জীবননগরে আলমসাধু উল্টে দর্শনার ১৬ জন আহত, আশঙ্কাজনক ২

জীবননগরে আলমসাধু উল্টে দর্শনার ১৬ জন আহত, আশঙ্কাজনক

দর্শনা অফি

জীবননগর উপজেলার উথলিতে শিয়ালের সঙ্গে ধাক্কা লেগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি আলমসাধু উল্টে গিয়ে ১৬ জন নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। আহতরা সবাই দর্শনা রামনগর বাগদী পাড়ার বাসিন্দা।

গতকাল রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, তারা বিভিন্ন হাটবাজারে ঝুড়ি-ঝাপি বিক্রি শেষে আলমসাধু যোগে বাড়ি ফিরছিলেন। উথলি মোড় পার হওয়ার পর হঠাৎ একটি শিয়াল সামনে চলে এলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে গাড়িতে থাকা নারী-পুরুষরা ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়।

ওই এলাকায় নিকটবর্তী কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় আহতদের আলমসাধু যোগেই দর্শনা পুরাতন বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্থানীয় চিকিৎসক মোস্তফা ডাক্তারের ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন ১৪ জন। বাকি দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে।




আলমডাঙ্গায় আগুনে পুড়ে  ৪ বিঘা পানের বরজ ভস্মীভূত

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫ জন কৃষকের প্রায় ১৩০ শতাংশ জমির পানের বরজ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গতকাল রবিবার আনুমানিক দুপুর ২:৩০ মিনিটের দিকে ডাউকি গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় জান্নাতুল বাকি কবরস্থানের পাশে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডাউকি গ্রামের পশ্চিম পাড়ার পানচাষি মিথুন আলি, রিপন আলি, টিপু সুলতান, মোতালেব হোসেন ও আহম্মদ আলির সম্মিলিত প্রায় চার বিঘা জমির পানের বরজ ছিল। গতকাল দুপুরে হঠাৎ করেই একটি বরজে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই শুকনো পানের বরজগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, পানের বরজে সেচ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক মোটরের তারের শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুনের উৎপত্তি।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের একটি দল। আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুপুর আনুমানিক ২:৪০ মিনিটে তারা আগুনের খবর পান এবং তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের প্রায় এক ঘণ্টার আপ্রাণ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে পাঁচটি বরজই ভস্মীভূত হয়ে যায়। প্রাথমিক তদন্ত শেষে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, এই অগ্নিকাণ্ডে চাষিদের আনুমানিক ৪ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে ডাউকি গ্রামের মেম্বর বাদসা বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা। স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব হয়নি। এই বিশাল ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে এবং পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা এখন প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন।




আলমডাঙ্গায় বীর মুক্তিযোদ্ধা উম্মাদ আলির রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

আলমডাঙ্গা মুন্সিগঞ্জের বীরমুক্তিযোদ্ধা উম্মাদ আলির রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

 আলমডাঙ্গা মুন্সিগঞ্জের খুদিয়াখালী গ্রামের মৃত খোকাই জোয়ার্দ্দারের ছোট ছেলে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বীর মুক্তিযোদ্ধা উম্বাদ আলী জোয়ার্দ্দার (৮০) ইন্তেকাল করেছেন। গত শুক্রবার রাত ৮ টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরন করেন।

গতকাল রবিবার দুপুর ১২ টার দিকে রাষ্টিয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি এস এম শাহনেওয়াজ মেহেদী।আরও উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ বানি ইসরাইল ও চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনের একটি চৌকস পুলিশ দল।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাব উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নবাব আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শমসের মল্লিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবেদ আলী,বীর মুক্তিযোদ্ধা শফি উদ্দিন,বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস, সহ বিভিন্ন মুক্তি যোদ্ধা,স্থানীয় সুধীজন। মরহুমের লাশের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে মুন্সিগঞ্জ পশুহাটস্থ তেল পাম্পের পিছনের চাতালে।জানাজা শেষে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে,বীর মুক্তি যোদ্ধা উম্বাদ আলী বিশিষ্ট ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. একরামুল হক জোয়ার্দ্দার ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এনামুল হক জোয়ার্দ্দারের পিতা,তারা তার পিতার জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।




কোটচাঁদপুরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ, চাষির ১৮ লাখ টাকার ক্ষতি

কোটচাঁদপুরে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ মারার অভিযোগ উঠেছে।গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ধোপাবিলা গ্রামের ‘রুমি মৎস্য হ্যাচারীতে।

এতে করে ১৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মাছ চাষি রমজান আলী বিশ্বাস। এ ব্যাপারে গত শনিবার রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই চাষি।

জানা যায়,কোটচাঁদপুর উপজেলার ধোপাবিলা গ্রামের মাছ চাষি রমজান আলী বিশ্বাস (৫৬)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাছ চাষ করে আসছে। ২০ বছর আগে সে ১৫০ বিঘা জমি দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। যার মধ্যে তাঁর নিজস্ব জমি ৩০ বিঘা। বাকি ১২০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে চাষ করেন। বর্তমানে তিনি ওই এলাকায় ২৫০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ করেন। আর এ মাছ চাষ ঘিরে তিনি গড়ে তুলেছেন রুমি মৎস্য হ্যাচারী। শুক্রবার দুপুরে ওই হ্যাচারি সংলগ্ন ১০ বিঘা একটি পুকুরে বিষ দেন দূর্বৃত্তরা। এতে করে ১৮ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী চাষি।

তিনি বলেন, দুপুর তখন ২টা বাজে। খবর পেয়ে পুকুরে গিয়ে দেখতে পায় পুকুরে মাছ মরে ভেসে আছে।

তিনি বলেন,রেনু পোনার চাষ করতে হলে, কিছু মাছ পুকুরে মজুদ করে রাখতে হয়। আর সেই মাছ বড় করে, তা থেকে ডিম নিয়ে রেনু মাছ হয়ে থাকে। এটি ছিল আমার মজুত করা সেই পুকুর। এ পুকুরে আমার অনেক মাছ মজুদ ছিল। যা দূর্বৃত্তরা বিষ দিয়ে মেরে দিয়েছেন। যার মধ্যে ছিল রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এতে করে প্রায় ১৭/১৮ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। শনিবার রাতে ঘটনাটি নিয়ে কোটচাঁদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন চাষি রমজান আলী বিশ্বাস। চেয়েছেন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দীন ইসলাম বলেন,এটা ফৌজদারি ঘটনা। এখানে আমাদের কিছু করার নাই। ওনি থানার সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করলে ভাল হয়।

কোটচাঁদপুর থানার উপপরিদর্শক (এস আই) আব্দুর রহিম বলেন,অভিযোগ হাতে পেয়েছি। তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।




মেহেরপুর ক্লিনিক এর অপারেশন টেবিলে রোগীর মৃত্যু

মেহেরপুর ক্লিনিক এ জরায়ু টিউমার অপারেশ করতে গিয়ে নাসিমা খাতুন (৬০) এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নাসিমা খাতুনের স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে ক্লিনিকে হামলা চালিয়ে ক্লিনিক মালিক ডা. মিজানুর রহমান ও তাঁর ছেলে এনেসথেসিস্ট ডা. অভিকে বেদম মারধর করেছে। এর মধ্যে এনেসথেসিস্ট ডা. অভিকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার রাত ৯টার দিকে ক্লিনিকের অপারেশন টেবিলেই রোগীর মৃত্যু হয়। নিহত নাসিমা খাতুন গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের আব্দুল মজিদের স্ত্রী।

জানা গেছে, গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের আব্দুল মজিদের স্ত্রী নাসিমা খাতুনের জরায়ু টিউমারের অপারেশ করার জন্য মেহেরপুর ক্লিনিকের মালিক ডা. মিজানুর রহমানের সাথে ২৫ হাজার টাকায় চুক্তি করে তার ছেলে নাজমুল হুদা। চুক্তি মোতাবেক তার মাকে বিকালে মেহেরপুর ক্লিনিকে ভর্তি করে। ডাক্তারের কথা মত দুই ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করে দেয় এবং অগ্রিম ৬ হাজার টাকা প্রদান করে। রাত ৮টার দিকে নাসিমা খাতুনকে অপারেশন থিয়েটারে নেয় ক্লিনিকের স্টাফরা। সেখানে ডা. মিজানুর রহমান অপারেশ করেন এবং তাঁর ছেলে এনেসথেসিস্ট ডা. অভি সহযোগী হিসেবে ছিলেন। এর কিছুক্ষণ পর অপারেশ টেবিলেই রোগী মারা যায়। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে চিকিৎসকের উপর হামলা চালায় । এতে এনেসথেসিস্ট ডা. অভি গুরতর আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে রোগীর লোকজন গ্রাম থেকে গিয়ে পুনরায় ক্লিনিকে হামলা চালানোর চেষ্টা করে। তাৎক্ষণিক সেনাবাহিনীর একটি টিম গিয়ে বিক্ষুব্ধদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এদিকে খবর মেহেরপুরের সাবেক এমপি মাসুদ অরুন, বিএনপি নেতা অ্যাড. মারুফ আহমেদ বিজন ঘটনাস্থলে পৌছে রোগীর লোকজনকে শান্ত করেন।

নাসিমা খাতুনের ছেলে নাজমুল হুদা জানান, তার মায়ের জরায়ু টিউমারের অপারেশ করার জন্য রাত ৮টার দিকে অপারেশন থিয়েটারের নেন ক্লিনিকের লোকজন। কিছুক্ষণ পর, আমার মা আমাকে ছেড়ে দেন ছেড়ে দেন বলে চিৎকার করতে থাকে। তাও তারা আমার মাকে ছাড়ে না। তার কিছুক্ষণ পরে জানায় রোগী মারা গেছে।

নাজমুল অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মাকে ওই মিজান ডাক্তার মেরে ফেললো, আমি এখন কাকে নিয়ে থাকবো।’

মেহেরপুর সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা লাশ উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়েছি। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানাবেন কি কারণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। যদি চিকিৎসার অবহেলা বা ক্রটি পাওয়া যায় তবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




দামুড়হুদায় অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি উত্তোলন, দুইজনের কারাদণ্ড

দামুড়হুদায় মাটি উত্তোলনের দায়ে দুইজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই মাস করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। রবিবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উবায়দুর রহমান সোহেল।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার তারিণীপুর মাঠে ব্যক্তিমালিকানাধীন ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের অভিযোগে দুইজনকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তারিণীপুর মাঠে ভেকু দিয়ে বিনা অনুমতিতে মাটি উত্তোলন করে ট্রাক্টরের মাধ্যমে পরিবহনকালে স্থানীয়দের সহায়তায় হাতেনাতে আটক করা হয় অভিযুক্তদের।

আটক ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের জয়রামপুর গাতিরপাড়ার শহীদুল ইসলামের ছেলে শামীম ইসলাম (২০) এবং তারিণীপুর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে খালিদ হোসেন (২৫)।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০২৩)-এর সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ১৫(১) ধারা অনুযায়ী প্রত্যেককে দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। আটক ট্রাক্টরটি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্তদের গতকালই চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধ মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।




ঝিনাইদহে যাত্রীবেসে ব্যাটারি চালিত ভ্যান ছিনতাই

ঝিনাইদহে যাত্রীবেসে ব্যাটারি চালিত ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার সকালে ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারিপাড়ায় আব্বাস মিয়ার বাড়ির সামনে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মামুনশিয়া গ্রামের তরুন মিয়ার কিশোর পুত্র সোহান তার বাবার ভ্যান নিয়ে সকালে ডাকবাংলা বাজারে যায়। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ডাকবাংলা ভ্যান ষ্ট্যান্ড থেকে এক ব্যক্তি ঝিনাইদহ শহর থেকে ওষুধের কার্টুন নিয়ে আসার কথা বলে ৬০০ টাকায় ভাড়া ঠিক করে ঝিনাইদহ শহরের দিকে রওনা দেন।

ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের পাশে যোগ হয় আরে ব্যক্তি। তারা দুজন মিলে ব্যাপারি পাড়ায় আব্বাস মিয়ার বাড়ির পাশের একটি গলিতে নিয়ে গিয়ে সোহানকে মারধর করে ভ্যানটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। ভ্যানটির মূল্য ৯৫ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ঘটনায় পরিবারটির একমাত্র সম্বল হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে বলে দ্রুত উদ্ধারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দাবি জানিয়েছে পরিবারটি।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তকর্তা (ওসি) মোঃ সামসুল আরেফিন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চোরদের শনাক্ত করা চেষ্টা করা হচ্ছে।




৩০ বছর আগে পুলিশের গুলিতে নিহত আলতামতির সন্তানদের খোঁজ রাখেনা কেউ !

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রয়ারী ৬ষ্ট জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভাতুড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র থেকে পুলিশের গুলিতে রেহেনা আক্তার আলতামতি নিহত হয়। তিনি ছিলেন একজন সদালাপী, ধর্মভিরু গৃহবধু।

৫বছরের ছেলেকে খুজতে গিয়ে গুলিতে পুলিশের গুলিতে বুক ঝাজরা করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন তিনি। মৃত্যুর ৩০ বছর পার হয়ে গেলেও এখনো তার পরিবার বিচার পায়নি। এতিম দুই সন্তান রিপন ও শিপনকে কেউ পুর্নবাসিত করতে এগিয়েও আসেনি। খুবই দুঃখ কষ্টের মধ্যে চলছে তাদের সংসার।

তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভাতুড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী পুলিশের গুলিতে নিহত হন আলতামতি। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান বিশ্বাসের মেয়ে। এতিম দুই শিশুকে মানুষ করতে ১৯৯৮ সালের দিকে তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী কিছু আর্থিক অনুদান দেন।

তারপর দীর্ঘ দিন পার হয়ে গেলেও আর কেউ খোঁজ খবর নেয়নি। ইতি মধ্যে দীর্ঘ ৩০বছর পার হয়ে গেছে। আলতামতির দুই সন্তান এখন অনেক বড় হয়েছে। তারা বেশি লেখাপড়াও শিখতে পারেনি। এখন তারা পরের দোকানে কাজ করে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে সংসার চালায়। আলতামতির মৃত্যুর সময় বড় ছেলে রিপনের বয়স ছিল সাড়ে ৪ বছর আর ছোট ছেলে শিপনের বয়স ৩ মাস।

রিপনের বয়স এখন ৩৫ বছর। কিন্তু মেলেনি কোন সরকারী চাকরী বা সহযোগীতা আর ২৯ বছর বয়সী শিপন আলী এইচএসসি পাশ করার পর অর্থাভাবে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি এখন অন্যের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে কাজ করে সংসার চালায়।

আলতামতির বড় ছেলে রিপন জানান, তার মা মারা যাওয়ার পরে ২/৩ বছর যাবৎ মামাদের উদ্যোগে আমার মায়ের মৃত্যু বার্ষিকী পালন করতেন। এখন আর কেউ পালন করে না। তিনি আরো জানান দীর্ঘ সময় অতিবাহীত হলেও সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা আমরা পায়নি।

আলতামতির দুই সন্তান ও স্বজনরা তাদের সরকারী সহায়তাসহ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।




মেহেরপুরে জামানত হারিয়েছেন ৩ প্রার্থী

মেহেরপুরের দুটি আসনের জাতীয় পার্টির ২ জন ও সিপিবির এক প্রার্থীসহ ৩ জন জামানত হারিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, ‘কোনো সংসদীয় আসনে সংগৃহীত বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা কমপক্ষে সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট অর্জন করতে না পারলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সে অনুযায়ী প্রাপ্ত ফলাফলে এসব প্রার্থী নির্ধারিত সীমার নিচে ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত হারিয়েছেন।’

মেহেরপুর-১ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪১৯টি। এ আসনের জাতীয় পার্টির প্রাথী আব্দুল হামিদ ও সিপিবি প্রার্থী অ্যাড. মিজানুর রহমান জামানত হারিয়েছেন। আব্দুল হামিদ লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৩৯০ ভোট এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী অ্যাড. মিজানুর রহমান কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন ৭৮১ ভোট। যা বৈধ ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশের কম।

মেহেরপুর-২ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১১৯টি। এ আসেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল বাকি জামানত হারিয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ১৮২৫। যা মোট বৈধ ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশের কম।

মেহেরপুর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা করে জামানত জমা দিতে হয়। কোনো প্রার্থী মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট না পেলে সেই জামানত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয়।




দামুড়হুদায় প্রকৃতিকে রাঙিয়ে তোলা বসন্তের রুপকন্যা শিমুল বিলুপ্তপ্রায়

গাছে গাছে সবুজ পাতা, মুকুল আর ফুল আর কোকিলের ডাক মনে করিয়ে দেয় বসন্তের আগমনি বার্তা। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে আবহমান গ্রামবাংলার প্রকৃতিকে রাঙিয়ে অনেক ফুল ফুটলেও এখন আর তেমন চোখে পড়ে না রক্তলাল নয়নাভিরাম শিমুল ফুল।

কিন্তু কালের বিবর্তনে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার আগুন ঝরা ফাগুনে চোখ ধাঁধানো গাঢ় লাল রঙের অপরূপ সাজে সজ্জিত শিমুল গাছ এখন বিলুপ্তপ্রায়।

এক-দেড় যুগ আগেও দামুড়হুদা উপজেলা বিভিন্ন গ্রামের অধিকাংশ বাড়ির আনাচে কানাচে আর রাস্তার পাশে অনেক শিমুল গাছ দেখা যেত। প্রতিটি গাছে গাছে প্রস্ফুটিত শিমুল ফুলই স্মরণ করিয়ে দিত বসন্তের আগমনী বার্তা। বসন্ত আগমনের এক সঙ্গে প্রকৃতি প্রতিটি গাছেই আসতে শুরু করেছে নতুন পাতা। ইতি মধ্যেই কোকিলের সুমিষ্ট কুহুতালে ফাগুনের উত্তাল বাসন্তী হাওয়া দিচ্ছে দোলা। মুকুল আর শিমুল ফুল দেখে বোঝা যায় শীত বিদায় নিয়ে আসছে ফাগুন। শিমুল গাছের শাখাগুলো বসন্তের আগমনে লাল শাড়ির ঘোমটা পরা গ্রাম্য নববধূর সাজে সজ্জিত হতে দেখা যায়, যা দর্শনে হতাশ প্রেমিকের মনেও জাগিয়ে তোলে আশা।

অন্যান্য গাছের তুলনায় শিমুল গাছ অনেক উঁচু হওয়ায় বহু দূর থেকে এ মনোরম দৃশ্য চোখে পড়ে। কেবল সৌন্দর্যই বিলায় না, শিমুল গাছের রয়েছে নানা উপকারিতা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব।

প্রাকৃতিকভাবে তুলা আহরণের অন্যতম অবলম্বন শিমুল গাছ। এ গাছের সব অংশেরই রয়েছে ভেষজ গুণ। গ্রামে শিমূল গাছ ঔষধি গাছ হিসেবেও পরিচিত। গ্রামাঞ্চলের মানুষ বিষ ফোড়া, আখের গুড় তৈরিতে শিমুলের রস ও কোষ্ঠ কাঠিণ্য নিরাময়ে গাছের মূলকে ব্যবহার করতো।

শিমুল গাছ ৯০ থেকে ১০০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয় এবং বেশ মোটাও হয়। নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে শিমুল গাছ দেড় শ’ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। শীতের শেষে পাতা ঝরে পড়ে। বসন্তের শুরুতেই গাছে ফুল ফোটে। আর এ ফুল থেকেই হয় ফল।

চৈত্র মাসের শেষের দিকে ফল পুষ্ট হয়। বৈশাখ মাসের দিকে ফলগুলো পেকে শুকিয়ে গিয়ে বাতাসে আপনা আপনিই ফল ফেটে প্রাকৃতিকভাবে তুলার সঙ্গে উড়ে উড়ে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়া বীজ থেকেই এর জন্ম হয়। বালিশ, লেপ ও তোশক তৈরিতে শিমুল তুলার জুড়ি নেই। অথচ বর্তমানে মানুষ এ গাছকে তুচ্ছ মনে করে কারণে অকারণে কেটে ফেলছে।

ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হলেও সেই তুলনায় রোপণ করা হয়নি। ফলে আজ বিলুপ্তির পথে গাছটি। শিমুল গাছ উজাড় হওয়ার ফলে পরিবেশের ওপরে পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। গাছটি নিধনের জন্য একমাত্র ইটভাটাই দায়ী। এ গাছ অনেক উঁচু হওয়ায় কাক, কোকিল, চিল, বকসহ বিভিন্ন ধরনের পাখি বাসা বেঁধে বসবাস করত। এ গাছ উজাড় হওয়ার ফলে এসব পাখিরা আবাসস্থল হারিয়ে পড়েছে অস্তিত্ব সঙ্কটে। গাছ না থাকায় আবাসস্থলের অভাবে ধীরে ধীরে এসব পাখিরাও হারিয়ে যাচ্ছে।
গ্রামে শিমূল গাছ ঔষধি গাছ হিসেবেও পরিচিত। কিন্তু কালের বিবর্তনে আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় তেমন চোখে পড়ে না শিমুল গাছ। প্রতিনিয়ত বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে শিমুল গাছ। যার কারনে গ্রাম বাংলার বুক থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে, অতি চিরচেনা শিমূল গাছ।