আলমডাঙ্গায় ভুট্টা ক্ষেতে শিষ নেই, ভেজাল বীজের অভিযোগে বিপাকে কৃষক

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের টেপারগাড়া মাঠজুড়ে ভুট্টা ক্ষেতে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। সময়মতো পরিচর্যা করেও অধিকাংশ গাছে শিষ আসেনি। এতে শতাধিক কৃষক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, ভেজাল বীজের কারণেই এ বিপর্যয়।

জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক তানজেল রহমান জানান, স্থানীয় বাজারের এক বিক্রেতার কাছ থেকে ভুট্টার বীজ কিনে দেড় বিঘা জমিতে সাড়ে তিন মাস আগে বপন করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী পরিচর্যা করলেও গাছ স্বাভাবিকভাবে বড় হয়নি। এখনো অধিকাংশ গাছে শিষ বের হয়নি, আর যেগুলো হয়েছে সেগুলোও নিম্নমানের।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, টেপারগাড়া মাঠের বিস্তীর্ণ এলাকায় একই চিত্র। শতাধিক কৃষকের প্রায় আড়াই শতাধিক বিঘা জমির ভুট্টা ক্ষেতে গাছ খর্বাকৃতির, অনেক গাছে শিষই নেই। ফলে উৎপাদন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন কৃষকেরা।

ভুক্তভোগী কৃষকদের ভাষ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে আলমডাঙ্গা পৌর শহরের কালিদাসপুর সাদা ব্রিজ এলাকার ‘কৃষি পল্লী সিড স্টোর’ নামের একটি দোকান থেকে তাঁরা ‘নসিব এগ্রো-৪০৫৫’ নামের উচ্চ ফলনশীল ভুট্টার বীজ সংগ্রহ করেন। দীর্ঘ তিন মাস পরিচর্যার পরও গাছে শিষ না আসায় তাঁরা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জমি চাষ, সার, সেচ ও শ্রম খরচসহ প্রতি বিঘায় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা ব্যয় করেও আশানুরূপ ফলন পাচ্ছেন না।

একই গ্রামের কৃষক মো. ওমর উদ্দিন বলেন, “তিন বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছিলাম। গাছ ভালো হলেও শিষ আসেনি। প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ করেছি। ফলন তো দূরের কথা, পশুখাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করার মতো কিছু পাইনি।”

কৃষক মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, “বীজের দোকানদার বলেছিলেন, এটি উন্নত জাতের বীজ, ফলন ভালো হবে। কৃষি অফিস থেকেও প্রদর্শনী প্লট হিসেবে বীজ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমরা প্রতারিত হয়েছি। এই বীজে কোনো ফলন আসেনি।”

একই গ্রামের সালেহা খাতুন বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর নিজেই চাষাবাদ করে সন্তানদের লালন–পালন করছি। কিন্তু এবার ভেজাল বীজে ক্ষতিগ্রস্ত হলাম। গাছ বড় হয়নি, শিষও ছোট। যেখানে বিঘাপ্রতি ৪০ মণ ফলন হওয়ার কথা, সেখানে দুই মণও হবে না।”

ভুক্তভোগী কৃষকদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পারভেজ মঙ্গলবার দুপুরে টেপারগাড়া মাঠের ভুট্টা ক্ষেত পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




আলমডাঙ্গায় ৫৭ লাখ টাকার প্রকল্পে নজিরবিহীন অব্যবস্থাপনা

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমার নদীর ওপর নির্মিত প্রায় ৫৭ লাখ টাকার একটি সেতু নির্মাণের ১০ বছর পার হলেও জনসাধারণের কোনো কাজে আসেনি। সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি এখন গরুর গোবর শুকানোর জায়গায় পরিণত হয়েছে যা প্রকল্প বাস্তবায়নে চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, কালিদাসপুর ইউনিয়নের আসাননগর ও বকশিপুর গ্রামের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয় প্রায় ৫৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকা।

কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো সেতুর দুই প্রান্তে এখনো কোনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এ অবকাঠামোটি সম্পূর্ণ অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে।

আসাননগর গ্রামের বাসিন্দা শিলু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি শুধু একটি সেতু নয়, তিনটি গ্রামের সংযোগস্থল। এই রাস্তা হলে ১০ গ্রামের মানুষ উপকৃত হতো, এমনকি কুষ্টিয়ার মানুষও সহজে চলাচল করতে পারত। অথচ এখন এটি মানুষের নয়, গরুর কাজে লাগছে।”

বকশিপুর গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুল বলেন, “সংযোগ সড়কটি নির্মাণ হলে আলমডাঙ্গায় যেতে ২০ মিনিটের পথ ৫ মিনিটে নেমে আসবে।”

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, পরিকল্পনার অভাব ও প্রশাসনিক উদাসীনতায় একটি সম্ভাবনাময় প্রকল্প আজ জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ ১০ বছরেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় মানুষের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

কালিদাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুল হক মিকা বলেন, “বিষয়টি আগেও বহুবার জানানো হয়েছে। বরাদ্দ না থাকলে তো রাস্তা করা সম্ভব নয়।”

অন্যদিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, “সেতুটি সম্পর্কে আগে জানা ছিল না। সম্প্রতি বিষয়টি জেনেছি। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।”

তবে প্রশ্ন থেকেই যায় দীর্ঘ ১০ বছর ধরে একটি সরকারি সেতু অব্যবহৃত পড়ে থাকার দায় কে নেবে? আর কতদিন অপেক্ষা করলে এই ‘মৃত সেতু’ ব্যবহার উপযোগী হবে?

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে জনগণের টাকায় নির্মিত এই সেতুকে চলাচলের উপযোগী করা হোক। অন্যথায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।




জীবননগরে অবৈধভাবে পুরাতন ব্যাটারি মজুদ, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার খয়েরহুদা গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে পুরাতন ব্যাটারি মজুদ ও তা পুড়িয়ে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে।

মঙ্গলবার বিকাল আনুমানিক ৫টা ১৫ মিনিটে জীবননগর থানাধীন খয়েরহুদা গ্রামের পাশের একটি ফাঁকা মাঠে এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে দেখা যায়, নির্দিষ্ট এলাকা ঘিরে বিপুল পরিমাণ পুরাতন ব্যাটারি মজুদ করে তা পোড়ানো হচ্ছিল। এতে ব্যাটারির বিষাক্ত উপাদান ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছিল।

এ ঘটনায় গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বেচাদহ গ্রামের মিন্না বেপারীর ছেলে আব্দুর রহমান (৫০)কে আটক করা হয়। পরে তাকে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬(গ) ধারা অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাগর দে।

এসময় আদালত অবৈধভাবে গড়ে তোলা ব্যাটারি মজুদের কার্যক্রম দ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ওই স্থানে এ ধরনের পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়।

স্থানীয়রা ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশ দূষণ বাড়ছিল। তারা এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনার দাবি জানান।




দামুড়হুদায় চাচার শাবলের আঘাতে ভাতিজা আহত

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের তারিনিপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচার শাবলের আঘাতে ভাতিজা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দামুড়হুদা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তারিনিপুর গ্রামের ঈদগাহপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত আসান আলীর ছেলে রিপন হোসেন (৩২) দীর্ঘদিন ধরে তার চাচা হেলা আলী (৫৫), চাচাতো ভাই আলামিন (১৯) এবং চাচী আমেনা খাতুনের (৪৫) সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে ছিলেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে রিপন হোসেনের বাড়ির সামনে রাস্তার ওপর অবস্থান নেয় এবং লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় হেলা আলী তার হাতে থাকা শাবল দিয়ে রিপন হোসেনের মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন।

পরবর্তীতে অন্য অভিযুক্তরাও লাঠিসোঁটা ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এ সময় রিপনের স্ত্রী রুনা খাতুন (২৭) তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রিপন হোসেন বাদী হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করেছে।

দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




মুজিবনগরে গলায় ফাঁস দিয়ে কলেজ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার রামনগর গ্রামে নাছিম রেজা (২০) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মোনাখালী ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে তার নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নাছিম রেজা একই গ্রামের তৌফিক আলীর ছেলে এবং মেহেরপুর পৌর ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে নাছিম নিজ ঘরের দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করে। কিছুক্ষণ পর তার দাদি রজিফা খাতুন ঘরের ভেতরে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করেন। পরে প্রতিবেশী ও স্বজনরা এসে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক অভিমান থেকে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।” তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম জানান, পরিবারের সদস্যরা তাকে নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান।




গাংনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কৃষকের পরিবারকে সরকারি সহায়তা প্রদান

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী কিবরিয়া ফিলিং স্টেশনের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কৃষক আওরঙ্গজেবের পরিবারকে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন ও গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস নিহতের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী রাশিদা খাতুন ও ছেলে সেলিমের হাতে নগদ ২৫ হাজার টাকা ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।

এর আগে সোমবার (২০ এপ্রিল) ডিজেল নিয়ে ফেরার পথে বেপরোয়া গতির একটি ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন আওরঙ্গজেব। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
সহায়তা প্রদানকালে তেতুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।




গাংনীতে বিদেশে পাঠানো নিয়ে দ্বন্দ্বে তিন নারীকে পিটিয়ে আহতের অভিযোগ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাথানপাড়া গ্রামে বিদেশে পাঠানোকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বে এক বৃদ্ধাসহ তিন নারীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে অনিকুল ইসলাম ও তার ছেলে ইমনের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন সাবিনা বেগম (৭০), সাকের আলীর স্ত্রী হিরা খাতুন (৪৫) এবং আবির হাসানের স্ত্রী রুম্পা খাতুন (২২)। তারা সবাই গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহতদের অভিযোগ, বাথানপাড়ার অনিকুল ইসলামের ছেলে ইমনকে বিদেশে পাঠানোর জন্য সাকের আলীর জামাই, সিঙ্গাপুর প্রবাসী আরেফিন হোসেনের কাছে ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে ইমনকে বিদেশে পাঠানো সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা কমিয়ে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং সেই টাকা অনিকুল ও ইমন বুঝে নেন।

তবে মীমাংসার পরও অনিকুল ও তার ছেলে ইমন আরেফিন হোসেনকে খুঁজতে থাকেন। তাকে না পেয়ে তারা আরেফিনের বৃদ্ধা নানী-শাশুড়ি সাবিনা বেগম, শাশুড়ি হিরা খাতুন এবং শ্যালকের স্ত্রী রুম্পা খাতুনকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গাংনী থানায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




মেহেরপুরে বিদ্যালয় ভিত্তিক বার্ষিক পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কমিউনিটি এডুকেশন ওয়াচ গ্রুপ ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় মেহেরপুর সদর উপজেলার চকশ্যামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে “বিদ্যালয়ভিত্তিক বার্ষিক পরিকল্পনা সভা” অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. হালিমা খাতুন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি এডুকেশন ওয়াচ কমিটির আমঝুপি ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা কাজী রুহুল আমিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বিদ্যালয়ের পিটিএ সভাপতি মো. বারেক আলী। এছাড়া সভায় বক্তব্য দেন ওয়াচ কমিটির সদস্যবৃন্দ ও বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা।

গণসাক্ষরতা অভিযানের সহায়তায় মানব উন্নয়ন কেন্দ্র (মউক) এ সভার আয়োজন করে। সভায় বিদ্যালয়ের আগামী এক বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

মানব উন্নয়ন কেন্দ্রের (মউক) প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোছা. কাজল রেখা বার্ষিক পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, বিদ্যালয়ভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রোগ্রাম অফিসার চাঁদতারা সূর্য।




আধুনিক পদ্ধতিতে হাইব্রিড ধান চাষ: মেহেরপুরে ব্র্যাক সিডের কৃষক কর্মশালা

কৃষি প্রযুক্তির প্রসার ও উৎপাদন বৃদ্ধি লক্ষ্যে মেহেরপুরে দিনব্যাপী কৃষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্র্যাক সিড অ্যান্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

মেহেরপুর সদর উপজেলা মডেল মসজিদের ট্রেনিং রুমে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. এমদাদুল হাসান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ মো. কামরুল হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের মেহেরপুর জেলা সমন্বয়ক শেখ মনিরুল হুদা।

কর্মশালায় আমন মৌসুমে ব্র্যাক সিডের উন্নত হাইব্রিড ধানের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও কলাকৌশল বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “দেশের খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলা এবং স্বল্প জমিতে অধিক ফলন পেতে আধুনিক প্রযুক্তি ও উচ্চ ফলনশীল জাতের কোনো বিকল্প নেই।”

দিনব্যাপী এই কর্মশালায় ৫০ জন নির্বাচিত কৃষককে হাইব্রিড ধান উৎপাদন পদ্ধতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের মাঝে ব্র্যাক হাইব্রিড-১০ জাতের ধানের বীজ বিতরণ করা হয়।

এছাড়া অনুষ্ঠানে ব্র্যাক সিড ডিলার মো. ফকরুল ইসলাম ও মো. আব্দুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনা করেন ব্র্যাকের সিনিয়র টেরিটরি সেলস অফিসার মো. আশরাফুল ইসলাম ও গোলাম কিবরিয়া।




গাংনীতে বিএনপি নেতাকে গুলির ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ১

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের বিএনপি নেতা মুকুল হোসেনকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার মেয়ে স্বর্ণালী সাবনম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলা নম্বর ৩১, তারিখ ২০ এপ্রিল ২০২৬। মামলায় এজাহারভুক্ত তিনজনসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার প্রধান আসামি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাহারবাটি বাজারের ওয়ার্কশপ মালিক আতাউর রহমান টোকনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে গাংনী উপজেলা চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

গাংনী পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমন হোসেনের নেতৃত্বে মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন পৌর জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সুলেরী আলভী, যুবদল নেতা সাহিবুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, সাহারবাটি ইউনিয়ন বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক মুকুল হোসেনকে সোমবার ভোরে কাথুলি সড়কের সাহারবাটি ও ভাটপাড়ার মাঝামাঝি কাশেম মোড় এলাকায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। তাকে লক্ষ্য করে পাঁচটি গুলি ছোড়া হলে চারটি গুলি তার শরীরে বিদ্ধ হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে অস্ত্রোপচার করে পিঠের দুটি গুলি বের করা সম্ভব না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।