দামুড়হুদায় উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় উপজেলা আইন শৃঙ্খলা, চোরাচালান, সন্ত্রাস ও নাশকতা, মানব পাচার এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০ টার সময় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এই মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এইচ তাসফিকুর রহমান, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবীর, দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ শহীদ তিতুমীর, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, দামুড়হুদা প্রেসক্লাব সভাপতি শামসুজোহা পলাশ, উপজেলা জামায়াতের আমীর নায়েব আলী।

এসময় উপজেলার বিজিবির বিভিন্ন ক্যাম্প কোম্পানির কমান্ডারবৃন্দ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা শুধু প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়, এটি একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা। জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে মাদক, সন্ত্রাস ও চোরাচালান প্রতিরোধ সহজ হবে। অবৈধ দখল, জমি নিয়ে বিরোধ ও সামাজিক সমস্যাগুলো সমাধানে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইন সবার জন্য সমান—এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক ও সন্ত্রাস দমনে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে জনসাধারণের সহযোগিতা অপরিহার্য। জনগণ যদি তথ্য দিয়ে পাশে থাকে, তাহলে অপরাধী যে-ই হোক না কেন, আইনের আওতায় আনা হবে। সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

এ বিষয়ে পুলিশ, বিজিবি ও প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। শীঘ্রই এ ধরনের অপরাধ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও সমাজের কল্যাণে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। মাদক, সন্ত্রাস ও মানবপাচারের মতো সমস্যা কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি সামাজিক সমস্যা। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক প্রতিরোধ ও মানবপাচার রোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদপত্র সমাজের আয়না হিসেবে কাজ করে এবং মানুষের সচেতনতা তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। ধর্মীয় মূল্যবোধ মানুষকে সঠিক পথে চলতে সাহায্য করে। পরিবার থেকে সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা দিলে তারা কখনো মাদক ও অপরাধে জড়াবে না। যুব সমাজকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। খেলাধুলা ও সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে ব্যস্ত রাখলে তারা অপরাধ থেকে দূরে থাকবে।




চুয়াডাঙ্গায় সবুজ উদ্যোক্তা গড়ার লক্ষ্যে আলোচনা সভা

চুয়াডাঙ্গায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সবুজ উদ্যোক্তা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘কমিউনিটি বেজড এক্টিভেশন সভা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গা শহরের মালোপাড়াস্থ ওয়েভ ট্রেনিং সেন্টারে দিনব্যাপি এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগিতায় ‘ইয়ুথ গ্রিণ এন্টারপ্রেণারশিপ ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় এ সভা হয়েছে।

ওয়েভ ফাউন্ডেশন বাস্তবায়িত প্রকল্পের এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম. সাইফুল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক জহির রায়হান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাকসুরা জান্নাত, সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. নাজমুল হোসেন, তৌফিক এগ্রো সাপোর্ট’র স্বত্বাধিকারী এএসএম তৌফিকুল আলম, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা আব্দুস শুকুর ও জেলা লোকমোর্চার সহ-সভাপতি তানজিলা মনোয়ার।

সভায় বক্তারা বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তরুণদের শক্তি কাজে লাগাতে হবে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য সবুজ উদ্যোক্তা তৈরি অত্যন্ত জরুরি।

আয়োজকরা জানান, প্রকল্পের আওতায় চুয়াডাঙ্গা জেলা, ঝিনাইদহ সদর উপজেলা ও মেহেরপুর সদর উপজেলার ৫১০ জন তরুণকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সবুজ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। যাতে তারা পরিবেশবান্ধব ব্যবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।

সভায় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, যুব সংগঠক, সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিসহ ৫০ জন অংশগ্রহণ করেন। এতে প্রকল্প উপস্থাপন করেন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. শরিফুল আলম। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন প্রজেক্ট অফিসার কানিজ সুলতানা, মাহবুব আবির ও জিল্লুর রহমান।




মেহেরপুরে জামিনে মুক্ত আসামিকে আদালত চত্বর থেকে অপহরণ চেষ্টা, আটক ১০

মেহেরপুর আদালত থেকে জামিনে মুক্ত নুরুজ্জামানকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে টেনে হিঁচড়ে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়ায় ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর গ্রামের লিটন হোসেন (৪২), জোড়পুকুরিয়া গ্রামের মিঠুন আলী (৩২), জিয়ারুল ইসলাম (৪৫), রামদেবপুরের পারভেজ মোস্তাক (৫১), আসাদুল ইসলাম (৪৫), কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার তেকালার জিন্নাত হোসেন (৩২), সাপাত আলী (৫০), রাজ্জাক (৬৫), প্রাগপুর বীরগাছীর শিপলু (৪৫) এবং মাইক্রোবাস চালক হোসেন আলী (২৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামিন শেষে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি নুরুজ্জামানকে বেদম প্রহার করে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। আশপাশের লোকজন বাধা দিতে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের বাঁশবাড়িয়া এলাকা থেকে ঢাকা মেট্রো-চ-৫৩-৮২০০ নম্বরের মাইক্রোবাসটিকে আটক করে। এ সময় অপহৃত নুরুজ্জামানসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে মেহেরপুর সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

নুরুজ্জামানের ভাই রাজু আহমেদ জানান, নুরুজ্জামান কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া গ্রামের মৃত আফজাল মালিথার ছেলে। বিদেশে যাওয়ার জন্য গাংনীর রামদেবপুর গ্রামের পারভেজ আশরাফের কাছে টাকা দেওয়া নিয়ে ২৭ লাখ টাকার একটি মামলা মেহেরপুর আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। জামিন পাওয়ার পর পারভেজ ও তার সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে নুরুজ্জামানকে অপহরণের চেষ্টা চালায়।

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে যা জেনেছি, তাদের মধ্যে একটি আর্থিক লেনদেন রয়েছে, যা বর্তমানে বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন।

এ বিষয়ে আদালত ফয়সালা দেবেন। তবে তারা যে কাজটি করেছে একজনকে মারধর করে তুলে নিয়ে গেছে বা অপহরণ করেছে সে বিষয়ে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনেছি। যেহেতু তারা আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ওসি আরও বলেন, বিদেশে যাওয়ার টাকা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। মামলার বর্তমান ভিকটিম নুরুজ্জামান কোর্টে আসার পর পারভেজসহ তার লোকজন এসে তাকে মারধর করে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমাদের পুলিশ তড়িৎগতিতে ভিকটিমকে উদ্ধার করে আসামিদের গ্রেফতার করে।

উল্লেখ্য, মেহেরপুর জজ আদালতে নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে পারভেজ মুস্তাকিমের দায়ের করা বিশ্বাসভঙ্গ (ধারা ৪০৬), প্রতারণা (ধারা ৪২০) ও অপরাধমূলক হুমকি (ধারা ৫০৬) সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন রয়েছে।




হরিণাকুণ্ডুতে মাদক বিরোধী অভিযানে গাঁজার গাছ উদ্ধার

 ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুর জোড়াদহ ইউনিয়নের হরিশপুর গ্রামে মাদক বিরোধী অভিযানে আসাদুল ইসলাম চন্টুর বাড়ি থেকে ১২ ফুট লম্বা গাঁজার গাছ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে এই অভিযান পরিচালনা করেন হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম হাওলাদার।

পুলিশ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ হরিশপুরের আব্বাস মোড়ের পার্শ্ববর্তী চন্টুর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বৃহদাকারের ১২ ফুট লম্বা গাঁজার গাছ উদ্ধার করে। তবে অভিযানের সময় চন্টু পলাতক ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত গাঁজার গাছ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে ওসি শহিদুল ইসলাম হাওলাদার জানান।

তিনি আরও বলেন, “মাদক বিরোধী এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে হরিণাকুণ্ডু থানার পুলিশ।”

স্থানীয়দের মতে, আসাদুল ইসলাম চন্টু দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মাদক চাষ ও সরবরাহের সাথে জড়িত আছে বলে জানা যায়। হরিনাকুণ্ডু থানা পুলিশের মাদক বিরোধী এই অভিযান জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে বলে সচেতন মহল অভিমত ব্যক্ত করেন।




ব্যায়ামে আগ্রহ বাড়াচ্ছে ঝিনাইদহের ফিটনেস একাডেমি

প্রতিদিন সকাল হলেই একঝাঁক বয়স্ক মানুষের মেলা বসে ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী নবগঙ্গার দেবদারু চত্বরে। অন্য কোন উদ্দেশ্য নয় শুধু একটু সুস্থ থাকার প্রানন্ত এই চেষ্টা। যারা এখানে আসেন তাদের অধিকাংশের বয়স ৪৫ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে।

বলছিলাম ঝিনাইদহের ফিটনেস একাডেমির কথা। এই ফিটনেস একাডেমিটি গড়ে তুলেছেন সোতোকান কারাতের ব্লাকবেল্টধারী কারাতে প্রশিক্ষক কাজী আলী আহম্মেদ লিকু।

ঝিনাইদহের বয়স্ক মানুষদের সুস্থ রাখতে প্রথমে স্বেচ্ছাশ্রমেই তিনি গড়ে তুলেছেন এই প্রতিষ্ঠানটি। হাতেগোনা কয়েক জকনকে নিয়ে এবছরের জুলাই মাসের প্রথম থেকে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। মাত্র তিন মাসে এই একাডেমির সদস্য সংখ্যা এখন ৭০জন। প্রতিদিন সকাল ৬টার পর পরই ব্যায়ামের স্থানে উকিঁ মারে এসব আধা পৌড়ের দল। দলমত নির্বিশেষে ধর্মবর্ণের পরিচয় ভুলে নিজস্ব পদ পদবী উপেক্ষা করে প্রশিক্ষকের নির্দেশনায় চলতে থাকে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গের এই ব্যায়াম।

যারা একবার মানিয়ে নিয়ে এই ব্যায়ামে যোগ দিয়েছে, তাদের কাছে এই ব্যায়াম নেশা জাগিয়েছে, সকাল হলেই তারা আর ঘরে বসে থাকতে পারে না। সোমবার বাদে প্রতিদিন সকাল ৬টা ১৫মি. থেকে শুরু হয়ে শেষ হয় ৭টার কিছুটা পরে।

রাজনীতিবিদ, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামিল হয় এক কাতারে। দিনে দিনে এই প্রতিষ্ঠানের কলেবর আরও বৃদ্ধিপাবে বলে ধারণা করেন অংশ গ্রহনকারীরা।

এবিষয়ে একাডেমির প্রশিক্ষক কাজী আলী আহম্মেদ লিকু বলেন, আমি প্রতিষ্ঠান টি শুরু করেছিলাম বয়স্ক মানুষের কথা চিন্তা করেই, তিনি বলেন বাচ্চাদের জন্য “সোতোকান কারাতে দো নামে” আমার একটা প্রতিষ্ঠান আছে সেখানে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণ নেয়। আমি চিন্তা করলাম এই শহরে বয়স্কদের জন্য ব্যায়ামের কোন প্রতিষ্ঠান নেই, অথচ বয়স্কদের সুস্থ থাকাটা বেশি জরুরি। এসব চিন্তা করেই কয়েকজন কে নিয়ে জুলাই মাসের প্রথম থেকে এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু করি। তিনি প্রতিষ্ঠানটি সুন্দর ভাবে পরিচালনা করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

এই বিষয়ে একাডেমির নিয়মিত সদস্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আশরাফুল ইসলাম পিন্টু বলেন, এই ব্যায়াম আমাদের শরীর সুস্থ রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ঝিনাইদহ শহরে এই প্রতিষ্ঠানটি চলমান রাখার জন্য আমাদের সকলের সহযোগিতার দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে হবে। প্রশিক্ষককে উপযুক্ত সম্মানের সাথে রাখার চেষ্টা থাকবে সকলের।

ডা. রেজাউল ইসলাম রেজা বলেন শরীর সুস্থ রাখার জন্য ব্যায়ামের বিকল্প নেই। খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের সাথে সাথে প্রতিদিন নিয়ম করে ৪৫মিনিট ব্যায়াম করা জরুরি। নবগঙ্গা ফিটনেস একাডেমি আমাদের সেই সুযোগ করে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের।




মুজিবনগর সরকারি ডিগ্রি কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

মেহেরপুরের মুজিবনগর সরকারি ডিগ্রি কলেজে ২০২৫ সালে ভর্তিকৃত অনার্স প্রথম বর্ষ ও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক হেলাল উদ্দিন, ছাত্র উপদেষ্টা মোঃ মফিজুল ইসলামসহ নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থীরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর বখতিয়ার উদ্দিন বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে বলেন, তাদের নেতৃত্বে এই ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে, আমরা পেয়েছি নতুন এক বাংলাদেশ।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হবে। কিন্তু সমাজের এক শ্রেণির মানুষ আছেন, যাদের ক্ষোভ ও কষ্ট শুধু শিক্ষকদের প্রতি। তাঁরা অন্যান্য সমস্যার প্রতি দৃষ্টি না দিয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বলছেন এটা ভালো লক্ষণ নয়। তোমরা লেখাপড়া করবে, শিক্ষক-গুরুজনদের সম্মান করবে, এবং আমাদের যে কোনো ক্রুটি বা বিচ্যুতির বিরুদ্ধে যুক্তিসঙ্গত কথা বলবে। আগামীতে তোমাদের নেতৃত্বেই একটি সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে আমি বিশ্বাস করি।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণের ওপর বিশেষভাবে নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, আগামীতে শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না।

অনুষ্ঠানে ফুল ছিটিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করা হয় এবং তাদের হাতে কলেজের লোগো সংবলিত একটি কলম ও রজনীগন্ধার স্টিক উপহার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা গান পরিবেশন করেন।




কোটচাঁদপুরে গভীর রাতে ২ কৃষকের ৫ গরু চুরির অভিযোগ

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর কাগমারী গ্রামে একরাত্রে ৫টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার রাত্র দুইটার সময় ১০ থেকে ১২ জন চোর চক্রের সদস্য পিকআপ ভ্যান, ধারালো অস্ত্র ও পিস্তল নিয়ে এ চুরি সংঘঠিত করেন। গরুর মালিক আলম ও কলম ওই গ্রামের হযরত আলীর ছেলে।

ভুক্তভোগি কলম জানান আমরা কিছু বুঝে উঠার আগেই ১০ থেকে ১২ জন চোর চক্রের সদস্যরা রাত্র ২ টার সময় মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই আমাদের গোয়ালঘর থেকে ৩টি গাভী গরু ও ২টি বাছুরসহ মোট ৫টি গরু গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে গেছে। আমরা ওই রাতেই কোটচাঁদপুর থানাকে অবহিত করেছি।

ঘটনার প্রতক্ষ্যদর্শি বাওড়ের গার্ড নিলু জানান, রাত ২টা থেকে বাওড়ে আমার ডিউটি ছিলো, আমি ইসমাইল ভাইকে ডাকতে যাচ্ছিলাম, তাকে সাথে নিয়ে বাওড় পাহাড়ায় যাবো বলে। গাড়ি ও লোকজন দেখে আমি তাদের কাছে যায়, তখন চোর চক্রের সদস্যরা আমার গলায় ধারালো অস্ত্র ধরে ও মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ভয় দেখিয়ে বেধে রাখে। ভয়ে আমি কথা বলতে পারিনি । তারা সংখ্যায় ১০ থেকে ১২ ছিলো।
আপনি কাউকে চিনতে পেছেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি জানান আমি কাউকে চিনতে পারিনি।

গরু চুরির ঘটনায় কোটচাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, মৌখিক ভাবে ঘটনা জানতে পেরে আমি সঙ্গীও ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, গরু গুলো একেবারেই অরক্ষিত অবস্থায় ছিলো। গরুর মালিকপক্ষ কাউকে সন্দেহ করতে পারছেন না, তারা অজ্ঞাত ১০ থেকে ১২ জনের নামে লিখিত অভিযোগ করেছেন। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।




মেহেরপুরে পর্নোগ্রাফি মামলায় এক আসামির ৩ বছরের কারাদণ্ড

মেহেরপুরে পর্নোগ্রাফি মামলায় মোঃ লাবলু নামের এক ব্যক্তিকে ৩ বছর কারাদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে মেহেরপুরের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শাজাহান আলী এ আদেশ দেন।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, আসামি বাদীর সাবেক স্বামী। সংসারিক সমস্যার কারণে বাদী তাকে ২৬ নভেম্বর ২০২২ তারিখে তালাক দেন। বিবাহিত জীবনে আসামি বাদীর অজান্তে তার মোবাইলে কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। ডিভোর্সের পর ওই ভিডিও দেখিয়ে বাদীর নিকট থেকে এক লক্ষ টাকা দাবি করেন। এছাড়া ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন এবং পরিচিতজনদের দেখান।

বাদী বিষয়টি তার পরিবারকে অবহিত করে র‍্যাবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে র‍্যাব-১২, সিপিসি মেহেরপুর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গাংনী বাজারস্থ সামাদ হোটেলের সামনে থেকে আসামিকে আটক করে। সাক্ষীদের সম্মুখে জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ভিডিও ভাইরাল করার হুমকির কথা স্বীকার করেন। পরে তার পরিহিত প্যান্টের ভেতরের পকেট থেকে একটি রেডমি নাইন সি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, দুইটি বাংলালিংক সিম এবং ৮ জিবি মেমোরি কার্ড জব্দ করা হয়। ব্যবহৃত মোবাইল থেকে ধারণ করা আপত্তিকর ছবি ও ভিডিওর ছয় পাতার প্রিন্ট কপি আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। নথি ও সাক্ষ্য পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দেন। রায় ঘোষণার পর আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।




দর্শনায় এতিম শিশুর পাখিভ্যান চুরি

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা রেল বাজারের দর্শনা জনতা ব্যাংকের সামনে থেকে যাত্রী সেজে এক এতিম শিশুর পাখিভ্যান চুরির ঘটনা ঘটেছে। উপার্জনের একমাত্র সম্বল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ৪ সদস্যের ভুক্তভোগী পরিবার।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দর্শনা রেল বাজারের দর্শনা জনতা ব্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, দর্শনা থানার কুড়ালগাছি ইউনিয়নের সদাবরি গ্রামের মৃত আরাফাত মোল্লার ছেলে আকাশ (১৩) সদাবরি গ্রাম থেকে একজন যাত্রী নিয়ে দর্শনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথে মধ্যে দর্শনা পুরাতন বাজার থেকে আরেক যাত্রী পাখিভ্যানে ওঠে। ওই দুই যাত্রী দর্শনা রেল বাজারের দর্শনা জনতা ব্যাংকের সামনে নেমে যায়।

পরে এতিম শিশু আকাশকে বলে, আমি একটা জিনিস কিনে দেব, তুমি নিয়ে আসবে। আকাশ সহজ-সরল মনে জনতা ব্যাংকের সামনে পাখিভ্যান রেখে রেল বাজার বটতলায় যায়। কিছুক্ষণ পরে আকাশ এসে দেখে, পাখিভ্যান নেই। একমাত্র উপার্জনের পাখিভ্যান হারিয়ে কিছুতেই কান্না থামছে না আকাশের। এ পাখিভ্যান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে আকাশ।

এতিম শিশু আকাশ কোনো উপায় না পেয়ে দর্শনা পুলিশকে খবর দেয়। দর্শনা থানা পুলিশ সাথে সাথে এতিম শিশু আকাশকে নিয়ে পুলিশের গাড়িতে করে খুঁজতে থাকে। তবে পুলিশ সিসি ক্যামেরা দেখে চোরটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক মাস ধরে বাড়িতে বাড়িতে তালা ভেঙে, দরজার গ্রিল ও টিন কেটে চুরি এবং দোকানেও একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটছে। এছাড়া বাড়ি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে পাখিভ্যান, ইজিবাইক, সাইকেল ও মোটরসাইকেলসহ নানা ধরনের মালামাল চুরি হচ্ছে, যা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহীদ তিতুমীর বলেন, চুরির ঘটনা শুনেছি, তখন আমি মিটিংয়ে ছিলাম। তবে আমি সাথে সাথে আমার অফিসার ও ফোর্স পাঠিয়ে বিষয়টি দেখতে বলেছি।




ক্যাম্পাসে ইন্টারমিডিয়েট শিক্ষার্থীদের স্মাার্টফোন নিষিদ্ধ

ইন্টারমিডিয়েট শিক্ষার্থীদের কলেজ ক্যাম্পাসে স্মার্টফোন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে শেরপুর সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষ। ইন্টারমিডিয়েটের কোনো শিক্ষার্থী কলেজে স্মার্টফোন নিয়ে প্রবেশও করতে পারবে না।

আজ মঙ্গলবার থেকে এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে শেরপুর সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষ। এদিন কলেজের মূল ফটকে শিক্ষার্থীদের ব্যাগ ও ফোন চেকিং করে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

ক্লাসের প্রথম দিন কয়েকজন শিক্ষার্থী স্মার্টফোন নিয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলেও সেসব ফোন গেটেই জমা রাখা হয় এবং তাদের কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

গতকাল সোমবার শেরপুর সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির ওরিয়েন্টেশন ক্লাসে অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবদুর রউফ ঘোষণা দিয়েছেন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কলেজে স্মার্টফোন বহন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষার্থীরা সাধারণ বাটন ফোন সঙ্গে আনতে পারবেন।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ কলেজ গেটে শিক্ষার্থীদের ফোন চেকিং করা হয়।

কলেজ প্রশাসন জানিয়েছে, স্মার্টফোন বহন বা ব্যবহার নিয়মিত হলে তা জব্দ করা হবে। কিন্তু জরুরি যোগাযোগের জন্য বাটন ফোন ব্যবহার অনুমোদিত। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মনোযোগী শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে নেওয়া একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

মোস্তাফিজুর রহমান নামে শহরের চকবাজার এলাকায় বসবাসকারী এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, কলেজে স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তটি খুবই যৌক্তিক হয়েছে। এজন্য কলেজ কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানাই।

রাজু মিয়া নামে সজবরখিলা এলাকার বাসিন্দা আরেক অভিভাবক জানান, কলেজে অবস্থানকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোনের কোনো প্রয়োজন নেই। বাসায় কিংবা বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে যোগাযোগে জন্য বাট ফোনই যথেষ্ট। বরং কলেজে স্মার্টফোন নিয়ে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে অলস আড্ডা হবে, এতে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ায় মনোযোগ নষ্ট হবে।

কলেজের স্যারেররা এটা একটা ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে শেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবদুর রউফ বলেন, ‘এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে মনোযোগী হবে এবং শিক্ষার মান আরো উন্নত হবে। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি সঠিকভাবে ব্যবহার করে তাদের একাডেমিক দক্ষতা বৃদ্ধি করুক। শিক্ষার্থীদের কল্যাণেই কলেজ ক্যাম্পাসে ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’

সূত্র: কালের কন্ঠ