মেহেরপুরে নানা আয়োজনে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ পালিত

মেহেরপুরে ‘অভয়াশ্রম গড়ে তুলি, দেশি মাছে দেশ গড়ি’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫ পালিত হয়।

সোমবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় এ উপলক্ষে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ ও একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়।

র‌্যালিটি জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অঃ দাঃ) সাধন চন্দ্র সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তরিকুল ইসলাম।

এছাড়াও এসময় সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবির আনসারী, জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহিম, সদর উপজেলা মৎস্য অফিসার ফাতেমা কামরুন নাহার আঁখি, সিনিয়র সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মীর জাকির হোসেন, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক আমিনুল ইসলামসহ মৎস্যজীবী আব্দুল মাজেদ, আসেদ আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে মৎস্য চাষে বিশেষ অবদান রাখা চাষিদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং পরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।




দামুড়হুদায় আখ চাষী সমাবেশ অনুষ্টিত

দামুড়হুদা উপজেলার লোকনাথপুরে আখ চাষী সমাবেশ অনুষ্টিত হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে লোকনাথপুর মাধ্যমিক বিদ‍্যালয়ে এ আখ চাষী সমাবেশে অনুষ্টিত হয়।

আখ চাষী সমাবেশে সভায় সভাপতিত্ব করেন, বিশিষ্ট আখচাষী জামাল হোসেন। প্রধান অতিথী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, কেরুজ চিনিকলের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান। এ সময় তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ রোপন ও মাড়াই মৌসুমে আখরোপণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন গুনগত মানসম্পন্ন আখ সরবরাহ করতে হবে। আপনারা ভালো জাতের আখ লাগাবেন আপনারা লাভবান হবেন। আপনাদের কথা চিন্তা করে আগামী বছর আখের মৃল্য বৃদ্ধি করার চিন্তা করছে বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনি শিল্প করপোরেশন।

এ সময় বিশেষ অতিথী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, কেরুজ চিনিকলের জিএম কৃষি আশরাফুল আলম ভূইয়া এবং ডিজিএম (সম্প্রসারণ) মাহবুবুর রহমানসহ প্রায় শতাধীক আখচাষী উপস্থিত ছিলেন।




এনডিএম পার্টির গাংনী উপজেলা কমিটি গঠন

জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) পার্টির মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলায় তিন বছর মেয়াদী কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে। গতকাল রবিবার দলের মহাসচিব মোমিনুল আমিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি ঘোষনার বিষটি নিশ্চিত করেছেন।

গাংনী উপজেলা কমিটিতে মহিদুল ইসলাম উজ্জল কে সভাপতি এবং আহসান হাবিব কে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়। এছাড়া ফরিদা ইয়াসমিন দিপা কে সিনিয়র সহ- সভাপতি, শহিদুল ইসলামকে সহ সভাপতি, ইয়াসাদ আজিম রনিকে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক, মাহাফুজ্জামান কে যুগ্ম সম্পাদক, সাইফুল ইসলামকে সাংগঠনিক সম্পাদক, মোফাজ্জল হোসেনকে কোষাধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমানকে দপ্তর সম্পাদক, তারিক মাহমুদকে প্রচার সম্পাদক করে কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। একই কমিটিতে নির্বাহী সদস্য হিসেবে আছেন, হামিদুল ইসলাম, রাসেল আহমেদ, সোহনুর রহমান সোহান, রেবেকা খাতুন, আসমা খাতুন, লিপি সরকার ও শরিফুল ইসলাম।

এনডিএম এর গাংনী উপজেলা কমিটিকে জেলা উপজেলার সকল শ্রেনী-পেশার মানুষ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সেই সাথে দলের নেতাকর্মীরা জনগণের পক্ষে কাজ করবে এমন প্রত্যাশা করেন জেলার সর্বসাধারণ।




মেহেরপুরে মোখলেসুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের ফরম বিতরণের উদ্বোধন

মেহেরপুর জেলা সদরের চুয়াডাঙ্গা সড়কে সন্ধ্যানী সংস্থার পরিচালনায় মোখলেছুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য নার্সারি থেকে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত ভর্তি ফরম বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

গতকাল রবিবার বিকালে নির্মাণাধীন বিল্ডিং এ কাজের উদ্বোধন করেন, সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মহাঃ আবু জাফর। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, সন্ধানী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান, সন্ধ্যানী সংস্থার কোর্ডিনেটর জাকি আল জাকওয়ান নিবিড়, সংস্থার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান, ভাইস প্রিন্সিপাল রাজু আহমেদ, মাধ্যমিক শাখার একাডেমিক প্রধান আক্তার হোসেন, প্রাথমিক শাখার একাডেমিক প্রধান ও নুতন শাখার প্রধান হিসেবে  দায়িত্বপ্রাপ্ত  সাইফুর রহমান মিরন, সন্ধ্যানী নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রধান শাহনাজ পারভীন, অভিভাবক আশিক উর রহমান, আরিফ হোসেনসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও ফরম নিতে আসা অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আবু জাফর ডঃ মোখলেছুর রহমান সম্পর্কে বলেন, তিনি ছাত্র জীবন থেকেই সামাজিক কাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ লরে যাচ্ছেন। করমদি গ্রামে হাসপাতাল নির্মাণ, সেলাই প্রশিক্ষন কেন্দ্র তৈরী, স্কুল তৈরী, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরী সহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান তৈরী করেছেন। আমরা সংস্থার পক্ষ থেকে তাকে সম্মানিত করার জন্য মেহেরপুরের এই প্রতিষ্ঠানের নাম ওনার নামে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি যদিও প্রথমে তিনি রাজী ছিলেন না।

তিনি আরও জানান, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ও মেহেরপুর জেলা কে শিক্ষাক্ষেত্রে আরও এগিশে নেয়ার জন্য গাংনীর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মেহেরপুরে মোখলেসুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ চালু করতে যাচ্ছি। তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠান আপনাদের সকলের। আপনাদের সহযোগিতায় এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টি একটি মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবো। আগামীতে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয় চালু হলে এখান থেকে ভাল মানের শিক্ষার্থী বের হতে  বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে।

তিনি জানান, শিক্ষার পাশাপাশি এক্সাকারিকুলাম এক্টিভিটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারিরীকভাবে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাবে। এ প্রতিষ্ঠানের জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। আগমাী বছর ২০২৬ সালে নার্সারি থেকে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম চালু হবে। প্রতিবছর ধাপে ধাপে শ্রেণী সংখ্যা বাড়তে থাকবে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য যে, গাংনীতে সন্ধ্যানী সংস্থা পরিচালিত স্কুলটি জেলার অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। এ বছর সন্ধ্যানী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৩৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে ৬২ জন জিপিএ ৫ সহ সবাই পাশ করে জেলায় প্রথম হয়েছে।




মেহেরপুরে পাটের ভালো ফলনেও দামে হতাশ কৃষক

মেহেরপুরে এবার পাটের ভালো ফলন হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশ কৃষকরা। জমি চাষ, সার, বীজ, পানি, শ্রমিক-সবকিছুতেই খরচ বেড়েছে, কিন্তু বাজারে ন্যায্য দাম মিলছে না। এবছর পাটের দাম মন প্রতি ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবী চাষীদের।

এভাবে লোকসান হলে আগামীতে পাট চাষ থেকেমুখ ফিরিয়ে নেবেন চাষিরা।

পর পর বেশ কয়েক বছর সোনালী আঁশ পাটের দাম ছিল নিম্নগামী। “কৃষকরা যে দামে পাট বিক্রি করেন, তাতে খরচই উঠে না। প্রতি বছরই লোকসানে যাচ্ছেন কৃষক।” তবে, এবছর সেই দাম কিছুটা বেড়ে বাজারে এখন সাড়ে ৩ হাজার টাকা মন বিক্রি হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ কোনো রকম উঠলেও লাভবান হচ্ছেন না কৃষক। পাটের মন প্রতি সরকার চার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা মন নির্ধারণ করার দাবী তাদের।

কৃষকরা জানিয়েছেন, সার, বিষ, পরিবহন খরচ ও শ্রমিকের মজুরি আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। যার ফলে লাভ তো দূরের কথা, মূলধনই ফিরে পাওয়ায় সংশয় দেখা দিচ্ছে।

“সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া কৃষকের এই অবস্থা থেকে উত্তরণ কঠিন। দাম নির্ধারণ করা হলে কৃষক উৎসাহ পাবে।” স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সরকার পাটের মূল্য নির্ধারণ করে সরাসরি পাট সংগ্রহের ব্যবস্থা নিলে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন কৃষক।

মেহেরপুর জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে জেলায় এবছর ১৬ হাজার ৬৩০ হেক্টর জামিতে পাট চাষ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও মূল্য না পেলে কৃষকের মুখে হাসি ফোটে না। তাই টেকসই পাটখাতে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই সময়ের দাবি।

ইচাখালী গ্রামের কৃষক ইদ্রিস আলী জানান, এক বিঘা জমিতে তিনি পাচ চাষ করেছিলেন। জমি চাষ, বীজ বপন, সেচ ও নিড়ানি খরচ বাবদ প্রায় ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা খরচ হয়। ওই জমিতে ১০মন পাট হয়েছে। বিক্রি হয়েছে ২ হাজার টাকা মন। খরচ উঠছে কোন রকম। লাভ হচ্ছে না।

ঊন্দও গ্রামের কৃষক বাবর আলী বলেন, প্রতি বছরই পাটে লোকসান হচ্ছে। তবুও আশায় আশায় পাটের আবাদ করি। এবছরেও দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। খরচের টাকা টা কোন রকমে উঠছে। শুধু পরিবারে জ্বালানী হিসেবে পাটকাঠির জন্য আবাদ করি। তবে আগামিতে আর পাটের আবাদ করবো না। বিকল্প আবাদে যাবেন তিনি।

নওপাড়া গ্রামের কৃষক মোছাদ্দেক আলী, ধলা গ্রামের কৃষক জাবের আলী বলেন, আমরা কৃষকম। লাভ আর লোকসান বুঝতে গিয়ে বার বার লোকসান হচ্ছে। তবে পাটের দাম সরকারি ভাবে বৃদ্ধি করা না হলে দেশ থেকে সোনালী আশ এ অঞ্চল থেকে হারিয়ে যাবে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় এবছর ১৬ হাজার ৬৩০ হেক্টর জামিতে পাট চাষ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও মূল্য না পেলে কৃষকের মুখে হাসি ফোটে না। তাই টেকসই পাটখাতে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই সময়ের দাবি।

গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার ইমরান হোসেন বলেন, কৃষি বিভাগ কৃষকের পাশে থেকে কাজ করছেন। পাট চাষিরা যেনো ন্যায্য মূল্য পাই এবং দালাল ফঁড়িয়া দারা প্রতারিত না হয় সে লক্ষে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের লোকসানের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।




মেহেরপুরের বারাদীতে বিএডিসি শ্রমিকদের বিক্ষোভ সমাবেশ

বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশনের আন্দোলন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিএডিসি, বারাদী কৃষি খামারে ২০২৫ এর নীতিমালা বাতিল ও ২০১৭ সালের নীতিমালা বহালের দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে খামার শ্রমিকেরা।

রবিবার বিকাল সাড়ে ৫ টায় মেহেরপুর বীজ উৎপাদন খামার প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রমিকদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বারাদী খামার প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে বারাদী বাজার প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে প্রতিবাদ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০২৫ সালে যে শ্রমিক নীতিমালা তৈরী করা হয়েছে তা শ্রমিকদের স্বার্থ বিরোধী। আমরা এই নীতিমালা বাতিল ও ২০১৭ সালের নীতিমালার বাস্তবায়ন চাই।

এ সময় বক্তব্য রাখেন চিৎলা ভিত্তি পাটবীজ খামার শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুস সাত্তার, যুগ্ন সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, চিৎলা খামার শ্রমিক ইউনিয়ন উপদেষ্টা আক্তারুজ্জামান ও বারাদী খামার শ্রমিক সর্দার রফিকুল ইসলাম নান্নু।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বারাদী ফার্ম শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মুকুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালামসহ খামারের বিভিন্ন ব্লকের শ্রমিকেরা।




দর্শনায় ৫২টি গাঁজার গাছসহ চাষি আটক

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় গাঁজা গাছসহ রেজাউল হক (৪৪) নামে এক চাষিকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার (১৭ আগস্ট) ভোরে উপজেলার শৈলমারি গ্রাম থেকে তাকে আটক করে দর্শনা থানাধীন বেগমপুর ক্যাম্প পুলিশ। আটক রেজাউল হক একই গ্রামের আমজাদ মণ্ডলের ছেলে।

দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদ তিতুমির জানান, শৈলমারি গ্রামে মাদকদ্রব্য গাঁজার চাষ হয়েছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। পরে বাড়ির পাশে তার নিজ বাগানের মধ্যে থেকে ছোট বড় ৫২টি গাঁজা গাছ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত গাছের আনুমানিক ওজন ১৫ কেজি।

আটক আসামির বিরুদ্ধে দর্শনা থানায় মাদকদ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে।




ঝিনাইদহে ৬ লেন প্রকল্পের জমির মূল্য নির্ধারণে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

মংলা বন্দরের সাথে উত্তরাঞ্চলসহ সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থয়ানে ২০২০ সালের ২৪ নভেম্বরে একনেক সভায় ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে যশোরের চাচড়া পর্যন্ত ৪৭.৪৮ কিলোমিটার সড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণের প্রকল্প পাস হয়। সেমসময় উইকেয়ার ফেজ-১: ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক (এন-৭) উন্নয়ন প্রকল্প’র প্রাক্কলিত ব্যয় মূল্য ধরা হয় ৪১৮৭.৭০১৭ কোটি টাকা, মেয়াদ নির্ধারিত হয় ২০২১ সালের পহেলা জানুয়ারি হতে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ ও মূল্য। তবে গতকাল রবিবার (১৭ আগস্ট) পর্যন্ত একটি উপজেলারও ভূমি অধিগ্রহণ শেষ করতে পারেনি ঝিনাইদহ ও যশোরের জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা। অধিগ্রহণের তালিকাভুক্তদের নানা অভিযোগ ও আপত্তি উপেক্ষা করেই গত ৮ আগস্ট ভূমির দাম নির্ধারণ করে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীরা তা প্রত্যাখ্যান করে মানববন্ধন করেছে। গত ১০ আগস্ট সকালে জেলার কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে তারা মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন থেকে জমির সঠিক মূল্য দাবিসহ ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সার্ভেয়ার রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনৈতিক টাকা দাবি, হয়রানি ও বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরেও প্রকল্পটির কাজ শেষ করতে না পারার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে এই সড়কে খানা খন্দে ভরে গেছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ পিচের উপর ফ্ল্যাট সলিং দিয়ে কোথায় ভাঙ্গা ইট দিয়ে দুই বছরে প্রায় ৪/৫ কোটি টাকার ক্ষুদ্র মেরামত ও সংস্কারের কাজ করেছে। কিন্তু তাতেও সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না।

তথ্য অনুসন্ধানে জানাগেছে, ২০২০ সালের ২৪ নভেম্বর একনেক সভায় পাস হওয়া প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৪১৪৭.৭০১৭ কোটি টাকা। মেয়াদ ধরা হয় ২০২১ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। সেসময় ভূমি অধিগ্রহণ ও পূনর্বাসন বাবদ ধরা হয় ৮৮৬.৮৯ কোটি টাকা। পরবর্তীতে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয় ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং ব্যয় মূল্য বৃদ্ধি করে ধরা হয় ৬৬২৬.৭৩ কোটি টাকা। বর্ধিত ব্যয়ে ভূমি অধিগ্রহণ ও পূনর্বাসন বাবদ ধরা হয় ২৬৫০.২৭ কোটি টাকা। এই প্রকল্পে মোট ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে ৩৭৩.১৩ একর। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর (উইকেয়ার)। ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল থেকে যশোরের চাচড়া পর্যন্ত ৪৭.৪৮ কিলোমিটার সড়কটি ৩টি লটে ভাগ করে তত্ত্বাবধায়ন করছে উইকেয়ার। ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল থেকে কালীগঞ্জ মাহতাব উদ্দিন সরকারি ডিগ্রি কলেজ গেট পর্যন্ত লট-১(১৫.৯ কিমি), কালীগঞ্জ মাহতাব উদ্দিন সরকারি কলেজ গেট থেকে যশোরের মান্দারতলা পর্যন্ত লট-২(১৫.৮ কিমি) এবং মান্দারতলা থেকে চাচড়া পর্যন্ত লট-৩(১৫.৮ কিমি)। লট-১ এর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এলআরবিসি-এমআইএলজেভি ৮৫৪.৭৭ কোটি টাকার চুক্তি মূল্যে কার্যাদেশ পায় ২০২৪ সালের ৪ জানুয়ারি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এএমএলকিউটিসিজিজেভি ৭৩৭.৮১ কোটি টাকা লট-২ ও ৮৯৭.৭৩ কোটি টাকার চুক্তিমূল্যে কার্যাদেশ পান ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ও ১৭ জানুয়ারি।

সড়কে থাকবে একটি ফ্লাইওভার, চারটি সেতু, ৫৫টি কালভার্ট, পাঁচটি ভেহিকুলার ওভারপাস, আটটি পেডিস্ট্রিয়ান ওভারপাস ও একটি রেলওয়ে ওভারপাস। এছাড়াও প্রকল্প করিডোরকে স্মার্ট হাইওয়েতে রূপান্তর করার লক্ষ্যে ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম ও অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল ডিজাইন করা হবে। পৌর এলাকার মধ্যে ৪ লেন ও পৌর এলাকার বাইরে ৬ লেনে উন্নীত করা হবে রাস্তা।
ঝিনাইদহ পৌর এলাকার ভুটিয়ারগাতি, ছোট কামারকুণ্ডু থেকে শুরু করে কালীগঞ্জের বারোবাজার ইউনিয়নের শেষ সীমানা পর্যন্ত ভূমি মালিকদের শতশত অভিযোগ ও আপত্তি থাকলেও সেগুলো আমলে না নিয়ে নিজেদের খেয়াল খুশি মতো কাজ করছেন এমন অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।

জানাগেছে, এলএ(সাধারণ) ২/২০২২-২৩ ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় ও এলএ(সাধারণ) ১/২০২২-২৩ মামলায় কালীগঞ্জ উপজেলায় জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। লট-১ অঞ্চলে ব্যক্তি মালিকানা জমি রয়েছে ৯১.৮৬ একর, সরকারি সংস্থার ১.৫২ একর, লট-২ অঞ্চলে ব্যক্তি মালিকানা জমি রয়েছে ১৩২.২২ একর এবং লট-৩ অঞ্চলে ব্যক্তিমালিকানা জমি রয়েছে ৭১.৫৭ একর এবং সেনানিবাসের ৮.০৮ একর জমি রয়েছে। ঝিনাইদহ জেলার মধ্যে জেলা পরিষদের জমি রয়েছে ১৪৫.৪৬ একর। মোবারকগঞ্জ সুগার মিলের জমির মধ্যে মিল এলাকায় ১.৬৬ শতক, সদর উপজেলার বিষয়খালী মৌজায় ১৩ শতক, কালীগঞ্জের বারোবাজারে ৪৩ শতক, সাত মাইলে ৬৩ শতক জমি অধিগ্রহণ হচ্ছে। তবে ৩.১৫ শতক জমির মোট ১৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা গ্রহণের জন্য গত শনিবার সুগার মিলে নোটিশ পাঠিয়েছে ভূমি অধিগ্রহণ শাখা। জেলা পরিষদের জমি বাবদ জেলা পরিষদের অনুকূলে টাকা দেওয়া হবে না এমন কথাও শোনা যাচ্ছে।

রবিবার কালীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত শহিদুল ইসলাম, আবু জাফর ও মোফাজ্জেল হোসেনসহ প্রায় দুইশতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সঠিক মূল্য চেয়ে মানববন্ধন করেছেন এবং প্রধান উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে স্মারকলিপি পাঠিয়েছেন। তারা ঘন্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এক ঘন্টা তারা সড়কে কোন যানবাহন চলাচল করতে দেননি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যেই জমির বাজারমূল্য বর্তমানে ২০ থেকে ৩০ লাখ সেখানে সরকার তাদের ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা দিচ্ছে। জমিতে থাকা স্থাপত্যেরও সঠিক মূল্য নির্ধারিত হয়নি। সার্ভেয়ার রিয়াজুল ইসলাম যাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা পেয়েছেন তাদের জমি ও ভবনের সঠিক শ্রেণিতে দাম নির্ধারিত হয়েছে।

কালীগঞ্জের আড়পাড়ার বাসিন্দা ও শহরের ঝরনা প্রিন্টিং প্রেসের মালিক আবু জাফর বলেন, আড়পাড়া মৌজার ১৮৫ নং খতিয়ানের ১১.১৫ শতক জমির মধ্যে ৩.১৫ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। এই পুরো জমিতে তাদের একটি দ্বিতল ভবন রয়েছে। নিচে প্রিন্টিং প্রেস, দোকান ও উপরে একটি ডিজিটাল ফটোল্যাব রয়েছে। ল্যাবটি শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত। তিনি বলেন, প্রথম নোটিশ পেয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় গেলে সার্ভেয়ার রিয়াজুল তাদের জমি অধিগ্রহণ হচ্ছে না বলে তাকে ফিরিয়ে দেয়। পরে তিনি আবারও খোঁজ নিতে যান। তিনি বলেন, আমাদের এই জমি ও ভবন কালীগঞ্জ শহরের টপ পজিশনে অবস্থিত। কিন্তু সার্ভেয়াররা জ্বরাজীর্ণ ভবন ও নিম্ন শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করে আমাদের ঠকিয়েছে। আপত্তি দাখিল করতে গেলেও তারা বিভিন্ন অজুহাতে নেননি। ল্যাবের বিষয়ে রিয়াজুলের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি এমপি আনারের ভয় দেখান। চলতি বছরের ২৬ মে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন (৯২৭৪/২০২৫ ) দায়ের করেন আবু জাফরের পরিবার। হাইকোর্টের বিচারক মোঃ আকরাম হোসেন চৌধুরী ও দেবাশীষ রায় চৌধুরী ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসককে আপত্তি গ্রহণের নির্দেশ দিলেও তারা গ্রহণ করেননি।

রবিবার সকালেও ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সামনে ২০ থেকে ৩০ জন অভিযোগকারীর সাথে কথা হয়।

কালীগঞ্জের বাদেডীহী গ্রামের আব্দুল মালেক বিশ্বাসের ছেলে জিনাত বলেন, আমার জমির রেট দেচ্ছে মাত্র ৪৫ হাজার টাকা শতক। এই জমি বর্তমানে ২০ লাখের উপরে শতক বিক্রি হচ্ছে। আমরা মাঠের জমি বিক্রি করে ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এই জমিতে বিল্ডিং করেছিলাম। সরকার আমার জমি ও বিল্ডিং বাবদ যা দিচ্ছে তা দিয়ে আমার জমির চার ভাগের একভাগও কিনতে পারবো না।

একই গ্রামের গোলাম নবীর ছেলে রোকনুজ্জামান বলেন, ২০০৫ সালে বিদেশ থাকা অবস্থায় আমি বারোবাজারে ৩ লাখ টাকা শতক যে জমি কিনেছি সেই জমি সরকার এখন ৪৫ হাজার টাকা করে শতক দিতে চাচ্ছে। এই জমির বাজার মূল্য এখন ২০ লাখের উপরে। সরকার আমাকে পথে বসিয়ে দিচ্ছে।

পিঠাপুকুর গ্রামের ভোলাই বিশ্বাসের ছেলে রবিউল ইসলাম বলেন, বাজারের উপরে আমার ২৩ শতক জমি আছে। এই জমিতে পাকা ভবনে ২২টি দোকান নির্মাণ করা রয়েছে। তার মধ্যে ৬ শতক জমি অধিগ্রহণ হচ্ছে। আমার জমির দাম দিচ্ছে ৫৫ হাজার টাকা শতক ও মার্কেটের ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৮ লাখ টাকা।

বাবুল আক্তার নামে একজন জানান, তাদের ২.৯৬ শতক জমি অধিগ্রহণ হচ্ছে। এর মধ্যে ০.৯০ শতক জমি ডাঙ্গা শ্রেণি দেখানো হয়েছে। আমি ঝিনাইদহ ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় আপত্তি দাখিল করলে সরজমিনে তদন্তে আসেন কর্মকর্তারা। তারা সরজমিনে আমাদের ভূল স্বীকার করে সংশোধন করে দিবেন বলে জানালেও তা আর করেননি। আমি সার্ভেয়ার রিয়াজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করেও কোন প্রতিকার পায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, এলএ (সাধারণ) ১/২০২২-২৩ মামলায় জমির মালিকদের ২০২৩ সালের ২৬ জুন থেকে ভূমি অধিগ্রহণ আইনের ৪এর ১ ধারার নোটিশ দেওয়া শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে নোটিশ দেওয়ার সময় গ্রহণকারীদের তারিখ বিহীন স্বাক্ষর নেওয়া হয়। কয়েক মাস ধরে এই নোটিশ বিতরণ করা হয়েছে এক এনজিওর মাধ্যমে। আইন অনুযায়ী নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে আপত্তি দাখিলের নির্দেশ রয়েছে। তারিখ বিহীন স্বাক্ষরের ফাঁদে পড়ে অনেকেই আপত্তি দাখিল করতে গিয়ে জানতে পারেন আপত্তি দাখিলের মেয়াদ নেই।
সার্ভেয়ার রিয়াজুল ইসলামকে যারা অনৈতিক সুবিধা দিয়েছেন তাদের জমি সঠিকভাবে শ্রেণিবদ্ধ হয়েছে এমন অভিযোগও রয়েছে। ঝিনাইদহ ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের সাথে সখ্যতা থাকায় বেজায় দাপুটে ছিলেন সার্ভেয়ার রিয়াজুল ইসলাম। রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে ঘুরলেও তার দাপটের কারণে কেউ সুবিধা করতে পারেনি। রিয়াজুল ইসলাম কালীগঞ্জের ফারিস্ট কোল্ডস্টোরেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পূর্বের ধারণকৃত ভিডিও পরিবর্তন করে বিপুল টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, রিয়াজুল ইসলাম সাতক্ষীরার নীল ডুমুর এলাকায় বিজিবির একটি প্রকল্পে ১৫ লাখ টাকার ঘুষ কেলেংকারীতে ঝিনাইদহে শাস্তিমূলক বদলি হয়ে আসেন। ঝিনাইদহে এসে সাবেক এমপি আনারের দাপটে কালীগঞ্জ এলাকার ভূমি অধিগ্রহণে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ উপার্জন করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কথা যারা বলছেন তাদের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বর্তমান সময়ে জমি অধিগ্রহণে শ্রেণি পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই। সার্ভে করার সময় ম্যাজিস্ট্রেট ছিল। তিনি যেভাবে বলেছেন সেইভাবে লিখেছি।

ঝিনাইদহ ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা আহমেদ সাদাত বলেন, এসব বিষয়ে আমাকে কেউ এখনো জানায়নি বা আমি কোন লিখিত অভিযোগ পায়নি।

উইকেয়ার ফেজ-১ প্রকল্পের ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার মোঃ নিলন আলী বলেন, জমি অধিগ্রহণ শেষ করতে না পারায় আমরা কাজ করতে পারছি না। লট-১ অঞ্চলে ৭.২৫ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। তবে অন্যান্য লটে ২ শতাংশের নিচে। বিদ্যুতের পোল সরানো হয়নি। এই কারণে আমরা রোডস এন্ড হাইওয়ের জমিতেও কাজ করতে পারছি না। অধিগ্রহণ শেষ হলেই আমরা দ্রুত কাজ শেষ করবো।




বাংলাদেশে সবার অধিকার সমান : সেনাপ্রধান

সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘বাংলাদেশে সবার অধিকার সমান। এই দেশে ধর্ম-বর্ণের কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। আমরা সবাই সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে চলছি, ভবিষ্যতেও চলব।’

গতকাল শনিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই দেশে শত শত বছর ধরে হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান, পাহাড়ি-বাঙালি, উপজাতি—সবাই মিলে আমরা অত্যন্ত শান্তিতে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আজকের এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার হবে সম্প্রীতির এই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ আমরা সব সময় বজায় রাখব এবং একসঙ্গে সবাই শান্তিতে সুন্দরভাবে বসবাস করব। এখানে কোনো ধর্ম-জাতি, বর্ণ-গোত্রের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। এই দেশ সবার।

সবাই আমরা এই দেশের নাগরিক। প্রতিটা অধিকার আমাদের; সবার সমান অধিকার এবং সেভাবেই আমাদের সামনের সোনালি দিনগুলো দেখতে চাই।’
ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘এখানে নৌবাহিনীর প্রধান ও বিমানবাহিনীর প্রধান আছেন। সারা দেশে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন আছে।

আমরা সবাই মিলে আপনাদের পাশে থাকব। এক হয়ে আপনাদের সঙ্গে কাজ করে যাব।’
তিনি আরো বলেন, ‘ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ুক। এই আদর্শের ভিত্তিতে আমরা সুন্দরভাবে এ দেশে একসঙ্গে বসবাস করব।’

অনুষ্ঠানে বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান বলেন, ‘শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা শুধু অসত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসই জোগায় না, ন্যায়ের পথেও চলতে শেখায়।’

‘এই বাংলাদেশ আমাদের সবার। স্বাধীনতাকে রক্ষা করা আমাদের সবার পবিত্র দায়িত্ব। সবাই মিলে কাজ করলে বিশ্বের মানচিত্রে এই বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারব’, যোগ করেন বিমানবাহিনীর প্রধান।

নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘আসুন, পারস্পরিক সহনশীলতার মাধ্যমে দেশকে আরো শক্তিশালী করি। শ্রীকৃষ্ণ যেন সমাজে ন্যায় ও আলোর সত্য প্রজ্জ্বলিত করেন।’

পরে প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে তিন বাহিনীর প্রধান জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পলাশীর মোড় থেকে শুরু হয় জন্মাষ্টমীর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি রাজধানীর বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে।

সূত্র: কালের কন্ঠ ।




মেহেরপুরে হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন

মেহেরপুরে হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ১২ দিনব্যাপী বিউটিফিকেশন প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করা হয়েছে।

রবিবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক আশাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তরিকুল ইসলাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজের মূলধারার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের অন্যতম উদ্যোগ। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হিজড়া জনগোষ্ঠী পেশাগত দক্ষতা অর্জন করে সমাজে মর্যাদার সাথে এগিয়ে যেতে পারবে।

এসময় সমাজসেবা অফিসার (রেজিঃ) কাজী মো. আবুল মনসুর, সরকারি শিশু পরিবারের (বালক) তত্ত্বাবধায়ক মো. তৌফিকুল রহমান, সমাজসেবা শহর কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. সোহেল মাহমুদসহ সমাজসেবা বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয় আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ চলবে আগামী ১২ দিনব্যাপী।