ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিভাজন বিএনপিতে, একক প্রার্থী জামায়াতে

ছয়টি উপজেলা ও ৬ টি পৌরসভা নিয়ে ঝিনাইদহ জেলায় চারটি সংসদীয় আসন গঠিত। এর আসন গুলো হলো- ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা), ঝিনাইদহ-২ (সদর- হরিণাকুণ্ডু), ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর-মহেশপুর) ও ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ- সদর আংশিক)।

জেলা নির্বাচন অফিসের প্রকাশিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী ঝিনাইদহের ৪টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৫ লাখ ৮৬ হাজার ৬৭৮জন। ভোট কক্ষ-৩হাজার ৫২৪টি ও ভোট কেন্দ্র-৫৯৮টি। আজ তুলে ধরবো ঝিনাইদহ-৪।
ঝিনাইদহ -৪ (সদরের আংশিক ও কালীগঞ্জ)
কালীগঞ্জ উপজেলার ১১টি এবং ঝিনাইদহ সদরের ফুরসন্ধি, নলডাঙ্গা, ঘোড়শাল ও মহারাজপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঝিনাইদহ-৪। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪৪ হাজার ০৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৩ হাজার ৬৭২ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৭০ হাজার ৩২৯ জন। এ আসনে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৬ জন। ভোট কেন্দ্র ১২১টি।
জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আসন কালীগঞ্জ। এই আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী দলীয় মনোনয়নের জন্য যোগায়োগ ও তদবীর শুরু করেছেন। দলীয় কর্মসূচির পালনেও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটের মাঠের হিসেবনিকেশ কষছেন। নিজ নিজ প্রভাব ও অবস্থান জানান দিতে চলছে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের শোডাউন। এমনকি সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থকরা একাধিকবার সংঘর্ষেও জড়িয়েছেন।

এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। এ আসনে বিএনপির তৃণমূলে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছেন তিনি। পেয়েছেন তুমুল জনপ্রিয়তা। তবে এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হামিদুল ইসলাম। তিনিও ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জোরেসোরে। স্থানীয় একটি গ্রুপের মাঝে তার রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা, বিগত সরকারের আমলে তিনি অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এই আসনে অপর সম্ভাব্য প্রর্থী ঝিনাইদহ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব এডভোকেট আকিদুল ইসলাম। তিনি এলাকায় ক্লিন ইমেজের লোক বলে পরিচিত। এই আসনে বিএনপির আরও একজন শক্ত প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী রয়েছেন তিনি হলেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি মরহুম এম শহীদুজ্জামান বেল্টুর স্ত্রী মুরশিদা জামান।এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশিদের মধ্যে চলছে চতুর মুখী লড়াই। এখন দেখা যাক কার হাতে তুলে দেয় ধানের শীষ প্রতিক।
নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার নায়েবে আমীর, প্রবীণ রাজনীতিবিদ মাওলানা আবু তালিব। জামায়াতে ইসলাম তাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। ইতো পূর্বে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী ছিলেন। তিনি নিয়মিত নির্বাচনী মতবিনিময় সভা, কর্মী সমাবেশ ও কৌশলগত পরামর্শে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এছাড়াও এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একক প্রার্থী মুফতী আহম্মেদ আব্দুল জলিল ভোটারদের দৃষ্টি আর্কষণের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এ আসনে জাতীয় পার্টি (ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ) সমর্থিত জাতীয় যুব সংহতির কেন্দ্রীয় সভাপতি হারুন অর রশীদ পার্থী হতে পারেন।

এই আসনে ভোটের মাঠে লড়বেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি প্রভাষক সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জুলাই বিপ্লবে নেতৃত্ব দেয়ায় জেলার তরুণ প্রজন্মের পরিচিত মুখ। তিনি তরুণ ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
ভোটারদের ভাবনা:
উপজেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি সর্বসাধারণের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে ,জুলাই বিপ্লব পরবর্তি নতুন প্রেক্ষাপটে ঝিনাইদহের চারটি সংসদীয় আসনের ভোটারদের মধ্যে মানসিক ব্যাপক পরিবর্তন দেখা গেছে। সাধারণ ভোটারদের কথা, বিগত দুই যুগে দেশে বারবার ভোট হয়েছে, সরকার পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও মানবিক সমাজের তেমন উন্নতি ঘটেনি। ভোটারদের ভাবনা, এবার ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে দেশকে নতুন করে সাজানোর সুযোগ এসেছে। পেশীশক্তির ব্যবহার রোধ, দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি প্রতিরোধ, সামাজিক বিশৃঙ্খলা নিরসনে আসন্ন নির্বাচনে নিরব ভোট বিপ্লবের ইঙ্গিত সাধারণ ভোটারদের। তারা বলছেন, সামাজিক কারণে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সামনে চুপচাপ থাকলেও ভোটের দিন নিরবে পছন্দের যোগ্য, মেধাবী, সৎ ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থীকেই তারা বেছে নিবেন।
ভোটাররা আগামী নির্বাচনে দল-মতের উর্ধ্বে উঠে ক্লিন ইমেজের সৎ, যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের ভোট দিতে চান। তারা বলছেন, পেশিশক্তি প্রদর্শনকারী, ভয়ভীতি দেখানো, টেন্ডারবাজ, দুর্নীতিবাজ ও অসৎ প্রভাবশালী প্রার্থীদের তারা ভোটের মাধ্যমেই জবাব দিবেন। বিগত সময়ে এই আসনটি বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রতিযোগীতা হয়ে আসছে। এবার যেহেতু আওয়ামী লীগ মাঠে নাই সেকারণে বিএনপি জনসর্মথনে একটু এগিয়ে থাকলেও দলীয় কোন্দলে নিজেরা বিপর্যস্ত। এই অবস্থা চলতে থাকলে নির্বাচনে জামায়াত বা বিকল্প কোন প্রার্থীর ভাল করার সম্ভাবনা থাকবে।




মেহেরপুর সরকারি কলেজে ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ অনুষ্ঠান

মেহেরপুর সরকারি কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের বরণ করলো ইসলামী ছাত্রশিবির। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কলেজ কনফারেন্স রুমে জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের আয়োজনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের মেহেরপুর সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি কামরুল ইসলাম নাহিদ। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ব্যবসায় শিক্ষা সম্পাদক গোলাম জাকারিয়া। প্রধান অতিথি ছিলেন মেহেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ কে এম নজরুল কবীর।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জিনিয়াস ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক আল আমিন ইসলাম বকুল, সাবেক ছাত্রশিবির নেতা সোহেল রানা ডলার, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুস সালাম ও সেক্রেটারি সাইদুর ইসলাম। কোরআন তেলাওয়াত করেন আবু হুসাইন।

এ সময় বক্তারা নবীনদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন এবং ক্যারিয়ার সম্পর্কে দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।




মেহেরপুরে দিনব্যাপী আউটরিচ ক্যাম্পেইন

অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মেহেরপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের আয়োজনে আউটরিচ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে মেহেরপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাস থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি কলেজ মোড় ও আমঝুপি নীলকুঠি ও বাজার এলাকায় গান ও প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে কারিগরি শিক্ষার তাৎপর্য ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

আউটরিচ ক্যাম্পেইন ২০২৫-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ মিয়া। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চিফ ইন্সট্রাক্টর (ফার্ম) প্রকৌশলী শফি উদ্দিন, চিফ ইন্সট্রাক্টর (ওয়েল্ডিং) মোক্তার হোসেন মীর, ইন্সট্রাক্টর (অ্যাপারেল) মিনারুল ইসলামসহ সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে কলেজ ক্যাম্পাসে ফিরে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ বিষয়ে বিভিন্ন আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আউটরিচ ক্যাম্পেইনের সমাপ্তি ঘটে।




দামুড়হুদার গোবিন্দহুদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও উপস্থিতির হার বৃদ্ধি করণ উপলক্ষে দামুড়হুদার গোবিন্দহুদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১ টার সময় গোবিন্দহুদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আয়োজনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

গোবিন্দহুদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে এসময় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন গোবিন্দহুদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি রিকাত মালিথা, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন গোবিন্দহুদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান, অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, অভিভাবক সদস্য আজাদুল ইসলাম আজাদ খাঁনসহ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ, বিদ্যালয়ে অধ্যায়ণরত ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকবৃন্দ।

অভিভাবক সমাবেশে বক্তারা স্কুলে ছাত্র – ছাত্রীদের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও নিয়মিত উপস্থিতির হার বৃদ্ধির লক্ষ্যে বক্তব্যে বলেন আমাদের ক্ষেত খামার, চাকরি, ব্যবসাসহ জীবন ধারণের জন্য আমরা নিয়মিত যে সময় ও মূলধন ব্যয় করি ঠিক তেমন ভাবে নিয়ম করে প্রতিদিন আমরা যারা ছাত্র ছাত্রীর অভিভাবক আছি আমাদেরকে নিয়মিত আমার সন্তানের শিক্ষার মান ও সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য সময় ও মূলধন বিনিয়োগ করতে হবে। কোন ভাবেই অবহেলা করা যাবে না। আমার সন্তান কোথায় যায়, কী করে, কাদের সঙ্গে মেলামেশা করে নিয়মিত খোজ খবর নিতে হবে। নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছে কিনা, লেখা পড়া করেছে কীনা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে অভিভাবক হিসাবে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে। ডিজিটাল যুগে আমাদের উঠতি বয়সী সন্তানের হাতে আমরা হর হামেশাই দামী মোবাইল ফোন ও দামী মটর বাইক তুলে দিচ্ছি যা আমাদের সন্তানকে আমরা বিপথগামী ও মৃত্যুর মূখে ঠেলে দিচ্ছি। এই অবস্থা থেকে বের হবার পথ খুজতে হবে এবং সন্তানকে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে আগামীর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হিসাবে গড়ে তুলতে হবে।




“মেহেরপুর জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

গাংনীতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “মেহেরপুর জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় গাংনী উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে দিনব্যাপী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন, গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আনোয়ার হোসেন। সেমিনারে নগর উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন গঠনমূলক বক্তব্য দেন গাংনী উপজেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ।

এসময় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আহম্মেদ আকতারুজ্জামান, ব্যাবস্তাপক, মো সাইফুর রহমান, ইয়ারুন নেছা ও পরামর্শক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।




গাংনীর রামকৃষ্ণপুর সীমান্তে সাড়ে ২৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রামকৃষ্ণপুর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ২৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ২৫০ টাকা।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বিজিবি।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভোর ৫টার দিকে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এর রামকৃষ্ণপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। সীমান্ত পিলার ১৫৭ এর মেইন পিলার থেকে প্রায় ৩০০ গজ ভেতরে মদনের ঘাট নামক স্থানে হাবিলদার মো. আমিরুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ভারত থেকে পাচার হয়ে আসা ২৫ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করতে সক্ষম হয় বিজিবি সদস্যরা।

উদ্ধারকৃত গাঁজার সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৯ হাজার ২৫০ টাকা। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। বিজিবি জানায়, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




গাংনী পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের ভূতুড়ে বিলে দিশেহারা গ্রাহক

মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গাংনী জোনাল অফিসের মিটার রিডার ও বিল প্রস্তুতকারী বিলিং অ্যাসিস্ট্যান্টদের বিরুদ্ধে ভূতুড়ে বিলে দিশেহারা গ্রাহকরা। হঠাৎ বিল বেশি এলেও গ্রাহকদের অভিযোগ করার জায়গা নেই।

এতে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা পড়ছেন নানা বিড়ম্বনায়। তবে কর্মকর্তা বলছেন, বিল বেশি হওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আবাসিক মিটার ব্যবহারকারীর অভিযোগে জানা গেছে, চলতি বছরের জুন মাসের বিল ১ হাজার ৩৬ টাকা, জুলাই মাসের বিল ১ হাজার ২৭৬ টাকা হলেও বর্তমান আগস্ট মাসের ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিল এসেছে ৩০ হাজার ৬৮৪ টাকা। যা দৃশ্যত প্রস্তুতকৃত বিলে চরম গরমিল ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

ভূতুড়ে বিলের এমন ঘটনাটি ঘটেছে গাংনী উপজেলার রায়পুর গ্রামের গ্রাহক শ্রী মদু দাসের ছেলে শ্রী সন্নাসী দাসের ক্ষেত্রে। যার মিটার নং: ০০১০৩৮৩০। সন্নাসী দাস জানান, আমি একজন দিনমজুর। দীর্ঘদিন যাবৎ গাংনী জোনাল অফিসের আওতায় বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আসছি।

বিগত বছর ও মাসগুলোতে কখনও ভূতুড়ে বিল আসেনি। প্রতি মাসেই গড়ে ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা বিল করা হয়ে থাকে। চলতি আগস্ট মাসে ৩০ হাজার টাকার বেশি বিল দেখে আমি হতবাক। এখন এত টাকা আমি কীভাবে পরিশোধ করব?

তিনি স্থানীয় লোকজনের পরামর্শে গাংনী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএমকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি বলেন, মিটারের রিডিং অনুযায়ী বিল ঠিক আছে। আপনি একবারে দিতে না পারলে মাসে মাসে দিয়ে পরিশোধ করবেন।

শুধু সন্নাসী দাস নয়, এমন ভূতুড়ে বিলের অভিযোগ অনেকের। বিষয়টি ভোক্তা অধিদপ্তরকে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।

মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গাংনী জোনাল অফিসের ডিজিএম বিজয় কুন্ড জানান, যদি মিটার রিডিংয়ে গরমিল থেকে থাকে, তদন্ত করে বিলের সমন্বয় করা হবে।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, এমন ঘটনায় আমাদের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। যদি কোনো গ্রাহক অভিযোগ করেন, তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




দর্শনায় গলায় ট্যাবলেট আটকে মারা গেল ৫ বছরের শিশু

দর্শনা থানার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নে গলায় ট্যাবলেট আটকে রোকসানা আক্তার নামের পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ধান্যঘরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

রোকসানা উপজেলার দর্শনা থানার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের ধান্যঘরা গ্রামের টুটুল হোসেনের মেয়ে।

শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় মঙ্গলবার রাতে রোকসানাকে ট্যাবলেট সেবন করাচ্ছিলেন তার মা। ট্যাবলেটের দুই ভাগের এক ভাগ পানি দিয়ে খাওয়াতে গেলে সেটি শিশুটির গলায় আটকে যায়। এতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন পরিবারের সদস্যরা। এ সময় সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ মো. ফরহাদ হোসেন শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।




আলমডাঙ্গায় পুকুরে ডুবে দিনমজুরের মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌরসভার পশুহাট এলাকার একটি পুকুরের পানিতে ডুবে খাইরুল ইসলাম (৩৫) নামে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টার পর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

মৃত খাইরুল ইসলামের বাড়ি উপজেলার কুমারী ইউনিয়নের লস্কর আলী পাড়ায়। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর।

পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, খাইরুল দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও মৃগী রোগে ভুগছিলেন।

স্থানীয় শ্রমিকেরা জানান, এদিন সকালে খাইরুলসহ কয়েকজন শ্রমিক পৌরসভার পশুহাট এলাকার একটি বড় পুকুরে কচুরিপানা পরিষ্কার করার কাজে যোগ দেন। সারা দিন কাজ শেষে সন্ধ্যায় সবাই বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নেন। তবে খাইরুলকে তখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রথমে ধারণা করা হয় তিনি হয়তো বাড়ি ফিরে গেছেন। কিন্তু খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পুকুরের পানিতে তার মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। স্থানীয় শ্রমিক ও এলাকাবাসী মরদেহটি উদ্ধার করে। খাইরুল দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। হঠাৎ এভাবে মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান জানান, মৃগী রোগের কারণে খাইরুল পানিতে ডুবে মারা যান বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেহেতু পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই, তাই আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।




আলমডাঙ্গায় যৌথবাহিনীর অভিযানে ২০০ কেজি কারেন্ট জাল জব্দ

আলমডাঙ্গায় যৌথবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার দুপুরে পৌরসভার পশুহাট এলাকায় চালানো অভিযানে প্রায় ২০০ কেজি জাল উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু ব্যক্তি নিষিদ্ধ এই কারেন্ট জাল ব্যবহার করে স্থানীয় জলাশয় ও খাল-বিলে নির্বিচারে মাছ শিকার করছিল। এতে দেশীয় প্রজাতির মাছ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিষ কুমার বসুর নেতৃত্বে যৌথবাহিনী অভিযান চালায়।

অভিযানে উপস্থিত আলমডাঙ্গা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, কারেন্ট জাল মাছের জন্য ভয়াবহ। ছোট-বড় সব মাছই এতে আটকা পড়ে। এমনকি মাছের ডিম-পোনাও রক্ষা পায় না। ফলে মাছের প্রজনন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এজন্য আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি।

অভিযানে অংশ নেওয়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে মৎস্যসম্পদ রক্ষা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অসাধু ব্যবসায়ীরা এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবে।

সরকার কারেন্ট জালের উৎপাদন, বিক্রয় ও ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও গোপনে এখনো এসব জাল ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বুধবারের এ অভিযান এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, নিয়মিত অভিযান হলে নদী-খাল-বিলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য টিকে থাকবে এবং মাছের প্রজনন ও প্রজাতি রক্ষা পাবে।