ঝিনাইদহে একটিতে বিএনপি এগিয়ে; বাকি তিনটিতে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহের ৪টি সংসদীয় আসনের নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে।

নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার আর মাত্র ৪দিন বাকী। ধানের ক্ষেত থেকে শুরু করে মসজিদের আঙ্গিনা পর্যন্ত চলছে জয়-পরাজয়ে হিসাব নিকাশ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই আলোচনা।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ সমমনা কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনে না থাকলেও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১০দলীয় রাজনৈতিক জোট এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১দলীয় জোটসহ মোট ৩০টির মত দল নির্বাচনে অংশ গ্রহন করছে। তবে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে চলছে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতার লড়াই ।

ঝিনাইদহ ৪টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ঝিনাইদহ-১(শৈলকুপা) আসনটি আওয়ামী লীগের অধ্যষিত আসন। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে এই আসনে বাম রাজনৈতিক দল বিশেষ করে জাসদের ব্যাপক অবস্থান ছিলো। পরবর্তীতে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন এই আসনটিতে ক্ষমতায় ছিল। এই আসনে জামায়াতের সাংগঠনিক অবস্থা খুব একটি শক্তিশালী ছিলনা। ৫ আগষ্টের পরে জামায়াত সাংগঠনিক ভাবে ফিরে এসে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাই ফলে বিএনপির পাশাপাশি এই আসনটিতে নতুন করে চোখ রাঙ্গাচ্ছে জামায়াত।

এই আসনে ৫জন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি মনোনীত অ্যাড. আসাদুজ্জামানের ধানের শীষ প্রতীক জয়ের ব্যাপারে এগিয়ে রাখলেও মূল লড়াই হবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস এম মতিউর রহমানের দাড়িপাল্লা প্রতীকের সাথে। এই আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৩২৫২৭৮ জন।

ঝিনাইদহ-২(ঝিনাইদহ সদর-হরিণাকুণ্ডু) আসনটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ আসন। গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র এমপিদের দখলে থাকলেও তার আগের ১৫বছর বিএনপির প্রয়াত সাংসদ মশিউর রহমানের দখলে ছিল আসনটি। এই আসনে অনেক অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছেন এই বিএনপির প্রয়াত সাংসদ। তবে আসনটিতে জামায়াতের এমপি হওয়ারো নজির রয়েছে। দুই উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন এবং ২টি পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ৫লাখ ৫শ আট জন। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আব্দুল মজিদ। তিনি সাবেক ছাত্রনেতা, ইউনিয়নের একাধীক বারের চেয়ারম্যান ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। ফলে তার রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। মাঠে প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে আছেন বিএনপির এই প্রার্থী।

বিপরিত দিকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী একটি বেসরকারী কলেজের সহকারী অধ্যাপক আলী আজম মোঃ আবু বকর ক্লিন ইমেজের মানুষ রয়েছে শক্ত অবস্থানে। আসনটিতে জামায়াতের সাংগঠনিক অবস্থা অনেক ভাল তাছাড়া ২৪শে’র আন্দোলন পরবর্তী চাঁদাবাজী এবং লুটতরাজের বিরুদ্ধে দলীয় ইতিবাচক ভূমিকা রাখার কারণে সাধারণ ভোটারদের কাছে তার ভাল অবস্থান রয়েছে বলে ধারণা করছেন সাধারণ ভোটাররা। নির্বাচনে যে কোনো দলে অল্প ভোটের ব্যাবধানে জয়ী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই আসনে মোট ৬জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন এর মধ্যে ধানের শীষ এবং দাড়িপাল্লার মধ্যে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।

ঝিনাইদহ-৩ (কোঁটচাদপুর-মহেশপুর) এই আসনে জামায়াতের সাথে বিএনপির ছিল সুদীর্ঘ সম্পকর্, আওয়ামী লীগ পতনের পর ক্ষমতার ভাগাভাগি ও নির্বাচণী বৈতরণী পার হতে দুদলের সম্পর্ক এখন সাপে নেওলে। আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থীকে একটু এগিয়ে রাখলেও বিএনপি তা মানতে নারাজ, কারণ এই আসনটিতে রয়েছে বিএনপির পুরাতন ইতিহাস ও বারবার পাশ করার রেকর্ড।

আজকে যিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মেহেদী হাসান রনি, তিনি হলেন সাবেক দুই বারের এমপি প্রয়াত শহিদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে। তিনি বাবার দেখানো পথ এবং নেতা কর্মীদের একসাথে নিয়ে নির্বাচন মোকাবেলা করছেন, তিনি আশাবাদী ঝিনাইদহ-৩ আসনটি তিনি পূনরায় উদ্ধার করে তারেক জিয়াকে উপহার দিবেন। এদিকে এই আসনটি নিয়ে জামায়াতের নিশ্চিত জয় আশা করছেন দলের নেতা কর্মীরা। এই আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হলেন, কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান। তিনি একজন ভাল বক্তা এবং স্বনামধন্য ব্যক্তি।

তিনি আশা করেন, এলাকার উন্নয়ন ও মানুষে মানুষে সু সম্পর্ক বজায় রাখতে জামায়াতে ইসলামের বিকল্প নেই। এই আসন ২টি উপজেলা নিয়ে গঠিত কোঁটচাঁদপুর এবং মহেশপুর। মোট ভোটার ৪লাখ একত্রিশ হাজার পনের জন।

এরমধ্যে কোটচাঁদপুরে মোট ভোটার ১লক্ষ আঠাশ হাজার এবং মহেশপুরে মোট ভোটার ৩ লাখ ২হাজার ১শ চৌষট্টি জন।

জামায়াত প্রার্থীর বাড়ি কোটচাঁদপুরে এবং বিএনপির প্রার্থীর বাড়ি মহেশপুরে হওয়ায় কিছু ভোটার আঞ্চলিক অবস্থানের কথা কথাও বিবেচনা করছেন। তবে তেমনটি হলে জামায়াতের প্রার্থী কিছুটা সংকটে পড়বে। সব মিলে আসনটিতে লড়াই হবে দ্বিমুখী। এই আসনে আরও দুজন প্রার্থীও রয়েছে।

ঝিনাইদহ-৪ (সদর-কালীগঞ্জ) এই আসনে বিএনপির একজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে ফলে এখানে ত্রীমুখী লড়ায়ের সম্ভাবনা। আসনটিকে মূলত বিএনপি’র আসন হিসেবে ধরা হয়, কারণ এই আসন থেকে বিএনপির দীঘদিন ধরে জয়ের রেকর্ড রয়েছে। গত তিনটি নির্বাচন ছাড়া স্বাধীনতা পববর্তী বাকি সময় ধরে বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হলেন, গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, তিনি ঝিনাইদহ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং বিএনপিতে সদ্য যোগদানদানকারী প্রার্থী।

কালীগঞ্জ নির্বাচনী এলাকার মধ্যে বাড়ি না হওয়ায় কালীগঞ্জবাসী তাকে মেনে নিতে পারছেন না । অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ছিলেন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বিএনপির ভোট ব্যাংক দখলে রেখেছেন, তাছাড়া আওয়ামী লীগের ভোটও তিনি আশা করছেন।

এছাড়া এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন একটি মাদ্রাসার সুপার মাও. আবু তালেব, তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর। বিএনপি ভোট দুই ভাগে ভাগ হলে জামায়াত এই আসনটিতে নির্বাচিত হলেও অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। সাধারণ ভোটারদের ধারণা আসনটিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে সাইফুল ইসলাম ফিরোজের কাপ-পিরিচ এবং মাও. আবু তালিবের দাড়িপাল্লার মধ্যে। এই আসনে রয়েছে ৩লাখ তেত্রিশ হাজার ৪শ’একষট্ট্রি ভোটার।

সমাজের সুশিল বুদ্ধিজীবীদের ধারণা ঝিনাইদহ ৪টি আসনেই আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরদের জয়-পরাজয়ে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

ঝিনাইদহে অবাধ নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে জেলা রিটানিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ ও পুলিশ সুপার মোঃ মাহফুজ আফজাল জানিয়েছেন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে তারা সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন। বিশৃঙ্খলা দমনে কয়েক স্তরে আইন শৃঙ্খলা কাজ করছে, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে তারা বদ্ধপরিকর।




মেহেরপুরে বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচনী জনসভা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদান এবং ভোটকেন্দ্র পাহারার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাসুদ অরুন। তিনি বলেন, ভোটাররা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সকালে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন এবং ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করে কেন্দ্র পাহারা দেবেন।

রোববার বিকেলে মেহেরপুর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মাসুদ অরুন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান। পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আলমগীর খান সাতু, আনছারুল হক, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মারুফ আহমেদ বিজন, মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ মোহাম্মদ, জেলা কৃষক দলের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাহবুব, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী সায়েদাতুন্নেছা নয়ন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আকিব জাভেদ সেনজীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট প্রদান ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সবাইকে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান।




চুয়াডাঙ্গার জয়রামপুরে বিএনপির নির্বাচনী মিছিল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে দিন দিন পাল্টে যাচ্ছে ভোটের মাঠের চিত্র। নির্বাচনী প্রচারণায় ক্রমেই বাড়ছে সাধারণ মানুষের সরব অংশগ্রহণ।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রবিবার বিকেলে দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের জয়রামপুর ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজনে এক বিশাল নির্বাচনী মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আছরের নামাজের পর জয়রামপুর স্টেশন এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে গ্রামের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে কৃষক, দিনমজুর, শ্রমজীবী মানুষ, যুবক, বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। মিছিলজুড়ে ছিল সুশৃঙ্খল উপস্থিতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ।

স্থানীয়দের মতে, নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বাড়ছে। গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা। ফলে পুরো আসনজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।মিছিলে উপস্থিত ছিলেন হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক নাফিজ আক্তার সিদ্দিকী সাংগঠনিক সম্পাদক মালেক রুস্তমসহ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, আমরা এখন নির্বাচনী প্রচারণার শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছি। মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে চায়, নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চায়। জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি আমাদের অনুপ্রাণিত করছে।

তিনি আরও বলেন, ভোটারদের কাছে আমাদের মূল প্রত্যাশা হচ্ছে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। জনগণ যাকে যোগ্য মনে করবে, তাকেই ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করবে, এই প্রত্যাশাই করি। আপনারা জানেন যে, চুয়াডাঙ্গা ২ আসনে অন্য যে-কোন দলের প্রার্থীর চেয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু সবার সেরা। তিনি নির্বাচিত হলে এই অঞ্চলের আমুল পরিবর্তন ঘটবে।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে এবারের নির্বাচনী প্রচারণা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রাণবন্ত। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে মাঠের বাস্তবতায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগমুহূর্তে পুরো এলাকায় বাড়ছে রাজনৈতিক তৎপরতা, আলোচনায় ভোটের হিসাব-নিকাশ, আর সাধারণ মানুষের সক্রিয় উপস্থিতি যা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও গতিশীল করে তুলছে।




ঝিনাইদহ-৪ আসনে আবারো স্বতন্ত্র প্রার্থীর অফিসে হামলা-ভাংচুর, আহত ৬; পুলিশের নিরবতা

ঝিনাইদহ-৪(কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) আসনে একের পর এক স্বতন্ত্র প্রার্থী কাপ-পিরিচ প্রতিকের সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নির্বাচনী অফিস ও সমর্থকদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাংচুর করা হচ্ছে। ঘটনাটি নির্বাচনী আচরণ বিধির মধ্যে পড়লেও পুলিশের নিরব ভুমিকা পালনের অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা সবার প্রতি সমান সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় নলডাঙ্গায় বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের অফিস ভাংচুর করা হয়। এ সময় অফিসে থাকা ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও ফিরোজের কর্মী ওয়াজ্জেদ এবং তার ছেলে বাদশা ও আহাদ ,ঘড়াশুনি গ্রামের রাজ্জাকের ছেলে শামীম ও শ্রীমন্তপুর গ্রামের আয়নালের ছেলে জনিকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত ৮ টার দিকে কালীগঞ্জ শহরের নিশ্চিন্তপুর নির্বাচনী অফিসে হামলা চালানো হয়।

এসময় অফিসের টেবিল, চেয়ার ও তিনটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। ঘটনাস্থল থেকে ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়। এরপর এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

একই দিন রাতে ৮ জনের একটি দল পৌরসভার হেলাই গ্রামের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের আরেকটি নির্বাচনী অফিসে হামলা চালায়। অফিসে থাকা চেয়ারগুলো ভাংচুর করে দ্রুত মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যায়। অপরদিকে গত ৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাত ৮টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে বাগবিতন্ডার এক পর্যায়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের করা হয়। এসময় আহত করা হয় ৩জনকে। এছাড়া প্রতিদিন নির্বাচনে এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় বিছিন্ন ঘটনা ঘটতেই আছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ অভিযোগ করেন, আমার কর্মী-সমর্থকরা সর্বোচ্চ ধৈর্য্যরে পরীক্ষা দিচ্ছে। প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হবে আমি মনে করি। নির্বাচন দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই আসার প্রতি অবিচার করা হচ্ছে। প্রশাসনও এক রকম পক্ষ-পাতিত্ব করছে বলে মনে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী রাশেদ খানের মোবাইলে ফোন দিলে তিনি জানান, তার নেতাকর্মী, সমর্থকেরা হামলা-ভাংচুরের সাথে জড়িত নয়।

স্বতন্ত্র প্রার্থী লোকজনই নিজেদের অফিস-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিজেরাই ভেঙ্গে আমাদের উপর দোষ চাপাচ্ছে।

কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নলডাঙ্গায় অবস্থিত অফিস ভাংচুরের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




শৈলকুপায় সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ: বাধা দেওয়ায় যুবকদের মারধর

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় সড়ক নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিত্তিপাড়া বাজার থেকে রাজাপুর পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকাকরণের কাজে ঠিকাদার প্রকাশ্যে দুই নম্বর ইট ও পোড়া মাটির মতো নিম্নমানের ইট ব্যবহার করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

ঝিনাইদহ এলজিইডির দেওয়া তথ্য মতে, কাঁচেরকোল বাজার টু রাজাপুর ক্যানেল সড়কে দেড় কিলোমিটার এই রাস্তাটি পাকাকরণে খরচ হচ্ছে ১ কোটি ৫০ লাখ ৩১ হাজার ৩’শ ৮৬ টাকা। কাজটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় মেসার্স ঝিনাইদহ বাজার নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে কাজটি স্থানীয় কৃষকদল নেতার ভাই ইলিয়াস আলী সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তার ভিত্তি শক্ত না করেই তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। ব্যবহৃত ইটগুলো হাত দিয়েই ভেঙে যাচ্ছে, যা কোনোভাবেই টেকসই সড়ক নির্মাণের উপযোগী নয়। এতে করে সরকারি অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত টেকসই সড়কের স্বপ্নই থেকে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় আপেল মাহমুদ নামের এক যুবক অভিযোগ করেন, সাব-ঠিকাদার ইলিয়াস কৃষকদল নেতা ওসমান আলীর ভাই। সেই প্রভাবে নিম্নমানের কাজ করেও পার পেয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। কাজ নিম্নমানের হওয়ায় আমরা বাধা দিলে লোকজন নিয়ে আমাদের মারধর করা হয়।

স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসক এস এম আকাম উদ্দিন অভিযোগ করেন, এই রাস্তা আমাদের বহু দিনের দাবি। কিন্তু যেভাবে নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করা হচ্ছে, তাতে বর্ষা আসার আগেই রাস্তা ভেঙে যাবে। আমরা বাধা দিতে গেলে উল্টো আমাদের ওপর চড়াও হচ্ছে ঠিকাদারের লোকজন।

অনিয়মের ব্যাপারে সাব-ঠিকাদার ইলিয়াস আলী বলেন, রাস্তার কাজ সকল নিয়ম অনুযায়ী করা হচ্ছে। নিম্নমানের ইট দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মনোয়ার উদ্দিন বলেন, সড়ক নির্মাণে কোনো প্রকার অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। যদি কোনো ঠিকাদার অনিয়ম করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের বার্ষিকী ‘প্রবর্তনা’র মোড়ক উন্মোচন ও পিঠা উৎসব

মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের বার্ষিকী ‘প্রবর্তনা’র মোড়ক উন্মোচন, পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার সকালে সরকারি মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আব্দুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক রফিকুর রশিদ, কবি ও গবেষক ড. গাজী রহমান এবং সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মুহা: আব্দুল্লাহ আল আমিন।

কথাসাহিত্যিক রফিকুর রশিদ বলেন, ‘প্রবর্তনায় লেখার মাধ্যমে আজ এক আতুর ঘরে জন্ম হলো এক কবির। তিনি হয়তো নিজেই বুকে হাত দিয়ে বলতে পারেন না আমাকে দিয়ে আবার হবে কি না। তবু হবে। আমি চাই সেই স্বপ্নটুকু তাদের ভেতরে বুনে দিতে এই বিশ্বাস যে, হবে। ‘প্রবর্তনা’ সেই আত্মবিশ্বাসটাই যেন তাদের মনে রচনা করে।’

কবি ও গবেষক ড. গাজী রহমান বলেন, ‘যারা পড়াশোনার সঙ্গে থাকে, গবেষণার সঙ্গে থাকে, আর লেখার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখে, তারা আনন্দে থাকার চেষ্টা করে এবং আনন্দ খুঁজে পায়। আনন্দ ও দুঃখ আসলে এক বিশেষ অনুভূতির স্তর, সেই স্তরে পৌঁছাতে না পারলে না আনন্দ স্পষ্ট হয়, না দুঃখের গভীরতা ধরা দেয়। এই পথচলারই এক অনুপ্রেরণার নাম ‘প্রবর্তনা’। প্রবর্তনার মত সৃষ্টিশীল কাজগুলো শিক্ষার্থীদের ভাবনার জগৎ খুলে দেয়, লেখার সাহস জোগায়, আর অনুসন্ধিৎসু মনকে গবেষণার দিকে এগিয়ে নেয়।’

উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মুহা: আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, ‘প্রবর্তনা’ উপলব্ধির পথ দেখায়। এটি শিক্ষার্থীদের ভাবনা, স্বপ্ন আর সৃজনশীলতাকে প্রকাশের সাহস দেয় এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস জাগায়।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও ‘প্রবর্তনা’র আহ্বায়ক কাজী আশরাফুল হক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক একরামুল হাসান লোটাস, ‘প্রবর্তনা’র সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক রূপালী বিশ্বাস, মেহেরপুর প্রতিদিনের সম্পাদক ইয়াদুল মোমিন।

আলোচনা শেষে মেহেরপুর সরকারি মহিলা করেজের প্রকাশিত বার্ষিকী ‘প্রবর্তনা’র মোড়ক উন্মোচন করা হয় । পরে অতিথিবৃন্দ পিঠা মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। পিঠা উৎসবে ১০টি স্টলে নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠা প্রদর্শিত হয়। সবশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

উল্লেখ্য, ‘প্রবর্তনা’য় মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী ও শিক্ষকদের বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল লেখা স্থান পেয়েছে।




মেহেরপুরের ৩নং ওয়ার্ডে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারনা

মেহেরপুরে জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের নেতৃত্বে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারনা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডে মেহেরপুর-১ আসনের আজ রবিবার সকালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদ অরুনের পক্ষে ধানের শীষে ভোট চেয়ে নির্বাচনী প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে স্লোগান দেন, সাধারণ মানুষের মাঝে ধানের শীষ প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করেন এবং আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন কামনা করেন।

এসময় জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের নেতৃত্বে নাসির উদ্দীন, সাইদ হাসান জনি, মৃদুলসহ ৩নং ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




মেহেরপুরের আমঝুপিতে সূর্যমুখী দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়

প্রতিবছরের মতো এবারও সূর্যমুখীর হলুদ ফুলে ভরে উঠেছে মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি (বিএডিসি) ডাল ও তৈলভিত্তিক বীজ উৎপাদন খামার। সূর্য যেদিকে হেলে পড়ে, সূর্যমুখীর ফুলগুলোও ঠিক সেদিকেই মুখ ঘুরিয়ে নেয় প্রকৃতির এই অনন্য দৃশ্য যেন তৈরি করেছে এক অপূর্ব হলুদের রাজ্য।

সবুজ মাঠের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য সূর্যমুখী ফুল মন কেড়ে নিচ্ছে দর্শনার্থীদের। এর সঙ্গে রাস্তার দুই পাশের সারি সারি নারিকেল গাছ পুরো পরিবেশকে করেছে আরও মোহনীয়। প্রজাপতির আনাগোনার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন দল বেঁধে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষ। কেউ আসছেন শুধু চোখ জুড়াতে, কেউ আবার ক্যামেরাবন্দী করতে এই সৌন্দর্য।

এই প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় করছেন মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের পাশে অবস্থিত আমঝুপি ডাল ও তৈলভিত্তিক বীজ উৎপাদন খামারে। পাশ্ববর্তী জেলাগুলো থেকেও মাইক্রোবাস, কার ও মোটরসাইকেলে করে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা।

জানা গেছে, দেশে বীজ ও ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে এবং স্থানীয় কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে উৎসাহিত করতে খামার কর্তৃপক্ষ প্রতিবছরই সূর্যমুখী চাষ করে থাকে। চলতি মৌসুমে বিগত বছরের মতো এবারও সাড়ে ১৬ বিঘা জমিতে বারি সূর্যমুখী-৩ জাতের চাষ করা হয়েছে।

ফুলে ভরা এই মাঠ এখন যেন বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ সেলফি তুলছেন, কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে ছবি তুলছেন। ফুল যেন কেউ নষ্ট না করে, সে জন্য খামার কর্তৃপক্ষকে আলাদা লোকবলও নিয়োগ করতে হয়েছে।

ছবি তুলতে আসা এক কলেজছাত্রী সোহাগ বলেন, এত বড় সূর্যমুখীর মাঠ একসঙ্গে আর কোথাও দেখা যায় না। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য ক্যামেরায় ধরে রাখতে বান্ধবীদের নিয়ে এসেছি।

আমঝুপি গ্রামের এক জিহাদ জানান, নিজের এলাকাতেই এত সুন্দর দৃশ্য, না দেখে থাকা যায় না। তাই পরিবার নিয়ে চলে এসেছি।

শহর ও গ্রাম থেকে ঘুরতে আসা কয়েকজন গৃহবধূ জানান, কয়েক বছর ধরেই সূর্যমুখীর মৌসুম এলেই এখানে ছবি তুলতে আসি। এখানে এলে মনটা ভরে যায়, সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।

ফুলে-ফুলে ভরপুর জেলার একমাত্র এই বীজ উৎপাদন খামার এখন শুধু কৃষি কার্যক্রমেই নয়, বরং প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের জন্য একটি আনন্দঘন ভ্রমণস্থলে পরিণত হয়েছে।




কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য ও জননিরাপত্তা চান মেহেরপুরের ভোটাররা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ৪ দিন। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ভোটারদের মাঝে উৎসব-উদ্দীপনা বাড়ছে; একই সঙ্গে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠাও বিরাজ করছে। অপরদিকে, শেষ সময়ের প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন প্রার্থী ও তাঁদের অনুসারীরা।

প্রার্থীদের কাছে সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা—তাঁরা যেন কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে কাজ করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণে প্রার্থীরাও দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

মেহেরপুরের দুটি আসনের বেশ কয়েকটি গ্রামের সাধারণ কৃষক, গৃহিণী ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের বিষয়ে নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে জনকল্যাণে কাজ করার প্রত্যাশাও সাধারণ ভোটারদের।

এদিকে, নির্বাচনের আগে মেহেরপুরের মুজিবনগর ও গাংনী এলাকায় গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকটি ককটেল ও বোমা উদ্ধার, যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার এবং আঞ্চলিক সড়কগুলোতে ছিনতাই ও চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

মেহেরপুর-১ আসনের আওতাধীন উজুলপুর গ্রামের কৃষক রশিদ আলী বলেন, ‘সরকার আসে সরকার যায়, আমাদের কোনো আয়-উন্নতি নেই। আমরা হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে ফসল ফলাই। কিন্তু বেচতে গেলে দাম পাই না। নতুন সরকারের কাছে দাবি জানাই, তারা যাতে আমাদের ফসলের ন্যায্যমূল্যের ব্যবস্থা করে দেয়।’

মেহেরপুর শহরের হোটেল বাজার এলাকার ভোটার ইমদাদুল হক বলেন, ‘সাধারণ মানুষ যাতে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং রাস্তাঘাটে ছিনতাই-চাঁদাবাজি না হয়—এমনটাই প্রত্যাশা করি।’

মেহেরপুর-২ (গাংনী) সংসদীয় আসনের আওতাধীন গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের গৃহবধূ জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘আমরা গাংনী উপজেলার বাসিন্দা হলেও জেলা শহরের সাথে আমাদের যাতায়াত বেশি। কিন্তু কাজ থাকলেও সন্ধ্যার মধ্যে গ্রামে ফিরতে হয়। সন্ধ্যা নামলেই মনে ছিনতাই ও ডাকাতির ভয় কাজ করে। যিনি আমাদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেবেন, তাকেই ভোট দেব।’

জানা গেছে, মেহেরপুর পৌরসভা, সদর ও মুজিবনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মেহেরপুর-১ সংসদীয় আসন। এ আসনে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৭৫ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৯০, নারী ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮২ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন। ১৯৯০ পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে এ আসনটিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমানতালে জয়লাভ করেছে। এবার এ আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। বিএনপি থেকে মাসুদ অরুণ এবং জামায়াত থেকে তাজ উদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাকিরা হলেন সিপিবি-র অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান এবং জাতীয় পার্টির আব্দুল হামিদ।

মাঠের বাস্তবতায় এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যেই। অতীতে জামায়াতের এ আসনে প্রায় ৩০ হাজার ভোটব্যাংক ছিল, যা বর্তমানে আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুরুতে বিএনপির ভেতরে কিছুটা কোন্দল থাকলেও এখন নেতাকর্মীরা একতাবদ্ধ। তবে জনপ্রিয়তার দিক থেকে মাসুদ অরুণ এগিয়ে থাকলেও প্রচার-প্রচারণায় জামায়াতও বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

অন্যদিকে, মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে ভোটার ২ লাখ ৭০ হাজার ৫ জন। এখানে প্রার্থী তিনজন, তারা হলেন-বিএনপির আমজাদ হোসেন, জামায়াতের নাজমুল হুদা এবং জাতীয় পার্টির আব্দুল বাকী। এখানেও লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। ৯১ পরবর্তি এখানেও কখনো আওয়ামী লীগ কখনও বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

কামরুল ইসলাম নামের এক বিএনপি সমর্থক বলেন, ‘মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাবেদ মাসুদ মিল্টন মনোনয়ন না পাওয়ায় দলীয় কোন্দল এখনো রয়ে গেছে। মিল্টন কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিলেও আমজাদ হোসেনের অনুসারীরা তাঁদের সেভাবে মূল্যায়ন করছেন না। ফলে অনেক কর্মী হয়তো নিষ্ক্রিয় থাকতে পারেন, যা আসনটি ধরে রাখা মুশকিল করে তুলবে।’




চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবুর গণসংযোগ

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবার সন্ধ্যা রাতে দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের বড় দুধপাতিলা গ্রামে এক বিশাল গণসংযোগ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় স্থানীয় ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটার উপস্থিত ছিলেন।

গণসংযোগকালে মাহমুদ হাসান খান বাবু এলাকার ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, তাদের সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং খোঁজখবর নেন। তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, এই আসনের মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। নির্বাচিত হলে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবো।”এ সময় তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

নির্বাচনে এগিয়ে থাকতে তিনি ইতোমধ্যে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রামে পাড়া-মহল্লায় নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিটি কর্মসূচিতেই সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া ও অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা নির্বাচনী মাঠে তাঁর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে। এসময় ইউনিয়ন বিএনপি ও স্থানীয় বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।