আলমডাঙ্গা কৃষি কর্মকর্তা সারের মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন

আলমডাঙ্গার বিভিন্ন ইউনিয়নে সারের মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সময়ে সার সরবরাহে প্রশাসনের তৎপরতা নিশ্চিত করেন।

আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গতকাল রোববার সকাল থেকে সারের মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন উপজেলা কৃষি দপ্তরের কর্মকর্তারা। চলতি খরিপ-২ মৌসুমে কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন কৃষিকাজ নিশ্চিত করতে এবং সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সার সরবরাহে স্বচ্ছতা আনতেই এই মাঠপর্যায়ের মনিটরিং কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনে নেতৃত্ব দেন আলমডাঙ্গা উপজেলার সুযোগ্য উপজেলা কৃষি অফিসার জনাবা রেহানা পারভীন। তিনি প্রত্যন্ত ইউনিয়নগুলোর সরকার অনুমোদিত সার ডিলারদের গুদাম ঘর ঘুরে দেখেন এবং সরবরাহের হালচাল সম্পর্কে খোঁজ নেন। তার সঙ্গে ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার জনাব উদয় রহমান এবং উপজেলা কৃষি অফিসের আওতাধীন বিভিন্ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ।

পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন কর্মকর্তারা। কৃষকরা যাতে নির্ধারিত মূল্যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে পারেন সে বিষয়ে তারা সরাসরি খোঁজখবর নেন। কোনো কৃষক সার সংকটে রয়েছেন কি না, অথবা কোথাও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসার রেহানা পারভীন জানান, সরকার কৃষকদের উৎপাদন খরচ সহনীয় রাখতে ভর্তুকি মূল্যে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি এবং এমওপি সার সরবরাহ করে আসছে। কিন্তু এই সার যেন কেউ মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে বা নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে বিক্রি করতে না পারে, সেজন্য নিয়মিতভাবে ডিলার মনিটরিং করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কোথাও কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিদর্শনে দেখা যায়, অধিকাংশ ডিলারদের গুদামে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুদ রয়েছে। কৃষকরা জানাচ্ছেন, চলতি মৌসুমে তারা তুলনামূলকভাবে সঠিক সময়ে সার পাচ্ছেন এবং কোনো বাড়তি মূল্য দিতে হচ্ছে না। আলমডাঙ্গার হাপানিয়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “এবার এখনো পর্যন্ত সময়মতো সার পেয়েছি। আগে কখনো কখনো লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ফিরে আসতে হতো। এবার তেমন সমস্যা হয়নি।”

কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার উদয় রহমান জানান, মাঠপর্যায়ে তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। সার বিতরণে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। প্রতিটি ইউনিয়নে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে বাজার ও গুদাম ঘুরে সরবরাহের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন।

জানা গেছে, চলতি খরিপ-২ মৌসুমে আলমডাঙ্গা উপজেলায় ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি এবং এমওপি সারের চাহিদা অনুযায়ী মজুদ রাখা হয়েছে। এই মৌসুমে উপজেলার কৃষকদের জন্য প্রায় ১২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৫০০ মেট্রিক টন ডিএপি, ৪৫০ মেট্রিক টন টিএসপি এবং ৪৩০ মেট্রিক টন এমওপি সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বড় একটি অংশ কৃষকদের মধ্যে বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ইউরিয়া ১৬ টাকা, ডিএপি ১৬ টাকা, টিএসপি ২২ টাকা এবং এমওপি ১৫ টাকা কেজি দরে সরবরাহ করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, সার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উপজেলা পর্যায়ে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি নিয়মিতভাবে সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। কৃষকদের যাতে প্রতারণার শিকার হতে না হয় এবং কোনো অবস্থাতেই যেন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না হয়, সেটিই হচ্ছে প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

কৃষি কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, চলতি মৌসুমে কৃষকরা সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে সার পেয়ে তাদের কৃষি কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে পারবেন। এতে করে এলাকার ধান ও অন্যান্য খরিপ ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মাঠপর্যায়ের এই মনিটরিং ও নজরদারি কার্যক্রম সারা মৌসুমজুড়ে অব্যাহত থাকবে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।




ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষ্যে দামুড়হুদায় বিএনপির প্রস্তুতিসভা ও দোয়া

আগামী ৫ আগষ্ট ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান পালনের প্রস্তুতিসভা ও দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল রহিমের মৃত্যুতে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দামুড়হুদা উপজেলার বিএনপির আয়াজনে গতকাল রবিবার বেলা ৪ টার দিকে দলীয় অস্থায়ী কার্যালয়ে এই প্রস্তুতি সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

দামুড়হুরা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মন্টু মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাশেম।

আরো উপস্থিত ছিলেন, দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম কবির, জুড়ানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস আলী, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, নতিপোতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, নাটুদহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম, সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনি, কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলি ভুট্টু, হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী ছালমা জাহান পারুল, সদস্য সচিব বেবি খাতুন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহাবুবুর রহমান বাচ্চু, সদস্য সচিব মাহফুজুর রহমান মিল্টন, কৃষক দলের যুগ্ন-আহ্বায়ক মতিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইকরামুল হক, সদস্য সচিব জাকির হোসেন, মৎস্যজীবি দলের আহ্বায়ক আব্দুল কাদের, সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম সহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী।




আলমডাঙ্গায় সাবেক ডিএমপি কমিশনারের বাড়িতে চুরি গ্রেফতার-৪ জন

সাবেক ডিএমপি কমিশনার ও তার ভাইয় এনামূল হকের বাড়িতে চুরিতে চারজন গ্রেফতার হলেও উদ্ধার হয়নি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা।

আলমডাঙ্গা উপজেলার নওদা বন্ডবিল গ্রামে সাবেক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলামের ভাইয়ের বাড়িতে চুরির ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এখনও উদ্ধার হয়নি লুট হওয়া ১৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

আলমডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বাবলু খাঁনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গতকাল রবিবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করে।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার গোবিন্দপুর নওদা বন্ডবিল গ্রামের মন্টু আলীর ছেলে মো. সজিব হোসেন ওরফে ফজা (২৬), আহাদ আলীর ছেলে মো. সাজিদুর রহমান (২৪), সোহরাব আলীর ছেলে মো. মোজ্জাম্মেল কাজল (২২) এবং ঝন্টু মিয়ার ছেলে মো. সোহান আলী (২৪)। সোমবার দুপুরে তাদের চুয়াডাঙ্গা আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই রাতে শফিকুল ইসলামের ছোট ভাই ও আলমডাঙ্গা একাডেমি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এনামুল হকের বসতবাড়িতে দুর্বৃত্তরা চেতনানাশক স্প্রে ছড়িয়ে বাড়ির সদস্যদের অচেতন করে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ নিয়ে যায়।

এ ঘটনায়, এনামুল হক বাদী হয়ে ওই দিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে পুলিশ অভিযান চালায়। তবে গ্রেফতারদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া মালামাল এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।




মুজিবনগরে পিএসকেএস এর উদ্যোগে বিনামূল্যে ফলজ বৃক্ষের চারা বিতরণ

মেহেরপুরের মুজিবনগরে পলাশী পাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতর নিজস্ব অর্থায়নে বিনামূল্যে ফলজ গাছের চারা বিতরন করা হয়েছে।

রবিবার বিকেলে মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নে সাধারণ জনগণের মাঝে ২শত ৫০ টি পেয়ারা গাছের চারা এবং ২শত ৫০ টি কাঁঠাল গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও দেশিও ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।

ফলজ বৃক্ষের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির কর্মসংস্থান সৃষ্টি রিজিওনাল ম্যানেজার সেলিম রেজা। এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন প্রবীণ সভাপতি আফজাল হোসেন এবং সহ-সভাপতি গন আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমন্বয়কারী হাসানুজ্জামান , সহকারী উপজেলা কর্মসূচি সমন্বয়কারী রহিম আক্তার এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইয়াস্তুরা সুলতানা।




চুয়াডাঙ্গায় ৬ বিজিবির অভিযানে চোরাচালানপণ্য উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন সীমান্তে ৬ বিজিবি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬ লক্ষ টাকার মাদক ও শাড়ী থ্রী পিচ উদ্ধার করেছে।গত তিনদিনে দর্শনা, বারাদী, ঠাকুরপুর, মুন্সিপুর, হুদাপাড়া এবং আনন্দবাস বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে এ সব চোরাচালানপন্য উদ্ধার করে।

এ অভিযানে ২৫ বোতল ভারতীয় মদ, ৫৬ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল, ৪৩ পিস ভারতীয় শাড়ী, ২৯২ পিস বিভিন্ন প্রকার কসমেটিক্স, ০১টি ভারতীয় আইফোন এবং ৮০ পিস মোবাইল ডিসপ্লে ছাড়াও অন্যান্য চোরাচালানপণ্য আটক করে।

দীর্ঘদিন ধরে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে বিজিবি।




গাংনীতে পিএসকেএস এর উদ্যোগে বিনামূল্যে ফলজ বৃক্ষের চারা বিতরণ

মেহেরপুরের গাংনীতে পলাশী পাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতর নিজস্ব অর্থায়নে বিনামূল্যে ফলজ গাছের চারা বিতরন করা হয়েছে। আজ রবিবার সকালে গাংনী উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নে সাধারণ জনগণের মাঝে ২৫০ টি পেয়ারা গাছের চারা এবং ২৫০ টি কাঁঠাল গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য এমন উদ্যোগ নেয়া হয়।

সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, সবুজ শ্যামল করার জন্য পলাশী পাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতি এই উদ্যোগ গ্ৰহণ করে। এই বৃক্ষ আমাদের অক্সিজেন সরবরাহ করে আমাদের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করবে এবং আমাদের দেশীয় ফলের চাহিদা মেটাবে।

উক্ত বৃক্ষের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাজিপুর ইউনিয়ন প্রবীণ কমিটির সহ সভাপতিসহ সদস্যরা, সাহেব নগর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, পিএসকেএস এর পরিচালক কর্মসূচী মোঃ কামরুল আলম, উপজেলা কর্মসূচী সমন্বয়কারী মোঃ জামিদুল ইসলাম, সহকারী উপজেলা কর্মসূচী সমন্বয়কারী মোঃ রাকিবুল ইসলাম,স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোছাঃ সাবিহা সুলতানা এবং কর্ম সংস্থান সৃষ্টি কর্মসূচির শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ ওমর ফারুক এসময় উপস্থিত ছিলেন।




স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির দাবিতে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়গুলোর স্মারকলিপি প্রদান

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রাথমিকভাবে বাছাইকৃত ১ হাজার ৭৭২টি অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় সমন্বয় পরিষদ, মেহেরপুর জেলা শাখা।

আজ রবিবার সকালে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন, জেলা শাখার ‘সভাপতি ইনামুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক রূপালী খাতুন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত প্রতিবন্ধী বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সমাজের পিছিয়ে পড়া প্রতিবন্ধী শিশুদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসনে এসব বিদ্যালয়ের অবদান অপরিহার্য।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়স গুলোকে সরকারিভাবে স্বীকৃতির আওতায় আনার লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০০৯ ও ২০১৯ সালে বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির জন্য অনলাইন আবেদন আহ্বান করা হয়।

সেই প্রক্রিয়ায় মোট ২ হাজার ৭৪১টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে, যার মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৭৭২টি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্তভাবে গ্রহণ করা হয়।

তবে স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয় যে, ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত এসব বিদ্যালয়ের পরিদর্শন কার্যক্রম অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা স্থগিত রাখা হয়েছে। এর ফলে সারা দেশে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্মারকলিপিতে অবিলম্বে এসব বিদ্যালয়কে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির কার্যকর নির্দেশনা জারি করার জন্য জোর দাবি জানানো হয়। বলা হয়, “রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তি নিশ্চিত হলে শিক্ষকরা না খেয়ে থাকবেন না এবং প্রতিবন্ধী শিশুরাও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে না।”




জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রস্তুতি সভা

আগামী ৫-ই আগষ্ট ” জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ” উৎযাপন উপলক্ষ্যে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীন এর সভাপতিত্বে এ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ” জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ” যথাযথভাবে উৎযাপনের লক্ষ্যে নিম্নলিখিত কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

আগামী ০৫ -ই আগষ্ট সকাল ১০ টা জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও সকাল ১১ টা আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।




কালীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কৃষক দম্পতিকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার শিমলা-রোকনপুর ইউনিয়নের তিল্লা গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এক কৃষক দম্পতিকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে প্রতিপক্ষরা।

বর্তমানে ওই দম্পতি ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। শনিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলো-তিল্লা গ্রামের মৃত ভাটাই মন্ডলের ছেলে জামির আলী (৫০) ও তার স্ত্রী সুখজান বেগম (৪৫)।

আহতের স্বজনরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক সুতে পাওয়া জমি নিয়ে তার ভাই আমিরের সাথে তার বিরোধ চলে আসছিলো। এরই জের ধরে শনিবার বিকেলে আমির হোসেন, তারস্ত্রীসহ লোকজন জামিরের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীর জামির ও সুখজান বেধড়ক মারপিট করে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কালীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, মারপিটের ঘটনায় এখনও থানায় অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




ঝিনাইদহে টানা বৃষ্টিতে হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি পানির নিচে

ঝিনাইদহে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে জেলার ছয়টি উপজেলার হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সদর, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর, কালীগঞ্জ, হরিণাকুন্ডু ও শৈলকূপা উপজেলায় সবজি ক্ষেত, ধানের বীজতলা ও সদ্য রোপণ করা আমন ধান ডুবে গেছে।

বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে ফসল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক কৃষক এখনও জমিতে নতুন করে ধান রোপণ করতে পারছেন না।

সদর উপজেলার লাউদিয়া গ্রামের কৃষক মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমার দুই বিঘা জমির ধান তলিয়ে গেছে। পানি কবে নামবে জানি না। পানি নেমে গেলে আবারও ধানের চারা রোপণ করতে হবে। কিন্তু এখন চারা পাব কোথায়?”

কোটচাঁদপুরের কৃষক আশাদুল ইসলাম বলেন, “টানা বৃষ্টিতে আমার এক বিঘা জমির ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে রোপণ করলেও ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সময় লাগবে।”

মহেশপুরের রমজান আলী বলেন, “আমারসহ অনেক কৃষকের জমি ডুবে আছে। চিন্তার ভাজ কপালেÑএই বছর আমন ধান আদৌ ঘরে তুলতে পারব কিনা জানি না।”

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ষষ্ঠি চন্দ্র রায় বলেন, “কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের সহায়তায় বাঁধ অপসারণের কাজ চলছে। বেশ কিছু জায়গায় সমস্যা সমাধান করা হয়েছে, বাকি অংশেও কাজ চলছে।”

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঝিনাইদহ জেলার ছয়টি উপজেলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ৫০০ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।