মেহেরপুরের কুতুবপুরে অ্যাড. কামরুল হাসানের গণসংযোগ

মেহেরপুর সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের সুবিদপুর গ্রামে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসানের নেতৃত্বে এক গণসংযোগ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল রোববার বিকেলে এ গণসংযোগে তিনি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা দাবি সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করেন।

গণসংযোগে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আলমগীর খান ছাতু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক লিটন, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ফায়েজ মোহাম্মদ, সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম, সুবিদপুর ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কেনেডি, জেলা শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সভাপতি আলিফ আরাফাত, সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক লিয়াকত আলি, জেলা যুবদলের সদস্য মেহেদী হাসান রোলেক্স, বিএনপি নেতা নাহিদসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মী ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।




মেহেরপুরের পাটকেলপোতায় জামায়াতের গণসংযোগ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মেহেরপুর জেলা শাখার উদ্যোগে সদর উপজেলার বারাদি ইউনিয়নের পাটকেল পোতা গ্রামে গণসংযোগ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল রবিবার বিকাল ৫টার দিকে পাটকেল পোতা গ্রামের প্রধান সড়ক ও দোকানপাটে এ গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জেলা আমির ও মেহেরপুর-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা তাজউদ্দিন খান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মেহেরপুর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইকবাল হুসাইন, মেহেরপুর সদর উপজেলা আমির সোহেল রানা, উপজেলার সেক্রেটারী ও আমঝুপি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী জাব্বারুল ইসলাম মাষ্টার, মেহেরপুর শ্রমিক ফেডারেশনের সদরের সভাপতি আবুল হোসেন, বারাদি ইউনিয়নের আমির মাওলানা আছাদুল ইসলাম,  সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক, পাটকেল পোতা ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা ফরিদউদ্দিন সহ বারাদি ইউনিয়নের  নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গণসংযোগ কর্মসূচিতে আসন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সর্বাত্মক সমর্থন প্রদানের আহ্বান জানানো হয়।




মুজিবনগরে আমিরুল ইসলামের গণসংযোগ ও পথসভা

মেহেরপুর-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী মুজিবনগর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আমিরুল ইসলাম মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নে বিএনপি’র চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের ৩১ দফা দাবি বাস্তবায়নসহ ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে গণসংযোগ করেছেন।

গতকাল রবিবার বিকাল ৪টায় গণসংযোগের উদ্দেশ্যে মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামে পৌঁছালে জয়পুর গ্রামের বিএনপি নেতা কর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। তিনি বাগোয়ান ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে গণসংযোগ, পথসভা ও ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ করেন। এ সময় সাধারণ জনগণের মাঝে তারেক জিয়ার ৩১ দফা দাবি বাস্তবায়ন সহ ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রদানে জনগণকে উৎসাহিত করেন তিনি।

এ সময় বাগোয়ান ইউনিয়নের গ্রামগুলোর বিএনপি’র নেতাকর্মী ও সমর্থকরা রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান এবং আগামী নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জাতীয়তাবাদী দলকে ক্ষমতায় নিয়ে আসার অঙ্গীকার করেন।

গণসংযোগকালে পথসভায় বিএনপি’র নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ১৬ বছর আওয়ামী লীগের জুলুম নির্যাতন সহ্য করে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন একটি দেশ পেয়েছি। আপনারা জাতীয়তাবাদী শক্তিকে শক্তিশালী করে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসিয়ে ১৬ বছরের আন্দোলন সংগ্রামের সফলতা নিয়ে আসব। বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান যাকে ধানের শীষের প্রতীক দিয়ে আমাদের মাঝে পাঠাবেন আমরা তার হয়ে একযোগে ধানের শীষের পক্ষে ভোট করে তার বিজয় সুনিশ্চিত করব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাগোয়ান ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ইসলাম আলী, মোনাখালী ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি রায়হান কবীর, সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান টুটুল, দারিয়াপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি হাফিজুর, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান, জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক হাবিবুর রহমান ভিকু, মুজিবনগর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনারুল ইসলাম, দারিয়াপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম, মেহেরপুর সরকারী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ফাহিম আহনাফ লিংকনসহ মোনাখালী ও দারিয়াপুর ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, গ্রাম বিএনপি’র নেতাকর্মীবৃন্দসহ মুজিবনগর উপজেলা বিএনপি, যুবদল, কৃষক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।




মুজিবনগরে মাসুদ অরুণের গণসংযোগ ও পথসভা

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর বাজারে গণসংযোগ করেছেন বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুণ।

গতকাল রবিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এ গণসংযোগে মাসুদ অরুণ স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এসময় তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে থাকার আহ্বান জানান।

গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন, মেহেরপুর পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, মুজিবনগর উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রশিদ, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আহসান হাবিব সোনা, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আকিব জাভেদ সেনজি প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।




মেহেরপুরে পৃথক অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবাসহ আটক ২ 

মেহেরপুরের গাংনীতে ৪ কেজি গাঁজাসহ ১ জন আটক হয়েছে। গতকাল রবিবার ভোরে উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের গাড়াবাড়ীয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে আসাদুজ্জামান বিজয় (২২) আটক হয়। আটককৃত বিজয় গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের জিয়ারত ইসলামের ছেলে।

তার বিরুদ্ধে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ বানি ইসরাইল জানান, র‍্যাবের অভিযানে গাড়াবাড়ীয়া গ্রাম থেকে বিজয় নামের একজনকে আটক করে। পরে তাকে গাংনী থানায় হস্তান্তর করলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় কোর্টে পাঠানো হয়েছে।

পরে, মেহেরপুর সদর উপজেলার বারাদী ইউনিয়নের যুগিন্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো: লাল্টু (৪০) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে ৪৪ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

আটক মাদক ব্যবসায়ী লাল্টু যুগিন্দা গ্রামের আজিজুল ইসলামের ছেলে।




দর্শনায় কেরু’র অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের মানববন্ধন ও স্বারকলিপি পেশ

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় কেরু’র অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক ও কর্মচারীরবৃন্দ ৩ দফা দাবীতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করে।

বিগত সরকারের বৈষম্যের স্বীকার বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি) এর অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের গ্র্যাচুইটিসহ অন্যান্য পাওনাদি পরিশাধের দাবিতে এই মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশে ও শিল্প উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে।

রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গার কেরু এ্যান্ড কোম্পানির জেনারেল অফিসের সামনে কেরু’র অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক ও কর্মচারী কল্যাণ সংস্থার আয়োজনে কেরু’র অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক ও কর্মচারী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় বক্তব্য রাখেন, জাতীয় গণ ফ্রন্টের মূখ্য সমন্বয়ক ও কৃষক ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি কমরেড টিপু বিশ্বাস, জাতীয় গণতান্ত্রিক শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কামরুজ্জামান ফিরোজ, শ্রমিক নেতা- শাহ আলম, জুলফিকার হায়দর জুলু, জাহাঙ্গীর আলম লুল্লু সহ আরও অনেকে।

এসময় বক্তারা, আমাদের অবসরপ্রাপ্তদের গ্র্যাচুইটির বকেয়া পাওনা ক্ষতিপূরণসহ সমূদয় অর্থ পরিশোধ করতে হবে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্তদের উৎসব বোনাস, বৈশাখী এবং চিকিৎসা ভাতা প্রদান করতে হবে। অবসরপ্রাপ্তদের গ্র্যাচুইটির ২০% অর্থ প্রদান সংক্রান্ত বোর্ড সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। আর তা না হলে আমরা রাজপথে নেমে কঠোর থেকে কঠোর আন্দোলন করবো।

এরপর কেরু এ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান ও দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে শিল্প উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে।




দামুড়হুদায় খেজুর গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা

পারদর্শী গাছিদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে খেজুর গাছের পরিচর্যা। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের গাছিরা এখন খেজুর গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বৈচিত্র্যময় ছয় ঋতুর দেশ আমাদের বাংলাদেশ। প্রতিটি ঋতুরই রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। এ ঋতু বৈচিত্র্যের ধারাবাহিকতায় রাতের শেষে এখন জানান দিচ্ছে শীতের আগমন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রকৃতিতে বইতে শুরু করেছে শীতের আগমনী বার্তা। শিশিরভেজা ঘাস আর হালকা কুয়াশায় প্রকৃতি সেজেছে অনিন্দ্য সুন্দর রূপে।

এই সময়টায় বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুর গাছগুলোকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত গাছিরা। গাছ থেকে মিষ্টি রস আহরণের লক্ষ্যে চলছে পরিচর্যা ও ঝুড়ার কাজ।

ইতিমধ্যেই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের গাছিরা হাতে দা, কোমরে দড়ি বেঁধে গাছ চাঁচাছোলার কাজে নেমেছেন। শীত মানেই গ্রামীণ জনপদের মানুষের মাঝে খেজুর রস ও তার তৈরি গুড়ের মৌ মৌ গন্ধ। শীতের সকালে খেজুরের তাজা রসের স্বাদ যেন অনন্য তৃপ্তি এনে দেয়। পাড়া-মহল্লায় এখনই চলছে রস দিয়ে পিঠা-পায়েস তৈরির প্রস্তুতি। আর ক’দিন পরই শুরু হবে রস সংগ্রহ, এরপর পাটালি ও গুড় তৈরির পর্ব। চুয়াডাঙ্গার রস ও গুড়ের সুনাম দেশের সর্বত্রই রয়েছে।

দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের তারিনীপুর গ্রামের গাছি জসিম উদ্দিন রাস্তার পাশে কোমরে মোটা দড়ি, হাতে কাঁচি নিয়ে খেজুর গাছ ঝুড়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি জানান, আমার নিজস্ব ৫০টি এবং অন্যের কাছ থেকে নেওয়া ৭০টি, মোট ১২০টি গাছ থেকে এবছর রস সংগ্রহ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, অন্যের কাছ থেকে নেওয়া ৭০টি গাছের জন্য প্রতিটি গাছের বিনিময়ে ১ কেজি করে মোট ৭০ কেজি গুড় দিতে হবে।
একই গ্রামের গাছি জিয়ারুল হক বলেন, আমার ৯০টি খেজুর গাছ রয়েছে। গাছিরা এবার মজুরি নিচ্ছে প্রতি গাছে এক হাজার টাকা করে। তাই খরচ বাঁচাতে আমি নিজেই গাছ চাঁচাছোলার কাজ করছি।

হেমন্তের শুরুতেই দামুড়হুদা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গুড়ের হাট জয়রামপুর স্টেশন বাজার, সরোজগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে গাছিরা তাদের তৈরি গুড় বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এসব হাট থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা ট্রাক ও আলমসাধুর মাধ্যমে গুড় সংগ্রহ করে নিয়ে যান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলার চারটি উপজেলায় মোট ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৬০টি খেজুর গাছ রয়েছে। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৯৩ হাজার ৪৫০টি, আলমডাঙ্গায় ৩৫ হাজার ৩১০টি, দামুড়হুদায় ৮৩ হাজার ও জীবননগরে ৩৬ হাজার ৫০০টি খেজুর গাছ রয়েছে।

জেলায় এ বছর ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অর্জনে কর্মকর্তারা আশাবাদী।
যশোর অঞ্চলের টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের মনিটরিং ও মূল্যায়ন কর্মকর্তা মো. মাসুম আব্দুল্লাহ বলেন, গাছিদের গাছ কাটার কাজটি একটি শিল্প। শীত মৌসুম এলেই দক্ষ গাছিদের কদর বেড়ে যায়। খেজুরের রস ও গুড়ের ঐতিহ্য ধরে রাখতে গাছ রক্ষা ও নতুন করে রোপণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে পরিকল্পিতভাবে খেজুর গাছ রোপণ ও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। এই গাছ অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশি চারার পাশাপাশি বিদেশি জাতের চারাও লাগানো যেতে পারে, তবে ঐতিহ্য ধরে রাখতে দেশি গাছ সংরক্ষণে জোর দিতে হবে।




মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমোদন পাচ্ছে দুইটি সাবজেক্ট

মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম চালুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) দুইটি বিষয় অনুমোদন দিচ্ছে।

ইউজিসির সর্বশেষ বৈঠকে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় ও বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম চালুর জন্য দুটি করে বিষয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে। ইউজিসির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে আজ রবিবার পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল মেহেরপুরে তিনটি স্থান ময়ামারির মাঠ, বিএডিসির বারাদি ফার্ম ও খড়ের মাঠ পরিদর্শন করেছেন।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ভর্তি হবে।
মেহেরপুর সরকারি কলেজের অনার্স ভবনে ছয়টি কক্ষ বরাদ্দ দিয়ে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি অফিস ভাড়া নিয়ে রেজিস্ট্রারসহ প্রয়োজনীয় কর্মকর্তাও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।




শৈলকুপায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় একটি মাদ্রাসার দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

রোববার (১৯অক্টোবর) সকালে উপজেলার পদমদী গ্রামের মাদরাসাতুস সুন্নাহ এন্ড ইসলামিক স্কুলের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। এতে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী অংশ নেয়।

ঘন্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচীতে মাদ্রাসার শিক্ষক সাদিক হোসেন, অভিভাবক আবু দাউদ, বুলবুল আহম্মেদসহ শিক্ষার্থীরা বক্তব্য রাখেন।

কর্মসূচি থেকে অভিযোগ করা হয়, মাদ্রাসার পরিচালক ইমরান হোসেন ও শিক্ষক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ৩ ছাত্রকে বলৎকার করার মিথ্যা অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে তারা কারাগারে আছে। যে কারণে মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে মাদ্রাসার ২ শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন। বক্তাদের অভিযোগ, মাদ্রাসাটির কার্যক্রম বন্ধ করতে স্থানীয় একটি মহল এই চক্রান্ত করে মামলা করিয়েছে। তাই দ্রুত মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান তারা। এ দাবী মানা না হলে সড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণারা হুশিয়ারি দেন মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অভিভাবক ও শিক্ষকরা।




চাই একটি মানবিক বাংলাদেশ

মানবিকতা একটি জাতির সভ্যতার মাপকাঠি। শুধু প্রযুক্তি, অবকাঠামো বা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিই একটি দেশকে উন্নত করে না। বরং মানুষের মধ্যে যদি পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা,সহানুভূতি না থাকে, তাহলে সেই উন্নয়ন অনেকাংশেই অর্থহীন। একটি মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে আগে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে শিখতে হবে। উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন তার ভেতর মানবিকতা থাকে। তাই “মানবিক বাংলাদেশ” গঠন আজ সময়ের দাবি। মানবিকতা মানে শুধু দয়া-সহানুভূতি নয়; এটি হলো মানুষে মানুষে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার মনোভাব। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা বা রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে সবাইকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করাই মানবিকতার প্রকৃত রূপ।

সব ধর্মেই মানবিকতার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। ইসলাম বলে, “যে ব্যক্তি একজন মানুষকে বাঁচায়, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে বাঁচাল।” অন্যান্য ধর্মও মানুষে মানুষে ভালোবাসা ও শান্তির বার্তা দেয়। তাই মানবিক বাংলাদেশ মানে ধর্মীয় মূল্যবোধের বাস্তব প্রয়োগ। তবে শুধু গণতন্ত্র,অর্থনৈতিক উন্নয়নই যথেষ্ট নয়, আমাদের প্রয়োজন একটি মানবিক বাংলাদেশ যেখানে মানুষে মানুষে ভালবাসা, সহানুভূতি, সহমর্মিতা এবং মানবিক মূল্যবোধ থাকবে। বাংলাদেশকে একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই। যে দেশে মানুষ মানুষকে সন্মান করবে, মানুষের সকল অধিকার নিশ্চিত হবে। যে দেশে কোন যুবক বেকার থাকবেনা। সকলের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। মিথ্যা শঠতা থাকবে না; থাকবে না অন্যকে অসম্মানিত না করা। নারী সে শিক্ষার্থী হোক বা কর্মজীবী হোক সবক্ষেত্রে সেজেনো নিরাপদ অনুভব করে;সেই স্বপ্নের দেশ চাই। এর জন্য প্রয়োজন দেশের সকল জনগণের সচেতনতা,সহযোগিতা ও সমর্থন ।

আমরা চাই মানবিক বাংলাদেশ। মানবিক বাংলাদেশ হবে এমন এক দেশ, যেখানে প্রতিটি মানুষ অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে; গরীব-ধনী, নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ সবাই সমান সম্মান সমহিমায় পাবে; শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা সকলের জন্য নিশ্চিত হবে; পথশিশু, অসহায় ও প্রতিবন্ধীরা সুযোগ পাবে স্বাভাবিক জীবনের; সহানুভূতি, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়িবোধ থাকবে প্রতিটি নাগরিকের মাঝে;ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকলে মিলেমিশে বসবাস করবে।

একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শিক্ষাকে রাজনৈতিক দৃষ্টি থেকে দেখা যাবে না। আমাদের সমাজে যে নৈতিক অবক্ষয়, আত্মকেন্দ্রিকতা ও সহানুভূতির অভাব দেখা দিচ্ছে, তা রোধ করতে হলে সামাজিক মূল্যবোধকে আবার কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনতে হবে। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সত্যবাদিতা, শ্রদ্ধা, সহানুভূতি, দায়িত্ববোধ, ও মানবিকতা শেখাতে হবে। বাবা-মা ও অভিভাবকদের নিজেদের আচরণেও মূল্যবোধের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। গণমাধ্যমকে মানবিকতা বৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে। সর্বোপরি, আমাদের প্রত্যেককে নিজের দায়িত্বে মানবিক আচরণ করতে হবে।

শুধু উন্নয়ন নয়, আমরা চাই একটি মানবিক বাংলাদেশ যেখানে মানুষের মধ্যে থাকবে ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সম্মানবোধ। এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে রাষ্ট্র, সমাজ এবং ব্যক্তিপর্যায়ে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে, মানবিক বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের প্রত্যেককে আগে মানুষ হতে হবে। আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে যে প্রতিশ্রুতি জনগণকে দেওয়া হয়েছিল, সেখানেই জনগণের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিধ্বনি ছিল। পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছিল বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র ঘোষণা করছি। অল্প কথায় কী অপূর্ব সুন্দর এবং তাৎপর্যপূর্ণ এক ঘোষণা!

রাষ্ট্র যেসব সুবিধা তার নাগরিকদের দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তা সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে, এই হলো সাম্যের সহজ মানে। অর্থাৎ আপনার আর আমার সামাজিক অবস্থান-ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি-পেশা আলাদা হতেই পারে, কিন্তু রাষ্ট্র আমাদের আলাদা চোখে দেখবে না, বরং রাষ্ট্রের সুবিধাদি পাওয়ার অধিকার আমাদের সমান থাকবে। সামাজিক ন্যায়বিচার মানে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকারসমূহের সমবণ্টন। আর মানবিক মর্যাদা মানে মানুষ হিসেবে আপনার-আমার সম্পূর্ণ মর্যাদা পাওয়ার অধিকার। মুক্তিযুদ্ধের পর জনগণ বারবার আন্দোলন-সংগ্রামের ভেতর দিয়ে তাদের অধিকার ফিরে পেতে চেয়েছে। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান আর চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে দুটো মাইলফলক হয়ে থাকবে।

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের বাতিঘর, যেকোনো সংকটে মুক্তিযুদ্ধই আমাদের পথ দেখাবে। সুতরাং, এই মুহূর্তের করণীয় হলো, স্বাধীনতার ঘোষণার কাছে ফিরে যাওয়া। মুক্তিযুদ্ধ-স্বাধীনতা-দেশ-রাষ্ট্র এসব কিছুর মালিকানা জনগণকে বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই এখনকার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। একটা কথা মনে রাখা দরকার, সাম্য না থাকলে সমাজের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘকালের অপশাসনে আমাদের সমাজের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। সেজন্যই এত অস্থিরতা চারদিকে, এত বিকার, এত উগ্রতা।

জনগণের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে গণঅভ্যুত্থান অবশ্যই শক্তিশালী একটি মাধ্যম। আমেরিকান তাত্ত্বিক ভাষাবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, দার্শনিক ও সমাজ সমালোচক আভ্রাম নোয়াম চমস্কির ভাষায়, ‘যখন একটি সরকার জনগণের মৌলিক অধিকার ও চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয় তখন গণঅভ্যুত্থান অপরিহার্য হয়ে ওঠে।’ গণঅভ্যুত্থানের প্রক্রিয়া ও ফলাফল সব সময় একইরকম নাও হতে পারে। এর মধ্যদিয়ে জনগণ তার ইচ্ছাশক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটায় এবং ঐক্যবদ্ধভাবে একটি পরিবর্তন আনার সংগ্রামে মিলিত হয়। তবে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য জনগণের সমর্থনের পাশাপাশি সঠিক নেতৃত্ব অপরিহার্য। অন্যথায় তা প্রায়শই বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতায় পর্যবসিত হয়। জনসমর্থন হচ্ছে এর শক্তির দিক, দিশাহীনতা হচ্ছে দুর্বলতার দিক।

একটা বিষয় মনে রাখা দরকার তা হলো, প্রজন্ম ও প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি কোনো স্থির বিষয় নয়; যুগে-যুগে প্রজন্মের রুচি-রূপ এবং দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টায়। কিন্তু ইতিহাস তার জায়গায় ঠিকই থেকে যায়, থেকে যায় মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। তাই ক্ষমতার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন। যার মধ্যদিয়ে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রকৃত অর্থে বৈষম্য নিরসন করে সাম্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে মানবিক রাষ্ট্র গঠনে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিরাষ্ট্র পরিচালিত হবে। রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য শুধু নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নয়; নিরাপত্তার বিষয়টি যখন মাটি-পানি-বায়ু ও প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল, তখন একটি রাষ্ট্রের আদর্শ হতে হবে পরিবেশবান্ধব।

মানবিক দেশ গড়ার কাজ শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়; বরং ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে আমাদের সবারই দায়িত্ব। সর্বত্র মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে পারলে কোথাও থাকবে না কোনো অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা। আমরা গড়তে পারব শান্তি-সৌহার্দ-সম্প্রীতির মানবিক বাংলাদেশ। মানবিক বাংলাদেশ গড়ার ব্যাপারে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে তাহলো সব ক্ষেত্র দুর্নীতিমুক্ত করা;স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতি প্রতিষ্ঠা করা;আইনের শাসন যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠা করা;দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকারের প্রতি বিশেষ মনোযোগী হওয়া; জনগণের মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা;ভ্রাতৃত্ব, সহনশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা;সংখ্যালগু বলতে কোনো কিছু থাকবে না; থাকবেনা পাহাড়ী বাঙ্গালী মতভেদ বা ভিন্ন দৃষ্টি ভঙ্গী।

এই নতুন সময়ে দাঁড়িয়ে প্রত্যাশা করি, নিশ্চিহ্ন হোক প্রতিহিংসা, দেশের মানুষ তাদের মানবিক মর্যাদা ফিরে পাক, সুশাসন,সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক। ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্তের রাজনীতি বন্ধ হোক। দেশে একটা অবাধ এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু হোক। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিক। যারাই নির্বাচিত হবেন তারা যেন মনে রাখেন, ‘শাসনক্ষমতা’ নয়, তাদের দেওয়া হয়েছে ‘রাষ্ট্র পরিচালনা’র দায়িত্ব। আমরা আর শাসক ও শাসন দেখতে চাই না, দেখতে চাই যোগ্য পরিচালক ও জনবান্ধব সরকার। প্রকৃত গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে রাষ্ট্রের নাগরিকদের মানবাধিকার পদে পদে ভূলুণ্ঠিত হয়। সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষার জন্য শক্তিশালী গণতন্ত্র অপরিহার্য। আর গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন আইনের শাসন।

লেখক: সিনিয়র তথ্য অফিসার জনসংযোগ কর্মকর্তা ভূমি মন্ত্রণালয়