গাজায় ইসরাইলি হামলায় শিশুসহ ২২ ফিলিস্তিনি নিহত

গাজা উপত্যকায় একের পর এক ইসরাইলি হামলায় বৃহস্পতিবার দিনভর শিশুসহ অন্তত ২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যকর্মীরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তাদের বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে ইসরাইলি বাহিনী গাজা সিটির উত্তর-পশ্চিমে আল-শাতি শরণার্থী শিবিরের একটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলা চালায়। এতে তিনজন নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।

গাজা সিটির উত্তরাঞ্চলের শেখ রিদওয়ান এলাকায় একটি বাড়িতে বিমান হামলায় এক বৃদ্ধ ও দুই নারী নিহত হন। এতে আহত হন আরও কয়েকজন।

গাজার মধ্যাঞ্চলের পশ্চিম নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজন শিশু।

সূত্র: যুগান্তর ।




দামুড়হুদায় বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে জখম, থানায় মামলা

দামুড়হুদা উপজেলার তারিনীপুর গ্রামে রাতের আঁধারে বিএনপি কর্মী সাজিদুল ইসলাম নামের একজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেছে একদল সন্ত্রাসী। আহত সাজেদুল ইসলাম (৪৫) তারিনীপুর গ্রামের মৃত মোলাম মালিথার ছেলে।

গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কাঠালতলা নিউ শেখ ইটভাটার অফিসে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাজিদুল ইসলামের ভাতিজা তুতা মিয়া বাদি হয়ে ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জনের নামে দামুড়হুদা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

জানা যায়, দামুড়হুদা উপজেলার তারিনীপুর গ্রামের মৃত মোলাম মালিথার ছেলে সাজিদুল ইসলাম বাড়ি যাওয়ার সময় ইট ভাটার নিকট পৌয়াছালে পূর্বে থেকে ওত পেতে থাকা একই গ্রামের রশিদুল ইসলাম (৩৫), আনিছুর রহমান (৩০), আশিক (২৫) সহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জন মিলে পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র হাসুয়া ও লাঠি বাঠাম দিয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে কুপাতে ও মারতে থাকে। এ সময় সাজিদুল ইসলাম রক্তাক্ত জখম অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার কাছে থাকা ২২ হাজার ২ শত টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তার ডাক চিৎকারে স্থানীয় এলাকাবাসী এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। এখন জামায়াতে ইসলামীর নাম ব্যবহার করে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। তারা বলেন, এসব সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এদিকে ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে, সেখানে সাংবাদিকের ওপর হামলা চালায় হামলাকারী দলের মহিলা সদস্যরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান না নিলে এমন হামলা আরো বাড়বে। এ ঘটনায় দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি হুমায়ুন কবির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন মারামারির ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।




জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ৬ মরদেহ এক বছর পর দাফন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত হওয়া ৬ মরদেহের পরিচয় এক বছরেও শনাক্ত করতে না পেরে অবশেষে মরদেহগুলো দাফন করেছে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল থেকে লাশ বুঝে নিয়ে দুপুরে রাজধানীর জুরাইন কবরস্থানে দাফন করেছে সংস্থাটি।

শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর বলেন, আদালতের নির্দেশের পর মরদেহগুলো আজ সকালে আঞজুমান মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা দাফন করেছে।

তিনি বলেন, মরদেহগুলো এক বছরের বেশি সময় ধরে মর্গে ছিল। এ সময় অনেকেই শনাক্ত করতে এসেছেন। কয়েকজনের ডিএনএ নমুনা নিয়েও পরীক্ষা করা হয়েছে, তবে শনাক্ত করা যায়নি। মরদেহের দাবিদার যারা এসেছিলেন তাদের সঙ্গে কারও মেলেনি।

আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের দাফন সেবা কর্মকর্তা কামরুল আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে ওই ছয়টি মরদেহ আমরা পেয়েছি। দুপুর ২টার দিকে তাদের জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

শাহবাগ থানার তথ্য বলছে, গত বছরের ৫ আগস্টের আগে ঢাকার যাত্রাবাড়ীসহ কয়েকটি এলাকা থেকে এসব লাশ আসে। ময়নাতদন্ত অনুযায়ী, তাদের বেশির ভাগের মৃত্যু হয়েছে ‘আঘাতজনিত কারণে’।

সূত্র: যুগান্তর।




ঝিনাইদহে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ১৫

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর হরিপুর কবি ফজের আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হন জামায়াত সমর্থিত জহুরুল ইসলাম। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে মতবিরোধ চলে আসছিলো। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার (০৭ আগস্ট) স্কুল কমিটির সভা চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে জামায়াতের ৯ জন ও বিএনপির ৬ নেতাকর্মী সহ মোট ১৫ জন আহত হয়।

রক্তমাখা শরীর। তীব্র ব্যাথায় কাতরাচ্ছে সবাই। হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কারো মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছে। কেউ ব্যান্ডেজ নিয়ে বসে আছে। এমন সময় একদল মানুষ এসে আহত মানুষগুলোর উপর হামলা চালালো। শুরু হলো ধস্তাধ্বস্তি ও আহত রোগীদের মারধর।

জরুরী বিভাগের মধ্যে এমন দৃশ্য দেখে হাসপাতালে আসা সেবা গ্রহীতা সবাই হতবাক। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা সদর হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে। সেসময় হামলায় আহত রোগীরা আরো আহত হয়ে পড়েন।

পুলিশ ও এলাকাবাসি সুত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর হরিপুর কবি ফজের আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হন জামায়াত সমর্থিত জহুরুল ইসলাম। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মতবিরোধ চলে আসছিলো।

বৃহস্পতিবার স্কুল কমিটির সভা চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে জামায়াতের ৯ জন ও বিএনপির ৬ নেতাকর্মী আহত হন। বিএনপির আহতরা হলেন, কানুহরপুর গ্রামের ইমাদুর রহমান, একই গ্রামের মাসুম, গোলাম মোস্তফা, সুমন, রেহানা খাতুন ও মহারাজপুর গ্রামের রহমতুল্লাহ।

জামায়াতের আহতরা হলেন, জহুরুল ইসলাম, হুসাইন, মুজাব আলী, হাফিজুর রহমান, রুপচাঁদ আলী, ফয়জুল্লাহ, সলেমান মন্ডল, তোতা মিয়া ও সফর আলী। বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত আহতরা ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এদিকে দুপুর ১২টার দিকে সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে দুই দলের আহত নেতাকর্মীরা আরেকদফায় মারামারিতে লিপ্ত হয়। এ সময় হাসপাতালে আসা সেবা গ্রহীতাদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। হামলার বিষয়ে বিএনপি ও জামায়াত পরস্পরকে দোষারোপ করছেন।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন সংঘর্ষের খবর নিশ্চিত করে জানান, চার মাস আগে স্কুলের কমিটি করা নিয়ে মারামারির সুত্রপাত হয়। একপক্ষ কমিটি মানতে নারাজ। তারাই বৃহস্পতিবার হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। ওসি আরো জানান, এখনও থানায় কোন পক্ষ মামলা করেনি। তবে দুই পক্ষ মামলা দিলে তা রেকর্ড করা হবে। এবং বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনআনুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




আত্মহননের চেষ্টায় ব্যর্থ মানুষগুলোর পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে

যারা আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন, তারা সমাজে অনেক সময় অবহেলার শিকার হন। তাদের আত্মবিশ্বাস কমে যায়, তারা স্বাভাবিকভাবে সমাজে মিশতে পারেন না। অথচ এই মানুষগুলোকেই আমাদের আগলে রাখতে হবে। তাদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বলুহর ইউনিয়ন পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশেষ উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল।

জেলা প্রশাসক জানান, বাংলাদেশের মধ্যে আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি ঝিনাইদহ জেলায়। এ নিয়ে আমরা প্রতিটি উপজেলায় কাজ করছি। ইতোমধ্যে কয়েকটি উপজেলার কিছু ইউনিয়নে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যদিও একা আমার পক্ষে জেলার সব ইউনিয়নে গিয়ে সবার কথা শোনা সম্ভব নয়, তবুও উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জীবনকে ভালোবাসুন, আত্মহত্যাকে না বলুন এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আমরা সচেতনতামূলক কাজ করছি, এই উঠান বৈঠক তারই অংশ।

উঠান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আনিসুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর ইসলাম, কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানউল্লাহ আল মামুন, কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বসির আহমেদ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিলা বেগম এবং বলুহর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওলিয়ায় বহমান।

উঠান বৈঠকে বলুহর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড থেকে গত ২৫ বছরে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়া মোট ৪৫ জন।




ঝিনাইদহে জনতার হাতে তিন ছাগল চোর আটক

ঝিনাইদহে চুরাই ছাগল বিক্রি করতে এসে জনতার হাতে ধরা পড়েছে তিন ছাগল চোর। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের শালিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর ৫টার দিকে ঝিনাইদহ বিদ্যুৎ অফিসের পেছনে অবস্থিত সাইফুল নামে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে দুটি বড় ছাগল চুরি করে রিকশাযোগে নিয়ে আসে দুই ব্যক্তি। তারা শালিয়া গ্রামের ঘরজামাই শেখ পান্নুর কাছে ছাগল দুটি বিক্রির উদ্দেশ্যে আনে। এসময় তাদের সন্দেহজনক চলাফেরা প্রথম নজরে পড়ে শালিয়া গ্রামের বাসিন্দা হাকিমের। তিনি তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, তারা কারা, কোথা থেকে এসেছে এবং এতো সকালে কেন ঘোরাঘুরি করছে। একপর্যায়ে কথার ফাঁকে ফাঁকে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে গেলে অবশেষে দুই চোর স্বীকার করে নেয়, তারা ছাগল দুটি চুরি করে বিক্রি করতে এসেছে।

তাদের স্বীকারোক্তিতে উঠে আসে, এই প্রথম নয়, এর আগেও তারা একাধিকবার চুরি করা ছাগল বিক্রি করেছে শেখ পান্নুর কাছে। পরে স্থানীয়রা শেখ পান্নুকেও ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনিও বিষয়টি স্বীকার করেন।

চুরি করা ছাগলসহ আটক হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন, ঝিনাইদহ সদরের চুটলিয়া গ্রামের গোলাপ বিশ্বাসের ছেলে সবুজ এবং চরপাড়া বাড়িবাথান এলাকার সোহরাব জর্দ্দারের ছেলে ইয়াকুব জর্দ্দার।

এ ঘটনায় শালিয়া গ্রামে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জনতার সর্তকতা এবং উপস্থিত বুদ্ধির কারণে চোরচক্রের সদস্যদের হাতেনাতে ধরতে সক্ষম হয় এলাকাবাসী। পরে তাদেরকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।




মেহেরপুরের হরিরামপুর বিলে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার

মেহেরপুর সদর উপজেলার বাজিতপুর সীমান্তসংলগ্ন হরিরামপুর বিলে এক মাদকাসক্ত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির নাম মিঠু ওরফে বাবু (৪০), তিনি মেহেরপুর পৌর শহরের পেয়াদাপাড়ার শুকুর আলীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, গতকাল বুধবার সন্ধ্যার দিকে মিঠু মাদক ক্রয়ের উদ্দেশ্যে হরিরামপুর সীমান্ত এলাকায় গেলে চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের টহল দল তাকে ধাওয়া করে। ওই সময় প্রাণ বাঁচাতে তিনি হরিরামপুর বিলে লাফ দেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় কৃষকরা তার লাশ ভেসে থাকতে দেখে উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট সম্পন্ন করে মেহেরপুর জেনারের হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, “যেহেতু ঘটনাটি সীমান্ত এলাকায় ঘটেছে, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যায় এবং স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে।”

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন জানান, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মৃত ব্যক্তি একজন মাদকসেবী ছিল। তার মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”




গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মেহেরপুর জেলা বিএনপির বিজয় মিছিল

ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মেহেরপুর জেলা বিএনপির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য বিজয়র্ যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল বুধবার (৬ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে শহরের কলেজ মোড় থেকের্ যালিটি শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পৌর পাথর গেটে গিয়ে শেষ হয়।

এসময় নেতাকর্মীদের হাতে ছিল ব্যানার-ফেস্টুন, আর ঢাক-ঢোলের তালে তালে এগিয়ে যায় বিজয়ের মিছিল।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাভেদ মাসুদ মিল্টনের নেতৃত্বে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়েজ মোহাম্মদ, সদস্য আলমগীর খান ছাতু, হাফিজুর রহমান হাপি, ইলিয়াস হোসেন, আনছারুল হক, ওমর ফারুক লিটন, আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিম, মীর ফারুক হোসেনসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীরার্ যালিতে অংশগ্রহণ করেন।




মেহেরপুরে মাসুদ অরুনের নেতৃত্বে বিএনপির গণমিছিল ও সমাবেশ

জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়া এবং জনতার বিজয়কে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে মেহেরপুর জেলা বিএনপি।

গতকাল বুধবার বিকালে মিছিলটি শহরের পন্ডেরঘাট থেকে শুরু হয়ে প্রধান সড়ক ঘুরে কাথুলী সড়কে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলটির নেতৃত্ব দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুণ। মিছিলে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জাহাঙ্গীর বিশ^াস, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মারুফ আহমেদ বিজন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রশিদ, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আহসান হাবীব সোনা, জেলা যুবদলের সভাপতি জাহিদুল হক জাহিদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আকিব জাভেদ সেনজির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




প্রতি প্রকল্প থেকে পিআইও’র কমিশন ১৫ শতাংশ!( ২য় পর্ব)

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলাতে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে টিআর, কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পের প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের অধিকাংশ টাকা হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মনসুর রহমানের বিরুদ্ধে।

প্রতিটি প্রকল্পে ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন নিয়ে পিআইসি সভাপতিদের দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অধিকাংশ পিআইসিরা।

এ ধরণের অভিযোগের ভিত্তিতে মেহেরপুর প্রতিদিনের অনুসন্ধান টিম গত এক সপ্তাহ ধরে গাংনী উপজেলার বেশ কিছু ইউনিয়নের প্রায় ২০টি প্রকল্প পরিদর্শন করে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমান পেয়েছে। ১ম পর্বে ডিসি ইকোপার্কের ৬টি প্রজেক্টের বরাদ্দের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। দ্বিতীয় পর্বে গাংনী উপজেলার মটমুড়া, রাইপুর, সাহারবাটি, কাথুলী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি প্রকল্প সরেজমিন পরিদর্শন, স্থানীয় জনগণ ও পিআইসি সভাপতির সাথে কথা বলে পিআইও মনসুর রহমানের আরও অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে।

কাবিটা-কাবিখা প্রকল্পের ১ম ও ২য় কিস্তির কাজ চলতি বছরের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে এবং ৩য় কিস্তির কাজ চলতি বছরের ১৫ মে’র মধ্যে বাস্তবায়ন করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু গেল অর্থবছরে কোন কাজ না করে ১ম ও ২য় কিস্তির পুরোটাকা উত্তোলন করেছেন। তবে ৩য় কিস্তির টাকা উত্তোলন করার চেষ্টা করলেও ইউএনও’র হস্তক্ষেপে ৬৭টি প্রকল্পের টাকা পিআইসি সভাপতিদের নামে পে অর্ডার করে রেখেছেন।

গাংনী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে কাবিটাতে ৭৮টি প্রকল্পের অনুকুলে ২ কোটি ৪০ লাখ ৫৩৭২ টাকা, টিআরের ১২৫টি প্রকল্পের অনুকুলে ২ কোটি ১৬ লাখ ৬৭২৪ টাকা এবং কাবিখার ৪৭টি প্রকল্পের অনুকুলে ১৩৬ মেট্রিক টন চাল এবং ১৩৬ মেট্রিক টন গম, যার বাজার মূল্য প্রায় ৯০ লাখ টাকা। সবমিলিয়ে গাংনী উপজেলায় তিন প্রকল্পে বরাদ্দ প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গাংনী উপজেলার চেংগারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাটের জন্য ৭.৭৭৩৪ মেট্রিক টন গম যা টাকার পরিমাণে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, কোন মাটি এখানে দেওয়া হয়নি। অথবা এ প্রকল্প সম্পর্কে তিনি কিছু জানেনও না।

কাথুলী ইউনিয়নের গাড়াবাড়িয়া গ্রামের রোজীবালার বাড়ি হতে রশিদের বাড়ি পর্যন্ত এইচবিবিকরণ ও মাটি দ্বারা মেরামত বাবদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা। কিন্তু কোন কাজ হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় আব্দুল নামের এক ব্যক্তি। প্রকল্পের খইরুদ্দিনের বাড়ি থেকে ভৈরব নদী পর্যন্ত এইচবিবিকরণসহ মাটি ভরাট বাবদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ লাখ টাকা।

এ দুটিসহ তিনটি প্রকল্পের সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য জিনারুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির কারণে একটা কাজ এখনো শুরু হয়নি। তবে বাকি ২ টা কাজ হয়েছে। কাথুলী ইউনিয়নের সব কাজে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ১৩ শতাংশ টাকা কেটে নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, কমিশন কাটা নিয়ে কাথুলী ইউনিয়নের মেম্বারদের সাথে পিআইও’র সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। তবে অন্যান্য ইউনিয়নের ১৫ শতাংশ ও তার বেশি কেটেছে বলে শুনেছি।

৩য় কিস্তিতে গাড়াবাড়িয়া হলদেপাড়া ঈদগাহে ওয়াল প্লাস্টার, রংকরণ ও টাইলসের কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ লাখ টাকা। তবে প্রকল্পের সভাপতি আকতারুজ্জামান বলেন, এখনো স্টিমেট হাতে পায়নি বলে কাজ বন্ধ আছে।

কাথুলী গ্রামের ঈদগাহ পাড়ার সবাফতের বাড়ির সামনের পুকুরের প্যালাসাইডিং নির্মাণ ও মাটি ভরাটের কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ টাকা। প্যালাসাইডিংয়ের কাজ হলেও মাটি ভরাট করা হয়নি।

মটমুড়া ইউনিয়নের হোগলবাড়িয়া গ্রামের শামসুলের বাড়ি হতে কবরস্থান মুখী রাস্তা এইচবিবি সহ মাটি ভরাট কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪ লাখ টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ ১৫০ ফুট থেকে ১৮০ ফুট হেয়ারিং এর কাজ হয়েছে তিন নম্বর ইট দিয়ে, এবং রাস্তার দুই পাশে মাটির কাজ থাকলেও বাইরে থেকে কোন মাটি দেওয়া হয়নি, আশেপাশের মাটি কেটে ভরাট করা হয়েছে। তবে এ প্রকল্পের সভাপতি আইজুদ্দিন মেম্বার কাজ হয়েছে বলে জানালেও কতটাকার কাজ সেটা জানাতে পারেননি।

রায়পুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সালদহ গ্রামের ফজলুর বাড়ি থেকে ঠান্ডুর বাড়ি অভিমুখী এইচবিবিকরণ, প্যালাসাইডিং ও মাটি ভরাট ৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো কোন কাজ করা হয়নি।

প্রকল্পের সভাপতি প্যানেল চেয়ারম্যান সারজিদুল ইসলাম বলেন, পিআইও অতি চালাক মানুষ। সময় শেষের দিতে ইউএনও স্যারকে বলে টাকাটা তুলে নিয়েছে যাতে ফেরৎ না যায়। সেই টাকা আমরা পেয়েছি ২৬ তারিখে। যে কারণে কাজ করতে পারিনি। তবে টাকা দেওয়ার আগে প্রতিটি কাজের জন্য ১৪ পার্সেন্ট করে কেটে নিয়েছে। বৃষ্টি ছাড়লেই কাজটা শুরু করবো।

মটমুড়া ইউনিয়নের মটমুড়া গ্রামের ঈদগাঁ পাড়া ঈদগাঁয়ের ব্রিকসাইডিং নির্মাণ ও মাটির কাজ বরাদ্দ ১২ মেট্রিক টন চাউল, ওই হিসেবে ৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এ প্রকল্পে শুধুমাত্র প্যালাসাইডিংয়ের কাজ হয়েছে মাটি দেওয়া হয়নি।

তবে, এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনসুর রহমানের সাথে। কাজ হয়নি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ করতে পারবো।’

কাজ না করে টাকা উত্তোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জুনের মধ্যে টাকা তোলার নিয়ম আছে তাই ২৬ জুন টাকা উত্তোলন করেছি। ৩য় কিস্তির ৬৭টি প্রকল্পের বিলের চেকও দেখান তিনি। তবে ১ম ও ২য় কিস্তির বিল উত্তোলনের কথা বলতে তিনি পিআইসির মাধ্যমে বিল উত্তোলন করা হয়েছে।” তবে ১৫ শতাংশ কমিশন নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আনোয়ার হোসেন মেহেরপুর প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি মে মাসে জয়েন করেছি। তার আগে এ প্রকল্পগুলো গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের অর্থ নয়ছয় হচ্ছে এমন কিছু অভিযোগ পেয়ে আমি পিআইওকে বলেছি পুরো কাজ বুঝে নেওয়া হবে। ৩য় কিস্তির টাকা উত্তোলন করে পে-অডার করে রাখার নির্দেশে আমি দিয়েছি এবং পিআইসি সভাপতিদের বলেছি সরকারি টাকা তছরুপাত করা যাবে না। তবে, প্রকল্পের কাজ স্টিমেট অনুযায়ী বুঝে নেওয়া হবে। বুঝে না পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আগামী পর্বে পড়ুন পিআইসি মনসুর রহমান এই প্রকল্পগুলো থেকে কমিশন নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে কি করেছেন, কাকে কাকে কমিশনের ভাগ দিতে হয়েছে। এমনকি পিআইও কিছু পিআইসিকে নাম মাত্র সভাপতি কেন পুরো কাজ নিজেই করছেন। এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি টাকা এভাবে লুটপাট করায় সংশ্ষ্টি কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত পিআইও’র বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন তাও দেখতেও চাই সাধারণ মানুষ। আমরা এমন কিছু মানুষের বক্তব্যও তুলে ধরার চেষ্টা করবো।