ঝিনাইদহে ব্যাংকের ভেতর থেকে ব্যবসায়ীর টাকা চুরি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সোনালী ব্যাংকের ভেতর থেকে অভিনব কৌশলে এক ব্যবসায়ীর নগদ টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই ব্যবসায়ী।

গতকাল বুধবার দুপুরে সোনালী ব্যাংকের কালীগঞ্জ শাখায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কালীগঞ্জ শহরের চাপালী কুটিপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বুধবার দুপুরে কালীগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখা-২ থেকে ৪ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। টাকা উত্তোলনের পর তিনি ক্যাশ কাউন্টারের পাশে দাঁড়িয়ে টাকা গণনার সময় বাকী টাকা একটি ছোট হ্যান্ড ব্যাগে রাখেন। কিছু সময় পর তিনি দেখতে পান, তার ব্যাগটি কাটা এবং ব্যাগের ভেতরে রাখা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেই। পরে ব্যাংকের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, অজ্ঞাত পরিচয়ের তিন ব্যক্তি কৌশলে তার পাশে অবস্থান করে ব্যাগের ওপর একটি ফাইল রেখে ব্যাগ কেটে টাকা চুরি করে নিয়ে চলে যায়।

ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, ‘অনেক খোঁজাখুঁজি করে চোর কিংবা টাকা উদ্ধার করতে পারিনি। পরে আইনি সহায়তা পেতে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চোর শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’




আলমডাঙ্গায় মকিম-হাজেরা শিক্ষা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠিত

আলমডাঙ্গায় মকিম–হাজেরা শিক্ষা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে এক শিক্ষার্থীকে ২৪ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।গতকাল ৭ জানুয়ারি আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের শিক্ষক কমনরুমে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে সুতাইল

গ্রামের মেয়ে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ৩ মাসের মোট ২৪ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

বৃত্তি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র সাংবাদিক ও সাহিত্যিক হামিদুল ইসলাম আজম, আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের সিনিয়র প্রভাসক ড. মো মাহবুব আলম এবং সমাজসেবক হাবিবুল করিম চঞ্চল।

উল্লেখ্য অসচ্ছল ও লেখাপড়ায় আগ্রহী বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ শিক্ষা ব্যয়ভার বহনের লক্ষ্যে আমেরিকার পেনসিলভানিয়ার চেনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিয়াশি বছর বয়সে অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. মোনায়েম চৌধুরী, তাঁর প্রয়াত পিতা-মাতা মীর আব্দুল মকিম চৌধুরী এবং বেগম হাজেরা খাতুনের স্মৃতির উদ্দেশ্যে “মকিম–হাজেরা শিক্ষা বৃত্তি” পুনরায় চালু করেছেন।

ড. চৌধুরী বিশ্বাস বলেন, অসচ্ছলতা ও প্রতিকূল পরিবেশ সফলতার বড় অন্তরায়। তাই তিনি এই বৃত্তি প্রদানে আর্থিকভাবে অসচ্ছল, এতিম, অসহায় ও নারী শিক্ষার্থীদের বিশেষ প্রাধান্য দিচ্ছেন। আগামী সপ্তাহের প্রথম দিন স্কুল-কলেজ পড়ুয়ার সকল বৃত্তিপ্রাপ্তদের স্কুল ভর্তি, মাসিক বেতন (পুরো বছরের একসাথে), প্রাইভেট টিউশন ফি, পরীক্ষার ফিস ও বই কেনা টাকা বৃত্তি হিসেবে প্রদান করা হবে (২য় ফেজ) বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।




আলমডাঙ্গা হারদী মীর শামসুজ্জোহা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের বিদায় সংবর্ধনা

আলমডাঙ্গা হারদী মীর শামসুজ্জোহা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ফোরামের উদ্যোগে এ বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলমডাঙ্গা হারদী মীর শামসুজ্জোহা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. আলিমুজ্জামান।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নিয়ামত আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক।

সহকারী অধ্যাপক একেএম ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক মোছা. জেসমিন আরা, সহকারী অধ্যাপিকা হোসনে আরাসহ অন্যান্যরা।

অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। সম্মাননা প্রাপ্ত বিদায়ী শিক্ষকরা হলেন, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সালাহউদ্দিন, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আবদুল কুদ্দুস, পদার্থবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপিকা হোসনে আরা এবং বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপিকা মোছা. জেসমিন আরা।




আলমডাঙ্গা ভাংবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাচনী কমিটি গঠন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ উপলক্ষ্যে ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে নির্বাচনী পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা–১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফের নির্বাচনী কার্যক্রমকে সুসংগঠিত ও গতিশীল করতে ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে নির্বাচনী পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবার বিকালে আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের ভাংবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি টিপু সুলতান।

অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সানোয়ার হোসেন লাড্ডু। তিনি তার বক্তব্যে বলেন—“দেশের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তৃণমূলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে হবে। জনগণের ভালোবাসাই হবে আমাদের শক্তি।”

বিশেষ অতিথি উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সভাপতি বোরহান উদ্দিন বলেন—“বিএনপি কখনো আন্দোলনের মাঠ থেকে পালিয়ে যায়নি। কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”এছাড়াও বিশেষ অতিথি ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপি নেতা আব্দুল মজিত।

চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সাজিবুল হক রাজন–এর সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতাউল হুদা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাহিবুল ইসলাম সন্টু, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মিরা, সহ-সভাপতি মজিরুল ইসলাম বিজু ও এখলাচুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান রাজা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তহিবুল হুদা তুহিন ও মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মাবুদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত হোসেন, সাইফুল হুদা সোহেল, সাবেক যুবদল সভাপতি শহিদুল ইসলাম ঝন্টু, মুর্শিদ কলিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
কমিটি ঘোষণা

সভা শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সর্বসম্মতিক্রমে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়ন নির্বাচনী পরিচালনা কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির নেতৃবৃন্দ ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।




মুজিবনগরে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার সিরাজুল ইসলামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

আজ বুধবার বিকেলে ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রামনগর গ্রামে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ওয়ার্ড কার্যালয়ে এ কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রায় ১৫০ জন দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করা হয়।

কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম মোল্লা, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রশিদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি আজিমুদ্দিন গাজী, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আরমান আলী, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সোহাগ, রমজান আলী, ইসরাফিল গাজীসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বিতরণ শেষে ৮ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার সিরাজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তেমন কোনো বরাদ্দ পাননি। তবে প্রতি বছরই নিজ উদ্যোগে শীত মৌসুমে তার ওয়ার্ডের গরিব ও দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, সামর্থ্য থাকলে ভবিষ্যতেও এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।




অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে ঝিনাইদহের ২১ প্রত্নতত্ত স্থাপনা; দাবি সংরক্ষণের

ইতিহাস শুধু অতিতের কথা বলে না এটি কোন বিষয় বা জনপদের আত্মপরিচয় তুলে ধরে। সময়ের পরিক্রমায় কালের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঝিনাইদহের শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহাসিক ও হেরিটেজ স্থাপনাগুলো আজ চরম অযত্ন ও অবহেলার শিকার।

যথাযথ সংরক্ষণ ও তদারকির অভাবে জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মৃতি বহনকারী জেলার ৬ উপজেলায় ছড়িয়ে থাকা ২১টি হেরিটেজ স্থাপনাই এখন অস্তিত্ব সংকটে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকরি উদ্যোগ না নিলে অমূল্য এসব স্থাপনাশৈলী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে খুঁজতে হবে কেবল ইতিহাসের পাতায়।

নীলকুঠি থেকে রাজবাড়ি-সবখানেই অবহেলার ছাপ জেলার মহেশপুর উপজেলার খালিশপুরে অবস্থিত ১৯ শতকে নির্মিত প্রাচীন নীলকুঠি ভবনটি এক সময় ঔপনিবেশিক শাসনামলের সাক্ষী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন ছিল। ২০১২ সালের ১৪ জুন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের গেজেটে তালিকাভুক্ত হলেও বাস্তবে ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণে নেই কার্যকর কোনো উদ্যোগ। চুন-সুড়কি,ইট ও টালির তৈরি এই স্থাপনাটির ছাদ দিয়ে চুইয়ে পড়ে বৃষ্টির পানি,দেয়ালে ধরেছে শ্যাওলা ও বড় বড় ফাটল। অযত্নে পড়ে থাকায় ভবনের ভেতরে এখন সাপ,ব্যাঙ,শেয়াল ও কুকুরের অবাধ বিচরণ।

এটি শুধু একটি স্থাপনার চিত্র নয়। জেলার মিয়ার দালান,শৈলকুপার ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ,নলডাঙ্গা রাজবাড়ি ও মন্দির, বারোবাজারের ঐতিহাসিক বার আওলিয়ার মসজিদ,কৃষক আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্র ও গণিতবীদ কেপি বসুর বসতভিটাসহ জেলার তালিকাভুক্ত ২১টি হেরিটেজ স্থাপনার অধিকাংশই আজ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মৃত্যুপথযাত্রী।

ঐতিহাসিক ২১টি স্থাপনার অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ-প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,জেলার ৬টি উপজেলায় এখন পর্যন্ত মোট ২১টি ঐতিহাসিক ও প্রত্নসম্পদসমৃদ্ধ স্থাপনা হেরিটেজ তালিকাভুক্ত রয়েছে। কাগজে-কলমে এসব স্থাপনা রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষিত হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে,অধিকাংশ স্থাপনাই নেই কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ ও সুরক্ষার আওতায়। গেজেটভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও বাস্তব সংরক্ষণ কার্যত অনুপস্থিত।

শতবর্ষী এসব স্থাপনার অনেকগুলোই আজ সময়ের সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছে। নিয়মিত সংস্কার,নিরাপত্তা বেষ্টনী,সাইনবোর্ড কিংবা পর্যবেক্ষক না থাকায় অনেক স্থাপনাই ধীরে ধীরে বিলীন হওয়ার পথে।

বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহলের দাবি:তারা বলছেন,শুধু গেজেট প্রকাশ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো রক্ষায় প্রয়োজন নিয়মিত জরিপ ও তদারকি, দ্রুত সংস্কার পরিকল্পনা,পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা। তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে ঝিনাইদহ তার মূল্যবান অতীত ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হারাতে পারে। এসব হেরিটেজ স্থাপনা শুধু অতীতের নিদর্শন নয়-এগুলো স্থানীয় পরিচয়,ইতিহাস ও সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ অবহেলা আর তদারকির অভাবে সেগুলো আজ নিঃশব্দে ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে তালিকাভুক্ত এ ২১টি স্থাপনাই ভবিষ্যতে কেবল নথির পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে-বাস্তবে থাকবে না কোনো চিহ্ন। এখনই যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়,তবে ঝিনাইদহের ইতিহাস-ঐতিহ্যের অমূল্য নিদর্শনগুলো অচিরেই হারিয়ে যাবে কালের গহ্বরে-থেকে যাবে শুধু স্মৃতি আর আফসোস।

স্থানীয়দের ক্ষোভ ও হতাশা: মহেশপুর উপজেলার রাসেল আহমেদ বলেন,‘তালিকাভুক্তির পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি কার্যত থেমে যায়। কোনো কোনো স্থাপনা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে থাকায় সংরক্ষণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আবার কোথাও স্থানীয় প্রশাসন,প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও ভূমি অফিসের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম শুরুই হয়নি।’

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, কেপিবসুর বসত ভিটা রক্ষাণাবেক্ষনের প্রশাসনের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য তেমন কোন ব্যবস্থা অদ্যবধি গ্রহণ করা হয়নি। এটি দর্শনীয় স্থান হওয়া সত্বেও রক্ষাণাবেক্ষনের অভাবে দিন দিন এটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ওলিয়ার রহমান বলেন, বারোবাজারের ঐতিহাসিক মসজিদগুলো প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোন তদারকি না করাই সেগুলো দিনদিন ধ্বংসের দারপ্রান্তে চলে যাচ্ছে। সময় থাকতে প্রশাসন দৃষ্টি না দিলে পর্যায়ক্রমে ইতিহাস ঐতিহ্য থেকে হারিয়ে যাবে।

শৈলকুপার ইলা মিত্র স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সদস্য সচিব সুজন বিপ্লব বলেন,‘ইতিহাসের সাক্ষী এসব স্থাপনা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার,নিয়মিত তদারকি ও জনসম্পৃক্ততা প্রয়োজন। শুধু গেজেটভুক্ত করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। না হলে অযত্নে এগুলো একদিন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।”

রক্ষণা-বেক্ষন নিয়ে প্রশাসনের বক্তব্য;ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনেআরা বলেন, সদর উপজেলার হরিশংকরপুরে অবস্থিত কেপিবসুর বসত ভিটা রক্ষাণাবেক্ষনের জন্য ইতি মধ্যে জেলা পরিষদের কাছে একটি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। আশা করি প্রকল্পটি পাস হলেই বাইন্ডারি প্রাচিরসহ বিল্ডিং মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। কযেকটি স্থান পরিদর্শন করেছি। পরবর্তীতে সেগুলো প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্কার করা হবে।

শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাফুজুর রহমান বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। আমি শুনেছি কৃষক আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্রের বসতবাড়ি আছে। সেটি সময় করে পরিদর্শন করবো। যদি সংস্কার করার প্রয়োজন হয় করবো।

মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, উপজেলার খালিশপুরে অবস্থিত নীলকুঠি ভবনটি এক সময় ঔপনিবেশিক শাসনামলের সাক্ষী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসাবে দাড়িয়ে আছে। এটি বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানটি দর্শনীয় স্থান হিসাবে গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন,‘হেরিটেজ স্থাপনাগুলো সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ধাপে ধাপে সংস্কার ও তদারকির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’




মেহেরপুরের ফররুখ আহমেদের ‘লং সার্ভিস ডেকোরেশন’ অর্জন

মেহেরপুর জেলা রোভার স্কাউটের ডিস্ট্রিক্ট রোভার স্কাউট লিডার (ডিআরএসএল) ও মেহেরপুর পৌর ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ফররুখ আহমেদ (উডব্যাজার) বাংলাদেশ স্কাউট কর্তৃক জাতীয় পর্যায়ে সম্মানসূচক ‘লং সার্ভিস ডেকোরেশন’ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন।

দীর্ঘদিন স্কাউট আন্দোলনে নিষ্ঠা, ত্যাগ ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এর আগেও ফররুখ আহমেদ বাংলাদেশ স্কাউট কর্তৃক সম্মানসূচক ‘মেডেল অব মেরিট’ লাভ করেন। পাশাপাশি তিনি খুলনা বিভাগের শ্রেষ্ঠ রোভার সম্পাদক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।

ফররুখ আহমেদ একজন অ্যাডাল্ট লিডার হিসেবে প্রায় ২৩ বছর ধরে স্কাউট আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। তিনি জেলা রোভার স্কাউটের সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি রোভার স্কাউটের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার এই সম্মাননা অর্জনে স্কাউট মেহেরপুর প্রতিদিন তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।




চুয়াডাঙ্গায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত, তাপমাত্রা নেমেছে ৬.৯ ডিগ্রিতে

পৌষের শেষভাগে কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে চুয়াডাঙ্গার জনজীবন। জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ঘন কুয়াশা পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তুলেছে। কুয়াশার ফোঁটা বৃষ্টির মতো ঝরছে, ফলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৭ জানুয়ারি) জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। এর আগের দিন মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

টানা তিন দিন সূর্যের দেখা না মিললেও বুধবার কিছুটা রোদের দেখা মিলেছে। তবে উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিম বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

খুব প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষজন।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, দিনে ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কম থাকায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। তিনি আরো জানান, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরো কমতে পারে।

এদিকে জেলার চারটি উপজেলায় শীতার্ত মানুষের মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নগদ অর্থের বরাদ্দও পাওয়া গেছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় এই সহায়তা খুবই অপ্রতুল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত শীতবস্ত্র চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ইতিমধ্যে পত্র পাঠানো হয়েছে।

সূত্র: কালের কন্ঠ ।




মুজিবনগরে অপহরণের ৮ ঘণ্টা পর কলেজছাত্র উদ্ধার, পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর এলাকা থেকে অপহরণের ৮ ঘণ্টা পর মাহিদ হোসেন নামের এক কলেজ ছাত্রকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ সময় অভিযানে বাধা দিতে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে অপহরণকারীরা। তবে তারা পালিয়ে যায়।

অপহৃত মাহিদ হোসেন মুজিবনগর উপজেলার মহাজনপুর ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামের চাকরিজীবী আমির উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ জানায়, অপহরণের পর মাহিদের পরিবারের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খানের নেতৃত্বে মুজিবনগর থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)সহ পুলিশের একাধিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালায়। রাত ২টার দিকে টেংরামারী গ্রামের একটি মাঠ থেকে চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় মাহিদকে উদ্ধার করা হয়।

এ সময় অপহরণকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে দুটি শক্তিশালী ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশকে দেখে তারা মাহিদকে ফেলে পালিয়ে যায়।

পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন, অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। অপহৃতের মামার মুঠোফোনে মুক্তিপণ নিয়ে কথোপকথনের সূত্র ধরে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। অপহৃতকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। অপহরণকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার রাতে মাহিদ হোসেন তার দুই বন্ধু রিয়াদ ও জুনায়েদকে নিয়ে মুজিবনগর বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কোমরপুর এলাকার একটি ইটভাটার কাছে পৌঁছালে অজ্ঞাত কয়েকজন তাদের তিনজনকেই অপহরণ করে। পরে রিয়াদ ও জুনায়েদকে ছেড়ে দেওয়া হলেও মাহিদকে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।




ঝিনাইদহে পালিত হবে পীর হযরত ন’হুজুর কেবলার ৪৫তম ওফাত দিবস

ফুরফুরা শরীফের পীর এ কামেল, মাদারজাদ ওলি, গাওসুল ওয়াক্ত হজরত মওলানা শাহ সুফী নাজমুস সায়াদাত সিদ্দিকী ন’হুজুর পীর কেবলা (রহঃ) এঁর ৪৫তম ওফাত দিবস আজ ৭ জানুয়ারি বুধবার ।

দিবসটি যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাব গাম্ভির্য্যের সাথে পালনের জন্য এপার বাংলা এবং ওপার বাংলায় বিস্তারিত কর্মসুচি গ্রহন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষ্যে ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় জমিয়তে জাকেরিণের পক্ষ থেকে হতদরিদ্র ও দুস্থ পরিবারের মাঝে গরম কাপড় বিতরণ করা হয়।

দিবসটি পালনে ঝিনাইদহ শহরের আব্বাস উদ্দীন (রহঃ) সড়কস্থ ব্যাপারীপাড়া সায়াদাতিয়া খানকাহ শরীফ, ঢাকার ট্রফিক্যাল হাইওয়ে হোমস ও খুলনা শহরে বাকীবিল্লাহ ভবনে বুধবার সন্ধ্যায় সওয়াব রেসানী, জিকির, মিলাদ ও দোয়ার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

ভারতের ফুরফুরা দরবার শরীফেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। ১৯৮২ সালের এই দিনে উপমহাদেশের প্রখ্যাত পীর মুজাদ্দেদে জামান হযরত পীর আবু বকর সিদ্দিকী (রহঃ) এঁর সাহেবজাদা ন’হুজুর পীর কেবলা নামে পরিচিত ফুরফুরা শরীফের পীর হজরত মওলানা শাহ সুফী নাজমুস সায়াদাত সিদ্দিকী (রহঃ) ভক্ত আশেকানদের কাঁদিয়ে ওফাত লাভ করেন।

দিবসটি পালনে প্রতিবছরই দুই বাংলার ভক্ত আশেকানরা ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহন করে থাকেন। হুজুরের ৪৫তম ওফাত দিবস পালনের প্রাক্কালে ন’হুজুর পীর কেবলার পৌত্র ও জমিয়তে জাকেরিণের মুখ্য নির্দেশক মওলানা মোহাঃ আল্লামা জাবিহ্হুল্লাহ (মাদ্দঃ) সিদ্দিকী এক বার্তায় ন’হুজুর কেবলার ওফাত দিবসের সওয়াব রেসানী, জিকির, মিলাদ এবং দোয়ার মাহফিল শরীক হয়ে তাঁর মুরীদ ও ভক্ত আশেকানদের অশেষ নেকী হাসিল করার আহবান জানান।