মেহেরপুরে জামায়াতের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মেহেরপুরে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশে মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি ইউনিয়নের হিজুলি গ্রামে প্রায় ৪০টি টিউবওয়েল বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন হিজুলি গ্রামের বাসিন্দা ও বিএনপি কর্মী আব্দুল হামিদ। জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ২০ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে হিজুলি গ্রামের বিভিন্ন পাড়ায় টিউবওয়েল, পাইপসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এতে গ্রামটির ২২ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ৪০টি টিউবওয়েল বসানো হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। অনেক বাড়িতে বর্তমানে টিউবওয়েল স্থাপন ও সংযোগের কাজ চলমান রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগকারী আব্দুল হামিদ বলেন, নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী ভোটের আগে এ ধরনের উপহার বা সুযোগ-সুবিধা বিতরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ প্রকাশ্যে টিউবওয়েল বিতরণের ঘটনায় স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে।

অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা সবাই হিজুলি গ্রামের বিভিন্ন পাড়ার বাসিন্দা বলে দাবি করা হয়।

মেহেরপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন বলেন, একটা এনজিও সেখানে টিউবওয়েল বিতরণ করেছে। যখন টিউবওয়েল বিতরণ করা হচ্ছিল সে সময় সেখানে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামের দুই একজন লোক ছিল। অন্য পক্ষ এটাকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে টিউবল বিতরণ দাবি করে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।

মেহেরপুর জেলার ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী চিফ এজেন্ট অ্যাডভোকেট মারুফ আহমেদ বিজন বলেন, এ বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জেলা প্রশাসনের কাছে অনতিবিলম্বে বিষয়টির সঠিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি আমরা।




হরিণাকুণ্ডুতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের আগুনে ভস্মীভূত মুদি ও চায়ের দোকান

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের ভয়াবহ আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গেছে একটি মুদি ও চায়ের দোকান।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার গাজীপুর গ্রামের কামাল উদ্দিন কালুর মুদি ও চায়ের দোকানে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

দোকান মালিক কামাল উদ্দিন কালু জানান, আমার এই দোকানই ছিল আমার একমাত্র সম্বল। অগ্নিকাণ্ডে দোকানের অবকাঠামো ও মালামালসহ আনুমানিক লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় প্রায় এক ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটে।

এদিকে সময়মতো না পৌঁছানোর অভিযোগ তুলে হরিণাকুণ্ডু ফায়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, ফায়ার সার্ভিসের গাফিলতির কারণেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে গেছে। এ সময় আগুন নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি প্রতিনিধি দল কুলবাড়িয়া বাজারে পৌঁছালে জনতা তাদের অবরুদ্ধ করে “ভুয়া ভুয়া” স্লোগান দিতে থাকে।

হরিণাকুণ্ডু ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার ফরহাদ হোসেন ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে বলেন, এই ঘটনায় আমরা সরাসরি কোনো সংবাদ পাইনি। ভুক্তভোগীরা ৯৯৯ লাইনে ফোন করলে আমরা মেসেজ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিই। এক পর্যায়ে স্থানীয় জনতা আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে তারা ভুল বুঝতে পেরে আমাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। এরপর আমরা অবরুদ্ধতা এড়িয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি।




কোটচাঁদপুরে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে ছিনতাই

কোটচাঁদপুরে এক যুবকের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার সন্ধ্যা রাতে উপজেলার পাঁচলিয়া সড়কের গোরসুতী গ্রামের মাদ্রাসার সামনের সড়কে এ ঘটনাটি ঘটে। এ সময় দুর্বৃত্তরা ওই যুবককে পিটিয়ে আহত করে। বর্তমানে তিনি স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত যুবক পাঁচলিয়া গ্রামের রহিদুল ইসলামের ছেলে।

রহিদুল ইসলাম জানান, তাঁর ছেলে শাওন হোসেন (১৯)। তিনি পোলট্রি মুরগির চাষ করেন। মুরগি বিক্রির টাকা গোরসুতী মাদ্রাসার আহিদুল ইসলামের কাছে বাচ্চা কেনার জন্য জমা রাখতেন। বুধবার সন্ধ্যায় শাওন মুরগি বিক্রির টাকা নিয়ে মাদ্রাসার দিকে যাচ্ছিলেন।

পথিমধ্যে কয়েকজন যুবক তাঁর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এরপর তাঁকে পিটিয়ে আহত করে তাঁর কাছে থাকা নগদ ৪০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে উদ্ধার করে কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান বলেন, ঘটনাটি যেভাবে শোনা যাচ্ছে, বিষয়টি ঠিক সেভাবে নাও হতে পারে। এর মধ্যে অন্য কিছু থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের পর প্রকৃত রহস্য জানা যাবে। তবে এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি।




কুষ্টিয়ায় কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন রউফ চৌধুরী

কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী তাঁর বাবা-মায়ের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে তিনি নিজ এলাকা মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের ছত্রগাছা পারিবারিক কবরস্থানে মরহুম বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ চৌধুরী ও মায়ের (মরহুমা নার্গিস রউফ চৌধুরী) কবর জিয়ারত করেন।

এ সময় তিনি তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন।

কবর জিয়ারত শেষে ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী বলেন, বাবা-মায়ের আদর্শ ও দোয়া নিয়েই তিনি জনগণের কাছে যাচ্ছেন। মিরপুর ও ভেড়ামারার মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে তিনি সংসদে গিয়ে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবহেলিত জনপদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে কাজ করতে চান।

এ সময় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী, সামাজিক ব্যক্তিবর্গ ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই প্রচারণাকে কেন্দ্র করে মিরপুর ও ভেড়ামারায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, মিরপুর-ভেড়ামারার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন ও ভালোবাসায় আসন্ন নির্বাচনে ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হবেন। তারা মনে করছেন, সততা, পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও উন্নয়নমুখী ভাবনাই তাঁকে এই আসনে বিজয়ের পথে এগিয়ে নেবে।

উল্লেখ্য, আব্দুর রউফ চৌধুরী ছিলেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রণাঙ্গনের সাবেক জোনাল চেয়ারম্যান এবং একাধিকবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ে সততা, সাহসিকতা ও জনসম্পৃক্ত রাজনীতির জন্য তিনি এলাকায় ব্যাপকভাবে সম্মানিত ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ ও জনসেবার চেতনা থেকেই ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন বলে স্থানীয়রা মনে করেন।




মেহেরপুরে ধানের শীষের প্রচারণার দায়িত্বে প্রিন্স আহমেদ ইমরান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে মেহেরপুর-১ ও মেহেরপুর-২ সংসদীয় আসনে দায়িত্ব পেয়েছেন যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রিন্স আহমেদ ইমরান।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে তাকে এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্দেশনায় ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-০৬ নির্বাচনী আসনসহ দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে প্রচারণার সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয় করবেন।

দলীয় সূত্র জানায়, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে যুবদল মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছে এবং কেন্দ্র থেকে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।




মেহেরপুর মহিলা  দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে শিক্ষকের নানা অভিযোগ

মেহেরপুর শহরের মহিলা  দাখিল মাদ্রাসার সুপার রাবেয়া জামান-এর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছেন মাদ্রাসার ১৮ জন শিক্ষক। এসব অভিযোগ লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবর দাখিল করা হয়েছে।

অভিযোগের প্রেক্ষাপটে প্রকাশ পেয়েছে, মাদ্রাসাটির সাম্প্রতিক বছরের পরীক্ষার ফলাফলের চরম অবনতি। ২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষায় মাদ্রাসা থেকে অংশ নেয় ২৪ জন পরীক্ষার্থী, যার মধ্যে মাত্র ৩ জন পাস করে, ফেল করে ২১ জন। পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ১২.৫ শতাংশ।

তুলনামূলকভাবে দেখা যায়, ২০২৪ সালে ২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯ জন পাস করেছে, পাসের হার ছিল ৯৫ শতাংশ।

২০২৩ সালে ২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২ জন পাস করেছে, পাসের হার ছিল ৬০ শতাংশ।

এক বছরের ব্যবধানে ফলাফলের এমন ভয়াবহ পতন নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

শিক্ষকদের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বেতন বইতে স্বাক্ষর না করার বিষয়ে অ্যাডহক কমিটির নির্দেশনা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। বিষয়টি একাধিকবার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলেও শুরুতে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, সুপার রাবেয়া জামান ১৮৭৯ সালের চাকরি বিধি লঙ্ঘন করে ২০০৪ সাল থেকে মেহেরপুর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন, যা বিধিবহির্ভূত। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে সংশ্লিষ্টদের মামলা করার হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

এ বিষয়ে মেহেরপুর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জানান, একটি প্রকল্পের আওতায় তিনি সেখানে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে ক্লাস নিয়েছিলেন। বর্তমানে প্রকল্পটি বন্ধ রয়েছে।

শিক্ষকরা আরও অভিযোগ করেন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অ্যাডহক কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিলেও সুপার এ বিষয়ে চরম উদাসীনতা দেখিয়েছেন। কয়েক মাস আগে নতুন ভবন হস্তান্তর করা হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ভবনটি এখনো ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

কমিটি না থাকায় এমপিও সংশোধন প্রক্রিয়ায় পোস্ট অফিসের নাম ভুল সংশোধন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মাসিক বেতন-ভাতা উত্তোলন এবং ইএফটি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান শিক্ষকরা।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পার্থ প্রতিম শীল বলেন, “মেহেরপুর দাখিল মহিলা মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে আমরা অবগত। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, অভিযোগগুলোর কিছু অংশ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সুপারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুপার রাবেয়া জামান বলেন, “অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। বরং তারা আমাকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে হেনস্তা ও লাঞ্ছিত করে।” একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির বিষয়ে তিনি দাবি করেন, তার সব নিয়োগই বৈধ।

উল্লেখ্য, মাদ্রাসাটি ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে এখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরীক্ষার ফলাফল ধারাবাহিকভাবে অবনতির দিকে যাচ্ছে। শিক্ষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলাই এর অন্যতম কারণ।

ঘটনাটি মাদ্রাসা অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এখন শিক্ষা বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।




দেশাত্মবোধক গানে জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করলো চুয়াডাঙ্গার ছোঁয়া

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় দেশাত্মবোধক গানে জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে চুয়াডাঙ্গা জেলার জন্য গৌরব বয়ে এনেছে তাসনিম তাবাসসুম ছোঁয়া। তিনি চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ থেকে অংশগ্রহণ করে ‘গ’ বিভাগে সারা দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে এই কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেন।

প্রতিযোগিতার ধারাবাহিকতায় তাসনিম তাবাসসুম ছোঁয়া প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন। এরপর ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় অতিক্রম করে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে দেশাত্মবোধক গানে তৃতীয় স্থান অর্জন করতে সক্ষম হন।

এই সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ গতকাল ২০ তারিখ সকাল ১১টায় ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির হাত থেকে সম্মাননা ও পুরস্কার গ্রহণ করেন তাসনিম তাবাসসুম ছোঁয়া। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

তাসনিম তাবাসসুম ছোঁয়া চুয়াডাঙ্গা শহরের মহিলা কলেজ পাড়ার বাসিন্দা এবং একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। তিনি মোঃ শরিফুল ইসলাম ও তুহিন সুলতানার কন্যা। ছোটবেলা থেকেই সংগীতচর্চার প্রতি তার গভীর আগ্রহ, নিয়মিত অনুশীলন ও নিষ্ঠাই এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এই অর্জনের পেছনে যাঁদের সার্বিক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা রয়েছে—শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবক, প্রশিক্ষক, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন এবং সর্বস্তরের শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি তাসনিম তাবাসসুম ছোঁয়া ও তাঁর পরিবার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

তার এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষকসমাজ এবং এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতেও তিনি জাতীয় পর্যায়ে আরও বড় সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা জেলার মুখ উজ্জ্বল করবেন।




সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে মেহেরপুরে টিকেছে ৪৮৯ জন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে উত্তীর্ণ হয়েছেন মেহেরপুর জেলার ৪৮৯ জনসহ সারাদেশের ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী।

আজ বুধবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এ ফলাফল প্রকাশ করে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ ও ১২ নভেম্বরের বিজ্ঞাপনের আলোকে ৬১টি জেলায় (তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্বখাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা ১ হাজার ৪০৮টি কেন্দ্রে গত ৯ জানুয়ারি একযোগে অনুষ্ঠিত হয়।




আলমডাঙ্গা যুব ফোরামের উদ্যোগে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

আলমডাঙ্গায় যুব ফোরামের উদ্যোগে অসহায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় মাদ্রাসা পাড়ায় উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় শতাধিক অসহায় ও শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। যুব ফোরামের সভাপতি মোঃ আসাদুজ্জামান লিমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আলমডাঙ্গার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ.এস.এম শাহনেওয়াজ মেহেদী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, যুব ফোরামের উপদেষ্টা মোঃ আজিজুর রহমান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, “চুয়াডাঙ্গা জেলা যেমন গ্রীষ্মকালে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ তাপমাত্রার সম্মুখীন হয়, তেমনি শীতকালে এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করে। ফলে শীত মৌসুমে অসহায় মানুষের কষ্ট অনেক বেড়ে যায়। যুব ফোরাম সবসময় মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে। শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘব করতেই আজকের এই উদ্যোগ। এসময় যুব ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক রাতুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক সুমাইয়া আফরোজ, কোষাধ্যক্ষ তনিমা আফরোজসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




আলমডাঙ্গায় জামায়াতে আমিরের আগমন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের চুয়াডাঙ্গা আগমন উপলক্ষে আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ৮টায় আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় আলমডাঙ্গা উপজেলা আমীর প্রভাষক শফিউল আলম বকুলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা যুব বিভাগের সভাপতি শেখ নূর মোহাম্মদ হোসাইন টিপু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নায়েবে আমীর ইউসুফ আলী মাস্টার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, আগামী ২৬ জানুয়ারি সোমবার বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। তিনি আরো বলেন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের রায় নিশ্চিত করতে হলে আমাদেরকে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে হবে। এজন্য সকল পর্যায়ের জনশক্তিকে সঠিকভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি তরিকুল ইসলাম, অফিস সম্পাদক রফিকুল ইসলামসহ উপজেলা কর্মপরিষদের সদস্যবৃন্দ, ইউনিট সদস্য ও বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ। সভায় নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভা শেষে সকল ইউনিয়ন আমীর, সেক্রেটারি ও দায়িত্বশীলদের চুয়াডাঙ্গা নির্বাচনী অফিসে গিয়ে অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেলের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বরাদ্দের আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। সভাটি সঞ্চালনা করেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মামুন রেজা।