দুদকের মামলায় আখিতারা জেলে, এখনো করা হয়নি সাময়িক বরখাস্ত

ভুয়া সনদে নিয়োগ নেওয়ায় দুদকের মামলায় মেহেরপুর সদর উপজেলার বর্শিবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী লাইব্রেরিয়ান আখিতারার জেল হাজতে সময় কাটালেও তাকে এখনো সাময়িক বরখাস্ত করেনি স্কুল ম্যানেজিং কমিটি। এনিয়ে ম্যানেজিং কমিটির ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

গত ১০ জুলাই মেহেরপুরের স্পেশাল ট্রাইবুনাল আদালতের বিচারক এস এম নাসিম রেজা আখিতারাকে জেল হাজতে পাঠান। অথচ প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও বিধি লঙ্ঘন করে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি সহকারী লাইব্রেরিয়ান আখিতারাকে এখনো সাময়িক বরখাস্ত না করে নিশ্চুপ রয়েছেন।

জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা সমন্বিত কার্যালয় কুষ্টিয়ার উপ-সহকারী পরিচালক মাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নম্বর ০৩/২০২৪, তারিখ ০৫ নভেম্বর ২০২৪।

বাদী তার এজাহারে উল্লেখ করেন, বর্শিবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী লাইব্রেরিয়ান আখিতারা খাতুন ভুয়া সার্টিফিকেট খাঁটি হিসেবে উপস্থাপন করে চাকুরি গ্রহণপূর্বক সরকারি ৮ লাখ ৮২ হাজার ১২৭ টাকা আত্মসাতের অপরাধ করেছেন।

এই মামলায় আরও তিনজন আসামি যুক্ত আছেন। তারা হলেন, বর্শিবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিনয় কুমার চাকি এবং বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা শান্তি। উক্ত আসামি তিনজন আখিতারা খাতুনের সাথে পারস্পরিক যোগসাজশে ভুয়া সার্টিফিকেট ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে চাকরিতে নিয়োগ প্রদান করেন।

গত ২৫ মে মেহেরপুর জেলা জজ আদালত চারজন আসামির বিরুদ্ধেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। তিনজন আসামি ইতোমধ্যেই জামিন পেলেও আখিতারাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

বর্শিবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আফারুল ইসলাম ডাবলুকে জিজ্ঞেস করা হয় আখিতারা খাতুনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে কি না। তিনি উত্তরে বলেন, আমি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অর্ডার দিয়ে দিয়েছি তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার জন্য। কিন্তু প্রধান শিক্ষক এখনো করেছেন কি না বলতে পারছি না।

মেহেরপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মনিরুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি এখনো অবগত নই। খোঁজ নেব এবং এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেব।

এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হজরত আলীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, চাকরির বিধি অনুযায়ী বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান আছে।

মেহেরপুর সদর উপজেলার বর্শিবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি নানাধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের নামে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বহু নিউজ প্রকাশিত হয়েছে। মেহেরপুর প্রতিদিনে সিরিজ নিউজ হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলাও চলমান। বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি এবং আরও তিনটি মামলা চার্জশিটের অপেক্ষায়।

একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের এই মাত্রার স্খলন থাকলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন কতটা নিরাপদ সেটি একটি বড় প্রশ্ন। এলাকার সাধারণ মানুষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে ভীষণ উদ্বিগ্ন। তাদের দাবি, অতিসত্বর প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরিয়ে আনতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির প্রশ্নে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।




মেহেরপুরে এ্যাড. কামরুল হাসানের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ

মেহেরপুর সদর উপজেলার বারাদি বাজারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র ৩১ দফা দাবি সাধারণ মানুষের মাঝে তুলে ধরতে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করেছে জেলা বিএনপি।

শনিবার (২৭ জুলাই) বিকেলে এ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান।

বারাদি বাজারের ব্যবসায়ী, ক্রেতা, বিক্রেতা ও আগত জনসাধারণের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা দাবি সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, “দেশে গঠনতান্ত্রিক ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি যে ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, তা সাধারণ মানুষের অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার রূপরেখা।”

গণসংযোগকালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য ওমর ফারুক লিটন, সদর যুবদলের আহ্বায়ক লিয়াকত আলী, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজুল ইসলাম ফিরোজ, ইলিয়াস হোসেন, বারাদি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আফারুল ইসলাম ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মুকুল, শ্যামপুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বিএনপি নেতারা জানান, দেশের প্রতিটি অঞ্চলে এ ধরনের গণসংযোগ চালিয়ে জনগণকে ৩১ দফা সম্পর্কে সচেতন করা হবে।




চুয়াডাঙ্গায় জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস উৎযাপন করলো রোভার

বাংলাদেশ স্কাউটস চুয়াডাঙ্গা জেলা রোভারের আয়োজনে ও চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনায় শনিবার সকাল দশটায় জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস উৎযাপন উপলক্ষে জুলাই আন্দোলনে শহিদদের স্মরণে র‍্যালি,রক্তদান কর্মসূচি, স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা, পোস্টার ও দেয়ালিকা প্রকাশ, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের স্মৃতি নিয়ে চিত্রাঙ্কন,ফটোগ্রাফি ও ভিডিও ফুটেজ প্রদর্শন প্রতিযোগিতা ও বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দিনব্যাপী প্রোগ্রামে অফিসার অব দা ডে হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা রোভারের সাবেক সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা জেলা রোভারের সহকারী কমিশনার(সংগঠন ও বিধি) জাহিদুল হাসান(এএলটি)। দিনব্যাপী এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা রোভারের সম্পাদক আব্দুর মুর্কিত জোয়ার্দ্দার(এএলটি), চুয়াডাঙ্গা জেলা রোভারের সহকারী কমিশনার( ভূ-সম্পত্তি) ও অধ্যক্ষ নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজ আবু নাসির(উডব্যাজ), চুয়াডাঙ্গা জেলা রোভারের কোষাধ্যক্ষ লিয়াকত আলী(উডব্যাজ), চুয়াডাঙ্গা জেলা রোভারের রোভার স্কাউট লিডার প্রতিনিধি এমদাদ হোসেন(উডব্যাজ), চুয়াডাঙ্গা জেলা রোভারের যুগ্ম সম্পাদক শাফিউল ইসলাম, হেলেনা নাসরিন( উডব্যাজ)।

এছাড়াও চুয়াডাঙ্গা জেলা রোভারের কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য সম্মানিত ইউনিট লিডার ও সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় রোভার ও গার্ল ইন রোভার অংশগ্রহণ করেন।

বিভিন্ন প্রতিযোগিতা শেষে বাংলাদেশ স্কাউটস রোভার অঞ্চল থেকে প্রেরিত জুলাই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন স্থানে ট্রাফিক সেবাদান কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী রোভার স্কাউট লিডার, রোভার এবং গার্ল ইন রোভারদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়।




মুজিবনগরে জুলাই পুনর্জাগরণে সমাজ গঠনে শপথ গ্রহন

মেহেরপুরের মুজিবনগরে জুলাই পুনর্জাগরণে সমাজ গঠনে শপথ পাঠ আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ১০টার সময় উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসন, সমাজ সেবা কার্যালয় ও মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এর সঞ্চালনায়, অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পলাশ মন্ডল।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা শপথ পাঠ করেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত থেকে শপথ বাক্য পাঠ করান উপদেষ্টা শারমিন এস. মুর্শিদ।

এরপর অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, যেখানে বক্তারা সমাজ উন্নয়নে সচেতনতা, দায়িত্ববোধ এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এসময় আরোও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুস সাদাত রত্ন,উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সেলিম রেজা, মুজিবনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মুনসি ওমর ফারুক প্রিন্স,সাধারণ সম্পাদক হাসান মোস্তাফিজুর রহমান, আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠানে প্রাণ ছড়িয়ে দেয়।

উপস্থিত বক্তারা বলেন, “এই ধরনের কর্মসূচি আগামী প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”




মুজিবনগরে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

মুজিবনগরে ইনফ্যান্টস ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলার মোনাখালী ইউনিয়নের আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিবপুর, মোনাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গোপালনগর বালিকা বিদ্যালয় এবং মোনাখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা যারা মেহেরপুর জিনিয়াস ল্যাবরেটরি স্কুল, দারিয়াপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন এমন মোট ১৪ জন কৃতি ছাত্রছাত্রীকে এই সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শিবপুরের হলরুমে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

সাংবাদিক ডালিম সানোয়ারের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রধান নির্বাহী, অস্ট্রেলিয়ান প্রবাসী রাফিদ আলম রকির পিতা, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ মাহফুজ আলম।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগোয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও শিবপুর হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোনাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম, শিবপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম, সহকারী প্রধান শিক্ষক ফিরাতুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, ফিতাজ আলী, শাহাজুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, আব্দুস সালাম প্রমুখ।

আমন্ত্রিত এসএসসি জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকগণ অনুষ্ঠান শেষে তাদের মতামত ও অনুভূতি প্রকাশ করেন। তারা ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন আয়োজকদের প্রতি।

ইনফ্যান্টস ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন একটি মানবসেবামূলক সংগঠন, যা শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশের ৭টি জেলায়। সংগঠনটি ২০২১ সালের মার্চ মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গত ৫ বছরে বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিহত সকল আত্মার মাগফিরাত কামনার মধ্য দিয়ে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।




দর্শনা সীমান্তে ভারতীয় রুপাসহ দুই চোরাকারবারি আটক

চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে ৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। এসময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ১১ কেজি ভারতীয় দানাদার রুপা জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার (২৬ জুলাই) বেলা দেড়টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার আজিমপুর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

আটক দুই চোরাকারবারি হলেন দর্শনা পুরাতন বাজারের ইকরামুল হকের ছেলে রাজিবুল ইসলাম (৩৭) ও দর্শনা আনোয়ারপুর গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে সাগর আলী (২১)।

চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে চোরাকারবারিরা ভারত থেকে বাংলাদেশে রুপা পাচারের চেষ্টা করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসানের দিকনির্দেশনায় ও সহকারী পরিচালক মো. হায়দার আলীর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল সীমান্ত এলাকার মেইন পিলার ৭৭/২-এস থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আজিমপুরের একটি ফুড গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানের সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে রাজিবুল ও সাগর আলী নামের দুইজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে গোডাউনের একটি কাগজের কার্টন তল্লাশি করে প্রায় ১১ কেজি ভারতীয় দানাদার রুপা উদ্ধার করা হয়। এসময় তাদের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। জব্দকৃত রুপার বাজারমূল্য প্রায় ২৬ লাখ ৫১ হাজার ৯৫৮ টাকা।

এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে মো. এনায়েত হোসেন দর্শনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আটককৃতদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং জব্দকৃত রুপা চুয়াডাঙ্গা ট্রেজারি অফিসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।




ঝিনাইদহে জুলাই পুনর্জাগরণে লাখো কন্ঠে শপথ পাঠ

ঝিনাইদহে জুলাই পুনর্জাগরণে সমাজ গঠনে লাখো কন্ঠে শপথ পাঠ অনুষ্ঠান ও সেবা মেলায় বিভিন্ন স্টলে সেবা প্রদান করা হয়।

শনিবার জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ শপথ অনুষ্ঠান ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আওয়াল এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনে আরা, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা আয়ুব হোসেন, জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো: আব্দুল কাদের, সমাজ সেবা কর্মকর্তা মমিনুর রহমান, হাসানুজ্জামান, সদর উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আব্দুল হাই সিদ্দিক, শহর সমাজ কর্মকর্তা আফাজ উদ্দীন, হাসপাতাল সমাজ সেবা কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন, শেল্টার সমাজ কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রোমেনা বেগম, গোল্ডেন ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক চন্দন বসু মুক্ত,ডাক্তার সাদিফ ইয়ামিন রাহাত, শেল্টার সমাজ কল্যাণ সংস্থার উপ-পরিচালক শাহনুর রেজা, প্রকল্প কর্মকর্তা পৃথা মন্ডলসহ বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা শেষে স্টল ঘুরে সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এসময় শেল্টার সমাজ কল্যাণ সংস্থা ও গোল্ডেন ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশন বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মাঝে বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান করেন।

এমবিবিএস ডাক্তার দারা ডায়বেটিস ফ্রি পরীক্ষা করা হয়, ৫০ বতল স্যানিটাইজার বিতরন, ৫০টি মশারী বিতরন, বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ, ৫০টি ছাতা বিতরণ, ১০ প্যাকেট মাক্স বিতরণ, ডিজিটাল মিটারে ওজন মাপা, প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার (ঠেলাগাড়ি) বিতরণ সহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হয়।




মহেশপুর সীমান্তে প্রায় ছয় কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণের বার উদ্ধার

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত থেকে ৪ কেজি ২০৩.১১ গ্রাম ওজনের ৩১টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে বিজিবি।

শনিবার (২৬ জুলাই) মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) উপ-অধিনায়ক আবু হানিফ মোঃ সিহানুক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান আজ সকালে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮বিজিবি)’র অধীনস্থ কুমিল্লাপাড়া বিওপি’র টহল দল কর্তৃক মেইন পিলার ৬০/৭০-আর হতে ৩০০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একজন স্বর্ণ বহনকারী ব্যক্তিকে বৃষ্টির মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ভারতে স্বর্ণ নিয়ে যাওয়ার সময় চ্যালেঞ্জ করা হলে ৩ টি পোটলা ফেলে দৌড়ে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে পোটলা ৩টি কুমিল্লাপাড়া বিওপি’তে নিয়ে আসা হয় এবং খোলার পর সর্বমোট ৩১ টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায় যার ওজন ৪ কেজি ২০৩.১১গ্রাম। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের সর্বমোট সিজার মূল্য ৫,৮৩,০৩,৬১৮.০০ (পাঁচ কোটি তিরাশি লক্ষ তিন হাজার ছয়শত আঠারো) টাকা।

জব্দকৃত স্বর্ণের বার সমূহ মহেশপুর থানায় জব্দ তালিকা তৈরির মাধ্যমে সরকারি জেলা কোষাগারে জমা করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




মেহেরপুরে জুলাই পুনর্জাগরণে সমাজ গঠনে শপথ পাঠ

মেহেরপুরে জুলাই পুনর্জাগরণে সমাজ গঠনে শপথ পাঠ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তর ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে শনিবার ২৬ জুলাই সকাল ১০টায় সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে এই শপথ পাঠ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তরিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা শারমিন এস. মুর্শিদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা অফিসার আশাদুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসিমা খাতুন, জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এ. জে. এম. সিরাজুম মুনীর, জেলা শিক্ষা অফিসার হজরত আলী, অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি খন্দকার মুইজ ও রাব্বি হাসনাত, এবং আরও অনেক সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা সমাজসেবা অফিসার (রেজি) কাজী আবুল মনসুর।




ডেপুটেশনে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেওয়ার খায়েশ মিন্টুর

মেহেরপুর শহরের এস এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম মিন্টুর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। শফিকুল ইসলাম মিন্টু বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির মেহেরপুর সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি এবং প্রভাবশালী একটি রাজনৈতিক দলের অনুসারি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শফিকুল ইসলাম মিন্টু নিয়মিত স্কুল না উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিসে বেশি সময় কাটান এবং বিভিন্ন বিষয়ে দালালি করেন। তিনি একটি কোচিং সেন্টারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, যা সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী। বেলতলা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডেপুটেশন নিয়ে জোর করে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেন। যদিও সরকারি বিধি অনুযায়ী ডেপুটেশনপ্রাপ্ত শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার বিধান নেই। কিন্তু তিনি শুধুমাত্র প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পাওয়ার লক্ষ্য নিয়েই একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতাদের সুপারিশ নিয়ে ডেপুটেশন নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্ব না পেয়ে তিনি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একজন নারী হয়েও তাঁকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন যা চাকরিবিধি ও শিষ্টাচারবহির্ভুত। এবং তিনি সরাসরি একটি রাজনৈতিক দলের অনুসারি বলে নিজেকে বিভিন্ন স্থানে পরিচয় দিয়ে থাকেন। এ ধরণের একজন শিক্ষকের কাছে থেকে শিক্ষার্থীরা কি শিক্ষা গ্রহণ করবেন সে নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে এবং শিক্ষক সমাজকে অন্যভাবে দেখানোর চেষ্টা করাচ্ছেন ওই শিক্ষক।

বেলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সাবরিনা জেসমিন বলেন, আমি এই বিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষকদের মধ্যে সিনিয়র। সে হিসেবে আমাকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোন ডেপুটেশন শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পেতে পারেন না। কিন্তু এস এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম মিন্টু রাজনৈতিক ক্ষমতাবলে ডেপুটেশন নিয়ে এখানে এসে প্রধান শিক্ষককের নিতে চাচ্ছেন। কিন্তু উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কোন নির্দেশনা না থাকায় আমি তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিইনি। কিন্তু তারপরও তিনি নিজে নিজে প্রধান শিক্ষককের চেয়ারে বসেছেন এবং হাজিরা খাতায় প্রধান শিক্ষককের কলামে স্বাক্ষর করেছেন। বিষয়টি আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, শফিকুল ইসলাম মিন্টু এছাড়াও আমার বিরুদ্ধে আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি শিক্ষকদের গ্রুপে আমাকে নিয়ে অনেক বাজে বাজে মন্তব্য করেছেন। যে কারণে আমি মারাত্মত অপমানিত বোধ করছি। তাঁর বিরুদ্ধে যদি আমাদের বিভাগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাহলে আমি আইনের শরণাপন্ন হবো।

এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম বলেন, বিষয়গুলো দেখে ও শুনে আমার ভিষণ খারাপ লেগেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন নারী শিক্ষককে নিযে যে থরাণের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা যা গর্হিত অপরাধ। এ বিষয়ে আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্যারকে জানিয়েছি। তাঁরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

মেহেরপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফারুক উদ্দিন বলেন, “ সহকারী শিক্ষক শফিকুল লিখিতভাবে ডেপুটেশনের আবেদন করলে আমি তাকে ৬ মাসের জন্য ডেপুটেশন দিয়েছি। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ গুলো পাওয়া গেছে সে বিষয়ে মতামত পেতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্যারকে চিঠি দিয়েছি। স্যারের মতামতের ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ কথা লেখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যদি বিচার দাবী করেন, তাহলে আমি তার পক্ষে সাক্ষী দেব।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রুহুল আমিন বলেন, ডেপুটেশনপ্রাপ্ত শিক্ষককে কোনভাবেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ নেই। সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম মিন্টুর বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগ এসেছে। আমি যে অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। সরকারি চাকুরি করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার কোন সুযোগ নেই।

অভিযোগের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম মিন্টু মেহেরপুর প্রতিদিনকে বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্যার বললেন মাসিক মিটিংয়ে আসতে পারেন না, সে কারণে বেলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে যান এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেন তাহলে মিটিংয়ে আসতে পারবেন। যে কারণেই আমি ডেপুটেশনি গেছি। অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তিনি আংশিক স্বীকার করে বলেন, “১০ জনের একটি গ্রুপে কিছু লেখালেখি হয়েছে, তবে ইচ্ছাকৃত কিছু নয়।”