দামুড়হুদায় ইউটিউব দেখে আঙুর চাষ, আট মাসেই রানার সাফল্য

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুমারীদহ মাঠে কৃষক রানা আলীর আঙুর বাগানে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে রসালো আঙুর।

বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন তিনি। তার এই উদ্যোগে যেমন তিনি আশাবাদী, তেমনি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন আশপাশের কৃষকরাও।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউটিউব দেখে প্রথমে আঙুর চাষে আগ্রহী হন রানা আলী। পরে স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের পরামর্শে প্রায় এক বিঘা জমিতে আঙুর চাষ শুরু করেন।

আট মাস আগে জয়রামপুর গ্রামের কুমারীদহ মাঠে নিজের হলুদ গোলাপ ফুলের বাগানের মধ্যেই আঙুরের চারা রোপণ করেন তিনি। দেশীয় চারা ছাড়াও ভারত থেকে বাইকুনুর, গ্রিনলং, অ্যাকোলোর, জয়সিডলেস ও ব্ল্যাক ম্যাজিক জাতের চারা সংগ্রহ করে চাষ শুরু করেন রানা।

চারা রোপণের তিন মাসের মধ্যেই গাছে ফুল ও ফল আসতে শুরু করে। বর্তমানে আট মাসের মাথায় গাছে থোকায় থোকায় আঙুর ঝুলছে। আর মাত্র ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই ফল বাজারজাত করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

রানা আলি জানান, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত জমি প্রস্তুত, চারা, সার, সেচ, পরিচর্যা ও শ্রমিক ব্যয়সহ মোট খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। বাগানের নিয়মিত পরিচর্যার জন্য ছয়জন শ্রমিক কাজ করছেন। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতি কেজি আঙুর ৩০০ টাকা হলেও তিনি ২০০ টাকা দরে বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছেন।

সে হিসেবে প্রায় সাত লাখ টাকার আঙুর বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। তার বাগান দেখতে প্রতিদিনই স্থানীয় কৃষকদের ভিড় জমছে।

এছাড়া তিনি ১২ হাজার কলমের চারা উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করে ইতোমধ্যে ১,২০০টি চারা উৎপাদন করেছেন, যার মধ্যে বিক্রি করেছেন তিন লাখ ৬০ হাজার টাকার চারা।

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানান, নতুন ফল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে তারা সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

দামুড়হুদা উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, এলাকার মাটি ও আবহাওয়া আঙুর চাষের জন্য উপযোগী।

সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে এটি কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে। তিনি আরও বলেন, রানা আলীর এই উদ্যোগ অন্য কৃষকদেরও উদ্বুদ্ধ করবে।




জ্বালানি সংকটে মেহেরপুরে মোটরসাইকেল বিক্রিতে ভাটা

ঈদু মৌসুমে প্রতি বছর মোটরসাইকেল বিক্রির সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন বিক্রেতারা। তবে এবার জ্বালানি সংকটের কারণে ঈদের পর মেহেরপুরে মোটরসাইকেল বিক্রিতে অস্বাভাবিক মন্দা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় ডিলার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্যান্য বছরের মতো ঈদের আগে বিশেষ ছাড় ও অফার থাকলেও এবার তেল সংকটের কারণে অনেক ক্রেতাই মোটরসাইকেল কেনার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে যাচ্ছেন।

তবে মেহেরপুরে ইলেকট্রিক বাইকের বিক্রি বেড়েছে। আগে যেখানে একটি শোরুমে মাসে তিন থেকে চারটি ইলেকট্রিক বাইক বিক্রি হতো, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫টি।

বিক্রেতারা জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে মোটরসাইকেল ব্যবহারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন মোটরসাইকেল কেনার আগ্রহ কমে গেছে। অনেক ক্রেতাই এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। এছাড়া বাইক সার্ভিসিং এর সংখ্যাও কমে গেছে।

মেহেরপুর শহরের মেসার্স হোসেন মোটরসাইকেল গ্যালারির ম্যানেজার নাইহান নাহিদ বলেন, ঈদের সময় স্বাভাবিকের তুলনায় বিক্রি ভালই ছিল, কিন্তু এই মাসে তেল সংকটের কারণে বেচাকেনা প্রায় শূন্য। আমাদের বিক্রি ৯০% কমেছে।

বাজাজ শোরুমের মোঃ হাসিদুর রহমান বিপ্লব জানান, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির তুলনায় এই মাসে বিক্রি অনেক কম। তেল সংকটের কারণে মানুষ মোটরসাইকেল চালাচ্ছে না, কিনছে ও না।

হিরো শোরুমের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ কবিরুজ্জামান সেন্টু বলেন, তেলের সংকটের পর বিক্রি আগের তুলনায় প্রায় ৯০% কমে গেছে।

ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল শোরুমের মোঃ রোহিত ইসলাম বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আগের তুলনায় আমাদের ইলেকট্রিক বাইকের বিক্রি দ্বিগুণ। যেখানে মাসে পাঁচ থেকে ছয়টি বিক্রি হতো, এখন আমরা মাসে ১৫ থেকে ২০টি বিক্রি করতে পারছি।

জেলা শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক সময় প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না।

রাইডার ও সাধারণ চালকরা জানান, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে তারা আগের মতো গাড়ি চালাতে পারছেন না।

গাংনী থেকে এক রাইডার বলেন, তেল নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়। এজন্য এখন ট্রিপ কমিয়ে দিয়েছি।
বিক্রেতারা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনগুলোতে বিক্রি আরও কমে যাবে।




দর্শনায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশুর মৃত্যু

দর্শনায় তেলবাহী ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে আতিকা (৩) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত আতিকা দর্শনা মোবারকপাড়ার আতাহারের মেয়ে এবং সোনালী ব্যাংকের ক্যাশিয়ার মোবারকের নাতনি।

বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে দর্শনা হঠাৎপাড়া রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোনালী ব্যাংকের ক্যাশিয়ার মোবারকের স্ত্রী শিশুটি আতিকাকে সঙ্গে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে সিএনজিযোগে দর্শনার দিকে আসছিলেন। হঠাৎপাড়া রেলগেটে নামার সময় রাস্তার অপর পাশে তার নানা মোবারক দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় শিশুটি দৌড়ে রাস্তা পার হতে গেলে যশোর চ-০১-০০০২ নম্বরের একটি তেলবাহী ট্রাক তাকে চাপা দেয়। ট্রাকের চাকা শিশুটির মাথার ওপর দিয়ে চলে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর দর্শনা থানা পুলিশ ট্রাকটি জব্দ করে এবং চালক নিমাই চন্দ্র অধিকারীকে আটক করে।

এ বিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে তেলবাহী ট্রাক ও এর চালককে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”




আলমডাঙ্গা ডামোশ-ঘোলদাড়ি খাল পুনঃখননের উদ্বোধনের প্রস্তুতি পরিদর্শনে শরিফুজ্জামান শরিফ

দীর্ঘদিনের দাবি ও অপেক্ষার পর অবশেষে আলমডাঙ্গা উপজেলার ডামোশ থেকে ঘোলদাড়ি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখননের অনুমোদন পাওয়া গেছে। অচিরেই এই খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে চলছে জোর প্রস্তুতি।

বুধবার সকালে প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিদর্শন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফ।

বহু বছর ধরে অবহেলা, দখল ও ভরাটের কারণে প্রায় বিলীন হয়ে যাওয়া খালটি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ সরকারের পানি উন্নয়ন মন্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডামোশ থেকে ঘোলদাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত এই খালটি একসময় এলাকার কৃষি ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। বর্ষা মৌসুমে আশপাশের জমির অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতো এবং শুষ্ক মৌসুমে খালের পানি ব্যবহার করে কৃষকেরা সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাব, বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখল, মাটি ফেলে ভরাট এবং আবর্জনা জমতে জমতে খালটির অনেকাংশ কার্যত অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা সৃষ্টি হয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দেয় এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটে পড়েন কৃষকেরা। এতে এলাকার কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

এ অবস্থায় খালটি পুনঃখননের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী। অবশেষে সেই দাবি বাস্তবায়নের পথে এগোনোয় এলাকায় স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। খাল খননের অনুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, খালটি সচল হলে আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশন হওয়ায় জলাবদ্ধতার সমস্যাও অনেকাংশে কমে যাবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকদের আর্থিক ক্ষতিও কমবে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে খাল খননের কাজ শুরু করা হলে এলাকার কৃষি ও পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে খালটি যেন আবার দখল ও ভরাটের শিকার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ডামোশ থেকে ঘোলদাড়ি পর্যন্ত এই খাল পুনঃখনন করা হলে শুধু কৃষি নয়, এলাকার সার্বিক পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ খালটি দ্রুত পুনরুদ্ধার করে আগের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা হবে।




ঝিনাইদহে পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় ধর্মযাত্রা

পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় এক ব্যতিক্রমধর্মী ধর্মযাত্রায় বের হয়েছেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি এলাকার বাসিন্দা সরোজিত কর্মকার।

নিজ বাড়ি থেকে যাত্রা শুরু করে তিনি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে গীতা পাঠ ও ধর্ম প্রচার করে এখন ঝিনাইদহে পৌচেছেন।

মঙ্গলবার রাতে ঝিনাইদহ শহরের গিলাবাড়িয়া শিব মন্দির প্রাঙ্গণে তিনি গীতা পাঠ করেন। এ সময় স্থানীয় ভক্ত ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে ধর্মীয় আবহ সৃষ্টি হয়। গীতা পাঠের মাধ্যমে তিনি মানুষের মাঝে নৈতিকতা ও ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করার আহ্বান জানান।

সরোজিত কর্মকার জানান, তার এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা করা এবং সমাজে ধর্মীয় মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়া। তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে আধ্যাত্মিক চর্চা বাড়লে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা সহজ হবে। ধর্মযাত্রার অংশ হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে কয়েকটি এলাকায় গীতা পাঠ করেছেন আগামী দিনগুলোতে মাগুরা জেলার বিভিন্ন স্থানসহ সদর উপজেলার আলমখালী এলাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানেও তিনি একইভাবে গীতা পাঠ ও ধর্ম প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি।




শৈলকুপায় মুদি দোকানিকে কুপিয়ে যখম

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার হুদাকুশোবাড়িয়া গ্রামে আনোয়ার মন্ডল নামের এক মুদি দোকানিকে কুপিয়ে যখম করেছে প্রতিপক্ষরা।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) রাত ৯ টার দিকে উপজেলার আওধা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহত আনোয়ার মন্ডল হুদাকুশোবাড়িয়া গ্রামের মৃত জনাব আলী মন্ডলের ছেলে। বর্তমানে তিনি মাগুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আহতের স্বজনরা জানায়, মঙ্গলবার রাত ৯ টার দিকে আনোয়ার মন্ডল তার দোকান বন্ধ করছিলেন। সেসময় হুদাকুশোবাড়িয়া গ্রামের ফারুক মন্ডল, সুমন মন্ডল, জামাল হোসেন, আতিক হোসেন, নিশান ও রবিউল মুন্সী আনোয়ারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর যখম করে। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মারধরের ব্যাপারে ফারুক মন্ডল বলেন, আমি এমন কোন ঘটনাতো জানি না। তাই বলে ফোন কেটে দেন।

শৈলকুপা থানার ওসি ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লাকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। অপরদিকে লাঙ্গলবাধ ক্যাম্পের আইসি এস আই আনিসুজ্জামানের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।




মুজিবনগরে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন

“উদ্ভাবন নির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি” এই স্লোগানকে সামনে রেখে মুজিবনগরে ২ দিনব্যাপী ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার সকালে মুজিবনগর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও (শিক্ষা ও আইসিটি) পার্থ প্রতিম শীল। তিনি ফিতা কেটে মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা।

এ সময় বক্তব্য রাখেন মুজিবনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মামুন উদ্দীন আল আজাদ, মুজিবনগর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইজারুল ইসলাম, মুজিবনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ওমর ফারুক প্রিন্স এবং সাধারণ সম্পাদক হাসান মোস্তাফিজুর রহমান।

মুজিবনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় মোট ১৫টি স্টল অংশগ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মুজিবনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার হাসনাইন কবির। উদ্বোধনের পর প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

আলোচনা সভা শেষে সারাদিনব্যাপী ১০ম বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ও ১০ম বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।




মেহেরপুরে ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের দারুণ উদ্ভাবনের প্রদর্শনী

মেহেরপুরে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই মেলায় ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা স্বয়ংক্রিয় কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, ফার্ম সম্প্রসারণ প্রযুক্তি, উন্নত কৃষি ব্যবস্থা এবং ফ্যাক্টরি কার্বন ফিল্টারসহ নানা উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করছে।

বুধবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে, জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এ মেলার উদ্বোধন করা হয়।

মেলার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শিল্পী রাণী রায়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ খায়রুল ইসলাম।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি বলেন, বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তাধারা ও গবেষণামুখী মনোভাব দেশকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী কাজ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার আহ্বান জানান।
মেলায় জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে তাদের উদ্ভাবিত নানা প্রকল্প উপস্থাপন করছে।

মেলায় আগত দর্শনার্থীরা শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রকল্প ঘুরে দেখছেন এবং তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাধারার প্রশংসা করছেন।

আয়োজকরা জানান, দুই দিনব্যাপী এই মেলায় বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, প্রদর্শনী এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। মেলার শেষ দিনে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।




মুজিবনগরে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফার্স্ট কনসার্নের ঘুড়ি উৎসব

“মাদক নয়, উড়াই ঘুড়ি, আলোকিত সমাজ গড়ি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মেহেরপুরের মুজিবনগরে ব্যতিক্রমধর্মী মাদকবিরোধী ঘুড়ি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় মুজিবনগর উপজেলা খেলার মাঠে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফার্স্ট কনসার্ন (BYFC), মুজিবনগর শাখার আয়োজনে এবং মুজিবনগর উপজেলা প্রশাসন ও মেহেরপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করা এবং একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ার লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রাসেল আহমেদ, পরিদর্শক বিদ্যুৎ বিহারী নাথ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সেলিম রেজা।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মুজিবনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মুন্সী ওমর ফারুক প্রিন্স, সাধারণ সম্পাদক হাসান মোস্তাফিজুর রহমানসহ প্রেসক্লাবের সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইয়ুথ ফার্স্ট কনসার্ন, মুজিবনগর শাখার প্রোগ্রাম ম্যানেজার জন অমৃত মণ্ডল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা বলেন, “যুবসমাজই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের মাদকমুক্ত রাখতে হলে এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি আরও বেশি আয়োজন করা জরুরি।”

বিশেষ অতিথিরা মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে বলেন, মাদক প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

উৎসবে অংশগ্রহণকারী তরুণ-তরুণীরা রঙিন ঘুড়ি উড়িয়ে আনন্দ-উল্লাসের মাধ্যমে মাদকবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে দেন। পুরো অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে, যাতে একটি মাদকমুক্ত ও আলোকিত সমাজ গড়ে তোলা যায়।

ঘুড়ি ওড়ানোতে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।




কোটচাঁদপুরে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দিলেন স্ত্রী

কোটচাঁদপুরে স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার গভীর রাতে উপজেলার বলাবাড়িয়া খানপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে স্বামী উজ্জ্বল খাঁ কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জানা গেছে, কোটচাঁদপুরের বলাবাড়িয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর খাঁর ছেলে উজ্জ্বল খাঁ (৪২)। দীর্ঘদিন ধরে তারা একত্রে সংসার করলেও প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ চলত তাদের মধ্যে। মঙ্গলবার সকালে এ দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। তবে অনেকেই এই ঘটনা চরম সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ঘটনার বিষয়ে স্বামী উজ্জ্বল খাঁ বলেন, “আমি ক্লাস ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময় রুবিনাকে বিয়ে করি। সেই সময় থেকে আমরা একসাথে সংসার করছি এবং দুই কন্যা সন্তানের জনক। কিছুদিন ধরে রুবিনা আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করছিল। এজন্য আমি বাইরে ছিলাম। সোমবার রাতে বাড়ি ফিরে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি।

এ সুযোগে সে ধারাল দান্ট দিয়ে আমার গোপনাঙ্গে কোপ দেয়। চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন ছুটে আসে। এরপর আমাকে কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান বলেন, “উজ্জ্বলের পরিবারের লোকজন থানায় এসে মামলা করেছেন। মামলা হলে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”