বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’ সৃষ্টি, আঘাত হানতে পারে যেসব এলাকায়

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তিতে’ পরিণত হয়েছে। নিম্নচাপের অবস্থান বাংলাদেশ থেকে দূরে হলেও এর প্রভাব এরই মধ্যে পড়তে শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আবহাওয়া ডটকমের প্রধান আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ।

পোস্টে তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার সময় প্রচারিত বার্তায় জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের উপকূলের পূর্ব দিকে ও কোলকাতা শহর থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করতেছে ঘূর্ণিঝড় শক্তির কেন্দ্রে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার যা দমকা হাওয়াসহ ঘণ্টায় প্রায় ৮৩ কিলোমিটার পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় শক্তি আজ রাতে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যে ও ওড়িশা রাজ্যের মধ্যবর্তী স্থানের উপকূলের ওপর দিয়ে স্থল ভাগে প্রবেশ করার আশংকা করা যাচ্ছে। যদিও ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর এখনো এটিকে গভীর নিম্নচাপ হিসাবে গণ্য করতেছে।

ঘূর্ণিঝড় শক্তি বাংলাদেশের ওপর দিয়ে অতিক্রম না করলেও এর প্রভাবে বাংলাদেশ, ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয় রাজ্যের উপরে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টির প্রবল আশংকা করা যাচ্ছে আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত।

এদিকে দেশের তিন বিভাগে ভারি বৃষ্টির পাশাপাশি সাত জেলায় বন্যার আশঙ্কা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে ভারি বৃষ্টি হতে পারে। এতে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, ফেনী, লালমনিরহাট, নীলফামারী, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে প্রথমে সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং পরে নিম্নচাপে পরিণত হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

এটি আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।

এতে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে এবং ভারতের ত্রিপুরা ও আসাম প্রদেশে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত এ ধরনের বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

সূত্র: যুগান্তর ।




খেলা হচ্ছে না সৌম্যর, দলে ঢুকলেন সাকিব

এবারের দুর্গাপূজার আনন্দটা দ্বিগুণ হয়ে গেছে সৌম্য সরকারের, বাংলাদেশ জাতীয় দলে ফিরেছেন তিনি, সেটা নিজেই ফেসবুকে জানিয়েছিলেন।

যার ফলে অবশ্য একটা শূন্যস্থান তৈরি করে ফেলেছেন তিনি। জাতীয় ক্রিকেট লিগে খুলনার হয়ে খেলছিলেন তিনি। চলতি আসরে আর খুলনার হয়ে খেলা হচ্ছে না তার।

তার জায়গায় অবশ্য ইতোমধ্যেই খেলোয়াড় দলে টেনে ফেলেছে খুলনা। ডাক পেয়েছেন তরুণ ব্যাটার শাহরিয়ার সাকিব।

সাকিব অবশ্য আগে থেকেই খুলনার স্ট্যান্ডবাই ছিলেন। বাংলাদেশ অ-১৯ দলের হয়েও একাধিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

বয়সভিত্তিক পর্যায়ে নিয়মিত পারফর্ম করা সাকিব সবশেষ ঘরোয়া ক্রিকেট মৌসুমেও খেলেছেন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তিনি শাইনপুকুরের হয়ে খেলেছেন, একটি ফিফটির সঙ্গে দুটো চল্লিশোর্ধ্ব ইনিংস আছে সেখানে।

ওদিকে সৌম্য সরকার অবশ্য ব্যস্ত থাকবেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে। টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর ওয়ানডে সিরিজের ব্যস্ততা আছে দলের। সেই দলেও থাকছেন তিনি।

সৌম্য সরকারের এই সিরিজে যাওয়া নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। ভিসা মিলছিল না তার। অবশেষে সিরিজ শুরুর ঠিক আগে তিনি যাচ্ছেন আমিরাতে। দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে দলে দেখা যেতে পারে তাকে।

সূত্র: যুগান্তর ।




ভারত থেকে যেভাবে দেশে ঢুকছে জাল নোট

দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে দুই লাখ কোটি টাকার সমপরিমাণ জাল নোট দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে পতিত আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা।

তাদের এই অপকর্মে মদদ দিচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশের একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা। বিশেষভাবে দেশটির নিজস্ব মুদ্রা ছাপানোর ব্যবস্থায় নকল মুদ্রা তৈরি করে দিচ্ছে তারা।

এছাড়া বাংলাদেশের টাঁকশালে ব্যবহৃত মেশিন ও যন্ত্রাংশ ওই দেশেই তৈরি। সেই মেশিনও এ কাজে ব্যবহৃত হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে জাল মুদ্রায় ব্যবহৃত কাগজ এবং বাংলাদেশের নোটের কাগজ একই হওয়ায় সন্দেহ আরও বেড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের টাঁকশালে ছাপা নোটের আদলে নিখুঁতভাবে তৈরি কাগজের জাল মুদ্রাগুলো পার্শ্ববর্তী দেশে তৈরির পর গোয়েন্দারা চোরাপথে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এরপর বিভিন্ন হাত ঘুরে এগুলো চলে যাচ্ছে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে। জাল নোট তৈরি এবং দেশে পাঠানো চক্রে গোয়েন্দাদের সঙ্গে ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগের কিছু নেতা সরাসরি জড়িত।

দুপক্ষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা চক্রটি নতুন একটি চেইন তৈরি করেছে। সেখানে ডিলার থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত সবাই তাদের আদর্শের লোক।

জানা গেছে, বিশাল অঙ্কের জাল নোট তৈরিতে সন্দেহভাজনদের মধ্যে আছেন টাঁকশালে টাকা তৈরির সাবেক ডিজাইনারসহ আওয়ামী কারিগররা। এরা গোয়েন্দাদের তত্ত্বাবধানে লম্বা সময় নিয়ে জাল টাকা ছাপিয়েছে। এ ধরনের নোট নিজস্ব গোপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার কাতারভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান তার ফেসবুক আইডিতে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেন। এটি ভাইরাল হওয়ার পর বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নড়েচড়ে বসে। তারা এই অপতৎপরতা রুখতে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বলে যুগান্তরকে জানান।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বুধবার বিকালে যুগান্তরকে জানান, প্রায় ২ লাখ কোটি টাকার জাল নোট দেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগ সত্য হলে এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে এখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের খুব বেশি কিছু করার নেই। সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে। আর সাধারণ মানুষকেও অনেক সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে পুরোনো টাকা বাজারে ছাড়া হচ্ছে না। বাজারে শুধু নতুন টাকা দেওয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রীয়ভাবে কাজটি করে থাকলে এটা ঠেকানো কারও পক্ষে সম্ভব ছিল না। কারণ, বিগত ১৫ বছরে টাঁকশালে নিয়োগ পাওয়া বেশির ভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীই ছিলেন আওয়ামী আদর্শের অনুসারী। অনেক মেশিনারিজও নেওয়া হয়েছে পার্শ্ববর্তী একটি দেশ থেকে। তিনি বলেন, টাকা ডিজাইনের কারিগর, যারা গত এক-দেড় বছরে অবসরে গেছেন; তাদের নজরদারির আওতায় আনা যেতে পারে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জাল নোট চক্রের সদস্যরা ফেসবুক, টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপের মতো বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে জাল নোট বেচাকেনার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। চটকদার অফার দিয়ে ক্রেতা আকৃষ্ট করছে সংঘবদ্ধ চক্রটি। বিভিন্ন ‘সিক্রেট গ্রুপ’ তৈরি করে সেখানে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করছে। এমন কিছু বিজ্ঞাপন দেখা গেছে, যেখানে ১ লাখ টাকার জাল নোট মাত্র ১০ থেকে ১৮ হাজার টাকায় বিক্রির অফার দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তারা ক্রেতাদের আস্থা অর্জনের জন্য ‘মানি ব্যাক গ্যারান্টি’ বা ‘মানের নিশ্চয়তা’র মতো মিথ্যা প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছে। জালিয়াত চক্র তাদের পোস্টে এমন কিছু সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করে, যাতে সাধারণের চোখে তা সহজে ধরা না পড়ে। যেমন, ‘নতুন মডেলের রঙিন প্রিন্ট’, ‘পুজোর বাজারের জন্য স্পেশাল অফার’, ‘ঈদ অফারের মতো দারুণ সুযোগ’, ‘উচ্চমানের রেপ্লিকা’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে জাল টাকাকে বৈধ পণ্য হিসাবে প্রচার করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

‘জাল টাকা বানানোর প্রসিকিউটর’ (জাল টাকা বানানো শেখানো হয়) নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে জাল নোটের ভিডিও আপলোড করা হয়েছে। ভিডিওর শিরোনাম জাল টাকা নিতে চান। ফোন নাম্বার ০১৩২৬০…। এই নাম্বারে ফোন করা হলে অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট দেওয়া যাবে। এক লাখের দাম ১৮ হাজার টাকা। নিজের নাম জানাতে নারাজ ওই ব্যক্তি বলেন, তিনি টাঙ্গাইলে অবস্থান করছেন। মাঝেমধ্যে গাজীপুরে ভাড়া বাসায় থাকেন। দরদাম করলে তিনি বলেন, তার কাছে সব নিখুঁত, ‘এ’ গ্রেডের নোট রয়েছে। এজন্য দাম একটু বেশি। নিতে হলে আগে কিছু টাকা অগ্রিম পাঠাতে হবে। নগদে কিংবা বিকাশে টাকা পাঠালেই যথাসময়ে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেওয়া হবে চাহিদা অনুযায়ী জাল টাকা।

আরেক জাল টাকার ব্যবসায়ী জানান, নতুন কারও বিশ্বাস অর্জনের জন্য কিছু টাকা অগ্রিম নিয়ে টাকার স্যাম্পলও পাঠানো হয়। গ্রুপের নাম ‘জাল টাকা বিক্রি করি’। এ গ্রুপে-ইমরোজ কালেক্ট নামে একটি আইডি থেকে জাল টাকা বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। এতে লেখা হয়েছে, এ গ্রেডের মাল। ওয়াটারপ্রুফ জলছাপ সুতা তৈরি। মেশিন ছাড়া কারও বাপেরও ধরার ক্ষমতা নেই।
সূত্র: যুগান্তর।




আজ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব

আজ বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে ৫ দিনের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের। তাই, মণ্ডপে মণ্ডপে এখন বাজছে বিদায়ের ঘণ্টা। আজ সকালে হবে দশমীর বিহিত পূজা। পূজা শেষে হবে দর্পণ ও বিসর্জন। এদিন দেবী মর্ত্য ছেড়ে কৈলাশে ফিরে যাবেন দোলায় চড়ে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানুষের মনের অসুরিক প্রবৃত্তি, কাম, ক্রোধ, হিংসা, লালসা বিসর্জন দেয়াই মূলত বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য। এ প্রবৃত্তিগুলোকে বিসর্জন দিয়ে একে অন্যের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের তথ্যমতে, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৩৫৫টি পূজামণ্ডপ হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীতে মণ্ডপ হয়েছে ২৫৯টি। বিজয়া দশমীতে সকালে দর্পণ বিসর্জনের পর থেকে শুরু হবে দেশব্যাপী প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। প্রত্যেকে নিজ নিজ জেলায় দেবী বিসর্জন করবেন। রাজধানীর অধিকাংশ মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন হবে বুড়িগঙ্গায়।

বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী বাসুদেব ধর বলেন, দুর্গা মায়ের বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গেছে। কৈলাশে ফিরে যাবেন মা দুর্গা। আবার আমাদের অপেক্ষা শুরু হবে আগামী বছরের পূজার জন্য। এবারের পূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় সনাতনী ধর্মাবলম্বীরা নিরাপদে পূজা উদ্‌যাপন করতে পেরেছেন। এজন্য আমরা সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, বিজয়া দশমীতে বিসর্জন শোভাযাত্রা যেন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় সেজন্য পৃথক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা সুন্দরভাবে শেষ হবে। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

এদিকে গতকাল ঢাকেশ্বরী ও রমনা কালী মন্দিরে দুর্গাপূজা পরিদর্শন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ও সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সুন্দর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনায় অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিজিবিও দুর্গাপূজার নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। বিজিবি সীমান্তবর্তী ২ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাজধানীসহ সারা দেশের অন্যান্য বড় বড় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্বও পালন করছে। তিনি জানান, যার যার ধর্মীয় উৎসব সবাই যাতে নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে। আর একটা দিন বাকি আছে, বাকি সময়টুকুতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের দুর্গাপূজা সুন্দর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বিজিবি মহাপরিচালক। বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, গত ২৪শে সেপ্টেম্বর থেকে বিজিবি’র ৪৩০ প্লাটুন সদস্য রাজধানীসহ সারা দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় ২৪টি বেজ ক্যাম্প স্থাপন করে মোট ২ হাজার ৮৭০টি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে। বিজিবি নিয়ন্ত্রণাধীন ২ হাজার ৮৭০টি পূজামণ্ডপের মধ্যে সীমান্তবর্তী (সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে ও পার্বত্য অঞ্চলের ১৫টি পূজামণ্ডপসহ) রয়েছে ১ হাজার ৪১৭টি এবং সীমান্তবর্তী এলাকার বাইরে রয়েছে ১ হাজার ৪৫৩টি মণ্ডপ।




গাংনীতে বাঁশবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া নবজাতক আর নেই

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া গ্রামের বাঁশবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া সেই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। গেল রাত আড়াইটার দিকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে তার মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে গাংনী উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আরশাদ আলী জানান, ভুমিষ্ঠ হওয়ার পর শিশুটির নাড়ি কাটা হয়নি। বাগানে ফেলে রাখায় সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। গেল দুদিন মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের ইনকিউবেটারে ছিল। গতকাল সন্ধ্যায় কিছুটা সুস্থ হওয়ায় শিশুটিকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। তবে রাতে হঠাৎ প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে মটমুড়া গ্রামের একটি বাঁশবাগান থেকে সদ্য ভুমিষ্ঠ হওয়া কন্যা শিশুটিকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। গাংনী উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সহায়তায় তার চিকিৎসা চলছিল। পরিচয়বিহীন কন্যা শিশুটিকে দত্তক নিতে অনেকে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে এখনও পর্যন্ত শিশুটির পিতামাতার পরিচয় মেলেনি।

শিশুটির দাফনের বিষয়ে গাংনী উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আরশাদ আলী জানান, শিশু কল্যাণ বোর্ডের সিদ্ধান্ত হলে তার দাফন সম্পন্ন করা হবে।




দর্শনায় সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বিরতি উপলক্ষ্যে বিজয় উৎসব

একতা আর আন্দোলনের জয় হলো ছাত্র জনতার দর্শনায় সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বিরতি উপলক্ষ্যে-বিজয় উৎসব ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার রাত ১০ টায় দর্শনা হল্ট ষ্টেশনে ট্রেনের যাত্রা বিরতি উপলক্ষ্যে-বিজয় উৎসব ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ছাত্রজনতার আয়োজনে দীর্ঘ দিনের দর্শনাসহ আশপাশের মানুষের প্রানের দাবি পৃরন হলো।এ সময় উপস্থিত ছিলেন,দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক ও দর্শনা মেমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আলহাজ্ব মশিউর রহমান,দর্শনা থানার যুবদলের আহবায়ক জালাল উদ্দীন লিটন,দর্শনা ছাত্রদলের সভাপতি আরাফাত রহমান,দর্শনা ছাত্র সমন্বয়কের সাবেক যুগ্ন আহবায়ক তানভীর অনিক,এ আর রিফাত,প্রমুখ।পরে ছাত্র জনতা একটি কনসার্ট গানের আয়োজন করে।




জীবননগর সীমান্ত থেকে এক বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বেনীপুর সীমান্ত থেকে বিএসএফ বদরউদ্দীন নামে এক বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে গেছে।

আজ বুধবার বেলা ১১টার সময় ভারতের নোনাগঞ্জ ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে যায়। বদরউদ্দীন (২৬) জীবননগর উপজেলার বেনীপুর গ্রামের স্কুল পাড়ার আব্দুল করিমের ছেলে।

গ্রামবাসী জানায়, বদরউদ্দীন গতকাল বুধবার বেলা ১১ টার সময় বেনীপুর গ্রামের ডিসপুট মাঠ দিয়ে অবৈধভাবে ৫-৬ মানুষ (ধুর) পাচার করছিলো। এক পর্যায়ে ভারতের নোনাগঞ্জ বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদেরকে ধাওয়া করে। এ সময় অন্যরা অন্যরা পালিয়ে গেলেও বিএসএফ বদরউদ্দীনকে ধরে ফেলে। পরে বিএসএফ সদস্যরা বদরউদ্দীনকে নোনাগঞ্জ ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যায়।

বেনীপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য রবিউল হোসেন বলেন, গতকাল বুধবার বেলা ১১ টার দিকে বিএসএফ এক বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে গেছে।

মহেশপুর-৫৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল রফিকুল আলমের (পিএসসি) সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা অসমর্থিত সূত্রে জানতে পেরেছি বিএসএফ এক বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে আমরা বিএসএফের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।




গাংনীতে ধানের শীষের পক্ষে বিএনপির মিছিল

মেহেরপুরের গাংনীর কাজিপুর ইউনিয়নে বিএনপির উদ্যোগে ধানের শীষের পক্ষে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল বুধবার কাজিপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে ধানের শীষের এ মিছিলের আয়োজন করা হয়।

ধানের শীষের পক্ষের এ মিছিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন । এসময় গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান, কাজিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান মোল্লা প্রমুখ।

এসময় কাজিপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড ভবানীপুর গ্রাম থেকে বেতবেরিয়া পর্যন্ত ধানের শীষের পক্ষে এই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।




দর্শনার ব্রাদার্স রাইস মিলে পরিকল্পিত অগ্নিকাণ্ডে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

দর্শনার ব্রাদার্স রাইস মিলে তরল দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে আগুনে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ব্রাদার্স রাইস মিলে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ব্রাদার্স রাইস মিল বন্ধ করে সবাই চলে যায়। হঠাৎ করে ভোরের দিকে নাশকতামূলক অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় রাইস মিলের ভেতরে থাকা ২০ বস্তা চালের গুঁড়া ও একটি পালসার মোটরসাইকেল পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। এতে প্রায় লক্ষাধিক টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিটের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রাথমিক ধারণা, তরল দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়েছে।

মিল মালিক খন্দকার সাইফুল আজম সেন্টু বলেন, আমার তো কারও সঙ্গে শত্রুতা নেই। তবে আমার ছেলের সঙ্গে আছে কিনা, আমার জানা নেই।




আলমডাঙ্গায় আন্তর্জাতিক বিশ্ব প্রবীণ দিবস উদযাপন

আলমডাঙ্গায় বিশ্ব প্রবীণ দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় আলমডাঙ্গা বিশ্ব প্রবীণ দিবস উদযাপন করা হয়েছে। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উই ফর অল এর আয়োজনে আলমডাঙ্গা ডায়াবেটিক সমিতির সম্মেলন কক্ষে নবীন-প্রবীণদের অংশগ্রহণে মুক্ত আলোচনার অনুষ্ঠান “আড্ডা”র আয়োজন করা হয়।

আলমডাঙ্গার বিভিন্ন শ্রেণীর প্রবীণ ও নবীনরা অংশগ্রহণ করে এ আয়োজনে। উই ফর অল এর চেয়ারম্যান ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে, প্রবীণ সাংবাদিক হামিদুল ইসলাম আজমের উপস্থাপনায় মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আলমডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ওমর আলী মাস্টার, মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুর জব্বার, সাবেক ফুটবলার আমিনুর ইসলাম বাবলু, সাবেক শিক্ষক ওয়াজেদ আলী মাস্টার, গাংচিল সাহিত্য পরিষদের সভাপতি হাবিবুর রহমান মজুমদার, আলমডাঙ্গা নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম, সাবেক আবাসিক প্রকৌশলী মো. গোলাম নবী, প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মো. গোলাম সরোয়ার মোল্লা।

নবীনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল হক শাওন, আলমডাঙ্গা নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম পিন্টু, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন আলমডাঙ্গা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক খায়রুল ইসলাম, মানবাধিকার কর্মী হাবিবুর রহমান, তরুণ সমাজকর্মী শরিউতুল্লা আলিফ, সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম রোকন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রবীণ-নবীনের মুক্ত আলোচনায় দারুণ আবহ তৈরি হয়। প্রবীণরা তাদের বক্তব্যে বলেন, ধনী-দরিদ্র সর্বশ্রেণীর প্রবীণরা আজ গৃহে থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে বোঝায় পরিণত হয়েছে। তাদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, বসবাসের জন্য আলাদা বাসস্থান করে দিতে হবে। বিশ্বের সকল উন্নত দেশ যেমন কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, ব্রিটেন, জার্মানিতে প্রবীণদের জন্য জীবনযাপনকে সহজ করতে সকল ব্যবস্থা আছে। সেই সকল সুযোগ-সুবিধা বাংলাদেশে যতদিন নিশ্চিত করতে না পারবে, ততদিন আমরা উন্নয়নশীল দেশের কাতারে দাঁড়াতে পারব না।