কোটচাঁদপুরে চোর আটক, থানায় মামলা

ভাড়াটে হিসেবে খুলনা থেকে চুরি করতে এসে ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন এক চোর। সহযোগীরা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। রোববার সকালে ঘটনাটি নিয়ে কোটচাঁদপুর থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী আরব হোসেন।

নাইট গার্ড শরিফুল ইসলাম বলেন, “রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আজম ভাইদের ভবন থেকে একটি শব্দ শুনতে পাই। পরে আরব ভাইকে ডেকে তুলি। খবর পেয়ে কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পুলিশ ছাদে উঠে এক চোরকে দেখতে পায়। পালানোর চেষ্টা করে সে। প্রথমে তিনতলা ভবন থেকে দ্বিতীয় তলায় এবং পরে দ্বিতীয় তলা থেকে মাটিতে লাফ দেয়, এতে সে গুরুতর আহত হয়। এ সময় স্থানীয়রা তাকে ধরে ফেলে, তবে তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।”

আটককৃত চোরের নাম সোহেল আহম্মেদ। তিনি খুলনার সাচি বুনিয়া লবনচোরা গ্রামের দেলবার আহম্মেদের ছেলে। পলাতকরা হলেন একই এলাকার আলামিন হোসেন এবং আব্দুল গফুরের ছেলে (নাম উল্লেখ হয়নি)।

ভুক্তভোগী আরব হোসেন কোটচাঁদপুর থানায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২/৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেছেন। তার ভাই আরিফুল ইসলাম বলেন, “নাইট গার্ড সজাগ না থাকলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারত। তার সতর্কতার কারণেই আজ আমরা রক্ষা পেয়েছি।”

ধৃত চোর স্বীকার করেছেন, তিনি ভাড়াটে হিসেবে চুরি করতে এসেছিলেন। ধরা পড়ার পর তার সহযোগীরা তাকে ফেলে পালিয়ে গেছে।

কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং আহত চোরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনাটি নিয়ে মামলা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মই উদ্ধার করা হয়েছে।”




মুজিবনগরে তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন

“কৃষিই সমৃদ্ধি” এই স্লোগানকে সামনে রেখে র‍্যালী,আলোচনা সভার মধ্যদিয়ে মুজিবনগরে উদ্বোধন করা হয়েছে যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় তিন দিনব্যাপি কৃষি প্রযুক্তি মেলার।

মুজিবনগর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে রবিবার সকাল ১১ টার সময় উপজেলা কৃষি অফিস চত্তরে আয়োজিত মেলার উদ্বোধন করা হয়।

মুজিবনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি নাজমুস সাদাত রত্ন এর নেতৃত্বে কৃষি প্রযুক্তি মেলা উদ্বোধন উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালীটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মেলা চত্বরে এসে শেষ হয়। ফিতা কেটে উদ্বোধন করা হয় তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলার।

মেলা উদ্বোধন শেষে মেলা চত্বরে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল মোমিন এর সভাপতিত্বে,আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি নাজমুস সাদাত রত্ন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রকিবউদ্দিন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সেলিম রেজা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তারিখ আজিজ, মুজিবনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মুন্সী ওমর ফারুক

মেলায় মোট ১৬টি স্টল অংশ নিয়েছে। এতে কৃষি প্রযুক্তি, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি, জৈব সার, উন্নত জাতের বীজ, চারা সহ নানা উদ্ভাবন ও কৃষি-সম্পর্কিত সামগ্রী প্রদর্শন করা হচ্ছে। আগামী, ৩ জুন পর্যন্ত চলবে এ মেলা। প্রতিদিন কৃষি বিষয়ক সেমিনার, চাষাবাদ বিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও কৃষকদের উদ্ভাবনী চর্চা শেয়ারিং সেশন অনুষ্ঠিত হবে।

মেলায় অংশগ্রহণকারী কৃষক ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব ও বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষিকাজের প্রতি আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলায় কৃষি সচেতনতামূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,লিফলেট বিতরণ,কৃষি সচেতনতামূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও তৈলাক্ত কলাগাছে উড্ডয়ন প্রতিযোগিতা,পুরষ্কার বিতরণ এবং ৩ তারিখ সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।




দামুড়হুদার হাউলী ইউনিয়ন পরিষদে বিনামূল্যে চাল বিতরণ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

রবিবার সকাল ১০টায় ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে, হাউলী ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় এ চাল বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। মোট ২,৬৮৮ জন উপকারভোগীর মাঝে এ চাল বিতরণ করা হয়।

চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন হাউলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক নাফিজ আক্তার সিদ্দিকী, ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ওবায়দুল হক, ট্যাগ অফিসার আতিকুর রহমান এবং ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম টিক্কা, আব্দুল হান্নান পটু, রিকাত আলীসহ ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্যবৃন্দ।

চাল বিতরণ কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান।




মেহেরপুরে মেজভাইয়ের আঘাতে ছোটভাইয়ের মৃত্যুর অভিযোগ

মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি দক্ষিণপাড়ায় মেজভাইয়ের বিরুদ্ধে ছোটভাইকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

আজ রবিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছোট ভাই বাপ্পির মৃত্যু হয়েছে। এর আগে শনিবার বিকালে মেজ ভাই কালু ধান তোলা লোহার হাতা দিয়ে ছোট ভাই বাপ্পিকে আঘাত করলে সে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

এদিকে, বাপ্পির মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌছালে তার মেজভাই কালু আত্মগোপনে চলে যায়।

স্থানীয়রা জানান, আমঝুপি দক্ষিণপাড়ার হিসাব আলীর ছোট ছেলে বাপ্পি পারিবারিক কলহের জের ধরে তার মাকে একটি থাপ্পড় দেয়। এ খবর পেয়ে মেজছেলে কালু শনিবার বিকালে বাপ্পির সাথে বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হয় এবং এক পর্যায়ে ধান তোলা লোহার হাতা দিয়ে বাপ্পিকে আঘাত করে। এতে বাপ্পির মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হয় । তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসক তাকে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেন। বাড়ি ফিরে সে আবার তার ভাইয়ের সাথে বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হলে সে ব্রেইন স্ট্রোক করে। তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন রবিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে, তার মৃত্যুর খবর পেয়ে বাপ্পির শ্বশুর রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে লাশের ময়নাতদন্ত শেষ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করলে তারা মেহেরপুরের উদ্দ্যেশে রাজশাহী ত্যাগ করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিকাল সোয়া ৫টার সময় লাশ আমঝুপি পৌছায়নি বলে জানা গেছে।

তবে, মেহেরপুর সদর থানার ওসির সরকারি মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।




মেহেরপুরে মাঠে কাজ করতে গিয়ে মোটরসাইকেল চুরি

মেহেরপুর সদর উপজেলার শহরতলির কুলবেড়ি রোড এলাকা থেকে এক ব্যক্তির লাল-কালো রং এর পালসার ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী মোঃ বাবুর আলী (৫৫) মেহেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

গতকাল শনিবার বিকেল আনুমানিক ৪ টার দিকে ওই গ্রামের মাঠ থেকে এ মোটরসাইকেলটি চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা।

বাবুর আলী জানান, তিনি আশেপাশে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার মোটরসাইকেলের কোনো খোঁজ পাননি। ধারণা করা হচ্ছে, বিকাল ৪:৩০ থেকে ৫:০০ ঘটিকার মধ্যে কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা তার মেহেরপুর-হ-১২-১০০০ মোটরসাইকেলটি চুরি করে নিয়ে গেছে।

এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।




মেহেরপুরের আমঝুপিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অ্যাডভোকেসি সভা

“দলিত সম্প্রদায়সহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য মানবাধিকার সুরক্ষা সম্প্রসারণ” প্রকল্পের আওতায় “দলিত সম্প্রদায়সহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন” শীর্ষক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মেহেরপুরের আমঝুপিতে স্থানীয় সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এক অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

তাইওয়ান ফাউন্ডেশন ফর ডেমোক্রেসির আর্থিক সহায়তায় এবং মানব উন্নয়ন কেন্দ্র (মউক)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভার সভাপতিত্ব করেন মউকের নির্বাহী কর্মকর্তা। এতে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলার সুধীসমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বারাদি দাসপাড়া, আমঝুপি হালদারপাড়া, চাঁদবিল হালদারপাড়া, আমঝুপি, কোলা ও খোকসা গ্রামের ৩০ জনের বেশি সুবিধাভোগী নারী।

সভায় কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য উপস্থাপন করে মউকের নির্বাহী বলেন, মেহেরপুরের দলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এখনো নানাভাবে পিছিয়ে রয়েছে। সচেতনতার অভাব ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি পরিষেবা গ্রহণে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও তথ্যের ঘাটতির কারণে তারা ন্যায্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সভায় উপস্থিত সুবিধাভোগীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং মউকের কাছে পরামর্শ ও সহায়তা প্রত্যাশা করেন। উত্তরে মউকের নির্বাহী ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ স্থানীয় সরকার দপ্তর থেকে কীভাবে সরকারি সেবা গ্রহণ করা যায়, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং সংযোগকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মউকের ভূমিকা তুলে ধরেন।

সভায় আমন্ত্রিত অতিথিরাও আলোচ্য বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতায় গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন। আনন্দঘন ও ফলপ্রসূ পরিবেশে সভাটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

ওয়াজেদ আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রিচার্ড রিমন মন্ডল, সুমাইয়া খাতুন, জাহিদুল ইসলামসহ মউকের অন্যান্য কর্মকর্তা।




বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ঝিনাইদহে মানববন্ধন

‘প্লাস্টিক দুষন আর নয়, বন্ধ করার এখনই সময়’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ঝিনাইদহে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে।

পরিবেশ দুষণ বন্ধ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধের দাবীতে রোববার সকালে শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে এ কর্মসূচীর আয়োজন করে সনাক ও টিআইবি। এতে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে পরিবেশবিদ, মানবাধিকার কর্মীসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেয়। সেসময় বক্তব্য রাখেন সনাক ও টিআইবির ঝিনাইদহের সভাপতি এম সাইফুল মাবুদ, সদস্য এন এম শাহজালাল, মানবাধিকার কর্মী আমিনুর রহমান টুকু, সনাক সদস্য নাসরিন ইসলাম, পদ্মা সমাজ কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক হাবিবুর রহমান, উই এর পরিচালক শরিফা খাতুন। কর্মসূচীতে ধারনাপত্র পাঠ করেন ইয়েস সদস্য মাহজারুল ইসলাম। পরিচালনা করেন সনাকের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর হুমায়ন কবির।

সেসময় বক্তারা, প্লাস্টিক ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানো, বিকল্প পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও দূষণের কারণে পৃথিবীর ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই এখনই সময় পরিবেশ রক্ষায় একযোগে কাজ করার।




জীবননগরের কৃতি সন্তান মাহমুদ হাসান খান বাবু বিজিএমইএ সভাপতি হওয়ায় শুভেচ্ছা

চুয়াডাঙ্গা জেলার কৃতি সন্তান ও জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এর সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় জীবননগর উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল এবং জীবননগর প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ময়েন উদ্দিন মঈন, যুবদলের সদস্যসচিব কামরুজ্জামান, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হযরত আলী, সদস্যসচিব মনির হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সুজন খন্দকার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হেজবুল্লাহ, জীবননগর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান ও সদস্যসচিব মকছেদুর রহমান রিমন হোসেন যৌথভাবে এক বার্তায় এ শুভেচ্ছা জানান।

এছাড়া, জীবননগর প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকেও মাহমুদ হাসান খান বাবুকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম. আর. বাবু, সাধারণ সম্পাদক কাজী শামসুর রহমান চঞ্চলসহ সকল সদস্য এক বিবৃতিতে তার সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেন এবং তার ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করেন।




কালীগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষে মহব্বত হোসেন (৬০) নামের একজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৪ জন।

রোববার (১ জুন) সকালে উপজেলার নাকোবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জামাল ইউনিয়নের বিএনপি নেতা নজরুল ইসলামের সাথে বিএনপির অপর পক্ষ আরিফ, লিটন, বুলু ও আশরাফ’র সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিলো। এরই জের ধরে রোববার সকালে ইউনিয়নের নাকোবাড়িয়া গ্রামে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ৫ জন আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মহব্বত হোসেনের অবস্থা গুরুতর হলে তাকে ফরিদপুরে রেফার্ড করা হয়। দুপুরে ফরিদপুর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

কালীগঞ্জ থানার ওসি শহিদুল হাওলাদার বলেন, সংবাদ শুনেই ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।




চুয়াডাঙ্গা আকাশ হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে ট্রেন আটকে মানববন্ধন

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সেনেরহুদা গ্রামের আব্দুল গাফফার আকাশ হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে ট্রেন আটক করে মানববন্ধন করা হয়েছে।

উথলী ইউনিয়নবাসী ও শোকার্ত পরিবারের ব্যানারে রোববার সকাল সাড়ে ৮ টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উথলী রেলস্টেশনে ২ ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন করা হয়।

এসময় খুলনা হতে রাজশাহীগামী আন্তঃনগর কপোতাক্ষ ট্রেন সকাল ৯টা ২০ মিনিটের সময় উথলী রেলস্টেশনে পৌঁছালে মানববন্ধনের কারণে ট্রেনটি আটকা পড়ে। পরে সেনাবাহিনীর সদস্য, পুলিশ এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রায় ১ ঘণ্টা অপেক্ষার পর ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

এলাকাবাসী জানায়, রোববার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সেনেরহুদা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় লোকজন মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেয়। আকাশ হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় তারা। দাবি পূরণ না হলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় মানববন্ধন থেকে। সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী আন্তঃনগর কপোতাক্ষ ট্রেন থামিয়ে ট্রেনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে তারা।

মানববন্ধনে উথলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, সেনেরহুদা জান্নাতুল খাদরা দাখিল মাদরাসার শিক্ষক মহিউদ্দিন, নিহত আকাশের বাবা জিন্নাত আলী বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে তারা বলেন, আকাশকে পরিকল্পিতভাবে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

উল্লেখ, গত ২১ মে কপোতাক্ষ ট্রেনযোগে চুয়াডাঙ্গা থেকে বাড়ি ফেরার পথে জয়রামপুর আখ সেন্টারের নিকট রেল লাইনের পাশে পড়ে ছিল গাফফার আলী আকাশ (২৫) নামে এক যুবকের মরদেহ। এলাকাবাসীর ধারণা ট্রেন থেকে ছিটকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

আকাশ জীবননগর উপজেলার সেনেরহুদা গ্রামের জিন্নাত আলীর একমাত্র ছেলে। তিনি চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাৎক্ষণিকভাবে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। পরদিন চুয়াডাঙ্গার সকল আঞ্চলিক পত্রিকাসহ কিছু জাতীয় পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রেন থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে সংবাদ প্রচার করা হয়।

এদিকে আকাশের মৃত্যুর কয়েকদিন পর মৃত্যুর ঘটনার নতুন মোড় নেয়। পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য। পরিবারের দাবি, একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডকে নিছক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী থেকে খুলনাগামী আন্তঃনগর কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘ঙ’ বগিতে দায়িত্বে থাকা টিটিইসহ রেলওয়ে পুলিশ ও এটেনডেন্টরা আকাশকে ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে বলে নিহত আকাশের পিতা জিন্নাত আলী দাবি করেছেন।

এ ঘটনায় নিহত আকাশের পিতা জিন্নাত আলী বাদি হয়ে গত ২১ মে ওই ট্রেনের ‘ঙ’ বগিতে দায়িত্বে থাকা ২ জন রেলওয়ে পুলিশ, ১ জন টিটিই এবং ২ জন এটেনডেন্টকে আসামি করে চুয়াডাঙ্গা আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

আসামিরা হলেন- ট্রেনের ‘ঙ’ বগিতে দায়িত্বে থাকা টিটিই লালন চক্রবর্তী (৪২), রেলওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক পারভেজ (৩৬), কনস্টেবল কাদের (৪০), এটেনডেন্ট মিলন (৩৭) ও সোহাগ মিয়া (৩৬)।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গাফফার আলী আকাশ অফিস শেষে প্রতিদিনের মতো কপোতাক্ষ ট্রেনযোগে চুয়াডাঙ্গা থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন। ঘটনার দিন কপোতাক্ষ ট্রেনের ‘ঙ’ বগিতে দায়িত্বে থাকা টিটিই, রেলওয়ে পুলিশ ও এটেনডেন্টরা টিকিট না কেটে উঠা যাত্রীদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করছিলেন এবং তাদের কাছে অবৈধভাবে অনেক টাকা দাবি করছিলেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় রেলওয়ে পুলিশসহ অন্যরা আকাশকে টেনে-হেঁচড়ে দরজার কাছে নিয়ে যায় এবং জয়রামপুর রেল স্টেশনের নিকট দরজা থেকে তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। এ মামলায় ৪ জন প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রী স্বাক্ষীও প্রদান করেছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কপোতাক্ষ ট্রেনের একই বগিতে থাকা একাধিক যাত্রীর কাছ থেকে তথ্য পেয়ে আকাশ হত্যার সঠিক বিচার পাওয়ার জন্য আইনের আশ্রয় নিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রত্যক্ষদর্শী এক যাত্রীর সাথে কথোপকথনের কল রেকর্ড হাতে পাওয়া গেছে। রেকর্ডে রাজশাহী থেকে ওঠা ওই ট্রেনের এক যাত্রী বলেছেন, আমরা ওই ট্রেনের ‘ঙ’ বগিতে ৭১ নম্বর সিটে বসে ছিলাম। এক পর্যায়ে দেখতে পাই লাল গেঞ্জি পরিহিত একটা ছেলেকে (আকাশ) বগিতে দায়িত্ব থাকা কয়েকজন লোক টেনে হেঁচড়ে দরজার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। দরজার কাছে নিয়ে যাওয়ার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই ওই ছেলেকে ধাক্কা দিয়ে বাইরে ফেলে দেয়। আমি জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি ছেলেটার মাথা নিচের দিক দিয়ে পড়ে যাচ্ছে। সেখানে দুইজন পুলিশ উপস্থিত ছিল। তাদের সামনেই এই ঘটনা ঘটে।

কল রেকর্ডে আরও শোনা যায়, তারা দর্শনা হল্ট স্টেশনে নামার পর ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা কাদের নামের এক পুলিশের কাছে জানতে চায়, ছেলেটার অপরাধ কি ছিল? পুলিশ কোনো উত্তর না দিয়ে চলে যায়।

বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান আকাশ অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিলে। তার অকাল মৃত্যুরহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন এলাকাবাসী।