জীবননগরে জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমানের জানাজা সম্পন্ন

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমানকে (৪৬) জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে জীবননগর উপজেলার সুটিয়া ঈদগাহ ময়দানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজার পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ রুহুল আমিন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মাসুদ পারভেজ রাসেল, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আজিজুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান, আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের আমির সফিউল আলম বকুল, জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আনোয়ারুল হক মালিক, মরহুমের ভাই আনোয়ার হোসেন, খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি জুনায়েদ হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

এর আগে শনিবার দুপুর ১২টায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিহত হাফিজুর রহমানের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পরে বিকেল ৪টায় নিজ গ্রাম সুটিয়ায় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে নির্বাচন-পরবর্তী ঘটনার জেরে শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান নিহত হন এবং আরও তিনজন আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান (৪৫) ও তার ভাইকে প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাদের ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রোববার রাত ১টার দিকে হাফিজুর রহমান মারা যান।




আলমডাঙ্গায় মাদকসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক

আলমডাঙ্গায় ৪০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আলমডাঙ্গা উপজেলার গোবিন্দপুর মাঠপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মমতাজ বেগম (৩০) নামে এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

গতকাল রোববার রাত ৮টায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোবিন্দপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানের সময় সন্দেহভাজন হিসেবে মমতাজ বেগমকে আটক করা হলে তার কাছ থেকে ৪০ পিস নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার মমতাজ বেগম আলমডাঙ্গা উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং তারেক রহমানের স্ত্রী বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় গোপনে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ ছিল। স্থানীয়ভাবে মাদক সরবরাহের একটি ছোট নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই নজরদারি বাড়ানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়।

অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ট্যাপেন্টাডল একটি শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ হলেও অপব্যবহারের কারণে এটি মাদক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সম্প্রতি এলাকায় এর অবৈধ বেচাকেনা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিয়মিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সচেতন মহল মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত তৎপরতা অত্যন্ত জরুরি।




আলমডাঙ্গায় ৪০০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ বৃদ্ধ আটক

আলমডাঙ্গায় ৪০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দিলীপ কুমার গাঙ্গুলি (৬৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে আলমডাঙ্গা রেলস্টেশন চত্বরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

আলমডাঙ্গা থানার এসআই (নিঃ) মোঃ বাবলু খাঁনের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পৌর এলাকার স্টেশনপাড়ায় মোঃ মোহনের চায়ের দোকান থেকে দিলীপ কুমার গাঙ্গুলিকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৪০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ গ্রামের অনিল গাঙ্গুলির ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সামান্য টাকার বিনিময়ে তিনি এসব মাদক পরিবহনের কাজে যুক্ত হয়েছিলেন।

এ ঘটনায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ধারা ৩৬(১) সারণির ২৯(ক) অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




দামুড়হুদার হাউলী ইউনিয়ন এক যুগ নির্বাচন বন্ধ: ক্ষোভে ইউনিয়নবাসী

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়ন পরিষদে প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা ও একের পর এক রিট আবেদনের কারণে ২০১১ সালের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই এখনো দায়িত্ব পালন করছেন। এতে ইউনিয়নবাসীর মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একটাই কথা, “চেয়ারম্যান-মেম্বার যেই হোক, আমরা শুধু ভোট দিতে চাই।”

দামুড়হুদা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২১ জুন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে জামায়াত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে তিনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় পদটি শূন্য হয়। ২০১৪ সালের ৮ আগস্ট উপনির্বাচনে প্রয়াত বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলী শাহ মিন্টু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

২০১৬ সালে মেয়াদ শেষে নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় এবং ১৬ এপ্রিল ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ইউনিয়ন বিভক্তি ইস্যুতে আকবর আলী নামে এক ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট করলে নির্বাচন প্রক্রিয়া জটিলতায় পড়ে। প্রথম রিট খারিজ হলেও পরবর্তীতে কাদিপুর গ্রামের নিয়ামত আলীর ছেলে মজিবর রহমান একই বিষয়ে আরেকটি রিট করেন। প্রার্থী মনোনয়নসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও ভোটগ্রহণের মাত্র তিন দিন আগে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন স্থগিত করে।

সেই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাজী সহিদুল ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ খোকন ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা জাহাঙ্গীর আলম টিক্কা। ভোটের তিন দিন আগে নির্বাচন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবাই আর্থিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

সে সময় মোটরসাইকেল প্রতিকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবু সাঈদ খোকন বলেন, চেয়ারম্যানের পদ ধরে রাখতে তৎকালীন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী শাহ্ মিন্টু নিজেদের লোক দিয়ে রিট করান। আমি নিজে তদবির করে প্রথম রিট খারিজ করাই। কিন্তু পুনরায় রিট করে ভোটের তিন দিন আগে নির্বাচন বন্ধ করা হয়। এতে প্রার্থী ও ভোটার উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। হাউলী ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। সাধারণ নিয়মে মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও এখানে তা সম্ভব হয়নি।

এবিষয়ে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু প্রশাসক নিয়োগের আগেই হাউলী ইউনিয়ন পরিষদের কিছু ইউপি সদস্য প্রশাসক নিয়োগ ঠেকাতে নতুন করে হাইকোর্টে রিট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা মজিবর রহমানকে ব্যবহার করে এই রিট দায়ের করান। হাইকোর্টের মামলা নং ৩৪৪৩/২০২২–এর প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর হাইকোর্ট ডিভিশন থেকে ছয় মাসের জন্য স্থগিতাদেশ (স্টে অর্ডার) জারি হয়। ফলে প্রশাসক নিয়োগ কার্যক্রমও স্থগিত হয়ে যায়।

সর্বশেষ রিটকারী মজিবর রহমান বলেন, আমি ইউনিয়ন বিভক্তির জন্য রিট করেছিলাম। এখন ইউনিয়নে নির্বাচন চাই। এলাকাবাসীর অভিযোগ, একই গোষ্ঠী বছরের পর বছর সীমানা জটিলতাকে ইস্যু করে বারবার হাইকোর্টে রিট দায়ের করছে। উদ্দেশ্য একটাই, নির্বাচন না হওয়া এবং প্রশাসক নিয়োগও বন্ধ রাখা। অভিযোগ রয়েছে, অর্থের বিনিময়ে এসব রিট করে ইউনিয়নের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।

নতুন করে ছয় মাসের স্থগিতাদেশের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন একই ব্যক্তিরা দায়িত্বে থাকায় সাধারণ মানুষের মুল্য জনপ্রতিনিধিদের কছে নগণ্য হয়ে গেছে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, বারবার রিট করে ভোট বন্ধ রেখে তারা মানুষের অনেক ক্ষতি করেছে। আমাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের বিচার চাই।

উপজেলা প্রশাসন বলছে, হাইকোর্টের জটিলতা কেটে গেলে দ্রুত নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। তবে স্থানীয় জনসাধারণ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের একটাই দাবি, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা দূর করে দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। প্রায় এক যুগ ধরে নির্বাচনবঞ্চিত হাউলী ইউনিয়নবাসী এখন তাকিয়ে আছেন, কবে কাটবে আইনি জট, কবে মিলবে তাদের ভোটের অধিকার।

হাউলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন, ২০১৬ সালে বিভাজন জটিলতায় হাইকোর্টে রিট হওয়ার পর থেকে এখনো পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

সর্বশেষ যে রিট হয়েছে এবিষয়ে আমি কিছু জানিনা।

হাউলী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির উবায়দুল হক বলেন, প্রতি ৫ বছর পরপর মানুষের যে ভোটের গণতান্ত্রিক অধিকার তা যেন পূরণ করতে পারে। প্রতি পাঁচ বছর পরপর যেন ইউনিয়ন পরিষদে সঠিক ভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এটা আমাদের প্রত্যাশা। ৫ আগস্ট এর পরে, যারা নতুন করে মামলা রিট করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে তাদেরকে চিহ্নিত করে জাতির সামনে তাদের মুখোশ উন্মোচিত করা হোক।

হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, আমাদের এই হাউলী ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে সীমানা নির্ধারণের অজুহাতে, ভিন্ন মামলা মোকাদ্দমার অজুহাতে, এক শ্রেণীর অসাধু মানুষ নির্বাচনকে বিঘ্নিত করছে। দেশ যখন, এখন গণতন্ত্রের মহাসড়কে অবতীর্ণ হয়েছে তখন হাউলী ইউনিয়ন পরিষদকে কোনভাবেই নির্বাচন থেকে দুরে রেখে জন বিচ্ছিন্ন হতে দেওয়া যাবে না এবং যাদের হীনমন্যতার কারণে নির্বাচন এবং প্রশাসক নিয়োগ বারবার বিঘ্নিত হচ্ছে, সঠিক তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। আমি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে উদাত্ত আহ্বান জানাবো যেন সীমানা জটিলতার অজুহাতে এরা আর কখনো কোনোভাবে নির্বাচন এবং প্রশাসক নিয়োগ বিঘ্নিত করতে না পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উবায়দুর রহমান সাহেল বলেন, হাউলী ইউনিয়নের মেয়াদ শেষ হয়েছে। প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু হাইকোর্টের ছয় মাসের স্থগিতাদেশের কারণে তা সম্ভব হয়নি। আইনগত জটিলতা কেটেগেলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।




বাকপ্রতিবন্ধী জামিরুলের পাশে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক 

কুষ্টিয়া শহরের এনএস রোডের মৌবন এলাকা থেকে বিনামূল্যে ইফতার নিতে যাওয়ার পর বাকপ্রতিবন্ধী যুবক জামিরুলের রিকশা চুরি হওয়ার ঘটনায় মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেন। ঘটনার একদিন পরই তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে জামিরুলকে একটি নতুন রিকশা উপহার দেন।

জানা যায়, রমজান মাসে জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন রিকশাটি নিয়ে গতকাল রবিবার বিকেলে বের হন জামিরুল। ইফতারের আগমুহূর্তে মৌবনের পাশের গলিতে বিনামূল্যে দেওয়া ইফতার সংগ্রহ করতে যান তিনি। ইফতার নেওয়ার সময় অল্পক্ষণ অসতর্কতার সুযোগে দুর্বৃত্তরা তার রিকশাটি চুরি করে নিয়ে যায়। বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানাতেও পারেননি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বিষয়টি প্রকাশ পেলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেন। আজ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ডেকে জামিরুলের হাতে নতুন রিকশার চাবি তুলে দেন তিনি। এ সময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, সমাজের অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব। একজন শ্রমজীবী মানুষের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম হারিয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসন সবসময় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবে।

রিকশা ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জামিরুল। উপস্থিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ অন্যদেরও মানবিক কাজে উৎসাহিত করবে।

উল্লেখ্য, রমজানকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই উদ্যোগ তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।




কুষ্টিয়ায় ভোক্তার অভিযানে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায়

কুষ্টিয়া শহরের বড়বাজার এলাকায় অস্বাস্থ্যকর ও অনিরাপদ পরিবেশে সেমাই উৎপাদনের দায়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

গতকাল রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার এসসি বি রোড ও বড়বাজার এলাকায় তদারকিমূলক অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

কুষ্টিয়া জেলা জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাসুম আলীর নেতৃত্বে বিশেষ এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযান সূত্রে জানা গেছে, শহরের ‘নাবিল ফ্লাওয়ার মিলস’-এ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও অনিরাপদ পরিবেশে সেমাই উৎপাদন করা হচ্ছিল। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে ‘মুনমুন ফ্লাওয়ার মিলস’ নামক অপর একটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, সেখানেও চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি যথাযথ প্রক্রিয়ায় পণ্য সংরক্ষণ ও মোড়কীকরণ করা হচ্ছিল না। এ অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান চলাকালে কারিগরি সহায়তা প্রদান করেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

সহকারী পরিচালক মো. মাসুম আলী জানান, জনস্বার্থে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এ ধরনের তদারকিমূলক অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।




গাংনীর গাঁড়াবাড়ীয়া গ্রামবাসীর উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল 

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের গাঁড়াবাড়ীয়া গ্রামবাসীর উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় কুতুবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

মাহফিলে কয়েক হাজার মুসল্লি উপস্থিত থেকে দোয়া ও ইফতারে শরিক হন। ইফতারের আগে দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। ইফতার আয়োজকদের অন্যতম সাজ্জাদ হোসেন পলাশ জানান, এলাকার মানুষের মাঝে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক বন্ধন জোরদার করার লক্ষ্যে প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখা হবে। অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়।




চুয়াডাঙ্গায় ফসলি জমি থেকে মাইনসদৃশ বস্তু উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গায় ফসলি জমি থেকে মাইনসদৃশ একটি বস্তু উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা গ্রামে একটি ফসলি জমি থেকে এ মাইনসদৃশ বস্তুর সন্ধান পাওয়া যায়। নিজ জমিতে চাষ করতে গিয়ে এক কৃষক বস্তুটি দেখতে পান। শনিবার বিকেল ৩টার দিকে সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা গ্রামের একটি মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে মাখালডাঙ্গা গ্রামের একটি মাঠে এক কৃষক জমি চাষ করছিলেন। এ সময় মাটির নিচ থেকে ল্যান্ডমাইনসদৃশ একটি বস্তু বের হয়ে আসে। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে যৌথ বাহিনীর একটি টিম এসে মাইনসদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বস্তুটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার হতে পারে।

তবে এ বিষয়ে এখনই আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।




এনসিপির বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মেহেরপুরে শিশু পরিবারে ইফতার

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দকে আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার লক্ষ্যে মেহেরপুর সরকারি শিশু পরিবারের শিশুদের সঙ্গে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

শনিবার বিকেলে মেহেরপুর সরকারি শিশু পরিবারের প্রাঙ্গণে জেলা শাখার উদ্যোগে সেখানে বসবাসরত শিশুদের সঙ্গে আন্তরিক ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি মেহেরপুর জেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী আশিক রাব্বি, মো. তামিম ইসলাম, হাসনাত জামান সৈকত, মাহাবুব তৌহিদ রবিন, আব্দুস সালাম, মোহা. দারুস সালাম, ইব্রাহিম হোসেন, তাহসিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

ইফতার মাহফিলে নেতৃবৃন্দ শিশুদের সঙ্গে একই সারিতে বসে ইফতার করেন এবং তাদের পড়াশোনা, দৈনন্দিন জীবন ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। শিশুদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিতে তাদের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তারা।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি কেবল নির্বাচনী কার্যক্রমে নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই নিহিত। বর্ষপূর্তির এই বিশেষ দিনে এতিম ও অসহায় শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো তাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শিশুদের জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানানো হয় এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়। শিশুদের মুখে হাসি ও সবার মাঝে একাত্মতার অনুভূতিতে দিনটি হয়ে ওঠে আবেগঘন ও স্মরণীয়।




গাংনীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

‘দেশ যাবে নতুন পথে, ফিরবে না আর ফ্যাসিবাদে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে মেহেরপুরের গাংনীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিকেলে গাংনীর একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

জেলা কমিটির সদস্য মুজাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইফতার-পূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য নাজমুল হুদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল আলম সোনা, গাংনী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, গাংনী পৌর জামায়াতের আমীর আহসানুল হক এবং কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মু. আলম হুসাইন।

এসময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মেহেরপুর জেলা কমিটির সদস্য আমির হামজা, শামীম আহমেদ আজম, গাংনী উপজেলা কমিটির সমন্বয়কারী আব্দুল্লাহ আল মামুন, যুগ্ম সমন্বয়কারী সবুজ রানাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মুজাহিদুল ইসলাম উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, “আজকের আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের মিলনমেলা।”

ইফতার মাহফিলে জুলাই অভ্যুত্থানের পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, শিক্ষক, সাংবাদিক, শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।