মেহেরপুরে মসজিদের টাকা আত্মসাৎ ও মাটি বিক্রির প্রতিবাদে মানবন্ধন

মেহেরপুর সদর উপজেলার আশরাফপুর চালতলাপাড়া জামে মসজিদের অর্থ আত্মসাৎ ও মসজিদের জমির মাটি অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগে কাজী হাবিবুর ইসলাম বাবলুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১১ টাই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আশরাফপুর চালতলাপাড়া জামে মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, কাজী হাবিবুর ইসলাম বাবলু দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি মসজিদের জমির মাটি অবৈধভাবে বিক্রি করে সেই অর্থও আত্মসাৎ করেছেন বলে দাবি করা হয়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নিয়ে এমন অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

আশরাফপুর চালতলাপাড়া জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, মসজিদের অর্থ আত্মসাৎ ও জমির মাটি বিক্রির মতো অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক।

আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

আরও বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক,আমদাহ ইউনিয়নের সেচ্ছাসেবক দলেন সম্পাদক মেহেদী হাসান জনি, তুষার, জাহিদ, ইব্রাহিম হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল মামুন।




মহেশপুরে উদ্বোধনের আড়াই বছরেও চালু হয়নি ২০ শয্যার হাসপাতাল

উদ্বোধন হয়েছে আড়াই বছর আগে কিন্তু আজও চালু হয়নি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভারত সীমান্তঘেঁষা ভৈরবা এলাকায় নির্মিত ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি।

ফলে উপজেলার অন্তত পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি গ্রামের লাখো মানুষ প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত থাকছেন।

জানা যায়, ঝিনাইদহ জেলা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে ভৈরবা সাকোরখাল এলাকায় ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হয়। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই হাসপাতালটি সীমান্তবর্তী মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্মাণ করা হলেও এখনও তার কার্যক্রম শুরু হয়নি।

চালু না হওয়ায় হাসপাতালের ভবনটি নষ্ট হতে শুরু করেছে। বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে, দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হাসপাতালের কিছু যন্ত্রাংশও চুরিও হয়ে যাচ্ছে।

সম্রাট নামের স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আমরা ভেবেছিলাম হাসপাতাল চালু হলে আর দূরে যেতে হবে না। কিন্তু এখনো অসুস্থ হলে উপজেলা বা জেলা শহরে যেতে হয়। এতে সময় ও টাকা দুটোই নষ্ট হচ্ছে।

খাদিজা বানু নামের এক বৃদ্ধা বলেন, আমাগের এই হাসপাতাল কইরলো ম্যালা টাকা দিয়ে। কিন্তুক আজ পর্যন্ত দেখলাম না কোন ডাক্তার আসতি। তাহলি হাসপাতাল করে লাভ কি হলো। আমরা চাই এডা যেন তারাতারি চালু করা হয়।

হাসপাতাল চালুর ব্যাপারে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, হাসপাতালটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনিক অনুমোদন পেলেই দ্রুত চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, হাসপাতালটি চালু হলে প্রতি মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষ নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারবে, যা সীমান্তবর্তী এলাকার চিকিৎসা সংকট অনেকাংশে কমিয়ে দেবে।




ঝিনাইদহে শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

ঝিনাইদহ জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের পাতানো নির্বাচন বাতিলের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে শ্রমিকদের একাংশ।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সাধারণ শ্রমিকদের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবী করা হয়। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শ্রমিক নেতা আমির ফয়সাল মহাব্বত।

শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, আগামী ২৫ এপ্রিল সংগঠনটির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু নির্বাচন হওয়ার আগে থেকে নানা অনিয়ম করা হচ্ছে। প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র একটি পদে কিনলেও তা কাটা-ছেড়া করে অন্য পদে জমা দিয়েছে কিছু শ্রমিক নেতা। ইলেকশন হলেও সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ৪ টি পদে পছন্দের শ্রমিকদের সিলেকশন করা হয়েছে।

মহব্বত অভিযোগ করে বলেন, আমি কার্যকরী সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র কিনেছিলাম। টাকা জমা দিয়েছিলাম ১৬ হাজার ৪০০ টাকা। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর আমারটা পদ কেটে সহ-সভাপতি পদে জমা দেওয়া হয়েছে। যেটা সম্পুর্ণ বেআইনি।

হানিফ খাঁন নামের এক শ্রমিক অভিযোগ করেন, আমি মনোনয়নপত্র কিনেছিলাম যুগ্ম সম্পাদক পদে। সেই অনুযায়ী নির্ধারিত টাকাও জমা দিয়েছি। কিন্তু আমার সেই পদ কেটে দেওয়া হয়েছে সহ-সাধারণ সম্পাদক। ৪ জনকে সিলেকশন করার জন্য কিছু শ্রমিক নেতা এই অনিয়ম করেছে। পাতানো নির্বাচনের অভিযোগ এনে শ্রমিকরা এই তফসীল বাতিল করে পুনরায় তফসীল ঘোষণা করে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবী জানান। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে নির্বাচন বাতিল করা না হলে সড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচীর ঘোষণা দেন তারা।

এ ব্যাপারে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সহকারী নির্বাচন কমিশনার রোকনুজ্জামান রানু বলেন, কিছু শ্রমিক যে অভিযোগ করেছেন তার সত্যতা নেই। তারা নিজেরাই স্বাক্ষর করে নিজ নিজ পদে ফরম সংগ্রহ করেছেন।

আর সিলেকশনের ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সরে যাওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় কিছু পদে ভোট হচ্ছে না। বাকি পদগুলোতে সঠিক নিয়মেই নির্বাচন হবে। নিয়মের বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই।




চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ও জীবননগরে বজ্রপাতে স্কুলছাত্রসহ নিহত ২

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলায় বজ্রপাতে স্কুলছাত্র আজিম উদ্দিন (১৪) ও কৃষক রাসেল উদ্দিন (২৫) নামে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে পৃথক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আজিম উদ্দিন দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানাধীন পারকৃষ্ণপুর গ্রামের তাজিমুল ইসলামের ছেলে এবং মেমনগর বিডি হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। নিহত কৃষক রাসেল উদ্দিন জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের ঘোষনগর গ্রামের রেজাউল হোসেনের ছেলে।

এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে আজিম উদ্দিন তার বাবার জন্য পারকৃষ্ণপুর গ্রামের মাঠে খাবার নিয়ে যায়। বাবাকে খাবার দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

আজিম উদ্দিনের বাবা তাজিমুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমাকে খাবার দিয়ে বাড়ি ফিরছিল। আমার ঝালের ক্ষেত থেকে ৩০-৪০ ফুট দূরে যেতেই বজ্রপাতে আক্রান্ত হয়। একবার ‘আব্বা’ বলে ডেকে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।”

তিনি আরও জানান, আশপাশের লোকজনকে ডাকাডাকি করে ছেলেকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বাদ আসর পারকৃষ্ণপুর ঈদগাহ মাঠে তার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে।

অন্যদিকে একই সময়ে জীবননগর উপজেলার ঘোষনগর গ্রামে কৃষক রাসেল উদ্দিন বাড়ির পাশের মাঠে কৃষিজমি থেকে তামাকের জ্বালানি সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।




কোটচাঁদপুরে পুকুর থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে একটি ইটভাটার পুকুর থেকে নাসিমা খাতুন (১৪) নামের এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে কোটচাঁদপুর পৌর কলেজ এলাকার ইকো ব্রিকসের পুকুর থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নাসিমা খাতুন উপজেলার সলেমানপুর গ্রামের মৃত নাজমুল মীরের মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান, কোটচাঁদপুর-কালীগঞ্জ সড়কের ইকো ব্রিকসের পুকুরে এক কিশোরীর মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয় আশপাশের লোকজন। খবর পেয়ে স্বজনরা এসে পরিচয় শনাক্ত করলে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতের স্বজনরা জানান, বুধবার সকালে বান্ধবীদের সাথে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় নাসিমা। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে।

কোটচাঁদপুর মডেলা থানার ওসি আসাদউজ্জামান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।




আলমডাঙ্গায় পান্তা বিতরণকে কেন্দ্র করে মারধর, তদন্ত কমিটি গঠন

আলমডাঙ্গায় পহেলা বৈশাখের সরকারি উৎসব চলাকালে পান্তা বিতরণকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যানের সিএ সোহেল রানার বিরুদ্ধে এক সাধারণ ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

গত মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। এতে সনেট আলী (৫৮) নামের এক ব্যক্তি নাক ফেটে রক্তাক্ত অবস্থায় গুরুতর আহত হন। তিনি পৌর এলাকার স্টেশনপাড়ার মৃত তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা চত্বরে পান্তা-ভাত ও মাছ বিতরণ চলছিল। এ সময় খাবার নিতে গেলে সনেট আলীকে উপজেলা চেয়ারম্যানের সিএ সোহেল রানা বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সেখানে মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে সনেট আলী রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আহত সনেট আলীর পরিবার এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেছে, কোনো উসকানি ছাড়াই একজন সরকারি কর্মচারী ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছেন। তারা ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, অভিযুক্ত সোহেল রানার বিরুদ্ধে অতীতেও প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো, সাংবাদিকদের তথ্য নিতে বাধা দেওয়া এবং অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার পর উপজেলা পরিষদ এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের মতে, সরকারি অনুষ্ঠানে এমন আচরণ চরম দায়িত্বহীনতা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলার গুরুতর লঙ্ঘন।

অভিযুক্ত সোহেল রানা ঘটনাটিকে ভুল বোঝাবুঝি বলে দাবি করেছেন। তবে স্থানীয়দের একটি অংশ তার এ ব্যাখ্যা মানতে নারাজ।

এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোহেল রানাকে শোকজ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তে দুই সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত শেষ করে দোষীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।




ছুটির ঘন্টা সিনেমার পুনরাবৃত্তি…  তবে শিশুটি সুস্থ উদ্ধার

মেহেরপুর শহরের বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। তৃতীয় শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী সাদিয়া (৮) স্কুল ছুটির পর বাথরুমে আটকা পড়ে দীর্ঘ সময় চিৎকার করেও কোনো সাড়া না পেয়ে প্রাণসংকটে পড়ে। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা স্কুল ভবন ও মূল ফটকে তালা দিয়ে চলে যাওয়ার ফলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকাল প্রায় চারটার দিকে স্কুল ছুটি হলে শিক্ষকরা যথারীতি বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। ওই সময় বাথরুমে থাকা সাদিয়া তালাবদ্ধ অবস্থায় ভেতরেই আটকা পড়ে যায়। সময় গড়াতে থাকলে শিশুটি ভয়ে কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করে। তার চিৎকার স্কুলসংলগ্ন পথচারীদের কানে পৌঁছালে বিষয়টি সামনে আসে।

এদিকে নির্ধারিত সময়েও বাড়িতে না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন সাদিয়ার বাবা, পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়ার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম। খোঁজ নিতে এসে তিনিও স্থানীয়দের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের মূল ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করা হয়।

কিন্তু বিদ্যালয় ভবনের কলাপসিবল  দরজা ভেঙে বা খুলে শিশুটিকে বের করা সম্ভব না হওয়ায়, স্থানীয়রা এক পর্যায়ে স্কুলের এক শিক্ষিকাকে ডেকে আনেন। প্রায় এক ঘণ্টা উৎকণ্ঠার পর শিক্ষিকা লিনা ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে অবশেষে সাদিয়াকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় শিশুটি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

ঘটনাটি রাত সাড়ে এগারোটার দিকে জানাজানি হলে গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে বিষয়টি জানতে চাইলে ফোন কেটে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আরো কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী মোবাইল নম্বরটিতে কল দিলেও,  আর কোনো কল রিসিভ করা হয়নি। এতে করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় রাত প্রায় বারোটার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রাথমিক তথ্য নেন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সাড়া পাননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘মেয়েটি সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে, এটাই স্বস্তির বিষয়। তবে ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।’

বুহস্পতিবার দুপুরে বি এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোবিনা খানম বলেন,‘আমাদের ভুলের কারণেই এধরণের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের সহকারী শিক্ষক স্কুলের পাশে থাকাই স্থানীয়দের মাধ্যমে স্কুল ছুটির কিছুক্ষণ পরেই বাচ্চাটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।’




দর্শনা পুরাতন বাজারে অভিযানে অবৈধ ডিজেল মজুদ, ১০ হাজার টাকা জরিমানা

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পুরাতন বাজারে অবৈধভাবে ডিজেল মজুদ করার অভিযোগে এক ডিলারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করেন দামুড়হুদা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহীন আলম।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, দর্শনা পুরাতন বাজারের মেসার্স এস আর এন্টারপ্রাইজের মালিক সেলিম উদ্দীন শান্তর তেলের দোকান থেকে ট্রাক্টরচালকের কাছে ডিজেল বিক্রির সময় এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। পরে দর্শনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ট্রাক্টরসহ চালককে আটক করে।

পরবর্তীতে বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলমকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এ সময় পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬-এর ২০(১) ধারায় সেলিম উদ্দীন শান্তকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং দোকানে থাকা আনুমানিক ১৩০ লিটার ডিজেল জব্দ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বুধবার সকালে জব্দকৃত তেল কৃষকদের কাছে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে।
অপরদিকে, ট্রাক্টরচালকের কাছে উপজেলা কৃষি অফিসের ফুয়েল কার্ড থাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।




গাংনীতে ব্র্যাকের কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন ইউএনও

গাংনী উপজেলার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন। তিনি উপজেলার মালশাদহ এলাকায় অবস্থিত ব্র্যাক এরিয়া অফিস পরিদর্শন করেন।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ-আল-আজিজ।

পরিদর্শনকালে ইউএনও ব্র্যাকের স্বাস্থ্যসেবিকাদের রিফ্রেশার্স প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং মাঠ পর্যায়ে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসায় ডটস পদ্ধতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় প্রায় ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থী উপস্থিত ছিলেন।

তিনি ব্র্যাকের মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়া এক রোগীর সঙ্গেও কথা বলেন এবং অন্যদের সচেতন করার পরামর্শ দেন। এ সময় তিনি বলেন, “কোনো ব্যক্তির টানা দুই সপ্তাহের বেশি কাশি থাকলে অবশ্যই কফ পরীক্ষা করাতে হবে।”

এছাড়াও তিনি শিশুদের হাম রোগ সম্পর্কে সচেতনতা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী সচেতনতা, মোবাইল ফোনের অপব্যবহার এবং সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন।

পরিদর্শন শেষে তিনি ব্র্যাক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং গাংনীতে ব্র্যাকের অন্যান্য কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়ক শেখ মনিরুল হুদা, এরিয়া ম্যানেজার (প্রগতি) শাহজাহান, উপজেলা অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার সমীর কুমার, ব্রাঞ্চ ম্যানেজার (দাবি) আশরাফুল ইসলাম, প্রোগ্রাম অফিসার আক্তার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, ব্র্যাক বাংলাদেশে যক্ষ্মা (টিবি) নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সংস্থাটি রোগী শনাক্তকরণ, চিকিৎসা প্রদান, বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ এবং ফলোআপসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে।




আলমডাঙ্গার ফাতেমা ক্লিনিক সাময়িক বন্ধ

আলমডাঙ্গায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর জটিলতায় ৪ দিনের ব্যবধানে দুই প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি পৌর এলাকার হাইরোডে অবস্থিত ফাতেমা ক্লিনিকে ঘটে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর গত বুধবার দুপুরে জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডা. আওলিয়ার রহমান প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

অভিযানকালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কাগজপত্র ছাড়াই এক ব্যক্তিকে রক্ত দেওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় ভোক্তা অধিকার আইনে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জানা গেছে, উপজেলার কুমারী ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামের বাসিন্দা মুস্তাক আহম্মেদের স্ত্রী চামেলী খাতুন গত ৭ এপ্রিল রাতে প্রসব বেদনা নিয়ে ফাতেমা ক্লিনিকে ভর্তি হন। ওই রাতেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানো হয়। এরপর তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের রিপন আলীর স্ত্রী লাবনী খাতুন গত সোমবার রাতে প্রসব বেদনা নিয়ে একই ক্লিনিকে ভর্তি হন। ওই রাতেই তাকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মৃত সন্তান প্রসব করানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসকের ভুলে তার নাড়ি কেটে ফেলা হয়। এতে খিচুনি ও রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকেও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

অভিযানে জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ডা. আওলিয়ার রহমান, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল শফিউল্লাহ এবং র‍্যাব সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এ বিষয়ে ডা. আওলিয়ার রহমান জানান, দুই প্রসূতি নারীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রশাসনিকভাবে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।