মুজিবনগরে এনসিপির উঠান বৈঠক

“উঠানে নতুন সংবিধান” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে মেহেরপুরের মুজিবনগরে সাধারণ মানুষের সাথে উঠান বৈঠক করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা।

রবিবার বিকালে মুজিবনগর কমপ্লেক্স পর্যটন মোটেলে এ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মেহেরপুর জেলা এনসিপি কমিটির যুগ্ম প্রধান সমন্বয়ক ও প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শাকিল আহম্মেদের সভাপতিত্বে উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম প্রধান সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) মোল্লা রহমাতুল্লাহ।

জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য সোহেল রানার সার্বিক তত্ত্বাবধানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর জেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ খান, মুজিবনগর উপজেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী আল মামুন সেন্টু এবং উপজেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলার এনসিপি নেতৃবৃন্দ।




দামুড়হুদায় নতুন কুঁড়ি উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

দামুড়হুদায় শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা নতুন কুঁড়ি-২০২৫ উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার সকাল ১১টায় দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এ প্রস্তুতিমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিয়াউল হক, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হাসান, দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামসুজ্জোহা পলাশ, মাধ্যমিক একাডেমি সুপারভাইজার রাফিজুল ইসলাম, দামুড়হুদা সরকারি পাইলট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সংগীতশিল্পী ওস্তাদ আক্কাস আলী, আজমত আলীসহ উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকবৃন্দ।




জুলাই সনদ সংস্কার না হলে আরও একটি গণঅভ্যূত্থান হবে

নির্বাচনের আগেই সংবিধান সংশোধন করতে হবে, তা না হলে আগামী ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে আরও একটি গণঅভ্যূত্থান হবে এমন মন্তব্য করেছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার।

তিনি বলেন, এখন যে ভূল হয়েছে আগামীতে নিশ্চিত সে ভূলগুলো আর হবে না। নির্বাচনের আগে সংস্কার না হলে যে বিষয়গুলো সকল রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছেন সেগুলোও দিমত হয়ে যাবে।

গতকাল রোববার দুপুরে জেলা পরিষদের হলরুমে জেলা উপজেলা সমন্বয়ক কমিটির সদস্যদের নিয়ে সাংগাঠনিক সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার একথা বলেন।

তিনি আরোও বলেন, যে কোন মূল্যে নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই সনদ পরবর্তী নির্বাচিত সরকার বাস্তবায়ন করবে না। এটার ভিত্তিতেই নির্বাচন হবে। পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কাছে জুলাই সনদ দেয়ার অর্থ হচ্ছে শিয়ালের কাছে মুরগি বন্দক দেয়া ছাড়া কিছুই না।

ঢাকায় নুরুল হক নুরের ওপর হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, এই হামলার সঙ্গে জড়িত সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। সেনাবাহিনীকে যারা বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন তাদের খুঁজে বের করার দাবি জানান তিনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত আপনারা ঠিক করতে পারেননি। তাই এখনই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাক। প্রয়োজনে নির্বাচনের সময় আবারও সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানো হোক।

সংস্কারের আগেই কিভাবে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, কিভাবে নির্বাচন হবে, কোন পদ্ধতিতে হবে তা এখনও আলোচনার টেবিলে। অথচ প্রধান নির্বাচন কমিশনার রোডম্যাপ ঘোষণা করে দিয়েছেন। এই কমিশনের পক্ষে কখনই সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়া সম্ভব নয়, তাই দ্রুত নির্বাচন কমিশন সংস্কারের দাবি জানান তিনি।

সমস্যা হলেও ড. ইউনূস সব রাজনৈতিক দলগুলোকে ডেকে পাঠান, এ নাটক বন্ধ করেন। এই সরকার জানেই না তারা সরকার। কোন ঘটনা ঘটলে সরকার তীব্র প্রতিবাদ জানান। অথচ সরকারের কাজ পদক্ষেপ নেয়া।

এছাড়াও কর্মশালায় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা রহমতুল্লাহ, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাকিল আহম্মেদ, সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সোহেল রানা, এনসিপি মেহেরপুর জেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী আশিক রাব্বি, সদস্য হাসনাত জামান সৈকত, ইমতিয়াজ আহমেদসহ আরো অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।




দামুড়হুদায় ইজিবাইক-আলমসাধু সংঘর্ষে মসজিদের মুয়াজ্জিন নিহত

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ইজিবাইক-আলমসাধু মুখামুখি সংঘর্ষ ইজিবাইকর যাত্রী বরকত আলি (৫৫) নিহত হয়েছেন। নিহত বরকত আলি দামুড়হুদা উপজেলার হাতিভাঙ্গা গ্রামের মৃত বুদাে মোল্লার ছেলে ও হাতিভাঙ্গা মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন।

আজ রোববার (৩১আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মুক্তারপুর মোল্লা বাজার নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

দামুড়হুদা সদর ইউপির ৮ নং ওয়ার্ড সদস্য মুক্তারপুর গ্রামের হাসান আলী জানান, বরকত আলী সকালে কার্পাসডাঙ্গা বাজার থেকে বাজার করে ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক যোগে বাড়ী ফিরছিল।

ইজিবাইকটি দামুড়হুদা – কার্পাসডাঙ্গা সড়কের মুক্তারপুর ফেরিঘাট নামক স্থানে পৌছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুত মাছ বহনকারী স্যালোইঞ্জিন চালিত অবৈধ যান আলমসাধুর সাথে মুখোমুখি ধাক্কা লাগে।

এতে ইজিবাইকটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এময় বরকত আলী সড়কের উপর ছিটকে পড়ে মাথাসহ মুখমন্ডলে আঘাত পেয়ে গুরতর জখম হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মতর্তা হুমায়ন কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখনো কেউ কোন অভিযোগ করেনি অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




তুবা দুআ প্রতিযোগিতায় ফের চ্যাম্পিয়ন

মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও যুগান্তর প্রতিনিধি তোজাম্মেল আযমের নাতনি তাসনিয়া তুবা দুআ প্রতিযোগীতায় স্কুল পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন ও ইনফরমেশন সোসাইটি প্রজেক্টের আওতায় ২য় চাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

রোববার স্কুল ও প্রজেক্টের আওতায় পৃথকভাবে চুড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার গুলশানে গাইডেন্স ইন্টার ন্যাশনাল স্কুল চত্বরে।

তুবা গাইডেন্স ইন্টার ন্যাশনাল স্কুলের ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী। গতবছরও দুআ প্রতিযোগিতায় ২য় চ্যাম্পিয়ন ও স্কুল পর্যায়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার একটি ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।




মেহেরপুরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান

“দেশ ও জনগণের অতন্দ্র প্রহরী” এই স্লোগানকে ধারণ করে মেহেরপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মেহেরপুর জেলা ইউনিট কমান্ড এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম সোনা। শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশনা, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হকের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াস হোসেন, আনছাউল হক, সিরাজুল ইসলাম, মতিয়ার রহমান, কামাল উদ্দিন, রায়হান উল কবীর, আহসান হাবীব, নুরুল হুদা, মীর মনা, জামিল, মাহাবুল হকসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা।

এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা দেশ ও স্বাধীনতার অর্জনকে সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।




বিসিবি’র নির্বাচনে অংশ নেবেন তামিম

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল খান। দীর্ঘদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল বিসিবির প্রশাসনে যুক্ত হতে পারেন দেশের ক্রিকেটের অন্যতম সফল এই ওপেনার। এবার সেই গুঞ্জনকে বাস্তব রূপ দিলেন তিনি। প্রথম ধাপে পরিচালক পদে নির্বাচন করার কথা জানালেন তামিম, ভবিষ্যতে সভাপতি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিলেন না।

দেশের প্রথম সারির এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তামিম বলেন, ‘কেউ আগেভাগে বলতে পারে না যে তিনি সভাপতি হবেন। আমি নিজেও অনেক কিছু দেখি ও শুনি। কিন্তু মূল প্রশ্ন হলো আমি বিসিবি নির্বাচনে অংশ নেব কি না। যদি ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) কথা বলি, সেখানে সরাসরি সভাপতি পদে ভোট হয়। কিন্তু বিসিবি আলাদা। এখানে প্রথমে পরিচালক হতে হয়।’

বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তিনটি ক্যাটাগরিতে পরিচালক নির্বাচিত হন। ঢাকাভিত্তিক ক্লাবের ৭৬ জন কাউন্সিলরের ভোটে ১২ জন, আঞ্চলিক ও জেলা প্রতিনিধিদের ভোটে ১০ জন এবং অন্যান্য প্রতিনিধি কোটায় ১ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। এছাড়া জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) মনোনীত করেন ২ জন পরিচালক। এরপর এই ২৫ জন পরিচালক ভোট দিয়ে সভাপতি নির্বাচন করেন।

তামিম আরও বলেন, ‘যদি দু’জন সভাপতি প্রার্থী হন, তবে পরিচালকরা ভোট দিয়ে সভাপতি বেছে নেন। তাই যদি প্রশ্ন করেন নির্বাচনে অংশ নেব কি না, আমার বলার মতো যথেষ্ট কারণ আছে। এবার আমি পরিচালক পদে নির্বাচন করছি। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য কিছু করতে চাইলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসনে বসতে হবে। আমার বিশ্বাস – যদি আমি বোর্ডে আসি তবে আমার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে। এখনই বলা বোকামি হবে যে আমি সভাপতি হতে চাই। যদি দেখি পর্যাপ্ত সমর্থন আছে, তখন বিবেচনা করবো।’
বিসিবিতে আসার প্রস্তুতি তামিম শুরু করেছেন আরও আগেই। দুটি ক্লাবে সংগঠক হিসেবে বিনিয়োগও করেছেন। তার যেকোনো একটি ক্লাবের কাউন্সিলর হিসেবে পরিচালক পদে নির্বাচন করার সুযোগ রয়েছে।

দেশের ক্রিকেটে যোগ্য নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তামিম বলেন, ‘সবাই বলে ক্রিকেটে রাজনীতি থাকা উচিত নয়। কিন্তু আসলে কী হচ্ছে? একে অপরকে আক্রমণ, গুজব ছড়ানো, এসবই চলছে। অথচ আসল আলোচনা হচ্ছে না, কে ক্রিকেটের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী। অনেকেই পরিচালক হতে চান, কিন্তু আসল মনোযোগ দেওয়া উচিত কারা আসলেই যোগ্য।’

উল্লেখ্য, বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০২১ সালের ৬ অক্টোবর। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে নতুন নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। তার অন্তত ৩০ দিন আগে সভাপতির নির্দেশে বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা কাউন্সিলর মনোনয়নের নোটিশ দেবেন। এরপর নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা প্রস্তুত, সময়সূচী ঘোষণা এবং নির্বাচনের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।

 

সূত্র:- ইত্তেফাক




প্রকৃতি যখন আপন ছন্দ হারায়

একসময় বর্ষা ছিল আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনার প্রধান অনুষঙ্গ। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন “আজি ঝরঝর মুখর বাদলদিনে” আর জীবনানন্দের কাব্যে বর্ষা হতো নরম কুয়াশার মতো এসে পড়া কোনো বিষন্নতা। প্রকৃতির ভেতরে সে সময় চলত ছন্দিত পরিবর্তন পাতা ভিজতো, নদী ফুলতো, আর কৃষকের মন ভরে উঠতো সম্ভাবনার নতুন আলোর আশায়।

কিন্তু এখন? বর্ষা যেন তার অভিমান নিয়ে গুটিয়ে গেছে। বৃষ্টি নামে না দিনকে দিন, কখনও নামে হঠাৎ তীব্র ঝড় হয়ে। মাঠ খরা ধরেছে, কৃষকের চোখে এখন আর প্রতীক্ষার ঋতু নেই আছে শঙ্কা, অনিশ্চয়তা।

এই বদলে যাওয়া প্রাকৃতিক ছন্দ আসলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফল। মানুষ বন কেটেছে, ধোঁয়া ফেলেছে আকাশে, নদীর গতিপথ বদলেছে, আর প্রকৃতিও প্রতিশোধ নিয়েছে তার আপন নিয়মে। মেহেরপুরের মতো এক সময়কার সজল জনপদ এখন খরাপ্রবণ হয়ে উঠেছে। খাল শুকিয়ে যায়, গ্রীষ্মে তাপমাত্রা ছুঁয়ে যায় আগুনের কিনারা, আর বর্ষা আসে দ্বিধায়।

জলবায়ুর এই বিচ্যুতি শুধু আবহাওয়ার কথা বলে না সে বলে মানবসভ্যতার এক গভীর আত্মকেন্দ্রিকতার কথা, যেখানে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কটি কেবল ভোগের হয়ে উঠেছে, যত্নের নয়।

সাহিত্যে প্রাকৃতিক বিপর্যয় বহুবার এসেছে প্রতীক হয়ে কখনও বন্যা, কখনও খরা, কখনও দুর্ভিক্ষ। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাসে আমরা দেখি নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জীবনের জটিলতা, যেখানে নদীর রুদ্র রূপ যেমন ভয়ংকর, তেমনি করুণাও লুকিয়ে থাকে তার মাঝে। কিন্তু আজকের বিপর্যয় ভিন্নতর এটি মানুষের সৃষ্টি এবং তার দায়ও মানুষের।

মেহেরপুরের চাষি এখন আর শুধু প্রকৃতির হাতে নির্ভরশীল নন, তিনি যন্ত্রের সহায়তায় সেচ দেন, কীটনাশকে নির্ভর করেন, কিন্তু তবু আকাশের দিকে চোখ রেখে প্রতীক্ষা করেন।

এই প্রতীক্ষা এক ধরনের ট্র্যাজেডি যেখানে নায়ক জানেন ধ্বংস আসছে, কিন্তু থামাতে পারেন না। অদ্ভুতভাবে, এই বিপর্যয়ের সময়ে মানুষ আবারও গেয়ে ওঠে “আকাশ কেন এত নীল হইলো না গো?”

আবার কখনও কবির ভাষা ধার করে লিখে দেয় খরা-জর্জর জীবনের গল্প “সব নষ্টের মূল এই মানুষ, সে কাড়িয়া লয়, আবার দেয় না ফিরায়।”

এই লড়াই শুধু প্রাকৃতিক নয়, তা অস্তিত্বের, তা মনুষ্যত্বের। ভবিষ্যত হয়তো এই সময়কে বলবে “আবহমান প্রকৃতির বিপরীতে দাঁড়ানো মানুষের এক ভয়াল সময় যেখানে প্রকৃতি কথা বলত না, কেবল আকাশ গুমড়ায় কেঁদে উঠত, আর মানুষ সে কান্না শুনেও ব্যস্ত থাকত নিজের ইট-কাঠের স্বপ্নে। প্রকৃতি যখন তার গান থামিয়ে দেয়, তখন বুঝে নিতে হয়, মানুষের গলায়ও সুর হারিয়েছে।

লেখক ও সাংবাদিক




মেহেরপুরে সাংগঠনিক সফরে আসছেন এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ

আজ রবিবার সাংগঠনিক সফরে মেহেরপুর আসছেন ন্যাশনালিস্ট কনভেনশন পার্টি (এনসিপি)’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক জনাব সরোয়ার তুষার ও কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) জনাব মোল্যা রহামাতুল্লাহ। সফরকালে তাদের সঙ্গে থাকবেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও জেলা প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট সাকিল আহমেদ এবং কেন্দ্রীয় সদস্য ও মেহেরপুরের অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক জনাব সোহেল রানা।

সফরসূচি অনুযায়ী, আজ রবিবার সকাল ১১টায় মেহেরপুর জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জেলা ও উপজেলা সমন্বয় কমিটির সদস্যদের নিয়ে সাংগঠনিক সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। এ কর্মশালায় স্থানীয় নেতৃত্বকে সাংগঠনিক কর্মকৌশল ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে। পরে বিকেল ৪টায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর পর্যটন হোটেলে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

দলীয় সূত্র জানা গেছে, এ সফরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংগঠনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করা, কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধি করা এবং আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করার জন্য মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করা। এছাড়া স্থানীয় সমস্যাবলী ও দলীয় কার্যক্রমে উদ্ভূত সংকট নিরসনেও আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

নেতারা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে এনসিপি মেহেরপুরে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং জেলার তৃণমূল পর্যায়ে দলকে আরও সুসংগঠিত করার সুযোগ তৈরি হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এ সফরকে ঘিরে ইতোমধ্যেই ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।




শহীদ জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র উদ্ধার করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করেন

আমরা চেয়েছিলাম এদেশ থেকে ফ্যাসিবাদ বিতাড়িত হোক, আমাদের দেশের মানুষ গণতন্ত্র ফিরে পাক। অন্তত আমাদের ভোটের অধিকারটা নিশ্চিত হোক। আমরা কোনো সন্ত্রাসবাদী দল নই। আমরা রাতের আঁধারে ক্ষমতা দখলের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা রাতের আঁধারে ভোট চুরিতে বিশ্বাস করি না।

আজ শনিবার মেহেরপুর সরকারি কলেজে মাঠে জেলা বিএনপি’র সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাকশাল থেকে গণতন্ত্রকে উদ্ধার করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া প্রেসিডেন্ট পদ্ধতি থেকে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করেছেনন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা যদি কেউ করে থাকে, সংস্কার যদি কেউ করে থাকে সেই দাবি শুধুমাত্র জাতীয়তাবাদী দল করতে পারে। আর কারো অধিকার নেই।

মেহেরপুর জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক জাভেদ মাসুদ মিল্টনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনে শুধু সকল রাজনৈতিক দল নয়, এই সমাজের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ ওই ছাত্রদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গণঅভ্যুত্থান রচনা করেছিল। আজকে কি এমন ঘটল যে, গণঅভ্যুত্থানের এক বছরের মধ্যেই আমরা কৃতিত্ব দাবি করতে বা আগামী নির্বাচনে আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্থানটি নিশ্চিত করতে গিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের শক্তির মধ্যে বিভেদ রেখা টানতে চলেছি? ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির মধ্যে যদি বিভেদ রেখা টানা যায়, যদি বিভেদ দেখা দেয়, লাভটি কার হয় সেটা নিশ্চয়ই সবাইকে বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। লাভ হয় ওই শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনার দোসর এবং যারা ফ্যাসিবাদের রচয়িতা তাদের।

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান।

উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, ১৬ বছর বাংলাদেশ ছিল গণতন্ত্রহীন, মানবাধিকারহীন। বাংলাদেশে কোনো গণতন্ত্র ছিল না, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা ছিল। দেশের ক্রান্তিকাল যখনই আসে, তখনই জিয়া পরিবারের আত্মত্যাগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ মুক্তি পায়। জিয়াউর রহমানের একাত্তরের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বেগম জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচার এরশাদের পতন হয়েছিল। সর্বশেষ তারেক রহমানের নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ২৪ শে আমরা পেয়েছি নতুন বাংলাদেশ।

জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল হাসানের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু জয়ন্ত কুমার কুন্ডু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আমিরুল ইসলাম, ফয়েজ মোহাম্মদ, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক উদ্দিন আহমেদ, মাগুরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক
আলী আহমেদ, যশোর জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান খান বাবু।

এছাড়াও এসময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোঃ ইলিয়াস হোসেন, আলমগীর খান ছাতু, হাফিজুর রহমান হাফি, মীর ফারুক হোসেন, মোঃ আনছারুল হক, জেলা বিএনপির সদস্য সাবেক পিপি আবু সালেহ নাসিম, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব জাকির হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিব, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এহান উদ্দিন মনা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আজমুল হোসেন মিন্টুসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলন শেষে বিনাপ্রতিদ্বন্দীতায় নতুন কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়।