মেহেরপুরে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

মেহেরপুরে বসত বাড়ির দ্বিতীয় তলা নির্মাণ কাজে বাঁধা দেওয়ায় সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছে নুর ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। আজ রবিবার সকাল ১০টার দিকে তার নিজ বাড়ির সামনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। নুর ইসলাম নতুন শেখ পাড়ার বাসিন্দা।

নুর ইসলাম তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ২১ আগষ্ট আমার নামে বাড়ি নির্মাণ কাজে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করে শারমিন সুলতানা নামের এক নারী। শারমিন সুলতানা আমার সম্পর্কে সাংবাদিকদের যে তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তা মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট কথা বলেছে।

শারমিন, লিপি আক্তার, মিঠুন এবং রিমা খাতুন আমাকে হুমকি-ধামকি দেয়। রিমা বলে, আমাদের পরিবারে আমার স্বামী, ভাই, দুলাভাই, চাচাসহ অনেকে পুলিশে চাকরি করে। সেজন্য তারা ক্ষমতা দেখায়। শারমিনের স্বামী মিঠুন ফেসবুকে বিভিন্ন সময় আপত্তিকর বক্তব্য প্রচার করে যা মানহানিকর।

তারা পৌরসভার প্লান মোতাবেক বাড়ি নির্মাণ না করাই পৌরসভাতে আমি লিখিত অভিযোগ করি। অভিযোগ করার কারণে তারা আমাকে হুমকি-ধামকি দেয় এবং গালিগালাজ করে। এছাড়াও তার আত্মীয় স্বজন পুলিশে চাকরি করে এবং আমাকে দেখে নেবে বলেও হুমকি দেয়। এ বিষয়ে আমি সদর থানায় একটি জিডি করি। যার নং-১৫৭৮।

পৌরসভা আমাদের উভয়পক্ষকে মীমাংসার জন্য ডাকে কিন্তু তারা পৌরসভার আদেশ অমান্য করে বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করে। অবশেষে আমি বিজ্ঞ আদালতের আশ্রয় গ্রহণ করি। আদালত থানার মাধ্যমে ১৪৫ ধারা জারি করে। আদালত নির্দেশ দেয় মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকবে। পরে সদর থানার এসআই দেবদাস মন্ডল এসে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। তার বাড়ি নির্মাণ করার সময় বাড়ির পিলার সঠিক জায়গায় থাকলেও উপরের ছাদ ১৮ ইঞ্চি বাড়িয়ে দিয়েছে। যা আমার সীমানার কাছাকাছি চলে এসেছে।

আমি এই ঘটনার সুষ্ঠ সমাধান চাই এবং আদালতের মাধ্যমে এর সমাধান চাই। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবে সেটিই আমি মেনে নেব।




অস্ট্রেলিয়ায় কাউন্সিলর পদে লড়ছেন মেহেরপুরের মাসুম বিল্লাহ

‘আমরা মাসুম ভাইকে নিয়ে গর্বিত যে বাংলাদেশী একজন প্রবাসে এসে অস্ট্রেলিয়ার মধ্যবর্তী একটা শহরে বাংলাদেশী কম হওয়ার পরেও তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।আমরা আনন্দিত এবং তার সফলতা কামনা করছি।’ অস্ট্রেলিয়ায় কাউন্সিলর পদে লড়ছেন মেহেরপুরের মাসুম বিল্লাহ।

অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহ্যবাহী শহর নর্দান টেরিটোরির এলিস স্প্রিংস এর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশী সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লাহ। এই নির্বাচনে শহরটিতে বসবাসরত প্রথম কোনো প্রবাসী বাংলাদেশী এবং মুসলিম প্রার্থী যিনি কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মাসুম বিল্লাহ বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জেলা মেহেরপুর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ড নতুন পাড়ার বাসিন্দা। তার বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। চার বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি চতুর্থ।

সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লাহ অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশী এবং মুসলিম কমিউনিটির কাছে খুব পরিচিত একটি মুখ। তিনি টাউন কাউন্সিল নির্বাচনে সিটি কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় স্থানীয় বাংলাদেশী এবং মুসলিম কমিউনিটি বেশ উচ্ছ্বসিত।

এলিস স্প্রিংস মুসলিম কমিউনিটির সভাপতি সাইদ মালিক বলেন, ‘আমাদের মুসলিম কমিউনিটি থেকে প্রথম প্রার্থী হিসেবে মাসুম বিল্লাহ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এজন্য আমরা আনন্দিত এবং আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি তাকে নির্বাচনে বিজয়ী করার জন্য।’

প্রবাসী বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মাসুম ভাইকে নিয়ে গর্বিত যে বাংলাদেশী একজন প্রবাসে এসে অস্ট্রেলিয়ার মধ্যবর্তী একটা শহরে বাংলাদেশী কম হওয়ার পরেও তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আমরা আনন্দিত এবং তার সফলতা কামনা করছি।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘সবসময় আমরা ভোট দেই অন্যদেরকে, কিন্তু এবার প্রথম আমাদের নিজস্ব প্রার্থী হওয়াতে আমরা নিজেদের প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছি এবং অন্যদের কাছে ভোট চাচ্ছি ও ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছি। আমরা আশা করছি আমাদের সফলতা আসবে।’

কাউন্সিলর প্রার্থী মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘আমি যদি নির্বাচিত হই তাহলে স্থানীয় ও প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করবো। প্রবাসী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মিলেমিশে থাকার পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করবো এবং বাংলাদেশের সাথে আমাদের অস্ট্রেলিয়ার এই শহরের একটা সিস্টার কনসার্ন কানেকশন করার চেষ্টা করবো।’

মাসুম জানান, তার প্রধান অগ্রাধিকার থাকবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করা, জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা এবং এলিস স্প্রিংস শহরের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রক্ষা করে বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলা।

উল্লেখ্য, গত ১১ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে এলিস স্প্রিংস এর স্থানীয় সরকার নির্বাচন, নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হবে ২৩ আগস্ট। শহরটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজার। এবার সাতজন প্রার্থী মেয়র পদে এবং ২৫ জন প্রার্থী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে একজন মেয়র পদে এবং আটজন কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হবেন।




দর্শনায় বেশি দামে সার বিক্রি, ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা জরিমানা

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে ধরা পড়লো অনিয়ম। মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির দায়ে এক ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নকল সন্দেহে জব্দ করা হয়েছে ৮ বস্তা সার, যা পরীক্ষার জন্য কৃষি দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

রোববার (২৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের আকন্দবাড়িয়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা চালানো হয়। এসময় স্থানীয় মুদি দোকান ও সার-বীজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তদারকি করা হয়।

অভিযানে মেসার্স কামরুল ট্রেডার্স-এ মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির প্রমাণ মেলে। টিএসপি সারের নির্ধারিত দাম ১৩৫০ টাকা হলেও প্রতিষ্ঠানটি ১৮৫০ থেকে ২৩০০ টাকায় বিক্রি করছিল। এ অপরাধে মালিক মো. কামরুল হাসান-কে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ও ৫১ ধারা অনুযায়ী এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।

এছাড়া, প্রতিষ্ঠানের গুদাম থেকে নকল সন্দেহে ৮ বস্তা বাংলা টিএসপি সার জব্দ করা হয়। জব্দকৃত সার পরীক্ষার জন্য সদর উপজেলা কৃষি অফিসে পাঠানো হয়েছে। টেস্ট রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযান চলাকালে বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীদের প্রতি মূল্যতালিকা হালনাগাদ রাখা, নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ও মানহীন কীটনাশক, সার-বীজ ও ঔষধ বিক্রি না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এ অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ক্যাব প্রতিনিধি মো. রফিকুল ইসলাম ও চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের একটি টিম। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




কালীগঞ্জে জমির ন্যায্য মূল্যের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকরা রোববার ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেছে।

মানববন্ধন শেষে দুপুরে বৈষম্য নিরসন ও ন্যায্যমুল্য নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্মারকলিপি প্রদানের সময় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পক্ষে হাজী মো. শহিদুল ইসলাম, ওবায়দুল ইসলাম পাটোয়ারী, ফরিদ উদ্দিন মিয়া, জালাল উদ্দীন ও আবু জাফর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মালিকরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আওয়ালের কাছে অভিযোগ করেন, ৭ ধারা ও ৮ ধারার নোটিশ পাওয়ার পর তারা তাদের মতামত তুলে ধরতে পারেনি। এতে ন্যায্য মুল্য নিশ্চিত না হওয়ায় কয়েক হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। ফলে পুনঃতদন্ত করে জমির মূল্য নির্ধারণের জন্য দাবী জানানো হয়।

স্মারকলিপি প্রদানের সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল জমির মালিকদের দাবী ধৈর্য্য সহকারে শোনের এবং তাদের দাবী যথাস্থানে পৌছে দেবার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প শুরুর পর থেকে ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকরা তাদের দাবী পুরণের জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকরা অধিগ্রহণকৃত জমির ৮ ধারা প্রত্যাহার, পুনরায় সার্ভে করে স্থাপনা ও জমির বর্তমান ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করা না হলে তারা হরতাল, অবরোধ ও প্রয়োজনে আত্মহুতি দেওয়া হবে বলেও হুসিয়ারী দেন।




ঝিনাইদহ জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি গ্রেপ্তার

ঝিনাইদহ জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আশফাক মাহমুদ জন ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক শাকিল আহমেদকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকালের দিকে ঢাকার পান্থপথের একটি চায়ের দোকান থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল তাদের গ্রেপ্তার করে। ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, যুবলীগ নেতা আশফাক মাহমুদ জন ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শাকিল আহমেদকে একসঙ্গে একই স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উল্লেখ গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তারা দুইজনই পলাতক ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর থানায় শিবির কর্মী ইবনুল পারভেজ হত্যা মামলা ও গতবছরের ৪ আগস্ট বিএনপি কার্যালয় ও জেলা বিএনপি’র সভাপতির বাসায় হামালা ও অগ্নিসংযোগ মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি আরও বলেন তাদেরকে আইনি প্রক্রিয়ায় কোর্টে হস্তান্তর করা হবে।




১৫ আসামির ৯ জন খালাস, ৬ জনের জেল-জরিমানা

মেহেরপুরের বহুল আলোচিত হোটেল আটলান্টিকা কাণ্ডের একটি মামলায় (পর্ণগ্রাফি) ৬ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা দিয়েছে আদালত। আজ রোববার দুপুর ২টার দিকে মেহেরপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাসির উদ্দিন ফরাজী এ রায় প্রদান করেন।

রায়ে নাজনিন খান প্রিয়া, হোটেল মালিক মতিয়ার রহমান, তার ছেলে মামুন এবং সহযোগী শাহজাহানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া নেহাল ও জয়কে ছয় বছরের কারাদণ্ড ও সমপরিমাণ অর্থদণ্ড দেয়া হয়। তবে আসামি জয় এখনও পলাতক রয়েছেন।

মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে চার্জশিটভুক্ত অন্য আসামিদের অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের বেকসুর খালাস দেন। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন, ছন্দা খাতুন, আবু আক্তার করণ, তুহিন অরন্য, রেক্সনা, নিলুফার ইয়াসমিন রুপা, বর্ষা খাতুন, নুসরাত, সুমন রহমান বিমান, বিপাশা খাতুন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সাইদুর রাজ্জাক রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই বিজ্ঞ বিচারক দোষীদের শাস্তি দিয়েছেন। রায়টি দৃষ্টান্তমূলক হয়েছে। এতে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো, অপরাধ করলে কেউ ছাড় পায় না। মেহেরপুরের মানুষ ন্যায় বিচার পেয়েছে।”

মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত বছরের ২২ নভেম্বর সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামের এনজিও কর্মী মনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় এ মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৩২)। মামলায় মূল আসামি করা হয় নাজনীন খান ওরফে প্রিয়া খানকে। তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের অনুমতি নিয়ে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেরিয়ে আসে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইল চক্রের চিত্র।

তদন্তে জানা যায়, প্রিয়া খান ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে হোটেল আটলান্টিকায় নিয়ে যেতেন। সেখানে গোপনে অনৈতিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে পরে তা প্রকাশের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হতো। এ ঘটনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে হোটেল মালিক মতিয়ার রহমান, তার ছেলে মামুনসহ একাধিকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। ১৭ জনের মধ্যে আসামি মিজানুর রহমান জনি ও আব্দুস সালাম মামলা চলাকালীন সময়ে মারা যান।




মুজিবনগরে কৃষকদের মাঝে পেঁয়াজের বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

মেহেরপুরের মুজিবনগরে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ফসলের প্রণোদনা/পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

রোববার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পলাশ মণ্ডল।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মুজিবনগর উপজেলায় মোট ৩ হাজার কৃষককে এই সুবিধা দেওয়া হবে। প্রতিজন কৃষককে ১ কেজি পেঁয়াজের বীজ, ২০ কেজি এমওপি সার, ২০ কেজি ডিএপি সার এবং বালাইনাশক বাবদ ৩৫৫ টাকা করে প্রদান করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মুজিবনগর এর আয়োজনে অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রফিকুল ইসলাম, মজনুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকরা লাভবান হবেন এবং স্থানীয়ভাবে পেঁয়াজ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এতে একদিকে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন, অন্যদিকে দেশের আমদানি নির্ভরতা কমবে।




চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের নিবার্চনী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার সকাল ১০টায় দর্শনা ডাক বাংলো অডিটেরিয়ামে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আয়োজনে নিবার্চনী প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের নিবার্চন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মুহাম্মদ এনামুল কবির জিপসী এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান সজিব। প্রধান অতিথি তার বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, এখানে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিভিন্ন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা কমিটির উপস্থিত নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, আজ থেকে আপনারা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে পাখা মাকার্র পক্ষে সকল ধর্ম, বর্ণ, বিভিন্ন পেশার মানুষসহ সাধরণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে কাজ করবেন। সাধরণ মানুষের মধ্যে নিজেদেরকে গ্রহণযোগ্য করে আমাদের দলের আর্দশ প্রচার করবেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে, পাড়ার-মহল্লায় নিবার্চনী কমিটি গঠন করে পাখা মার্কার পক্ষে ভোট চাইবেন।

এছাড়া আগামী নিবার্চনকে সামনে রেখে এখন থেকে নিজ উদ্যেগে মনে প্রাণে কাজ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জয়যুক্ত করে ঘরে ফিরবেন বলে সকল নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতেই কোরআন তেলোয়াত করেন, কারী মোঃ জিল্লুর রহমান।

এছাড়া নিবার্চনী প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দামুড়হুদা সদর ইউনিয়রে সভাপতি মুফতি আব্দুর রাজ্জাক কাজী, হাউলী ইউনিয়রে সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, জুড়ান পুর ইউনিয়রে সভাপতি শাহিন আ্লম মিল্টন, নতিপোতা ইউনিয়রে সভাপতি মোশরেফ হোসেন, দর্শনা পৌরসভার সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামান, নাটুদাহ ইউনিয়নের সভাপতি মাওঃ মোঃ মিকাইল হোসেন, পারকৃস্ণপুর মদনা ইউনয়নের সাধারণ সম্পাদক জামসের আলী, কুড়লগাছী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের আহম্মদ, গড়াইটুপি ইউনিয়নের জসীম উদ্দিন।

এছাড়া জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধরণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন নেতাকর্মী বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, মাওঃ কে এম সাইফুল্লাহ ও মুফতি মুহাম্মদ ইদরিস।




আলমডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক ব্যক্তির মৃত্যু

আলমডাঙ্গা উপজেলার তিওর বিলা গাজীপাড়ায় গতকাল শনিবার সকাল ৯টার দিকে ছাদের উপর রড উঠানোর সময় বিদ্যুতের তারে স্পর্শ লেগে রিকাত আলী (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। নিহত রিকাত আলী ওই এলাকার মৃত শাকের আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধের কারণে নিজ জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করতে না পারায় রিকাত আলী পূর্বে ক্রয় করা রডগুলো বড় ভাই কিতাব আলীর বাড়ির ছাদে তুলছিলেন। এ সময় বাড়ির ছাদের উপর দিয়ে যাওয়া পল্লী বিদ্যুতের প্রধান লাইনের সাথে রড স্পর্শ করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বড় ভাই কিতাব আলী জানান, “দীর্ঘ দুই বছর আগে পল্লী বিদ্যুতের লাইনের স্থানান্তরের জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। লাইনটি ছাদের উপর দিয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি ছিল।”

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, পল্লী বিদ্যুতের অবহেলার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক লাইন অপসারণ করে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।




আলমডাঙ্গা সাউণ্ড লাইট ডেকোরেশন সমিতির কমিটি গঠন ও আলোচনা সভা

আলমডাঙ্গা সাউণ্ড লাইট ডেকোরেশন সমিতির কমিটি গঠন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত  হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টার সময় পান্না কমিউনিটি সেন্টারে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, ঝলক ডেকোরেশনের মালিক খাইরুল ইসলাম। প্রধান অতিথি চুয়াডাঙ্গা জেলা লাইট সাউণ্ড ডেকোরেশরের সভাপতি খসরুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, সমিতির মেহেরপুর শাখার সভাপতি সানোয়ার হোসেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, মোবারেক হোসেন, রনি আহম্মেদ, হান্নান আলি, সেলিম হোসেন, সালমান হোসেন, বাবুল মোল্লা, নাজমুল ইসলাম, আকিজ হোসেন, রুহুল আমিন প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে কমিটি গঠন করা হয়। পূর্বের কমিটি বহাল রেখে কমিটি ঘোষণা করা হয়। খাইরুল ইসলাম কে সভাপতি ও মোহাম্মদ শান্ত কে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে দেড় বছরের জন্য কমিটি পুনরায় বহাল রাখা হয়। নির্দিষ্ট সময় পরে নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।