দর্শনায় মাদক সম্রাট খ্যাত রানা গ্রেফতার

দর্শনায় মাদক সম্রাট খ্যাত দক্ষিণ চাঁদপুরের রানা নামের এক মাদক মামলার আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার বিকেলে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজির নির্দেশে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের নেতৃত্বে দর্শনা থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

এ সময় দর্শনা থানাধীন পৌর এলাকার দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রাম থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি রানাকে (৩৫) গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত রানা দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের মল্লিকপাড়ার আক্তার হোসেনের ছেলে।

গ্রেফতারকৃত আসামিকে রবিবার চুয়াডাঙ্গা আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মুহাম্মদ হিমেল রানা বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কেউই আইনের আওতার বাইরে থাকবে না।”




ঝিনাইদহে যাত্রীবাহী বাসে মিলল সাড়ে ৭ কোটি টাকার ক্রিস্টাল আইস

ঝিনাইদহে একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে ৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ ক্রিস্টাল আইস উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

শনিবার দুপুরে জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ মাদক উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব জানায়, সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে ১ কেজি ৫১০ গ্রাম ‘ক্রিস্টাল মেথ’ বা ‘আইস’ উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝিনাইদহ র‍্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মোঃ ইমামীম মুবীন সরকার সুমন বলেন, উদ্ধারকৃত মাদক ঝিনাইদহ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে র‍্যাবের এ ধরনের অভিযান জেলাজুড়ে অব্যাহত থাকবে।




আলমডাঙ্গায় কাব্যগ্রন্থ ‘কিছু কথা’র মোড়ক উন্মোচন

আলমডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে কবি হাবিবুর রহমান মজুমদারের নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘কিছু কথা’ এর জমকালো মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেল ৪টায় স্থানীয় উপজেলা মঞ্চে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাহিত্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিশিষ্ট কবি গোলাম রহমান চৌধুরি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ও প্রবীণ শিক্ষক ওমর আলী মাস্টার।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যের পর মোড়ক উন্মোচন পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হামিদুল ইসলাম আজম। তিনি কবির লেখনী ও সাহিত্যচর্চার প্রশংসা করেন।

বিশেষ আলোচক হিসেবে কবি আসিফ জাহান কাব্যগ্রন্থটির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বইটির কবিতাগুলোর সাহিত্যমান ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খন্দকার শাহআলম মন্টু, উদ্ভাস সাহিত্য পরিষদের সভাপতি কবি কহন কুদ্দুস, গাঙচিল সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের সভাপতি শিক্ষক জামিরুল ইসলাম এবং সাংবাদিক-শিল্পী আতিক বিশ্বাস।

কবি সিদ্দিকুর রহমানের উপস্থাপনায় আরও বক্তব্য রাখেন চলচ্চিত্র পরিচালক জন অলফ, ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মকর্তা ও সাংবাদিক মাহফুজুর রহমানসহ অন্যান্যরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এ ধরনের সাহিত্যচর্চা স্থানীয় পর্যায়ে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ এবং নতুন পাঠক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে স্থানীয় কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।




আলমডাঙ্গায় ভাইয়ের জমিতে জোরপূর্বক বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ

আলমডাঙ্গায় আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ উপেক্ষা করে পৈতৃক ভিটায় জোরপূর্বক বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ভাংবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আজিল বক্স (৬৬)। তিনি তাঁর সহোদর ফজলুল হকের (৬৪), বৈধ মালিকানাধীন জমি জবরদখল করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

আদালতের নোটিশ জারির পরেও থামেনি নির্মাণ। আইনের প্রতি এই সুস্পষ্ট বৃদ্ধাঙ্গুলি এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।

ভূমি রেকর্ড সূত্রে ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে , আলমডাঙ্গা মৌজা-৪ নং নগরবোয়ালিয়ার ভাংবাড়িয়া গ্রামের মরহুম ওফাতুল্লা মণ্ডলের সাত সন্তানের মধ্যে জমিজমার বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। মরহুমের পুত্র ফজলুল হক (৬৪), পিতার ওয়ারিশ সূত্রে ১৩৬ খতিয়ানের ৩৭১০ দাগে ০.০৪৬৫ (একর) জমির আইনি অধিকারী। এ ছাড়া তিনি ১৯৯৮ সালের (১ মার্চ) মরহুম সাজেদুল আলম মল্লিকের ওয়ারিশগণের কাছ থেকে একই মৌজার- ৩৩৭ খতিয়ানের ৩৭০৯ দাগে ০.০৬ (একর) জমি ক্রয় করেন। দুটি জমি পাশাপাশি অবস্থিত হওয়ায় ফজলুল হক দীর্ঘকাল ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে উভয় অংশে দখলে ছিলেন।

কিন্তু হঠাৎ করেই তাঁর সহোদর আজিল বক্স সেই জমিতে জোরপূর্বক ঢুকে পড়েন এবং উচ্ছেদ করে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। ফজলুলের বৈধ দখল ও মালিকানাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে চলতে থাকে জোরপূর্বক নির্মাণকাজ।

আদালতের নির্দেশও মানছে না অভিযুক্ত। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মো. ফজলুল হক আদালতের দ্বারস্থ হন। গত (২৩-এপ্রিল ২০২৬), তারিখে আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির-১৪৫(১), ধারায় নোটিশ জারি করে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার কড়া নির্দেশ দেন। সেই নোটিশ যথাযথভাবে হাটবোয়ালিয়া পুলিশ ক্যাম্পে প্রেরণ করা হয়। তবু থামেননি আজিল বক্স। আদালতের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি ও তাঁর পুত্রেরা নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছেন।

ক্ষোভ ও হতাশায় ভুক্তভোগী ফজলুল হক বলেন , আমার ওয়ারিশ সূত্রে পাওনা ও ক্রয়কৃত জমিতে আমার ভাই আজিল বক্স ও তার ছেলেরা জোরপূর্বক বাড়ি তুলছে। আদালতের নোটিশ পুলিশ ক্যাম্পে জমা দেওয়ার পরেও তারা কাজ বন্ধ করেনি। এখন প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাচ্ছি নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধ করে আইনি মীমাংসার ব্যবস্থা করা হোক।

এ বিষয়ে হাটবোয়ালিয়া পুলিশ ক্যাম্পে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্টরা আলমডাঙ্গা থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেন। আদালতের নোটিশ হাতে পেয়েও কেন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি সে প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে।

সচেতনমহল বলছেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নীরব থাকলে বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।




অপসারিত হয়নি কোটচাঁদপুর-তালসার সড়কের ঝড়ে পড়া গাছ

১৭ দিনেও অপসারণ করা হয়নি কোটচাঁদপুর-তালসার সড়কের কুশনা মাঠ সংলগ্ন এলাকায় ঝড়ে পড়ে থাকা গাছগুলো। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই সড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও যানবাহন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

জানা যায়, ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর-তালসার সড়কটি উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই সড়ক দিয়ে কোটচাঁদপুর থেকে ঝিনাইদহ সদর, ডাকবাংলা, গোপালপুর, চণ্ডীপুর, কাশিশনগর, সারুটিয়াসহ ১৫-২০টি এলাকার প্রতিদিন প্রায় ৮০ হাজার থেকে লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করেন। এছাড়া ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৫-২০ হাজার যানবাহন চলাচল করে।

গত ১৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় হওয়া ঝড়ে কড়াই, মেহগনিসহ বেশ কিছু গাছ সড়কের ওপর ভেঙে পড়ে এবং কিছু গাছ হেলে পড়ে থাকে।

স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে কিছু ডালপালা সরিয়ে আংশিকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করলেও এখনো সড়কের ওপর মূল্যবান গাছের গুড়ি পড়ে রয়েছে এবং অন্তত দুটি গাছ হেলে আছে। ফলে বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

কুশনা গ্রামের বাসিন্দা লান্টু মণ্ডল জানান, ঝড়ের দিন রাতেই শ্রমিক এনে কিছু ডালপালা সরিয়ে সামান্য চলাচলের উপযোগী করা হয়। এরপর একাধিকবার বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি জানানো হলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্যালো ইঞ্জিনচালিত মিনি পিকআপচালক স্বপন বলেন, “প্রায় পাঁচ বছর ধরে এ সড়কে চলাচল করছি। কিন্তু গত ১৫-১৭ দিন ধরে ঝড়ে গাছ হেলে পড়ায় চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। বড় যানবাহন চলাচল একেবারেই বন্ধ রয়েছে।”

উপজেলা প্রকৌশলী কল্পনা রানী বিশ্বাস বলেন, “ঘটনাটি আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। গাছ অপসারণের বিষয়ে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।”

কোটচাঁদপুর বন বিভাগের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, “ওই সড়কের গাছগুলো বন বিভাগের আওতাধীন নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।”

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, “বিষয়টি আগে জানা ছিল না। এখন জেনেছি, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে মেহেরপুরে ১১ দলের গণমিছিল

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে মেহেরপুরে ১১ দলের উদ্যোগে গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২ মে) বিকেলে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় শহরের শহীদ শামসুজ্জোহা পার্ক থেকে একটি গণমিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ তাজ উদ্দিন খান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ নাজমুল হুদা, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সূরা কমিটির সদস্য ও সেক্রেটারি মোঃ ইকবাল হুসাইন, জেলা রাজনৈতিক সেক্রেটারি রুহুল আমিন, সদর উপজেলা আমির সোহেল রানা, সদর উপজেলা সেক্রেটারি জাব্বারুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।




মেহেরপুরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’র উদ্বোধন

শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’র সারা দেশের ন্যায় মেহেরপুরেও উদ্বোধন করা হয়েছে।

“ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা” এই স্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার বিকেলে মেহেরপুর জেলা স্টেডিয়ামে ভার্চুয়ালি এ কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ সময় মেহেরপুরে বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজ উদ্দীন খান, পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাবেদ মাসুদ মিল্টন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ খায়রুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান এবং পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাসসহ অন্যান্যরা।

সারা দেশের মতো মেহেরপুরেও এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মধ্য থেকে প্রতিভা অন্বেষণের কার্যক্রম শুরু হলো। আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকতায় এবার ইউনিয়ন ও সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড পর্যায় থেকে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করা, বাছাই করা এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।




নানা সংকটের মধ্যে চলছে হরিণাকুন্ডু হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা

নানা সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যসেবা। চিকিৎসক ও জনবল সংকট, ওষুধের ঘাটতি এবং চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির কারণে কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা রোগীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চিকিৎসক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রয়েছে। এক্স-রে মেশিন চালু থাকলেও নানা অজুহাতে তা সচল থাকে না নিয়মিত। পাশাপাশি প্যাথলজি পরীক্ষাও ঠিকভাবে সম্পন্ন হয় না। এমনকি পদায়ন থাকা সত্ত্বেও অনেক চিকিৎসক হাসপাতালে যান না বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামে বাসিন্দা রহিম উদ্দিন বলেন, সকাল থেকে হাসপাতালে বসে আছি, কিন্তু এখনো ডাক্তার দেখাতে পারিনি।

আমরা গরিব মানুষ, বারবার শহরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব না। এখানে ঠিকমতো সেবা পেলে আমাদের অনেক উপকার হতো।

হরিশপুর গ্রামে সালমা খাতুন বলেন, আমার বাচ্চাকে নিয়ে অনেক দূর থেকে এসেছি। ডাক্তার না থাকায় ঠিকভাবে চিকিৎসা পাচ্ছি না।

শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হয়, যেখানে খরচ অনেক বেশি। এর আগেরদিন হাসপাতালে আসছিলাম। ডাক্তার এক্সরে করতে দিয়েছিলো। হাসপাতালে নাকি হয় না তাই বাইরে থেকে করতে হয়েছিলো।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আলমগীর হোসেন বলেন, জনবল সঙ্কট আছে অজ্ঞান করা ডাক্তারসহ কিছু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্কট আছে তার পরেও সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এক্্র-রে মেশিন ঠিক আছে, তবে মাঝে মাঝে যান্ত্রিক ত্রুটি থাকলে সমস্যা হতে পারে তবে আমরা যারা আছি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা এবং শ্রমদিয়ে সেবার মান সর্বাধিক দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, হাসপাতালে যে ৩ জন চিকিৎসক ঠিক মত আসেন না তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি হাসপাতালের সেবার মান বৃদ্ধিতে।

উল্লেখ্য, হরিণাকুন্ডু উপজেলার প্রায় আড়াই লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য ২০০৫ সালে হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এখানে অনুমোদিত ৩৩জন ডাক্তারের পোষ্ট থাকলেও ২২জন কর্মরত আছেন এবং মোট ১৬৭ জন জনবলের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৯৯ জন। প্রতি মাসে প্রায় ১৩ হাজারের বেশি রোগী এই হাসপাতাল থেকে সেবা নিচ্ছেন।




দর্শনায় আঁখের রোগ ও পোকা দমন অভিযানের উদ্বোধন

দর্শনা কেরু চিনিকলের আওতায় ২০২৫-২৬ রোপন মৌসুমে আঁখের একর প্রতি ফলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তঃ প্ররিচর্য়াসহ আঁখের রোগ ও পোকা দমন অভিযানের উদ্বোধন করেন কেরুজ ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান।

শনিবার সকাল ১০টায় মিলগেট (পশ্চিম) সাবজোনের ২৪ নং ইউনিটের অধিনে গোবিন্দপুর মাঠে লিপু শাহের জমি থেকে একর প্রতি ফলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তঃ প্ররিচর্য়াসহ আঁখের রোগ ও পোকা দমন ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে।

পোকা দমন ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠানে কেরু চিনিকলের সুদক্ষ ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, এখন আঁখের পরিচর্যা ও যত্ন নেওয়ার উপযুক্ত সময় চলছে। আঁখের পোকা দমন ও নিয়মানুযায়ী জমিতের প্রয়োগ করতে হবে এবং কোন পোকার আক্রমন না হয়। সে বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে, তাহলে আঁখের ভাল ফলন করা সম্ভব হবে।

এ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কেরুজ মিলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) মোহাম্মদ আশরাফুল আলম ভুইয়া, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ডিজিএম মাহবুবুর রহমান, (পশ্চিম) সাবজোনের ২৪ নং ইউনিটের সাবজোন প্রধান মোস্তাহিদুল ইসলাম, মোঃ ওয়েসকরনী ও জমির মালিক লিপু শাহ ও স্থানীয় কৃষকরা।




চুয়াডাঙ্গায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু,হাসপাতালে ভর্তি ১৪

চুয়াডাঙ্গায় হামে আক্রান্ত হয়ে আমির হামজা (৮ মাস) নামে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানাধীন কুড়ালগাছি গ্রামের ইব্রাহীমের ছেলে।

শনিবার (২ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে গত ২৪ এপ্রিল হুমাইরা (৯ মাস) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১৭ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে ৩ জন ছাড়পত্র নিয়েছেন। এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১৪ জন রোগী।

এ পর্যন্ত জেলায় মোট ৭৪ জন হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মোট মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। আজকের এই মৃত্যুসহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) নাজমুস সাকিব বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশু রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। নিয়মিত চিকিৎসায় অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছে।

তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত স্থানসংকুলানের অভাবে নতুন করে বৃহৎ পরিসরে আইসোলেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ১৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছে