দামুড়হুদায় তামাক বিরোধী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

দামুড়হুদায় উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য ও কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তামাক বিরোধী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৯শে জুন) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পরিষদের সভাকক্ষে ধুমপান ও তামাকজাত পণ্য দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের আওতায় উপজেলা পর্যায়ে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা তিথি মিত্র’র সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অনুষ্ঠান শুরু হলে, ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য দ্রব্যের ব্যবহার হ্রাস ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের উপর ডিজিটাল পর্দায় স্যালাইট শো প্রদর্শন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ফাহমিদা আক্তার রুনা। একই সময় তামাক বিরোধী আইন কানুন নিয়ে বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এইচ তাসফিকুর রহমান।

এমসময় উপস্থিত ছিলেন, সমাজসেবা কর্মকর্তা তোফাজ্জল হক, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবীর, দর্শনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল, দামুড়হুদা প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল হাসান তোতা, স্যানেটারী ইন্সপেক্টর নিয়ামত আলী, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হাসান, মহিলা বিষয় কর্মকর্তা হোসনে জাহান, কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল করিম বিশ্বাস, হাউলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) নিজাম উদ্দিন, নতিপোতা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইয়ামিন আলী, নাটুদহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফি, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি আজহারুল আলী, তারভীর অনিক প্রমূখ।




মেলা ও মেলার সেকাল একাল

‘মেলা’ প্রাচীন মানুষ সমাজসভ্যতার সমাবেত ভক্তি,বিনোদন ও বানিজ্য অনুসংগ। বিশ্বের এমন কোন দেশ বা জাতিগোষ্ঠি পাওয়া বিরল যেখানে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতায় মেলা অনুষ্ঠিত হয় না।

সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে প্রাচীনকালে টোটেম বিশ্বাসি জনগোষ্ঠি মেলাকে তাঁদের ঐশর্য্য ও ধর্মীয় চেতনার আনুসঙ্গ হিসেবে পালন করেছিল, যে ধারা এখনও আধুনিক বিশ^সমাজে চলে আসছে।

এখনও লক্ষকরলে দেখাযায়, সনাতন, অগ্নি, প্রকৃতি, সমাধি ও মাজার পূজারীদের মধ্যে জাঁকযমকপূর্ণ মেলা গুলো অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। দঃআমেরিকার মাচিপিচু,ভারতের কুম্ভমেলা ও রথযাত্রা, পারশ্য সহ মধ্যেএশিয়ার বিভিন্ন দেশে সাধক পুরুষদের সমাধী বা জন্ম-মৃত দিনকে কেন্দ্র করে উল্লেখযোগ্য মেলাগুলো অনুষ্ঠিত হয়।

মেলার অভিধানিক অর্থ খুঁজলে আমরা দেখতেপাই, অনুষ্ঠাটি মূলত ধর্মীয় বা সাধক পুরুষের স্মৃতিতর্পনের উদ্দেশ্যে বার্ষিক সমাবেশ বা আচার আচরণকেই বুঝান হয়। এছাড়াও বিশেষ কোন উপলক্ষকে কেন্দ্র করে পন্যক্রয় বিক্রয় তৎসহ আমোদ প্রমোদের অস্থায়ী ব্যাবস্থাকেও মেলা বলাহয়।

যেমন বৈশাখী মেলা, বিভিন্ন পূজা বা ওরশ কেন্দ্রিক মেলা ইত্যাদি। এ ছাড়াও স্থানীয়ভাবে বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে অস্থায়ী প্রদর্শনী, পন্যদ্রব্যের সাথে পরিচিত ও ক্রয় বিক্রয়ের জন্য মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে।

যেমন বইমেলা বুক্ষমেলা,শিল্পমেলা,বানিজ্যমেলা প্রভৃতি হাজারো রকমের মেলা। বর্তমান বিশে^র উন্নত বা উন্নয়শীল সব দেশগুলোতেই এই ধরণের মেলা অনুষ্ঠীত হয়ে থাকে। এ গুলো যেমন রাষ্ট্র কেন্দ্রীয় ভাবে যাঁকজমকের সাথে উজ্জাপন করে তেমনি বিশেষ বৈশিষ্ঠমন্ডিত পন্য বা উৎপাদনকারি অঞ্চল বা জেলা সমুহেও অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

তবে মেলার ধরণ যেমনই হোক না কেন,মাস ব্যপি উজ্জাপিত মেলাগুলোর কিছু বৈশিষ্ঠ থাকে যেমন, স্থানীয় উৎপাদন, কৃষি, হস্ত ও কুঠির শিল্প,শিক্ষা ও সংস্কৃতি, সামাজকি বিনোদন, ও জাতীয় মুল্যবোধকে তুলেধরা ও নির্মল বিনোদনকে উৎসাহিত করা ইত্যাদি।

এক সময়ে এদেশে কর্মব্যাস্ত কৃষিভিত্তিক সমাজে মানুষের বিনদনের স্থানটুকু ছিল খুবই সীমিত। শহরভিত্তিক বিনোদনের ছিটে ফোটাও গ্রমীন সমাজে প্রভাবিত হত না,ফলে গ্রামীন জনপদে ফসলতোলা শেষ হলে নির্দিষ্ট সময়ে ফসলশুন্য উম্মুক্তমাঠে আয়োজন হত কৃষকের মেলার। এসব মেলার মূল আকর্ষণ ছিল দর্শক ও উপস্থাপকদের সম্মিলিতি প্রচেষ্টর সাথে মানসিক ও শাররীক মেলবন্ধন।

অনুষ্ঠিত হত কৈৗতুক,পালাগান,আলকাপ,কবিগান,কুস্তি, মল্লযুদ্ধ,ঘাড়দৈৗড়,গরুরগাড়ির দৈৗড় প্রতিযোগিতা সহ নানাবিধ আয়োজন যা সাধারণত স্থানীয়ভাবে বা আয়োযকরাই ব্যবস্থা করতেন। তবে এসব মেলাতে মহিলা দর্শনার্থীর উপস্থিত কিছুটা কম হলেও, প্রদর্শনছিল মহিলা বিবর্জীত। এখানে দেশীয় গুড়জাত মিস্টিদ্রব্য,হস্তশিল্পজাত দ্রব্য,গৃহস্থলি ও হাল আবাদে লাগে এমন প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী ব্যাপক বিক্রী হত। কালের বিবর্তনে এইগুলোই এখন কৃষি ও কৃষকের মেলা হিসেবে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে মিডিয়ার পর্দায় দেখা যায়।

সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথে বাস্তবতার নিরিখে মেলার বৈশিষ্ঠেও আসতে থাকে ব্যাপক পরিবর্তন। এক সময়ের বড় পরিসরের মেলা গুলোর অন্যতম আকর্ষণ ছিল যাত্রাপালা, সার্কাস, পুতুলনাচ, যাদু প্রদর্শনী প্রভৃতি যেগুলো মূলত দর্শনীর বিনিময়ে প্রদর্শীত হত।

এছাড়া সবই ছিল উন্মুক্ত। যেমন বিভিন্ন সমিতি, সরকারী দপ্তর, শিল্পগ্রুপ, বেসরকারী উদ্যেক্তাদের হরেক রকম স্টল। থাকত প্রদর্শনী প্লট ও মিনিয়েচার প্রদর্শনী। যেমন কৃষিবিভাগ পরিচালিত মেলাগুলো সবাইকে বেশি আকৃষ্টকরত।বিশালাকৃতির কৃষি ফসল যেমন থাকত, তেমনি মাঠ পর্যায়ে থাকত আদর্শবাড়ি,খামার মডেল প্রদর্শনী। বন বিভাগ, প্রনীসম্পদ বিভাগ,সড়ক জনপথ,থেকে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ সবাই প্রদর্শন মাঠ বা স্টলে অংশ নিত। মেলায় অল্পবয়সিদের বড়আকর্ষণ ছিল তথ্যঅধিদপ্তর পরিচালিত বড় পর্দ্য়া ডকুমেন্টারী প্রদর্শনী। যা যাত্রাপালা শুরুর আগ পর্যন্ত চলতো।

দেখানো হত, সরকাররে উন্নয়ন প্রকল্প, গ্রামীন জনপদ,চিকিৎসা,যেগাযোগ,প্রাথমিক শিক্ষা ও গবেষণা, থাকত কাটৃুন ছবি ও দেশবরেণ্য শিল্পিদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সিনেমা। টিকিট কেটে মেলোয় প্রবেশের পরে যাদের হাতে অতিরিক্ত কোন পয়সা থাকত না তাদের জন্য ফ্রিতে এই সব প্রদর্শনী ছিল চরম বিনোদনের বিষয়। এখনকার মত এত ফাস্টফুডের আধিক্য না থাকায় মেলার মধ্যে খাবার স্টল থাকত খুবই কম।

তবে দেশি বিদেশি সংরক্ষিত বা বোতল জাত খাবারের স্টলে বা দেশীয় শুকনা খাবারের দোকানে সবধরণের খাবার পাওয়া যেত। মেলার পরিসর ও স্থায়িত্ব অনুযায়ী একটা মেলায় গৃহস্থলী প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র সহ আসবাবপত্র সবই পাওয়া যেত। মেলা শুধু মাত্র গতানুগতিক বিনোদন ও প্রদর্শনের মাধ্যমই নয়, মেলার মাধ্যমেই মানুষের পরিচয় ঘটে দেশ বিদেশের আধুনিক সব জিনিষপত্রের সাথে। কাঁসা,পিতল,মটির তৈজশপত্রের পাশাপাশি মেলার হাত ধরেই সাধারণের ঘরে উঠে আসে চিনামাটি,কাঁচ,এনাডাইস মেলামাইন ও প্লাস্টিক নির্মিত আভিজাত সব পন্যসামগ্রী।

প্রতিটা মেলার মূল কাঠামোটি থাকত মেলার মাঠের ঠিক মাঝখানে। বিদ্যুতহীন পরিবেশে মাঠের বাইরে বড় ডায়নামোতে বিদ্যুৎ উৎপাদিত করে মেলার প্রধার আকর্ষন আলোক ¯তম্ভের রঙিন আলোক সজ্জার ব্যবস্থা হত। পোকা যেমন আলোতে আকৃষ্ট হয়ে পিলসুজের দিকে আসে, তেমনি মানুষজন দুরদুরান্ত থেকে আলোক স্তম্ভ দেখে মেলার দিকে আসত।

অধিকাংশ স্টলেই থাকত হ্যাজাক লাইট। মেলা শুরুহত ঠিক বিকেলের দিকে একটা নির্দ্দিস্ট সময়ে। লাইন ধরে টিকেট নিতে হত, ছাত্রদের জন্য থাকত ডিসকাউন্ট। দূরদুরান্ত থেকে যারা মেলা দেখতে আসতেন তারা সারাদিনের কাজ কামাই করে গরু বা ঘোড়ার ঘাড়িতে, কেউ বা আসতেন হেটে বা সাইকেলে। অধিকাংশ মানুষ শুকনো খাবার সাথে নিতেন। তার পরেও মেলা প্রাঙ্গনের বাইরে বসত আরেক মেলা। যেখানে গরু,ঘোড়া,গাড়ি,সাইকেল পার্কিংয়ের ব্যবস্থা সহ কিছুটা আহার বিশ্রামের ব্যবস্থাও থাকত।

ফলে এদিকে চা নাস্তা,ভাত রুটির দোকান বসত। মেলার এই বানিজ্যিক দিকের বাইরে মেলার প্রায় চারভাগের তিনভাগ স্থান জুড়ে থাকত যাত্রা,সার্কাস,পুতুলনাচ ও যাদু প্রদর্শন। শুধুমাত্র মেলাকে কেন্দ্র করেই উপমহাদেশে বা দেশে এক সময় গড়ে উঠেছিল বিখ্যাত যাত্রা,ও সার্কাসের দল। এসব দলের পরিচালক,অভিনেতা আভিনেত্রীরা পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ের নামকরা কলাকার,পরিচালক হতে পেরেছিলেন। পালাগুলো রচিত হত ঐতিহাসিক,জীবনঘণ,প্রেম-বিরহ,জবনী ভিত্তক,সংগ্রাম ও বীরগাথা কাহিনী নিয়ে। মঞ্চের ঘটনার সাথে দর্শক ও অভিনয়শীল্পিরা একাকার হয়ে যেত। সৃস্টিহত আবেগঘন পরিবেশ যেটা সিনেমা শোতে সম্ভব ছিল না। যাত্রা ও সার্কাসের শুরুতে ও বিরতিতে দেশ বন্ধনা, বীরভজন, ধ্রুপদিনাচ ও গানের অনুষ্ঠান থাকত। যেখানে অনেক সময় জাতীয়পর্যায়ের শিল্পিরাও অংশ নিতেন ।

পুতুলনাচ ও সার্কাসের বেলাতেও একই কথা বলা যায়। পুতুল নাচের কাহিনীর কোন লিখিতরূপ ছিল না। ফুটে উঠত মানুষের দৈনন্দনি জীবনের হাসিকান্না প্রেম বিরহ,বিবাদ ঝগড়া, বোকমী ও চতুরতার এক অনবদ্য চলমান আলেখ্য যা শুধু ছোট ও মেয়েদেরই না বড়দেরও সমান আনন্দ দিত। একই ভাবে যাদু প্রদর্শনী ও সর্কাস ছিল মানুষের কাছে অপার বিশ্ময়। ছেলে মেয়েদের সুউচ্চস্থানে উঠিয়ে বিভিন্ন ধরণের লাফাঝাঁপ কলা কৈশল দেখে মানুষের স্নায়ুবিক চাপ অনেকটাই বেড়েযেত। এই অবস্থা নিরসনের জন্য পশুদের খেলা, ও ভাড় প্রদর্শন বা উদ্বুদ্ধমুলক সংগীত পরিবেশন করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হত। ভাড়রা বিচিত্র পোষাক ও মেকাপ নিয়ে আদ্ভুত সব ভাড়ামো করে দর্শকদের প্রচুর আনন্দদিত ।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিষেশকরে ১৯৭২ সন থেকে আমাদের সংস্কৃতিক অঙ্গনের স্বকীয়তায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে থাকে এবং ভারতীয় সাংস্কৃতির প্রভাব প্রকট হতে থাকে। মেলাগুলো জমজমাট হয় ঠিকই, কিন্তু যেহাওে খোলামেলা,উদ্যোম ও নগ্ন শাররীক কলাকৌশল প্রদর্শীত হতে থাকে যা যাত্রা সার্কাসকে কলুশিত করে ফেলে।

মেলায় জুয়ার আয়োজন প্রকট হতে থাকে। ক্রমেই শিক্ষিত ভদ্র সমাজ এইসব অপবিনোদন থেকে মুখ ফেরাতে থাকে। মেলাগুলো পরিনত হয় দুবৃত্যায়নের আখড়ায়। মেলা মানেই থাকে যাত্রা, সার্কাস, ও হাউজি। যাত্রা মানেই উদ্যাম নৃত্য মেয়েদেও নগ্নশরীর প্রদর্শনী ্এবং চলতে থাকে প্রদর্শনের আড়ালে শাররীক সম্পর্কের অঘোষিত ব্যবসা। ঝুকিপূর্ণ খেলার পরিবর্তে সার্কসের রিং ভরেওঠে রঙবেরঙের ভাড়দের কুরুচিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি ও নর্তন কুর্দনে।

মেলার মাঠ দখল করে আসর বসে হাউজি, ফড়, চরকি, ও র‌্যাফেলড্রর মত জুয়ার আয়োজনে। সারারাত ধরে চলে মেলা নামের শিল্প বানিজ্য প্রদর্শনের আড়ালে অনৈতিক মাফিয়া বনিজ্য। এক সময় প্রদর্শনীগুলো পরিচালিত হত এলাকার সভ্যসমাজ, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রশাসনের তত্বাবধায়নে। তাঁরা ঠিক করতেন মেলাতে কোন কোন বিয়য়ে কতটুকু প্রদর্শীত হবে এবং, সমাজে নেতিাবচক প্রভাব পড়ে এমন বিষয়গুলো থাকবে কি থাকবে না? নিষিদ্ধ কাজের প্রতি মানুষের আকর্ষণ সহজাত মেলার বর্তমান চিত্র ও চাহিদাও সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এখন দুনিয়াব্যপি ডিজিটাল বিনোদন মাধ্যম প্রধান হয়ে উঠেছে,। স্মার্টফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ,পিসি এখন বিনোদনের বড় মাধ্যম কিন্তু সবকিছুই ভার্চুয়াল, ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তরুন সমাজ আজ অতৃপ্ত ও অসমাপ্ত,অনেকটা বিকৃত বিনোদনে সার্বক্ষনিক বুদ হয়ে থাকে। এরা বেশি উৎসুক হয় দৃশ্যত ও স্পর্শ অনুভবের বাস্তবতায়। বর্তমান প্রজন্মের কাছে বিকৃতি যেন প্রকৃতির সমার্থক।

রাতারাতি বড়লোক হওয়ার জন্য নৃশংশতা ও জৌনতার কাছে পরাভব মানে সমস্ত নৈতিকতা। তাই এখনকার মেলাগুলোর মুল অনুসঙ্গ হয়েছে প্রদর্শনীর আড়ালে বিনোদনের জন্য শরীরপ্রদর্শন বা শাররীক সম্পর্ক। জুয়ার নামে দিনেরপর দিন মানুষের পকেট কেটে দেউলিয়া করা। এবং অন্তরালের মাদকের জমজমাট আসর তারুন্যের স্বপ্নকে ধংশ করছে চিরতরে। সারাদিনের প্রচারণার ফাঁদেপড়ে এই মেলাতে পতঙ্গওে মত আসে বিদেশখাটা পিতার সন্তান,অবস্থাসম্পন্ন,রাজনীতির হাত ধরে গড়ে ওঠা উঠতি তরুণ প্রজন্ম, যোগ দেয় সাধারণ খেটে খাওয় বা বেকার যুবকেরাও। সারারাত ধরে চলে তাদের উন্মত্ততা ও পয়সা উড়ানো। বর্তমানে মেলার আয়জক মন্ডলির প্রধান টার্গেটেও থকে এরাই।

বিনদনের বিষয়টা এখন সম্পূর্নই আপেক্ষিক, কিছুটা ব্যক্তি ও গোষ্ঠিকেন্দ্রিক হয়ে পড়ায়, এবং মেলা থেকে নগদ অর্থ লেন দেনের বিষয়টা প্রকট হওয়ায় মেলার নিয়ন্ত্রন চলেগিয়েছে প্রভাবশালী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ,ও দূর্নিতিবাজ আমলাদের হাতে। ্এদের ছত্রছায়ায় অঘোষিত দেশ বিদেশের মাফিয়াচক্র বখরার বিনিময়ে মেলাকার্যক্রমে যুক্ত হয়ে যায়। এভাবেই ঔতিহ্যবাহী মেলাগুলো তাদের বৈশিষ্ঠ ও স্বকিয়তা হারাতে থাকে।্ ভদ্রসমাজ মুখ ফিরিয়ে নেই মেলাথেকে। নাখেয়ে থাকে যাত্রা,পুতুলনাচ, যাদু সার্কাসের সাথে জড়িত হাজারও পরিবার। অনেকে পেশা পরিবর্তন করে বা বর্তমানের সাথে তালমিলিয়ে নেই শুধু মাত্র বেঁচে থাকার জন্য, একমুঠে খাওয়ার জন্য।

এখনকার মেলাগুলোকে আমরা যতই নৈতিকতার ছত্রাবরণে ঢাকার চেস্টা করি না কেন, নস্ট সামাজিক কাঠামোতে এর পেছনের আদিমতার রশিটা ধরা থাকে উদ্ব্যেগতা,পৃষ্টপোষক ও আয়োজক নামের মাফিয়াদের হাতেই। যাদের উদ্দেশ্য হল অর্থ উপার্জন ও জাতীর ভবিষ্যত যুবসমাজের মেরুদন্ডকে সমূলে ধংশ করে দেওয়া।

লেখক: অবঃ শিক্ষক গাংনী ডিগ্রী কলেজ




দর্শনায় ড্রেন নির্মাণে জন-সাধারণের চলাচলে চরম দুর্ভোগ

দর্শনা মদনা গ্রামের ড্রেন নির্মাণ করতে গিয়ে জন-সাধারণের চলাচলে চরম দুর্ভোগে ফেলেছে ঠিকাদার রবিন।

পারকৃষ্ণপুর মদনা ইউনিয়নের মদনা দক্ষিণ পাড়ার লোকজন জানান, অমাদের দক্ষিণ পাড়ার ৮/৯শত পরিবারের লোকজনের চলাচলের একমাত্র সড়কের মুখে ড্রেন করতে কালভাট খুড়ে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।

তারা জানান, অর্ধেক ঢালায় করে অর্ধেক সড়ক রেখে চলাচল ব্যবস্থা করে কালভাট নির্মাণ করার নিয়ম থাকলেও তা না করে সড়কের মুখে পুরা অংশ খাল করে জন-সাধারণের চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তারপর ড্রেনের মাটি প্রধান সড়কের উপর ফেলেছে। ফলে বৃষ্টিতে কাঁদা ও পানি জমে সড়কে চলাচল করতে জন-সাধারণকে চরম দুভোর্গ পোহাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদার রবিন এর সাথে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ফোনে পাওয়া যায়নি।




আমঝুপি ইউনিয়নে এডিপি’র অর্থায়নে শিক্ষা ও কৃষি উপকরণ বিতরণ

মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এবং এডিপি’র অর্থায়নে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লাব ও কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ খায়রুল ইসলাম। তিনি উপস্থিত থেকে ৩টি আলমিরা, ৪টি ফাইল কেবিনেট, ৪টি চেয়ার, ৪টি ক্রিকেট সেট, ৩০টি ফুটবল, ১১টি ভলিবল, প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য ফার্স্ট এইড বক্স ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মেহেরপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফয়জুল কবীর, ইউপি সদস্য তৌফিক এলাহী এবং আমঝুপি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী তাসনোভা।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, আমঝুপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহমদ আলী, বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন, ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমান, আরিফ হোসেন, আব্দুল মজিদ, মকবুল হোসেন, আসাদুল হক পিন্টু, আব্দুল্লাহ, সালমা খাতুন, মেরিনা খাতুন এবং ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মৌসুমী খাতুন ও হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর আসিফ ইকবাল।

আয়োজকরা জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম সহজতর হবে এবং খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটবে। একই সঙ্গে কৃষকদের মাঝে স্প্রে মেশিন বিতরণের মাধ্যমে কৃষি কাজে আরও গতিশীলতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।




মেহেরপুরে বাস্কেট বল খেলার গ্রাউন্ড উদ্বোধন

মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাস্কেটবল কোর্ট নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার সকালে এ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ খায়রুল ইসলাম। উদ্বোধন উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এবং সেখানে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো: খায়রুল ইসলাম বলেন, মেহেরপুর সদর উপজেলায় কোনো বাস্কেটবল খেলার গ্রাউন্ড না থাকায় আমি যোগদানের পরেই অনুধাবন করি যে, মেহেরপুরে একটা বাস্কেট বল খেলার গ্রাউন্ড দরকার। আমি দেখলাম আমঝুপি যেহেতু খেলাধুলা, শিক্ষা সংস্কৃতি সবদিকেই এগিয়ে আছে, তাই ঐতিহ্যবাহী আমঝুপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই গ্রাউন্ড করলে সকল শ্রেণির মানুষ সুবিধা পাবে। একদিকে যেমন মেহেরপুর থেকে খুব নিকটে অবস্থিত, অন্যদিকে আমঝুপি মিনি স্টেডিয়াম এখানেই অবস্থানের কারণে এর সুফল পাওয়া যাবে। এতদিন মেহেরপুরে কোন বাস্কেট বল খেলার গ্রাউন্ড না থাকায় ছাত্রছাত্রীদের ইচ্ছা থাকা স্বত্বেও এই খেলায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলত।

ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিগণ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আমঝুপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহমদ আলী, আমঝুপি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন, মেহেরপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফয়জুল কবীর, ইউপি সদস্য তৌফিক এলাহী, আরিফ হোসেন ও আব্দুল্লাহ।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানান, এই বাস্কেটবল কোর্ট নির্মাণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলায় আরও বেশি অংশগ্রহণ করতে পারবে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা ব্যায়ে মেহেরপুর সদর উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে এই ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন।




আমঝুপি ইউনিয়নের নবগঠিত ওয়ার্ড কমিটির মতবিনিময় ও আলোচনা সভা

আমঝুপি ইউনিয়ন নবগঠিত ওয়ার্ড কমিটির সুপারফাইভ বিএনপি সকল সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল সকাল ১০ টার সময় আমঝুপি ইউনিয়ন বিএনপি’র নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন আমঝুপি নবগঠিত ইউনিয়ন সভাপতি সাবেক প্রভাসক জাহির হোসেন চঞ্চল। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মেহেরপুর জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মেহেরপুর জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ফয়েজ মোহাম্মদ, জেলা বিএনপি’র সদস্য ওমর ফারুক লিটন, মেহেরপুর জেলা জাসাসের সদস্য সচিব বাঁকা বিল্লাহ, জেলার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মিজানুর রহমান মেনন সহ আমঝুপি ইউনিয়নের সভাপতি সেক্রেটারি সহ সুপারফাইভ সকল সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি’র নেতাকর্মীরা বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করেন এবং আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ পুনর্গঠন হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন বক্তারা ।




চুয়াডাঙ্গায় বসুন্ধরা শুভসংঘের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা

বসুন্ধরা শুভসংঘের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার নতুন কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা এগারোটায় শহরের কোর্ট মোড়ের স্থানীয় দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়। শুভসংঘের নবনির্বাচিত সভাপতি অ্যাড. আ স ম আব্দুর রউফের সভাপতিত্বে কমিটির ৩০ জন সদস্য সভায় অংশ নেন।

নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হেমন্ত কুমার সিংহ রায়ের সঞ্চালনায় পরিচিতি সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা নাজমুল হক স্বপন, অ্যাড. মারুফ সারোয়ার বাবু, তালিম খসরু, জামান আখতার ও জিসান আহমেদ।

নবনির্বাচিত কমিটির সহ-সভাপতি ড. মুন্সি আবু সাঈফ, কামাল উদ্দীন জোয়ার্দ্দার; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল আওলিয়া নিশি, অ্যাড. নাজমুল আহসান; সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান সেলিম; দপ্তর সম্পাদক শেখ লিটন; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শামসুজ্জোহা রানা; অর্থ সম্পাদক পলাশ কুমার সাহা; কর্ম ও পরিকল্পনা সম্পাদক সাকিব বিশ্বাস; নারী বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদা অনি; সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনোয়ারা খুশি; সমাজকল্যাণ সম্পাদক সাইফুল্লাহ আল সাদিক; ক্রীড়া সম্পাদক সালমান ফারসি; তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক সোহানুর রহমান; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল মাওয়া; শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রেজওয়ানুল হক সজীব; আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক তানজিম তমাল এবং কার্যনির্বাহী সদস্য সুমন পারভেজ, হুমায়ুন কবির রিমু, হেলেনা নাসরিন, সামিউল ইসলাম, মইন আশরাফ, ফিরোজ হোসেন, মিকাইল হোসেন, রাসেল আলী, নাফিস আহমেদ, কামাল পাশা ও সাদমান সাকিব রাকেশ উপস্থিত ছিলেন।

পরিচিতি সভায় উপদেষ্টা ও দৈনিক সময়ের সমীকরণ এর প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন বলেন, “বসুন্ধরা অর্থ পৃথিবী আর শুভসংঘ অর্থ শুভ কাজের জন্য একত্রিত হওয়া। পৃথিবীর সকল শুভ ও ভালো কাজের জন্য একত্রিত করার যে উদ্যোগ, তা নিশ্চয় সফলতা আনবে। এজন্য বসুন্ধরা গ্রুপকে ধন্যবাদ জানাই।”

উপদেষ্টা ও জেলা জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. মারুফ সারোয়ার বাবু বলেন, “বসুন্ধরা শুভসংঘের স্লোগান ‘শুভ কাজে সবার পাশে’। অর্থাৎ, সকল ভালো কাজের সঙ্গে বসুন্ধরা শুভসংঘ থাকবে এটিই প্রত্যাশা করি। এজন্য আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।”

পরিচিতি সভা শেষে চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতি চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করা হয়। ‘গাছ লাগাই, ভবিষ্যৎ বাঁচাই’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নতুন কমিটির শুভ উদ্যোগ হিসেবে গাছ লাগিয়ে কার্যক্রমের সূচনা করা হয়।

এ সময় শুভসংঘ চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি অ্যাড. আ স ম আব্দুর রউফ বলেন, “শুভসংঘের এমন মহৎ উদ্যোগ সত্যিই সময়োপযোগী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কর্মসূচি সকলের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা, পরিবেশ-সচেতনতা এবং মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলে। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধতা নেই, প্রকৃত শিক্ষা তখনই পূর্ণতা পায় যখন আমরা সমাজের জন্য, পরিবেশের জন্য কিছু করতে পারি।”

কর্মসূচিতে শুভসংঘ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হেমন্ত কুমার সিংহ রায় বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন, উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং দিন দিন কমে যাওয়া সবুজ ভূমি আমাদের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, একটি গাছ লাগানো মানে একটি প্রাণ রক্ষা করা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা পরিবেশ রক্ষায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাই।”

উল্লেখ্য, বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগিতায় পরিচালিত বসুন্ধরা শুভসংঘ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণদের সম্পৃক্ত করে সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখাও এ কার্যক্রমে অঙ্গীকারবদ্ধ।




সভাপতি মোহা. হাফিজুর রহমান, মোঃ আবু তালেব সহ-সভাপতি

মেহেরপুর সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

নির্বাচনে সভাপতি পদে মোহা. হাফিজুর রহমান চেয়ার প্রতীক নিয়ে ১৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মো. আব্দুল মজিদ আনারস প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৬ ভোট।

শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মেহেরপুর সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের কার্যালয়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩৩ জন।

অন্যদিকে, সমবায় সমিতি বিধিমালা ২০০৪ (সংশোধিত ২০২০) এর ৩২(১) বিধি অনুযায়ী, তিনজন প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সহ-সভাপতি পদে মো. আবু তালেব নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়া, সদস্য পদে মো. শহীদুল্লাহ (নির্বাচনী এলাকা–ক) এবং এস. এম. ফয়েজ (নির্বাচনী এলাকা–খ) নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন নির্বাচন কমিটি ২০২৫-এর সভাপতি মো. মাহবুবুল হক এবং সদস্য মো. জামিয়ে আলম ও মো. সাইফুর রহমান। পুরো নির্বাচনের তদারকি করেছেন কমিটির সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম।




মেহেরপুর সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন

মেহেরপুর সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মেহেরপুর সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের কার্যালয়ে ভোটগ্রহণ চলবে। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩৩ জন।

সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোহা. হাফিজুর রহমান ও মো. আব্দুল মজিদ।

অন্যদিকে, সমবায় সমিতি বিধিমালা ২০০৪ (সংশোধিত ২০২০) এর ৩২(১) বিধি অনুযায়ী তিনজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন মো. আবু তালেব, মো. শহীদুল্লাহ এবং এস. এম. ফয়েজ।

নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন নির্বাচন কমিটি ২০২৫ এর সভাপতি মো. মাহবুবুল হক এবং সদস্য মো. জামিয়ে আলম ও মো. সাইফুর রহমান।

নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর তাৎক্ষণিকভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।




মুয়ে থাই চ্যাম্পিয়নশিপ টাইটেল বেল্ট জিতলেন মেহেরপুরের মনজুর আলম

বাংলাদেশের জন্য গর্বের আরেকটি মুহূর্ত এনে দিলেন মেহেরপুরের এমএমএ ফাইটার মনজুর আলম। ঢাকার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রথম ডাবল হর্স নকআউট মুয়ে থাই চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের আজহারউদ্দীনকে পরাজিত করে টাইটেল বেল্ট জিতেছেন তিনি।

ডাবল হর্স নকআউট মুয়ে থাই চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের ফাইটারদের জয়জয়কার। মোট পাঁচটি টাইটেল বেল্টের মধ্যে চারটিতে অংশ নিয়ে তিনটিতে বিজয় অর্জন করে বাংলার যোদ্ধারা পুরো আসর মাতিয়ে তোলে।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াই ছিল বাংলাদেশের রাশেদ ও ভারতের হেভিওয়েট ফাইটার রিতিক কৈলাশের মধ্যে। তিন রাউন্ডের নিয়ম থাকলেও, রাশেদ দ্বিতীয় রাউন্ডের আগেই ভারতীয় প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করে টাইটেল বেল্ট জিতে নেন। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে প্রমাণ হয় কেন তাকে ‘স্লেয়ার’ নামে ডাকা হয়।

রাশেদ বলেন, প্রতিপক্ষকে দেখে বুঝেছিলাম একটু বেশি আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু আমি নিজের মধ্যে শান্ত ছিলাম, গেমপ্ল্যান ছিল মাথা ঠাণ্ডা রেখে লড়াই করা। আল্লাহর রহমতে সব ঠিকঠাক হয়েছে।

রাশেদের পাশাপাশি বাংলাদেশের মনজুর আলমও ভারতের আজহারউদ্দীনকে হারিয়ে টাইটেল বেল্ট জিতে নেন। সাফল্যের এই ধারা প্রমাণ করে, বাংলাদেশের মুয়ে থাই ফাইটাররা এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো সক্ষম।

মনজুর আলম বলেন, আমি একজন সাধারণ কৃষকের সন্তান, আর্থিক অবস্থাও তেমন ভালো না। কিন্তু মনোবল আর কঠোর পরিশ্রম আমাকে আজকের এই জায়গায় এনেছে।

প্রতিযোগিতার সময় দর্শকদের উৎসাহ, ঢাকঢোল ও জাতীয় পতাকা ওড়ানো ছিল চোখে পড়ার মতো। পুরো অনুষ্ঠানটি জুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।

এই প্রতিযোগিতার প্রধান পৃষ্ঠপোষক জুবনা গ্রুপ, যারা আগামী দশ বছর নিয়মিত মুএথাই চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। পুরো আসরজুড়ে জুবনা গ্রুপের সিইও ইয়াসিন ইসলাম নাজেল স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে হাতে হাত রেখে কাজ করেন।

চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশসহ চারটি দেশের মোট ৪০ জন ফাইটার অংশগ্রহণ করেন। এই আয়োজন মুএথাইকে বাংলাদেশে জনপ্রিয় করে তোলার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

সংগঠক ও অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এটা শুধু একটি খেলা নয়, আত্মরক্ষার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এতো বড় পরিসরের আয়োজন এদেশে এই প্রথম।