আলমডাঙ্গায় পুলিশের অভিযানে মাদকসহ একজন গ্রেপ্তার

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ২০ (বিশ) পিস ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেটসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানার এসআই (নি.) মোঃ হাবিবুর রহমান সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।

গত রবিবার রাত ৮টার দিকে আলমডাঙ্গার ডাউকি ইউনিয়নের বাদেমাজু গ্রামের মোঃ রবিউল ইসলামের বসতবাড়ির সামনে পাকা রাস্তার ওপর থেকে রিয়াজ মালিথার ছেলে মোঃ রাজিব মালিথাকে (২৭) ২০ পিস ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামি রাজিবের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।




ঝিনাইদহে সংরক্ষিত আসনে আলোচনায় কামরুন নাহার লিজি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের নিরঙ্কুশ জয়ের পর এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সংরক্ষিত নারী আসন। জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টন নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক সমীকরণ। এর মধ্যে ঝিনাইদহ থেকে সংরক্ষিত আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ে রয়েছেন জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী অধ্যক্ষ কামরুন নাহার লিজি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিএনপির হাইকমান্ড দীর্ঘদিনের ত্যাগী, রাজপথে সক্রিয়, শিক্ষিত ও অসাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তির নেত্রীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই মানদণ্ডে ঝিনাইদহে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী ও জেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক কামরুন নাহার লিজি।

জানা যায়, ঝিনাইদহ শহরতলীর মুক্তিযোদ্ধা মসিউর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার আওয়ামী শাসনামলে রাজপথের বিভিন্ন আন্দোলনে সম্মুখসারিতে ছিলেন। মিছিল-মিটিংয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তাকে ও তার পরিবারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে। তবুও তিনি দলীয় আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।

তার রাজনৈতিক জীবনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। ২০০৮ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের সময় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় জড়ানো হয় তাকে। ২০১৩ সালে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে গুরুতর আহত হন। একই বছরে তাকে অবৈধভাবে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়। দীর্ঘ চার বছর চাকরিচ্যুত থাকাকালীন সময়েও বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন তিনি। নারী নেত্রী হওয়া সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে একাধিক নাশকতার মামলা করা হয়। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের প্রেসিডিয়াম সদস্যের দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষিত ও ত্যাগী নারী নেত্রী হিসেবে অধ্যক্ষ কামরুন নাহার লিজির মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কামরুন নাহার লিজি বলেন, “ছাত্রজীবন থেকেই শহীদ জিয়ার আদর্শ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বের অনুসারী। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় রাজপথে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। দল যদি আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করে, তবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে ঝিনাইদহের মানুষের সেবা করতে চাই। বিশেষ করে নারীদের অধিকার আদায় এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করে যাব।”

ঝিনাইদহে বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝেও কামরুন নাহার লিজিকে নিয়ে ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে।




লালনের দর্শনে দেহতত্ত্ব, রসতত্ত্ব ও ভাবতত্ত্ব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান

বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ফরহাদ মঝহার বলেছেন, লালনের দর্শনে দেহতত্ত্ব, রসতত্ত্ব ও ভাবতত্ত্ব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তিনি বলেন, “আমরা রস উপলব্ধি করি। রস মানে ভালোবাসা। আমরা আজ সাধুভক্তরা এখানে এসেছি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে। পরস্পরের সঙ্গে জানাশোনা, মিলন—এসবই রসের প্রকাশ।”

সোমবার বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের স্মরণোৎসব ও দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সাধুসঙ্গের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, লালনের দর্শনে দেহতত্ত্ব, রসতত্ত্ব ও ভাবতত্ত্ব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তিনি মানুষকেই সর্বোচ্চ সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। জাত-পাত, বর্ণভেদ ও ধর্মীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক মিলনের যে দর্শন তিনি দিয়েছেন, দোল উৎসব সেই চর্চারই এক জীবন্ত উদাহরণ।

দোল পূর্ণিমা ও সাধুসঙ্গের ঐতিহ্য উল্লেখ করে ফরহাদ মঝহার বলেন, লালনের জীবদ্দশায় দোল পূর্ণিমার রাতে সাধুসঙ্গ আয়োজনের রীতি ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর ছেঁউড়িয়ায় এই দোল উৎসব পালিত হয়। দেশ-বিদেশ থেকে বাউল, ফকির, গবেষক ও দর্শনার্থীরা এখানে সমবেত হন। আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণে চলে লালনগীতি পরিবেশন, দর্শনচর্চা ও সারারাতব্যাপী সাধুসঙ্গ।

ফরহাদ মঝহার স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমি ছাত্র থাকাকালে এখানে আসতাম। তখন কুপি জ্বালিয়ে বাঁশবাগানে সাধুসঙ্গ হতো। এখন অনেকেই আর নেই।” তিনি দোল উৎসবের গুরুত্ব তুলে ধরে সকলকে বিনয়ী থাকার আহ্বান জানান এবং উল্লেখ করেন, নারীদের মধ্যে এই বিনয়ের চর্চা বেশি দেখা যায়।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি মো. ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন।

অনু্ষ্ঠানে মূখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রশিদুজ্জামান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মীর তনিমা।

জানা গেছে, মরমি সাধক লালন শাহ তার জীবদ্দশায় দোল পূর্ণিমার রাতে শিষ্যদের নিয়ে রাতে কালীগঙ্গার ধারে সাধুসংঘে বসতেন। তারই ধারাবাহিকতায় লালন শাহের তিরোধানের পরও প্রতিবছর ফাল্গুন মাসের শেষদিকে লালনের আখড়াবাড়িতে দোলপূর্ণিমা বা স্মরণোৎসব উদযাপন হয়।

সেই ধারাবাহিকতায় দোলপূর্ণিমা তিথিতে প্রতিবছর ছেঁউড়িয়ায় আখড়াবাড়িতে তিন দিনব্যাপী সাড়ম্বরে উদযাপিত হয় ফকির লালন শাহ স্মরণোৎসব। সাধু-গুরু, লালনভক্তদের সরব উপস্থিতি, গান ও গ্রামীণ মেলায় জমজমাট হয়ে ওঠে আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণ। এবার রমজানের কারণে একদিনই উদযাপিত হয় স্মরণোৎসব। ছিল না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা।

এদিকে এই উৎসব উপলক্ষে কয়েক দিন আগে থেকেই আখড়াবাড়িতে আসতে শুরু করেছেন লালনভক্ত বাউল ফকিররা। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে লালনের গান। দলে দলে বিভক্ত হয়ে বাদ্যযন্ত্রের তালে গান পরিবেশন করছেন তারা। তবে এবার আখড়াবাড়িতে ভক্তদের উপচেপড়া ভিড় নেই। আখড়াবাড়ির প্রবেশপথের দেওয়াল ঘেরা বিকেলে সরেজমিন এমর দৃশ্য দেখা যায়।




চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত কর্মীর হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারে হামলায় জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান নিহত হওয়ার প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে সদর উপজেলা ও পৌর জামায়াত।

সোমবার বেলা ৩টায় শহরের চৌরাস্তা মোড়ের মুক্তমঞ্চে সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে জামায়াতের নেতারা বলেন, “জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর এ নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। দ্রুত সময়ের মধ্যে হাফিজুর রহমান হত্যার সঙ্গে জড়িত দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও দুর্নীতিবাজদের প্রতিহত করতে হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবসময় মজলুমের পক্ষে সোচ্চার থাকবে। সকলকে এই জুলুমের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানাই।”

তারা আরও বলেন, এ হত্যাকাণ্ড দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রুখে দিতে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড জেলার জন্য অশুভ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

এ সময় বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান, পৌর জামায়াতের আমির হাসিবুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি হুমায়ুন কবির শান্ত, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির বিলাল হোসাইন, জেলা ইউনিট সদস্য আব্দুর রউফ এবং জেলা ইসলামী ছাত্রশিবির সভাপতি সাগর আহমেদ প্রমুখ।

বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে হাফিজুর রহমানের হত্যার প্রতিবাদ ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের চৌরাস্তা মোড় থেকে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।




মুজিবনগরে পেঁয়াজের মানসম্মত বীজ উৎপাদন কৌশল বিষয়ক মাঠ দিবস

মুজিবনগরে পেঁয়াজের মানসম্মত বীজ উৎপাদন কৌশল বিষয়ক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় মেহেরপুর সদরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন ও গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে মুজিবনগর পিকনিক স্পটে এ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, এমএলটি সাইট মুজিবনগরের বৈজ্ঞানিক সহকারী হাসান আলীর সঞ্চালনায় এবং বারাদি, মেহেরপুর সদরস্থ প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মতিয়ার রহমানের (প্রকল্প পরিচালক) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুজিবনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মুজিবনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মুন্সি ওমর ফারুক প্রিন্স, মুজিবনগর কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাসানুজ্জামানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

মাঠ দিবসে সভাপতি ও প্রধান অতিথি অংশগ্রহণকারী কৃষকদের মানসম্মত পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের সঠিক পদ্ধতি ও করণীয় বিষয় তুলে ধরেন। এছাড়া হাতে-কলমে দেখানো হয় কীভাবে হাতের মাধ্যমে পেঁয়াজ ফুলের পরাগায়ন ঘটিয়ে উন্নত ও পরিপুষ্ট বীজ উৎপাদন করা যায়।

মাঠ দিবসে প্রায় ৮০ জন কৃষক-কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন।




মুজিবনগরের পাঁচ প্রতিষ্ঠানে ৩৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার কেদারগঞ্জ বাজার এলাকায় তদারকিমূলক অভিযান চালিয়ে ৩৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

আজ সোমবার সকালে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মেহেরপুর জেলা কার্যালয় কর্তৃক এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন মেহেরপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (অতি. দা.) মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. রিয়াজ মাহমুদ এবং জেলা পুলিশের একটি টিম।

অভিযানকালে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৩৮ অনুযায়ী মূল্য তালিকা যথাযথভাবে প্রদর্শন না করার অপরাধে আলিফ বস্তা ট্রেডার্স অ্যান্ড চাউল ভান্ডারকে ৫০০ টাকা, কালাম স্টোরকে ৫০০ টাকা এবং জোয়ার্দ্দার স্টোরকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া কসমেটিকসে মূল্য উল্লেখ না থাকা এবং লাইসেন্স ছাড়া গ্যাস বিক্রির দায়ে ধারা ৩৭ ও ৫২ অনুযায়ী তাসিন কসমেটিকস অ্যান্ড গিফট কর্নারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। খাদ্যে নিষিদ্ধ দ্রব্য (হাইড্রোজ) ব্যবহার করায় ধারা ৪২ অনুযায়ী মিজান হোটেলকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ সময় আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ, মানসম্মত পণ্য বিক্রয় এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য/ওষুধ ক্রয়-বিক্রয় থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।




দামুড়হুদায় নানা অনিয়মে প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় অন্য প্রতিষ্ঠানের পণ্য নিজ নামে প্যাকেটজাত করা এবং শিশু খাদ্যে ব্যবহৃত ফ্লেভারজাত পণ্যে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ না করার অভিযোগে এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

গত রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত উপজেলার মোস্তফাপুর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিয়মিত তদারকি অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, অভিযানের সময় দেখা যায় অন্য প্রতিষ্ঠানের পণ্য নিজস্ব নামে প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। এছাড়া শিশু খাদ্যে ব্যবহৃত ফ্লেভারজাত পণ্যের মোড়কে উৎপাদন তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ ছিল না, যা ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনের লঙ্ঘন।

এ অপরাধে মফিজুর রহমানের মালিকানাধীন মেসার্স সিপি ফুড প্রোডাক্টকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে অনিয়মগুলো সংশোধন করে সঠিক নিয়মে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অভিযান পরিচালনা করেন জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। এ সময় সহযোগিতায় ছিলেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম এবং পুলিশের একটি টিম।

স্থানীয় সচেতন মহল এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভোক্তারা নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য পেতে পারেন।




দামুড়হুদায় গভীর রাতে অবৈধ মাটি কাটায় অভিযান: ৪ জনের কারাদণ্ড

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর ইউনিয়নের গোপালপুর-ইব্রাহিমপুর এলাকায় অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কাটার অভিযোগে গভীর রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত ১১টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে ৪ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহীন আলম।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় প্রভাবশালী একটি চক্র কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রি করে আসছিল বলে অভিযোগ ছিল। অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে মাটি কাটার প্রমাণ পাওয়া যায়।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (২০২৩ সংশোধিত) এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ৪ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে ১ (এক) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নতিপোতা গ্রামের আছের উদ্দিনের ছেলে মজিবুল, একই গ্রামের মৃত আকবরের ছেলে খাইরুল ইসলাম, কুলবিলা গুচ্ছগ্রামের ছমির উদ্দিনের ছেলে সোহেল রানা এবং মাগুরা গ্রামের নওশের আলীর ছেলে আবুল কাশেম।

অভিযান চলাকালে প্রশাসনের উপস্থিতিতে অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় সহযোগিতা করে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট ও পরিবেশের ভারসাম্য ধ্বংস করে অবৈধভাবে মাটি কাটা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের এ কঠোর পদক্ষেপে অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হবে এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।




১ কেজি সজনে ডাঁটার দামে ১ কেজি খাসির মাংস

কৃষিনির্ভর মেহেরপুরের সবজি বাজারের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে সজনে ডাঁটা। বাজারের সবচেয়ে দামি সবজি এখন দেশি সজনে ডাঁটা।

গ্রীষ্মকালীন এই সবজিটির দাম এতটাই বেশি যে, এক কেজি সজনে ডাঁটার দামে বাজারে মিলছে এক কেজি দেশি জাতের খাসির মাংস।

অর্থাৎ ১ কেজি নতুন সজনে ডাঁটা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকা করে। অন্যদিকে ১ কেজি খাসির মাংসও বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকা করে। বর্তমান বাজারে সজনে ডাঁটার দাম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

জেলার ঐতিহ্যবাহী বামন্দী বাজার ঘুরে শুক্রবার দেখা যায়, সেখানে ভারতীয় সজনে ডাঁটা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৭০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। আর দেশি সজনে ডাঁটা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। যেখানে বামন্দী বাজারে খাসি-ছাগলের মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ হাজার ১৮০ টাকা পর্যন্ত।

ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে নতুন কোনো সবজি আসলেই ইচ্ছেমতো দাম হাঁকা হয়। তার ওপর রমজান মাস। তাদের দাবি, বাজার মনিটরিং যথাযথভাবে না থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

তবে প্রশাসনের দাবি, বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রতিনিয়ত কাজ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে তদারকি আরও বাড়ানো হবে।

জেলার বৃহৎ বামন্দী বাজারে অন্যান্য সবজির দাম ছিল কেজিপ্রতি—সজনে ডাঁটা ১৪০ থেকে ৪৮০ টাকা, বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, টমেটো ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, শিম ৩০ থেকে ৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ টাকা, পুঁইশাক ৪০ টাকা। খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ১৮০ টাকা, ছাগলের মাংস ১ হাজার টাকা এবং গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা পর্যন্ত।

প্রবাসী আঃ কাদের বলেন, “আমি সৌদি আরব থেকে দেশে ঈদ করতে এসেছি। রমজান মাসে পরিবারের সদস্যরা মাছ-মাংসের চেয়ে সবজি বেশি পছন্দ করে। তাই বাজারে সবজি কিনতে এসেছি। নতুন সবজি হিসেবে আধা কেজি সজনে ডাঁটা কিনলাম। দাম নিয়েছে ৫৮০ টাকা। এত বেশি দামে আগে কখনও সজনে ডাঁটা কিনিনি।”

স্কুল শিক্ষক ফারুক আহমেদ বলেন, “বাজারে নতুন কিছু এলেই দাম হয়ে যায় আকাশচুম্বী। পণ্যের দাম বাড়াতে বা কমাতে কারও অনুমতি লাগে না। নিষেধ করারও কেউ নেই। তা না হলে এক কেজি সজনে ডাঁটার দাম ১ হাজার ১০০ টাকা হয় কীভাবে? অথচ এটি আমাদের স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফসল।”

সবজি ব্যবসায়ী কাঞ্চন বলেন, “বছরের শুরুতে সবজির দাম কিছুটা বেশি ছিল। এখন রমজান মাস চললেও বেশিরভাগ সবজির দাম তুলনামূলক কম। বাড়তি দাম রয়েছে শসা ও সজনে ডাঁটায়। দেশি সজনে আজ বাজারে প্রথম এসেছে, তাই ১ হাজার ১০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা সজনে ডাঁটা বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা করে।”

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, “রমজান মাস সামনে রেখে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত বাজার মনিটরিং চলছে। প্রয়োজনে তদারকি আরও বাড়ানো হবে। কোনো ব্যবসায়ীকে সিন্ডিকেট তৈরি করতে দেওয়া হবে না। অতিরিক্ত দাম নিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




আহত জামায়াত নেতাকে দেখতে হাসপাতালে কেন্দ্রীয় আমির

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নে সংঘটিত হামলায় গুরুতর আহত ইউনিয়ন আমির মফিজুর রহমানকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি রাজধানীর কাকরাইলের অরোরা হাসপাতালে গিয়ে আহত নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ঢাকার পল্টন থানা আমিরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তারা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করেন।

জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ ওঠে। হামলাকারীরা রড, চাইনিজ কুড়াল ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতা-কর্মীর ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন।

হামলায় বাঁকা ইউনিয়ন আমির মো. মফিজুর রহমানের বড় ভাই হাফিজুর রহমান (৪৬) নিহত হন। এছাড়া ইউনিয়ন আমিরসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাদের জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাদের ঢাকায় রেফার করা হয়। ঢাকা নেওয়ার পথে হাফিজুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন।

বর্তমানে কাকরাইলের অরোরা হাসপাতালে মফিজুর রহমান আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তার পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন।

এ সময় নেতৃবৃন্দ এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি করেন। পাশাপাশি নিহত হাফিজুর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।