খুলনা মেডিকেলের প্রিজন সেলে মেহেরপুরের আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু!

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেহেরপুর জেলা কারাগারের এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম গোলাম মোস্তফা (৫৫)। তিনি মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার মহাজনপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেহেরপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার আমান উল্লাহ।

কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার সকালে গোলাম মোস্তফার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে স্থানান্তর করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত ৩ টার দিকে গোলাম মোস্তফা কারাগারের ভেতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সে সময় তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরদিন সকালে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় পাঠানো হয়। স্ট্রোক জনিত কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলে স্থানীয় চিকিৎসকরা মনে করছেন বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারা সূত্র ও নথি অনুযায়ী, গোলাম মোস্তফা মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার পিতার নাম সাইতুল্লাহ মণ্ডল। নথিপত্রে দেখা যায়, তার বিরুদ্ধে মেহেরপুর সদর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে অন্তত তিনটি মামলায় তিনি জামিনে ছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জামিনে থাকা অবস্থায় তাকে ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর দায়েরকৃত আরেকটি মামলায় আটক দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালতের আদেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, মেহেরপুর সদর থানায় দায়ের করা বিভিন্ন এফআইআরে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ৪২৭, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭ ও ৫০৬ ধারাসহ একাধিক ধারায় মামলা রয়েছে।

এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার আমান উল্লাহ বলেন, ‘শুক্রবার রাতে কয়েদি গোলাম মোস্তফা কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে অবস্থার অবনতি হলে শনিবার সকাল সাতটার দিকে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন বলে শুনেছি। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি হাতে পাইনি।’

কয়েদির মৃত্যুর ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছে মেহেরপুর জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ।




মেহেরপুরে তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শনী মেলার উদ্বোধন

কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে মেহেরপুরে কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শনী মেলার উদ্বোধন হয়েছে। রবিবার বেলা ১২টায় সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শন মেলার উদ্বোধন করা হয়। ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন, অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির। পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি আয়োজিত হয়। এ সময় মেলায় প্রদর্শনকৃত ১৪টি স্টল পরিদর্শন করেন তিনি।
সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: খায়রুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব। কৃষিকে টেকসই করতে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সনজীব মৃধা। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ ইমদাদুল হাসান।
মেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ১৪টি স্টল স্থাপন করা হয়। এসব স্টলে উন্নত জাতের ফসল, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও কৃষিযন্ত্র প্রদর্শন করা হয়। মেলায় কৃষক ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
পরিশেষে জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: খায়রুল ইসলামকে সম্মাননা স্মারক দিয়ে আলোচনা সভার সমাপ্তি হয়।




গাংনীতে সেনাবাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সিন্দুরকোটা গ্রামের একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও দুটি রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

ভারত থেকে আসা এসব অস্ত্র গুলি গন্তব্যে পৌঁছুনোর আগেই তা উদ্ধার করতে সক্ষম হয় সেনাবাহিনী। আজ রবিবার ভোরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গাংনী ক্যাম্পের এক বিশেষ অভিযানে এগুলো উদ্ধার করা হয়।

সেনাবাহিনীর অভিযান সুত্রে জানা গেছে, গাংনী উপজেলার কাজিপুর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অস্ত্র ও গুলি পাচার করে এনে তা গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পাচারকারীরা অস্ত্র ও গুলি সিন্দুরকোটা গ্রামের একটি ভুট্টা ক্ষেতে ফেলে রাখে। সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা তৎপরতায় অস্ত্রের গন্তব্যে ও সম্ভাব্য অভিযান নিয়ে ছক করা হয়।

গাংনী সেনাবাহিনী ক্যাম্পের মেজর আহমেদ ফজলে রাব্বি নিলয় ও ক্যাপ্টেন মোল্লা রিফাত রায়হান পৃথক দুটি দল নিয়ে ভোরে অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় একটি ব্যাগের মধ্যে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় একটি ওয়ান সুটারগান, একটি বিদেশী পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলি গাংনী থানায় জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ আটক হয়নি।




দর্শনা সীমান্তে বিজিবির আহ্বানে অধিনায়ক পর্যায়ে বিএসএফের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও পতাকা বৈঠক

দর্শনা সীমান্তে বিজিবির আহ্বানে অধিনায়ক পর্যায়ে বিএসএফের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল শনিবার বিকাল ৪ টার দিকে চুয়াডাঙ্গা  ব্যাটালিয়ন (৬বিজিবি)এর অধীনস্থ দর্শনা আইসিপি  দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত মেইন পিলারের ৭৬ এর নিকট  বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জয়নগর মাঠ নামক স্থানে এ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জয়নগর মাঠ নামক স্থানে বিষায়োক্ত সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সাক্ষাতে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৬-বিজিবি এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ নাজমুল হাসান পদাতিক,  উপ-অধিনায়ক মেজর তোয়াসীন হাবীব হাসান ও এডি মোঃ রাজ মামুহুদ সাথে ০৬ জন এবং প্রতিপক্ষে ৩২ বিএসএফ ব্যাটেলিয়নের সীমা নগর এর কমান্ডেন্ট সুজিত কুমারের নেতৃত্বে ৬ জন বিএসএফ অংশ নেয়।

এ সৌজন্য সাক্ষাৎকারে সর্বপ্রথম উভয়পক্ষের কুশলাদি বিনিময় করেন পরবর্তীতে উক্ত সৌজন্য সাক্ষাতে উভয় দেশের সীমান্ত সুরক্ষার লক্ষ্যে অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম ও চোরাচালান প্রতিরোধ করা, সীমান্তে কোন প্রকার হত্যা জনিত ঘটনা না ঘটে, সীমান্তে টহল তৎপরতা বৃদ্ধি এবং গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং সীমান্ত এলাকায় সিভিল জনসাধারণের উপর অনাকাঙ্খিত ফায়ার না করা, এতে বিএসএফ কমান্ডার এক মত পোষণ করেন, আসন্ন নির্বাচনে যাতে কোনো প্রকার অস্ত্র ও গোলাবারুদ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য উভয় দেশে সতর্কতা থাকার জন্য অনুরোধ করেন।

পরিশেষে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ব্যাপারে আলোচনা করা হয়। অতঃপর উক্ত সৌজন্য সাক্ষাৎ সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।




চুয়াডাঙ্গা সদরের বিভিন্ন স্থানে অ্যাড. রাসেলের নির্বচনী গণসংযোগ

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল শনিবার দিনব্যাপী চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের কবিখালি, কাথুলী, মাছের দাঁড়ি ও আশপাশের গ্রামে নির্বাচনী গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গণসংযোগের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ১০ দলীয় ঐক্য মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল।

গণসংযোগকালে অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে কথা বলেন।

তিনি বলেন, “জনগণের ভোট ও ভালোবাসাই আমার শক্তি। নির্বাচিত হলে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনকে একটি দুর্নীতি মুক্ত, উন্নত ও জনবান্ধব আসনে পরিণত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।”

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন তাঁর অগ্রাধিকার থাকবে। জনগণের অধিকার রক্ষায় আপসহীন ভূমিকা পালনের অঙ্গীকারও করেন তিনি।

আরও উপস্থিত ছিলেন— ‎জামায়াতে ইসলামী সাবেক জেলা আমীর আনারুল হক মালিক, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা আমীর মোঃ বেলাল হুসাইন, সেক্রেটারী গোলাম রসুল, মোমিনপুর ইউনিয়ন আমীর মোঃ বজলুর রহমান পিন্টু, সেক্রেটারি , ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা অর্থ সম্পাদক মোঃ বায়েজিদ বোস্তামীসহ আরও অনেকে।




“ন্যায় ইনসাফ ভিত্তিক একটি মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়তে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন”

জামায়াতে ইসলামী এদেশে ন্যায় ইনসাফ ভিত্তিক একটি মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। সেজন্য দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট এবং দোয়া চাই। গাংনী উপজেলার করমদী গ্রামে গণসংযোগকালে এ আবেদন জানান, জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী নাজমুল হুদা।

গতকাল বিকালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনিত প্রার্থী নামজুল হুদা ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নির্বাচনী গণসংযোগকালে এই আবেদন জানান। এসময় গাংনী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, এনসিপির জেলা সংগঠক ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মেহেরপুর জেলা শাখার সাবেক সদস্য সচিব মোজাহিদুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নাজমুল হুদা বলেন, আমরা ন্যায় ইনসাফ ভিত্তিক একটি মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। যেখানে নারী-পুরুষ, ধনী-গরীব সবাই একসাথে বাস করতে পারেন। সাধারণ মানুষ অফিস আদালতে কোনো হয়রানি ও ঘুষ বিহীন তাঁদের সেবা পাবে। সমাজ থেকে ঘুষ দূর্নীতি ও মাদক বন্ধ হবে।

এসময় এনসিপির কেন্দ্রিয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট সাকিল আহমেদ বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে এবং ঘুষ দূর্নীতি চিরতরে উৎখাত করতে ১২ তারিখের নির্বাচনে গণতন্ত্রের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দিন। তিনি বলেন, গণভোটে হ্যাঁ মানে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব সংস্কার ও নতুন সংবিধানের পক্ষে, হ্যাঁ মানে অধিকার নিশ্চিত, হ্যাঁ মানে জুলাই শহীদদের রেখে আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন, হ্যাঁ মানে ১৯৭১, ১৯৫২ আর ১৯৪৭ এর অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।




চুয়াডাঙ্গায় মোবাইল কোর্টের অভিযানে নেশাগ্রস্ত যুবক আটক 

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার জাফরপুর মোড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মোটরসাইকেল চালানোর দায়ে এক যুবককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এসময় তার কাছ থেকে মাদকদ্রব্য গাঁজা জব্দ করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত যুবকের নাম মান্নান (১৮)। তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ঠাকুরপুর গ্রামের লাল্টুর ছেলে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার জাফরপুর মোড়ে নিয়মিত তদারকির সময় একটি মোটরসাইকেলের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে চালককে থামানো হয়। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, চালক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। তল্লাশির একপর্যায়ে তার কাছ থেকে মাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (গোপনীয় শাখা, স্থানীয় সরকার শাখা, মিডিয়া সেল) আব্দুল্লাহ আল নাঈম।

তিনি জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দোষ প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডপ্রাপ্ত মোটরসাইকেল চালককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, জননিরাপত্তায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




ডিবিসি টেলিভিশনের চুয়াডাঙ্গা ভিডিও জার্নালিস্ট সাকিব

চুয়াডাঙ্গার তরুণ গণমাধ্যমকর্মী সাকিব আল হাসান দেশের প্রথম সারির জনপ্রিয় সংবাদভিত্তিক স্যাটেলাইট টেলিভিশন ডিবিসি টেলিভিশনের চুয়াডাঙ্গা জেলা ভিডিও জার্নালিস্ট হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন।

ডিবিসি টেলিভিশনের ডাইরেক্টর অপারেশন মো. রাশেদ আহসানের স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্রে গত ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাকে এ পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়। গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে তার কর্মকাল কার্যকর হয়েছে বলে নিয়োগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

এর আগে তিনি স্যাটেলাইট টেলিভিশন নাগরিক টিভিতে ভিডিও জার্নালিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত সংবাদ পরিবেশন করে আসছেন। মাঠ পর্যায়ের সংবাদ সংগ্রহ, ভিডিও প্রতিবেদন ও অনুসন্ধানী কাজে তার দক্ষতা ইতোমধ্যে গণমাধ্যম অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে।

নিয়োগ প্রসঙ্গে সাকিব আল হাসান বলেন, “নতুন এই কর্মস্থলে নিয়োগ আমার স্বপ্নের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। নতুন কর্মস্থল, নতুন দায়িত্ব—সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে চাই। এ পথে সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।”

তার এ নিয়োগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন চুয়াডাঙ্গা জেলার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সহকর্মীরা। তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন দায়িত্বে সাকিব আল হাসান এলাকার সমস্যা, সম্ভাবনা ও মানুষের কথা তার ক্যামেরায় জাতীয় পরিসরে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

তার এ সাফল্যে চুয়াডাঙ্গা জেলার গণমাধ্যমকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তার পেশাগত জীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেছেন।




গাড়াবাড়ীয়াতে হামলার ঘটনায় মামলা, আটক ২

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের গাড়াবাড়ীয়া হলদিপাড়া গ্রামে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলার ঘটনায় ১৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই আসামি হাফিজুল ইসলাম ও সাব্বির হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন, মো. আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মো. শিহাব রেজা (৩৮), মো. বাবলু হোসেনের ছেলে মো. বাদল রানা, (৩৪), মৃত সাজদার আলীর ছেলে মো. পিতলা হোসেন (৪৫), উজুর ছেলে সাইফুল, আজাদ মিয়ার ছেলে মোঃ জুয়েল রানা, মোঃ মোস্তফার ছেলে মোঃ রাজু হোসেন, হাফিজুল ইসলাম, মোঃ কিবরিয়া, মোঃ মোস্তফা, মৃত রবকুল হোসেনের ছেলে মোঃ আব্দুল কুদ্দুস ও মোঃ বাবলু হোসেন, মোঃ সাহেব আলীর ছেলে মোঃ সাব্বির হোসেন, মোঃ জালাল উদ্দিন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার জমি সংক্রান্ত একটি দেওয়ানি মামলা বর্তমানে আদালতে চলমান রয়েছে। ওই বিরোধের জের ধরে ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ দুপুর আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটে গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়ীয়া হলদিপাড়া গ্রামে ভুক্তভোগী ভসিগাউর রহমানের (৪৭) গম ও লাউয়ের ক্ষেতে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায় আসামিরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, তারা লাঠি, লোহার রড, হাসুয়া, কাটারি দা, কাঠের বাটাম ও ট্রাক্টর নিয়ে ক্ষেতের মধ্যে ঢুকে ফসল নষ্ট করে চাষ দিতে শুরু করে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জিয়াউর রহমান, চঞ্চল, মো. জামির হোসেন ও মো. মহিরুল ইসলাম। তখন আসামি মো. শিহাব সবাইকে হত্যার নির্দেশ দেয় এবং নিজ হাতে থাকা কাটারি দা দিয়ে জিয়াউর রহমানের পেটে আঘাত করলে গুরুতর জখম হয় এবং ভুঁড়ি বেরিয়ে আসে।

এছাড়াও চঞ্চল গুরুতরভাবে আহত হন, মো. জামির হোসেনের হাতের আঙুল কেটে যায়, মো. মহিরুল ইসলামের ডান হাতের কনুইয়ের ওপরে গুরুতর আঘাত লাগে, অন্যান্যদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়।

আসামিরা আনুমানিক ১০ কাঠা জমির গম ও ১ বিঘা জমির লাউ ক্ষেত ট্রাক্টর দিয়ে চাষ দিয়ে নষ্ট করে দেয়, যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।

উল্লেখ্য, গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের গাড়াবাড়ীয়া হলদিপাড়া গ্রামে জমি দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় চারজন গুরুতর আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের মধ্যে জিয়ারুল ও চঞ্চলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।




মুজিবনগরে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশনের রোগী বাছাই ক্যাম্প

মুজিবনগরে পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ও পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় এবং অরভিস ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় ইউনিয়নের সমৃদ্ধি কর্মসূচির আওতায় ‘বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশনের রোগী বাছাই ক্যাম্প’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার সকালে বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে একটি ফ্রি চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

ক্যাম্পে মেহেরপুরের আল-মক্কা চক্ষু হাসপাতালের একদল বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসক রোগী দেখেন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মোট ১৭৮ জন রোগী পরীক্ষা করেন, যার মধ্যে ১০০ জনেরও বেশি রোগীকে ছানি অপারেশনের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়।

এই ক্যাম্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল এলাকার দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে যারা চোখের ছানি সমস্যায় ভুগছেন, তাদের শনাক্ত করে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়া। চিকিৎসকদের পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও যত্নশীল আচরণ রোগীদের মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি সৃষ্টি করে।

ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন বাগোয়ান সমৃদ্ধি ইউনিয়নের ইউনিয়ন প্রবীণ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য পরিদর্শকগণ। তাঁদের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় ক্যাম্পের কার্যক্রম সুশৃঙ্খল ও ফলপ্রসূভাবে পরিচালিত হয়।

এছাড়াও পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির উপ-নির্বাহী পরিচালক কামরুজ্জামান ও পরিচালক কামরুল আলম ক্যাম্পে উপস্থিত থেকে সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ক্যাম্পটি একটি সফল সামাজিক উদ্যোগে পরিণত হয়। এই আয়োজন প্রমাণ করে, সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যখাত ও স্থানীয় প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব। চোখের আলো ফিরিয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।