দামুড়হুদার ডুগডুগি গ্রামে বিষধর সাপ নিয়ে ঐতিহ্যবাহী ঝাপান খেলা

বিষধর সাপ দেখে মানুষ ভয় পায়, অথচ সেই সাপ নিয়েই আবার খেলা দেখিয়ে মানুষকে আনন্দ দিতে পারেন কেউ কেউ। এরকমই একটি খেলা হচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঝাপান খেলা। দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের ডুগডুগি গ্রামে হয়ে গেল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বিষধর সাপ নিয়ে ঝাপান খেলা।

বৃহস্পতিবার ডুগডুগি গ্রামের মৃত আজির মণ্ডলের স্ত্রী রোকেয়া বেগমের আয়োজনে সকাল ৯টা থেকে দিনভর উপজেলার তারিনীপুর গ্রামের নজু সাপুড়ের দল এবং মেহেরপুর থেকে আগত এক সাপুড়িয়ার দল খেলা দেখায়। এই দুই সাপুড়ে দলের অর্ধশতাধিক সাপের মধ্যে নিজেদের সেরা প্রমাণ করতে প্রতিটি সাপ প্রদর্শন করে আকর্ষণীয় কলাকৌশলে। আর এ দুর্লভ দৃশ্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। মানুষকে আনন্দ দেওয়াটাই যেন সাপুড়েদের মূল উদ্দেশ্য।

দুপুরের পর থেকেই ঝাপান খেলা দেখতে দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের ডুগডুগি গ্রামে ভিড় জমায় শত শত মানুষ। বাদ্যের তালে তালে সাপুড়ে নিজে নাচেন, আর সঙ্গে ফণা তুলে সাপও বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে। সাপুড়ের ইশারায় সাপের এই অঙ্গভঙ্গি মানুষকে দেয় অনাবিল আনন্দ। তাই এই দুর্লভ দৃশ্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা।

হাউলী থেকে আসা শাপলা খাতুন নামের এক গৃহবধূ বলেন, আমি জীবনের প্রথম ঝাপান খেলা এখানে এসে দেখছি। আমার খুব ভালো লেগেছে। আমি চাই এ ধরনের আয়োজন যেন প্রতি বছর করা হয়। সালেহা বেগম নামের অপর এক গৃহবধূ বলেন, আমি শহরে থাকি। ঝাপান খেলার কথা শুনে আমার বাচ্চাদের নিয়ে এসেছি। আমিও দেখছি, আমার বাচ্চারাও দারুণ উপভোগ করছে। সাপ সম্পর্কে ওদের ধারণা হচ্ছে।

হাউলী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন, গ্রামবাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখতে পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী দর্শকরা তা উপভোগ করেছে নীরবতায়। ঝাপান খেলা বা সাপ খেলা একটি গ্রামীণ ঐতিহ্যের অংশ, যা একসময় গ্রামবাংলায় বিভিন্ন দিবস বা ঘরোয়া আয়োজনে দেখানো হতো। কিন্তু প্রযুক্তি আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় দিন দিন এসব খেলা হারিয়ে যাচ্ছে। তাই এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন এমন আয়োজন।

দামুড়হুদার হাউলী ইউনিয়নের তারিনীপুর গ্রাম থেকে আসা নজরুল ইসলাম ওরফে নজু সাপুড়ে বলেন, মূলত আমাদের পেশা এটা নয়। আমরা মানুষকে আনন্দ দিই, আর খেলা করে নিজেরাও আনন্দ পাই। এ জন্যই দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ঝাপান খেলা করি।

জয়রামপুর গ্রামের নুর নবী বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে বয়োবৃদ্ধ, নারী-পুরুষ, শিশুরা উপস্থিত থেকে নিবিড় দৃষ্টিতে সাপের খেলা উপভোগ করেন। এই খেলাকে ঘিরে এখানে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য যে এত মনোমুগ্ধকর, ঝাপান খেলা না দেখলে বোঝা যাবে না।

আয়োজকের ছেলে হামিদুল ইসলাম বলেন, চিরায়ত বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই খেলা দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে। হারিয়ে যাওয়া এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং এলাকার মানুষকে আনন্দ দিতেই এ আয়োজন।

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বিষধর সাপ নিয়ে ঝাপান খেলাটির আয়োজন করেন হাউলী ইউনিয়নের ডুগডুগি গ্রামের মৃত আজির মণ্ডলের স্ত্রী রোকেয়া বেগম।




পৃথিবীর পাশ দিয়ে আজ ছুটে যাবে বিশাল গ্রহাণু

গতিশীল মহাবিশ্বে হাজার হাজার মাইলের গতিতে ছুটে চলা গ্রহাণুর মধ্যে মাঝে মাঝে আমাদের পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করে কিছু গ্রহাণু। আজ বৃহস্পতিবার ‘২০২৫ এফএ২২’ নামের একটি গ্রহাণু পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে ছুটে যাবে।

নাসা ও ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি জানিয়েছে, গ্রহাণুটি পৃথিবীর থেকে ৪৬ লাখ মাইল দূরে নিরাপদভাবে অতিক্রম করবে।

নাসা ও ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির তথ্যমতে, ৪৯২ ফুটেরও বড় বিশাল এই গ্রহাণু ঘণ্টায় ২৪ হাজার মাইলের বেশি বেগে পৃথিবীর পাশ দিয়ে ছুটে যাবে। প্রাথমিকভাবে আকারের কারণে গ্রহাণুটি সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে দূরত্বের কারণে পরে তা ঝুঁকির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

গ্রহাণুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪২৭ থেকে ৯৫১ ফুট। গত মার্চে হাওয়াইয়ের একটি বিশেষ টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এটি শনাক্ত করা হয়। গ্রহাণুর গতিপথ চাঁদের কক্ষপথের অনেক বাইরে এবং এটি খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গ্রহাণুর আকার ও গতির ওপরই তার বিপজ্জনক হওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করে। ছোট গ্রহাণু বায়ুমণ্ডলে পুড়ে ছাই হয়ে যায়, কিছু উল্কাপাত সৃষ্টি করে। বড় গ্রহাণু কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ৪৬০ ফুটের বেশি আকারের গ্রহাণু যদি পৃথিবীর ৭৪ লাখ কিলোমিটারের মধ্যে আসে, সেগুলোকে বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এ গ্রহাণু পরবর্তী ২০৮৯ ও ২১৭৩ সালে আবার পৃথিবীর কাছাকাছি আসবে।

সূত্র: ইত্তেফাক




২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরো ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৬৪৭

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরো ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে এ সময়ে ৬৪৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন নারী ও একজন পুরুষ।

গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৪১ জন। এছাড়া বরিশাল বিভাগে ১০৮ জন, ঢাকা বিভাগে ১০২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩৮ জন, খুলনা বিভাগে ৩৭ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ২৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৮৬ জন পুরুষ ও ৮১ জন নারী। এর আগে, গতকাল বুধবার ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট মারা গেছে ৫৭৫ জন।

সূত্র: কালের কন্ঠ




লি‌বিয়া থেকে দেশে ফিরছেন আরও ১৭৬ বাংলাদে‌শি

অবৈধভাবে লিবিয়া গিয়ে আটক, নির্যাতন ও অপহরণের শিকার ১৭৬ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ দূতাবাস, ত্রিপলী, লিবিয়া, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় দেশে ফিরছেন এসব বাংলাদেশি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ১৭৬ জনের মধ্যে ১৭২ জন ত্রিপোলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন। চারজন আইওএম’র আশ্রয় কেন্দ্রে ছিলেন।

প্রত্যবসিত বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ গমনের উদ্দেশে মানবপাচারকারীদের প্ররোচণা ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেন বলে জানা গেছে। তাদের অধিকাংশই লিবিয়ায় বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

দেশে ফেরত আসার পর এই ভয়ংকর পথ পাড়ি দিয়ে আর যেন কেউ লিবিয়ায় না যায় এ বিষয়ে তাদেরকে সচেতন হওয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সবাইকে আহ্বান জানান।

আইওএম’র পক্ষ থেকে লিবিয়া থেকে প্রত্যাবাসনকৃত প্রত্যেককে ছয় হাজার টাকা, কিছু খাদ্য সামগ্রী, মেডিক্যাল চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ত্রিপোলীর বাংলা‌দেশ দূতাবাস জা‌নিয়েছে, লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আইওএম-এর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সূত্র: যুগান্তর




মেহেরপুর বুড়িপোতা ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ

২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিপি ও ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের অর্থায়নে মেহেরপুরের বুড়িপোতা ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে ফুটবল, ক্রিকেট সেট, স্যানিটারি ন্যাপকিন, প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে স্প্রে মেশিন, প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার এবং দুঃস্থ মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।

এই উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার সময় বুড়িপোতা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ খায়রুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, বুড়িপোতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন, বুড়িপোতা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সানোয়ার হোসেন সানুসহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সুবিধাভোগী  ও শিক্ষার্থীরা।

বক্তব্যকালে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম বলেন, আজকের যুব সমাজকে খেলাধুলার মাধ্যমে সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করতে পারলেই আমরা মাদকমুক্ত প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারবো। শুধু উন্নয়ন কাজ করলেই হবে না, আমাদের মানবিক উন্নয়নেও মনোযোগ দিতে হবে। খেলা শুধু বিনোদন নয়, এটি আত্মনিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্ব তৈরির অন্যতম উপায়।

তিনি আরও বলেন, প্রান্তিক কৃষকদের আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে সহযোগিতা করা এবং নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন প্রদান সরকারের জনবান্ধব উন্নয়ননীতিরই অংশ। আমরা চাই সবাই উন্নয়নের সুফল ভোগ করুক।




মেহেরপুরের নতুন দরবেশপুর স্কুল মাঠে পানি জমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

মেহেরপুর সদর উপজেলার বারাদী ইউনিয়নের নতুন দরবেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বৃষ্টির পানি জমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

এলাকাবাসীর একমাত্র খেলার মাঠটি এই বিদ্যালয়ের মাঠ হওয়ায় স্কুল শেষে গ্রামের শিশুরা এখানেই খেলাধুলা করে থাকে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সঠিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে যায়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, প্রতিদিন সকালে বাচ্চাদের ক্লাসে নেওয়া ও ছুটির সময় বের হওয়া দুটোই এখন কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাঠজুড়ে পানি জমে থাকায় পায়ে কাদা লেগে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করছে। এতে পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং রোগজীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ছে।

এলাকার অভিভাবক ও স্থানীয়রা জানান, নতুন দরবেশপুরে খেলার জন্য এ মাঠটি ছাড়া আর কোনো উন্মুক্ত স্থান নেই। বাচ্চারা খেলতে না পারায় তারা হতাশ হয়ে পড়ছে।

স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী খন্দকার ওভি (১০) বলেন, সকালে আমরা স্কুলে আসি আর বিকেল ৪টায় ছুটি হয়। এর মাঝে টিফিন থাকে। খেলার মাঠ ভালো থাকলে তোমরা খেলা করতে পারতাম, কিন্তু এখন আর পারছি না। যাতায়াতের সময়ও পানির ভেতর দিয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। এর ফলে আমার অনেক সহপাঠী অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তারা ক্লাসে উপস্থিত হতে পারছে না। আমাদের এই সমস্যার দ্রুত সমাধান চাই।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা: খাইরুন নেছা বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে নতুন দরবেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত আছি। প্রতি বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের মাঠ ও প্রাঙ্গণে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে যায়। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাই চরম ভোগান্তিতে পড়ে।

আমরা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সমস্যার সমাধানে যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করে আসছি। উপরমহল থেকেও আমাদের জানানো হয়েছে যে খুব শীঘ্রই এ সমস্যার সমাধান হবে। তবুও আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি জোর অনুরোধ জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দ্রুত মাঠের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও মেরামত করা জরুরি। সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া না হলে মাঠটি সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে মাঠের পানি নিষ্কাশন ও সংস্কারকাজ দ্রুত শুরু করলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকার শিশু-কিশোরদের বড় একটি সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে।




চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শুরুর আগেই ধাক্কা খেল বার্সেলোনা

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসেলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। তবে মাঠে নামার আগেই দুঃসংবাদ পেল কাতালানরা। ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় তরুণ স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামালকে পাচ্ছে না তারা।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টায় সেন্ট জেমস পার্কে নিউক্যাসেলের বিপক্ষে মাঠে নামবে বার্সেলোনা। ঘোষিত ২২ সদস্যের দলে নেই ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার ইয়ামাল। তার খেলা নিয়ে আগে থেকেই শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেটিই সত্য হলো।

চলতি মাসের শুরুতে স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচ খেলতে গিয়ে হালকা চোট পান ইয়ামাল। ব্যথানাশক নিয়ে মাঠে নামায় চোট আরও জটিল হয়ে ওঠে। ক্যাম্প শেষে বার্সায় ফেরার পর তার কুঁচকিতে ইনজুরি ধরা পড়ে। এই পরিস্থিতিতে তরুণ ফরোয়ার্ডকে অতিরিক্ত ব্যবহারের জন্য জাতীয় দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বার্সা কোচ হ্যান্সি ফ্লিক। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষেও তাকে মাঠে নামানো হয়নি।

নিউক্যাসেলের বিপক্ষে ইয়ামালের পাশাপাশি আরও দুই তারকাকে পাচ্ছে না বার্সেলোনা। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে ভুগছেন ডিফেন্ডার আলেহান্দ্রো বালদে, আর হাঁটুর চোটের কারণে বাইরে আছেন মিডফিল্ডার গাভি। তবে স্বস্তির খবর হচ্ছে, ডাচ মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং ফিরছেন দলে।

গত মৌসুমে সেমিফাইনালে ইন্টার মিলানের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছিল বার্সেলোনা। নতুন মৌসুমে গ্রুপ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ নিউক্যাসল (আওয়ে), পিএসজি (হোম), চেলসি (অ্যাওয়ে), আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট (হোম), ক্লাব ব্রুজ (আওয়ে), অলিম্পিয়াকোস (হোম), স্লাভিয়া প্রাহা (আওয়ে) ও কোপেনহেগেন (হোম)।




পানি নিষ্কাশনের অভাবে কয়েক হাজার বিঘা জমির ফসল পানির নিচে

মেহেরপুরের গাংনীতে সরকারি খাল অবৈধভাবে দখল করে পুকুর খনন ও ভরাট করার খেসারত দিচ্ছেন এলাকার কয়েক হাজার কৃষক।সামান্য বৃষ্টি বা প্লাবনেই তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। বিস্তির্ণ মাঠে মাসের পর মাস জলাবদ্ধতার কারণে ৩ থেকে ৪ হাজার বিঘা জমি এখন অনাবাদি হয়ে পড়েছে। পানি নিষ্কাশন ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের দাবী জানিয়ে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্বারকলিপি দিয়েছেন কয়েক শত কৃষক। তবুও মিলছেনা সুরাহা। দ্রুত সময়ে পানি নিষ্কাশন না হলে, উঠতি ফসলও ঘরে তুলতে পারবেন না চাষিরা। তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস উপজেলা প্রশাসনের।

স্থানীয়রা জানান, তৎকালিন সময়ে সাবেক প্রেসিডেন্টে জিয়াউর রহমান তেরাইল ও ষোলটাকা মৌজার মধ্যদিয়ে ভেদড়ী খাল খনন করেছিলেন। যে খাল দিয়ে গাংনী উপজেলার তেরাইল, মহব্বতপুর, বাদিয়াপাড়া, কামারখালি, ষোলটাকা ও সহড়াবাড়িয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠের বৃষ্টির পানি নিস্কাশন হয়ে একটি খালে প্রবাহিত হতো। বিগত ১০/১৫ বছর যাবৎ এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল সেই খালটি অবৈধ দখল করে অপরিকল্পিত পুকুর খনন করেছে। ফলে ওই মাঠের কয়েক হাজার বিঘা জমির পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিস্তির্ণ ওই মাঠটিতে জমে আছে কোথাও হাটু আবার কোথাও গলা পানি। দিনের পর দিন জমে থাকা পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলের ক্ষেত। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ৬/৭ গ্রামের ওই মাঠের ধান, পাট, শাকসবজি থেকে শুরু করে নানা ফসল নষ্ট হচ্ছে বারবার। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এলাকার শত শত কৃষক। কৃষকরা বলছেন, লোকসানের বোঝা বইতে গিয়ে ঋণের ফাঁদে পড়ছেন তারা। “সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। “এ সমস্যা সমাধানে গত রবিবার দুপুরে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন কৃষকরা। তারা দ্রুত মাঠের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, খালটি দখলমুক্ত করে খনন এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।

কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, ৫ বিঘা জমি বর্গা নিয়েছি। ৩ বিঘা লাগানোর পর সেটা ডুবে গেছে, বাকী দুই বিঘা আর লাগাইনি। কৃষক জয়নাল আবেদীন বলেন, পানিতে সব ফসল ডুবে গেছে। এখন অনুপায় হয়ে ভাবছি এখন পরিবারের লোকজন কি খাবে ?”

এলাকাবাসি জানান, “১০/১৫ বছর আগে এ্খানে খাল ছিল, সেই খাল দিয়ে পানি বের হতো। প্রভাবশালীরা দখল করে পুকুর কাটায় কৃষকদের জন্য এটি ক্ষতির কারণ হয়েছে।” খয়বার আলী বলেন, “ঋণ করে বর্গা চাষ করি, সেই ফসল ঘরে তুলতে পারিনি। ১০ বছর কোনো ফসল ঘরে তুলতে পারিনি। বৃষ্টি হলেই জমি ডুবে যায়।“

স্থানীয়রা বলেন, ভেদড়ীর বিলের মুখটা মেরে দেওয়ায় পানির গতিপথ বন্ধ হয়ে এই মাঠ জলাবদ্ধতা তৈরী হয়েছে। এখনই যদি খাল খনন আর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করা হয়, তবে আগামী মৌসুমে কৃষকেরা ভয়াবহ সংকটে পড়বেন।”

গাংনী উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলে যাওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি ওই মাঠে গিয়ে কৃষকদের সমস্যার কথা শুনেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি নিষ্কাশন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।




আলমডাঙ্গায় অবৈধ খুচরা সার ব্যাবসায়ীকে জরিমানা

আলমডাঙ্গা উপজেলায় চুরি করে নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে উচ্চ মূল্যে সার বিক্রির অভিযোগে খুচরা সার ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল বুধবার বিকাল ৫ টার দিকে এ অভিযান চালানো হয়। এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশীষ কুমার বসু।

জানা গেছে, উপজেলার গাংনী ইউনিয়নের বড় গাংনী বাজারে রোমান স্টোরের স্বত্বাধিকারী এস আর রহমান খুচরা সার ও সিমেন্ট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তিনি দীর্ঘদিন স্থানীয় কৃষকের মাঝে সরকারি সার ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতেন। কিন্তু তিনি ওই ইউনিয়নে সার বিক্রি না করে পার্শ্ববর্তী একই ইউনিয়নের নান্দবার গ্রামে একটি খুচরা বিক্রেতার নিকট সরকারি ১০৫০ টাকার চেয়ে ১৫০০ টাকায় বিক্রি করেন। গতকাল বুধবার দুপুর বিকেল ৪ টার দিকে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত আঞ্চলিক যান নসিমনে ৪০ বস্তা ডিএপি সার নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের কাছে ধরা পড়েন।

সার নিয়ে যাওয়া নসিমন চালক সুজন আলী বলেন, ‘গাংনী বাজারে এস আর রহমানের একটি গুদাম থেকে ৪০ বস্তা ডিএপি নিয়ে নান্দবার বাজারের নিয়ে যাচ্ছিলেন।’

আলমডাঙ্গা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কৃষি অফিসার মো: মাসুদ হোসেন পলাশ বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ডিলার তার পাশের ইউনিয়নেও সার বিক্রি করতে পারবে না। খুচরা বিক্রেতা সার বিক্রির প্রশ্নই আসে না। খবর পেয়ে সারের ডিলার এস আর রহমানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং বিক্রি হওয়া সার জব্দ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট এলাকায় সরকারি দামে সারগুলো বিক্রি করা হবে।

আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশীষ কুমার বসু বলেন, ‘সার ব্যবস্থাপনা ২০০৬ এর আইনে ৮ ধারা দোকান মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে কখনও সার বিক্রি করবেন না মর্মে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।’




গাংনীতে সাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যু

মেহেরপুরের গাংনীতে সাপের কামড়ে মাইশা আক্তার (৫) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের কল্যাণপুর মন্ডলপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

মাইশা আক্তার কল্যাণপুর গ্রামের এনামুল হকের মেয়ে।

স্বজন ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, মাইশা আক্তার নিজ বাড়ির পাশের পুকুর পাড়ে খেলাধুলা করার সময় একটি সাপ তাকে কামড় দেয়। এ সময় মাইশা আক্তার কান্নাকাটি শুরু করলে প্রতিবেশীরা সাপে কামড়ের বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত গাংনী হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গাংনী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক এম কে রেজা জানিয়েছেন, ধারণা করা হচ্ছে শিশু মাইশা আক্তারকে বিষধর সাপে কামড় দিয়েছে। এ কারণে তার শরীরে দ্রুত বিষ ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালে নেওয়ার পূর্বে তার মৃত্যু হয়।