ঝিনাইদহে আওয়ামী লীগের ভোট টানতে মরিয়া প্রার্থীরা

ঝিনাইদহের চারটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে। নিজেদের পক্ষে ভোট টানতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের ভোটারদের সমর্থন পেতে অধিকাংশ প্রার্থী সরব হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম করা যাবে না বলে বিভিন্ন সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন তাঁরা। তাদের হয়রানি না করতেও হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই সরকারের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। অনেকে দাবি করেছেন, তা না হলে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।

জানা গেছে, ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। সম্প্রতি তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের ভোটারদের সমর্থন পেতে প্রকাশ্যে দলটির পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন।

একটি নির্বাচনী সভায় মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আওয়ামী লীগে যেমন খুনি আছে, তেমনি অনেক আদর্শিক সৈনিকও আছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার জন্য জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল। আমি তখন অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলাম, সেটি আমি হতে দেইনি।’

ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) আসনে বিএনপির প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তিনিও নির্বাচনী প্রচারে কৌশলে আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটারদের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নিরীহ ও সাধারণ কাউকে যেন জুলুম বা অত্যাচার করা না হয়।’ চব্বিশের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও তিনি প্রকাশ্যে কথা বলছেন।

এছাড়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরাও আওয়ামী লীগের ভোট টানতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলটির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাস দিচ্ছেন।

অপরদিকে ঝিনাইদহ-২ ও ঝিনাইদহ-৪ আসনের অন্যান্য প্রার্থী ও তাঁদের কর্মী-সমর্থকরাও আওয়ামী লীগের ভোটারদের কাছে টানতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন।

জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবারের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কার্যত নির্বাচনী মাঠে নেই। ঝিনাইদহের সবকটি আসনেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে। এ কারণে প্রার্থীরা কৌশলে আওয়ামী লীগের ভোটার টানার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ভোটারদের নিরাপদে রাখার আশ্বাস দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ ভোট না দিলে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এটি ভোটের রাজনীতির একটি অংশ হয়ে উঠেছে। তবে আওয়ামী লীগের ভোট কোন প্রার্থী পাবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীরা একে অপরের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে। অনেককে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে, যা নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজরদারি আরও বাড়াতে হবে।’

ঝিনাইদহের চারটি সংসদীয় আসনে মোট ২১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবারের নির্বাচনে জেলার চারটি আসনে মোট ১৫ লাখ ৯৬ হাজার ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৮ লাখ ৯৫ হাজার ৯৮৪ জন, পুরুষ ভোটার ৮ লাখ ৩৯০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২৯ জন।




হরিণাকুণ্ডুতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বিক্রয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার মান্দ্রারতলা গ্রামের রিয়াদ হোসেন (১৩) নামের এক ছেলেকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী শরিফুলের ছেলে সুমনের বিরুদ্ধে। রিয়াদ হোসেন ওই গ্রামের নাসির উদ্দীনের ছেলে এবং একই উপজেলার শিতলী গ্রামের রোকেয়া খাতুন হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র।

এ ব্যাপার থানায় অভিযোগ করেছে রিয়াদের পিতা এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে একই গ্রামের সুমন (২৩) পিতা শরিফুল এবং শ্যামলী খাতুন (৩৫) স্বামী শরিফুল ইসলাম নামে দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহারে জানা যায়, কয়েকদিন আগে প্রতিবেশী শরিফুলের ছেলে সুমন রিয়াদকে ভোলায় নিয়ে গিয়ে বেঁচে দিয়েছে। তাছাড়া একই গ্রামের নৈমদ্দিন মন্ডলের ছেলে রবিউল এবং কৃষক আফজাল হোসেন জানান, রিয়াদেগর প্রতিবেশী সুমন রিয়াদকে ভোলায় নিয়ে যায় পরবর্তীতে তাকে আর বাড়িতে ফিরিয়ে আনেনি। সুমনের পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে ভোলা থেকে ফেরত আসার পথে রিয়াদ তার কাছ থেকে পালিয়ে চলে যায়। তাকে আর খুঁজে না পেয়ে সুমন বাড়িতে ফিরে আসে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানান, সুমন আলী এই কাজ করার আগে, হরিণাকুণ্ডু উপজেলার তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) বিপ্লবের সাথে ঐ বিষয়ে যোগাযোগ করেন। সন্দেহ করা হচ্ছে রিয়াদকে হিজড়াদের কাছেও বিক্রয় করতে পারে।

ভুক্তভোগী নাসির উদ্দীন জানান, তার ছেলেকে কোথায় রেখে বিক্রয় করেছেন এবং তাকে ফেরত চাইতে সুমনের সাথে কথা বলতে গেলে সেখানেই তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত জখম করেন সুমন। কোনো উপায়ান্ত না পেয়ে আমি থানায় একটি মামলা করি।

হরিণাকুণ্ডু থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া জানান, গত ৩০ জানুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ৭/৩০ ধারায়, কয়েকজন অজ্ঞাতনামা এবং তিন জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন রিয়াদেও পরিবার। এ মামলার সূত্র ধরে ২ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সুমন(২৩) পিতা শরিফুল ও শ্যামলী খাতুন স্বামী শরিফুল ইসলাম। একইদিনে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে ঝিনাইদহ জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।




চুয়াডাঙ্গায় সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়বৃন্দের মতবিনিময় সভা

চুয়াডাঙ্গায় সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়বৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের হলরুমে দুপুর দুইটায় মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক খেলোয়াড় ও সহ-সভাপতি সরোয়ার হোসেন জোয়ার্দ্দার মধুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের ধানের শীর্ষের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ।

প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি বলেন,আসলে ক্রীড়া আমাদের জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। ক্রীড়া এবং খেলাধুলার মধ্যে যারা যুক্ত থাকে এবং নিয়মিত চর্চা করে তারা মানসিক এবং শারীরিক ভাবে সুস্থ। আজ যুব সমাজের দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন তাদের কি পরিমাণ অবনতি। এই অবনতি মূল কারণ হচ্ছে সঠিক এবং সুস্থ ধারায় ক্রীড়া চর্চা না করা। আসলে অনেকেই বলেছেন খেলাটা আমরা পেশা হিসেবে নিতে চাই। এই পেশা হিসেবে যাতে আপনারা ক্রীড়াটা নিতে পারেন এজন্য আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান তিনি এটার উপর বিশেষ নজর দিয়ে পরিকল্পনা তৈরি করেছেন। যেটিতে তিনি বলেছেন ক্লাস ফোর থেকে স্কুলে ক্রীড়াকে বাধ্যমূলক করা হবে এবং বয়স বারো থেকে চোদ্দ পর্যন্ত বছর পর্যন্ত প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বৃত্তি প্রদান করা হবে। দেশের প্রতিটি জেলার ক্রীড়া কমপ্লেক্স এবং স্পোর্টস স্কুল তৈরি করা হবে। যে সকল প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া শিক্ষক নাই সেখানে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। দেশের সকল বিভাগের মধ্যেই প্লেয়ার বাছাই করবো এবং ক্রীড়া সরঞ্জাম ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করব এবং খেলোয়াড়বৃন্দের চাহিদা পূরণ করবো।

তিনি আরও বলেন,চুয়াডাঙ্গা ক্রীড়া অঙ্গন যাতে বাংলাদেশের ভিতরে শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াঙ্গন হয় এজন্য আমরা দল-মত নির্বিশেষে এবং রাজনৈতির বাহিরে ক্রীড়া অঙ্গন রেখে সকলে মিলে আমরা ক্রীড়াঙ্গন যাতে এগিয়ে যায় সেজন্য কাজ করবো।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় মহামুদুল হাসান লিটন, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় মামুন জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক খেলোয়াড় ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রউফুন্নাহার রীনা। মতবিনিময় সভায় সঞ্চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক খেলোয়াড় ক্রীড়া সংগঠন ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জেলা ক্রীড়া সংস্থা আব্দুল সালাম।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিপুল হাসান হ্যাজী, মিলন বিশ্বাস সহ চুয়াডাঙ্গা জেলা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান ও সাবেক ফুটবলারবৃন্দ।




হরিণাকুণ্ডুতে ভোট গ্রহন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোট নির্বাচনের ঝিনাইদহ-২ (সদর-হরিণাকুণ্ডু) আসনের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভোটগ্রহন কর্মকর্তাদের দুইদিনব্যাপি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

হরিণাকুণ্ডু সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শুক্র ও শনিবার দুদিন ব্যাপি এই প্রশিক্ষন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়।

দুদিনব্যাপি এ প্রশিক্ষনে উপজেলার ৬৫টি ভোট কেন্দ্রের জন্য ৫শতাংশ অতিরিক্ত ধরে ৬৯জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৩৫৪জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৭০৮ জন পোলিং অফিসার অংশ গ্রহন করেন।

প্রশিক্ষণের সমাপনী দিন শনিবার বেলা ১১ টায় হরিণাকুণ্ডু সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচী পরিদর্শন করেণ এবং দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাহফুজ মাফজাল এবং জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ আবুল হোসেন।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ দিদারুল আলম।




সংগীত জগতের নক্ষত্র আলমডাঙ্গার সুকুমার দাশ আর নেই

আলমডাঙ্গা বাদেমাজু গ্রামের সুকুমার দাশ আর নেই। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। স্ত্রীসহ চার পুত্রের জনক সুকুমার দাশ সংগীত জগতের এক অতি পরিচিত মুখ ছিলেন। তাঁর দরাজ কণ্ঠের ভাবসংগীত আজও অমর হয়ে আছে।

হারমোনিয়াম ও ফ্লুট বাঁশির সুরে দুই বাংলার মেলবন্ধনে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। এই বৃহত্তর জনপদে ফ্লুট বাঁশির প্রকৃত সুর আর শোনা যাবে না।

সদা হাস্যোজ্জ্বল মানুষটি ভক্তির রসে আপামর আবাল-বৃদ্ধ-বণিতার কাছে ছিলেন মনের মতো মানুষ।

তিনি ১৯৬০ সালের ১৫ই কার্তিক আলমডাঙ্গা বাদেমাজু গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পেশায় তিনি গ্রামপুলিশ ছিলেন। কাজের ফাঁকে বিভিন্ন সংগীত অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। তাঁর হাতে গড়া অসংখ্য বাদ্যকার শিল্পী আজ জাতীয় পর্যায়ে সাফল্যের সঙ্গে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন।

গতকাল শুক্রবার ভারতের পালপাড়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ একাডেমির সহকারী পরিচালক সাইমুম জাকারিয়া, সৃজনী তানিয়া, আব্দুল লতিফ শাহ, বেতার শিল্পী রইচ উদ্দিন, বাংলাদেশের সনামধন্য বাউল শিল্পী সফি মণ্ডল, ডলি মণ্ডল, রত্না পারভিন, রজনী খাতুন, বাউল শাহাবুদ্দিন, আলমডাঙ্গার সিনিয়র সাংবাদিক শাহ আলম মন্টু, হামিদুল ইসলাম আজম, রহমান মুকুল, প্রশান্ত বিশ্বাস, ফিরোজ ইফতেখার, আতিক বিশ্বাস, তানভির সোহেল, আলমডাঙ্গা কলাকেন্দ্রের পরিচালক ইকবাল হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি আশরাফুল হক, ওস্তাদ রেজাউল করিম, কমলকান্তি চক্রবর্তী, আশরাফুল আলম মন্টু, সুশীল কর্মকার, বংশীবাদক মনোয়ার হোসেন খোকন, স্বপন বৈরাগী, সানোয়ার দেওয়ান, কবি গোলাম রহমান চৌধুরীসহ অনেকে।




আলমডাঙ্গায় তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা উদ্বোধন

আলমডাঙ্গায় তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬ উদ্বোধন করা হয়েছে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ মেলা চলবে। মেলায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষি উদ্যোক্তা ও তরুণ কৃষি উদ্ভাবকরা তাঁদের নিজ নিজ স্টল প্রদর্শন করছেন।

শনিবার সকাল ১১টায় উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। এর আগে মেলা উপলক্ষে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। পরে মেলা চত্বরে উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। প্রধান বক্তা ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যশোর অঞ্চলের টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের অতিরিক্ত পরিচালক দেবাশীষ কুমার দাস। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাসুদ হোসেন পলাশ।

কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওসি (তদন্ত) আজগার আলী, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এস এম মাহমুদুল হক, উপজেলা প্রকৌশলী তাওহীদ আহমেদ, কৃষি উদ্যোক্তা হাফিজুর রহমান স্বপনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তরুণ কৃষি উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, আলমডাঙ্গায় সব ধরনের ফসলের চাষাবাদ অত্যন্ত ভালো হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ তুলনামূলক কম হওয়ায় এ জেলা কৃষিপণ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও পদ্ধতিতে তরুণরা আগ্রহী হচ্ছে, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় টেকসই ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা জরুরি। কৃষি প্রযুক্তি মেলার মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, উন্নত জাতের ফসল, আধুনিক কৃষিযন্ত্র ও প্রযুক্তি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার মাসুদ হোসেন পলাশ জানান, যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় এ কৃষি প্রযুক্তি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় মোট ১৬টি স্টল বসানো হয়েছে। উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তারা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি উদ্ভাবন ও চাষাবাদ কৌশল প্রদর্শন করছেন।

মেলায় পারিবারিক সবজি, পুষ্টি বাগান, নিরাপদ ঔষধি ফসল, নিরাপদ মাশরুম উৎপাদন, ফুল প্রদর্শনী, নিরাপদ উচ্চমূল্যের ফল চাষসহ বিভিন্ন কৃষি প্রযুক্তি ও শস্যচিত্র প্রদর্শনের স্টল স্থান পেয়েছে।




স্মার্ট টিভি কেনার আগে যে ৭টি বিষয় জানতে হবে

বর্তমান যুগে স্মার্ট টিভি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় গ্যাজেট হয়ে উঠেছে। এটি শুধু টিভি দেখার জন্য নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ, আকর্ষণীয় এবং স্মার্ট করে তুলতে সাহায্য করে।

ইন্টারনেট সংযোগ, ভিডিও স্ট্রিমিং, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, গেম খেলা, এবং আরও অনেক সুবিধা স্মার্ট টিভির মাধ্যমে পাওয়া যায়। কিন্তু, স্মার্ট টিভি কেনার সময় অনেকগুলো বিষয় রয়েছে যা বুঝে নেয়া প্রয়োজন, যাতে আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এই নিবন্ধে আমরা জানবো স্মার্ট টিভি কেনার আগে আপনাকে যে ৭টি বিষয় অবশ্যই জানতে হবে।

. স্ক্রীন সাইজ এবং রেজ্যুলেশন

স্মার্ট টিভি কেনার আগে প্রথম বিষয়টি হল স্ক্রীন সাইজ এবং রেজ্যুলেশন। আপনার ঘরের আকার অনুযায়ী সঠিক সাইজ নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ।

ছোট ঘরের জন্য ৩২ ইঞ্চি থেকে ৪০ ইঞ্চি সাইজের টিভি যথেষ্ট হতে পারে, তবে বড় ঘরের জন্য ৫৫ ইঞ্চি বা তার বেশি সাইজের টিভি বেছে নিতে পারেন।

টিভির রেজ্যুলেশনও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ফুল এইচডি (১০৮০পি), 4K (আলট্রা এইচডি), এবং 8K রেজ্যুলেশন টিভি পাওয়া যায়। ফুল এইচডি রেজ্যুলেশন সাধারণ ব্যবহারের জন্য ঠিকঠাক, তবে যদি আপনি সিনেমা দেখেন বা গেম খেলে থাকেন, তবে 4K রেজ্যুলেশনটি আপনাকে অনেক ভালো অভিজ্ঞতা দেবে।

4K টিভিতে ছবির বিশদ এবং প্রাকৃতিক রং দেখার সুবিধা পাওয়া যায়। 8K রেজ্যুলেশন এখনো কিছুটা নতুন এবং বেশ ব্যয়বহুল, কিন্তু এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি ভালো বিনিয়োগ হতে পারে, বিশেষ করে যদি আপনি বড় স্ক্রীনের অভিজ্ঞতা নিতে চান।। 

. স্মার্ট টিভি ফিচার

স্মার্ট টিভির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর বিভিন্ন ফিচার। স্মার্ট টিভি দিয়ে আপনি নেটফ্লিক্স, আমাজন প্রাইম, ইউটিউব, হুলু এবং অন্যান্য স্ট্রিমিং সেবা ব্যবহার করতে পারবেন।

স্মার্ট টিভিতে আপনি ইন্টারনেট ব্রাউজিং, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার, এবং বিভিন্ন ভিডিও গেম খেলতে পারবেন। কিছু টিভিতে ভয়েস রিকগনিশন ফিচার রয়েছে, যার মাধ্যমে আপনি কেবল ভয়েস কমান্ড দিয়ে টিভি চালু বা বন্ধ করতে পারেন, অথবা সিক্রেট ভিডিও খুঁজে পেতে পারেন। 

স্মার্ট টিভিতে সাধারণত গুগল এসিস্ট্যান্ট বা আমাজন এলেক্সাএর মতো ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট থাকে, যা স্মার্ট হোম ডিভাইসের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়।

তাই, আপনি যদি স্ট্রিমিং বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে অন্য কিছু করতে চান, তবে টিভির এই ফিচারগুলি আপনার জন্য বেশ উপকারী হতে পারে।

. অপারেটিং সিস্টেম

স্মার্ট টিভির অপারেটিং সিস্টেম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক টিভিতে এন্ড্রয়েড টিভি, WebOS, বা Tizen OS ব্যবহৃত হয়। এন্ড্রয়েড টিভি সবচেয়ে জনপ্রিয়, কারণ এটি গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করতে দেয়, তাই আপনি আপনার প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো সহজেই ইন্সটল করতে পারেন।

WebOS এবং Tizen OS বিশেষ করে এলজি এবং স্যামসাংএর টিভি মডেলে ব্যবহৃত হয়। WebOS টিভি ব্যবহার করা খুবই সহজ এবং এতে অনেক ফিচার রয়েছে, যেমন কুইক এক্সেস মেন্যু, ভয়েস সার্চ, এবং স্ক্রিন শেয়ার। Tizen OS Samsung-এর একমাত্র অপারেটিং সিস্টেম এবং এটি বেশ দ্রুত এবং স্ট্যাবল।

তাই আপনি যে অপারেটিং সিস্টেমের সাথে পরিচিত, সেই অপারেটিং সিস্টেমের স্মার্ট টিভি নির্বাচন করুন।

. কানেক্টিভিটি এবং পোর্ট 

স্মার্ট টিভি কেনার আগে কানেক্টিভিটি অপশনগুলো যাচাই করুন। এইচডিএমআই, ইউএসবি, ব্লু টুথ এবং ওয়াই-ফাই কানেক্টিভিটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এইচডিএমআই পোর্টের মাধ্যমে আপনি গেম কনসোল, ল্যাপটপ, ব্লুরে প্লেয়ার ইত্যাদি সংযোগ করতে পারবেন।   

একাধিক এইচডিএমআই পোর্ট থাকলে, আপনি একসাথে বেশ কিছু ডিভাইস সংযোগ করতে পারবেন। এছাড়াও, ইউএসবি পোর্টের মাধ্যমে আপনি পেন ড্রাইভ বা এক্সটার্নাল হার্ড ড্রাইভ সংযোগ করতে পারবেন।

ব্লু টুথ কানেক্টিভিটি দিয়ে আপনি অডিও সিস্টেম বা হেডফোনও সংযোগ করতে পারেন। ওয়াই-ফাই কানেক্টিভিটি একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য, কারণ এটি আপনাকে ইন্টারনেট সংযোগ করতে এবং স্ট্রিমিং সার্ভিস ব্যবহার করতে সহায়তা করবে। কিছু টিভিতে Ethernet পোর্টও থাকে, যা Wired কানেকশনের ক্ষেত্রে কাজে লাগে। 

. অডিও কোয়ালিটি

কেবল ছবির রেজ্যুলেশন ভালো হলেই হবে না, অডিও কোয়ালিটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক স্মার্ট টিভির অডিও কোয়ালিটি দুর্বল থাকে, যা সিনেমা এবং গেমিংয়ের অভিজ্ঞতা খর্ব করে।

আপনার টিভির অডিও কোয়ালিটি পরীক্ষা করা উচিত, যাতে আপনি পরিষ্কার এবং শক্তিশালী শব্দ পেতে পারেন।

কিছু টিভি ব্র্যান্ড যেমন সনি, এলজি এবং স্যামসাংএর উচ্চমানের অডিও সিস্টেম রয়েছে, তবে আপনি যদি আরও উন্নত সাউন্ড চান, তাহলে একটি সাউন্ডবার বা হোম থিয়েটার সিস্টেম সংযোগ করার কথা ভাবতে পারেন।

. ব্র্যান্ড এবং পর্যালোচনা

টিভি কেনার আগে ব্র্যান্ড নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্যামসাং, এলজি, সনি, টিসিএল, ভিজিওএগুলো প্রত্যেকটি বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড এবং প্রতিটি ব্র্যান্ডের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য এবং প্রযুক্তি রয়েছে।

স্যামসাং এবং এলজিএর টিভি সাধারণত খুবই ভালো পিকচার কোয়ালিটি এবং সাউন্ড অফার করে, তবে সনি তার অত্যন্ত উচ্চমানের অডিও এবং পিকচার কোয়ালিটির জন্য বিখ্যাত।

টিসিএল এবং ভিজিও অন্যান্য ব্র্যান্ডের তুলনায় কিছুটা সস্তা, তবে সেগুলিরও ভালো কর্মক্ষমতা রয়েছে। স্মার্ট টিভি কেনার আগে, অন্যান্য গ্রাহকদের পর্যালোচনা এবং রেটিং দেখে নেওয়া উচিত, যা আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

. দাম এবং বাজেট

স্মার্ট টিভি কেনার আগে আপনার বাজেট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা উচিত। স্মার্ট টিভির দাম তা টিভির সাইজ, রেজ্যুলেশন, ব্র্যান্ড, এবং ফিচারের উপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।

যদি আপনার বাজেট সীমিত থাকে, তবে কিছু সাধারণ ফিচারের সঙ্গে টিভি নির্বাচন করতে পারেন, তবে যদি আপনি প্রিমিয়াম ফিচার এবং 4K বা 8K রেজ্যুলেশন চান, তবে আপনি একটু বেশি দামেও টিভি কিনতে পারেন।

বাজারে বিভিন্ন ডিসকাউন্ট এবং অফারও থাকে, যা আপনাকে সঠিক দামে সেরা স্মার্ট টিভি কিনতে সাহায্য করবে।

স্মার্ট টিভি কেনার আগে এই ৭টি বিষয় জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্ক্রীন সাইজ, রেজ্যুলেশন, ফিচার, অপারেটিং সিস্টেম, কানেক্টিভিটি, অডিও কোয়ালিটি, ব্র্যান্ড এবং দামএই সব বিষয় নিশ্চিত হলে আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবেন।

স্মার্ট টিভি আপনার বিনোদন অভিজ্ঞতাকে বাড়িয়ে দেয়, তাই এটি আপনার জন্য একটি ভাল বিনিয়োগ হতে পারে, যদি আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নেন।  

রায়ান্সে আপনি যেমন পাবেন ভালো দামের স্মার্ট টিভি, ঠিক একইভাবে আপনি পাবেন ভালো দাম এবং বিক্রয়োত্তর সঠিক সার্ভিস। এই ছাড়া রয়েছে স্যামসাং টিভি, এলজি, সনি ইত্যাদি। আপনার পছন্দের যে কোনো স্মার্ট টিভি নিতে পারেন এখান থেকে।




মেহেরপুর জেলা ইউএসএ কমিটি গঠন

মেহেরপুর জেলা ইউএসএ কমিটি ২০২৬ গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে মোঃ মোস্তফা কামালকে সভাপতি এবং মোঃ তামিল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।

কমিটির অন্যান্য পদে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোঃ আঃ মান্নান ও মোঃ রেজাউল হক। সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ নাজমুল হক ও মোঃ এস আলম (নিপন)। ক্যাশিয়ার হিসেবে মোঃ নুরুল হুদা এবং সহ-ক্যাশিয়ার হিসেবে মোঃ নাজিম উদ্দীন দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রচার সম্পাদক হিসেবে শাখাওয়াত হোসেন (বাচ্চু), সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোঃ মাছুদুল করিম ও সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত হয়েছেন। ধর্ম সম্পাদক হিসেবে মোঃ মাহফুজুর রহমান এবং সহ-ধর্ম সম্পাদক হিসেবে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম দায়িত্ব পেয়েছেন। ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ আমানুল ইসলাম ও সহ-ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ শাহিন রেজা নির্বাচিত হয়েছেন।

সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে মোঃ হাছানউজ্জামান জামান এবং সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে মোঃ মফিজুর রহমান (উজ্জ্বল) দায়িত্ব পেয়েছেন। মহিলা সম্পাদিকা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মোছাঃ মিতা শামীম।

কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন মোঃ জামাল উদ্দীন, মোঃ জাকির হোসেন, মোঃ আঃ কাদের, মোঃ জাফরপ্তাহ রহমতুল্লাহ (তপন), মোঃ আশরাফুল ইসলাম (টুকু), মোঃ আমিনুল কবির, মোঃ কামাল হোসেন, এচ এইচ জাহিদ এবং মোঃ আশরাফুল ইসলাম (মিলন)।

উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এ্যাডঃ এম নূরুজ্জামান (বাবু), মোঃ আঃ বাতেন, মোঃ মহিদুল ইসলাম, মোঃ আঃ হালিম, মোঃ আশাদুল্লাহ (নিউজার্সি), মোঃ কামরুজ্জামান ও আসাদ-আল মফিজ।




মুজিবনগরে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ের পাশ থেকে ককটেল সাদৃশ বস্তু উদ্ধার

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ের মাত্র ৩৫ গজ পাশে থেকে লাল টেপে মোড়ানো ককটেল সাদৃশ একটি বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার সকালে উপজেলার দারিয়াপুর ইউনিয়নের কালিতলা মোড় এলাকা থেকে বস্তুটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কালিতলা মোড় সংলগ্ন আকবার আলীর বাড়ির প্রাচিরের পাশে একটি সন্দেহভাজন বস্তু পড়ে দেখে স্থানীয়রা মুজিবনগর থানা পুলিশকে খবর দেয়। মুজিবনগর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স এবং মুজিবনগর থানা পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তুটি উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করার জন্য থানায় নিয়ে যায়।

মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানান, ‘খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং বস্তুটি উদ্ধার করে। এটি আসলেই কোনো বিস্ফোরক কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে এটি সেখানে রেখেছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধারকৃত বস্তুটি স্থানটি স্থানীয় বিএনপি কার্যালয় থেকে মাত্র ৩৫ গজ দূরে হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।




গ্রামের মাটিতে জন্ম অতি সাধারণ পরিবারের সন্তান বাপ্পি জাপান বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে

গ্রামের মাটিতে জন্ম, জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে স্বপ্নপূরণের অঙ্গিকার বুকে নিয়ে। আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছী গ্রামের পূর্বপাড়ার বাপ্পি রহমান (২২) নামের এক শিক্ষার্থী জাপানে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন। জাপানি ল্যাঙ্গুয়েজ প্রফিশিয়েন্সি টেস্ট (JLPT) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি এ সাফল্য অর্জন করেন।

গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার এই অনুমোদন দিয়েছেন। তার এই সাফল্যে পরিবার ও গ্রামবাসীর মধ্যে খুশির পরিবেশ বিরাজ করছে।

বাপ্পি রহমান উপজেলার বেলগাছী গ্রামের পূর্বপাড়ার মো. আশরাফুল হকের ছেলে। সাধারণ পরিবারের সন্তান হলেও, সীমিত সম্পদ ও নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি পড়াশোনায় আগ্রহী ছিলেন।

পরীক্ষায় বাপ্পি রহমান খুলনা বিভাগের মধ্যে তৃতীয় স্থান লাভ করেন। এই ফলাফলের ভিত্তিতে তার জাপানে পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত হয়। তিনি ( বাপ্পি রহমান ) জাপানের টোকিও শহরের তাকুসুকি ইউনিভার্সিটি-তে ভর্তি হওয়ার অনুমোদন পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার ভর্তির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে।

এর আগে তিনি ২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং জিপিএ–৫ অর্জন করেন। তিনি আলমডাঙ্গা ব্রাইট মডেল স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন।

শিক্ষকরা জানান- বাপ্পি রহমান পড়াশোনায় প্রতিশ্রুতিশীল মেধাবী ছাত্র এবং ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল করে আসছেন।

শিক্ষার্থীর বাবা আশরাফুল হক বলেন, সংসারের সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও আমরা চেষ্টা করেছি ছেলেকে পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার। তার এই সাফল্যে আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট।