাড়ছে রাজনৈতিক তৎপরতা, আলোচনায় ভোটের হিসাব-নিকাশ, আর সাধারণ মানুষের সক্রিয় উপস্থিতি যা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও গতিশীল করে তুলছে।