মেহেরপুরে জেলা বিএনপির দুই পক্ষের বিজয় মিছিলে উত্তেজনা

মেহেরপুরে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জেলা বিএনপির দুটি পৃথক গ্রুপের উদ্যোগে বিজয় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৬ আগস্ট) বিকালে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাভেদ মাসুদ মিল্টনের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি শহরের কলেজ মোড় থেকে বের হয়। অন্যদিকে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুনের নেতৃত্বে আরেকটি মিছিল পন্টের ঘাট থেকে শুরু হয়ে শেষ হয় কাথুলি বাসস্ট্যান্ডে।

দুটি মিছিল একযোগে শহরের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে এক পর্যায়ে তারা মহিলা কলেজ রোড এলাকায় এসে পরস্পরের মুখোমুখি পড়ে যায়। এতে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বড় কোনো সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়।




কোটচাঁদপুরে সাপের কামড়ে ১ সপ্তাহে ৩ জনের মৃত্যু

অতি বর্ষণে চারিদিকে থই থই পানি, ভরে গেছে গেড়ে গর্ত, মাটির নিচের সাপ আশ্রয়ের খোঁজে চলে আসছে মানুষের বসত ঘরে। বাড়ছে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা। অসচেতনতা আর অবহেলায় হচ্ছে মৃত্যু।

গত ১ সপ্তাহে সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা তিনজন রোগীকেই এন্টিভেনম না দিয়ে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে রেফার্ড করা হয় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে। রেফার্ডকৃত তিনজনেরই মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে দুইজনই শিশু। ফলে এলাকায় দেখা দিয়েছে চরম সাপ আতঙ্ক। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোটচাঁদপুর বলুহর মাঠপাড়ার মাহতাব উদ্দিনের স্ত্রী নাছিমা বেগম (৪৫) গত মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) রাতে সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন। পরিবারের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

একই রাত্রে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার পাকা গ্রামের আসিবুল হকের মেয়ে শিশু রশ্মি খাতুন (৫) কে সাপে কামড়ে দেয়। তাঁকেও কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে দ্রুত ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠান। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর পরপরই তার মৃত্যু হয়।

গত সোমবার রাতে সুতি দুর্গাপুর গ্রামের নুরুজ্জামানের দুই বছর বয়সী মেয়ে শিশু সাদিয়া খাতুন রাতের খাবার শেষে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘুমিয়ে থাকার সময় তাকে সাপে কামড় দেয়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই তিনটি মৃত্যুই ঘটেছে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসার পর রেফার্ড বা চিকিৎসার অভাবে। অথচ এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এন্টিভেনাম মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ আশরাফুল ইসলাম। এ বিষয়ে চিকিৎসক ডা. আশরাফুল ইসলাম বলেন, এন্টিভেনাম দেওয়ার পর শতকরা দশ থেকে পনেরো ভাগ রোগীর শরীরে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
তখন প্রয়োজন হয় আইসিইউ বা নিবিড় পর্যবেক্ষণের। কিন্তু আমাদের এখানে সে সুবিধা না থাকায় জটিলতা এড়াতে রোগী রেফার্ড করে দিতে হয়।

এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, হাসপাতালে এন্টিভেনম আছে। তাহলে ১ সপ্তাহে ৩ জন মারা গেলো তাদের এন্টিভেনম দেয়া হয়েছিলো কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ফোনে কিছু বলা যাবে না। হাসপাতালে এসে তথ্য নিতে হবে বলেই ফোন কেটে দেন।




গাংনীতে গণছিনতাই ও পৃথক মামলায় গ্রেফতার-৮

মেহেরপুরের গাংনী-ধানখোলা সড়কে গণছিনতাইয়ের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সন্দেহভাজন ৫ জন এবং অপর একটি ছিনতাই মামলায় যৌথবাহিনীর অভিযানে আরও ৩ জনসহ মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গাংনী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে এবং গাংনী থানা পুলিশের একাধিক টিম পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে এই আটজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—গাংনী উপজেলার মাঠপাড়া এলাকার কামরুজ্জামান শিহাব, সাকিব হোসেন, মুরছালিন, সদর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের মিকাইল হোসেন এবং জাহিদ হোসেন। অপরদিকে গাংনীর তেরাইল গ্রাম থেকে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন যৌথবাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার হন রুবেল হোসেন, ফিরোজ হোসেন এবং সোহাগ হোসেন।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, গ্রেফতারকৃতরা সকলেই গাংনী-ধানখোলা সড়কের গণছিনতাই এবং পৃথক আরেকটি ছিনতাই মামলার সন্দেহভাজন আসামি। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৯ টার সময় গাংনী-ধানখোলা রাস্তায় গণছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।




জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ঝিনাইদহে বিএনপি’র বিজয় র‌্যালি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিজয় র‌্যালি করেছে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি। কেন্দ্রীয় কর্মসুচির অংশ হিসেবে আজ বুধবার দুপুরে শহরের উজির আলী হাই স্কুল মাঠ থেকে বিজয় র‌্যালি শুরু হয়।

র‌্যালিটি শহরের গুরুত্বপুর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে চুয়াডাঙ্গা বাসষ্ট্যান্ড এলাকার স্বাধীন চত্বরে এসে শেষ হয়। র‌্যালির নেতৃত্ব দেন ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি’র সভাপতি এ্যাড. এম এ মজিদ। বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতা-কর্মীরা বিজয় র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীরা উজির আলী হাইস্কুল মাঠে জড়ো হতে থাকে। দুপুর নাগাদ মাঠটি লোকে লোকরণ্য হয়ে ওঠে। র‌্যালিতে নেতাকর্মীরা বাদ্যযন্ত্র, রং বেরঙ্গের প্লাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। তবে র‌্যালিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

র‌্যালি শেষে স্বাধীন চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতা আমিরুজ্জামান খান শিমুল, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি’র সভাপতি এ্যাড. এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, জেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক এ্যাড. এস এম মশিয়ূর রহমান, মুন্সি কামাল আজাদ পাননু, আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, আলমগীর হোসেন আলম, আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা, কৃষকদল নেতা মীর ফজলে ইলাহী শিমুল, যুবদল নেতা আহসান হাবিব রণক, আশরাফুল ইসলাম পিন্টু, ছাত্রদল নেতা সোমেনুজ্জামান সোমেন ও মুশফিকুর রহমান মানিক বক্তব্য রাখেন।

ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি’র সভাপতি এ্যাড. এম এ মজিদ তার সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে পৃথিবীর অন্যতম স্বৈরশাসক হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের আকাশে উদিত হয় নতুন সুর্য্য। দুই হাজার মানুষের আত্মদানে রচিত হয় ইতিহাসের মহাসোপান।

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্টেক হোল্ডারদের মধ্যে নানা মত ও পথ থাকবে। কিন্তু ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ের ক্ষেত্রে আমরা সবাই এক।




মুজিবনগরে পুলিশের অভিযানে গাঁজার গাছসহ আটক ১

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় গাঁজার গাছসহ বুলবুল আহমেদ (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে মুজিবনগর থানা পুলিশ। তিনি মৃত মোনাজাত আলীর ছেলে।

বুধবার ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে থানার তদন্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন, এসআই মেজবাউল হকসহ সঙ্গীয় ফোর্স বুলবুলের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে বাড়ির পেছনে টয়লেটের পাশ থেকে ৩টি গাঁজার গাছ উদ্ধার করা হয়।

প্রতিটি গাঁজার গাছের উচ্চতা ছিল প্রায় ১১ ফুট এবং মোট ওজন (কাঁচা) প্রায় ১৮ কেজি। উদ্ধারকৃত গাঁজার বাজারমূল্য আনুমানিক ১ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা অভিযান পরিচালনা করি এবং বুলবুলকে আটক করি। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গাঁজার গাছগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




গাংনী-ধানখোলা সড়কে ককটেল ফাটিয়ে আবারও গণডাকাতি

এক মাসের ব্যবধানে গাংনী থানা থেকে মাত্র তিনশ গজ দূরে তিনটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আবারও গণডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন পথচারীর কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য মালামাল লুট করেছে ডাকাতদল।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে নয়টার দিকে গাংনী-ধানখোলা সড়কের বিল্লাল নার্সারির কাছে হারেজ মোড়ে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতদের কাছে হাতবোমা ও দেশীয় তৈরি ধারালো অস্ত্র ছিল বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

প্রায় ২০ জন পথচারীর কাছ থেকে আনুমানিক ৮০ হাজার টাকা লুট করেছে ডাকাতদল।

ভুক্তভোগী ইয়াসির আরাফাত আলীর কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা, আব্দুল হালিমের কাছ থেকে ৬০০ টাকা, শাহজামাল আলীর কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা, রেজিয়া খাতুনের কাছ থেকে ৭০০ টাকা, মিন্টু হোসেনের কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা, মহব্বত আলীর কাছ থেকে ২২শ টাকা, মিন্টু আলীর কাছ থেকে পৌনে ১০ হাজার টাকা, কুরসিয়া খাতুনের কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়াও অন্যান্যদের কাছ থেকেও অর্থ ও সামগ্রী লুট করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের বাড়ি গাংনী উপজেলার ধানখোলা, মহিষাখোলা ও আড়পাড়া এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা জানান, ৭-৮ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হঠাৎ রাস্তা অবরোধ করে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তারা পথচলতি অন্তত ২০-২৫ জনের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়। ডাকাতরা প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে পুরো ঘটনা ঘটিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে।

ঘটনার খবর পেয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, “এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত ডাকাতি। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।”

এদিকে, এমন ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাতের বেলা চলাচলকারী সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দ্রুত পুলিশি টহল জোরদার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, কয়েক মাস পূর্বেও একই স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এরপর পুড়াপাড়া-জুগিন্দা রাস্তাতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে।

এভাবে একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় জনমনে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গাংনী থানা পুলিশের ডিএসবি (বিশেষ শাখা) শাখার অধিকাংশ সহকারী উপপরিদর্শক ও কনস্টেবলরা তাদের মূল দায়িত্ব ফেলে পলাতক আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে দেন-দরবার ও আওয়ামী লীগের দোসরদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা করে সময় কাটান। দীর্ঘদিন ধরে একই স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন ডিএসবি শাখায় কর্মরত এই কর্মকর্তা ও কনস্টেবলরা।

বিষয়টি মেহেরপুরের পুলিশ সুপার ও জেলা বিশেষ শাখায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।




গাংনীতে মিষ্টির দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ

গাংনী উপজেলার কাজীপুর গ্রামে একটি মিষ্টির দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে নগদ টাকা ও বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী পুড়ে ভস্মিভূত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কাজীপুর গোলাম বাজারের সোহেল রানার মিষ্টির দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটে।

সোহেল রানা জানান, মিষ্টির দোকানে একটি গ্যাস সিলিন্ডার ছিলো। ধারণা করা হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডারটি পুরানো হয়ে যাওয়ায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের পর আগুনের লেলিহান শিখায় পুরো দোকানটি পুড়ে গেছে। দোকানে থাকা নগদ টাকা ও খাদ্যসামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

এদিকে টাকা পয়সাসহ দোকানের অন্যান্য মালামাল পুড়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে দোকান মালিক সোহেল রানাা।




জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মেহেরপুরে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে মেহেরপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় মেহেরপুর জেলা স্টেডিয়াম মাঠে সামাজিক সংগঠন সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্ক (এসডিডব্লিউ)-এর আয়োজনে এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাসুদ অরুণ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মেহেরপুর জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর বিশ্বাস।

সংগঠনের সভাপতি এম এ বারী ফারুকের সভাপতিত্বে এবং আব্দুস সাত্তার মুক্তার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, এসডিডব্লিউ-এর সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, সদস্য তুহিন, মীর আব্দুল আলিম বকুলসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। শিশুদের জন্য ৫০ মিটার দৌড়, মোরগ লড়াই, বিস্কুট দৌড়ের মতো প্রতিযোগিতার পাশাপাশি রিকশা-ভ্যানচালক ও শ্রমিকদের ১০০ মিটার দৌড়, বয়স্কদের হাড়িভাঙ্গা খেলা, সবার জন্য উন্মুক্ত কলা গাছে ওঠা, যেমন খুশি তেমন সাজো এবং প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন ছিল।




দর্শনায় বিএনপি’র ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে বিজয় মিছিল

সারা দেশের ন্যায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে সারাদেশে বিজয় র‌্যালীর আয়োজন করেছে বিএনপি। ছাত্র জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে। এই ঐতিহাসিক ঘটনার এক বছর পূর্তিতে দর্শনা থানা ও পৌর বিএনপি’র উদ্যোগে পৃথক পৃথক ভাবে ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে বিজয় মিছিল ও গণ-জমায়েত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে দর্শনা ডাকবাংলা চত্বর থেকে দর্শনা পৌর বিএনপি’র অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে ২০২৪ -এর ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে গণ-জমায়েত ও বিজয় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ মিছিলটি দর্শনা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দর্শনা বাসস্ট্যান্ড চৌরাস্তার মোড়ে গণ-জামায়েত অনুষ্ঠিত হয়।

এ গণ-জমায়েতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, দর্শনা পৌর বিএনপি’র প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট। এ সময় তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় ৫ই আগষ্ট আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে। এই ঐতিহাসিক ঘটনার ১ বছর পূর্তিতে দলটি এ দিবসটিকে বিজয়ের প্রতিক হিসেবে দেখছে। এ সময় আরও দর্শনা পৌর বিএনপি’র সমন্বয়ক শরিফ উদ্দীন, মমিনুল ইসলাম, শফিউল আজম তোতা, লুৎফর, আজিজুল হক, হারিজ উদ্দীন লাভলু, নাজিম আহমেদ, মোঃ ফেরদৌস আলম মন্টু, দর্শনা পৌর যুব দলের আহ্বায়ক মোঃ ফারুক হোসেন, দর্শনা থানা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক, মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন (রিংকু), মিতুল, সুলতান, দর্শনা পৌর কৃষকদলের হাতেম আলী, রমিজ শাহরুল চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক, আলতাফ হোসেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি, জাকির হোসেন সামাউল, সোহেব আক্তার শাফায়েত জামান পাপ্পু, আসিফ হাসান।

অপর দিকে দর্শনা থানা বিএনপি’র উদ্যোগে ছাত্র জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে বিজয় র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বিজয় র‌্যালীটি দর্শনা বাস স্ট্যান্ড চৌরাস্তার মোড় থেকে দর্শনা রেল বাজার মুক্ত মঞ্চে এসে শেষ হয়। পরে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন দর্শনা থানা বিএনপি’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খাজা আবুল হাসনাত। এ সময় বক্তব্য রাখেন, দর্শনা থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাবেক চেয়ারম্যান আহম্মেদ আলী, বেগমপুর ইউনিয়ন এর সাবেক সভাপতি শেখ আসলাম আলী, মদনা ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আজিজুল হক, সাধারণ সম্পাদক শফিউল্লাহ শফি আরও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অপর দিকে বিকেল সাড়ে ৫ টায় দর্শনা পৌর বিএনপি’র সমন্বয়ক আলহাজ্ব মশিউর রহমান এর নেতৃত্বে ছাত্র জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে গণ-জমায়েত ও বিজয় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।




ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে মেহেরপুরে বিএনপি’র বিজয় র‌্যালি

ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মেহেরপুরে জেলা বিএনপি’র বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে মেহেরপুর কলেজ মোড় থেকে র‌্যালিটি শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কাথুলী মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালির নেতৃত্ব দেন জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান।

এ সময় তিনি বলেন, আপনারা সবাই বিশ্বাস করেন, এই দেশের ১৮ কোটি মানুষ বিশ্বাস করে আমাদের প্রিয় নেতা, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন, সেই প্রতীক্ষায় সারা বাংলাদেশ অপেক্ষা করছে। আমরা আজকের এই ঐতিহাসিক দিনকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ দিবস বলি। সেই কারণেই আজকের এই বিজয়ের উচ্ছ্বাস, এই আনন্দ। এই আনন্দে যাঁরা অংশগ্রহণ করেছেন, তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, আগামী দিনে আরও দ্বিগুণ সংখ্যক মানুষ নিয়ে আপনারা উপস্থিত হবেন ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরো বলেন, যারা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে ছিলেন, তাঁরাও যেন আগামীতে আরও উৎসাহ নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। যেভাবে, যতটা সম্ভব, সকলে অংশ নেবেন এই প্রত্যাশায় আজকের এই পথসভা ও বিজয় র‌্যালির সমাপ্তি ঘোষণা করছি।

র‌্যালিতে অংশ নেন জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়েজ মোহাম্মদ, সদস্য আলমগীর খান ছাতু, হাফিজুর রহমান হ্যাপি, ইলিয়াস হোসেন, আনছারুল হক, ওমর ফারুক লিটন, আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিম, মীর ফারুক হোসেনসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত বিএনপি’র নেতাকর্মীদের উপস্থিতি র‌্যালিকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

বিজয় র‌্যালিকে ঘিরে পুরো শহরে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয় চারপাশ। নেতাকর্মীদের হাতে ছিল ব্যানার-ফেস্টুন, আর ঢাক-ঢোলের তালে তালে এগিয়ে যায় বিজয়ের মিছিল।