দামুড়হুদায় ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে ইফতার মাহফিল

দামুড়হুদার জুড়ানপুর ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কলাবাড়ি হাই স্কুল মাঠে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে দল-মত নির্বিশেষে ইউনিয়ন এলাকার শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

ইফতার মাহফিলের সার্বিক আয়োজন করেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন।




চুয়াডাঙ্গায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখবিহীন দই, নষ্ট মিষ্টি এবং নিষিদ্ধ প্রসাধনী বিক্রয়ের অভিযোগে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সদর উপজেলার বড় বাজার এলাকায় এ তদারকিমূলক অভিযান পরিচালিত হয় বলে জানান অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। তিনি বলেন, রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন হোটেল, পাইকারি ভোজ্য তেল ও মসলা এবং প্রসাধনীর দোকানে তদারকি করা হয়েছে।

এর মধ্যে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখবিহীন দই এবং নোংরা ও নষ্ট মিষ্টি বিক্রয়ের অপরাধে কার্তিক চন্দ্র বসুর ‘বসু সুইটস’-কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৩৭ ধারায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া নিষিদ্ধ কসমেটিকস বিক্রয়ের দায়ে ৪৫ ধারায় টিনা দেবীর ‘পলক গিফট কর্নার’-কে ২৫ হাজার টাকা, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ‘মেসার্স সওদাগর গিফট গার্ডেন’-কে ২৫ হাজার টাকা, দেলোয়ার হোসেনের ‘মা রোকেয়া ট্রেডার্স’-কে ৫০ হাজার টাকা এবং মাহফুজা খাতুনের ‘মামুন গিফট কর্নার’-কে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানে সর্বমোট ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সহকারী পরিচালক মামুনুল হাসান বলেন, এ সময় আইন মেনে মানসম্মত পণ্য ক্রয়-বিক্রয়, ভাউচার সংরক্ষণ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ও মানহীন পণ্য বিক্রয় না করার জন্য ব্যবসায়ীদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধান করে ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সজীব পাল, ক্যাব প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম এবং জেলা পুলিশের একটি টিম।




আলমডাঙ্গা জাসাসের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল

আলমডাঙ্গা জাসাসের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা পার্টি অফিসে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

আলমডাঙ্গা জাসাসের সভাপতি আনোয়ার রশিদ সাগরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুল হক পিন্টু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, হাটবোয়ালিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক কবি আসিফ জাহান, জাসাসের সাধারণ সম্পাদক ইউনুস আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান ও যুগ্ম সম্পাদক উজ্জ্বল হোসেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবদলের সহসভাপতি মাগরিবুর রহমানের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রফিকুল ইসলাম, ইদ্রিস আলী, কামরুল ইসলাম হিরা, আশরাফুল হক লুলু, তবিবুর রহমান, কমলকান্তি চক্রবর্তী, বজলুল হক, হায়দার আলী, রাকিবুল ইসলাম বাবলু, উজ্জ্বল আলী, আব্দুল আলিম, তাজুল ইসলাম প্রমুখ।

আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, জাসাসকে আরও বেগবান করতে হবে। দেশীয় সাহিত্য-সংস্কৃতিকে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে জাতীয়তাবাদে দীক্ষিত করতে হবে। দেশকে বিশ্বের মাঝে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে জাসাসের কোনো বিকল্প নেই। তাই জাসাসকে শক্তিশালী হয়ে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

বিশ্বমানবতার ঐক্য ও শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন জাসাসের প্রধান উপদেষ্টা ও হাটবোয়ালিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক কবি আসিফ জাহান।




মেহেরপুরে ড্যাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল 

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) মেহেরপুর জেলা শাখার আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেহেরপুর মহিলা কলেজ রোডের সেভেন সেন্স রেস্টুরেন্টে এ ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

বিএমএ ও ড্যাব মেহেরপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. ওবাইদুল ইসলাম পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন ডাঃ এ কে এম আবু সাইদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমএ মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি ডা. এম এ সালাম।

বক্তারা বলেন, পবিত্র রমজান মাস আত্মসংযম, সহমর্মিতা ও মানবসেবার শিক্ষা দেয়। একজন চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবাই আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

এছাড়াও এসময় বক্তব্য রাখেন ডা. মো. আমানুল্লাহ, ডা. মো. সফিকুল ইসলাম, ডা. আমিনুল হক, ডা. মো. খায়রুজ্জামান পিনু, ডা. হাবিব ইফতেখার, সৈয়দ কবীর, ডা. মো. কাজল আলী, ডা. এ এস এম হাসান আলী মাসুম, ডা. মো. মাহফুজ্জামান রতন, ডা. মো. আবুল কাশেম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ড্যাব ও বিএমএ নেতৃবৃন্দসহ জেলার চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।




ঝিনাইদহে ১৫’শ অসহায় পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঝিনাইদহের ঘোড়শাল ইউনিয়ন পরিষদে অসহায় দরিদ্রদের মাঝে ভিজিএফ এর চাল বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ইউনিয়ন পরিষদ এ চাউল বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ মাসুদ লিল্টন, ট্যাগ অফিসার সন্দীপ কুমার, ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ওয়াহেদুজ্জামানসহ ইউপি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ইউপি চেয়ারম্যান পারভেজ মাসুদ লিল্টন জানান, ইউনিয়নের ১৪ টি গ্রামের ১ হাজার ৫ শত ৫৪ জন উপকার ভোগীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।




কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা বাজারে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদারকিমূলক অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে ভেড়ামারা উপজেলার ভেড়ামারা বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মুদি দোকান, শিশু খাদ্যের দোকান, কাপড়ের দোকান এবং কসমেটিকস সামগ্রীর দোকান মনিটরিং করা হয়।

অভিযানকালে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত পাকিস্তানি কসমেটিকস বিক্রয় ও বিক্রয়ের জন্য সংরক্ষণ করায় সেলিম কসমেটিকসকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মোড়কজাত শিশু খাদ্যের মোড়কে উৎপাদনকারীর নাম, ঠিকানা, মেয়াদ এবং সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য উল্লেখ না থাকায় সিদ্দিক স্টোরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাসুম আলী।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ সময় তাকে সহায়তা করেন ভেড়ামারা উপজেলার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক।

অভিযান চলাকালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের একটি চৌকস টিম এবং র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের একটি টহল দল উপস্থিত ছিল।




মেহেরপুরে জ্বালানি তেল ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আলোচনা সভা

মেহেরপুরে জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জেলার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. সৈয়দ এনামুল কবির।

সভায় জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু সরবরাহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ নিশ্চিত করা, ভোক্তা পর্যায়ে ন্যায্যমূল্যে জ্বালানি তেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরনের অনিয়ম, মজুদদারি ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

জেলা প্রশাসক পেট্রোল পাম্প মালিকদের জ্বালানি তেল বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জ্বালানি তেল একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পণ্য। এর সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হলে পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষি উৎপাদনসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হবে।

তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত মূল্য আদায়, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা মজুদদারির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি পেট্রোল পাম্পে পরিমাপ যন্ত্রের সঠিকতা বজায় রাখা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং গ্রাহকসেবার মান উন্নত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।




ডেঙ্গু রোধে মেহেরপুরে সাপ্তাহিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত

মেহেরপুরে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে প্রতি শনিবার সমন্বিত অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. সৈয়দ এনামুল কবিরের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রতি শনিবার নিয়মিত সমন্বিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নিয়মিত মনিটরিং জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে টেকসই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও প্রদান করেন তিনি।




কুষ্টিয়ায় জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা, ব্যস্ত শহরের মার্কেটগুলো

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া শহরে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে পোশাকের দোকানগুলোতে নারী, পুরুষ ও শিশুদের নতুন পোশাক কিনতে মানুষের উপস্থিতি বেশি দেখা যাচ্ছে।

শহরের এনএস রোড এলাকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, লাভলী টাওয়ার শপিং মল, পরিমল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু সুপার মার্কেট, জেলা পরিষদ মার্কেট এবং ছয় রাস্তা মোড় এলাকার বিভিন্ন শোরুমে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে দিন দিন। এসব মার্কেটে দেশি-বিদেশি নানা ডিজাইনের

পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, শাড়ি, ফতুয়া ও শিশুদের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে।
এছাড়াও জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ও ফ্যাশন হাউস যেমন আড়ং, দর্জিবাড়ী, আর্টিকেল, সেইলরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঈদ উপলক্ষে নতুন নতুন কালেকশন এসেছে। অনেক দোকানে বিশেষ ছাড় বা অফারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে।

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন শপিংমলে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। এরই মধ্যে কুষ্টিয়ার বঙ্গবন্ধু সুপার মার্কেটের “স্টাইল ফ্যাশন” দোকানে দেখা যাচ্ছে নানা ডিজাইনের থ্রি-পিসের সমাহার।

দোকানটিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন নতুন ডিজাইনের থ্রি-পিস সাজিয়ে রাখা হয়েছে, যা ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতারা ভিড় করছেন তাদের পছন্দের পোশাক কিনতে।

ক্রেতারা জানান, স্টাইল ফ্যাশনে বিভিন্ন রঙ ও ডিজাইনের থ্রি-পিস পাওয়া যাচ্ছে। মান ও দামের দিক থেকেও তারা সন্তুষ্ট। একজন ক্রেতা বলেন, “ঈদ উপলক্ষে পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতে এসেছি। এখানে অনেক সুন্দর থ্রি-পিস পাওয়া যাচ্ছে, দামও তুলনামূলক সাশ্রয়ী।”

স্টাইল ফ্যাশনের দোকান মালিক ফিরোজ হোসেন জানান, ঈদকে সামনে রেখে তারা নতুন নতুন কালেকশনের থ্রি-পিস দোকানে এনেছেন। তিনি বলেন, “ক্রেতাদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন ডিজাইন ও মানসম্মত পোশাক সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিদিনই ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ছে। আশা করছি ঈদের আগের দিনগুলোতে বিক্রি আরও বাড়বে।”

শহরের মীম ফ্যাশনের মালিক রানা জানান, ঈদকে সামনে রেখে গত কয়েক দিন ধরে দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। তিনি বলেন, “ঈদের কেনাকাটার মূল সময় এখন শুরু হয়েছে। আশা করছি ঈদের আগের সপ্তাহে বিক্রি আরও বাড়বে।”

ব্যবসায়ীরা জানান, এবারের ঈদ মৌসুমকে ঘিরে বাজারে নতুন ডিজাইনের পোশাক আনা হয়েছে। অন্যদিকে ক্রেতারাও নিজেদের পছন্দের পোশাক কিনতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাজারে আসছেন।

সব মিলিয়ে ঈদকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া শহরের মার্কেটগুলোতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে এবং দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, কেনাকাটার ব্যস্ততাও ততই বাড়ছে।




দর্শনায় ভিজিএফের চাল থেকে বঞ্চিত দরিদ্ররা, কাদতে কাদতে ফিরলেন বৃদ্ধ-বিধবারা

দর্শনা পৌরসভার ভিজিএফের চাল বিতরণে তালিকা জটিলতা, অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে পৌরসভার ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রকৃত দরিদ্র, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও অসহায় অনেক মানুষ চাল না পেয়ে কাদতে কাদতে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, কিছু সচ্ছল ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীও এই ভিজিএফের চাল পেয়েছেন, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, দর্শনা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের উপকারভোগীদের জন্য কার্ডপ্রতি ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী: ১ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৩৫ জনের জন্য ৩,৩৫০ কেজি, ২ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৯০ জনের জন্য ৩,৯০০ কেজি, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৩৫ জনের জন্য ৩,৩৫০ কেজি, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৩৩ জনের জন্য ৩,৩৩০ কেজি, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৪২ জনের জন্য ৩,৪২০ কেজি, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৪২ জনের জন্য ৩,৪২০ কেজি, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ২৮৩ জনের জন্য ২,৮৩০ কেজি, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৯৭ জনের জন্য ৩,৯৭০ কেজি এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৩২৮ জনের জন্য ৩,২৮০ কেজি বরাদ্দ রয়েছে।

মোট ৯টি ওয়ার্ডে ৩,৮৫০ জন উপকারভোগীর জন্য ৩০,৮৫০ কেজি চাল বরাদ্দ রয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল থেকে দুপুর তিনটা পর্যন্ত ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ৩ মার্চ দর্শনা পৌর কর্তৃপক্ষ ৯টি ওয়ার্ডের রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে একটি সভা করেন। ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়, দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে পৌরসভায় জমা দিতে হবে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এক সপ্তাহ পার হলেও অনেক ওয়ার্ডে তালিকা সম্পূর্ণ হয়নি এবং কোথাও অতিরিক্ত নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি করেছে।

ভিজিএফের চাল বিতরণের সময় দেখা যায়, তালিকায় নাম না থাকায় অনেক অসহায় মানুষ চাল পাননি। ভুক্তভোগীদের মধ্যে অনেকেই বয়োবৃদ্ধ, কেউ বিধবা, কেউ স্বামী পরিত্যক্তা, আবার কেউ এমন আছেন যারা চলাফেরা করতে পারেন না বা ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবনযাপন করেন। তাঁরা কাদতে কাদতে ফিরে গেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিতরণের সময় বিভিন্ন অনিয়মও হয়েছে। একজন মহিলা একাই ১৭টি টোকেন বা কার্ড নিয়ে চাল নিতে আসেন। পৌর কর্মচারী শাহ আলম তাৎক্ষণিকভাবে টোকেনগুলো আটক করেন। এছাড়া কিছু সচ্ছল ব্যক্তি এই ভিজিএফের চাল পেয়েছেন, যেমন কেরু অ্যান্ড কোম্পানিতে চাকরি করেন এমন কয়েকজন এবং বাজারে কাপড়ের ব্যবসা করেন এমন কয়েকজন।

দামুড়হুদা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও দর্শনা পৌর প্রশাসক শাহিন আলম জানান, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে চাল পৌঁছে দিতে প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে পৌর কর্মচারী দায়িত্ব পেয়েছেন। তবে কিছু ওয়ার্ডের তালিকা এখনো সম্পূর্ণ হয়নি, ফলে পুরো চাল বিতরণ শেষ করতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে।

প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায়দের দাবি, তালিকা পুনরায় যাচাই করে যারা সত্যিকারের প্রাপ্য, তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত ভিজিএফের চাল বিতরণের ব্যবস্থা করা হোক। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বৈষম্য ও অভিযোগ থাকবে।