ঝিনাইদহে বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের দুই ঘন্টার কর্মবিরতি

ঝিনাইদহে বিচার বিভাগীয় কর্মচারীরা দুইঘন্টা ব্যাপি কর্মবিরতি পালন করেছে।

সোমবার (৫ মে) সকালে ডিসি কোর্টের সামনে বিভিন্ন দাবিতে বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারি এ্যাসোসিয়েশন ঝিনাইদহ জেলা শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচী পালন করে।

বিচার বিভাগের জন্য সূপ্রীম কোর্টের অধীন পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের সহায়ক কর্মচারীগণকে বিচার বিভাগের সহায়ক কর্মচারী হিসেবে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস বেতন স্কেলের আলোকে বেতন ভাতা প্রদান, বিদ্যমান জুডিসিয়াল সার্ভিসের বেতন স্কেল ৭ম-১২তম গ্রেডভুক্ত করা এবং বিদ্যমান ব্লকপদ বিলুপ্ত করে যুগোপযোগী পদ সৃজনপূর্বক যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতির সুযোগ রেখে স্বতন্ত্র নিয়োগ বিধি প্রণয়নের দাবীতে তারা এই কর্মবিরতী পালন করেছে। অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের সহায়ক কর্মচারীগণ নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণভাবে কর্মবিরতি পালন করে।

ঝিনাইদহ জেলা শাখার সভাপতি আমাদ উদ্দীনের সভাপতিত্বে বক্তব রাখেন বিচার বিভাগীয় কর্মচারি এ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় নেতা ও ঝিনাইদহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আসাফ উদ দৌলা মাসুম, এছাড়াও কোর্টের নাজির সাইফুল ইসলাম নান্নু, সিজেএম আদালতের নাজির হাবিবুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।




মেহেরপুরে ভোক্তার অভিযানে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

মেহেরপুরে দুটি রেস্টুরেন্ট ও এক ব্যবসায়ীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর। আজ সোমবার দুপুরে শহরের রেস্টুরেন্টে অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

মেহেরপুর শহরের সেভেন সেন্স রেস্টুরেন্টে অনুমোদন বিহীন ফ্লেভার রাখার দায়ে ৫ হাজার টাকা, শর্মা ফুড প্লাজায় অনিরাপদ খাদ্য সংরক্ষণ ও কুপন প্রতারণার কারনে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং বিক্রমপুর ট্রেডার্স নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অনিবন্ধিত বিভিন্ন পণ্য বিক্রির দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মামুনুল হাসান। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা রিয়াজ মাহমুদ, সদর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর তারিকুল ইসলামসহ পুলিশের একটি টিম।

অভিযানে প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিককে নিরাপদ আবার তৈরীর বিষয়ে আরো সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়াও বাজার সমিতির নেতৃবৃন্দকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেয় অভিযান দলটি।




গাংনীর হৃদয় হত্যা মামলায় কমল চেয়ারম্যান কারাগারে

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চরগোয়াল গ্রামের চাঞ্চল্যকর রিদয় হত্যা মামলার এজাহার নামীয় ১০ নম্বর আসামী ওবায়দুর রহমান কমলকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

সোমবার (৫ মে) দুপুরে বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন কররলে বিজ্ঞ বিচারক মোঃ জাহিদুর রহমান তাকে জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতের প্রেরণের নির্দেশ দেন।

ওবায়দুর রহমান কমল বামন্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি রামনগর গ্রামের বাগু বিশ্বাস এর ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুর জেলার গাংনী থানাধীন চরগোয়ালগ্রামে ঈদগাহের গেট ভাঙ্গাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের সূত্র ধরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসের ২৬ তারিখ দুপুর ১২ টার দিকে এজাহারনামীয় আসামীগণ রিদয়কে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে এবং হামলায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়।

হত্যা ও হামলার ঘটনায় নিহতের পিতা শাহাদত হোসেন বাদী হয়ে রামনগর গ্রামের আজাদ আলীর ছেলে জান্নাতকে প্রধান আসামি করে এজাহার নামীয় ১২জন অজ্ঞাত আরো ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে গাংনী থানার একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। যার নম্বর ২৫, তারিখঃ ২৭/০২/২০২৫ ইং ধারা-১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩০৭/৩০২/৪২৭/৫০৬/৩৪ দঃ বিঃ

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মেহেরপুর জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ওই মামলার ১০ আসামী ওবায়দুর রহমান কমল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ তাকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে। বিজ্ঞ আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নির্দেশ দেন। একই সাথে আসামীর জামিন আবেদন নাকোচ করে তাকে মেহেরপুর জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ছিলেন এ এস এম সাইদুর রাজ্জাক টোটন।

উল্লেখ্য, ঘটনার দিন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসের ২৬ তারিখ বিকেলে মামলার এজহার নামীয় প্রধান আসামী রামনগর গ্রামের আজাদ আলীর ছেলে জান্নাত ও মামলার ছয় নম্বর এজাহার নামীয় আসামী সাইদুর রহমান মিলন মেম্বারকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।




গাংনীতে গাঁজাসহ ব্যবসায়ী আটক, সেবনকারীর জেল

মেহেরপুরের গাংনীতে এক কেজি গাঁজাসহ জেমস প্রকাশ মন্ডল (৫৫) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী এবং শাহির আলী (৪৫) নামের এক মাদকসেবীকে আটক করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

সোমবার (৫ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাংনী উপজেলার জুগিন্দা গ্রামের চার্চ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটক জেমস প্রকাশ মন্ডল জুগিন্দা গ্রামের অমরেন্দ্র মন্ডলের ছেলে। অপরদিকে, মাদকসেবী শাহির আলী উপজেলার ঢেপা গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাহির আলীকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রীতম সাহা এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। দুপুরেই তাকে গাংনী থানা পুলিশের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মদনমোহন সাহা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

অধিদপ্তরের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চার্চ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়। এ সময় শাহির আলীকে গাঁজা সেবনের সময় হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে জেমস প্রকাশ মন্ডলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শয়নকক্ষে হলুদ স্কচটেপে মোড়ানো একটি পোঁটলা থেকে এক কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩০ হাজার টাকা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, জেমস প্রকাশ মন্ডল দীর্ঘদিন ধরে গোপনে এলাকায় মাদক বিক্রি করে যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছিলেন।

তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দিয়ে গাংনী থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।




সাকিব-মাহমুদউল্লাহর যে রেকর্ড ভাঙলেন রিশাদ

বেঞ্চ থেকে ফিরেই বাজিমাত করেছেন রিশাদ হোসেন। লাহোর কালান্দার্সের বাকি সবাই যখন দেদারসে রান বিলিয়েছেন, টাইগার লেগি তখন রাশ টেনে ধরেছিলেন কিছুটা। হার অবশ্য রুখতে পারেনি, এক্সট্রা অর্ডিনারি কিছুও করতে পারেননি। তবে দলের হারের দিনে রিশাদ পেয়েছেন দারুণ এক রেকর্ডের দেখা।

পাকিস্তানের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ পিএসএলে রিশাদ ছাড়িয়ে গেছেন বাংলাদেশের দুই তারকাকে। পাকিস্তানের এই লিগটিতে আগে খেলে গেছেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কোয়েটা গ্লাডিয়েটরসের হয়ে মাহমুদউল্লাহ এবং সাকিব খেলেছিলেন পেশোয়ার জালমি ও করাচি কিংসের হয়ে। দুজনেই সমান ৮ উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন। সাকিব ও মাহমুদউল্লাহর ইকোনমি ৭.৬৬ ও ৭.৯০। এই দুজনকেই দুইয়ে নামিয়ে বাংলাদেশিদের মাঝে শীর্ষ দখল করেছেন রিশাদ।

টানা তিন ম্যাচ বেঞ্চে বসার পর একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন রিশাদ। ব্যাটিংয়ে কিছু করতে পারেননি। বোলিংয়েও দলের পক্ষে ব্যবধান গড়তে পারেননি। ১৫ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ১৬০ রানের পুঁজি পেয়েছিল লাহোর। বোলারদের ব্যর্থতায় তা মাটি হয়েছে। এই হারে শেষ চারে থাকার শঙ্কায়ও পড়ে গেছে শাহিন শাহ আফ্রিদিদের দল।

রিশাদ ব্যাট হাতে এক বল খেলেছিলেন, রান করতে পারেননি। বোলিংয়ে তিন ওভারে খরচ করেছেন ২৮ রান। নিজের করা প্রথম ওভারে ৭ রান খরচা করে ফেরান করাচির টপঅর্ডার ব্যাটার জেমস ভিন্সকে। দ্বিতীয় ওভারে দেন ১৩ রান। শেষ ওভারে ৮ রান খরচ করেন রিশাদ। দলের বাকিদের মাঝে তিনিই দ্বিতীয় কেউ যিনি ১০ এর নিচে (৯.৩৩) ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন। এদিনের এক উইকেটেই রিশাদ ভেঙেছেন সাকিব-মাহমুদউল্লাহর রেকর্ড উইকেট।

পিএসএলে শুরুর দিকে উড়ছিলেন রিশাদ। লেগ স্পিনে কাঁবু করছিলেন প্রতিপক্ষকে। টানা কয়েকটি ম্যাচে দাপুটে থাকা রিশাদ এক সময় আসরের শীর্ষ উইকেটশিকারী বোলারও ছিলেন। ৫ ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে তালিকায় এখন ১১ নম্বরে বাংলাদেশি বোলার। ওভারপ্রতি খরচ করছেন ৮.৭০ করে রান। রিশাদের দল লাহোর ৯ ম্যাচে সংগ্রহ করেছে ৯ পয়েন্ট। নাহিদ রানাদের পেশোয়ার জালমি বাকি তিন ম্যাচের তিনটিতে জিতলে, বিদায় ঘণ্টা বাজবে রিশাদদের।

সূত্র: যুগান্তর




মেহেরপুরে বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের কর্মবিরতি

স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং ন্যায্য পে-স্কেল নিশ্চিতকরণসহ একাধিক দাবিতে সারাদেশের মতো মেহেরপুরেও দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন বিচার বিভাগীয় কর্মচারীরা।

সোমবার (৫ মে) সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন, মেহেরপুর জেলা শাখার আয়োজনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

কর্মবিরতি চলাকালে বক্তারা বলেন, ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর ‘মাসদার হোসেন’ মামলার রায়ের প্রেক্ষিতে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হলেও আজও বিচার বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। ফলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হয়নি।

তাদের অভিযোগ, শুধুমাত্র বিচারকদের জন্য পৃথক পে-স্কেল, বিচারিক ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হলেও সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। এছাড়াও, পদোন্নতির সুযোগ সীমিত হওয়ায় অনেকেই দীর্ঘদিন একই পদে থেকে অবসরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

তারা আরও বলেন, বর্তমানে জেলা ও দায়রা জজ (১ম গ্রেড) জেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ পদমর্যাদার বিচারিক কর্মকর্তা হলেও অধস্তন কর্মচারীদের বেশিরভাগই ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডে চাকরি করছেন। অন্যান্য দপ্তরের তুলনায় তাদের পদোন্নতির সুযোগ কম এবং ব্লক পদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় কর্মজীবনে উন্নতির সুযোগ মেলে না।

কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন, মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি ও চীফ জুডিশিয়াল স্টেনোগ্রাফার শেখ মোহাম্মদ আহসানুল হক।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, জাকির হোসেন, সফিকুল ইসলাম (প্রধান তুলনাকারক, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত), অফিস সহায়ক বেদেনা বাবলী, প্রধান তুলনাকারী সহকারী আমিনুল ইসলাম এবং আব্দুল মুত্তালিবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




হরিণাকুণ্ডু প্রতিবন্ধী স্কুলে ফ্রী মেডিক্যাল ক্যাম্পের উদ্বোধন

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে এনজিও পরিচালিত “মেঘলা আকাশ” প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ও এতিম খানা উন্নয়ন সংস্থায় ফ্রী মেডিক্যাল ক্যাম্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দুই দিন ব্যাপী এই মেডিক্যাল ক্যাম্পের প্রথম দিন (৪ মে) রবিবার সকাল ১০ টায় এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। হরিণাকুণ্ডুর লোহা পোট্টিতে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ সালে হাটি হাটি পা-পা করে শুরু হয়ে আজ শতাধিক শিক্ষার্থী ও দশ জন শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়ে সুনামের সহিত মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

মেঘলা আকাশ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ও এতিম খানা উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক মাজেদা খাতুনের সভাপতিত্বে, ফ্রী মেডিক্যাল ক্যাম্পে সমাপনি দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বি এম তারিক-উজ জামান।

এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মুন্সী ফিরোজা সুলতানা, সমাজ সেবা কর্মকর্তা শিউলী রানী উপস্থিত থাকবেন।

দুই দিন ব্যাপী এই মেডিক্যাল ক্যাম্পে চিকিৎসা দিচ্ছেন ফিজিওথেরাপি কনসালট্যান্ট ডাঃ মোঃ শামিম হোসেন, থেরাপী সহকারী উজ্জ্বল হোসেন।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ঝিনাইদহ প্রতিবন্ধি সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের অডিওমেট্রিশিয়ান ঝংকার আলী। দুই দিনের ফ্রী মেডিক্যাল ক্যাম্পে চিকিৎসায় থাকছে ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপী, স্পিচ এন্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপী, স্টেক প্যারালাইসিস থেরাপী, মেরুদন্ড, কোমর, ঘাড়, হাড়ের ব্যাথার থেরাপী, হাত পা অবস হওয়া, শুকিয়ে যাওয়া, ঝিনঝিন করার থেরাপী।

এছাড়াও জানা গেছে, মেঘলা আকাশ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ও এতিম খানায় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার খোঁজ নিতেই বিশেষ এই আয়োজন করা হয়েছে।




ঝিনাইদহে জ্যোতিষের কার্যালয়ে ভাংচুর ও আগুন

ইসলাম ধর্ম নিয়ে ফেসবুকে অবমাননাকর পোস্ট করাই সাঈদ নামে এক ব্যক্তির কার্যালয়ে ভাংচুর ও আসবাবপত্রে আগুন দিয়েছে মুসল্লিরা।

শনিবার (৩ মে) সন্ধ্যার পরে ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই সড়কের সাদাতীয়া মসজিদ সংলগ্ন বিউটি সুপার মার্কেটে “রাশিফল নির্ণয় জ্যোতিষ গণনা কার্যালয়” নামে মোল্লা মোঃ আবু সাঈদ চিশতীর কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

মাগরিবের নামাজ পড়ে বিক্ষুব্ধ মুসল্লিরা একজোট হয়ে এই ঘটনা ঘটায়। এসময় মুসল্লিদের নেতৃত্ব দেন জেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি ডাঃ মোমতাজুল করিম। আগুন দেওয়ার সময় জ্যোতিষ আবু সাঈদ কার্যালয়ে ছিলেন না।

মুসল্লিদের অভিযোগ জ্যোতিষ মোল্লা মোঃ আবু সাঈদ নামাজ নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট করেছেন ফেসবুকে। যেকারণে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মনে আঘাত পেয়েছেন। এই ঘটনায় এশার নামাজ পড়ে সাদাতীয়া মসজিদের ঈমাম মুফতি ইসমাইল হোসেন বেলালীর নেতৃত্বে জ্যোতিষ আবু সাঈদকে গ্রেফতারের দাবিতে মিছিল করা হয়। মোল্লা মোঃ আবু সাঈদ চিশতী বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোলজার্স সোসাইটির সদস্য। তার রেজি নং ১৯৪৫(১২১)৯৮।

অভিযোগের বিষয়ে তার মোবাইল নাম্বারে কল করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

সাদাতীয়া মসজিদের ঈমাম মুফতি ইসমাইল হোসেন বেলালী বলেন, সদর থানার ওসি জ্যোতিষ আবু সাঈদকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করে আইন হেফাজতে নিবেন বলে আশ্বস্থ করেছেন। তিনি বলেন, আমরা কোন ধর্মের বিপক্ষে নই। তবে কেউ ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করলে সহ্য করবো না।




শৈলকুপায় সরকারি গাছ কেটে নিলো বিএনপি নেতা!

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নে প্রকাশ্যে সরকারি জায়গার গাছ কেটে নিয়েছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা।

গতকাল শনিবার সকালে কাতলাগাড়ী-লাঙ্গলবাধ সড়কে কাতলাগাড়ী বালিকা বিদ্যালয়ের জিচে সেচ খালের পাড়ের মেহগনি গাছ কেটে নিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে শৈলকুপার সারুটিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বাবলু ও তার ভাই পল্টু এবং চাচা শৈলকুপা নাগরিক কমিটির সভাপতি আব্দুল মজিদ মাস্টার গাছটি কেটে নিয়েছে।

সকালে ঘটনার সংবাদ সংগ্রহে গেলে শৈলকুপা প্রেসক্লাবের সদস্য রাজিব মাহমুদকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করারও চেষ্টা করে অভিযুক্তরা।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওই এলাকার দ্বায়িত্বে থাকা কার্যসহকারী রশীদ হোসেন বলেন, “যদি গাছটি তাদের জায়গায় হয়ে থাকে, তাহলে তা কাটতে পারবে। তাছাড়া সরকারি জায়গার গাছ কাটার কোন অধিকার নেই। গাছ কাটলে আমি আমার অফিসকে জানাবো। তারা তাদের মত ব্যবস্থা নিবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাতলাগাড়ী বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, দিনের আলোয় সরকারি জায়গা থেকে গাছ কেটে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এই বাবলু এলাকায় এর আগেও এমন কাজ করেছে। সকালে পুলিশ এসেছিলো কিন্তু তারাও গাছ কাটা বন্ধ করতে পারেনি।

এ ব্যাপারে শৈলকুপা থানার ওসি মাসুম খান ও কাতলাগাড়ী পুলিশ ক্যাম্পের এ এস আই রবিউল ইসলামকে একাধিকার ফোন দেওয়া হলেও তারা ফোন রিসিভ করেন নি।

অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা বাবুল বলেন, গাছটি আমাদের লাগানো। আর পানি উন্নয়ন বোর্ড আমাদের গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছে বলেই কেটেছি।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কাজী মহসীন উদ্দিন বলেন, আমাদের জায়গার গাছ আমরা কি করে কাটার অনুমতি দিব। উনারা আমাদের কাছ থেকে কোন অনুমতি নেয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাছ কেটে নিলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করব।




শৈলকুপায় কৃষকদল নেতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় কৃষকদল নেতা ও তার ছেলের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে এক নারীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আদালতে কৃষকদলের নেতাসহ চার জনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেছেন। শুধু ধর্ষণ আর গর্ভপাতই নয়, প্রেম ও বিয়ের অভিনয় করে ওই নারী কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ৭ লাখ টাকা।

এদিকে শৈলকুপা থানায় নির্যাতিত ওই নারী পৃথক একটি অভিযোগও করেন। সেই অভিযোগ তদন্ত করে পুলিশ সত্যতা পান। এ খবর নিশ্চত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সম্রাট মন্ডল।

ভুক্তভোগী নারীর মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছর ধরে ওই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন নাজমুল খন্দকার নামের এক যুবক। নাজমুল খন্দকার শৈলকূপা উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব কামরুল ইসলামের ছেলে। ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নাজমুল খন্দকার নিয়মিত শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। তাদের সম্পর্কের বিষয়টি নাজমুলের গোটা পরিবার জানার পরে তারা মেনে নেয়। এরপর ওই নারী নাজমুলের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী নারী গর্ভবর্তী হয়ে পড়লে নাজমুল ও তার পরিবার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা কৌশলে ওই নারীকে ঝিনাইদহ শহরের হামদহ এলাকার রয়েল ক্লিনিকে ভর্তি করে গর্ভপাত ঘটায়।

ভুক্তভোগীর নারীর অভিযোগ, চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগেই নাজমুল খন্দকার ও তার বাবা-মা তাকে হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে নাজমুল খন্দকার ও তার বাবা-মায়ের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও ওই নারী কোনো সমাধান পাননি। পরে তিনি শৈলকুপা থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে থানা মামলা গ্রহণ করেনি। নাজমুল খন্দকারের বাবা কামরুল ইসলাম রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ওই নারীকে নানা ভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, দুই বছর ধরে নাজমুলের সঙ্গে তার সম্পর্ক। তার বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত থাকায় পরিবারের সবাই তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু অবাধ মেলামেশার কারণে গর্ভবতী হয়ে পড়লে ছেলের পরিবার তাকে মারধর করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দেয়।

এ বিষয়ে কৃষকদল নেতার ছেলে নাজমুল খন্দকার বলেন, ওই নারীর অভিযোগ সত্য নয়। সে একজন প্রতারক। তার নামে থানায় কোনো মামলা হয়েছে কিনা তিনি এখনো জানেন না।

নাজমুলের পিতা শৈলকুপা কৃষক দলের সদস্য সচিব কামরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগকারী মহিলা সম্পর্কে আমি খুব বেশি কিছু জানি না। তবে সে আমার বাড়িতে আসা যাওয়া করত এটা জানি। গর্ভপাত ও হাসপাতালে ভর্তির বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তিনি নিউজটি এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

শৈলকূপা থানার এসআই সম্রাট মন্ডল জানান, ওই নারির অভিযোগ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রাথমিক ভাবে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তিনি জানান, এ নিয়ে যদি আদালতের কোন নির্দেশনা আসে তবে সে মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

শৈলকূপা থানার ওসি মাসুম খান গত শুক্রবার রাতে জানান, এ বিষয়ে শৈলকুপা থানায় আদালতের নির্দেশে মামলা নথিভুক্ত হয়েছে, মামলা নং ০৪/২৫। তিনি জানান, ভুক্তভোগী নারি সম্ভবত খুবই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। তাকে প্রলোভনে ফেলে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতের আদেশ হাতে পেয়েছি। আদালত মামলা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।