গাংনীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়লো বসতবাড়ি ও পানের বরজ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুরে মধ্যরাতে গোয়ালঘরে আগুন লেগে তিনটি গরু দগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দুটি গরু পুড়ে মারা গেছে। আগুনে বসতবাড়ি ও পাশের পান চাষের বরজ পুড়ে যায়। এক নিমিষেই তিন বিঘা জমির পানের বরজসহ চারটি পরিবারের স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনাটি সোমবার মধ্যরাত ১২টার দিকে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মিলিটারি পাড়ায় মিন্টু হোসেনের বাড়িতে ঘটে। পানের বরজের মালিকরা হলেন একই এলাকার নজরুল ইসলাম ও ইন্তাজুল হক।

স্থানীয়দের ধারণা, গরু রাখা গোয়ালঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মিন্টু হোসেন বলেন, “রাতে বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখে বাড়ির দিকে ছুটে আসি।

কোনোভাবে পরিবারের সদস্যদের ঘর থেকে বের করতে পেরেছি। কিন্তু আমার তিনটি গরু, মুরগি ও ঘরের সব আসবাবপত্র চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গরুগুলো ঋণের টাকায় কিনেছিলাম। এখন কীভাবে সেই ঋণ শোধ করবো বুঝতে পারছি না। গতকাল সব ছিল, আজ আমি নিঃস্ব।”

পান চাষি নজরুল ইসলাম বলেন, “বাড়ির পাশে দুই বিঘা জমিতে পানের আবাদ ছিল। রাতে শুনতে পাই বরজে আগুন লেগেছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে সব পুড়ে গেছে। আমি জমি লিজ নিয়ে চাষ করেছিলাম, এখন সব শেষ।”

আরেক চাষি ইন্তাজুল হক বলেন, “রাতের আগুনে আমাদের বরজের সব পান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমি ও আমার পরিবার পথে বসে গেছি। প্রায় ১৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, মধ্যরাতে মিন্টু হোসেনের গোয়ালঘরে আগুন লাগে। এতে তিনটি গরু দগ্ধ হয়, যার মধ্যে দুটি মারা গেছে। গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। মিন্টু একজন অসহায় মানুষ; ঋণ করে গরু কিনেছিলেন, এখন তার সবকিছুই পুড়ে গেছে।

কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম হুসাইন বলেন, “আগুনে একটি পরিবারের বসতবাড়ি ও তিনটি গরু পুড়ে গেছে। পাশাপাশি পানের বরজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে এবং বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।”




গাংনীতে মশার কয়েলের আগুনে প্রাণ গেল বৃদ্ধার

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় মশার কয়েল থেকে সৃষ্ট আগুনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মরিয়ম খাতুন (৮৮) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার তেতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের করমদি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আজ দুপুরে নিহতের মরদেহ নিজ গ্রামে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

নিহত মরিয়ম খাতুন ওই গ্রামের খেড়ু শেখের স্ত্রী এবং ১২ সন্তানের জননী।

নিহতের মেজো পুত্রবধূ আশুরা খাতুন জানান, সোমবার রাত ৮টার দিকে শাশুড়িকে খাবার খাইয়ে মশার কয়েল জ্বালিয়ে তিনি নিজ ঘরে চলে যান। রাত ১১টার দিকে পোড়া গন্ধ পেয়ে বাইরে এসে দেখেন, শাশুড়ির বিছানায় আগুন জ্বলছে।

পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত আগুন নিভিয়ে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই শ্যামা পদ জানান, কয়েল থেকে সৃষ্ট আগুনে অগ্নিদগ্ধের একটি ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বৃদ্ধার মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন।




আলমডাঙ্গা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ড্রেন-রাস্তার চরম দুর্ভোগ, স্থানীয়দের উদ্যোগে সংস্কার শুরু

আলমডাঙ্গা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ড্রেন ও ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পৌরসভার কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় শেষ পর্যন্ত নিজ উদ্যোগেই ড্রেন পরিষ্কার ও রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বছরের পর বছর ধরে ওই এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা বিরাজ করছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ড্রেনের পানি উপচে রাস্তায় উঠে আসে এবং অনেক সময় বাসাবাড়ির ভেতরেও ঢুকে পড়ে। এতে পুরো এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

এ অবস্থায় স্থানীয়দের সম্মিলিত উদ্যোগে প্রায় ৪০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে ড্রেন পরিষ্কার ও আংশিক রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়েছে। সোমবার (৫ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ড্রেনের ঢাকনা খুলে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হচ্ছে, যাতে পানি চলাচল স্বাভাবিক থাকে। পাশাপাশি কাঁচা ও ভাঙা রাস্তাগুলো সংস্কারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা পৌরসভা থেকে কোনো ধরনের নাগরিক সুবিধা পাই না। বৃষ্টি হলেই ড্রেনের পানি ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে, তখন দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে যায়। বাধ্য হয়ে নিজেরাই কাজ শুরু করেছি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, ড্রেন সংস্কার, রাস্তা উন্নয়ন কিংবা জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভার কার্যকর কোনো উদ্যোগ দীর্ঘদিন দেখা যায়নি। ফলে দিন দিন স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।

এলাকাবাসী দ্রুত আলমডাঙ্গা পৌর প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে নাগরিকদের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তারা উন্নত ও টেকসই সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, নিরাপদ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত সড়ক বাতি এবং জনস্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ীভাবে ড্রেন ও রাস্তার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপই এখন এলাকাবাসীর একমাত্র প্রত্যাশা।




মেহেরপুরে ইয়াবার টাকা বিরোধে সংঘর্ষ, অপহরণ

মেহেরপুরে পূর্ব বিরোধের জেরে পথরোধ করে মারধর ও অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও সদর থানা পুলিশের যৌথ একটি দল। পলাতক রয়েছে আরও একজন।

এ ঘটনাই ভুক্তভোগী মিয়ারুল ইসলাম বাদী হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন। সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে মামলার বাদী ও অপহরণের শিকার মিয়ারুল ইসলাম ও তার পরিচিত গোবিপুর গ্রামের বাসার মেম্বারের ছেলে হৃদয় (৩৫) মোটরসাইকে মেহেরপুর শহরের সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় আসামিরা লাঠিসোটা নিয়ে তাদের পথরোধ করে।

এসময় পলাতক আসামী হাসিবুল ইসলামের সঙ্গে হৃদয়ের পূর্বের লেনদেনের বিষয় নিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। বাদী প্রতিবাদ করলে আসামিরা তাদের ওপর চড়াও হয়ে এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে হৃদয় দৌড়ে পালিয়ে গেলেও বাদীকে আটক করে লাঠিসোটা দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।

পরে জোরপূর্বক সাগর হোসেনের ইজিবাইকে তুলে তাকে অপহরণ করে মেহেরপুর সদর উপজেলার ফুলবাগান পাড়ার ক্রিসেন্ট ক্লাবে নিয়ে আটকে রাখা হয়।

খবর পেয়ে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে মেহেরপুর ডিবি পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ক্রিসেন্ট ক্লাব থেকে অপহৃত মিয়ারুল ইসলামকে উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। তবে অভিযানের সময় পলাতক আসামী হাসিবুল ইসলাম কৌশলে পালিয়ে যায়।

অপহরণের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত এবং অপরের মামলার আসামিরা হলেনঃ মুখার্জিপাড়ার সেলিম রেজার ছেলে রোহান হোসেন রিয়াদ (২৩), রিপন আলীর ছেলে আব্দুর রহিম (১৯ ও হাফিজুল ইসলামের ছেলে তাজ হোসেন (২৪), ফুলবাগান পাড়ার শফিকুল ইসলামের ছেলে সাগর হোসেন (২৪) এবং তাতিপাড়ার মহসিন শেখের ছেলে মাহফুজুর রহমান (১৯) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন।
অপর আসামি ফুলবাগান পাড়ার হাসেম আলীর ছেলে হাসিবুল ইসলাম (২০) কৌশলে পালিয়ে যান।

এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রাথমিক অনুসন্ধানে পূর্বের টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং পলাতক আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এছাড়াও এ ঘটনায় মিয়ারুল ইসলাম বাদী হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।’

তবে অভিযোগ ও প্রতিবেদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইয়াবা কেনার জন্য পূর্বে লেনদেনকৃত টাকা আত্মসাৎকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। আর তারই জের ধরেই সংঘর্ষ ও অপহরণের ঘটনা ঘটে।




সওজের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী গাংনীর আবু হেনা দম্পতি কারাগারে

১০ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ ও সম্পদ অর্জন এবং তার তথ্য গোপনের অভিযোগে প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং তার স্ত্রী ডা. জোবাঈদা শাহনূর রশীদকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামাল গাংনী উপজেলার ষোলটাকা ইউনিয়নের ঝোড়পাড়া গ্রামের আয়ুব আলী ওরফে ঝড়ু মাস্টারের ছোট ছেলে।

গত রোববার (৫ এপ্রিল) পাবনার বিশেষ (জেলা জজ) আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

দুদকের দায়েরকৃত মামলায় আবু হেনা ও তার স্ত্রী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। এসময় বিচারক আবু সালেহ্ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন খাঁ জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

দুদকের আইনজীবী মনোজ কুমার দাস এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

অভিযোগ রয়েছে এলাকার বিভিন্ন স্থানে তিনি নামে-বেনামে অনেক জমি কিনেছেন। সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জোগ সাজসে এসব জমি রেজিস্ট্রি হয়েছে। দুদক তার সম্পদক অনুসন্ধানকালে গাংনী সাব রেজিস্ট্রি অফিসে পত্র দেয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে তার মালিকানা জমির বেশ কয়েকটি গোপন রেখে সামান্য পরিমাণ কিছু জমির তথ্য দেয়। অধিকতর তদন্ত চালালে তার অবৈধ সম্পদের ফিরিস্তি বেরিয়ে আসবে বলে এলাকার বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে।

এছাড়াও তার আপন ভাইয়ের সাথে অমানবিক ও নিষ্টুর আচরণের অভিযোগ রয়েছে। দএকসাথে তারা ঘরবাড়ি নির্মান করলেও আবু হেনা শক্তি খাটিয়ে দখল করে নেয়। ভাই ও ভাবিকে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করে।

দুদুকের আইনজীবী জানান, ২০২৩ সালের ৬ জুলাই দুদক পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সাবেক উপ-পরিচালক খায়রুল হক বাদী হয়ে আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও তার স্ত্রী ডা. জোবাঈদা শাহনূর রশীদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেন।

২০২৪ সালের ১০ জুলাই স্ত্রী জোবাঈদা শাহনূর রশীদ ও চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি আবু হেনা মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রট অনুমোদন দেয় দুদক।

দুদকের আইনজীবী আরও জানান, আসামিরা উচ্চ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত দুজনের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

এরপর তারা পাবনা স্পেশাল জেলা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানান। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার অজুহাত দেখিয়ে শুনানির জন্য আদালতের কাছে সময় চান।

এভাবে কয়েক দফা তারিখ নিয়ে শুনানিতে কালক্ষেপণের পর আজ আদালতে এসে জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০২২ সালের ২৩ জুন আসামি আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং তার স্ত্রী শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের প্রভাষক ডা. জোবাইদা শাহনূর রশীদের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী জমা দিতে আদেশ জারি করে দুদক।

এ আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১৬ আগস্ট পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সম্পদ বিবরণী জমা দেন আবু হেনা মোস্তফা কামাল।

যেখানে তিনি স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে দুই কোটি ২১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৯২ টাকার সম্পদের হিসাব জমা দেন। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে মোট তিন কোটি ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৭৩ টাকার সম্পদের তথ্য প্রমাণ মেলে। অর্থাৎ এখানে তিনি ৯১ লাখ ১৩ হাজার ৮১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পাশাপাশি তার স্ত্রীকে দানসহ পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসাব করলে দুদকের অনুসন্ধানে মোট সাত কোটি ৮৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭৬০ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। যার মধ্যে গ্রহণযোগ্য আয় এক কোটি ৫০ লাখ ৯২ হাজার ২৬৭ টাকা। যা বাদ দিলে ছয় কোটি ৩৫ লাখ ৪ হাজার ৪৯৩ টাকার সম্পদের উৎস দেখাতে পারেননি তিনি।

কইসঙ্গে অবৈধ ওই সম্পদের মধ্যে আসামি আবু হেনা মোস্তফা কামাল তার মায়ের দান করা ছয় কোটি ২০ লাখ টাকা তার আয়কর নথির ২০০১-২০০২ করবর্ষ থেকে ২০০৬-২০০৭ করবর্ষ পর্যন্ত প্রদর্শন করেছেন।

এ টাকা থেকে তিনি তার স্ত্রী ডা. জোবাঈদা শাহনূর রশীদকে বিভিন্ন সময়ে দুই কোট ৭০ লাখ টাকা দান করেছেন। যা তাদের উভয়ের আয়কর নথিতে এ দান গ্রহণ ও প্রদানের বিষয়টি প্রদর্শিত রয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধান বা যাচাইকালে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, আসামি আবু হেনা মোস্তফা কামাল তার ঘুস ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত আয়কে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে বৈধতা দানের জন্য অসৎ উদ্দেশ্যে প্রথমে তার মায়ের আয়কর নথিতে প্রদর্শন করেন। পরে তা দান হিসেবে নিজের আয়কর নথিতে প্রদর্শন করেছেন।

অন্যদিকে স্ত্রী ডা. জোবাইদা শাহনূর রশীদ দুদকে জমা দেওয়া তার সম্পদ বিবরণীতে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট দুই কোটি ৪০ লাখ ১৭ হাজার ৭৩১ টাকার সম্পদের তথ্য দেন।

অনুসন্ধান বা যাচাইকালে তার নামে মোট দুই কোটি ৪৪ লাখ ৬২ হাজার ৩১ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। অর্থাৎ তিনি চার লাখ ৪৪ হাজার ৩০০ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।

দুদকের অনুসন্ধানকালে আরও দেখা যায়, আসামি ডা. জোবাঈদা শাহনূর রশীদের নিট সম্পদ, পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ চার কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ৫০৯ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। যার মধ্যে তার গ্রহণযোগ্য আয় এক কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৫৭ টাকা বাদ দিলে দুই কোটি ৭৩ লাখ ৯৮ হাজার ৪৫২ টাকার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া যায়। যার মধ্যে দুই কোটি ৭০ লাখ টাকা তার স্বামী আবু হেনা মোস্তফা কামাল থেকে দান সূত্রে প্রাপ্ত।




সবার সহযোগিতায় এগিয়ে যাবে মেহেরপুর

মেহেরপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় জেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বলেছেন, সবার সহযোগিতা নিয়েই আমরা এগিয়ে যাব এবং মেহেরপুরবাসীকে ভালো রাখার জন্য কাজ করবো।

তিনি বলেন, অনেকেই অভিযোগ করেছেন ট্যাগ অফিসাররা সহযোগিতা করতে পারছেন না। তবে এই ক্ষেত্রে ট্যাগ অফিসারদের পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেটদেরও সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। ট্যাগ অফিসাররা তথ্য দিলে ম্যাজিস্ট্রেটরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, আমি নিজেও মাঠে গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছি। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সরকারি কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করাই আমাদের দায়িত্ব এবং এ ক্ষেত্রে আমরা সবসময় আপনাদের পাশে আছি।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক পার্থ প্রতিম শীল।

সভায় বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি তোযাম্মেল আযম, মেহেরপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল হক মানিক, সিনিয়র সাংবাদিক রফিকুল আলম, আমিরুল ইসলাম অল্ডাম, তুহিন অরণ্য, বাসস প্রতিনিধি দিলরুবা খাতুন এবং কালবেলা জেলা প্রতিনিধি খান মাহমুদ আল রাফি প্রমুখ।

মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি তোযাম্মেল আযম বলেন, মেহেরপুর একটি ছোট জেলা হলেও সমস্যার শেষ নেই। তেলের সংকট ও শিক্ষার অব্যবস্থাপনা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে।

সিনিয়র সাংবাদিক তুহিন অরণ্য বলেন, মেহেরপুরে বাল্যবিবাহের হার দিন দিন বাড়ছে। এর ফলে পারিবারিক ও সামাজিক নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

মেহেরপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল হক মানিক বলেন, মোটরসাইকেলের জ্বালানির পাশাপাশি কৃষি কাজেও তেলের সংকট প্রকট হয়ে উঠছে। কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

বাসস প্রতিনিধি দিলরুবা খাতুন বলেন, বাল্যবিবাহ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ডিভোর্সের হারও বাড়ছে। এই সামাজিক অবক্ষয় রোধে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা দরকার।

কালবেলা জেলা প্রতিনিধি খান মাহমুদ আল রাফি বলেন, তেল সংকটের পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায়ও সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রাইভেট বাণিজ্য নিয়ে অভিযোগ রয়েছে, যা গুরুত্বসহকারে দেখা প্রয়োজন।

মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যমকর্মীরা অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিতকরণ, জেলার জ্বালানি সরবরাহ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরেন।




কোটচাঁদপুরে কেক ফ্যাক্টরির জেনারেটরের ফিতায় আটকে গৃহবধূর মৃত্যু

কোটচাঁদপুরে কেক ফ্যাক্টরির জেনারেটরের ফিতায় আটকে মারা গেলেন শিরিনা খাতুন (৩০) নামের এক গৃহবধূ। আজ সোমবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে কোটচাঁদপুর বনবিভাগ পাড়ায়। সে ওই এলাকার রমজান আলীর স্ত্রী।

হাসানের পিতা মনির হোসেন জানান ,কোটচাঁদপুর বন বিভাগ পাড়ার বাসিন্দা আমরা। শিরিনা খাতুন রমজান আলী স্ত্রী। সে আমার ছেলে হাসান, কেক ফ্যাক্টরির মালিক আব্দুস সালামের মেয়ে মিম ও তাঁর ছেলে হাবিবুর রহমানের জন্য প্রতিদিন  টিফিন নিয়ে যেতেন বিদ্যালয়ে। সোমবার দুপুরে আমার ও তাঁর ছেলের জন্য টিফিন নিয়ে মিমের টিফিন নিতে তাদের বাড়িতে গিয়েছেলেন। এ সময় ওই বাড়িতে থাকা কেক ফ্যাক্টরির ফিতায় আটকে যায় তাঁর কাপড়। এতে করে সে গুরুতর আহত হন। এ সময় ফ্যাক্টরির মালিক সহ স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে দেখে মৃত বলে ঘোষণা দেন।

খবর পেয়ে কোটচাঁদপুর থানার সহউপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুর রহিম মরা দেহের সুরতহাল রিপোর্ট করেছেন। এরপর মরা দেহটি ময়না তদন্তের জন্য ঝিনাইদহ মর্গে পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।




মেহেরপুরে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সুষ্ঠু রাখতে জেলা প্রশাসকের পরিদর্শন

জনস্বার্থে জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মেহেরপুরে তদারকি কার্যক্রম জোরদার করেছে জেলা প্রশাসন।

সোমবার (৬ এপ্রিল) জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শিল্পী রানী রায় সদর উপজেলার কলেজ মোড় সংলগ্ন মেহেরপুর ফিলিং স্টেশন সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে তিনি ফিলিং স্টেশনে সংরক্ষিত জ্বালানি তেলের মজুদ, বিক্রয় কার্যক্রম এবং মজুদ রেজিস্টার যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে কিনা তা নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ, নির্ধারিত দামে জ্বালানি তেল বিক্রয় নিশ্চিত করা এবং কোনো প্রকার অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।

জেলা প্রশাসনের এমন তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগ জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




জীবননগরে কার্ড ছাড়া জ্বালানি নয়, মজুদে কড়াকড়ি: ইউএনও আশরাফুল আলম রাসেল

জীবননগর উপজেলার কৃষকদের জন্য ডিজেল ও পেট্রোল বিতরণে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। কার্ড বা প্রত্যায়নপত্র ছাড়া কোনো কৃষক জ্বালানি নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল।

সোমবার ( ৬ই এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউএনও আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, কৃষকদের ডিজেল ও পেট্রোল সংগ্রহের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, ইউনিয়ন ও পৌরসভার ব্লক সুপারভাইজার বা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য দিয়ে কার্ড বা প্রত্যায়নপত্র সংগ্রহ করতে হবে। ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি জমা দিয়ে এই প্রত্যায়ন নেওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, “কোনো কৃষক প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করে বাড়িতে মজুদ রাখতে পারবেন না। কারও কাছে অবৈধভাবে মজুদ তেল পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

কৃষকদের ভোগান্তি কমাতে পেট্রোল পাম্পের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হবে না উল্লেখ করে ইউএনও বলেন, বিভিন্ন গ্রাম্য হাটে সাব-ডিলার বা এজেন্ট পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকেরা প্রত্যায়নপত্র বা কার্ড প্রদর্শন করে সেখান থেকেই জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “কার্ডবিহীন কাউকে কোনো প্রকার তেল সরবরাহ করা যাবে না।” এ সময় উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




গাংনীর সাহারবাটি গ্রামে কৃষি ব্যাংকের উপ-শাখার উদ্বোধন

গ্রাহকদের দোরগোড়ায় সহজে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একটি নতুন উপ-শাখার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে গাংনী উপজেলার সাহারবাটি বাজারে এ উপ-শাখার উদ্বোধন করা হয়। এটি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ৫ নম্বর উপ-শাখা হিসেবে চালু হলো।

ব্যাংকের মেহেরপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক প্রহলাদ কুমার হোড়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপ-শাখাটির ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) খালেদুজ্জামান জুয়েল।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। নতুন এই উপ-শাখা চালুর মাধ্যমে এলাকার কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ আরও সহজে কৃষিঋণসহ বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের সহায়তা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদান এবং গ্রামীণ অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে এই উপ-শাখা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে কৃষি খাতে ঋণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে দেশের কৃষি উন্নয়নে অবদান রেখে আসছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন এবং ব্যাংকের কুষ্টিয়া অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক উৎপল কবিরাজ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক প্রহলাদ কুমার হোড়। মেহেরপুর আঞ্চলিক নিরীক্ষা কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন মুখ্য কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান এবং মেহেরপুর শাখা কার্যালয়ের কর্মকর্তা রাসমনি খানম যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

এ সময় বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল ধুমকেতু, সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন, নবীনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তানজিদুর রহমান মুক্তি, স্থানীয় ব্যক্তিত্ব তৌহিদ মোর্শেদ অতুল, তৌহিদুজ্জামান সোহেল ও তোহিদুর রহমান কাঁকন প্রমুখ।

উদ্বোধনী দিনে ১৫ জন কৃষকের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ২২ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করা হয় এবং ৫০ লাখ টাকা আমানত (ডিপোজিট) সংগ্রহ করা হয়।

অনুষ্ঠানে ব্যাংকের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী ও গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন।