আলমডাঙ্গায় তিন সন্তানের জননীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার গাংনী ইউনিয়নের সাহেবপুর গ্রামে তিন সন্তানের জননীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

কুটিলা খাতুন (৪৩) নামের এই নারীর মরদেহ তার নিজ বাড়ির পাশে অবস্থিত একটি আমবাগান থেকে উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত কুটিলা খাতুন সাহেবপুর গ্রামের দিনমজুর হাসমত আলীর স্ত্রী।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কুটিলা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে স্তন ক্যান্সারের অসহনীয় যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি; বরং যন্ত্রণা আরও তীব্রতর হয়। অবশেষে তিনি তিন সন্তান রেখে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল বারি বলেন, দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় কুটিলা খাতুন মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। অসহনীয় যন্ত্রণা বাড়লে তিনি মাঝে মাঝে আত্মহত্যার চেষ্টাও করতেন বলে জানা গেছে।

পরিবারের বরাত দিয়ে রকিবুল ইসলাম জানান, ভোরে সেহরি শেষে সবার অজান্তে তিনি বাড়ির পাশের আমবাগানে যান। ফজরের নামাজের পর তার বোনের ছেলে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পায়। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দেওয়া হলে আসমানখালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

তিনি জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।




হরিণাকুণ্ডুতে আইন-শৃঙ্খলা ও সন্ত্রাস-নাশকতা প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আইন-শৃঙ্খলা এবং সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিদারুল আলমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-২ (সদর ও হরিণাকুণ্ডু) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলী আজম মোহা: আবু বকর।

প্রধান অতিথি এমপি আলী আজম মোহাঃ আবু বকর প্রথম বলেন,”উপজেলার সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। কোনো ধরনের সন্ত্রাস ও নাশকতা বরদাশত করা হবে না। মাদক, জুয়া ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।”

এসময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দজাদী মাহবুব মঞ্জুর মৌনা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান মাস্টার, জামায়াতে ইসলামী উপজেলা আমির মোঃ বাবুল হোসেন, সেক্রেটারি ইদ্রিস আলী মাস্টার, উপজেলা কৃষি অফিসার শরীফ মোহাম্মদ তিতুমীর, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ উজ্জ্বল কুমার কুন্ডু, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সাংবাদিক ও দপ্তর প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এলাকায় কোনো প্রকার অস্থিতিশীল পরিবেশ বা নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা চললে তা কঠোর হস্তে দমনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয় এবং উপজেলার হাট-বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশি টহল বৃদ্ধির ওপর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।




মেহেরপুরে অনলাইন জুয়ার প্রথম মাস্টার মাইণ্ড মুকুল ইসলাম গ্রেপ্তার

মেহেরপুরে সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের হওয়া জেলার প্রথম মামলার অন্যতম আসামি ও জেলা ব্যাপী অনলাইন ক্যাসিনো কারবার ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত কোমরপুর গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে মুকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী।

ডিবি পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি কার্যকর হওয়া সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৫-এর আওতায় মেহেরপুর জেলায় দায়ের হওয়া প্রথম মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন মুকুল ইসলাম। ওই মামলায় মোট ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছিল।

মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘সাইবার আইনে দায়ের হওয়া মামলার পলাতক আসামি হিসেবেই মূলত মুকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় জব্দ করা মোবাইল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অনলাইন জুয়া বা অবৈধ লেনদেনের কোনো ট্রেস পাওয়া গেলে নতুন আরেকটি মামলা দায়ের করা হবে। অন্যথায় বিদ্যমান মামলাতেই তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’

সাইবার মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মুজিবনগর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আরও ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৫-এর ২০(২), ২৪(২) ও ২৭(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

নথিতে উল্লেখ করা হয়, চক্রটি মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়াসহ আশপাশের এলাকায় অনলাইন জুয়া ও অবৈধ ই-লেনদেনের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল। আন্তর্জাতিক অনলাইন ক্যাসিনো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তারা দেশি-বিদেশি অর্থপাচারে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায় অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কোটি টাকার লেনদেনের পাশাপাশি ফেসবুক ও টেলিগ্রাম গ্রুপে দ্রুত আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।

এ বিষয়ে মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান বলেন, ‘অনলাইন ক্যাসিনো এজেন্টদের বিষয়ে মেহেরপুর জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। চিহ্নিত অপরাধীদের ধরতে জেলা ব্যাপী অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

কে এই মুকুল ইসলাম

অনুসন্ধানে জানা যায়, মেহেরপুর জেলায় অনলাইন জুয়া ছড়িয়ে পড়ার পেছনে যাদের নাম আলোচিত, মুকুল ইসলাম তাদের অন্যতম। শুধু মেহেরপুর নয়, বাংলাদেশে অনলাইন ক্যাসিনোর শুরুর দিকেই গুটিকয়েক ব্যক্তির মধ্যে তিনিও একজন এজেন্ট হিসেবে যুক্ত হন। করোনাকালে অনলাইন জুয়াড়ীদের হাতে খড়ি দিতেন এই মুকুল।

আরও জানা গেছে, নুরুল মাস্টার ও জামান মাস্টারের অর্থায়ন ও এজেন্ট সিম ব্যবহার করে মুকুল ইসলাম এবং ওয়াসিম হালদার মেহেরপুর জেলায় প্রথম অনলাইন ক্যাসিনো এজেন্টশিপ পরিচালনা শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে মুকুল নিজেই জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়লে নুরুল ও জামান তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন।

এরপর বিভিন্ন ব্যক্তিকে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট চ্যানেল দেওয়ার নামে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। প্রতারণার অর্থ দিয়ে জুয়া খেলতে গিয়ে একপর্যায়ে তিনি তার অবৈধ উপার্জনে অর্জিত সম্পদ বিক্রি করলেও এখনো অনলাইন জুয়ার চক্র থেকে বের হতে পারেননি।

হুমকি দিয়েছিলেন মেহেরপুর প্রতিদিনের সম্পাদককে

মেহেরপুর প্রতিদিনে অনলাইন জুয়া নিয়ে সংবাদ প্রকাশ শুরু হলে। প্রথম সংবাদের মুকুল ইসলাম নাম জড়িয়ে পড়ে। প্রথম সংবাদ প্রকাশের দিনই তিনি মোবাইল ফোনে মেহেরপুর প্রতিদিনের সম্পাদককে হুমকি দেন এবং বলেন আপনি যেখানে আছেন সেখানেই থাকেন। আপনি কিভাবে আমার বিরুদ্ধে নিউজ করেছেন আমি দেখতে চাই।  বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে মুকুল আত্মগোপনে চলে যায়।

 




দর্শনায় পূর্ব শত্রুতার জেরে কুপিয়ে জখম: ৮ জনের নামে মামলা

দর্শনা পৌরসভার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে রিপন (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখমের ঘটনায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত রোববার মাগরিবের পর মোটরসাইকেলযোগে নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে ঈশ্বরচন্দ্রপুর বড় মসজিদের সামনে তাকে এলোপাথাড়িভাবে কুপিয়ে জখম করা হয়। স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, প্রায় ৩/৪ মাস আগে একই গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে রিপনের সঙ্গে হাসেমের ছেলে খাইরুল ও সানিরুলের ছেলে রাশেদের মাদকসংক্রান্ত বিষয়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এরই জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মামলার বাদী রিপনের ছোট ভাই রুবেল হোসেন। তিনি হাসেম, খাইরুল, শোভন, কুদ্দুস, খোকনসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ১২ জনকে আসামি করে মামলা নং-১৩ দায়ের করেছেন।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাসেমের স্ত্রী ও মেয়েকে আটক করা হয়েছে।

দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




আলমডাঙ্গায় মাদকসহ এক যুবক গ্রেপ্তার

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ২০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ ফয়সাল নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আলমডাঙ্গা থানার এসআই (নিঃ) মো. বাবলু খান সঙ্গীয় ফোর্সসহ বিশেষ মাদকবিরোধী ডিউটি চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলমডাঙ্গা থানাধীন বাড়াদী ইউনিয়নের নতিডাঙ্গা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।

এ সময় নতিডাঙ্গা বাজার থেকে ফিরোজ খানের ছেলে মো. ফয়সাল আহম্মদকে তার বসতবাড়ির সামনে পাকা রাস্তার ওপর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ২০ (বিশ) পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা নং-১৯, তারিখ: ২৩/০২/২০২৬ খ্রি., ধারা: ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ৩৬(১) সারণির ২৯(ক) অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে।




দর্শনায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেকের দাফন সম্পন্ন

দর্শনা কেরুজ শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।

 সোমবার বাদ জোহর দর্শনা কেরুজ ক্লাব মাঠে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উবায়দুর রহমান সাহেলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে সেখানে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় লোকজন ছাড়াও চুয়াডাঙ্গা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আব্বাস উদ্দীন, উপজেলা আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের হাফিজুল ইসলাম, দর্শনা পৌর বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, সাবেক পৌর কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলীসহ অনেকে অংশ নেন।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন দর্শনা কেরুজ শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ সবুজ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মাসুদ, মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) আশরাফুল আলম ভূঁইয়া, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) আব্দুস ছাত্তার এবং কেরুজের শ্রমিক-কর্মচারীরা।

জানাজা শেষে আনোয়ারপুর কবরস্থানে বেদনাবিধুর পরিবেশে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।




আলমডাঙ্গার আসাননগরে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

আলমডাঙ্গার আসাননগর গ্রামে নিজ কক্ষ থেকে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।  সোমবার সকালে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহত সুজন (৩৫) আসাননগর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাব্বত আলীর ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সুজন তার স্ত্রী লিমা ও তিন সন্তানকে মারধর করে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। দীর্ঘদিন কোনো খোঁজ না পেয়ে তার বড় ছেলে লিমন বাড়িতে এসে গেট তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে ঘরের ভেতর রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় বাবার মরদেহ দেখতে পান।

প্রতিবেশীদের ভাষ্য, সুজন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। তিনি প্রায়ই স্ত্রী-সন্তানদের ওপর নির্যাতন করতেন। প্রতিবেশীরা বাধা দিতে গেলে তাদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করতেন, ফলে ধীরে ধীরে এলাকাবাসী তার বাড়িতে যাওয়া বন্ধ করে দেন।

তার বড় বোন হাসি জানান, সুজন দীর্ঘদিন মাদকাসক্ত থাকায় পরিবারের সঙ্গে তার তেমন যোগাযোগ ছিল না। তবে মাঝে মধ্যেই তিনি স্ত্রী লিমাকে মারধর করতেন।

এ বিষয়ে ওসি বানী ইসরাইল জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




আলমডাঙ্গায় দুর্নীতি রোধে এমপির ঝটিকা অভিযান

আলমডাঙ্গার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে ঝটিকা পরিদর্শন করেছেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল।

গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি আলমডাঙ্গা পৌরসভা, কৃষি অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শন করেন।

সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকারি দপ্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়ে আসছেন তিনি। দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য কমানো, কর্মকর্তাদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং নাগরিক সেবায় অনিয়ম রোধে ব্যস্ত সময়েই তিনি এ পরিদর্শনে যান।

পরিদর্শনকালে তিনি বিভিন্ন ফাইল ও নথিপত্র পর্যালোচনা করেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে সেবা পেতে অতিরিক্ত টাকা বা ঘুষ দিতে হচ্ছে কি না তা খোঁজ নেন। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন। একই সঙ্গে দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেন।

স্থানীয়রা এমপির এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ বন্ধ হবে এমন প্রত্যাশা করেছেন অনেকে।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, “সরকারি অফিসে দালালের মাধ্যমে নয়, সরাসরি সেবা পাবে মানুষ এটাই আমাদের লক্ষ্য।”

সচেতন মহল মনে করছেন, এ উদ্যোগ প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




জীবননগর পৌর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কমিটি গঠন

জীবননগর পৌর কেন্দ্রীয় ঈদগাহের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।  সোমবার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে এ কমিটি গঠন করা হয়। আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি ও পৌর বিএনপির সভাপতি শাজাহান কবিরের সভাপতিত্বে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

উপস্থিত সকলের সম্মতিক্রমে সাবেক পৌর চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল হককে সভাপতি এবং সাবেক কাউন্সিলর হযরত আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে আখতারুজ্জামানকে।

নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ওপর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। নবনির্বাচিত সভাপতি মো. আশরাফুল হক উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।




মেহেরপুরের নাসিমা আনিস পাচ্ছেন বাংলা একাডেমির কথাসাহিত্য পুরস্কার

মেহেরপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য আজ এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। জেলার কৃতি কথাসাহিত্যিক নাসিমা আনিস অর্জন করছেন দেশের অন্যতম সম্মানজনক স্বীকৃতি— বাংলা একাডেমি কথাসাহিত্য পুরস্কার ২০২৫। এ অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং মেহেরপুরবাসীর জন্য এক অনন্য সম্মান ও আনন্দের উপলক্ষ।

নাসিমা আনিস মেহেরপুরের মুজিবনগরের ঐতিহ্যবাহী বল্লভপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হাবিব আনিসুর রহমানের সহধর্মিণী। পারিবারিকভাবেও তাঁদের সন্তানরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। ইতিপূর্বে মেহেরপুরের লেখক রফিকুর রশীদ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ( শিশু সাহিত্যে) পান।

আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ ঘোষণা করা হয়। প্রস্তাবক কমিটির সুপারিশ এবং পুরস্কার কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে বাংলা একাডেমির নির্বাহী পরিষদ এ পুরস্কার অনুমোদন করে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি, অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার প্রদান করা হবে।

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ প্রাপ্তরা হলেন- কবিতায় মোহন রায়হান; কথাসাহিত্যে নাসিমা আনিস; প্রবন্ধ/গদ্যে সৈয়দ আজিজুল হক; শিশুসাহিত্যে হাসান হাফিজ; অনুবাদে আলী আহমদ; গবেষণায় মুস্তাফা মজিদ ও ইসরাইল খান; বিজ্ঞানে ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী ও মুক্তিযুদ্ধ মঈদুল হাসান।

কথাসাহিত্যে নাসিমা আনিসের অবদান দীর্ঘদিনের। তাঁর রচনায় উঠে এসেছে সমাজবাস্তবতা, মানবিক টানাপোড়েন, নারীর আত্মসংগ্রাম ও সময়চেতনার সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ। “কাঞ্চনের জন্য ভালোবাসা”, “চন্দ্রভানুর পিনিস”, “বৃহন্নালা বৃত্তান্ত”, “সূর্য ওঠার সময়”, “কুয়াশা কুয়াশা ভোর”, “স্বপ্ন আমার বাঁচবো”, “মোহিনীর থান”, “কিডনির কারবার” প্রভৃতি গ্রন্থ পাঠকমহলে বিশেষভাবে সমাদৃত। তাঁর গল্প “কয়লা নামে কোনো জায়গা নেই” সমকালীন সাহিত্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত।

তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে অনার্সসহ এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ঢাকার ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি শিক্ষকতা জীবনে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীর প্রেরণার উৎস ছিলেন।

এর আগে তিনি বাংলা একাডেমি প্রদত্ত ‘আবু রুশদ সাহিত্য পুরস্কার’ লাভ করেন (২০২৪), যা তাঁর সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিকে আরও দৃঢ় করেছে। মেহেরপুরবাসীর পক্ষ থেকে কথাসাহিত্যিক নাসিমা আনিসকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। তাঁর সাহিত্যসাধনা আরও সমৃদ্ধ হোক, বাংলা সাহিত্য ভান্ডার তাঁর কলমে হোক আরও আলোকিত—এই প্রত্যাশা রইল।

 আজ সোমবার বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫ প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়। নাসিমা হাসানসহ ৮ জন এবার বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাচ্ছেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার প্রদান করবেন।

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ প্রাপ্তরা হলেন কবিতায় মোহন রায়হান; কথাসাহিত্যে নাসিমা আনিস; প্রবন্ধ/গদ্যে সৈয়দ আজিজুল হক; শিশুসাহিত্যে হাসান হাফিজ; অনুবাদে আলী আহমদ; গবেষণায় মুস্তাফা মজিদ ও ইসরাইল খান; বিজ্ঞানে ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী ও মুক্তিযুদ্ধ মঈদুল হাসান।