আলমডাঙ্গা ইছেরদাড়ী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন

আলমডাঙ্গায় ডি-৫ খাল পুনঃখনন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। শহীদ জিয়ার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা আড়াইটার সময় আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছী ইউনিয়নের ডামোস-ঘোলদাঁড়ি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মিজ লুৎফন নাহার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন এ্যানী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন। তিনি খাল খননের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে চেয়েছিলেন। খাল খননের সঙ্গে সাধারণ মানুষ জড়িত থাকে, যারা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে কৃষিকাজ করে। তারা ফসল উৎপাদন করে, আর তাদের মাধ্যমেই দেশের খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়।

তিনি আরও বলেন, তৎকালীন সময়ে শহীদ জিয়াউর রহমান কোনো টেন্ডার করে খাল কাটেননি; স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে খাল খনন করা হয়েছে। আমরা তখন স্কুলের ছাত্র ছিলাম শুনলাম প্রেসিডেন্ট হেলিকপ্টারে করে খাল কাটতে আসছেন। একজন প্রেসিডেন্ট খাল কাটবেন এটা ছিল অবিশ্বাস্য ব্যাপার। কিন্তু আমরা দেখলাম, তিনি কোদাল দিয়ে খাল কেটে ঝুড়ি দিয়ে মাটি ফেলছেন। এভাবেই জিয়াউর রহমান দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিগত ১৭ বছর অনেক জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে শহীদ জিয়ার অসমাপ্ত কাজ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বিগত স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকার তা করতে দেয়নি। তারা খাল কেটেছে, কিন্তু দৃশ্যত কোনো কাজ খুঁজে পাওয়া যায়নি; শত শত কোটি টাকা লুটপাট করেছে।

শহীদ জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের যে ইশতেহার দিয়েছেন, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাল পুনঃখননের কথা উল্লেখ রয়েছে। আমরা সারা দেশে খাল পুনঃখনন করে দেশকে স্বনির্ভর বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তারেক রহমান বলেছেন “সবার আগে বাংলাদেশ”।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রুহুল কবির খান, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিউজ্জামান শরীফ, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের প্রধান প্রকৌশলী শাহাজান সিরাজ, জিকে সেচ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক জাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহম্মেদ, চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নাজিম উদ্দিন এবং কাজের ঠিকাদার হেমন্ত কুমার সিংহ রায়।

অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল কাউনাইন টিলু, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিন্টু, সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন, বেলগাছী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমজাদ হোসেন, সম্পাদক কামাল হোসেন, যুবদলের নেতা মীর উজ্জ্বল হোসেন ও রফিকুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এমদাদুল হোসেন, ছাত্রদলের নেতা তন্ময় ও শুভ প্রমুখ।




আলমডাঙ্গা রাসমণি জুয়েলার্স স্বর্ণের তিনটি চেইন ছিনতাই

আলমডাঙ্গায় অভিনব কৌশলে স্বর্ণের চেইন নিয়ে পালিয়েছে দুই দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মাঝে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় অভিনব কৌশলে স্বর্ণের তিনটি চেইন চুরি হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৫০ মিনিটে আলমডাঙ্গা চারতলা মোড়ে অবস্থিত রাসমণি জুয়েলার্সে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

দোকান সূত্রে জানা যায়, একজন ব্যক্তি ক্রেতা সেজে দোকানে প্রবেশ করে স্বর্ণের চেইন দেখতে চান। এ সময় দোকান মালিক বিভিন্ন ডিজাইনের তিনটি চেইন বের করে দেখানোর একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি হঠাৎ করেই চেইনগুলো নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে বাইরে অপেক্ষমাণ সহযোগীর মোটরসাইকেলে উঠে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

রাসমণি জুয়েলার্সের মালিক বিজু শিহি জানান, চুরি হওয়া তিনটি স্বর্ণের চেইনের আনুমানিক মূল্য প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা।

ঘটনার খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং তদন্ত শুরু করে।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাণী ইসরাইল বলেন, “ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।” তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের অভিনব কৌশলের চুরির ঘটনায় দোকানদারদের আরও সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।”

এদিকে ঘটনার পর স্বর্ণপট্টির ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।




দামুড়হুদা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাহফুজুর রহমান মিল্টনের ইন্তেকাল

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব, ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ মাহফুজুর রহমান মিল্টন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৪ বছর।

গতকাল শনিবার বিকাল ৩টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাঁকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে রেফার করেন। পরিবারের সদস্যরা অ্যাম্বুলেন্সযোগে কুষ্টিয়ায় নেওয়ার পথে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মাহফুজুর রহমান মিল্টন দামুড়হুদা উপজেলার পাটাচোরা গ্রামের মৃত শফিউদ্দীনের পুত্র। ১০ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। ব্যক্তিজীবনে তিনি এক কন্যা সন্তানের জনক। তাঁর মেয়ের নাম নওশীন (৬)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাহফুজুর রহমান মিল্টন এলাকায় অত্যন্ত সুনামধন্য, ত্যাগী ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন সক্রিয় ও জনপ্রিয়। তাঁর অকাল মৃত্যুতে পরিবারসহ পুরো দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আজ রবিবার সকাল ৯টায় দামুড়হুদা স্টেডিয়াম মাঠে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সকাল ১০টায় নিজ গ্রাম পাটাচোরায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে।

এদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন (এমপি) গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

শোকবার্তায় নেতৃদ্বয় বলেন, “মাহফুজুর রহমান মিল্টন ছিলেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক। রাজপথের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর সাহসী ভূমিকা সর্বমহলে প্রশংসিত। তাঁর মতো ত্যাগী নেতার অভাব সহজে পূরণ হওয়ার নয়।”

নেতৃদ্বয় মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।




দর্শনায় মহিলাসহ ৪ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার

দর্শনা থানা পুলিশ বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে মহিলাসহ ৪ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করেছে।

গতকাল শনিবার ভোরে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি দল বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পুলিশ দীর্ঘদিন পলাতক থাকা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন দর্শনা পৌরসভার ঈশ্বরচন্দ্রপুর মাঝপাড়ার আলীর ছেলে হাফিজুল ইসলাম ওরফে হ্যাপি (৪০), দর্শনার আজমপুরের সুরুজ মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া (৩৯), দর্শনা থানার তিতুদহ ইউনিয়নের সাড়াবাড়িয়া গ্রামের মৃত মজিবর শাহের ছেলে শাহাবুদ্দিন বদ্দি (৩৯) এবং দর্শনা পরানপুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের স্ত্রী ছালমা খাতুন (৩৯)।

গ্রেফতারের পর গতকালই তাদের চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।




মেহেরপুরের পুরাতন দরবেশপুরে মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩

মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক মহাসড়কের পুরাতন দরবেশপুরে দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আরাফ হোসেন (১৪) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্র নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুরাতন দরবেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আরাফ হোসেন মেহেরপুর সদর উপজেলার সিংহাটি পশ্চিমপাড়ার তৌহিদুল ইসলামের ছেলে।

আহতরা হলো একই গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে হোসাইন (১৪), মোমিনপুর গ্রামের শ্রী রঞ্জিত কুমার পাত্রের ছেলে শ্রী ইন্দ্রজিৎ পাত্র (৩৫) এবং তাঁর ভাই শ্রী সাজু পাত্র (৪০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আরাফ ও হোসাইন একটি টিভিএস আরটিআর মোটরসাইকেলে করে দ্রুতগতিতে মেহেরপুর থেকে চুয়াডাঙ্গার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা ইন্দ্রজিৎ ও সাজু পাত্রের টিভিএস মেট্রো মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই আরাফ হোসেনের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর মেহেরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরাফকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে হোসাইনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করে বারাদী পুলিশ ক্যাম্পে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাজারে হামলা-অগ্নিসংযোগ, কথিত পীর নিহত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে একটি মাজারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মাজারের প্রধান কথিত পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীর (৬৫) নিহত হয়েছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল তিনটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড়ে শামীম বাবার দরবার শরিফে এ ঘটনা ঘটে।

শামীম রেজা ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেছের আলী মাস্টারের ছেলে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ২০২১ সালের মে মাসে শামীম রেজার বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা হয়। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সম্প্রতি মুক্তি পেয়ে শামীম আবারও আস্তানা সক্রিয় করেন। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিল।
এরই জেরে শনিবার সকাল থেকে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। কিন্তু ক্ষুব্ধ জনতা আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় হামলাকারীরা শামীম রেজাসহ তার অন্তত আট অনুসারীকে পিটিয়ে জখম করে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, গুরুতর অবস্থায় শামীম রেজাকে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, স্থানীয়দের হামলায় গুরুতর আহত হন কথিত পীর শামীম রেজা।

পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা সাড়ে ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শামীম রেজা রাজধানীতে মাস্টার্স শেষ করে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেন। পরে এলাকায় ফিরে আস্তানা গড়ে সেখানে ধর্মীয় কার্যক্রম শুরু করেন।




মেহেরপুরে জিয়া খালের পুনঃ: খনন কাজের উদ্বোধন

মেহেরপুর সদর উপজেলার বলিয়ারপুর গ্রামে ২৪ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ১০০ মিটার জিয়া খাল পুন:খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে ।

আজ শনিবার ( ১১ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে চারটার দিকে পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রধান অতিথি হিসেবে মাটি কেটে খাল খননের উদ্বোধন করেন। খাল খনন শেষে খালপাড়ে তিনি একটি গাছের চারা রোপন করেন।

পরে বলিয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মন্ত্রী।

এ সময় তিনি বলেন, ‘খাল খননের মাধ্যমে কৃষি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি হবে, খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন ধরনের গাছ রোপন করা হবে, যার মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে। তিনি বলেন, বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকার অভূতপূর্ন উন্নয়ন হবে।’

মেহেরপুর জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়ের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন, মেহেরপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য তাজ উদ্দিন আহমেদ,পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাভেদ মাসুদ মিল্টন, মেহেরপুর ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুন, মেহেরপুর ২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেন, ‌‌,মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, মেহেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাইম কামাল খান।

উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড পশ্চিম অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী শাজাহান সিরাজ, কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় জেলা বিএনপির অঙ্গ সংগঠনে নেতাকর্মীরা অংশ নেন।




দর্শনায় মশক নিধন ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি উদ্বোধন

সারাদেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌরসভায় মশক নিধন ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসুচি উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার (১১ই এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে দর্শনা রেল বাজারে মশক নিধন ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা উদ্বোধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মশক নিধন ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার উবায়দুর রহমান সাহেল।

অঙ্কুর আদর্শ বিদ্যালয়, কেরু বাজার মাঠের পাশের খোলা ড্রেন, আবাসিক এলাকায়, আজমপুর, রেলবাজার ডিএস মাদ্রাসা, ফুলতলা,মাছ বাজার, কাঁচা বাজারে কর্মসূচি পালন করা হয়।

মশক নিধন ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি উদ্বোধন কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দামুড়হুদা ইউএনও উবায়দুর রহমান সাহেল বলেন, দর্শনা পৌরসভসহ সারা বাংলাদেশে একযোগে এ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশ মোতাবেক নিয়মিত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা পাশাপাশি প্রতি শনিবার অতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যেমন ড্রেন, খেলারমাঠ, স্কুল কলেজ মাদ্রাসায় বাজার সহ জলাশয় গুলো এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করে অভিযান পরিচালনা করা হবে। পৌরসভার পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন, হাসপাতাল গুলোতে একইভাবে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দর্শনা পৌরসভার প্রধান সহকারী শাহ আলম, পৌর কর নির্ধারক জাহিদুল ইসলাম হিসাব রক্ষক আরিফিন হোসেন,কার্য সহকারী হারুন অর রশিদ, লাইসেন্স পরিদর্শক মমিনুল ইসলাম প্রমুখ।




ঝিনাইদহে প্রতারণার টাকাসহ হারানো ৫৭ মোবাইল উদ্ধার

ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের আইসিটি অ্যান্ড মিডিয়া (সাইবার সেল) শাখা তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় হারানো ৫৭টি মোবাইল ফোন এবং বিকাশ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ৬৩ হাজার ৫৪২ টাকা উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের নিকট হস্তান্তর করেছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগীদের হাতে এসব মোবাইল ও অর্থ তুলে দেন পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ আফজাল।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মার্চ মাসে জেলার বিভিন্ন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং সাইবার সেলে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে কাজ শুরু করে সাইবার ইনভেস্টিগেশন সেল। তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হারানো ও চুরি হওয়া ৫৭টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। একইসাথে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হওয়া গ্রাহকদের ৬৩,৫৪২ টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাহ হোসেনসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল বলেন, এ ধরনের উদ্ধার কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আমরা সব সময় জনগণের পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।




ঝিনাইদহে হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

পবিত্র হজব্রত পালন উপলক্ষে ঝিনাইদহে হজযাত্রীদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে শহরের কুটুম কমিউনিটি সেন্টারে নাজাত হজ কাফেলার উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

এতে প্রশিক্ষণ প্রদাণ করেন ভুটিয়ারগাতি কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, এ এইচ বি ট্রাভেলস-এর চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদসহ অন্যান্যরা।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ৪৪ জন হজযাত্রীর হজের তাৎপর্য, ইবাদতের সঠিক পদ্ধতি এবং সৌদি আরবে অবস্থানকালীন বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন।

আয়োজকরা জানান, হজযাত্রীরা যেন সঠিকভাবে ও নির্বিঘ্নে হজ পালন করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন। এছাড়াও কর্মশালায় হজযাত্রীদের মাঝে ব্যাগ, ছাতাসহ উপকরণ বিতরণ করা হয়।