গাংনীতে আবারও খড়ের আগুনে গম, তামাকসহ পুড়ল ১৫ বিঘা জমির ফসল

মেহেরপুরের গাংনীতে আবারও গমের খড় পোড়াতে গিয়ে আগুন লেগে ১৫ বিঘা জমির গম, ভুট্টা, তামাক, সেচের মেশিন ও আমবাগান পুড়ে গেছে। এতে বিভিন্ন কৃষক ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

শনিবার দুপুরে উপজেলার চোখতোলা মাঠে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, কৃষকদের গম কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে। মাঠে এখনও কিছু কৃষকের গম রয়েছে। এছাড়াও তামাক, ভুট্টা, আমবাগান ও সেচের মেশিন রয়েছে বিভিন্ন জমিতে। তবে মাঠজুড়ে গমের খড় পোড়াতে ব্যস্ত রয়েছেন অনেক চাষি। দুপুরে এক চাষি তার জমির খড় পোড়াতে গেলে অসাবধানতাবশত আগুন বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের জমিতে।

চোখতোলা মাঠের চাষি মজনুল হক বলেন, “আমার গম, ইঞ্জিনচালিত শ্যালো মেশিন ও তামাক পুড়ে গেছে। প্রায় এক লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। অনেক কষ্ট করে ফসল ফলিয়েছিলাম, সব পুড়ে গেল। একজন চাষির অসাবধানতায় ১০-১৫ জন চাষির ফসল নষ্ট হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, ময়েশপুর গ্রামের চাষি আজিজুল হক তার ১০ কাঠা জমির খড় পোড়াতে গিয়ে এ আগুনের সূত্রপাত ঘটে।

আরেক চাষি আব্দুল হালিম বলেন, “দুপুরে প্রচণ্ড রোদ ও বাতাসের মধ্যে খড় পোড়ানোর কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে আমার একটি ইঞ্জিনচালিত শ্যালো মেশিন, তামাক ও আমবাগান পুড়ে গেছে। প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

ষোলটাকা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আফরোজা খাতুন বলেন, “চোখতোলা মাঠে গম, তামাক, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল পুড়ে গেছে। এতে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঘটনাটি সরেজমিনে গিয়ে দেখা হবে।”

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান বলেন, “আজিজুল হক নামে এক চাষি খড় পোড়াতে গিয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিভিন্ন কৃষকের গম, তামাকসহ ফসল পুড়ে যায়। পাশাপাশি তিনটি ইঞ্জিনচালিত শ্যালো মেশিনও পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। ভবিষ্যতে খড় না পোড়ানোর জন্য কৃষকদের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। এ বিষয়ে মসজিদে মসজিদে প্রচার ও মাইকিং করা হয়েছে। তারপরও অনেকেই খড় পোড়াচ্ছেন, যা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের শিমুলতলা মাঠে ৫ কাঠা জমির খড় পোড়াতে গিয়ে ৮০ বিঘা জমির গম পুড়ে যায়। এতে কৃষকদের প্রায় ১৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।




দর্শনায় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন ও ছাগল বিতরণ

বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে মৌচাক সমাজ উন্নয়ন সংস্থার বাস্তবায়নে দর্শনা পৌরসভা ও ইউনিয়নে ৩৬টি মা ছাগল বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার সকালে প্রতিবন্ধী উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুল রহমান। এ সময় তিনি রামনগর, কালিদাসপুর, ঘুঘুডাঙ্গা, পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের পারকৃষ্ণপুর, হাউলি ইউনিয়নের রুদ্রনগর এবং কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামে প্রকল্প কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং আলিহিম নামে এক উপকারভোগীকে বিনামূল্যে ২টি মা ছাগল বিতরণ করেন।

মা ছাগল পেয়ে আলিহিমের পরিবার আনন্দিত। তিনি জানান, ভবিষ্যতে ১০-১২টি ছাগল নিয়ে একটি খামার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তার পরিবার স্বচ্ছন্দে জীবনযাপন করতে পারে।

মোট ৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ৪টি গ্রামের নির্বাচিত ১৮ জন প্রতিবন্ধীর মধ্যে ৩৬টি মা ছাগল বিতরণ করা হয়। তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌচাক সমাজ উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক মনিরুজ্জামান মান্নান, সমন্বয়কারী মো. মকবুল হোসেন, সুপারভাইজার জিল্লুর রহমান, ফিল্ড অফিসার বিল্লাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।




দামুড়হুদায় বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

দামুড়হুদা উপজেলা সদরে বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে দামুড়হুদা সোনালী ব্যাংকের নিচে মোসলেম মার্কেটে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাজার বণিক সমিতির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। দামুড়হুদা বাজার বণিক সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমিতির প্রধান উপদেষ্টা ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু।

সভায় বক্তব্য রাখেন সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউনুস আলী, সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান নয়ন, সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল বাবুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সমিতির প্রচার সম্পাদক শহিদুল ইসলাম।

সভায় প্রধান অতিথি রফিকুল হাসান তনু ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাজারে দুটি টিউবওয়েল স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়াও সভায় বাসস্ট্যান্ড বণিক সমিতির সঙ্গে একীভূত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং দামুড়হুদা ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে একটি কৃষি হাট বসানোর বিষয়েও ব্যাপক আলোচনা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বণিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক লাভলু, সদস্য ফারুক হোসেন, আমির হোসেন, বল্টু রহমান, আব্দুর রহমানসহ অন্যান্য সদস্য। প্রায় সাড়ে ৪০০ ব্যবসায়ী স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভায় বাজারের উন্নয়ন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।




গাংনীতে হাতবোমা, ভারতীয় মদ ও ট্যাবলেটসহ আটক ১

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় পৃথক অভিযানে দুটি হাতবোমা, ভারতীয় মদ ও বিপুল পরিমাণ ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় মনতাজ আলী (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে।

আটক মনতাজ আলী গাংনী উপজেলার কালিয়ানী ভিটাপাড়া গ্রামের মৃত আফসার আলীর ছেলে।

বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক অভিযান চালানো হয়। গাংনীর ধলা গ্রামের মাঠে বিশেষ অভিযানে মনতাজ আলীকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি হাতবোমা ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তবে তার এক সহযোগী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

আটক ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত বোমা গাংনী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে চিলমারী বিওপির শান্তিপাড়া এলাকায় আরেকটি অভিযানে ৯ বোতল ভারতীয় মদ, ১,১৬০ পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ৮৪০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট এবং ৫৫ প্যাকেট পাতার বিড়ি উদ্ধার করা হয়।

কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে। যুবসমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।




জুলাই সনদ কীভাবে কার্যকর হবে, তা সনদের মধ্যেই উল্লেখ আছে

“জুলাই সনদ কীভাবে কার্যকর হবে, তা সনদের মধ্যেই উল্লেখ আছে” এ মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ নিজেই স্বতন্ত্র, স্বকীয় ও কার্যকর। এর বাস্তবায়নের সঙ্গে গণভোটের কোনো সম্পর্ক নেই। বর্তমান সংসদই জুলাই সনদ কার্যকর করতে পারবে। তাই সনদ বাস্তবায়ন গণভোটের ওপর নির্ভরশীল নয় এ বিষয়টি সংসদে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ধাওড়া গ্রামে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জুলাই সনদকে হৃদয়ে ও চেতনায় ধারণ করে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার রক্তের অক্ষরে এই সনদ লেখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করতে হবে। তাই যারা বলছেন, গণভোট বাতিল হলে জুলাই সনদ বাতিল হবে, তা বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য।

বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “জুলাই গণভোট অধ্যাদেশও রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরিত। অথচ তারা রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বয়কট করেছেন, আবার সেই ভাষণ নিয়ে আলোচনা করতে চান। এটি দ্বিচারিতা।”

আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদের ২২ নম্বর ধারায় উল্লেখ রয়েছে সনদ স্বাক্ষরের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে স্বাক্ষরকারী দলগুলোকে কমপক্ষে ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে। বিএনপি এ ক্ষেত্রে প্রায় ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী দিয়েছে, যদিও পুরোপুরি তা অর্জন করতে পারেনি।

জ্বালানি তেলের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক শ্রেণির মানুষ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে তেল মজুদ করছে। সরকার এতদিন নমনীয় অবস্থানে থাকলেও প্রয়োজনে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অস্থিতিশীলতা রোধে সকলে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন।”

জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমানসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।




মেহেরপুরে বাড়ছে হামের প্রকোপ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪ শিশু

সারাদেশের মতো মেহেরপুরেও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সংক্রামক রোগ হামের প্রকোপ। গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ৬ জন শিশু চিকিৎসাধীন ছিল, গতকাল শনিবার ৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ দিনে হাসপাতালে ইনডোর এবং আউটডোরে চিকিৎসা নিয়েছে ২১ জন শিশু।

সংক্রমণ রোধে আক্রান্ত শিশুদের জন্য ডায়রিয়া ওয়ার্ডের নিচে আলাদা একটি ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ছিল ৯ জন। শুক্রবার ও শনিবার নতুন করে ৪ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে, এর মধ্যে মেহেরপুর সদর উপজেলার ১ জন এবং গাংনী উপজেলার ২ জন রয়েছে।

গাংনী উপজেলার বাসিন্দা মৌসুমী জানান, প্রথমে শিশুর জ্বর মনে হলেও পরে চিকিৎসকরা হাম শনাক্ত করেন। গত ৬ মাস ধরে টিকা নিতে পারিনি। টিকা নিতে গেলে বলা হয়, টিকা নেই।

সদর উপজেলার ঝাউবেরিয়া এলাকার মুনিয়ারা বলেন, আমার মেয়ের বয়স ৯ মাস। তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছে, কিন্তু এখনো কোনো হামের টিকা দেওয়া হয়নি।

জেনারেল হাসপাতালের নার্স জানান, হামে আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সচেতন করা হচ্ছে যাতে অন্য শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ না ছড়ায়।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, হাম হলে জ্বর, শরীর ব্যথা ও নাক দিয়ে পানি পড়া শুরু হয়। এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই আক্রান্ত রোগীদের আইসোলেশনে রাখা জরুরি। তিন-চার দিনের মধ্যে শরীরে র‍্যাশ দেখা দেয় এবং পরে মুখে ঘা হতে পারে। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা নিতে হবে।




দর্শনা সরকারি কলেজের প্রয়াত শিক্ষকবৃন্দের রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া

দর্শনা সরকারি কলেজের প্রয়াত সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দের রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকাল ৪টায় দর্শনা সরকারি কলেজের মুক্তমঞ্চে প্রয়াত শিক্ষক প্রফেসর আব্দুল হামিদ, উপাধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন, প্রফেসর আব্দুল গফুর, প্রফেসর নুর আলী ও প্রফেসর জমশেদ আলীসহ সকল শিক্ষকের রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সাবেক শিক্ষক প্রফেসর আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ দোয়া ও স্মরণসভায় প্রয়াত শিক্ষক প্রফেসর আব্দুল হামিদের বড় ছেলে হারুন অর রশিদ জুয়েল, উপাধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেনের বড় ছেলে বাবন এবং প্রফেসর নুর আলীর বড় ছেলে নাজমুল হুদা তাদের প্রয়াত পিতার স্মৃতিচারণ করেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দর্শনা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান, প্রাক্তন ছাত্র ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, চুয়াডাঙ্গা জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাবু তরফদার, দর্শনা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস এনামুল হক শাহ মুকুল, দর্শনা পৌর বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান বুলেট, দক্ষিণচাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিয়াকত আলী এবং সাবেক পৌর ছাত্রদলের সভাপতি ইকবাল হোসেন।

প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন দর্শনা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেন, দর্শনা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মোফাজ্জেল হোসেন মোফা ও সাধারণ সম্পাদক পলাশ আহম্মেদ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দর্শনা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি হারুন অর রশিদ।




কুষ্টিয়ায় সজীব গ্রুপ ও রোনিতা ফুডের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

কুষ্টিয়ায় রোনিতা ফুড ও সজীব গ্রুপের উদ্যোগে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে শহরের একটি খেলার মাঠে আয়োজিত এ খেলায় নবীন ও প্রবীণ খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ।

আয়োজনে সহযোগিতা করে সজীব গ্রুপের কোমল পানীয় পিওরো কোলা। খেলাটি ঘিরে ছিল উৎসবমুখর আবহ, যেখানে জয়-পরাজয়ের চেয়ে সম্প্রীতি ও আনন্দই ছিল মূল আকর্ষণ।

সজীব গ্রুপের ডিপো প্রধান আক্তার হোসেন বলেন, “কোমল পানীয় পিওরো কোলার সহযোগিতায় আমরা এই ফুটবল খেলার আয়োজন করেছি। এতে একসময়ের প্রবীণ খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ ছিল বিশেষ আকর্ষণ।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদন নয়, বরং সহমর্মিতা ও বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। কোম্পানির সহযোগিতায় ভবিষ্যতেও এমন খেলাধুলা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।”

রোনিতা ফুডের পরিচালক এস এম জামাল বলেন, “খেলাধুলা করলে শরীর ও মন ভালো থাকে। আমরা আমাদের কোম্পানির সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে এই আয়োজন করেছি, যেখানে নবীন ও প্রবীণদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে।”

খেলায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত হলে কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝে কিছুটা স্বস্তি মিলবে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে।

খেলায় অংশ নেওয়া এক প্রবীণ খেলোয়াড় বলেন, “দীর্ঘদিন পর আবার ফুটবল খেললাম। একসময় বিভিন্ন টুর্নামেন্টে নিয়মিত অংশ নিতাম। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আর খেলা হয়নি। আজ এতদিন পর মাঠে নেমে খেলতে পেরে সত্যিই খুব ভালো লাগছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই আয়োজন আমাদের পুরোনো দিনের স্মৃতিগুলো আবার ফিরিয়ে এনেছে।”




আলমডাঙ্গায় ‘নো কার্ড, নো ফুয়েল’ কার্যক্রমেও মিলছে না তেল

আলমডাঙ্গায় জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ন্ত্রণে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ‘নো কার্ড, নো ফুয়েল’ কার্যক্রম। তবে তেল পাম্পে জ্বালানি নিতে ভিড় করলেও অনেক গ্রাহক কার্ড প্রদর্শন করছেন না। এমনকি তেল পাম্প কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সদস্যদেরও কার্ড যাচাই করতে দেখা যায়নি।

উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো যানবাহনে পেট্রোল বা অকটেন সরবরাহ না করার নির্দেশনা রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার থেকে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়। সব যানবাহনের চালক বা মালিককে নির্ধারিত ফুয়েল কার্ড প্রদর্শন করেই তেল নিতে হবে। এ নিয়ম না মানলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি পাম্পে ট্যাগ অফিসার থাকার কথা থাকলেও কোনো পাম্পেই তাদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করেই চলছে জ্বালানি তেল সরবরাহ।

সরেজমিনে বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার তিনটি তেল পাম্পের মধ্যে গত শুক্রবার মেসার্স হক তেল পাম্পে ফুয়েল কার্ড ছাড়াই তেল সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতিদিনের মতো শুক্রবারও পাম্পে ছিল দীর্ঘ লাইন। কেউ কেউ রাত তিনটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছেন। অন্যদিকে, জেলার কৃষকরাও ডিজেল সংগ্রহ করতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রতিদিন তাদের কাজের প্রয়োজনে মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে হয়।

তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক আশিকুর রহমান আশিক বলেন, “শুক্রবার ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। প্রায় দুই ঘণ্টা পর ৫০০ টাকার পেট্রোল পেয়েছি। কিন্তু পাম্পে কোথাও ফুয়েল কার্ডের ব্যবহার দেখলাম না। প্রায় সবাই কার্ড ছাড়াই তেল নিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, পুলিশ বা ট্যাগ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়নি। উপজেলা প্রশাসনের মনিটরিংও চোখে পড়েনি।

আরেক গাড়িচালক আবু জাফর বলেন, “লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পেতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনের লোকজন বা পাম্পের পরিচিতরা লাইনের বাইরে থেকে তেল নিয়ে যাচ্ছে। আমরা যারা লাইনে আছি, তারা বঞ্চিত হচ্ছি। কষ্ট করে ফুয়েল কার্ড করলাম, কিন্তু এর ব্যবহার দেখলাম না।”

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রায় ৬ হাজারের বেশি ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি তেল পাম্পে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োজিত থাকার কথা রয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসন দায়িত্ব পালন করছে। জরুরি সেবার জন্য ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও সাংবাদিকদের জন্য আলাদা সুবিধাও রাখা হয়েছে।

আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার বলেন, “প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলার তিনটি পেট্রোল পাম্পে কার্ডধারীদের তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে কৃষিকাজের স্বার্থে ডিজেল সরবরাহে কিছুটা শিথিলতা রাখা হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তেলের অপচয় ও অবৈধ বিক্রি বন্ধ হবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে। নিয়ম অমান্য করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফুয়েল কার্ডে গ্রাহক আগে কত তারিখে ও কী পরিমাণ তেল নিয়েছেন তা উল্লেখ থাকে, যা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। কার্ড পেতে আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন কপি ও ছবি জমা দিতে হয়েছে। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।




পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সম্ভব। এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প এলাকার সামগ্রিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার গোস্বামী দুর্গাপুর ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ কিলোমিটার খাল খনন কাজের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, খাল খনন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

জ্বালানি তেলের সংকট নেই উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও সরকার এখনও দেশের ভেতরে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে। আমাদের চাষিরা যাতে নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল ও বিদ্যুৎ পায়, সে বিষয়ে সরকার তৎপর রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহ, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুবউদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার, পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে এলাকার দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।