সাংবাদিকের বাড়িতে চুরি ও পরোক্ষভাবে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা

মেহেরপুর সদর উপজেলার মল্লিকপাড়ায় দৈনিক কালবেলার জেলা প্রতিনিধি খান মাহমুদ আল রাফির বাড়িতে প্রকাশ্য দিবালোকে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দুর্ধর্ষ চুরি ও পরোক্ষভাবে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মেহেরপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মেহেরপুর সদর থানায় ১৭ জুন ২০২৫ তারিখে দায়েরকৃত মামলাটি ১২ নম্বর মামলা হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় সাংবাদিক রাফি বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন এবং উপরের তলায় তার বৃদ্ধ মা ও ছোট ভাই ছিলেন। ১৫ জুন বেলা আনুমানিক ১২টা ৪৫ থেকে ২ টার মধ্যবর্তী সময়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাদের বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় দুর্বৃত্তরা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তারা বিষয়টি প্রথমে এলাকা ভিত্তিক লোডশেডিং বলে ভেবেছিলেন। পরবর্তীতে তারা দেখতে পান বাড়ির মেইন গেটের পাশে থাকা বিদ্যুৎ মিটারের তার কেটে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন করা বৈদ্যুতিক তার সংযোগসহ বাড়ির প্রধান ফটোকে জুড়ে দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে চুরি হয়েছে ৮ হাজার ২০০ টাকা মূল্যের বিদ্যুৎ সংযোগের তার ও ৩৫ হাজার টাকা বাজার মূল্যের তিনটা ছাগল।

মামলার বিষয়ে মেহেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ নিশ্চিত করে বলেছেন, অভিযোগটি গ্রহণ করে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য এর আগে গত ১৬ জুন সোমবার ঘটনার বিস্তারিত দৈনিক মেহেরপুর প্রতিদিনে প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল ১৫ জুন রবিবার মেহেরপুর শহরের মল্লিকপাড়ায় দৈনিক কালবেলার জেলা প্রতিনিধি খান মাহমুদ আল রাফির বাড়িতে রহস্যজনক ও প্রাণঘাতী একটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সংঘটিত এই চুরিকে নিছক চুরি নয়, বরং সাংবাদিককে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভয়ভীতির মাধ্যমে থামিয়ে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।

তবে যা সবচেয়ে ভয়াবহ, তা হলো — চুরির পর বাড়ির বৈদ্যুতিক লাইনের তার গেটের উপর থাকা লোহার তারকাটায় সংযুক্ত করে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। এটি যেকোনো সময় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হতে পারত। এ কারণে এটি শুধু চুরি নয়, বরং একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিককে ভয় দেখানোর জন্য পরিকল্পিত মৃত্যুফাঁদ বলেই ধারণা করছেন এলাকাবাসী।




মেহেরপুর সদর উপজেলাকে মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: ইউএনও খায়রুল ইসলাম

মেহেরপুর সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ খায়রুল ইসলাম বলেছেন, মেহেরপুর সদর উপজেলা যেন বাংলাদেশে একটি মডেল হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। আমরা সকলের সহযোগিতা নিয়ে সে চেষ্টা করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, এখানে বসবাসকারী কেউ অশান্তি ভোগ করেন না। এই উপজেলার সকল ধর্মের মানুষ অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে বসবাস করেন। তিনি বলেন, ইসলাম আমাদের যে শিক্ষা দিয়েছে সে শিক্ষা মেনে বসবাস করতে হবে। কোন ধর্মেই হত্যা, হিংসা-বিদ্বেষেকে স্থান দেয় না। তিনি বলেন, মানুষ খারাপ হতে পারে, কিন্তু ধর্ম খারাপ নয়।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ খায়রুল ইসলাম আজ মঙ্গলবার দুপুরের দিকে মেহেরপুর সদর উপজেলা পরিষদ হল রুমে পিস ফ্যাসিলিটিটর গ্রুপ (পিএফজি)’র উদ্যোগে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

পিএফজি’র পিস এম্বাসেডর সিরাজ উদ্দীনের সভাপতিত্বে সংলাপ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক সিরাজুল মুনির, পুলিশ পরিদর্শক সেলিম উদ্দিন, সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মনিরুল ইসলাম, সমাজসেবা অফিসার আনিছুর রহমান। কার্যক্রম ও মুল প্রতিপাদ্য উপস্থাপন করেন দি হাঙ্গার প্রোজেক্টের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রাজু জাভেদ।

মুজাহিদ মুন্নার সঞ্চালনায় সংলাপ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, খাদ্য কর্মকর্তা এরশাদ আলী, মেহেরপুর জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি হাফেজ মাওলানা রোকনউদ্দিন, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী সাহিদাতুন্নেসা নয়ন, আব্দুস সাত্তার মুক্তা, সঞ্জয় মুখার্জী, জন পি বিশ্বাস প্রমুখ।

সংলাপে অন্যদের মধ্যে ইমাম জামাল উদ্দিন, সামিউল ইসলাম, শাহিন আলম, ইদ্রিস আলী, আব্দুল ওহাব, সাইফুল ইসলাম বকুল, জিল্লুর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আজমল হোসেন মিন্টু, সাবেক কাউন্সিলর পলি খাতুন, সোনিয়া আক্তার, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক সঞ্জীব পাল বাপি, লিপিকাদে, অনন্যা রানী দাসীসহ বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




ঝিনাইদহে ট্রাক ড্রাইভারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার একটি পুকুর পাড়ের বটগাছের ডাল থেকে মধু হোসেন (২৮) নামের এক ট্রাক ড্রাইভারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। মৃত মধু ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়নের হীরাডাঙ্গা গ্রামের বিল্লাল ড্রাইভারের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে পুকুর পাড়ের বটগাছের ডালে মধুর লাশ ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেয়ে স্থানীয়রা। পরে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

মধুর ছোট ভাই পরশ জানায়, মধু প্রায় পাঁচ-ছয় মাস ধরে বিকাশ কুমার নামের এক ব্যক্তির গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে তার বাবার সঙ্গে মনোমালিন্য চলছিল। যে কারণে প্রায় ২-৩ মাস ধরে সে বাড়িতে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। সোমবার বিকেলে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে বলে, “আমার ভুল হয়ে গেছে, তোরা সবাই আমাকে ক্ষমা করে দিস।”

চাচাতো ভাই এনামুল জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মধু তার মামাতো ভাই রমজান হোসেনের সঙ্গে ছিলেন। পরদিন সকালে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের উত্তর-পশ্চিম পাশে বড় পুকুরের ধার ঘেঁষে একটি বটগাছে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তারপরও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।




ঝিনাইদহ পলিটেকনিক শিক্ষার্থী বন্যা’র মৃত্যুর বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের কম্পিউটার ডিপার্টমেন্টের তৃতীয় সেমিস্টারের মেধাবী শিক্ষার্থী বন্যা খাতুনের মৃত্যুর সঠিক বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কে ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দর ব্যানারে তার মৃত্যুর ঘটনায় সঠিক বিচারের দাবিতে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের মেধাবী শিক্ষার্থী বন্যা খাতুনের মৃত্যুর সঠিক বিচার ও তার স্বামী শৈলকুপা উপজেলার ত্রিবেনী ইউনিয়নের পদমদি গ্রামের সোহান আলীর বিরুদ্ধে শৈলকুপা থানায় মামলা গ্রহন না করলে তা আদালতের মাধ্যমে বিচারের দাবিতে তার সহপাঠী শিক্ষার্থীরা এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। সেসময় বক্তব্য রাখেন, নিহতের পিতা জাহাঙ্গীর হোসেন, মাতা শারমিন খাতুন, ভাই রিপন হোসেন ও সহপাঠী শিক্ষার্থী মীম খাতুন, তৌফিক আহমেদ, শাহেদ আলীসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীবৃন্দ।

উল্লেখ্য, পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের কম্পিউটার ডিপার্টমেন্টের তৃতীয় সেমিস্টারের মেধাবী শিক্ষার্থী বন্যা খাতুন গত রোববার ১৫ জুন সকালে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের কানাপুকুরিয়া নামক স্থানে রহস্যজনকভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছে।




কালীগঞ্জে ১৬ পিচ ককটেলসহ বিএনপি কর্মী আটক

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার পীর গোপালপুর গ্রাম থেকে ১৬ পিচ ককটেলসহ রাজ্জাক মোল্লা নামের এক বিএনপি কর্মীকে আটক করেছে যৌথবাহিনী।

গতকাল সোমবার রাতে ৩ টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত রাজ্জাক মোল্লা ওই গ্রামের আবসার আলী মোল্লার ছেলে।

কালীগঞ্জ থানার ওসি শহিদুল ইসলাম হাওলাদার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতে জামাল ইউনিয়নের পীর গোপালপুর গ্রামে অভিযান চালায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী। সেসময় রাজ্জাক মোল্লার বাড়ি থেকে ১৬ টি ককটেল ও ককটেল তৈরীর উপকরণ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বলেন, আটককৃত রাজ্জাক মোল্লা কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আবু তাহেরের পিতা এবং বিএনপির একজন কর্মী। তবে তার কাছ থেকে যে ককটেল পাওয়া গেছে এর দায়ভার সংগঠন নেবে না।




গাংনীতে স্কুলের পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পুকুরে ডুবে ফাহিম হোসেন (৮) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে।

নিহত ফাহিম হোসেন জোড়পুকুরিয়া গ্রামের জাহিদ হোসেনের ছেলে এবং স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র।

আজ মঙ্গলবার (১৭ জুন) বেলা দুইটার দিকে পুকুরে ডুবে মারা যায় শিশুটি।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, কয়েকজন শিশু স্কুল মাঠে ফুটবল খেলছিল। অসাবধানতাবশত ফাহিম পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর তার মরদেহ পানিতে ভেসে উঠলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, দুই বছর আগে একই গ্রামের সাব্বির হোসেন নামের এক ব্যক্তি একই পুকুরে ডুবে মারা গিয়েছিলেন।




ধর্ষণকে ধর্ষণ বলুন, নারী নিপিড়ন নয়!

বাংলাদেশে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে ‘ধর্ষণ’ শব্দটির পরিবর্তে ‘নারী নির্যাতন বা নিপীড়ন’ শব্দ ব্যবহার করার অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেন, ” ধর্ষণ শব্দটা ব্যবহার করবেন না প্লিজ, আমাদের শুনতে খুব খারাপ লাগে। আপনারা নারী নির্যাতন বলবেন, নারী নিপীড়ন বলবেন। আমাদের যে আইনটা আছে এটা নারী ও শিশু নির্যাতন। মূল হেডিং নারী ও শিশু নির্যাতন আইন। সো, যে শব্দগুলো শুনতে খারাপ লাগে আমরা না বলি।”

ডি এম পি কমিশনারের শব্দটি ভালো না লাগতেই পারে। কোন শব্দটা তার ভালো লাগবে আর কোনটা ভালো লাগবে না সে অধিকার তার আছে। তাই বলে কীভাবে তিনি এই অদ্ভুত ও অমূলক অনুরোধটি করলেন, তা আমার বোধগম্য নয়। আইন, আইনের ব্যাখ্যা ও শাস্তি সম্পর্কে তার স্পষ্ট ধারণা আছে নিশ্চয়ই । ধারণা থাকা স্বত্বেও তার শুনতে ভালো লাগছে না বলে তো সংজ্ঞা ও শাস্তি পাল্টে যাবে না। ধর্ষণ শব্দটা শুনতে ভালো না লাগলে, ধর্ষণ বন্ধ করুন, তা না করে ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধকে ’নারী নির্যাতন’ বলে হালকা করার চেষ্টা করছেন কেন?

নারী নির্যাতন শব্দটি নানান অর্থে ব্যবহার হতে পারে। শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও যৌন হয়রানি। একজন নারীকে চড় মারা, কোনও নারীকে যদি শ্লীলতাহানি করা হয়। গায়ে হাত দেওয়াও এক ধরনের অপরাধ, যদি তাঁর সঙ্গে কোনও ধরনের লিঙ্গবৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়। নারীর আয় কেড়ে নেওয়া, নারীকে বিশ্রাম ও বিনোদনের সুযোগ না দেওয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী খেতে না দেওয়া, হাত খরচ না দেওয়া, মৌখিকভাবে লাঞ্চনা করা, অপমান করা, যৌতুক দাবি করা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলা সবই অপরাধ। এমনকি নারীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে অতিরিক্ত পোশাক পরানো বা নগ্ন করাও অন্যায়। এই সবগুলোই নারী নির্যাতনের মধ্যে পড়ে। প্রতিটি নিগ্রহের চেহারা কিন্তু আলাদা।

ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতন পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত হলেও দুটো একই জিনিস নয়। ‘‘নির্যাতন একটা বড় স্পেক্ট্রাম, যার একেবারেই সুনির্দিষ্ট একটি অপরাধ হচ্ছে ধর্ষণ, আরও অন্যান্য যে অপরাধ আসলে নারী নির্যাতনের মধ্যে পড়ে। কাজেই ধর্ষণকে ‘নারী নির্যাতন’ বললে আসলে বড় দাগে এটিকে সুনির্দিষ্ট ভাবে দায়সারা হয় বা হালকা কীা হয়, সেটা একেবারোই উচিত হবে না। কারণ শব্দের মারপেঁচে অপরাধ আইনের ফাঁক ফোঁকরে বেরিয়ে আসতে পারে। পাশাপাশি আইনে যে বিষয়টি রয়েছে এটা কিন্তু নারী নির্যাতন বলতে কী বুঝায় এবং ধর্ষণ বলতে কী বুঝায়, তার সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা রয়েছে। কাজেই যদিও ডিএমপি কমিশনার বলেছেন- নারীর সম্মানার্থে। তার উদ্দেশ্য অবশ্য ইতিবাচক হলেও সুযোগ সন্ধানি হয়ে যাবে অপরাধীরা। আসলে এটি ব্যবহার করার কোনও সুযোগ আইনগতভাবে নাই। ধর্ষণকে ধর্ষণই বলতে হবে এবং ধর্ষণসহ অন্যান্য সব অপরাধ যেগুলো নারী নির্যাতনের আওতায় পড়ে, সেগুলোকে গুচ্ছভাবে নারী নির্যাতন বলতে হবে। সেই জায়গাটাতে স্পষ্ট করা খুব জরুরি।’’

আইনজীবীরা বলছেন, ধর্ষণ, ইভ টিজিং (উত্যক্ত করা) বা হয়রানি- এসব অভিযোগে সুনির্দিষ্ট শাস্তি রয়েছে। তবে দেশের আইন শক্ত হলেও সংজ্ঞার ভুল ব্যাখ্যা ও ব্যবহারের কারণে ভুক্তভোগীর বিচার পাওয়া অনেক সময় দুরূহ হয়ে দাঁড়ায়।

আমাদের দেশের আইনে ধর্ষণের সংজ্ঞায় ভুল রয়েছে। প্রেমের প্রলোভন দেখানো- এটাকেও ধর্ষণের সংজ্ঞায় ঢুকিয়ে রেখেছে। অর্থাৎ এফআইআরে যখন লেখা হয় বিয়ের প্রেমের নামে প্রতারণা বা শারীরিক সম্পর্ক করা হয়েছে, এর ফলে যে ক্ষতিটা হয়েছে সেটা হলো ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধকেও খর্ব করা হয়েছে।”

দেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এ নারীর শ্লীলতাহানি, যৌন পীড়নের দণ্ড হিসেবে যেমন সর্বোচ্চ দশ বছরের কারাদণ্ড রয়েছে, তেমনি দণ্ডবিধি বা পেনাল কোডসহ অন্যান্য বিভিন্ন আইনে বিভিন্ন মেয়াদী দণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডের শাস্তিও রয়েছে।

একটু ফিরে দেখি, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য সংরক্ষণ ইউনিটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সারা দেশে ধর্ষণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন মোট ৪০১ জন নারী। এর মধ্যে ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছেন ৩৪ জন এবং ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন সাত জন। ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছেন ১০৯ জন। এর মধ্যে একজনকে ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালে ২১ জন নারী গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র – আসক এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে সারা দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩৯ জন নারী। এদের মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২১ টি এবং দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৮ জন।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এর ওয়েবসাইট ও আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গবেষণা প্রতিবেদনে নারী নির্যাতনের নানা তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে ধর্ষণের শিকার ৫৭ জনের মধ্যে ১৬ জন শিশু, ১৭ জন কিশোরী রয়েছেন। অন্যদিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তিন জন কিশোরী ও ১৪ জন নারী, ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন দুই জন নারী। এ ছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা ১৯টি, যৌন হয়রানি ২৬টি, শারীরিক নির্যাতনের ৩৬টি ঘটনা ঘটেছে এই মাসে।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত মার্চে চারদিনের সংবাদ পর‌্যালোচনা করলে দেখা যায় শিশু, গর্ভবতী নারী, বিশেষভাবে সক্ষম নারী, কেউই রেহাই পাননি যৌন নির্যাতন থেকে।

৬ মার্চ: মাগুরায় বোনের বাড়ি বেড়াতে এসে ‘ধর্ষণের শিকার’ শিশু (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম), ৭ মার্চ: চিপস কিনে দিয়ে প্রতিবন্ধী তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ (বাংলা ট্রিবিউন) ৮ মার্চ: খাবার ও বেলুনের লোভ দেখিয়ে দুই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, বৃদ্ধ গ্রেপ্তার (প্রথম আলো), ৮ মার্চ: ফরিদপুরে সাইকেলে ঘোরানোর কথা বলে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, কিশোর আটক (যমুনা টেলিভিশন), ৮ মার্চ: শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, সালিসে দেড় লাখ টাকা জরিমানা, বাকি ৫৮ হাজার (আজকের পত্রিকা), ৯ মার্চ: এবার গাজীপুরে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, ভিডিও ধারণও করলো ধর্ষক (ঢাকা ট্রিবিউন), ৯ মার্চ: সীতাকুণ্ডে সৈকতে বন্ধুকে বেঁধে রেখে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মায়ের মামলা (আজকের পত্রিকা), ৯ মার্চ: নরসিংদীতে ৩ দিন আটকে রেখে গর্ভবতী নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ (যমুনা টেলিভিশন), গত দুই দিনে (বুধ ও বৃহস্পতিবার) দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ২টি দলবদ্ধ ধর্ষণ ও ১৪টি ধর্ষণের খবর প্রকাশিত হয়েছে।এ থেকে আমরা কী বুঝি? ধর্ষণ কোন রকমেই থামছে না। ২০ মার্চ প্রথম আলোর তথ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে তিন ঘণ্টায় চার শিশু-কিশোরীসহ পাঁচজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে ধর্ষণ কী আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়ে মহামারী আকার ধারণ করছে না কি প্রকাশ পাচ্ছে? আমার ধারণা ধর্ষণ আগের মতই হচ্ছে। এখন মিডিয়ার বদৌলতে বা মানুষ সচেতনতার কারণে ধর্ষণ প্রকাশিত হচ্ছে জনসম্মুখে।

ধর্ষনের মতো অপরাধ যারা করছে তারা সমাজে ঘুরে বেড়াবে, আর যারা নির্যাতনের শিকার তাদের কাঁদতে কাঁদতে বিচার চাইতে হবে। সমাজে এমনটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। এই পরিস্থিতিকে আমাদের পরিবর্তন করতেই হবে। যারা দোষী তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিগত বছরগুলোতে যেমন বিচারহীনতার সংস্কৃতি ছিল, সেটা থেকে আমাদের বের হতেই হবে।’

আইন কানুন যা আছে তা আছে, তবে আসল কথা পুরুষদের মাইন্ড-সেট বা মানসিকতায় আনতে হবে পরিবর্তন । নারীদের যে একটা আলাদা ব্যক্তি পরিচয় আছে, সেটাকে সম্মান দিতে হবে৷ মহিলা বলেই তাঁকে অন্য চোখে দেখতে হবে, এ কেমন কথা? এখানে সরকারের চেয়ে বড় ভূমিকা পুরুষ নাগরিক সমাজের।”

ধর্ষণ প্রতিরোধে করনীয়
যে কোনো পরিস্থিতিতে নিরাপদে থাকার দায়িত্ব প্রথমত ব্যক্তির নিজের। যৌন সহিংসতা, এর নেতিবাচক প্রভাব, শাস্তি এবং করণীয় সম্পর্কে সঠিক তথ্য এবং সচেতনতা প্রাক-কৈশোর ছেলেমেয়েদের থাকা জরুরি, কারণ সচেতনতা মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে। এই বয়সেই পরিবারে এবং স্কুলে ‘লিঙ্গের ভিন্নতা/যৌনতা এবং সম্পর্ক (ংবী ধহফ ৎবষধঃরড়হংযরঢ়) বিষয়ে ছেলেমেয়েদের শিক্ষাদান সময়ের দাবি। এতে সুস্থ সম্পর্ক বিষয়ে ধারণা এবং বিপরীত লিঙ্গের প্রতি সম্মান-সহানুভূতি তৈরি হয়। যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে ব্যক্তির করণীয়সমূহঃ

প্রথমত, ধর্ষণের ঘটনা ঘটার আশঙ্কা আছে এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলা। যেমন, অপরিচিত ব্যক্তি, অনিরাপদ/নিরিবিলি স্থান। পর‌্যবেক্ষণের মাধ্যমে পরিচিত-অপরিচিত ব্যক্তির যৌন উদ্দেশ্য সম্পর্কে বুঝতে চেষ্টা করা এবং সে অনুযায়ী নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া। আস্থাশীল বন্ধু তৈরি করা এবং দলে চলাফেরা করার চেষ্টা করা বিশেষ করে সন্ধ্যার পর। বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রস্থান করা, দৌড়ানো এবং যত জোরে সম্ভব চিৎকার করে আশপাশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। মরিচগুঁড়ো/ঝাঁঝালো স্প্রে, প্রয়োজনীয় আত্মরক্ষামূলক হাতিয়ার সঙ্গে রাখা এবং প্রয়োজনে তা ব্যবহার করা। বিপদে মাথা ঠাণ্ডা রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চেষ্টা করা।

যেমন, আক্রান্ত হবার আগেই চাবির গোছা, ব্যাগ বা হাতের কাছে যা আছে তা দিয়ে আক্রমণকারীকে আঘাত করা।
ধর্ষণ-পরবর্তী করণীয় এবং বিচার

ধর্ষণের শিকার নারীকে সহানুভূতির সঙ্গে সহযোগিতা করা একটা মানবিক দায়িত্ব। কারণ ধর্ষণ নারীর দোষে ঘটে না, বরং ধর্ষক একজন ভয়ংকর অপরাধী। এ সময় যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার চাপ সহ্য করা অনেকের জন্য কঠিন হতে পারে, যা আত্মহত্যায় প্ররোচিত করতে পারে। জীবন অনেক মূল্যবান, তাছাড়া আত্মহত্যা কখনো সমস্যার সমাধান নয়। ধর্ষণের শিকার নারীর কঠোর নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা নিশ্চিত করা অতি জরুরি। তার পরিচয়মূলক তথ্য কখনোই প্রকাশ করা যাবে না। ধর্ষণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ, কিন্তু ভুক্তভোগীর জীবনে ধর্ষণের তাত্ক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক-মানসিক-সামাজিক প্রভাবের তুলনায় প্রচলিত শাস্তির ধরনে পরিবর্তন দরকার মনে করি। যতদ্রুত সম্ভব অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে সর্বচ্চো শাস্তি প্রদান করতে হবে। যাতে অপরাধের শাস্তি দেখে পরবর্তীতে অপরাধী অপরাধ থেকে দুরে থাকতে পারে।

দেশে শিশু ধর্ষণ ও বলাৎকারের পরিমাণ দিনদিন বেড়েই চলেছে। শিশুরা হলো জাতির ভবিষ্যৎ গড়ার মূল হাতিয়ার। কিন্তু প্রতিদিনের খবরের কাগজে শিশু ধর্ষণের মতো ঘৃণিত অপরাধের কথা উঠে আসছে। বেশির ভাগ শিশুই ধর্ষিত হচ্ছে তাদের গৃহশিক্ষক, নিকটাত্মীয় এবং প্রতিবেশীদের দ্বারা। শিশু ধর্ষণ সমাধানে করণীয় হচ্ছে-প্রথমেই যে কাজটি করতে হবে তা হলো, শিশু ধর্ষণের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। দ্বিতীয়ত, আমাদের সকলের মন-মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। তৃতীয়ত, এই জঘন্য অপরাধের জন্য কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। মৃত্যুদন্ডই এই অপরাধের শাস্তি হওয়া উচিত।

পরিশেষে বলবো,ধর্ষণ, ধর্ষণই, এটা একটা সিরিয়াস অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। অতএব এখানে শব্দ নিয়ে তার সাহিত্যিক গুণাগুণ বিচার করার বিষয় না।দায়িত্বশীল পদে থেকে নারী নির্যাতনের আওতায় ধর্ষণকে সংজ্ঞায়িত না করার অনুরোধ করছি। ” ধর্ষণ নারীর সাথে সংগঠিত এমন একটা অপরাধ যেটার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, এটিকে ঢেকে বলার কিছু নেই। সাধারণ নারী নির্যাতনে শারীরিক নির্যাতন হয়, কিন্তু ধর্ষণে শুধু শারীরিক নির্যাতনই নয়, বলা হয় নারীর আত্মাকেও নির্যাতন করা হয়। অতএব, ধর্ষণ, ধর্ষণই। “




মেহেরপুরে দুটি পানির বাজারজাতকরণ প্রতিষ্ঠানের জরিমানা ও স্থগিতাদেশ

মেহেরপুর সদর উপজেলার বামনপাড়া এলাকায় ভেজাল ও অনিয়মের অভিযোগে ‘ফ্রেশ লাইফ ড্রিংকিং ওয়াটার’কে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ‘হালাল ড্রিংকিং ওয়াটার’কে বাজারজাতকরণ স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান দুটিতে এ অভিযান পরিচালনা করেন মেহেরপুর জেলা ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ মামুনুল হাসান।

অভিযানে সহযোগিতা করেন মেহেরপুরের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. রিয়াজ মাহমুদ, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. তারিকুল ইসলাম এবং পুলিশের একটি টিম।

মামুনুল হাসান জানান, ‘ফ্রেশ লাইফ ড্রিংকিং ওয়াটার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৩ ধারায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে ত্রুটি সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও ‘হালাল ড্রিংকিং ওয়াটার’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে বৈধ কাগজপত্র না থাকার কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণকে প্রতিষ্ঠানটির পানি না কেনার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।




ভারতে পালানোর সময় চেকপোস্টে যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় রাজশাহীর তানোর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে তিনি পাসপোর্ট নিয়ে ইমিগ্রেশনে উপস্থিত হলে সফটওয়্যারে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া যায়।

গ্রেফতার জুবায়ের ইসলাম (৫৮) রাজশাহীর তানোর উপজেলা সাদিপুরের মৃত আবু বাক্কারের ছেলে।

দর্শনা ইমিগ্রেশন পুলিশের টু-আইসি তারেক মাহমুদ জানান, চেকপোস্টে গমনেচ্ছু যাত্রীদের নিয়মিত তথ্য যাচাইয়ের সময় জুবায়ের ইসলামের বিরুদ্ধে রাজশাহীর তানোর থানায় দুটি নিয়মিত মামলার তথ্য ধরা পড়ে। পরে তাকে দর্শনা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বরে তানোর থানায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে জুবায়ের ইসলামের বিরুদ্ধে সংঘর্ষ, হামলা, বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। মামলা দুটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।




শেখ হাসিনা ফিরবে শিরোনামে গাংনীতে চিরকুট ও বোমা সদৃশ্য বস্তু উদ্ধার

যেন গ্রাম ছেড়ে পালাতে না পারে… এমন লেখা একটি চিরকুট এবং লাল কসটেপ মোড়ানো বোমা সদৃশ বস্তু রেখে হুমকি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

আজ মঙ্গলবার সকালে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চরগোয়ালগ্রামে স্থানীয় একটি দোকানের সামনে থেকে এগুলো উদ্ধার করে পুলিশ।

তবে এগুলো আসল বোমা, নাকি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য কোনো অসাধু চক্রের তৈরি, তা পর্যালোচনা করছে গাংনী থানা পুলিশ।

চিরকুটে লেখা রয়েছে: “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ফিরবে। শোন, আমরা চরগোয়ালগ্রামের মানুষ। আমরা কিন্তু খুব দূরে নই, নদীর এপার-ওপার আছি। তাই বিএনপির একটি লোক যেন গ্রাম ছেড়ে পালাতে না পারে…।”

স্থানীয়রা জানান, চরগোয়ালগ্রামের আলতাফ হোসেনের দোকানের সামনে একটি বোমা সদৃশ বস্তু ও একটি চিরকুট পড়ে থাকতে দেখে লোকজন জড়ো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বস্তু দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বানী ইসরাইল বলেন, “চরগোয়ালগ্রাম থেকে একটি বোমা সদৃশ বস্তু ও একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে কোনো চক্র এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য এমন কর্মকাণ্ড করছে কিনা, সেটি আমরা গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করছি।”