আজ মুজিবনগর দিবস; নেই সরকারি কোন আয়োজন

আজ ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন মেহেরপুর মহকুমার (বর্তমানে জেলা) বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে।

তার আগে ওই বছরের ১০ এপ্রিল  পাকিস্তানে বন্দি থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে আনুষ্ঠানিকভাবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়। এম এ জি ওসমানীকে সরকারের প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়।

প্রবাসী এবং অস্থায়ী সেই সরকারের শপথ গ্রহণের স্থান বৈদ্যনাথতলাকে মুজিবনগর নামকরণ করা হয়। মুজিবনগরে তৎকালীন সাব-ডিভিশনাল পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব উদ্দিন আহমদের (বীরবিক্রম) নেতৃত্বে ১২ জন আনসার সদস্য বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। সেদিনের  সেই মহতী অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেছিলেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক এবং বিশিষ্ট বাজনীতিবিদরা।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র নামে একটি রেডিও সেন্টার স্থাপন করে প্রথম সরকারের শপথ অনুষ্ঠান সারা দেশে সম্প্রচার করা হয়েছিল এবং মুজিবনগর সেদিন পেয়েছিল ঐতিহাসিক মর্যাদা।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালি জাতির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর পর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার ধারাবাহিকতায়   মুজিবনগরে শপথ নেওয়া অস্থায়ী  সরকারের সফল নেতৃত্বে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয় অর্জন  হয়।

এবার নেই সরকারি কোনো কর্মসূচি :

প্রতিবছর সরকারিভাবে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হলেও এবার এ বিষয়ে সরকারি কোনো কর্মসূচি নেওয়া হয়নি। মেহেরপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) শিল্পি রানী রায় বলেন, ‘১৭ এপ্রিল মুজিবগনর দিবস পালন নিয়ে এখন পর্যন্ত (১৬ এপ্রিল দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত) সরকারি কোনো নির্দেশনা আসেনি। সরকারি নির্দেশনা যা আসবে আমরা তা প্রতিপালন করব।’

বেঁচে আছেন সেদিনের দুই আনসার সদস্য :

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের  প্রথম অস্থায়ী সরকারকে গার্ড অব অনার প্রদানকারী ১২ আনসার সদস্যের মধ্যে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে বেঁচে আছেন দুজন। তাঁরা হলেন সিরাজ উদ্দিন ও আজিম উদ্দিন শেখ। দুজনই বয়সের ভারে নুইয়ে পড়েছেন। এ বছরও ১৭ এপ্রিল দিবসটি সরকারিভাবে পালন না করাতে আক্ষেপ জানালেন তাঁরা।

আনসার সদস্য সিরাজ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা খুব দুঃখ পেলাম। এবার ১৭ এপ্রিল উপলক্ষে ডিসি, ইউএনও, এমনকি কোনো পুলিশ অফিসার আমাদের কিছু বলেননি। সরকার পালন না করলেও আমরা যাব, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও আমাদের সহযোদ্ধা যাঁরা মারা গেছেন তাঁদের জন্য দোয়া করব।’




দামুড়হুদায় জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার সমাপনী

দামুড়হুদায় দুই দিনব্যাপী ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ, বিজ্ঞান মেলা, ১০ম বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ও বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় উপজেলা অডিটোরিয়াম হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে, জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের বাস্তবায়নে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত এ মেলায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ব্যাপক অংশগ্রহণ করে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উবায়দুর রহমান সাহেল।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামছুজোহা পলাশ, দামুড়হুদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফাহমিদা রহমান এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আবেদ উদ-দৌলা টিটনসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মেলায় মোট ১৩টি স্টল নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ২টি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান জুনিয়র, সিনিয়র ও বিশেষায়িত গ্রুপে অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপনের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে ফার্স্ট মাল্টিমিডিয়া মডেল স্কুল, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে দর্শনা দারুস সুন্নাত সিদ্দীকিয়া ফাজিল মাদ্রাসা এবং তৃতীয় স্থান লাভ করেছে দামুড়হুদা রেসিডেন্সিয়াল আইডিয়াল স্কুল।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

শেষে সফলভাবে মেলার আয়োজন সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।




গাংনীতে বজ্রপাতে প্রান গেলো কৃষকের

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কসবা-ভাটপাড়া গ্রামে বজ্রপাতে জারজিস হোসেন (৫৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ভাটপাড়া গ্রামের জোলের মাঠ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জারজিস হোসেন ওই গ্রামের দাউদ হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জারজিস হোসেনসহ আরও দুই কৃষক কলাক্ষেতে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় হঠাৎ আকাশে কালো মেঘ জমে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। একপর্যায়ে বজ্রপাত হলে জারজিস গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাহিদ হাসান তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশের একটি দল হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে পরিবারের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।




মুজিবনগরে মাদক ব্যাবসায়ির হামলায় যুবক আহত

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুরে চোরাই মোবাইল কেনাবেচা নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবকের গলায় চাকু দিয়ে আঘাত করে হত্যার চেষ্টায় হুসাইন নামের এক যুবক আহত হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত নয়টার দিকে দারিয়াপুর গ্রামে এঘটনা ঘটে। আহত হুসাইন দারিয়াপুর গ্রামের আকবর আলীর ছেলে।

আহত হুসাইন জানান, গতকাল বুধবার রাতে বিধ্যারপুর গ্রামের মাদক ব্যাবসায়ি আললিনের ছেলে জুয়েল আমার ছোট ভাইয়ের কাছে একটা চোরাই মোবাইল বিক্রি করতে আসে। এসময় আমি আমার ছোট ভাই কে তার কাছ থেকে মোবাইল কিনতে নিষেধ করলে সে উত্তেজিত হয়ে আমার উপর হামলা করে। ঘটনাস্থলে জুয়েল তার কাছে থাকা চাকু বের করে আমার গলায় টান দিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় আমাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতলে নিয়ে এসে চিকিৎসা প্রদান করে।

স্থানীয়রা জানান, জুয়েল একজন মাদক কারবারি সন্ত্রাস। তার বিরুদ্ধে মেহেরপুর ও মজিবনগর থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।




মেহেরপুরে মসজিদের টাকা আত্মসাৎ ও মাটি বিক্রির প্রতিবাদে মানবন্ধন

মেহেরপুর সদর উপজেলার আশরাফপুর চালতলাপাড়া জামে মসজিদের অর্থ আত্মসাৎ ও মসজিদের জমির মাটি অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগে কাজী হাবিবুর ইসলাম বাবলুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১১ টাই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আশরাফপুর চালতলাপাড়া জামে মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, কাজী হাবিবুর ইসলাম বাবলু দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি মসজিদের জমির মাটি অবৈধভাবে বিক্রি করে সেই অর্থও আত্মসাৎ করেছেন বলে দাবি করা হয়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নিয়ে এমন অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

আশরাফপুর চালতলাপাড়া জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, মসজিদের অর্থ আত্মসাৎ ও জমির মাটি বিক্রির মতো অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক।

আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

আরও বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক,আমদাহ ইউনিয়নের সেচ্ছাসেবক দলেন সম্পাদক মেহেদী হাসান জনি, তুষার, জাহিদ, ইব্রাহিম হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল মামুন।




মহেশপুরে উদ্বোধনের আড়াই বছরেও চালু হয়নি ২০ শয্যার হাসপাতাল

উদ্বোধন হয়েছে আড়াই বছর আগে কিন্তু আজও চালু হয়নি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভারত সীমান্তঘেঁষা ভৈরবা এলাকায় নির্মিত ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি।

ফলে উপজেলার অন্তত পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি গ্রামের লাখো মানুষ প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত থাকছেন।

জানা যায়, ঝিনাইদহ জেলা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে ভৈরবা সাকোরখাল এলাকায় ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হয়। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই হাসপাতালটি সীমান্তবর্তী মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্মাণ করা হলেও এখনও তার কার্যক্রম শুরু হয়নি।

চালু না হওয়ায় হাসপাতালের ভবনটি নষ্ট হতে শুরু করেছে। বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে, দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হাসপাতালের কিছু যন্ত্রাংশও চুরিও হয়ে যাচ্ছে।

সম্রাট নামের স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আমরা ভেবেছিলাম হাসপাতাল চালু হলে আর দূরে যেতে হবে না। কিন্তু এখনো অসুস্থ হলে উপজেলা বা জেলা শহরে যেতে হয়। এতে সময় ও টাকা দুটোই নষ্ট হচ্ছে।

খাদিজা বানু নামের এক বৃদ্ধা বলেন, আমাগের এই হাসপাতাল কইরলো ম্যালা টাকা দিয়ে। কিন্তুক আজ পর্যন্ত দেখলাম না কোন ডাক্তার আসতি। তাহলি হাসপাতাল করে লাভ কি হলো। আমরা চাই এডা যেন তারাতারি চালু করা হয়।

হাসপাতাল চালুর ব্যাপারে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, হাসপাতালটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনিক অনুমোদন পেলেই দ্রুত চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, হাসপাতালটি চালু হলে প্রতি মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষ নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারবে, যা সীমান্তবর্তী এলাকার চিকিৎসা সংকট অনেকাংশে কমিয়ে দেবে।




ঝিনাইদহে শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

ঝিনাইদহ জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের পাতানো নির্বাচন বাতিলের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে শ্রমিকদের একাংশ।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সাধারণ শ্রমিকদের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবী করা হয়। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শ্রমিক নেতা আমির ফয়সাল মহাব্বত।

শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, আগামী ২৫ এপ্রিল সংগঠনটির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু নির্বাচন হওয়ার আগে থেকে নানা অনিয়ম করা হচ্ছে। প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র একটি পদে কিনলেও তা কাটা-ছেড়া করে অন্য পদে জমা দিয়েছে কিছু শ্রমিক নেতা। ইলেকশন হলেও সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ৪ টি পদে পছন্দের শ্রমিকদের সিলেকশন করা হয়েছে।

মহব্বত অভিযোগ করে বলেন, আমি কার্যকরী সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র কিনেছিলাম। টাকা জমা দিয়েছিলাম ১৬ হাজার ৪০০ টাকা। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর আমারটা পদ কেটে সহ-সভাপতি পদে জমা দেওয়া হয়েছে। যেটা সম্পুর্ণ বেআইনি।

হানিফ খাঁন নামের এক শ্রমিক অভিযোগ করেন, আমি মনোনয়নপত্র কিনেছিলাম যুগ্ম সম্পাদক পদে। সেই অনুযায়ী নির্ধারিত টাকাও জমা দিয়েছি। কিন্তু আমার সেই পদ কেটে দেওয়া হয়েছে সহ-সাধারণ সম্পাদক। ৪ জনকে সিলেকশন করার জন্য কিছু শ্রমিক নেতা এই অনিয়ম করেছে। পাতানো নির্বাচনের অভিযোগ এনে শ্রমিকরা এই তফসীল বাতিল করে পুনরায় তফসীল ঘোষণা করে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবী জানান। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে নির্বাচন বাতিল করা না হলে সড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচীর ঘোষণা দেন তারা।

এ ব্যাপারে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সহকারী নির্বাচন কমিশনার রোকনুজ্জামান রানু বলেন, কিছু শ্রমিক যে অভিযোগ করেছেন তার সত্যতা নেই। তারা নিজেরাই স্বাক্ষর করে নিজ নিজ পদে ফরম সংগ্রহ করেছেন।

আর সিলেকশনের ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সরে যাওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় কিছু পদে ভোট হচ্ছে না। বাকি পদগুলোতে সঠিক নিয়মেই নির্বাচন হবে। নিয়মের বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই।




চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ও জীবননগরে বজ্রপাতে স্কুলছাত্রসহ নিহত ২

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলায় বজ্রপাতে স্কুলছাত্র আজিম উদ্দিন (১৪) ও কৃষক রাসেল উদ্দিন (২৫) নামে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে পৃথক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আজিম উদ্দিন দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানাধীন পারকৃষ্ণপুর গ্রামের তাজিমুল ইসলামের ছেলে এবং মেমনগর বিডি হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। নিহত কৃষক রাসেল উদ্দিন জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের ঘোষনগর গ্রামের রেজাউল হোসেনের ছেলে।

এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে আজিম উদ্দিন তার বাবার জন্য পারকৃষ্ণপুর গ্রামের মাঠে খাবার নিয়ে যায়। বাবাকে খাবার দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

আজিম উদ্দিনের বাবা তাজিমুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমাকে খাবার দিয়ে বাড়ি ফিরছিল। আমার ঝালের ক্ষেত থেকে ৩০-৪০ ফুট দূরে যেতেই বজ্রপাতে আক্রান্ত হয়। একবার ‘আব্বা’ বলে ডেকে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।”

তিনি আরও জানান, আশপাশের লোকজনকে ডাকাডাকি করে ছেলেকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বাদ আসর পারকৃষ্ণপুর ঈদগাহ মাঠে তার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে।

অন্যদিকে একই সময়ে জীবননগর উপজেলার ঘোষনগর গ্রামে কৃষক রাসেল উদ্দিন বাড়ির পাশের মাঠে কৃষিজমি থেকে তামাকের জ্বালানি সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।




কোটচাঁদপুরে পুকুর থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে একটি ইটভাটার পুকুর থেকে নাসিমা খাতুন (১৪) নামের এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে কোটচাঁদপুর পৌর কলেজ এলাকার ইকো ব্রিকসের পুকুর থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নাসিমা খাতুন উপজেলার সলেমানপুর গ্রামের মৃত নাজমুল মীরের মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান, কোটচাঁদপুর-কালীগঞ্জ সড়কের ইকো ব্রিকসের পুকুরে এক কিশোরীর মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয় আশপাশের লোকজন। খবর পেয়ে স্বজনরা এসে পরিচয় শনাক্ত করলে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতের স্বজনরা জানান, বুধবার সকালে বান্ধবীদের সাথে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় নাসিমা। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে।

কোটচাঁদপুর মডেলা থানার ওসি আসাদউজ্জামান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।




আলমডাঙ্গায় পান্তা বিতরণকে কেন্দ্র করে মারধর, তদন্ত কমিটি গঠন

আলমডাঙ্গায় পহেলা বৈশাখের সরকারি উৎসব চলাকালে পান্তা বিতরণকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যানের সিএ সোহেল রানার বিরুদ্ধে এক সাধারণ ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

গত মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। এতে সনেট আলী (৫৮) নামের এক ব্যক্তি নাক ফেটে রক্তাক্ত অবস্থায় গুরুতর আহত হন। তিনি পৌর এলাকার স্টেশনপাড়ার মৃত তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা চত্বরে পান্তা-ভাত ও মাছ বিতরণ চলছিল। এ সময় খাবার নিতে গেলে সনেট আলীকে উপজেলা চেয়ারম্যানের সিএ সোহেল রানা বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সেখানে মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে সনেট আলী রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আহত সনেট আলীর পরিবার এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেছে, কোনো উসকানি ছাড়াই একজন সরকারি কর্মচারী ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছেন। তারা ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, অভিযুক্ত সোহেল রানার বিরুদ্ধে অতীতেও প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো, সাংবাদিকদের তথ্য নিতে বাধা দেওয়া এবং অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার পর উপজেলা পরিষদ এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের মতে, সরকারি অনুষ্ঠানে এমন আচরণ চরম দায়িত্বহীনতা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলার গুরুতর লঙ্ঘন।

অভিযুক্ত সোহেল রানা ঘটনাটিকে ভুল বোঝাবুঝি বলে দাবি করেছেন। তবে স্থানীয়দের একটি অংশ তার এ ব্যাখ্যা মানতে নারাজ।

এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোহেল রানাকে শোকজ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তে দুই সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত শেষ করে দোষীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।