দামুড়হুদায় মাদকবিরোধী অভিযানে তিনজন গ্রেফতার

দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের ছোটদুধপাতিলা গ্রামে পরিচালিত মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে এক ব্যবসায়ীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন ছোটদুধপাতিলা গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে বোরহান (২৬), জিয়াউর রহমানের ছেলে শামিম কবির ফরহাদ (২৮) এবং মৃত মনিরুল ইসলামের ছেলে সোহাগ মিয়া (৩৪)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে জেলা জুড়ে চলমান মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে ছোটদুধপাতিলা গ্রামে বোরহানের বসতবাড়ি থেকে মাদক সেবনরত অবস্থায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় বোরহানের কাছ থেকে ৪০ পিস ইয়াবা, ফরহাদের কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা এবং সোহাগ মিয়ার কাছ থেকে প্রায় ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার তাদের চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন বলেন, “পুলিশ সুপারের নির্দেশে আমি নিজে উপস্থিত থেকে এ অভিযান পরিচালনা করেছি। মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।”




দামুড়হুদায় দেড় বিঘা জমির ফলন্ত পেঁপে বাগান কেটে দিল দুর্বৃত্তরা 

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় এক হতদরিদ্র কৃষকের দেড় বিঘা জমির ফলন্ত পেঁপে বাগান রাতের আঁধারে কেটে নষ্ট করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীর।

ভুক্তভোগী কৃষক ইসরাফিল হোসেন (৫৪) গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত বরকত মন্ডলের ছেলে। তিনি উপজেলার গোবিন্দপুর নিমতলা ও বড়গালা মাঠে লিজ নেওয়া জমিতে পেঁপে চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

জানা গেছে, উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর নিমতলা মাঠে ১০ কাঠা এবং বড়গালা মাঠে ১ বিঘা মোট দেড় বিঘা জমিতে ছিল তার স্বপ্নের পেঁপে বাগান। নিজের কোনো আবাদি জমি না থাকায় অন্যের জমি লিজ নিয়ে এই চাষাবাদ করছিলেন তিনি।

ইসরাফিল জানান, গত শনিবার বিকাল ৫টার দিকে তিনি বাগান ঘুরে দেখেন, তখন সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু পরদিন রবিবার সকাল ৭টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পান, তার পুরো পেঁপে বাগান কেটে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখেন, ফলন্ত গাছগুলো নির্মমভাবে কেটে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “আমার চারটা ছেলে-মেয়ে, ভিটে ছাড়া কোনো জমি নেই। জমি লিজ নিয়ে চাষ করি। এখন আমার কী হবে? আমি কী করব? সব শেষ হয়ে গেল।”

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা। এর আগেও তার ভুট্টা ক্ষেত কেটে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে এবং গ্রামের মানুষ জানে কারা করেছে। তিনি দাবি করেন, এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি চান না গরিব মানুষ স্বাবলম্বী হোক। ফলে বারবার এ ধরনের ঘটনার শিকার হচ্ছেন তিনি। শুধু তিনি নন, আরও গরিব কৃষকের জমির ফসল এভাবে নষ্ট করা হয়, কিন্তু কেউ বিচার পান না।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী কৃষক ইসরাফিল হোসেন জানান, তিনি এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন বলেন, “এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”




মহেশপুর সীমান্ত থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক আটক

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা থেকে গত দুদিনে বিজিবি’র অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য আটক করা হয়েছে।

আজ রবিবার মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমানের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, রবিবার সকাল ৭টার দিকে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) এর অধীনস্থ মাধবখালী বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার-৭০/৫-এস হতে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাধবখালী গ্রামের মোঃ আলী হোসেন এর ঘাসের ক্ষেতের মধ্য হতে সুবেদার মোঃ তরিকুল ইসলাম এর নেতৃত্বে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসামীবিহীন ৫৮০ পিস ভায়াগ্রা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। 

একই দিন ভোর ৪টার দিকে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) এর অধীনস্থ সামন্তা বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার-৫৭/২-এস হতে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বেলেহাটি গ্রামের মাঠের ধানের জমির আলির পার্শ্ব হতে হাবিলদার মোঃ শহর আলী এর নেতৃত্বে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসামীবিহীন ২৪ বোতল ভারতীয় (ডওঘঈঊজঊঢ) সিরাপ (মাদক) উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া গত ২ এপ্রিল রাত সাড়ে ১১টার দিকে  মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) এর অধীনস্থ গয়েশপুর বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার-৬৮/৮-আর হতে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গয়েশপুর গ্রামের মাঠের আম বাগানের মধ্য হতে হাবিলদার মোঃ সায়াদ হোসেন এর নেতৃত্বে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসামী বিহীন ৯০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত মাদক বিজিবি হেফাজতে রাখা হয়েছে।




মেহেরপুরে মাদকের ছোবলে ঝুঁকছে তরুণরা, নীরব খেলার মাঠ

এক সময় বিকেল হলেই গাংনী উপজেলার গ্রাম ও পাড়া-মহল্লার খেলার মাঠগুলো শিশু-কিশোরদের কোলাহলে মুখর থাকতো। ফুটবল, ক্রিকেটসহ নানা খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকতো তরুণরা। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। খেলার মাঠগুলোতে নেমে এসেছে নীরবতা, আর তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ সময় কাটাচ্ছে মোবাইল ফোনে গেম খেলে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতো মাঠে খেলাধুলার দৃশ্য এখন প্রায় নেই বললেই চলে। অধিকাংশ কিশোর-তরুণ দিনের দীর্ঘ সময় ব্যয় করছে মোবাইল স্ক্রিনে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
গাংনী পৌর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, আগে বিকেল হলেই মাঠে ছেলেদের খেলতে দেখা যেত। এখন তারা মোবাইলে বেশি সময় দিচ্ছে। এতে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।

গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের মেম্বার জিনারুল ইসলাম বলেন, আমি নিজেও দীর্ঘদিন সুনামের সাথে খেলাধুলা করেছি এবং বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে খেলেছি। সেই সময় খেলাধুলার একটি সুন্দর পরিবেশ ছিল। কিন্তু বর্তমানে এই প্রজন্মকে দেখে আমি সত্যিই অবাক হই। তারা খেলাধুলা থেকে অনেকটাই বিমুখ হয়ে মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে মাদকাসক্তির ঝুঁকিও দিন দিন বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, আমি একজন মেম্বার হিসেবে বলছি, আমার মনে পড়ছে না শেষ কবে কোনো ছেলে আমার কাছে খেলার বল চেয়েছে। তারা তো এখন আর খেলাধুলামুখী নয়। এই অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের খায়রুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলে এখন আর খেলাধুলা করে না। আগের মতো মাঠে যাওয়ার অভ্যাসও নেই।

বর্তমানে তারা মোবাইল ফোনে বেশি ব্যস্ত থাকে। এতে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতি হচ্ছে। অবসর সময়ের অপব্যবহারের কারণে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ার ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে এখনই সবাইকে সচেতন হতে হবে।

প্রবীণ ফুটবল খেলোয়াড় হাফিজুর রহমান বলেন, এক সময় আশেপাশের ৭-১০ গ্রামের খেলোয়াড়রা একসাথে মাঠে খেলতাম, এখনো অনেকেই আমাদের খেলোয়াড় হিসেবে চেনে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। খেলাধুলা শরীর-মন ভালো রাখার পাশাপাশি সামাজিকতা ও সম্মানবোধ শেখায়। তাই তরুণদের আবার মাঠমুখী করা জরুরি, যাতে তারা মাদকের মতো ক্ষতিকর পথে না যায়।

কুতুবপুর স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক হাফিজুল ইসলাম বলেন, আমাদের সময় মাঠ মানেই ছিল খেলোয়াড়ে ভরা। আমরা নিয়মিত খেলাধুলা করতাম এবং বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে সুনামের সঙ্গে খেলতাম। এমনকি ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্তও মাঠে খেলোয়াড়দের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যেত। কিন্তু এখন সেই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এত বড় মাঠেও একজন খেলোয়াড় দেখা যায় না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্ম খেলাধুলা থেকে দূরে সরে গিয়ে মোবাইল আসক্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে তারা ধীরে ধীরে ভয়াবহভাবে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা একটি পুরো প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এতে পরিবার ও সমাজ উভয়ই চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই মুহূর্তে আমাদের সকলের প্রচেষ্টায় তরুণ প্রজন্মকে খেলামুখী করতে পারলে মাদকাসক্তির ঝুঁকি কমবে।

শিক্ষক রেজাউর রহমান জানান, খেলাধুলা শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু মোবাইল আসক্তির কারণে তারা সামাজিকতা ও সৃজনশীলতা হারাচ্ছে।

গাড়াবাড়ীয়া ফুটবল একাদশের অধিনায়ক হামিম আহমেদ বলেন, এখন প্র্যাকটিসের জন্য খেলোয়াড় পাওয়া যায় না। মাঝে মাঝে খেলা হলেও অনেকেই মোবাইলে ব্যস্ত থাকে। এর ফলে তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তিও বাড়ছে।

এদিকে সমাজকর্মীদের মতে, খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাওয়ায় তরুণরা অবসর সময় সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছে না, যা অনেক ক্ষেত্রেই তাদের মাদকের মতো ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক অভ্যাসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তারা মনে করেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম আয়োজন, খেলার মাঠ সংরক্ষণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তরুণদের সুস্থ পথে ফিরিয়ে আনা জরুরি।

শিক্ষক ও সমাজসচেতন মহল মনে করছেন, খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাওয়া তরুণদের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তারা বলছেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।




ঝিনাইদহ ভেটেরিনারি ক্যাম্পাসেই হতে পারে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়নে ঝিনাইদহে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠারদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়নে ঝিনাইদহে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি নতুন করে দাবি নতুন করে জোরালো হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় শিক্ষা, গবেষণা ও ব্যবহারিক অবকাঠামোসহ প্রায় সব উপাদানই ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে ঝিনাইদহ ভেটেরিনারি ক্যাম্পোসে যা বর্তমান যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন।

ফলে নতুন করে বড় ধরনের বিনিয়োগ ছাড়াই এই ক্যাম্পাসকে কেন্দ্র করে দ্রুত একটি আধুনিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

পূর্বতন ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ, বর্তমানে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ হিসেবে ঝিনাইদহ ক্যাম্পাসটি পরিচালিত হচ্ছে। ক্যাম্পাসটির নিজস্ব আয়তন ১০.১৭ একর হলেও এর সঙ্গে যুক্ত সাধুহাটি বিএডিসি বীজ উৎপাদন কেন্দ্র এবং সাগান্না বাঁওড়কে অন্তর্ভুক্ত করলে মোট এলাকা ২০০ একরেরও বেশি হয়, এর পিছনে আশেপাশে রয়েছে অবরিত খোলা মাঠ যা একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠিানটি ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকেও অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ঝিনাইদহ শহর থেকে সহজ সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি যশোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, মাগুরা ও চুয়াডাঙ্গা জেলার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ থাকায় এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার উপযোগী স্থান।

বিশেষ করে ভেটেরিনারি কলেজকে ঘিরে গড়ে ওঠা আশপাশের প্রতিষ্ঠানগুলো এই দাবিকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলেছে। এর মধ্যে রয়েছে সাধুহাটি বিএডিসি ফার্ম, সাগান্না বাঁওড়, সরকারি ছাগল উন্নয়ন খামার, হলিধানী রেশম বোর্ড, শহরের কৃষি ইনস্টিটিউট, মৃত্তিকা ইনস্টিটিউট এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠান বর্তমানে সক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, মৃত্তিকা ও কৃষিভিত্তিক প্রযুক্তি শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে।

ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরেও ইতোমধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে আধুনিক ল্যাবরেটরি, একাডেমিক ভবন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা, গবেষণাগার, ডেইরি ফার্ম, ছাগল ও পোল্ট্রি খামার, ভেটেরিনারি হাসপাতাল, অডিটোরিয়াম, খেলার মাঠ ও জিমনেশিয়াম। পাশাপাশি ফিশারিজ শিক্ষার জন্য উপযোগী জলাশয়ও বিদ্যমান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি আধুনিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যে সমন্বিত শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ প্রয়োজন, তার প্রায় সব উপাদানই ঝিনাইদহ ভেটেরিনারি ক্যাম্পাস আশপাশে রয়েছে। এসব চলমান প্রতিষ্ঠানকে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বল্প সমম ও স্বল্প খরচের মাধ্যমে এখানে আন্তর্জাতিক মানের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব, যা এই অঞ্চলের কৃষি গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ঝিনাইদহ আব্দুর রউফ ডিগ্রি কলেজের কৃষি বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন এটি কোনো ব্যক্তিগত বা আঞ্চলিক স্বার্থের বিষয় নয় বরং এটি সময়ের অপরিহার্য প্রয়োজন, উন্নয়নের অগ্রযাত্রার এটা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ন্যায্য অধিকার।

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আমাদের জোরালো আহ্বান দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে এটাকে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক আসিফ ইকবাল কাজল বলেন, ঝিনাইদহ ভেটেরিনারি কলেজকে কেন্দ্র করে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠার যে বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী উদ্যোগ। আশপাশে যেসব শিক্ষা, গবেষণা ও কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলো সমন্বয় করা গেলে অল্প সময়েই এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা সম্ভব।

ঝিনাইদহ জেলা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম বলেন, এই অঞ্চলে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা শুধু একটি দাবি নয়, এটি এখন সম্মিলিত প্রয়োজন। ভেটেরিনারি ক্যাম্পাসসহ আশপাশের বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করে সহজেই একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, শিক্ষা ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। জেলার অন্যত্র কৃষি জমির নতুন করে অবচয় না করে এই প্রতিষ্ঠান কেই অধুনিকায়নের মাধ্যমে পূর্নাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নিত করা এখান জেলাবাসীর দাবি।




মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় দাউদ আলী (৪৪) নামের এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার দুপুরের দিকে মেহেরপুর জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মো: তাজুল ইসলাম এ রায় দেন। দাউদ আলী মেহেরপুর শহরের তাঁতীপাড়া এলাকার কাসেদ আলীর ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেহেরপুর জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৯ জুন মেহেরপুর শহরের তাঁতীপাড়া এলাকার ১১ বছর বয়সী শিশু রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে বাসার বাইরের রাস্তা দিয়ে হাঁটছিল। ওই সময় অভিযুক্ত দাউদ আলী তাকে বিভিন্ন রকম প্রলোভন দেখিয়ে তার বাসায় নিয়ে যায় এবং একটি কক্ষে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে তাকে বাসার মানুষজন অনেক খোঁজাখুঁজির পর পরের দিন সকালে অভিযুক্তের বাড়ি থেকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে।

এই ঘটনায় তার পিতা বাদী হয়ে মেহেরপুর জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

মেহেরপুর জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, শিশু ধর্ষণের ঘটনায় আদালতে একটি মামলা হয়। আদালত ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে। শিশুর ২২ ধারা জবানবন্দিতে শিশুটি সীকারোক্তি দেয় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের বিবরণ দেয়।

তিনি আরও বলেন, আসামি নিজেও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে সীকার করেছে যে সে ওই শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে। আদালত সাক্ষীদের সাক্ষ্য, ১৬৪ ধারা এবং শিশুর ২২ ধারা জবানবন্দি পর্যালোচনা করে দাউদ আলী দোষী প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে পল্লব ভট্টাচার্য, কামরুল হাসান, গোলাম মোস্তফা দায়িত্ব পালন করেন।




গাংনীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে টিন মিস্ত্রির মৃত্যু, আহত নারী

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামে দোকানঘরে টিনের ছাউনি দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এনামুল হক নামে এক টিন মিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে।

নিহত এনামুল হক ওই গ্রামের মৃত নজের আলীর ছেলে। এদিকে, এনামুল হককে বাঁচাতে গিয়ে মনোয়ারা খাতুন নামের এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত মনোয়ারা বর্তমানে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রবিবার (৩ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাহারবাটি ক্লাবপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, দিনমজুর এনামুল হক ক্লাবপাড়া এলাকায় মিঠুর দোকানে টিনের কাজ করছিলেন। এ সময় টিনের উপর দিয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক তারে স্পর্শ লাগলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।




গাংনীতে বোমা সদৃশ বস্তু ও চিরকুট উদ্ধার

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় বোমা সদৃশ একটি বস্তু ও রহস্যজনক চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার সকালে উপজেলার চর গোয়াল গ্রামের মাথাভাঙ্গা নদীর তীরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে নদীর পাড়ে একটি পরিত্যক্ত বস্তু পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। পরে সেটি কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করলে বোমা সদৃশ মনে হওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি দ্রুত গাংনী থানা পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমা সদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। একই সঙ্গে একটি রহস্যজনক চিরকুটও উদ্ধার করা হয়, যা বস্তুটির সঙ্গে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ছিল। নিরাপত্তাজনিত কারণে ঘটনাস্থলে সেটি খোলা হয়নি। ফলে চিরকুটে কী লেখা রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) আল মামুন জানান, সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমা সদৃশ বস্তু ও চিরকুট উদ্ধার করেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।




ঝিনাইদহে তবুও থামছে না মাদক কারবার

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা জেলা ঝিনাইদহে মাদক কারবারিরা দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকলেও থামছে না ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা ও মাদকদ্রব্যের অবাধ বেচাকেনা।

বিশেষ করে শহর ও গ্রামীণ এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট ছোট মাদক বিক্রির স্পট, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করছি।

জানা গেছে, জেলার কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও বাজার এলাকায় সক্রিয় রয়েছে মাদক কারবারিদের একটি শক্তিশালী চক্র।

ভারতীয় সীমান্তর্বর্তী উপজেলা মহেশপুরের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে মাদক প্রবেশ করে প্রথমে গ্রামাঞ্চলে মজুদ করা হয়, পরে তা খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় শহর ও আশপাশের এলাকায়। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী কতিপয় রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের ছত্রচ্ছায়ায় এসব কারবার পরিচালিত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হঠাৎ করেই জেলা শহর ছাড়াও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম চরমভাবে বেড়ে গেছে। এর মধ্যে জেলা শহরের কালিকাপুর, চাকলাপাড়া, হামদহ, আরাপপুর, পবহাটি, সদর উপজেলার সাধুহাটি, হাটগোপালপুর, খাজুরা। কালীগঞ্জের কাশিপুর, চাচড়া, শিবনগর, আড়পাড়া, ঢাকালে পাড়া, বলিদাপাড়া, সিংঙ্গী, ফয়লা, হেলাই মাস্টারপাড়া, পাইকপাড়া, চাপালী, আনন্দবাগ, খয়েরতলা। শৈলকুপার কবিরপুর, শেখপাড়া, ফুলহরি, কাচেরকোল, ভাটইবাজারসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে দুপুর থেকে থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে মাদক বেচাকেনা। এসব মাদক মহেশপুর সীমান্ত থেকে সড়কপথে বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঝিনাইদহ জেলায় ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলের সরবরাহ বেড়েছে কয়েক গুণ। আগে যেসব এলাকায় মাদক লেনদেন তুলনামূলক কম ছিল, সেখানেও এখন প্রকাশ্যেই চলছে কেনাবেচা। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকার নির্দিষ্ট কিছু চায়ের দোকান, পরিত্যক্ত ভবন, খেলার মাঠ ও গ্রামের নদীর চরে মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের আনাগোনা প্রতিনিয়ত চোখে পড়ছে। এসব জায়গাতে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে খোলামেলা পরিবেশে, অনেকে এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পায়।

আসন্ন ঈদকে উপলক্ষে প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে মাদক কারবারিরা যোগসাজশ করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এ ধরণের কর্মকা- পরিচালনা করে আসছে। স্থানীয় প্রশাসন মাঝেমধ্যে নামমাত্র অভিযান চালিয়ে খুচরা বিক্রেতাদের আটক করলেও বড় বড় কারবারিরা ধরাছোঁয়ার বাইরের থেকে যায়। এমনকি তাঁরা মোটা অংকের টাকার বিনমিয়ে থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে।

জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন , ‘আগে গোপনে মাদক বিক্রি হতো, এখন প্রকাশ্যেই চলে। সন্ধ্যার পর নির্দিষ্ট দোকান ও বাড়িতে এখন মাদকের আসর বসছে। স্কুল-কলেজপড়–য়া কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ সহজে মাদক পেয়ে আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। কেবল অভিযান পরিচালনা করে নয় সামাজিক প্রতিরোধ, পরিবারভিত্তিক সচেতনতা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার না করলে ঝিনাইদহে মাদকের বিস্তার ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদরে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।’

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শেখ মো. হাশেম আলী বলেন, ‘আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবলম্বন করছি। সম্প্রতি মাদকের বেশ কয়েকটি বড় চালান জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকজন কারবারিকে আটক করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। চিহ্নিত স্পটগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।’




দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরিবারের একমাত্র সম্বল চুরি : অনাহারে দিন কাটছে লতিবের

“মানুষের দুঃখ যত গভীর, ততই নীরব হয়ে যায় তার আর্তনাদ” এমনই এক নীরব কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাধাগোবিন্দপুর ধলা গ্রামের আব্দুল লতিব।

পরিবারের চার সদস্যের মধ্যে স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ তিনজনই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন লতিব নিজেই।

দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে পায়ে চালিত ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন তিনি। বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে কয়েক মাস আগে একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত পাখিভ্যান কিনেছিলেন। কিন্তু ঋণের কিস্তি শেষ হওয়ার আগেই গত ২৮ এপ্রিল দিবাগত রাতে চোরের দল তার বাড়ি থেকে ভ্যানটি চুরি করে নিয়ে যায়।

এর ফলে একদিকে ঋণের চাপ, অন্যদিকে পরিবারের খাদ্যসংকটে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। বর্তমানে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে পুরো পরিবারটির।

আব্দুল লতিব বলেন, “আমাদের পরিবারের সবাই কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধী। ভ্যানটা ছিল বলে কোনোভাবে খেয়ে-পরে বেঁচে ছিলাম। এখন একবেলা খেলে অন্যবেলা না খেয়ে থাকতে হয়। এই কষ্টের কথা এখন কাকে বলব?”

একই গ্রামের বাসিন্দা আরোজ আলী বলেন, “লতিব ভাই অনেক কষ্ট করে সংসার চালাতেন। তাদের দেখার মতো আর কেউ নেই। ভ্যানটাই ছিল তাদের একমাত্র ভরসা। এটি চুরি হওয়ায় তারা এখন খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত তার পাশে দাঁড়াক।”

স্থানীয়রা জানান, একটি ঝুপড়ি ঘরে পরিবারটি বসবাস করে। বৃষ্টি হলে ঘরে পানি ঢোকে এবং ঝড়ের সময় ঘর ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকে। কর্মসংস্থান হারিয়ে পরিবারটি এখন পুরোপুরি অন্যের সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কিন্তু সহায়তা পাওয়াটাও যেন দুর্লভ হয়ে উঠেছে।

কাথুলী ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মোঃ ফারুক হোসেন জানান, “লতিবের পরিবারের তিন সদস্যই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তাদের দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই। ভ্যানটিই ছিল তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের সহায়তার চেষ্টা চলছে।”

গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) আল মামুন বলেন, ভ্যানটি উদ্ধারের জন্য পুলিশের বিশেষ সোর্স নিয়োগ করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিবারটিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।”