জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদের দাবীতে ঝিনাইদহে সংবাদ সম্মেলন

বিপ্লবী সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদের দাবীতে ঝিনাইদহে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

রোববার সকালে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জুলাই যোদ্ধা সংসদ জেলা শাখার আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জুলাই যোদ্ধা সংসদ জেলা শাখার সদস্য সচিব রত্না খাতুন। সেসময় উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনটির আহ্বায়ক আনিচুর রহমান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঝিনাইদহ জেলা শাখার সদস্য সচিব সাইদুর রহমান, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক হুমায়ন কবির, জুলাই যোদ্ধা রাহাত মিয়া, মাসুম বিল্লাহ, সাইফুল ইসলাম মানিকসহ অন্যান্যরা।

সেসময় বক্তারা বলেন, আমাদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি ‘জুলাই ঘোষণা পত্র’ প্রদানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য যে ত্রিশ কার্যদিবসের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেই সময়সীমার মধ্যে আর মাত্র তিন কার্যদিবস বাকি থাকলেও এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। আমরা মনে করি, যে কোনো প্রতিশ্রুতি পূরণ সরকারের নৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। এটি আমাদের আন্দোলনের একক উদ্দেশ্য নয়, বরং দেশের সাধারণ মানুষের ন্যায্য প্রত্যাশারই প্রতিফলন।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঝিনাইদহ জেলা শাখার সদস্য সচিব সাইদুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে গণঅভ্যুথানের পর ছাত্র-জনতার আকাংখা জুলাই ঘোষণাপত্র, গণহত্যার বিচার, নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য দৃশ্যমান সংস্কার প্রয়োজন। যা এখনও পর্যন্ত বর্তমান সরকার বাস্তবিক প্রতিফলন ঘটাতে ব্যার্থ হয়েছে। আমরা আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রদাণ, গণহত্যার বিচার শুরু ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য দৃশ্যমান সংস্কার শেষ করে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমুলক নির্বাচন উপহার দিবে।




আমঝুপিতে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা

মেহেরপুরের আমঝুপিতে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) সকাল ১০টায় আমঝুপি ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে সামাজিক নিরীক্ষা বিষয়ক কমিটির সঙ্গে কমিউনিটি এডুকেশন ওয়াচ গ্রুপের এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে মানব উন্নয়ন কেন্দ্র (মউক)। এতে সহযোগিতা করে গণসাক্ষরতা অভিযান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছাঃ নাসিমা খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমঝুপি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানব উন্নয়ন কেন্দ্র (মউক) এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোছাঃ কাজল রেখা। তিনি বিগত এক বছরের সার্বিক কার্যক্রম, অগ্রগতি, অর্জন এবং চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণে আগ্রহ সৃষ্টি, ঝরে পড়া রোধ, শিক্ষক-অভিভাবক সমন্বয় এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নের দিকগুলো গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করেন।

ওয়াচ গ্রুপের সদস্য ও সমাজসেবক আব্দুর রকিব, মো. আক্তার হোসেন এবং প্রধান শিক্ষক মো. কিতাব আলী আলোচনা পর্বে অংশ নিয়ে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, টয়লেট ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা, পাঠদানের আধুনিকায়ন এবং অভিভাবক সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোছাঃ নাসিমা খাতুন বলেন, “শিক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা উন্নয়নে সবার অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক নিরীক্ষা কার্যক্রম স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।”

সভা শেষে অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে আগামী দিনের করণীয় নির্ধারণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশমালা তৈরি করা হয়।




মেহেরপুরে তিনদিনব্যাপী আম মেলার উদ্বোধন

রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় মেহেরপুরে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী আম মেলা।

জেলা প্রশাসন ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে রোববার সকালে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খামারবাড়ি প্রাঙ্গণে এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সামছুল আলম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএডিসির উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম ও সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল রহিম।

স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক শায়খুল ইসলাম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম ও চায়না পারভিন প্রমুখ।




গাংনীতে জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন

“দেশী ফল বেশি খাই, আসুন ফলের গাছ লাগাই” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মেহেরপুরের গাংনীতে তিন দিন ব্যাপি জাতীয় ফল মেলা ২০২৫ এর উদ্বোধন করা হয়েছে।

রবিবার সকাল ১০টার সময় উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে দিবসটি উপলক্ষ্যে ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা,উপজেলা মুক্তিযোদ্ধার সাবেক কমান্ডার ও বিএনপির প্রবীণ নেতা শামসুল আলম সোনা।

সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) মোঃ ইমরান হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ আরাফাত মিয়া।

এ সময় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শাহীন রেজা জুয়েল, নাইমুর রহমান, মো ফরিদ উদ্দিন ও মর্তুজা জামানসহ স্থানীয় কৃষক গণ উপস্থিত ছিলেন।

মেলায় দেশীয় বিভিন্ন ফলের স্টল সাজানো হয়েছে।




সুপেয় পানির অভাবে ৪৬৭ জন কাটাচ্ছেন দুর্বিষহ জীবন

“পানির অপর নাম জীবন” কিন্তু সেই পানিই আজ জীবনকে বিষাক্ত ও বিপন্ন করে তুলেছে। জলবায়ু পরিবর্তন, আধুনিক কৃষিতে বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা ও দর্শনা এলাকায় এর প্রভাব মারাত্মক।

দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের বড় দুধপাতিলা গ্রামে ২৫৮টি টিউবওয়েলে আর্সেনিক পাওয়া গেছে। এ গ্রামে প্রায় ৪০০ জন নারী-পুরুষ আর্সেনিক আক্রান্ত হয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন। গত ২৫ বছরে এ গ্রামে আর্সেনিকজনিত রোগে মারা গেছেন ১৪ জন। অন্যদিকে, দর্শনার ডিহিকৃষ্ণপুর গ্রামের গাবতলা পাড়ায় প্রায় ১৮৫ জন আক্রান্ত এবং ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে।

আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেই আছেন দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক যন্ত্রণায়। কারও কারও হাত-পায়ে গুটি, বাদামি দাগ, চামড়া পুরু হয়ে যাওয়া, আঙুল বেঁকে যাওয়া এবং অসাড়তা দেখা যাচ্ছে। কারও পেটের সমস্যা, খাদ্য হজমে ব্যাঘাত, এমনকি ক্যান্সার পর্যন্ত দেখা দিচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, আর্সেনিক আক্রান্তদের মধ্যে অন্তত ২৫০ জন স্বাস্থ্য কার্ডধারী।

২০০২ সালে জাপানি উন্নয়ন সংস্থা জাইকার সহায়তায় বড় দুধপাতিলা গ্রামে একটি আর্সেনিকমুক্ত ওয়াটার ট্যাংক স্থাপন করা হলেও এখন তা অকেজো হয়ে পড়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে ও এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথের বাস্তবায়নে বড় দুধপাতিলা ও হরিরামপুর গ্রামে ৪০ লাখ ৪২ হাজার ৭০০ টাকা ব্যয়ে দুটি পাইপ লাইন ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেম স্থাপন করা হয়। বর্তমানে ১৬৮টি পরিবার সেখানে কমমূল্যে বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছে। এগুলোর একটি পরিচালনা করছেন বড় দুধপাতিলা গ্রামের বকুল হোসেন।

তবে এসব ব্যবস্থা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ডিহিকৃষ্ণপুর গাবতলা পাড়ার বাসিন্দারা প্রতিদিন ৩-৪ বার অন্যের বাড়ি থেকে পানি সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন। সেখানকার যুবক সবুজ জানায়, তাদের গ্রামে ১৯৯৯ সালেই প্রথম আর্সেনিক ধরা পড়ে। এখনো অনেক টিউবওয়েলের পানি আর্সেনিকযুক্ত, কিন্তু বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে সেটাই ব্যবহার করতে হচ্ছে।

জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তথ্যমতে, দামুড়হুদা উপজেলায় ১১,০২২টি শ্যালো টিউবওয়েলের মধ্যে ৮,৬২৩টি পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ১,৮৬৪টি টিউবওয়েলে আর্সেনিক রয়েছে। দর্শনা পৌরসভায় পরীক্ষা করা ৪,৭৭৩টি টিউবওয়েলের মধ্যে ১,০৬৭টিতে আর্সেনিক ধরা পড়ে।

ভুক্তভোগীরা জানান, আর্সেনিকজনিত রোগের স্থায়ী চিকিৎসা নেই। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে নতুন একটি আর্সেনিকমুক্ত ডিপ টিউবওয়েল বসানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন বলেন, “প্রথমে সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, এরপর আক্রান্তদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে। আমি খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”
এদিকে, জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।




চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুতায়িত বেড়ায় জড়িয়ে যুবকের মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের ঝাঁঝরি গ্রামে কেরুজ পুকুরে লিজ নেওয়া জলাশয়ে মাছ চুরি ঠেকাতে চারপাশে বেড়া দিয়ে বিদ্যুতায়িত করেছেন একই গ্রামের আব্বাস আলী।

আজ রবিবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কেরুজের জমিতে ঘাস কাটতে যান চাঁন মিয়া (২৩)।

ঘাস কাটার একপর্যায়ে পিপাসা পেয়ে পানি খেতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত বেড়ার সংস্পর্শে আসেন তিনি। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত চাঁন মিয়া দর্শনা থানার বেগমপুর ইউনিয়নের ঝাঁঝরি মাঝের গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেরুজ পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে লিজ নিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন আব্বাস আলী। মাছ চুরি ঠেকাতে তিনি পুকুরের চারপাশে বিদ্যুতায়িত বেড়া দিয়ে রেখেছেন। ফলে মাঝেমধ্যেই কুকুর, শিয়াল, বিড়ালের মৃতদেহ পুকুরপাড়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

স্থানীয়রা একাধিকবার আব্বাস আলীকে এই বিদ্যুতায়িত বেড়া সরিয়ে নিতে বললেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। কিছুক্ষণ আগেই সেই বেড়ায় হাত দিতেই চাঁন মিয়ার মৃত্যু হয়।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আব্বাস আলী শুধুমাত্র মাছ চাষই নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। তার বিরুদ্ধে ৪ থেকে ৫টি মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

এলাকার সচেতন মহল অবিলম্বে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আব্বাস আলীকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহীদ তিতুমীর বলেন, নিহত চাঁন মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




মহেশপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল নারীর

ঝিনাইদহের মহেশপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় জেলেহা বেগম (৫৫) নামের এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার জগনাথপুর মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জেলেহা বেগম উপজেলার জগনাথপুর গ্রামের কলম হোসেনের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলেহা বেগম খালিশপুর মেয়ের বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। সন্ধ্যায় জগনাথপুর মোড় এলাকায় রাস্তা পার হতে গেলে দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহত জেলেহা বেগমকে উদ্ধার করে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালককে আটক করা যায়নি। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




মেহেরপুর সদর ইটভাঙা মালিক সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন

মেহেরপুর সদর উপজেলা ইটভাঙা মালিক সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে সমিতির কার্যালয়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে ৯টি পদে মোট ১৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১৯৪ জন ভোটারের মধ্যে ১৯১ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি।

সভাপতি পদে শামিমুল ইসলাম লিজন (প্রতীক: ছাতা) ১০৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাবলু ইসলাম (প্রতীক: গরুরগাড়ি) পান ৭৩ ভোট। সহ-সভাপতি পদে মহিদুল ইসলাম (চেয়ার) ৯৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী সালিকুল রহমান (আনারস) পেয়েছেন ৮০ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন (দোয়াত-কলম) ৮৯ ভোট পেয়ে ২ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রাকিবুল ইসলাম সজল (ফুটবল) পেয়েছেন ৮৭ ভোট।

অন্যান্য বিজয়ীরা হলেন সহ-সম্পাদক: সেন্টু (বই) ১০৪ ভোট, সাংগঠনিক সম্পাদক: সোহরাব আলী (সাইকেল) ৯৭ ভোট, কোষাধ্যক্ষ: জাকারিয়া জামু (মই) ১২০ ভোট, প্রচার সম্পাদক: আলমগীর হোসেন (মোরগ) ১০৮ ভোট। নির্বাহী সদস্য পদে শিমুল (টিউবওয়েল) ১০৭ ভোট এবং রবিউল ইসলাম জাম্বু (কবুতর) ৯৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, মেহেরপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আহসান হাবিব সোনা। সহকারী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাখাওয়াত হোসেন সবুজ ও কুতুব উদ্দিন বাবু। এছাড়া নির্বাচনী কার্যক্রমে সহায়তা করেন আহ্বায়ক খোরশেদ আলম লাভলু, যুগ্ম আহ্বায়ক বেলাল হোসেন, সদস্য ইসমাইল হোসেন, মোজাফফর হোসেন ও সাফায়েত হোসেন।

নির্বাচন শেষে ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্রার্থীদের সমর্থকরা আনন্দ মিছিল করেন এবং নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ সমিতির কার্যক্রমে গতিশীলতা ও সদস্যদের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।




ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে হলে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা জরুরি

“ইনসাফ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে হলে ইসলামী হুকুমতের কোনো বিকল্প নেই” মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, “জামায়াতের প্রতিটি জনশক্তিকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে এবং ইসলামী চিন্তাধারাকে সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।”

শনিবার মেহেরপুর জেলা জামায়াতের আয়োজনে পৌর কমিউনিটি সেন্টারে দিনব্যাপী রোকন শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর-১ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা আমীর মাওলানা তাজউদ্দীন খান। শিবির পরিচালনা করেন জেলা তারবিয়াত সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল টিমের সদস্য ডা. আলমগীর বিশ্বাস, কুষ্টিয়া জেলা আমীর অধ্যাপক মাওলানা আবুল কাশেম ও জেলা কর্মপরিষদের সদস্য মাওলানা আব্দুল মজিদ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা মহাবুব উল আলম, জেলা সেক্রেটারি মো. ইকবাল হুসাইন, বায়তুলমাল সেক্রেটারি জারজিস হুসাইন, রাজনৈতিক সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল আমিন, দাওয়াহ বিভাগীয় সেক্রেটারি মাওলানা সোহেল রানা, প্রচার সেক্রেটারি খাইরুল বাসার, যুব বিভাগীয় সেক্রেটারি সোহেল রানা ডলার এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি আব্দুর রউফ মুকুল।

শিবিরে রোকনদের মাঝে আদর্শিক, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিষয়ে নানা দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও রোকনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।




চুয়াডাঙ্গায় যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ যুবদল নেতা আটক

চুয়াডাঙ্গায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক লিমন হোসেনকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে। শনিবার ভোরে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকা থেকে তাকে অস্ত্র সহ আটক করে সেনাবাহিনী ও পুলিশ।গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) খালেদূর রহমান

আটক লিমন হোসেন (৪০) চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি চুয়াডাঙ্গা পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক।

চুয়াডাঙ্গা আর্মি ক্যাম্প থেকে পাওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ক্যাপ্টেন সৌমিক আহমেদ অয়ন (৩৬ এডি) নেতৃত্বে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল শহরের ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে লিমনকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাবাদের এক পর্যায়ে লিমনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি নাইম এমএম পিস্তল, এক রাউন্ড এ্যামুনিশন, দেশী অস্ত্র (চাপাতি-চাইনিজ ছুরি-রামদা) সহ মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদুর রহমান বলেন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে অস্ত্রসহ লিমনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং মামলার পর বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।