গাংনীর সাহারবাটি ইউপিতে ক্রীড়া সামগ্রী ও হুইলচেয়ার বিতরণ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদে খেলাধুলার সামগ্রী ও হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে এডিবি’র অর্থায়নে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফুটবল, ভলিবল এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) শিক্ষার্থীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়।

শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করতে ও প্রতিবন্ধীদের চলাচলের সুবিধার্থে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, সাহারবাটি ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফুটবল সরবরাহ করা হয়েছে এবং এলাকার বিভিন্ন স্কুলের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মাঝে উন্নত মানের হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসমা তারা, এডিবি’র প্রতিনিধি কামরুল হাসান, ইউপি সদস্য বাশিরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, আনারুল ইসলাম, আব্বাস আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও অভিভাবকরা।

সুমাইয়া খাতুন নামে এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর মা বলেন, “আমার মেয়ে চলাফেরা করতে অনেক কষ্ট পায়। হুইলচেয়ারটি পেয়ে অনেক উপকার হলো। এখন তাকে সহজে যাতায়াত করাতে পারব।”

সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসমা তারা বলেন, “কেউ পিছিয়ে থাকবে না এই লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন স্কুলের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মাঝে হুইলচেয়ার, ফুটবল ও ভলিবল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বিষ স্প্রে মেশিন ও আরসিসি পাইপও বিতরণ করা হয়েছে।”




গাংনীর বামন্দীতে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ৮ হাজার টাকা জরিমানা

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দীতে ট্রেড লাইসেন্স না থাকা এবং ব‍্যাবসা প্রতিষ্ঠানে মূল‍্য তালিকা প্রদর্শন না করাই দুই ব‍্যাবসা প্রতিষ্ঠানকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

আজ বুধবার দুপুরে গাংনী উপজেলার বামন্দী বাস স্ট‍্যান্ড এলাকায় অভিযানকালে এ জরিমানা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মেহেরপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক (অ. দা.) মোহাম্মদ মামুনুল হাসান।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মেহেরপুর জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মেহেরপুর জেলা কার্যালয় কর্তৃক গাংনী উপজেলায় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ ধারা অনুসারে ট্রেড লাইসেন্স ব্যতিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও মূল্য তালিকা না থাকার কারণে হায়বাত মিষ্টান্ন ভাণ্ডারকে ৫ হাজার টাকা ও মাসুম মিষ্টান্ন ভাণ্ডারকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।

এ সময় অন্যান্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার প্রদান-সংরক্ষণ করা, মানসম্মত পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা জন্য এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা হতে বিরত থাকার নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

জনস্বার্থে এ অভিযান চালমান থাকবে বলে জানিয়েছে মেহেরপুর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যালয়।




দামুড়হুদায় মাঠ দিবস ও কারিগরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় উপজেলায় ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ‘মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় কৃষক মাঠ দিবস ও কারিগরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বেলা ১২টায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলার জয়রামপুর শেখপাড়ায় কৃষক রুহুল আমীনের আম বাগানে এ মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আলমগীর বিশ্বাস।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আমাদের দেশে ৩০ হাজার কোটি টাকার মশলার বাজার আছে। প্রতি বছর আমরা ৯০০ কোটি টাকার মশলা আমদানি করি। এই অঞ্চলের কৃষকরা কিন্তু উদ্যক্তা। মোট ১০৯ প্রকার মশলা হয়, এর মধ্যে ৫০ প্রকার মশলা আমাদের দেশে চলে, এর মধ্যে ১৭টি মশলার চাষ হয়। কিন্তু বেশি চাহিদা ৫টি মশলার। আপনারা বাড়ির আশপাশের পতিত জায়গায় এই বারি রসুন ৩ ফলাতে পারেন। বাড়িতে যদি বস্তায় আদা চাষ করেন তাও নিজেদের পরিবারের চাহিদা মেটাতে পারি। তাই মশলা যদি আমরা নিজেরাই চাষ করি তাহলে আমাদের আমদানিতে টাকা খরচ কম হবে। আমরা আগামীতে আর বাইরে থেকে পিয়াজ আমদানি করতে চাইনা। আগামীতে ৪৪,৫০০ জন কৃষকদের পেয়াজ চাষের জন্য সার বীজ সব দিয়ে সহযোগিতা করা হবে। আমরা আর বাইরের দেশ থেকে পেয়াজ আমদানি করতে চাইনা। আপনারা এই বারি রসুন ৩ চাষ করে নিজের পরিবারের চাহিদা মেটাতে পারি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষ্ণ রায়।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার, উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার অভিজিৎ কুমার বিশ্বাস, কৃষি উপসহকারী সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে বারি রসুন-৩ জাতের চাষাবাদ, ফলন বৃদ্ধি ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের মসলা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনাও প্রদান করা হয়।উক্ত মাঠ দিবস ও আলোচনা সভায় প্রায় ১৫০ জন কৃষক-কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন।




চুয়াডাঙ্গায় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) উদ্যোগে প্রায় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে।

আজ বুধবার (৬ মে) সকাল ১১টায় ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত “মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান-২০২৬” এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন।

এসময় বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত দেশ গঠনে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। সীমান্তে দিন-রাত দায়িত্ব পালন করে সদস্যরা মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

আরও বলেন, মাদক একটি জটিল সামাজিক সমস্যা এটি প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ, মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল হুদাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজিবি জানায়, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৪৯ জন আসামিসহ ৩৪ কোটি ২০ লাখ ৪১ হাজার ৫৩৫ টাকা মূল্যের মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়।

ধ্বংস করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে ছিল ৩,৯৮৩ বোতল বিদেশি মদ, ১০,৬১৭ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল, ২৯ বোতল বিয়ার, ২৩৮.৭৯ কেজি গাঁজা, ১.৮৫৭ কেজি হেরোইন, ১.৮৯ কেজি কোকেন, ২৫,৪৮৫ পিস বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় ট্যাবলেট (ভায়াগ্রা/সেনেগ্রা/ট্যাপেন্টাডল) এবং ১৯টি নেশাজাতীয় ইনজেকশন। এসব মাদকের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ কোটি ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬৬৫ টাকা।




মেহেরপুরে গাঁজা সেবনের দায়ে যুবকের জেল-জরিমানা

মেহেরপুর সদর উপজেলায় মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের বিশেষ অভিযানে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ খায়রুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে আসামিকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে গতকাল মঙ্গলবার শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোঃ রাকিবুল ইসলাম ডেনি (২৩) নামে এক যুবককে গাঁজাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে ০৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
আসামি রাকিবুল ইসলাম ডেনি শ্যামপুর এলাকার বাসিন্দা মৃত মোহন আলীর ছেলে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ খায়রুল ইসলাম সরাসরি আদালত পরিচালনা করে আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মেহেরপুরে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

এ ধরনের অভিযান জেলার মাদকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।




কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অগ্নিকাণ্ডে কৃষকের ঘরবাড়ি ভস্মীভূত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে এক কৃষকের বসতবাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টার আগুনে তিনটি বসতঘর, ঘরের আসবাবপত্র, টিন, নগদ টাকা, খাদ্যশস্য ও কাপড়চোপড়সহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুলপুর ঘোগা এলাকায় বাহাদুর আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বাহাদুর আলীর বাড়িতে আগুন দেখতে পান প্রতিবেশীরা। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। বিদ্যুতের শকের ভয়ে প্রথমে কেউ আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেননি। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলতে থাকে এবং তিনটি ঘরসহ ঘরের সব জিনিসপত্র পুড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঘটনার সময় পরিবারের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। বাহাদুর আলী মাঠে কৃষিকাজে ব্যস্ত ছিলেন এবং তার স্ত্রী-সন্তানরা একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন।

ক্ষতিগ্রস্ত বাহাদুর আলী বলেন, “আগুনে আমার তিনটি ঘরসহ খাট, চেয়ার, টেবিল, আলনা, টিন, ড্রেসিং টেবিল, হাঁড়ি-পাতিল, বাক্স, চাল, ধান ও নগদ টাকাসহ সবকিছু পুড়ে গেছে। এখন পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই নেই। প্রায় ১০-১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

প্রতিবেশীরা জানান, আগুনে বাহাদুর আলীর সবকিছু পুড়ে যাওয়ায় তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। তারা দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানান।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সরকারিভাবে সহায়তা প্রদান করা হবে।




কুষ্টিয়ার খোকসায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ভ্যানচালকের

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঝন্টু দাস (৪২) নামে এক ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার একতারপুর (পালপাড়া) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ঝন্টু দাস খোকসা উপজেলার কমলাপুর ঋষিপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজ ভ্যান চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি উল্টে গেলে তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

হাসপাতালে নেওয়ার পর দায়িত্বরত চিকিৎসক আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবির হোসেন সোহাগ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।




গাংনীতে বোমা সদৃশ বস্তু ও হুমকিমূলক চিরকুট উদ্ধার

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামে একটি বোমা সদৃশ বস্তু ও হুমকিমূলক চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৬ মে) ভোরে সানোয়ার হোসেন পলাশের বাড়ির মূল ফটকের সামনে থেকে বস্তুটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে হাঁটতে বের হয়ে সানোয়ার হোসেনের চাচাতো ভাই শামীম একটি কালো টেপে মোড়ানো সন্দেহজনক বস্তু

দেগাংনীতে বোমা সদৃশ বস্তু ও হুমকিমূলক চিরকুট উদ্ধারখতে পান। বস্তুটির গায়ে লেখা ছিল, “হাত দিলেই ব্লাস্ট, ভালো থাকিস, বাই বাই”—এমন হুমকিমূলক বার্তা। পরে বিষয়টি তিনি সানোয়ার হোসেনকে জানালে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তুটি উদ্ধার করে। নিরাপত্তার স্বার্থে বস্তুটিকে পানিভর্তি একটি বালতিতে রাখা হয়েছে।

গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) আল মামুন জানান, উদ্ধারকৃত বস্তুটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন ধরেই একই এলাকায় এ ধরনের বোমা সদৃশ বস্তু ও হুমকিমূলক চিরকুট রেখে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গাংনী উপজেলার মটমোড়া ও তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নে এ ধরনের একাধিক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।




আলমডাঙ্গা পুলিশের অভিযানে ৮ জন গ্রেফতার

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলার ৮ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, আলমডাঙ্গা স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক মামলার পলাতক আসামি রেজাউল ইসলামের স্ত্রী মুন্নি বেগমসহ গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত অন্যান্য আসামিরা হলেন আলমডাঙ্গা গোবিন্দপুর এক্সচেঞ্জপাড়ার আজিবার রহমানের ছেলে মো. রেজাউল ইসলাম, নাগদাহ পশ্চিমপাড়ার মৃত জহুরুল ইসলামের ছেলে মো. জামাল উদ্দিন, পুরাতন বাজার পাঁচলিয়া গ্রামের জহুরুল হকের ছেলে আসাদুল হক, একই গ্রামের ওসমান মণ্ডলের ছেলে তুহিন মণ্ডল, হারদী শেখপাড়ার রেজাউল করিমের ছেলে মামুনুর রশীদ, পাইকপাড়ার মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে (নাম অজ্ঞাত), আলমডাঙ্গা শিবপুর গ্রামের মৃত সাজিদুর রহমানের ছেলে জুবায়ের রহমান (২৮) এবং কালিদাসপুর উত্তরপাড়ার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে আব্দুর রহমান (২৮)।

আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বাণী ইসরায়েল জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আদালতের রায় বাস্তবায়ন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরিবারে সহায়তার হাত বাড়ালেন গাংনীর ইউএনও

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ধলা গ্রামের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ভ্যানচালক আব্দুল লতিবের পরিবারের দুর্দশার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন।

মঙ্গলবার বিকেলে ইউএনও আনোয়ার হোসেন নিজে আব্দুল লতিবের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের হাতে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ ১০ হাজার টাকা তুলে দেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল গভীর রাতে লতিবের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি চুরি হয়ে যায়। পরিবারের চার সদস্যের মধ্যে তিনজনই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তারা চরম মানবিক সংকটে পড়ে এবং অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে থাকে। এ ঘটনায় স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

ইউএনও আনোয়ার হোসেন বলেন, “সংবাদটি দেখেই আমরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্যোগ নিয়েছি। অসহায় এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। ভবিষ্যতে তাদের জন্য স্থায়ীভাবে কিছু করার চেষ্টা থাকবে।”

এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফারুক হোসেনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সহায়তা পেয়ে আব্দুল লতিব কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ। এতে আমাদের পরিবার উপকৃত হলো।”

স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও পরিবারটির স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য একটি নতুন ভ্যান বা আয়বর্ধক সহায়তা প্রদান জরুরি।