১৮ বছর আগে বরখাস্ত উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের পুনর্বহালের নির্দেশ

১৮ বছর আগে বরখাস্ত ৮৫ জন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। রায়ে চাকরি হারানো কর্মকর্তাদের সকল সুযোগ সুবিধা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আপিল বিভাগ বলেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা ছিলো স্বাধীন, সার্বভৌম ক্ষমতার ওপর অসাংবিধানিক হস্তক্ষেপ।

২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও চারটি পৃথক রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ সোমবার (১৮ আগস্ট) এ রায় দেন।

এর আগে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন জোট সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ৮৫ জন কর্মকর্তাকে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর চাকরিচ্যুত করা হয়।

২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর ৮৫ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে চাকরিতে পুনর্বহালের জন্য ইসিকে দেওয়া ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিল করেছিলেন আপিল বিভাগ। তবে সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে গত বছর সুপ্রিম কোর্টে বরখাস্ত কর্মকর্তাদের পক্ষে একটি আপিল এবং চারটি রিভিউ পিটিশন দাখিল করা হয়।

আজ আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহউদ্দিন দোলন, প্রবীর নিয়োগী ও মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক ও আইনজীবী মুহাম্মদ খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া।

এর আগে, ২০১০ সালের ১২ এপ্রিল প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল এক রায়ে ৮৫ জন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে পুনর্বহালের নির্দেশ দেন ইসিকে। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ২৫ জুন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ট্রাইব্যুনালের রায় স্থগিত করে আদালতে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলেন।

২০১০ সালের ১২ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ চেম্বার বিচারপতির আদেশ বহাল রেখে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের করা লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন।

 

সূত্র: যুগান্তর




মেহেরপুরে জেলা বিএনপি’র গণসংযোগ অব্যাহত

মেহেরপুর সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের শোলমারিতে বিএনপি’র ৩১ দফা দাবির প্রচারে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকেলে জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল হাসানের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি পরিচালিত হয়।

গণসংযোগকালে অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন—স্বনির্ভর বাংলাদেশ, আমরা সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ উপহার দিতে চাই ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে।” তিনি আরো বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের বিচার এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।”

এ সময় তিনি কুতুবপুর ইউনিয়নের শোলমারী গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের হাতে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা দাবি সম্বলিত লিফলেট তুলে দেন এবং মতবিনিময় করেন।

গণসংযোগ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি’র সদস্য ইলিয়াস হোসেন আনছারুল হক, আলমগীর খান ছাতু, হাফিজুর রহমান হাফি, ওমর ফারুক লিটন, সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ফয়েজ মোহাম্মদ, সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আজমুল হোসেন মিন্টু, জেলা জাসাসের সদস্য সচিব বাকা বিল্লাহ, সদর উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সোহরাব হোসেন, হামিদ খান গাজু, জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এহান উদ্দিন মনা, জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান লাভলু, আমদহ ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসাইন, পৌর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মীর জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপি নেতা নাহিদসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।




ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে হার, কাঁদতে কাঁদতে যা বললেন নেইমার

ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে ও বড় হার। ম্যাচ শেষে তাই আবেগ সামাল দিতে পারলেন না নেইমার দ্য সিলভা জুনিয়র। মাঠে বসেই কাঁদতে শুরু করলেন ব্রাজিল তারকা। কয়েকজন এগিয়ে এসে চেষ্টা করলেন সান্ত্বনা দিতে। কিন্তু একটু আগে যে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে হারের সাক্ষী হলেন, তিনি কি খুব সহজে এই দুঃখ ভুলতে পারেন!

বাংলাদেশ সময় সোমবার (১৮ আগস্ট) সকালে ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে ৬–০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে নেইমারের সান্তোস।
ব্রাজিলিয়ান লিগ সিরি আ’র এই ম্যাচে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারেনি নেইমারের দল। ম্যাচের প্রথমার্ধে অবশ্য একটি গোল খায় সান্তোস। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ভাস্কো দা গামা একে একে পাঁচবার বল জড়ায় নেইমারদের জালে।

এই ম্যাচের আগে নেইমারের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় হার ছিল ৪–০ গোলের। ২০১১ সালে সান্তোসে খেলার সময় বার্সেলোনার বিপক্ষে (ক্লাব বিশ্বকাপের ম্যাচ) এবং ২০১৭ সালে বার্সেলোনায় খেলার সময় পিএসজির বিপক্ষে (চ্যাম্পিয়নস লিগে) এমন হারের স্বাদ পেয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু এদিন সেই দুই হারও যে পেছনে পড়ে গেল। ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিল জার্মানির কাছে ৭–১ গোলে বিধ্বস্ত হলেও সে ম্যাচে চোটের কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন নেইমার।

এদিন ম্যাচের আগে স্বাভাবিকভাবেই সবার চোখ ছিল নেইমার ও তার জাতীয় দল সতীর্থ ফিলিপে কুতিনহোর দিকে। নেইমার প্রতিনিধিত্ব করছিলেন সান্তোসের আর কুতিনহো ভাস্কো দা গামার।

মাঠের লড়াইয়ে কুতিনহোর দলের সামনে নেইমাররা যে দাঁড়াতেই পারেননি, সেটি স্কোরলাইন-ই বলে দিচ্ছে। এমনকি ব্যক্তিগতভাবেও এই ম্যাচে জয় হয়েছে কুতিনহোরই। ভাস্কো দা গামার ৬ গোলের দুটিই এসেছে সাবেক লিভারপুল ও বার্সেলোনা ফরোয়ার্ডের পা থেকে। গোল দুটি হয় ম্যাচের ৫৪ ও ৬২ মিনিটে।

দুর্দান্ত এই জয়ে অনেকটাই উপরে উঠে এসেছে ভাস্কো দা গামা। ১৮ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে ১৬ নম্বর অবস্থানে আছে তারা। অন্যদিকে এক ম্যাচ বেশি খেলে ২১ পয়েন্ট নিয়ে সান্তোস আছে ১৫ নম্বরে।

ম্যাচ শেষে নেইমার বলেন, ‘আমি লজ্জিত। আমাদের পারফরম্যান্সে আমি সম্পূর্ণ হতাশ। সমর্থকদের প্রতিবাদের পুরোপুরি অধিকার আছে, অবশ্যই সহিংসতা পরিহার করে। তারা যদি গালি দেয় বা অপমান করে, সেটারও অধিকার তাদের আছে।’

নেইমারের ভাষায়, ‘এটা চরম লজ্জার অনুভূতি। জীবনে কখনো এমনটা হয়নি। দুর্ভাগ্যবশত এবার হলো। কান্না এসেছিল রাগ থেকে, যা ঘটেছে সবকিছুর জন্য। দুর্ভাগ্যবশত আমি সবদিক দিয়ে সাহায্য করতে পারি না। যা–ই হোক, পুরো ব্যাপারটাই ছিল একেবারে বাজে, এটাই বাস্তবতা।’

এদিকে সান্তোসের এই বড় হারের কিছুক্ষণ পরই ক্লাবটির প্রধান কোচ ক্লেবার হাভিয়েরকে বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য শুভকামনা জানিয়ে হাভিয়েরকে ছাঁটাইয়ের কথা নিশ্চিত করেছে সান্তোস।

 

সূত্র: যুগান্তর




সন্ধ্যার মধ্যে যেসব জেলায় ঝড়ের শঙ্কা

দেশের সাত জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হওয়ার আশঙ্কার করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ অবস্থায় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সূত্র: কালের কন্ঠ




মেহেরপুরে নানা আয়োজনে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ পালিত

মেহেরপুরে ‘অভয়াশ্রম গড়ে তুলি, দেশি মাছে দেশ গড়ি’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫ পালিত হয়।

সোমবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় এ উপলক্ষে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ ও একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়।

র‌্যালিটি জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অঃ দাঃ) সাধন চন্দ্র সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তরিকুল ইসলাম।

এছাড়াও এসময় সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবির আনসারী, জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহিম, সদর উপজেলা মৎস্য অফিসার ফাতেমা কামরুন নাহার আঁখি, সিনিয়র সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মীর জাকির হোসেন, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক আমিনুল ইসলামসহ মৎস্যজীবী আব্দুল মাজেদ, আসেদ আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে মৎস্য চাষে বিশেষ অবদান রাখা চাষিদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং পরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।




দামুড়হুদায় আখ চাষী সমাবেশ অনুষ্টিত

দামুড়হুদা উপজেলার লোকনাথপুরে আখ চাষী সমাবেশ অনুষ্টিত হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে লোকনাথপুর মাধ্যমিক বিদ‍্যালয়ে এ আখ চাষী সমাবেশে অনুষ্টিত হয়।

আখ চাষী সমাবেশে সভায় সভাপতিত্ব করেন, বিশিষ্ট আখচাষী জামাল হোসেন। প্রধান অতিথী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, কেরুজ চিনিকলের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান। এ সময় তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ রোপন ও মাড়াই মৌসুমে আখরোপণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন গুনগত মানসম্পন্ন আখ সরবরাহ করতে হবে। আপনারা ভালো জাতের আখ লাগাবেন আপনারা লাভবান হবেন। আপনাদের কথা চিন্তা করে আগামী বছর আখের মৃল্য বৃদ্ধি করার চিন্তা করছে বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনি শিল্প করপোরেশন।

এ সময় বিশেষ অতিথী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, কেরুজ চিনিকলের জিএম কৃষি আশরাফুল আলম ভূইয়া এবং ডিজিএম (সম্প্রসারণ) মাহবুবুর রহমানসহ প্রায় শতাধীক আখচাষী উপস্থিত ছিলেন।




এনডিএম পার্টির গাংনী উপজেলা কমিটি গঠন

জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) পার্টির মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলায় তিন বছর মেয়াদী কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে। গতকাল রবিবার দলের মহাসচিব মোমিনুল আমিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি ঘোষনার বিষটি নিশ্চিত করেছেন।

গাংনী উপজেলা কমিটিতে মহিদুল ইসলাম উজ্জল কে সভাপতি এবং আহসান হাবিব কে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়। এছাড়া ফরিদা ইয়াসমিন দিপা কে সিনিয়র সহ- সভাপতি, শহিদুল ইসলামকে সহ সভাপতি, ইয়াসাদ আজিম রনিকে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক, মাহাফুজ্জামান কে যুগ্ম সম্পাদক, সাইফুল ইসলামকে সাংগঠনিক সম্পাদক, মোফাজ্জল হোসেনকে কোষাধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমানকে দপ্তর সম্পাদক, তারিক মাহমুদকে প্রচার সম্পাদক করে কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। একই কমিটিতে নির্বাহী সদস্য হিসেবে আছেন, হামিদুল ইসলাম, রাসেল আহমেদ, সোহনুর রহমান সোহান, রেবেকা খাতুন, আসমা খাতুন, লিপি সরকার ও শরিফুল ইসলাম।

এনডিএম এর গাংনী উপজেলা কমিটিকে জেলা উপজেলার সকল শ্রেনী-পেশার মানুষ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সেই সাথে দলের নেতাকর্মীরা জনগণের পক্ষে কাজ করবে এমন প্রত্যাশা করেন জেলার সর্বসাধারণ।




মেহেরপুরে মোখলেসুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের ফরম বিতরণের উদ্বোধন

মেহেরপুর জেলা সদরের চুয়াডাঙ্গা সড়কে সন্ধ্যানী সংস্থার পরিচালনায় মোখলেছুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য নার্সারি থেকে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত ভর্তি ফরম বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

গতকাল রবিবার বিকালে নির্মাণাধীন বিল্ডিং এ কাজের উদ্বোধন করেন, সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মহাঃ আবু জাফর। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, সন্ধানী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান, সন্ধ্যানী সংস্থার কোর্ডিনেটর জাকি আল জাকওয়ান নিবিড়, সংস্থার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান, ভাইস প্রিন্সিপাল রাজু আহমেদ, মাধ্যমিক শাখার একাডেমিক প্রধান আক্তার হোসেন, প্রাথমিক শাখার একাডেমিক প্রধান ও নুতন শাখার প্রধান হিসেবে  দায়িত্বপ্রাপ্ত  সাইফুর রহমান মিরন, সন্ধ্যানী নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রধান শাহনাজ পারভীন, অভিভাবক আশিক উর রহমান, আরিফ হোসেনসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও ফরম নিতে আসা অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আবু জাফর ডঃ মোখলেছুর রহমান সম্পর্কে বলেন, তিনি ছাত্র জীবন থেকেই সামাজিক কাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ লরে যাচ্ছেন। করমদি গ্রামে হাসপাতাল নির্মাণ, সেলাই প্রশিক্ষন কেন্দ্র তৈরী, স্কুল তৈরী, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরী সহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান তৈরী করেছেন। আমরা সংস্থার পক্ষ থেকে তাকে সম্মানিত করার জন্য মেহেরপুরের এই প্রতিষ্ঠানের নাম ওনার নামে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি যদিও প্রথমে তিনি রাজী ছিলেন না।

তিনি আরও জানান, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ও মেহেরপুর জেলা কে শিক্ষাক্ষেত্রে আরও এগিশে নেয়ার জন্য গাংনীর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মেহেরপুরে মোখলেসুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ চালু করতে যাচ্ছি। তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠান আপনাদের সকলের। আপনাদের সহযোগিতায় এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টি একটি মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবো। আগামীতে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয় চালু হলে এখান থেকে ভাল মানের শিক্ষার্থী বের হতে  বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে।

তিনি জানান, শিক্ষার পাশাপাশি এক্সাকারিকুলাম এক্টিভিটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারিরীকভাবে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাবে। এ প্রতিষ্ঠানের জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। আগমাী বছর ২০২৬ সালে নার্সারি থেকে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম চালু হবে। প্রতিবছর ধাপে ধাপে শ্রেণী সংখ্যা বাড়তে থাকবে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য যে, গাংনীতে সন্ধ্যানী সংস্থা পরিচালিত স্কুলটি জেলার অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। এ বছর সন্ধ্যানী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৩৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে ৬২ জন জিপিএ ৫ সহ সবাই পাশ করে জেলায় প্রথম হয়েছে।




মেহেরপুরে পাটের ভালো ফলনেও দামে হতাশ কৃষক

মেহেরপুরে এবার পাটের ভালো ফলন হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশ কৃষকরা। জমি চাষ, সার, বীজ, পানি, শ্রমিক-সবকিছুতেই খরচ বেড়েছে, কিন্তু বাজারে ন্যায্য দাম মিলছে না। এবছর পাটের দাম মন প্রতি ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবী চাষীদের।

এভাবে লোকসান হলে আগামীতে পাট চাষ থেকেমুখ ফিরিয়ে নেবেন চাষিরা।

পর পর বেশ কয়েক বছর সোনালী আঁশ পাটের দাম ছিল নিম্নগামী। “কৃষকরা যে দামে পাট বিক্রি করেন, তাতে খরচই উঠে না। প্রতি বছরই লোকসানে যাচ্ছেন কৃষক।” তবে, এবছর সেই দাম কিছুটা বেড়ে বাজারে এখন সাড়ে ৩ হাজার টাকা মন বিক্রি হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ কোনো রকম উঠলেও লাভবান হচ্ছেন না কৃষক। পাটের মন প্রতি সরকার চার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা মন নির্ধারণ করার দাবী তাদের।

কৃষকরা জানিয়েছেন, সার, বিষ, পরিবহন খরচ ও শ্রমিকের মজুরি আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। যার ফলে লাভ তো দূরের কথা, মূলধনই ফিরে পাওয়ায় সংশয় দেখা দিচ্ছে।

“সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া কৃষকের এই অবস্থা থেকে উত্তরণ কঠিন। দাম নির্ধারণ করা হলে কৃষক উৎসাহ পাবে।” স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সরকার পাটের মূল্য নির্ধারণ করে সরাসরি পাট সংগ্রহের ব্যবস্থা নিলে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন কৃষক।

মেহেরপুর জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে জেলায় এবছর ১৬ হাজার ৬৩০ হেক্টর জামিতে পাট চাষ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও মূল্য না পেলে কৃষকের মুখে হাসি ফোটে না। তাই টেকসই পাটখাতে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই সময়ের দাবি।

ইচাখালী গ্রামের কৃষক ইদ্রিস আলী জানান, এক বিঘা জমিতে তিনি পাচ চাষ করেছিলেন। জমি চাষ, বীজ বপন, সেচ ও নিড়ানি খরচ বাবদ প্রায় ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা খরচ হয়। ওই জমিতে ১০মন পাট হয়েছে। বিক্রি হয়েছে ২ হাজার টাকা মন। খরচ উঠছে কোন রকম। লাভ হচ্ছে না।

ঊন্দও গ্রামের কৃষক বাবর আলী বলেন, প্রতি বছরই পাটে লোকসান হচ্ছে। তবুও আশায় আশায় পাটের আবাদ করি। এবছরেও দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। খরচের টাকা টা কোন রকমে উঠছে। শুধু পরিবারে জ্বালানী হিসেবে পাটকাঠির জন্য আবাদ করি। তবে আগামিতে আর পাটের আবাদ করবো না। বিকল্প আবাদে যাবেন তিনি।

নওপাড়া গ্রামের কৃষক মোছাদ্দেক আলী, ধলা গ্রামের কৃষক জাবের আলী বলেন, আমরা কৃষকম। লাভ আর লোকসান বুঝতে গিয়ে বার বার লোকসান হচ্ছে। তবে পাটের দাম সরকারি ভাবে বৃদ্ধি করা না হলে দেশ থেকে সোনালী আশ এ অঞ্চল থেকে হারিয়ে যাবে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় এবছর ১৬ হাজার ৬৩০ হেক্টর জামিতে পাট চাষ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও মূল্য না পেলে কৃষকের মুখে হাসি ফোটে না। তাই টেকসই পাটখাতে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই সময়ের দাবি।

গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার ইমরান হোসেন বলেন, কৃষি বিভাগ কৃষকের পাশে থেকে কাজ করছেন। পাট চাষিরা যেনো ন্যায্য মূল্য পাই এবং দালাল ফঁড়িয়া দারা প্রতারিত না হয় সে লক্ষে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের লোকসানের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।




মেহেরপুরের বারাদীতে বিএডিসি শ্রমিকদের বিক্ষোভ সমাবেশ

বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশনের আন্দোলন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিএডিসি, বারাদী কৃষি খামারে ২০২৫ এর নীতিমালা বাতিল ও ২০১৭ সালের নীতিমালা বহালের দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে খামার শ্রমিকেরা।

রবিবার বিকাল সাড়ে ৫ টায় মেহেরপুর বীজ উৎপাদন খামার প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রমিকদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বারাদী খামার প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে বারাদী বাজার প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে প্রতিবাদ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০২৫ সালে যে শ্রমিক নীতিমালা তৈরী করা হয়েছে তা শ্রমিকদের স্বার্থ বিরোধী। আমরা এই নীতিমালা বাতিল ও ২০১৭ সালের নীতিমালার বাস্তবায়ন চাই।

এ সময় বক্তব্য রাখেন চিৎলা ভিত্তি পাটবীজ খামার শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুস সাত্তার, যুগ্ন সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, চিৎলা খামার শ্রমিক ইউনিয়ন উপদেষ্টা আক্তারুজ্জামান ও বারাদী খামার শ্রমিক সর্দার রফিকুল ইসলাম নান্নু।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বারাদী ফার্ম শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মুকুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালামসহ খামারের বিভিন্ন ব্লকের শ্রমিকেরা।