চুয়াডাঙ্গার অবহেলিত দামুড়হুদায় মানহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ছড়াছড়ি রয়েছে। উপজেলার একাধিক ইউনিয়নে সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করেই অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবার বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহযোগিতায় কার্পাসডাঙ্গা সীমান্তবর্তী ইউনিয়নসহ একাধিক স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিন আলম।
অভিযানকালে কার্পাসডাঙ্গায় অবস্থিত লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টার নামক একটি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ওই ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি, মানহীন সেবা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ, অপারেশন থিয়েটারের অপব্যবস্থাপনাসহ একাধিক অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন থিয়েটার (ওটি) সিলগালা করে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা, দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন ও দর্শনা পৌরসভা এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সহযোগিতায় কার্পাসডাঙ্গাস্থ বেসরকারি হাসপাতাল লাইফ কেয়ার জেনারেল হাসপাতাল (লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টার) এ জনস্বার্থে অভিযান চালানো হয়।
এ সময় স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ২,০০,০০০ (দুই লাখ) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে ক্লিনিকটির অপারেশন থিয়েটার (ওটি) কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়ে তা সিলগালা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিন আলম।
এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেলের সরবরাহ মনিটরিং করা হয়। এ সময় খোলা বাজারে প্রকাশ্যে তেল বিক্রির অপরাধে একজনকে ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকালে সহযোগিতা করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান, হেলথ ইন্সপেক্টর (স্বাস্থ্য পরিদর্শক) মো. নিয়ামুল আলী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের পেশকার মো. আনিসুর রহমান আনিসসহ দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের একটি টিম।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, সরকারের নির্দেশনা ও আইন অমান্য করে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে উপজেলার বেশিরভাগ বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক প্রতিষ্ঠান অদক্ষ লোক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা করছে। বেশিরভাগ ক্লিনিক ভাড়া করা স্থানে নিয়ম না মেনে গড়ে তোলা হয়েছে। কাগজে-কলমে থাকলেও অনেক ক্লিনিকে নেই ডিউটি ডাক্তার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নারকোটিক পারমিট ও পরিবেশ ছাড়পত্র। প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কোনো অনুমতিও নেই বলে জানা গেছে।
উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে সচেতন মহল ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক মো. শাহিন আলমকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।