দামুড়হুদার জয়রামপুরে তিনতলা ভবন থেকে পড়ে রংমিস্ত্রির মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুরে রংয়ের কাজ করতে গিয়ে তিনতলা ভবন থেকে পড়ে শাকিল (৩৫) নামের এক রংমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার জয়রামপুর মাঠপাড়ার বাসিন্দা ও ওহিদুল ইসলামের ছেলে।

গতকাল শনিবার জয়রামপুর শাহপাড়ায় এক প্রবাসীর বাড়িতে রংয়ের কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, বাড়ির উপরের তলায় বাঁশের মই বেয়ে ওঠার সময় অসাবধানতাবশত পা পিছলে নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন শাকিল।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে, এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে।

নিহত শাকিলের একটি পাঁচ বছর বয়সী কন্যা সন্তান রয়েছে।




আলমডাঙ্গায় প্রস্তাবিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি পরিদর্শনে লিয়াঁজো কমিটি

প্রস্তাবিত ‘চুয়াডাঙ্গা ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (চুয়েট)’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাইট নির্ধারণে আলমডাঙ্গায় লিয়াঁজো কমিটি স্পট ভিজিট করেছে।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ঢাকাস্থ আলমডাঙ্গা কমিটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় জমি সংক্রান্ত বিষয় যাচাই ও স্থান নির্ধারণের জন্য সম্প্রতি লিয়াঁজো কমিটি এ পরিদর্শন করে।

স্পট ভিজিটে উপস্থিত ছিলেন লিয়াঁজো কমিটির উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মির্জা শাহরিয়ার মাহমুদ (লন্টু), আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শরীফুল ইসলাম (ডিন, এগ্রিকালচার ফ্যাকাল্টি, সিটি ইউনিভার্সিটি), সদস্য প্রকৌশলী মো. আমিনুর রহমান (পরিচালক/যুগ্ম সচিব, স্রেডা, পিডিবি), সদস্য ড. মাসুদুল হক ঝন্টু (প্রকল্প পরিচালক, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, জয়দেবপুর), সদস্য সচিব ফারুক আহমেদ (পরিচালক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মিডিয়া ডেভেলপমেন্ট), মহাপরিচালক (রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো) মো. রুহুল আমিন এবং আব্দুল্লাহ আল মামুন সোহেলসহ অন্যান্যরা।

টিমকে স্বাগত জানান আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিস পান্না আক্তার, দর্পণ থিয়েটারের সভাপতি মো. আরশাদ হোসেন সাদ, কলেজপাড়া কল্যাণ কমিটির সভাপতি খোন্দকার সহিদুর রহমান, আলমডাঙ্গা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব খোন্দকার হাবিবুল করিম চঞ্চলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

পরিদর্শনকালে টিমটি প্রাথমিকভাবে দুটি স্থান বন্ডবিল থেকে ফরিদপুরমুখী সড়কের দুই পাশ এবং মুন্সিগঞ্জ গোবিন্দপুর মাঠ এলাকা ঘুরে দেখেন। দ্রুত প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়ন করে তা ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এলাকার কৃতি সন্তান ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন বলেন, “প্রস্তাবিত চুয়েট বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের শিক্ষা ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হবে। তাই এর বাস্তবায়নে স্থানীয়দের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিস পান্না আক্তার বলেন, “চুয়াডাঙ্গা জেলার বৃহত্তম উপজেলা আলমডাঙ্গায় প্রস্তাবিত এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। সরকারিভাবে নির্দেশনা পেলে জমি অধিগ্রহণসহ বাস্তবায়নে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।”

পরিদর্শন শেষে বিকেল ৩টায় লিয়াঁজো কমিটি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন বলে জানা গেছে।




মেহেরপুর প্রশিকার সাবেক কর্মী টুটুল কারাগারে

১৪ লাখ ২৪ হাজার টাকা আত্মসাতের আসামির সামসুজ্জামান টুটুলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

গত ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার মেহেরপুর সদর আমলি আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর সদর থানায় প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক ওসমান গণি বাদি হয়ে সংস্থার সাবেক কর্মী সামসুজ্জামান টুটুলের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর-২১।

মামলার বাদি ওসমান গণি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় আসামি পক্ষে অ্যাড. মারুফ আহমেদ বিজন ও বাদি পক্ষে অ্যাড. এহান উদ্দিন মনা আইনজীবীর দায়িত্ব পালন করেন।

মামলার এজাহারে জানা গেছে, আসামী সামসুজ্জামান টুটুল প্রশিকা মেহেরপুর সদর অফিসের একজন সাবেক কর্মী। আসামী চাকুরীতে যোগদান করার পরে মাঠ পর্যায়ে ঋণ বিতরণকালে বিভিন্নভাবে আর্থিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে।

আমি সহ আমার অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ তাকে অনিয়মের বিষয়ে সতর্ক করতে থাকি। তাকে আমরা কোন ভাবে নিবারণ করতে না পেরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আসামীকে নিয়ে আমাদের অফিসে ২৩ ফেব্রুয়ারি মাঠ পর্যায়ে তার প্রদত্ত লোন এবং কাগজে কলমে লোনের স্থিতির হিসাব করতে বসি।

হিসাব কালে দেখা যায় মাঠ পর্যায়ে তার প্রদত্ত লোন এবং স্থিতির মধ্যে ১৪ লাখ ২৪ হাজার ২৩৫ টাকা ঘাটতি আছে। এই পরিমান টাকা সে লোন প্রদানের নামে বিভিন্ন উপায়ে প্রতারণা পূর্বক আত্মসাৎ করেছে। আসামীকে এ বিষয়ে কাগজে কলমে বুঝিয়ে দিলে তিনি সেটি মেনে নেন এবং আত্মসাৎকৃত টাকা অফিসে ফেরত দেবার জন্য এক মাসের সময় চান।

আমি এবং আমার অফিস কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আলোচনা করে মানবিক কারণে তাকে এক মাসের সময়ে প্রদান করি এবং তার আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ৬ এপ্রিল ‍দুপুর পৌনে ৩টার দিকে মেহেরপুর শহরের মল্লিকপাড়াস্থ আমাম হোসেন মিলুর তিন তলা ভবণের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত প্রশিকা অফিসে আসামী এসে হাজির হয়।

তাকে অফিসের টাকা পরিশোধ করিতে বলিলে তিনি টাকা যোগাড় করতে পারেনি বলে আরো কিছু দিনের সময় চায়। আমরা তাকে সময় দিতে অপরাগতা প্রকাশ করিলে সে উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে চিৎকার করে বলে যে তোরা আমার কাছে কোন টাকাই পাবিনা, আমি কোন টাকাই দিতে পারবো না বলে সে টাকার কথা অস্বীকার করে দম্ভের সাথে অফিস থেকে চলে যায়।

একই ঘটনায় প্রশিকার আরেক কর্মী রীতা সাহা সামসুজ্জামান টুটুলের স্ত্রী পপি খাতুন, আবু আক্তার করণ ও রাশেদ খান মিলনের বিরুদ্ধে মেহেরপুর সদর থানায় একডি জিডি করেন। যার নম্বর-৮০৬। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, ৬ এপ্রিলের ঘটনায় তিনি প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তাকে অশ্লিল ভাষায় গালাগাল করেন এবং নানরকম হুমকি দেন।




মেহেরপুরে ৫০-৫৫ কোটি টাকার লিচু বিক্রির প্রত্যাশা

মেহেরপুরে দিন দিন বাড়ছে লিচুর চাষ। রসালো ও সুস্বাদু হওয়ায় জেলার লিচুর চাহিদা দেশজুড়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিটি বাগানেই চলছে পরিচর্যার কাজ।

আর এক-দুই সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে উঠতে শুরু করবে মেহেরপুরের লিচু। তবে বাজারদর ভালো থাকলে ৫০ থেকে ৫৫ কোটি টাকার লিচু বিক্রির প্রত্যাশা করছেন চাষিরা।

গত বছর মেহেরপুর জেলায় ৭১৫ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছিল। এসব বাগান থেকে উৎপাদিত হয় ৬ হাজার ১১০ মেট্রিক টন লিচু, যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৫০ কোটিরও বেশি।

এ বছর লিচুর আবাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০০ হেক্টরে। বিগত কয়েক বছর ধরে জেলার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে মেহেরপুরের লিচু। রসালো ও সুস্বাদু হওয়ায় বিভিন্ন বাজারে এ জেলার লিচুর কদর বেশি।

মধুমাসের এ ফলকে ঘিরে চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বাম্পার ফলনের আশা। জেলার প্রায় প্রতিটি লিচু গাছেই থোকায় থোকায় সবুজ লিচু শোভা পাচ্ছে। পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে বাগানে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি যত্ন।

জেলায় চায়না থ্রি, বেদেনা, বোম্বাই, মাদ্রাজি, কাঠালী ও আঠি জাতের লিচু উল্লেখযোগ্য।

চাষিরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ লিচু উৎপাদন সম্ভব। তবে ভালো দাম পেলে তবেই তারা লাভবান হবেন।

চিৎলা গ্রামের লিচু বাগান মালিক আব্দুর রহমান বলেন, “পোকামাকড়ের আক্রমণ ঠেকাতে এবং লিচুর স্বাদ ঠিক রাখতে বাগানে বাড়তি যত্ন নেওয়া হচ্ছে।”

যুগিন্দা গ্রামের চাষি হায়াত আলি জানান, “আমার আড়াই বিঘা জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে। গত বছর মুকুল আসার সময়ই পাইকারি বিক্রি করে দিয়েছিলাম। এ বছর বেশি যত্ন নিচ্ছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে কয়েক লাখ টাকার লিচু বিক্রির আশা করছি।”

আরেক চাষি সিরাজ হোসেন বলেন, “গত বছরের তুলনায় এ বছর ফলন বেশি হবে। পোকামাকড় দমনে নিয়মিত ওষুধ প্রয়োগ করছি। তবে দানা আসার পর বাদুড় ও পাখির উপদ্রব বেড়ে যায়। তাই ঝুঁকি এড়াতে অনেক সময় আগাম বাগান বিক্রি করে দিতে হয়।”

জেলার বড় লিচু ব্যবসায়ী নাজমুল হোসাইন জানান, “এ বছর বাগানগুলোতে ভালো ফলন হয়েছে। আগাম কয়েকটি বাগান কিনেছি। মৌসুমজুড়ে আরও বাগান ও কাউন হিসেবে লিচু কেনা হবে। মেহেরপুরের লিচুর চাহিদা সবসময়ই বেশি।”

আরেক ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম গোলাপ বলেন, “আগাম লিচু বাজারে উঠলেই পাইকারদের ভিড় বাড়ে। এ বছরও ভালো ব্যবসার আশা করছি। দাম স্থিতিশীল থাকলে ব্যবসায়ী ও চাষি উভয়ই লাভবান হবেন।”

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সনজীব মৃধা বলেন, “গত বছরের তুলনায় এ বছর গাছে লিচুর গুটি বেশি এসেছে। ৫০-৫৫ কোটি টাকার লিচু বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর যদি বিদেশে বাজার তৈরি করতে পারে, তবে চাষিরা আরও বেশি লাভবান হবেন।”

তিনি আরও জানান, মানসম্মত লিচু উৎপাদনে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক বাগান মনিটরিং করছেন।




মেহেরপুরে চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযান, জেল-জরিমানা

মেহেরপুরে চোরাচালান ও মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। শনিবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ, আনসার বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানটি সদর উপজেলার বুড়িপোতা ইউনিয়ন, পাসপোর্ট অফিসের সামনে, কলেজ মোড়, গোরস্থানপাড়া এবং শ্যামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চালানো হয়।

অভিযানকালে বিভিন্ন স্থানে যানবাহন তল্লাশি করা হয়। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ লঙ্ঘনের দায়ে দুইজন চালককে মোট ২ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

এছাড়া গোরস্থানপাড়া এলাকায় এক ব্যক্তিকে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়। পরে তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(৫) ধারা অনুযায়ী ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অভিযান শেষে শ্যামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রামনগর গ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এসময় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৭ক(ঙ) উপধারা লঙ্ঘনের অপরাধে একজনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




দর্শনা প্রেসক্লাবে হামলা: ভাঙচুর ও সাংবাদিক আহত

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা প্রেসক্লাবে একদল দুর্বৃত্তের হামলায় একজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা প্রেসক্লাবের ভেতরে ঢুকে মারধর, মোবাইল ফোন ভাঙচুর এবং লাইট বন্ধ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রেসক্লাব সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আজিমপুর গ্রামের আতর আলীর ছেলে চঞ্চলসহ কয়েকজন ব্যক্তি প্রেসক্লাবের আশপাশে ঘোরাফেরা করছিলেন। একপর্যায়ে তারা প্রেসক্লাবের দেয়ালে অশোভন আচরণ করেন এবং সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ সময় প্রেসক্লাবের অফিস সহকারী আব্বাস আলী বিষয়টি দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হান্নানকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চঞ্চল তার ওপর হামলা চালায় এবং তাকে মারধর করে। পরিস্থিতি বেগতিক হলে হান্নান প্রেসক্লাবের ভেতরে আশ্রয় নেন।

অভিযোগ রয়েছে, এরপর চঞ্চলের নেতৃত্বে আরও ১০-১২ জনের একটি দল জোরপূর্বক প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে। তারা লাইট বন্ধ করে অন্ধকারের মধ্যে হান্নানের ওপর হামলা চালায় এবং তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ভাঙচুর করে। এতে প্রেসক্লাব এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার খবর পেয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসানসহ পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় দর্শনা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেন। সভায় বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমন, সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান ধীরু, সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, প্রেসক্লাব কোনো সাধারণ স্থান নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সেখানে ঢুকে এ ধরনের হামলা গণমাধ্যমকে ভয়ভীতি দেখানোর শামিল। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেন বলেন, “এটি শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্বের অপচেষ্টা। আমরা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং প্রশাসনের কাছে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।”




ঝিনাইদহে বায়োপেস্টিসাইডের ব্যবহার বিষয়ক কর্মশালা

ঝিনাইদহে ব্র্যাক সিড টেকসই কৃষি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বায়োপেস্টিসাইডের ব্যবহার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার সকালে সদর উপজেলা পশ্চিম দূর্গাপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজ এর আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন সদর উপজেলা কৃষি অফিসার নুর-এ-নবী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার রিজওনাল সেলস ম্যানেজার আকতারুল ইসলাম। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ডিলার মোহাইমিনুল ইসলাম, ব্র্যাক এর কোটচাঁদপুর ব্রাঞ্চের সিনিয়র টেরিটোরি অফিসার আল আমিন, ঝিনাইদহের টেরিটোরি সেলস অফিসার জাকির হোসেন প্রমূখ। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পশ্চিম দূর্গাপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রবিউল ইসলাম।

প্রশিক্ষণ শেষে প্রধান অতিথি সদর উপজেলা কৃষি অফিসার নুর-এ-নবী সহ অতিথিবৃন্দ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ৫০ জন কৃষকের মাঝে ব্র্যাকের হাইব্রিড জাতের বীজ ও ঔষধ প্রদান করেন।




দামুড়হুদায় জোরপূর্বক কৃষকের পাকা ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক পাকা ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে উপজেলার গোবিন্দহুদা গ্রামের আইড়মারি বিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দহুদা গ্রামের মৃত মওলা বক্সের ছেলে মাসুম বিল্লাহ ওরফে মন্টুর সঙ্গে একই গ্রামের মৃত বরকত আলী মণ্ডলের ছেলে নুরুল হকের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে। এর জের ধরে প্রায় সাত মাস আগে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মন্টুর চাচাতো ভাই জয়নুর (৫০) নিহত হন এবং খাজা আহমেদ (৫৫) ও জাহির (৪৫) গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী মাসুম বিল্লাহ মন্টু দাবি করেন, তিনি ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমিতে গত দুই বছর ধরে চাষাবাদ করে আসছেন। শনিবার সকালে তিনি খবর পান, নুরুল হক ও তার সহযোগীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার প্রায় দুই বিঘা জমির পাকা ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। পূর্বের ঘটনার কারণে নিরাপত্তাহীনতায় তিনি ঘটনাস্থলে যেতে পারেননি।

তিনি আরও জানান, তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হলেও পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা ধান কেটে নিয়ে চলে যায়। এর আগেও তার জমি থেকে ভুট্টা ও গম কেটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে নুরুল হকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুলতান মাহমুদ বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।




গাংনীতে এতিম ও প্রতিবন্ধী শিশুদের সম্মানে বিশেষ আপ্যায়ন

“মানবিকতার টানে, হাসুক প্রতিটি মুখ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে কসবা ব্লাড ব্যাংক ও জনকল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে এতিম ও প্রতিবন্ধী শিশুদের সম্মানে এক বিশেষ আপ্যায়ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার দুপুরে গাংনী উপজেলার কসবা গ্রামে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আহাম্মদ আলী, টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের সহকারী অধ্যাপক রফিকুল আলম বকুল, লুৎফুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামাল হোসেন লাল্টু, সংগঠনের সভাপতি রাসেল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক সাগর ইসলাম, সহ-সভাপতি আজিজুল হক আকাশসহ অন্যান্য সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপদেষ্টা রফিকুল আলম বকুল বলেন, কসবার একঝাঁক তরুণের এই মহতী উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের অসচ্ছল, স্বামী পরিত্যক্তা নারী, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জন্য নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শীতকালে শীতবস্ত্র বিতরণ, ঈদে খাদ্যসামগ্রী প্রদান এবং জরুরি প্রয়োজনে রক্তদানসহ নানা মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি এ কার্যক্রমে যারা আর্থিক সহায়তা, সময় ও শ্রম দিয়েছেন তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান এবং ভবিষ্যতে আরও সক্রিয়ভাবে মানবসেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ও বিত্তবানদেরও এ ধরনের উদ্যোগে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

সংগঠনের সভাপতি রাসেল আহমেদ বলেন, “আমাদের চারপাশের এই নিষ্পাপ শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। তাদের মুখে হাসি ফোটানো এবং একবেলা তৃপ্তি সহকারে খাওয়ানোর এই ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতারই অংশ।”

তিনি আরও বলেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়াতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন এবং এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




মেহেরপুরের তেল পাম্প পরিদর্শনে এমপি তাজউদ্দিন খান

মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ছায়া মন্ত্রিসভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তাজউদ্দিন খান জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং কৃত্রিম সংকট রোধে তেল পাম্প পরিদর্শন করেছেন।

শনিবার সকালে তিনি মেহেরপুর শহরের বিভিন্ন তেল পাম্প পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পাম্প মালিক ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শনকালে তাজউদ্দিন খান জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন এবং কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করতে সতর্ক করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর শূরা কমিটির সদস্য ও সেক্রেটারি মো. ইকবাল হুসাইন, জেলা রাজনৈতিক সেক্রেটারি রুহুল আমিন, সদর উপজেলা আমির সোহেল রানা, সদর উপজেলা সেক্রেটারি জাব্বারুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা খালেদ সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।