মেহেরপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আকবর আলীকে গার্ড অব অনার ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন 

মেহেরপুর সদর উপজেলার গহরপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আকবর আলী মন্ডলকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার বিকেলে গহরপুরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত মরহুমের মরদেহে জেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে পৃথকভাবে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলাম এবং সেনাবাহিনীর পক্ষে মেহেরপুর সেনা ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন মারুফ পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

এসময় সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল মরহুমের মরদেহে গার্ড অব অনার প্রদান করে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ক্যাপ্টেন মারুফ সালাম গ্রহণ করেন। এর আগে পুলিশের একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে, যেখানে রাষ্ট্রের পক্ষে সালাম গ্রহণ করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলাম। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এ সময় জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম সোনা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল শনিবার ভোরে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আকবর আলী মন্ডল ইন্তেকাল করেন। আগের দিন তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।




গাংনীতে ট্রলি চাপায় কৃষকের মৃত্যু

মেহেরপুরের গাংনীতে ইট বোঝায় স্যালো ইঞ্জিন চালিত ট্রলি চাপায় কাল্লু মন্ডল নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় মেহেরপুর-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়িয়া বাজারে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কাল্লু মন্ডল গাংনী উপজেলার নিত্যানন্দনপুর গ্রামের সুষ্ঠু মন্ডলের ছেলে। নিহত কাল্লু মন্ডলের ভাতিজা মন্টু সরকার জানান, তার চাচা কাল্লু মন্ডল ছেলেদের জন্য ঢাকায় চাল পাঠাতে গাংনীতে যায়।

দুরপাল্লার একটি পরিবহনে চাল তুলে দিয়ে বাড়িতে ফেরার সময় বাঁশবাড়িয়া বাজারে রাস্তা পার হওয়ার সময় বেপরোয়া গতির ইটবোঝায় ট্রলি তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কাল্লু মন্ডল বাঁশবাড়িয়া বাজারের রোড ডিভাইডারের পকেট রাস্তা পার হওয়ার সময় ট্রলি তাকে চাপা দিলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পরে চালক ট্রলি ফেলে পালিয়ে গেছে।

গাংনী থানার এসআই আতোয়ার রহমান জানান, ভাটপাড়া রিপন ইটভাটার তিনটি ট্রলি মেহেরপুরের দিকে যাচ্ছিলো।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি উত্তম কুমার দাস বলেন, দূর্ঘটনা স্থল থেকে সুষ্ঠু মন্ডলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




মুজিবনগরে জাতীয়তাবাদী মহিলাদলের নির্বাচনী কর্মীসভা 

মুজিবনগরে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নির্বাচনী কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা বারোটার দিকে মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর ইউনিয়নের দারিয়াপুর পুরাতন ক্যাম্প পাড়ায় এই কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনী কর্মীসভায় মেহেরপুর জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি সৈয়দা সাইয়েদাতুন নেছা নয়ন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মেহেরপুর-১ আসন (মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর) এর বিএনপি এর মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মাসুদ অরুন।

কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাসুদ অরুন বলেন, দীর্ঘদিন ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ার সুযোগ আমাদের হয়নি। আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে আমরা কেন ধানের শীষে ভোট দিব আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে আমরা প্রত্যেক পরিবারে মা বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। কোনো মায়ের হাতে এই ফ্যামিলি কার্ড থাকলে আপনারা প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল ৩ কেজি ডাল ১০ কেজি তৈল ২ কেজি লবণ এবং নগত ২ হাজার ৫ শত টাকা যদি পান তাহলে এই কার্ড সার্থের কার্ড থাকবে না এই কার্ড হবে ঐ মায়ের ঐ পরিবারে সন্মান রক্ষার প্রতীক। আমরা বলেছি দুটি ভোট যদি কমেও হয় তবুও মায়েদের সম্মান রক্ষার্থে এই কার্ড পাবে মায়েরা।

এ সময় তিনি আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপি কে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মুজিবনগর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবুল হাসান, মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আকিব জাবেদ সেনজির সহ স্থানীয় বিএনপি ও মহিলা দলের নেতাকর্মীবৃন্দ।




মেহেরপুরে পুলিশের সাপ্তাহিক মাস্টার প্যারেড

মেহেরপুরে পুলিশের সাপ্তাহিক মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় মেহেরপুর পুলিশ লাইন্স প্যারেড গ্রাউন্ডে অফিসার ও ফোর্সদের অংশগ্রহণে এ মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়।

মাস্টার প্যারেডে কুচকাওয়াজ, অভিবাদন গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন করেন মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়। এসময় তিনি প্যারেডে অংশগ্রহণকারী অফিসার ও ফোর্সদের টার্নআউটের ওপর ভিত্তি করে জিএস (গুড সার্ভিস) মার্ক প্রদান করেন।

প্যারেড পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার অফিসার ও ফোর্সদের উদ্দেশ্যে উত্তম পোশাক পরিধান, নিয়মিত প্যারেড অনুশীলন, স্বাস্থ্য সচেতনতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চা এবং জনসাধারণের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণসহ বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ আতিকুল হক।

অনুষ্ঠানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অফিসার ও ফোর্স সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




মেহেরপুরে জামায়াত প্রার্থী তাজউদ্দিন খানের নির্বাচনী প্রচারণা

মেহেরপুরের শ্যামপুর ইউনিয়নের গোপালপুর ও রামনগর গ্রামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং জেলা জামায়াতের আমির তাজউদ্দিন খানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নেতৃত্ব দেন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা মাহাবুবুল আলম।

গতকাল শনিবার বাদ মাগরিব ঝাউবাড়িয়া গ্রামে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজউদ্দিন খান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুর রউফ মুকুল, রাজনৈতিক সেক্রেটারি কাজী রুহুল আমিন, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির সোহেল রানা, সেক্রেটারি ও আমঝুপি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জাব্বারুল ইসলাম (মাস্টার), শ্যামপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতা-কর্মীবৃন্দ।

জনসভার আগে বাদ আসর থেকে গোপালপুর ও রামনগর গ্রামের প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাপকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হয়। প্রচারণা শেষে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করা হয়, যেখানে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেন।

জনসভায় বক্তারা বলেন, “ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনই আমাদের মূল লক্ষ্য। দল-মত নির্বিশেষে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে আমরা এ দেশ গড়তে চাই। আমরা দুর্নীতিমুক্ত রাখবো এ দেশকে, আর দুর্নীতিমুক্ত থাকবো আমরা নিজেরা। জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার প্রতিদান আমরা সততা ও সেবার মাধ্যমে দিতে চাই।”

এই প্রচারণায় স্থানীয় জনগণের উৎসাহমূলক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। প্রচারণায় অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা জানান, মাওলানা তাজউদ্দিন খানের নেতৃত্বে এলাকায় জামায়াতের প্রতি সমর্থন বাড়ছে।




মেহেরপুরের সুবিদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রজত জয়ন্তী উদযাপিত

মেহেরপুর সদর উপজেলার সুবিদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রজত জয়ন্তী উদযাপিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মেহেরপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ খাইরুল ইসলাম।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহা. শাহাবুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আবদুর রহিম ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মনিরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বিদ্যালয়ের দীর্ঘ শিক্ষাযাত্রা, সাফল্য ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং রজত জয়ন্তী উপলক্ষে বিদ্যালয় পরিবারকে শুভেচ্ছা জানান।




মুজিবনগরে ২৫ পিচ ইয়াবা সহ ৩ জন মাদক কারবারী আটক

মেহেরপুরের মুজিবনগরে ২৫ পিচ ইয়াবা সহ ৩ মাদক কারবারী আটক করেছে মুজিবনগর থানা পুলিশ।

শনিবার দুপরে মুজিবনগর উপজেলার ঢোলমারী গ্রামের হরেনের বটতলা সংলগ্ন টুইস মন্ডলের লিচু বাগানের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃত ব্যাক্তিরা হলেন, মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান মোল্লাপাড়ার আব্দুল রব এর ছেলে ফরহাদ শেখ(২২), আনন্দ মিয়ার ছেলে আপন(২১) ও একই গ্রামের ফারুক শেখ এর ছেলে রাশেদ শেখ(৩৫)।

মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল ইসলাম বলেন,আটককৃত ব্যাক্তিরা মাদক সেবন এবং বিক্রির উদ্যেশে হরেনের বটতলা নামক স্থানে অবস্থান করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুজিবনগর থানার এসআই তাওহীদ সহ পুলিশের একটি টিম সেখানে অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালীন সময়ে তাদের টুইস মন্ডলের লিচু বাগানের তলে দেখতে পেলে তাদের আটক করে। পরে তাদের তল্লাশী করে ২৫ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

তাদের নামে মুজিবনগর থানায় মাদক নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরন করা হবে বলে তিনি জানান।




ঝিনাইদহে আওয়ামী লীগের ভোট টানতে মরিয়া প্রার্থীরা

ঝিনাইদহের চারটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে। নিজেদের পক্ষে ভোট টানতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের ভোটারদের সমর্থন পেতে অধিকাংশ প্রার্থী সরব হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম করা যাবে না বলে বিভিন্ন সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন তাঁরা। তাদের হয়রানি না করতেও হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই সরকারের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। অনেকে দাবি করেছেন, তা না হলে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।

জানা গেছে, ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। সম্প্রতি তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের ভোটারদের সমর্থন পেতে প্রকাশ্যে দলটির পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন।

একটি নির্বাচনী সভায় মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আওয়ামী লীগে যেমন খুনি আছে, তেমনি অনেক আদর্শিক সৈনিকও আছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার জন্য জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল। আমি তখন অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলাম, সেটি আমি হতে দেইনি।’

ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) আসনে বিএনপির প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তিনিও নির্বাচনী প্রচারে কৌশলে আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটারদের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নিরীহ ও সাধারণ কাউকে যেন জুলুম বা অত্যাচার করা না হয়।’ চব্বিশের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও তিনি প্রকাশ্যে কথা বলছেন।

এছাড়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরাও আওয়ামী লীগের ভোট টানতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলটির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাস দিচ্ছেন।

অপরদিকে ঝিনাইদহ-২ ও ঝিনাইদহ-৪ আসনের অন্যান্য প্রার্থী ও তাঁদের কর্মী-সমর্থকরাও আওয়ামী লীগের ভোটারদের কাছে টানতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন।

জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবারের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কার্যত নির্বাচনী মাঠে নেই। ঝিনাইদহের সবকটি আসনেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে। এ কারণে প্রার্থীরা কৌশলে আওয়ামী লীগের ভোটার টানার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ভোটারদের নিরাপদে রাখার আশ্বাস দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ ভোট না দিলে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এটি ভোটের রাজনীতির একটি অংশ হয়ে উঠেছে। তবে আওয়ামী লীগের ভোট কোন প্রার্থী পাবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীরা একে অপরের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে। অনেককে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে, যা নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজরদারি আরও বাড়াতে হবে।’

ঝিনাইদহের চারটি সংসদীয় আসনে মোট ২১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবারের নির্বাচনে জেলার চারটি আসনে মোট ১৫ লাখ ৯৬ হাজার ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৮ লাখ ৯৫ হাজার ৯৮৪ জন, পুরুষ ভোটার ৮ লাখ ৩৯০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২৯ জন।




হরিণাকুণ্ডুতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বিক্রয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার মান্দ্রারতলা গ্রামের রিয়াদ হোসেন (১৩) নামের এক ছেলেকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী শরিফুলের ছেলে সুমনের বিরুদ্ধে। রিয়াদ হোসেন ওই গ্রামের নাসির উদ্দীনের ছেলে এবং একই উপজেলার শিতলী গ্রামের রোকেয়া খাতুন হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র।

এ ব্যাপার থানায় অভিযোগ করেছে রিয়াদের পিতা এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে একই গ্রামের সুমন (২৩) পিতা শরিফুল এবং শ্যামলী খাতুন (৩৫) স্বামী শরিফুল ইসলাম নামে দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহারে জানা যায়, কয়েকদিন আগে প্রতিবেশী শরিফুলের ছেলে সুমন রিয়াদকে ভোলায় নিয়ে গিয়ে বেঁচে দিয়েছে। তাছাড়া একই গ্রামের নৈমদ্দিন মন্ডলের ছেলে রবিউল এবং কৃষক আফজাল হোসেন জানান, রিয়াদেগর প্রতিবেশী সুমন রিয়াদকে ভোলায় নিয়ে যায় পরবর্তীতে তাকে আর বাড়িতে ফিরিয়ে আনেনি। সুমনের পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে ভোলা থেকে ফেরত আসার পথে রিয়াদ তার কাছ থেকে পালিয়ে চলে যায়। তাকে আর খুঁজে না পেয়ে সুমন বাড়িতে ফিরে আসে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানান, সুমন আলী এই কাজ করার আগে, হরিণাকুণ্ডু উপজেলার তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) বিপ্লবের সাথে ঐ বিষয়ে যোগাযোগ করেন। সন্দেহ করা হচ্ছে রিয়াদকে হিজড়াদের কাছেও বিক্রয় করতে পারে।

ভুক্তভোগী নাসির উদ্দীন জানান, তার ছেলেকে কোথায় রেখে বিক্রয় করেছেন এবং তাকে ফেরত চাইতে সুমনের সাথে কথা বলতে গেলে সেখানেই তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত জখম করেন সুমন। কোনো উপায়ান্ত না পেয়ে আমি থানায় একটি মামলা করি।

হরিণাকুণ্ডু থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া জানান, গত ৩০ জানুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ৭/৩০ ধারায়, কয়েকজন অজ্ঞাতনামা এবং তিন জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন রিয়াদেও পরিবার। এ মামলার সূত্র ধরে ২ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সুমন(২৩) পিতা শরিফুল ও শ্যামলী খাতুন স্বামী শরিফুল ইসলাম। একইদিনে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে ঝিনাইদহ জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।




চুয়াডাঙ্গায় সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়বৃন্দের মতবিনিময় সভা

চুয়াডাঙ্গায় সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়বৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের হলরুমে দুপুর দুইটায় মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক খেলোয়াড় ও সহ-সভাপতি সরোয়ার হোসেন জোয়ার্দ্দার মধুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের ধানের শীর্ষের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ।

প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি বলেন,আসলে ক্রীড়া আমাদের জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। ক্রীড়া এবং খেলাধুলার মধ্যে যারা যুক্ত থাকে এবং নিয়মিত চর্চা করে তারা মানসিক এবং শারীরিক ভাবে সুস্থ। আজ যুব সমাজের দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন তাদের কি পরিমাণ অবনতি। এই অবনতি মূল কারণ হচ্ছে সঠিক এবং সুস্থ ধারায় ক্রীড়া চর্চা না করা। আসলে অনেকেই বলেছেন খেলাটা আমরা পেশা হিসেবে নিতে চাই। এই পেশা হিসেবে যাতে আপনারা ক্রীড়াটা নিতে পারেন এজন্য আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান তিনি এটার উপর বিশেষ নজর দিয়ে পরিকল্পনা তৈরি করেছেন। যেটিতে তিনি বলেছেন ক্লাস ফোর থেকে স্কুলে ক্রীড়াকে বাধ্যমূলক করা হবে এবং বয়স বারো থেকে চোদ্দ পর্যন্ত বছর পর্যন্ত প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বৃত্তি প্রদান করা হবে। দেশের প্রতিটি জেলার ক্রীড়া কমপ্লেক্স এবং স্পোর্টস স্কুল তৈরি করা হবে। যে সকল প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া শিক্ষক নাই সেখানে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। দেশের সকল বিভাগের মধ্যেই প্লেয়ার বাছাই করবো এবং ক্রীড়া সরঞ্জাম ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করব এবং খেলোয়াড়বৃন্দের চাহিদা পূরণ করবো।

তিনি আরও বলেন,চুয়াডাঙ্গা ক্রীড়া অঙ্গন যাতে বাংলাদেশের ভিতরে শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াঙ্গন হয় এজন্য আমরা দল-মত নির্বিশেষে এবং রাজনৈতির বাহিরে ক্রীড়া অঙ্গন রেখে সকলে মিলে আমরা ক্রীড়াঙ্গন যাতে এগিয়ে যায় সেজন্য কাজ করবো।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় মহামুদুল হাসান লিটন, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় মামুন জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক খেলোয়াড় ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রউফুন্নাহার রীনা। মতবিনিময় সভায় সঞ্চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক খেলোয়াড় ক্রীড়া সংগঠন ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জেলা ক্রীড়া সংস্থা আব্দুল সালাম।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিপুল হাসান হ্যাজী, মিলন বিশ্বাস সহ চুয়াডাঙ্গা জেলা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান ও সাবেক ফুটবলারবৃন্দ।