মেহেরপুর ক্লিনিক এর অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু

মেহেরপুর ক্লিনিক এ জরায়ু টিউমার অপারেশ করতে গিয়ে নাসিমা খাতুন (৬০) এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নাসিমা খাতুনের স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে ক্লিনিকে হামলা চালিয়ে ক্লিনিক মালিক ডা. মিজানুর রহমান ও তাঁর ছেলে এনেসথেসিস্ট ডা. অভিকে বেদম মারধর করেছে। এর মধ্যে এনেসথেসিস্ট ডা. অভিকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার রাত ৯টার দিকে ক্লিনিকের অপারেশন টেবিলেই রোগীর মৃত্যু হয়। নিহত নাসিমা খাতুন গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের আব্দুল মজিদের স্ত্রী।

জানা গেছে, গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের আব্দুল মজিদের স্ত্রী নাসিমা খাতুনের জরায়ু টিউমারের অপারেশ করার জন্য মেহেরপুর ক্লিনিকের মালিক ডা. মিজানুর রহমানের সাথে ২৫ হাজার টাকায় চুক্তি করে তার ছেলে নাজমুল হুদা। চুক্তি মোতাবেক তার মাকে বিকালে মেহেরপুর ক্লিনিকে ভর্তি করে। ডাক্তারের কথা মত দুই ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করে দেয় এবং অগ্রিম ৬ হাজার টাকা প্রদান করে। রাত ৮টার দিকে নাসিমা খাতুনকে অপারেশন থিয়েটারে নেয় ক্লিনিকের স্টাফরা। সেখানে ডা. মিজানুর রহমান অপারেশ করেন এবং তাঁর ছেলে এনেসথেসিস্ট ডা. অভি সহযোগী হিসেবে ছিলেন। এর কিছুক্ষণ পর অপারেশ টেবিলেই রোগী মারা যায়। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে চিকিৎসকের উপর হামলা চালায় । এতে এনেসথেসিস্ট ডা. অভি গুরতর আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে রোগীর লোকজন গ্রাম থেকে গিয়ে পুনরায় ক্লিনিকে হামলা চালানোর চেষ্টা করে। তাৎক্ষণিক সেনাবাহিনীর একটি টিম গিয়ে বিক্ষুব্ধদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এদিকে খবর মেহেরপুরের সাবেক এমপি মাসুদ অরুন, বিএনপি নেতা অ্যাড. মারুফ আহমেদ বিজন ঘটনাস্থলে পৌছে রোগীর লোকজনকে শান্ত করেন।

নাসিমা খাতুনের ছেলে নাজমুল হুদা জানান, তার মায়ের জরায়ু টিউমারের অপারেশ করার জন্য রাত ৮টার দিকে অপারেশন থিয়েটারের নেন ক্লিনিকের লোকজন। কিছুক্ষণ পর, আমার মা আমাকে ছেড়ে দেন ছেড়ে দেন বলে চিৎকার করতে থাকে। তাও তারা আমার মাকে ছাড়ে না। তার কিছুক্ষণ পরে জানায় রোগী মারা গেছে।

নাজমুল অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মাকে ওই মিজান ডাক্তার মেরে ফেললো, আমি এখন কাকে নিয়ে থাকবো।’

মেহেরপুর সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা লাশ উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়েছি। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানাবেন কি কারণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। যদি চিকিৎসার অবহেলা বা ক্রটি পাওয়া যায় তবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




দামুড়হুদায় অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি উত্তোলন, দুইজনের কারাদণ্ড

দামুড়হুদায় মাটি উত্তোলনের দায়ে দুইজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই মাস করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। রবিবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উবায়দুর রহমান সোহেল।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার তারিণীপুর মাঠে ব্যক্তিমালিকানাধীন ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের অভিযোগে দুইজনকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তারিণীপুর মাঠে ভেকু দিয়ে বিনা অনুমতিতে মাটি উত্তোলন করে ট্রাক্টরের মাধ্যমে পরিবহনকালে স্থানীয়দের সহায়তায় হাতেনাতে আটক করা হয় অভিযুক্তদের।

আটক ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের জয়রামপুর গাতিরপাড়ার শহীদুল ইসলামের ছেলে শামীম ইসলাম (২০) এবং তারিণীপুর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে খালিদ হোসেন (২৫)।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০২৩)-এর সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ১৫(১) ধারা অনুযায়ী প্রত্যেককে দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। আটক ট্রাক্টরটি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্তদের গতকালই চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধ মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।




ঝিনাইদহে যাত্রীবেসে ব্যাটারি চালিত ভ্যান ছিনতাই

ঝিনাইদহে যাত্রীবেসে ব্যাটারি চালিত ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার সকালে ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারিপাড়ায় আব্বাস মিয়ার বাড়ির সামনে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মামুনশিয়া গ্রামের তরুন মিয়ার কিশোর পুত্র সোহান তার বাবার ভ্যান নিয়ে সকালে ডাকবাংলা বাজারে যায়। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ডাকবাংলা ভ্যান ষ্ট্যান্ড থেকে এক ব্যক্তি ঝিনাইদহ শহর থেকে ওষুধের কার্টুন নিয়ে আসার কথা বলে ৬০০ টাকায় ভাড়া ঠিক করে ঝিনাইদহ শহরের দিকে রওনা দেন।

ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের পাশে যোগ হয় আরে ব্যক্তি। তারা দুজন মিলে ব্যাপারি পাড়ায় আব্বাস মিয়ার বাড়ির পাশের একটি গলিতে নিয়ে গিয়ে সোহানকে মারধর করে ভ্যানটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। ভ্যানটির মূল্য ৯৫ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ঘটনায় পরিবারটির একমাত্র সম্বল হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে বলে দ্রুত উদ্ধারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দাবি জানিয়েছে পরিবারটি।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তকর্তা (ওসি) মোঃ সামসুল আরেফিন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চোরদের শনাক্ত করা চেষ্টা করা হচ্ছে।




৩০ বছর আগে পুলিশের গুলিতে নিহত আলতামতির সন্তানদের খোঁজ রাখেনা কেউ !

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রয়ারী ৬ষ্ট জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভাতুড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র থেকে পুলিশের গুলিতে রেহেনা আক্তার আলতামতি নিহত হয়। তিনি ছিলেন একজন সদালাপী, ধর্মভিরু গৃহবধু।

৫বছরের ছেলেকে খুজতে গিয়ে গুলিতে পুলিশের গুলিতে বুক ঝাজরা করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন তিনি। মৃত্যুর ৩০ বছর পার হয়ে গেলেও এখনো তার পরিবার বিচার পায়নি। এতিম দুই সন্তান রিপন ও শিপনকে কেউ পুর্নবাসিত করতে এগিয়েও আসেনি। খুবই দুঃখ কষ্টের মধ্যে চলছে তাদের সংসার।

তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভাতুড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী পুলিশের গুলিতে নিহত হন আলতামতি। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান বিশ্বাসের মেয়ে। এতিম দুই শিশুকে মানুষ করতে ১৯৯৮ সালের দিকে তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী কিছু আর্থিক অনুদান দেন।

তারপর দীর্ঘ দিন পার হয়ে গেলেও আর কেউ খোঁজ খবর নেয়নি। ইতি মধ্যে দীর্ঘ ৩০বছর পার হয়ে গেছে। আলতামতির দুই সন্তান এখন অনেক বড় হয়েছে। তারা বেশি লেখাপড়াও শিখতে পারেনি। এখন তারা পরের দোকানে কাজ করে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে সংসার চালায়। আলতামতির মৃত্যুর সময় বড় ছেলে রিপনের বয়স ছিল সাড়ে ৪ বছর আর ছোট ছেলে শিপনের বয়স ৩ মাস।

রিপনের বয়স এখন ৩৫ বছর। কিন্তু মেলেনি কোন সরকারী চাকরী বা সহযোগীতা আর ২৯ বছর বয়সী শিপন আলী এইচএসসি পাশ করার পর অর্থাভাবে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি এখন অন্যের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে কাজ করে সংসার চালায়।

আলতামতির বড় ছেলে রিপন জানান, তার মা মারা যাওয়ার পরে ২/৩ বছর যাবৎ মামাদের উদ্যোগে আমার মায়ের মৃত্যু বার্ষিকী পালন করতেন। এখন আর কেউ পালন করে না। তিনি আরো জানান দীর্ঘ সময় অতিবাহীত হলেও সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা আমরা পায়নি।

আলতামতির দুই সন্তান ও স্বজনরা তাদের সরকারী সহায়তাসহ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।




মেহেরপুরে জামানত হারিয়েছেন ৩ প্রার্থী

মেহেরপুরের দুটি আসনের জাতীয় পার্টির ২ জন ও সিপিবির এক প্রার্থীসহ ৩ জন জামানত হারিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, ‘কোনো সংসদীয় আসনে সংগৃহীত বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা কমপক্ষে সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট অর্জন করতে না পারলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সে অনুযায়ী প্রাপ্ত ফলাফলে এসব প্রার্থী নির্ধারিত সীমার নিচে ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত হারিয়েছেন।’

মেহেরপুর-১ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪১৯টি। এ আসনের জাতীয় পার্টির প্রাথী আব্দুল হামিদ ও সিপিবি প্রার্থী অ্যাড. মিজানুর রহমান জামানত হারিয়েছেন। আব্দুল হামিদ লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৩৯০ ভোট এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী অ্যাড. মিজানুর রহমান কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন ৭৮১ ভোট। যা বৈধ ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশের কম।

মেহেরপুর-২ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১১৯টি। এ আসেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল বাকি জামানত হারিয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ১৮২৫। যা মোট বৈধ ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশের কম।

মেহেরপুর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা করে জামানত জমা দিতে হয়। কোনো প্রার্থী মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট না পেলে সেই জামানত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয়।




দামুড়হুদায় প্রকৃতিকে রাঙিয়ে তোলা বসন্তের রুপকন্যা শিমুল বিলুপ্তপ্রায়

গাছে গাছে সবুজ পাতা, মুকুল আর ফুল আর কোকিলের ডাক মনে করিয়ে দেয় বসন্তের আগমনি বার্তা। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে আবহমান গ্রামবাংলার প্রকৃতিকে রাঙিয়ে অনেক ফুল ফুটলেও এখন আর তেমন চোখে পড়ে না রক্তলাল নয়নাভিরাম শিমুল ফুল।

কিন্তু কালের বিবর্তনে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার আগুন ঝরা ফাগুনে চোখ ধাঁধানো গাঢ় লাল রঙের অপরূপ সাজে সজ্জিত শিমুল গাছ এখন বিলুপ্তপ্রায়।

এক-দেড় যুগ আগেও দামুড়হুদা উপজেলা বিভিন্ন গ্রামের অধিকাংশ বাড়ির আনাচে কানাচে আর রাস্তার পাশে অনেক শিমুল গাছ দেখা যেত। প্রতিটি গাছে গাছে প্রস্ফুটিত শিমুল ফুলই স্মরণ করিয়ে দিত বসন্তের আগমনী বার্তা। বসন্ত আগমনের এক সঙ্গে প্রকৃতি প্রতিটি গাছেই আসতে শুরু করেছে নতুন পাতা। ইতি মধ্যেই কোকিলের সুমিষ্ট কুহুতালে ফাগুনের উত্তাল বাসন্তী হাওয়া দিচ্ছে দোলা। মুকুল আর শিমুল ফুল দেখে বোঝা যায় শীত বিদায় নিয়ে আসছে ফাগুন। শিমুল গাছের শাখাগুলো বসন্তের আগমনে লাল শাড়ির ঘোমটা পরা গ্রাম্য নববধূর সাজে সজ্জিত হতে দেখা যায়, যা দর্শনে হতাশ প্রেমিকের মনেও জাগিয়ে তোলে আশা।

অন্যান্য গাছের তুলনায় শিমুল গাছ অনেক উঁচু হওয়ায় বহু দূর থেকে এ মনোরম দৃশ্য চোখে পড়ে। কেবল সৌন্দর্যই বিলায় না, শিমুল গাছের রয়েছে নানা উপকারিতা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব।

প্রাকৃতিকভাবে তুলা আহরণের অন্যতম অবলম্বন শিমুল গাছ। এ গাছের সব অংশেরই রয়েছে ভেষজ গুণ। গ্রামে শিমূল গাছ ঔষধি গাছ হিসেবেও পরিচিত। গ্রামাঞ্চলের মানুষ বিষ ফোড়া, আখের গুড় তৈরিতে শিমুলের রস ও কোষ্ঠ কাঠিণ্য নিরাময়ে গাছের মূলকে ব্যবহার করতো।

শিমুল গাছ ৯০ থেকে ১০০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয় এবং বেশ মোটাও হয়। নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে শিমুল গাছ দেড় শ’ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। শীতের শেষে পাতা ঝরে পড়ে। বসন্তের শুরুতেই গাছে ফুল ফোটে। আর এ ফুল থেকেই হয় ফল।

চৈত্র মাসের শেষের দিকে ফল পুষ্ট হয়। বৈশাখ মাসের দিকে ফলগুলো পেকে শুকিয়ে গিয়ে বাতাসে আপনা আপনিই ফল ফেটে প্রাকৃতিকভাবে তুলার সঙ্গে উড়ে উড়ে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়া বীজ থেকেই এর জন্ম হয়। বালিশ, লেপ ও তোশক তৈরিতে শিমুল তুলার জুড়ি নেই। অথচ বর্তমানে মানুষ এ গাছকে তুচ্ছ মনে করে কারণে অকারণে কেটে ফেলছে।

ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হলেও সেই তুলনায় রোপণ করা হয়নি। ফলে আজ বিলুপ্তির পথে গাছটি। শিমুল গাছ উজাড় হওয়ার ফলে পরিবেশের ওপরে পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। গাছটি নিধনের জন্য একমাত্র ইটভাটাই দায়ী। এ গাছ অনেক উঁচু হওয়ায় কাক, কোকিল, চিল, বকসহ বিভিন্ন ধরনের পাখি বাসা বেঁধে বসবাস করত। এ গাছ উজাড় হওয়ার ফলে এসব পাখিরা আবাসস্থল হারিয়ে পড়েছে অস্তিত্ব সঙ্কটে। গাছ না থাকায় আবাসস্থলের অভাবে ধীরে ধীরে এসব পাখিরাও হারিয়ে যাচ্ছে।
গ্রামে শিমূল গাছ ঔষধি গাছ হিসেবেও পরিচিত। কিন্তু কালের বিবর্তনে আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় তেমন চোখে পড়ে না শিমুল গাছ। প্রতিনিয়ত বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে শিমুল গাছ। যার কারনে গ্রাম বাংলার বুক থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে, অতি চিরচেনা শিমূল গাছ।




আলমডাঙ্গায় নির্বাচনী পরবর্তী সহিংসতা রোধে নবনির্বাচিত এমপির প্রেসব্রিফিং

আলমডাঙ্গায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা রোধে নবনির্বাচিত এমপি প্রেস ব্রিফিং করেছেন।

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা ও প্রেস ব্রিফিং করেছেন।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার সময় আলমডাঙ্গা পৌর জামায়াতের কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা আমির প্রভাষক শফিউল আলম বকুল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের নির্বাচন বিভাগের পরিচালক শেখ নূর মোহাম্মদ হোসেন টিপু।সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা পৌর আমির মাহের আলী, উপজেলা সেক্রেটারি মামুন রেজা, পৌর সেক্রেটারি মুসলিম উদ্দিন এবং উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি তরিকুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী। উক্ত মতবিনিময় সভায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন” চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যারা আমাকে তাদের সেবক হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। এই বিজয় আমার একার নয়—এটি সাধারণ জনগণের বিজয়।দল মত নির্বেশেষে সকলেকে সাথে নিয়ে দেশের অগ্রযাত্রায় অংশীদার হতে চাই।

নির্বাচন পরবর্তী যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে তা রোধ করতে প্রতিপক্ষ বন্ধুদের উদ্বাস্তু আহব্বান জানাচ্ছি। আমরা কোন প্রকার সংঘাত, সহিংসতা চাই না।আমাদের এই জনপদের শুখে শান্তিতে স্বাধীন ভাবে বসবাস করুন এটাই আমাদের সকলের কাম্য হোক।
আপনারা বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবেন—এটাই আমার প্রত্যাশা।

সেই সাথে বিরোধী রাজনৈতিক মতের সকল বন্ধুদের সহযোগিতা কামনা করছি। সহিংসতার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে আমরা ঐক্য, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

”তিনি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনকে একটি শক্তিশালী, আধুনিক ও দুর্নীতিমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধিতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে সকলের উদ্দেশ্যে বলেন সহিংসতা নয়,আমরা সকলেই ভাই ভাই।তাই সহিংসতা পরিহার করে সুস্থ সুন্দর সমাজ গঠনে এগিয়ে আসি।

সেই সাথে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতায় কামনা করেন। এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




ঝিনাইদহ-৩ আসনে বিএনপি ও জামায়াত নেতার কুশল বিনিময়

বিএনপির ধানের শীর্ষের প্রার্থী মেহেদী হাসান রনির দলীয় কার্যালয়ে গেলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়ি পাল্লার বিজয়ী প্রার্থী মতিয়ার রহমান।

গতকাল শুক্রবার রাতে মহেশপুরের ওই কার্যালয়ে গিয়ে দেখা করেন তিনি। এ সময় একে অপরের হাতে হাত রেখে কুশল বিনিময় ও আলিঙ্গন করতে দেখা যায় ওই দুই নেতাকে। এট রাজনৈতিক সৃষ্টাচার হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কোটচাঁদপুর-মহেশপুর নিয়ে ঝিনাইদহ-৩ আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে প্রতিদ্বন্দিতা করেন ৪ জন প্রার্থী। যার মধ্যে বিএনপির ধানের শীর্ষে মেহেদী হাসান রনির,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মতিয়ার রহমান,ইসলামী আন্দোলন (হাতপাখা) প্রতিকের সারোয়ার হোসেন ও গণঅধিকার পরিষদ (ট্র্যাক) প্রতিকের সুমন কবির। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মতিয়ার রহমান। এর পরের দিন শুক্রবার রাতে সৌজন্যে স্বাক্ষাত করতে যান বিএনপির ধানের শীর্ষির প্রার্থী মেহেদী হাসান রনির দলীয় কার্যালয়ে । এ সময় ওই দুই নেতাকে একে অপরের হাতে হাত রেখে স্বাক্ষাত করতে দেখা যায়। এরপর তারা মিলিত হন আলিঙ্গনে। এটাকে ভাল রাজনৈতিক সৃষ্টাচার বলে অভিহিত করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে।

এ সময় তাঁরা নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন। এ ছাড়া এলাকার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথাও জানান ওই দুই নেতা।অধ্যাপক মতিয়ার রহমান বলেন,“নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মাত্র। ভোট শেষ মানেই আমাদের মধ্যকার প্রতিযোগিতা শেষ। এখন আমাদের সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার মানুষের উন্নয়ন ও শান্তি নিশ্চিত করা। আমি সবাইকে নিয়ে মহেশপুর-কোটচাঁদপুরকে একটি আদর্শ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।




ঝিনাইদহে বসন্ত বরণ ও পিঠা মেলা অনুষ্ঠিত

পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ঝিনাইদহে অনুষ্ঠিত হয়েছে জমজমাট পিঠা মেলা ও বসন্ত বরণ উৎসব। শনিবার (১৪ ফেব্রুযারি) সকালে শহরের মর্নিংবেল চিলড্রেন একাডেমীতে অনুষ্ঠিত হয় এ আয়োজন।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা পিঠা উৎসবে তালবড়া, চিকেনপুলি, পাকান, জামাই পিঠা, নকশী পিঠা, কাঠ গোলাপ, মালাই রোল, ললিপপ, চন্দ্রপুলি, ফুলপিঠা, মুড়ি, মুড়কি, পাটিসাপটাসহ নানান গড়নের পিঠায় সাজানো হয়েছিল স্টলগুলো। নতুন ও ঐতিহ্যবাহী পিঠার স্বাদ নিতে সেখানে ভিড় করেন নানা বয়সী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আয়োজন ঘিরে উপস্থিত দর্শনার্থীদের মধ্যে ছিল উৎসবের উচ্ছ্বাস। পিঠার স্বাদ ও মনোরম পরিবেশ উপভোগ করে সন্তুষ্টি নিয়ে বাড়ি ফেরেন আগতরা।

পিঠা মেলার পাশাপাশি পরিবেশন করা হয় বসন্তের গান, যা উৎসবে বাড়তি মাত্রা যোগ করে। শিশুদের অংশগ্রহণে পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবক মুসকান রুবায়েত মিরা বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিশুদের জন্য খুবই আনন্দের। আমাদের দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পিঠার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

অভিভাবক গাউস গোর্কি বলেন, পিঠা মেলা ও বসন্ত উৎসব একসাথে আয়োজন করায় পরিবেশটা আরও প্রাণবন্ত হয়েছে। শিশুরা যেমন মজা পেয়েছে, তেমনি আমরাও পুরনো দিনের স্মৃতি মনে করতে পেরেছি।

নাজমা খাতুন নামের আরেক অভিভাবক বলেন, শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি এমন সাংস্কৃতিক আয়োজন তাদের মানসিক বিকাশে সহায়ক।

এ বিষয়ে আয়োজক প্রতিষ্ঠান মর্নিংবেল চিলড্রেন একাডেমীর পরিচালক শাহিনুর আলম লিটন বলেন, পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে শিশুদের আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি আমাদের ঐতিহ্য তুলে ধরতেই এই আয়োজন। ভবিষ্যতেও আমরা এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখবো।




ঝিনাইদহ-৩ আসনে জামানত হারিয়েছেন ২ প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ -৩ আসনে জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন (হাতপাখা) প্রতিকের সারোয়ার হোসেন ও গণঅধিকার পরিষদ (ট্র্যাক) প্রতিকের সুমন কবির।

ওই দুই প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন এ আসনের ধানের শীর্ষ ও দাঁড়ি পাল্লা প্রতিকের প্রার্থীদের সঙ্গে। ভোটে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন তারা।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা প্রহল্লাদ বলেন,ঝিনাইদহ-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩১ হাজার ১৫ জন। এর মধ্যে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ৩ লাখ২৭ হাজার ১৬৬ টি। যা মোট ভোটারের ৭৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট বৈধ ভোটের কমপক্ষে এক-অষ্টমাংশ, অর্থাৎ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। সেই হিসাবে এই আসনে জামানত রক্ষা করতে প্রয়োজন ছিল ৪০ হাজার ৮ শ ৯৬ ভোট। কিন্তু ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতিকের সারোয়ার পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৭০ ভোট। যা মোট বৈধ ভোটের প্রায় ১ দশমিক ১৫ শতাংশ। আর গণঅধিকার পরিষদ (ট্র্যাক) প্রতিকের সুমন কবির পেয়েছেন ৩ শ ৬৮ ভোট। যা বৈধ ভোটের শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ।

এ আসনে ৪ জন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করেন,যার মধ্যে ছিলেন বিএনপির ধানের শীর্ষের মেহেদী হাসান রনি। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮ শ ২১ ভোট। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়ি পাল্লা প্রতিকের মাওলানা মতিয়ার রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮ শ ৫৭ ভোট পেয়ে। হাতপাখা ৩ হাজার ৭০ ভোট ও ট্র্যাক ৩ শ ৬৮ ভোট।

উপজেলা নির্বাহী ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এনামুল হাসান জানান, জামানত বাঁচাতে প্রার্থীকে মোট ভোটের একটা নিদিষ্ট শতাংশ পেতে হবে। সে তুলনায় এ আসনে দুই জন প্রার্থী খুবই কম ভোট পেয়েছেন। তবে জামানত বাজেয়াপ্ত জানতে হলে আপনাকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।