আইনজীবী থেকে আইনমন্ত্রী হলেন আসাদুজ্জামান

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের দ্বায়িত্ব পেয়েছেন এ্যাড.আসাদুজ্জামান এমপি। মন্ত্রী হওয়ায় মিষ্টি বিতরণ করেছেন তার সংসদীয় এলাকা ঝিনাইদহের শৈলকুপায়। মঙ্গলবার বিকেলে মন্ত্রী হিসেবে শপথ পাঠ করার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা আনন্দ র‌্যালী বের করেন। শৈলকুপা উপজেলা শহরের চার রাস্তার মোড়ে গিয়ে নেতাকর্মীরা মিষ্টি মুখ করেন সেই সাথে নানা শ্রেণি পেশার মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেন। সেসময় নেতাকর্মীরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এ্যাড আসাদুজ্জামান বিগত দিনের মত ভুমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। এ্যাড আসাদুজ্জামান ঝিনাইদহ ১ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মন্ত্রীর দ্বায়িত্ব পেলেন।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বারইপাড়া গ্রামের প্রয়াত স্কুল শিক্ষক পিতার ৬ সন্তানের মধ্যে মেঝ তিনি। ২ কন্যা সন্তানের জনক আসাদুজ্জমান। তিনি ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে তিনি এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি বার কাউন্সিলের আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত হন। ১৯৯৬ সালে তিনি হাইকোর্ট ডিভিশনে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর ২০০৫ সালে আপিলেট ডিভিশনে নিয়োগ পান। এ্যাড. আসাদ আইন পেশায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দেশের ১৭ তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। সে সময় বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন, মামলা জট কমানো, আইনের শাসন শক্তিশালী করা এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় তাঁর প্রস্তাবগুলো ব্যাপক গুরত্ব পায়। এসব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে বর্তমান সরকারের নবগঠিত মন্ত্রিসভায় অর্ন্তভুক্ত করা হয় এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেলেন তিনি।

জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘আইন পেশা থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব আইন মন্ত্রণালয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। কারণ তাঁরা আইনের প্রয়োগগত সমস্যাগুলো প্রত্যক্ষভাবে জানেন এবং সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। ফলে নীতিনির্ধারণে বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রতিফলিত হয়। একজন আইনজীবীর আইনমন্ত্রী হয়ে ওঠা তাই কেবল ব্যক্তিগত পদোন্নতি নয়, এটি বিচারব্যবস্থার অভ্যন্তরীন অভিজ্ঞতার রাষ্ট্রীয় নীতিতে প্রতিফলনের একটি প্রক্রিয়া। আমি আশাবাদী এ প্রক্রিয়ায় শতভাগ সফল হবেন আসাদুজ্জামান।’

এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোট পান অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবু ছালেহ মো. মতিয়ার রহমান পেয়েছিলেন ৫৫ হাজার ৫৭৮ ভোট।




আলমডাঙ্গায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদক ব্যাবসায়ীর জেল-জরিমানা

আলমডাঙ্গায় মাদকের দুর্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হানা দিয়ে মাদকরানী নামে খ্যাত মিন্নির ২বছর কারাদণ্ড দিয়েছে। সেই সাথে ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়।

আলমডাঙ্গা ‘মাদকরানী’ নামে অতিপরিচিত কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মিন্নিকে ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অনাদায়ে তাকে অতিরিক্ত ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এস এম শাহনেওয়াজ মেহেদী। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন আলমডাঙ্গা থানার এসআই সোহাগ-এর নেতৃত্বাধীন চৌকস পুলিশ টিম।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকালে মিন্নির নিজ বাড়ি থেকে ১৭ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, একটি মোবাইল ফোন এবং মাদক বিক্রির নগদ ৩ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়। আসামির স্বীকারোক্তি ও প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে দণ্ড প্রদান করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্টেশনপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল মিন্নি। একাধিক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে সে পুরো এলাকাকে মাদকের আখড়ায় পরিণত করে তোলে। ফলে এলাকায় মাদকাসক্তি ও অপরাধ প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়ে ওঠে তার ব্যবসায়ীক অংশীদার। রাতারাতি নাম হয়ে ওঠে মাদক রানী।এছাড়াও তার এই মাদক ব্যাবসায়ীতে তার ছোট জামাই আহাদ আলি সকল অপকর্ম দেখভাল করে আসছে।মিনি ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে স্টেশন এলাকায় মাদকের অভয়ারণ্যে ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর কিছু দিন আগেও এসআই সোহাগ, সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে প্রায় আধা কিলোমিটার দৌড়ে মিনির মেয়ে ‘আলোমতি’ নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে এলাকায় প্রশংসা কুড়ান। এছাড়াও ড্রাইভার আব্দুল্লাহ আল আমিন দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসামির পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন।

অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এস এম শাহনেওয়াজ মেহেদী বলেন,“যুবসমাজকে রক্ষা করতে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের একটি টিম ও মোবাইল কোর্টের বেঞ্চ সহকারী তারিকুল ইসলাম।




ঐতিহ্য ও উৎসবের আমেজে দামুড়হুদা ব্র্যাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পিঠা উৎসব উদযাপিত

দামুড়হুদায় শিক্ষা ও সংস্কৃতির অন্যতম বিদ্যাপীঠ ব্র্যাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব-২০২৬। মঙ্গলবার দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং অতিথিদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন এক টুকরো গ্রামের পল্লী বাংলায় পরিণত হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা পরিদর্শক মোত্তাসিন বিল্লাহ। উপজেলা ভূমি অফিসের ক্যাশিয়ার ইসমত তোহা, সার্টিফিকেট পেশকার আনিসুর রহমান,সাহিরুল শেখ, সায়রাত সহকারী এবং কম্পিউটার অপারেটর মশিউর রহমান। এসময় ভূমি অফিসের প্রতিনিধিগণ এসি ল্যান্ড মহোদয়ের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান এবং পিঠা উৎসবের আয়োজকদের সাধুবাদ জানান। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাচ বাংলা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার সুনীল কুমার নাথ,এ্যসিসট্যান্ট চ্যানেল অফিসার চঞ্চল কুমার শাহাসহ দামুড়হুদা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ,ব্র্যাক অফিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, অত্র এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং বিপুল সংখ্যক অভিভাবকবৃন্দ।

গ্রামের বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্যের সাথে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দিতে শিক্ষার্থীরা ৬টি দৃষ্টিনন্দন পিঠা উৎসবের স্টল সাজিয়েছিল। স্টলগুলোর সৃজনশীল নাম ও পিঠার বৈচিত্র্য সবার নজর কেড়েছে যেমন,পল্লীর ছোঁয়া,পিঠার সাতকাহন,কুড়েঘরে পিঠা,নবান্নের ঘ্রাণ,পিঠা বিলাস,বসন্তের ফুলঘর ও চা। স্টল গুলোতে ভাপা পিঠা,দুধপুলি,পাকান,ডিম সুন্দরী,রসকদম,জামাই পিঠা,নকমীপিঠা,তালের বরা,ছাঁচ পিঠা,ফলকাটা পিঠা,রসের পিঠা,কদম সুন্দরী, গাজরের হালুয়া, পুডিং, চিতই, পাটিসাপটা, ভাজাপুলি ,গোলাপসুন্দরী, তারাপিঠাসহ নানা বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা দিয়ে সজ্জিত করা হয়।

প্রধান অতিথি হিসাবে জেলা শিক্ষা পরিদর্শক অফিসার মোত্তাসিন বিল্লাহ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষার পাশাপাশি এ ধরনের সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদেরকে আমাদের শেকড় এবং সংস্কৃতির সাথে যুক্ত করে।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুন নাহার বলেন, পিঠা উৎসবের মাধ্যমে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য উপস্থাপনের সাথে সাথে শিক্ষার্থীদেরকে ক্ষুদে উদ্যোক্তা তৈরি করায় মূলত এই উৎসবের আয়োজন।যাতে তারা নিজেদের পন্য কিভাবে উপস্থাপন করতে হবে,সজ্জিত করতে হবে,প্রফিট করতে হবে তা শিখতে পারে।একজন শিক্ষার্থী কে তার ভবিষ্যৎ জীবনে কর্মক্ষম করে তোলার চেষ্টাই হলো বিদ্যালয়টির সামগ্রীক প্রচেষ্টা।

শীতের শেষে এবং বসন্তের আগমনে এই পিঠা উৎসব ছিল এক মিলনমেলা। স্টলগুলোতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠার স্বাদ আমন্ত্রিত অতিথিদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানটি শেষ হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে।




দামুড়হুদায় পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত 

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সার্বিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৪টার সময় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এই প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উবায়দুর রহমান সাহেল-এর সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম, উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার, উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার নিলীমা আক্তার হ্যাপী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু হাসান, উপজেলা মৎস্য অফিসার বিল্লাল হোসেন, উপজেলা সমবায় অফিসার হারুন অর রসিদ, দামুড়হুদা মডেল থানার প্রতিনিধি এসআই সবুজ উদ্দীন, দর্শনা থানার প্রতিনিধি এসআই আরিফুল ইসলাম, দামুড়হুদা পাইলট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক শামসিয়া ফাহমিদা রহমান, দামুড়হুদা পাইলট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন অফিসার রাশিদুল ইসলাম, উপজেলা মডেল মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওঃ মামুনুর রশীদ সহ সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় রমজান মাসে বাজার মনিটরিং জোরদার, ভেজাল ও অতিরিক্ত মূল্য আদায় রোধ, পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার উবায়দুর রহমান সাহেল বলেন, রমজানে সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জনদুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সভা শেষে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।




দামুড়হুদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

দামুড়হুদায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উবায়দুর রহমান সাহেল-এর সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম, উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার, উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার নিলীমা আক্তার হ্যাপী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু হাসান, উপজেলা মৎস্য অফিসার বিল্লাল হোসেন, উপজেলা সমবায় অফিসার হারুন অর রসিদ, দামুড়হুদা মডেল থানার প্রতিনিধি এসআই সবুজ উদ্দীন, দর্শনা থানার প্রতিনিধি এসআই আরিফুল ইসলাম, দামুড়হুদা পাইলট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক শামসিয়া ফাহমিদা রহমান, দামুড়হুদা পাইলট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন অফিসার রাশিদুল ইসলাম, উপজেলা মডেল মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওঃ মামুনুর রশীদ সহ সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ২১শে ফেব্রুয়ারি উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে রাত ১২টা ১ মিনিটে শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, প্রভাতফেরি, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা, দোয়া মাহফিল এবং পুরস্কার বিতরণী সহ নানা আয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উবায়দুর রহমান সাহেল বলেন, ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি সকলকে যথাসময়ে উপস্থিত থেকে কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান। সভা শেষে সার্বিক প্রস্তুতি ও দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।




পুনাক শো-রুম পরিদর্শনে মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়

পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক), মেহেরপুর শো-রুম সজ্জিতকরণের পর তা পরিদর্শন করেন মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।

পুনাক শো-রুম পরিদর্শনে এলে পুলিশ সুপারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান পুনাক, মেহেরপুরের সভানেত্রী টুম্পা সরকার।

সভানেত্রী টুম্পা সরকার মেহেরপুর জেলায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শো-রুমের মালামাল ক্রয়-বিক্রয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছেন। তাঁর সার্বিক তত্ত্বাবধানে পুনাকের স্টলে বিভিন্ন কারুশৈলী পণ্য ও জিআই পণ্য বিশেষ করে শতরঞ্জিসহ নতুন নতুন সামগ্রী সংযোজন করা হয়েছে।

শো-রুমে প্রদর্শিত কারুশৈলী ও শতরঞ্জি পণ্য পরিদর্শন করে পুলিশ সুপারসহ উপস্থিত কর্মকর্তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিভিন্ন পণ্য ক্রয় করেন।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), মেহেরপুরসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পুনাকের সহ-সভাপতি ও সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




রমজান উপলক্ষে মেহেরপুরে নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সভা

পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. সৈয়দ এনামুল কবির। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলার সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা এবং জেলার বাজার কমিটির সভাপতি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতিগণ।

সভায় রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, বাজার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জেলা প্রশাসক বাজারে অস্থিতিশীলতা ও কৃত্রিম সংকট রোধে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেন।

একই দিনে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কৃষকদের নিকট মানসম্মত সার ও বীজ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

এছাড়াও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সংক্রান্ত সভা, জেলা এনজিও সমন্বয় সভা এবং টিসিবি’র জেলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সকল সভায় জেলা প্রশাসনের সার্বিক তদারকি ও সমন্বয়ের মাধ্যমে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম আরও বেগবান করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রমজান মাসে নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা ও কৃষি উপকরণের সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।




রমজানে মাসব্যাপী জাহেদী ফাউন্ডেশনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু

ঝিনাইদহের জাহেদী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মাসব্যাপী খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সমাজের দারিদ্র্য বিমোচন এবং পবিত্র রমজানের আনন্দ ভাগাভাগি করার লক্ষ্যে জাহেদী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

বিগত ১৭ বছর ধরে চলমান এ কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজের দুঃস্থ ও অসচ্ছল পরিবারের মাঝে রমজান মাসব্যাপী খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিটি দরিদ্র পরিবারকে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি সয়াবিন তেল এবং ১ প্যাকেট সেমাই প্রদান করা হবে।

ঝিনাইদহ পৌরসভায় অবস্থিত কিংশুক ইটভাটা প্রাঙ্গণে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জাহেদী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সদস্য এম এ লতিফ শাহরিয়ার জাহেদী। প্রথম ধাপে মঙ্গলবার প্রায় ৫,০০০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

পর্যায়ক্রমে ঝিনাইদহসহ সারাদেশব্যাপী প্রায় ৬০,০০০ অসচ্ছল পরিবারের মাঝে এ খাদ্য সহায়তা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।




মেহেরপুরে জাতীয় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ জেলা কমিটির দ্বিমাসিক সভা

জাতীয় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম মেহেরপুর জেলা কমিটির দ্বিমাসিক সমন্বয় সভা মঙ্গলবার বিকাল তিনটার দিকে মউকের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা কমিটির সভাপতি আব্দুর রহিম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটির সদস্য সচিব ও মউক-এর নির্বাহী প্রধান আশাদুজ্জামান সেলিম।

প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ফাহিমা খাতুন। এছাড়াও বক্তব্য দেন কমিটির সহ-সভাপতি পলি খাতুন, সহ-সভাপতি আমিরুল ইসলাম অল্ডাম এবং কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ।

সভায় মেহেরপুর জেলায় নারী ও শিশু নির্যাতনের বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি আইনগত দিক, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভা শেষে কমিটির সদস্যরা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।




মেহেরপুরের আমঝুপিতে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে প্রশিক্ষণ কর্মশালা

মেহেরপুরের আমঝুপিস্থ মানব উন্নয়ন কেন্দ্রে (মউক) পারিবারিক সহিংসতা রোধ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নবগঠিত ‘ভিজিলেন্স কমিটি’র সদস্যদের নিয়ে এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সমাজে সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ’ প্রকল্পের আওতায় মউক হলরুমে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুইটি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে ভিজিলেন্স কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে আমঝুপি ইউনিয়নের ২১ জন সদস্য নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয় এবং দ্বিতীয় কমিটি গঠনের পূর্বপ্রস্তুতি চলছে।

কমিটিতে স্থানীয় শিক্ষক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, মানবাধিকার কর্মী, শিক্ষার্থী ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণের প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারীদের কাউন্সেলিং প্রদান করবেন এবং বাল্যবিবাহ ও যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মউকের নির্বাহী প্রধান বলেন, মেহেরপুর জেলায় বহু নারী কোনো না কোনোভাবে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এই হার কমিয়ে আনতে এবং সহিংসতামুক্ত সমাজ গড়তে স্থানীয় অংশীজনদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করার এবং পারিবারিক সহিংসতামুক্ত একটি মডেল সমাজ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।